• ১১ ভাদ্র ১৪৩৩, শনিবার ২৯ আগস্ট ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

Form

ব্যবসা

৭০ বছর পর টাটা'র ঘরে প্রত্যাবর্তন 'মহারাজা'র

শেষ হল এয়ার ইন্ডিয়ার হস্তান্তর প্রক্রিয়া। টাটা সন্সের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে দেওয়া হল মহারাজা-কে। একসময় টাটা-র হাত ধরেই এয়ার ইন্ডিয়ার পথ চলা শুরু। মাঝে অনেক পথ পেরিয়ে আবারও টাটার ঘরেই ফিরল সেই সংস্থা। টাটার হাতে হস্তান্তর করা হল সংস্থার ১০০ শতাংশ শেয়ার ও দেওয়া হল ম্যানজমেন্টের নিয়ন্ত্রণ।এই হস্তান্তরের পর টাটা সন্সকে অভিনন্দন জানিয়েছেন অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রী জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া। তিনি জানান, সরকারি সংস্থা হস্তান্তরের ক্ষেত্রে এ দিন বড় সাফল্য পেল ভারত। ভবিষ্যতে এই প্রক্রিয়ায় ফের সাফল্য আসবে বলে মনে করেন তিনি।কেন্দ্রের তরফে জানানো হয়েছে সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। পুরো শেয়ার তুলে দেওয়া হয়েছে টাটার হাতে। সংস্থার ১২ হাজার কর্মীকে বহাল রাখবে টাটা।Shri N Chandrasekaran, the Chairman of Tata Sons called on PM @narendramodi. @TataCompanies pic.twitter.com/7yP8is5ehw PMO India (@PMOIndia) January 27, 2022প্রায় ৭০ হাজার কোটি টাকার লোকসান হয়েছিল এয়ার ইন্ডিয়ার। এই সংস্থার জন্য প্রত্যেকদিন সরকারের ক্ষতি হচ্ছিল ২০ কোটি টাকা করে। এর আগেও একবার এয়ার ইন্ডিয়ার বেসরকারিকরণের চেষ্টা হয়েছিল। কিন্তু বিপুল ঋণের বোঝা থাকার কারণে কোনও সংস্থা উৎসাহ দেখাচ্ছিল না। ফলে, তখন সফল হয়নি কেন্দ্র। বছরের পর বছর লাভের মুখ দেখেনি এয়ার ইন্ডিয়া। কার্যত ঋণের ভারে জর্জরিত হয়ে পড়েছিল। এ ভাবে সংস্থা আর চালানো সম্ভব হচ্ছিল না সরকারের পক্ষে।#FlyAI : Air India Limited, Air India Express AISATS (AI stake) have become part of the Tata Group today.Senior Officials of @TataCompanies , @SecyDIPAM and @MoCA_GoI met at Airlines House New Delhi. pic.twitter.com/HA4aEkVwWX Air India (@airindiain) January 27, 2022গত বছর অক্টোবরে এয়ার ইন্ডিয়াকে ১৮ হাজার কোটি টাকার বিনিময়ে টাটা গোষ্ঠীর অনুসারি সংস্থা টালাস প্রাইভেট লিমিটেডকে বিক্রি করে কেন্দ্রীয় সরকার। এর পর থেকেই শুরু হয়ে যায় বিক্রির সঙ্গে যুক্ত অন্যান্য প্রক্রিয়া। চুক্তি অনুযায়ী, এয়ার ইন্ডিয়ার পাশাপাশি এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেস এবং এয়ার ইন্ডিয়া স্যাটস (গ্রাউন্ড হ্যান্ডেলিং বা উড়ান বাদে অন্যান্য বিষয় সামলানো হয় যে সংস্থাকে দিয়ে)-এর ৫০ শতাংশ শেয়ারও টাটা গোষ্ঠীর অনুসারি সংস্থার কাছে হস্তান্তর হয়। বৃহস্পতিবার শেষ হল ১০০ শতাংশ শেয়ার হস্তান্তর প্রক্রিয়া এবং সেই সঙ্গে পরিচালন ক্ষমতা সম্পূর্ণ ভাবে তুলে দেওয়া হল টাটা গোষ্ঠীর হাতে। ফলে এয়ার ইন্ডিয়া নিয়ে টাটা গোষ্ঠীর সঙ্গে সরকারের লেনদেন আনুষ্ঠানিক ভাবে সমাপ্ত হল।

জানুয়ারি ২৭, ২০২২
খেলার দুনিয়া

Junior Volleyball : ৪৭ তম ন্যাশানাল জুনিয়র ভলিবল টুর্ণামেন্টে বাংলার মহিলা দলের তাক লাগানো পারফর্মেন্স

বাংলার শ্রেয়সী,কৌশিকীদের দুর্দান্ত লড়াইয়ের কাছে টিকতেই পারলো না তামিলনাড়ু ভলিবল টিম। ৪৭ তম ন্যাশানাল জুনিয়র ভলিবল প্রতিযোগিতার মহিলা বিভাগে চাম্পিয়ন হল বাংলার মেয়েরা।পরপর ৮ ম্যাচে অপ্রতিরোধ্য বাংলার মেয়েরা বৃহস্পতিবার ফাইনালে তামিলনাড়ুকে ৩-০ সেটে হারিয়ে জয়লাভ করে। ২৫ ডিসেম্বর থেকে বর্ধমানের শ্রীঅরবিন্দ স্টেডিয়ামে শুরু হয়েছিল ন্যাশানাল জুনিয়র ভলিবল চাম্পিয়নশিপ।জয়ী হয়ে উজ্জীবিত বাংলার মহিলা ভলিবল দলের খেলোয়াড়রা। ফাইনাল ম্যাচ দেখতে এদিন শুরু থেকেই মাঠে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ।মন্ত্রী স্বপন দেবনাথবাংলা মহিলা ভলিবল দলের অধিনায়ক শ্রেয়সী ঘোষ বলেন, জিতে ভালো লাগছে। আমরা আমাদের কোচকে এই জয় উৎসর্গ করবো। বাংলা মহিলা ভলিবল দলের চীফ কোচ কৌশিক সূর বলেন, আমরা আমাদের স্ট্র্যাটেজিতেই জয়লাভ করেছি। সরকারি সাহায্য পেলে বাংলার মহিলা ভলিবল দল আরও অনেক দুর এগোতে পারবো। ৮টি ম্যাচে আমরা কারোও কাছে কোনো সেটে হারিনি। ঘরের মাঠে দর্শকদের সাপোর্ট জয়লাভ অনেকটা সাহায্য করেছে। কৌশিক সূর এদিন দাবি করেন, স্পনসর ও সরকারী সহযোগিতা পেলে বাংলার মহিলা দলের খেলোয়াড়রা আরও ভালো ফল করতে পারবে। এমনকি প্রত্যন্ত গ্রাম থেকেও খেলোয়াড়রা উঠে আসবে।

ডিসেম্বর ৩১, ২০২১
রাজনীতি

Goa-Abhishek: তিন দিনের সফরে গোয়ায় অভিষেক, পুজো দিলেন রুদ্রেশ্বর মন্দিরে

তিন দিনের গোয়া সফরে গেলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবারই তিনি ওই রাজ্যে পৌঁছে গিয়েছেন। সামনেই সেখানে বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে রণকৌশল ঠিক করতে তাঁর এই সফর বলে মনে করা হচ্ছে। বুধবার বেশ কয়েকটি কর্মসূচি এবং বৈঠকের কথা রয়েছে অভিষেকের।Our National General Secretary Shri @abhishekaitc offered prayers at Shri Rudreshwar temple today. pic.twitter.com/ZNf4krguXM All India Trinamool Congress (@AITCofficial) December 29, 2021সকাল ১১টা নাগাদ তিনি যান সাঙ্কেলিমের রুদ্রেশ্বর মন্দিরে। সেখানে পুজো দেন তিনি। পুজো শেষে সাংবাদমাধ্যমে অভিষেক বলেন, রুদ্রেশ্বর মন্দিরে পরিদর্শনের সৌভাগ্য হল আমার। গোয়াবাসীদের উন্নতি এবং সমৃদ্ধির জন্য প্রার্থনা করেছি। নতুন বছরে পা রাখতে চলেছি। আমরা নিশ্চিত এক নতুন সূর্যোদয় দেখবে গোয়া। বিকেল ৫টা নাগাদ কানকোনার গোকর্ণ মঠ পরিদর্শনের কথা রয়েছে তাঁর।National General Secretary Shri @abhishekaitc offered prayers for all Goans at the historic Shri Rudreshwar temple in Sanquelim.He prayed for the progress and prosperity of Goa and as we step into the new year, we are certain that Goa will see a New Dawn rise!#GoenchiNaviSakal pic.twitter.com/D5yUN499oa All India Trinamool Congress (@AITCofficial) December 29, 2021গোয়ায় এখনও ভোটের দিন ক্ষণ ঘোষণা হয়নি। কিন্তু লড়াইয়ের জন্য জোরকদমে প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে তৃণমূল। আসন্ন নির্বাচনে কী ভাবে, কোন পথে দল এগোবে তা খতিয়ে দেখতেই অভিষেকের এই সফর বলে মনে করা হচ্ছে। মন্দির এবং মঠ পরিদর্শনের পাশাপাশি কয়েকটি দলীয় বৈঠকও করতে পারেন অভিষেক।

ডিসেম্বর ২৯, ২০২১
বিদেশ

Afghanistan: আফগানিস্তানে ঘোষিত হল তালিবান সরকার

দীর্ঘ টালবাহানার পর অবশেষে ঘোষিত হল আফগানিস্তানের তালিবান সরকার। মঙ্গলবার রাতে প্রথম দফার মন্ত্রিসভা ঘোষণা করেন সংগঠনের মুখপাত্র জাবিউল্লা মুজাহিদ। মহম্মদ হাসান আখুন্দ হলেন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রী। আব্দুল গনি বরাদর হলেন তাঁর ডেপুটি।আফগানিস্তানের বিদেশ মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বভার সামলাবে আমির খান মুত্তাকি আর তাঁর ডেপুটি আব্বাস স্তানিকজাই।। সরাজউদ্দিন হাক্কানি সে দেশের অভ্যন্তরীণ মন্ত্রী। উল্লেখ্য, হাক্কানি নেটওয়ার্কের প্রতিষ্ঠাতার ছেলে সরাজউদ্দিন হাক্কানি। আর সে দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে কাজ সামলাবেন মোল্লা ইয়াকুব। রীতিমতো সাংবাদিক বৈঠক করে এই নাম ঘোষণা করেছে তালিবান।আরও পড়ুনঃ পুজোয় ঠাকুর দেখতে পারবেন? কী জানালেন মুখ্যমন্ত্রীদায়িত্বপ্রাপ্ত বিদেশ মন্ত্রী হলেন আমির খান মুত্তাকি। দায়িত্বপ্রাপ্ত অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে মোল্লা হেদিয়াততুল্লা বাদরিকে। দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষা মন্ত্রী করা হয়েছে শেখ মওলায়ি নুরুল্লাকে। সংস্কৃতি মন্ত্রী করা হয়েছে মোল্লা খাইরুল্লা খেরখানকে। সূত্রের খবর অনুসারে,মঙ্গলবার রাতে কাবুলে সাংবাদিক বৈঠক করেন মুখপাত্র জাবিউল্লা মুজাহিদ। তিনি ঘোষণা করেন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষা মন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব দেওয়া হল মোল্লা ওমর। তিনি আরও বলেন, ইসলামিক এমিরেট সিদ্ধান্ত নিয়েছে আপাতত অন্তর্বর্তীকালীন মন্ত্রিসভা দিয়ে সরকারের কাজ করবে। মুজাহিদ মোট ৩৩ সদস্যের মন্ত্রিসভার নাম ঘোষণা করেন সাংবাদিক বৈঠকে। বাকি মন্ত্রীদের নাম আগামী বৈঠকের পরই ঘোষণা করা হবে বলে জানান তিনি।অন্য তালিব নেতাদের তুলনায় কম পরিচিত মুখ হলেও আখুন্দের নাম রয়েছে রাষ্ট্রসঙ্ঘের জঙ্গি-তালিকায়। বিশেষ সূত্র উদ্ধৃত করে একটি পাক দৈনিকের দাবি, নয়া সরকারের প্রধান হিসেবে আখুন্দের নাম প্রস্তাব করেন তালিবানের সর্বোচ্চ নেতা হিবাতুল্লা আখুন্দজ়াদা স্বয়ং। হিবাতুল্লাকে ইরানের কায়দায় দেশের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার পদে বসিয়ে তাঁর অধীনে প্রেসিডেন্ট বা প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে তালিবান সরকার গড়বে বলে শোনা যাচ্ছিল। তাঁর ভূমিকা নিয়ে আজ কোনও ঘোষণা করেনি তালিবান। তবে হিবাতুল্লা এক বিবৃতিতে বলেছেন, দেশবাসীকে আশ্বস্ত করছি, এঁরা দেশে শরিয়া আইন এবং ইসলামি শাসন প্রতিষ্ঠা করতে কঠোর পরিশ্রম করবেন। দীর্ঘমেয়াদি শান্তি, শ্রীবৃদ্ধি এবং উন্নয়ন নিশ্চিত করবেন তাঁরা। কেউ যেন দেশ ছাড়ার চেষ্টা না করেন। ইসলামি আমিরশাহিতে কাউকে নিয়েই কোনও সমস্যা নেই।

সেপ্টেম্বর ০৮, ২০২১
রাজ্য

Laxmir Bhandar: শিকেয় উঠল সামাজিক দূরত্ব, রণক্ষেত্র দুয়ারে সরকার

সামাজিক দূরত্ব চুলোয় যাক, পেতেই হবে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার। সোমবার থেকে শুরু হয়েছে দুয়ারে সরকার কর্মসূচি। কন্যাশ্রী, রূপশ্রী-সহ রাজ্য সরকারের অন্যান্য সুযোগ সুবিধের সঙ্গে এবার যোগ হয়েছে নতুন প্রকল্প লক্ষ্মীর ভাণ্ডার। আর সেই প্রকল্পের জন্য ঝাঁপাচ্ছেন মহিলারা। করোনা বিধি শিকেয় তুলে বহু মানুষ ভিড় করতে শুরু করেছেন বিভিন্ন জেলার শিবিরগুলোতে। আর সেই ভিড় সামলাতে নাজেহাল অবস্থা প্রশাসনের। এত পরিমাণ ভিড়ের ফলে সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কাও করা হচ্ছে। পূর্ব বর্ধমানের ভাতারে সোমবার সকাল থেকেই দেখতে পাওয়া যায় উপচে পড়া ভিড়। অধিকাংশ মানুষের মুখে দেখা মেলেনি মাস্কের। দুয়ারে সরকারে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় বর্ধমান টাউনহল। অন্যদিকে, বীরভূমের মুরারইয়ের ১ নম্বর পঞ্চায়েতেও ছবিটাও এক। জানা গিয়েছে, এদিন ফর্ম বিলি শুরু হতেই ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায় সেখানে। ভিড়ের চাপে পদপিষ্ট হন কমপক্ষে ৭ জন। বহু মানুষের মোবাইল খোয়া দিয়েছে। শোরগোল পড়ে যায় এলাকায়। তড়িঘড়ি আহতদের উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়া হয় হাসপাতালে।আরও পড়ুনঃ আফগানিস্তানের পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠকে রাষ্ট্রসঙ্ঘএকদিকে অত্যাধিক গরম অন্যদিকে মারাত্মক ভিড়ে বেশ কয়েকজন বাসিন্দা অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন৷ কাউন্টারের সামনে রীতিমতো ধস্তাধস্তি শুরু হয়ে যায়। ভিড় এড়িয়ে আগেভাগে সরকারি প্রকল্পের ফর্ম সংগ্রহে তুমুল ধস্তাধস্তি শুরু হয়৷ প্রশাসনের তরফে শান্ত থাকতে অনুরোধ করা হয় প্রত্যেককে৷ কিন্তু লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের ফর্ম হাতে পেতে এতটাই মরিয়া হয়ে ওঠে মানুষ, যে সেদিকে কোনও খেয়ালই ছিল না তাদের। চলে তুমুল ধস্তাধস্তি। এ বিষয়ে মুরারই ১ নম্বরের তৃণমূল ব্লক সভাপতি বিনয় ঘোষ জানান, আমরা সবাইকে ভাগে ভাগে আসতে বলেছিলাম, কিন্তু একইদিনে সবাই চলে আসায় বিপত্তি। পঞ্চায়েত প্রধান রজনী পাখিরা বলেন, গ্রামবাসীদের সচেতন করতে মাইকিংও করেছি। মানুষ বোঝেনি। ভুল বোঝাবুঝির কারণে এই পরিস্থিতি। অনেক বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারত। বর্ধমান থেকে পশ্চিম মেদিনীপুর, সব জায়গার ছবিটাই কার্যত এক। ফর্ম নিতে গিয়ে ভিড়ের চাপে নাজেহাল মানুষ।

আগস্ট ১৬, ২০২১
রাজ্য

Laxmir Bhandar: ফর্ম বিলির আগেই বিতর্কে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার

লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে ফর্ম নিয়েও জালিয়াতি। ঘটনায় শিলিগুড়ি সংলগ্ন আমবাড়িতে এক তৃণমূল নেতাকে সপরিবারে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, ওই প্রকল্পের ফর্ম টাকার বিনিময়ে বিক্রি করছিলেন বিন্নাগুড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের আমবাড়ির বাসিন্দা বাপ্পা দে সরকার এবং তাঁর দাদা বাপি দে সরকার। বাপ্পা এলাকায় তৃণমূলের এসসি, এসটি, ওবিসি সেলের বুথ সভাপতি। এই ঘটনায় বাপ্পা এবং তাঁর দাদা-সহ মোট চার জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। উল্লেখ্য, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের ফর্ম ১৬ তারিখ দুয়ারে সরকারের ক্যাম্প থেকেই দেওয়া হবে। এছাড়া আর অন্য কোনও ফর্ম গ্রহণযোগ্য হবে না বলে জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। যদি ফর্ম নিয়ে কোনও জালিয়াতি হয়, তাহলে কড়া পদক্ষেপ করা হবে বলেও সতর্ক করেছিলেন তিনি। কিন্তু তা সত্বেও এই অভিযোগ উঠে এসেছে।আরও পড়ুনঃ মুক্তি পাচ্ছে হরোর স্টোরিস, টেনশনে পরিচালকপুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই তৃণমূল নেতা বাপ্পা দে সরকার, তাঁর দাদা বাপি দে সরকার এবং বৌদি শিখা দে সরকার ছাড়াও স্থানীয় বাসিন্দা বিশ্বজিত্ মহন্তকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ধৃতদের আজ জলপাইগুড়ি জেলা আদালতে হাজির করা হবে। কিন্তু স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই তৃণমূল নেতা ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা কিছুদিন ধরেই বাড়ি থেকে ফর্ম বিক্রি করছিলেন। এবং ফর্ম জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে টাকা দিতে বাধ্য করেছিলেন। প্রকল্পের সুবিধা পেতে ইচ্ছুক বাসিন্দাদের ফর্মের দাম হিসেবে ১০০ টাকা, ফর্ম ফিল আপ করার জন্য আরও ২০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছিল। এ ঘটনা জানাজানি হতেই শুরু হয় হইচই। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে শিলিগুড়ি মেট্রোপলিটন পুলিশ। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে ২৫ থেকে ৬০ বছর বয়সের পিছিয়ে পড়া জনজাতির মহিলাদের ১০০০ টাকা এবং সাধারণ মহিলাদের ৫০০ টাকা করে মাসিক ভাতা দেওয়া হবে। এই প্রকল্পের ফর্ম মিলবে দুয়ারে সরকার ক্যাম্পে।আরও পড়ুনঃ তৃণমূলের ত্রিপুরা অভিযান অব্যাহত, আজ যাচ্ছেন ৯ সাংসদস্থানীয়দের অভিযোগ, ওই তৃণমূল নেতা ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা কিছুদিন ধরেই বাড়ি থেকে ফর্ম বিক্রি করছিলেন। এবং ফর্ম জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে টাকা দিতে বাধ্য করেছিলেন। প্রকল্পের সুবিধা পেতে ইচ্ছুক বাসিন্দাদের ফর্মের দাম হিসেবে ১০০ টাকা, ফর্ম ফিল আপ করার জন্য আরও ২০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছিল। এ ঘটনা জানাজানি হতেই শুরু হয় হইচই। অভিযুক্তদের গ্রেফতার করে শিলিগুড়ি মেট্রোপলিটন পুলিশ। শুধু তাই নয়, ওই সদস্যা এক্কেবারে দেখিয়েই দিলেন কীভাবে ওই ফর্ম ফিলাপ করতে হয়। কিন্তু তাঁর দাবি, পাড়ার দোকানেই নাকি এখনই লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের ফর্ম বিক্রি হচ্ছে। তিনি শুধু ফর্ম ভর্তি করে দিচ্ছেন। আর তার জন্য যে তিনি ৫০-৬০ টাকা করে নিচ্ছেন, তাও স্বীকার করে নিলেন এক বাক্যেই। এই নিয়ে ইতিমধ্যেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে।

আগস্ট ১৩, ২০২১
রাজ্য

Bamboo Structure: বাঁশের তৈরি বসার মাচা দখল নিয়ে গলসিতে সংঘর্ষ, জখম ৪ মহিলা সহ ৮

বাঁশের তৈরি বসার মাচা ভাঙা নিয়ে গ্রামের দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষে জখম হলেন ৪ মহিলা সহ ৮ জন। বুধবার বিকালে ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব বর্ধমানের গলসির পারাজের করকডাল গ্রামে। খবর পেয়ে গলসি থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। উত্তেজনা থাকায় এলাকায় জারি রয়েছে পুলিশ টহল। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার গ্রামে থাকা বাঁশের তৈরি একটি মাচা ভেঙে দেওয়া নিয়েই দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধের সূত্রপাত ঘটে। ওই দিন থেকেই উত্তপ্ত হয়েছিল গলসির পারাজ পঞ্চায়েতের করকডাল গ্রাম। ওই মাচা ভাঙা নিয়েই শেষ পর্যন্ত এদিন বিকালে দুই গোষ্ঠী সংঘর্ষ মারপিটে জড়িয়ে পড়ে। এলাকাবাসীর দাবি, সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়া ব্যক্তিদের এক পক্ষ ব্লক তৃণমূল সভাপতি জনার্দ্দন চট্টোপাধ্যায়ের গোষ্ঠীর লোক। অপর পক্ষ জেলা সংখ্যালঘু সেলের সহ সভাপতি মহম্মদ মোল্লা গোষ্ঠীর অনুগামী। মারপিটে জনার্দন গোষ্ঠীর ৪ মহিলা সহ ৬ জন জখম হয়েছেন। অন্যদিকে মহম্মদ মোল্লা গোষ্ঠীর দুজন জখম হয়েছেন। সকলকেই রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে পুরষা ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসার জন্যে পাঠানো হয়।তৃণমূল নেতা জনার্দ্দন চট্টোপাধ্যায়ের অনুগামী বলে পরিচিত সেখ মন্টু ও তাঁর পরিবারের লোকজনের অভিযোগ, তাঁদের গ্রামে থাকা বাঁশের তৈরী বসার মাচাটি ভেঁঙে দেয় মহম্মদ মোল্লার লোকজন। যারা ভাঙে তারা করকডাল, ভিমসারা, বোলপুর ও রানাডি এলাকার বাসিন্দা। এরপর ওরা এদিন বিকালে বাড়ির পাঁচিল টপকে ঢুকে তাঁদের বাড়ির মহিলা ও আত্মীয়দের বাঁশ দিয়ে মারধর করা হয়। মারধরে পরিবারের দুজন পুরুষ ও চারজন মহিলা জখম হয়। যদিও মহম্মদ মোল্লার অনুগামী রাফিজুল মল্লিক দাবি করেন, পারিবারিক বিবাদের জেরে সেখ মণ্টুর পরিবারের সঙ্গে মারামারি হয়। মন্টুর পরিবারের লোকজনএদিন সশস্ত্র অবস্থায় তাঁদের উপর চড়াও হয়। তাঁকে ও তাঁর পরিবারের আরও একজনকে মেরে জখম করে । তাঁরা হামলা প্রতিরোধ করতে গেলে সংঘর্ষ বেঁধে যায় । রফিজুল দাবি করেন, তাঁরা রাজনীতি করলেও ঘটনার সঙ্গে রাজনীতির কোনও যোগ নেই । অপর পক্ষ অহেতুক এই ঘটনা নিয়ে রাজনীতি টেনে আনছেন । গলসির তৃণমূলের কোনও নেতা এদিনের ঘটনা নিয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া দিতে চাননি। তবে পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগ পেলে তাঁরা আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে।

জুলাই ১৫, ২০২১
বিদেশ

Netanyahu: ইজরায়েলে নতুন সুর্যের উদয়, অবসান একযুগের

বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর (Netanyahu) এক যুগের শাসন শেষ হল ইজরায়েলে। রবিবার ১২০ আসনের সংসদে নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসাবে মনোনীত হলেন নফতালি বেনেট (Naftali Benette)। গত ১২ বছর ধরে ইজরায়েলের মসনদ সামলে এসেছেন সত্তরোর্ধ্ব নেতানিয়াহু। তবে ইদানিং তাঁর জনপ্রিয়তায় ভাটা পড়ে। আর সে কারণেই রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হয় সে দেশে। অবশেষে সেই টালমাটাল পরিস্থিতির অবসান হল। নতুন সরকার গঠনে সম্মতি দিল ইজরায়েলের সংসদ।১২০ আসনের সংসদে এদিন ৫৯টি ভোট পড়ে নেতানিয়াহুর পক্ষে। নতুন জোট সরকার গড়ার পক্ষে ভোট পড়ে ৬০টি। সে দেশের সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, নাফতালি ইতিমধ্যেই নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসাবে শপথ গ্রহণ করেছেন। আন্তর্জাতিক স্তরে বহুলচর্চিত নাম বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। বিশ্ব রাজনীতিতে অত্যন্ত সক্রিয় তিনি। ইজরায়েলে সব থেকে বেশি সময় ধরে থাকা প্রধানমন্ত্রী তিনি। এবার সেই নেতানিয়াহু সংসদে বসবেন বিরোধী পক্ষের নেতা হিসাবে।একাধিক অভিযোগে অভিযুক্ত নেতানিয়াহু। ফিলিস্তিনিদের উপর অত্যাচারের অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। গাজ়ায় বোমারু বিমানের হানাদারি নিয়েও তাঁর ভূমিকা প্রশ্নের মুখে পড়ে। এরপরই ধীরে ধীরে তাঁর ১২ বছরের গদি টলমল করা শুরু হয়। বাম-ডান নির্বিশেষে একত্রিত হয়ে নেতানিয়াহুকে ক্ষমতাচ্যুত করতে উদ্যোগী হয়। নেতানিয়াহুর ১২ বছরের শাসনের অবসানের খবরে এদিন তেল আভিভের রাস্তায় নামে হাজার মানুষের ঢল। আনন্দে মাতোয়ারা তাঁরা।নেতানিয়াহু ছিলেন দক্ষিণপন্থী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের চরমতম উদাহরণ। অভিযোগ, বিরোধীদের দমনপীড়ন থেকে শুরু করে, সরকার ও প্রশাসনকে নিজের ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করার ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন সিদ্ধহস্ত। রবিবার সংসদের ভোটে জিতেই প্রধানমন্ত্রী পদে শপথ নিয়েছেন ৪৯ বছরের বেনেট। আর তাঁর আগমনেই নতুন সরকার গঠনের সঙ্গে ইতিহাস হয়ে থাকল ইজরায়েলের রাজনীতি। এই প্রথম ইহুদী (Jews) দেশের সরকারে যেমন অতি দক্ষিণপন্থীরা আছেন, তেমনই আরব মুসলিমরাও আছেন। অতি দক্ষিণপন্থীদের সঙ্গে ক্ষমতা ভাগাভাগি করে নিয়েছেন সে দেশে বসবাসকারী ২১ শতাংশ আরব মুসলিম (Islams)।২০০৯ সালে দ্বিতীয়বার ইজরায়েলের মসনদে বসেছিলেন নেতানিয়াহু। দুর্নীতির অভিযোগে ইতিমধ্যেই দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন সদ্য প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী। জেরুজালেমের আদালতে তাঁর দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। ফলে, তাঁর জেলে যাওয়া এখন কার্যত সময়ের অপেক্ষা। এছাড়াও তাঁর লিকুদ পার্টির (Likud Party) বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধেও ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে রয়েছে। কূটনৈতিক মহলের দাবি, নেতানিয়াহুর বিদায়ে পশ্চিম এশিয়ার রাজনীতিতে নতুন যুগের সূচনা করবে। ভারতের সঙ্গে বরাবর সুসম্পর্ক রয়েছে ইজরায়েলের (India-Israel)। সে দেশের পালাবদল নিয়ে এদিন রাতে কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি বিদেশ মন্ত্রক থেকে। তবে কূটনৈতিক মহলের দাবি, ভবিষ্যতে ভারত-ইজরায়েল সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে বলে আশা।

জুন ১৪, ২০২১
রাজনীতি

বিজেপি রাজ্যে সরকার গঠন করবে, দাবি বিশ্বপ্রিয় ও সুজিতের

ভারতীয় জনতা মজদুর সেলের নির্বাচনী কর্মিসভা হল মধ্য কলকাতার ভারতসভা ঘরে। মঙ্গলবার একইসঙ্গে আইসিডিএস এর জেলা কমিটি ঘোষণা করা হয় এই সভায়। এই সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন রাজ্য বিজেপির সহসভাপতি বিশ্বপ্রিয় রায়চৌধুরী, রাজ্য বিজেপি নেতা সুজিত ঘোষ, বিজেএমসির রাজ্য সভাপতি মিঠু চ্যাটার্জি, বিজেএমসির রাজ্য কমিটির সম্পাদক বাবলু বালা, সম্পাদক সৈকত মন্ডল সহ অন্যরা। গেরুয়া শিবিরের নয়া আইসিডিএস সংগঠনের চেয়ারপার্সন হয়েছেন মিতা সমাজপতি, আইসিডিএস এর ভাইস চেয়ারম্যান সমর্পিতার।এদিনের সভায় বিশ্বপ্রিয় রায়চৌধুরী বলেন, এখন আমাদের একটাই কাজ বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি প্রার্থীদের জয়ের জন্য ঝাঁপিয়ে পড়া। সাংগঠনিক ভাবে দলকে আরও শক্তিশালী করাই আমাদের লক্ষ্য। বিজেপি নেতা সুজিত ঘোষ বলেন, এই নির্বাচনে বিপুল সংখ্যক আসন নিয়ে রাজ্যে সরকার গঠন করব আমরা। দলকে রাজ্যে ক্ষমতায় এনে সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।

মার্চ ২৪, ২০২১
দেশ

দেশের সর্বত্র দাম বাড়ল প্ল্যাটফর্ম টিকিটের

দেশের সমস্ত প্ল্যাটফর্ম টিকিটের দাম ১০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩০ টাকা করল রেল। বাড়ানো হল স্বল্প দূরত্বের যাত্রীবাহী ট্রেন (প্যাসেঞ্জার ট্রেন)-এর ভাড়াও। এত দিন সাধারণ ১০ টাকার টিকিট কেটেই ওই ট্রেনে ওঠা যেত। এ বার থেকে তাতে উঠতে গেলে ৩০ টাকার টিকিট কাটতে হবে। বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া মানুষ যাতে ট্রেনে না ওঠেন, তার জন্য এর আগে ফেব্রুয়ারি মাসেও স্বল্পদূরত্বের যাত্রীবাহী ট্রেনের ভাড়া বাড়ানো হয়েছিল।করোনা পরিস্থিতিতে স্টেশন চত্বর এবং ট্রেনে ভিড় রুখতেই এই সাময়িক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে যদিও রেলের তরফে সাফাই দেওয়া হয়েছে। যাত্রীদের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে রেল মন্ত্রকের বৈঠকে সম্প্রতি এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে জানা গিয়েছে। প্ল্যাটফর্ম টিকিট এবং স্বল্প দূরত্বের যাত্রীবাহী ট্রেনের টিকিটের বর্ধিত মূল্য নিয়ে শুক্রবার রেলের তরফে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্টেশন চত্বরে ভিড় সামাল দেওয়ার দায়িত্ব ডিভিশনাল রেলওয়ে ম্যানেজারদের (ডিআরএম)। প্ল্যাটফর্ম টিকিটের মূল্যবৃদ্ধির বিষয়টি সম্পর্কে তাঁরা অবগত। এর আগে, মুম্বই এবং সংলগ্ন এলাকার প্ল্যাটফর্ম টিকিটের মূল্য বাড়িয়ে একধাক্কায় ১০ থেকে ৫০ টাকা করে দিয়েছিল রেল।তবে রেলের যুক্তি, ভিড় সামাল দিতে টিকিটের মূল্যবৃদ্ধি নতুন কিছু নয়, বরং বছরের পর বছর এই নিয়ম চলে আসছে।

মার্চ ০৫, ২০২১
কলকাতা

কালীঘাটে মহাযজ্ঞ, পৌরহিত্যে অভিষেক

বিকেলে বিধানসভা ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণা করতে চলেছে নির্বাচন কমিশন। তার অব্যবহিত আগে মহাযজ্ঞের আয়োজন কালীঘাটে। মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ি লাগোয়া তৃণমূলের কার্যালয়ে শুক্রবার যজ্ঞ হয়। সকাল থেকে সেই যজ্ঞে বসেন যুব তৃণমূলের সভাপতি, সাংসদ তথা দলের অঘোষিত দুনম্বর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ছিলেন মুখ্যমন্ত্রীর ভাই বাবুন বন্দ্যোপাধ্যায়ও। অভিষেককে পাশে নিয়ে যজ্ঞ সম্পাদন করছেন পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের সেবায়েত জগন্নাথ দয়িতাপতি।অনেকে বলছেন, ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণার জন্যই ওই যজ্ঞ। এ নিয়ে তৃণমূলকে কটাক্ষও করেন বাম পরিষদীয় দলনেতা সুজন চক্রবর্তী। তবে ভোটের দিন ঘোষণার সঙ্গে যজ্ঞের কোনও সংযোগ নেই বলে দাবি তৃণমূলের। কালীঘাট সূত্রের খবর, শুক্রবারের যজ্ঞ আগে থেকেই পরিকল্পিত। তার আয়োজনও শুরু হয়েছে কয়েকদিন আগে থেকেই। নির্বাচন কমিশন যে শুক্রবারেই ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা করবে, তা আগে থেকে কারওরই জানা ছিল না। বরং রাজ্যের রাজনৈতিক মহল ভাবছিল, মার্চের প্রথম সপ্তাহে ভোটের দিন ঘোষণা হবে। ফলে যজ্ঞ এবং ভোটের দিন ঘোষণার দিন মিলে যাওয়া নেহাতই এক সমাপতন।

ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২১
বিনোদুনিয়া

বাংলার মধুরার মধুর কন্ঠে মাতোয়ারা মুম্বাই

তোমায় ছাড়া ঘুম আসে না মা। ২০০৯ এর শেষের দিকে শহর থেকে গ্রাম-বাংলা এই গানের জাদুতে মেতে থাকতো। সকলের মুখে মুখে ঘুরে বেরানো এই গানের মুর্ছনায় একটাই প্রশ্ন ছিল কে এই মধুর সঙ্গীত শিল্পী? কি মায়াময় কণ্ঠ! শিল্পী ছিলেন মধুরা ভট্টাচার্য।যখন তিনি দশম শ্রেণিতে পড়েন সেই ২০০৫ সাল থেকেই পেশাগতভাবে গান গাইছেন মধুরা। আজ তিনি দেশের অন্যতম উজ্জ্বল প্রতিভা হিসাবে পরিচিত। প্লেব্যাক, বাংলা, হিন্দি চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন এবং মঞ্চে এক ব্যস্ততম খ্যাতনামা শিল্পী।২০০৫ সালে ইটিভি, কালার্স বাংলায় সুপারহিট টেলিভিশন মেগা সিরিয়াল বহ্নিশিখা দিয়ে তাঁর যাত্রা শুরু, তারপর তাঁকে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। স্টার জলসা, জি-বাংলা, কালার্স বাংলা, লাইফ ওকে চ্যানেলে ৮০ টিরও বেশি সুপার হিট টিভি সিরিয়ালে টাইটেল সং-এ কণ্ঠ দেন তিনি। এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য মা, বোঝেনা সে বোঝেনা, মেরি মা, কিরণমালা, রাগে অনুরাগে, চোখের বালি, গোয়েন্দা গিন্নী, পুণ্যি পুকুর, মিলন তিথি, জয়ী, কুঞ্জছায়া, প্রথমা কাদম্বনি।২০০৭-তে তিনি ইন্ডিয়ান আইডল-এ অংশ নিয়েছিলেন, ২০০৯-তে অল ইন্ডিয়া মিউজিক প্রতিযোগিতা সিতারোঁ কো চুনা হ্যায়-এ ১১ জন কঠিন প্রতিযোগির সঙ্গে লড়াই করে দ্বিতীয় স্থান আধিকার করে ভারত জোড়া খ্যাতি লাভ করেন।মধুরা রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সঙ্গীত নিয়ে প্রথম শ্রেণিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রী লাভ করেন। মধুরার এই সংগীত সাধনার প্রেরণা তাঁর মা শম্পা দেবী, তিনি আকাশবাণী ও দূরদর্শন-এর নিয়মিত সংগীতশিল্পী, বাবা প্রাক্তন বিচারপতি তুষারকান্তি ভট্টাচার্য সরকারি আধিকারিক হলেও খুব ভাল আবৃত্তিকার ও লেখক।তাঁর প্রথম বাংলা ছবিতে আত্মপ্রকাশ প্রসেনজিত চট্টোপাধ্যায়ের মাহাকাল ছবিতে। তারপর থেকে তাঁর দৌড় আর থামানো যায়নি। সঙ্গীত রসিকদের মতে, তাঁর নামকরণ যে কতটা সার্থক তা তাঁর গান শুনলেই বোঝা যায়। প্রথম জীবনে তিনি নিলাক্ষী নামে পরিচিত ছিলেন। মনে করা হয় সাফল্যকে আরও মসৃন ও শিখরে নিয়ে যাওয়ার জন্যই তিনি নাম পরিবর্তন করে মধুরা হন।মধুরা মুম্বাই ও কলকাতার বহু বিখ্যাত শিল্পীদের সঙ্গে সিনেমায় ডুয়েট ও একই মঞ্চে আনুষ্ঠান করেন। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য, উদিত নারায়ণ, বাবুল সুপ্রিয়, অভিজিৎ, কুমার সানু, শান, শফতত আমানত আলি, অঙ্কিত তিওয়ারি, অরিজিৎ সিংহ। এর পাশাপাশি অরুনধতি, দিওয়ানা, কি করে তোকে বোলবো, তোর নাম, তিনপাত্তি, শিকারি, উড়োচন্ডী, গুগলি-র মত বকব্লাস্টার সিনেমায় টলিউড এবং বলিউড-এর বিখ্যাত সংগীত পরিচালক জিৎ গাঙ্গুলি, দেবোজ্যোতি মিশ্র, ইন্দ্রাদীপ দাশগুপ্ত এবং আরও অনেকের সঙ্গে কাজ করেছেন। অপর্না সেন পরিচালিত সিনেমা আরশিনগরে মওলা গানের জন্য মধুরাকে শ্রেষ্ট সঙ্গীত শিল্পী হিসাবে টেলিসিনে পুরস্কার প্রদান করা হয়।ভারতের প্রতিনিধিত্ব করার জন্য মধুরাকে চিনে আয়জিত ১০ম এশিয়া আর্ট ফেস্টিভ্যাল আমন্ত্রন জানানো হয়। অনুষ্ঠানগুলি বেজিং সহ আরও ১৪টি প্রদেশে অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়াও তিনি বেশ কয়েকবার বাংলাদেশে আমন্ত্রণমূলক আনুষ্ঠান করেন। তাঁকে ২০১৭ সালে উত্তর আমেরিকান বেঙ্গলি কনফারেন্সে (এনএবিসি) আমন্ত্রিত করা হয়েছিল। ২০১৮-তে টরন্টো, ২০১৮ এবং ২০১৯-তে মধুরা তাঁর সহ সঙ্গীত শিল্পীদের সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্থানে সাঙ্গীতের মাধুর্য্য ছড়িয়ে আসেন।জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়ছবিঃ ফেসবুক

ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২১
কলকাতা

ভাল আছেন বুদ্ধদেব, মঙ্গলবার ফিরছেন বাড়ি

ভাল আছেন বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। অবস্থার আরও উন্নতি হয়েছে তাঁর।মঙ্গলবারই হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে তাঁকে। হাসপাতাল সূত্রে খবর, রবিবার রাতেও ভালভাবে ঘুমিয়েছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। সকালে তাঁকে খবরের কাগজ পড়ে শোনানো হয়েছে। তবে চোখের সমস্যার কারণে তাঁকে টিভি দেখতে দেওয়া হয়নি। নরম খাবারের বদলে তাঁকে ফল ও কিছুটা শক্ত খাবার দিয়েছেন চিকিৎসকরা। আরও পড়ুন ঃ আমি একশোবার চাইব, রাজ্যে ৩৫৬ জারি হোকঃ মুকুল পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ফোনে কথাও বলেছেন বুদ্ধদেববাবু। তাঁর ক্যাথিটারও খুলে দেওয়া হয়েছে। অবস্থার উল্লেখযোগ্য উন্নতি হওয়ায় প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন হাসপাতালের চিকিৎসকরা। তাঁর শরীরের বিভিন্ন মাপকাঠি স্বাভাবিক রয়েছে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে। কিন্তু বিভিন্ন রিপোর্ট খতিয়ে দেখে মেডিক্যাল বোর্ডের সদস্যরা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

ডিসেম্বর ১৪, ২০২০
কলকাতা

সঙ্কট মুক্ত রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য

অনেকটাই সুস্থ রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। শুক্রবার রাতে ভাল ঘুম হয়েছে তাঁর। চেতনাও একেবারে স্বাভাবিক। অল্প অল্প কথাও বলছেন তিনি। শনিবার সকালে এমনই স্বস্তি খবর শোনাল উডল্যান্ডস হাসপাতাল। এদিন সকাল সাড়ে ১১টা নাগাদ হাসপাতালের তরফে মেডিক্যাল বুলেটিন প্রকাশ করে জানানো হয়েছে, ৭৬ বছরের বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য বর্তমানে বিপদমুক্ত। আরও পড়ুন ঃ মোদী সরকারের সমালোচনা করলে দেশদ্রোহী হিসেবে চিহ্নিত হয়ে যাবেনঃ অপর্ণা সেন গত রাতে পর্যাপ্ত ঘুম হয়েছে তাঁর। জ্ঞানও রয়েছে। কথা বলতেও পারছেন। রক্তচাপের মাত্রা ও মূত্রত্যাগের পরিমাণও সম্পূর্ণ স্বাভাবিক। জানা গিয়েছে, জ্ঞান ফেরার পরই চিকিৎসক ও সবসময়ের সঙ্গীকে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য বলেন, আমি বাড়ি যেতে চাই। এদিনই সরিয়ে দেওয়া হতে পারে তাঁর ইউরিনারি ক্যাথিটারও। তবে এখনও অ্যান্টি বায়োটিক ও অন্যান্য ওষুধগুলি দেওয়া হচ্ছে তাঁকে। অর্থাৎ সব ঠিকঠাক থাকলে শীঘ্রই তাঁকে বাড়ি ফেরার অনুমতি দেওয়া হবে বলেই হাসপাতাল সূত্রে খবর। উল্লেখ্য, শ্বাসকষ্ট নিয়ে গত বুধবার দুপুরে উডল্যান্ডস হাসপাতালে ভর্তি হন বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। প্রথমদিকে তাঁর রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা অনেকটা কমে যাওয়ায় বেশ উদ্বেগ ছিল। ক্রিটিক্যাল কেয়ার ডিপার্টমেন্টে তাঁকে ভরতি করানোর পর অক্সিজেন দেওয়া হয়। ধীরে ধীরে রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা বাড়তে থাকে। দলীয় নেতাদের পাশাপাশি তাঁকে দেখতে হাসপাতালে পৌঁছে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও।

ডিসেম্বর ১২, ২০২০
কলকাতা

ভেন্টিলেশন থেকে বের করা হল বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যকে

ভেন্টিলেশন থেকে বের করে আনা হল প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যকে। শুক্রবার বিকেলের আগেই সুখবর শোনালেন উডল্যান্ডস হাসপাতালের চিকিৎসকরা। হাসপাতাল সূত্রে খবর, তিনি স্ত্রী ও মেয়ের সঙ্গে কথা বলেছেন। এদিন বিকেল নাগাদ উডল্যান্ডস হাসপাতালের তরফে মেডিক্যাল বুলেটিন প্রকাশ করে জানানো হয়েছে, বেলা ১১.৩০ নাগাদ ধীরে ধীরে ৭৬ বছরের বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যকে ভেন্টিলেশনের বাইরে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়। আরও পড়ুন ঃ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক ডেকে পাঠালেও দিল্লি যাচ্ছেন না মুখ্যসচিব ও ডিজি পরবর্তী দুঘণ্টা ধরে তাঁকে পর্যবেক্ষণের মধ্যে রেখেছিলেন চিকিৎসকরা। স্বাভাবিকভাবে তিনি শ্বাসপ্রশ্বাস নিতে পারছেন কি না, রক্তচাপ কিংবা রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা স্বাভাবিক রয়েছে কি না, এসবই নজরে ছিল চিকিৎসকদের। শেষপর্যন্ত সেই প্রচেষ্টা সফল হয়েছে বলেই বুলেটিনে জানিয়েছেন তাঁরা। আপাতত বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল। তবে আরও বেশ খানিকটা সময় পর্যবেক্ষণে রাখা হবে তাঁকে।

ডিসেম্বর ১১, ২০২০
কলকাতা

শারীরিক অবস্থার উন্নতি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যর

শারীরিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যর। শুক্রবার সকালে উডল্যান্ডস হাসপাতালের তরফে মেডিক্যাল বুলেটিন প্রকাশ করে বলা হয়েছে, কড়া ডোজের ঘুমের ওষুধ আর তাঁকে দেওয়া হচ্ছে না। রক্তচাপ, অক্সিজেনের মাত্রা আপাতত স্বাভাবিক। ধীরে ধীরে সাড়া দিচ্ছেন। তবে তন্দ্রাচ্ছন্ন অবস্থা এখনও কাটেনি তাঁর। ভেন্টিলেশনের মাত্রা কমলেও, তা চলছে। এই মুহূর্তে তাঁর রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা ৯৬, যা স্বাভাবিক। তাকে রাইস টিউব দিয়ে খাওয়ানো হচ্ছে। তিনি ধীরে ধীরে তা গ্রহণ করতে পারছেন। ডাকলে খুব ধীরে চোখ খুলে সাড়া দেওয়ার চেষ্টা করছেন। বেশ কয়েকটি স্টেরয়েড, অ্যান্টিবায়োটিক এখনও দেওয়া হচ্ছে তাঁকে। সর্বক্ষণ তাঁকে নজরে রেখেছেন চিকিৎসকরা। আরও পড়ুন ঃ কলকাতা হাইকোর্ট খারিজ করে দিল উচ্চ প্রাথমিকের নিয়োগ প্রক্রিয়া প্রসঙ্গত, শ্বাসকষ্ট নিয়ে বুধবার দুপুরে উডল্যান্ডস হাসপাতালে ভরতি হন ৭৬ বছর বয়সি বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। প্রথমদিকে তাঁর রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা অনেকটা কমে যাওয়ায় বেশ উদ্বেগ ছিল। তবে ক্রিটিক্যাল কেয়ার ডিপার্টমেন্টে তাঁকে ভরতি করানোর পর অক্সিজেন দেওয়া হয়। ধীরে ধীরে রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা বাড়তে থাকে।

ডিসেম্বর ১১, ২০২০
কলকাতা

এখনও সঙ্কটজনক বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য

প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যকে এখনই সঙ্কটমুক্ত বলতে নারাজ চিকিৎসকেরা। ভেন্টিলেশনেই রাখা হয়েছে প্রক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে। তাঁর শরীরের একাধিক প্যারামিটার অবশ্য সন্তোষজনক। বৃহস্পতিবার বিকেল এক মেডিক্যাল বুলেটিনে এমনটাই জানানো হয়েছে হাসপাতালের তরফে। মেডিক্যাল বুলেটিনে বলা হয়েছে, বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যকে এখনও পর্যন্ত ভেন্টিলেশনে রাখা হয়েছে। তন্দ্রাচ্ছন্ন রয়েছেন তিনি। আরও পড়ুন ঃ প্রচার না পেয়ে গুন্ডাদের দিয়ে হামলার নাটক করাচ্ছেঃ মমতা তাঁর দেহে অক্সিজেনের মাত্রা ৯৫ শতাংশ। রক্তচাপ, পালস রেট ঠিক আছে। ইউরিন ঠিকমতো হয়েছে। সকালে বৈঠকের পরে মেডিক্যাল বোর্ডের তরফে জানানো হয় বুদ্ধবাবুর শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছে, চিকিৎসায় সাড়া দিচ্ছেন তিনি। আচ্ছন্ন থাকলেও জ্ঞান আছে। এখনও মেক্যানিক্যাল ভেন্টিলেশনেই আছেন। এবং আপাতত সেখানেই থাকবেন। তবে যাতে তাঁকে সেখান থেকে বের করে আনা যায় ধীরে ধীরে সেই চেষ্টাই চলছে। বিকেলের বুলেটিনে জানানো হয়েছে, বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যকে অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হচ্ছে স্যালাইনের মাধ্যমে। খাবার দেওয়া হচ্ছে রাইস টিউবের সাহায্যে।

ডিসেম্বর ১০, ২০২০
কলকাতা

বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যকে হাসপাতালে দেখতে গেলেন মমতা, করলেন দ্রুত আরোগ্য কামনা

রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যকে দেখতে হাসপাতালে গেলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রবল শ্বাসকষ্টের সমস্যা নিয়ে বুধবার দুপুরে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য ভর্তি হন দক্ষিণ কলকাতার এক বেসরকারি হাসপাতালে। এদিন সন্ধ্যায় হাসপাতালে গিয়ে তাঁকে দেখে আসেন মুখ্যমন্ত্রী। কথা বলেন চিকিৎসকদের সঙ্গে। এদিন তাকে দেখতে হাসপাতালে যান সিপিএম নেতা বিমান বসু, সূর্যকান্ত মিশ্র, সুজন চক্রবর্তী। আরও পড়ুন ঃ আগামীকাল প্রকাশিত হবে তৃণমূলের রিপোর্ট কার্ড মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, তার করোনা পরীক্ষা রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে। ভেন্টিলেশনে রাখা হয়েছে তাঁকে। ওনার দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি। চিকিৎসকরা চেষ্টা করছেন। উনি সেরে উঠুন। পরিবারের পাশে আছি। হাসপাতালের মেডিক্যাল বুলেটিনে জানানো হয়েছে অবস্থার অবনতি হয়েছে বুদ্ধবাবুর। অত্যন্ত সঙ্কটজনক অবস্থায় রয়েছেন তিনি। বাইপ্যাপ ভেন্টিলেশনে তাঁকে রাখা হয়েছিল প্রথমে কিন্তু তাতে কাজ না হওয়ায় তাঁকে মেকানিক্যাল ভেন্টিলেশনে দেওয়া হয়। তাঁর রক্তে কার্বন ডাই অক্সাইডের মাত্রা বেড়েছে। ভর্তি হওয়ার সময় ৮৮ থাকলেও পরে তা বেড়ে হয়েছে ১৩১। তাঁর চিকিৎসায় গঠন করা হয়েছে পাঁচ সদস্যের মেডিক্যাল বোর্ড।

ডিসেম্বর ০৯, ২০২০
কলকাতা

শ্বাসকষ্টের সমস্যার জের, হাসপাতালে ভরতি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য

শ্বাসকষ্টের সমস্যার জেরে শহরের এক বেসরকারি হাসপাতালে ভরতি করা হল রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যকে। বুধবার দুপুরে তাকে উডল্যান্ডস হাসপাতালে ভরতি করা হয়। হাসপাতালে ভরতি করার সময় প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর স্ত্রী ছিলেন। কিছুক্ষণ পরে সেখানে তাঁর কন্যা উপস্থিত হয়। তাঁর চিকিৎসায় চার সদস্যের একটি মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। অক্সিজেনের স্যাচুরেশন লেভেল ৭০ হওয়ায় তাঁকে হাসপাতালে ভরতি করে অক্সিজেন দিতে হয়েছে। এর জেরে তাঁর রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা আগের থেকে অনেকটাই স্বাভাবিক হয়েছে। প্রসঙ্গত, দীর্ঘদিন ধরেই অসুস্থ বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। শারীরিক অবস্থার কারণেই দীর্ঘদিন জনসমক্ষে দেখা যায়নি রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে। আরও পড়ুন ঃ কৃষি আইনের বিরোধিতায় গান্ধী মূর্তির পাদদেশে বিক্ষোভ তৃণমূলের সিপিএমের কোনও দলীয় কর্মসূচিতেও তিনি এখন আর যোগ দিতে পারেন না, যেতে পারেন না দলীয় দফতরে। শ্বাসকষ্টের পাশাপাশি চোখের সমস্যাতেও ভুগছেন তিনি। বাড়িতেও কৃত্রিম অক্সিজেন সাপোর্টের রাখা হয়েছিল তাঁকে। মাস কয়েক আগে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ায় বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছিল। সেসময় তাঁর খোঁজ নিতে বুদ্ধবাবুর বাড়িতেও গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বাড়িতে গিয়ে তাঁকে দেখে আসেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়ও।

ডিসেম্বর ০৯, ২০২০
রাজ্য

তৃণমূলের প্রাক্তন কাউন্সিলরকে গ্রেফতারের দাবিতে থানায় বিক্ষোভ জেলা সাধারণ সম্পাদকের

শাসক দলের গোষ্ঠী সংঘর্ষের জেরে অভিযুক্ত মহম্মদ সেলিমকে গ্রেফতারের দাবিতে থানা ঘেরাও হল বর্ধমানে। আর সেই থানা ঘেরাও কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন খোদ তৃণমূলের জেলা সাধারণ সম্পাদক খোকন দাস। ঘন্টা দেড়েক বিক্ষোভ চলার পর পুলিশি আশ্বাসে ঘেরাও কর্মসূচি উঠে যায়। আরও পড়ুন ঃ হাওড়ায় নতুন পুর কমিশনার ঘটনার সূত্রপাত শুক্রবার দুপুরে। বর্ধমানের লোকো কলোনীতে দুয়ারে সরকার ক্যাম্পে তৃণমূল কংগ্রেসের দুই বিবদমান গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষ হয় । এই ঘটনায় দুই গোষ্ঠীরই বেশ কয়েকজন জখম হয়। বর্ধমানের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের রেলওয়ে বিদ্যাপীঠ স্কুলে দুয়ারে সরকার ক্যাম্প বসেছিল। সেখানেই ক্যাম্পের দখলদারি নিয়ে জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক খোকন দাস ও ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলর মহম্মদ সেলিমের অনুগামীদের মধ্যে সংঘর্ষ বেঁধে যায়। অভিযোগ , শিবু ঘোষ তার বৌদি ও স্ত্রীকে নিয়ে বিদ্যাপীঠ স্কুলে স্বাস্থ্যসাথীর কার্ডের জন্য দাঁড়িয়ে ছিল। তখন মহম্মদ সেলিমের অনুগামীরা খোকন দাসের অনুগামী শিবু ঘোষকে মারধর করে। এরপর এলাকার একটি বাড়িতে শিবু ঘোষ আশ্রয় নিলে সেখানেও ঢুকে মারধর করা হয়। পাশের দলীয় কার্যালয়ে হামলা হয় ও ভাঙচুর চালানো হয়। খোকন দাস পুলিশকে হুঁশিয়ারি দেন যদি বিকেলের মধ্যে অভিযুক্তদের না ধরা হয়, তাহলে তারা থানা ঘেরাও করবেন। পুলিশ প্রশাসন ঠিক মত কাজ করছে না বলে অভিযোগ করেন তিনি। অন্যদিকে প্রাক্তন কাউন্সিলর মহম্মদ সেলিম বলেন, দুয়ারে সরকার ক্যাম্পে হাজির হয়ে শিবু ঘোষের নেতৃত্বে কয়েকজন দাদাগিরি করছিল। এলাকার বাসিন্দারা প্রতিবাদ করলে প্রথমে বাদানুবাদ হয়।পরে স্থানীয় বাসিন্দারা তাদের তাড়া করলে ছুটে পালাতে গিয়ে কেউ আহত হতে পারে। কেউ তাদের মারধর করেনি। আর ওখানে কোন তৃণমূল কংগ্রেসের পার্টি অফিস নেই। শিবু ঘোষের দাবি, সেলিমের নেতৃত্বে একদল যুবক তাঁদের উপর হামলা করে। ব্যাপক মারধর করেছে।

ডিসেম্বর ০৫, ২০২০
  • ‹
  • 1
  • 2
  • 3
  • 4
  • ›

ট্রেন্ডিং

রাজ্য

ডিজিটাল ক্লাস থেকে খুদেদের প্রাতরাশ, জাতীয় শিক্ষক পুরস্কারে মনোনীত বর্ধমানের পলাশ

শুধু চক-ডাস্টার আর পাঠ্যবইয়ের মধ্যে শিক্ষাকে সীমাবদ্ধ না রেখে প্রযুক্তিকে হাতিয়ার করে খুদে পড়ুয়াদের কাছে পড়াশোনাকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছেন বর্ধমান শহরের শ্রীরামকৃষ্ণ সারদা বিদ্যাপীঠ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পলাশ চৌধুরী। শ্রেণিকক্ষে প্রযুক্তির অভিনব প্রয়োগের পাশাপাশি পড়ুয়াদের মানসিক বিকাশ, পরিবারের ভূমিকা এবং পুষ্টির দিকেও তাঁর নজর। এই বহুমুখী উদ্যোগের স্বীকৃতি হিসেবেই চলতি বছর জাতীয় শিক্ষক পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছেন তিনি।এ বছর পশ্চিমবঙ্গ থেকে দুজন শিক্ষক জাতীয় শিক্ষক পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছেন। প্রায় আট বছর পর সেই তালিকায় বর্ধমানের কোনও স্কুলশিক্ষকের নাম উঠে আসায় খুশি পড়ুয়া থেকে অভিভাবকসকলেই। এর আগে ২০১৮ সালে বর্ধমানের কাঞ্চননগর ডি এন দাস হাইস্কুলের শিক্ষক সুভাষচন্দ্র দত্ত জাতীয় শিক্ষক পুরস্কার পেয়েছিলেন।পলাশ চৌধুরীর শিক্ষাদর্শনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হল প্রযুক্তির ব্যবহার। শ্রীরামকৃষ্ণ সারদা বিদ্যাপীঠের ক্লাসে পাঠ্যপুস্তকের পাশাপাশি ডিজিটাল ছবি ও লেখার সাহায্যে বিভিন্ন বিষয় পড়ুয়াদের সামনে তুলে ধরা হয়। কঠিন বিষয়কে সহজ করে বোঝাতে ভার্চুয়াল পদ্ধতিও কাজে লাগানো হয়েছে। মহাকাশ কিংবা মানবদেহের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের মতো বিষয়গুলিকে ভার্চুয়াল পরিবেশে দেখার সুযোগ পাচ্ছে পড়ুয়ারা। প্রধান শিক্ষকের দাবি, এর ফলে শিশুদের মধ্যে পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ এবং জানার কৌতূহল দুটোই বেড়েছে।শিক্ষার বাইরেও পড়ুয়াদের ব্যক্তিত্ব বিকাশের দিকে গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। স্কুলের বার্ষিক পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে শুধু পরীক্ষায় ভালো ফল করা পড়ুয়াদের পুরস্কৃত করা হয় না। সেরা হাতের লেখা, উদীয়মান প্রতিভা কিংবা ঘুরে দাঁড়ানোর সেরা উদাহরণ-এর মতো নানা বিভাগে পড়ুয়াদের উৎসাহিত করা হয়। এর মাধ্যমে শিশুদের ভিন্ন ভিন্ন প্রতিভা ও সাফল্যকে স্বীকৃতি দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।পড়ুয়াদের সাফল্যের পিছনে পরিবারের অবদানকেও সামনে এনেছেন পলাশবাবু। সন্তানদের সারা বছর পড়াশোনায় উৎসাহ দেওয়ার জন্য স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের মায়েদের দেওয়া হয় সেরা আপনজন সম্মান। তাঁর মতে, একটি শিশুর সাফল্যের পিছনে পরিবারের সদস্যদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকে। তাই তাঁদের অবদানকেও সম্মান জানানো প্রয়োজন।প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার নিয়ে অভিভাবকদের সচেতন করতেও স্কুলের উদ্যোগ রয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই সম্পর্কে ধারণা দিতে সম্প্রতি একটি কর্মশালার আয়োজন করা হয়। পলাশ চৌধুরীর বক্তব্য, অনেক অভিভাবক সরাসরি সন্তানদের পড়াশোনায় সাহায্য করতে পারেন না। প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার সম্পর্কে তাঁরা জানলে সন্তানদের পড়াশোনায় সহযোগিতা করা তাঁদের পক্ষে সহজ হবে।তবে পলাশ চৌধুরীর উদ্যোগ শুধু শ্রেণিকক্ষ কিংবা প্রযুক্তির মধ্যেই থেমে নেই। পড়ুয়াদের শারীরিক পুষ্টির বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে স্কুলে। মিড-ডে মিলের পাশাপাশি প্রধান শিক্ষকের নিজস্ব উদ্যোগ এবং অন্যান্য শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সহযোগিতায় চালু হয়েছে প্রাতরাশের ব্যবস্থা। স্কুল কর্তৃপক্ষের দাবি, আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা পরিবারের অনেক শিশু সকালে খালি পেটে স্কুলে আসে। তাদের কথা মাথায় রেখেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা, পড়ুয়াদের প্রতিভার স্বীকৃতি, অভিভাবকদের অংশগ্রহণ এবং শিশুদের পুষ্টির প্রতি নজর, সব মিলিয়ে বর্ধমানের এই প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার পরিসরকে আরও বিস্তৃত করার চেষ্টা করেছেন পলাশ চৌধুরী। আর সেই কাজেরই স্বীকৃতি হিসেবে জাতীয় শিক্ষক পুরস্কারের মনোনয়ন তাঁর মুকুটে নতুন পালক যোগ করেছে।

আগস্ট ২৭, ২০২৬
দেশ

আরও বাড়তে পারে গঙ্গার জল, বন্যার আশঙ্কায় নদীপাড়ে বাড়ছে উদ্বেগ

গঙ্গার জলস্তর বিপদসীমা অতিক্রম করায় মুর্শিদাবাদের বিস্তীর্ণ নদীতীরবর্তী এলাকায় উদ্বেগ ক্রমশ বাড়ছে। ফরাক্কা থেকে সামশেরগঞ্জ, সুতী, লালগোলা, জিয়াগঞ্জ হয়ে জলঙ্গী পর্যন্ত গঙ্গার পাড়ের বাসিন্দাদের মধ্যে তৈরি হয়েছে আতঙ্ক। তার উপর প্রশাসনের পক্ষ থেকে বারবার সতর্কবার্তা আসায় ভয় আরও বাড়ছে স্থানীয়দের।সেন্ট্রাল ওয়াটার কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, গঙ্গার জলস্তর বিপদসীমা ২২.২৫ মিটার ছাড়িয়ে বর্তমানে ২২.৭৭ মিটারে পৌঁছেছে। আগামীকাল রাত ৮টার মধ্যে জলস্তর আরও বেড়ে ২২.৮৫ মিটারে পৌঁছতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। নেপালে সাম্প্রতিক ধ্বংসাত্মক হড়কা বানের জেরে অতিরিক্ত জল গণ্ডক নদী হয়ে পাটনায় গঙ্গায় মিশছে। বিহারের পাটনা ও রাজমহল হয়ে সেই জল ফরাক্কায় পৌঁছনোর কারণেই দ্রুত জলস্তর বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।ফরাক্কা ব্যারেজের জেনারেল ম্যানেজার আরডি দেশপান্ডে জানিয়েছেন, আপস্ট্রিম থেকে আসা জলের মধ্যে ফরাক্কার ফিডার ক্যানাল দিয়ে প্রায় ৪০ হাজার কিউসেক জল ছাড়া হচ্ছে। অন্যদিকে, ফরাক্কার ডাউনস্ট্রিমে প্রায় সাড়ে ১১ লক্ষ কিউসেক জল প্রবাহিত হচ্ছে।সেন্ট্রাল ওয়াটার কমিশনের আধিকারিক সঞ্জীব কুমার জানিয়েছেন, বিকেল ৩টের সময় গঙ্গার জলস্তর ২২.৭৭ মিটার রেকর্ড করা হয়েছে। বিপদসীমার তুলনায় যা অনেকটাই বেশি। তাঁর কথায়, জলস্তর এখনও ঊর্ধ্বমুখী এবং পাটনা ফোরকাস্ট স্টেশনের পূর্বাভাস অনুযায়ী আগামীকাল রাত ৮টার মধ্যে তা ২২.৮৫ মিটার পর্যন্ত পৌঁছতে পারে। নেপালের হড়কা বানের প্রভাবেই এই জলবৃদ্ধি বলে মনে করা হচ্ছে। তবে এখনও পর্যন্ত শহরে জল ঢোকার কোনও রেকর্ড নেই এবং পরিস্থিতি সেফ জোনে রয়েছে বলেও জানান তিনি।পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে নদীপাড়ের বাসিন্দাদের সতর্ক করা হচ্ছে। প্রতি ঘণ্টার আপডেট মেল ও হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে প্রশাসন ও রাজ্য সরকারকে জানানো হচ্ছে। ফরাক্কার বিডিও সুজয় ব্যাপারী জানিয়েছেন, জলস্তর বাড়ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা ও ব্লক প্রশাসন সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।তবে প্রশাসনের সতর্কবার্তায় আতঙ্কিত স্থানীয় বাসিন্দারাও। ফরাক্কার গঙ্গাপাড়ের বাসিন্দা শরৎ হালদার বলেন, প্রশাসনের দফতর থেকে বারবার সাবধান থাকার মেসেজ আসছে। তাঁর আশঙ্কা, আরও এক মিটার জল বাড়লেই নালা দিয়ে গ্রামে জল ঢুকে পড়তে পারে। টিনের ঘরবাড়িতে বসবাসকারী গরিব মানুষজন বন্যা হলে কোথায় যাবেন, কীভাবে থাকবেনসেই চিন্তাতেই এখন রাত কাটছে তাঁদের।

আগস্ট ২৭, ২০২৬
রাজ্য

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, দুবাই, ইংল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, জার্মানির শিল্পমহল শিল্পস্থাপনে যথেষ্ট আগ্রহী, দাবি মন্ত্রী তাপস রায়ের

রাজ্যে শিল্পায়ন নিয়ে আন্তর্জাতিক মহল আগ্রহী বলে দাবি করেছেন শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়। তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গে বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে আন্তর্জাতিক শিল্পমহলে ইতিমধ্যেই যথেষ্ট আগ্রহ তৈরি হয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, দুবাই, ইংল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, জার্মানি, সিঙ্গাপুর এবং জাপান, মিতসুবিশি-সহ বিভিন্ন দেশের শিল্পপতি ও কূটনৈতিক প্রতিনিধিরা রাজ্যে বিনিয়োগের বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, আগামী দিনে সেমিকন্ডাক্টর হাব, ডেটা সেন্টার, তথ্যপ্রযুক্তি এবং আধুনিক উৎপাদন শিল্পকে কেন্দ্র করে পশ্চিমবঙ্গে একটি শক্তিশালী শিল্প পরিকাঠামো গড়ে তোলার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে বৃহৎ কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করার পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গের হারানো শিল্পগৌরব পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে বলে তিনি জানান। রাজ্যের শিল্পায়ন ও বিনিয়োগ প্রসঙ্গে শিল্পমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটিয়ে পশ্চিমবঙ্গে নতুন শিল্পায়নের পরিবেশ তৈরি হচ্ছে। শিল্পনীতি, ল্যান্ড ব্যাংক, ল্যান্ড পলিসি, ইনসেন্টিভ স্কিম এবং Single Window ব্যবস্থাকে কার্যকর করার লক্ষ্যে সরকারের পক্ষ থেকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন GoM বৈঠকের মাধ্যমে শিল্পক্ষেত্রে নীতি নির্ধারণ ও বাস্তবায়নের কাজ এগিয়ে চলেছে বলেও তিনি জানান।রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের পরও কিছু ক্ষেত্রে তোলাবাজির অভিযোগ উঠছে। এই প্রসঙ্গে তাপস রায় সরকারের Zero Tolerance নীতির কথা স্পষ্টভাবে তুলে ধরেন। তিনি জানান, সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের স্বার্থে যে কোনও ধরনের বেআইনি তোলাবাজি এবং সিন্ডিকেট কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণে সরকার কঠোর পদক্ষেপ করবে। অতীতে এই ধরনের কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের উপরও নজরদারি রাখা হচ্ছে বলে তিনি জানান। আইন অমান্য করে কেউ বেআইনি কার্যকলাপে যুক্ত হলে রাজনৈতিক পরিচয় বা পদমর্যাদা নির্বিশেষে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি স্পষ্ট করেন।এদিন ক্যামাক স্ট্রিটে তৃণমূল কংগ্রেসের অফিসে হানা দেয় কলকাতা পুরসভা ও পুলিশ। ওই অফিসে বসেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিনও তিনি ও ডেরেক ওব্রায়েন অফিসে ছিলেন। কলকাতা পুরসভা ও পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে তৃণমূল নেতৃত্বের বিরুদ্ধে। শিল্পমন্ত্রী বলেন, সাংবিধানিক ও প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠানগুলি তাদের আইনানুগ দায়িত্ব পালন করবে। সেই কাজে বাধা সৃষ্টি করলে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তার-সহ প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার প্রশাসনের রয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষেত্রে সরকার কোনো ধরনের আপস করবে না বলেও তিনি স্পষ্ট করেন।

আগস্ট ২৭, ২০২৬
কলকাতা

ক্যামাক স্ট্রিটে অভিষেকের দফতরে পুরসভার হানা, ভেঙে ফেলা হল তৃণমূলের সাইনবোর্ড! ধস্তাধস্তি, আটক ১২

তৃণমূলের দ্বিতীয় ক্ষমতাকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ক্যামাক স্ট্রিটের দফতরকে ঘিরে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তীব্র উত্তেজনা ছড়াল কলকাতায়। ৯, ক্যামাক স্ট্রিটে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দফতরের ছাদে থাকা অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস লেখা সাইনবোর্ডকে বেআইনি বলে অভিযোগ তুলে সেটি খুলে দিল কলকাতা পুরসভা। অভিযান ঘিরে পুরকর্মী ও পুলিশের সঙ্গে তৃণমূল নেতা-কর্মীদের ধস্তাধস্তির ঘটনাও ঘটে। পুলিশ-পুরসভার কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে ১২ জনকে আটক করা হয়েছে।ঘটনার সূত্রপাত কলকাতা পুলিশের একটি অভিযোগকে কেন্দ্র করে। পুলিশ পুরসভাকে জানায়, অভিষেকের দফতরের মাথায় লাগানো ওই বড় বিলবোর্ডটি নিয়ম মেনে বসানো হয়নি। অভিযোগ পাওয়ার পর কলকাতা পুরসভার বিজ্ঞাপন বিভাগের আধিকারিকেরা বৃহস্পতিবার বিকেলে ক্যামাক স্ট্রিটে পৌঁছন।খবর পেয়ে দফতরে হাজির হন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, তৃণমূল নেতা বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায় এবং রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ওব্রায়েন-সহ কয়েক জন। পুরসভার আধিকারিকেরা যে নির্দেশের কপি নিয়ে এসেছিলেন, তার বৈধতা নিয়ে তাঁরা প্রশ্ন তোলেন। দীর্ঘক্ষণ তর্ক-বিতর্কের পর প্রথম দফায় পুরকর্মীরা ফিরে যান।কিন্তু কিছুক্ষণ পর ফের পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে দফতরে পৌঁছন পুরসভার আধিকারিকেরা। এ বার পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পুলিশ বাহিনী হেলমেট পরে দফতরের ভিতরে ঢোকে। যে অংশে সাইনবোর্ডটি ছিল, সেখানে যাওয়ার পথে বাধার মুখে পড়তে হয় তাঁদের।অভিযোগ, তৃণমূলের কয়েক জন নেতা-কর্মী সিঁড়িতে বসে বা শুয়ে পড়ে পুলিশ ও পুরকর্মীদের আটকানোর চেষ্টা করেন। ধস্তাধস্তির সময় কয়েক জন পুলিশকর্মীকে ধাক্কা দেওয়ার অভিযোগও ওঠে। শেষ পর্যন্ত তালা ভেঙে ছাদে পৌঁছন পুরকর্মীরা। সেখান থেকেই খুলে ফেলা হয় অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস লেখা সাইনবোর্ডটি। পরে তার ভাঙা অংশ ছাদেই পড়ে থাকতে দেখা যায়।এই ঘটনার পরই রাজনৈতিক সংঘাত আরও তীব্র হয়। ঘটনাস্থল থেকেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপি এবং রাজ্যের বিরোধী শিবিরের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ তোলেন। তাঁর দাবি, তৃণমূলকে রাজনৈতিক ভাবে কোণঠাসা করার উদ্দেশ্যেই ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে পুরসভার মাধ্যমে হস্তক্ষেপ করা হয়েছে।অভিষেক বলেন, তৃণমূলকে মিটিং-মিছিলের অনুমতি না দেওয়া, দলের নেতাদের আক্রমণ করা এবং পার্টি অফিস ও বিলবোর্ড ভেঙে দেওয়ার মাধ্যমে তাঁদের ভয় দেখানোর চেষ্টা চলছে। তাঁর কথায়, ঘাসফুলকে যত কাটা হবে, ততই তা বাড়বে। একই সঙ্গে শুভেন্দু অধিকারীকেও আক্রমণ করেন তিনি।অভিষেকের আরও অভিযোগ, ক্যামাক স্ট্রিটের ওই এলাকায় ফুটপাত ও বিভিন্ন দোকানের উপরে একাধিক বিলবোর্ড রয়েছে। অথচ শুধুমাত্র তাঁর দফতরের বোর্ডকেই কেন নিশানা করা হল, সেই প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর দাবি, বেআইনি নির্মাণ ও অন্যান্য অবৈধ বিজ্ঞাপনের বিরুদ্ধে একই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না।ঘটনাকে কেন্দ্র করে আইনি লড়াইয়ের পথেও হাঁটছে তৃণমূল। অভিষেকের তরফে জানানো হয়েছে, পুলিশ ও পুরসভার ভূমিকার বিরুদ্ধে হাই কোর্টে মামলা করা হবে। ইতিমধ্যেই বিষয়টি আদালতে তোলার উদ্যোগ হয়েছে। প্রধান বিচারপতি শুক্রবার বিষয়টি মেনশন করার অনুমতি দিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।অন্যদিকে, এর আগে ডায়মন্ড হারবারের আমতলায় অভিষেকের সাংসদ কার্যালয়ের একাংশ বেআইনি নির্মাণ-এর অভিযোগে প্রশাসনের তরফে ভেঙে দেওয়া হয়েছিল। সেই ঘটনাও আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে। তার পর এ বার খোদ কলকাতার ক্যামাক স্ট্রিটে অভিষেকের দফতরের দলীয় সাইনবোর্ড ভাঙাকে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হল।ঘটনাস্থলে তৃণমূলের সাধারণ কর্মী-সমর্থকদের উপস্থিতি অবশ্য তেমন ছিল না। খবর ছড়ালেও বড় কোনও জমায়েত দেখা যায়নি। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সন্ধ্যার পর থেকেই ক্যামাক স্ট্রিটে বাহিনী বাড়িয়ে দেয়। উত্তেজনা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়।এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক তরজায় বিরোধী শিবিরও পিছিয়ে থাকেনি। অভিষেকের দফতরে পুলিশের অভিযান প্রসঙ্গে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় কটাক্ষ করে বলেন, অভিষেক উচ্চমার্গের চার্টার্ড মাফিয়া। তাঁর দাবি, এই বিষয়ে প্রতিক্রিয়া দেওয়ার মতো সময় তাঁর নেই।সব মিলিয়ে, এক সময় তৃণমূলের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ৯, ক্যামাক স্ট্রিট এখন নতুন রাজনৈতিক সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দু। একটি সাইনবোর্ড অপসারণকে ঘিরে পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি, ১২ জনকে আটক এবং আদালতে যাওয়ার হুঁশিয়ারিসব মিলিয়ে ঘটনাটি রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে।

আগস্ট ২৭, ২০২৬
রাজ্য

নেপাল বিপর্যয়ে নিখোঁজ বাংলার পর্যটকরা, উদ্বেগে একাধিক পরিবার

নেপালের ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের পর নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে পশ্চিমবঙ্গের একাধিক পর্যটকের পরিবারে। কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রার উদ্দেশ্যে নেপালে যাওয়া রাজ্যের বহু পর্যটকের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের হিসাব অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত ৩৬ জনের খোঁজ মিলছে না। নিখোঁজদের মধ্যে কলকাতা ছাড়াও হুগলি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পশ্চিম বর্ধমান, দার্জিলিং এবং উত্তর ২৪ পরগনার বাসিন্দারা রয়েছেন।বুধবার নেপাল-চিন সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় ভয়াবহ হড়পা বান নামে। ভোটেকোশী নদীর জল আচমকা ফুলে ওঠায় বিস্তীর্ণ এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিপর্যয়ের জেরে বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং এখনও নিখোঁজ রয়েছেন অনেকে। সেই নিখোঁজদের তালিকাতেই রয়েছেন ভারতের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রায় যাওয়া পর্যটকেরা।কলকাতা থেকে নেপাল, তারপর আর কোনও খোঁজ নেইকলকাতার নাকতলা ও কসবার দুই বাসিন্দা রিনা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সুস্মিতা ভট্টাচার্যও নিখোঁজদের তালিকায় রয়েছেন। দুজনেই ভ্রমণ সংস্থার সঙ্গে নেপাল গিয়েছিলেন।২১ অগস্ট একটি ৩০ জনের দলের সঙ্গে নেপালের উদ্দেশে রওনা দেন সুস্মিতা। কাঠমান্ডু পৌঁছে পশুপতিনাথ মন্দির দর্শনের পর দলটি কেরুং হয়ে তিব্বত সীমান্তের দিকে এগোয়। সেখান থেকেই পরিবারের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। শেষ দিকে হোয়াট্সঅ্যাপের মাধ্যমে পরিবারের সঙ্গে কথা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন তাঁর পুত্রবধূ।একই ভাবে ২১ অগস্ট নেপালে যাওয়া রিনার সঙ্গেও যোগাযোগ করতে পারছে না পরিবার। ভ্রমণ সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করেও এখনও নিশ্চিত কোনও তথ্য পাওয়া যায়নি।নিখোঁজ মুকুল রায়ের পুত্রবধূওনিখোঁজ পর্যটকদের তালিকায় রয়েছেন প্রয়াত তৃণমূল নেতা মুকুল রায়ের পুত্রবধূ শর্মিষ্ঠা ভৌমিক রায়। গত ২১ অগস্ট একটি ভ্রমণ সংস্থার সঙ্গে নেপালে গিয়েছিলেন তিনি। বুধবারের বিপর্যয়ের পর থেকেই তাঁর সঙ্গে পরিবারের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন।স্বামী শুভ্রাংশু রায়ের দাবি, বিভিন্ন ভাবে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও এখনও পর্যন্ত শর্মিষ্ঠার কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি।সোনারপুরের লোপামুদ্রারও সন্ধান নেইদক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুরের বৈকুণ্ঠপুরের বাসিন্দা সফ্টওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার লোপামুদ্রা কুন্ডুও নিখোঁজ। পরিবারের সঙ্গে শেষ কথা হওয়ার সময় তিনি জানিয়েছিলেন, চিন সীমান্তের কাছাকাছি রয়েছেন।২১ অগস্ট ৩০ জনের একটি দলের সঙ্গে নেপাল যান লোপামুদ্রা। বুধবার সকালেও পরিবারের সঙ্গে কথা হয়েছিল তাঁর। এরপর থেকেই ফোনে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না।দুর্গাপুরের দুই দম্পতিকে ঘিরে উৎকণ্ঠাপশ্চিম বর্ধমানের দুর্গাপুর থেকেও একাধিক পর্যটকের খোঁজ মিলছে না। অম্বুজা টাউনশিপের বাসিন্দা দেবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর স্ত্রী সঙ্ঘমিত্রা বন্দ্যোপাধ্যায় ২১ অগস্ট কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রার উদ্দেশ্যে নেপাল যান। দেবাশিস দুর্গাপুর ইস্পাত হাসপাতালের কর্মী এবং সঙ্ঘমিত্রা শিক্ষক।একই সঙ্গে দুর্গাপুরের তপোবন সিটি এলাকার বাসিন্দা অরিন্দম গঙ্গোপাধ্যায় ও মৌসুমি গঙ্গোপাধ্যায়ের সঙ্গেও যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। তাঁদের পরিবার এবং প্রতিবেশীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।পরিবারের তরফে জানানো হয়েছে, বিপর্যয়ের খবর পাওয়ার পর থেকেই ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হচ্ছে। কিন্তু কোনও উত্তর পাওয়া যাচ্ছে না।বসিরহাটের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক দম্পতিও নিখোঁজউত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাটের খান বাহাদুর রোডের বাসিন্দা স্বপন মণ্ডল ও তাঁর স্ত্রী মৌ মণ্ডলও নেপালে গিয়ে নিখোঁজ। দুজনেই অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক। প্রায় এক সপ্তাহ আগে তাঁরা নেপালে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে তাঁদের কৈলাস যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল।প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের পর থেকেই তাঁদের মোবাইল ফোন বন্ধ। ফলে পরিবারের উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে।তারকেশ্বরের পর্যটকদের নিয়েও দুশ্চিন্তাহুগলির তারকেশ্বরের চাউলপট্টির বাসিন্দা স্নেহাশিস দত্ত এবং একই এলাকার ভ্রমণ সংস্থার কর্মী জয়ন্ত সান্যালও ওই দলের সঙ্গে ছিলেন। পরিবারের দাবি, বুধবার তিব্বত সীমান্ত পেরোনোর কথা ছিল তাঁদের।স্নেহাশিসের স্ত্রী সোমা দত্ত জানিয়েছেন, বুধবার সকাল ৭টা ২৫ মিনিটে স্বামীর সঙ্গে শেষ কথা হয়েছিল। তিনি জানিয়েছিলেন, তাঁরা অভিবাসন দফতরের দিকে যাচ্ছেন। এরপর থেকেই আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।শিলিগুড়ির সমরের খোঁজে কাঠমান্ডু পাড়ি দাদারদার্জিলিং জেলার শিলিগুড়ির শান্তিনগর-বউবাজার এলাকার বাসিন্দা সমর মণ্ডলও নিখোঁজ। ১৬ অগস্ট একটি ট্র্যাভেল এজেন্সির মাধ্যমে নেপালের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন তিনি। মঙ্গলবার শেষ বার পরিবারের সঙ্গে কথা হয়।কৈলাস যাত্রার পথে তাঁর শারীরিক অসুস্থতাও হয়েছিল বলে পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে। বুধবার কাঠমান্ডু ফিরে আসার কথা ছিল তাঁর। কিন্তু বিপর্যয়ের পর আর কোনও খবর না মেলায় ভাইয়ের খোঁজে তাঁর দাদা ইতিমধ্যেই কাঠমান্ডুর উদ্দেশে রওনা হয়েছেন।৬৮ বছরের অনিতাকে ঘিরেও উৎকণ্ঠাহাওড়ার আন্দুল হাটগাছা এলাকার ৬৮ বছরের অনিতা দাসও নেপাল-তিব্বত সীমান্তের কাছে নিখোঁজ বলে পরিবার জানিয়েছে। কৈলাস-মানস সরোবর যাওয়ার দীর্ঘদিনের ইচ্ছা ছিল তাঁর।মঙ্গলবার সকালে ছেলের সঙ্গে শেষ কথা হয়েছিল অনিতার। তখন তিনি জানিয়েছিলেন, তাঁরা সীমান্তের কাছাকাছি রয়েছেন। এরপর থেকেই তাঁর ফোন বন্ধ।প্রশাসনের তৎপরতার দিকে তাকিয়ে পরিবারনেপালের বিপর্যয়ের পর একের পর এক পর্যটকের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় উদ্বেগ বাড়ছে বাংলার বিভিন্ন পরিবারে। কেউ শেষ ফোনকলের অপেক্ষায়, কেউ আবার আত্মীয়ের খোঁজে প্রশাসনের দ্বারস্থ হচ্ছেন।নিখোঁজ পর্যটকদের অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য না পাওয়া পর্যন্ত উৎকণ্ঠা কাটছে না পরিবারগুলির। উদ্ধারকাজ এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক হওয়ার দিকে তাকিয়ে রয়েছেন তাঁরাকখন আসে বহু প্রতীক্ষিত সেই ফোন, সেই আশাতেই দিন গুনছেন স্বজনেরা।

আগস্ট ২৭, ২০২৬
রাজ্য

৩১ অগস্টের পরেও কি থাকবে চাকরি? ২৬ হাজার মামলায় বড় নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের

২৬ হাজার শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীর চাকরি বাতিল সংক্রান্ত মামলায় আপাতত বড় স্বস্তি পেলেন যোগ্য প্রার্থীরা। ২০১৬ সালের স্কুল সার্ভিস কমিশনের (এসএসসি) নিয়োগ সংক্রান্ত মামলায় সুপ্রিম কোর্টের আগের নির্দেশই আপাতত বহাল থাকছে। ফলে নতুন করে শুনানি এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত যোগ্য হিসেবে চিহ্নিত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের চাকরি নিয়ে তাৎক্ষণিক অনিশ্চয়তা তৈরি হচ্ছে না।২০১৬ সালের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার পর দীর্ঘ আইনি লড়াই শুরু হয়। কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশের পর বিষয়টি গড়ায় সুপ্রিম কোর্টে। ২০২৫ সালের ৩ এপ্রিল শীর্ষ আদালত ২০১৬ সালের পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিলের নির্দেশ দেয়। আদালতের পর্যবেক্ষণ ছিল, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় যোগ্য ও অযোগ্য প্রার্থীদের নির্ভুল ভাবে আলাদা করা সম্ভব হয়নি।পরবর্তী সময়ে রাজ্যের শিক্ষাব্যবস্থা এবং স্কুলগুলিতে শিক্ষক-সংকটের কথা মাথায় রেখে যোগ্য শিক্ষকদের সাময়িক ভাবে চাকরিতে বহাল থাকার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। সেই অন্তর্বর্তী নির্দেশ অনুযায়ী ৩১ অগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত তাঁদের চাকরি বহাল থাকার কথা ছিল। একই সঙ্গে নতুন করে স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল।কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিপুল সংখ্যক শূন্যপদে নতুন নিয়োগ সম্পূর্ণ করা সম্ভব হচ্ছে না বলে আদালতের দ্বারস্থ হন সংশ্লিষ্টরা। তাঁদের বক্তব্য, এত অল্প সময়ের মধ্যে নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ না হলে যোগ্য শিক্ষকরা ফের চাকরি হারানোর আশঙ্কায় পড়বেন।এই পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টে মামলার শুনানিতে জানানো হয়েছে, নতুন অন্তর্বর্তী আবেদনের ভিত্তিতে চূড়ান্ত শুনানি না হওয়া পর্যন্ত আগের নির্দেশই কার্যকর থাকবে। ফলে আপাতত যোগ্য শিক্ষক-শিক্ষিকাদের জন্য স্বস্তির পরিস্থিতি তৈরি হল।তবে এই নির্দেশকে চূড়ান্ত রায় হিসেবে দেখা হচ্ছে না। পরবর্তী শুনানিতে আদালত কী সিদ্ধান্ত নেয়, তার উপরই নির্ভর করবে ২৬ হাজার চাকরি মামলায় যোগ্য শিক্ষকদের ভবিষ্যৎ। ফলে আপাতত স্বস্তি মিললেও পুরোপুরি অনিশ্চয়তা কাটছে না।

আগস্ট ২৫, ২০২৬
রাজ্য

লন্ডনের রাস্তায় ভিক্ষুক কেন? বিষয়টা হল মন্ত্রীর বাচনভঙ্গী। আসল অভিমুখের সমস্যা দেখুন।

মানবিক আচরণ করুন, পার্কস্ট্রিটের ফুটপাথবাসী পরিবারের পাশে কুণালফুটপাথে শিশুর দুধ গরম করা নিয়ে পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যেই পার্কস্ট্রিটের ওই ফুটপাথবাসী পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ। এদিন তিনি ওই পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন। একই সঙ্গে পার্কস্ট্রিট থানার পুলিশের কাছেও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মানবিক আচরণের আবেদন জানান তিনি।কুণাল ঘোষের বক্তব্য, ফুটপাথে বসবাসকারী মানুষও সমাজেরই অংশ। তাঁদের সঙ্গে সহানুভূতিশীল ও মানবিক আচরণ করা প্রয়োজন। বিশেষ করে কোনও পরিবারের শিশু, মহিলা বা অসহায় সদস্যদের বিষয়টি বিবেচনা করে প্রশাসনের আরও সংবেদনশীল হওয়া উচিত বলেই মনে করেন তিনি।অগ্নিমিত্রা পালের আচরণ ও মন্তব্য প্রসঙ্গে কুণালের বক্তব্যের মূল সুর ছিলকোনও সমস্যার সমাধান করতে গিয়ে অসহায় মানুষকে হেয় বা অপমান করা উচিত নয়। ফুটপাথে কেন কোনও পরিবারকে থাকতে হচ্ছে, সেই বৃহত্তর সামাজিক ও মানবিক সমস্যাটিও প্রশাসনকে দেখতে হবে। সামাজ মাধ্যমে এক ব্যক্তির প্রশ্নের উত্তরে কুনাল ঘোষ লেখেন, দিল্লী বা লন্ডনের রাস্তায় ভিক্ষুক কেন? রাস্তায় ভিক্ষুক এ বিষয়টার থেকেও গুরুত্বপূর্ন হল মন্ত্রীর বাচনভঙ্গী বলেন কুনাল ঘোষ।এদিকে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাম ও তৃণমূল শিবির থেকে অগ্নিমিত্রা পালের সমালোচনা শুরু হয়েছে। বাম নেত্রী কনীনিকা ঘোষও পুরমন্ত্রীর আচরণের নিন্দা করেছেন।যদিও রাজনৈতিক চাপানউতোরের মাঝেই অগ্নিমিত্রা পালের পাশে দাঁড়িয়েছেন বিজেপি বিধায়ক কৌস্তভ বাগচি। তাঁর দাবি, ওই পরিবারের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখেই পুরমন্ত্রী পদক্ষেপ করেছিলেন। বিষয়টিকে নেগেটিভ ভাবে তুলে ধরা হচ্ছে বলেও দাবি তাঁর।ফলে ফুটপাথে শিশুর দুধ গরম করা নিয়ে শুরু হওয়া বিতর্ক ক্রমেই রাজনৈতিক তরজায় পরিণত হয়েছে। একদিকে ফুটপাথবাসী পরিবারের প্রতি মানবিক আচরণের দাবি, অন্যদিকে তাঁদের নিরাপত্তার যুক্তিদুই ভিন্ন অবস্থানকে ঘিরেই এখন সরগরম রাজ্য রাজনীতি।

আগস্ট ২৪, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

যুবভারতীতে লাল-হলুদ ঝড়, বাগানকে উড়িয়ে ২২ বছর পর ডুরান্ড ইস্টবেঙ্গলের

২২ বছরের অপেক্ষার অবসান। কলকাতার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে ডুরান্ড কাপের ফাইনালে মোহনবাগানকে ৪-১ গোলে উড়িয়ে দিয়ে ফের ট্রফি ঘরে তুলল ইস্টবেঙ্গল। ডার্বির মঞ্চে এমন একতরফা জয় যে লাল-হলুদ সমর্থকদের কাছেও ছিল প্রায় অবিশ্বাস্য। আর সেই জয়ের কেন্দ্রে একটাই নামএডমুন্ড লালরিনডিকা। দুরন্ত হ্যাটট্রিক করে তিনিই হয়ে উঠলেন রাতের নায়ক।গ্রুপ পর্বে মোহনবাগানের কাছে হারের যন্ত্রণা ছিল ইস্টবেঙ্গলের। ফাইনালের মঞ্চে সেই হারের জবাব দেওয়ার সুযোগও ছিল। কিন্তু জবাবটা যে এতটা নির্মম হবে, তা সম্ভবত কেউই ভাবেননি। ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণের ঝড় তুলে মাত্র ২২ মিনিটের মধ্যেই তিন গোল করে ইস্টবেঙ্গল কার্যত ম্যাচের ভাগ্য লিখে ফেলে।শুরুটা করেন বিপিন সিংহ। মোহনবাগানের রক্ষণ তখনও নিজেদের মধ্যে সামলে ওঠার চেষ্টা করছে। সেই সুযোগেই ইস্টবেঙ্গলের আক্রমণ পৌঁছে যায় বিপজ্জনক জায়গায়। বিপিনের গোলের পর আরও ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠে লাল-হলুদ আক্রমণ। মুহূর্তের মধ্যে জোড়া গোল করে ব্যবধান বাড়িয়ে দেন এডমুন্ড।৩-০ পিছিয়ে গিয়ে মোহনবাগান কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছিল। মনবীর সিংহ ব্যক্তিগত দক্ষতায় একটি গোল শোধও করেন। কিন্তু সেই প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনাও বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগেই ফের গোল করে নিজের হ্যাটট্রিক সম্পূর্ণ করেন এডমুন্ড। এক ফাইনালের প্রথমার্ধেই চার গোলতার মধ্যে তিনটি একই ফুটবলারের! যুবভারতীর গ্যালারিতে তখন কার্যত লাল-হলুদ উৎসব।দ্বিতীয়ার্ধে মোহনবাগান ব্যবধান কমানোর চেষ্টা করলেও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি ছিল ইস্টবেঙ্গলের হাতে। সবুজ-মেরুন আক্রমণে সেই ধার দেখা যায়নি, যা একটি ডার্বি ফাইনালে প্রত্যাশিত। বরং ইস্টবেঙ্গল সুযোগ পেলেই দ্রুত আক্রমণে উঠে এসেছে এবং আরও গোলের সম্ভাবনা তৈরি করেছে। শেষ পর্যন্ত ৪-১ স্কোরলাইনেই শেষ হয় ম্যাচ।ইস্টবেঙ্গলের সাফল্যের অন্যতম বড় কারণ ছিল দলের সামগ্রিক সংগঠন। মাঝমাঠে মহম্মদ রশিদ ছিলেন অসাধারণ। বল নিয়ন্ত্রণ, পাসিং এবং খেলা পরিচালনায় বারবার তিনি মোহনবাগানের ছন্দ নষ্ট করেছেন। তাঁর সঙ্গে জিকসন সিংহ, আনোয়ার আলি এবং জয় গুপ্তারাও নিজেদের দায়িত্ব নিখুঁত ভাবে পালন করেন।অন্যদিকে মোহনবাগানের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হয়ে দাঁড়ায় রক্ষণ। শুভাশিস বসু, আলবের্তো রদ্রিগেজ়দের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব বারবার প্রকট হয়েছে। ইস্টবেঙ্গলের দ্রুত আক্রমণের সামনে তাঁরা অনেক সময়ই দিশেহারা হয়ে পড়েন। বিশেষ করে তৃতীয় ও চতুর্থ গোলের ক্ষেত্রে রক্ষণভাগের ভুল চোখে পড়ার মতো।মাঝমাঠেও মোহনবাগান প্রত্যাশিত প্রভাব ফেলতে পারেনি। আপুইয়া এবং অনিরুদ্ধ থাপা কার্যত নিষ্প্রভ ছিলেন। আক্রমণে জেমি ম্যাকলারেনও একাধিক সহজ সুযোগ নষ্ট করেন। মনবীর গোল করলেও দলকে ম্যাচে ফেরানোর মতো ধারাবাহিকতা তৈরি করতে পারেননি।ফাইনালের আগে মোহনবাগানের ক্লান্তি নিয়ে আলোচনা ছিল। শিলংয়ে সেমিফাইনাল, প্রতিকূল আবহাওয়া এবং কর্দমাক্ত মাঠে খেলার ধকলসবই ছিল। কিন্তু ডার্বির মতো বড় ফাইনালে সেই ক্লান্তিকে অজুহাত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। ইস্টবেঙ্গলও একই টুর্নামেন্টের চাপ সামলে মাঠে নেমেছিল, অথচ তাদের ফুটবলারদের মধ্যে ছিল অনেক বেশি তাগিদ, ক্ষুধা এবং জয়ের মানসিকতা।আর সেই মানসিকতারই সবচেয়ে বড় প্রতিফলন এডমুন্ডের হ্যাটট্রিকে। তিন গোল করে শুধু ম্যাচের সেরা ফুটবলারই হলেন না, ডুরান্ডের ইতিহাসে ইস্টবেঙ্গলের প্রত্যাবর্তনের রাতটিকেও নিজের নামে লিখে দিলেন তিনি।মজার বিষয়, ম্যাচের বিভিন্ন পরিসংখ্যানে মোহনবাগান কিছু ক্ষেত্রে এগিয়ে থাকলেও তার কোনও প্রভাব পড়েনি স্কোরলাইনে। কারণ ফুটবল শুধু বল দখল বা শটের সংখ্যা দিয়ে জেতা যায় নাবড় ম্যাচে প্রয়োজন সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত এবং সুযোগকে গোলে পরিণত করার ক্ষমতা। সেই পরীক্ষায় রবিবার সম্পূর্ণ সফল ইস্টবেঙ্গল।২২ বছর আগে শেষ বার ডুরান্ড কাপ জিতেছিল ইস্টবেঙ্গল। তারপর দীর্ঘ অপেক্ষা, হতাশা এবং একের পর এক অসম্পূর্ণ স্বপ্ন। সেই অপেক্ষার অবসান হল চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মোহনবাগানকে ৪-১ গোলে হারিয়েই। ফলে এই জয় শুধু একটি ট্রফি জয় নয়লাল-হলুদ সমর্থকদের কাছে এটি দীর্ঘ অপেক্ষার পর ফিরে পাওয়া গৌরবের রাত।একদিকে এডমুন্ডের হ্যাটট্রিক, অন্যদিকে মোহনবাগানের রক্ষণভাগের বিপর্যয়সব মিলিয়ে যুবভারতীতে রবিবারের ডার্বি যেন হয়ে রইল এক লাল-হলুদ ঝড়ের রাত।তবে ইস্টবেঙ্গল সমর্থকদের মনে হয়তো শেষ পর্যন্ত একটাই আক্ষেপ থেকে গেলচার নয়, আরও কয়েকটি গোল হতে পারত!

আগস্ট ২৩, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal