• ৭ কার্তিক ১৪৩৩, সোমবার ২৬ অক্টোবর ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

Feature

নিবন্ধ

জীবন-বোধ (কবিতা)

জীবন যুদ্ধে হেরে গিয়ে যদি, নিজেকে হারিয়ে ফেল,হারিয়েছো কি তুমি? পেয়েছো বেশি, মনকে এটাই বলো, কখনও কি তুমি দেখেছো ভেবে! যা কিছু তোমার গেছে, তার থেকে তুমি পেয়েছো বেশি,এই পৃথিবীর কাছে, কি নিয়ে এসেছো?কি তোমার গেছে, এটাই যদি ভাবো! উঠবে কি করে, বাড়বে কি করে? জীবন যুদ্ধে ভাগো, সব ভুলে গিয়ে,আবার তুমি নতুন করে ভাবো, নুতন পৃথিবী ডাকছে তোমায়। এবার তুমি জাগো, ভয়টা কিসের?কিসের দুঃখ, কিসের শোক? দুই দিনের তুমি পৃথিবীর মাঝে, ভুলে যাও সব দুর্ভোগ।এসেছো যখন ধরনীর মাঝে, রেখে যাও কিছু দাগ।পৃথিবী তোমায় করবে মনে, এমন কিছু কর্ম থাক।।কবি প্রদীপ্ত সরকার

মার্চ ০২, ২০২৫
নিবন্ধ

মহাষষ্ঠীর ভোর। এবার মাতৃপূজার নির্ঘণ্ট প্রতিদিনই ঊষালগ্ন ছোঁয়া

ঝিরঝিরে হাওয়া বইছে বিশাল অশ্বত্থগাছের পাতায় পাতায় শিরশিরানি জাগিয়ে। শতাব্দী প্রাচীন গাছটার আনাচকানাচ থেকে উপচে পড়ছে কত না পাখির কলকাকলি পায়রাদের বকবকম.. ঘুঘুদের কুড়কুড়.. টিয়ার ঝাঁকের তীক্ষ্ণস্বন.. কাক-এর কর্কশ আওয়াজ .. চড়ুই-শালিকদের সমবেত কিচিরমিচির .. টুনটুনি-বুলবুলিদের সুরেলা শিস .. .. নারায়ণপুরের আকাশে ভোর জাগছে মৃদু মোলায়েম আমেজ নিয়ে।মহাষষ্ঠীর ভোর। এবার মাতৃপূজার নির্ঘণ্ট প্রতিদিনই ঊষালগ্ন ছোঁয়া। আজ সকাল সাড়ে ছয়টায় দেবীআরাধনার সূত্রপাত। পূজামণ্ডপ ধুয়ে, বেদীতে আল্পনা দিয়ে, ফুল-বেলপাতা গুছিয়ে, প্রসাদের থালা সাজিয়ে, আয়োজন চলছে তারই। আশ্বিনের এই শারদপ্রভাতে পুজোআর্চা সেরে, সন্ধ্যায় দেবীর বোধন দিয়ে শুরু হয়ে যাবে জগজ্জননীর আরাধনা।কাল সন্ধ্যায় এসেছি গ্রামের বাড়িতে। যাবতীয় পেশাগত দায়দায়িত্ব সেরে, বাড়িঘরের দেখাশোনার ভার উপযুক্ত হাতে ন্যস্ত করে, শেষ মুহূর্তের হাজারো ব্যস্ততা সরিয়ে, পিতৃপুরুষের ভিটেয় এসে পৌঁছতে সন্ধ্যা গড়িয়েছে। বর্ধমান থেকে পঁচিশ কি.মি. উজিয়ে এসে, বাসরাস্তা ছেড়ে বটগাছের ঝুরি-দোলানো গ্রামের পথে গাড়ি ঢুকে পড়েছে হেলেদুলে। ভরাশরতের টইটম্বুর পুকুরের পাশ কাটিয়ে, জোনাক-জ্বলা বাঁশঝাড়ের অন্ধকার আর্চ ফুঁড়ে, এঁকেবেঁকে আধ কি.মি. পেরিয়ে, এসে গেছি নারায়ণপুর এই সাতান্ন বছরের জীবনে পুজোর কদিন যা আমার একমাত্র ঠিকানা।এই পুজোবাড়ি, লোকমুখে যার চলতি নাম চাতোর (চত্বর-এর অপভ্রংশ ), আমাদের ছোটবেলায় ছিল এক লম্বা মাটির চারচালা। সামনে ত্রিপল-এ ছাওয়া লম্বা বাঁশের কাঠামো পুজোর কদিন ধারণ করতো উৎসাহী মানুষজনকে টলমলে কুচোকাঁচা থেকে শুরু করে ন্যুব্জ বৃদ্ধবৃদ্ধারা সকালসন্ধ্যা ঢাকঢোলকাঁসরঘণ্টার ঐকতান .. ধূপধুনোগুগগুল-এর ধূম্রজাল .. মন্ত্রমুখর পূজার্চনার শরিক হতেন এখানেই সমবেত হয়ে। সেই মাটির গাঁথনির জায়গা নিয়েছে শানবাঁধানো পাকা মণ্ডপ, শক্তপোক্ত টিনের ছাউনি, আর মর্মরমণ্ডিত পুজাবেদী সেও হয়ে গেল বেশ কয়েক দশক।ছোটোবেলায় পঞ্চমী-ষষ্ঠীর দিন যখন এসে পড়তাম, বাড়ির কর্মসহায়করা ব্যস্ত থাকতো খড় পেঁচিয়ে দীর্ঘ রজ্জু-রচনায়, যার ফাঁকে ফাঁকে গুঁজে দেওয়া হতো ছোটো ছোটো আমশাখা, প্রতিটি শাখায় চারপাঁচটি করে পাতা সেই মালায় সেজে উঠতো মন্ডপের চারপাশ আর প্রতিটি বাড়ির প্রবেশদ্বার। আজ সেই মঙ্গলমালিকারও রূপবদল হয়েছে ছোটো ছোটো আমশাখার জায়গা নিয়েছে একটি একটি করে আমের পাতা। তাতে আর কিছু না হোক, অপচয় কমেছে সবুজপত্রের।আমাদের শৈশবে এই মণ্ডপে ঠাকুর গড়তে আসতেন বটুদা। পরে তাঁর স্থান নেন জয়দেবদা। ওঁর সৃষ্টিতে মায়ের মুখ হতো অপেক্ষাকৃত কোমল, কিছুটা প্রাচীনপন্থী। সেই মুখশ্রীই রয়ে গেছে আজও, এই থীমময় পৃথিবীতে দুর্গাপ্রতিমার ছিরিছাঁদ আর মূর্তিশৈলী নিয়ে যতই পরীক্ষানিরীক্ষা-পরিবর্তনের ঢেউ উঠুক না কেন !জয়দেবদা আজ বৃদ্ধ, চোখে কম দেখেন ; চলনবলনে গ্রাস করেছে স্থবিরত্ব। তবু আজও রথযাত্রা থেকে শুরু করে তিনদফায় এসে, কদিন থেকে, তিনি গড়ে দিয়ে যান আমাদের মা হরগৌরীর মৃৎপ্রতিমা থেমে থেমে .. ঘোলাটে চোখে .. কতক আন্দাজে .. কতক কম্পিত আঙুলের অভ্যস্ততায় ড. সুজন সরকার : বর্ধমান।

অক্টোবর ০৯, ২০২৪
নিবন্ধ

এ’ কোন সকাল - রাতের চেয়েও অন্ধকার!

সেই এলোমেলো দিকহারানো সন্ধ্যা-বায়ের লুটোপুটি খাওয়া ঘর-বার-উঠোন-বাজারে, কাজলকালো রাত পেরিয়ে, আধফোটা কুসুমের মতো ফুটে ওঠা আগমনী আলো আজ আবার ছড়িয়ে দিল মাতৃপূজার সুসমাচার। বেজে উঠলো আলোর বেণু; আজ প্রভাতে সে সুর শুনে খুলে দিলাম হৃদয়ের রুদ্ধ দুয়ার। কিন্তু সবার অন্তরের পুঞ্জীভূত আঁধার কাটলো কি? মাতলো কি ভুবন? যে নিবিড় বেদনা আচ্ছন্ন করে রেখেছে বুকের মাটি, মনের আকাশ কালো করে জমে থাকা সেই মেঘ যেন রাতের চেয়েও অন্ধকার করে রেখেছে শরতের আকাশবীণায় গানের মালা বিলানো আজকের এই মহালয়ার সকালকে।অথচ, বর্ষণক্ষান্ত আশ্বিনের নীল আকাশে সাদা মেঘের বহরে অমলধবলপালে আজ লেগেছে মন্দমধুর হাওয়া; দুধসাদা কাশের গুচ্ছ বেঁধে, ঝরা শেফালীর মালা গেঁথে, নবীন ধানের অঞ্জলি দিয়ে ডালা সাজিয়ে শারদলক্ষ্মী এসে গেছেন শুভ্র মেঘের রথে সমাসীন হয়ে। ধৌতশ্যামল আলোঝলমল বনগিরিপর্বতে ছড়িয়ে পড়েছে তাঁর শ্বেতশতদলশোভিত করুণানয়নের আশীর্বাণী। শিউলীতলার পাশে পাশে.. ঝরা ফুলের রাশে রাশে.. শিশিরভেজা ঘাসে ঘাসে অরুণরাঙা চরণ ফেলে.. জলতরঙ্গে ঝিলমিল ঝিলমিল ঢেউ তুলে ছড়িয়ে পড়ছেন তিনি। আলোছায়ার আঁচলখানি লুটিয়ে পড়ছে বনে বনে; ফুলগুলি ঐ মুখে চেয়ে কী কথা গুনগুনোচ্ছে মনে মনে, কে খবর রাখে তার! তবু ঐটুকু ঐ মেঘাবরণ দু হাত দিয়ে সরিয়ে, মুখের ঢাকা হরণ করে, শারদলক্ষ্মীকে বরণ করে নিতে যেন কারো মন নেই আজ। এমন নিরানন্দ দেবীপক্ষের সূচনা খুব বেশী দেখা গেছে কি?একদিকে বানভাসি নদী-মাঠ-ঘর-গেরস্থালির অপার দুর্ভোগ, অন্যদিকে অগ্নিমূল্য হাটবাজার; আর সব ছাপিয়ে এক নির্যাতিতা প্রতিবাদিনীর সর্বপরিব্যপ্ত বেদনার্ত ছায়া এবারের মাতৃপক্ষকে যেন ঢেকে রেখেছে এক তিমিরঅবগুণ্ঠনে। উৎসবে মেতে ওঠার মেজাজটাই পাড়ি দিয়েছে দিকশূণ্যপুরের দিশায়।তবু এরই মধ্যে পথে-পার্কে-পল্লীপ্রান্তে শালবল্লা-বাঁশ-ত্রিপল-প্লাইউডের কাঠামো-রা সেজে উঠছে দ্রুত। দোকান-পসার-মল-মার্কেটে ভীড়ও খানিক খানিক জমে উঠছে। মহালয়ার রাতভোর অসংস্কৃত বাজী-র উদযাপন এবার কিছু কম (আজকাল পাড়ার যে যে বাড়িতে বয়স্ক বা অসুস্থ মানুষ আছেন বলে খবর, তাঁদের জানালার কাছাকাছিই সাধারণতঃ বাজী ফাটানো হয় বেশী)। ইতস্ততঃ কিছু ক্লাবের মাইকে বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্র-ও সাড়া দিলেন বহু যুগের ওপার থেকে আজ ভোরবেলায়, যদিও কিছু স্তিমিতস্বনে। তবে পিতৃতর্পণাভিলাষীরা ছাড়া নদীর তীরে কাশের বনে মানুষের ঢল নামলো কই!মন ভালো নেই; আমাদের অনেকেরই মন ভালো নেই। আজ অখিলবিমানে দিকে দিকে সর্বস্যার্তিহরা দেবীমায়ের জয়গান। সিংহস্থা শশীশেখরা মরকতপ্রেক্ষা জগজ্জননী দূর করুন এই দুঃসহ আঁধার। ভয়ের আবহ শেষ হোক সবার ঘরের প্রতিটি দুর্গা হেসে উঠুক সুখে-সাহসে-সাফল্যে প্রতিটি অভয়া বিচার পাক!ওগো আমার আগমনী আলো, জ্বালো প্রদীপ জ্বালো, জ্বালো গো- ড. সুজন সরকার, বর্ধমান। ।

অক্টোবর ০২, ২০২৪
নিবন্ধ

ঝাপসা পলাশ

সেই কাকভোর থেকে অগোছালো শরীরটাকে টেনে হিচড়ে, ইচ্ছে -অনিচ্ছের রাস্তা মাড়িয়ে বয়ে নিয়ে যাওয়া এখন করুণ অভ্যেস।রাতের বিছানায় নেতিয়ে না পড়া পর্যন্ত শান্তি নেই, সংসার বড় বালাই। তাই চা, বিড়ি, ফর্দ, সমালোচনা, গালাগালি, হিসেবনিকেশ।অসুখটা ঠিক শরীরে নয়। চাওয়া পাওয়ার ঘাটতি গুলো মনের ভিতর জমে বাষ্প হয়ে মেঘ হয়, কিন্তু বৃষ্টি হয়না।জীবাণুদের কোলাহল বাড়তে থাকে, বিপ্লবের টের পাই সেই অদ্ভুত নীরব অনুভূতির সাম্রাজ্যে - যেটা আজও বেশ অচেনা।কল্পনার বেনো জলে ভেসে আসে উদগ্র বাসনা - ব্যার্থ চাহিদাগুলো সার দিয়ে দাঁড়ায়, সস্তা লালসার দংশনে মন জেরবার।রাত বাড়ে, পাল্লা দিয়ে চলে গাঢ় নীলচে অন্ধকারে অগাধ সাঁতার, অন্তহীন আকাশের মতো, যেখানে শব্দ নেই আছে বিস্তার।হারতে হারতেও লড়াইটা টিকিয়ে রাখার ক্ষীণ প্রয়াস, বারোমাস। কুয়াশা মাখা ভোরের পর একঘেয়ে সকাল, ঘর্মস্রাবি দিনের শেষে চোখের কোনে জমে ঝুল।সাতচল্লিশটা বসন্ত পার করার পর পলাশ, কৃষ্ণচূড়ারা আজও শুধুই লালচে ফুল।দীপক কুমার মণ্ডলবর্ধমান

এপ্রিল ১৯, ২০২৪
নিবন্ধ

'রূপং দেহি জয়ং দেহি..' এই মহালয়ার ভোরে আজও যেন আমাদের কী হয়ে যায়!

নীলঅঞ্জনঘনপুঞ্জছায়ায় সম্বৃত অম্বর আর নেহাতই বদখত আমার খাঁদা নাক-এর নিরন্তর জলপ্রপাত স্তিমিত হয়েছে দিন কয় হলো। আশ্বিন যাই যাই করছে; সাদা মেঘের অগুন্তি ভেলা ভাসানো সুনীল আকাশেও যেন হেমন্তের মনকেমনিয়া মেজাজ আজ! পথে বেরিয়ে ঘাড়ে-মাথায়-কাঁধে লেপটে থাকা দুপুরের রোদ ততটা নিষ্করুণ লাগছে না আর, একটু বেলাশেষের আমেজ আছে তাতে!পুজোর বাজার তেতে উঠেছে অবশ্য! পুরো স্লগ ওভার-এর ব্যাটিং করে নিচ্ছে পিতৃপক্ষের অন্তিম লগ্নে ফানটুস ছোকরা-ফিসফিসে কিশোরী-টগবগে তরুণ-তরতরে তরুণী-গুছোনো গিন্নী-গেরেম্ভারী গেরস্ত সব্বাই! বেশ একটা হৈহৈ রইরই ব্যাপার!!শালবল্লা-বাঁশ-প্লাইউডের কাঠামো-রা তো এখানে সেখানে মাথা তুলছে বেশ কসপ্তাহ হয়ে গেল। ধুলিধূসর ইঁট-কাঠ-পাথরের জঙ্গলে হঠাৎ হঠাৎই জেগে উঠছে থাই প্যাগোডা-ভুটিয়া গোমফা-রাজস্থানী ঝরোখা-ফরাসী অপেরা! ভাঙা রাস্তায় শেষ মুহূর্তে বিটুমেন-এর পুল্টিশ দুপাশারি আটপৌরে বাড়িঘরের মুখ ঢাকছে কাতারে কাতারে কাপড়ের হোর্ডিং দীপিকা-আলিয়া-কিয়ারা-সন্দীপ্তা-মৌনীরা রহস্যময়ী হাসির ঝিলিক দিচ্ছে বস্ত্রাবরণ - স্বর্ণাভরণ - প্রসাধন - প্রলোভনসম্ভার নিয়ে.আজ রাত পেরোলেই দেবীপক্ষ শুরু। অখিল বিমানে বেজে উঠবে তাঁর জয়গান আলোর বেণু মাতিয়ে তুলবে ভুবন অন্তরে যে আবেশ লুকিয়ে লুকিয়ে ছেয়ে গেছে এ কয়দিন মুখরিত বর্ষণগীতের মেঘমন্দ্রিত ছন্দ বিদায় নেওয়ার পর অরুণবীনায় যে সুর বেজে উঠেছে অমোঘ উচ্চারণে সেই আনন্দযজ্ঞে মধুর আমন্ত্রণ কাল ভোরে মায়ের সকল সন্তানের: যে যেথায় আছো সিলেট থেকে সিয়াটল কাঠমান্ডু থেকে কেপটাউন!এই কেজো প্রাত্যহিকতার একঘেয়েমি, স্বার্থক্লিন্ন দরকষাকষির কুশ্রীতা, বড় বেরঙীন পেশাগত যাপনের মধ্যেও প্রতিবারের মতোই আগমনী আলো এসে প্রদীপ জ্বালিয়ে দিয়েছে মনের গোপন ঘরে। শহরের উপকণ্ঠে-সড়কপ্রান্তে-শস্যময়ী শ্যামল প্রান্তরের আনাচে কানাচে উপচে পড়া দুধসাদা কাশবন লহমায় মনকে উড়িয়ে নিয়ে যাচ্ছে টাইমমেশিনে চড়িয়ে, চার দশকের ওপারে..এমনই সর্বব্যাপী শুভ্র কাশের সমুদ্র ছেয়ে থাকতো তিস্তার চরে, সেই সব মহালয়ার ভোরে আকাশবানী-র মহিষাসুরমর্দিনী সম্প্রচার শেষ হওয়ার পরই যখন গোটা জলপাইগুড়ি শহরের মানুষজন পায়ে পায়ে চলে আসতেন করলা নদীর বাঁধ বেয়ে জুবিলীপার্ক-এর দিকে, নেমে আসতেন আদিগন্ত কাশসঙ্কুল সেই বালিভূমিতে। সুনীল আকাশ.. ভোরের মায়াময় আলো.. কুলুকুলু করলা বাজির আওয়াজ যৌবনের হিল্লোলমনে পড়ে যায় শ্লথপদ সেই নেপালী বৃদ্ধের কথা উষষী ঊষার আবছায়া পথে যেতে যেতে যিনি থেমে গিয়েছিলেন আমার বন্ধুর বাড়ির পাশে; নীরবে দাঁড়িয়েছিলেন কিছুক্ষণ আধখোলা জানালার ঠিক সামনেই। বন্ধুদের শোয়ার ঘরের রেডিও-তে তখন রূপং দেহি জয়ং দেহি..-র অন্তহীন সুরসঞ্চার। খানিক দূরে দাঁড়িয়ে দেখেছিলাম লোলচর্ম মানুষটিকে জানালার কপাটে ভক্তিভরে মাথা ঠেকিয়ে প্রণতি জানাতে!এত বছরের গার্হস্থ্য মালিন্য - দুনিয়াদারির চাপ - জীবনযাত্রার পৌনঃপুনিকতাও পারে নি মহালয়ার ভোরে নিহিত রোমাঞ্চ এ মন থেকে মুছে ফেলতে। সিংহস্থা শশীশেখরা মরকতপ্রেক্ষা সেই দনুজদলনী, গুণাশ্রয়ে গুণময়ী নারায়ণী মা-টি হয়ে বছরভর যিনি আগলে রাখেন আমাদের, সহসাই যেন তিনি বড় কাছে এসে যান এই শরতের ঝঞ্ঝাবাতের নিশার শেষে রোদেলা সকালে ক্ষান্তবর্ষণ শরতের আকাশবীনা গানের মালা বিলায় চরাচর জুড়ে ভোরের পাখি মায়াবী আলোছায়ায় গেয়ে ওঠে তাঁর জয়গানসত্যি, এই মহালয়ার ভোরে আজও যেন আমাদের কী হয়ে যায়!!ড. সুজন সরকার, বর্ধমান।

অক্টোবর ১৪, ২০২৩
নিবন্ধ

হৃদয়ছোঁয়া প্রীতি বার্তার সুগন্ধী বাতাস

অনেক শহর গ্রাম ছাড়িয়ে অনেক দূর সে গ্রাম, কেউ জানো কি তার নাম? সে গ্রামের আজব খবর কানে আসে;সেখানে মানুষ নাকি মানুষ পেলেই ভালোবাসে এমন আজব এক গ্রামেই ঢুকে পড়েছিলাম বছর দশেক আগে; রবাহুত অনভ্যস্ত পায়ে থমকে, থেমে দ্বিধান্বিত চোখে এদিক ওদিক তাকাতে তাকাতে। সে এক ভুবনভরা গ্রাম বিশ্বজোড়া ফাঁদ পাতা তার কেমনে দিই ফাঁকি!সেই ফেসবুক-গ্রামে এলোমেলো ঘুরতে ঘুরতে খুঁজে পেলাম কত গ্রামছাড়া রাঙামাটির পথ পায়ে পায়ে সন্ধ্যার ক্লান্তি নিয়ে ঘরে ফিরে আসার কত শহুরে সড়ক কত স্থিতপ্রজ্ঞ জীবন রসিকের সুললিত কলম কত বরাননা-র মায়াবী মন-উদ্ভাস এত আলো এত আকাশ যা আগে বোধ হয় কখনও দেখি নি, চোখেও পড়ে নি! আমার ফেসবুকীয় বান্ধবসমাজ কখনো ট্রোলিং শব্দটি জানতে দেন নি আমায়, বরং ভালোবাসা-সমাদর-প্রেরণার জোয়ারে ভাসিয়ে দিয়েছেন বরাবর!সেই প্রীতি ও শুভেচ্ছার বাঁধভাঙা ঢেউ প্রতি বছর সুনামি হয়ে আছড়ে পড়ে আজ, এই আঠাশে আগস্টের ভাদ্রবাসরে। এডিলেড থেকে এডিনবরা, আটলান্টা থেকে আগরতলা ছুঁয়ে অনুরণিত হয় মনহারানো খুশির গুঞ্জন ভালো আছি , ভালো থেকো / আকাশের ঠিকানায় চিঠি লিখো!প্রতিবার ভাবি, ব্যক্তিগতভাবে প্রত্যেককে ধন্যবাদ জানাবো এই আশীর্বাদ-শুভকামনার প্রাপ্তি স্বীকার করে। শুরুও করে দিই সকাল থেকেই; কিন্তু ফেসবুক-হোয়াটসঅ্যাপ-মেসেঞ্জার মিলে হাজারখানেক বার্তার অমিত প্রাচুর্য রণে ভঙ্গ দিতে বাধ্য করে অচিরেই। বুক ভরে নিই হৃদয়ছোঁয়া প্রীতি বার্তার সুগন্ধী বাতাস; মনে ভাবি এই সর্বপ্লাবী ভালবাসাই আগলে রাখবে চিরকাল, সব দুর্দৈব-দুঃখ-দীনতা থেকে।জানি, এ ভুল! ফাগুনের ফুল ঝরে যাবে; একদিন পথের মতো হারিয়ে যাব আমিও, নদীর মতো আর আসবো না ফিরে। এ পায়ের চিহ্ন আর পড়বে না পৃথিবীর পথে। সেদিনও ফুল্লকুসুমিত হবে তরুশাখা দুঃসাহসের ডানা মেলে দূরে দূরে উড়ে যাবে চঞ্চল পাখিরা ভাদ্রের নীলাকাশে ভাসবে সাদা মেঘের ভেলা ধানের ক্ষেতে রৌদ্রছায়ায় লুকোচুরি খেলবে অনাগত দিনসেই আগামীর স্বপ্ন বুকে নিয়ে পেরিয়ে যাই আরো এক আঠাশে আগস্ট বন্ধুদের শুভেচ্ছা-ভালোবাসা শারদ শিশিরের মতো মৃদু মোলায়েম মায়ায় অভিসিঞ্চিত করে রাখে সেই উজ্জ্বল দিন!ভালো থেকো বন্ধুরা কাছে.. দূরে.. যে যেখানে আছো। আমার মনোজগৎ প্রসারিত করো আরো, তোমাদের স্মৃতি-সত্ত্বা-ভবিষ্যতের মায়াজাল বুনে। প্রৌঢ়ত্ব পীড়াদায়ক না হয় যেন, ক্ষুদ্রতা যেন স্পর্শ না করে হৃদয়-চেতন-মননকে!কাছে থাকো। ভয় করছে। মনে হচ্ছেএ মুহূর্ত বুঝি সত্য নয়। ছুঁয়ে থাকো।শ্মশানে যেমন থাকেন দেহ ছুঁয়ে একান্তস্বজন। এই হাত, এই নাও হাত।এই হাত ছুঁয়ে থাকো, যতক্ষণকাছাকাছি আছো, অস্পৃষ্ট রেখো না।ভয় করে, মনে হয়, এ মূহূর্ত বুঝি সত্য নয়।যেমন অসত্য ছিল দীর্ঘ গতকাল।যেমন অসত্য হবে অনন্ত আগামী।পাণিগ্রহণ (নবনীতা দেবসেন )।

সেপ্টেম্বর ০৪, ২০২৩
বিনোদুনিয়া

"কথামৃত" এর ঝুলিতে পরপর চারটি পুরস্কার

পরিচালক জিৎ চক্রবর্তী এর ছবি কথামৃত এর ঝুলিতে এবার পরপর চারটি পুরস্কার। গত ১৮ই নভেম্বর মুক্তি পেয়েছে ছবি কথামৃত। মুক্তির পরে বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে এই ছবি। এবার নানা ফিল্ম ফেস্টিভালে পুরস্কার নিয়ে ঝুলি ভরছে এই ছবি। বেস্ট ফিল্ম, বেস্ট অভিনেতা কৌশিক গাঙ্গুলী, বেস্ট ডিরেক্টর জিৎ চক্রবর্তী, বেস্ট অরিজিনাল স্টোরি ক্যাটাগরিতে মনোনীত হয়েছে এই ছবি। ছবির মূল চরিত্রে অভিনয় করেছেন অভিনেতা কৌশিক গাঙ্গুলী ও অভিনেত্রী অপরাজিতা আঢ্য কে। একজন বোবা (কথা বলতে না পারা) মানুষের চরিত্রে অভিনয় করেছেন কৌশিক গাঙ্গুলী কে। আর তাই একটা ছোট্টো লাল ডাইরিতে লিখে রাখেন নিজের মনের সমস্ত কথা গুলো। সেই ডাইরির নাম কথামৃত। ছবিতে কৌশিক গাঙ্গুলীর স্ত্রীর চরিত্রে দেখা গিয়েছে অভিনেত্রী অপরাজিতা আঢ্য কে।গল্পের প্রেক্ষাপট কিছুটা এমন, নিজেদের পাড়ার আদর্শ স্বামী-স্ত্রী সনাতন (কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়) ও সুলেখা (অপরাজিতা আঢ্য)। ছেলে ঋককে নিয়ে তাঁদের সুখের সংসার। তাঁদের এই ভালোবাসায় ভরা পরিবারকে পছন্দ করে এলাকার সমস্ত মানুষ। সনাতন কথা বলতে পারেন না। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে তাঁর পরিচিত ব্যক্তিরা তাঁর মনের ভাব বুঝতে পারেন। তবে, মনের কথা বলার জন্য় তিনি একটি পকেট ডায়রি সবসময় সঙ্গে রাখেন। সেই ডায়রিটিকেই তিনি কথামৃত নাম দিয়েছেন। ছবিতে আরো দুটি মুখ্য চরিত্রে অভিনয় করছেন বিশ্বনাথ বসু ও অদিতি চ্যাটার্জি। ছবির পরিচালক জিত চক্রবর্ত্তী জানান এটি কৌশিক গাঙ্গুলী ও অপরাজিতা আড্য এর এক অনন্য জীবনের গল্প। মানুষের জীবনে কথা যে কতটা গুরুত্বপূর্ণ সেটা নিয়ে এই ছবি। প্রতিটি সম্পর্কের বুননে কথার গুরুত্ব এই কথামৃত। ছবিটি মুক্তি পেয়েছে জালান প্রোডাকশন এর ব্যানারে প্রযোজক প্রীতম জালান এর প্রযোজনায়।

ডিসেম্বর ২১, ২০২২
নিবন্ধ

নতুন জীবন (ছোট গল্প)

সময় মানুষকে ভাবতে শেখায়, নতুন কিছু করতে শেখায়। জীবনের স্রোতে অনেক আপনজন দূরে সরে যায় আবার অনেক দূরের মানুষ কাছের হয়ে ওঠে। মানুষের মনে অনেক সময় দ্বন্দ্ব চলে আপনজনের দূরে চলে যাওয়ায় দুঃখ করবে না নতুন যাকে আপন করে পেল তাকে নিয়ে আনন্দ করবে।আমার গল্পের প্রধান চরিত্র অসীমা দেবীর মনেও এই মূহুর্তে সেরকমই চলছে।ফোনে কথা বলার পর চুপচাপ বসে আছেন চোখের কোলে জল অথচ মুখে যেন নিজের মত প্রকাশের আনন্দ। এমন সময় তিতাস এসে জিজ্ঞাসা করলো কে ফোন করেছিল মা? দাদা?আবার সেই বাড়ি বিক্রির কথা বলছিল? তুমি আজ বলে দিয়েছো তো? এক নিঃশ্বাসে কথা গুলো বলে মায়ের দিকে তাকিয়ে থাকে।তোর কি মনে হয়? আমি বলতে পারবোনা?আজ আমি স্পষ্ট বলে দিয়েছি আমাকে নিয়ে তোদের এত চিন্তা করতে হবে না। আমার জন্য টাকাও পাঠানোর দরকার নেই। আমি যেটুকু পেনশন পাই তাই দিয়ে আমার একার চলে যাবে। আর আমার বাড়ি আমি কি করব সেটা আমি বুঝে নেব। তোমাদের ও নিয়ে ভাবতে হবে না।ওরা আসবে দেশে সামনের সপ্তাহে; এবার এখানে থাকবে বলছিল, আমি বলেছি এখন তো ঘর নেই তোমাদের থাকার মত , তোমরা বরং হোটেলেই উঠো না হলে বৌমার বাপের বাড়িতে। আমার সব ঘরে এখন মেয়েরা থাকে। কথা শুনে মনে হল একটু রেগে গেল, তা যাক গে। আমার নামে যখন বাড়ি তখন আমি বুঝে নেব।এই মেয়ে গুলো না থাকলে দুবছর আগে কোরোনা কালে আমার কি হতো একবার ভাব। আর তোর বাবা যখন হঠাৎ রাত্রি বেলা অসুস্থ হয়ে পড়েছিল তখন তো এই মেয়েরাই অ্যাম্বুলেন্স ডেকে হসপিটাল নিয়ে যাওয়া চিকিৎসার ব্যবস্থা করা সব করে ছিল। তুই খবর পেয়ে তারপর তো এলি, আর তারা তো টাকা পাঠিয়ে দায়িত্ব মুক্ত। তোর বাবাকে বাঁচাতে পারিনি সেটা অন্য ব্যাপার কিন্তু এরা প্রতি মূহুর্তে আমাকে যেভাবে সাহায্য করছে আমি এদের কাছে ঋনী।তোর মনে আছে তোর দাদা বিদেশ চলে গেল তখনই কেমন ফাঁকা লাগত বাড়িটা? তুই তখন কলেজে পড়ছিলি। সারাদিন কলেজ তারপর পড়া নিয়েই ব্যস্ত থাকতিস। মাঝে মাঝে তোর বন্ধুরা আসলে আমার খুব ভালো লাগত। তারপর তুই পাশ করে চাকরি নিয়ে চলে গেলি। একে একে তোদের দাদু, ঠাম্মা ও চলে গেলেন তখন বাড়িটা গিলে খেতে আসত। যদিও তোদের বাবা ততদিন রিটায়ার্ড করে গেছে, তবুও দুই বুড়ো বুড়ি আর কতক্ষণ ভালো লাগে। ঠিক সেই সময় তোর বন্ধু বিতানের দিদির কথা তুই আমাকে ফোন করে জানালি। আমার তখন মনে হলো ঈশ্বর যেন ওকে পাঠিয়েছিলেন আমাদের একাকিত্ব কাটানোর জন্য। তখনই আমি আর তোর বাবা ঠিক করলাম আমরা উপরে থাকব আর নিচের ঘর গুলোতে মেয়েদের পেয়িং গেস্ট রাখবো,সেই শুরু। তারপর তোর বাবার অসুখের সময় মেয়ে গুলো ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। আমাকে একমূহূর্ত একা ছাড়েনি। তুই তো দেখেছিস। তোর দাদা তো উনি চলে যাওয়ার পরে এলো।অথচ মানুষ টা ছেলে ছেলে করেই গেল। আর সেই যে ছেলে গেল আর এমুখো হয়নি। আমার যখন গলব্লাডার অপারেশন হলো তখন তো তোরা কেউ ছিলি না। আমাকে তো এই মেয়েরাই পালা করে করেছে সব। মায়ের মুখে এই কথা শোনার পর তিতাসের মুখটা কালো হয়ে গেলো। মাকে জড়িয়ে ধরলো।অসীমা দেবী বলতে থাকেন, এই মেয়েরা না আসলে জীবনের মানেটাই বুঝতাম না। আমারও যে গুন আছে আমিও যে কিছু করতে পারি জানতাম না। তোর দাদু ঠাম্মা তো আমি যে কিছু করতে পারি বোঝেই নি বা বুঝলে ও স্বীকার করেননি। আর তোর বাবাও তাই। আমি সারাজীবন শুনে এলাম আমি নাকি অকম্মা।তোরা ছেলে মেয়েরাও কোনো দিন বলিসনি কিছু। অথচ কোরোনার সময় যখন আমি ওদের রান্না করে খাওয়াই তখন ওরা বলে আমি নাকি অসাধারণ রান্না করি। টিনা বলে যে মেয়েটিকে আমি এখানে থাকতে বলি। হঠাৎ লকডাউন হওয়ার ফলে বাড়ি যেতে পারে নি আবার যেখানে থাকত তারাও থাকতে দেয়নি। আমি তখন ওর বন্ধু দিয়াকে বলি আমার এখানে নিয়ে আসতে।ও এসে আমার রান্নার প্রশংসা শুনে বলে ইউটিউবে চ্যানেল খোলার কথা।সব ওই ব্যবস্থা করে দেয়। প্রতি সপ্তাহে একটা করে রান্না করতে থাকি। না বিশেষ কিছু নয়, আমার ঘরে যা আছে তাই দিয়ে চটজলদি অন্যরকম কিছু রান্না। ওরা সব রেডি করে। আমি শুধু রান্না করি। লকডাউনে অল্প সামগ্রী দিয়ে অনেক কিছু করতে শিখেছি্ আর সেগুলো ইউটিউবে ওরা দিয়েছে। আজ আমার সেই চ্যানেল কত মানুষ দেখে। কতজন কতকিছু শিখতে চায়। আমি নতুন করে বাঁচতে শিখেছি। আমি এসব ছেড়ে সব বিক্রি করে ওদের হাতের পুতুল হতে পারব না।আমি তাই ঠিক করছি নিজের জন্য দুটি ঘর রেখে পুরোটাই মেস করে দেব।আর যারা বাইরে থেকে পড়তে আসছে অথচ টাকার ও অভাব আছে তাদের জন্য আমার এখানে বিশেষ সুবিধা থাকবে।মায়ের এই কথা শুনে তিতাস ও খুব খুশি হয়। মাকে বলে তোমার এই উদ্যোগে আমি তোমার পাশে আছি। এমন সময় পাওলি আর মধুরা আসে। ওরা চাকরি করে। ওরা কিছু টা কথা শুনতে পেয়ে জিজ্ঞাসা করে কিসের উদ্যোগ নিচ্ছেন জেঠিমা?তিতাস ওদের সব খুলে বলে। ওরা তখন বলে আমরাও আছি আপনার সাথে সবসময়।অসীমা দেবীর মুখ আনন্দে ঝলমল করে ওঠে। ওদের সবাই কে জড়িয়ে ধরে বলেন ওরে কোরোনা অনেকের অনেক ক্ষতি করেছে আর আমাকে নতুন জীবন দিয়েছে।শ্রীমতি রাখি রায়বর্ধমান

নভেম্বর ২৭, ২০২২
নিবন্ধ

স্বপ্ন পূরণ (ছোট গল্প)

এখনও পাঁচালির আওয়াজ কানে বাজছে দীপ্তর। সেই ছোটো থেকে দেখে আসা স্বপ্নটা আজ সত্যি হলো।কোজাগরী পূজো রাত; রূপোর থালার মত চাঁদের আলোয় ভেসে যাচ্ছে জগত সংসার। এই রাতে নিজেকে সব থেকে সুখী মানুষ মনে হচ্ছে ওর। অথচ কিছু মাস আগেও উল্টো ছিল। আজ দশ বছর পর গ্রামের বাড়িতে এসেছে লক্ষ্মী পূজো উপলক্ষে। এতদিন কলকাতায় আসলেও গ্রামের বাড়িতে আসে নি। এতদিন পরে মনের গোপন কুঠুরিতে লুকিয়ে রাখা স্বপ্ন গুলো প্রকাশ করার সাহস পেয়েছে।গ্রামের ছেলে দীপ্ত, মা বাবাকে হঠাৎ এক দুর্ঘটনায় হারিয়ে শহরে মামার বাড়িতে যখন আসে তখন ও ক্লাস এইট। একে তো এই বয়স তারপর মা বাবাকে হারানো;সব মিলিয়ে দীপ্ত যেন একদম চুপচাপ হয়ে গেছিলো। ওর মামাতো দিদি দীয়া ওকে আগলে রাখতো সবসময়। দীপ্ত দীয়ার থেকে বছর পাঁচের ছোটো কিন্তু মনে হত অনেক ছোটো। দীয়ার সাহচর্যে ও আস্তে আস্তে স্বাভাবিক হয়ে ওঠে। দিদিভাইকে দীপ্ত সহজেই সব কথা বলতে পারত অকপটে। এই বয়সের যেসব পরিবর্তন সেসব কথাও দিদিকেই বলত। কারণ দিদি ছাড়া ওরকম করে ওকে কেউই বুঝত না। যদিও মামীমা খুবই স্নেহ করতেন। গ্রামের বাড়িতে যাওয়ার ইচ্ছা হলেও দিদিকেই বলত। এইভাবে ও বড়ো হতে থাকলো।দীপ্ত যেবার উচ্চ মাধ্যমিক দেবে ওর দিদির বিয়ে হয়ে গেল। আবার দীপ্ত একা হয়ে গেল। এইসময় ওদের পাশের বাড়িতে একটি পরিবার ভাড়া এল। যতীন কাকু ও স্বপ্না কাকী মা আর ওনাদের মেয়ে রিমা। কাকীমাকে প্রথম থেকেই দীপ্তর মনে হয়েছিল ওর মায়ের মত দেখতে অনেকটা। ওর খালি ইচ্ছা করত ওনার কাছে যেতে। মামীমার সাথে খুব অল্প দিনের মধ্যেই ওনার বেশ ভাব হয়ে গেল। মাঝে মাঝেই এটা ওটা দিয়ে দীপ্ত ওদের বাড়িতে যেত আবার রিমাও আসত ওদের বাড়িতে। ওরা আসাতে দীপ্তর একাকীত্ব যেন একটু লাঘব হলো। যদিও ও রিমা কে একটু এড়িয়ে চলত কারণ ওর মনে হত মেয়েটা বয়সের তুলনায় অনেক বেশি পাকা। রিমা তখন ক্লাস এইট। কাকী মা বলাতে মাঝে মাঝে রিমা কে পড়া দেখিয়ে দিতে হত। যদিও রিমার ভাব কায়দা ভালো লাগতো না। এইভাবেই উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় ভালো রেজাল্ট করেই পাশ করে কলেজে ভর্তি হলো।সেবার দূর্গা পূজোর অষ্টমীর দিন পাড়ার পূজোতে অঞ্জলি দেবার সময় শাড়ি পড়ে ওর পাশে এসে দাঁড়িয়ে রিমা এমনভাবে তাকালো যে দীপ্ত একটু অবাক হলো, কিন্তু বয়সের তুলনায় বাড়ন্ত রিমা কে সেদিন এত সুন্দর লাগছিল যে দীপ্তও ঘায়েল হয়েই গেল। আড়ালে বসে মদনদেব হাসলেন। তার শরে বিদ্ধ হলো দুটি হৃদয়। যদিও এর প্রকাশ ঘটেনি পরস্পরের কাছে। কিন্তু কতদিন আর ওইভাবে চলে। এসে গেল বাঙালীর ভ্যালেন্টাইন ডে সরস্বতী পূজা। দীপ্ত কলেজ যাবে বলে তৈরি হচ্ছে এমন সময় রিমা এসে ওর মামীমার কাছে বায়না ধরে দীপ্তর সাথে কলেজে যাবে। মামীমা রিমা কে খুব ভালোবাসেন তাই দীপ্তকে বলেন রিমা কে নিয়ে যেতে। তখনও কি ঘটতে চলেছে দীপ্তর আন্দাজ ছিল না। রিমা বাড়ি থেকে বেড়িয়ে বলে কলেজ না ও যেখানে বলবে সেখানে যেতে হবে। এই বলে দীপ্তকে অন্য জায়গায় নিয়ে যায়। যেখানে দুজনে মদন শরে বিদ্ধ হয়, দুটি মনের মিলন ঘটে, অধরে অধরে মিলনের সাথে সাথে। সবার সামনে কিন্তু সবার অজ্ঞাতেই চলল দুজনের প্রেম।রিমা মাধ্যমিক পাশ করল মোটামুটি রেজাল্ট করে। দীপ্ত গ্রাজুয়েশন করে গ্রামের বাড়িতে ফিরে গেল; সেখানে যা জমি জমা আছে চাষ করবে বলে। আর সাথে চলল চাকরির জন্য পরীক্ষা দেওয়া। মামা মামীমা খুব আপত্তি জানিয়ে ছিলেন, কিন্তু দীপ্তর গ্রামের প্রতি টানটা যায়নি। মাঝে মাঝে মামার কাছে আসে। এর একবছর পর হঠাৎ দিদিভাইয়ের এক দূরসম্পর্কের আত্মীয়ের সূত্রে একটা মাল্টি ন্যাশনাল কোম্পানিতে একটা চাকরি পেল। মামার চাপে পরে বাধ্য হলো চাকরিটা করতে। চলে গেল আমেদাবাদ।এবার সবার চোখে রিমার পরিবর্তন ধরা পড়তে লাগল। সেই প্রাণোচ্ছল মেয়েটা যেন কেমন চুপচাপ হয়ে গেল। আসতে আসতে দীপ্তদের বাড়িতে যাওয়া কমতে লাগলো। হঠাৎ দীপ্তর মামীমা খেয়াল করলেন যে রিমার মা আগের মত মেলামেশা করছে না। দীপ্ত ওর দিদিকেই সবটা জানাল। সব জেনে দীয়া গেল রিমার মায়ের সাথে কথা বলতে ওদের ব্যাপারে। রিমার মা দীয়াকে অনেক কথা শুনিয়ে দিলেন। এরপর ওর মামা মামীমা ও দীপ্তর কথা ভেবে কথা বলতে গেলে ওনাদের খুব অপমান করেন রিমার মা বাবা। এটা দীপ্ত মেনে নিতে পারে না। রিমা কে প্রস্তাব দেয় বাড়ি থেকে বেরিয়ে এসে বিয়ে করতে হবে। কিন্তু রিমা রাজী হয় না। দুজনের মধ্যে চলতে লাগল টানাপোড়েন। এইভাবে চলতে চলতে হঠাৎ রিমারা চলে গেল। দীপ্তর সাথে কোনো রকম যোগাযোগ করল না। পরে বন্ধু মারফত শুনে ছিল রিমার বিয়ে হয়ে গেছে।এরপর দীপ্ত শুধু নিজের কেরিয়ার নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ল। চাকরিতে যাতে আরও উন্নতি হয় সেদিকে মনপ্রাণ লাগিয়ে দিল। ওর সততা আর সরলতা সবার মন জয় করে নিল। তরতর করে উন্নতি হতে লাগল। দীপ্ত যখন যার অধীনে কাজ করে সেই ওকে খুব ভালোবেসে ফেলে। কাজের উন্নতির সাথে সাথে বাড়ি আসা কমতে থাকে। এদিকে মামা মামীমা বিয়ের জন্য ক্রমশ জোর দিতে থাকে। বারবার এড়িয়ে গেলেও শেষ পর্যন্ত দিদিভাইয়ের কাছে হার মেনে বিয়ে করতে রাজি হয়। দীপ্তর গ্রামের বাড়ির পাশের গ্রামের এক নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়ে মধুমিতার সাথে বিয়ে হয় দীপ্তর। মধুমিতা গ্রামের মেয়ে ও গরিবের মেয়ে হলেও খুব উচ্চাকাঙ্ক্ষী ছিল। তবুও বিয়ের পর দুটো বছর বেশ ভালো কাটল। তারপর ওদের মাঝে এল ওদের ছেলে অন্বয়, যাকে ওরা কুট্টুস বলে। কুট্টুস তখন দুবছরের হঠাৎই মধুমিতার ব্যবহারে যেন অনেক পরিবর্তন আসতে থাকে। সারাক্ষণ ফোন নিয়ে বসে থাকে, ছেলেকেও সেভাবে যত্ন করে না। কথায় কথায় দীপ্তর বয়স নিয়ে, যোগ্যতা নিয়ে অপমানজনক কথা বলে। দীপ্তর সাথে ওর বয়সের ফারাক অনেক বেশি বলে হঠাৎ করে ওর দীপ্ত কে নিয়ে ওর মধ্যে সমস্যা দেখা যায়। দীপ্ত প্রথম প্রথম খুব একটা পাত্তা না দিলেও শেষ পর্যন্ত পারে না।শেষ পর্যন্ত ব্যাপারটা প্রায় ডিভোর্সের পর্যায়ে চলে যায়; কিন্তু দীপ্ত ছেলে ছেড়ে থাকতে পারবে না এটা বুঝতে পারে। তাই দীর্ঘ সময় বাপের বাড়িতে রেখে দিলেও শেষ পর্যন্ত ওদের আবার ফিরিয়ে নিয়ে যায় কাজের জায়গায়। সেখানে আরেক অশান্তি শুরু হয়। সমস্যা যখন বেশ সমাধান হতে শুরু করে ঠিক সেই সময় দীপ্তর এক পিসতুতো ভাই মানস কাজের সূত্রে ওদের ওখানে গিয়ে ওঠে। সে প্রায় মধুমিতার কাছাকাছি বয়সের। তার নজর পরে মধুমিতার ওপর। তাই দীপ্ত আর মধুমিতার মধ্যে আবার বিবাদ লাগানোর জন্য রিমার কথা অনেক বেশি বেশি করে বাড়িয়ে বলে মধুমিতার কাছে। মধুমিতার মনে আবার ঝড় ওঠে। এই সময় মানস সুযোগ নিতে চায়। কিন্তু মধুমিতার মনে মানসের জন্য তো কোনো জায়গা ছিল না তাই ও মানসের এই ব্যাপারটা মেনে নিতে পারে না। ও দীপ্তর কাছে সব বলে। এবং মানস যাতে আর না আসে সে ব্যবস্থা করতে বলে দীপ্ত কে।দীপ্ত বোঝে এই মেয়ের সাথে ঝগড়া করে হবে না আস্তে আস্তে বুঝিয়ে ঠিক করতে হবে। ও এই ব্যাপারে দিদিভাইয়ের সাহায্য নেয়। আস্তে আস্তে মধুমিতার মধ্যে পরিবর্তন আসতে শুরু করে। ওর শুধু একটাই রাগ রিমার কথা দীপ্ত কেন ওকে বলেনি। দীপ্ত ওকে বোঝায় রিমার কথা ও মনে করতে চায়না; ওটা ওর একটা বেদনাময় অংশ ছিল। যেদিন থেকে মধুমিতার সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয় সেদিন থেকে ও শুধু মধুমিতার। দীপ্ত শেষ পর্যন্ত বোঝাতে সক্ষম হয়। আস্তে আস্তে মধুমিতা নিজের ভুল বুঝতে পারে। তারপর থেকে মন দিয়ে সংসার করতে চেষ্টা করে। দীপ্ত আর মধুমিতার মধ্যে সব ভুল বোঝাবুঝির অবসান হয়। ওদের মধ্যে আরেক অতিথি আসে মাস তিনেক আগে। ওদের মেয়ে অন্বেষা।এই আনন্দের সময় দীপ্তর মনে পড়ে ওর মায়ের কথা। একদিন কথাপ্রসঙ্গে মধুমিতার কাছে ও বলে আমার স্বপ্ন ছিল আমার স্ত্রী আমার মায়ের মত করে বাড়িতে লক্ষ্মী পূজো করবে। মধুমিতা সেকথা শুনে রাজী হয়ে যায়। আনন্দের সাথে এবার গ্রামের বাড়িতে এসে এবার দীপ্তর কথা মতো একদম লাল পাড়ে শাড়ি, পায়ে আলতা পড়ে লক্ষ্মী পূজো করে আর শেষে পাঁচালি পড়ে একদম মায়ের মতো করে।দীপ্তর মনে পড়ে যায় হারিয়ে যাওয়া মায়ের সাথে বসে লক্ষ্মী পূজো দেখার কথা। আজ আনন্দে দীপ্তর চোখে ঘুম নেই। ঘরের মধ্যে ছেলে মেয়ে নিয়ে মধুমিতা ঘুমিয়ে পড়েছে, সারাদিন খাটাখাটনি করে ক্লান্ত হয়ে। দীপ্ত ব্যালকনিতে আনন্দের জ্যোৎস্নায় স্নান করছে। আজ যে ওর মনে বাসা বেঁধে ছিল যে স্বপ্ন তা পূরন হয়েছে।শ্রীমতি রাখি রায়বর্ধমান

নভেম্বর ০৬, ২০২২
নিবন্ধ

শহরের কোলাহলের বাইরে এ যেন মনে গাঁথা ভিন্ন পৃথিবী

মোড়াটা বসতে দে। চেয়ার তো নেই। বিনয়ের সঙ্গে পরিতোষ বললেন, ওটাতেই বসতে হবে। মোড়াটা এগিয়ে দিল বিনু। ছিন্নভিন্ন খড়ের চাল যেন মাটি ছুঁয়ে ফেলেছে। মাটির দাওয়া। ঘরে-বাইরে চারিদিক অগোছাল। এদিক-ওদিক ঝুলছে কাপড়-জামা। প্রতি পদে দারিদ্রতার স্পষ্ট ছাপ। তবু আথিতেয়তায় যেন কোনও খামতি নেই পরিতোষ হেমব্রমের। নুন আনতে পান্তা ফুরানোর আবস্থা। দিনমজুরি করেই সংসার টেনে চলেছেন বছর পঞ্চাশের পরিতোষ। কলকাতা থেকে বাঁকুড়ার রাণীবাঁধে গ্রাম দেখতে গিয়েছে রকিরা। আসলে তাঁদের গন্তব্য ছিল মুকুটমনিপুর। বর্ষায় প্রকৃতির অসাধারণ শোভা দেখতে সেখানে যাওয়া। এরই ফাঁকে আদিবাসীদের গ্রাম দেখতে ইচ্ছে হয় উৎকল ও রেশমির। শহরের দূষণে জীবন জেরবার। তাই নির্মল গ্রামের সন্ধানে জঙ্গলমহল। সেই উদ্দেশ্যে ৫ বছরের ছেলে রাহুলকে নিয়ে পরিতোষদের বাড়িতে তিনজনেই হাজির। রাহুলের ডাক নাম রকি। আগে থেকেই কিছুটা পরিচয় ছিল পরিতোষের সঙ্গে। প্রথমবারের সাক্ষাতে আথিতেয়তায় মুগ্ধ উৎকল-রেশমিরা। পায়ের সামনে ঘটিতে জল রেখে প্রণাম করে পরিতোষের স্ত্রী। পাল্টা নমস্কার করে উৎকল-রেশিমি। অতিথিদের চা-বিস্কুট খেতে দিল রানি, পরিতোষের স্ত্রী। রানি তাঁদের দুপুরের আহারের করার জন্যও আবদার করতে থাকে। না খেয়ে এখান থেকে যাওয়ার কোনও প্রশ্নই নেই, বলে রানি। প্রত্যন্ত গ্রামে আদিবাসীদের ব্যবহারে মুগ্ধতার কথা বলেই ফেলল রেশমি। সে বলে ওঠে, আমরা এসেছি গ্রাম দেখতে। জঙ্গলমহলের আদিবাসী মানুষজনের জীবন-জীবীকা, জীবনবোধ, পরিবেশ দেখার অসীম আগ্রহ নিয়েই এসেছি এখানে। কিন্তু ব্যবহারে এমন আন্তরিকতা পেতে পারি তা আশাই করতে পারিনি। এঁদের সঙ্গে না রক্তের সম্পর্ক না আগে কোনও দিন দেখা হয়েছে। একথা ভেবে মনের মধ্যে বির বির করতে থাকে রেশমি। অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকেন ওই পরিবারের সদস্যদের দিকে। পরিতোষের মেয়ে ঝুমুরও জোরাজুরি করছে। অথচ এঁরা কেউ কাউকে দেখা তো দূরের কথা তাঁদের সম্পর্কে কোনও কথাই শোনেনি। অযাচিত অতিথিকে আদিবাসীরা এতটা আপন করে নেয়, ভাবতে থাকে উৎকল। যেটুকু পরিচয় ওই পরিতোষের সঙ্গে উৎকলের। তাও এক বন্ধুর মারফৎ। সেই সূত্রে পরিতোষদের বাড়িতে চলে আসা।কনভেন্টে পড়াশুনা করে রাহুল। এবার রেশমিদের মনে উদ্রেক হয় পরিতোষের মেয়ে কী আদৌ পড়াশুনা করে? এমন প্রত্যন্ত গ্রাম, তারওপর সংসারের বেহাল দশা। নুন আনতে সত্যি সত্যি পান্তা ফুরানোর অবস্থা। পোষাক-পরিচ্ছদেও তার স্পষ্ট ছাপ। জিজ্ঞাসা করা ঠিক হবে কীনা ভাবতে থাকে রেশমি। কিন্তু কৌতুহল বেশিক্ষণ চাপা থাকেনি। শেষমেষ রানিকে জিজ্ঞেস করে রেশমি। মেয়ে কোন ক্লাসে পড়ছে? রানি বলে, সংস্কৃতিতে অনার্স গ্রাজুয়েট হল এবছরই। জানি না চাকরি-বাকরি পাবে কিনা। সরকারি চাকরি পাওয়ার আশা তো না করাই ভাল। তাছাড়া আমাদের টাকা-পয়সাও নেই। যাক ওই পড়াশুনাটা তো হয়েছে। এই আর কি। আসলে মেয়ের চেহারা স্লিম ঠিক নয়, একেবারেই রুগ্ন। দেখলে মনে হবে ক্লাস এইট-নাইনের ছাত্রী। দরিদ্র আদিবাসী পরিবারে যাঁদের অন্নের সংস্থান করতেই ঘাম ছুটছে, সেই বাড়ির মেয়ে অনার্স গ্রাজুয়েট। পড়াশুনা করতে যেতে হত ৪০ কিলোমিটার দূরের বাঁকুড়া শহরে। শিক্ষকও নেই গ্রামে। এসব শুনে মনপ্রাণ জুড়ে যায় রেশমির। শহরের মানুষের অহঙ্কারের কথা ভেবে নিজেকেই ছোট ভাবতে থাকে রেশমি। এমন প্রত্যন্ত গ্রাম, বাড়িতে অর্থের সংস্থান নেই, পরিবারের কেউ কলেজ কেন স্কুলের গন্ডিও পার করেনি। অথচ সেই বাড়িতে অনার্স গ্রাজুয়েট। পড়াশুনার জন্য কত লড়াই! কথা-বার্তায় সেটুকুও বোঝার উপায় নেই। রেশমি ভাবতে থাকে, অথচ এদের কোনও চাকরিও জুটবে না। এসটি কোটা থাকলেও কী যায় আসে।চা বিস্কুট খেয়ে, ভাল-মন্দ গল্পগুজবকে সঙ্গী করে পরিতোষদের বাড়ি ছাড়ে উৎকল-রেশমিরা। তার মধ্যে ছোট্ট রাহুল বায়না ধরে লালঝুটি মোরগ নেবে বলে। রেশমিরা যখন গল্পে মত্ত তখন রাহুল ছুটে বেরিয়েছে ছাগল, মোরগদের পিছনে। এই অনাবিল আনন্দ তো আর শহরে পাবে না। সেখানে তো কৃত্তিমতায় ভরা। চরম আত্মকেন্দ্রীক সমাজ। দুই পরিবেশে বিস্তর তারতম্য উপলব্ধি করতে থাকে উৎকলরা। পরিতোষদের বাড়িতে দুটো গরু, গোটা চরেক ছাগল, ১৯-২০টা মোরগ-মুরগি আছে। এসব দিয়ে কিছু অর্থের সংস্থান হয় আর কী। রানি বলে, মোরগ নিয়ে গেলে নিয়ে যান। কিন্তু তা-তো আর সম্ভব নয়। ঘন্টাখানেক পরিতোষদের বাড়িতে ছিল ওরা। কিন্তু যেন তারই মধ্যে এমন টান জন্মে গিয়েছে পরিবারটির প্রতি উঠতেও যেন তাঁদের মন করছে না। মানুষ তাহলে এখনও আছে। শিক্ষার জন্য গরীব মানুষের লড়াই আছে। আর্থিক দৈন্যতা সত্বেও আন্তরিকতা আছে পূর্ণমাত্রায়। অজানা পরিবারেও আত্মার টানের উপলব্ধি আছে। এসব ভেবেই বিহ্বল হয়ে উঠল রেশমি। যদিও কলকাতায় পাশের ফ্ল্য়াটের লোকজন কেউ কারও খবর রাখে না। দেনা-পাওনার হিসেবেই সবাই ব্যস্ত। তাঁর কাছে এ যেন শহরের বাইরে এক নতুন পৃথিবী। নয়া জগত।আদিবাসী গ্রাম থেকে ফের মুকুটমনিপুরের অতিথিশালায় গিয়ে ওঠে উৎকলরা। পড়ন্ত বিকেলে কংসাবতীর ড্যাম দেখতে অতিসুন্দর। তারওপর বর্ষাকালে টইটুম্বুর জলে আকর্ষণ বেড় গিয়েছে আরও বেশ কয়েকগুন। লকগেট থেকে মাঝে-মধ্যে জলও ছাড়া হচ্ছে। মহানগরের কোলাহল থেকে মাথার চাপ হালকা করতে এভাবে হঠাৎ হঠাৎ অনেকেই ছুটে যান পাহাড়, জঙ্গল, সমুদ্রে। স্বল্প সময়ে অল্প পরিচিত পরিতোষ হেমব্রমের পরিবারের আদর-আপ্যায়ন, মেয়ের পড়াশুনার খবরে উৎকল-রেশমির মন যেন অজানা আনন্দে ভরে গিয়েছে। কংসাবতীর ড্যামের সৌন্দর্যও যেন তার থেকে ম্লান। ফুরফুরে বাতাসে শ্বাস আর বাড়তি কনফিডেন্স নিয়ে কলকাতায় ফিরে ফের কাজে মন দিল উৎকলরা। কিন্তু ভোলেনি বাঁকুড়ার রানিবাঁধে হেমব্রমদের। তা যে মনে গেঁথে আছে।

অক্টোবর ৩০, ২০২২
নিবন্ধ

অদৃশ্য সাহায্য (ছোট গল্প)

ট্রেনটা স্টেশনে থামল রাত তখন প্রায় সাড়ে দশটা। স্টেশন প্রায় ফাঁকা, দুচার জন এদিক ওদিক শুয়ে আছে।এতো রাতে ট্রেন থেকে খুব একটা বেশি লোক নামে না। আজ আগের ট্রেনটা মিস হয়ে যাওয়ার পর অর্ণা যখন বলল ওর সঙ্গে যেতে তখন ঋতু গেলোনা; মায়ের ওষুধ ফুরিয়ে গেছে যে। সেগুলো কিনতে গিয়েই আজ ট্রেনটা মিস হয়ে গেলো।স্টেশন থেকে বাইরে বেরিয়ে দেখল চারিদিক সুনসান। ফোনটাও অফ হয়ে গেছে চার্জ ফুরিয়ে যাওয়ায়।বাড়িতে ফোন করার ও উপায় নেই। দেখে মনে হচ্ছে লোড শেডিং।ভাগ্য ভালো ছোট টর্চ টা সাথে ছিলো। ঋতু হাঁটতে লাগল।একটু যেতেই মনে হলো পিছনে কেউ আসছে। দেখল একটা ফাঁকা রিক্সা।ঋতু অবাক হলো কই দেখতে পায়নি তো স্টেশন এ। ভাবল অন্ধকারে দেখতে পায়নি।রিক্সাচালক একটি অল্পবয়সি ছেলে। ঋতুকে বললো দিদি আমার রিক্সায় ওঠো আমি ওদিকেই যাবো, তোমাকে বাড়ি পৌঁছে দেবো। ঋতুকে ইতস্তত করতে দেখে ছেলেটি বলল দিদি আমি তোমার ছোটোভাইয়ের মতো। এতো রাতে একা যেও না রাস্তা ভালো না। ঋতু আর দ্বিধা না করে উঠে পরলো রিক্সায়।ছেলেটি বেশ ভালো, গল্প করতে করতে এগিয়ে চলল। পথে একটা পুরনো বাড়ি পরে, ওখান টা বেশ গা ছম ছম করতে লাগল। ছেলেটা তখন বলল ভয় কি দিদি আমি আছি। তখন সমীর মানে রিক্সাচালক ছেলেটি বলতে লাগল---- পাঁচ বছর আগে এরকম এক অন্ধকার রাতে তোমার মতো একজন মেয়ে হেঁটে ফিরছিল। তখন ঐ বাড়িটার দাওয়ায় একদল ছেলে আড্ডা দিত মানে মদের আসর বসত। এই পথ দিয়ে মানুষের যাওয়ার উপায় ছিলোনা। মেয়েটি তোমার মতই নিরুপায় হয়ে এই পথ দিয়ে যাচ্ছিল। যেই না ওদের সামনে এসেছে ওর শুরু করলো বদমাইশি। আমি তখন একজনকে নামিয়ে বাড়ি ফিরছি। চিৎকার শুনে তাড়াতাড়ি এগিয়ে গিয়ে ওদের বাধা দিলাম। কিন্তু ওরা ছিলো চার পাঁচ জন। আমি তাও ওদের আটকাতে চেষ্টা করলাম। মেয়েটিকে বললাম তুমি পালাও। মেয়েটি আমার কথা শুনে ছুট লাগালো। ওর পিছনে একজন ছুটল। বাকিরা আমাকে মারতে লাগল। শেষে একজন ওদের ফেলে দেওয়া বোতল ভাঙা আমার পেটে ঢুকিয়ে দিল। আমি আর পারলাম না। পরে গেলাম মাটিতে, রক্তে ভেসে গেলো আমার দেহ। ছেলে গুলো আমাকে মরে যেতে দেখে পালিয়ে গেলো।এই দিদি তুই এখানে কি করে এলি? আমি তো তোকে আনতে স্টেশন গেছিলাম, কিন্তু দেখতে পেলাম না।ঋতু ভাই কে কিছুই বলতে পারলো না। শুধু বলল পরে বলবো। এখন ঘরে চল। ওর ভাই অবাক চোখে তাকিয়ে রইল। কিছুই বুঝল না।সমীররা এইভাবেই সাহায্য করে যায় মানুষ কে......।।

জুলাই ১০, ২০২২
নিবন্ধ

ফিরে পেলাম (ছোট গল্প)

অনেক দিন পরে আবার যেন নিজেকে ফিরে পেলাম। আমার স্বপ্ন, ইচ্ছা যা প্রায় হারিয়ে ফেলেছিলাম আবার যেন ফিরে পাব এই আশা মনে জাগছে।ভাবছেন তো কে আমি! কি বলছি, কেনই বা বলছি? আজ আমার কথা বলব বলেই আমার প্রিয় জায়গায় এসে বসেছি।আমি অনামিকা দত্তগুপ্ত। আমার বাবা অতুল দত্তগুপ্ত পেশায় শিক্ষক, মা তমালী দত্তগুপ্ত গৃহবধূ, কিন্তু গান ওনার প্রথম ভালোবাসা। আমার ঠাম শকুন্তলা দেবী খুব ভালো আবৃত্তি করতে পারেন। আর আমার ছোটো ভাই রূপ দারুণ তবলা আর মাউথ অর্গান বাজায়। বুঝতেই পারছেন কিরকম আবহাওয়ার মধ্যে বড়ো হয়েছি। সবাই বলত আমার গলায় নাকি মা সরস্বতী বাস করেন। গান ছিল আমার প্রাণের চেয়ে ও প্রিয়। আর ছোটো থেকে আমি কবিতা লেখা, গল্প লেখা এসব একটু আধটু করতাম। আমাদের বাড়িতে সকাল সন্ধ্যে গান বাজনা, আবৃত্তি চলত। এইভাবেই বড়ো হতে থাকি। চোখে স্বপ্ন ছিল বড়ো হয়ে হয় সাহিত্যিক হবো নয়তো গানকে নিয়েই এগিয়ে যাবো। আমার লেখা বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত হতো। আমার বাবার একজন বন্ধু এতে অনেক সাহায্য করতেন। আমাকে খুব স্নেহ করতেন। একটা পারিবারিক সম্পর্ক ছিল আমাদের। রফিকুল ইসলাম তার নাম। তার ছেলে আতিফ আমার ছোটো বেলার বন্ধু। আমরা একসাথে বড়ো হয়েছি। আমি উচ্চ মাধ্যমিকের পর সাহিত্য নিয়ে পড়তে কলকাতার একটি কলেজে ভর্তি হলাম। সাথে গানের জন্য পন্ডিত ইরশাদ খান সাহেবের কাছে ভর্তি হলাম।এই গানের স্কুল আর কলেজ এই ছিল আমার জগত। আতিফ ও একই কলেজে ভর্তি হওয়ায় মা বাবা একটু নিশ্চিন্তে ছিলেন। আমরা কলেজের কাছে মেসে থাকতাম। পাশাপাশি ছিল মেস দুটো। আমাদের মধ্যে এমন সম্পর্ক ছিল সবাই ভাবত আমরা আপন ভাই বোন। বেশ চলছিল কলেজ আর গান নিয়ে আমার জীবন। হঠাৎ করে সেখানে ঝড়ের মতো এসে সব উলোট পালোট করে দিল অন্বয় সাহা। গানের স্কুলে পরিচয়। গুরুজির সবচেয়ে প্রিয় ছাত্র। একটা অনুষ্ঠানে গুরুজি আমাদের দুজনকেই নিয়ে যান। সেখান থেকেই শুরু। সেই পরিচয় আস্তে আস্তে গভীর হয়। আমাদের কলেজেরই সিনিয়র ছাত্র ছিল। কলেজের অনুষ্ঠান গুলোতেও আমরা একই সঙ্গে গান করতাম। অনি সবসময় বলতো ভালোই হবে আমরা একসাথে সব জায়গায় গান করতে যেতে পারবো। আমার তখন মনে হতো আমি খুব ভাগ্যবতী যে ওর মতো একজনকে পেয়েছি। কলেজের শেষে ও পুরো সময় গানের জন্য দিয়ে দেয়। সেই সময় একটা প্রতিযোগিতায় আমরা দুজনেই অংশগ্রহণ করি। আমি প্রথম আর ও দ্বিতীয় হয়। সেদিন ওর মুখে যেন অন্ধকার নেমে এসেছিল। আমার খুব খারাপ লাগে। এরপর আবার একজায়গায় ওই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটে। আমার মনে হয় এবার হয়তো আমাদের সম্পর্কে এর আঁচ লাগবে; কিন্তু অদ্ভুত ভাবে ও চুপ করে যায়। না এবার যেন আমাকে বেশি উৎসাহ দিতে থাকে। আমি খুব খুশি হই ওর কাছে এরকম ব্যবহার পেয়ে।একদিন আমার তখন ফাইনাল পরীক্ষা হয়ে গেছে আমাকে বলে ওর মাকে সব বলেছে আমার কথা। উনি আমাকে দেখতে চেয়েছেন। আমাকে ওদের বাড়িতে নিয়ে গেল। মা, বাবা আর ছেলে এই ওদের ছোটো পরিবার। আমাকে তো এমন ভাবে আপ্যায়ন করলেন ওর মা যেন আমাকে কতদিন চেনেন। আমি ওনার ব্যবহার দেখে আপ্লুত হয়ে গেলাম। বর্ং বাবা মানুষটিকে কেমন যেন লাগলো। এরপর ওর মায়ের জোরাজুরিতে আর আমার ইচ্ছার কাছে মা, বাবা, ঠাকুমা অনিচ্ছা সত্ত্বেও আমার বিয়ে দেন। এর মধ্যে আমার আর একজনের সাথে সবসম্পর্ক নষ্ট হয় সে হলো আতিফ। বাড়ির লোকের পর আমার সবচেয়ে বেশি হিতাকাঙ্ক্ষী। কিন্তু আমি সেটা তখন বুঝতে পারিনি। ও আমাকে বারবার বলেছিল রুম (আমার ডাক নাম) একটু ভাব ; এত তাড়াহুড়ো করিসনা। আমার তখন মনে হয়েছিল ও যেন চায় না আমার বিয়েটা হোক। মনে অন্যরকম চিন্তা আসছিল। ওকে একদিন খুব অপমান করলাম। ও মুখ নিচু করে সেই যে গেল আর আমার সামনে বিয়ের আগে আসেনি। আমিও যাইনি ওর কাছে। অথচ বোনের বিয়েতে ভাইয়ের যে ভূমিকা থাকে সব আমার বাবার সাথে থেকে পালন করেছে।যাইহোক বিয়েটা হয়ে গেল। বিয়ের পর মাস ছয়েক এখানে ওখানে ঘুরে কাটিয়ে দিলাম। এরমধ্যে আমার রেজাল্ট বেরিয়ে গেছে, আমি মাস্টার্স করার জন্য যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছি।এবার আমাদের দুজনের আবার গানের জগতে ফেরার পালা। কিন্তু অদ্ভুতভাবে আমার রেওয়াজ করার সময় ওর মায়ের কোনো না কোনো দরকার পরে যেত যেখানে আমার যেতেই হতো। এইভাবে বেশ কিছু দিন চলার পর একদিন ধৈর্য হারিয়ে বলেই ফেললাম আপনার সমস্যা টা কি বলুন তো? যখনই আমি রেওয়াজ করতে বসি তখনই আপনি কোনো না কোনো কারণে আমাকে ডাকেন কেন? আমার শাশুড়ির উত্তরে আমি হতবাক হয়ে যাই। কি হবে সকাল সন্ধ্যা এত চেঁচিয়ে? বিয়ে হয়ে গেছে এবার সংসারে মন দাও।আমি স্তম্ভিত হয়ে যাই। কোনো কথা যোগায় না আমার। ভাবি যে মানুষটা এত প্রশংসা করতো আমার গানের তার কাছে সেটা এখন চেঁচানো!অন্বয় বাড়ি ফিরলে ওকে একথা গুলো বলি। ওর জবাব আমাকে আরও অবাক করে। মা তো খারাপ কিছু বলেননি। উনি চেয়েছেন তুমি ওনাকে একটু সাহায্য করো। গান তো আছেই।মানে! আমি রেওয়াজ করা ছেড়ে তোমার মায়ের সঙ্গে শুধু সংসারের কাজ করবো! এমন কথা তো ছিল না। আমরা একসাথে গান করব এটাই তো বলেছিলে। আমি অন্বয় কে বলি।হ্যাঁ তখন সেটাই মনে হয়েছিল, তাই বলেছিলাম। আজ মনে হচ্ছে মায়ের ও কিছু চাওয়ার থাকতে পারে।আমি যতই দেখছি আর শুনছি অবাক হয়ে যাচ্ছি। আমি কোনো কথা বললাম না এটুকু বুঝতে পারলাম কোথাও একটা ভুল আমি করে ফেলেছি। কিন্তু কাউকে কিছু বলতে পারলাম না।একটা ব্যাপার খেয়াল করলাম আমাকে পড়তে কিন্তু বাধা দেয় না। আমি ইউনিভার্সিটি যাই তাতে ওদের কোনো সমস্যা নেই। যত সমস্যা গান নিয়ে।আমি মায়ের কাছে গেলাম পরীক্ষা দেব ওখান থেকে এই বলে। কিন্তু মন আমার খুব অস্থির হয়ে রয়েছে কী ঘটছে, আর কেন? এই ভেবে। আতিফের সাথে প্রায় এক বছর যোগাযোগ করিনি। আমি বারণ করেছিলাম বলে ও আমার সাথে যোগাযোগ রাখেনি। কিন্তু আমার মনে হলো ওর সাথে কথা বলা খুব দরকার। মা, বাবা কে বলতে পারবো না আমার সমস্যার কথা। একমাত্র ওকেই বলা যাবে। একদিন ওদের বাড়িতে চলে গেলাম। গিয়ে জানতে পারলাম ও মাস্টার্স করতে নর্থ বেঙ্গল গেছে। আমার সব যেন কেমন লাগতে লাগল, বুঝতে পারলাম না কি করব। ফিরে এলাম বাড়িতে। ঠাম কিছু হয়তো আন্দাজ করতে পেরেছিলেন। আমার ঘরে এসে একদিন বললেন দিদি ভাই কিছু যদি বলার থাকে আমাকে বল, মনের মধ্যে রাখলে শরীর, মন দুইয়ের ক্ষতি হবে। আম শুধু কেঁদে ছিলাম কিছু বলতে পারিনি।পরীক্ষা হয়ে যেতেই অন্বয় আমাকে নিয়ে যেতে এল। আমি কি করব ভেবে পাচ্ছিলাম না। তাই বললাম মায়ের কাছে আর কটা দিন থেকে তারপর যাব।অন্বয় ফিরে গেল। আমি আরিফকে ফোন করলাম, কিন্তু ও ধরলো না। পাঁচ বারের বার ধরল। বল, কি বলবি। আমি কিছু বলতে পারলাম না শুধুই কেঁদে গেলাম।আরে কাঁদতে কাঁদতেই বল কি হয়েছে।তুই একবার আসবি? তোকে আমার খুব প্রয়োজন।কি হয়েছে আগে বল।আমি বললাম আমার যা মনে হচ্ছে, আর যা ঘটছে।চুপচাপ সব শুনল, তারপর বললো ঠিক আছে দেখছি আমি কবে যেতে পারি। তুই সাবধানে থাকিস। এই বলে সেদিন রেখে দিলাম।মনটা একটু হালকা লাগলো। পরদিন শ্বশুর বাড়ি ফিরে গেলাম। এবার ঠিক করলাম আমি আমার মতো গান করে যাব। সেই মতোই করতে লাগলাম। আর আমার শাশুড়ি মা প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যেতে লাগলেন আমার গান যাতে না হয়। অন্বয় ও মায়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে লাগলো। ও যেন চায়না আমি গান টা করি।কিন্তু আমি কারনটা বুঝতে পারছিলাম না। অথচ গুরুজির কাছে যখন যেতাম তখন একদম অন্য মানুষ। আমার খুব অবাক লাগতো।একদিন গুরুজির কাছে গান শিখতে গেছি,; উনি বললেন দিল্লিতে একটা মিউজিক সম্মেলন আছে সেখানে আমাদের কয়েকজনকে যেতে হবে।অন্বয় হঠাৎ বলে ওঠে যে অনামিকা যেতে পারবে না। আমি অবাক হয়ে ওর দিকে তাকিয়ে থাকি। আমার সাথে কি হচ্ছে বুঝতে পারিনা।গুরুজি আমাকে জিজ্ঞাসা করেন কি অসুবিধা আছে? আমার কিছু বলার আগেই অন্বয় বলে ওঠে আমার মা অসুস্থ, এতদিন ওর পরীক্ষা ছিল তাই মা কিছু বলেন নি ; কিন্তু এখন যদি ও আবার গান করতে দিল্লি চলে যায় মা খুব মুশকিলে পড়বেন। আমার অবাক হওয়ার আরও বাকি ছিল। ওখানে কিছু বলতে পারলাম না। বাড়িতে ফিরে যখন জিজ্ঞাসা করলাম যে কেন এরকম বললো, মা তো ভালোই আছেন। তখন মা আর ছেলে মিলে অকথ্য ভাষা ব্যবহার করলো। যা শুনে আমি নির্বাক হয়ে গেলাম।সেবার আমার যাওয়া হলো না। অন্বয় গেল একাই। আতিফ এইসময় এসে ফোন করে বললো ও এসেছে। আমি শাশুড়িকে বললাম যে বাবার বাড়ি যাব, খুব একটা খুশি না হলেও রাজী হয়ে গেল।এই সুযোগে আমি বাড়িতে যেতে পারলাম শুধু নয় আতিফের সাথে এতদিন পরে দেখা হওয়ায় অনেক কথা হলো। এত কথা যে জমে ছিল আমি নিজেও বুঝতে পারিনি।আতিফের ও অনেক কথা জমা হয়ে ছিল। ওর নতুন প্রেম ও তার কথা সব বললো। বেশ সময় কাটলো অনেক দিন পরে।এভাবেই দিন কাটতে লাগল। কিন্তু মনের মধ্যে একটা প্রশ্ন থেকেই গেল যে কেন এমন হলো। বিয়ের তৃতীয় বছর, একটা অনুষ্ঠানে যাওয়ার কথা বললেন গুরুজি। আবার অন্বয় বললো আমি যেতে পারবো না। কিন্তু এবার আমি জোর করে বললাম যে যাব। অন্বয় একটু অপ্রস্তুত হলেও কিছু বললো না।বাড়িতে ফিরে শুরু হলো অশান্তি। আবার যা মুখে এল তাই বললো। কিছুতেই আমাকে গানের জগতে যে থাকতে দেবে না এটা বুঝতে পারলাম। একটা কথা আমার মনকে খণ্ডবিখণ্ড করে দিল যখন অন্বয় বললো তোকে আমি ভালোবাসি নি কোনোদিন ; তুই আমার পথের কাঁটা তাই তোকে আমার পথ থেকে সরাতে ভালোবাসার নাটক করে বিয়ে করেছি।আমার পায়ের তলায় আর কিছু রইলো না। আমি ঘরে চলে গেলাম চোখে জল শুকিয়ে গেছে, শুধু ভাবছি কি করব! এমনসময় আমার মাথায় কারো স্পর্শ অনুভব করলাম , তাকিয়ে দেখি আমার শ্বশুর মশায়।আমার মাথায় হাত বুলিয়ে বললেন এখন কাঁদবার সময় নয়, ভালো করে ভাব মা তুই কি চাস। এভাবে নিজেকে মেরে থাকতে পারবি? ওরা তোর বড়ো ক্ষতি করে দেবে। তুই চলে যা এখান থেকে। কথাটা কোনো রকমে বলে চলে গেলেন।আমার কি করা উচিত ভাবতে লাগলাম। এমন সময় আমার শাশুড়ি মা এসে বললেন, রাগারাগি স্বামী স্ত্রীর মধ্যে হয়ে থাকে ওটা ধরে বসে থাকতে নেই। তোমার চা এনেছি খেয়ে নাও। শাশুড়ির এই মিষ্টি ব্যবহার আমাকে অবাক করলো আর শ্বশুর মশায়ের বলা কথাটা মনে পড়লো। তাই তখন মা কে বললাম, আমি এখন চা খাব না, আমার ভালো লাগছে না। উনি বললেন ,আমার উপর কেন রাগ করছো মা? আমি তো ভালো ভেবেই চা টা আনলাম। তোমার মন ভালো নেই, চা খেয়ে একটু বিশ্রাম নাও সব ঠিক হয়ে যাবে । আমার মনে সন্দেহ দানা বেঁধেছে, এত করে চা খেতে কেন বলছেন! আমি তখন বললাম ঠিক আছে আমি মুখে চোখে জল দিয়ে খাচ্ছি। আপনি গিয়ে চা খান।উনি বললেন না এখনি আমার সামনে খাও।আমার মনে সন্দেহ দৃঢ় হলো। আমি বললাম আমি কথা দিচ্ছি খাব।আমার কাছে একথা শোনার পর উনি যেন নিশ্চিন্তে চলে গেলেন।আমি চা টা না খেয়ে ফেলে দিলাম। এবার ঠিক করলাম আমি একটু নাটক করবো। আতিফের সাথে কথা বলে সব ঠিক করলাম।রাতে শুয়ে রইলাম গলায় ব্যথা বলে। খেয়াল করলাম আমি যখন গলায় ব্যথা বললাম মা, ছেলের মুখে কেমন আনন্দ খেলে গেল।মুখে ভাব করলো যেন খুব চিন্তায় পড়ে গেল।আমি ক্লান্তিতে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম, ঘুম ভেঙে দেখলাম পাশে অন্বয় নেই। ভাবলাম রাগ হয়েছে তাই ঘরে আসেনি। গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেছে। জল নেই দেখে জগ নিয়ে জল আনতে রান্না ঘরে যাচ্ছি কথার আওয়াজ এলো। একটু এগিয়ে গিয়ে শুনতে গেলাম কে এত রাতে কার সাথে কথা বলছে। দেখি মা আর ছেলে, মা বলছে তোকে বলেছিলাম না মাথা গরম না করে কাজ করতে। ভালো মুখে কাজ হাসিল করতে হয়। কালকেই তো তোকে বললাম ওর গলায় যদি আওয়াজ না থাকে গাইবে কি করে। তুই সব গন্ডগোল করে দিচ্ছিলি। আমি দেখ কোনো রকমে সামলে নিলাম। চা তো খেল আর বলছে গলায় ব্যথা।আমি নিজের কানকে বিশ্বাস করতে পারছি না। এ কি শুনছি আমি মানুষ এরকম ও হয়! আমি জল নিয়ে ঘরে এলাম। ভাবতে লাগলাম কি করা উচিত আমার। ঠিক করলাম আর নয় আমাকে এখান থেকে পালিয়ে যেতেই হবে। আমি চুপ করে শুয়ে রইলাম। অনেক রাতে অন্বয় এসে পাশে শুলো, আমার গা টা ঘিনঘিন করে উঠলো। ভাবলাম আমি একৈই ভালোবেসে ছিলাম! সারারাত চোখের জলে বালিশ ভেজালাম। সকালেও শুয়ে রইলাম। একটু বেলা হতেই আমার কথা মত ঠাম ফোন করল, বাবার শরীর খারাপ আমাকে যেতে হবে। অন্বয় যেতে পারবে না বলে দিল। আমি একাই বেরিয়ে পড়লাম। ব্যাগে নিজের সমস্ত দরকারী কাগজ পত্র, গয়না, যা যা নেওয়া সম্ভব সব নিয়ে। ওদের বুঝতে দিলাম না, যে আমি চিরস্থায়ী ভাবেই চলে যাচ্ছি। শুধু শ্বশুর মশায় কে প্রনাম করার সময় বললাম, আসছি বাবা, আশীর্বাদ করুন যেন সফল হই। উনি হাসলেন আমার দিকে তাকিয়ে।সেই বেরিয়ে এলাম। এরপর আতিফের সাথে বাড়ি ফিরলাম। ওকে আমার সাথে দেখে সবাই অবাক হলেও ঠাম সব জানত। আতিফ আর ঠাম বাবা, মাকে সব বললো। সবাই অবাক হয়ে গেলো শুনে। কিন্তু পাশে সবাই। তারপর ডিভোর্সের জন্য আমি আবেদন করলাম। সবাই আমাকে ভীষণ ভাবে আগলে আগলে রাখতো। আতিফের গার্ল ফ্রেন্ড অনীশাও আসত আমার কাছে। আমি ভীষণ ভাবে ভেঙে পড়েছিলাম। অনীশা আর আতিফ যথাসাধ্য চেষ্টা করতো আমাকে ভালো রাখার। এক সপ্তাহ হলো দীর্ঘ দুবছর লড়াইয়ের পর অবশেষে ডিভোর্স হয়েছে। আজ আমি মুক্ত, জীবন আমাকে অনেক কিছু শিখিয়েছে। আমি শুধু নিজের স্বপ্ন গুলো কে নিয়ে বাঁচবো। আবার তুলে নিয়ছি তানপুরা, আমার লেখার খাতা। যা আমার বেঁচে থাকার রসদ। আমার পুরোনো লেখার খাতাটা অনীশা নিয়ে গেছে একজন প্রকাশকের কাছে, বলেছেন ছাপা হবে। আমার পরিবারের আর বন্ধুর সাহায্যে আজ আমার আমি কে ফিরে পেলাম।শ্রীমতী রাখি রায়

জুলাই ০৩, ২০২২
বিনোদুনিয়া

সুজিত গুহ ও প্রিয়াঙ্কা ঘোষের ছবিতে পরীর চরিত্রে ঋতুপর্ণা

সুজিত গুহ ও প্রিয়াঙ্কা ঘোষের নতুন ছবি পরী এলো পৃথিবীতে। কলকাতার একটি হোটেলে প্রিয়াঙ্কা ঘোষ এন্টারটেইনমেন্ট এর প্রযোজনায় এই ছবির অভিনেতা ও অভিনেত্রীদের নিয়ে একটি সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।এই ছবির কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করছেন টলি কুইন ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত।এছাড়াও অন্যান্য অভিনেতাদের মধ্যে রয়েছেন খরাজ মুখোপাধ্যায়,লিলি চক্রবর্তী,রাজেশ শর্মা,সুমন মুখোপাধ্যায়,লাবনী সরকার,সুমিত গঙ্গোপাধ্যায় প্রমুখ। এই ছবিতেই নবাগত প্রতীক এর অভিষেক হচ্ছে।এই ছবিতে সঙ্গীত পরিচালনা করেছেন সমিধ ও উরভি মুখোপাধ্যায়। ছবিতে চারটে গান থাকার কথা রয়েছে। ছবিটির শুটিং শুরু হওয়ার কথা রয়েছে আগস্ট থেকে।ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত জানালেন,আমি মনে করি পরীরা আছেন। কে না চায় পরীর চরিত্রে অভিনয় করতে! আমি পরীর চরিত্রে অফার পেয়ে দারুন আনন্দিত।

জুন ৩০, ২০২২
বিনোদুনিয়া

মুক্তি পেল ‘রিষ’, বাবার চরিত্রে সৌরভ দাস

প্রীতম মুখোপাধ্যায়ের পরিচালনায় নতুন বাংলা ছবি রিষ। এই ছবির গল্প আবর্তিত হয়েছে ছোট একটি মেয়েকে ঘিরে। আবির ও মন্দিরার কন্যা সন্তান ফিওনার গল্পকেই ছবিতে তুলে ধরেছেন পরিচালক। মেয়েটির বাবার চরিত্রে অভিনয় করেছেন সৌরভ দাস। মায়ের চরিত্রে দেখা যাবে দর্শনা বণিক কে। রূপক চট্টোপাধ্যায়ের প্রযোজনায়, থিঙ্কট্যাঙ্ক এন্টারটেইনমেন্টের ব্যানারে এই ছবিটি।গত ১৩ জুন এই ছবি মুক্তি পাওয়ার কথা থাকলেও বিভিন্ন কারণে মুক্তি পায়নি। অবশেষে ছবিটি আজ মুক্তি পেল। টলিউডে সেভাবে ভুতের ছবি দেখতে পাননা দর্শকরা। রিষ এ অন্যরকম ভূতের ছবি দেখতে পাবেন দর্শকরা। এই ছবিতে সিধু, পটার গান ছবিটিতে আলাদা মাত্রা এনে দিয়েছে।সৌরভ দাস ও দর্শনা বণিক ছাড়াও এই ছবিতে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে দেখা যাবে চান্দ্রেয়ী ঘোষ, রুমকি চট্টোপাধ্যায়, কিয়ানা মুখোপাধ্যায়, পিয়ালি মুখোপাধ্যায়, অমিতাভ চট্টোপাধ্যায়, স্বাতী মুখোপাধ্যায় প্রমুখ। ছবির গল্প ও চিত্রনাট্য ও সংলাপ লিখেছেন দেবারতি ভৌমিক। চিত্রগ্রাহকের দায়িত্ব সামলেছেন আবির দত্ত।

জুন ২৪, ২০২২
বিনোদুনিয়া

আকাশ মালাকারের প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্যের ছবি প্রথম বারের প্রথম দেখা

আকাশ মালাকার তার প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্যের ছবি প্রথম বারের প্রথম দেখা-র নির্দেশনা করছেন। এই ছবিতে মুখ্য চরিত্রে অভিনয় করেছেন আর্য দাশগুপ্ত ও ঋত্বিকা সেন। এই ছবিরই ট্রেলার ও গান মুক্তি পেল। উপস্থিত ছিলেন ছবির কলাকুশলীরা। ছবির পোস্টার অনুযায়ী আরও একবার মৃত্যু হার মানবে ভালবাসার কাছে। দুই স্কুল পড়ুয়ার ভালোবাসার গল্প খুব সুন্দরভাবে তুলে ধরেছেন পরিচালক।এই ছবিতে আর্যর চরিত্রের নাম বান্টি ঋত্বিকার নাম কুহু। টলিউড এই ছবির মাধ্যমে নতুন জুটি খুঁজে পেয়েছে। গল্প অনুযায়ী বান্টি আর কুহু পড়শি। দুজনের স্কুলও আলাদা। আর্থিক সচ্ছলতাও সমান নয়। এত পার্থক্যের মধ্যেও প্রেমে পড়ে তারা। যদিও এই প্রেম শুরুতে একতরফা। বান্টি প্রথম দেখাতেই ভালবেসে ফেলে কুহুকে। বেশ কিছু দিন কাটার পর কুহুকে সে জানায় সবটা। অবাক কুহু এক কথায় নাকচ করে দেয় বান্টিকে। কিন্তু আস্তে আস্তে ভাল লেগে যায় তারও। প্রেমের রঙিন দিনগুলো যখন চোখের পলকে উড়ে যাচ্ছে তখনই বজ্রপাত। কুহুর ধনী বাবা সব জেনে ঢাল হয়ে দাঁড়ান। বান্টি-কুহু কি এক হতে পারবে? এটার উত্তর পেতে প্রথম বারের প্রথম দেখা তে চোখ রাখতে হবে। পরিচালক তার প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্যর ছবি নিয়ে অনেকটাই আশাবাদী যে ছবিটি দর্শকদের মন ছুঁয়ে যাবে।

জুন ২৩, ২০২২
বিনোদুনিয়া

কলকাতায় 'যুগ যুগ জিও'-র প্রচারে বরুণ-কিয়ারা, শহরবাসীর মধ্যে উন্মাদনা

সিটি অফ জয়কে আরো আনন্দময় করে তুললেন কিয়ারা আডবাণী ও বরুণ ধাওয়ান। ধর্মা প্রোডাকশনের আসন্ন ছবি যুগ যুগ জিওর প্রচারে এসে সকলের মন জিতে নিলেন দুই বলিউড তারকা। আগামী ২৪ জুন বড়পর্দায় মুক্তি পাচ্ছে রাজ মেহেতা পরিচালিত যুগ যুগ জিও।এই ছবিতে মুখ্য চরিত্রে রয়েছেন বরুণ ধাওয়ান ও কিয়ারা আদবানী। সিনেমায় কিয়ারা-বরুণ ছাড়াও গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন অনিল কাপুর, নিতু কাপুর। দুই বর্ষীয়ান অভিনেতা ও অভিনেত্রীকে দেখা যাবে বরুণ ধাওয়ানের বাবা ও মায়ের ভূমিকায়। ছবির প্রচারের জন্য ইতিমধ্যেই দেশের বিভিন্ন শহরেই পৌঁছে গেছেন তাঁরা। এবার পা রাখলেন তিলোত্তমায়। কলকাতায় পা রেখেই জমজমাট প্রচারের মাঝে প্রাণ খুলে মজা করেছেন কিয়ারা-বরুণ। ভিক্টোরিয়ার সামনে হলুদ ট্যাক্সিতে ভ্রমণ থেকে শুরু করে ফ্লুরিসে ঢুঁ মারা, সবকিছুই করলেন তারা। ধর্মা প্রোডাকশনের তরফে আইটিসি রয়্যাল বেঙ্গলে একটি সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানেই ঘোষণা করা হয়, সিনেমা মুক্তি পাওয়ার তিনদিন আগে থেকেই শুরু হচ্ছে বুকিং। অগ্রিম টিকিট বুকিং করার সুযোগ পাবেন দর্শকরা। এই সিনেমার মূল গল্প সম্পর্কের বোঝাপড়াকে কেন্দ্র করেই। মজার ছলেই জীবনের অনেক জটিল সমস্যা ও তার সমাধানকে তুলে ধরা হয়েছে। সিনেমাটি প্রতিটা মানুষের কাছেই একটা বার্তা পৌঁছে দেবে বলে আশাবাদী নির্মাতারা। এদিন সাংবাদিক সম্মেলনে বেশ খোশমেজাজেই পাওয়া গেল দুই তারকাকে। বরুণ ধাওয়ানের মুখে শোনা গেল কলকাতার জনপ্রিয় মিষ্টি দই এর কথা। কলকাতা যে তার কাছে খুব স্পেশাল সেটাও জানালেন।

জুন ২২, ২০২২
নিবন্ধ

কাজল কথা (ছোটো গল্প)

শোভন দুরুদুরু বুকে নিজের কার্ডটি বের করে দিল ম্যাডামের ঘরের সামনে বসে থাকা দিবাকর কে। এই অফিসে যাতায়াত করতে করতে অনেকের সঙ্গেই পরিচিত শোভন। এই ঘরে বহুবার ঢুকেছে কিন্তু নতুন এই ম্যাডাম আসার পর এই প্রথম এসেছে পরিচয় করতে এবং কাজের কথা বলতে। দিবাকর বাইরে এসে ওকে যেতে বলায় দরজা ঠেলে আসতে পারি বলে মুখ বাড়ায় শোভন। আসুন, বলে বিশাল ঘরের মাঝে বড় একটি টেবিলের ওপারে দরজার দিকে পিছু ফিরে বসে থাকা ম্যাডাম। শোভন ভিতরে ঢুকে টেবিলের সামনে দাঁড়াতে সামনে ঘুরে বসুন বলতেই শোভন ম্যাডাম কে দেখে থতমত খেয়ে যায়। কি হলো বসুন। না মানে হ্যাঁ বসছি,বলে শোভন কোনোরকমে বসে। মনে মনে ভাবে এ কাকে দেখছে! এ তো ওর কলেজের বন্ধু দেবায়নের বোন কাজল। ও ঠিকই অনুমান করছিল। তবুও মনে একটু হলেও আশা ছিল যে নাও হতে পারে। কিন্তু সে আশা তো একদমই ভুল! ও এতো বড়ো পজিশন অ্যাচিভ করলো কীভাবে? এইসব সাত পাঁচ ভাবছে তখনই ম্যাডাম বলে উঠলেন বলুন আপনার জন্য কি করতে পারি? শোভন ভুলেই গেছিল যে ও একটা ফুলের তোড়া নিয়ে এসেছে। ম্যাডামের কথায় সম্বিত ফিরে পেয়ে আবার উঠে দাঁড়িয়ে ম্যাডামের দিকে তোড়া টা বাড়িয়ে দিয়ে বলল ওয়েলকাম ম্যাডাম। এই শহরে আপনাকে স্বাগত। এরপর নিজের পরিচয় দিল। এই অফিসের সঙ্গে ওর সম্পর্ক কতদিনের, কিভাবে এখানে কাজ করে সব। কাজের বর্তমান পরিস্থিতি ও বলল। শোভন এও বলে ফেলে যে ওর মা খুব অসুস্থ তাই এই মূহুর্তে ওর টাকার খুব দরকার তাই একটা কাজের খবর পেয়ে ও এসেছে। এতক্ষণ ম্যাডাম সব শুনছিলেন চুপচাপ। শোভন যেন প্রয়োজন থেকে বেশিই বলল। তারপর যখন মনে হলো যে একটু বেশি বলে ফেলেছে সরি, বলে চুপ করে গেল। ও চুপ করে যেতেই ম্যাডাম বললেন ঠিক আছে আমার যখন দরকার হবে আপনার সাথে যোগাযোগ করবো। আপনি আপনার প্রেজেন্টেশন জমা দেবেন পছন্দ হলে নিশ্চয়ই আমাদের সাথে কাজ করবেন। বলে উঠে দাঁড়ালেন আমার একটা জরুরি মিটিং আছে।শোভন বুঝলো এবার বেড়িয়ে যেতে হবে। ও উঠে দাঁড়িয়ে নমস্কার জানিয়ে আজ তাহলে আসি ম্যাডাম বলে বেড়িয়ে গেল। মনে একটা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে কাজল কি চিনতে পারেনি? নাকি চিনতে চায়নি? না চেনা টা যদিও অস্বাভাবিক কিছু নয়। তবুও মনে একটা আশঙ্কা দেখা দিচ্ছে। চিনতে পেরে যদি কাজ টা না দেয়। শোভন নিজের মনেই বলে, যাক যা হয় হবে, যখন হবে দেখা যাবে। শোভন বাইক নিয়ে বেড়িয়ে গেল। সারাদিন নানা কাজে ও মিটিং এ ব্যস্ত থাকায় কাজল সকালের কথা ভুলেই গেছিলো। বাড়ি ফিরে ফ্রেশ হয়ে পিসির হাতে বানানো কফির কাপ নিয়ে ব্যালকনিতে বসে যখন ভাবছে সারা দিন কি কি করলো, তখন ওর শোভনের কথা মনে পড়ে।ও চিনতে পেরেছে শোভন কে। যদিও চেনার কথা নয়। কারন প্রায় পনেরো বছর পর দেখলো। চেহারার অনেক পরিবর্তন হয়েছে, তবুও মুখটা সেরকমই আছে। আর এখনতো সোশ্যাল মিডিয়ায় সবাই থাকে। তাই এই চেহারাটা আগেই ওর দাদার ফ্রেন্ড লিস্ট থেকে দেখেছে।কাজল কফি হাতে ছোটোবেলায় ফিরে গেল।লক্ষ্মীকান্ত পুরে ওদের বাড়ি। বাবা ছিলেন জেলা আদালতে উকিল। শুধু বাবা নয় ওনারা তিন পুরুষ এই পেশার সাথে যুক্ত। শুধু ওর ছোটো কাকা অন্য পথে। ওদের বাড়িতে আর একজন থাকতেন শুভা পিসি। বাবার নিজের বোন নয় কিন্তু তাকে সবাই খুব মেনে চলতেন। কাজলরা তিন ভাই বোন, ওর দাদা বড়ো, তারপর দিদি ও সবার ছোটো। ছোটো হয়েও কাজল মায়ের কাছে সেরকম ভাবে স্নেহ পায়নি শুধুমাত্র ওর গায়ের রঙের জন্য। ওর দিদি, দাদা মায়ের মতোই ফর্সা, সুন্দর; কিন্তু কাজলের গাত্রবর্ণ ওর নামের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। ওর মা তাই যেন ওকে একটু অবহেলাই করত। শুভা পিসির যত্নে আর বাবা, কাকার আদরে কাজল বড়ো হতে লাগল। ছোটবেলা থেকেই তীক্ষ্ণ বুদ্ধিমত্তা ও খেলাধুলায় অসম্ভব ভালো কাজল। আর তার সাথে পেয়েছিল একটা সুন্দর মন। যার জন্য ওকে কেউ ভালো না বেসে থাকতে পারতো না। অথচ নিজের মায়ের কাছেই সেভাবে আদর পায়নি। কাজল ছোটো বেলায় অনেক সময় ভেবেছে ও বোধহয় ওর মায়ের মেয়ে নয়। এইসব কথা আজও ওকে কষ্ট দেয়। এখন যদিও পুরোনো কথা মনে করার সময় বা ইচ্ছা কোনোটাই ওর নেই। আজ হঠাৎ করে শোভন কে দেখেই মন বারবার অতীতে ফিরে যাচ্ছে।তখন ও ক্লাস নাইন, ও তখন শাড়ি। সেবার পূজোতে ওদের বাড়ির পূজো দেখবে বলে ওর দাদা দেবায়নের সাথে শহরের শোভন আসে ওদের বাড়িতে। না তখন কিন্তু শোভন দাদা-ই ছিল বেণীমাধব হয়নি। দাদা তখন কোলকাতায় আইন নিয়ে পড়াশোনা করছে, যদিও শোভন ওই লাইনের ষ্টুডেন্ট নয়। তবুও দাদার সাথে বন্ধুত্ব হয়েছিল।কাজল ছোটো থেকেই শুভা পিসির সাথে পূজোর কাজে সাহায্য করে। সেবার ও করেছে। ও খুব সুন্দর আলপনা দিত। ওর আলপনা দেখে শোভন খুব অবাক হয়েছিল। বলেছিল, এইটুকু একটা মেয়ে এত সুন্দর আলপনা দিতে পারে দেখে আশ্চর্য হয়ে যাচ্ছি।তখনো ও জানত না যে কাজল ওই বাড়িরই মেয়ে। পরে ওর বাবার কথায় বুঝতে পারে। পূজোতে খুব আনন্দ করেছিল। আবার আসবে এই ইচ্ছা প্রকাশ করে সেবার ফিরে যায়। তারপর বেশ কয়েকবার ওদের বাড়িতে আসে নানা উপলক্ষে। আর যখনই এসেছে কাজলের সাথে গ্রামের বিভিন্ন জায়গায় ঘুরেছে। ওর প্রয়োজনে অপ্রয়োজনে কাজলকে ডেকেছে। কাজলের ও বেশ লাগতো শোভনের সাথে সময় কাটাতে। কিন্তু সেটা যে অবচেতন মনে কখন অন্যরকম ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে সেটা বুঝতে পারেনি। যখন বুঝলো তখন কাজলের অবোধ মন ভুলটা করেই বসলো।কাজলের মাধ্যমিক পাশ করার পরে। ওর রেজাল্ট খুব ভালো হয়েছিল জেনে ওর জন্য একটা খুব ভালো পেন উপহার হিসেবে নিয়ে এসেছিল শোভন রথের সময়। কাজলের কিশোরী মন তখনই শোভন কে বেণীমাধব ভেবে ফেললো। ব্যাস--------উফ্ফ কত বড় ভুল করেছিলাম, আপন মনেই বলে ওঠে কাজল সে কথা মনে পড়তে।হ্যাঁ কাজল খুব ভুল করেছিল। ও যে শোভনকে পছন্দ করে সেটা কাজলের কিশোরী মন লুকিয়ে রাখতে পারেনি; ওর খাতার পাতায় সেকথা ফুটে ওঠে। আর সেটা কাজলের দিদি দেবদীপা দেখে ফেলে কোনও ভাবে। তারপর সেটা বিকৃত ভাবে শোভন কে জানায়। স্বাভাবিক ভাবেই শোভন রেগে যায় এবং সবার সামনে কাজলকে অপমান করে। যেটা কাজলকে সবথেকে বেশি আঘাত করে শোভনের বলা একটা কথা আয়নায় কখনো দেখেছিস নিজেকে? ওই রূপ নিয়ে চাঁদ ধরার স্বপ্ন দেখছিসকাজল সেদিন বলার সুযোগ পায়নি যে কথা শোভন শুনেছে সেরকম কোনো কথাই কাজল বলেনি। সব ওর দিদির বানানো। কাজলকে ওর দিদি একদমই সহ্য করতে পারতো না। কারন সুন্দরী হলে কি হবে বুদ্ধি একদমই ছিল না। তাই পড়াশোনায় সবসময় পিছিয়ে থাকত। আর সেটা ছিল ওর দিদির রাগের কারণ।আর তাই যখন দেখতো ওদের বাড়িতে গিয়ে শোভন কাজলকেই বেশি গুরুত্ব দিতে সেটা সহ্য করতে পারলো না। তাই শোভনের চোখে কাজলকে ছোটো করতে ওর দিদি শোভন কে উল্টোপাল্টা বলে।শোভন কাজলের দিদির কথাকে বিশ্বাস করে এবং কাজলকে অপমান করে। শুধুমাত্র শুভা পিসি বোঝেন আসলে কি হয়েছিল। তাই তিনি সেসময় কাজলকে আগলে রেখেছিলেন মায়ের মতো। ওর মা তো এমনিতেই ওকে খুব একটা ভালো চোখে দেখতেন না। বাবা ও দিদির কথায় ভুল বুঝে বকাঝকা করেন।কাজলের তখন মনে হয়েছিল এ জীবন রাখবে না। কিন্তু শুভা পিসি ওকে বুকে করে আগলে রেখেছিলেন এবং বুঝিয়ে ছিলেন একমাত্র পথ হচ্ছে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করে সবাইকে দেখিয়ে দেওয়া যে রূপটাই সব নয়। তারপর কাজল আর কোনো দিকে তাকায় নি। ওর বাবা অবশ্য পরে বুঝতে পারেন যে উনি মেয়েক ভুল বুঝে ছিলেন। বাবা আর পিসির তত্তাবধানে কাজল এগিয়ে যেতে থাকে।কমার্স নিয়ে মাস্টার্স করার পর এম বি এ করে। তারপর এত বড়ো কোম্পানিতে জয়েন করে। পাঁচ বছরের মধ্যেই কোম্পানির গুরুত্বপূর্ণ পদে উন্নীত হয়। সম্পূর্ণ নিজের যোগ্যতা আর অধ্যবসায়ের ফলে আজ কাজল এখানে পৌঁছায়।কর্মজীবনের পাশাপাশি ব্যক্তি জীবনেও কাজল আজ অনেক কিছু করতে পেরেছে। যে মায়ের অবহেলা ওকে ক্ষতবিক্ষত করেছে একসময় আজ সেই মা-ও ওর কাছেই আছেন। দাদা দিদি কেউই মায়ের দায়িত্ব নেয়নি। ও যে বছর চাকরি পায় সেই বছরই বাবা হঠাৎ বিনা নোটিশে পরলোকে পাড়ি দেন। মায়ের হঠাৎ শরীর অসুস্থ হয়ে পড়ে। কাজল তখন ব্যঙ্গালোরে। ও মাকে নিজের কাছে নিয়ে যায় এবং চিকিৎসা করায়। আজ পাঁচ বছর পর কোলকাতা ফিরে ও মা আর পিসিকে নিজের কাছে নিয়ে আসে।আজ কাজল ভাবে ঈশ্বরের কি খেলা, যারা একদিন আমাকে অবহেলা অপমান করেছে আজ সবাই একে একে তারই কাছে! কাজল ঠিক করে শোভনকে কাজটা দেবে। ওর মনে তো সত্যিই কোনো রাগ কোনও দিন ছিল না। ও মনে করে সেদিন ওই ঘটনার সম্মুখীন না হলে হয়তো বা আজকের কাজল ও হত না। সেদিক থেকে বিচার করলে শোভনের কাছে ও ঋণী। ঋণ শোধ করার এই সুযোগ ও ছাড়তে চায় না; এই ভাবে ভাবতে শিখিয়ে ছিলেন বাবা। আজ তাই আকাশের দিকে তাকিয়ে কাজল বাবার উদ্দেশ্যে বলে আমি তোমার মতো করে ভাবতে শিখেছি বাবা,আজ আমি খুব সুখী।শ্রীমতী রাখি রায়

জুন ১৯, ২০২২
বিনোদুনিয়া

বাবা-মেয়ের গল্প, মুক্তি পেল প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের 'আয় খুকু আয়'

মুক্তি পেল প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের বহু প্রতীক্ষিত ছবি আয় খুকু আয়। পরিচালক সৌভিক কুন্ডু তাঁর ছবি আয় খুকু আয় তে বাবা মেয়ের গল্পকে তুলে ধরেছেন। বাবার চরিত্রে রয়েছেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় এবং মেয়ের চরিত্রে রয়েছেন দিতিপ্রিয়া রায়।আয় খুকু আয় সিনেমায় দিতিপ্রিয়ার নাম বুড়ি আর ওর বাবা নির্মল। এই নির্মল আবার প্রসেনজিতের বড় ভক্ত। স্টেজে প্রসেনজিত হয়ে লোকের মনোরঞ্জন করেন। অন্যদিকে একা হাতে মেয়েকে মানুষ করে। তবে মেয়ের সঙ্গে মতের অমিল হয় যখন সে বলে বাবার মতোই স্টেজে উঠে সে পারফর্ম করতে চায়। রাজি হয় না নির্মল। আর এসবের মাঝেই খুকুর সঙ্গে ঘটে যায় দুর্ঘটনা। আর তখনই সাদামাটা নির্মলের খোলস ছেড়ে বেড়িয়ে আসে প্রতিবাদী বাবা। দোষীদের শাস্তি দেওয়াই যার একমাত্র লক্ষ্য। ছোট থেকে বড় সবাই ছবিটির সঙ্গে নিজেদের রিলেট করতে পারবেন।বাবা ও মেয়ের গল্প।#AayKhukuAay trailer out now: https://t.co/gF9bUtmlLw@jeet30 @roy_ditipriya02 @rafiath_rashid @RahulDevBose @ranajoybh @savvygupta @Sauvik_montage @Jeetzfilmworks @GRASSROOTENT @gopalmadnani @amitjumrani pic.twitter.com/srYdNnBFrL Prosenjit Chatterjee (@prosenjitbumba) May 22, 2022আয় খুকু আয় এর প্রিমিয়ারে উপস্থিত ছিলেন ছবির কলাকুশলীরা। এছাড়া হাজির হন পরিচালক রাজ চক্রবর্তী, অভিনেতা জিৎ সহ অন্যান্য কলাকুশলীরা।প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় প্রিমিয়ারে জানালেন, আমার একটা বড় দর্শক যাদের জন্য দীর্ঘদিন ছবি করিনি তারাও ছবিটার সঙ্গে রিলেট করতে পারছে বলে আমার ধারণা। এই নিয়ে আমি প্রচুর কমেন্ট ও পাচ্ছি।

জুন ১৮, ২০২২
বিনোদুনিয়া

মুক্তি পেল নিধনের ট্রেলার ও পোস্টার

নিধনের ট্রেলার এবং পোস্টার লঞ্চ হয়ে গেল কলকাতার একটি হোটেলে। উপস্থিত ছিলেন ছবির অভিনেতা অভিনেত্রী রুপসা এবং ঋতুপর্ণা।অভিষেক ব্যানার্জি এই সিনেমায় অভিনয় করেছেন। কিন্তু ছবিটি মুক্তির আগেই তিনি মারা যান। তাই তাঁকে শ্রদ্ধা জানিয়ে তার জন্য প্রথমে একটি স্মরণ সভা হয়।প্রোগ্রাম শুরুর প্রথমে পোস্টার লঞ্চ করা হয় এবং পরবর্তীতে ট্রেলার দেখানো হয়। ছবির প্রত্যেকে অভিষেক ব্যানার্জি কে নিয়ে তাদের নিজস্ব মতামত জানান এবং ছবিটি করে তাদের কেমন লেগেছে সেটা জানান।এই ছবিতে এক ভিন্ন চরিত্রে দেখা যাবে অভিনেত্রী রুপসা মুখোপাধ্যায়কে। রুপসার চরিত্রের নাম রাধা। যার একটি পা নেই। দুর্ঘটনায় হারিয়ে ফেলে এক পা। জীবনের এক অন্তদন্দ্ব তুলে ধরেছে এই ছবি। ছবির প্রতিটি ছন্দে রয়েছে সাসপেন্স ও রহস্য।পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছেন পরিচালক সঞ্জয় দাস। ছবিতে রুপসা মুখোপাধ্যায় এর বিপরীতে অভিনয় করছেন অভিনেতা মিত দাস। এছাড়া ছবিতে অন্যান্য চরিত্রে দেখা যাবে রজতাভ দত্ত, সুপ্রিয় দত্ত, সোমা চক্রবর্তী, ভরত কল প্রমুখ অভিনেতাদের।পরিচালক সঞ্জয় দাস জানিয়েছেন এটি তার দ্বিতীয় ছবি। ছবিটিতে দর্শককে একটি ভিন্ন ঘরানার গল্প উপহার দেওয়া হবে। একটি মার্ডারকে নিয়ে এই গল্প। কিন্ত গল্প যত এগোতে থাকবে তত সাসপেন্স বাড়তে থাকবে। কিন্ত অবশেষে রাধার জীবনের পরিণতি কি হবে? পুরোটাই জানা যাবে নিধন ছবিটি দেখলে।

জুন ০৫, ২০২২
বিনোদুনিয়া

হাস্যরসের ছবি টাকার রং কালো'

মেসার্স প্রশান্ত সাহানা নিবেদিত, বিলাস ফাউন্ডেশন প্রযোজিত, কল্যাণ সরকারের হাস্যকৌতুক ছবি টাকার রং কালো র ট্রেলার ও মিউজিক লঞ্চ হয়ে গেল বেঙ্গল লাউঞ্জে (ভি আই পি রোড)। ট্রেলার ও মিউজিক লঞ্চের এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ছবির কলাকুশলীরা। উপস্থিত ছিলেন ছবির সঙ্গীতশিল্পী কুমার শানু, সঙ্গীত পরিচালক অশোক ভদ্র, ছবির অভিনেতা অমিতাভ ভট্টাচার্য, দেবাশিস গাঙ্গুলী, ছবির পরিচালক কল্যাণ সরকার সহ আরো অনেকে। ছবির বিষয়ে পরিচালক জানালেন, আমাদের এই ছবি সাহিত্যিক সুনীল চক্রবর্তীর প্রখ্যাত সমনামী নাটক থেকে নির্মিত। ছবির চিত্রনাট্য লিখেছেন সুনীল চক্রবর্তীর সুযোগ্য পুত্র পার্থ চক্রবর্তী। এক প্রতিপত্তিশালী অসাধু ব্যবসায়ীর টাকার প্রতি প্রবল লোভ, এবং সেই অর্থ চুরি হওয়াতে তার পারিপার্শ্বিক জুড়ে ঘটে যাওয়া ঘটনা আমাদের এই হাস্যরসের ছবির মূল উপজীব্য। সমাজের অনেক গভীর সত্যি এই ছবি তুলে ধরবে অচিরেই। অন্যদিকে ছবির সঙ্গীতশিল্পী এবং গানের জগতে কিংবদন্তী কুমার শানু জানালেন, অনেক দিন পর বাংলা ছবিতে এত মেলোডিয়াস একটা কাজ করলাম। সঙ্গীত পরিচালক অশোক ভদ্র যে সুর এই ছবির গানে ব্যবহার করেছে তা সকলের মন ছুঁয়ে যাবে। গানে সহজ সুরের মায়া আমাকে সবসময় আকর্ষণ করে। আমার সকলের কাছে অনুরোধ আপনারা এই ছবি অবশ্যই দেখুন, কল্যাণ সরকার বর্তমানে বাংলা ছবির সংকটের সময় একটা দুর্দান্ত ছবি তৈরি করেছে।বাংলা ছবির পাশে থাকুন।

মে ২৭, ২০২২
  • ‹
  • 1
  • 2
  • 3
  • 4
  • ›

ট্রেন্ডিং

রাজনীতি

জেল থেকে ফিরেই হুমকির অভিযোগ! আমোদপুরে তৃণমূল নেতাকে দড়ি বেঁধে ঘোরালেন স্থানীয়রা

বীরভূমের সাঁইথিয়া থানার আমোদপুরে এক তৃণমূল নেতাকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়াল। জামিনে জেল থেকে মুক্তি পাওয়ার পর ফের বিভিন্ন জনকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগে তাঁকে কোমরে দড়ি বেঁধে এলাকায় ঘোরানোর পর পুলিশের হাতে তুলে দিলেন স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ। অভিযুক্তের নাম তাহিরুল শেখ। তিনি সাঁইথিয়া ব্লকের ভ্রমরকোল অঞ্চলের প্রাক্তন তৃণমূল সভাপতি। ঘটনার খবর পেয়ে আমোদপুর ফাঁড়ির পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে।ঘটনার সূত্রপাত সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনের দিন। অভিযোগ, ওই দিন ভ্রমরকোল অঞ্চলের ৬৮ নম্বর বুথে বিজেপির নির্বাচিত বিধায়ক দেবাশিস ওঝার ছেলে, নির্বাচনী এজেন্ট বিশ্বজিৎ মণ্ডলসহ বিজেপির কয়েকজন নেতাকে মারধর করা হয়েছিল। এই ঘটনায় তৃণমূল নেতা তাহিরুল শেখের নাম জড়ায়। বিজেপির অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে। প্রায় দুমাস আগে জামিনে মুক্তি পান তিনি।বিজেপির অভিযোগ, জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর ফের দলের কর্মীদের হুমকি দিতে শুরু করেন তাহিরুল। রবিবার বেলার দিকে তিনি আমোদপুর লাগোয়া ঈশ্বরপুর গ্রামে প্রাক্তন পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি প্রশান্ত সাধুর বাড়িতে যান। সেই খবর পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ তাঁকে ধরে কোমরে দড়ি বেঁধে আমোদপুর বাজার এলাকায় ঘোরান। পরে তাঁকে স্থানীয় পুলিশ ফাঁড়ির হাতে তুলে দেওয়া হয়।বিজেপির ভ্রমরকোল মণ্ডল সভাপতি সুদীপ ঘোষের দাবি, ভোটের দিন তাহিরুলের নেতৃত্বে তাঁদের দলের নেতা-কর্মীদের মারধর করা হয়েছিল। তাঁদের প্রাণে মেরে ফেলারও চেষ্টা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর আরও দাবি, জামিনে মুক্তির পর ফের বিজেপি কর্মীদের হুমকি দিচ্ছিলেন ওই তৃণমূল নেতা। সেই খবর পেয়েই স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে তাঁরা তাঁকে পুলিশের হাতে তুলে দেন। অন্যদিকে, তৃণমূলের সংখ্যালঘু সেলের প্রাক্তন ব্লক সভাপতি মহম্মদ ইউনুসের বক্তব্য, বিজেপি অনেক জায়গাতেই পুলিশের মদতে মিথ্যা অভিযোগ তুলে তৃণমূল নেতা-কর্মীদের হেনস্থা করছে। তবে আমোদপুরের এই নির্দিষ্ট ঘটনা সম্পর্কে তিনি কিছু জানেন না বলে জানিয়েছেন।বিজেপির বীরভূম সাংগঠনিক জেলার সভাপতি উদয় শঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ভোটের দিন বিজেপি নেতাদের মাথা ফাটানোর অভিযোগের জেরেই তাহিরুল জনরোষের মুখে পড়েছেন। যদিও এই ঘটনার সঙ্গে বিজেপির কোনও যোগ নেই বলে দাবি করেছেন তিনি। একই সঙ্গে অভিযুক্ত নেতার কঠোর শাস্তির দাবিও জানিয়েছেন। আমোদপুরের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। তবে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ এবং ঘটনার নেপথ্যের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে পুলিশের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই নজর রয়েছে।

অক্টোবর ২৫, ২০২৬
রাজ্য

রং-তুলিতে সমাজের মুখ আঁকা থামল! প্রয়াত প্রখ্যাত চিত্রকর যোগেন চৌধুরী, বয়স ৮৭

ব্লাড ক্যানসারের সঙ্গে ১৪ মাসের লড়াই, সঙ্গে মূত্রনালির সংক্রমণকলকাতার হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস শিল্পীর। চিত্রকলার পাশাপাশি রাজনীতির ময়দানেও রেখেছিলেন স্বতন্ত্র ছাপ।বাংলার শিল্পজগতে নেমে এল শোকের ছায়া। প্রয়াত প্রখ্যাত চিত্রকর যোগেন চৌধুরী। রবিবার সকালে কলকাতার একটি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৭ বছর। দীর্ঘদিন ধরে বিরল ধরনের ব্লাড ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করছিলেন এই বিশিষ্ট শিল্পী। তার উপর মূত্রনালির সংক্রমণ এবং শারীরিক নানা জটিলতা ক্রমশ তাঁর অবস্থাকে সংকটজনক করে তোলে। তাঁর প্রয়াণে ভারতীয় চিত্রকলার জগতে এক অপূরণীয় শূন্যতার সৃষ্টি হল।হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় ১৪ মাস ধরে মাইলোপ্রোলিফেরেটিভ নিওপ্লাজম নামে এক ধরনের রক্তের ক্যানসারে আক্রান্ত ছিলেন যোগেন চৌধুরী। চলছিল কেমোথেরাপিও। শারীরিক অসুস্থতা বাড়তে থাকায় দুর্গাপুজোর ষষ্ঠীর দিন তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে তাঁর অবস্থা ছিল অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। সংক্রমণের কারণে সেপসিসের উপসর্গ দেখা দেওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। শনিবার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে ভেন্টিলেশনে রাখা হয়। চিকিৎসকদের সমস্ত প্রচেষ্টা সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর সঙ্গে লড়াইয়ে হার মানেন বর্ষীয়ান শিল্পী।ফরিদপুর থেকে কলকাতা, শিল্পী হয়ে ওঠার দীর্ঘ যাত্রা১৯৩৯ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি অবিভক্ত বাংলার ফরিদপুরের দাহারপাড়া গ্রামে জন্ম যোগেন চৌধুরীর। ছোটবেলা থেকেই ছবি আঁকার প্রতি তাঁর বিশেষ আকর্ষণ ছিল। পরিবারের পরিবেশও তাঁর শিল্পীসত্তার বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিল। তাঁর মা সুন্দর আল্পনা আঁকতেন। মায়ের সেই শিল্পচর্চা ছোট্ট যোগেনের মনে ছবি আঁকার প্রতি আগ্রহ তৈরি করেছিল।দেশভাগের সময় পরিবারের সঙ্গে কলকাতায় চলে আসেন তিনি। এই শহরেই শুরু হয় তাঁর প্রাতিষ্ঠানিক শিল্পশিক্ষা। কলকাতার গভর্নমেন্ট কলেজ অফ আর্ট অ্যান্ড ক্রাফ্টে পড়াশোনা করেন তিনি। শিল্পশিক্ষা শেষ করে হাওড়া জেলা স্কুলে অঙ্কন শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেছিলেন। পরে ১৯৬২ সালে কলকাতার হ্যান্ডলুম বোর্ডে ডিজাইনার হিসেবে যোগ দেন। শিল্পচর্চার পাশাপাশি পেশাগত জীবনেও নিজের দক্ষতার পরিচয় দেন তিনি।উচ্চশিক্ষার জন্য ১৯৬৫ সালে প্যারিসে পাড়ি দেন যোগেন চৌধুরী। ইউরোপীয় শিল্পধারার সঙ্গে তাঁর পরিচয় আরও গভীর হয় সেই সময়। ভারতীয় শিল্পের ঐতিহ্য এবং পাশ্চাত্যের আধুনিক শিল্পভাবনার সংমিশ্রণ তাঁর কাজকে স্বতন্ত্র মাত্রা দিয়েছিল। পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্রপতি ভবনের আর্ট গ্যালারির কিউরেটর হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি।ব্যঙ্গ, সমাজ ও রাজনীতিক্যানভাসে ধরা পড়ত সময়ের ছবিযোগেন চৌধুরীর শিল্পকর্মের অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল সমাজ ও রাজনীতির নানা অসংগতি তুলে ধরার ক্ষমতা। তাঁর ছবিতে কেবল রং, রেখা কিংবা অবয়বের প্রকাশ ঘটত না; ফুটে উঠত সমকালীন সমাজের নানা প্রশ্ন, দ্বন্দ্ব ও বাস্তবতা। ব্যঙ্গাত্মক উপস্থাপনার মাধ্যমে তিনি সমাজের অসংগতিগুলিকে শিল্পের ভাষায় প্রকাশ করতেন। সেই স্বতন্ত্র দৃষ্টিভঙ্গিই তাঁকে ভারতীয় চিত্রকলার জগতে বিশেষ পরিচিতি এনে দেয়।ভারতীয় ঐতিহ্য এবং ইউরোপীয় আধুনিক শিল্প আন্দোলনের প্রভাব তাঁর কাজে লক্ষ করা যায়। তবে প্রভাবের মধ্যেও নিজস্ব শিল্পভাষা নির্মাণ করেছিলেন তিনি। তাঁর সৃষ্টিতে মানুষের অবয়ব, অভিব্যক্তি এবং সামাজিক বাস্তবতা বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। দেশ-বিদেশে তাঁর শিল্পকর্ম প্রশংসিত হয়েছে এবং বিভিন্ন সম্মানেও ভূষিত হয়েছেন তিনি।দুর্গাপুজোর শিল্পভাবনাতেও ছিল তাঁর ছোঁয়াক্যানভাসের বাইরেও বাংলার শিল্প ও সংস্কৃতির সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত ছিলেন যোগেন চৌধুরী। বিভিন্ন সময়ে একাধিক দুর্গাপুজোর থিম এবং প্রতিমা-ভাবনার সঙ্গে যুক্ত হয়েছিলেন তিনি। ২০১৭ সালে বেহালা নূতন দল দুর্গাপুজোর প্রতিমার স্কেচ তৈরি করেছিলেন এই শিল্পী। পরের বছর ঠাকুরপুকুর স্টেট ব্যাঙ্ক পার্ক সর্বজনীনের দুর্গাপ্রতিমার চালচিত্রের নকশাতেও তাঁর শিল্পভাবনার প্রতিফলন ঘটেছিল।বাংলার দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে শিল্পের যে বিস্তৃত পরিসর তৈরি হয়েছে, সেখানে তাঁর অংশগ্রহণ ছিল উল্লেখযোগ্য। প্রথাগত শিল্পচর্চা থেকে জনপরিসরের শিল্পবিভিন্ন ক্ষেত্রেই নিজের সৃজনশীলতার পরিচয় রেখেছিলেন তিনি।শিল্পের পাশাপাশি রাজনীতির ময়দানেওচিত্রকর হিসেবে পরিচিতির পাশাপাশি সক্রিয় রাজনৈতিক জীবনও ছিল যোগেন চৌধুরীর। ২০১৪ সালে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী হিসেবে রাজ্যসভার সাংসদ নির্বাচিত হন তিনি। ২০২০ সাল পর্যন্ত সাংসদ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। শিল্প ও সংস্কৃতির জগতের সঙ্গে যুক্ত একজন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বের সংসদীয় রাজনীতিতে উপস্থিতি তাঁকে অন্য পরিচিতিও দিয়েছিল।তবে তাঁর দীর্ঘ জীবনের সবচেয়ে বড় পরিচয় হয়ে থাকবে শিল্পচর্চা। রং, রেখা ও ব্যঙ্গের মাধ্যমে সমাজকে দেখার যে নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি তিনি তৈরি করেছিলেন, তা ভারতীয় আধুনিক চিত্রকলার ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।যোগেন চৌধুরীর প্রয়াণে হারালেন বাংলা তথা ভারতের শিল্পজগতের এক বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব। তাঁর সৃষ্টি, শিল্পভাবনা এবং সমাজকে দেখার স্বতন্ত্র দৃষ্টিভঙ্গি আগামী দিনেও শিল্পপ্রেমীদের কাছে প্রাসঙ্গিক থাকবে। মানুষটি চলে গেলেন, কিন্তু ক্যানভাসে রেখে গেলেন সময়, সমাজ ও মানুষের বহু না-বলা কথার চিহ্ন।

অক্টোবর ২৫, ২০২৬
দেশ

হস্টেলে আত্মহত্যা রুখতে বিশেষ ফ্যান! অতিরিক্ত ওজন পড়লেই খুলে যাবে, বিদ্যুৎ সংযোগও বিচ্ছিন্ন

সুরাট: পড়ুয়াদের নিরাপত্তায় অভিনব উদ্যোগ বীর নর্মদ দক্ষিণ গুজরাট বিশ্ববিদ্যালয়েরছাত্রছাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হস্টেলের ঘরে বিশেষ প্রযুক্তির সিলিং ফ্যান বসাল গুজরাটের সুরাটের বীর নর্মদ দক্ষিণ গুজরাট বিশ্ববিদ্যালয় (Veer Narmad South Gujarat University)। আত্মহত্যার ঝুঁকি কমানোর উদ্দেশ্যে তৈরি এই বিশেষ ফ্যানের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে একটি স্প্রিং মেকানিজম। ফ্যানে অতিরিক্ত ওজন পড়লে সেটি খুলে নীচে নেমে আসবে এবং একই সঙ্গে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। ফলে ফ্যানকে আত্মহত্যার কাজে ব্যবহার করা কঠিন হবে বলে মনে করা হচ্ছে।বিশ্ববিদ্যালয়ের হস্টেলগুলিতে পড়ুয়াদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যেই এই উদ্যোগ যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। সাধারণ সিলিং ফ্যানের পরিবর্তে বিশেষ ব্যবস্থাযুক্ত এই ফ্যান ব্যবহারের মূল লক্ষ্য হল, কোনও পড়ুয়া চরম মানসিক সংকটের মুহূর্তে আত্মহত্যার চেষ্টা করলে সেই ঝুঁকি কমানো।বিশেষ স্প্রিং ব্যবস্থার কারণে নির্দিষ্ট সীমার বেশি ওজন পড়লে ফ্যানটি তার মাউন্টিং ব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার জন্য তৈরি। এর ফলে বিদ্যুৎ সংযোগও বন্ধ হয়ে যাওয়ার কথা। তবে এই প্রযুক্তি কতটা কার্যকর, তা নির্ভর করবে যন্ত্রটির নকশা, নির্ধারিত ওজনসীমা এবং সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের উপর।#WATCH | Surat, Gujarat | Veer Narmad South Gujarat University installs anti-suicide ceiling fans, with special spring mechanism, in hostels, designed to detach under excessive weight and cut off the power supply. https://t.co/1GM7E91n3K ANI (@ANI) October 24, 2026শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়ুয়াদের মানসিক স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা বর্তমানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। পড়াশোনার চাপ, ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ কিংবা ব্যক্তিগত সমস্যার কারণে অনেক পড়ুয়াই মানসিক সংকটের মধ্যে দিয়ে যান। এমন পরিস্থিতিতে নিরাপদ পরিকাঠামো তৈরির পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্য পরিষেবা, কাউন্সেলিং এবং সময়মতো সহায়তা পাওয়ার ব্যবস্থাও জরুরি।বিশেষ ফ্যান বসানোর এই উদ্যোগ হস্টেলের নিরাপত্তা বাড়ানোর ক্ষেত্রে একটি বিকল্প প্রযুক্তিগত পদক্ষেপ। তবে আত্মহত্যা প্রতিরোধে শুধু পরিকাঠামোগত ব্যবস্থা যথেষ্ট নয়পড়ুয়াদের পাশে থাকা, তাঁদের সমস্যার কথা শোনা এবং প্রয়োজনে দ্রুত পেশাদার সহায়তা পৌঁছে দেওয়াও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

অক্টোবর ২৫, ২০২৬
রাজ্য

বঙ্গোপসাগরে শক্তি বাড়াচ্ছে ‘অর্ণব’! বুধবার কোথায় আছড়ে পড়বে অতি তীব্র ঘূর্ণিঝড়? বাংলায় কোথায় কতটা বৃষ্টি?

দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া নিম্নচাপ ক্রমশ শক্তি বাড়িয়ে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে চলেছে। অভিমুখ বদলে পশ্চিম-উত্তর পশ্চিম দিকে এগিয়ে মঙ্গলবার তীব্র এবং বুধবার অতি তীব্র ঘূর্ণিঝড়ের রূপ নিতে পারে সেটি। অন্ধ্রপ্রদেশের বাপাতলা ও বিশাখাপত্তনমের মধ্যবর্তী উপকূলে আছড়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে বাংলার উপকূলেও বাড়ছে সতর্কতা। দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় ভারী বৃষ্টি এবং সমুদ্রে প্রবল ঝোড়ো হাওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া দফতর।বঙ্গোপসাগরে ক্রমশ ঘনীভূত হচ্ছে ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কা। পূর্ব-মধ্য এবং সংলগ্ন দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া নিম্নচাপটি ইতিমধ্যেই শক্তি সঞ্চয় করতে শুরু করেছে। আবহাওয়ার গতিপ্রকৃতি অনুযায়ী, রবিবারের মধ্যে সেটি গভীর নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে। এর পর অনুকূল পরিস্থিতি বজায় থাকলে সোমবার সকালের মধ্যেই ঘূর্ণিঝড়ের রূপ নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড়টির নাম হতে পারে অর্ণব।আলিপুর আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, নিম্নচাপটির গতিপথে পরিবর্তন আসতে পারে। প্রথমে দক্ষিণ-পূর্ব দিকে এগোলেও পরে সেটি বাঁক নিয়ে পশ্চিম-উত্তর পশ্চিম দিকে অগ্রসর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সমুদ্রের উপর দিয়ে এগোনোর সময় ক্রমশ শক্তি বাড়িয়ে বুধবারের মধ্যে অতি তীব্র ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে সেটি। ফলে আগামী কয়েক দিন বঙ্গোপসাগরের আবহাওয়ার উপর বিশেষ নজর রাখছেন আবহবিদেরা।কোথায় রয়েছে নিম্নচাপ? কোন দিকে এগোচ্ছে?আবহাওয়া দফতরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শনিবার রাত সাড়ে ১১টা নাগাদ নিম্নচাপটির অবস্থান ছিল আন্দামানের শ্রীবিজয়পুরম থেকে প্রায় ৪৭০ কিলোমিটার উত্তর-উত্তর পশ্চিমে। অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তনম থেকে এর দূরত্ব ছিল প্রায় ৮৬০ কিলোমিটার পূর্ব-দক্ষিণ পূর্বে। কাকিনাড়া থেকে প্রায় ৯৫০ কিলোমিটার পূর্ব-দক্ষিণ পূর্বে, মছলিপত্তনম থেকে ১,০৬০ কিলোমিটার পূর্বে এবং বাপাতলা থেকে প্রায় ১,১৩০ কিলোমিটার পূর্বে অবস্থান করছিল নিম্নচাপটি।প্রাথমিক ভাবে ঘণ্টায় প্রায় ৮ কিলোমিটার গতিতে দক্ষিণ-পূর্ব দিকে এগোচ্ছিল সেটি। রবিবার দক্ষিণ দিকে অগ্রসর হওয়ার পর পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগরের উপর গতিপথ বদলে পশ্চিম-উত্তর পশ্চিম দিকে এগোনোর সম্ভাবনা রয়েছে। সোমবার ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার পর মঙ্গলবারের মধ্যে তা তীব্র ঘূর্ণিঝড়ের চেহারা নিতে পারে। পরে আরও শক্তি সঞ্চয় করে অতি তীব্র ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।বুধবার কোথায় আছড়ে পড়তে পারে ঘূর্ণিঝড়?সম্ভাব্য গতিপথের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বুধবার সকালে অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলের কাছাকাছি পৌঁছতে পারে ঘূর্ণিঝড়টি। বাপাতলা ও বিশাখাপত্তনমের মধ্যবর্তী উপকূলীয় অঞ্চলে বুধবার দুপুর নাগাদ স্থলভাগে আছড়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সেই সময় ঝড়ের গতিবেগ ঘণ্টায় ১১৫ থেকে ১২৫ কিলোমিটার হতে পারে। দমকা হাওয়ার সর্বোচ্চ বেগ ঘণ্টায় ১৪০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছতে পারে বলে পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে।তবে ঘূর্ণিঝড়ের নির্দিষ্ট গতিপথ, তীব্রতা এবং স্থলভাগে আছড়ে পড়ার সময় আবহাওয়ার পরবর্তী পরিস্থিতির উপর নির্ভর করবে। তাই চূড়ান্ত ল্যান্ডফলের স্থান ও সময় সম্পর্কে পরবর্তী সরকারি বুলেটিনের দিকে নজর রাখা জরুরি।উত্তাল সমুদ্র, মৎস্যজীবীদের জন্য সতর্কতানিম্নচাপের প্রভাবে ইতিমধ্যেই বঙ্গোপসাগরের বিস্তীর্ণ অংশে আবহাওয়ার অবনতি হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। রবিবার থেকেই সমুদ্রে ঝোড়ো হাওয়ার দাপট বাড়তে পারে। সোমবার ঘূর্ণিঝড় তৈরি হলে হাওয়ার গতিবেগ ঘণ্টায় ৮০ থেকে ১০০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছতে পারে। মঙ্গলবার তীব্র ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে তা ঘণ্টায় ৯০ থেকে ১১০ কিলোমিটার হতে পারে। বুধবার অতি তীব্র ঘূর্ণিঝড়ের সময় হাওয়ার গতিবেগ ঘণ্টায় ১১৫ থেকে ১২৫ কিলোমিটার এবং দমকা হাওয়ার বেগ ১৪০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছনোর আশঙ্কা রয়েছে।এই পরিস্থিতিতে সমুদ্র উত্তাল হয়ে উঠতে পারে। পশ্চিমবঙ্গের উপকূলেও মঙ্গলবার থেকে সতর্কতা জারি থাকার কথা জানানো হয়েছে। মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে না যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যাঁরা ইতিমধ্যে মাছ ধরতে গিয়েছেন, তাঁদের মঙ্গলবারের মধ্যে উপকূলে ফিরে আসতে বলা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের উপকূলবর্তী এলাকায় ঘণ্টায় ৩৫ থেকে ৫৫ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে।বুধবার থেকে দক্ষিণবঙ্গে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাসঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়াতেও পরিবর্তন আসতে পারে। বুধবার ও বৃহস্পতিবার দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রামে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বৃহস্পতিবার পুরুলিয়া ও বাঁকুড়াতেও ভারী বৃষ্টি হতে পারে।কলকাতা, হাওড়া ও হুগলিতে বুধবার এবং বৃহস্পতিবার বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। অন্য দিকে, উত্তর ২৪ পরগনা, পূর্ব বর্ধমান, পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ এবং নদিয়ায় বুধবার থেকে শনিবার পর্যন্ত দফায় দফায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি হতে পারে।অর্থাৎ, উপকূলবর্তী জেলাগুলির পাশাপাশি দক্ষিণবঙ্গের অভ্যন্তরীণ জেলাগুলিতেও ঘূর্ণিঝড়ের পরোক্ষ প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সব জেলায় বৃষ্টির পরিমাণ সমান হবে না। পরিস্থিতি অনুযায়ী সতর্কতার মাত্রা বদলাতে পারে।উত্তরবঙ্গেও কি বাড়বে বৃষ্টি?ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে উত্তরবঙ্গেও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বৃহস্পতিবার থেকে দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি এবং আলিপুরদুয়ারে ভারী বৃষ্টি হতে পারে। উত্তরবঙ্গের অন্য জেলাগুলিতে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে।আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী তিন দিন দুই বঙ্গেই তাপমাত্রার উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই। তার পর তাপমাত্রা ২ থেকে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত কমতে পারে।কলকাতার তাপমাত্রা কত?রবিবার সকালে কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৩.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের তুলনায় ০.৪ ডিগ্রি বেশি। শনিবার শহরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩১.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস, স্বাভাবিকের তুলনায় ০.৫ ডিগ্রি কম।সব মিলিয়ে, বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া নিম্নচাপের পরবর্তী গতিপ্রকৃতিই এখন আবহাওয়াবিদদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলে ঝড়ের আশঙ্কা থাকলেও বাংলার উপকূলেও সতর্কতা প্রয়োজন। বিশেষ করে মৎস্যজীবীদের সরকারি নির্দেশ মেনে চলা এবং উপকূলবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের আবহাওয়া দফতরের সর্বশেষ সতর্কবার্তার দিকে নজর রাখা জরুরি।

অক্টোবর ২৫, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

৩০০তম ম্যাচেই ইতিহাস ভারতের! আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ২০০ জয়ের বিশ্বরেকর্ড, জোড়া মাইলফলকে উজ্জ্বল টিম ইন্ডিয়া

আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে আরও একবার নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করল ভারতীয় ক্রিকেট দল। ৩০০তম আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলতে নেমেই জোড়া মাইলফলক স্পর্শ করল টিম ইন্ডিয়া। একদিকে বিশ্বের দ্বিতীয় দল হিসেবে ৩০০টি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলার নজির, অন্যদিকে প্রথম দল হিসেবে ২০০টি ম্যাচ জয়ের ঐতিহাসিক কৃতিত্ব। নিউ জ়িল্যান্ডের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচে এই দুই সাফল্য ভারতীয় ক্রিকেটের মুকুটে নতুন পালক যোগ করল।শনিবারের ম্যাচটি ভারতের কাছে শুধুমাত্র সিরিজের আর একটি লড়াই ছিল না, বরং আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের পরিসংখ্যানে নিজেদের জায়গা আরও শক্তিশালী করে নেওয়ার গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষও ছিল। টানটান উত্তেজনার এই ম্যাচে শেষ পর্যন্ত এক বল বাকি থাকতে জয় তুলে নেয় ভারত। ফলে মাঠের লড়াইয়ে সাফল্যের পাশাপাশি রেকর্ডের পাতাতেও স্মরণীয় হয়ে থাকল এই ম্যাচ।৩০০টি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ম্যাচ, তালিকায় দ্বিতীয় ভারতছেলেদের আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে দীর্ঘ পথ অতিক্রম করেছে ভারত। নিউ জ়িল্যান্ডের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় ম্যাচটি ছিল এই ফরম্যাটে ভারতীয় দলের ৩০০তম আন্তর্জাতিক ম্যাচ। এর ফলে বিশ্বের দ্বিতীয় দল হিসেবে এই মাইলফলক স্পর্শ করল ভারত।এই তালিকায় এখনও শীর্ষে রয়েছে পাকিস্তান। প্রতিবেশী দেশটি এখনও পর্যন্ত ৩০৪টি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছে। অর্থাৎ, ম্যাচ খেলার সংখ্যার বিচারে পাকিস্তানের থেকে মাত্র চারটি ম্যাচ পিছিয়ে রয়েছে ভারত। অন্যদিকে, শনিবারের ম্যাচের পর নিউ জ়িল্যান্ডের আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ম্যাচের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৬৯।পরিসংখ্যান বলছে, আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ভারত কতটা ধারাবাহিকভাবে নিজেদের উপস্থিতি বজায় রেখেছে। দীর্ঘদিন ধরে এই ফরম্যাটে নিয়মিত অংশগ্রহণের পাশাপাশি সাফল্যের নিরিখেও ভারতীয় দল যে অন্যতম শক্তিশালী প্রতিপক্ষ, তা স্পষ্ট হয়েছে তাদের জয়ের পরিসংখ্যানে।২০০ জয়ের নজির গড়ে বিশ্বের এক নম্বর ভারত৩০০তম ম্যাচে ভারতের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি নিঃসন্দেহে ২০০তম আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি জয়। এই কৃতিত্ব অর্জন করে বিশ্বের প্রথম দল হিসেবে নজির গড়ল ভারত। অর্থাৎ, শুধু ম্যাচ খেলার সংখ্যাতেই নয়, জয় তুলে নেওয়ার ক্ষেত্রেও আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে নতুন ইতিহাস তৈরি করল টিম ইন্ডিয়া।জয়ের পরিসংখ্যানে ভারতের ধারেকাছে আপাতত রয়েছে পাকিস্তান। তারা এখনও পর্যন্ত ১৭৬টি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ম্যাচে জয় পেয়েছে। তালিকার তৃতীয় স্থানে থাকা নিউ জ়িল্যান্ডের জয়ের সংখ্যা ১৩৫। ফলে এই পরিসংখ্যানে ভারতের সঙ্গে অন্য দলগুলির ব্যবধান যথেষ্ট উল্লেখযোগ্য।এই সাফল্য ভারতীয় দলের ধারাবাহিক পারফরম্যান্সেরই প্রতিফলন। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে দ্রুত রান তোলা, চাপের মুখে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা এবং শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ক্ষমতা ভারতকে এই জায়গায় পৌঁছে দিয়েছে।চলতি বছরেও সাফল্যের ধারায় টিম ইন্ডিয়াআন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে চলতি বছরেও ভারতের পারফরম্যান্স নজর কেড়েছে। এখনও পর্যন্ত ৩৭টি ম্যাচ খেলে ২৫টিতে জয় পেয়েছে ভারতীয় দল। ব্যস্ত ক্রিকেট সূচির মধ্যেও এই জয়ের হার দলের ধারাবাহিকতার পরিচয় বহন করছে।অন্যদিকে, পরাজয়ের সংখ্যার নিরিখেও ভারতের রেকর্ড উল্লেখযোগ্য। এখনও পর্যন্ত মাত্র ৮৩টি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ম্যাচে হারতে হয়েছে ভারতকে। এই বিভাগে ভারতের চেয়ে পিছিয়ে রয়েছে একাধিক শক্তিশালী ক্রিকেট খেলিয়ে দেশ।ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া, দুই দলই ৯২টি করে ম্যাচে পরাজিত হয়েছে। ফলে এই তালিকায় তারা যুগ্মভাবে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকার পরাজয়ের সংখ্যা ১০১।রেকর্ডের সঙ্গে শেষ বল পর্যন্ত লড়াইনজির গড়ার ম্যাচে ভারতীয় দলের জয়ও এসেছে যথেষ্ট লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে। নিউ জ়িল্যান্ডের বিরুদ্ধে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পর এক বল বাকি থাকতে জয় নিশ্চিত করে ভারত। ফলে ম্যাচের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত উত্তেজনা বজায় ছিল।আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ৩০০ ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা এবং ২০০ জয়ের সাফল্যদুইয়ের মেলবন্ধন ভারতীয় ক্রিকেটের শক্তির পরিচয় দিচ্ছে। এই ফরম্যাটে বিশ্বের প্রথম দল হিসেবে ২০০ জয়ের মাইলফলক স্পর্শ করা নিঃসন্দেহে বড় কৃতিত্ব।সব মিলিয়ে, নিউ জ়িল্যান্ডের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচটি ভারতের কাছে হয়ে থাকল দ্বিগুণ আনন্দের উপলক্ষ। একদিকে মাঠে জয়, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ইতিহাসে নতুন অধ্যায়। পরিসংখ্যানের নিরিখে ভারত যে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের অন্যতম প্রধান শক্তি, ৩০০তম ম্যাচে ২০০ জয়ের নজির সেই দাবিকেই আরও জোরালো করল।

অক্টোবর ২৫, ২০২৬
রাজ্য

ষষ্ঠী থেকে লক্ষ্মীপুজো পর্যন্ত ছুটিতে ইতি! সরকারি হাসপাতালের কর্মীদের জন্য বড় ঘোষণা স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বতের

২০২৭ সালের দুর্গাপুজো থেকে বদলাতে চলেছে সরকারি হাসপাতালের ছুটির রীতি। সপ্তমী থেকে দশমী পর্যন্ত বিশেষ রোস্টার, অর্ধেক থাকবেন অ-চিকিৎসক কর্মী। চিকিৎসক ও নার্সদের থাকতে হবে প্রয়োজন অনুযায়ী ডিউটিতে।কলকাতা: দুর্গাপুজোর ষষ্ঠী থেকে কোজাগরী লক্ষ্মীপুজো পর্যন্ত টানা ছুটি বা ছুটি-ছুটি মেজাজের দিন শেষ হতে চলেছে রাজ্যের সরকারি হাসপাতালগুলিতে। স্বাধীনতার পর থেকে চলে আসা দীর্ঘদিনের এক অলিখিত রীতিতে এবার ইতি টানার কথা ঘোষণা করলেন রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। আগামী বছর থেকে পুজোর ছুটিতে হাসপাতালের পরিষেবা স্বাভাবিক রাখতে আরও কড়া পদক্ষেপ করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। স্বাস্থ্য পরিষেবার মতো জরুরি ক্ষেত্রে দীর্ঘ ছুটির প্রচলিত ধারণা বদলানোই সরকারের লক্ষ্য।শুক্রবার, বিজয়া দশমীর পর দ্বাদশীর দিন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, অন্যান্য সরকারি দফতরের সঙ্গে স্বাস্থ্য দফতরের কাজের মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। সরকারি অফিসে ছুটির প্রভাব এক রকম হলেও হাসপাতালের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ আলাদা। সেখানে রোগীর চিকিৎসা, জরুরি বিভাগ এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় পরিষেবা কোনওভাবেই বন্ধ রাখা যায় না। তাই পুজোর সময়েও পর্যাপ্ত কর্মী নিয়ে হাসপাতাল চালু রাখার উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, ১৯৪৭ সালের পর থেকে রাজ্যে কার্যত একটি অলিখিত রীতি চলে আসছিল। ষষ্ঠী থেকেই সরকারি দফতরগুলিতে পুজোর আবহে কাজের গতি কমে যেত, আর সেই ছুটির রেশ চলত লক্ষ্মীপুজো পর্যন্ত। কিন্তু হাসপাতালের মতো জরুরি পরিষেবার ক্ষেত্রে এই দীর্ঘ ছুটি-ছুটি ভাব আর বরদাস্ত করা হবে না। তাঁর কথায়, ষষ্ঠী থেকে লক্ষ্মীপুজো পর্যন্ত ছুটি নেওয়ার প্রচলিত রেওয়াজ বন্ধ হওয়া প্রয়োজন।আগামী বছর থেকে কী নিয়ম চালু হবে?স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী বছরের দুর্গাপুজো থেকে সরকারি হাসপাতালগুলিতে সপ্তমী, অষ্টমী, নবমী ও দশমীএই চার দিনের জন্য বিশেষ ডিউটি রোস্টার চালু থাকবে। হাসপাতালের পরিষেবা সচল রাখতে কর্মীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হবে। অ-চিকিৎসক কর্মীদের ক্ষেত্রে এই চার দিনে মোট কর্মীসংখ্যার প্রায় অর্ধেককে কাজে রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।তবে চিকিৎসক ও নার্সদের জন্য আগাম নির্দিষ্ট ছুটির রোস্টার থাকবে না বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী। হাসপাতালের প্রয়োজন এবং পরিষেবার চাহিদা অনুযায়ী তাঁদের দায়িত্ব পালন করতে হবে। অর্থাৎ, পুজোর দিনগুলিতে চিকিৎসক ও নার্সদের উপস্থিতি নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট হাসপাতালের কাজের প্রয়োজনের উপর।এই ব্যবস্থার মাধ্যমে পুজোর সময়েও হাসপাতালের দৈনন্দিন পরিষেবা, রোগী সামলানো এবং জরুরি চিকিৎসার ক্ষেত্রে যাতে কোনও ঘাটতি না থাকে, তা নিশ্চিত করতে চাইছে স্বাস্থ্য দফতর।এ বছর থেকেই কাজে ফেরার নির্দেশশুধু আগামী বছরের পরিকল্পনাই নয়, চলতি বছরেও সরকারি হাসপাতালগুলিতে কর্মীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করার বিষয়ে পদক্ষেপ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন শারদ্বত। তাঁর দাবি, অন্যান্য সরকারি দফতরের মতো মেডিক্যাল কলেজগুলির শিক্ষক, অধ্যক্ষ, এমএসভিপি, নন-মেডিক্যাল সুপারিনটেন্ডেন্ট থেকে শুরু করে সাফাইকর্মীবিভিন্ন স্তরের কর্মীরা কাজে ফিরেছেন।এমনকি যাঁরা আগে থেকেই ছুটিতে ছিলেন, তাঁদের ছুটি বাতিল করে কাজে যোগ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা এই রীতির অবসান ঘটিয়ে হাসপাতালগুলিতে কাজের ধারাবাহিকতা বজায় রাখাই এখন অগ্রাধিকার।পরিষেবা সচল রাখাই মূল লক্ষ্যদুর্গাপুজো থেকে লক্ষ্মীপুজো পর্যন্ত টানা ছুটির প্রচলন বন্ধ করার সিদ্ধান্ত সরকারি হাসপাতালের কর্মীদের কাজের সময়সূচিতে পরিবর্তন আনতে পারে। বিশেষ করে পুজোর সময় চিকিৎসক, নার্স এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা গেলে জরুরি চিকিৎসার ক্ষেত্রে রোগীদের সুবিধা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।তবে নতুন রোস্টার কীভাবে কার্যকর হবে, হাসপাতালভিত্তিক কর্মী বণ্টন কীভাবে হবে এবং চিকিৎসক-নার্সদের দায়িত্ব নির্ধারণে কী পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে, তা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ঘোষণায় স্পষ্ট, আগামী বছর থেকে সরকারি হাসপাতালগুলিতে পুজোর ছুটি নিয়ে দীর্ঘদিনের প্রচলিত ব্যবস্থায় বদল আনতে চাইছে রাজ্য সরকার। উৎসবের মরশুমেও যাতে স্বাস্থ্য পরিষেবায় কোনও শিথিলতা না আসে, সেই লক্ষ্যেই ছুটির বদলে দায়িত্ব পালনের উপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

অক্টোবর ২৩, ২০২৬
কলকাতা

চোরবাগান কাণ্ডে বড় পদক্ষেপ পুলিশের! আতঙ্কের মাইকিংয়ে গ্রেফতার আরও এক ঘোষক, ধৃতের সংখ্যা ২

সপ্তমীর সন্ধ্যায় মণ্ডপে হুড়োহুড়ি ও বিশৃঙ্খলার মধ্যে মণ্ডপ ভেঙে যাচ্ছে বলে ঘোষণার অভিযোগ। তদন্তে উঠে এসেছে দুই ঘোষকের নাম। কেন এমন ঘোষণা, নেপথ্যে কারও নির্দেশ ছিল কি না, খতিয়ে দেখছে পুলিশ।কলকাতার চোরবাগান দুর্গাপুজোর বিপর্যয় ঘিরে তদন্তে আরও এক ধাপ এগোল পুলিশ। মণ্ডপে দর্শনার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ানো ঘোষণার ঘটনায় দ্বিতীয় এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতের নাম কুশল মজুমদার। তাঁকে লালবাজারে নিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন তদন্তকারীরা। এর আগে এই ঘটনায় চোরবাগান পুজো কমিটির কোষাধ্যক্ষ সঞ্জীব রাহা ওরফে সেন্টুকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। ফলে মাইকে বিভ্রান্তিকর ঘোষণা সংক্রান্ত মামলায় গ্রেফতারির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল দুই।পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে, সপ্তমীর সন্ধ্যায় চোরবাগানের পুজোমণ্ডপে যখন দর্শনার্থীদের মধ্যে প্রবল ঠেলাঠেলি ও হুড়োহুড়ি চলছিল, তখন মাইকে ঘোষণা করা হয়, মণ্ডপ ভেঙে যাচ্ছে। অভিযোগ, এই ঘোষণা পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তোলে। আতঙ্কিত দর্শনার্থীরা দ্রুত বাইরে বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করতে থাকেন। তাতেই বিশৃঙ্খলা আরও বেড়ে যায় বলে দাবি প্রত্যক্ষদর্শীদের। যদিও ওই ঘোষণার উদ্দেশ্য এবং তার সঙ্গে বিপর্যয়ের সম্পর্ক খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।সিসিটিভি ফুটেজে দুই সন্দেহভাজনের খোঁজঘটনার পরই মণ্ডপে মাইক থেকে কে বা কারা ওই ঘোষণা করেছিলেন, তা জানতে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। মণ্ডপের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে দুজনকে সন্দেহের তালিকায় রাখা হয়। তাঁদের গতিবিধির উপর নজরদারি চালানোর পাশাপাশি বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ শুরু করেন তদন্তকারীরা। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত তাঁদের মধ্যে একজনকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছিল। অবশেষে দ্বিতীয় সন্দেহভাজন কুশল মজুমদারকেও পাকড়াও করা হল।পুলিশ সূত্রে খবর, ঘটনার পর থেকেই সঞ্জীব রাহা ওরফে সেন্টুর খোঁজ মিলছিল না। তাঁর বাড়িতে গিয়েও পুলিশ তাঁকে পায়নি। তদন্তকারীদের দাবি, বিপর্যয়ের পর থেকে তাঁর মোবাইল ফোন বন্ধ ছিল। তবে বিভিন্ন সময়ে অন্য নম্বর ব্যবহার করে পরিবার ও পরিচিতদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছিলেন তিনি। সেই সূত্র ধরে সন্দেহভাজন আটটি মোবাইল নম্বরের উপর নজরদারি চালানো হয়। শেষ পর্যন্ত সেই সূত্র ধরেই বৃহস্পতিবার নদিয়া থেকে সেন্টুকে গ্রেফতার করে পুলিশ।আতঙ্কের ঘোষণা ঘিরে বাড়ছে প্রশ্নচোরবাগান কাণ্ডের পর সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিয়োতে মণ্ডপের ভিতরে ও বাইরে চরম বিশৃঙ্খলার ছবি দেখা যায়। একটি ভিডিয়োতে গ্রিল দিয়ে ঘেরা ঘোরানো উড়ালপথের উপর কয়েক জন দর্শনার্থীকে অসুস্থ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা গিয়েছে বলে দাবি করা হয়। অন্য একটি ভিডিয়োতে মণ্ডপ থেকে বেরোনোর গেটের ভিতরে কয়েক মিটার দূরেই ঠেলাঠেলি ও ধাক্কাধাক্কির মধ্যে কয়েক জনকে মাটিতে পড়ে যেতে দেখা যায়। আতঙ্কিত দর্শনার্থীদের চিৎকারের মধ্যে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করতেও দেখা যায় এক পুলিশকর্মীকে।এই বিশৃঙ্খলার মধ্যেই মাইক থেকে মণ্ডপ ভেঙে যাচ্ছে বলে ঘোষণা করা হয়েছিল বলে অভিযোগ। ওই ঘোষণার পর দর্শনার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক আরও বেড়ে যায় এবং অনেকে দ্রুত বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের একাংশের দাবি। তদন্তের স্বার্থে ভিডিয়োগুলির সত্যতা ও প্রাসঙ্গিকতা যাচাই করা জরুরি। তবে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সিসিটিভি ফুটেজেও ওই ঘোষণার বিষয়টি তদন্তের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হিসেবে উঠে এসেছে।নির্দেশ দিয়েছিল কে? খতিয়ে দেখছে পুলিশতদন্তকারীদের সামনে এখন একাধিক প্রশ্ন। মণ্ডপে যখন ভিড়ের মধ্যে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছিল, তখন ঠিক কী পরিস্থিতিতে ওই ঘোষণা করা হয়? ঘোষকরা কি নিজেরাই এমন কথা বলেছিলেন, নাকি তাঁদের পিছনে অন্য কারও নির্দেশ ছিল? পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে ঘোষণা করা হলেও তা কীভাবে আতঙ্ক বাড়িয়ে দিল, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।পুলিশ সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, সঞ্জীব রাহা ও কুশল মজুমদারদুজনেরই বাড়ি অমর বসু সরণিতে, চোরবাগানের পুজোমণ্ডপ থেকে প্রায় ৫০ মিটারের মধ্যে। বৃহস্পতিবার গ্রেফতার হওয়া সঞ্জীবকে শুক্রবার ব্যাঙ্কশাল আদালতে হাজির করানোর কথা ছিল বলে জানা গিয়েছিল। দ্বিতীয় অভিযুক্তকে গ্রেফতারের পর তদন্তের পরবর্তী পর্যায়ে তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদে আরও তথ্য উঠে আসে কি না, এখন সেদিকেই নজর রয়েছে পুলিশের।চোরবাগানের বিপর্যয় ঘিরে ইতিমধ্যেই নানা প্রশ্ন উঠেছে। তার মধ্যে মাইকে করা ওই ঘোষণা কেন এবং কী উদ্দেশ্যে করা হয়েছিল, তা তদন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। দুই সন্দেহভাজন ঘোষককে গ্রেফতারের পর এবার এই ঘটনার নেপথ্যে প্রকৃত কারণ ও দায় নির্ধারণে তদন্ত কতদূর এগোয়, সেদিকেই নজর কলকাতার।

অক্টোবর ২৩, ২০২৬
রাজ্য

পরকীয়ার সন্দেহে দাম্পত্যে অশান্তি, বাড়ি ফিরতেই চরম পরিণতি! বংশীহারিতে স্বামী খুনের অভিযোগে গ্রেপ্তার স্ত্রী

দেড় বছরের দাম্পত্যে তৃতীয় ব্যক্তিকে ঘিরে বিবাদ, ঘরের মেঝে থেকে উদ্ধার যুবকের রক্তাক্ত দেহ। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রেপ্তার স্ত্রী, তদন্তে পুলিশ।পুজোর রেশ কাটতে না কাটতেই দক্ষিণ দিনাজপুরের বংশীহারিতে এক যুবকের রহস্যমৃত্যুকে কেন্দ্র করে ছড়াল তীব্র চাঞ্চল্য। স্ত্রীর সঙ্গে প্রতিবেশী এক যুবকের বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ককে কেন্দ্র করে দাম্পত্য কলহের জেরেই স্বামীকে খুন করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় মৃতের স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। উদ্ধার হওয়া দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এবং কীভাবে ওই যুবকের মৃত্যু হয়েছে, তা জানতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত যুবকের নাম বিকাশ রায়। তিনি দক্ষিণ দিনাজপুরের বংশীহারি থানার এলাহাবাদ গ্রাম পঞ্চায়েতের কড়ই কলোনির দক্ষিণপাড়ার বাসিন্দা ছিলেন। প্রায় দেড় বছর আগে এলাকারই বাসিন্দা শিউলির সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। সংসার চালানোর জন্য কলকাতায় কাজ করতেন বিকাশ। সেই কারণে দীর্ঘ সময় বাড়ির বাইরে থাকতে হত তাঁকে।অভিযোগ, বিকাশ বাড়িতে না থাকার সুযোগে প্রতিবেশী যুবক অনুপ দাসের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন শিউলি। অনুপ পেশায় টোটোচালক। স্থানীয় সূত্রের দাবি, এই সম্পর্কের কথা ক্রমে জানাজানি হয়ে যায়। সম্প্রতি বাড়ি ফেরার পর বিষয়টি বিকাশেরও নজরে আসে বলে অভিযোগ। এরপর থেকেই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে অশান্তি বাড়তে থাকে। ব্যক্তিগত সম্পর্ককে কেন্দ্র করে তাঁদের মধ্যে বিবাদ চরমে পৌঁছেছিল বলে দাবি পরিবারের।ঘটনার সূত্রপাত বৃহস্পতিবার সকালে। দীর্ঘক্ষণ ধরে বিকাশ ও শিউলিকে ঘরের বাইরে দেখতে না পেয়ে পরিবারের সদস্যদের সন্দেহ হয়। তাঁরা বারবার ডাকাডাকি করলেও প্রথমে কোনও সাড়া মেলেনি বলে জানা গিয়েছে। পরে শিউলি দরজা খুললে ঘরের মেঝেতে বিকাশের রক্তাক্ত দেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। এই দৃশ্য দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন পরিবারের সদস্যরা। তড়িঘড়ি খবর দেওয়া হয় বংশীহারি থানায়।খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়। কীভাবে বিকাশের মৃত্যু হল, তার নেপথ্যে অন্য কোনও কারণ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। মৃতের পরিবারের তরফে শিউলির বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।বিকাশের পরিবারের দাবি, স্ত্রীর সঙ্গে প্রতিবেশী যুবকের সম্পর্ককে কেন্দ্র করেই সংসারে অশান্তির সূত্রপাত। মৃতের ভাইয়ের অভিযোগ, নিজের সম্পর্কের পথে বাধা দূর করতেই পরিকল্পনা করে তাঁর দাদাকে খুন করা হয়েছে। যদিও এই অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন। ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।দেড় বছরের দাম্পত্যের এমন মর্মান্তিক পরিণতিতে এলাকায় শোক ও উত্তেজনার পরিবেশ তৈরি হয়েছে। তবে এই ঘটনায় মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং অভিযোগের পিছনে থাকা সমস্ত তথ্য ময়নাতদন্তের রিপোর্ট ও পুলিশি তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে।

অক্টোবর ২৩, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal