• ৫ আষাঢ় ১৪৩৩, সোমবার ২২ জুন ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

Drama

রাজ্য

সরকারি উদ্যোগে বর্ধমানে শুরু 'সাঁওতালি' ভাষায় একাঙ্ক নাটক প্রতিযোগিতা

দেশের বৃহত্তম ভাষার অন্যতম বাংলা ভাষা যখন ইংরাজি ও হিন্দির চাপে এক সন্মিলিত ভাষায় পরিণত হওয়ার প্রহর গুনছে, ঠিক সেই সময় সাঁওতালি ভাষায় একাঙ্ক নাটক প্রতিযোগিতার আয়োজন করা সত্যিই প্রশংসনীয়। বুধবার পশ্চিমবঙ্গ সরকারের আদিবাসী উন্নয়ন বিভাগর উদ্যোগে পূর্ব বর্ধমান জেলা অনগ্রসর শ্রেণী উন্নয়ন দপ্তরের তত্ত্বাবধানে পূর্ব বর্ধমান জেলায় বর্ধমান শহরের অদূরে দেওয়ানদিঘী প্রীতিলতা মঞ্চে মহাসমারোহে শুরু হল তিনদিন ব্যাপী ৩০তম আদিভাষায় জেলা ও আঞ্চলিক স্তরের আদিবাসী একাঙ্ক নাটক প্রতিযোগিতা। বুধবার দেওয়ানদিঘীর প্রীতিলতা মঞ্চে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পূর্ব বর্ধমান জেলাপরিষদের সহকারি সভাধিপতি গার্গী নাহা, ও কর্মাধ্যক্ষ মিঠু মাঝি। উপস্থিত ছিলেন জেলার অতিরিক্ত জেলাশাসক (শিক্ষা) প্রতীক সিং (আইএএস), সদর উত্তর মহুকুমাশাসক তির্থঙ্কর বিশ্বাস, পূর্ব বর্ধমান জেলাপরিষদের প্রাক্তন সভাধিপতি দেবু টুডু। উপস্থিত ছিলেন বর্ধমান উন্নয়ন পর্ষদের চেয়ারপার্সন কাকলি তা গুপ্ত, স্থানীয় ব্লক উন্নয়ন আধিকারিক রজনীশ কুমার যাদব সহ আরও বিশিষ্ট মানুষজন।এই সুবিশাল কর্মকান্ডের প্রধান উদ্যোগী পূর্ব বর্ধমান জেলার প্রকল্প আধিকারিক ও অনগ্রসর শ্রেনী উন্নয়ন দপ্তর। ওই দপ্তরের আধিকারিক কৃষ্ণেন্দু কুমার মণ্ডল সকলকে অবাক করে দিয়ে তাঁর স্বাগত ভাষণ শুরু করেন অলচিকী ভাষায়। কোনওরকম স্ক্রিপ্ট ছাড়াই অনর্গল ভাবে সাঁওতালি ভাষায় তাঁর বক্তব্য এই অনুষ্ঠানে পরম প্রাপ্তি। তিনি তাঁর স্বাগত ভাষণে সকলকে এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করার জন্য ধন্যবাদ জানান। এই ভাষার প্রচার প্রসার করার শুভ উদ্যোগের জন্য বাংলার মুখ্যমন্ত্রীকে বিশেষ ভাবে ধন্যবাদ জানান।অথিতিবর্গের সকলেই এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানান। মাতৃভাষার রক্ষণাবেক্ষণে এই উদ্যোগ সত্যিই প্রসংসার দাবি রাখে, জানালেন পূর্ব বর্ধমান জেলাপরিষদের মেন্টর মহঃ ইসমাইল। পূর্ব বর্ধমান জেলার প্রকল্প আধিকারিক ও অনগ্রসর শ্রেণী উন্নয়ন দপ্তরের আধিকারিক কৃষ্ণেন্দু কুমার মণ্ডল জানান, প্রীতিলতা মঞ্চ, দেওয়ানদীঘিতে বুধ ও বৃহস্পতিবার দুই দিনের জেলা পর্যায়ের এবং শুক্রবার জোনাল লেভেল একাঙ্ক নাটক প্রতিযোগিতা (সাঁওতালি ভাষা) অনুষ্ঠিত হবে। তিনি জনতার কথা মাধ্যমে সকল নাট্যপ্রেমী মানুষজনকে নাটকের আনন্দ উপভোগ করার আহ্বান জানান।

ফেব্রুয়ারি ০৬, ২০২৫
নিবন্ধ

'পাখি' র, সাধ অনেক। সাধ্য অল্প। তবুও আয়োজন ছিল। যা 'না বললেই নয়"

না, পাখি-তে ফাঁকি নেই। ঠাস বুনন। সমকালীন জীবনকে তুলে ধরাই নাটকের ধর্ম। সময় তাই নাটকের প্রাণ ভোমরা। তাই মনোজ মিত্রের পাখিকে জানতে গেলে ফিরে যেতে হবে আজ থেকে প্রায় ৪৮ বছর আগে। নকশাল আন্দোলন এর অন্তিম পর্বে। কলকাতায় নুতন সরকার। গড়ের মাঠে পেলেকে রুখে দিচ্ছে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ সবুজ মেরুন বাহিনী। অন্যদিকে একে একে বন্ধ হচ্ছে শিল্প কারখানা। হারিয়ে যাচ্ছে তরুণের স্বপ্ন। উচ্চবিত্ত হচ্ছে মধ্যবিত্ত। মধ্য নিম্ন। সমাধি হচ্ছে স্বপ্নের।মনোজ মিত্রের পাখি নাটকে নীতিশ স্বপ্ন সমাধি। একদল অর্থপুষ্ট বন্ধুর সেলসম্যান সাথি। ফেরি করে। অন্যের বাড়িতে পৌঁছে দেয় হেরিকেন। তাদের বাড়িতে আলো জ্বলে। কিন্তু নিজের বাড়িতেই ঘোর অন্ধকার। স্বপ্ন বড় নয়। তবুও সমাজের চোখে তা দুঃস্বপ্ন। প্রভিডেন্ট ফান্ডের টাকায় বড়লোক বন্ধুদের খাওয়ানোর দুর্নিবার আকাঙ্ক্ষা। দশম বিবাহ বার্ষিকীতে নিজেকে খুঁজে পাওয়ার প্রচেষ্টা। অন্যদিকে কষ্টিপাথরে যাচাই করা যোগ্য সহধর্মিনী বিলাসিতাই ভাবে নীতু র স্বপ্নকে। নুন আনতে পান্তা পুরানো সংসারের ঘানি টানতে টানতে স্বপ্নই শেষ হয়ে গেছে তার জীবনে। কঠিন বাস্তবতার মোড়কে তার জীবন দর্শন। অর্থহীনরা প্রসব করে অর্থহীন স্বপ্ন। আবিষ্কার করতে হয় আত্মসম্মানকে বাঁচিয়ে রাখার নবনব কৌশল। তবুও স্বামীর পাশে। ভালোবেসে।নীতুর সাধ অনেক। সাধ্য অল্প। তবুও আয়োজন ছিল। ছিল হৃদয়বান মাসতুতো ভাইয়ের সাহচর্য, উষ্ণ উপস্থিতি। কিন্তু বাধ সাধলো একটা চিঠি। বড়লোক বন্ধুদের করুণা মাখা একটি ছোট্ট চিঠি। নিমন্ত্রণের ইচ্ছে প্রকাশই যথেষ্ট। আয়োজন বিলাসিতা। বেমানান। ব্যর্থ উপার্জনের সঙ্গে সঙ্গতে। গরিবির নির্মমতায় নিষ্পেষিত নীতু।স্বপ্নের সমাধিতে দিশেহারা নীতুর একমাত্র অবলম্বন শ্যামা। ভালোবাসাই সমাধান। নিজেদের পর্ণ কুঠিরে দুজনে খুঁজে পায় দুজনকে। মেতে উঠে ভালোবাসার আলিঙ্গনে। সোহাগে সান্ত্বনায় উপভোগ করে পূর্ণতা প্রাপ্তির আনন্দ।গত ২৯ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ বর্ধমান অনীকের সৌজন্যে সংস্কৃতি লোক মঞ্চে ফিরে এলো ১৯৭৭ সাল। শিল্প হারা রাজ্যের ঝরাজীর্ণ অর্থনীতির শিকার নীতু র চরিত্রে শিক্ষক ডক্টর দিলীপ বিশ্বাসের অসাধারণ উপস্থাপনায়। কখনো স্বপ্ন, কখনো সমাধি। কখনো আবেগময়, কখনো আবেগহীন। পরিশেষে বাস্তবতায় আত্মসমর্পণ। শ্যামার চরিত্রে সহধর্মিনী রুনু মুখোপাধ্যায়ের যোগ্য সঙ্গত। নিয়ন্ত্রিত আবেগ সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলেছে কঠিন বাস্তবের সম্মুখীন হওয়া একটি জীবনকে। যোগ্য কপতি। উকিলের চরিত্রে বাবলুদা এবং নিতুর ভাইয়ের চরিত্রে অনিমেষদার সাবলীল অভিনয়। টানটান নাটকে দর্শক মন্ডলী ক্ষণিকেই ফিরে গিয়েছিল ১৯৭৭ সালের কলকাতায়। শুনছিল সময়ের পদধ্বনি। আলোক-আবহ নিখুঁত এবং নিটোল! নেশা ছাপিয়ে যায় পেশা কে। তাই হয়তো অভিনয়ের গুণে বিভিন্ন পেশায় থাকা কুশীলবদের প্রত্যেকটি চরিত্র হয়ে উঠেছিল প্রাণশক্তিতে ভরপুর, জীবন্ত। সঠিকভাবেই আয়না ধরা হয়েছিল জীবনের প্রতি।অনন্তদেব গুহ, (শিক্ষক ও নাট্যপ্রেমী)

মার্চ ০৩, ২০২৪
নিবন্ধ

রাজ্য স্তরে সন্মানিত বর্ধমানের নাট্যদলের নাটক 'ভৌতিক'

নাটকে অবদানের জন্য বিভিন্ন বিভাগে নাট্য একাডেমির তরফে পুরষ্কার প্রদান করা হয়। শ্রেষ্ঠ স্বল্পদৈর্ঘ্য নাটকের শিরোপা পেলো পূর্ব বর্ধমান জেলার জামালপুর ব্লকের ময়না অন্যভবনা নাট্য ও সংস্কৃত চর্চার প্রযোজনা ভৌতিক। পশ্চিমবঙ্গ নাট্য একাডেমী পুরস্কার ২০২৪- সম্মানে ভূষিত হলো ময়না অন্যভাবনার শত-রজনী মঞ্চায়ন অতিক্রান্ত এই নাটক। ভৌতিক নাটকটি রচনা করেন সৌমিত্র বসু এবং নাটকটির নির্দেশনা দেন প্রখ্যাত নাট্যকার স্বরাজ ঘোষ। ভৌতিক নাটকটি-কে ১ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার কলকাতার শিশির মঞ্চে সম্মানিত করা হলো। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের শিক্ষামন্ত্রী তথা বিশিষ্ট নাট্যব্যক্তিত্ব ব্রাত্য বসু, পশ্চিমবঙ্গ নাট্য একাডেমীর সভাপতি, অভিনেতা দেবশঙ্কর হালদার, নাট্য একাডেমীর সদস্যা অর্পিতা ঘোষ, সদস্য সচিব দেবকুমার হাজরা, পশ্চিমবঙ্গের সেচ ও জলসম্পদ মন্ত্রী তথা নাট্য ব্যক্তিত্ব পার্থ ভৌমিক প্রমুখ। রাজধানী শহর দিল্লি সহ পশ্চিমবঙ্গের প্রায় সমস্ত জেলায় একাধিক বার এই নাটক মঞ্চস্থ ও সমাদৃত হয়েছে। বেশ কিছু প্রতিযোগিতামূলক মঞ্চেও পুরস্কৃত হয়েছে ভৌতিক নাটকটি।রেলপথে বর্ধমান-হাওড়া কর্ড লাইনের নবগ্রাম স্টেশনের পাশে এক ছোট্ট গ্রামের নাট্য দল ময়না অন্য ভাবনা কয়েকদিন আগেই মহাসমারোহে শততম দিনের নাটক উপস্থাপনা করলো বর্ধমান শহরের সংস্কৃতির প্রানকেন্দ্র সংস্কৃতি লোকমঞ্চে। সেদিন তাঁদের প্রযোজনা সত্যিই মুগ্ধ করে দেয় উপস্থিত দর্শকদের। এক গা ছমছম মঞ্চ সজ্জা দেখে অনেকেরই মনে প্রশ্ন জেগেছিল হয়ত বা কোনও গায়ে কাঁটা দেওয়া ভুতের কাহিনী নিয়ে আবর্তিত হবে এদিনের নাটক।ময়না অন্য ভাবনার ভোতিক নাটকটি রচনা করেন সৌমিত্র বসু, নির্দেশনা স্বরাজ ঘোষের। এই নাটকের উৎস জানতে চাইলে, ভৌতিক নাটকের মূল চরিত্র ভুতের ভূমিকার অভিনেতা সুকান্ত বন্দ্যোপাধ্যায় জনতার কথা কে জানান, তাঁরা দূরদর্শনে একটি নাট্য প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেছিলেন, সেখানে তাঁরা প্রথম স্থান লাভ করেন। গ্রাম থেকে আসা একদল তরুণ ছেলের অভিনয়ে মুগ্ধ হয়ে সেই প্রতিযোগিতার বিচারক সৌমিত্র বসু তাঁদের তাঁর লেখা ভৌতিক নাটকটি মঞ্চস্থ করার জন্য দেন।তাঁদের দলের প্রান ভোমরা সুকান্ত বন্দ্যোপাধ্যায় আরও জানান, ২০১৭ সালে ময়না অন্য ভাবনা সৃষ্টি হয়। অনেকের আমাদের কাছে দাবী ছিল করলে ভালো কিছু কর, নাহলে বন্ধ করে দাও। সেই ভালো করে করার জেদ থেকেই অন্য ভাবনার যাত্রা শুরু। তিনি জানান ভৌতিক ছাড়াও তাঁদের এই মুহুর্তে তিনটি নাটক চলছে, যথাক্রমে প্রতিঘাত, আযান্ত্রিক, ও কর্মফল। তিনি জানান তাঁরা পশ্চিমবঙ্গের সবকটি জেলা সহ রাজধানী শহর দিল্লীতেও ভৌতিক নাটকটি মঞ্চস্থ করেছেন। তিনি আরও জানান, নাটককে ভালোবেসে আমরা নাটক করি। নাটক থেকে কোনও আয় আমরা করিনা। আমদের প্রত্যকেই কিছু না কিছু কাজ করি, সেখান থেকে সময় বার করেই আমাদের নাট্য চর্চা।

ফেব্রুয়ারি ০৭, ২০২৪
নিবন্ধ

ভাবনায় অন্য মাত্রা যোগ করে ১০০ রজনী অতিক্রান্ত করল 'অন্য ভাবনা'-র 'ভৌতিক'

২০২৪-এ বছরের প্রথম দিনটা শুরু হলো একেবারে ভৌতিক ভাবে। জোড়া নাটকের মুর্ছনায় মেতে উঠলো শহর বর্ধমান। ১লা জানুয়ারি ইংরাজি নববর্ষের প্রথম দিনে যখন একদল মানুষ হুল্লোর করে পিকিনিক-এ ব্যস্ত ঠিক সেই দিন ভরসন্ধ্যায় শহরের সংস্কৃতির প্রাণকেন্দ্র কার্জন গেট চত্তরে সংস্কৃতি লোকমঞ্চে অয়োজিত হল এই জোড়া নাটক। নাট্য পিপাসু বর্ধমান-বাসীর উপস্থিতিতে সংস্কৃতি লোকমঞ্চ আক্ষরিক অর্থেই হাউসফুল ছিল।প্রথম নাটকটি ছিল তিমিরবরণ রায় রচিত এবং প্রিয়তোষ রায় নির্দেশিত মনসামঙ্গল কাব্যের আশ্রয় করে জীয়ন কন্যা। যাত্রা দলের নায়েব বা চাঁদসদাগর ও লখিন্দর চরিত্রের অভিনেতা দর্শক মনে দাগ কেটে যায়। হারমোনিয়াম ও বাংলা ঢোলের আবহে মঞ্চে গ্রাম বাংলার হারিয়ে যেতে বসা যাত্রা-র আমেজ বেশ পাওয়া গেল। এই নাটকের এক অন্যতম আকর্ষন এর গান। বাংলার ঐতিহ্যবাহী লোক নাটকের সম্পদ মনসামঙ্গল। এদের আছে আলাদা পরিবেশন রীতি, আলাদা আঙ্গিক। যাতে গ্রামীণ মানুষের আশা-আকাঙ্খা আর জীবনের ভাবচিন্তা পরিস্কার বোঝা যায়। ১লা জানুয়ারি ছিল তাঁদের ষষ্ট প্রযোজনা। তাঁদের মঞ্চাভিনয় দেখে কোন সময়েই মনে হয়নি তাঁরা মাত্র ছয়দিন এই নাটকটি মঞ্চস্থ করছেন।তাঁদের জীয়ন কন্যা নাটকটি যে বার্তা বহন করে তা আজকের দিনে খুব-ই প্রাসঙ্গিক। দেশ জুড়ে যখন ধর্ম নিয়ে রাজনিতীর হিড়িক, যখন মানুষকে তাঁর শিক্ষা দিয়ে বিচার না করে, ধর্মের শতাংশের নিরিখে বিবেচনা করা হয়, ঠিক সেই সময়ে এই ধরনের বার্তাবহনকারি নাটকের প্রাসঙ্গিকতা উপলব্ধি করার মত। এক নামকরা চিত্র সমলোচক একবার বলেছিলেন, যে স্লোগান দেওয়ালে লিখে বোঝানো যায় না তাঁর জন্য সিনেমা/নাটক করতে হয়। ঠিক সে রকমই এক বার্তা যুদ্ধ নয় শান্তি চায় বক্তব্য কে ফোটাতে সত্যজিৎ রায় সৃষ্টি করেন হীরক রাজার দেশ। এই নাটকের মাধ্যমে যাঁরা ধর্মের জিগিড় তুলে বিভেদের রাজনীতি করছেন তাঁদের মুখে বেহুলার চরিত্রে মুসলিম মহিলার অভিনয় যেন সজোরে থাপ্পড়।নাট্য সন্ধ্যার দ্বিতীয় উপস্থাপনা ছিল ময়না অন্য ভাবনার ভোতিক। বর্ধমান-হাওড়া কর্ড লাইনের নবগ্রাম স্টেশনের পাশে শহরতলীর এক ছোট্ট গ্রামের নাট্য দলের শততম দিনের প্রযোজনা দাগ কেটে গেল এদিনের উপস্থিত দর্শকদের মধ্যে। এক গা ছমছম মঞ্চ সজ্জা দেখে প্রথমেই অনেকের মনে প্রশ্ন জেগেছিল হয়ত বা কোনও গায়ে কাঁটা দেওয়া ভুতের কাহিনী নিয়ে আবর্তিত হবে এদিনের নাটক।উপস্থিত দর্শককুলকে ভুল প্রমান করে একাধিক ভ্রান্তিময় বদ্ধমূল ভুল ধারনার গোড়ায় আঘাত করলো তাঁদের এই প্রযোজনা। এক গহন জঙ্গলে মাঝ রাত্রিতে আত্মহননে উদ্যত যুগলকে একটি ভুত যে অবচেতন মনের হদিস দিলেন তা সত্যিই সমাজের সামগ্রিক চেতনা ফেরাবার জন্য যথেষ্ট। নাটকের বেশ কয়েকটি সামজিক বার্তার মধ্যে অন্যতম কোনও কিছু হেলায় পেলে তাঁর মুল্য থাকেনা। নাটকের মাধ্যমে যা মূল বার্তাটি তারা দিতে চেয়েছেন, বাঁচতে গেলে লড়তে হবে, মৃত্যুর অনেক রাস্তা আছে, আত্মহননের অর্থ হেরে যাওয়া।ময়না অন্য ভাবনার ভোতিক নাটকটি রচনা করেন সৌমিত্র বসু, নির্দেশনা স্বরাজ ঘোষের। এই নাটকের মূল চরিত্র ভুতের ভূমিকার অভিনেতা সুকান্ত বন্দ্যোপাধ্যায় জনতার কথা কে জানান, তাঁরা দূরদর্শনে একটি নাট্য প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেছিলেন, সেখানে তাঁরা প্রথম স্থান লাভ করেন। গ্রাম থেকে আসা একদল তরুণ ছেলের অভিনয়ে মুগ্ধ হয়ে সেই প্রতিযোগিতার বিচারক সৌমিত্র বসু তাঁদের তাঁর লেখা ভৌতিক নাটকটি মঞ্চস্থ করার জন্য দেন। বছরের প্রথম দিনে তাঁরা তাঁদের শততম রজনী বর্ধমান শহরে মঞ্চস্থ করলেন। সুকান্ত বন্দ্যোপাধ্যায় আরও জানান, ২০১৭ সালে ময়না অন্য ভাবনা সৃষ্টি হয়। অনেকের আমাদের কাছে দাবী ছিল করলে ভালো কিছু কর, নাহলে বন্ধ করে দাও। সেই ভালো করে করার জেদ থেকেই অন্য ভাবনার যাত্রা শুরু। তিনি জানান তাঁদের এই মুহুর্তে চারটি নাটক চলছে, যথাক্রমে প্রতিঘাত, আযান্ত্রিক, কর্মফল ও ভৌতিক। তিনি জানান তাঁরা পশ্চিমবঙ্গের সবকটি জেলা সহ রাজধানী শহর দিল্লীতেও ভৌতিক নাটকটি মঞ্চস্থ করেছেন। সুকান্ত বন্দ্যোপাধ্যায় আরও জানান, তাঁদের নাটকটি এতটাই জনপ্রিয় এই মহুর্তে তা জানাতে তিনি বলেন জানুয়ারী মাসেই তাঁদের এখনও অবধি ১৫টি শো আছে। তিনি জানান, নাটককে ভালোবেসে আমরা নাটক করি। নাটক থেকে কোনও আয় আমরা করিনা। আমদের প্রত্যকেই কিছু না কিছু কাজ করি, সেখান থেকে সময় বার করেই আমাদের নাট্য চর্চা।প্রথম থেকে শেষ অবধি যে টানটান অভিনয় দেখা গেল তাতে এটুকু বোঝা গেল কেন তাঁরা এত দ্রুত শততম রজনী পার করলেন। আশা করাই যায় অতি দ্রুত তাঁরা সহস্র রজনীও অতিক্রম করবেন। নাটকের মূল চরিত্রাভিনেতা ভুত রূপী সুকান্ত বন্দ্যোপাধ্যায়-র অভিনয়ে দর্শককূল মুগ্ধ হয়ে যায়। সাহিত্যিক সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায় একবার বলেছিলেন ভুত কে আমরা ভালোবাসি বলেই ভুতের গল্প পড়ি, আর সেই ভুতের গল্প বই বেস্ট সেলার হয়। আজকের নাটক দেখতে বসে দর্শকদের অভিব্যাক্তি দেখে মনে হচ্ছিল তাঁরা তাঁদের অজান্তে কখন যেন ভূতকে ভালোবেসে আপন করে ফেলেছেন।

জানুয়ারি ০২, ২০২৪
শিক্ষা

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক নাটক প্রতিযোগিতায় জমজমাট বর্ধমান

মানুষের মধ্যে বিজ্ঞান সচেতনতাকে আরও বাড়াতে, মানুষের সাথে বিজ্ঞানের সম্পর্ক আরও নিবিড় হওয়ার প্রয়োজন। শিক্ষাবস্থায় এই ধারনা মনের মধ্যে গেঁথে দেওয়ার আদর্শ সময়। বিজ্ঞানের সম্যক ধারণা অনেক ক্ষেত্রেই কুসংস্কার দূরীকরণে প্রধান হাতিয়ার হয়ে ওঠে। সেই উদ্দশ্যেই কেন্দ্র সরকারের সংস্কৃতি মন্ত্রক আজ বৃহস্পতিবার পূর্ব বর্ধমান জেলার সদর শহর বর্ধমানের বর্ধমান সায়েন্স সেন্টারে এক সায়েন্স ড্রামা প্রতিযোগিতার আয়োজন করে।এই সায়েন্স ড্রামা প্রতিযোগিতায় পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান জেলা মিলিয়ে মোট আটটি দল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এই মূল বিষয়ে এবং পাঁচটি ভিন্ন উপবিষয়ের ওপর সর্বোচ্চ ৩০ মিনিটে তাদের নিজেদের বিজ্ঞানমনস্ক নাটক মঞ্চস্থ করে। এই প্রতিযোগিতায় পূর্ব বর্ধমান জেলাতে প্রথম স্থান দখল করে হরিসভা হিন্দু বালিকা বিদ্যালয় মর্নিং এবং দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে কাঞ্চননগর দীননাথ দাস উচ্চ বিদ্যালয়। হরিসভা স্কুল শ্রেষ্ঠ চিত্রনাট্যের পুরস্কার পায়। কাঞ্চন নগর দীননাথ দাস শ্রেষ্ঠ পরিচালক ও শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর পুরস্কার অর্জন করে।শ্রেষ্ঠ পরিচালকের সম্মান পেয়ে দীননাথ দাস উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক সৌমেন লাহা জনতার কথা কে জানান, এই ধরণের মঞ্চে আমাদের ছাত্রছাত্রীদের এটাই প্রথম প্রয়াস। তাদের এই সাফল্য স্বভাবতই আমাদের সকলকে অপরিসীম আনন্দ দিয়েছে। ওদের চমৎকার অভিনয় এই পুরস্কারের মূলে, যা ভবিষ্যতে নতুন নতুন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করতে আরও উৎসাহ দেবে। তিনি আরও জানান, এই প্রতিযোগিতা থেকে তাঁর প্রাপ্ত পুরস্কার তিনি সমগ্র বিদ্যালয়কে উৎসর্গ করছেন। ঠাকুমার ভূমিকায় শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী নবম শ্রেণির সরমা দাস জানায়, অভিনয়ের জন্য খুব ভাল সংলাপ তাকে সাহায্য করেছে। সৌমেন স্যারের নির্দেশনাতে সে উপকৃত হয়েছে।দীননাথ দাস উচ্চ বিদ্যালয়ের রাষ্ট্রপতি পুরস্কার প্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ড. সুভাষচন্দ্র দত্ত এই সফল আয়োজনের জন্য বর্ধমান সায়েন্স সেন্টারের অধিকর্তাকে ধন্যবাদ জানান। বিদ্যালয় স্তরে বিজ্ঞান সচেতনতা ভবিষ্যৎ জীবনে একজন সতর্ক নাগরিক গড়ে তুলবে বলে তাঁর বিশ্বাস। এই ব্যতিক্রমী সাফল্যের জন্য নাটকের সঙ্গে যুক্ত বিদ্যালয়ের সকলকে তিনি আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন।

সেপ্টেম্বর ০৭, ২০২৩
বিনোদুনিয়া

গোবরডাঙ্গা য় চারদিনের গোবরডাঙ্গা রূপান্তর নাট্য উৎসব

গোবরডাঙ্গা রূপান্তর ৫০ বছরে পদার্পণ করলো। প্রতিবছরের মতন তাদের গোবরডাঙ্গা টাউন হলে অনুষ্ঠিত হলো চারদিনের নাট্য উৎসব। এই উৎসব উদ্বোধন করেন গোবর ডাঙ্গা পৌরসভার পৌরপিতা শঙ্কর দত্ত।ছিলেন গোবরডাঙ্গা থানার ওসি অসীম পাল ও সমাজসেবী বাসুদেব কুন্ডু। এই বছর মুকুল বন্ধপাধ্যায় স্বৃতি সন্মান প্রদান করা হয় নাট্য পরিচালক শ্যামল চক্রবর্ত্তী কে। এই সন্মান তুলে দেন মৃন্ময় বন্দ্যোপাধ্যায়। উৎসবের প্রথমদিন মঞ্চস্থ হয় সুখেন্দু বেরা নির্দেশিত মহিসাদল সমকাল এর নাটক পড়শি বশত করে। হরপ্রসাদ চক্রবর্তী নির্দেশিত সৃষ্টি সালকিয়ার নাটক দন্ড পানির দন্ড এবং সব শেষে মঞ্চস্থ হয় রূপান্তর নাট্য দলের নাটক প্রতাপ সেন পরিচালিত নাটক সোনালী ভোরের স্বপ্ন। দ্বিতীয়দিন মঞ্চস্থ হয় অতনু পাল নির্দেশিত গোবরডাঙ্গা রূপান্তরের নাটক কণিষ্ক। এরপর মঞ্চস্থ হয় অশোকনগর অভিযাত্রী র নাটক ভূত ভগবান। নির্দেশনা দেবাশিস দত্ত। তৃতীয়দিন মঞ্চস্থ হয় কাকদ্বীপ নোনা থিয়েটার এর নাটক দংশন। পরিচালনা দেবাশিস মান্না। এর পর মঞ্চস্থ হয় গোবরডাঙ্গা রূপান্তরের নাটক আমি আগন্তুক। নির্দেশনা শ্যামল দত্ত। সব শেষে মঞ্চস্থ হয় কাবেরী মুখোপাধ্যায় নির্দেশিত ফিনিক কাছড়াপাড়া র নাটক বন্ধনহীন গ্রন্থি। উৎসবের শেষদিন মঞ্চস্থ হয় শ্যামল চক্রবর্ত্তী নির্দেশিত রঙ্গলোক এর নাটক শেকল ছেড়া হাতের খোঁজে।এইদিন অভিনয় জীবনের ৫০ বছর উপলক্ষে আশিষ পাল, প্রতাপ সেন কে রূপান্তরের পক্ষ থেকে সংবর্ধনা জানানো হয়। সবমিলিয়ে মহা সারম্বরে উদযাপিত হলো গোবরডাঙ্গা রূপান্তরের নাট্য উৎসব।

জানুয়ারি ০৭, ২০২৩
বিনোদুনিয়া

রবীন্দ্রনগর নাট্যায়ুধ-এর নতুন প্রযোজনা ‘মাস্টারদা: ১৯৩০’

স্বাধীনতার ৭৫ তম বর্ষে স্বাধীনতা সংগ্রামী মাস্টারদা সূর্য সেনের প্রতি নিবেদিত এক শ্রদ্ধাঞ্জলি হিসাবে দমদমের ঐতিহ্যবাহী নাট্যদল রবীন্দ্রনগর নাট্যায়ুধ মঞ্চস্থ করল তাঁদের নতুন প্রযোজনা মাস্টারদা: ১৯৩০। নাটকটি লিখেছেন ও নির্দেশনা দিয়েছেন ড. দানী কর্মকার। কলকাতার মুক্তাঙ্গন মঞ্চে মঞ্চস্থ হল নাটকটি। মাস্টারদার জীবন ও দর্শনমগ্ন এক সমষ্টিজীবন এই নাট্য। এই নাটক এক বেদনাদায়ক এবং একই সাথে বিস্মৃত ইতিহাসের গৌরবময় পাঠে পরিণত হয়েছে। ডকু থিয়েটারের আঙ্গিকে মঞ্চের নির্ধারিত পরিসরেই উঠে এসেছে ঐতিহাসিক সেই সময়। অবিভক্ত বাংলার অজস্র বিপ্লবীদের স্বাধীনতার লড়াইয়ে অবিস্মরণীয় আত্মবলিদানের এক রক্তাক্ত দলিল যেন এই নাটক। এ যেন সংলাপের মাধ্যমে এক অখন্ড জীবন-কথা। নাট্যকার সংলাপ, আবহে, অভিনয়ের মাধ্যমে মঞ্চের পরিসরে ত্রিশের সেই ঐতিহাসিক যুগ রচনা করেছেন আশ্চর্য দক্ষতায়। ঐতিহাসিক হলেও এই নাটক সমকালীন চিরন্তন মহাকাব্য হয়ে উঠেছে। ত্রিশের দশকে ব্রিটিশ পরাধীনতার সেঁকল ছিঁড়তে বাংলার যে সমস্ত বিপ্লবী তরুণ তরুণী সংগ্রাম করেছেন তাঁদের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন মাস্টারদা। গান্ধীজীর অহিংস আন্দোলনের বিপরীতে চট্টগ্রামে সশস্ত্র বিপ্লবী আন্দোলন গড়ে তুলেছিলেন মাস্টারদা। আইরিশ রিপাবলিকান আর্মির বিপ্লবের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে নিজের দলের নাম রেখেছিলেন ইন্ডিয়ান রিপাবলিকান আর্মি, চট্টগ্রাম শাখা। সেইসব স্বাধীনতা সংগ্রামীদের নাম ও অবদানের পাশাপাশি এই নাটকে উল্লেখিত হয়েছে তৎকালীন ঐতিহাসিক ঘটনা ও মুহূর্ত। এ যেন অগ্নিযুগের বিপ্লবনাট্য।অতিমারি কাটিয়ে মাস্টারদার জীবন ও সাধনার সমস্ত তথ্য সাল-তারিখসহ ১ ঘণ্টা ২৫ মিনিটের এই নাটকটি সত্যি অনবদ্য। মাস্টারদার চরিত্রে কাজল শম্ভুর চরিত্রায়ন প্রশংসার দাবি রাখে। এছাড়া কল্পনা দত্ত ও প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার চরিত্রে যথাক্রমে ঝুমা ঘোষ ও বর্ণালী কর্মকার নাটকে প্রাণ সঞ্চার করেছেন।নাটকের অন্যান্য চরিত্রে অভিনয় করেছেন অমিত সরকার, রাজদীপ সাহা, বিনায়ক কর্মকার, লোকনাথ দাস, ঈশান কর্মকারসহ এক ঝাঁক তরুণ-তরুণী। নাটকের আবহ ও মঞ্চ পরিকল্পনায় ছিলেন ড. দানী কর্মকার। নাটকের বিশাল প্রেক্ষাপট, স্বাধীনতা সংগ্রাম ও আবেগময় মুহূর্ত সৃষ্টিতে আবহ বিরাট ভূমিকা রেখেছে। মঞ্চে বিশাল রক্তাক্ত ক্যানভাস নাটকের বিষয়ভিত্তিক পরিবেশ সৃষ্টিতে সহায়তা করেছে। আলো আঁধার ও যুদ্ধের ভয়াবহতা বোঝাতে সক্ষম হয়েছেন আলোক পরিকল্পক গোবিন্দ কর্মকার। এছাড়া রূপসজ্জায় ছিলেন সৌগত মিত্র, পোশাক ভাবনায় সীমা কর্মকার এবং কোরিওগ্রাফি করেছেন বর্ণালী কর্মকার।

জুন ২৩, ২০২২
বিনোদুনিয়া

বিভাব নাট্য একাডেমির নতুন নাটক

বিভাব নাট্য একাডেমি একাডেমি মঞ্চে এক ঝাঁক নতুন অভিনেতা ও অভিনেত্রীদের নিয়ে মঞ্চস্থ করলো মনোজ মিত্রের কালজয়ী নাটক সাজানো বাগান অবম্বনে বানছা। নাটকটি বানছার সুন্দর বাগানকে ঘিরে গড়ে উঠেছে।তার বাগানের উপর গ্রামের জমিদার নকরির অনেকদিনের লোভ। কিন্তু সে অনেক চেষ্টা করেও বাগানের দখল নিতে পারেনা। অবশেষে সে তার সাথে চুক্তি করলো বানছা মারা যাবার পর বাগানের দখল সে পাবে বিনিময়ে তার সারাজীবনের ভরণ পোষণের দায়িত্ব তিনি নেবেন। কিন্তু আস্তে আস্তে বানছা সুস্থ হয়ে ওঠে এবং সে বাগানের দখল নেয়।একটা মঞ্চ সফল নাটক নুতন করে উপস্থাপন করা খুবই কঠিন কাজ। আর সেই কঠিন কাজকে সুচারুভাবে করেছেন বিপ্লব মুখার্জি। সম্পাদনা ও নির্দেশনার গুনে নাটকটি নুতন ভাবে দর্শকদের কাছে উপস্থাপিত হয়েছে। অভিনয়ের ক্ষেত্রে নান্টু পালের বানছা, নির্মল মৃধার মোক্তার, তারক দাসের ডাক্তার বেশ ভালো। নতুনরা তাদের সাধ্যমত চেষ্টা করেছে। কিন্তু অভিনয়ের ক্ষেত্রে তাদের আরো সাবলীল হতে হবে। সমীর সরকারের মঞ্চ ভাবনা একটা সময়কে ধরেছে যা নাটক উপযোগী। দেবাশিস চক্রবর্তীর আলো নাটকটি কে দর্শকদের দৃশ্যায়নের ক্ষেত্রে সহায়তা করেছে। রবিন দাসের আবহ নাটকটি কে আরো প্রাণবন্ত করেছে। সামান্য ত্রুটি গুলি শুধরে নিলে নাটকটি দর্শকের কাছে আরো গ্রহনযোগ্য হবে।

জুন ২০, ২০২২
বিনোদুনিয়া

ইউটিউবে দর্শকদের নাটক দেখাতে বিশেষ ভাবনা

নাটক দেখবো। কিন্তু তাও আবার ইউটিউবে? সেরকমই ভাবনা নিয়ে এসেছে ইউপিক্স কলকাতা। করোনা পরিস্থিতিতে ইউটিউবের জনপ্রিয়তা বেড়ে যাওয়ায় সেই ইউটিউব কে কাজে লাগিয়ে নাটকের ভাবনা নিয়েছে এই সংস্থা। তাদের এই ইউটিউব চ্যানেলের শুভ উদ্বোধন হয়ে গেল যাদবপুরের ইন্দুমতি সভাগৃহ তে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্বদেশ গাঙ্গুলি, প্রান্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়, রিমি গাঙ্গুলি, অভিজিৎ সেন, রিপণ দাস সহ অন্যান্যরা। বাংলাদেশে ইউটিউবের মাধ্যমে নাটককে তুলা ধরার বিষয়টা বেশ জনপ্রিয় হয়েছে। তাদের আদলেই নাটককে ইউটিউবের মাধ্যমে দর্শকদের কাছে তুলে ধরার ভাবনা নিয়েছে ইউপিক্স কলকাতা। ইউপিক্স কলকাতা-র প্রতিষ্ঠাতা সানি মন্ডল জানিয়েছেন নবাগত চলচ্চিত্র পরিচালকরা যাতে স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে তার জন্য এগিয়ে এসেছে ইউপিক্স কলকাতা। এদিন এই সংস্থার পক্ষ থেকে হ্যাপি বার্থডে, টোটাল সোশ্যাল, এবং দ্য ট্রিপ এই তিনটি ছোট নাটকের পোস্টার উন্মোচন করা হয়। চ্যানেলটি ৫ জুন ইউটিউবে লঞ্চ হবে। সেদিন হ্যাপি বার্থডে নাটকটি দেখতে পাবেন দর্শকরা।

মে ২৮, ২০২২
বিনোদুনিয়া

জীবন অধিকারী র নির্দেশনায় নাটকে ভিন্নতা

গোবরডাঙা নাবিক নাট্যমের নতুন প্রযোজনা অথ বৃষ মঙ্গল কথা হাসির মোড়কে বর্তমান সময়ের একটি জীবন্ত দলিল। নাট্যকার কৃষ্ণেন্দু চট্টোপাধ্যায়ের অসাধারণ লেখনীকে নির্দেশক জীবন অধিকারী হাস্যরসে মালাগেঁথে এই নাটকের প্রতিটি সংলাপ কে করে তুলেছেন জীবন্ত। মঞ্চ ব্যবহার চমকপ্রদ। প্রচলিত অর্থে সেটের ব্যবহার না করে এক ছক ভাঙা আঙ্গিকে নাটকটি উপস্থাপনা করে দর্শকগণকে আপ্লুত করেছেন জীবন অধিকারী।গৌতম সরকার এর আলোক ভাবনা বেশ রুচিশীল। আস্তিক মজুমদারের আবহ সংগীত এই নাটকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। পোষাক নির্মাণ করেছেন অনুতোষ ও মহিতোষ দত্ত। সৌরভ পালের পাপেট ও প্রিয়েন্দু শেখর দাসের মুকুট অসাধারণ। অভিনতা ও অভিনেত্রীদের কোনো প্রসংসাই যথেষ্ট নয়। একঝাঁক অভিনেতা ও অভিনেত্রী মঞ্চে দাপিয়ে অভিনয় করেছেন। দলগত অভিনয় এই নাটকের বড়ো সম্পদ। প্রদীপ কুমার সাহা, শ্রাবণী সাহা, অবিন দত্ত, অনিল কুমার মুখার্জি, স্বরূপ দেবনাথ, আল্পনা সরকার, রাখি বিশ্বাস, নিকিতা সরকার, অশোক বিশ্বাস, সুপর্ণা সাধুখাঁ, নবনীতা বিশ্বাস, সৌরজ্যোতি অধিকারী ও জীবন অধিকারী প্রত্যেকের সাবলীল অভিনয় এই নাটক কে একটি ছন্দে বেঁধে রেখেছে। আল্পনা সরকারের ডান্স কম্পোজিশন বেশ চমৎকার। সব মিলিয়ে একটা আধুনিক রুচিশীল নাটক উপহার দিলেন গোবরডাঙা নাবিক নাট্যম। নির্দেশক জীবন অধিকারী বলেন যে, বর্তমান সময় আমরা হাসতে ভুলে যাচ্ছি, প্রতি মুহূর্ত যাপন করছি নানান মানসিক অবসাদে, তাই ধরণের একটি নাটক দর্শকশ্রোতা বন্ধুদের হয়তো একটু আনন্দ দেবে। নাচ, গান দিয়ে জমজমাট এই নাটকটা দর্শক মহলে সাড়া ফেলেছে।

মে ২২, ২০২২
বিনোদুনিয়া

সালকিয়া সব্যসাচী থিয়েটার দলের নাট্য সেমিনার

বর্তমানে বিভিন্ন থিয়েটার দল থিয়েটার সেমিনারের আয়োজন করছে। থিয়েটার সেমিনারের মূল লক্ষ্য থিয়েটার সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া। সেরকমই সালকিয়া সব্যসাচী বিভিন্ন বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের জন্য সন্ধ্যাবেলায় থিয়েটার সেমিনারের আয়োজন করে। সালকিয়া শিল্পাশ্রম স্কুলে সেমিনারটি অনুষ্ঠিত হয়। সাতটি স্কুলের ৭৫ জন ছাত্রছাত্রী এই সেমিনারে অংশগ্রহণ করে। বিশিষ্ট অভিনেতা, পরিচালক ও বেতার শিল্পী মুরারী মুখোপাধ্যায়ের অসামান্য দক্ষতায় প্রায় দু-ঘন্টা ধরে বিশ্লেষণ করেন থিয়েটার নিয়ে আলোচনা করেন এর মধ্যে ছিল থিয়েটার কি? থিয়েটারের প্রয়োজনীয়তা কেন? মুরারী মুখোপাধ্যায় জানান বিদ্যালয় থেকেই শুরু হওয়া দরকার থিয়েটার শিক্ষা।এছাড়াও অভিজিৎ চ্যাটার্জী ও এই বিষয়ে আলোচনা করে। ছাত্রছাত্রীরা মুগ্ধ হয়ে এই থিয়েটার আলোচনা শুনে আপ্লুত হন। ছাত্রছাত্রীরাও প্রশ্নোত্তর পর্বেও যোগদান করে। শেষে তারা বলে এই প্রথম এমন একটি অনুষ্ঠানে তারা অংশ নিল যেখানে তারা শিখলো যে পুঁথিগত বিদ্যা ও অর্থনৈতিক সচ্ছলতাই জীবনে সব নয়। এই থিয়েটার সেমিনার নিয়ে তারা জানল চরিত্র গঠন, মনের বিকাশ ও জ্ঞানের ভান্ডার একমাত্র থিয়েটারই বৃদ্ধি করতে পারে।

মে ১২, ২০২২
বিনোদুনিয়া

মিনার্ভা থিয়েটারে 'দেবীগর্জন' গর্জে উঠল

বিজন ভট্টাচার্যর কাছে নাটক শুধু একটা পারফরম্যান্স ছিল না। শিল্প বলতে তাঁর কাছে ছিল সমাজ বদলের হাতিয়ার। থিয়েটারকে বুঝতেন গণের নাটক। যা কেবল সাধারণ মানুষের ভাল-মন্দ-দ্বিধা-দ্বন্দ্বের কথা বলবে না। নাটকের মধ্য দিয়ে মানুষও হয়ে উঠবেন সেই গল্পের এক একজন অংশ। দেবীগর্জন- বিজন ভট্টাচার্যের লেখা একটি অন্যতম নাটক। বীরভূমের সাঁওতাল কৃষকদের আন্দোলন অর্থাৎ দেবীগর্জন নাটক, উৎসর্গ করা হয়েছে কৃষক আন্দোলনের শহীদদের উদ্দেশ্যে, উনিশ বিশ শতক জুড়ে নীল- তেভাগা সহ সমস্ত কৃষক যারা আন্দোলনে শহীদ হয়েছেন। এছাড়া দেবীগর্জন নাটকে দুটি প্রসঙ্গ উল্লেখ করতে হয়। বিজন ভট্টাচার্য জানান যে আদিবাসী সাঁওতালরা তাদের আরাধ্য হিসাবে কালী কে আরাধনা করেন, সেই মাতৃ শক্তির আবির্ভাবের কথা খেয়াল রেখেই নাটকে দেবীগর্জন নাম এবং প্রসঙ্গ এসেছে। কৃষক আন্দোলন নাটকে প্রেক্ষাপট হলেও দুটি প্রসঙ্গ নাটকে প্রধান- ধর্মগোলা ও পঞ্চায়েত ব্যবস্থা। নির্যাতিত নিপীড়িত সাঁওতাল আদিবাসী কৃষকদের জোতদারদের বিরুদ্ধে সংগ্রামের চিত্র প্রকাশ পেয়েছে এই দেবীগর্জন নাটকের মধ্য দিয়ে। জমিদার প্রথার বিলোপ হলেও মধ্যস্বত্বভোগী প্রভঞ্জন সামন্ততান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গিতে পঞ্চায়েতি প্রথাকে পিছনে রেখে কৃষকদের জমি নিজের দখলে করে নেন। এদিকে কৃষি ঋণ ও সুদ জোগাতে হত দরিদ্র আদিবাসী কৃষকরা সর্বস্বান্ত হয়। অবশেষে এই ব্যবস্থার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায় তারা, নিজেদের অধিকার ছিনিয়ে নেয়। তিন অঙ্কের এগারোটি গর্ভাঙ্কে দেবীগর্জন হয়ে উঠেছে স্বার্থক গণনাট্য। এখানে আমি রাজা আমারই নীতি ইটাই রাজনীতি প্রভঞ্জনের এই কথায় যেমন সমকালীন জোতদারের মুখোশ খুলে যায়, ধর্মগোলার মজুত ধানের বিতরণের দাবিতে চাষিদের সঙ্গে জোতদারের বিরোধ বাধে, তখন মংলার চেতনায় প্রশ্ন জাগে- কে রাজা, কার রাইজ্য ? এটাই গণনাট্যের মূল। নাটকের শেষে মংলার নেতৃত্বে জোটবদ্ধ ভুঁই চাষির দল পঞ্চায়েতি শাসন চালুর দাবি জানায়। সেই দাবির গর্জনই আসলে দেবীগর্জন। কলকাতার মিনার্ভা থিয়েটারে নাট্যিক কোলকাতার এই দেবীগর্জন নাটকটি মঞ্চস্থ হল। নাটকটিতে সকলের পারফরম্যান্স দর্শকদের মন ছুঁয়ে গেছে। প্রতাপ কুমার মণ্ডল নাট্যিক কোলকাতা দলের কর্ণধার ও নির্দেশক। তিনি জানিয়েছেন, বিজন ভট্টাচার্য মহশয়ের নাট্য চিন্তা ভাবনা ও দর্শন এর জায়গা থেকে আমরা গত ছয় মাস ধরে এই নাটকের মহড়া দিচ্ছি, চেষ্টা করছি লেখকের মূল ভাবনা কে তুলে ধরার; প্রথম অভিনয়ের মঞ্চায়নের ভুলভ্রান্তি সব শুধরে আমরা শিঘ্রই মঞ্চে ফিরছি; এবং দেবীগর্জন নাটক বাংলা থিয়েটারে যে যথেষ্ট প্রভাব ফেলবে, সেটা আমাদের বিশ্বাস। এই নাটকে সৃজিতা বান্টি ভদ্র নাটকের মূল কেন্দ্রে রত্না চরিত্রে অভিনয় করেছেন। বাংলা থিয়েটারের প্রথম সারির অভিনেত্রী একজন সৃজিতা। তাঁর প্রথম নির্দেশনা দেবীগর্জন নাটকটি, তিনি যে মুন্সিয়ানার সঙ্গে অত্যন্ত নিপুণ ভাবে এই নাটকের নির্দেশনা দিয়েছেন, তা যথেষ্ট প্রশংসার দাবী রাখে। এই নাটকে সৃজিতাঁর অভিনয় সত্যিই প্রশংসার দাবী রাখে।এই নাটকে তিনি যুব সাউতাল মংলা চরিত্রে অভিনয় করেছেন কাজল শম্ভু। শম্পা দে এই নাটকে গীরি চরিত্রে যথেষ্ট প্রভাবশালী অভিনয় দেখিয়েছেন। শঙ্খ বরণ দাস ত্রিভুবনের চরিত্রে তিনি অসম্ভব দক্ষতার সঙ্গে চরিত্রের রূপ দিয়েছেন। সন্তু সাধু খাঁ নাটকের মূল নেগেটিভ চরিত্র প্রভঞ্জন যার জন্যই এই দেবীগর্জন, তিনি সকল সহশিল্পীদের সঙ্গে নিজের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করে গেছেন।

মে ০৮, ২০২২
বিনোদুনিয়া

‘পুরাতন ভৃত্য" নাটক সকল দর্শকদের মুগ্ধ করেছে

রবীন্দ্রনাথের পুরাতন ভৃত্যের প্রতি একটি মমতা আছে--রাজা ও রাণী নাটকের শঙ্কর, খোকাবাবুর প্রত্যাবর্তন গল্পের রাইচরণ ইত্যাদি তাহার প্রমাণ।এই কবিতায়-লেখা গল্পটির মধ্যে পুরাতন ভৃত্য কৃষ্ণকান্তের প্রতি প্রভুর কৃত্রিম-বিরক্তি-মিশ্রিত মমতার বর্ণনা এবং অনাড়ম্বর অথচ অব্যর্থ শব্দপ্রয়োগ লক্ষ্যযোগ্য। কথ্য ভাষায় অতিপরিচিত বিষয়ের বর্ণনা পাঠককে মুগ্ধ করে। সমস্ত কবিতাটি হাস্যরসে অভিসিক্ত করিয়া শেষের কলিতে করুণরসের অতর্কিত অকস্মাৎ অবতারণা, গল্পটিকে মর্মস্পর্শী করিয়াছে। দুইটি বিপরীত প্রকৃতির রসকে আশ্চর্য অপূর্বভাবে মিশ্রিত করা হইয়াছে এই কবিতায়।এই রকম একটি কবিতাকে যখন নাটকের আকারে মঞ্চে দেখি।বাস্তবিক বিস্ময়ে অভিভূত হই। চন্ডীতলা প্রম্পটার তাঁর ২৩ তম জন্মদিনের প্রাক্কালে একাডেমিতে পুরাতন ভৃত্য নাটকের চৌষট্টি তম মঞ্চায়ন দেখে দর্শকদের উচ্ছাস, আবেগ ও ঘন ঘন হাততালির বহরে নিজেও আপ্লুত হয়ে যাই। শোনা যায় ভানু চট্টোপাধ্যায় নাট্যরূপ দিয়েছিলেন তথাপি নির্দেশক নিজের মুন্সিয়ানায়, সম্পাদনায় ও কেষ্ট চরিত্রের অভিনয়ের গুনে নাটক টির স্বার্থক রূপায়ন ঘটেছে। নাটকের প্রয়োজনে কয়েকটি চরিত্রের সৃষ্টি তা যে কতোটা দরকার ছিল সেটা বোঝা যায় টানটান উত্তেজনা চরমে পৌঁছানোর পর।কর্তা অরূপ চৌধুরী ও গিন্নী তমসা ঘোষ প্রথম থেকেই ক্লাইমেক্স টিকে হাসির মোড়কে বেঁধে রেখেছিলেন।বাড়ির দুই চাকর নিবারণ ও কেষ্ট। একজনের প্রতি ভালোবাসা আর একজনের প্রতি বিরক্তি সুলভ আচরণ।সৌমিত্র ঘোষ ও প্রদীপ রায় ওঁদের এতোটাই স্বাভাবিক মঞ্চে আধিপত্য বিস্তারের অভিব্যক্তি ঘটিয়েছেন এককথায় অনবদ্য। তবে পুন্ডরী ও অনুকূল চরিত্রে সুরজিৎ কোলে ও কৌশিক মাল নির্দেশকের কথা ষোলোআনাই মেনে চলেন তা তাঁদের অভিনয়ে বোঝা যায়। তবে কুসুম চরিত্রে সপ্তবর্ণা আলু নাটকটি কে যে ভাবে অভিনয় দিয়ে মূল বিষয় সম্পর্কে আমাদের সমাজে অন্যায়ের বিরুদ্ধে আঘাত হেনেছেন তা সত্যিই প্রশংসনীয়।ডাক্তার চরিত্রে অনিমেষ পাঁজার অভিনয় সাবলীল।অয়ন রায়ের আবহ, তন্ময় চক্রবর্তী র আলো আর চঞ্চল আচার্য্য র মঞ্চ নাটকের পূর্ণতা পায়। প্রদীপ রায় এর নির্দেশনায় এই নাটকটি সকল দর্শকদের মন জয় করেছে।

এপ্রিল ২৯, ২০২২
বিনোদুনিয়া

"তোতা কাহিনী" ছোটদের দুর্দান্ত অভিনয় সকল নাট্যমোদি দর্শকদের মন জয় করে নেবে

চণ্ডীতলা প্রম্পটারের আয়োজনে আকাডেমি মঞ্চে নতুন প্রযোজনা তোতা কাহিনী মঞ্চস্থ হলো। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গল্প। নাট্যরূপ ,সম্পাদনা ও নির্দেশনায় প্রদীপ রায়। মূলত অন্তঃসারশূন্য বাহ্যিক আড়ম্বরপূর্ণ শিক্ষা ব্যবস্থার ফাঁদে পড়ে ছাত্রদের ভয়াবহ পরিণতি দেখানো হয়েছে এই নাটকে। ব্যাঙ্গাত্মক হাস্যরস দিয়ে তোতাকাহিনী নাটক টিকে প্রদীপ রায় মঞ্চস্ত করার প্রয়াস নিয়েছেন।সঙ্গে ভাবনা ও পরিকল্পনা রাকেশ ঘোষ, গানে অভিজিৎ আচার্য্য ও কৃষ্ণেন্দু ভট্টাচার্য্ ও কোরিওগ্রাফি প্রিয়াঙ্কা ঘোষ (রায়)। নাচে গানে অভিনয়ে জমজমাট। ছোট থেকে বড় প্রত্যেকেরই অভিনয়ে দর্শকদের মন ছুঁয়ে যায়। রাজা সম্প্রীতা চক্রবর্তী, ভাগিনা-আদিত্য রায়, সেনাপতি-নীলাদ্রি রায়, পুরহিতগন - দেবজ্যোতি রায়, সত্যম ঘোষ ও রিতম পান, লিপিকারগন-অন্বেষা মুখার্জী,সৌরিমা তপাদার ও স্নেহা ঘোষ, স্যাকরা- অরূপ চৌধুরী, কমার-অনিমেষ পাঁজা, কমার গিন্নী- সপ্তবর্ণা আলু, নিন্দুকগন- আরাত্রিকা চৌধুরী, সম্মৃদ্ধি চৌধুরী ও শ্রেয়শ্রী আচার্য্য তোতা-পিয়াসা ঘোষ, কতোয়াল ; অর্নব মুখোপাধ্যায়। আলো-তন্ময় চক্রবর্তী ও মঞ্চ- চঞ্চল আচার্য্য একশ শতাংশ সফল হয়েছে।

এপ্রিল ২৭, ২০২২
বিনোদুনিয়া

"স্বীকারোক্তি " দুজনের অনবদ্য অভিনয় সকলের মন ভরাবে

সম্প্রতি গোবরডাঙা নাবিক নাট্যমের প্রযোজিত নাটক স্বীকারোক্তি মঞ্চস্থ হলো কলকাতার তৃপ্তি মিত্র সভা গৃহে। নাটক যখন মানুষের মূল্যবোধকে নাড়া দেয়, নাটক যখন মানুষের মানবিক চেতনাকে স্পর্শ করে তখনই সেই নাটক হয়ে ওঠে আমার আপনার জীবনের গল্প. ঠিক এই রকম একটা বিষয় নিয়ে গোবরডাঙা নাবিক নাট্যম মঞ্চস্থ করলো তাঁদের নতুন নাটক স্বীকারোক্তি। সুব্রত সরকারের অসাধারণ লেখনীতে নির্দেশক জীবন অধিকারী বাস্তব রূপ দিয়েছেন। এই নাটকের মুখ্য চরিত্রে অভিনয় করেছেন আল্পনা সরকার। তিনি যে একজন দক্ষ অভিনেত্রী, প্রমান করেছেন তার অভিনয়ে। এই মুহূর্তে পশ্চিমবঙ্গ এর দক্ষ অভিনেত্রীর তালিকায় তার নাম নথিভুক্ত হলো। তার সাবলীল অভিনয় দর্শকদের মন জয় করেছে। নির্দেশক জীবন অধিকারী দর্শকদের সাথে গল্প বলতে বলতে কখন নাটক শুরু করে দিয়েছেন দর্শকগণ বুঝতেই পারেনি। নাটকের শেষে দর্শকদের অনুভূতি মিলেমিশে একাকার হয়ে যায় নির্দেশকের গল্পবলার ছন্দে। কিছূ সময়ের জন্যে দর্শকমন্ডলী পৌঁছে জান তাঁদের ফেলে আসা জীবনে। জীবন বাবু নাটকে বলেন স্বপ্ন ফেরি করাই হলো তার প্রধান কাজ। নাটকে ব্রেকট, স্থানীস্ল্যাভেসকি র রীতি মিলেমিশে একাকার হয়ে যায়। এখানেই এই নাটকের স্বার্থকতা। আলো করেছেন অবিন দত্ত, নাটকে বোঝাই যায়নি তার আলোর ব্যবহার দর্শকদের সাথে কখন কিভাবে মিশে গেছে। আবহ নির্মাণ করেছেন আস্তিক মজুমদার, এই নাটকে ভীষণ উপযোগী হয়ে উঠেছে তার আবহ সংগীত। সর্বোপরি এই নাটকের গল্প ও সাবলীল অভিনয় এতোই বুদ্ধিদীপ্ত সেখানে মঞ্চের ব্যবহার নিষ্প্রয়োজন। সেটা নির্দেশক জীবন বাবু অনুভব করেছেন। তিনি এই নাটকের সাথে তাল মিলিয়ে নন্দিতা বাগচীর বার্তাবহ গল্প কে শুনিপুন দক্ষতায় প্রয়গ করেছেন এই নাটকে।এখানেই এই নাটকের সার্থকতা। জীবন অধিকারী যে একজন দক্ষ অভিনেতা বারবার সেটা প্রমাণিত। নির্দেশক জীবন অধিকারী কে কুর্নিশ জানাই তার দক্ষ নির্দেশনার জন্যে। বাংলার সংস্কৃতি কে আরো একধাপ এগিয়ে রাখলেন তরুণ নির্দেশক জীবন অধিকারী।

এপ্রিল ২১, ২০২২
বিনোদুনিয়া

"খনন আদি" দুটি খুনের রহস্য ও আইনী জটিলতার লড়াই

বেলঘড়িয়া এথিকের নবতম প্রযোজনা খনন আদি অভিনীত হলো, গিরিশ মঞ্চে। নাটকটির বিষয় ভবনা ও নির্দেশনা, চরিত্র নির্মাণ ও সংলাপ- আলো- আবহ চতুষ্কোণে ২ ঘণ্টা চুম্বকের মত আকর্ষণ করে রাখে দর্শকদের, যার রেশ থেকে যায় শেষের পরেও।মূলত রহস্যের আঙ্গিকে উপস্থাপিত হলেও নাটকের শেষে রহস্য উন্মোচিত হয়না , থেকে যায় ওপেন এন্ডেড খুন হয়েছে, রথীন্দ্র প্রতাপ সিংহা,নিজের বেডরুমে।তিনি শহরের সবচেয়ে ক্ষমতা ও প্রভাবশালী ড্ন। তার প্রাসাদের নাম মহাকাব্য । তদন্তের দায়িত্ব পান শহরে নতুন পোস্টিং পাওয়া এ সি পি ইন্টেলিজেন্স সমুদ্র বর্মন। খুনের প্রধান সাসপেক্ট ব্যারিস্টার ঋষি সেন,তাকে রাখা হয় হাউস অ্যারেস্টে। কারণ ঠিক পঁচিশ বছর আগে তার একমাত্র মেয়ে ভূমিকা খুন হয়েছিল রথীন্দ্র প্রতাপের হাতে।কিন্তু মৃত্যুর অসংখ্য কারণ ছড়িয়ে চার পাশে, রথীন্দ্র এর তিন স্ত্রী,চার ছেলে,বিপুল সম্পত্তি এর মালিকানা, রিভাল গ্যাং, দক্ষিণের বিজনেস এক্সটেনশনএবং তিনি খুন হন, নিজের সুরক্ষিত বেডরুমেই। হটাৎ সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত এক ব্যক্তি সামনে এসে খুনের দায় ভার স্বীকার করেন। কিন্তু কেনো? তাকে এই অপরাধী কে বাঁচাতে ঋষি সেন নামেন আইনি লড়াইয়ের শেষপর্যন্ত অপরাধী কে? নাটকের সংলাপ অত্যন্ত শক্তিশালী, যা ভাবতে ও ভাবাতে বাধ্য করে। সমুদ্র বর্মণের চরিত্রে শান্তনু দাস, ঋষি সেন এর চরিত্রে দেবাশিস সেনগুপ্ত, কস্তুরী সিংহা এর চরিত্রে কাকলি মজুমদার ও ভিকি এর চরিত্রে শুভম মিত্র এর অভিনয় নাটকের মেরুদন্ড। এছাড়াও নাটকের প্রত্যেকটি চরিত্র নিজের মত করে সম্পূর্ন, নতুন এক ঝাঁক তরুণ অভিনেতা মৃত্যুঞ্জয় রায়,তাপস সরকার, সুরঞ্জনা দাস,কেয়া কুন্ডু, অর্ণব দত্ত ও এষনা সেন এর কাজেও রয়েছে যত্নের ছাপ। সৌমেন চক্রবর্তী এর আলোক ভাবনা ও প্রয়োগ নাটকটিকে অন্য মাত্রায় নিয়ে যায়, তিনি মঞ্চে নতুন ব্যাকরণ সৃষ্টি তে সফল। তপন বিশ্বাসের আবহ নির্মাণ ও মদন হালদার এর মঞ্চ ভাবনা সৃষ্টি কে সম্বৃদ্ধ করে।প্রথম অভিনয় এর পর এই নাটক টির আরো বেশি করে দর্শকদের মস্তকে- মননে পৌঁছানোর দাবিদার তা প্রমাণিত। ততাকথিত তারকাহীন ভাবে বেলঘরিয়া এথিকের এই ছন্দবদ্ধ নির্মাণ আরো সফল হবে, নতুন অভিনেতা দের অভিনয় কুশল আরো ধারালো হবে এই ভরসা রাখি। নাট্যকার ও নির্দেশক দেবাশিস সেনগুপ্ত র নির্দেশনায় এই নাটক সকল নাট্যমোদি দর্শকদের ভালো লাগবে।

এপ্রিল ০৯, ২০২২
বিনোদুনিয়া

পূর্ব বর্ধমানে মহা সমারোহে পালিত হল বিশ্ব নাট্যদিবস

২৭শে মার্চ রবিবার বিশ্ব নাট্যদিবস। এই উপলক্ষে পূর্ব-বর্ধমান জেলার ভাতাড়ের প্রচেষ্টা নাট্যসংস্থা ও নটরাজ মিউজিক কলেজের পক্ষ থেকে যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে তা প্রশংসনীয়। নাটক জীবন ও সমাজের দর্পণ। নাটকের মাধ্যমে সমাজকে জাগ্রত করা যায় তা আমরা ব্রিটিশ শাসিত ভারতের সময় থেকেই দেখে এসেছি। এখন এই সময়কালে ছোট থেকে বড়ো সকলে যখন মোবাইলে আকৃষ্ট তখন ভাতাড়ের মত একটা ছোট্ট জায়গায় অনেক অসুবিধা অনেক রকম সমস্যা থাকা সত্ত্বেও প্রচেষ্টা যে নিজের চেষ্টা জারি রেখেছে তা অতুলনীয়। আজ সন্ধ্যায় প্রচেষ্টার পক্ষ থেকে তিনটি নাটকের অংশ অভিনীত হয়েছে -- নিরূপ মিত্রের পাওনা গন্ডা; মনোজ মিত্রের-- টাপুর টুপুর আর চন্দন সেনের অনুবীক্ষণ। শুধুমাত্র নাটক মঞ্চস্থ করা নয় একটা ছোট আলোচনা সভার আয়োজন ও করা হয় নাটকের শেষে। যেখানে আমন্ত্রিত অতিথিরা এবং দর্শক নিজেদের মতামত জানাতে পেরেছেন। এই উদ্যোগ যেমন নাট্য শিল্পকে এগিয়ে নিয়ে যেতে সাহায্য করবে। তার সঙ্গে আগামী প্রজন্মকে নাটক বিষয় আগ্রহী করে তুলবে। আর শহরের বড়ো বড়ো মঞ্চ থেকে দূরে থাকা নাট্য পিপাসু দের পিপাসা মেটাবে। এই সংস্থার সভাপতি শ্রী প্রসেনজিৎ ব্যানার্জী মহাশয় ও সম্পাদক শ্রী ধীমান ভট্টাচার্য মহাশয়ের ঐকান্তিক চেষ্টা ও পরিশ্রম এগিয়ে নিয়ে চলেছে এই অঞ্চলের নাট্য চর্চাকে। আগামী দিনে ওনাদের আগামী প্রজন্ম নাট্য শিল্প জানবে ও নাট্যচর্চা শিখবে এই আশা রাখি।

মার্চ ২৭, ২০২২
বিনোদুনিয়া

অনুষ্ঠিত হলো গোবরডাঙ্গা কথাপ্রসঙ্গ নাট্য দলের নাট্য উৎসব ২০২২

অনুষ্ঠিত হলো গোবরডাঙ্গা কথাপ্রসঙ্গ নাট্য দলের নাট্য উৎসব ২০২২ গোবরডাঙ্গা শিল্পায়ন স্টুডিও থিয়েটার ও গোবরডাঙ্গা সংস্কৃতি কেন্দ্রে মহা সাড়ম্বরে গোবরডাঙ্গা কথাপ্রসঙ্গের নাট্য উৎসব ২০২২ অনুষ্ঠিত হলো। এর শুভ সূচনা করেন পূর্বাঞ্চল সংস্কৃতি কেন্দ্রের প্রশাসনিক আধিকারিক অভিজিৎ চট্ট্যোপাধ্যায়, উপস্থিত ছিলেন আশিস দাস, শ্যামল দত্তর মতো বিশিষ্ট নাট্য ব্যক্তিত্বরা। উপস্থিত ছিলেন গোবরডাঙা পৌরসভার নবনির্বাচিত পৌরপ্রধান শঙ্কর দত্ত। তিনি বলেন গোবরডাঙার সংস্কৃতির বিকাশের লক্ষ্যে পৌর টাউন হলকে আরো ব্যাবহার উপযোগী করে তোলা হবে। অনুষ্ঠানের শুরুতে সঙ্গীত পরিবেশন করেন দীপা ব্রহ্ম। মঞ্চে উপবিষ্ট সকল নাট্য ব্যক্তিত্বকে স্মারক সম্মানে সম্মানিত করা হয়। মূল্যবান বক্তব্য রাখেন মঞ্চে উপবিষ্ট সকল আতিথিবর্গ। তারপর পরপর দুখানি নাটক মঞ্চস্থ হয়। প্রথম নাটক বারাসাত জনস্বর প্রযোজিতনাটক- হিজিবিজি প্রা: লি:। নির্দেশক - প্রলয়। দ্বিতীয় নাটক গোবরডাঙ্গা কথাপ্রসঙ্গের বন্ধ দরজা, নির্দেশনা ও সামগ্রিক পরিকল্পনা - বিকাশ বিশ্বাস। এই নাটকটি দর্শকদের মনে সাড়া ফেলে দিয়েছে। একজন সৎ মানুষের মস্তিত বিভ্রম অথবা তাঁর জীবনের সততার বিড়ম্বনার গল্প এই নাটকে প্রতিফলিত হয়েছে। অভিনয় এই নাটকের সম্পদ, প্রত্যেক অভিনেতার অভিনয় দক্ষতা দর্শকদের মাতিয়ে রেখেছিলো। বিশেষ করে নীলাঞ্জন ভৌমিক অনবদ্য। দীর্ঘদিনের নাট্য পরিচালনায় অভিজ্ঞ নির্দেশক বিকাশ বিশ্বাস এর এই নাটকটি অত্যন্ত সময়োপযোগী কাজ এবং দর্শক মনে দাগ কেটে যায়। দ্বিতীয় দিন সন্ধ্যায় গোবরডাঙা সংস্কৃতি কেন্দ্রে প্রথম নাটক পরিবেশন করে ঠাকুরনগর অনুরঞ্জন, নাটক -যা তারা পারে না। নির্দেশনা করেছেন মিন্টু মজুমদার। এইদিন মঞ্চস্থ হয় বসিরহাট কিংশুকের নাটক ময়নামতীর ইতিকথা, নির্দেশক মুকুন্দ চক্রবর্তী। তৃতীয় দিন প্রথম নাটক ছিলো আয়োজক সংস্থা কথাপ্রসঙ্গের বন্ধ দরজা, দ্বিতীয় নাটক গোবরডাঙা মৃদঙ্গম প্রযোজিত ছায়াকৃত, অসমের বিখ্যাত নির্দেশক কুশল ডেকা। নাচ, গান, নাটকের আড্ডা, প্রচুর দর্শকদের সমাবেশে, আন্তরিকতায় নাট্য উৎসব প্রাণ পেয়েছে। সংস্থার কর্ণধার বিকাশ বিশ্বাস জানান, কথাপ্রসঙ্গ দীর্ঘ কুড়ি বছরের বেশি সময় ধরে নাটকের বিভিন্ন আঙ্গিকে কাজ করে চলেছে, নাট্য উৎসব এর মধ্যে অন্যতম কর্মসূচি। কথাপ্রসঙ্গ বিগত দিনে জাতীয় নাট্য উৎসবেরও আয়োজন করেছে। কোভিড পরবর্তী সময়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে সময় লাগলেও আমাদের মননে ও জীবনে নাট্য চর্চা কখনো থেমে থাকেনি। কথাপ্রসঙ্গের এই কর্মকান্ডের সফলতার পিছনে অসংখ মানুষের ভালোবাসা, আদর ও প্রশ্রয়। থিয়েটার বেঁচে থাকবে থিয়েটারের শক্তিতে।

মার্চ ২৪, ২০২২
বিনোদুনিয়া

কোম্পানির মালিককে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছেনা জানালেন রূপঙ্কর

একজন কোম্পানির মালিককে আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। নাটকীয় ভাবে উধাও হয়ে গেলেন। কিন্তু বাস্তবে এমন তো হতেই পারে।কোনো ষড়যন্ত্র নাকি ইচ্ছে করেই গা ঢাকা দিয়েছেন এখনো বোঝার উপায় নেই।এই কোম্পানির বাকি কর্মীরাই কি এর পেছনে রয়েছেন!কিন্তু এখানে রূপঙ্কর বাগচী কি করছেন!!! এই সব প্রশ্নের উত্তর বা এই ধাঁধার সমাধান মিলবে কৃষ্টি পটুয়ার আগামী নাটকের প্রিমিয়ারে। চাঁদমারি, এই নাটকে করোনা কালের একটি দীর্ঘ সময় পর আবার মন্চে রূপঙ্করের নাটকের দল নতুন প্রযোজনা নিয়ে হাজির হচ্ছে নিরঞ্জন সদনে আগামী ২০ মার্চ।এর আগে জেহাদ, হীরালাল বায়োস্কোপ এর মতো সফল প্রযোজনা কৃষ্টি পটুয়ার কাজের মান এবং শৈলির জনসমাজে এক ছাপ ছেড়েছে। সেই ট্র্যাডিশনকে মাথায় নিয়েই আবার নতুন নিটক চাঁদমারি-এর আগমন।এর আগে নাটকে গান এবং আবহসঙ্গীত লাইভ করা হতো তবে এই নতুন প্রযোজনায় সেটা রেকর্ড করা হয়েছে। নাটকটা পরিচালনা করছেন দেবদাস ঘোষ। রূপঙ্কর বললেন, লকডাউনের পর এই প্রথম নতুন প্রযোজনা নিয়ে আসছি।এখানে আমি রূপঙ্কর নই, চৈতালিও অন্য ভূমিকায়। আসলে গল্পটা একটা কোম্পানির। কোম্পানির বস হঠাৎ বেপাত্তা হয়ে যান। কোম্পানির কর্মীদের মধ্যে নানা সমীকরণ বদলাতে থাকে। কোথায় গেলেন বস। নানা প্রশ্নের উত্তর নিয়ে আমাদের এই নাটক চাঁদমারি। এই প্রথম আবহসঙ্গীত রেকর্ড করলাম নাটকের জন্য। চৈতালি বললেন, এখানে আমি প্রমিলা,আর রূপঙ্করের পরিচয় নাটক দেখলে জানবেন। মাঝে অনেকদিন নাটকের কোনো কাজ করতে পারিনি। তাই ভালো লাগছে আবার মঞ্চে ফিরছি এই ভেবেপরিচালক তথা সহ অভিনেতা দেবদাস ঘোষ বললেন, আসা করি এই নতুন প্রযোজনাটা কৃষ্টি পটুয়ার আগের প্রযোজনা গুলোর মতোই সবার ভালো লাগবে। আবহসঙ্গীত নির্মানে আর্যা,রৌনক,আয়শ্রী,সুদীপ সবাই সহযোগিতা করেছেন। কৃষ্টি পটুয়ার চাঁদমারি নাটকটি প্রথম মঞ্চস্থ হবে আগামী ২০ মার্চ, নিরঞ্জন সদন,সন্ধ্যা ৬টায়।

মার্চ ১৯, ২০২২
বিনোদুনিয়া

সাড়ম্বরে অনুষ্ঠিত হল গোবরডাঙা নাবিক নাট্যমের নাট্য মিলন উৎসব ২০২২

গোবরডাঙ্গার ঐতিহ্যবাহী গোবরডাঙা নাবিক নাট্যম ১৯৭৭ সাল থেকে নিয়মিত নাট্য চর্চা করে চলেছে। ৪ থেকে ৬ ই মার্চ ২০২২ গোবরডাঙা শিল্পায়ন ষ্টুডিও থিয়েটার হলে অনুষ্ঠিত হল গোবরডাঙা নাবিক নাট্যমের নাট্য মিলন উৎসব। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অভিজিৎ চ্যাটার্জী হৈমন্তী চট্টোপাধ্যায় জিতেন্দ্র সিং, সুকুমার মাহাতো তাছাড়া ও বিশিষ্ট নাট্য ব্যক্তিত্ব আশিস চট্টোপাধ্যায়, শ্যামল দত্ত, আশীষ দাস, বুদ্ধদেব ভট্টাচাৰ্য, অভিক ভট্টাচাৰ্য, প্রদীপ রায়চৌধুরী প্রমুখ ব্যক্তিরা উপস্থিত থাকবেন। এই দিন প্রথমে মঞ্চত্ব হবে আমতা পরিচয় এর নাটক Thank You Dadaji, নির্দেশনা ঋতুপর্ণা বিশ্বাস, তারপরই নাবিক নাট্যম মঞ্চত্ব করে তাঁদের এই বছরের নতুন নাটক অথ বৃষ মঙ্গল কথা, নাট্যকার কৃষ্ণেন্দু চট্টোপাধ্যায়, নাটকটির সামগ্রিক ভাবনায় ও নির্দেশনায় রয়েছেন জীবন অধিকারী। ৫ ই মার্চ ছিল তিনটে নাটক, প্রথমে মুকুলিকা পরিবেশন করবে শ্রুতি নাটক তাহার নামটি রঞ্জনা, নির্দেশনা অনিমা দাস, দ্বিতীয় নাটক হরিপাল আশ্রমিকের সেলসম্যান, নির্দেশনা ভাস্কর দাস এবং ও দিনের শেষ নাটক মঞ্চত্ব হবে থিয়েটার জঙ্গল মহলের সূর্য সন্ধান, নির্দেশনা সঞ্জয় আচার্য্য, ৬ ই মার্চ প্রথম নাটক করে হালিশহর ইউনিটি মালঞ্চ নাটক আত্মকথন, নির্দেশনা দেবাশীষ সরকার, তারপর খড়দহ থিয়েটার জন্ মঞ্চত্ব করবে কাম ব্যাক বিনোদিনী, নির্দেশনা তপন দাস এবং শেষে মছলন্দপুর ইমন মাইম সেন্টার পরিবেশন করবে তাঁদের মাইম, নির্দেশনা ধীরাজ হওলাদার। নাবিকের কর্ণধার জীবন অধিকারী জানান এই উৎসব গোবরডাঙার একটি উল্লেখ যোগ্য উৎসব। দর্শক অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে থাকেন এই নাট্য উৎসব দেখার জন্য। দর্শকদের উপচে পড়া ভিড় এই মিলন কে সাফল্য মন্ডিত করে তুলবে আসা করা যায়। সরকারী স্বাস্থ্য ও কোভিড নিয়ম মেনে এই উৎসব হবে।

মার্চ ০৭, ২০২২
  • ‹
  • 1
  • 2
  • ›

ট্রেন্ডিং

বিনোদুনিয়া

ম্যাচ খেলেই দেশ ছাড়ার নির্দেশ! ইরান ফুটবল দলকে ঘিরে আমেরিকার কড়া সিদ্ধান্তে শোরগোল

ফিফার কাছে আবেদন জানিয়েও স্বস্তি পেল না ইরান ফুটবল দল। বিশ্বকাপ চলাকালীন আমেরিকার মাটিতে ইরানের উপর জারি থাকা বিশেষ বিধিনিষেধ বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মার্কিন প্রশাসন। ফলে গ্রুপ পর্বের বাকি ম্যাচগুলির ক্ষেত্রেও একই নিয়ম মেনে চলতে হবে ইরানকে।জানা গিয়েছে, ম্যাচ খেলার জন্য নির্দিষ্ট সময়ের ভিসা দেওয়া হয়েছে ইরানের ফুটবলার ও কোচিং স্টাফদের। খেলা শেষ হওয়ার পর তাঁদের আমেরিকা ছেড়ে মেক্সিকোয় ফিরে যেতে হচ্ছে। প্রথম ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ড্র করার পরও একই পরিস্থিতির মুখে পড়তে হয়েছিল দলটিকে।সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে বেলজিয়ামের বিরুদ্ধে ম্যাচকে ঘিরে। জানা যাচ্ছে, ম্যাচ শেষ হওয়ার মাত্র সাতাশ মিনিটের মধ্যেই ইরান দলকে আমেরিকা ছেড়ে মেক্সিকোর তিজুয়ানায় ফিরে যেতে হবে। এরপর পরবর্তী ম্যাচের আগে আবার আমেরিকায় প্রবেশ করবে তারা।এই পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে ইরান ফুটবল ফেডারেশন ফিফার কাছে নিয়ম কিছুটা শিথিল করার আবেদন জানিয়েছিল। তাদের দাবি ছিল, বারবার যাতায়াত খেলোয়াড়দের প্রস্তুতি ও শারীরিক অবস্থার উপর প্রভাব ফেলতে পারে। তবে সেই আবেদন কার্যত খারিজ করে দিয়েছে মার্কিন প্রশাসন।বিশ্বকাপ সংক্রান্ত মার্কিন টাস্ক ফোর্সের প্রধান অ্যান্ড্রু জিউলিয়ানি জানিয়েছেন, পরিস্থিতি অত্যন্ত সংবেদনশীল। আপাতত বর্তমান ব্যবস্থাই বহাল থাকবে। প্রয়োজন হলে ভবিষ্যতে বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা হতে পারে।তিনি আরও বলেন, ইরান দলের সব খেলোয়াড় ও কোচ ভিসা পেয়েছেন। তবে কয়েকজনকে ভিসা দেওয়া হয়নি, কারণ তাঁদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। মার্কিন প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য দেশের নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বিশ্বকাপে অংশ নিতে আসা সকলের নিরাপত্তা বজায় রাখা।বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে এমন পরিস্থিতি ঘিরে ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। খেলাধুলার পাশাপাশি কূটনৈতিক সম্পর্কও যে এই টুর্নামেন্টে বড় ভূমিকা পালন করছে, ইরানকে ঘিরে সাম্প্রতিক ঘটনাই তার স্পষ্ট প্রমাণ।

জুন ২১, ২০২৬
কলকাতা

‘গ্রেট ক্যালকাটা কিলিং’-এর নায়ককে সম্মান, কলকাতায় রাস্তার নাম বদলে চমক

কলকাতার পার্ক সার্কাস এলাকার সুরাওয়ার্দি অ্যাভিনিউয়ের নাম বদলে গোপাল মুখোপাধ্যায় রোড করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই মর্মে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছেন কলকাতা পৌরনিগমের কমিশনার স্মিতা পাণ্ডে। সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা।এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সমাজমাধ্যমে তিনি কলকাতা পৌরনিগমকে ধন্যবাদ জানিয়ে লিখেছেন, প্রকৃত নায়কদের সম্মান জানানোর সময় এসেছে।গোপাল মুখোপাধ্যায়, যিনি গোপাল পাঁঠা নামে বেশি পরিচিত, কলকাতার বউবাজারের মলঙ্গা লেন এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। তাঁদের পরিবারের একটি পাঁঠার মাংসের দোকান ছিল কলেজ স্ট্রিটে। পেশায় কসাই হওয়ায় তিনি গোপাল পাঁঠা নামেই পরিচিত হয়ে ওঠেন।১৯৪৬ সালের ১৬ অগস্ট ডাইরেক্ট অ্যাকশন ডে-র পর কলকাতায় ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক হিংসা ছড়িয়ে পড়ে। ইতিহাসে যা গ্রেট ক্যালকাটা কিলিং নামে পরিচিত। সেই সময় বহু মানুষের প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। গোপাল পাঁঠাকে ঘিরে প্রচলিত বিভিন্ন বর্ণনায় দাবি করা হয়, তিনি নিজের দলবল নিয়ে আক্রান্ত হিন্দুদের রক্ষায় এগিয়ে এসেছিলেন। এই কারণেই অনেকের কাছে তিনি সাহস ও প্রতিরোধের প্রতীক হয়ে ওঠেন।গত বছর গ্রেট ক্যালকাটা কিলিং-এ নিহতদের স্মরণে আয়োজিত একটি পদযাত্রায় অংশ নিয়েছিলেন তৎকালীন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। সেই মিছিলে তাঁর হাতে ছিল গোপাল মুখোপাধ্যায়ের ছবি। পরে আলিপুরে গোপাল পাঁঠার একটি মূর্তিরও উন্মোচন করা হয়েছিল।রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, গোপাল পাঁঠার নামে রাস্তার নামকরণ শুধুমাত্র প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, এর সঙ্গে ইতিহাস ও রাজনীতিরও একটি গুরুত্বপূর্ণ যোগ রয়েছে। ফলে এই সিদ্ধান্ত আগামী দিনে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও বাড়াতে পারে।উল্লেখ্য, গোপাল পাঁঠার জীবন ও ১৯৪৬ সালের কলকাতার ঘটনাবলি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই জনমানসে কৌতূহল রয়েছে। তাঁর ভূমিকা নিয়ে যেমন প্রশংসা রয়েছে, তেমনই রয়েছে নানা বিতর্কও। তবে নতুন করে রাস্তার নামকরণের সিদ্ধান্ত তাঁকে আবারও জনআলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এল।

জুন ২১, ২০২৬
দেশ

ডিসেম্বরেই বড় চমক! ইউরোপের বাজার খুলে যাচ্ছে ভারতের জন্য, সস্তা হবে কোন কোন জিনিস?

ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের বহু প্রতীক্ষিত বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে বড় ঘোষণা করল কেন্দ্র। রবিবার মুম্বইয়ে এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে কেন্দ্রীয় বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল জানান, আগামী ডিসেম্বর মাসেই ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে বাণিজ্যচুক্তি স্বাক্ষর হতে পারে। এরপর আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি অথবা মার্চ মাস থেকে চুক্তিটি কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।পীযূষ গোয়েলের দাবি, এই চুক্তি কার্যকর হলে ইউরোপের বিশাল বাজার ভারতের জন্য প্রায় শূন্য শুল্কে খুলে যাবে। এর ফলে ভারতীয় পণ্যের রফতানি আরও বাড়বে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ভারতের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে।ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছিল প্রায় দুই দশক আগে। দীর্ঘ আলোচনার পর চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে দুই পক্ষের মধ্যে নীতিগত সমঝোতা হয়। যদিও এখনও পর্যন্ত চুক্তির সমস্ত শর্ত সরকারিভাবে প্রকাশ করা হয়নি।তবে বিভিন্ন সূত্রের দাবি, ইউরোপ থেকে আমদানি হওয়া উচ্চমূল্যের গাড়ির উপর শুল্ক কমানোর প্রস্তাব দিয়েছে ভারত। সেই প্রস্তাব কার্যকর হলে বিএমডব্লিউ, মার্সিডিজ বেঞ্জের মতো বিলাসবহুল ইউরোপীয় গাড়ির দাম দেশের বাজারে কমতে পারে।শুধু গাড়িই নয়, এই চুক্তির ফলে বিদেশি মদের উপর আমদানি শুল্কও কমানো হতে পারে বলে জানা যাচ্ছে। সেক্ষেত্রে দেশের বাজারে বিদেশি মদের দামও কমার সম্ভাবনা রয়েছে।ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের এই সম্ভাব্য বাণিজ্যচুক্তিকে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এখন ডিসেম্বরের আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষরের দিকেই নজর রয়েছে শিল্পমহল ও ব্যবসায়ী মহলের।

জুন ২১, ২০২৬
দেশ

মুহূর্তে মৃত্যুফাঁদে পরিণত কারখানা! বিষাক্ত গ্যাসে একের পর এক শ্রমিক লুটিয়ে পড়লেন

রবিবার তামিলনাড়ুর তিরুভাল্লুর জেলায় একটি সি-ফুড প্রক্রিয়াকরণ কারখানায় ভয়াবহ গ্যাস লিকের ঘটনায় অন্তত সাতজন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনায় অসুস্থ হয়ে পড়েছেন অন্তত সাতান্ন জন শ্রমিক। তাঁদের মধ্যে সাতজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় ভেন্টিলেটরে রাখা হয়েছে।জানা গিয়েছে, পেরিয়াপালম এলাকার একটি সি-ফুড প্রক্রিয়াকরণ কারখানায় আচমকাই অ্যামোনিয়া গ্যাস লিক করতে শুরু করে। সেই সময় কারখানার ভিতরে কাজ করছিলেন বহু শ্রমিক। প্রথমে তাঁরা একটি তীব্র ঝাঁঝালো গন্ধ অনুভব করেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই একাধিক শ্রমিকের শ্বাসকষ্ট, মাথা ঘোরা এবং বমির মতো সমস্যা দেখা দেয়।ক্রমশ পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠলে কারখানার ভিতরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অসুস্থ শ্রমিকদের দ্রুত উদ্ধার করে নিকটবর্তী বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকরা আহত ও অসুস্থদের চিকিৎসা শুরু করেন।প্রাথমিক তদন্তে মনে করা হচ্ছে, কারখানার একটি পরিমাপক ভাল্ভ থেকে অ্যামোনিয়া গ্যাস বেরিয়ে যাওয়ার কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। তবে ঠিক কী কারণে গ্যাস লিক হল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।ঘটনার খবর পেয়ে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। রাজ্যপাল রাজেন্দ্র আরলেকর গভীর শোক প্রকাশ করে নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। পাশাপাশি হাসপাতালে ভর্তি শ্রমিকদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন তিনি।এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর গোটা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু হয়েছে।

জুন ২১, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

ফেভারিটদের মধ্যে প্রথম বড় বার্তা! বিশ্বকাপে নকআউট নিশ্চিত জার্মানির

বিশ্বকাপে দুরন্ত ফর্ম ধরে রাখল জার্মানি। টানা দ্বিতীয় ম্যাচ জিতে শেষ ষোলোর টিকিট নিশ্চিত করল চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। আইভরি কোস্টের বিরুদ্ধে কঠিন লড়াইয়ের পর ২-১ গোলে জয় তুলে নেয় জার্মানি।ম্যাচের শুরু থেকেই আইভরি কোস্ট জার্মানির উপর চাপ তৈরি করে। দ্রুত পাল্টা আক্রমণে বারবার সমস্যায় পড়তে হয় জার্মান রক্ষণকে। সেই চাপের ফলও পায় আফ্রিকার দেশটি। প্রথমার্ধের ৩০ মিনিটে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন ফ্র্যাঙ্ক কেসি। পিছিয়ে পড়ে বিরতিতে যায় জার্মানি।দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নেমে আক্রমণের গতি বাড়ায় জার্মান ফুটবলাররা। কোচের কৌশল বদলের পর ম্যাচের রংও বদলাতে শুরু করে। ৬০ মিনিটে মাঠে নামেন ডেনিস উভান্ডে। তাঁর নামার পরই জার্মান আক্রমণ আরও ধারালো হয়ে ওঠে।ম্যাচের ৬৮ মিনিটে সমতা ফেরান উভান্ডে। এরপর দুই দলই একাধিক সুযোগ তৈরি করলেও গোল আসেনি। শেষ পর্যন্ত অতিরিক্ত সময়ে আবারও গোল করে জার্মানিকে জয় এনে দেন উভান্ডে। ২-১ ব্যবধানে ম্যাচ জিতে নকআউট পর্বে জায়গা নিশ্চিত করে জার্মানি।এর আগে প্রথম ম্যাচে প্রতিপক্ষকে ৭-১ গোলে উড়িয়ে দিয়েছিল জার্মানরা। ফলে দুই ম্যাচে পূর্ণ ছয় পয়েন্ট নিয়ে তারা এখন গ্রুপের শীর্ষে। গত দুই বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিতে হয়েছিল জার্মানিকে। তাই এবার এক ম্যাচ বাকি থাকতেই শেষ ষোলো নিশ্চিত হওয়ায় উচ্ছ্বাসে মেতেছে গোটা শিবির।অন্যদিকে এখনও নকআউট নিশ্চিত করতে পারেনি কয়েকটি শক্তিশালী দল। পর্তুগাল প্রথম ম্যাচে ড্র করায় চাপে রয়েছে। ব্রাজিল একটি জয় পেয়ে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। আর্জেন্টিনাও নকআউটের খুব কাছে। ইতিমধ্যেই শেষ ষোলোর টিকিট নিশ্চিত করেছে আয়োজক দেশ মেক্সিকো ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।

জুন ২১, ২০২৬
রাজ্য

কোথায় সুমিত রায়? খোঁজ না মিলতেই সামনে এল নতুন বিস্ফোরক অভিযোগ

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ সহায়ক হিসেবে পরিচিত সুমিত রায়কে ঘিরে বিতর্ক আরও বাড়ল। তাঁর খোঁজ এখনও না মিললেও এবার তাঁর বিরুদ্ধে নতুন একটি অভিযোগ দায়ের হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, পশ্চিম মেদিনীপুরের ডেবরা থানায় নতুন মামলা নথিভুক্ত হয়েছে।অভিযোগ, সরকারি চাকরি পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে এক ব্যক্তির কাছ থেকে লক্ষাধিক টাকা নেওয়া হয়েছিল। অভিযোগকারী দাবি করেছেন, অন্য এক ব্যক্তির মাধ্যমে তিনি সেই টাকা সুমিত রায়ের কাছে পৌঁছে দিয়েছিলেন। টাকা দেওয়ার পর কিছু নথিও পান তিনি। এমনকি তাঁর মেডিক্যাল পরীক্ষাও হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত চাকরি না পাওয়ায় তিনি থানার দ্বারস্থ হন।পুলিশ সূত্রে খবর, অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে। ঘটনার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এর আগেও সুমিত রায়ের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ সামনে এসেছে। ইতিমধ্যেই তাঁর বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা দায়ের হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।প্রতারণা এবং জমি সংক্রান্ত দুর্নীতির অভিযোগেও তদন্ত চলছে। মেদিনীপুরের এক প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়কের গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদে সুমিত রায়ের নাম উঠে আসে বলে তদন্তকারী সূত্রের দাবি। এরপর তাঁর খোঁজে কালীঘাটের বাড়িতেও পৌঁছেছিল পুলিশ। কিন্তু সেখানে তাঁর সন্ধান মেলেনি।তদন্তের স্বার্থে তাঁর বিরুদ্ধে নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে বলে সূত্রের খবর। এদিকে নতুন অভিযোগ দায়ের হওয়ার পর গোটা বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে জোর আলোচনা।তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ এই প্রসঙ্গে বলেন, সুমিত রায় সম্পর্কে তিনি আগেও নিজের বক্তব্য জানিয়েছেন। আইন তার নিজস্ব পথে চলবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

জুন ২১, ২০২৬
কলকাতা

কলকাতা থেকেই বদলে গেল ভারতের নৌ-শক্তির ছবি! একসঙ্গে জলে নামল তিন দেশীয় যুদ্ধজাহাজ

ভারতের নৌ-সামর্থ্যে যুক্ত হল আরও তিনটি দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি যুদ্ধজাহাজ। কলকাতার গার্ডেনরিচ এলাকার শ্যামাপ্রসাদ বন্দরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধজাহাজ তিনটি ভারতীয় নৌসেনার হাতে তুলে দেন। এই তিন জাহাজ হল আইএনএস দুনাগিরি, আইএনএস অগ্রয় এবং আইএনএস সংশোধক।অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলা এমন এক ভূমি, যা ভারতকে সমুদ্রপথে বিশ্বের সঙ্গে যুক্ত করেছে। তাঁর মতে, দেশের পুনর্জাগরণ ও অগ্রগতিতে বাংলার অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের দিন বাংলার মাটিতে এসে এই গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচির অংশ হতে পেরে তিনি আনন্দ প্রকাশ করেন।মোদী বলেন, একটি শক্তিশালী দেশের জন্য শক্তিশালী নৌবাহিনী অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। সমুদ্রের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে বাণিজ্য, নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক উন্নয়ন। বিশ্বের অধিকাংশ বাণিজ্য সমুদ্রপথে হয় এবং বিভিন্ন দেশের তথ্য আদান-প্রদানের গুরুত্বপূর্ণ নেটওয়ার্কও সমুদ্রের নীচ দিয়েই বিস্তৃত।প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য, যে দেশের সমুদ্র শক্তি যত বেশি উন্নত হবে, সেই দেশের অর্থনীতি ও কৌশলগত অবস্থানও তত বেশি শক্তিশালী হবে। ভারত সেই লক্ষ্যেই দ্রুত এগিয়ে চলেছে। তিনি বলেন, দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি এই যুদ্ধজাহাজগুলি আত্মনির্ভর ভারতের বড় সাফল্যের প্রতীক।মোদীর দাবি, ভারত এখন শুধু উৎপাদনকারী দেশ নয়, ভবিষ্যতে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী দেশ হিসেবেও উঠে আসবে। তিনি জানান, জাহাজ নির্মাণ শিল্পকে আরও শক্তিশালী করতে কেন্দ্র সরকার বিপুল আর্থিক সহায়তা দিয়েছে। পাশাপাশি প্রতিরক্ষা খাতেও গত কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ বৃদ্ধি করা হয়েছে।তাঁর কথায়, আত্মনির্ভরতা থেকেই প্রকৃত শক্তির জন্ম হয়। আগামী দিনে ভারত সমুদ্র শক্তির ক্ষেত্রে আরও বড় উচ্চতায় পৌঁছবে বলেও তিনি আশাবাদ প্রকাশ করেন।

জুন ২১, ২০২৬
কলকাতা

বাজেটের আগেই বাংলার জন্য বিরাট ঘোষণা! ৬০ হাজার কোটি টাকা নিয়ে বড় বার্তা মোদীর

রাজ্যের নতুন বিজেপি সরকার তাদের প্রথম বাজেট পেশ করার আগেই বাংলার জন্য বড় বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। পশ্চিমবঙ্গ দিবস উপলক্ষে রাজ্যের মানুষকে শুভেচ্ছা জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উদ্দেশে লেখা এক চিঠিতে বাংলার উন্নয়নের জন্য বিপুল অর্থ বরাদ্দের কথা উল্লেখ করেছেন তিনি।তারকেশ্বরে আয়োজিত পশ্চিমবঙ্গ দিবসের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী। সেই উপলক্ষে পাঠানো পাঁচ পাতার চিঠিতে তিনি বাংলার ইতিহাস, সংস্কৃতি, উন্নয়নের সম্ভাবনা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে রাজ্যের জন্য কত টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে, সেই তথ্যও জানান।চিঠিতে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, কেন্দ্র সরকার রাজ্যের উন্নয়নে সব ধরনের সহযোগিতা করবে। জল, পরিকাঠামো এবং দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের কাজ দ্রুত এগিয়ে নিতে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও রেলের উন্নয়নের জন্য প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। আরও ৬০ হাজার কোটি টাকার বরাদ্দের প্রক্রিয়া চলছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।প্রধানমন্ত্রী বলেন, পশ্চিমবঙ্গের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী ও আধুনিক করে তুলতে হবে। এর জন্য বিনিয়োগ বাড়ানো, শিল্পোন্নয়ন ত্বরান্বিত করা, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পকে সহযোগিতা করা এবং পণ্য পরিবহণ ব্যবস্থাকে আরও উন্নত করার প্রয়োজন রয়েছে। একই সঙ্গে ব্যবসা ও শিল্পের ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা দূর করে সহযোগিতার পরিবেশ গড়ে তোলার কথাও বলেন তিনি।চিঠিতে মোদী আশাবাদ প্রকাশ করে জানান, আগামী দিনে পশ্চিমবঙ্গ মৎস্যচাষ, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ, বন্দরভিত্তিক শিল্প, বস্ত্রশিল্প, পর্যটন এবং ডিজিটাল অর্থনীতির অন্যতম কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে। রাজ্যের ভৌগোলিক অবস্থানকে তিনি বাণিজ্য ও যোগাযোগের ক্ষেত্রে বড় সম্পদ বলেও উল্লেখ করেন।প্রধানমন্ত্রীর দাবি, যেখানে বিজেপি সরকার রয়েছে, সেখানে কৃষকদের স্বার্থকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়। পশ্চিমবঙ্গও সেই পথেই এগোবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন। নতুন সরকার গঠনের পর কেন্দ্র ও রাজ্যের সমন্বয়ে উন্নয়নের গতি আরও বাড়বে বলেও তাঁর বিশ্বাস।

জুন ২১, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal