• ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩, মঙ্গলবার ০৬ অক্টোবর ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

Democracy

রাজনীতি

'দ্য বেঙ্গল ফাইলস' দেখাতে বাম্পার কৌশল বঙ্গ BJP-র! রাজ্যে আরও এক ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল

শুরু থেকেই নানা বিতর্কে জর্জরিত বিবেক অগ্নিহোত্রীর ছবি দ্য বেঙ্গল ফাইলস। এবার সেই সিনেমাকেই কেন্দ্র করে নতুন পদক্ষেপ নিতে চলেছে বঙ্গ বিজেপি। জানা গিয়েছে, কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের সমান্তরালে নিজেদের উদ্যোগে আলাদা এক চলচ্চিত্র উৎসবের আয়োজন করছে তারা।সূত্রের খবর অনুযায়ী, ওই উৎসবে দেশি-বিদেশি, আঞ্চলিক এবং বাংলা ছবির প্রদর্শনী হবে। এর জন্য শহরের কয়েকটি কেন্দ্রীয় সরকারি অডিটোরিয়াম ভাড়া নেওয়ার পরিকল্পনা চলছে। উৎসবে থাকবেন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানের অভিনেতা-পরিচালকরা। পুরো দায়িত্ব সামলাচ্ছেন বিজেপি নেতা-অভিনেত্রী রূপা গঙ্গোপাধ্যায় ও রুদ্রনীল ঘোষ। সিদ্ধান্তে সায় দিয়েছে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বও।এদিকে, ৫ সেপ্টেম্বর গোটা দেশে মুক্তি পেলেও দ্য বেঙ্গল ফাইলস এখনও পর্যন্ত বাংলার প্রেক্ষাগৃহে দেখা যায়নি। ফলে এই সমান্তরাল উৎসবেই ছবিটি দেখানো হবে কি না, সেই প্রশ্ন উঠেছে। রুদ্রনীল ঘোষ অবশ্য জানাচ্ছেন, আমাদের ভুল কিংবা অন্যায় মেনে নেওয়ার জায়গা তৈরি হয় না। অথচ সেই যুক্তিতে অর্ধেক বাংলাবাসীকেই বাদ দিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তাই একটা বিকল্প মঞ্চ দরকার। এই উৎসব সেই নিরপেক্ষ জায়গা তৈরির চেষ্টা।রুদ্রনীলের দাবি, উৎসবে এমন সব ছবি দেখানো হবে যেগুলি মানবিকতা আর গণতান্ত্রিক অধিকারের কথা বলবে। সেখানেই থাকছে দ্য বেঙ্গল ফাইলস। তাঁর বক্তব্য, দেশজুড়ে ছবি মুক্তি পেলেও বাংলায় ব্যবসায়ীদের নানা চাপের মুখে পিছিয়ে যেতে হয়। হল মালিকরা অশান্তির ভয়ে ঝুঁকি নেন না। সবাই আসলে ২০২৬-এর রাজনৈতিক ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করছে। তাই দর্শকদের সামনে সেই জানলা খুলে দেওয়ার লক্ষ্যেই আমাদের এই আয়োজন।

সেপ্টেম্বর ০৬, ২০২৫
দেশ

রুষ্ট গনদেবতা

I rebel, therefore I exist.Albert Camusগন দেবতার অভিজ্ঞানই তো প্রসবিনী করে লেখকের কলম। অস্তিত্বের সংকটে পড়লে শিরদাঁড়া ঝুঁকতে শুরু করলে জনতার রোষ ডানা ঝাপটায়। মানবজমিনের এই ইতিহাস আরো একবার পরীক্ষা দিল এবারের লোকসভা নির্বাচনে। সেই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে জনতা জনার্দন জানিয়ে দিল কোনো পরমাত্মা নয় গনতন্ত্রের থানে একমাত্র গনদেবতার ই অধিষ্ঠান। গত দশ বছরে বিশাল আধিপত্য বিস্তারে যে অনুশীলন শুরু হয়েছিল তাতে সুতীক্ষ্ণ কৌশলে আরও অতিকায় করে তোলার অভিযান ছিল এই নির্বাচনের পর্ব থেকে পর্বান্তরে। সেই অভিযানের সামনে দাঁড়িয়ে বিশেষত গ্ৰামীন ভারত জানিয়ে দিল কে আসল জনার্দন। ২০২৪য়ের নির্বাচনী ফলাফলকে কোনো সরল মাত্রায় বিচার করা যাবে না। একদিকে খাদ্য দ্রব্যের আকাশ ছোঁয়া দাম, বেকারত্ব, আর্থিক, সামাজিক অসাম্য, আর কৃষকদের রুটি রুজির অনিশ্চয়তা। এই দুর্দশাগ্ৰস্ত ভারতকে নস্যাৎ করে বেলাগাম মেরুকরণের রাজনীতি তীব্র ধর্মীয় বিভাজন আর এক ও অদ্বিতীয় নেতার ভাবমূর্তি নির্মানের প্রচার কৌশল। এর পাশাপাশি ছিল দেশের সংবিধান কি অক্ষত থাকবে, গনতন্ত্র কোন চেহারায় থাকবে সেই প্রশ্নও। এই বহুমাত্রিক ক্যানভাসের কেন্দ্রস্থলে দাঁড়ানো প্রবল বলশালী শাসককে ভারতীয় ভোটার রা জানিয়ে দিল গনতন্ত্র, বহুমত, বহুমুখী,বহুস্বর ই প্রকৃত প্রতাপশালী। খালি পেটে ধর্ম হয় না, প্রাচীন প্রবাদ। মূল্যায়ন সংস্থা CRISIL জানাচ্ছে পেঁয়াজ সহ অন্যান্য আনাজের দাম বেড়েছে চল্লিশ শতাংশের বেশি। গৃহস্থ বাড়িতে নিরামিষ থালি তৈরির খরচ বেড়েছে ৯%। আমিষ থালির খরচ তুলনায় কিছুটা কম। কিন্তু আমিষ কেনার সামর্থ্য সবার নেই। বিভিন্ন কাঁচা মালের দামের ভিত্তিতে দেশের উত্তর, দক্ষিণ ও পূর্ব পশ্চিমে গৃহস্থের বাড়িতে রান্না করা খাবারের গড় খরচ হিসাব করে তারা। আম জনতার এই দূর্ভোগ কে প্রশমন করতে মুসলিমদের দুষে বিদ্বেষ ছড়িয়ে ছিলেন নরেন্দ্র মোদী। খালি পেট সেই বিদ্বেষে ভোলেনি। অযোধ্যা যার অন্তর্গত সেই লোকসভা কেন্দ্র ফইজাবাদে বিজেপি হেরেছে। তিন দশকের বেশি সময় ধরে অযোধ্যার রামমন্দির গেরুয়া রাজনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। আবার সাম্প্রতিক সময় গেরুয়া হিন্দুত্বের অন্যতম প্রধান মঞ্চ বারানসী। সেই বারানসী তে এক অকিঞ্চিৎকর প্রতিদ্বন্দ্বীর সঙ্গে ভোট যুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর জয়ের ব্যবধান বিপুল হারে কমেছে। পেটের আগুনের আঁচে পুড়েছে বিদ্বেষের রাজনীতি ও। প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন কংগ্রেস ক্ষমতায় এলে হিন্দুদের মঙ্গল সুত্র, সম্পত্তি ও পিছিয়ে পড়াদের সংরক্ষণ কেড়ে নিয়ে মুসলিমদের দিয়ে দেবে। প্রচারের এই তীব্র বিদ্বেষের সুর প্রথম শোনা যায় রাজস্থানের বারমের কেন্দ্রে। সেখানে বিজেপি হেরেছে । গুজরাটে বনসকন্ঠ লোকসভা কেন্দ্র। এই বনসকন্ঠ শহরে ডেয়ারী শিল্পের প্রাচুর্য রয়েছে। এই কেন্দ্রের প্রচারে প্রধানমন্ত্রী মুসলমানদের অধিক সংখ্যক সন্তানের জন্মদাতা বলেন। পাশাপাশি তিনি বলেন, কংগ্রেস ক্ষমতায় এলে হিন্দুদের মোষ কেড়ে নিয়ে মুসলমানদের দিয়ে দেবে। গুজরাটের বনসকন্ঠেও বিজেপি হেরেছে। ২০১৪ এবং ২০১৯-র তুলনায় গেরুয়া হিন্দুত্বের চারণভূমি উত্তর প্রদেশে বিজেপির শোচনীয় ফল হয়েছে। দলিত, সবরকম OBC এবং মুসলিম ভোটাররা বিজেপির জয়রথ থামিয়েছেন। যাদবদের দল হিসেবে পরিচিত SP র নেতা অখিলেশ যাদব, যাদব নির্ভরতা কমিয়ে এই তিন শক্তি কে কাছে টেনে এক নতুন Social Engineering -র রাস্তা দেখিয়েছেন। এবারের নির্বাচনের আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল বিজেপির ৩৭০ অথবা ৪০০ আসন পারের স্লোগান সংবিধানের প্রশ্নকে উচ্চকোটির স্তর থেকে বেরিয়ে গন রাজনীতির পরিসরে প্রবেশ করিয়েছে। বিজেপি ৩৭০ বা ৪০০ আসন পেলে সংবিধান বদলাবে। সেই বদলে দেশের সংরক্ষণ ব্যবস্থা উঠে যাবে। এই আশঙ্কা বিশেষত তুলনায় শিক্ষিত দলিত যুব সম্প্রদায়ের মধ্যে ছড়িয়েছে। স্বাধীনতার পর থেকে এতদিন সংবিধান নিয়ে আশঙ্কা, আলোচনা, বিতর্ক সব ই ছিল উচ্চকোটির সীমানায় বন্দি। ইংরেজি সংবাদপত্র, JNU, Delhi Law School, Delhi School of Economics and Sociology, এবং India International centre য়ের seminar hall য়েই সংবিধান নিয়ে যাবতীয় আলোচনা হতো। সংবিধান দলিত এবং OBC সম্প্রদায়ের Mass politics য়ে চলে আসার ফলে ভুগতে হল বিজেপি কে। এই পথ ধরেই দলিত রাজনৈতিক সংগঠনের নেতা চন্দ্রশেখর আজাদ এবার সংসদে গেলেন। শুধু তাই নয় উত্তর প্রদেশের জনতা এবার ভোটে হিন্দুত্বের রাজনীতির প্রতিস্পর্ধা হিসেবে Social justice party কে ফিরিয়ে আনলেন। এই নির্বাচনী ফলে বিভিন্ন রাজ্য, বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর স্বর ভারতের স্বাভাবিক বৈচিত্র্যকেও ফিরিয়ে এনেছে। তবে এই নির্বাচন শুধু শাসকদের নয়, বিরোধীদের ও আরো দ্বায়িত্বশীল হওয়ার কথা বলেছে।

জুন ১০, ২০২৪
দেশ

গন্ডি মুছে উৎসবে কাশ্মীর

আকাশ জুড়ে অশান্তির কালো মেঘ। সেই মেঘের ছায়ায় রাস্তায়,পাকদন্ডিতে, হাঁটে বাজারে, বাড়ির উঠোনে, অন্দরে ওৎ পেতে থাকা কঠিন শীতল ভয়ার্ত পরিবেশ। বিগত ২৫ বছরে এই ছবি ছড়িয়ে থেকেছে হিমালয়ের নিচে লুটিয়ে থাকা কাশ্মীর উপত্যকায়। এবার ২০২৪ য়ের লোকসভা নির্বাচনে সেই কালো মেঘ মুছে গিয়ে প্রখর সূর্যের কিরণ ছড়িয়েছে বললে বাড়াবাড়ি হয়ে যাবে। তবে আলোর মুখ যে দেখা গিয়েছে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। সেই সঙ্গে জাতীয় সংবাদ পত্র, টেলিভিশন এবং সমাজ মাধ্যমে অবশেষে ঠাঁই পেয়েছে কাশ্মীরের ভোট আবহ। সৌজন্য শ্রীনগর লোকসভা কেন্দ্রের উল্লেখযোগ্য হারে মানুষের ভোট দান। ভোট দান নাগরিকের অধিকার। যোগ্য ভোটার দের ভোট গ্ৰহন কেন্দ্রে টেনে আনতে প্রতি ভোটের আগে এই কথাটা মনে করিয়ে দেয় নির্বাচন কমিশন। ভোট দানের হার বাড়াতে চলে নিরলস প্রচার। গত তিন দশক ধরে গনতন্ত্রের এই উৎসবের দিকে এক অদৃশ্য গন্ডিতে আবদ্ধ থেকে তাকিয়ে থেকেছে অধিকাংশ কাশ্মীর বাসী। গত সোমবার শ্রীনগর লোকসভা কেন্দ্রে ৩০.৮৯% ভোটের হার এক টানে সেই অদৃশ্য গন্ডি মুছে দিয়েছে। ২১৩৫ টি ভোট গ্ৰহন কেন্দ্রেই ছিল ভোটার দের সবল উপস্থিতি। ১৯৯৬ সালে শ্রীনগর কেন্দ্রে ৪০ শতাংশের বেশি ভোট পড়েছিল। সেই ভোট নিয়ে অবশ্য অনেক বিতর্ক রয়েছে। তবে তার পর থেকেই ভোট দানের হার ক্রমশ কমেছে। উজ্জ্বল ব্যতিক্রম ২০২৪। শ্রীনগরে ভোট শেষ। ২৫শে মে ভোট গ্ৰহন হবে অনন্তনাগ-রাজৌলি ও বারামুলা লোকসভা কেন্দ্রে। তিন লোকসভা কেন্দ্র মিলিয়ে ভোটার সংখ্যা ৮৬.৯ লক্ষ। এর মধ্যে ৩.৪ লক্ষ ভোটার এবার প্রথম ভোট দেবেন। শ্রীনগর যে পথ দেখিয়েছে তাতে অনেকের আশা কাশ্মীর উপত্যকায় এবার মোট ভোট দানের হার ৫০% ছাড়িয়ে যাবে। ২০১৯ সালের অগাস্ট মাসে ৩৭০ ধারা এবং এই statehood বাতিলের পরে ঝিলম ও চেনাব পারে এই প্রথম গুরুত্বপূর্ণ ভোট। বাতিল পর্বের আগে পরে চিনার, পাইনের ডালে ডালে নানান ওঠা পড়ার হাওয়া ছুঁয়ে গিয়েছে। তবে দুয়েকটি হাতে গোনা serious magazine আর কিছু সংবাদপত্রে ভোট মুখি কাশ্মীরের যে স্পন্দন ধরা পড়ছিল তাতে বোঝাই যাচ্ছিল যে কাশ্মীর বাসী এবার ভোটের দিন বিপুল সংখ্যায় পথে নামবেন। বিভিন্ন প্রচার সমাবেশ এবং মিছিলে মানুষের যে ঢল দেখা গিয়েছে বিশেষজ্ঞ দের মতে তা বিগত তিন দশকে দেখা যায় নি। কাশ্মীর বাসীর এই , intense and vibrating mood নির্বাচন কমিশন কে ও স্বস্তি দিয়েছে।অনেকের মত উপত্যকা বাসীর মনের ভিতরে জমে থাকা বঞ্চনার ক্ষোভ আর আবেগ এবার EVM এ প্রকাশ পাবে। ১৯৯৬ সালের পর থেকেই কাশ্মীরে ভোট এলেই সন্ত্রাস বাদী দের ভোট বয়কটের ডাকে সন্ত্রস্ত থাকতেন সাধারণ মানুষ। এর পাশাপাশি নানান প্রশাসনিক অবিচারের অভিযোগ ও পা টেনে রাখতো সাধারণ ভোটারদের। এবার সেই চিত্রনাট্য উধাও। সম্প্রতি জঙ্গি গোষ্ঠী the resistant front য়ের commander বশিত দার সহ তিন জঙ্গির নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে মৃত্যু হয়। অতীতে এই ঘটনার পরেই ভোট বয়কটের ডাক ছড়িয়ে পড়ত। মনের ইচ্ছে মনে রেখে ভোটের দিন দুয়ার এঁটে থাকতেন সাধারণ মানুষ। এবার সবকিছুই অন্যরকম। এই ঘটনার পরেও কাশ্মীরের মানুষের ভোট উদ্দিপনায় ভাঁটা পড়েনি। ৫৪৩ সাংসদের লোকসভায় কাশ্মীরের তিনটি আসন হয়তো বিশেষ কোনো প্রভাব ফেলবে না। তবু জাতীয় রাজনীতিতে নিজেদের স্বর গেঁথে দেওয়ার সুযোগ হারাতে চাইছেনা কাশ্মীর। সেই স্বরের ই প্রতিধ্বনি শোনা গেল শ্রীনগর কেন্দ্রের ভোটে। প্রায় তিন দশক দূর থেকে দাঁড়িয়ে গনতন্ত্রের উৎসব দেখেছে কাশ্মীর। এবার স্বর্গ সহোদর ভুখন্ডের মানুষ গনতন্ত্রের উৎসবের একেবারে মাঝখানে। আমরা যারা অখন্ড ভারতে বিশ্বাসী তাদের কাছে এ কম সুখের সময় নয়।

মে ১৬, ২০২৪
রাজনীতি

বাংলায় ক্ষমতায় থাকার কৌশল বদলেছে সময়ের তালে, রাজনৈতিক সংঘর্ষের বীজ লুকিয়ে অতীতের ছায়ায়

বিশেষজ্ঞদের মতে মনিপুর মেইতি আর কুকিদের মধ্যে সংঘর্ষ দুই সম্প্রদায়ের ক্ষমতা দখলের লড়াই নয়। সারা দেশে যে সংখ্যাগুরুবাদের রাজনীতির প্রতিষ্ঠা হচ্ছে তারই ফল। অনেকেই এখন পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক পঞ্চায়েত নির্বাচনে হিংসার ঘটনার সঙ্গে মনিপুরের তুলনা টানছেন। আমার মতে এই তুলনা স্থান-কাল বিচারে অত্যন্ত ভুল। কয়েক দশক ধরেই এই রাজ্যে রাজনৈতিক হিংসা প্রায় প্রতিদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর উৎস খুঁজতে হলে ফিরতে হবে ছয়ের দশকের শেষ দিকে। অনেকেই পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক হিংসার উৎস খুঁজতে গিয়ে নকশাল আন্দোলনের কথা বলেন। এই দিকচিহ্নেও অনেক ভ্রান্তি রয়েছে। এই রাজ্যের রাজনৈতিক হিংসার উৎস মুখ রয়েছে ছয়ের দশকের গ্ৰাম বাংলায় অর্থ সামাজিক ও সামাজিক রাজনৈতিক পরিবেশের এক বড় পরিবর্তনের মধ্যে।১৯৪২সালে তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর গনদেবতা উপন্যাসে এই পরিবর্তনের ভিত্তিভূমির ছবিটি নিপুণ শৈলীতে এঁকেছিলেন। তাঁর উপন্যাসে যে জনপদের পরিচয় পাওয়া যায় সেখানে প্রকৃতি অফুরান সম্পদ নিয়ে ছড়িয়ে আছে আর সমাজকাঠামো এক কঠিন নিগড়ে বাঁধা। সেই জনপদে আদিগন্ত বিস্তৃত জমি আছে আর সে জমিতে যারা খাটে তাদের কারো সামান্য জমিও নেই। সেখানে নাপিত সারাদিন খেটেও পেট ভরার অন্ন যোগাতে পারে না। ধাইমা সম্পন্ন ঘরের সাস্থবান পুত্র-কন্যার জন্মের সহায়ক কিন্তু তার সন্তানদের শরীর অপুষ্টিতে ভরা। কামার উদয়াস্ত খাটে তবু তার পেট চালাতে মহাজনের কাছে চড়া সুদে ধার নিতে হয়। ছুতর এর অবস্থা আরওই বেহাল।এমন এক নির্মম আর্থসামাজিক ব্যাবস্থার সামনে আমাদের দাঁড় করায় তারাশঙ্করের গনদেবতা উপন্যাস। এই উপন্যাস লেখকের কল্পনা থেকে জন্ম নেয়নি, আজকের টেলিভিশনের ভাষায় গ্রাউন্ড জিরোতে দাঁড়িয়ে লেখা। ছয়ের দশকের কথায় ফিরি। যুগান্তর সংবাদ পত্রে ১৯৬৩ সালে ২৭শে জুলাই থেকে ১৯৬৮ সালের ২৭শে মে পর্যন্ত প্রকাশিত হয় তারাশঙ্করের গ্রামের চিঠি, সেখানে গ্ৰাম বাংলার সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক পরিবর্তনের যে রিপোর্টিং রয়েছে তার অনেক নামী সাংবাদিক কে লজ্জায় ফেলবে। গ্রাম বাংলার রাজনৈতিক পরিস্থিতি বদলের যে লেখচিত্র তারাশঙ্করের গ্রামের চিঠিতে রয়েছে তার উপরিকাঠামোয় রাখতে হবে ১৯৬৭ সালের রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনকে।১৯৬৭ সালে বামপন্থীরা প্রথম ক্ষমতায় আসে। তার পেছনে ছিল ১৯৫১সাল থেকে একটার পর একটা আন্দোলনের ইতিহাস। ১৯৬৭ সালে শেষবারের মতো একসঙ্গে লোকসভা ও সমস্ত রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচন হয়েছিল। ১৯৫১ সাল থেকে যে গত আন্দোলনগুলিতে রাজ্য উত্তাল হয়েছিল তার পেছনে ছিল তারাশঙ্করের উপন্যাসের গ্রাম বাংলার খেটে খাওয়া মানুষের একটি বড় অংশ। এই আন্দোলনগুলো কংগ্রেস নামের মহীরুহকে ধাক্কা দিতে শুরু করেছিল। যার ফলে ১৯৬৭ থেকে ১৯৭২ সালের মধ্যে পাঁচ বছরে রাজ্যে চারবার বিধানসভা ভোট হয়।১৯৬৭ থেকে ৭২ এই চার বছরে চার বার রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হয়। যা ভারতের আর কোথাও হয়নি। ১৯৬৭ সাল থেকে রাজনৈতিক ভারসাম্যের পরিবর্তন শুরু হলেও তখন শাসক শাসিতের দ্বন্দ্ব ছিল পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে বিরোধী রাজনীতির। এই দ্বন্দ্বে দুই প্রধান রাজনৈতিক দলের হিংসাত্মক সংঘর্ষের চেহারাটা প্রথম ধরা পড়ে ৭০ সালে বাংলায় হরতালের দিনে। ১৯৭০ সালের ১৭ই মার্চ বাংলায় হরতাল হয়েছিল। নৈহাটির গৌরিপুর চটকলে সিপিএম - আইএনটিউসির সংঘর্ষে চার জনের মৃত্যু হয়। সেদিনই বর্ধমানে সাঁই বাড়ির ঘটনা হয়। রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় ব্যাপক রাজনৈতিক সংঘর্ষ হয়। সেই সংঘর্ষে একদিনে চৌত্রিশ জনের মৃত্যু হয়। কংগ্রেস বনাম বামপন্থীদের রাজনৈতিক সংঘর্ষে সেখান থেকেই ক্রমশ জটিল আকার নেয়। এই হিংসার আবহে নতুন মাত্রা যোগ করে নকশালপন্থিরা।তবে গ্রাম বাংলায় বামপন্থীরা কংগ্রেসী আধিপত্যের বেদী ইউনিয়ন বোর্ডে ধাক্কা দিতে শুরু করে। কংগ্রেস সমর্থক জোতদার, জমিদার ও গ্রামীন ব্যাবসায়ী দের আধিপত্যে ভিত ও বামপন্থীদের নেতৃত্বে আন্দোলনে কাঁপতে শুরু করে। এই উত্তাল সময় বিস্তৃত আলোচনা সংক্ষিপ্ত পরিসরে সম্ভব নয়। তাই চলে আসি ১৯৭৭ সালে। সেই বছর জুন মাসে বামফ্রন্ট সরকার ক্ষমতায় আসে। ভাগ চাষীদের উচ্ছেদ রুখতে ও ফসলের ন্যায্য ভাগ দিতে সরকার শুরু করে অপারেশন বর্গা। শুরু হয় হাজার হাজার একর বেনামী জমি উদ্ধার করে ভূমিহীন চাষীদের মধ্যে বিলিয়ে দেওয়া। ১৯৭৩ সালে সিদ্ধার্থশঙ্কর রায়ের সরকার পঞ্চায়েত আইন করলেও তারা পঞ্চায়েত নির্বাচন করতে পারেনি। ১৯৭৮ সালের ৪ঠা জুন বামফ্রন্ট সরকার প্রথম পঞ্চায়েত নির্বাচন করে। পঞ্চায়েত ভোটের পরে গ্রাম বাংলার গরীব ও প্রান্তিক মানুষের যে রাজনৈতিক, সামাজিক ও আর্থিক ক্ষমতায়নের পর্ব শুরু হয় তা সারা দেশে আগে দেখা যায় নি। এর দুই তিন দশক পরে গ্রাম বাংলায় কম্যুনিস্ট পার্টি হয়ে ওঠে দাতা, আর সাধারণ মানুষ হয় গ্রহীতা। সেদিন থেকেই রাজ্যের মানুষের সিটিজেন থেকে বেনিফিসিয়ারী তে পরিণত হওয়া শুরু। একটি দলের রাজনৈতিক আধিপত্য সর্বগামী হওয়ায় কোথাও কোথাও মানুষের স্বাধীন পছন্দের উপরে নির্ভরতা কমে পেশীবলে ক্ষমতা দখলের পর্ব শুরু হয়। এর ফলে শুধু বিরোধী দল নয় বামফ্রন্টের শরিক দলের সঙ্গে ও সিপিআইএম এর রাজনৈতিক সংঘর্ষ শুরু হয়। এরই মাঝে ত্রিস্তরীয় পঞ্চায়েতের বিভিন্ন প্রকল্পে আর্থিক বরাদ্দ বিপুল হারে বাড়তে থাকা ক্ষমতা ব্যবহার করে পঞ্চায়েত দখলে রাখা দস্তুর হয়ে পড়ে।সাতের দশক থেকে রাজ্যের যুবশক্তি ব্যবহারেও পরিবর্তন আসে। বামপন্থী ছাত্র যুব দলের মোকাবিলায় রাজ্যের নব কংগ্রেস যুব কংগ্রেস ও ছাত্রপরিষদের ছাতার তলায় যুবকদের সংঘটিত করে। এই যুবশক্তি কে আর্থিক সুবিধা দিতে পথে নামে মিনিবাস। সিদ্ধার্থ সরকারের বদান্যতায় রাষ্ট্রায়ত্ব ব্যাঙ্কের ঋনে মিনিবাসের মালিক হয় তারা। জানা যায়, সেই ঋনের প্রায় নব্বই শতাংশই ফেরত পায়নি ব্যাঙ্ক। এর পরে বামফ্রন্টের আমলে বাম দলের ছাতার তলায় থাকা বেকার, অল্পশিক্ষিত বা অশিক্ষিত যুবকের সংখ্যা পথে নামে অটো রিক্সা ও টোটো। বর্তমানে তৃনমূলের আমলে এই সংখ্যা বিপুল পরিমাণে বাড়ায় সেই জায়গা নিয়েছে অবৈধ বালি খাদান, পাথর খাদান, কয়লা খাদান ও সিন্ডিকেট ব্যবসা। এরই পাশাপাশি বেড়ে উঠেছে বামফ্রন্ট আমলে সৃষ্টি হওয়া প্রোমোটার রাজ। যার অবসম্ভাবী ফল রাজনীতিতে পেশীশক্তি ব্যাবহারের প্রথমাবস্থা পার করে পর্বতের আকার নেওয়া।এখন এই রাজনৈতিক ক্ষমতা ধরে রাখতে এবং এই সব সুবিধা পাইয়ে দিতে গ্রাম বাংলায় ত্রিস্তরীয় পঞ্চায়েত জোরালো হাতিয়ার। তাই রাজনৈতিক দলমত নির্বিশেষে আদর্শ নয় ক্ষমতা ধরে রাখাই পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক সংঘর্ষের জন্ম দিয়ে চলেছে। এর শেষ কোথায়, কী ভাবে হবে সেই প্রশ্নের উত্তর রয়েছে ভবিষ্যতের গর্ভে। তবে রাজনীতি তো সমাজ নিরপেক্ষ নয়। আমরা যারা সমাজে বাস করি, সরাসরি রাজনীতিতে যুক্ত নই তারাও এর দায় এড়াতে পারি না। আমাদের এড়িয়ে চলার মধ্যে লুকিয়ে রয়েছে ক্ষমতার দর্শনের মান্যতা। আমরা মুখে বলি ভারতবর্ষ শান্তির পথ যাত্রী আমরা বুদ্ধদেব, মহাবীর, শিবের পূজারী। অথচ এই উচ্চারনে বিপরীত মেরুতে আমাদের অবস্থান।প্রাক্তন রাজ্যপাল ও প্রখ্যাত কূটনীতিবিদ গোপালকৃষ্ণ গান্ধী সম্প্রতি এক দৈনিক ইংরেজি সংবাদপত্রে তাঁর লেখা আমাদের দ্বিচারিতার ছবিটা স্পষ্ট করে দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, রোজ সকালে যে পার্কে তিনি হাঁটতে যান সেখানে অনেক দুর্লভ প্রজাতির গাছ রয়েছে। তার পাশাপাশি রয়েছে, ভারতীয় সেনাবাহিনীর অস্ত্রাগারে থাকা বিভিন্ন ক্ষেপনাস্ত্র, বিবিধ ট্যাঙ্ক ও অস্ত্রের রেপ্লিকা। সেখানে তিনি দেখেন অনেক বাবা-মায়েরা ছেলেমেয়েদের নিয়ে ওই পার্কে আসেন। পার্কে এসে তাঁরা সন্তানদের সেই সব রেপ্লিকার সামনে দাঁড় করিয়ে গর্বিত মুখে ছবি তোলেন। অনেকে সেলফি ও তোলেন। কিন্তু কেউই পার্কে থাকা দূর্লভ বনানীকুলের কাছে ছেলেমেয়েদের নিয়ে গিয়ে পরিচয় করান না। মহাত্মা গান্ধীর বংশধরের এই অনুভব কি আমাদের কিছু শিখতে বলে? আমরা কি তাঁর সেই অনুভবের সামনে মনের দরজা খুলে দাঁড়াবো?

জুলাই ৩১, ২০২৩
কলকাতা

Dhankhar attacks Mamata: মহাত্মার জন্মদিনে মুখ্যমন্ত্রীকে ফের 'গণতন্ত্র'-খোঁচা ধনখড়ের

গান্ধি জয়ন্তীতে ফের এক বার বাংলার গণতন্ত্র নিয়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ করলেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য ভয় ও হিংসা মেটাতে মমতা সরকারের পদক্ষেপ করা উচিত বলেই দাবি করেছেন তিনি। ধনখড়ের এই সমালোচনার পাল্টা জবাব দিয়েছে তৃণমূল। প্রকৃত তথ্য তুলে ধরে তাঁর মন্তব্য করা উচিত বলেই দাবি করেছেন তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ।অহিংসার বার্তাপ্রেরকের জন্মদিনেও বাদ গেল না রাজ্যপাল-মুখ্যমন্ত্রী টুইট-যুদ্ধ। শনিবার গান্ধিজয়ন্তীর সকালে মহাত্মা গান্ধির বার্তা স্মরণ করার পাশাপাশি রাজ্যে শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ফের মুখ্যমন্ত্রীকেই নিশানা করলেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়। সকাল ৭টা ৪৫ মিনিট নাগাদ এদিন টুইট করে ধনখড় লেখেন, বাপুকে তাঁর যোগ্য সম্মান জানিয়ে তাঁর আদর্শায়িত শান্তি ও অহিংসার বাণীগ্রহণ, পালন ও অনুশীলন বিশ্বজুড়ে পাথেয়। গণতন্ত্রের ফুল ফোটাতে ও মানবিক সম্মান রক্ষার্থে মুখ্যমন্ত্রীর উচিত রাজ্যে ঘটে চলা হিংসার ঘটনায় রাশ টানা। টুইটে সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর সোশ্যাল হ্যান্ডেলে ট্যাগ করেছেন রাজ্যপাল।তবে, এই প্রথম নয়, রাজ্যের শান্তি শৃঙ্খলা ও সংবিধানের মান্যতা প্রসঙ্গে একাধিকবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারকে নিশানা করেছেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়। রাজ্যে গণতন্ত্র নেই, এমন অভিযোগ বারবারই করেছেন রাজ্যপাল। কখনও টুইটারে কখনও বা সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে। সম্প্রতি, বিধানসভার স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তরজায় জড়ান রাজ্যপাল। ধনখড় এক বিশেষ দলের প্রতিনিধিত্ব করছেন এমন অভিযোগ বারবারই করে এসেছে তৃণমূল। নির্বাচনের ঠিক পরেই দিল্লি সফরে গিয়েছিলেন জগদীপ। কেন তাঁর সেই সফর, তা নিয়ে যথেষ্ট জল্পনাও তৈরি হয়েছিল রাজনৈতিক মহলে। পরে জানা গিয়েছিল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গেই সাক্ষাৎ করতে দিল্লি পাড়ি দিয়েছিলেন তিনি। সম্প্রতি, অগস্ট মাসেও দুই দিনের জন্য দিল্লি যান ধনখড়। তার আগে রাজভবনে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে সাক্ষাত্সারেন।

অক্টোবর ০২, ২০২১
দেশ

Pegusas: দেশের গণতন্ত্রকে কলঙ্কিত করতেই পেগাসাস ষড়যন্ত্র

বাদল অধিবেশনের ঠিক একদিন আগে আচমকাই পেগাসাস প্রসঙ্গ সামনে আসা কাকতালীয় হতে পারে না। এমনটাই মনে করছেন, দেশের নতুন তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। তিনি নিশ্চিত, এই বিষয়টিকে হঠাৎ টেনে আনার নেপথ্যে কোনও ষড়যন্ত্র আছে। আর এই ষড়যন্ত্র অশ্বিনীর কথায়, আদতে দেশের গণতন্ত্র এবং সুপ্রতিষ্ঠিত পরিকাঠামোকে কলঙ্কিত করার চেষ্টা।লোকসভায় বাদল অধিবেশনের প্রথম দিনে যে পেগাসাস প্রসঙ্গে উঠবে, তা জানা ছিল। সেই মতো বক্তব্যও রাখেন অশ্বিনী। প্রধানমন্ত্রীর মন্ত্রিসভায় জায়গা পাওয়ার পর এই প্রথম লোকসভা অধিবেশন তাঁর। সোমবার তিনি বলেন, বৈদ্যুতিন যোগাযোগ ব্যবস্থায় নজরদারি চালানো আইনত বৈধ। জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থেই নজরদারি চালানো হয়ে থাকে। আর তা হয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়েই। তবে পেগাসাস নিয়ে রবিবার রাতের খবরটিকে অযথা অতিরঞ্জিত করে দেখানো হচ্ছে বলেই মত মন্ত্রীর। তিনি বলেছেন, গতকাল রাতে একটি ওয়েব পোর্টালে এ সংক্রান্ত অত্যন্ত স্পর্শকাতর একটি খবর প্রকাশিত হয়েছে। খবরটি ঘিরে বহু অতিরঞ্জিত অভিযোগও তোলা হয়েছে। সংসদে বাদল অধিবেশন শুরুর ঠিক এক দিন আগে ওয়েব পোর্টালে এ সংক্রান্ত রিপোর্ট প্রকাশের ঘটনা আর যা-ই হোক কাকতালীয় হতে পারে না। মন্ত্রীর কথায়, ওই রিপোর্টে স্পষ্টতই ভারতীয় গণতন্ত্র এবং ভারতের সুসংহত প্রতিষ্ঠানকে কলঙ্কিত করার চেষ্টা করা হয়েছে।আরও পড়ুনঃ সাদা বলের ক্রিকেটজীবন এখনও শেষ হয়নি, মনে করছেন কুলদীপ এর আগেও হোয়াটসঅ্যাপে নজরদারি সফটওয়্যার পেগাসাসের ব্যবহার নিয়ে অভিযোগ আনা হয়েছিল বলে জানান অশ্বিনী। বলেছেন, তখনও ওই অভিযোগের কোনও ভিত্তি ছিল না। আজও নেই। রবিবার দ্য ওয়্যার নামে একটি সংবাদ সংস্থার রিপোর্টে জানানো হয়েছিল, ভারতের বহু মন্ত্রী, বিরোধী নেতা, সাংবাদিকের ফোন হ্যাক করেছে ইজরায়েলি সংস্থার স্পাইওয়্যার পেগাসাস। লোকসভায় অশ্বিনী সরাসরি সে প্রসঙ্গে না গিয়ে জানিয়েছেন, জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থেই কিছু কিছু ক্ষেত্রে বৈদ্যুতিন যোগাযোগ মাধ্যমে নজরদারি করা হয়। তবে তা আইন মেনেই করা হয়। প্রত্যেক নজরদারির ঘটনা আইন মেনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়েই হয়েছে। তা ছাড়া ভারতের মতো গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় এত রকমের যাচাই ব্যবস্থার মধ্যে দিয়ে যেতে হয় যে আইনের বাইরে গিয়ে কোনও রকম নজরদারি করা সম্ভবই নয়। এ প্রসঙ্গে অশ্বিনীর বক্তব্য, ভারতের মতো গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় এত রকমের যাচাই ব্যবস্থার মধ্যে দিয়ে যেতে হয় যে আইনের বাইরে গিয়ে কোনও রকম নজরদারি করা সম্ভবই নয়। বৈদ্যুতিন যোগাযোগ ব্যবস্থায় নজরদারি বা আড়ি পাতার অনুমতি রয়েছ ভারতীয় আইনেই। ভারতীয় টেলিগ্রাফ আইন (১৮৮৫)-এর ৫ (২) ধারা এবং তথ্যপ্রযুক্তি আইন (২০০০)-এর ৬৯ ধারাতে এই সুযোগ রয়েছে।

জুলাই ১৯, ২০২১
কলকাতা

রাজ্যে গণতন্ত্র ভূলুন্ঠিত হচ্ছেঃ ধনকড়

ফের টুইট করে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে কড়া সমালোচনা ্করলেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়। ্তাঁর অভিযো্গ, রাজ্যে গণতন্ত্র ভূলুন্ঠিত হচ্ছে।রাজ্যে মানবাধিকারের টুঁটি চেপে ধরা হচ্ছে। গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে পঙ্গু হতে দেওয়া যাবে না বলেও টুইটে তোপ দাগেন তিনি।সাম্প্রতিককালে টুইটে একাধিকবার রাজ্যের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন রাজ্যপাল।রাজ্যের প্রশাসনিক স্তরের বিরুদ্ধে বেনিয়মের অভিযোগে সরব হয়েছেন তিনি। পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। এমনকী রাজ্য পুলিশের ডিজির ভূমিকা নিয়ে সুর চড়িয়েছেন ধনকড়। বাদ যায়নি শিক্ষাক্ষেত্রও। পালটা তৃণমূলের তরফ থেকে তাঁর মন্তব্যের কড়া ভাষায় সমালোচনা করা হয়।

অক্টোবর ০৪, ২০২০

ট্রেন্ডিং

বিনোদুনিয়া

‘ভারতে আর শান্তি পাই না’, তুমুল বিতর্কের মাঝেই সঞ্জয় দত্তের ইউটার্ন! কী সাফাই দিলেন মুন্নাভাই?

ভারতে আর শান্তি পাই নাশেখর সুমনের অনুষ্ঠানে সঞ্জয় দত্তের এই মন্তব্য ঘিরে তুমুল বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অনুষ্ঠানের একটি অংশ প্রকাশ্যে আসার পর সমাজমাধ্যমে অভিনেতাকে নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হতে না হতেই এবার নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিলেন সঞ্জয়। অভিনেতার দাবি, তাঁর কথার ভুল ব্যাখ্যা করা হয়েছে এবং পুরো কথোপকথনটাই ছিল আগে থেকে লেখা ও হালকা মেজাজের।শেখর সুমনের অনুষ্ঠানে দেশের পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে সঞ্জয় বলেছিলেন, ভারতের মানুষ অত্যন্ত ভালো ও অতিথিপরায়ণ। কিন্তু ইদানীং দেশে আগের মতো শান্তি তিনি অনুভব করছেন না। সেই শান্তির সময় যেন দ্রুত ফিরে আসে, শিবের কাছে এমন প্রার্থনা করেন বলেও জানিয়েছিলেন অভিনেতা। এই মন্তব্যের একটি অংশ সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই শুরু হয় বিতর্ক।এর পরেই সঞ্জয় দত্ত নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন। তিনি জানান, কোনও ব্যক্তি, সম্প্রদায় বা প্রতিষ্ঠানের অনুভূতিতে আঘাত করা তাঁর উদ্দেশ্য ছিল না। কাউকে অপমান বা অসম্মান করার ইচ্ছাও তাঁর ছিল না বলে জানান অভিনেতা। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, অনুষ্ঠানের কথোপকথনটি চিত্রনাট্য মেনেই তৈরি হয়েছিল এবং দর্শকদের বিনোদনের কথা মাথায় রেখেই তা বলা হয়েছিল।সঞ্জয়ের ব্যাখ্যা, তাঁর কথাগুলিকে অনুষ্ঠানের মূল প্রেক্ষাপট থেকে আলাদা করে দেখা হয়েছে। মুন্নাভাই ছবির হাস্যরস ও ব্যঙ্গের ধাঁচেই কথাগুলি বলা হয়েছিল বলে দাবি তাঁর। বিশেষ করে গান্ধীগিরি-র ভাবনার মাধ্যমে ভালোবাসা, আন্তরিকতা, একতা এবং পারস্পরিক সৌহার্দ্যের বার্তা দেওয়াই ছিল তাঁর উদ্দেশ্য। কিন্তু সেই বক্তব্যের মূল ভাবটি হারিয়ে গিয়ে তা অন্য ভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।বিতর্কের সূত্রপাত মূলত অনুষ্ঠানের সেই অংশ নিয়ে, যেখানে সঞ্জয় দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে তাঁর মন্তব্য করেছিলেন। পরে তাঁর বক্তব্যের আরও কিছু অংশও সামনে আসে, যেখানে মুন্নাভাই-এর ভঙ্গিতে রাজনৈতিক ব্যঙ্গ এবং শান্তির বার্তা ছিল। ফলে পুরো কথোপকথনটি কী প্রেক্ষাপটে বলা হয়েছিল, তা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়।তবে বিতর্ক থামেনি। মন্তব্যটি নিয়ে সমাজমাধ্যমে একাংশের সমালোচনা অব্যাহত রয়েছে। অন্য দিকে সঞ্জয়ের বক্তব্য, তাঁর কথার উদ্দেশ্য ছিল না কাউকে ছোট করা বা দেশের মানুষকে অসম্মান করা। বরং হাস্যরসের মাধ্যমে শান্তি, ভালোবাসা ও ঐক্যের বার্তাই তুলে ধরতে চেয়েছিলেন তিনি।ফলে একটি মন্তব্য ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্ক এখন অন্য মোড় নিয়েছে। প্রথমে ভারতে শান্তি নেই মন্তব্য, তার পর সমাজমাধ্যমে সমালোচনা এবং শেষে অভিনেতার চিত্রনাট্য-নির্ভর কথোপকথনের ব্যাখ্যাসঞ্জয় দত্তকে ঘিরে এই বিতর্কে আপাতত নজর তাঁর পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই।

অক্টোবর ০৫, ২০২৬
দেশ

সর্বসম্মতি না থাকলে এসআইআর বাতিল? জ্ঞানেশ কুমার মামলায় সুপ্রিম কোর্টের বড় পর্যবেক্ষণ

এসআইআর নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগে সুপ্রিম কোর্টে বড় মোড়। নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতি, মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের একক ভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অভিযোগ এবং নির্বাচন কমিশনারদের আইনি রক্ষাকবচের বৈধতা নিয়ে দায়ের হওয়া মামলায় নোটিস জারি করেছে শীর্ষ আদালত। একই সঙ্গে ফর্ম-৬-এ পরিবর্তন নিয়ে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের প্রশ্ন ঘিরেও নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে।মামলাকারীদের অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনের মতো সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে সব কমিশনারের ভূমিকা থাকা প্রয়োজন। আইনজীবী বিকাশ সিং আদালতে অভিযোগ করেন, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার একক ভাবে কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই নির্বাচন কমিশনের কাজকর্ম খতিয়ে দেখতে রাজি হয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। তবে এই পর্যায়ে আদালত জ্ঞানেশ কুমারকে স্থগিত করার অন্তর্বর্তী আবেদন গ্রহণ করেনি।মুখ্য নির্বাচন কমিশনার এবং বাকি দুই নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিংহ সান্ধু ও বিবেক জোশীর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলায় আইনি রক্ষাকবচের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ২০২৩ সালের আইনে নির্বাচন কমিশনের শীর্ষ আধিকারিকদের তাঁদের সরকারি দায়িত্ব পালনের সঙ্গে যুক্ত কিছু কাজের ক্ষেত্রে দেওয়ানি ও ফৌজদারি আইনি সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে। সেই রক্ষাকবচের সাংবিধানিক বৈধতাকেও চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে।এই মামলায় আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামী নির্বাচন কমিশনের কাজের পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তাঁর বক্তব্য, নির্বাচন পরিচালনার ক্ষেত্রে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের নিরপেক্ষতা এবং অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মামলাকারীদের তরফে নির্বাচন কমিশনের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতি নিয়েই মূল আপত্তি জানানো হয়েছে।শুনানিতে ফর্ম-৬-এর পরিবর্তনের বিষয়টিও সামনে আসে। ভোটার তালিকায় নাম তোলা বা সংশোধনের জন্য ব্যবহৃত এই ফর্মে সাম্প্রতিক সময়ে একটি পরিবর্তন করা হয়েছিল। পরে সেই পরিবর্তন সরিয়ে নেয় নির্বাচন কমিশন। এর আগে দুই নির্বাচন কমিশনার ওই পরিবর্তন নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল।ফর্ম-৬ নিয়ে শুনানির সময় প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত জানতে চান, ওই পরিবর্তন কে করেছিলেন। আদালতের তরফে স্পষ্ট করে বলা হয়, ফর্ম-৬-এ যে পরিবর্তন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, তার জন্য আদালতের অনুমোদন নেওয়া হয়নি। ফলে ভোটার তালিকা সংশোধনের এই গুরুত্বপূর্ণ নথিতে কী ভাবে এবং কার নির্দেশে পরিবর্তন হয়েছিল, তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।এসআইআর নিয়েও মামলায় গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উঠেছে। মামলাকারীদের বক্তব্য, নির্বাচন কমিশন যদি সাংবিধানিক ভাবে নির্ধারিত যৌথ সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে থাকে, তা হলে সেই সিদ্ধান্তগুলির বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে। তবে এসআইআর ইতিমধ্যেই বাতিল হয়ে গিয়েছে বা আদালত তা বাতিল করে দিয়েছেএমন কোনও নির্দেশ এই শুনানিতে দেওয়া হয়নি। বরং বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য নোটিস জারি করে পরবর্তী শুনানির পথ তৈরি হয়েছে।এর আগে নির্বাচন কমিশন দাবি করেছিল, গত এক বছরে নেওয়া সব সিদ্ধান্তই সর্বসম্মত ছিল। কমিশনের বক্তব্য অনুযায়ী, কমিশনারদের মধ্যে মতপার্থক্য বা পরামর্শ থাকলেও তা সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার অংশ। অন্য দিকে, প্রকাশিত নথি নিয়ে প্রতিবেদনে দুই নির্বাচন কমিশনারের একাধিক আপত্তির কথা উঠে এসেছে। ফলে নির্বাচন কমিশনের ভিতরে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া নিয়ে বিতর্ক আরও জোরালো হয়েছে।এখন নজর পরবর্তী শুনানির দিকে। ফর্ম-৬ পরিবর্তনের বিষয়টি কী ভাবে ব্যাখ্যা করা হয়, নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতি নিয়ে আদালত কী বলে এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনারদের আইনি রক্ষাকবচের বৈধতা নিয়ে মামলাটি কোন দিকে এগোয়, তা নিয়েই এখন অপেক্ষা।

অক্টোবর ০৫, ২০২৬
বিদেশ

ইমরানের মুক্তির দাবিতে রাজপথে হাজার হাজার মানুষ, ইসলামাবাদমুখী মিছিল ঘিরে পাকিস্তানে চরম উত্তেজনা!

প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে পাকিস্তানের রাজপথে ফের বড় মিছিল। সরকারের সঙ্গে আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর খাইবার পাখতুনখোয়ার লাক্কি মারওয়াত থেকে ইসলামাবাদের উদ্দেশে দীর্ঘ পদযাত্রা শুরু করেছে ইমরানের দল তেহরিক-ই-ইনসাফের সমর্থকেরা। মিছিলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন খাইবার পাখতুনখোয়ার মুখ্যমন্ত্রী মুহাম্মদ সোহেল আফ্রিদি। দলীয় সমর্থকদের নিয়ে মিছিলের লক্ষ্য ইসলামাবাদে পৌঁছনো।ইমরানের মুক্তির দাবিতে আয়োজিত এই মিছিল শুরু হওয়ার আগেই পাকিস্তানের রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সরকারের সঙ্গে তেহরিক-ই-ইনসাফের আলোচনা কোনও সমাধানে পৌঁছয়নি। এরপরই পূর্বঘোষণা অনুযায়ী মিছিল শুরু করে ইমরানপন্থীরা। বিভিন্ন জেলা থেকে বহু সমর্থক লাক্কি মারওয়াতে জড়ো হন। মিছিলের সঙ্গে থাকা বহর ধীরে ধীরে ইসলামাবাদের দিকে এগোচ্ছে।মিছিল আটকাতে প্রশাসনের তরফেও কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ইসলামাবাদের গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাগুলিতে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। একাধিক জায়গায় রাস্তা আটকে দেওয়া হয়েছে কন্টেনার দিয়ে। রাজধানীতে বিক্ষোভকারীদের প্রবেশ ঠেকাতে প্রশাসন আগে থেকেই প্রস্তুতি নিয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানা গিয়েছে।মিছিল ঘিরে বিভিন্ন জায়গায় পুলিশ ও সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে বলেও খবর। কিছু এলাকায় পাথর ছোড়াছুড়ি এবং লাঠিচার্জের ঘটনা ঘটেছে বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। ইমরানের দলও অভিযোগ করেছে, তাদের বহু সমর্থককে আটক করা হয়েছে। একটি প্রতিবেদনে প্রায় দুই হাজার জনকে আটকের কথা বলা হয়েছে। তবে আটকের সঠিক সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন সূত্রে ভিন্ন তথ্য রয়েছে।অন্য দিকে, ইমরানপন্থীরা জানিয়েছে, প্রশাসনের বাধা সত্ত্বেও তারা আন্দোলন থেকে পিছিয়ে যাবে না। মিছিলের লক্ষ্য ইসলামাবাদে পৌঁছে ইমরান খানের মুক্তির দাবিকে আরও জোরালো করা। তেহরিক-ই-ইনসাফের নেতৃত্বের বক্তব্য, সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে রাজনৈতিক উত্তেজনা কমানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু সেই আলোচনা সফল না হওয়াতেই ফের রাজপথে নামার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।এই মিছিলের নেতৃত্বে থাকা খাইবার পাখতুনখোয়ার মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদি লাক্কি মারওয়াত থেকে আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন। তিনি জানান, প্রদেশের মানুষের স্বার্থের বিরুদ্ধে কোনও নীতি মেনে নেওয়া হবে না। একই সঙ্গে ইমরান খানের নীতি ও রাজনৈতিক অবস্থানের প্রতি সমর্থনও জানান তিনি।ইমরান খান ২০২৩ সাল থেকে জেলে রয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে এবং বিভিন্ন মামলায় তাঁকে সাজাও দেওয়া হয়েছে। ইমরান ও তাঁর দল অবশ্য তাঁর বিরুদ্ধে চলা আইনি পদক্ষেপকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে আসছে। পাকিস্তান সরকার সেই অভিযোগ মানে না। ফলে ইমরানের জেলবন্দি থাকা এবং তাঁর মুক্তির দাবিকে ঘিরে দেশটির রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরেই টানাপোড়েন চলছে।এ বার সেই টানাপোড়েনই নতুন করে রাজপথে এসে পড়েছে। লাক্কি মারওয়াত থেকে শুরু হওয়া মিছিল কত দূর এগোয়, ইসলামাবাদে পৌঁছতে পারে কি না এবং প্রশাসনের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের সংঘাত কতটা বাড়ে, এখন নজর সেদিকেই। পাকিস্তানের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এই মিছিল নতুন করে কতটা প্রভাব ফেলে, তা নিয়েও জোর চর্চা শুরু হয়েছে।

অক্টোবর ০৫, ২০২৬
কলকাতা

মমতার পায়ের রিপোর্ট প্রকাশ্যে! হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য ভবনকে আইনি নোটিস, এবার কী হবে?

২০২১ সালের নন্দীগ্রাম বিধানসভা নির্বাচনের আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পায়ে চোট লাগার ঘটনা নিয়ে ফের তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সাংবাদিক বৈঠকে সেই সময়ের একটি মেডিক্যাল রিপোর্ট প্রকাশ্যে এনে দাবি করেন, রিপোর্টে পায়ে হাড় ভাঙা বা স্থানচ্যুতির প্রমাণ মেলেনি। এর পরেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবী সরকারি হাসপাতাল এবং স্বাস্থ্য দফতরের সংশ্লিষ্ট কর্তাদের আইনি নোটিস পাঠিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।আইনি নোটিসে মূল প্রশ্ন তোলা হয়েছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যক্তিগত চিকিৎসা সংক্রান্ত তথ্য কীভাবে প্রকাশ্যে এল। তাঁর আইনজীবীর বক্তব্য, কোনও সরকারি সংস্থা বা তদন্তকারী কর্তৃপক্ষ আইন মেনে কোনও মেডিক্যাল নথি সংগ্রহ করলেও, সেই নথি সাধারণ মানুষের সামনে প্রকাশ করার অধিকার স্বয়ংক্রিয় ভাবে তৈরি হয় না। চিকিৎসা সংক্রান্ত তথ্য অত্যন্ত ব্যক্তিগত এবং সংবেদনশীল বলেও নোটিসে উল্লেখ করা হয়েছে।নোটিসে সংবিধানের ব্যক্তিগত গোপনীয়তার অধিকার এবং চিকিৎসা সংক্রান্ত তথ্যের গোপনীয়তার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। রোগীর চিকিৎসা সংক্রান্ত তথ্য সুরক্ষিত রাখা চিকিৎসকদের পেশাগত দায়িত্বের অংশ বলেও আইনজীবীর তরফে যুক্তি দেওয়া হয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হলেও তাঁর ব্যক্তিগত চিকিৎসা সংক্রান্ত তথ্যের গোপনীয়তার অধিকার রয়েছেএই বিষয়টিকেও বিশেষ ভাবে তুলে ধরা হয়েছে।এই বিতর্কের সূত্রপাত নন্দীগ্রামের পুরনো ঘটনা নিয়ে শুভেন্দু অধিকারীর সাম্প্রতিক মন্তব্য থেকে। সাংবাদিক বৈঠকে তিনি ২০২১ সালের এগারো মার্চের বাঙুর ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সের রেডিয়ো ডায়াগনসিস বিভাগের একটি রিপোর্ট দেখান। তাঁর দাবি, সেই রিপোর্টে পায়ে হাড় ভাঙা বা স্থানচ্যুতির কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি। সেই নথি দেখিয়ে তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৎকালীন পায়ের চোট নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং বিষয়টি তদন্তের কথা জানান।শুভেন্দুর বক্তব্য অনুযায়ী, বর্তমানে বিষয়টি সিআইডির নজরে রয়েছে। নির্বাচনী বিধি উঠে যাওয়ার পর এই ঘটনা নিয়ে আরও তদন্ত করা হবে বলেও তিনি জানিয়েছেন। তবে মেডিক্যাল রিপোর্টে হাড় ভাঙার প্রমাণ না থাকার অর্থ এই নয় যে ওই সময় কোনও ধরনের চোটই ছিল না। সমসাময়িক চিকিৎসা সংক্রান্ত নথিতে পা ও শরীরের অন্য অংশে আঘাতের কথা উল্লেখ ছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। ফলে রিপোর্টের ব্যাখ্যা নিয়েই নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে।মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষ থেকে এখন মূল প্রশ্ন তোলা হয়েছে রিপোর্ট প্রকাশের বৈধতা নিয়ে। তাঁর আইনজীবীর বক্তব্য, কোনও ব্যক্তির চিকিৎসা সংক্রান্ত নথি সরকারি দফতরের হাতে থাকলেই তা প্রকাশ্যে আনার অধিকার তৈরি হয় না। সেই কারণেই হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য দফতরের কাছে আইনি নোটিস পাঠানো হয়েছে।অন্য দিকে, তৃণমূলের তরফেও রিপোর্ট প্রকাশ নিয়ে আপত্তি জানানো হয়েছে। পাল্টা রাজনৈতিক বক্তব্যে শাসক দলের নেতারা প্রশ্ন তুলেছেন, ব্যক্তিগত চিকিৎসা সংক্রান্ত নথি কীভাবে প্রকাশ্যে এল। আবার সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, ২০২১ সালের পায়ের চোট নিয়ে ওঠা অভিযোগের সত্যতা খতিয়ে দেখতেই তদন্তের প্রয়োজন।ফলে নন্দীগ্রামের পাঁচ বছর আগের সেই পায়ের চোটের ঘটনা ফের রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে। এক দিকে মেডিক্যাল রিপোর্টে হাড় ভাঙার প্রমাণ না থাকার দাবি, অন্য দিকে সেই রিপোর্ট প্রকাশের বৈধতা নিয়ে মমতার আইনি পদক্ষেপদুই দিকের প্রশ্নেই এখন নজর। তদন্ত এগোলে পুরনো ঘটনার আরও কী তথ্য সামনে আসে, সেটাই দেখার।

অক্টোবর ০৫, ২০২৬
কলকাতা

তৃণমূলের পর এবার বিজেপি, রাজ্যসভার টিকিট হাতে কোয়েল! পুরনো সিদ্ধান্ত নিয়ে কী বললেন অভিনেত্রী?

রাজ্যসভার প্রার্থী হিসাবে নাম ঘোষণার এক দিনের মধ্যেই আনুষ্ঠানিক ভাবে বিজেপিতে যোগ দিলেন অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিক। রবিবার পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যসভা আসনের উপনির্বাচনের জন্য তাঁর নাম ঘোষণা করেছিল বিজেপি। সোমবার সকালে দলীয় দফতরে তাঁর হাতে বিজেপির পতাকা তুলে দেওয়া হয়। এর পরেই রাজ্যসভায় মনোনয়ন জমা দেওয়ার প্রস্তুতি শুরু করেন তিনি।বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর কোয়েল জানান, এই দায়িত্ব তাঁর কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশের মানুষের জন্য কাজ করতে চান তিনি। বাংলার মানুষের জীবনযাত্রার উন্নতি, কর্মসংস্থান এবং আরও বেশি স্কুল তৈরির প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন অভিনেত্রী। তাঁর বক্তব্য, মানুষের কল্যাণে কাজ করার সুযোগ পেলে তিনি নিজের মতো করে সেই দায়িত্ব পালন করতে চান।বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর কোয়েল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে ধন্যবাদ জানান। গত কয়েক মাসে বাংলায় উন্নয়নের কাজ দেখে তিনি উৎসাহিত হয়েছেন বলেও জানান। তাঁর কথায়, সামাজিক মাধ্যমে তিক্ততা বাড়ছে। কাজের সুযোগ এবং কর্মসংস্থান বাড়ানো গেলে সেই পরিস্থিতি বদলাতে পারে বলে মনে করেন তিনি।তবে কোয়েলের বিজেপিতে যোগদানের পর সবচেয়ে বেশি চর্চা হয়েছে তাঁর পুরনো রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিয়ে। কয়েক মাস আগেই তৃণমূলের হয়ে রাজ্যসভার সাংসদ হয়েছিলেন তিনি। পরে রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দেন। রবিবার বিজেপি তাঁকেই ফের পশ্চিমবঙ্গের ওই আসনের প্রার্থী হিসাবে ঘোষণা করে। সোমবার আনুষ্ঠানিক ভাবে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর তাঁর রাজনৈতিক পথবদল আরও স্পষ্ট হয়ে গেল।তৃণমূলে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত ভুল ছিল কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের সরাসরি উত্তর অবশ্য দেননি কোয়েল। বরং তিনি জানান, অতীতে তিনি কারও সম্পর্কে খারাপ কথা বলেননি এবং ভবিষ্যতেও কাউকে নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করতে চান না। রাজনৈতিক মতবদলের পরেও ব্যক্তিগত আক্রমণের পথে হাঁটবেন না বলেই বার্তা দিয়েছেন অভিনেত্রী।আগামিদিনে সক্রিয় রাজনীতিতে তাঁকে আরও বেশি দেখা যাবে কি না, সেই প্রশ্নেরও উত্তর দিয়েছেন কোয়েল। তিনি বলেন, ছোটবেলা থেকেই মানুষের সেবার সঙ্গে তাঁর পরিচয় রয়েছে। ছুটির সময়ে তাঁর মা তাঁকে মিশনারিজ় অব চ্যারিটিতে নিয়ে যেতেন বলেও জানান তিনি। মানুষের জীবনে সামান্য হলেও ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারলে সেটাকেই নিজের সাফল্য বলে মনে করবেন বলে জানিয়েছেন অভিনেত্রী।এদিকে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর সামাজিক মাধ্যমে তাঁকে ঘিরে নানা ধরনের কটাক্ষও শুরু হয়েছে। সেই প্রসঙ্গে কোয়েল বলেন, যাঁরা অন্যকে ছোট করে আনন্দ পান, তাঁদের প্রতি তাঁর কোনও রাগ নেই। মনোবিজ্ঞানের ছাত্রী হিসাবে বিষয়টিকে তিনি অন্য ভাবে দেখেন বলেও জানান। কটাক্ষকারীদের মানসিক সুস্থতা কামনা করেছেন তিনি।ফলে অভিনয় থেকে রাজনীতিতে আসার পর অল্প সময়ের মধ্যেই কোয়েল মল্লিকের রাজনৈতিক যাত্রায় আরও একটি বড় মোড় এল। তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ থেকে পদত্যাগ, তার পর বিজেপিতে যোগ এবং ফের রাজ্যসভার প্রার্থী হওয়াপরপর এই ঘটনাগুলিই এখন বাংলার রাজনীতিতে কোয়েলকে ঘিরে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্র তৈরি করেছে। আগামী রাজ্যসভা নির্বাচনে বিজেপির প্রার্থী হিসাবে তাঁর রাজনৈতিক যাত্রা কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়, এখন সেটাই দেখার।

অক্টোবর ০৫, ২০২৬
কলকাতা

রবিবারের সংঘর্ষের পর সকালেই বদলে গেল এসআরএফটিআই, গেটে গান্ধীর ছবি, ফের দেওয়াল লিখন!

এক সপ্তাহের ব্যবধানে ফের উত্তপ্ত সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট। রবিবার বিকেলে হিন্দু জাগরণ মঞ্চের মিছিলকে কেন্দ্র করে প্রতিষ্ঠানের মূল ফটকের সামনে উত্তেজনা ছড়ায়। মিছিলকারীদের একাংশ পুলিশের ব্যারিকেড সরিয়ে ক্যাম্পাসে ঢোকার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশের সঙ্গে তাঁদের ধস্তাধস্তিও হয়। ক্যাম্পাসের ভিতরে থাকা পড়ুয়া ও শিক্ষকদের লক্ষ্য করে বাইরে থেকে ইট ও জলের বোতল ছোড়ার অভিযোগ উঠেছে। পাল্টা হিন্দু জাগরণ মঞ্চের সদস্যরাও তাঁদের উপর হামলার অভিযোগ তুলেছেন।রবিবার অজয়নগর থেকে মিছিল করে এসআরএফটিআইয়ের সামনে পৌঁছন হিন্দু জাগরণ মঞ্চের সদস্যেরা। সংগঠনের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানের সাম্প্রতিক একটি ঘটনায় স্বামী বিবেকানন্দ এবং ভারতমাতাকে অসম্মান করা হয়েছে। সেই অভিযোগের প্রতিবাদেই এই মিছিল বলে জানানো হয়। মিছিল এসআরএফটিআইয়ের সামনে পৌঁছনোর পর গেটের বাইরে বিক্ষোভ শুরু হয়। বন্ধ গেট ঠেলে ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করা হয় বলেও অভিযোগ উঠেছে।পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ, ক্যাম্পাসের ভিতরে থাকা পড়ুয়া ও শিক্ষকদের দিকে বাইরে থেকে ইট এবং জলের বোতল ছোড়া হয়। এক জন অধ্যাপক আহত হয়েছেন বলেও একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। অন্য দিকে, মিছিলকারীদের কয়েক জনও আহত হয়েছেন বলে হিন্দু জাগরণ মঞ্চের তরফে দাবি করা হয়েছে। দুই পক্ষের অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের মধ্যেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ হস্তক্ষেপ করে।এই ঘটনার পর সোমবার সকাল থেকেই এসআরএফটিআইয়ের সামনে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়। মূল ফটকের বাইরে পুলিশ মোতায়েন করা হয়, যাতে নতুন করে কোনও উত্তেজনা তৈরি না হয়। রবিবারের ঘটনায় মহাত্মা গান্ধীর ছবি ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগ উঠেছিল। তার পরের দিন সকালে পড়ুয়ারা ফের ক্যাম্পাসের গেটে গান্ধীর ছবি টাঙিয়ে দেন।এদিকে, রবিবার পুলিশের উপস্থিতিতে ক্যাম্পাসের দেওয়াল থেকে কিছু লেখা মুছে দেওয়া হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। সোমবার সকালে পড়ুয়ারা ফের সেখানে দেওয়াল লিখন করেন। পাশাপাশি ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা আরও জোরদার করার দাবি জানানো হয়েছে। পড়ুয়াদের একাংশ প্রতিষ্ঠানের উপাচার্যের কাছেও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আবেদন জানিয়েছেন।এসআরএফটিআইয়ে এই নিয়ে এক সপ্তাহের মধ্যে দ্বিতীয় বার উত্তেজনা তৈরি হল। এর আগে ২৭ সেপ্টেম্বর অখিল ভারতীয় গ্রাহক পঞ্চায়েতের একটি কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে পড়ুয়া এবং ওই সংগঠনের সদস্যদের মধ্যে সংঘর্ষের অভিযোগ উঠেছিল। সেই ঘটনার পরেই ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছিল। এক সপ্তাহ না কাটতেই ফের বাইরের একটি মিছিলকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়াল।ঘটনার পর এখন মূল নজর ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা এবং দুই পক্ষের ওঠানো অভিযোগের তদন্তের দিকে। একের পর এক রবিবারে এসআরএফটিআইয়ের মতো একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামনে উত্তেজনা তৈরি হওয়ায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পুলিশ পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে এবং যাতে আর কোনও সংঘর্ষ না হয়, সেই জন্য নিরাপত্তা বজায় রাখা হয়েছে।

অক্টোবর ০৫, ২০২৬
রাজ্য

ভোটের কয়েক ঘণ্টা আগে নন্দীগ্রামে বড় বদল! আইসি সরিয়ে নতুন আধিকারিক, কেন এমন সিদ্ধান্ত?

রাত পোহালেই নন্দীগ্রামে উপনির্বাচন। তার ঠিক আগের দিন, সোমবার নন্দীগ্রাম থানার আইসি বদল করল নির্বাচন কমিশন। এত দিন এই পদে ছিলেন অজয়কুমার মিশ্র। তাঁর জায়গায় নতুন আইসি হিসাবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে দেবাশিস সরকারকে। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, অবিলম্বে এই বদলি কার্যকর করতে হবে। ভোটের ঠিক আগে এই রদবদল ঘিরে নন্দীগ্রামের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে।নির্বাচন কমিশনের বিজ্ঞপ্তিতে আইসি বদলের নির্দিষ্ট কোনও কারণ উল্লেখ করা হয়নি। দেবাশিস সরকার এর আগে পূর্ব মেদিনীপুরের ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ কক্ষের ইনস্পেক্টর ইন-চার্জ হিসাবে দায়িত্বে ছিলেন। এখন তাঁকেই নন্দীগ্রাম থানার আইনশৃঙ্খলার দায়িত্ব দেওয়া হল। কমিশন তাঁর যোগদানের রিপোর্টও দ্রুত জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।নন্দীগ্রামের উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ৬ অক্টোবর। ভোটগণনা হবে ৯ অক্টোবর। চলতি বিধানসভা নির্বাচনে শুভেন্দু অধিকারী নন্দীগ্রাম এবং ভবানীপুর, দুই কেন্দ্র থেকেই জয়ী হয়েছিলেন। পরে নিয়ম অনুযায়ী তিনি একটি আসন ছেড়ে দেওয়ায় নন্দীগ্রাম আসনটি শূন্য হয়। সেই কারণেই এই উপনির্বাচন।নন্দীগ্রামের রাজনৈতিক গুরুত্ব অবশ্য নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে এই কেন্দ্রেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং শুভেন্দু অধিকারীর মধ্যে তীব্র লড়াই হয়েছিল। সেই নির্বাচনে শুভেন্দু জয়ী হন। পরবর্তী সময়েও নন্দীগ্রাম রাজ্যের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে থেকেছে। এবারের উপনির্বাচনেও তাই এই কেন্দ্রের দিকে নজর রয়েছে রাজনৈতিক মহলের।এবারের উপনির্বাচনে বিজেপির প্রার্থী হাসিরানি রথ। কংগ্রেসের হয়ে লড়ছেন মিলন প্রধান। নন্দীগ্রামের নির্বাচনী লড়াই ঘিরে ইতিমধ্যেই প্রচারে উত্তাপ ছিল যথেষ্ট। রবিবার সন্ধ্যায় প্রচারপর্ব শেষ হয়েছে। মঙ্গলবার ভোটগ্রহণের আগে সোমবারই আইসি বদলের সিদ্ধান্ত সামনে এল।গত বিধানসভা নির্বাচনের আগেও অবাধ ও নিরপেক্ষ ভোট নিশ্চিত করতে রাজ্যের একাধিক থানার ওসি ও আইসি বদল করেছিল নির্বাচন কমিশন। সেই সময় নন্দীগ্রাম-সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় পুলিশি স্তরে রদবদল করা হয়েছিল।তবে এবার ভোটের মাত্র এক দিন আগে নন্দীগ্রামের আইসি বদলের সিদ্ধান্ত কেন নেওয়া হল, সেই প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর এখনও মেলেনি। কমিশনের বিজ্ঞপ্তিতেও কারণ জানানো হয়নি। ফলে শেষ মুহূর্তের এই প্রশাসনিক রদবদল নিয়েই এখন জোর চর্চা। মঙ্গলবার নন্দীগ্রামের ভোটে নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত আইসির অধীনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কী থাকে, সেদিকেই এখন নজর।

অক্টোবর ০৫, ২০২৬
বিদেশ

৯/১১-র ছকেই কি হামামির পরিকল্পনা? স্মিতকে সরিয়ে ইজরায়েলে বিমান আছড়ানোর ভয়ঙ্কর নকশা ফাঁস

দুবাই থেকে তেল আভিভগামী ফ্লাইদুবাই বিমানে মাঝ আকাশে ভারতীয় পাইলট স্মিত মচ্ছরের উপর হামলার ঘটনায় তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। তদন্তকারী সূত্র ও একাধিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ওমানের সহ-পাইলট হামাম আল-হামামি শুধু ককপিটের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেনি, বরং বিমানটিকে ইজরায়েলে আছড়ে ফেলার পরিকল্পনাও করে থাকতে পারে। এমনকি তার পরিকল্পনার সঙ্গে ৯/১১-র ধাঁচের আত্মঘাতী বিমান হামলার মিল রয়েছে বলেও বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।তদন্তকারীদের জেরায় হামামি কী জানিয়েছে, তা নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রথমে ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছরকে সরিয়ে বিমানের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পরিকল্পনা ছিল তার। এরপর বিমানটিকে স্বাভাবিক ভাবে তেল আভিভের দিকে নিয়ে যাওয়ার কথা ছিল। বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে অবতরণের অনুমতি পাওয়ার পর শেষ মুহূর্তে বিমানটিকে বিমানবন্দরের কোনও ভবন বা অন্য একটি বিমানের সঙ্গে ধাক্কা দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল বলে দাবি করা হয়েছে।ইতালির সংবাদপত্রের একটি প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমেও দাবি করা হয়েছে, ককপিটে প্রার্থনা করার অছিলায় হামামি কুঠার বের করে স্মিতকে আক্রমণ করে। প্রথম পরিকল্পনা ব্যর্থ হওয়ার পর বিমানটিকে মরুভূমিতে নামিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল বলেও ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। স্বয়ংক্রিয় নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নিষ্ক্রিয় করার পর বিমানটি দ্রুত নীচে নামতে শুরু করে। তদন্তকারীদের সন্দেহ, বিমানের ইঞ্জিন বন্ধ করারও চেষ্টা করা হয়ে থাকতে পারে।ঘটনার ভয়াবহতা আরও বেড়ে যায় যখন বিমানটি মাত্র কয়েক দশ সেকেন্ডে হাজার হাজার ফুট নীচে নেমে আসে। এর আগে প্রকাশিত তদন্ত-তথ্য অনুযায়ী, ফ্লাইদুবাইয়ের ওই বিমানটি প্রায় ১৪ হাজার থেকে ১৬ হাজার ফুট পর্যন্ত দ্রুত নেমে গিয়েছিল। গুরুতর আহত হয়েও স্মিত ককপিটের দরজা খোলার সুযোগ তৈরি করেন। এরপর যাত্রী ও বিমানে থাকা অন্য পাইলটদের হস্তক্ষেপে হামামিকে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। শেষ পর্যন্ত সৌদি আরবের তাবুকে বিমানটির জরুরি অবতরণ করানো হয়।তদন্তে হামামি একাই এই পরিকল্পনা করেছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন ছিল। সাম্প্রতিক কয়েকটি প্রতিবেদনে তদন্তকারী সূত্রের দাবি, এখনও পর্যন্ত হামামির সঙ্গে কোনও সংগঠিত গোষ্ঠীর যোগসূত্রের প্রমাণ সামনে আসেনি এবং সে একাই কাজ করে থাকতে পারে। তবে তদন্ত এখনও চলছে এবং তার উদ্দেশ্য ও সম্ভাব্য যোগাযোগ নিয়ে বিভিন্ন দেশের তদন্তকারী সংস্থা খোঁজখবর করছে।এদিকে আরও একটি দাবি সামনে এসেছে। হামামি নাকি ফ্লাইদুবাইয়ে যোগ দেওয়ার আগেই হামলার পরিকল্পনা করেছিল। জুলাই মাসেও তার একটি পরিকল্পনা ছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। সেই পরিকল্পনা শেষ পর্যন্ত কেন বাতিল হয়েছিল, তা নিয়েও তদন্ত চলছে। এমনকি তেল আভিভগামী উড়ানের জন্যই সে ফ্লাইদুবাইয়ে যোগ দিয়েছিল কি না, সেই প্রশ্নও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।ঘটনার পর হামামির আগের উড়ান-জীবন নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। একাধিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, উগ্রপন্থী মতাদর্শ নিয়ে উদ্বেগের কারণে ওমানের একটি বিমান সংস্থা আগে তাকে উড়ানের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দিয়েছিল। তবে এই সংক্রান্ত বিভিন্ন দাবি এখনও তদন্তাধীন এবং হামামির অতীত সম্পর্কে সব তথ্যের সরকারি নিশ্চিতকরণ হয়নি।গত বুধবারের সেই ঘটনার সময় বিমানটি দুবাই থেকে তেল আভিভের দিকে যাচ্ছিল। ককপিটে হামলার পর বিমানটি দ্রুত নীচে নামতে শুরু করে। স্মিতের প্রতিরোধ, ককপিটের দরজা খোলা এবং যাত্রী ও অন্য পাইলটদের দ্রুত হস্তক্ষেপের জেরেই বড় বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়। সংযুক্ত আরব আমিরশাহির তদন্তে ঘটনাটিকে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে হামামির চূড়ান্ত উদ্দেশ্য, তার সঙ্গে অন্য কারও যোগাযোগ ছিল কি না এবং বিমানটি ঠিক কোথায় নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিলএই প্রশ্নগুলির তদন্ত এখনও চলছে।

অক্টোবর ০৫, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal