• ২২ ভাদ্র ১৪৩৩, শনিবার ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

Death

রাজ্য

এক মাসে ৮৯ শিশুর মৃত্যু! মালদহ মেডিক্যালে বড় পদক্ষেপ, সরানো হল হাসপাতালের সুপারকে

মালদহ মেডিক্যাল কলেজে একের পর এক শিশুমৃত্যুর ঘটনায় বড় পদক্ষেপ করল স্বাস্থ্য দপ্তর। বিশেষজ্ঞ তদন্ত কমিটির রিপোর্ট সামনে আসার পর হাসপাতালের সুপার তথা এমএসভিপি প্রসেনজিৎ বরকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে খবর। পাশাপাশি, প্রতিটি শিশুর মৃত্যুর কারণ আলাদা ভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।কয়েক দিন আগে মালদহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে শিশুমৃত্যুর ঘটনা নিয়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়। এক দিনে ১০ শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে খবর সামনে আসে। বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে, সরকারি হাসপাতালে কী ভাবে এত শিশুর মৃত্যু হল।এর পরেই স্বাস্থ্যভবনের তরফে দ্রুত তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে চার সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ দল মালদহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে যায়। তদন্তের পরে তৈরি করা রিপোর্টে এক মাসে শিশুমৃত্যুর সংখ্যা ৮৯ বলে উল্লেখ করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।বিশেষজ্ঞ দলের চেয়ারম্যান প্রলয় আচার্য জানিয়েছিলেন, শিশুমৃত্যুর পিছনে একাধিক কারণ রয়েছে। তদন্তে অপুষ্টিকে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। পাশাপাশি জন্মের পর শ্বাসকষ্ট, হৃদ্যন্ত্রের সমস্যা, জন্ডিস এবং কম ওজন নিয়ে জন্মানো শিশুদের মৃত্যুর ঘটনাও সামনে এসেছে।বিশেষজ্ঞ দলের তরফে জানানো হয়েছিল, শিশুমৃত্যুর সমস্ত দিক খতিয়ে দেখে পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট তৈরি করা হবে। সেই রিপোর্ট রাজ্য সরকারের কাছে জমা দেওয়ার পরেই এবার স্বাস্থ্য দপ্তরের তরফে পদক্ষেপ করা হল।শিশুমৃত্যুর প্রতিটি ঘটনা আলাদা ভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে খবর। কোন শিশুর কী শারীরিক সমস্যা ছিল, হাসপাতালে কখন ভর্তি করা হয়েছিল এবং চিকিৎসার সময় কী পরিস্থিতি ছিল, সেই সমস্ত বিষয় তদন্তের আওতায় রয়েছে।মালদহ মেডিক্যাল কলেজে এক মাসে এত শিশুমৃত্যুর তথ্য সামনে আসার পরেই হাসপাতালের পরিষেবা ও চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে বিশেষজ্ঞদের রিপোর্টে একাধিক চিকিৎসাগত ও শারীরিক কারণের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।এখন প্রতিটি শিশুর মৃত্যুর পৃথক তদন্ত শেষ হওয়ার পরেই গোটা পরিস্থিতির আরও স্পষ্ট ছবি সামনে আসবে। স্বাস্থ্য দপ্তরের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয়, সেদিকেও নজর রয়েছে।

সেপ্টেম্বর ০৫, ২০২৬
রাজ্য

শিক্ষক নিয়োগ মামলায় চাকরি গিয়েছিল, কয়েক মাস পরেই মমতার ভাইঝির রহস্যমৃত্যু

মঙ্গলবার সকালে রামপুরহাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মামাতো ভাই নিহার মুখোপাধ্যায়ের মেয়ের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মৃতার নাম বৃষ্টি মুখোপাধ্যায়। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রাথমিক ভাবে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে মনে করা হচ্ছে। তবে ঠিক কী কারণে এই ঘটনা ঘটল, তা এখনও স্পষ্ট নয়।পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, রামপুরহাটের কুশম্বা গ্রামে নিহার মুখোপাধ্যায়ের বাড়িতে কয়েক মাস ধরে থাকছিলেন বৃষ্টি। মঙ্গলবার সকালে বাড়ির দোতলার একটি ঘরে তাঁকে দীর্ঘক্ষণ ডাকাডাকি করা হয়। কিন্তু কোনও সাড়া না পাওয়ায় পরিবারের সদস্যদের সন্দেহ হয়। পরে থানায় খবর দেওয়া হয়।পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘরের দরজা ভেঙে বৃষ্টির দেহ উদ্ধার করে। পরে দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।বৃষ্টির নাম এর আগে শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলাতেও উঠে এসেছিল। ২০২৩ সালের মার্চে বোলপুর হাইস্কুলে তৃতীয় শ্রেণির কর্মী হিসাবে তাঁর নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। অভিযোগ ছিল, অবৈধ ভাবে নিযুক্তদের তালিকায় তাঁর নাম ছিল। পরে নিয়োগ দুর্নীতি মামলার জেরে চাকরিও হারান তিনি।পরিবার সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, গত কয়েক মাস ধরে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির সঙ্গে বৃষ্টির সম্পর্কের অবনতি হয়েছিল। তাঁর বিবাহবিচ্ছেদের মামলাও চলছিল। একটি সন্তানকে নিয়ে তিনি বাবার বাড়িতেই থাকছিলেন।পরিবারের দাবি, চাকরি হারানো এবং ব্যক্তিগত জীবনের নানা সমস্যার কারণে বৃষ্টি মানসিক ভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। তবে তাঁর মৃত্যুর সঙ্গে এই কারণগুলির সরাসরি কোনও যোগ রয়েছে কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়।পুলিশ গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। কী পরিস্থিতিতে বৃষ্টির মৃত্যু হল, ঘটনাটি আত্মহত্যা কি না এবং এর পিছনে অন্য কোনও কারণ রয়েছে কি না, সব দিকই খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

সেপ্টেম্বর ০১, ২০২৬
নিবন্ধ

রবীন্দ্রনাথ ও নজরুল - 'বীণার মুর্ছনায় বিদ্রোহের মশাল'

বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির ইতিহাসে কিছু সম্পর্ক সময়ের সীমা পেরিয়ে কিংবদন্তিতে পরিণত হয়। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলামের সম্পর্ক তেমনই এক অনন্য অধ্যায়যেখানে প্রজন্মের ব্যবধানকে ছাপিয়ে জায়গা করে নিয়েছিল পারস্পরিক শ্রদ্ধা, স্নেহ, ভালোবাসা এবং এক গভীর মানবিক বন্ধন। যেমন একসময় বাংলা ছায়াছবির জগতে উত্তম না সৌমিত্রকে বড় এই বিতর্ক ছিল বাঙালির চিরন্তন আড্ডার বিষয়, তেমনই বাংলা সাহিত্যের আলোচনায় রবি না কাজী নিয়েও চলেছে নিরন্তর তর্ক-বিতর্ক। কিন্তু সাহিত্য-সমালোচকদের সেই তুলনা বা পাঠকের আবেগের লড়াইয়ের বাইরে, রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলের নিজেদের সম্পর্ক ছিল সম্পূর্ণ অন্যরকমসেখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতার কোনও স্থান ছিল না।আজকের দিনে ৭৭ বছর বয়সে, ১৯৭৬ -র ২৯ আগস্ট, বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের জীবনাবসান ঘটে। তাঁর প্রয়াণদিবসে তাই ফিরে দেখা যাক বাংলা সাহিত্যের দুই মহীরুহের সেই অসম্ভব সুন্দর সম্পর্ককেযে সম্পর্কে ছিল স্নেহের আশ্রয়, শ্রদ্ধার স্বীকৃতি, সৃষ্টিশীলতার অনুপ্রেরণা এবং এক কবির প্রতি অন্য কবির অকৃত্রিম ভালোবাসা। সময়ের স্রোত পেরিয়েও তাঁদের সেই সম্পর্ক আজও বাঙালির সাহিত্য-স্মৃতিতে এক উজ্জ্বল মানবিক অধ্যায় হয়ে আছে।বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে কিছু সম্পর্ক আছে, যেগুলির ব্যাখ্যা কেবল শব্দ দিয়ে করা যায় না, অনুভব করতে হয়। যেমন অনুভব করতে হয় শরতের আকাশে হঠাৎ ভেসে ওঠা মেঘ, বর্ষার প্রথম গন্ধ, কিংবা বহুদিন পর শোনা কোনো পরিচিত কণ্ঠস্বর।রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলামের সম্পর্কও তেমনই এক অনুভবের বিষয়।একজন তখন বাংলা সাহিত্যের আকাশে প্রায় সূর্যের মতো দীপ্তিমান। তাঁর নামের সঙ্গে যুক্ত হয়ে গেছে বিশ্বকবির অভিধা। অন্যজন তখনও তরুণঅস্থির, দুরন্ত, দুঃসাহসী, দুর্বার। তাঁর হাতে কলম, অথচ সেই কলমে যেন তরবারির ঝলকানি। একজনের কবিতায় শান্তির নদী, অন্যজনের কবিতায় ঝড়ের গর্জন। একজন যখন বীণার তারে আঙুল রাখেন, অন্যজন যেন বজ্রের বুক চিরে শব্দ তুলে আনেন।তবু আশ্চর্যএই দুই ভিন্ন স্রোত এসে কোনও এক মোহনায় যেন মিলেছিল!সেই মিলনের নামশ্রদ্ধা, স্নেহ ও ভালোবাসা।রবীন্দ্রনাথ নজরুলের মধ্যে কেবল একজন তরুণ কবিকে দেখেননি; তিনি দেখেছিলেন আসন্ন সময়ের স্পন্দন। আর নজরুল রবীন্দ্রনাথের মধ্যে শুধু একজন প্রতিষ্ঠিত মহাকবিকে দেখেননি; দেখেছিলেন এমন এক আপনজনকে, যার সামনে মাথা নত করা যায়, অথচ নিজের কণ্ঠস্বরটিও অক্ষুণ্ণ রাখা যায়।এই জায়গাটিই তাঁদের সম্পর্ককে এত অনন্য করে তোলে। যে তরুণ কবির মধ্যে রবীন্দ্রনাথ চিনেছিলেন ভবিষ্যৎ। নজরুলের আবির্ভাব বাংলা সাহিত্যে যেন হঠাৎ আসা এক কালবৈশাখী। তাঁর শব্দে ছিল আগুন, তাঁর ছন্দে ছিল মার্চ করার শব্দ, তাঁর কবিতায় ছিল শিকল ভাঙার আকাঙ্ক্ষা।বিদ্রোহী প্রকাশিত হওয়ার পর বাংলা সাহিত্য যেন এক মুহূর্তে নিজের পরিচিত আয়না থেকে মুখ ফিরিয়ে অন্য এক মুখ দেখতে পেল।বল বীরবল উন্নত মম শির!এই উচ্চারণ শুধু একটি কবিতার পঙ্ক্তি ছিল না। ছিল এক যুগের অবদমিত আত্মার বিস্ফোরণ।রবীন্দ্রনাথ বুঝেছিলেন সেই বিস্ফোরণের ভাষা। তিনি বুঝেছিলেন, তরুণ নজরুলকে রবীন্দ্রনাথের মতো করে লিখতে হবে না। বরং বাংলা সাহিত্যের প্রয়োজন ছিল এমন একজনের, যিনি রবীন্দ্র-প্রতিষ্ঠার বিশাল ছায়ার মধ্যেও নিজের জন্য একটি স্বতন্ত্র আকাশ তৈরি করবেন। তাঁদের যুগলবন্দী শুধুমাত্র দু-এক কথায় বর্ণনা করা মুর্খামী। রবি যদি বীনার আলাপ হন নজরুল ছিলেন ঝালা। দুইয়ে মিলেই একটি রাগের পূর্ণতা পায়।এই কারণেই নজরুলের প্রতি রবীন্দ্রনাথের স্নেহে ছিল না কোনো অহংকার।ছিল এক প্রবীণ স্রষ্টার আনন্দযখন তিনি দেখেন তাঁর পরের প্রজন্ম তাঁর চেনা পথ ছেড়ে আরও দূরে, আরও অজানার দিকে হাঁটতে শুরু করেছে।বসন্ত: একজন কবির হাতে আরেক কবির আশীর্বাদ, নজরুল যখন কারাগারে, তখন তাঁর শরীর বন্দি হয়েছিল, কিন্তু তাঁর কবিসত্তা নয়। রাজবন্দি তরুণ কবি অনশনে। শরীর ক্রমশ ভেঙে যাচ্ছে। এই সংবাদে উদ্বিগ্ন রবীন্দ্রনাথের হৃদয়ও অস্থির হয়ে উঠেছিল।তিনি জানতেন, নজরুলের মধ্যে যে আগুন জ্বলছে, তা সহজে নেভার নয়। তবু একজন স্নেহশীল প্রবীণের মতো তাঁর মন চাইছিলএই তরুণ কবি বেঁচে থাকুন। তাঁর কণ্ঠ যেন থেমে না যায়।এই সময়েই বসন্ত গীতিনাট্য নজরুলকে উৎসর্গ করেছিলেন রবীন্দ্রনাথ। এ যেন কেবল একটি বই উৎসর্গ করা নয়। এ একজন প্রবীণ কবির তরুণ কবির হাতে নিজের আশীর্বাদের একটি প্রদীপ তুলে দেওয়া।কারাগারের অন্ধকারে বসে নজরুল যখন সেই উৎসর্গের কথা জানলেন, তখন তাঁর কাছে সেটি ছিল এক অপার স্বীকৃতি। যে সময়ে রাষ্ট্র তাঁকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করছে, সেই সময় বাংলা তথা বিশ্ব সাহিত্যের সর্বোচ্চ আসনে থাকা একজন মানুষ তাঁকে নিজের সৃষ্টির সঙ্গে যুক্ত করছেন। এই স্বীকৃতির মূল্য কোনো পুরস্কারের চেয়ে কম ছিল না।শ্রদ্ধা ছিল, কিন্তু ভয় ছিল নানজরুলের সৌন্দর্য এখানেইতিনি রবীন্দ্রনাথকে শ্রদ্ধা করতেন, কিন্তু তাঁর সামনে নিজের অস্তিত্ব বিসর্জন দেননি। এবং রবীন্দ্রনাথও সেটিই চেয়েছিলেন। রবীন্দ্রনাথের কাছে নজরুলের বিদ্রোহ কোনো অপরাধ ছিল না। বরং তিনি বুঝেছিলেন, যুগ বদলালে কবিতার ভাষাও বদলায়।একটি প্রজন্ম যে প্রশ্ন করতে চায়, আগের প্রজন্ম যদি সেই প্রশ্নের উত্তর দিতে না পারে, তবে নতুন কবির জন্ম হয়।নজরুল সেই নতুন কবিতিনি রবীন্দ্রনাথকে অতিক্রম করার জন্য লেখেননি; তিনি নিজের সময়কে প্রকাশ করার জন্য লিখেছিলেন। আর রবীন্দ্রনাথ সেই স্বাধীনতাটুকু তাঁকে দিয়েছিলেন। এই উদারতাই রবীন্দ্রনাথকে শুধু বড় কবি নয়, বড় মানুষও করে তুলেছিল।এক ফ্রেমে ধরা পড়েনি দুই মহীরুহআজকের দিনে দাঁড়িয়ে ভাবলে বিস্ময় জাগেদুই কবি দেখা করেছেন, কথা বলেছেন, পরস্পরের সৃষ্টির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন; অথচ তাঁদের একসঙ্গে থাকা কোনো সুপরিচিত আলোকচিত্র আমাদের হাতে নেই।ইতিহাসের কাছে এ এক অদ্ভুত আফসোসএক ফ্রেমে যদি ধরা থাকত সেই দৃশ্য! এক পাশে শান্ত, শুভ্র, দীর্ঘকায় রবীন্দ্রনাথ। অন্য পাশে তারুণ্যের দীপ্তিতে উজ্জ্বল নজরুল। একজনের মুখে প্রশান্তি, অন্যজনের চোখে আগুন। ক্যামেরার একটি ক্লিক হয়তো ধরে রাখতে পারত বাংলা সাহিত্যের সবচেয়ে সুন্দর এক সম্পর্কের দৃশ্যমান স্মৃতি। কিন্তু হয়তো নিয়তি চেয়েছিল, তাঁদের সম্পর্ক ছবি হয়ে না থেকে স্মৃতি হয়ে বেঁচে থাকুক।তুমি আমায় মেরে ফেলেছএক রসিকতার আড়ালে গভীর সত্যনজরুলের বিদ্রোহী শুধু পাঠ করা যায় না, অনুভব করতে হয়। তরুণ কবির কণ্ঠে যখন সেই কবিতা উচ্চারিত হয়েছিল, তখন তা নিছক শব্দ ছিল নাছিল এক বিস্ফোরিত আত্মপরিচয়। রবীন্দ্রনাথের সামনে দাঁড়িয়ে নজরুল তাঁর কবিতা পাঠ করছেনভাবলেই দৃশ্যটি যেন চোখের সামনে ভেসে ওঠে।কবিতা শেষ।এক মুহূর্তের নীরবতা।তারপর প্রবীণ কবির হাসি, মুগ্ধতা, ভালোবাসা।তুমি আমায় মেরে ফেলেছএই রসিকতার মধ্যে যেন লুকিয়ে আছে এক বিরাট সত্য। নজরুল রবীন্দ্রনাথকে হত্যা করেননি। তিনি হত্যা করেছিলেন সেই ধারণাকেবাংলা কবিতার একমাত্র ভাষা একটিই। তিনি প্রমাণ করেছিলেন, রবীন্দ্রনাথের পাশে দাঁড়িয়েও অন্য এক কণ্ঠস্বর পৃথিবী কাঁপাতে পারে। আর রবীন্দ্রনাথ সেই নতুন কণ্ঠস্বরকে স্বাগত জানিয়েছিলেন। এমন উদারতা বিরল। অভিমানও ছিল, দূরত্বও ছিল।যে সম্পর্ক সত্যিকারের, সেখানে অভিমান থাকে।নজরুল ও রবীন্দ্রনাথের সম্পর্কেও হয়তো সেই মানবিক টানাপোড়েন ছিল। রাজনৈতিক উত্তেজনা, সময়ের অস্থিরতা, সাহিত্যিক মতপার্থক্যসবকিছু মিলিয়ে কখনও কখনও তাঁদের মধ্যে ভাবনার দূরত্ব তৈরি হয়েছিল।কিন্তু সেই দূরত্ব কখনও হৃদয়ের দূরত্ব হয়ে ওঠেনি। কারণ রবীন্দ্রনাথ নজরুলের বিদ্রোহের মধ্যে নিজের প্রতি অসম্মান দেখেননি। আর নজরুলও রবীন্দ্রনাথের উপদেশকে শেষ পর্যন্ত একজন স্নেহশীল প্রবীণের উদ্বেগ হিসেবেই অনুভব করেছিলেন। এই জায়গাতেই তাঁদের সম্পর্কের মানবিক সৌন্দর্য। তাঁরা একমত ছিলেন না সব বিষয়ে। কিন্তু একে অপরকে ভালোবাসতে তাঁদের একমত হওয়ার প্রয়োজন হয়নি।সঞ্চিতা: শিষ্যের অর্ঘ্য১৯২৮ সালে নজরুল তাঁর সঞ্চিতা রবীন্দ্রনাথকে উৎসর্গ করেছিলেন। নামটির মধ্যেও যেন শ্রদ্ধার এক নীরব সেতু ছিল। রবীন্দ্রনাথের সঞ্চয়িতাআর নজরুলের সঞ্চিতা। কিন্তু বইয়ের নামের এই সাদৃশ্যের চেয়েও বড় ছিল উৎসর্গের অনুভূতি। যে তরুণ কবি একদিন বিদ্রোহের ভাষায় নিজের পরিচয় ঘোষণা করেছিলেন, সেই তিনিই আবার নিজের সৃষ্টির অর্ঘ্য নিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন প্রবীণ কবির দরজায়। এখানে কোনো আত্মসমর্পণ ছিল না। ছিল ভালোবাসা।ছিল বলাআপনাকে অস্বীকার না করেও আমি আমার নিজের পথের কবি।রবির বিদায়: যে শোক ভাষাকে স্তব্ধ করে দেয়১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট। বাংলা আকাশ থেকে যেন একটি বিশাল আলো সরে গেল। রবীন্দ্রনাথ চলে গেলেন। এই মৃত্যু ছিল শুধু একজন কবির মৃত্যু নয়। একটি যুগের অবসান। আর সেই সংবাদ যখন নজরুলের কাছে পৌঁছেছিল, তখন তাঁর হৃদয়ের ভিতরে কী ঝড় উঠেছিল, তা কল্পনা করাও কঠিন। যে মানুষটি তাঁর প্রতিভাকে চিনেছিলেন, তাঁকে সম্মান দিয়েছিলেন, তাঁকে নিজের সৃষ্টির সঙ্গে যুক্ত করেছিলেনসেই মানুষটি আর নেই। নজরুলের শোক তাই ছিল আপনজন হারানোর শোক।তিনি লিখলেন, গাইলেন, কাঁদলেন।ঘুমাতে দাও শ্রান্ত রবিরেকী আশ্চর্য নিয়তি!যে তরুণ কবির কণ্ঠ একদিন রবীন্দ্রনাথের বিদায়ে বজ্রের মতো গর্জে উঠেছিল, সেই কণ্ঠই বছর ঘুরতেই অসুস্থতার অন্ধকারে স্তব্ধ হয়ে গেল।কণ্ঠ থেমে গেল।স্মৃতি মুছে যেতে লাগল।শব্দ, যে শব্দ দিয়ে তিনি সাম্রাজ্যকে কাঁপিয়েছিলেন, সেই শব্দই তাঁর নিজের জীবনে একদিন নিঃশব্দ হয়ে গেল।এ যেন ইতিহাসের নির্মমতম কবিতা।দুই কবি, এক মানবতার গানরবীন্দ্রনাথ ও নজরুলকে পাশাপাশি রাখলে প্রথমে চোখে পড়ে তাঁদের পার্থক্য। রবীন্দ্রনাথশান্তি, সৌন্দর্য, প্রেম, প্রকৃতি, আত্মদর্শন। নজরুলবিদ্রোহ, সাম্য, সংগ্রাম, প্রেম, মুক্তি। কিন্তু একটু গভীরে তাকালেই দেখা যায়, তাঁদের গন্তব্য একই। দুজনেই মানুষকে ভালোবেসেছেন। দুজনেই মানুষের মুক্তি চেয়েছেন। দুজনেই ধর্ম, জাতি, সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে মানুষকে দেখতে চেয়েছেন। তাই তাঁদের পথ আলাদা হলেও আকাশ ছিল এক।রবীন্দ্রনাথ হয়তো বলেছিলেনমানুষের হৃদয়কে সুন্দর করো।নজরুল যেন উত্তর দিয়েছিলেনমানুষের শিকলও ভেঙে দাও।একজন হৃদয়ের দরজা খুলেছেন, অন্যজন কারাগারের দরজা ভেঙেছেন। আর বাংলা সাহিত্য তাঁদের দুজনকেই গ্রহণ করেছে।দুই নক্ষত্রের দিকে তাকিয়েআজ এত বছর পরে যখন আমরা তাঁদের দিকে ফিরে তাকাই, তখন মনে হয়রবীন্দ্রনাথ ও নজরুল যেন একই আকাশের দুটি নক্ষত্র।তাঁদের আলো এক নয়।তাঁদের পথ এক নয়।তাঁদের ভাষাও এক নয়।কিন্তু অন্ধকারের বিরুদ্ধে তাঁদের প্রত্যয়ের জায়গাটি একই।একজনের হাতে ছিল বীণা, অন্যজনের হাতে বিদ্রোহের মশাল।একজন বলেছিলেন ভালোবাসতে।অন্যজন বলেছিলেন ভয় না পেতে।একজন মানুষের অন্তরকে মুক্ত করেছেন, অন্যজন মানুষের মেরুদণ্ডকে সোজা করেছেন।আর তাঁদের পারস্পরিক সম্পর্ক আমাদের শিখিয়েছেশ্রদ্ধা মানে নিজের কণ্ঠ হারিয়ে ফেলা নয়; ভালোবাসা মানে একে অপরকে নিজের মতো করে বানিয়ে নেওয়া নয়। সত্যিকারের শ্রদ্ধা হল অন্যের স্বাতন্ত্র্যকে স্বীকার করে নেওয়া। সত্যিকারের ভালোবাসা হল অন্যের আলোকে ভয় না পাওয়া। রবীন্দ্রনাথ নজরুলের আলোকে ভয় পাননি। নজরুলও রবীন্দ্রনাথের মহিমার সামনে নিজের আলো নিভিয়ে দেননি।এই কারণেই তাঁদের সম্পর্ক বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে শুধু একটি অধ্যায় নয়এ এক অনন্ত মানবিক উপাখ্যান। যেখানে একজন প্রবীণ কবি তরুণ প্রতিভার মাথায় হাত রেখেছেন, আর এক তরুণ বিদ্রোহী কবি শ্রদ্ধায় সেই হাতের উষ্ণতা অনুভব করেছেন। সময় তাঁদের আলাদা করেছে।মৃত্যু তাঁদের দুজনকেই নীরব করেছে।কিন্তু তাঁদের কথারা আজও বেঁচে আছে।রবীন্দ্রনাথের গানে যখন সন্ধ্যা নামে, নজরুলের কবিতায় তখন ভোরের মিছিল শুরু হয়।একজনের সুরে মন শান্ত হয়।অন্যজনের শব্দে রক্ত গরম হয়ে ওঠে।আর আমরা বুঝতে পারিবাংলা সাহিত্যকে সম্পূর্ণ করতে দুজনেরই প্রয়োজন ছিল। একজন না থাকলে অন্যজনের মহিমা হয়তো এত স্পষ্ট হয়ে উঠত না। তাই আজও মনে হয়, দূর কোনো নক্ষত্রলোকের নীরব বারান্দায় হয়তো রবীন্দ্রনাথ বসে আছেন, হাতে তাঁর চিরপরিচিত বীণা। আর পাশে দাঁড়িয়ে নজরুলচোখে সেই দুরন্ত আগুন, হাতে তাঁর অমর মশাল। দুজনেই হয়তো একে অপরের দিকে তাকিয়ে মৃদু হাসছেন।কোনো অভিমান নেই।কোনো প্রতিযোগিতা নেই।শুধু গভীর এক স্বীকৃতিতুমি তোমার মতো করেই এসেছিলে।তাই বাংলা ভাষা আজ এত সমৃদ্ধ।আর সেই কারণেই, তাঁদের ভালোবাসার গল্প শেষ হয় না।প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে আমরা সেই গল্প শুনিএকজন কবির স্নেহের গল্প, একজন বিদ্রোহীর শ্রদ্ধার গল্প, আর দুই মহীরুহের মধ্যে জন্ম নেওয়া এমন এক আত্মিক বন্ধনের গল্প,যেখানে বীণার সুর আর বিদ্রোহের মশালদুটিই শেষ পর্যন্ত মানুষেরই জয়গান গায়।

আগস্ট ২৯, ২০২৬
কলকাতা

এনআরএসে নয়, অন্য হাসপাতালে ময়নাতদন্ত! নার্সের মৃত্যু ঘিরে বড় সিদ্ধান্ত, কী জানাল স্বাস্থ্যদপ্তর?

এনআরএস হাসপাতালের শৌচালয় থেকে নার্সের দেহ উদ্ধারের ঘটনায় নতুন মোড়। মৃত নার্সের স্বামী ও পরিবারের দাবি মেনে এনআরএস হাসপাতালে ময়নাতদন্ত হবে না। কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের ফরেন্সিক বিভাগের প্রধানের নেতৃত্বে ময়নাতদন্ত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।বৃহস্পতিবার সকালে ঘটনার খবর পেয়ে হাসপাতালে যান স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলার পর তিনি জানান, মৃতার স্বামী রাহুল দাস এবং পরিবারের পক্ষ থেকে অন্য হাসপাতালে ময়নাতদন্তের আবেদন জানানো হয়েছিল। সেই আবেদন মেনে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের ফরেন্সিক বিভাগের প্রধানের নেতৃত্বে ময়নাতদন্ত হবে।নার্সের কীভাবে মৃত্যু হল, তা নিয়ে এখনই কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছতে চাইছে না স্বাস্থ্যদপ্তর। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে না আসা পর্যন্ত মৃত্যুর কারণ নিয়ে কোনও অনুমান করা ঠিক হবে না। তাঁর কথায়, বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে অনুমানের জায়গা নেই। রিপোর্ট পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।ঘটনার তদন্তে আলাদা অভ্যন্তরীণ কমিটিও গঠন করা হয়েছে। এনআরএস হাসপাতাল এবং স্বাস্থ্যদপ্তরের উদ্যোগে তৈরি এই কমিটিতে হাসপাতালের ফরেন্সিক বিভাগের প্রধান, এমএসভিপি, নার্সিং সুপারিনটেনডেন্ট, পরিচ্ছন্নতা বিভাগের প্রতিনিধি-সহ একাধিক বিভাগের প্রধানদের রাখা হয়েছে। আগামী সাত দিনের মধ্যে ওই কমিটিকে রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে।বুধবার রাতে এনআরএস হাসপাতালের স্ত্রী রোগ বিভাগের এইচডিইউতে কর্মরত ওই নার্সের দেহ বিভাগেরই শৌচালয় থেকে উদ্ধার হয়। জানা গিয়েছে, রাত আটটা নাগাদ তিনি কাজে যোগ দিয়েছিলেন। রাত নটা নাগাদ এক রোগীকে পরিষেবা দেওয়ার পর শৌচালয়ে যান। এরপর দীর্ঘ সময় কেটে গেলেও তিনি ফিরে না আসায় সহকর্মীদের সন্দেহ হয়।এক জন জুনিয়র চিকিৎসক তাঁর খোঁজ শুরু করেন। শৌচালয়ের সামনে গিয়ে ডাকাডাকি করেও কোনও সাড়া পাওয়া যায়নি। পরে গ্রুপ ডি কর্মীদের ডেকে দরজা ভাঙা হয়। ভিতর থেকে নার্সকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। চিকিৎসকরা তাঁকে দ্রুত উদ্ধারের চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত তাঁকে বাঁচানো যায়নি।এরপর থেকেই নার্সের মৃত্যু ঘিরে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। কীভাবে তাঁর মৃত্যু হল, শৌচালয়ের ভিতরে ঠিক কী ঘটেছিল এবং মৃত্যুর আগে তাঁর শারীরিক বা মানসিক অবস্থার কী পরিস্থিতি ছিল, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, শৌচালয় থেকে কিছু জিনিস উদ্ধার হয়েছে। সেগুলিও তদন্তের আওতায় থাকবে। পুলিশ ঘটনার তদন্ত করছে এবং ময়নাতদন্তের রিপোর্ট ও অভ্যন্তরীণ কমিটির রিপোর্ট সামনে এলেই মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ছবি পাওয়া যাবে।

আগস্ট ১৩, ২০২৬
রাজ্য

মাত্র তিন মাসে ফের মৃত্যু! খড়্গপুরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যাপকের ঝুলন্ত দেহ ঘিরে চাঞ্চল্য

খড়্গপুরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফের এক অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মাত্র তিন মাসের ব্যবধানে আবারও ক্যাম্পাসে মৃত্যু ঘিরে উদ্বেগ বাড়ল। এবার এক অধ্যাপকের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়েছে কর্মী আবাসন থেকে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত অধ্যাপকের নাম দীপক রেড্ডি। তাঁর বয়স পঁচিশ বছর। তিনি বিদ্যুৎ প্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ছিলেন। তাঁর বাড়ি হায়দরাবাদে। বুধবার ক্যাম্পাসের কর্মী আবাসনের একটি ঘর থেকে তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করা হয়। দ্রুত তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা মৃত বলে ঘোষণা করেন।প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, ওই আবাসনে তিনি একাই থাকতেন। কী কারণে এই ঘটনা ঘটল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তিনি মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন কি না, সেই দিক-সহ সমস্ত সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে।উল্লেখ্য, চলতি বছরের এপ্রিল মাসেও একই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দুই ছাত্রের অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছিল। প্রথমে এক তৃতীয় বর্ষের ছাত্রের মৃত্যুর ঘটনা সামনে আসে। পরে আর এক ছাত্রের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয় হস্টেল থেকে। সেই ঘটনাগুলি নিয়ে তদন্ত এখনও বিভিন্ন পর্যায়ে রয়েছে।পরপর এই ধরনের মৃত্যুর ঘটনায় ক্যাম্পাসে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে বর্তমান ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে এখনও পুলিশ বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে কোনও চূড়ান্ত বক্তব্য জানানো হয়নি। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং তদন্তের পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে।

জুলাই ২৯, ২০২৬
কলকাতা

ভুয়ো জন্ম-মৃত্যু শংসাপত্রে কড়া নবান্ন, পঞ্চায়েত ও পুর প্রধানদের সইয়ের ক্ষমতা বাতিল

জন্ম-মৃত্যুর ভুয়ো শংসাপত্রের অভিযোগে রাজ্যজুড়ে তোলপাড়ের মধ্যে বড় সিদ্ধান্ত নিল নবান্ন। এবার থেকে পঞ্চায়েত প্রধান এবং পুর চেয়ারম্যানরা আর জন্ম-মৃত্যুর শংসাপত্র ইস্যু করতে পারবেন না। এই ক্ষমতা শুধুমাত্র সরকারি আধিকারিকদের হাতে থাকবে বলে জানালেন মুখ্যসচিব মনোজ আগারওয়াল।মুখ্যসচিবের নির্দেশের পর জেলায় জেলায় জন্ম-মৃত্যুর নথি যাচাইয়ের কাজ শুরু হয়েছে। সেই প্রক্রিয়ার মধ্যেই এই নতুন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। খুব শীঘ্রই এ বিষয়ে সরকারি নির্দেশিকা জারি করা হবে বলে জানা গিয়েছে।নবান্ন সূত্রে খবর, এখন থেকে জন্ম-মৃত্যুর শংসাপত্রে শুধুমাত্র নির্দিষ্ট সরকারি আধিকারিকদের সইয়ের ক্ষমতা থাকবে। পঞ্চায়েত প্রধান বা পুর চেয়ারম্যানদের আর সেই ক্ষমতা থাকবে না।এই সিদ্ধান্তের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মুখ্যসচিব বলেন, নথি যাচাইয়ের সময় বহু ভুয়ো জন্ম-মৃত্যু শংসাপত্রের অভিযোগ সামনে এসেছে। বিশেষ করে মালদহ, মুর্শিদাবাদ এবং উত্তর দিনাজপুরে এই ধরনের অভিযোগ বেশি পাওয়া গিয়েছে।জন্ম শংসাপত্রের ভিত্তিতেই আধার কার্ড, ভোটার কার্ড-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরিচয়পত্র তৈরি হয়। তাই এই শংসাপত্রে কোনও ভুয়ো তথ্য থাকলে তা ভবিষ্যতে বড় সমস্যার কারণ হতে পারে। সেই কারণেই শংসাপত্র ইস্যুর দায়িত্ব শুধুমাত্র সরকারি আধিকারিকদের হাতে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।এই বিষয়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার বলেন, সরকারি আধিকারিকদের হাতে দায়িত্ব থাকলে তাঁরা চাকরির দায়বদ্ধতার কথা মাথায় রেখে সঠিকভাবে শংসাপত্র ইস্যু করবেন। ভুয়ো নথির মাধ্যমে বেআইনিভাবে নাগরিকত্বের সুযোগ কেউ যাতে না পায়, তা নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ জরুরি বলে তিনি মন্তব্য করেন।

জুলাই ২৩, ২০২৬
রাজ্য

স্কুলে যাওয়ার পথে ভয়াবহ বিপর্যয়! ছাত্রবোঝাই গাড়িতে ট্রেনের ধাক্কা, মুহূর্তেই মৃত্যু

মুর্শিদাবাদের বহরমপুরে শুক্রবার সকালে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে দুই ছাত্রের। স্কুলের ছাত্রবোঝাই একটি গাড়িতে চলন্ত ট্রেন ধাক্কা মারলে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনায় একাধিক পড়ুয়া আহত হয়েছে। আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। কয়েক জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গিয়েছে।ঘটনাটি ঘটেছে কর্ণসুবর্ণ এবং গোবিন্দপুর স্টেশনের মাঝের একটি লেভেল ক্রসিংয়ে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, সকালে একটি ট্রেন যাওয়ার পর রেলগেট খুলে দেওয়া হয়। সেই সময় স্কুলের গাড়িটি রেললাইন পার হওয়ার জন্য এগিয়ে যায়। ঠিক তখনই উল্টো দিক থেকে নিমতিতা-কাটোয়া প্যাসেঞ্জার ট্রেন চলে আসে। মুহূর্তের মধ্যে ট্রেনটি গাড়িটিকে সজোরে ধাক্কা মারে। গাড়িটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়।জানা গিয়েছে, গাড়িতে মোট আট জন ছিলেন। দুর্ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দারা ছুটে এসে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। আহতদের প্রথমে কর্ণসুবর্ণ ব্লক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। যাঁদের শারীরিক অবস্থা গুরুতর, তাঁদের মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে। ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে পুলিশ এবং রেল কর্তৃপক্ষ।দুর্ঘটনার পর রেলগেট খোলা ছিল কেন, তা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। গেটম্যানের ভূমিকা নিয়েও অভিযোগ উঠেছে। কেন রেলগেট খুলে দেওয়া হয়েছিল এবং সেই সময় গেটম্যান কোথায় ছিলেন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।এই ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে পূর্ব রেল। একটি বিশেষ তদন্তকারী দল ঘটনাস্থলে পাঠানো হচ্ছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ, রেলগেট পরিচালনায় কোনও গাফিলতি ছিল কি না এবং কারও দায়িত্বে অবহেলা ছিল কি না, তা বিস্তারিতভাবে তদন্ত করে দেখা হবে বলে জানিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ।

জুলাই ১৭, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

বিশ্বকাপ খেলেই মৃত্যু! মাত্র ২৫ বছরেই না ফেরার দেশে দক্ষিণ আফ্রিকার তারকা ফুটবলার, রহস্যে ঘেরা শেষ মুহূর্ত

বিশ্বকাপে দেশের হয়ে খেলেছিলেন মাত্র ১৬ দিন আগে। মাঠে তাঁর দাপুটে পারফরম্যান্সে মুগ্ধ হয়েছিলেন ফুটবলপ্রেমীরা। সেই স্মৃতি এখনও টাটকা। এর মধ্যেই এল হৃদয়বিদারক খবর। মাত্র ২৫ বছর বয়সে মারা গেলেন দক্ষিণ আফ্রিকার তরুণ ফুটবলার জেডেন অ্যাডামস। তাঁর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনও জানা যায়নি। এই ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে দক্ষিণ আফ্রিকার ফুটবল মহলে।জেডেন অ্যাডামস দক্ষিণ আফ্রিকার অন্যতম সফল ক্লাবের হয়ে খেলতেন। সম্প্রতি বিশ্বকাপে তিনি মেক্সিকো, চেক প্রজাতন্ত্র এবং দক্ষিণ কোরিয়ার বিরুদ্ধে মাঠে নেমেছিলেন। চেক প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে প্রথম একাদশে সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি। দক্ষিণ কোরিয়ার বিরুদ্ধে বদলি হিসেবে খেলেন। তবে নকআউট পর্বে কানাডার বিরুদ্ধে ম্যাচে তিনি মাঠে নামেননি।দক্ষিণ আফ্রিকা ফুটবল প্লেয়ার্স ইউনিয়ন গভীর শোক প্রকাশ করে জানিয়েছে, দেশের ফুটবল এক উজ্জ্বল প্রতিভাকে হারাল। তাঁর মৃত্যু শুধু পরিবার বা ক্লাবের নয়, গোটা দেশের ফুটবলের জন্য বড় ক্ষতি।কেপ টাউনে জন্ম জেডেন অ্যাডামসের। স্টেলেনবস ক্লাবের যুব অ্যাকাডেমি থেকেই তাঁর ফুটবল জীবন শুরু। পরে তিনিই সেই অ্যাকাডেমির প্রথম ফুটবলার হিসেবে পেশাদার চুক্তি পান। স্টেলেনবসের হয়ে ১৩৯টি ম্যাচ খেলার পর তিনি মামেলোদি সানডাউনসে যোগ দেন। ধারাবাহিক ভালো পারফরম্যান্সের জন্যই তিনি বিশ্বকাপের দলে জায়গা করে নিয়েছিলেন।দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রীড়ামন্ত্রীও শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, দেশের ফুটবল এক সম্ভাবনাময় তরুণ তারকাকে হারিয়েছে। তাঁর সাফল্যের পথচলা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।এদিকে, পুলিশ জানিয়েছে কেপ টাউনের একটি বাড়ি থেকে ২৫ বছর বয়সি এক যুবকের দেহ উদ্ধার হয়েছে। মৃত্যুর কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। কীভাবে এই মৃত্যু হল, তা জানতে তদন্ত শুরু হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্টের অপেক্ষায় রয়েছেন তদন্তকারীরা। তরুণ এই ফুটবলারের আকস্মিক মৃত্যু ঘিরে তৈরি হয়েছে একাধিক প্রশ্ন।

জুলাই ১১, ২০২৬
দেশ

বাড়ির সামনেই জমা জল, খেলতে গিয়ে আর ফেরা হল না! তিন বছরের শিশুর মৃত্যুতে উত্তাল দিল্লি

একটানা ভারী বৃষ্টিতে কার্যত জলমগ্ন দিল্লি। সেই জল জমেই ঘটে গেল হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনা। গাজিয়াবাদের একটি গলিতে জমে থাকা জলে ডুবে মৃত্যু হয়েছে তিন বছরের এক শিশুকন্যার। ঘটনাটি ঘটেছে বাড়ির কাছেই। দুর্ঘটনার পর এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ক্ষুব্ধ পরিবারের সদস্য এবং স্থানীয় বাসিন্দারা জাতীয় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান।স্থানীয়দের দাবি, যে গলিতে শিশুটি ডুবে যায় সেখানে প্রায় তিন ফুট জল জমেছিল। দীর্ঘ সময় খোঁজাখুঁজির পর প্রায় চার ঘণ্টা পরে শিশুটির দেহ উদ্ধার করা হয়। এলাকাবাসীর অভিযোগ, জাতীয় সড়কের একটি অংশ সম্প্রসারণের পর থেকেই ওই এলাকায় জল জমার সমস্যা বেড়েছে। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার পুর কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও কার্যকর কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ তাঁদের।বুধবার থেকে শুরু হওয়া টানা ভারী বৃষ্টিতে দিল্লির বিস্তীর্ণ এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। বহু রাস্তায় জল জমে যান চলাচল ব্যাহত হয়েছে। বিভিন্ন জায়গায় গাছ উপড়ে পড়ায় দীর্ঘ যানজটেরও সৃষ্টি হয়েছে। এর আগের রাতে রোহিনী এলাকায় একটি নির্মীয়মাণ বাড়ি ভেঙে তিন জনের মৃত্যু হয়েছে।আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, ভারী বৃষ্টি আরও কিছু সময় চলতে পারে। রাজধানীর একাধিক এলাকায় নিকাশি ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় রাস্তা কার্যত জলমগ্ন হয়ে রয়েছে। সদর বাজার, গ্রেটার কৈলাশ, বদরপুর, নাসিরপুর, তেলিওয়ারা, মহাবীর বাজার, স্বরূপ নগর, কুশক রোড, মুনিরকা, দ্বারকা, বিকাশ মার্গ, পূর্ব দিল্লি এবং নতুন দিল্লি রেলস্টেশন সংলগ্ন এলাকায় জল জমে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি চরমে উঠেছে।

জুলাই ০৯, ২০২৬
দেশ

ধর্মীয় অনুষ্ঠান থেকে ফেরার পথে ভয়াবহ মৃত্যু! মুহূর্তে খাদে তলিয়ে গেল গাড়ি, প্রাণ গেল ৭ জনের

হিমাচলের চাম্বা জেলায় ভয়াবহ পথ দুর্ঘটনায় মৃত্যু হল সাত জনের। বুধবার গভীর রাতে একটি চারচাকা গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গভীর খাদে পড়ে গেলে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান সকল যাত্রী। মৃতদের মধ্যে রয়েছেন তিন জন মহিলা এবং গাড়ির চালক।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতরা সকলেই একই গ্রামের বাসিন্দা। বুধবার রাতে একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার পর তাঁরা বাড়ি ফিরছিলেন। সেই সময় ছাতরুন্ড এলাকার কাছে আচমকাই দুর্ঘটনার কবলে পড়ে তাঁদের গাড়ি।প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, গাড়িটি হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশের গভীর খাদে গিয়ে পড়ে। দুর্ঘটনার পর বিকট শব্দ শুনে স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। তাঁরাই প্রথম উদ্ধারকাজ শুরু করেন এবং পুলিশ ও প্রশাসনকে খবর দেন।খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ ও উদ্ধারকারী দল। তবে খাদটি অত্যন্ত গভীর হওয়ায় রাতের অন্ধকারে উদ্ধারকাজ চালাতে বেশ সমস্যার মুখে পড়তে হয়। দীর্ঘ সময়ের চেষ্টার পর একে একে সাতটি দেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়।দুর্ঘটনার অভিঘাতে গাড়িটি সম্পূর্ণ দুমড়ে-মুচড়ে গিয়েছে। উদ্ধার হওয়া দেহগুলি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ঘটনার পর গোটা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।তবে কী কারণে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাড়ির যান্ত্রিক ত্রুটি, চালকের নিয়ন্ত্রণ হারানো নাকি অন্য কোনও কারণ এর পিছনে রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।একসঙ্গে সাত জনের মৃত্যুতে স্থানীয়দের মধ্যে গভীর শোকের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। একটি আনন্দঘন অনুষ্ঠান থেকে ফেরার পথ যে এত বড় ট্র্যাজেডিতে শেষ হবে, তা কেউ কল্পনাও করতে পারেননি।

জুন ১৮, ২০২৬
রাজ্য

দুর্নীতির অভিযোগ, ঋণের চাপ, তারপর মৃত্যু! কী ঘটল তৃণমূল প্রধানের জীবনে?

উত্তর চব্বিশ পরগনার বাদুড়িয়ায় তৃণমূলের এক পঞ্চায়েত প্রধানের রহস্যমৃত্যুকে ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মঙ্গলবার সকালে নিজের বাড়ি থেকেই ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় যদুরহাটি উত্তর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান জাহিদুল হক বৈদ্যের দেহ। ঘটনার পর থেকেই এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে।স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গত কয়েক দিন ধরেই জাহিদুল হক বৈদ্যের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ চলছিল। তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতির একাধিক অভিযোগ তুলেছিলেন এলাকার বাসিন্দারা। অভিযোগ ছিল, স্বচ্ছ ভারত মিশনের অধীনে পাওয়া একটি ব্যাটারিচালিত ময়লা সংগ্রহের গাড়ি বিক্রি করে সেই অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে।গত একত্রিশ মে এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে এলাকার বহু মানুষ তাঁর বাড়ির সামনে বিক্ষোভ দেখান। তাঁকে গ্রেফতার করার দাবি তোলেন বাসিন্দারা। পাশাপাশি ঘটনার তদন্তের দাবিও ওঠে। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তাঁর বাড়িতে গিয়েছিল। তবে সেই সময় তাঁকে পাওয়া যায়নি বলে জানা গিয়েছে।মঙ্গলবার সকালে তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হওয়ার পর নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। আত্মহত্যা নাকি অন্য কোনও কারণ রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। ইতিমধ্যেই দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।এলাকার বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, জাহিদুল হক বৈদ্যের উপর বিপুল ঋণের চাপ ছিল। বিভিন্ন ঠিকাদারের কাছ থেকে নেওয়া টাকা তিনি ফেরত দিতে পারছিলেন না বলেও অভিযোগ উঠেছে। সেই কারণেই তিনি মানসিক চাপে ছিলেন বলে স্থানীয়দের দাবি।তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। পুলিশ সমস্ত দিক খতিয়ে দেখে তদন্ত শুরু করেছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে এলেই মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।

জুন ০২, ২০২৬
কলকাতা

দেবরাজ ঘনিষ্ট তৃণমূল কাউন্সিলরের রহস্যমৃত্যু! ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারে চাঞ্চল্য, সামনে এল ভয়ংকর অভিযোগ

দক্ষিণ দমদম পুরসভার ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কংগ্রেস কাউন্সিলর তথা চেয়ারম্যান ইন কাউন্সিল স্বাস্থ্য সঞ্জয় দাসের অস্বাভাবিক মৃত্যু ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। শনিবার তাঁর বাড়ি থেকে ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করা হয়। দ্রুত তাঁকে নাগেরবাজারের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসকেরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যার ঘটনা বলেই মনে করা হচ্ছে।সঞ্জয় দাস রাজ্যের প্রাক্তন বিধায়ক অদিতি মুন্সির স্বামী দেবরাজ চক্রবর্তীর ঘনিষ্ঠ বলেও রাজনৈতিক মহলে পরিচিত ছিলেন। মৃত্যুর খবর পেয়ে দ্রুত সেখানে পৌঁছে যান অদিতি মুন্সিও। ঘটনার পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।এর মধ্যেই বিস্ফোরক অভিযোগ করেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি কিরণ ভট্টাচার্য। তাঁর দাবি, সঞ্জয় দাসকে কিছু লোক দীর্ঘদিন ধরে হুমকি দিচ্ছিল। এমনকি তাঁর কাছে ১০ লক্ষ টাকা চাওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ। কিরণের দাবি, যারা এই চাপ দিচ্ছিল তারা আগে তৃণমূল করলেও এখন বিজেপির সঙ্গে যুক্ত।তিনি বলেন, সঞ্জয় দাস নাকি ওই ব্যক্তিদের বলেছিলেন, এখন ১০ হাজার টাকা নিতে, পরে বাকি টাকা দেবেন। সেই ঘটনার পর থেকেই তিনি প্রচণ্ড মানসিক চাপে ছিলেন। কিরণ ভট্টাচার্যের অভিযোগ, সেই চাপই শেষ পর্যন্ত সঞ্জয়কে ভয়ংকর সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে। যদিও বিজেপির বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ করতে চাননি তিনি। তাঁর বক্তব্য, বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব এ ধরনের ঘটনা কোনওভাবেই সমর্থন করবে না। তবে যারা হুমকি দিয়েছিল, তাদের দ্রুত খুঁজে বের করার দাবি জানিয়েছেন তিনি।রাজ্যে সরকার বদলের পর থেকেই দুর্নীতির অভিযোগে একের পর এক তৃণমূল নেতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ইতিমধ্যেই বিধাননগর পুরনিগমের একাধিক কাউন্সিলর পুলিশের জালে ধরা পড়েছেন। গ্রেফতার হয়েছেন ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সমরেশ চক্রবর্তী, ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সুশোভন মণ্ডল এবং ৩৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর রঞ্জন পোদ্দার। একদিন আগেই গ্রেফতার হয়েছেন দক্ষিণ দমদম পুরসভার ৩৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর তথা চেয়ারম্যান ইন কাউন্সিল পার্থ বর্মাও।এই পরিস্থিতির মধ্যেই সঞ্জয় দাসের মৃত্যু ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও তীব্র হয়েছে। ঘটনাটি আত্মহত্যা, নাকি এর পিছনে অন্য কোনও কারণ রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

মে ২৩, ২০২৬
দেশ

শিশুমৃত্যুর পর জ্বলছে মণিপুর! রাস্তায় হাজার মানুষ, পাঁচ দিনের বন্‌ধে অচল রাজ্য

চলতি মাসের শুরুতে এক বিএসএফ জওয়ানের বাড়িতে রকেট হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে আবারও অশান্ত হয়ে উঠেছে মণিপুর। ওই হামলায় এক শিশুকন্যা এবং পাঁচ বছরের এক বালকের মৃত্যু হয়। এই ঘটনার প্রতিবাদে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। নাগরিক সমাজ রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ জানাচ্ছে এবং পাঁচ দিনের বন্ধের ডাক দেওয়া হয়েছে।রবিবার মণিপুরের নানা প্রান্তে হাজার হাজার মানুষ পথে নামেন। ইম্ফলে রাতে মশাল হাতে মিছিল করেন বহু মানুষ, বিশেষ করে মহিলাদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। অভিযোগ, এই বিক্ষোভ দমাতে পুলিশ শক্তি প্রয়োগ করেছে। আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস ছোড়া হয়। কিছু জায়গায় বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষের ঘটনাও সামনে আসে।প্রতিবাদকারীদের দাবি, এই হামলার সঙ্গে জড়িত দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করতে হবে। পাশাপাশি পাহাড়ি এলাকায় সক্রিয় কুকি জঙ্গিদের বিরুদ্ধেও কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি উঠেছে। বন্ধের জেরে বাজার, স্কুল-কলেজ এবং সরকারি অফিস বন্ধ ছিল। পরিবহন ব্যবস্থাও ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়। শুধুমাত্র জরুরি পরিষেবা কিছু এলাকায় চালু রাখা হয়।অন্যদিকে মণিপুর পুলিশ জানিয়েছে, প্রতিবাদের নামে কিছু সমাজবিরোধী কাজকর্ম চলছে। যারা হিংসা ছড়াচ্ছে বা অন্যদের উসকানি দিচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুলিশের দাবি, কিছু মানুষ বিক্ষোভকারীদের হাতে পেট্রোল বোমা, লোহার গোলা লাগানো গুলতি এবং পাথর তুলে দিচ্ছে, যা পরিস্থিতিকে আরও খারাপ করছে।উল্লেখযোগ্য, গত ছয় এপ্রিল রাতে বিষ্ণুপুর জেলার মোইরাং ট্রোংলাওবি এলাকায় এক বিএসএফ জওয়ানের বাড়িতে হামলা চালানো হয়। অভিযোগ, একাধিক জঙ্গি ওই বাড়ি লক্ষ্য করে রকেট ছোড়ে। তখন বাড়ির সদস্যরা ঘুমিয়ে ছিলেন। এই হামলায় ঘুমের মধ্যেই মৃত্যু হয় পাঁচ মাসের এক শিশুকন্যা এবং পাঁচ বছরের এক বালকের। গুরুতর জখম হন তাদের মা। এই মর্মান্তিক ঘটনার পর থেকেই এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায়। ক্ষুব্ধ মানুষ পরে নিকটবর্তী একটি সুরক্ষা শিবিরেও হামলা চালায়। তারপর থেকেই পরিস্থিতি অস্থির হয়ে রয়েছে।

এপ্রিল ২০, ২০২৬
রাজ্য

ফের চাঞ্চল্য আইআইটি খড়গপুরে! ছাত্রের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার, রহস্য ঘনীভূত

আইআইটি খড়গপুরে ফের এক পড়ুয়ার অস্বাভাবিক মৃত্যুকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মৃত পড়ুয়ার নাম জয়বীর সিং দোড়িয়া। একুশ বছর বয়সী এই ছাত্র মেনুফ্যাকচারিং ইঞ্জিনিয়ারিং-এর তৃতীয় বর্ষে পড়তেন। তিনি আইআইটি খড়গপুরের নেহেরু হলে থাকতেন।শনিবার সকালে নেহেরু হলের নীচ থেকে তাঁর রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, হলের ছাদ থেকে ঝাঁপ দিয়েই তিনি আত্মঘাতী হয়েছেন। তাঁর বাড়ি গুজরাতের আহমেদাবাদে বলে জানা গিয়েছে।এই ঘটনায় গোটা ক্যাম্পাসে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। গত ষোলো মাসে এই নিয়ে আটজন পড়ুয়া ও গবেষকের অস্বাভাবিক মৃত্যু ঘটল আইআইটি খড়গপুরে। এর মধ্যে সাতটি ঘটনাই ঘটেছে ক্যাম্পাসের ভেতরে। পাঁচজনের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়েছিল।সর্বশেষ গত ডিসেম্বরে এক পড়ুয়ার দেহ উদ্ধার হয়েছিল রেললাইনের ধারে। সেই ঘটনাও ঘিরে প্রশ্ন উঠেছিল।এই ঘটনায় পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। নেহেরু হল থেকে তিনি কীভাবে অন্য একটি হলের ছাদে পৌঁছলেন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কখন তিনি বেরিয়েছিলেন, তা জানতে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।একাধিক অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনার পর ফের নতুন করে প্রশ্ন উঠছে নিরাপত্তা ও মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়টি নিয়ে।

এপ্রিল ১৮, ২০২৬
রাজ্য

রাহুলের পর তাজপুরে রহস্যমৃত্যু! সমুদ্র থেকে ভেসে উঠল দুই চিকিৎসকের দেহ

অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুর রহস্য এখনও স্পষ্ট না হতেই তাজপুরে ফের একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনা সামনে এল। সমুদ্র থেকে উদ্ধার হল দুই চিকিৎসকের দেহ, যা ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন করে উদ্বেগ ও প্রশ্ন।স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার রাতে তাজপুরের বিশ্ব বাংলা গেটের কাছে সমুদ্রে দুটি দেহ ভাসতে দেখেন পর্যটক ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। সঙ্গে সঙ্গে খবর দেওয়া হয় উপকূল থানায়। এরপর পুলিশ ডুবুরি নামিয়ে সমুদ্র থেকে দেহ দুটি উদ্ধার করে।মৃতদের পরিচয় হিসেবে জানা গিয়েছে, তাঁদের নাম কুন্তল চক্রবর্তী এবং শৈলজা ভরদ্বাজ। দুজনেই সোদপুরের বাসিন্দা এবং পেশায় চিকিৎসক। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কয়েক দিন আগে তাঁরা তাজপুরে বেড়াতে এসেছিলেন এবং নিজেরাই গাড়ি করে সেখানে পৌঁছেছিলেন।প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, সমুদ্রের ধারে সময় কাটানোর সময় কোনওভাবে তাঁরা জলে নেমে পড়েন এবং ঢেউয়ের তোড়ে ভেসে যান। ঘটনাটি সম্ভবত রাতের দিকে ঘটেছে, তাই কেউ তা সরাসরি দেখেননি বলে অনুমান করা হচ্ছে।বৃহস্পতিবার সকালে বিশ্ব বাংলা গেটের কাছেই দেহ দুটি ভেসে থাকতে দেখা যায়। পুলিশ দ্রুত দেহ উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাঁদের মৃত বলে ঘোষণা করেন। পরিবারের সদস্যদের ইতিমধ্যেই খবর দেওয়া হয়েছে।ঠিক কীভাবে এই ঘটনা ঘটল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। পুলিশ পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। দেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। সেই রিপোর্ট হাতে এলেই মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।এই ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এবং নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।

এপ্রিল ০২, ২০২৬
বিনোদুনিয়া

গোড়ালি জলে শুটিং, তবু মৃত্যু! রাহুল কাণ্ডে নতুন রহস্য, মুখ খুললেন লীনা গঙ্গোপাধ্যায়

একটি মৃত্যুর ঘটনা ঘিরে একের পর এক প্রশ্ন সামনে আসছে। শুটিং চলাকালীন আকস্মিক দুর্ঘটনায় অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যু এখনও স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করা যাচ্ছে না। তালসারির সমুদ্র সৈকতে ঠিক কী ঘটেছিল, তা নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন বয়ান সামনে আসছে। এর মধ্যেই লেখিকা লীনা গঙ্গোপাধ্যায়ের মন্তব্য নতুন করে রহস্য বাড়িয়েছে।তিনি জানিয়েছেন, যে দৃশ্যের শুটিং হচ্ছিল, তাতে গভীর জলে যাওয়ার কোনও প্রয়োজনই ছিল না। শুধু গোড়ালি পর্যন্ত জলে হাঁটার একটি দৃশ্য ছিল। সেই জায়গা থেকে প্রশ্ন উঠছে, তাহলে কেন রাহুল সমুদ্রের দিকে আরও এগিয়ে গেলেন।একই কথা বলেছেন ধারাবাহিকের কার্যনির্বাহী প্রযোজক শান্তনু নন্দীও। তিনি যদিও দুর্ঘটনার সময় ঘটনাস্থলে ছিলেন না, তবে ইউনিটের কাছ থেকে যা জেনেছেন, তা তুলে ধরেছেন। তাঁর কথায়, মূল শুটিং প্রায় শেষ হয়ে গিয়েছিল। শুধু একটি ড্রোনে তোলা দৃশ্য বাকি ছিল। সেই দৃশ্যও খুব অল্প জলে হওয়ার কথা ছিল।তিনি জানান, শুটিংয়ের সময় রাহুল এবং তাঁর সহ-অভিনেত্রী একটু একটু করে সামনে এগোচ্ছিলেন। ইউনিটের তরফ থেকে তাঁদের বারবার বলা হচ্ছিল, আর এগোতে না। ঠিক সেই সময় হঠাৎ একটি বড় ঢেউ এসে পড়ে। ভারসাম্য হারিয়ে দুজনেই জলে পড়ে যান।এরপরই ইউনিটের সদস্যরা দ্রুত উদ্ধার কাজে ঝাঁপিয়ে পড়েন। শ্বেতাকে দ্রুত টেনে তোলা হলেও রাহুল কিছুটা বেশি দূরে চলে গিয়েছিলেন। পরে নিরাপত্তা নৌকায় থাকা কয়েকজন জলে নেমে দড়ির সাহায্যে তাঁকে উদ্ধার করেন।তাঁর কথায়, পাড়ে তোলার পর সঙ্গে সঙ্গে তাঁর শরীর থেকে জল বের করার চেষ্টা করা হয় এবং দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেই সময় পর্যন্ত নাকি রাহুলের জ্ঞান ছিল এবং তিনি কথা বলছিলেন। কিন্তু হাসপাতালে পৌঁছনোর পর চিকিৎসকরা জানান, তিনি আর বেঁচে নেই।এই সব ভিন্ন ভিন্ন বয়ান মিলিয়ে পুরো ঘটনাকে ঘিরে ধোঁয়াশা আরও ঘন হচ্ছে। এখন সকলের একটাই প্রশ্ন, কীভাবে এত বড় দুর্ঘটনা ঘটল।

মার্চ ৩০, ২০২৬
বিনোদুনিয়া

তালসারির শান্ত সমুদ্রে কীভাবে ডুবে মৃত্যু রাহুলের? অনুমতি ছাড়াই শুটিং, উঠছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর প্রশ্ন

রবিবার, ২৯ মার্চ ওড়িশার তালসারি সমুদ্র সৈকতে শুটিং চলাকালীন মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় মৃত্যু হল অভিনেতা রাহুলের। একটি ধারাবাহিকের শুটিং করতে গিয়েই এই বিপর্যয় ঘটে। সমুদ্রে তলিয়ে যাওয়ার পর দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।জানা গিয়েছে, ভোলে বাবা পার করবে ধারাবাহিকের শুটিং চলছিল তালসারিতে। পুলিশ সূত্রে খবর, এই শুটিংয়ের জন্য আগে থেকে কোনও অনুমতি নেওয়া হয়নি। এমনকি সমুদ্রে নেমে শুটিং করারও কোনও অনুমোদন ছিল না। পুলিশের দাবি, প্রোডাকশন টিম এই বিষয়ে প্রশাসনকে কিছুই জানায়নি।পুলিশের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, ঘটনাটি বিকেল প্রায় পাঁচটা তিরিশ মিনিট নাগাদ ঘটে। শুটিং চলাকালীন রাহুল ও তাঁর সহ-অভিনেত্রী শ্বেতা মিশ্র হাঁটু সমান জলে নাচছিলেন। হঠাৎই তারা একটি গভীর গর্তে পড়ে যান। সঙ্গে সঙ্গে তাঁদের উদ্ধার করে দিঘার হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু রাহুলকে বাঁচানো যায়নি।এই ঘটনার পর একাধিক প্রশ্ন সামনে আসছে। ইউনিটের দাবি, খুব অল্প জলে শুটিং হচ্ছিল। কিন্তু সেই অবস্থায় কীভাবে এমন বিপদ হল, তা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে। পুলিশের তরফে বলা হয়েছে, তালসারি সৈকতে চোরাবালির মতো বিপজ্জনক অংশ রয়েছে। অনেকের অনুমান, সেই কারণেই দুর্ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।সহ-অভিনেত্রী শ্বেতা জানিয়েছেন, তিনিও জলে পড়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি কোনওভাবে তীরে ফিরে আসতে সক্ষম হন। অন্যদিকে, রাহুল ভেসে যান। কেন তাঁকে দ্রুত উদ্ধার করা গেল না, সেই প্রশ্নও উঠছে।ঘটনাকে ঘিরে ভিন্ন ভিন্ন বর্ণনাও সামনে এসেছে। শুটিংয়ের ম্যানেজার দাবি করেছেন, কাজ প্রায় শেষ হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু পরিচালক জানিয়েছেন, তখনও কিছু দৃশ্যের শুটিং বাকি ছিল। এই পরিস্থিতিতে রাহুল কীভাবে সমুদ্রে এগিয়ে গেলেন, তা নিয়েও ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, এত বড় শুটিং ইউনিট থাকা সত্ত্বেও কেন যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল না। লাইফগার্ড বা জরুরি চিকিৎসা পরিষেবার ব্যবস্থা ছাড়াই কীভাবে সমুদ্রের ধারে শুটিং চলছিল, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।আজ তমলুক মেডিক্যাল কলেজে রাহুলের দেহের ময়নাতদন্ত করা হবে। এরপর তাঁর দেহ কলকাতায় আনা হবে। এই ঘটনার তদন্তে নেমেছে পুলিশ এবং পুরো বিষয়টি ঘিরে রহস্য আরও ঘনীভূত হচ্ছে।

মার্চ ৩০, ২০২৬
বিনোদুনিয়া

মুহূর্তে নিভে গেল উজ্জ্বল নক্ষত্র! শুটিং শেষে জলে নেমেই আর ফিরলেন না রাহুল

রবিবার ছুটির দিনে আচমকা এক দুঃসংবাদে স্তব্ধ হয়ে গেল স্টুডিও পাড়া। বাংলা সিনেমা ও ধারাবাহিকের পরিচিত মুখ রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায় আর নেই। শুটিং করতে গিয়ে তাঁর আকস্মিক মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে গোটা বিনোদন জগতে।পরিচালক সৌরভ পালোধি এই মৃত্যুর খবরের সত্যতা স্বীকার করেছেন। তবে কীভাবে এই দুর্ঘটনা ঘটল, তা নিয়ে এখনও স্পষ্ট করে কিছু জানা যায়নি। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার ভোলে বাবা পার করেগা ধারাবাহিকের শুটিং চলছিল। শুটিংয়ের পর রাহুল সমুদ্রে নামেন। সেই সময় হঠাৎ জোয়ার চলে আসে। এরপরই তিনি জলে তলিয়ে যান বলে জানা যাচ্ছে।সঙ্গে থাকা টেকনিশিয়ানরা তাঁকে উদ্ধার করেন। দ্রুত দিঘার হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। প্রাথমিকভাবে জলে ডুবে মৃত্যুর কথাই জানা যাচ্ছে, যদিও পুরো ঘটনা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা রয়ে গিয়েছে।ভোলে বাবা পার করেগা ধারাবাহিকে রাহুলের অভিনয় দর্শকদের কাছে খুবই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিল। ঠিক এই সময়েই তাঁর এই আকস্মিক মৃত্যুতে স্তব্ধ টলিপাড়া। তাঁর চলে যাওয়া বাংলা বিনোদন জগতের জন্য এক বড় ক্ষতি।রাহুল বড়পর্দা, ছোটপর্দা এবং থিয়েটারসব ক্ষেত্রেই সমানভাবে সফল ছিলেন। দুই হাজার সালে চাকা ছবির মাধ্যমে তাঁর অভিনয়জীবন শুরু হয়। এরপর চিরদিনই তুমি যে আমার ছবির মাধ্যমে তিনি বিপুল জনপ্রিয়তা পান। আবার আসব ফিরে, জ্যাকপট, জুলফিকার সহ একাধিক ছবিতে তাঁর অভিনয় প্রশংসিত হয়েছে। বিদায় ব্যোমকেশ ও ব্যোমকেশ গোত্র ছবিতে তিনি অভিনয়ের পাশাপাশি লেখাতেও নিজের দক্ষতার পরিচয় দেন।অভিনয়ের পাশাপাশি সাহিত্যচর্চা, সমাজ ও নানা বিষয়ে সরব উপস্থিতিসব মিলিয়ে তিনি ছিলেন বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী। ব্যক্তিজীবনে তিনি ছিলেন একজন দায়িত্বশীল বাবা। ছেলে সহজের জন্যই স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা সরকারের সঙ্গে আবার নতুন করে সংসার শুরু করেছিলেন। নিজের সন্তানের নামেই শুরু করেছিলেন পডকাস্ট সহজ কথা।রাহুলের এই আকস্মিক প্রয়াণে তাঁর সহকর্মী, বন্ধু এবং অনুরাগীরা বাকরুদ্ধ। এখনও অনেকেই বিশ্বাস করতে পারছেন না, এত তাড়াতাড়ি এভাবে সব শেষ হয়ে যেতে পারে।

মার্চ ৩০, ২০২৬
বিনোদুনিয়া

টলিপাড়ায় গভীর শোকের ছায়া! শুটিঙের মধ্যেই দীঘার সমুদ্রে তলিয়ে গেলেন অভিনেতা!

টলিপাড়ায় নেমে এল গভীর শোকের ছায়া। অকালপ্রয়াণ হল অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়-এর। মাত্র ৪৩ বছর বয়সেই এই মর্মান্তিক ঘটনায় স্তব্ধ হয়ে গিয়েছে বাংলা বিনোদন জগৎ।দিঘার শুটিংয়ে কী ঘটেছিল?জানা গিয়েছে, রবিবার দিঘা-র তালসারি এলাকায় একটি ধারাবাহিকের শুটিং চলছিল। ভোলে বাবা পার করেগা নামের ওই ধারাবাহিকে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করছিলেন রাহুল। শুটিংয়ের মাঝেই তিনি সমুদ্রের জলে নামেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, আচমকাই তিনি জলে তলিয়ে যান।সঙ্গে থাকা টেকনিশিয়ানরা দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে তীরে নিয়ে আসেন। এরপর তাঁকে তড়িঘড়ি স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু হাসপাতাল সূত্রে খবর, সেখানে পৌঁছানোর আগেই তাঁর মৃত্যু হয়ে যায়। প্রাথমিকভাবে অনুমান করা হচ্ছে, জলে ডুবে যাওয়ার ফলেই এই মর্মান্তিক পরিণতি।সহ-অভিনেতার বক্তব্যধারাবাহিকে রাহুলের জেঠুর চরিত্রে অভিনয় করছিলেন ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি জানান, শুটিং প্রায় শেষের দিকেই ছিল এবং প্যাক-আপের পর এই দুর্ঘটনা ঘটে।ভাস্করের কথায়,আমরা সবাই শুটিং সেরে মধ্যাহ্নভোজ করতে গিয়েছিলাম। রাহুল বলেছিল, আরও কয়েকটা শট দিয়ে আসবে। তারপর হঠাৎই এই খবর পাই। বিশ্বাসই করতে পারছি নাএকজন সুস্থ, প্রাণবন্ত মানুষ এভাবে চলে যেতে পারেন!কী নিয়ে ধোঁয়াশা?ঘটনার সঠিক কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। সমুদ্রের স্রোত, অসতর্কতা, নাকি অন্য কোনও কারণসবটাই খতিয়ে দেখা হচ্ছে। শুটিং ইউনিট এবং স্থানীয় প্রশাসন বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত তদন্ত শুরু করেছে বলে জানা গিয়েছে।শোকস্তব্ধ টলিপাড়ারাহুল অরুণোদয়ের অকাল মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে টলিউডে। সহকর্মী থেকে অনুরাগীসকলেই সোশ্যাল মিডিয়ায় শোকপ্রকাশ করছেন। একজন প্রতিভাবান অভিনেতার এই আকস্মিক বিদায়ে বাংলা ধারাবাহিক জগতে এক অপূরণীয় শূন্যতা তৈরি হল।এই মর্মান্তিক ঘটনাটি আবারও প্রশ্ন তুলে দিলসমুদ্রতীরবর্তী এলাকায় শুটিংয়ের সময় পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা কতটা জরুরি। তদন্তের রিপোর্ট সামনে এলেই হয়তো স্পষ্ট হবে, ঠিক কীভাবে এই দুর্ঘটনা ঘটল।

মার্চ ২৯, ২০২৬
বিদেশ

রানওয়েতে দমকল গাড়ির সঙ্গে যাত্রীবাহী বিমানের সংঘর্ষে চাঞ্চল্য! মৃত্যু দুই পাইলটের

নিউ ইয়র্কের একটি ব্যস্ত বিমানবন্দরে বড়সড় দুর্ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। খারাপ আবহাওয়ার মধ্যে গেটের দিকে এগোচ্ছিল একটি যাত্রীবাহী বিমান। সেই সময় রানওয়েতে একটি দমকল গাড়ির সঙ্গে তার সংঘর্ষ হয়। এই ঘটনায় পাইলট এবং সহকারী পাইলট গুরুতর আহত হন এবং পরে তাঁদের মৃত্যু হয়। দমকল গাড়িতে থাকা দুই পুলিশ কর্মীও আহত হয়েছেন, তাঁদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং বর্তমানে তাঁদের অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানা গেছে।জানা গেছে, মন্ট্রিয়াল থেকে আসা একটি যাত্রীবাহী বিমান ধীরে ধীরে এগোচ্ছিল। সেই সময় প্রায় চল্লিশ কিলোমিটার গতিতে সেটি দমকল গাড়িতে ধাক্কা মারে। দুর্ঘটনার ঠিক আগে বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে বারবার সতর্কবার্তা দেওয়া হচ্ছিল বলে জানা গেছে। তবুও শেষ পর্যন্ত সংঘর্ষ এড়ানো যায়নি।এই দুর্ঘটনার পরই বিমানবন্দরে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়। কিছু সময়ের জন্য সমস্ত বিমান ওঠানামা বন্ধ রাখা হয়। পরে আগত এবং প্রস্থানের সব বিমান অন্যত্র ঘুরিয়ে দেওয়া হয় বা আগের জায়গায় ফিরিয়ে দেওয়া হয়। বিমানবন্দরের ওয়েবসাইটেও এই পরিবর্তনের কথা জানানো হয়।দুর্ঘটনার সময় বিমানে প্রায় একশো জন যাত্রী ছিলেন। তাঁদের শারীরিক অবস্থার পরীক্ষা করা হচ্ছে। ঘটনাস্থলে জরুরি পরিষেবার কর্মীরা পৌঁছে যান। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবি ও ভিডিওতে বিমানের সামনের অংশে ক্ষতির চিহ্ন দেখা গিয়েছে।এরই মধ্যে জানা যাচ্ছে, এই বিমানবন্দরে আগে থেকেই ভিড় এবং নানা সমস্যার সৃষ্টি হয়েছিল। কর্মীসংকটের কারণে যাত্রীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছিল। অনেক কর্মী কাজ বন্ধ রেখেছিলেন এবং যারা কাজ করছিলেন, তাঁদেরও বেতন সংক্রান্ত সমস্যা ছিল।এই পরিস্থিতির পেছনে কেন্দ্রীয় স্তরে অর্থ বরাদ্দ নিয়ে জটিলতা দায়ী বলে জানা গেছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থার দায়িত্বে থাকা সংস্থার কাজেও তার প্রভাব পড়েছে। ফলে বিমানবন্দরের পরিষেবা স্বাভাবিক রাখতে সমস্যা দেখা দেয়।এই ঘটনার পর পরিস্থিতি সামাল দিতে অতিরিক্ত কর্মী মোতায়েনের কথা জানানো হয়েছে। তবে পুরো পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে এখনও কিছুটা সময় লাগবে বলে মনে করা হচ্ছে।

মার্চ ২৩, ২০২৬
  • ‹
  • 1
  • 2
  • 3
  • 4
  • 5
  • 6
  • 7
  • 8
  • 9
  • 10
  • ...
  • 20
  • 21
  • ›

ট্রেন্ডিং

রাজ্য

মিরিক যাওয়ার পথে ফের বিপদ! বালাসনের জলে ভেসে গেল অস্থায়ী সেতু

রাতভর টানা বৃষ্টিতে ফের বিপর্যস্ত উত্তরবঙ্গ। বালাসন নদীর জলস্তর বাড়তেই কয়েক মাসের ব্যবধানে আবার ভেসে গেল দুধিয়ার অস্থায়ী হিউমপাইপের সেতু। এর ফলে সড়কপথে মিরিকের সঙ্গে যোগাযোগ আংশিক ভাবে ব্যাহত হয়েছে। আপাতত বেইলি সেতু দিয়ে ছোট গাড়ি চলাচল করলেও বড় গাড়ি চলাচল পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। তার উপর নতুন করে ধস নামার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে। স্বাভাবিক ভাবেই আতঙ্কে স্থানীয় বাসিন্দা থেকে পর্যটকেরা।গত জুলাইয়েও টানা বৃষ্টিতে বালাসন নদীর জলস্তর বেড়ে গিয়েছিল। সেই সময় মহানন্দার ফুলবাড়ি ব্যারেজের গেট খুলে দেওয়ার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়। শেষ পর্যন্ত জলের তোড়ে ভেসে যায় দুধিয়ার অস্থায়ী সেতু। শিলিগুড়ি থেকে মিরিকের সড়ক যোগাযোগ কার্যত বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।এর পর যুদ্ধকালীন তৎপরতায় শুরু হয় সেতু মেরামতির কাজ। দ্রুত যোগাযোগ স্বাভাবিক করতে সেনার তরফে তৈরি করা হয় বেইলি সেতুও। কিন্তু দেড় মাস যেতে না যেতেই ফের একই পরিস্থিতি তৈরি হল।বৃহস্পতিবার বিকেল থেকেই উত্তরবঙ্গের একাধিক এলাকায় মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হয়। সময়ের সঙ্গে বাড়তে থাকে বালাসন নদীর জলস্তর। এক সময় নদীর প্রবল স্রোতে ফের ভেসে যায় দুধিয়ার অস্থায়ী হিউমপাইপের সেতু। ফলে মিরিকের পথে নতুন করে তৈরি হয়েছে যোগাযোগের সমস্যা।আবহাওয়া দফতর সূত্রে খবর, উত্তর বঙ্গোপসাগর এবং বাংলাদেশ সংলগ্ন এলাকায় তৈরি হওয়া নিম্নচাপটি সরে গিয়ে এখন উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরের উপর অবস্থান করছে। নিম্নচাপটি কিছুটা দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে ঝুঁকে রয়েছে। পাশাপাশি হরিয়ানা থেকে উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরের ওই নিম্নচাপ পর্যন্ত একটি অক্ষরেখা বিস্তৃত রয়েছে। সেই অক্ষরেখা ঝাড়খণ্ড ও পশ্চিমবঙ্গের উপর দিয়ে গিয়েছে। এর প্রভাবেই রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় বৃষ্টি শুরু হয়েছে বলে আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে।শুক্রবার জলপাইগুড়ি এবং আলিপুরদুয়ারে ভারী বৃষ্টির হলুদ সতর্কতা জারি রয়েছে। উত্তরবঙ্গের বাকি জেলাগুলির দু-এক জায়গাতেও বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। সঙ্গে ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বইতে পারে।শনিবারও পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা নেই। কালিম্পং এবং জলপাইগুড়িতে ভারী বৃষ্টির সতর্কতা রয়েছে। ফলে পাহাড়ি এলাকায় ধসের আশঙ্কাও থাকছে। দুধিয়ার সেতু ভেসে যাওয়ার পর নতুন করে সেই আশঙ্কা স্থানীয়দের চিন্তা আরও বাড়িয়েছে।আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, সোমবার থেকে উত্তরবঙ্গে বৃষ্টির পরিমাণ কিছুটা কমতে পারে। তবে আগামী কয়েক দিনে দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জায়গাতেও ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। রবিবার থেকে দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির পরিমাণ কমার সম্ভাবনা রয়েছে বলে পূর্বাভাস।দুধিয়ার সেতু ফের ভেসে যাওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি মিরিকমুখী পর্যটকদের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আপাতত ছোট গাড়ি বেইলি সেতু দিয়ে চলাচল করলেও বড় গাড়ি বন্ধ থাকায় যাতায়াতে সমস্যা তৈরি হয়েছে। বৃষ্টি এবং নদীর জলস্তর আরও বাড়লে পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, এখন সেদিকেই নজর।

সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬
কলকাতা

মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই গ্রেফতার কংগ্রেস নেতা! বাগেশ্বর বাবার ছবি পোড়ানোর অভিযোগে চাঞ্চল্য

বাগেশ্বর ধামের প্রধান ধীরেন্দ্র শাস্ত্রী, যিনি বাগেশ্বর বাবা নামে পরিচিত, তাঁর ছবি পোড়ানোর অভিযোগে দক্ষিণ কলকাতা জেলা কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক অতনু দাসকে গ্রেফতার করল পুলিশ। বৃহস্পতিবার রাতে টালিগঞ্জের বাড়ি থেকে তাঁকে গ্রেফতার করা হয় বলে কংগ্রেসের তরফে দাবি করা হয়েছে। ঘটনার কয়েক ঘণ্টা আগেই বিধানসভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ভবানীপুরে ছবি পোড়ানোর ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারের নির্দেশ দিয়েছিলেন বলে দাবি।বিধানসভায় বৃহস্পতিবার মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ভবানীপুরে থানার সামনে কয়েক জনকে ছবি পোড়াতে দেখা গিয়েছে। তাঁদের গ্রেফতার করার জন্য তিনি কলকাতার পুলিশ কমিশনারকে নির্দেশ দেন বলেও জানান। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য ছিল, এ রাজ্যে এই ধরনের ঘটনা চলতে পারে না। তাঁর সেই মন্তব্যের পরেই রাতে অতনু দাসকে বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয় বলে জানা গিয়েছে।অতনু দাসের বিরুদ্ধে অভিযোগ, বাগেশ্বর বাবার ছবি পোড়ানোর ঘটনায় তিনি জড়িত ছিলেন। তাঁকে গ্রেফতার করে ভবানীপুর থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। এই গ্রেফতারিকে কেন্দ্র করে রাতেই রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়ায়।অন্য দিকে, কংগ্রেস নেতা প্রদীপ প্রসাদ এই গ্রেফতারির তীব্র প্রতিবাদ করেছেন। তাঁর দাবি, বাগেশ্বর বাবা বাংলার মানুষকে পাখণ্ডী বলে অপমান করেছেন। তাঁর বক্তব্য, বাংলার মানুষের ভোটে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদেরই এই মন্তব্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা উচিত ছিল। কিন্তু প্রতিবাদ করার কারণে কংগ্রেস নেতাদের বিরুদ্ধেই মামলা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।প্রদীপ প্রসাদ আরও দাবি করেন, এর আগেও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের কুশপুতুল পোড়ানো হয়েছে। কিন্তু সেই ঘটনাগুলিতে মামলা বা গ্রেফতারির মতো পদক্ষেপ হয়নি। তাঁর বক্তব্য, একসময় জ্যোতি বসু, বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য, অটল বিহারী বাজপেয়ী এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কুশপুতুল পোড়ানো হলেও তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা হয়নি।কংগ্রেস নেতার আরও দাবি, এখানে কুশপুতুল নয়, একটি ছবি পোড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। তাই এই ঘটনায় এত দ্রুত গ্রেফতারি কেন হল, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। তাঁর কথায়, বাঙালির অসম্মানের প্রতিবাদ করতে গিয়ে যদি গ্রেফতার হতে হয়, তাতেও তাঁরা পিছিয়ে যাবেন না।ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাসকদল এবং কংগ্রেসের মধ্যে রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এক দিকে মুখ্যমন্ত্রীর কড়া বার্তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই গ্রেফতারি, অন্য দিকে কংগ্রেসের পাল্টা অভিযোগসব মিলিয়ে বাগেশ্বর বাবাকে ঘিরে বিতর্ক নতুন মাত্রা পেল। তবে ছবি পোড়ানোর ঘটনায় অতনু দাসের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এবং তাঁর ভূমিকা নিয়ে তদন্ত এখনও চলছে।

সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬
রাজ্য

আজ ব্যাঙ্ক ধর্মঘট, কাল দ্বিতীয় শনিবার, পরশু রবিবার! পুজোর আগে টানা তিন দিন কী হবে গ্রাহকদের?

সপ্তাহে পাঁচ দিনের কর্মদিবসের দাবিতে শুক্রবার দেশজুড়ে ব্যাঙ্ক ধর্মঘট শুরু হয়েছে। তার পরেই দ্বিতীয় শনিবার এবং রবিবারের ছুটি। ফলে পুজোর মুখে টানা তিন দিন ব্যাঙ্ক পরিষেবা বন্ধ থাকায় চরম সমস্যায় পড়েছেন সাধারণ গ্রাহকরা। বহু জায়গায় এটিএম পরিষেবাও ব্যাহত হয়েছে। যে কয়েকটি এটিএম চালু রয়েছে, সেখানে সকাল থেকেই দীর্ঘ লাইন দেখা গিয়েছে।শুক্রবার সকাল থেকেই একাধিক জেলায় ব্যাঙ্কের সামনে গ্রাহকদের বিক্ষোভ দেখা যায়। আসানসোলেও পাঁচ দিনের কর্মদিবসের দাবিতে বিক্ষোভে শামিল হন স্টেট ব্যাঙ্কের কর্মীরা। সব মিলিয়ে ধর্মঘটকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন জায়গায় উত্তেজনার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।কেন এই ধর্মঘট? ব্যাঙ্ক অফিসারদের সংগঠনের রাজ্য সম্পাদক শুভজ্যোতি চট্টোপাধ্যায় জানান, ২০২৪ সালের বেতন সংশোধনের সময় সপ্তাহে পাঁচ দিনের কর্মদিবস চালু করার বিষয়ে লিখিত চুক্তি হয়েছিল। কিন্তু প্রায় আড়াই বছর কেটে গেলেও সেই সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়নি।সংগঠনের অভিযোগ, বার বার আইনি জটিলতার কথা বলে সিদ্ধান্ত কার্যকর করার জন্য সময় চাওয়া হয়েছে। দীর্ঘ অপেক্ষার পরেও কোনও সমাধান না হওয়ায় এবার ধর্মঘটের পথে যেতে বাধ্য হয়েছেন ব্যাঙ্ক অফিসাররা বলে দাবি সংগঠনের।ব্যাঙ্ক অফিসারদের সংগঠনের তরফে আরও জানানো হয়েছে, শুক্রবারের ধর্মঘটের পরও যদি দাবি পূরণ না হয়, তা হলে আন্দোলন আরও তীব্র করা হবে। আগামী ২৮, ২৯ এবং ৩০ সেপ্টেম্বর টানা তিন দিনের ধর্মঘটের কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। সেই কর্মসূচির পরেও দাবি না মানা হলে ২৬ অক্টোবর থেকে লাগাতার ধর্মঘটে যাওয়ার কথাও জানিয়েছে সংগঠনটি।এই ধর্মঘটের প্রভাব শুধু রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কে সীমাবদ্ধ নয়। সংগঠনের সদস্যদের মধ্যে একাধিক বেসরকারি ব্যাঙ্কের অফিসারও রয়েছেন। ফলে বিভিন্ন বেসরকারি ব্যাঙ্কের পরিষেবাতেও এর প্রভাব পড়তে পারে বলে জানা গিয়েছে।পুজোর আগে ব্যাঙ্ক পরিষেবা টানা তিন দিন বন্ধ থাকায় সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন সাধারণ গ্রাহকরা। টাকা তোলা, জমা দেওয়া, চেক সংক্রান্ত কাজ এবং অন্যান্য ব্যাঙ্কিং পরিষেবার জন্য যাঁদের ব্যাঙ্কের উপর নির্ভর করতে হয়, তাঁদের অনেককেই শুক্রবার সকাল থেকে সমস্যায় পড়তে হয়েছে।এদিকে এটিএম পরিষেবা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অনেক জায়গায় এটিএম বন্ধ থাকায় চালু থাকা এটিএমগুলির সামনে লম্বা লাইন দেখা গিয়েছে। ফলে ব্যাঙ্ক ধর্মঘটের সঙ্গে শনি ও রবিবারের ছুটি যুক্ত হয়ে গ্রাহকদের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।পাঁচ দিনের কর্মদিবসের দাবি নিয়ে ব্যাঙ্ক অফিসারদের এই আন্দোলন আগামী দিনে কোন দিকে যায়, তা এখন দেখার। দাবি পূরণ না হলে সেপ্টেম্বরের তিন দিনের ধর্মঘট এবং অক্টোবর থেকে লাগাতার কর্মসূচির হুঁশিয়ারি কতটা বাস্তবায়িত হয়, সেদিকেও নজর থাকবে।

সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬
কলকাতা

রাজাবাজার থেকে বেলেঘাটা, ৫০ বেআইনি বহুতল! কালো টাকার অভিযোগে এবার সিবিআই তদন্ত

কলকাতায় বেআইনি বহুতল নির্মাণের আড়ালে কোটি কোটি টাকার কালো টাকা সাদা করার অভিযোগ উঠেছে। সেই অভিযোগের তদন্তে এবার সরাসরি সিবিআইকে দায়িত্ব দিল কলকাতা হাই কোর্ট। আগামী ১৪ অক্টোবরের মধ্যে প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্ট আদালতে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাকে।রাজাবাজার, মানিকতলা, বেলেঘাটা থেকে ক্যানাল স্ট্রিটকলকাতার বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ৫০টি বেআইনি বহুতল নির্মাণের বিষয় আদালতের নজরে এসেছে বলে জানা গিয়েছে। এই নির্মাণগুলিকে ঘিরেই এ দিন কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতির বেঞ্চে একের পর এক গুরুতর প্রশ্ন ওঠে।আদালতের পর্যবেক্ষণ, বেআইনি নির্মাণের সঙ্গে বিপুল অঙ্কের কালো টাকার লেনদেনের যোগ থাকতে পারে। রিয়েল এস্টেট ব্যবসার মাধ্যমে কালো টাকা সাদা করা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করেছে প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ।শুধু তাই নয়, কলকাতা পুরসভা এই বেআইনি নির্মাণ সম্পর্কে কিছু জানত কি না, জানলেও কেন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, সেই প্রশ্নও তুলেছে আদালত। পুরসভার কোনও আধিকারিকের প্রত্যক্ষ যোগসাজশ ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন বলে জানিয়েছে হাই কোর্ট।আদালতে এ দিন সিবিআইয়ের তরফে জানানো হয়, মামলাকারী সরাসরি কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার কাছে চিঠি পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু আগের রাজ্য সরকারের তরফে তদন্তের অনুমতি দেওয়া হয়নি বলে সিবিআই আদালতে জানায়। সেই কারণে তখন কোনও পদক্ষেপ করা সম্ভব হয়নি বলেও জানানো হয়।তবে বেআইনি নির্মাণের সঙ্গে বিপুল অঙ্কের কালো টাকার লেনদেন এবং একাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তির যোগ থাকার সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করেছে হাই কোর্ট। তাই বিষয়টি আর ফেলে রাখা যায় না বলেই আদালতের পর্যবেক্ষণ।এই পরিস্থিতিতে আদালতের নির্দেশে সিবিআই সরাসরি তদন্ত করতে পারবে বলে স্পষ্ট করেছে কলকাতা হাই কোর্ট। তদন্তের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাকে প্রয়োজনীয় আইনি ক্ষমতাও দেওয়া হয়েছে।এখন কলকাতার বিভিন্ন এলাকায় চিহ্নিত বেআইনি বহুতলগুলির নেপথ্যে কারা রয়েছেন, নির্মাণের জন্য কী ভাবে অনুমোদন মিলেছিল, আর্থিক লেনদেনের কোনও অনিয়ম হয়েছিল কি না এবং পুরসভার কোনও আধিকারিকের ভূমিকা ছিল কি না, সেই সব বিষয় খতিয়ে দেখবে সিবিআই।আগামী ১৪ অক্টোবরের মধ্যে প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্ট আদালতে জমা দিতে হবে। ফলে সিবিআইয়ের তদন্তে বেআইনি নির্মাণ ও আর্থিক লেনদেন নিয়ে কী তথ্য উঠে আসে, এখন সেদিকেই নজর।

সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬
বিদেশ

দিল্লিতে পুতিন, মোদির সঙ্গে আজই বৈঠক! ব্রিকসের মঞ্চে কী বার্তা দেবে ভারত-রাশিয়া-চিন?

ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে শুক্রবার তিন দিনের ভারত সফরে এলেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লদিমির পুতিন। শুক্রবার ভোর প্রায় ৪টে নাগাদ দিল্লির পালাম বায়ুসেনা ঘাঁটিতে তাঁর বিমান অবতরণ করে। সেখানে রুশ প্রেসিডেন্টকে স্বাগত জানান বিদেশ প্রতিমন্ত্রী কীর্তিবর্ধন সিং।দিল্লির ভারত মণ্ডপমে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে অষ্টাদশ ব্রিকস সম্মেলন। তার আগে শুক্রবারই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসবেন পুতিন। এই বৈঠকে প্রতিরক্ষা, বাণিজ্য, জ্বানি, প্রযুক্তি-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ভারত ও রাশিয়ার সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।মোদি ও পুতিনের সর্বশেষ সাক্ষাৎ হয়েছিল গত সপ্তাহে বিশকেকে অনুষ্ঠিত সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার সম্মেলনে। সেই বৈঠকে ইউক্রেন যুদ্ধের প্রসঙ্গও উঠেছিল। মোদি রুশ প্রেসিডেন্টকে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ থেকে সরে এসে শান্তির পথে এগোনোর আহ্বান জানিয়েছিলেন বলে জানা গিয়েছে।রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের প্রভাব শুধু ইউরোপে সীমাবদ্ধ নেই। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অর্থনীতি, বাণিজ্য এবং জ্বালানি বাজারেও তার প্রভাব পড়েছে। এর পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ ঘিরেও তৈরি হয়েছে নতুন উদ্বেগ। এমন পরিস্থিতিতে মোদি-পুতিন বৈঠক থেকে কী বার্তা আসে, সেদিকেই তাকিয়ে আন্তর্জাতিক মহল।শুধু পুতিন নন, চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংও ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে ভারতে আসছেন। ফলে একই মঞ্চে ভারত, রাশিয়া ও চিনের তিন শীর্ষ নেতার উপস্থিতি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকেরা। বিশ্ব রাজনীতিতে এই তিন দেশের সম্পর্ক এবং পারস্পরিক সহযোগিতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।বিশেষ করে আমেরিকার বাণিজ্যনীতি, একতরফা শুল্ক এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংঘাতের আবহে ভারত, চিন ও রাশিয়ার ঘনিষ্ঠতা নিয়ে জল্পনা বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে দিল্লির ব্রিকস সম্মেলন থেকে আমেরিকার উদ্দেশে কোনও বার্তা যায় কি না, সেদিকেও নজর রয়েছে আন্তর্জাতিক মহলের।পুতিন ও জিনপিং ছাড়াও দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান-সহ একাধিক দেশের রাষ্ট্রপ্রধান ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে ভারতে আসছেন। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের আবহে ইরানের প্রেসিডেন্টের ভারত সফরকেও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।সব মিলিয়ে দিল্লির ব্রিকস সম্মেলন ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে তৈরি হয়েছে ব্যাপক আগ্রহ। যুদ্ধ, বাণিজ্য, শুল্ক, জ্বালানি এবং বিশ্ব অর্থনীতির মতো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যখন আলোচনার কেন্দ্রে, তখন ব্রিকসের মঞ্চ থেকে কোনও বড় বার্তা আসে কি না, সেটাই এখন দেখার। সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, বিশ্বজুড়ে চলা একের পর এক সংকট থেকে বেরিয়ে আসার কোনও নতুন পথ কি দেখাতে পারবে ব্রিকস?

সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬
কলকাতা

যাদবপুরের নিয়োগে ‘বড় গরমিল’! সিবিআই তদন্ত চেয়ে উপাচার্যকে চিঠি সঙ্ঘঘনিষ্ঠ অধ্যাপক সংগঠনের

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে ফের প্রশ্ন উঠল। নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ তুলে এবার সিআইডি, সিবিআই অথবা কোনও নিরপেক্ষ তদন্তকারী সংস্থার মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানাল সঙ্ঘঘনিষ্ঠ অধ্যাপক সংগঠন অখিল ভারতীয় রাষ্ট্রীয় শৈক্ষিক মহাসঙ্ঘ। বৃহস্পতিবার এই দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে চিঠি দেওয়া হয়েছে বলে সংগঠনের তরফে দাবি করা হয়েছে।সংগঠনের অভিযোগ, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগের সময় প্রার্থীদের যোগ্যতা এবং অভিজ্ঞতা ঠিক ভাবে যাচাই করা হয়েছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এই বিষয়গুলি খতিয়ে দেখার জন্যই তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।চিঠিতে ডেপুটি রেজিস্ট্রার-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া খতিয়ে দেখার দাবি করা হয়েছে। পাশাপাশি ফেটের সচিব পদে ভোটের বিধিনিষেধ চলাকালীন কী ভাবে সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছিল, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে সংগঠনটি।অখিল ভারতীয় রাষ্ট্রীয় শৈক্ষিক মহাসঙ্ঘের অভিযোগ, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক নিয়োগের ক্ষেত্রে পক্ষপাত, স্বজনপোষণ, প্রভাব খাটানো এবং আর্থিক অনিয়মের মতো অভিযোগ রয়েছে। সংগঠনের দাবি, এই সমস্ত অভিযোগকেই তদন্তের আওতায় আনা হোক। তবে অভিযোগগুলি এখনও প্রমাণিত নয়।সংগঠনের তরফে আরও দাবি করা হয়েছে, এর আগে গত ১৫ মে এবং ১২ জুনও একই বিষয়ে তদন্তের দাবি জানিয়ে উপাচার্যকে চিঠি দেওয়া হয়েছিল। বৃহস্পতিবার ফের সেই দাবি জানানো হল।বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে, যেদিন বিধানসভায় পশ্চিমবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ প্রশাসন এবং নিয়ন্ত্রণ সংশোধনী বিল, ২০২৬ পেশ হয়েছে, সেদিনই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগ নিয়ে নতুন করে তদন্তের দাবি সামনে এল। সংগঠনের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক নিয়োগের বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।এরই মধ্যে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতি নিয়েও বৃহস্পতিবার প্রশ্ন তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সংগঠনের সদস্যদের অতীত এবং বর্তমান ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি জানান, তাঁদের সমস্ত ইতিহাস বের করা হবে। মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যের পরই যাদবপুরের নিয়োগ নিয়ে তদন্তের দাবিতে উপাচার্যের কাছে চিঠি যাওয়ায় রাজনৈতিক ও শিক্ষামহলে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে।এখন উপাচার্য এই চিঠির পর কী পদক্ষেপ করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগ সংক্রান্ত অভিযোগগুলি খতিয়ে দেখতে কোনও তদন্ত হয় কি না এবং হলে কোন সংস্থাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়, সেদিকেই নজর থাকবে।

সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬
শিক্ষা

আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক-কর্মী বদলির বিল বিধানসভায় পাশ, শিক্ষাক্ষেত্রে স্বায়ত্তশাসন নিয়ে তীব্র বিতর্ক

নতুন বিশ্ববিদ্যালয়গুলিকে শক্তিশালী করার যুক্তি সরকারের, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসন খর্ব হবেআপত্তি শিক্ষকমহলের।কলকাতা: রাজ্যের এক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মীদের বদলির পথ খুলে গেল। বৃহস্পতিবার বিধানসভায় ধ্বনিভোটে পাশ হল দ্য ওয়েস্ট বেঙ্গল ইউনিভার্সিটিজ অ্যান্ড কলেজেস (অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অ্যান্ড রেগুলেশন) অ্যামেন্ডমেন্ট বিল, ২০২৬। যদিও সরকারের এই উদ্যোগকে ঘিরে ইতিমধ্যেই তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। শিক্ষকমহল ও বিভিন্ন শিক্ষক সংগঠনের অভিযোগ, এই আইনের ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বশাসন এবং শিক্ষা ও গবেষণার পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।বিশেষ অধিবেশনে উচ্চশিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় বিলটি পেশ করেন। গত ৮ সেপ্টেম্বর রাজ্য মন্ত্রিসভা এই সংশোধনীতে অনুমোদন দিয়েছিল। সংশোধিত আইনে ২০১৭ সালের আইনের ১৪এ ধারায় নতুন বিধান যুক্ত করার প্রস্তাব রয়েছে। সেই বিধান অনুযায়ী, প্রয়োজন অনুযায়ী রাজ্যের একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মীদের বদলি করতে পারবে সরকার।নতুন বিশ্ববিদ্যালয়গুলিকে শক্তিশালী করতেই বদলি, দাবি সরকারেরসরকারের যুক্তি, রাজ্যের নতুন তৈরি বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে অভিজ্ঞ শিক্ষক ও কর্মীদের পাঠানো হলে সেখানকার পরিকাঠামো ও শিক্ষার মান উন্নত হবে। ঝাড়গ্রাম বা কোচবিহারের মতো জায়গায় গড়ে ওঠা নতুন বিশ্ববিদ্যালয়গুলিকে সেন্টার অফ এক্সেলেন্স-এ পরিণত করার ক্ষেত্রেও অভিজ্ঞ অধ্যাপকদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে সরকার।মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এদিন বিধানসভায় বিলটির পক্ষে সওয়াল করে বলেন, এর মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসন এবং সরকারের প্রতি প্রতিষ্ঠানের দায়বদ্ধতার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা সম্ভব হবে। তাঁর দাবি, এর ফলে পিএইচডি-র তত্ত্বাবধান বা গবেষণা প্রকল্পে কোনও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না।মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, নতুন বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে অভিজ্ঞ অধ্যাপকদের পাঠানো হলে তাঁরা পরিকাঠামো তৈরি, ক্লাস পরিচালনা এবং শিক্ষার মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারবেন। তাঁর কথায়, নতুন প্রতিষ্ঠানগুলিতে অভিজ্ঞ মানবসম্পদ পৌঁছনোর ফলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলির মধ্যে মানবসম্পদের আদানপ্রদানও হবে।সরকারি নিয়ন্ত্রণ বাড়বে, সরব শিক্ষকমহলতবে সরকারের এই যুক্তি মানতে নারাজ শিক্ষকমহলের একাংশ। তাঁদের বক্তব্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য নির্দিষ্ট সাংবিধানিক বা আইনগত স্বশাসিত সংস্থা রয়েছে। সেখানে রাজ্য সরকারের সরাসরি বদলির ক্ষমতা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসনকে প্রশ্নের মুখে ফেলতে পারে।বালিগঞ্জ সায়েন্স কলেজের মাইক্রোবায়োলজির শিক্ষক সাগরময় ঘোষের মতে, নতুন বিশ্ববিদ্যালয়গুলিকে শক্তিশালী করার জন্য সরাসরি বদলির পথে না গিয়ে অভিজ্ঞ অধ্যাপকদের নির্দিষ্ট সময়ের জন্য নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠিয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মেন্টরিং করানো যেত।তাঁর বক্তব্য, বিশ্ববিদ্যালয়গুলির মধ্যে সম্পদ ও দক্ষতার ভাগাভাগির মতো মডেল জাতীয় শিক্ষানীতিতেও রয়েছে। কিন্তু জোর করে অধ্যাপকদের বদলি করলে দীর্ঘদিনের পরিশ্রমে গড়ে ওঠা কোনও বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব একাডেমিক কাঠামো ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা দুর্বল হতে পারে।এক অধ্যাপকও প্রশ্ন তুলেছেন, যে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক্সিকিউটিভ কাউন্সিল বা সিন্ডিকেট শিক্ষক নিয়োগ করে, সেই শিক্ষকদের পরে রাজ্য সরকার অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে বদলি করার ক্ষমতা পাবে কেন?গবেষণা নিয়েও আশঙ্কাবিলটি ঘিরে গবেষণার ক্ষেত্রেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মানস ঘোষ। তাঁর দাবি, একটি বিভাগে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা থাকলেই আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা সম্ভব। হঠাৎ করে শিক্ষক বদলি শুরু হলে গবেষণার ধারাবাহিকতা নষ্ট হতে পারে।তাঁর মতে, বিভিন্ন গবেষণা ও অর্থদাতা সংস্থা কোনও অধ্যাপকের নেতৃত্ব এবং দীর্ঘমেয়াদি গবেষণার পরিকল্পনার ভিত্তিতে অর্থ বরাদ্দ করে। ঘন ঘন বা ইচ্ছেমতো বদলি শুরু হলে সেই অর্থসাহায্যও প্রভাবিত হতে পারে।প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক অর্ণব হালদারও বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর অভিযোগ, রাজ্য সরকার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক বিষয়ে আরও বেশি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে।নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ে বিনিয়োগ করুক সরকারকলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষক বলেন, নতুন বিশ্ববিদ্যালয়গুলির সমস্যার মূল কারণ যদি পরিকাঠামোগত দুর্বলতা হয়, তাহলে তার সমাধান হিসেবে অভিজ্ঞ অধ্যাপকদের বদলি না করে সরকারকে পরিকাঠামো উন্নয়নে বিনিয়োগ করতে হবে।তাঁর মতে, সাধারণত অভিজ্ঞ অধ্যাপকেরা উন্নত গবেষণার সুযোগ, ল্যাবরেটরি, পরিকাঠামো এবং একাডেমিক পরিবেশের দিকেই বেশি গুরুত্ব দেন। ফলে শুধু শিক্ষক বদলি করে নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্যার স্থায়ী সমাধান করা সম্ভব কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন থাকছে।বদলি নিয়ে নতুন বিতর্কএকদিকে নতুন বিশ্ববিদ্যালয়গুলিকে শক্তিশালী করতে অভিজ্ঞ শিক্ষক-মানবসম্পদ কাজে লাগানোর যুক্তি দিচ্ছে সরকার, অন্যদিকে শিক্ষক সংগঠন ও শিক্ষাবিদদের একাংশের আশঙ্কাএই ক্ষমতা ভবিষ্যতে নির্বাচিতভাবে কোনও শিক্ষককে বদলি বা চাপের মুখে ফেলার হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে।ফলে বিধানসভায় বিল পাশ হলেও রাজ্যের উচ্চশিক্ষা মহলে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসন বনাম সরকারের প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ নিয়ে বিতর্ক আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।Source: Telegraph India

সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬
কলকাতা

'জনতার দরবারে' অভিযোগের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই অ্যাকশন! তোলাবাজির মামলায় গ্রেফতার প্রাক্তন উপপুরপ্রধান-সহ ৩

জনতার দরবারে প্রোমোটারের অভিযোগের পরেই নড়েচড়ে বসে পুলিশ। তোলাবাজি ও প্রতারণার অভিযোগে দমদমের প্রাক্তন উপপুরপ্রধান বরুণ নট্টকে গ্রেফতার করার পাশাপাশি তাঁর দুই ঘনিষ্ঠকেও পাকড়াও করা হয়েছে।দমদমে তোলাবাজি ও প্রতারণার অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য। পুলিশের জালে দমদম পুরসভার প্রাক্তন উপপুরপ্রধান তথা তৃণমূল নেতা বরুণ নট্ট। তাঁর সঙ্গে গ্রেফতার করা হয়েছে নয়নাশিস দাস ওরফে জনি এবং সুমন্ত ঘোষ ওরফে লাল্টুকে। ধৃত নয়নাশিস দমদম পুরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলর পর্ণা দাসের ছেলে বলে জানা গিয়েছে।পুলিশ সূত্রে খবর, বৃহস্পতিবার দমদম থানায় প্রোমোটার সুজয় মজুমদার লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে তোলাবাজি ও প্রতারণার কথা উল্লেখ করা হয়। অভিযোগ পাওয়ার পরই তদন্তে নামে পুলিশ। এরপর রাতেই বরুণ নট্ট, নয়নাশিস এবং সুমন্তকে তাঁদের বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়।ধৃতদের বিরুদ্ধে তোলাবাজি, প্রতারণা-সহ একাধিক ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। শুক্রবার তিন জনকেই ব্যারাকপুর আদালতে হাজির করানোর কথা রয়েছে। তদন্তের স্বার্থে তাঁদের ১০ দিনের পুলিশ হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানাবে পুলিশ।তদন্তকারীদের মূল নজর এখন কয়েকটি প্রশ্নেঅভিযোগে যে তোলাবাজির কথা বলা হয়েছে, তার সঙ্গে বরুণ নট্ট এবং তাঁর দুই ঘনিষ্ঠের সরাসরি যোগ রয়েছে কি না, এই ঘটনায় আরও কেউ জড়িত রয়েছেন কি না এবং প্রতারণার মাধ্যমে কোনও আর্থিক লেনদেন হয়ে থাকলে সেই টাকা কীভাবে ও কার মাধ্যমে আদানপ্রদান হয়েছে।ঘটনার রাজনৈতিক গুরুত্বও রয়েছে। কারণ, সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রীর জনতার দরবারে হাজির হয়ে তোলাবাজির অভিযোগ তুলেছিলেন প্রোমোটার সুজয় মজুমদার। মুখ্যমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ জানানোর মাত্র দুদিনের মধ্যেই প্রাক্তন উপপুরপ্রধান-সহ তিন জনের গ্রেফতারিকে ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক মহলে চর্চা শুরু হয়েছে।তবে অভিযোগের সত্যতা এখনও তদন্তসাপেক্ষ। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গোটা ঘটনার নেপথ্যে কারা রয়েছেন, অভিযুক্তদের ভূমিকা ঠিক কতটা এবং আর্থিক লেনদেনের কোনও যোগসূত্র রয়েছে কি নাসবকিছুই তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।শুক্রবার আদালতে ধৃতদের পেশ করার পর পুলিশি হেফাজত পাওয়া যায় কি না এবং তদন্তে নতুন কোনও তথ্য সামনে আসে কি না, এখন সেদিকেই নজর।

সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal