টালা থানার ওসি অভিজিৎ মন্ডলকে গ্রেফতার করলো সিবিআই। আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে তরুণী চিকিৎসক ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার প্রমাণ লোপাটের অভিযোগে অভিজিৎ মন্ডলকে গ্রেফতার করা হয়েছে। একইসঙ্গে আরজি কর প্রাক্তন প্রিন্সিপ্যাল সন্দীপ ঘোষকে এই মামলাতেও গ্রেফতার করল সিবিআই। এর আগে দুর্নীতি মামলায় সন্দীপ ঘোষকে গ্রেফতার করেছে কেন্দ্রীয় এজেন্সি। তিনি এখন জেল হেফাজতে আছেন। এর আগে বেশ কয়েকবার জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল টালা থানার ওসিকে। মাঝে তিনি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন।
এআই এয়ারপোর্ট সার্ভিসেস লিমিটেডের উচ্চপদস্থ আধিকারিক বিপ্লব চট্টোপাধ্যায়ের মা গীতা চট্টোপাধ্যায়ের জীবনাবসান হয় গত ৩১ অগাস্ট। তাঁর বয়স হয়েছিল ৮২ বছর। গীতাদেবী ছিলেন স্কুল শিক্ষিকা। অত্যন্ত সাফল্যের সঙ্গে তিনি শিক্ষিকতা করেছেন। গীতা চট্টোপাধ্যায়ের আরেক পুত্র বিভাস চট্টোপাধ্যায় বেসরকারি সংস্থার উচ্চপদে আসীন। গীতাদেবী শিক্ষকতা করতেন বাগবাজারের আদর্শ মহিলা বিদ্যালয়ে। মৃত্যুর সময় সংসারে রেখে গিয়েছেন পুত্রদ্বয় বিপ্লব চট্টোপাধ্যায় ও বিভাস চট্টোপাধ্যায়, পুত্রবধূদ্বয় গার্গী লাহিড়ী চট্টোপাধ্যায় ও ঋতুপর্ণা চট্টোপাধ্যায়। নাতি, নাতনি মৈত্রেয়ী চট্টোপাধ্যায়, বিহান চট্টোপাধ্যায় ও রিয়ান চট্টোপাধ্যায়।১৯৪২ সালের ২৮ ডিসেম্বর এক সম্ভ্রান্ত বনেদি পরিবারে জন্ম হয় গীতা চট্টোপাধ্যায়ের। তখন তাঁরা থাকতেন তৎকালীন মধ্যপ্রদেশের(এখন ছত্তিসগড়) অম্বিকাপুরে। এক মাসের মধ্যেই মাতৃহারা হন ছোট্ট গীতা। জন্মদাত্রী মায়ের অনুভতির স্বাদ পাননি। সাত ভাইবোনের মধ্যে সব থেকে ছোট ছিলেন তিনি। বাবা ছিলেন প্রথিতযশা চিকিৎসক অনাথ বন্ধু বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ থেকে পড়াশুনা করেছেন। ট্রান্সফারেবল জব ছিল অনাথবন্ধু বন্দ্যোপাধ্যায়ের। মধ্যপ্রদেশের অম্বিকাপুরে পরিবার নিয়ে বসতি স্থাপন করেছিলেন তিনি। সেই সময় নারী শিক্ষার খুব বেশি প্রচলন ছিল না। তবে চেষ্টার কোনও ত্রুটি ছিল না গীতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। একনিষ্ঠ অধ্যাবসায় থাকায় তাঁকে কখনও থামতে হয়নি। পড়াশুনা করেছেন অম্বিকাপুরে এডওয়ার্ড সেকেন্ডারি স্কুল, তারপর গভঃ ডিগ্রি কলেজ অম্বিকাপুর। এমএ, বিএড-ও করেছেন তিনি। অনাথ বন্ধু বন্দ্যোপাধ্যায়ের আদি বাড়ি ছিল বর্ধমান জেলার নাড়ুগ্রামে।গীতাদেবী বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন ২জুন, সাল ১৯৬৬। তাঁর বিয়ে হয়েছিল মুর্শিদাবাদের গোপালপুর গ্রামে। স্বামী বিশ্বনাথ চট্টোপাধ্যায় চাকরিসূত্রে দমদমে আসেন। তিনি ছিলেন শিক্ষক। দমদমেই স্থায়ী বসবাস শুরু করেন তাঁরা। বিয়ের পর প্রথম পর্যায়ে ছেলেদের পড়াশুনা নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন গীতাদেবী। ছেলেরা একটু বড় হওয়ার পর ১৯৭৬ সালে বাগবাজারের আদর্শ বালিকা বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা শুরু করেন গীতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একদিকে চাকরি সামলেছেন, আরেক দিকে সাংসারিক লড়াই করে গিয়েছেন গীতাদেবী। ছেলেদের সুশিক্ষায় বড় করে তুলেছেন।নারী শিক্ষা প্রসারে অত্যন্ত অগ্রগন্য ভূমিকা নিয়েছিলেন তিনি। বিশেষত নারী শিক্ষার প্রসার না ঘটলে কোনও জাতির উন্নতি হতে পারে না। ছাত্রীদের মনের মনিকোঠায় থাকতেন তাঁদের পছন্দের শিক্ষিকা। সহকারি শিক্ষিকাদের সঙ্গেও খুবই সদ্ভাব ছিল তাঁর। শিক্ষা অন্ত প্রাণ ছিলেন গীতাদেবী।এদিকে স্বামীর অকাল মৃত্যুতে ভেঙে না পড়ে ছেলেদের পড়াশুনা থেকে খাওয়া-দাওয়া, পোষাক-পরিচ্ছদ সবেতেই নজর ছিল তাঁর। সকালে স্কুল করে এসেই সাংসারিক যুদ্ধে নেমে পড়তেন। কখনও ছেলেদের বুঝতে দেননি তাঁদের বাবার অভাব। একাধারে মা ও বাবা দুই ভূমিকাই সাফল্যের সঙ্গে পালন করেছেন গীতা দেবী। তিন ছেলের মধ্যে মেজ ছেলের কঠিন অসুখে ১৯৮১ সালে অকাল প্রয়াণ ঘটে। জীবনে দুটি বড় ধাক্কা সামলে নিয়ে বজ্রহাতে সংসার ধরে রেখেছেন। আশির কোঠাতেও সবসময় খবর নিতেন ছেলেরা কী করছে? কেমন আছে? তাঁরা কি খেয়েছে? অফিস গিয়েছে কিনা? নাতি-নাতনিদের শুদ্ধ বাতাস ছিলেন তিনি। দীর্ঘ দিন শ্বাসকষ্টজনিত রোগে ভুগছিলেন গীতা চট্টোপাধ্যায়।গীতা চট্টোপাধ্যায়ের মৃত্যুতে শুধু পারিবারিক ক্ষেত্র নয়, তাঁর অগুনতি ছাত্রী ও সহকর্মীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। আগামী ১০ সেপ্টেম্বর দুপুর ১টায় গীতা চট্টোপাধ্যায়ের স্মরণে বাগবাজার গঙ্গাতীরে ভাগবত সভা অনুষ্ঠিত হবে। পরের দিন ১১ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৫ টায় দমদম রোড, হনুমান মন্দিরের কাছে পুরাঙ্গনে স্মরণসভা হবে অবসর প্রাপ্ত এই মহিয়সী শিক্ষিকার।
কলকাতার আরজি কর মেডিকেল কলেজে তরুণী চিকিৎসক খুনের ঘটনার অভিনব প্রতিবাদ জানালেন মালদার দুই শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক। নিজেদের প্রেসক্রিপশনে প্রতিবাদের ভাষা লিখে এবং দোষীদের ফাঁসির দাবির কথা উল্লেখ করেই রোগীদের সেই প্রেসক্রিপশন বিলি করলেন মালদার এই দুই চিকিৎসক । মালদার দুই শিশু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের এমন অভিনব প্রতিবাদকে সাধুবাদ জানিয়েছেন সাধারণ মানুষ থেকে অন্যান্য চিকিৎসকেরা। মালদার এই দুই প্রতিবাদী চিকিৎসকের নাম অভিজিৎ মিশ্র। যিনি শহরের মকদুমপুর রোডে রোগী দেখেন। আরেক চিকিৎসক রামপ্রকাশ সাহা। তিনি সিঙ্গাতলা রোডে রোগী দেখেন।বলাবাহুল্য, একদিকে যখন আরজি কর কাণ্ডের আবহে উত্তাল সারা রাজ্য। কলকাতার সিপির পদত্যাগের দাবিতে পথে জুনিয়র চিকিৎসকেরা। স্বাস্থ্য দুর্নীতি মামলায় গ্রেপ্তার সন্দীপ ঘোষ। চিকিৎসক থেকে জুনিয়র চিকিৎসক রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে যে যার মত করে আন্দোলনে নেমেছেন। ঠিক সেই সময় মালদা শহরে ইন্ডিয়ান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন সংগঠনের দুই শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অভিনব এই প্রতিবাদে রীতিমতো সারা ফেলে দিয়েছে। শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডাঃ রামপ্রকাশ সাহা এবং ডাঃ অভিজিৎ মিশ্র মালদা শহরের মকদুমপুর এবং সিঙ্গাতলা এলাকায় প্রাইভেট চেম্বারে রোগী দেখার সময় যে প্রেসক্রিপশন দিচ্ছেন সেখানে লেখা থাকছে আরজি কর ঘটনার প্রতিবাদ। আরও লেখা থাকছে বিচারের দাবি। লেখা থাকছে আরজি করের বিচার চাই। অপরাধচক্রের বিনাশ চাই। উই ওয়ান্ট জাস্টিস।মালদার ওই দুই শিশু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডাঃ রামপ্রকাশ সাহা এবং ডাঃ অভিজিৎ মিশ্র বলেন, শিশুদের নানান অসুখ-বিসুখের ক্ষেত্রে পরিষেবা তো দিতেই হবে। শিশুরা ঈশ্বরের একটা অংশ। ওদের জন্য চিকিৎসা পরিষেবা বন্ধ করলে চলবে না। তবে আরজি কর কান্ড নিয়ে প্রতিবাদের ভাষার আমাদের অব্যাহত রয়েছে। তাই নিজেদের ব্যবহৃত প্রেসক্রিপশনে এই ভাবেই প্রতিবাদ জানিয়ে সাধারণ মানুষের কাছে তুলে ধরছি।
ভোরের আলো ফুটতেই হরিনাম সংকীর্তনের শুরু হয়েছিল। কীর্তন শুনতেই ভিড় জমিয়েছিলেন অসংখ্য প্রাত:ভ্রমণকারী। কিন্তু আরজি কর কান্ডের প্রতিবাদ জানিয়ে হাতে প্ল্যাকার্ড নিয়ে হরিনাম সংকীর্তন হবে, তা দেখে রীতিমতো আশ্চর্য হয়ে গিয়েছে মালদা শহরের বাসিন্দারা। মঙ্গলবার ভোরের আলো ফুটতেই আরজি কর ঘটনার অভিনব প্রতিবাদে হাতে প্ল্যাকার্ড নিয়ে, খোল, করতাল, হারমোনিয়াম বাজিয়ে হরিনাম সংকীর্তনে এভাবেই সোচ্চার হলেন মালদার গৌড়ীয় বৈষ্ণব সংস্থার কর্মকর্তারা। এদিন সাতসকালে মালদা শহরের প্রাণকেন্দ্র রাজ হোটেল মোড় এলাকায় ছোটখাটো মঞ্চ করেই শুরু হয় আরজিকর কাণ্ডের প্রতিবাদ কীর্তন। হরিনাম সংকীর্তনের পাশাপাশি আরজিকর কাণ্ডে দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবী জানিয়ে সোচ্চার গৌড়ীয় বৈষ্ণব সংস্থার উদ্যোক্তারা। সাতসকালে প্রাতঃভ্রমণে বেড়ানো অসংখ্য মানুষেরা এই অভিনব প্রতিবাদ দেখতেই দাঁড়িয়ে পড়েন। রাজমহল রোডের রাজপথে প্রায় দেড় ঘন্টা ধরে চলে সংশ্লিষ্ট সংস্থার পক্ষ থেকে আরজিকর কান্ডের এই অভিনব প্রতিবাদ। এই সংস্থার এমন প্রতিবাদকেও সাধুবাদ জানিয়েছেন শহরবাসী। গৌড়ীয় বৈষ্ণব সংস্থার চেয়ারপার্সন চিত্রা সরকার বলেন, কলকাতা আরজি কর মেডিক্যাল কলেজে চিকিৎসক ছাত্রীকে যেভাবে খুন করা হয়েছে, তাতে দোষীদের ফাঁসি চাই। পাশাপাশি মৃত নির্যাতিতার আত্মার শান্তি কামনা এদিন করা হয়েছে। প্রত্যেকে যেন সঠিক বিচার পায়, কর্মক্ষেত্রে নারীদের সুরক্ষা চাই এবং চারিদিকে বিষাক্ত বাতাবরণ শুদ্ধিকরণ জন্য নাম সংকীর্তনের মধ্যে দিয়ে এদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করা হয়।
প্রবল সমালোচনার মুখে পড়ে ক্ষমা চাইতে বাধ্য হলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ চিকিৎসক কাকলি ঘোষ দস্তিদার। রীতিমতো সোশ্যাল মিডিয়ায় বিবৃতি দিয়ে মহিলা চিকিৎসকদের একাংশের উদ্দেশ্যে তাঁর করা মন্তব্যের জন্য ক্ষমা প্রার্থী বারাসাতের তৃণমূল সাংসদ। এক্স হ্যান্ডলে পোস্ট করে কাকলি লিখেছেন, কারও ভাবাবেগে আঘাত দিয়ে থাকলে ক্ষমা চাইছি। আমি আমার মন্তব্য প্রত্যাহার করছি। আমি বরাবর মহিলাদের অধিকার ও কল্যাণের পক্ষে থেকেছি এবং ভবিষ্যতেও থাকব।একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলের টক শোতে গিয়ে মহিলা চিকিৎসকদের একাংশকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেছিলেন তৃণমূল সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার। তিনি বলেছিলেন, ছাত্রীদের কোলে বসিয়ে পাশ করিয়ে দেওয়ার একটা চল শুরু হয়েছিল। যার আমি তীব্র নিন্দা করি, ঘৃণা করি। আমার ছেলেরাও নিন্দা করেছিল বলে ওদের কম নম্বর দিয়েছিল। কিন্তু আজ তাঁরা এখন প্রথিতযশা চিকিৎসক। তবে কোলে বসিয়ে পাশ করিয়ে দেওয়ার চলটা যে এখন এখানে এসে দাঁড়াবে, মুখ খোলার সাহস করলে তাঁর থিসিস আটকে দেওয়া হবে, এটা ভাবতেও পারিনি।I am sorry for any statement made in ABP anondo talk show and apologize if my recent words have hurt anyones sentiments. I retract my statement. My intention has been and will always be to champion cause of well-being and rights of women. Dr. KakoliGDastidar (@kakoligdastidar) September 1, 2024আরজি কর আবহে মহিলা চিকিৎসকদের নিয়ে তৃণমূল সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের এমন মন্তব্যে বিতর্কের ঝড় বয়ে যায়। সমাজের বিভিন্ন মহলে ওঠে তীব্র প্রতিবাদ। এমনকী ইন্ডিয়ান সাইক্রিয়াটিক সোসাইটির চিকিৎসকেরা বিবৃতি দিয়ে জানান, কাকলি ঘোষ দস্তিদারের এই মন্তব্য অত্যন্ত নিন্দনীয়। সাংসদের মন্তব্যে চিকিৎসকের যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। প্রবল সমালোচনার মুখে পড়ে শেষমেষ নিজের মন্তব্যের জন্য ক্ষমা চাইতে বাধ্য হলেন তৃণমূল সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার।
রোগীর প্রেসক্রিপশনে বিচার চেয়ে, অপরাধীদের বিনাশ চেয়ে আরজি কর নিয়ে নয়া লড়াই শুরু করেছেন বীরভূমের এক চিকিৎসক। আরজি করের বিচার চাই, অরপরাধ চক্রের বিনাশ চাই। এমন লেখা রাবার স্ট্যাম্প বানিয়ে নিয়েছেন ওই চিকিৎসক। এমন ভাবে অন্যরাও লড়াই ছড়িয়ে দিক, বলেন চিকিৎসক দেবব্রত দাস। আরজি কর হাসপাতালের ছাত্র ছিলেন দেবব্রত দাস। চেনে হাসপাতালের সব তল্লাট। আরজি করের প্রাক্তনী প্রতিটি রোগীর প্রেসক্রিপশনে স্ট্যাম্প ব্যবহার করছেন।বীরভূমের রামপুরহাট গভঃ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের প্রাক্তন কনসালট্যান্ট ল্যাপরোস্কোপিক সার্জেন দেবব্রত দাস। বর্তমানে তিনি হাসপাতাল সংলগ্ন ওষুধের দোকানে প্রাইভেট প্র্যাক্টিস করেন। আরজি কর কাণ্ডের পর দেবব্রতবাবু জুনিয়ার- সিনিয়র চিকিৎসকদের আন্দোলনে পা মিলিয়েছিলেন। একাধিক আন্দোলনে যোগ দিয়েছিলেন। এবার নিজের চেম্বার থেকেই আন্দোলনকে নানা দিকে ছড়িয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। তাই লালকালির স্ট্যাম্পে আরজি করের বিচার চাই, অরপরাধ চক্রের বিনাশ চাই লেখা প্রতিবাদ ছড়িয়ে দিচ্ছেন রোগী ও তাদের পরিবারের মধ্যে। শুধু বাংলাতে নয়, ইংরেজিতেও লেখা রয়েছে উই ওয়ান্ট জাস্টিস।দেবব্রত দাস বলেন, আমি আরজি করের প্রাক্তন ছাত্র। ওই কলেজের প্রতিটি গলি আমি চিনি, জানি। সেখানে এই ঘটনা আমাকে ভীষণভাবে নাড়া দিয়েছে। আমি কল্পনাও করতে পারছি না যে স্বাধীন ভারতে পশ্চিমবঙ্গের ইতিহাসে আমার প্রাক্তন কলেজে এমন নৃশংস ঘটনা ঘটতে পারে। সেই জন্য চিকিৎসক সমাজ সহ বিভিন্ন পেশার মানুষ রাস্তায় নেমেছে। বার বার বলা হচ্ছে ঘটনার প্রমান মুছে ফেলা হয়েছে। এর জন্য দায়ী করা হয়েছে রাজ্য সরকারকে। তাই সাধারণ মানুষের মতো আমি চিকিৎসক হিসাবে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে যেতে আমার প্রেসক্রিপশনকে ব্যবহার করেছি। সেই প্রেসক্রিপশন প্রতিটি মানুষের পাশাপাশি ওষুধের দোকানেও পৌঁছে যাচ্ছে। এছাড়া আমাদের সারা ভারতে যে সংগঠন রয়েছে সেখানেও আমার প্রেসক্রিপশন পাঠিয়ে দিয়ে প্রতিবাদের ভাষা পৌঁছে দিয়েছি। পশ্চিমবঙ্গের বাইরে প্রতিবাদের ভাষা পৌঁছে দিতে ইংরেজিতেও লেখা রয়েছে।
ক্যাপটিভ ব্রিডিংয়ে এশিয়ায় যে সেরা তা ফের একবার প্রমান করল দার্জিলিংয়ের পদ্মজা নাইডু চিড়িয়াখানা। এই চিড়িয়াখানার অধীনে তোপকেদ্বারা ব্রিডিং সেন্টারে চারটি রেড পান্ডা এবং দুটি তুষার চিতা শাবকের জন্ম হয়েছে। মাস খানেক আগে জন্ম হলেও ছয়টি শাবকই সুস্থ সবল রয়েছে বলে চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। গত জুলাই মাসের শেষের দিকে রেডপান্ডা নিক্কি এবং প্রন্নের চার শাবকের জন্ম হয়েছে।অন্যদিকে, প্রায় একই সময়ে তুষার চিতা রাহানার দুই শাবকের জন্ম হয়েছে দার্জিলিং চিড়িয়াখানা সূত্রে জানা গিয়েছে। আপাতত মায়েদের সঙ্গেই রাখা হয়েছে ওই শাবকদের। ২৪ ঘণ্টাই খুদে অতিথিদের নজরদারি চালাচ্ছেন চিকিৎসকেরা। নতুন চারটি শাবকের জন্মের পর বর্তমানে চিড়িয়াখানায় রেড পান্ডার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৯। অন্যদিকে, তুষার চিতার সংখ্যা বেড়ে ১১ হল। আগে ৯টি তুষার চিতা ছিল দার্জিলিংয়ের পদ্মজা নাইডু হিমালয়ান জুলজিকাল পার্কে। দার্জিলিং চিড়িয়াখানার ডিরেক্টর বাসবরাজ হোলেইচির বক্তব্য,ক্যাপটিভ ব্রিডিংয়ে সফল ভাবে আরও চারটি রেড পান্ডা এবং দুটি তুষার চিতা শাবক জন্ম নিয়েছে এবং প্রত্যেকেই সুস্থ রয়েছে।গোটা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় দার্জিলিং চিড়িয়াখানাতেই একমাত্র গত ৩০ বছর ধরে সাফল্যের সঙ্গে রেড পান্ডা এবং তুষার চিতার ক্যাপটিভ ব্রিডিং প্রক্রিয়া চলছে। এর বাইরে আরও আটটি বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণী রয়েছে, যেগুলি আইউসিএন-এর লাল তালিকভুক্ত রয়েছে। সেই প্রানীগুলিরও ক্যাপটিভ ব্রিডিং হচ্ছে। ওই তালিকায় রয়েছে হিমালয়ান থার, ব্লু শিপ, হিমালয়ান উলফের মতো প্রাণী। তোপকেদ্বারা ব্রিডিং সেন্টারে চলছে এই প্রজনন প্রকল্প। প্রকল্প শুরু হওয়ার পর থেকে এখনও পর্যন্ত এই ব্রিডিং সেন্টারে ৭৯টি রেডপান্ডার জন্ম হয়েছে। তার মধ্যে ২০২৩ সালে সর্বোচ্চ ৬টি রেড পান্ডার একসঙ্গে জন্ম হয়েছিল। ওই সময়ের সবগুলিই শাবকই সুস্থ রয়েছে। যা এই ব্রিডিং প্রক্রিয়ার ইতিহাসে প্রথম বলেই পার্ক সূত্রে জানা গিয়েছে। নতুন চারটি রেড পান্ডা শাবকের জন্ম হওয়ায় আরও কয়েকটি রেড পান্ডাকে সিঙ্গালিলার জঙ্গলে ছাড়া হতে পারে বলে পার্ক সূত্রে জানা গিয়েছে।দার্জিলিং চিড়িয়াখানার এই প্রকল্পের উদ্দেশ্যেই ছিল দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় রেড পান্ডার সংখ্যা বাড়ানো। সেইমতো প্রতিবছরই নিয়ম করে দুটি থেকে তিনটি রেড পান্ডাকে কলার পরিয়ে সিঙ্গালিলা ন্যাশনাল পার্কের জঙ্গলে ছাড়া হয়। এরপর সেগুলির গতিবিধির ওপর বিশেষ নজর রাখা হয়। কোথায় যাচ্ছে, কতটা যাচ্ছে সেইসমস্ত বিষয় ট্র্যাক করা হয়। পাশাপাশি নতুন করে জঙ্গলে রেড পান্ডার জন্ম হচ্ছে কিনা সেই বিষয়টিও নজরে রাখা হয়।
তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাইটিং প্যাড ব্যবহার করে তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেফতার নিউটাউনের তৃণমূল নেতা কৌশিক সরকার। তাকে গ্রেফতার করেছে শেক্সপিয়ার সরণি থানার পুলিশ। জানা গিয়েছে, চার কোটি টাকার তোলাবাজি অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। এছাড়া স্থানীয় স্তরে জমি সংক্রান্ত অন্য অভিযোগ আছে। তাঁর গ্রেফতারের পর হাত ধুয়ে ফেলেছে তৃণমূল। যদিও বিরোধীরা এই গ্রেফতার নিয়ে রেরে করে উঠেছে। কৌশিক সরকার নিউ টাউন এলাকার তৃণমূল নেতা হিসাবে পরিচিত। তাঁর ফেসবুকেও রাজনৈতিক পোস্ট আছে। স্থানীয় সূত্রে খবর, এই কৌশিক সরকারের বিরুদ্ধে আগেও একাধিক তোলাবাজির অভিযোগ ছিল। একাধিক নেতাদের নাম করে সে তোলাবাজি করত। কখনও কখনও সে নিজেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ বলে দাবি করত। গতকাল রাতে শেক্সপিয়ার সরণি থানার পুলিশ চিনার পার্ক এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করেছে। এছাড়া নিউ টাউনের জমি সংক্রান্ত বিসয়েও তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ।তৃণমূল কংগ্রেসের বক্তব্য, কৌশিক সরকার দলের কেউ নয়। অনেকেই দলের নেতাদের সঙ্গে ছবি তুলে ঘনিষ্ঠতা দেখানোর চেষ্টা করে। তারপর অপকর্ম করে। যদিও বিজেপি ও সিপিএমের বক্তব্য, এই সব তোলাবাজে ভর্তি তৃণমূল।
হাওড়া ও কলকাতা থেকে শহরতলির বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগের সবচেয়ে সহজ ও সাশ্রয়ী উপায় হল পূর্ব রেলের সাব-আরবান ট্রেন রুটগুলি। প্রতিদিন লাখো লাখো মানুষ এই ট্রেনগুলির উপর নির্ভর করে তাদের দৈনন্দিন যাতায়াতের জন্য। কিন্তু আপনি কি কখনও ভেবে দেখেছেন, হাওড়া বা শিয়ালদহ থেকে সারাদিনে ঠিক কতগুলো সাবারবান ট্রেন চলাচল করে? পরিসংখ্যানটা জেনে আপনি অবাক হবেন। পূর্ব রেলের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সারাদিনে অর্থাৎ ভোর থেকে মধ্যরাত্রি পর্যন্ত হাওড়া ও শিয়ালদহ থেকে প্রতিদিন ১২৬৫টি সাব-আরবান ট্রেন যাতায়াত করে। হাওড়া থেকে ৩৮০ এবং শিয়ালদহ থেকে ৮৮৫টি ট্রেন প্রতিদিন যাত্রীদের নিয়ে গন্তব্যের পথে রওনা দেয়। শহরতলির বিভিন্ন এলাকায় যোগাযোগের জন্য এই ট্রেনগুলি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাহলে আসুন শিয়ালদহ ডিভিশনের কিছু উল্লেখযোগ্য রুটের সাব-আরবান ট্রেন চলাচলের সম্বন্ধে একটু বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।শিয়ালদহ ডিভিশনে শিয়ালদহ এবং ব্যারাকপুর এর মধ্যে ১৩টি আপ এবং ১৪টি ডাউন, শিয়ালদহ থেকে নৈহাটির মধ্যে ১৭টি আপ ১৮ টি ডাউন, শিয়ালদহ থেকে বনগাঁও এর মধ্যে ২৬ টি আপ ২৪ টি ডাউন এবং উভয় দিকে একটি করে মাতৃভূমি লোকাল, শিয়ালদহ থেকে ডানকুনির মধ্যে আপ এবং ডাউনে ২০টি করে, শিয়ালদহ থেকে গেদের মধ্যে ১০টি আপ এবং ৯টি ডাউন, শিয়ালদহ থেকে ক্যানিং এর মধ্যে ২৪টি আপ এবং ২২টি ডাউন এবং উভয় দিকে একটি করে মাতৃভূমি লোকাল, শিয়ালদহ থেকে বারুইপুরের মধ্যে ১৯টি আপ এবং ১৯টি ডাউন ও উভয় দিকে একটি করে মাতৃভূমি লোকাল, শিয়ালদহ থেকে ডায়মন্ড হারবার-এর মধ্যে ২৬টি আপ এবং ২৫টি ডাউন, শিয়ালদহ থেকে বজবজের মধ্যে উভয় দিকেই ২৫টি, শিয়ালদহ থেকে লক্ষীকান্তপুর এর মধ্যে ২৪টি আপ এবং ২৩টি ডাউন, শিয়ালদহ থেকে হাসনাবাদ-এর মধ্যে ১২টি আপ ১৪টি ডাউন এছাড়াও রানাঘাট থেকে বনগাঁও এর মধ্যে ১৭টি আপ এবং ১৬টি ডাউন ট্রেন যাতায়াত করে।হাওড়া ডিভিশনের কিছু উল্লেখযোগ্য সাব-আরবান ট্রেন রুটের পরিসংখ্যান নিম্নরূপ -হাওড়া-বর্ধমান ভায়া কর্ড রুটে ২৩টি আপ এবং ২০টি ডাউন, হাওড়া-বর্ধমান মেন রুটে ২৪টি আপ ২২টি ডাউন, হাওড়া-ব্যান্ডেল রুটে ৪২টি আপ এবং ৪১টি ডাউন এবং উভয় দিকে একটি করে মাতৃভূমি লোকাল, হাওড়া থেকে শেওড়াফুলির মধ্যে ১১টি আপ ১১টি ডাউন, হাওড়া থেকে কাটোয়ার মধ্যে উভয়দিকেই ৯টি করে, হাওড়া থেকে তারকেশ্বরের মধ্যে ২০টি আপ এবং ২৩টি ডাউন, এছাড়াও বর্ধমান কাটোয়া রুটে উভয়দিকেই ৬টি করে এবং ব্যান্ডেল নৈহাটি রুটে উভয় দিকে ১৯টি করে ট্রেন যাতায়াত করে।হাওড়া ও শিয়ালদহ থেকে এই বিপুল সংখ্যক ট্রেনের চলাচল শহরের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করে তুলেছে। পূর্ব রেল কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের নিরাপত্তা ও আরামের কথা মাথায় রেখে প্রতিনিয়ত ট্রেন পরিষেবা উন্নত করার চেষ্টা করে যাচ্ছে। আমরা আশা করি, ভবিষ্যতেও এই সাবারবান ট্রেনগুলির মাধ্যমে আরও বেশি সংখ্যক যাত্রী সাশ্রয়ী ও নির্ভরযোগ্য যাতায়াতের সুবিধা পাবেন।
মালদা মেডিক্যাল কলেজের প্রিন্সিপালের অফিস ঘরে বসে রয়েছেন আরজিকর থেকে বদলি হয়ে আসা চিকিৎসক অরুণাভ দত্ত চৌধুরী। আর তাঁকে মালদা মেডিকেল কলেজে কোনওভাবেই দায়িত্ব নিতে দেওয়া হবে না বলে দাবি জানিয়ে আন্দোলন শুরু করেছেন জুনিয়র ডাক্তারেরা। মালদা মেডিক্যাল কলেজের প্রিন্সিপালের ঘরে নিজেকে আটকে রেখেই কোনরকমে আন্দোলনকারীদের থেকে রেহাই পেয়েছেন আরজি কর থেকে আসা চিকিৎসক অরুণাভ দত্ত চৌধুরী। কিন্তু জুনিয়র ডাক্তারদের প্রতিবাদ, বিক্ষোভ ও আন্দোলন যেন আবার নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করে দিয়েছে মালদা মেডিক্যাল কলেজ চত্বরে। বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে এমন ঘটনায় চরম চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে মালদা মেডিকেল কলেজে। যদিও মালদা মেডিক্যাল কলেজের প্রিন্সিপাল ডাঃ পার্থপ্রতিম মুখার্জি জানিয়েছেন, রাজ্য সরকারের নির্দেশ অনুযায়ী আমরা কাজ করবো। ওই চিকিৎসক আরজি কর থেকে মালদা মেডিকেল কলেজে দায়িত্ব নিতে এসেছেন। তাঁর সঙ্গে কথা বলেছি। পাশাপাশি যাতে কোন সমস্যা না হয়, সেব্যাপারে জুনিয়র ডাক্তারদের সঙ্গেও আলোচনা করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, আরজি কর মেডিক্যাল কলেজে চিকিৎসক ছাত্রীর নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর তোলপাড় গোটা দেশ। রাজ্যজুড়ে বিভিন্ন মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে চিকিৎসক, স্বাস্থ্য কর্মীরা কর্মবিরতি ও আন্দোলন করেছেন। প্রতিবাদ জানিয়ে রাস্তায় নেমেছে সাধারণ মানুষ। এই পরিস্থিতির মধ্যে আরজি কর মেডিকেল কলেজের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অরুনাভ দত্ত চৌধুরীকে আপাতত মালদা মেডিকেল কলেজে কর্মক্ষেত্রে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তর। আরজি কর মেডিক্যাল কলেজের ওই ডাক্তার যাতে মালদা মেডিকেল কলেজে যোগ না দেন, তার জন্যই নতুন করে চিকিৎসক পড়ুয়াদের আন্দোলন প্রতিবাদ বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। এদিন কয়েক ঘন্টা ধরে মালদা মেডিক্যাল কলেজের প্রিন্সিপালের ঘরের সামনে প্রতিবাদ বিক্ষোভে সোচ্চার হন জুনিয়র ডাক্তারেরা। বিক্ষোভকারী জুনিয়র ডাক্তারদের অভিযোগ, আরজি করে ওই চিকিৎসকের অধীনে মৃত ওই ছাত্রী পাঠরত ছিল। ওই মেডিক্যাল কলেজের ডাক্তার অরুনাভ দত্ত চৌধুরীকে আমরা কোনভাবেই মালদা মেডিকেল কলেজে কাজ করতে দেব না। আরজি করে চিকিৎসক ছাত্রী খুনের ঘটনায় ইনিও হয়তো জড়িত রয়েছেন বলে আমাদের ধারণা। তাই প্রতিবাদ জানিয়েছি। অবস্থান বিক্ষোভ চলছে। মালদা মেডিক্যাল কলেজের প্রিন্সিপাল ডাঃ পার্থপ্রতিম মুখার্জি বলেন, জুনিয়র ডাক্তারদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে রাজ্য সরকারের নির্দেশ মেনে আরজি কর থেকে আসি ওই চিকিৎসক অরুনাভ দত্ত চৌধুরীর জয়েনিং-এর বিষয়টি দেখা হচ্ছে। প্রায় দুঘণ্টা অপেক্ষা করার পর জয়েন না করে খালি হাতে ফিরে গেলেন আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ থেকে বদলি হয়ে আসা অরুণাভ দত্ত চৌধুরী। আরজিকর আবহে অরুণাভ দত্ত চৌধুরীকে যোগদান করতে দেওয়া হবে না। আরজিকর ঘটনার পর দোষীরা চিহ্নিত হোক শাস্তি পাক ,তারপর তাকে আমরা ওয়েলকাম জানাবো, স্পষ্ট বক্তব্য মালদা মেডিকেল কলেজের জুনিয়র ডাক্তারদের।
আগামী ৯ অক্টোবর (বুধবার) দুর্গা ষষ্ঠী আর বেশিরভাগ বাঙালি ঠিক ষষ্ঠীর দিনটাই বেছে নেন বেড়াতে যাওয়ার জন্য। কেউ যাবেন পুরী , কেউ কাশ্মীর, কেউবা যাবেন দার্জিলিং। কিন্তু সময় মত টিকিট কাটা হয়নি, বেশিরভাগ ট্রেনেই ওয়েটিং লিস্টের লাইন লম্বা। এদিকে পরিবার নিয়ে বেড়াতে যাওয়ার ইচ্ছেও আপনার আছে। চিন্তা কিসের? মুশকিল আসান পূর্ব রেল তো আছে, আপনাদের সঙ্গে। অক্টোবর মাসের ৯ তারিখ , ১৬ তারিখ, ৩০ তারিখ (অর্থাৎ কালীপুজোর আগের দিন) এবং নভেম্বর মাসের ৬ তারিখ (অর্থাৎ ছট পুজোর আগের দিন) দার্জিলিং যাওয়ার জন্য আপনাদের জন্য হাওড়া থেকে ছাড়বে স্পেশাল ট্রেন (০৩০২৭ আপ)। ট্রেনটি হাওড়া থেকে রাত ১১ঃ৫৫ মিনিটে ছেড়ে ব্যান্ডেল জংশন, নবদ্বীপ ধাম, কাটোয়া, আজিমগঞ্জ, জঙ্গিপুর রোড, মালদা টাউন, বারসোই, কিষাণগঞ্জ ও আলুয়াবাড়ি রোড হয়ে পরের দিন সকাল ১০ঃ৪৫ মিনিটে নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশনে পৌঁছাবে। যারা ইতিমধ্যেই ওই সময়ে দার্জিলিঙে যাওয়ার টিকিট পেয়েছেন কিন্তু আসার টিকিট কেটে উঠতে পারেননি তাদের জন্য আগামী অক্টোবর মাসের ১০, ১৭, ৩১ এবং নভেম্বর মাসের ৭ তারিখ নিউ জলপাইগুড়ি থেকে হাওড়া আসার জন্য একটি স্পেশাল ট্রেন চলবে (০৩০২৮ ডাউন)। ট্রেনটি নিউ জলপাইগুড়ি থেকে দুপুর ১২ঃ৪৫ মিনিটে যাত্রা শুরু করে আলুয়াবাড়ি রোড, কিষাণগঞ্জ, বারসোই, মালদা টাউন, জঙ্গিপুর রোড, আজিমগঞ্জ, কাটোয়া, নবদ্বীপধাম, ব্যান্ডেল হয়ে রাত ১২:১০ মিনিটে হাওড়া স্টেশনে পৌঁছাবে। ট্রেনটিতে একটি এসি ফার্স্ট এবং এসি 2 টায়ার কম্বাইন্ড কোচ, একটি এসি 2 টায়ার, পাঁচটি AC 3 টায়ার, একটি এসি ৩ ইকোনমি, আটটি স্লিপার কোচ এবং ৩টি জেনারেল সেকেন্ড ক্লাস কোচ থাকবে।
বিশ্বের অন্যতম সেরা উইকেটরক্ষক কাম ব্যাটারেরর নাম বললেই প্রথমে উঠে আসবে অস্ট্রেলিয়ার অ্যাডাম গিলক্রিস্ট। কিন্তু, সেরার তালিকায় অবশ্যই থাকবে এমএস ধোনির নাম, মত অ্যাডাম গিলক্রিস্টের। তাঁর মতে, এই তালিকায় দ্বিতীয় স্থানেই থাকবেন ভারতের এমএস ধোনি। তৃতীয় স্থানে থাকবেন শ্রীলঙ্কার কুমার সাঙ্গাকারা। তবে অস্ট্রেলিয়ার এই তারকা ক্রিকেটার মনে করেন, এই তালিকায় একনম্বরে থাকবেন তাঁর দেশের সাবেক উইকেটরক্ষক রডনি মার্শ। তিনিই বিশ্বের সর্বকালের সেরা উইকেটরক্ষক-ব্যাটার, মত গিলক্রিস্টের।তাঁর জীবনে একাধিক রেকর্ড করেছেন অস্ট্রেলিয়ার কিংবদন্তি উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান অ্যাডাম গিলক্রিস্ট। সাংবাদিকের এক প্রশ্নের জবাবে গিলক্রিস্ট এমএস ধোনিকে বিশ্বের দ্বিতীয় সেরা উইকেটরক্ষক-ব্যাটার এবং কুমার সাঙ্গাকারাকে তৃতীয় সেরা বলে উল্লেখ করেছেন। রডনি মার্শকে তাঁর আইডল হিসাবে বর্ণনা করে, গিলক্রিস্ট কিংবদন্তি অস্ট্রেলিয়ান খেলোয়াড়ের কায়দা অনুকরণ করার ইচ্ছাপ্রকাশ করেছিলেন। মাঠে ধোনি যেভাবে শান্ত থাকেন, তারও প্রশংসা করেছেন গিলক্রিস্ট। ঠান্ডা স্বভাবের জন্যই তিনি ধোনির প্রশংসা করেছেন। কুমার সাঙ্গাকারার বিষয়ে, গিলক্রিস্ট শ্রীলঙ্কান উইকেটরক্ষক-ব্যাটারের ব্যতিক্রমী দক্ষতার কথা তুলে ধরেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে শ্রীলঙ্কার প্রাক্তন অধিনায়ক সাঙ্গাকারা টপ অর্ডার ব্যাটিং থেকে উইকেট কিপিং পর্যন্ত সবদিক দিয়েই পারদর্শী।
আর জি কর হাসপাতালে ঘটে যাওয়া নারকীয় ঘটনার প্রতিবাদে আজ পথে নামল বর্ধমান শহরের এক স্কুল। শহরের উত্তর প্রান্তে কাঞ্চননগর দীননাথ দাস উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা আজ ওই ঘটনার প্রতিবাদে বর্ধমান শহরে শোভাযাত্রা আয়োযন করে। ছাত্রছাত্রীদের সাথে সাথে এদিন পথে নামেন ডিএনদাস স্কুলের পরিচালন সমিতির সদস্য সহ শিক্ষক-শিক্ষিকা ও শিক্ষাকর্মীবৃন্দরা। তাঁদের সক্রিয় উপস্থিতিতে শোভাযাত্রা কাঞ্চননগর রথতলা উদয়পল্লীর বিভিন্ন রাস্তা পরিক্রমা করে। অপরাধের বিচার চেয়ে এবং চিকিৎসক তথা মহিলাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবীতে শ্লোগান দিয়ে সোচ্চার হয় অংশগ্রহণকারীরা। ডিএনদাস স্কুলের শিক্ষক কমল সাহার পরিচালনায় ছাত্রী সোনালি সোহিনী হেমাদের কণ্ঠে পরিবেশিত হয় আমরা করব জয় গানটি। শিক্ষিকা আঁখি চক্রবর্তী বললেন, মঙ্গলবার নবম ও দশম শ্রেণির ছাত্রীরা আবেদন করে আর জি কর হাসপাতালে ঘটে যাওয়া নারকীয় ঘটনার প্রতিবাদে শোভাযাত্রার জন্য। তাদের অনুরোধেই মূলত আজকের এই প্রতিবাদ কর্মসূচী। আঁখি চক্রবর্তী আরো বলেন, চিকিৎসকের কাছে যেতে হয় আমাদের সবাইকে। ফলে তাঁরা যাতে কোনভাবে হেনস্থার শিকার না হন তা দেখার দায়িত্ব আমাদের সবাইকার।রাষ্ট্রপতি পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রধানশিক্ষক ড. সুভাষচন্দ্র দত্ত জনতার কথা কে জানান, আমাদের ছাত্রছাত্রীরা বরাবরই সমাজসচেতন। প্রতিদিন সকালের সমবেত সঙ্গীতের পর ওরা সংবাদপত্র থেকে রোজকার খবর পাঠ করে। তারা পাঠ করে মনীষীদের বাণী। ওরা আরজি করের দুর্ঘটনা সম্বন্ধে যঠেষ্ট অবহিত। মূলত ওদের আগ্রহেই আজকের এই প্রতীবাদ কর্মসূচী। আমরাও চাই দ্রুত বিচারপ্রক্রিয়া সমাপ্ত হোক এবং আসল দোষী / দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক। কারণ এর সঙ্গে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য সম্পর্কিত বিষয় জড়িত।
পথ অবরোধ তুলতে গিয়ে দফায় দফায় পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ালো মালদার মানিকচক থানার এনায়েতপুরে। পুলিশের ওপর হামলা এবং গাড়ি ভাঙচুর করার ঘটনার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কয়েক রাউন্ড গুলি চালাতো হয় পুলিশকে, অভিযোগ। এই ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়েছেন দুই যুবক। এমনকি বিক্ষোভকারীদের পাল্টা ধাওয়ায় পুলিশকে একটি বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে থাকতে হয়। পরে মানিকচক থানা থেকে বিশাল পুলিশ বাহিনী গিয়ে ঘটনাস্থলে ব্যাপক লাঠিচার্জ করে বলে অভিযোগ। ফাটানো হয় বেশ কয়েক রাউন্ড কাঁদানে গ্যাস। এই পরিস্থিতিতে বিক্ষোভকারীদের হামলায় মাথা ফাঁটে মানিকচক থানার আইসি পার্থ প্রতিম হালদারের। তাঁকে চিকিৎসার জন্য মালদার একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে ভর্তি করানো হয়েছে। এছাড়াও আরও দুই পুলিশ কর্মী বিক্ষোভকারীদের হামলায় জখম হয়েছেন। তাঁরাও চিকিৎসাধীন মানিকচক গ্রামীণ হাসপাতালে। পাশাপাশি গুলিবিদ্ধ দুই যুবককে ভর্তি করানো হয়েছে মালদা মেডিক্যাল কলেজে। দুইজনেরই পায়ে গুলি লেগেছে।কিন্তু শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্যর্থ হয় সংশ্লিষ্ট থানার পুলিশ। পরে মালদা জেলার পুলিশ সুপার প্রদীপ কুমার যাদবের নেতৃত্বে বিশাল পুলিশবাহিনী, কমব্যাট ফোর্স ঘটনাস্থলে গিয়ে পৌঁছায়। এরপরই ওই এলাকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। এই ঘটনায় বৃহস্পতিবার রীতিমতো অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে মালদা-মানিকচক রাজ্য সড়ক। পুলিশ ওই স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার রাত থেকেই অন্ধকারে ডুবে রয়েছে মানিকচক থানার এনায়েতপুর সহ বেশ কয়েকটি এলাকা। আর এই ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে এদিন সকাল থেকেই এনায়েতপুরের বেশ কয়েকটি এলাকার দফায় দফায় রাজ্য সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান শতাধিক গ্রামবাসীরা। যাদের মধ্যে মহিলারাই বেশি ছিলেন। এদিন দুপুর বারোটা নাগাদ অবরোধ তুলতে গিয়েই বিক্ষোভের মুখে পড়ে মানিকচক থানার কর্তব্যরত পুলিশকর্মীরা। তারপরই আচমকা পুলিশকে ইঁট,পাথর নিয়ে ধাওয়া করে বিক্ষোভকারীদের একাংশ বলে অভিযোগ। কয়েকজ্ন হাতে গোনা পুলিশ কর্মী ঘটনাস্থলে থাকায় তাদের পিছিয়ে আসতে হয়। সেই সময় পুলিশের একটি গাড়িও ভাঙচুর করা হয়। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে একটি বাড়িতে আশ্রয় নেয় কর্তব্যরত কয়েকজন পুলিশ কর্মী। আর সেই বাড়িকে লক্ষ্য করে পুলিশকে এলোপাথাড়ি ইঁট, পাথর ছোড়ে বিক্ষোভকারীরা, অভিযোগ। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে পুলিশকে কয়েক রাউন্ড কাঁদানে গ্যাস ছুঁড়তে হয়। উত্তেজনার খবর পেয়ে মানিকচক থানার আইসি পার্থসারথী হালদারের নেতৃত্বে বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলেপৌছায়। তখনই পুলিশ এবং বিক্ষোভকারীদের মধ্যে খন্ডযুদ্ধ বেঁধে যায়। বিক্ষোভকারীদের ছোঁড়া ইঁটের আঘাতে আইসির মাথা ফেটে যাওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বাইরে বেরিয়ে যায়। তখনই পুলিশ গুলি চালিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালায়। সেই সময় পুলিশের গুলিতে দুইজন পথচারী জখম হন।এনায়েতপুর এলাকার বাসিন্দা গুলিবিদ্ধ আকবর শেখ জানিয়েছেন, এদিন বিক্ষোভের সময় তিনি রাস্তা দিয়ে বাড়ি যাচ্ছিলেন। আচমকা তার বাম পায়ে গুলি লাগে। স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে মালদা মেডিক্যাল কলেজে চিকিৎসার জন্য ভর্তির ব্যবস্থা করেন। পুলিশ বিক্ষোভকারীদের নিয়ন্ত্রণে আনতে এলোপাথাড়ি গুলি চালিয়েছে বলেও জখম দুই যুবকের অভিযোগ।এদিকে বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, কয়েক দিন ধরেই গ্রামে লোডশেডিং চলছে। বুধবার রাত থেকে একটানা লোডশেডিং-এর জেরে ব্যাপক সমস্যা তৈরি হয়েছে। অনেকেই গরমের মধ্যে অসুস্থ হয়ে পড়েছে। ছোট ছোট শিশুরাও গরমের জ্বালায় ছটফট করছে। লোডশেডিং-এর জেরে পানীয় জল সরবরাহ বন্ধ হয়ে গিয়েছে। এইসব ঘটনার বিষয় প্রতিবাদ করা হয়েছিল। কিন্তু আচমকায় পুলিশ এসে আমাদের ওপর লাঠিচার্জ করে এবং গুলি চালাই। তখনই বিক্ষোভকারীদের মধ্যে ক্ষোভ বেড়ে যায়।যদিও এই ব্যাপারে মালদার পুলিশ সুপার প্রদীপ কুমার যাদব জানিয়েছেন, কোনওরকম গুলি চলেনি। পরিস্থিতি আপাতত নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। পুলিশের উপর হামলা, সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার পুরো বিষয়টি তদন্ত করে দেখে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে রাজ্যের বিদ্যুৎমন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস লোডশেডিংয়ের বিষয়টি মানতে চাননি। অরূপ বিশ্বাস এক বিবৃতিতে বলেন, মানিকচক থানার এনায়েতপুরে যে ঘটনাটি ঘটেছে তা অত্যন্ত দুঃখজনক। তবে বিদ্যুৎ বিভ্রাট নিয়ে সেখানে কোন সমস্যা নেই। বৃহস্পতিবার মানিকচকের লোডশেডিং-এর প্রতিবাদ রাজ্য সড়ক অবরোধকে কেন্দ্র করে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের মধ্যে খন্ডযুদ্ধ বাঁধে। মন্ত্রী বলেন, পশ্চিমবঙ্গে লোডশেডিং শব্দটি চিরতরে তুলে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। যেখানে অন্যান্য রাজ্যে প্রায় দিনই ছয় থেকে আট ঘন্টা লোডশেডিং হয়। সেই ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গে এক মিনিটও লোডশেডিং হয় না। তবে মালদার মানিকচকে এনায়েতপুরে সমস্যা হচ্ছে বৈদ্যুতিক হাই টেনশন টাওয়ার বসানো নিয়ে। উন্নত মানের বিদ্যুৎ পরিষেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে ইতিমধ্যে মালদা পাওয়ার গ্রিড থেকে মানিকচক পর্যন্ত ৮৯ টি টাওয়ার বসানোর কথা রয়েছে। ইতিমধ্যে ৮৬ টি টাওয়ার বসানোর কাজ সম্পন্ন হয়েছে। তিনটি টাওয়ার বসানো বাকি রয়েছে। কিছু এলাকার মানুষের অসহযোগিতার কারণেই এই তিনটি হাই টেনশন টাওয়ার বসানোর ক্ষেত্রে সমস্যা দেখা দিয়েছে। এক্ষেত্রে মালদা জেলা পুলিশ, প্রশাসন, বিদ্যুৎ দপ্তর সক্রিয়তার সাথে কাজ করে চলছে। এই তিনটি টাওয়ার বসানো হলে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে মালদায় উন্নতমানের বিদ্যুৎ পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।
সন্দেশখালির শাহজাহান, চোপড়ার তাজিমুল ইসলাম ওরফে জেসিবি, আড়িয়াদহের জয়ন্ত সিং ওরফে জায়ান্ট, এবার পুলিশের জালে কুলতলির সাদ্দাম সরদার। শেষমেশ পুলিশ কুলতলির চুপড়িঝাড়া পঞ্চায়েত এলাকার বাণীরধল এলাকা থেকে গ্রেফতার করেছে কুলতলি কান্ডের মূল পান্ডা সাদ্দাম সরদার। গভীর রাতে রীতিমতো চারিদিক থেকে ঘিরে ধরেছিল পুলিশ। এবার আর পুলিশের কবল থেকে পালানোর পথ পায়নি সাদ্দাম। সাদ্দামকে আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে এলাকার সিপিএম নেতা মান্নান খানকেও।নকল সোনা বিক্রি-সহ নানা ধরনের প্রতারণার একগুচ্ছ অভিযোগ রয়েছে কুলতলির সাদ্দাম সরদারের বিরুদ্ধে। এর আগে তাকে গ্রেফতার করতে গিয়ে নজিরবিহীন অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হতে হয়েছিল পুলিশ বাহিনীকে। পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলিও ছেড়ে সাদ্দাম অনুগামীরা। এই ঘটনার পর থেকে পরপর কয়েকদিন কুলতলিতে সাদ্দামের ডেরায় তল্লাশি অভিযান চালায় পুলিশ। কয়েকজনকে গ্রেফতার করা গেলেও মূল অভিযুক্ত সাদ্দাম সরদার ও তার ভাই সায়রুলকে ধরতে পারছিল না পুলিশ। যদিও এখনও হদিশ মেলেনি তাঁর সায়রুলের।অবশেষে বুধবার রাতে গোপন সূত্রে খবর পেয়ে কুলতলির চুপড়িঝাড়া গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় অভিযানে যায় পুলিশ। এলাকার একটি মাছের ভেড়ির চালাঘরে লুকিয়ে ছিল সাদ্দাম। সেখানে চিটেবেড়ার ঘর। আশেপাশে কোথাও কোনও মানুষজন থাকে না। ওই ঘরে বিদ্যুৎ সংযোগও নেই। একেবারে নির্জন ওই জায়গাই বেছে নিয়েছিল সাদ্দাম। পাছে কারও যেন সন্দেহ না হয়। সূত্র মারফত এই খবর আগেই পেয়ে যায় পুলিশ। সেইমতো আগেভাগে গোটা চালা ঘর ঘিরে ফেলেন পুলিশকর্মীরা।পুলিশ এলাকায় পৌঁছে গিয়েছে টের পেয়েই ফের পালানোর চেষ্টা করে সাদ্দাম। তবে এবার আর শেষ রক্ষা হয়নি। গভীর রাতেই পুলিশ গ্রেফতার করেছে সাদ্দামকে। সাদ্দামকে আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগে এলাকার সিপিএম নেতা বলে পরিচিত মান্নান খানকেও পুলিশ গ্রেফতার করেছে।যদিও এখনও অধরা সাদ্দামের ভাই সায়রুল। তবে সাদ্দাম গ্রেফতার হওয়ায় এবার তার ভাইয়ের গ্রেফতার হওয়াও সময়ের অপেক্ষা মাত্র, এমনই বলছেন তদন্তকারীরা। সাদ্দামকে জেরায় বিস্ফোরক একাধিক তথ্য সামনে আসতে পারে বলে আশাবাদী তদন্তকারী অফিসাররা।
বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক প্রাপ্তবয়স্কদের হাঁটা প্রতিযোগিতায় স্বর্ণপদক পেলেন মালদার গৃহবধূ। সংসার সামলে সুপ্রিয়া দাসের এমন কীর্তিতে রীতিমতো প্রশংসার ঝড় বইছে মালদায়। এমনকি সুপ্রিয়াদেবীর আন্তর্জাতিক স্তরের ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় সাফল্যের জন্য সাধুবাদ জানিয়েছেন মালদা জেলা জেলা ক্রীড়া সংস্থার কর্মকর্তারা। এর আগেও হেঁটে একাধিক পদক জিতেছেন মালদার গৃহবধূ সুপ্রিয়া দাস। এবার বিশ্বসেরার খেতাব। দুই কিলোমিটার হেঁটে বিশ্বসেরা হলেন সুপ্রিয়াদেবী। তবে শুধুমাত্র হেঁটে নয়, পাশাপাশি রিলে দৌড় ও দৌড় প্রতিযোগিতাতেও একাধিক পদক জমিতেছেন সুপ্রিয়া দেবী। বাংলাদেশে আয়োজিত আন্তর্জাতিক প্রাপ্তবয়স্কদের ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় অংশ নেন মালদার সুপ্রিয়া দাস। তাঁর স্বামী রাজু দাস পেশায় পুলিশ কর্মী। ছোট বেলা থেকেই খেলাধুলায় বিশেষ আগ্রহ ছিল সুপ্রিয়া দাসের। কিন্তু বিয়ে হয়ে যাওয়ার পর আর তেমন খেলাধুলা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি। সংসার সামলে প্রায় ১৪ বছর পর ২০২৩ সালে আবার শুরু করেন অনুশীলন। গত এক বছরে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরের অ্যাথলেটিকস প্রতিযোগিতায় একাধিক সাফল্য এসেছে। ইতিমধ্যে একাধিক পদক জিতেছেন তিনি।গত ২৭ ও ২৮ জুন বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হয় ইন্টারন্যাশনাল ওপেন ভ্যাটেনারি অ্যাথলেটিকস চ্যাম্পিয়নশিপ। সেখানে বিভিন্ন দেশের প্রতিযোগীরা অংশগ্রহণ করেন। মালদার গৃহবধূ সুপ্রিয়া দাস জাতীয় স্তরের প্রতিযোগিতায় সাফল্যের সুবাদে সেখানে সুযোগ পান। দুই কিলোমিটার হাঁটা প্রতিযোগিতায় স্বর্ণ পদক পেয়ে বাংলার নাম উজ্জ্বল করেছেন মালদার এই গৃহবধূ। পাশাপাশি রিলে দৌড় ও দৌড় প্রতিযোগিতায় আরও চারটি পদক পেয়েছেন। দুটি দ্বিতীয় ও দুটিতে তৃতীয় স্থান অধিকার করেছেন। গত এক বছরে একাধিক জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরের প্রতিযোগিতায় স্বর্ণপদক জিতেছেন তিনি। সংসারের সমস্ত কাজের ফাঁকে যেটুকু সময় পান মালদা শহরের পুলিশ লাইন মাঠ অথবা বৃন্দাবন ময়দানে অনুশীলন করেন সুপ্রিয়া দাস। নিজ প্রচেষ্টায় নিয়মিত অনুশীলন করেই প্রাপ্তবয়স্কদের এই অ্যাথলেটিকস প্রতিযোগিতায় নেমে সাফল্য অর্জন করছেন তিনি। তাঁর সাফল্যে খুশি পরিবার থেকে জেলার ক্রীড়া প্রেমী মানুষেরা।
জঙ্গীদের গুলিতে শহিদ হলেন রাজ্যের এক বীর সেনা জওয়ান। সোমবার সন্ধ্যায় জম্মু-কাশ্মীরের ডোডায় সেনা-জঙ্গি গুলির লড়াইয়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে শহিদ হয়েছেন দার্জিলিংয়ের লেবংয়ের বড়াগিঙ্গের বাসিন্দা ক্যাপ্টেন ব্রিজেশ থাপা। ক্যাপ্টেনের বয়স হয়েছিল মাত্র ২৭ বছর। ব্রিজেশ থাপার মৃত্যুতে শোকের ছায়া গোটা শৈলশহরে।ভারতীয় সেনা সূত্রে খবর, সোমবার সন্ধেয় ডোডা থেকে প্রায় ৫৫ কিলোমিটার দূরে দেশা বনাঞ্চলের উরারবাগীতে রাষ্ট্রীয় রাইফেলস এবং জম্মু-কাশ্মীর পুলিশের স্পেশাল অপারেশন গ্রুপের যৌথ অভিযান শুরু হয়। এনকাউন্টার শুরু হলে সন্ত্রাসবাদীরা পালানোর চেষ্টা করে। ঘন জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে তাদের তাড়া করেন সেনার একটি দল৷ রাত ৯টা নাগাদ ফের এনকাউন্টার শুরু হয়। গুরুতর আহত হন এক গ্রুপ ক্যাপ্টেন-সহ চার সেনা জওয়ান। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় চারজনের মৃত্যু হয়৷ আরেক সেনা জওয়ানের অবস্থাও আশঙ্কাজনক। শহিদের মধ্যে একজন দার্জিলিং এর ব্রিজেশ থাপা। সেনাবাহিনীর আধিকারিকরা জানিয়েছেন, সন্ত্রাসীদের সঙ্গে গুলিবিনিময়ে অফিসার-সহ চার সেনা সদস্য এবং জম্মু-কাশ্মীর পুলিশের সদস্য আহত হয়েছেন৷ প্রাথমিকভাবে ২০ মিনিটেরও বেশি সময় ধরে এনকাউন্টার চলে। ব্রিজেশ থাপার শহিদ হওয়ার খবর ইতিমধ্যে সেনা আধিকারিকদের তরফে তাঁর পরিবারকে জানানো হয়েছে।পরিবার সূত্রে খবর, ১৭ জুলাই অর্থাৎ বুধবার ব্রিজেশের দেহ বিশেষ বিমানে শিলিগুড়ির বাগডোগরা বিমানবন্দরে আনা হবে। এরপর তাঁকে বাগডোগরা সেনা ছাউনিতে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় অভিবাদন জানানো হবে। সেখান থেকে তাঁর দেহ সড়কপথে দার্জিলিংয়ের লেবংয়ে তাঁর জন্মভূমিতে নিয়ে যাওয়া হবে। ব্রিজেশের বাবা কর্নেল ভুবনেশ থাপা বলেন, ছোট থেকেই ব্রিজেশের সেনার প্রতি খুব টান ছিল। নিজেকে সেইভাবেই তৈরি করেছিল। কষ্ট হচ্ছে, কিন্তু আক্ষেপ নেই। আমার সন্তান দেশকে রক্ষা করতে গিয়ে শহিদ হয়েছেন।জানা গিয়েছে, ব্রিজেশের বাবা কর্নেল ভুবনেশ থাপা ২০১৪ সালে সেনা থেকে অবসর নেন। বর্তমানে তিনি দার্জিলিংয়ের লেবংয়েই এক্স সার্ভিসম্যান হেলথ সার্ভিস স্কিমে কর্মরত রয়েছেন। ব্রিজেশের বাড়িতে সদস্য বলতে বাবা ছাড়াও রয়েছেন মা নীলিমা থাপা ও দিদি নিকিতা থাপা। নিকিতা থাপা বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় সঙ্গীত নিয়ে পড়াশুনো করছেন। ভাইয়ের শহিদ হওয়ার খবর পেতেই তিনিও বাড়ির উদ্দেশে রওনা হয়েছেন।ব্রিজেশ থাপার জন্ম লেবংয়ে ৷ তিনি প্রাথমিক পড়াশুনো করেন দার্জিলিংয়ে৷ তবে বাবার সেনায় অন্যত্র পোস্টিংয়ের কারণে ব্রিজেশ বাকি পড়াশুনো রাজ্যের বাইরে থেকেই সারেন। শেষে মুম্বই থেকে নিজের উচ্চশিক্ষা শেষ করেন তিনি। সেখানকার কলেজ থেকে বিটেক শেষ করে কম্বাইন্ড ডিফেন্স সার্ভিস পরীক্ষায় বসেন। ২০১৮ সালে তিনি ওই ডিফেন্স সার্ভিসের শর্ট সার্ভিস কমিশন পরীক্ষায় পাশ করেন ও ২০১৯ সালে সেনাতে যোগ দেন।ব্রিজেশ দুবছর ১০ রাষ্ট্রীয় রাইফেলসের মোতায়েন ছিলেন। এরপর তাঁকে এক্সট্রা রেজিমেন্টাল ডিউটির জন্য ভারতীয় সেনার বিশেষ বিভাগ ১৪৫ আর্মি এয়ার ডিফেন্সের অধীন জম্মু ও কাশ্মীরের ডোডা সেনা ছাউনিতে বদলি করা হয়। সেখানে ব্রিজেশ থাপা এ-কোম্পানি কমান্ডার ছিলেন। নিজের ট্রুপ নিয়ে ডোডা থেকে প্রায় চার ঘণ্টা দুরত্বে একটি অভিযানে যাওয়ার সময় আচমকা তাঁদের উপর হামলা হয়। আর সেই হামলাতেই প্রাণ হারান ব্রিজেশ।
উপনির্বাচন মানেই শাসকদলের একচেটিয়া জয়। সম্প্রতি একমাত্র ব্য়তিক্রমী ঘটনা ঘটেছিল সাগরদিঘি উপনির্বাচনে। বামেদের সমর্থনে কংগ্রেস বিপুল ভোটে পরাজিত করেছিল তৃণমূল কংগ্রেসকে। এবার চার কেন্দ্রের বিধানসভা উপনির্বাচনে সবুজ ঝড় বয়ে গেল। তৃণমূলের বিরাট জয়, বিজেপির বিপর্যয়। লোকসভার পর বাংলায় ফের হার বিজেপির। উপনির্বাচনের লড়াইয়ে ৪-০ ব্যবধানে জয় পেল তৃণমূল। এবার লোকসভা ভোটেও তিনটি আসনে এগিয়েছিল BJP। তিনটি বিধানসভা আসনই হাতছাড়া গেরুয়া শিবিরের। বিজেপির থেকে রায়গঞ্জ, বাগদা, রাণাঘাট দক্ষিণ ছিনিয়ে নিল তৃণমূল। বিজেপির রানাঘাট দক্ষিণও এবার তৃণমূলের দখলে চলে গেল। মতুয়াগড়ে বিজেপির বিপর্যয়।রায়গঞ্জে প্রথমবার জয় পেল তৃণমূল। রায়গঞ্জ বিধানসভা নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন তৃণমূল প্রার্থী কৃষ্ণ কল্যানী। প্রায় ৫০ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন তিনি। এর আগে দল বদলে বিজেপিতে গিয়েছিলেন কৃষ্ণ। ২০২১ বিধানসভা নির্বাচনে এখানে বিজেপির টিকিটে বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছিলেন। পরে তৃণমূলে গিয়ে যোগ দেন। লোকসভা ভোটের আগে তৃণমূলের প্রার্থী হয়ে হেরে গিয়েছিলেন বিজেপির কাছে। তবে তাঁর ওপর আস্থা হারায়নি দল। বিধানসভা উপনির্বাচনে আবারও কৃষ্ণ কল্যাণীকে প্রার্থী করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।বাগদায় একুশের নির্বাচনে জয় পেয়েছিল বিজেপি। লোকসভাতে এগিয়ে ছিল এই বিধানসভায়। এবার উপনির্বাচনে বাগদা কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থী করেছিল সাংসদ মমতাবালা ঠাকুরের মেয়ে মধুপর্ণা ঠাকুরকে। মধুপর্ণার বাগদা কেন্দ্র থেকে ৩৩ হাজারেরও বেশি ভোটে জয়ী হয়েছেন তিনি। এবার আর বিশ্বজিৎ দাস প্রার্থী হতে চাননি।অন্যদিকে, রানাঘাট দক্ষিণেও জয় তৃণমূলের। এখানে তৃণমূল প্রার্থী মুকুটমণি অধিকারী। তার জয়ও প্রায় নিশ্চিত বলা চলে। কলকাতার মানিকতলা কেন্দ্রেও সবুজ সুনামি। উপনির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়ী প্রয়াত প্রাক্তন মন্ত্রী সাধন পাণ্ডের স্ত্রী সুপ্তি পাণ্ডে।বাগদাTMC প্রার্থী মধুপর্ণা ঠাকুর পেয়েছেন ১০৭,৭০৬। BJP প্রার্থী বিনয় কুমার বিশ্বাসের প্রাপ্ত ভোট ৭৪,২৫১। তৃণমূল জয়ী ৩৩,৪৫৫ ভোটের ব্য়বধানে। এখানে ফরোয়ার্ড ব্লক প্রার্থী গৌর বিশ্বাস পেয়েছেন ৮,১৮৯টি ভোট।রাণাঘাট দক্ষিণTMC প্রার্থী মুকুটমনি অধিকারী পেয়েছেন ১,১৩,৫৩৩। BJP প্রার্থী মনোজ কুমার বিশ্বাস পেয়েছেন ৭৪,৪৮৫টি ভোট। CPM প্রার্থী অরিন্দম বিশ্বাস পেয়েছেন ১৩,০৮২টি ভোট। মুকুটমনি জয়ে পেয়েছেন ৩৯০৪৮ ভোটে। রায়গঞ্জএখানে তৃণমূলের কৃষ্ণ কল্যানীর প্রাপ্ত ভোট ৮৬,৪৭৯। BJP প্রার্থী মানস ঘোষ পেয়েছেন ৩৬,৪০২ ভোট। কংগ্রেসের মোহিত সেনগুপ্ত পেয়েছেন ২৩,১১৬ ভোট। তৃণমূল জয়ী হয়েছে ৫০,০৭৭ ভোটে।মানিকতলাTMC প্রার্থী সুপ্তি পান্ডে পেয়েছেন ৮৩,১১০টি ভোট। বিজেপি প্রার্থী কল্যান চৌবে ২০,৭৯৮টি ভোট পেয়েছেন। সিপিএম প্রার্থী রাজীব মজুমদারের প্রাপ্ত ভোট ৯,৫০২। জয়ের ব্যবধান ৬২,৩১২।
সত্যি সাহসিকতার পরিচয় দিলেন বাঁকুড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী। ভয় না পেয়ে নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন গুরুদায়িত্ব, পড়াশোনার পাশাপাশি তিনি গাড়িচালক হিসেবেও কাজ করছেন। তবে যে সে গাড়ি নয়। বাঁকুড়ার বড়জোড়া ব্লাড ডোনেশন সোসাইটির একটি শবদেহ বহনকারী গাড়ি চালাচ্ছেন পূজা মণ্ডল।মানুষের অন্তিম যাত্রার সহায়ক হলেও স্বর্গের রথ বা শববাহী গাড়িকে অবহেলার চোখেই দেখে সমাজ। বাঁকুড়াতেও রয়েছে নেতিবাচক উদাহরণ। সম্প্রতি বড়জোড়ার শব বহন করা গাড়িকে পেট্রোল দিতে চাননি পেট্রোল পাম্পের কর্মীরা। টুকটাক কাজ যেমন, টায়ার সারানো কিংবা সার্ভিসিং করাতে গেলেও অনেক সময় এই গাড়িগুলির চালকদের বেগ পেতে হয়। সাধারণ মানুষের একাংশের চোখে এই গাড়িগুলি অপবিত্র এবং অস্পৃশ্য।তা সত্ত্বেও হাসিমুখে এই কাজ করে চলেছেন ছাত্রী পূজা। কিন্তু কেন? জানা যায়, নেপথ্যে রয়েছে চমকপ্রদ একটি গল্প। ২০১৪ সালে গাড়িটি কেনা হয় সংগঠনের তরফে। তখন থেকে গাড়িটি চালাতে যথেষ্ট সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছিল চালককে। পেট্রোল পাম্পে তেল নিতে গিয়েও হয়েছে ঝামেলা। এছাড়াও সিট কভার লাগিয়ে দিতেও চাননি কোনও ব্যবসায়ী। বড়জোড়া ট্যাক্সি স্ট্যান্ডেই থাকত এই স্বর্গের রথ, কিন্তু কোনও ড্রাইভারই চালাতে চাইতেন না গাড়িটিকে। এর পর পূজা মণ্ডল বড়জোড়া ব্লাড ডোনার সোসাইটির সঙ্গে যুক্ত হন এবং ২০১৮ সালে প্রথম রক্তদান করেন তিনি। তার পর ২০২১ সালে দুর্গাপুরে স্নাতক স্তরে পড়াশোনা করতে করতেই শবদেহ বহনকারী এই গাড়ির দায়িত্ব নেন পূজা। মূলত মানুষকে সচেতন করার জন্যই এমন সিদ্ধান্ত পূজার। তাঁর দাবি, আর পাঁচটা যানবাহনের মতই এটিও একটি স্বাভাবিক যান, কোনও অপবিত্র বস্তু নয়। এই চিন্তা থেকেই গাড়িটি চালানো শুরু করেন পূজা। এর পর ধীরে ধীরে চড়াই উতরাই পার করে, মানুষের মনের পরিবর্তন দেখেছেন তিনি। আগের মত আর গাড়িটি নিয়ে সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় না।সমাজসেবা নিয়ে বাঁকুড়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর স্তরে পড়াশোনা করছেন পূজা। পাশাপাশি চালিয়ে যাচ্ছেন সচেতনতার প্রচার এবং সমাজ কল্যাণমূলক কাজ। বর্তমানে পূজার নাম অনেকেই জানেন। তাঁকে উদাহরণ হিসাবে মনে রাখেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাসিস্টেন্ট প্রফেসর থেকে শুরু করে ভাইস চ্যান্সেলর কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার পর্যন্ত সকলেই এক ডাকে চেনেন পূজাকে। বড়জোড়ার বাড়িতে তাঁর বাবা-মাও তাঁকে নিয়ে গর্বিত। পূজার মা টুম্পা মণ্ডল বলেন,আমার তো বেশ ভালই লাগে। প্রথম যখন আমার মেয়ে ঠিক করে যে গাড়িটা চালাবে, তখন খুব ভয় লাগত। এত বড় গাড়ি কি ও আদৌ চালাতে পারবে? তার পর ধীরে ধীরে সবকিছু ঠিক হয়ে যায়। এখন আমি খুব খুশি।বাঁকুড়ার বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে শুরু করে বড়জোড়ার রাস্তাঘাটে শবদেহ বহনকারী গাড়ি চালিয়ে যান পূজা। গাড়ি চালানো থেকে শুরু করে শবদেহর স্ট্রেচার টেনে বাইরে আনা পর্যন্ত একা হাতেই সামলান সব কিছু। এতে ক্লান্তি নেই, দায়িত্ব নিতে পারায় জীবনের প্রতি কৃতজ্ঞতাই প্রকাশ করেন পূজা।
রাজ্যের ৪ বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচন ১০ জুলাই। ওই দিন উত্তর ২৪ পরগণার বাগদা আসনেও উপনির্বাচন। শনিবার দলীয় প্রার্থী বিনয় কুমার বিশ্বাসের হয়ে প্রচার করেন বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী। পাথুরিয়ায় পরিবর্তে সিন্দ্রাণীতে এদিন এক পথসভা করেন বিরোধী দলনেতা। সেখান থেকে তৃণমূল নেত্রীর বিরুদ্ধে আনেন ভয়ঙ্কর অভিযোগ। যাকে কেন্দ্র করে তোলপাড় পড়ে গিয়েছে রাজ্য-রাজনীতিতে।ভোট লুঠ করে জিততে চাইছেন মমতা। বুধবারই বাগদায় ভোটের আগেই প্রচারে ঝড় তুলে মারাত্মক অভিযোগ করেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। ১০ জুলাই বাগদায় নির্বাচনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের কথাও এদিন শোনা গিয়েছে বিরোধী দলনেতার গলায়। ২০২১ বিধানসভা নির্বাচনে বাগদা কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী বিশ্বজিৎ দাস জয়ী। জয়ের পরপরই তিনি তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ। এবার বাগদা আসন থেকে পদত্যাগ করে লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী হিসাবে লড়াই করে পরাজিত হন। উপনির্বাচনে এই কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থী করেছে দলীয় রাজ্যসভার সাংসদ মমতাবালা ঠাকুরের মেয়ে মধূপর্ণা ঠাকুরকে। রানাঘাট দক্ষিণ, বাগদা জেতাতে নবান্ন থেকে এসপিকে ফোন মমতার। এদিন প্রকাশ্য সভায় তৃণমূল নেত্রীর বিরুদ্ধে এহেন অভিযোগ করেছেন শুভেন্দু অধিকারী। বিরোধী দলনেতা রাজ্যের শাসকদলের বিরুদ্ধে তোপ দেগে বলেন, মমতা পার্থ ভৌমিক, রাজীব ব্যানার্জীকে নিয়ে মিটিং করেছেন। নবান্ন থেকে এসপিকে ফোন করে বলেছেন আমার এই সিট চাই একই সঙ্গে তিনি বলেন, এসব যত করবে তত ধ্বংসের পথে যাবে তৃণমূল।এদিনের প্রচার থেকেই বাগদা উপনির্বাচনকে তৃণমুলের চাপিয়ে দেওয়া নির্বাচন বলে উল্লেখ করা পাশাপাশি ৭ দফায় লোকসভা ভোটে ভোট লুঠের চেষ্টার অভিযোগও আনেন তিনি। আক্ষেপের সুরে শুভেন্দু এদিন আরামবাগে বিজেপিকে হারিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি নিশীথ প্রামাণিককে হারিয়ে দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন। প্রচার সভা থেকেই এক চাঞ্চল্যকর দাবি করে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা বলেন, ফিরহাদ হাকিমকে সরিয়ে শোভনকে মেয়র করতে চান মমতা। উল্লেখ্য লোকসভা ভোটের ফলাফলের নিরিখে বাগদা বিধানসভায় ২০ হাজার ৬১৪ ভোটে এগিয়েছিল বিজেপি।