• ১৬ ভাদ্র ১৪৩৩, শনিবার ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

Commission

রাজ্য

Central Force: উপনির্বাচনের বাংলায় ৮০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী

রাজ্যের চার বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচনে ৮০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করার সিদ্ধান্ত নিল নির্বাচন কমিশন। আগেই বলা হয়েছিল ২৭ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হবে। তবে এবার তা এক লাফে ৫৩ কোম্পানি বাড়িয়ে ৮০ কোম্পানি করা হল।আরও পড়ুনঃ শিষ্য খুনে যাবজ্জীবন সাজা রাম রহিমকেএই ৮০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হবে দিনহাটা, শান্তিপুর, খড়দহ, ও গোসবা কেন্দ্রের জন্য। এই বাহিনী মোতায়েনের মূল লক্ষ্যই হল নির্বাচনের কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা। তবে কোন কেন্দ্রের জন্য কত বাহিনী থাকবে সেটা স্থানীয় জেলা নির্বাচন আধিকারিকের সঙ্গে আলোচনা করেই ঠিক হবে। নির্বাচন কমিশনের তরফে যে বিজ্ঞপ্তি এসেছে, সেখানে বলা হয়েছে শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের জন্য ৮০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকবে। আগেই ২৭ কোম্পানি বাহিনীর কথা ঘোষণা করা হয়েছিল। এবার তা আরও ৫৩ কোম্পানি বাড়ানো হল। সিআরপিএফের পাশাপাশি বিএসএফ, এসএসবি, আইটিবিপির জওয়ানরাও থাকবেন।খড়দহে তৃণমূলের শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের প্রতিদ্বন্দ্বী বিজেপির জয় সাহা। এই কেন্দ্রে সিপিএম প্রার্থী দেবজ্যোতি দাসও লড়াই করছেন। দিনহাটায় তৃণমূলের প্রার্থী উদয়ন গুহ। বিজেপির হয়ে লড়বেন অশোক মণ্ডল, বামেদের মুখ ফরওয়ার্ড ব্লকের আব্দুর রউফ। শান্তিপুরে তৃণমূলের প্রার্থী ব্রজকিশোর গোস্বামী, বিজেপির প্রার্থী নিরঞ্জন বিশ্বাস, সিপিএমের প্রার্থী সৌমেন মাহাতো। গোসাবায় সুব্রত মণ্ডল তৃণমূলের মুখ। বিজেপির প্রতীকে লড়বেন পলাশ রানা, আরএসপির প্রার্থী অনিল চন্দ্র মণ্ডল।

অক্টোবর ১৯, ২০২১
কলকাতা

Bhawanipur By Poll: ভোটারদের এগিয়ে আসার আবেদন ফিরহাদ-সুব্রতর, কমিশনের দ্বারস্থ বিজেপি

সকাল থেকে ভবানীপুরে ভোটের হার কম। সকাল ১১টা পর্যন্ত ভোট পড়েছে মাত্রা ২২ শতাংশ। তাই ভোটারদের ভোটদানের আর্জি জানিয়ে টুইট করেছেন সুব্রত মুখোপাধ্যায় ও ফিরহাদ হাকিম। এ নিয়ে কমিশনে অভিযোগ জানিয়েছে বিজেপি। নিয়মবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে রাজ্যের দুই মন্ত্রীকে ভবানীপুর কেন্দ্রের বাইরে কোনও থানায় ভোট শেষ না হওয়া পর্যন্ত নজরবন্দি করার দাবিও জানানো হয়েছে।উল্লেখ্য, ভবানীপুরে ফাঁকা বুথ নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে তৃণমূলের অন্দরে। সকাল থেকেই এখানে একাধিক বুথ ফাঁকা। অবশেষে ভোট চেয়ে ময়দানে নামলেন তৃণমূল নেতারা। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভোটদানের আর্জি ফিরহাদ হাকিম, সুব্রত মুখোপাধ্যায়দের। ফিরহাদ হাকিম টুইটারে লেখেন, ভবানীপুরে উন্নয়নের স্বার্থে সবাই ভোট দিতে আসুন। অন্যদিকে সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের টুইট, আজ ভবানীপুর-সহ বাংলার তিন কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ। আমাদের ভোটারদের উদ্বুদ্ধ করতে হবে ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে জয়ী করতে হবে।Urging everyone from Bhabanipur today to step out and vote for Development, vote for Equality.#MamataBanerjeeForBhabanipur FIRHAD HAKIM (@FirhadHakim) September 30, 2021সোমবার সকাল ৯টা অবধি ভবানীপুরে ভোটের যে শতাংশ, তা মাত্র ৭.৫৭ শতাংশ। ভোটদানের এই হার যথেষ্টই খারাপ। প্রথমে মনে করা হয়েছিল, আবহাওয়ার কারণে হয়তো ভোটাদের ভোটকেন্দ্রমুখী করা মুশকিল হবে। কিন্তু বৃহস্পতিবার দেখা গেল, রোদ ঝলমলে সকালেও ভোটের লাইনে দাঁড়াতে অনীহা ভোটারদের।#VoteForDidiToday is a very important day as the by-polls are are being held in 3 seats including Bhabanipur. We have to motivate voters to vote in favour of Didi and ensure that Didi wins by a huge margin.#MamataBanerjeeForBhabanipur pic.twitter.com/XzS4nUxTuP MLA Subrata Mukherjee (@MLA_Subrata) September 30, 2021ক্যাথিড্রাল মিশন হাইস্কুলের চারটি বুথ ১৪৮, ১৪৯, ১৫৯ ও ১৫২। বুথের ভিতরে এবং বাইরে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা। কিন্তু ভোটারদের উপস্থিতি নেই বললেই চলে। বেশ কিছুক্ষণের ব্যবধানে পর পর দু চারজন করে ভোটার ভোট দিতে আসছেন। বেলতলা গার্লস হাইস্কুলের বুথেও সকাল থেকে ভোটারদের দেখা নেই। চেতলাহাট আরবান হেলথ সেন্টারের ৯৯ নম্বর বুথেও একই ছবি। ৭১ নম্বর ওয়ার্ডেও হাতে গোনা কয়েকজন ভোটার লাইনে দাঁড়িয়েছেন। খাস কলকাতায় এমনিতেই ভোটের হার তুলনামূলক কম পড়ে। কিন্তু তা বলে এতটা কম কেন, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। পরিস্থিতি এতটাই ঘোরাল যে, রাজ্যের দুই মন্ত্রীকে টুইট করে ভোটদাতাদের ভোটকেন্দ্রমুখী করতে হচ্ছে, তাও আবার ভোটের দিন!আর সুযোগ বুঝে কমিশনে এই টুইটের প্রেক্ষিতে অভিযোগও জানিয়ে ফেলেছে বিজেপি।

সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২১
রাজ্য

Priyanka Tibrewal: ১৪৪ ধারা সত্ত্বেও দোকান খোলা, পুলিশের সঙ্গে বচসা প্রিয়াঙ্কার, রিপোর্ট চাইল কমিশন

ভোটদান শুরু হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই পুলিশের সঙ্গে বচসায় জড়িয়ে পড়লেন ভবানীপুর কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী প্রিয়াঙ্কা টিবরেওয়াল। তাঁর অভিযোগ, গোটা বিধানসভা এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি থাকা সত্ত্বেও কেন দোকান খোলা? ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় রিপোর্ট তলব করেছে নির্বাচন কমিশন। বিজেপি প্রার্থীর আরও অভিযোগ, ভবানীপুরের অন্তর্গত ৭২ নম্বর ওয়ার্ডে বুথ জ্যাম করছেন তৃণমূল বিধায়ক মদন মিত্র। যদিও তৃণমূল এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে। এদিকে, ভোটের দিন সকালেই প্রিয়াঙ্কার বিস্ফোরক দাবি, এই কেন্দ্রে অনেক ভোটার ভোট দিতে আসেন না। যার অন্যতম কারণ, শাসকদলের দাদাগিরি।Madan Mitra (TMC MLA) has purposely shut the voting machine here as he wants to capture the booth: Priyanka Tibrewal, BJP candidate for Bhabanipur by-poll at polling booth of ward number 72 pic.twitter.com/lFB5hQytTY ANI (@ANI) September 30, 2021এ দিন ভোট শুরু হতেই বুথ জ্যামের অভিযোগ তোলে বিজেপি। ১২৬ নম্বর বুথে ইভিএম কারচুপির অভিযোগ করেন প্রিয়াঙ্কা। ফিরহাদ হাকিম অবশ্য বুথ জ্যামের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে বলেন, লড়াইয়ে না পেরে মিথ্যা অভিযোগ করছে বিজেপি। ভোট শুরুর অনেক আগে থেকেই ভবানীপুরের বিভিন্ন ওয়ার্ডে, বিভিন্ন বুথে ঘুরে বেড়ান প্রিয়াঙ্কা। প্রার্থী জানান, ভবানীপুরের মানুষ নিজের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করুন, ভোট দিন, এটুকুই চাইব। আবার ভোটের দিনই ভবানীপুরের বিজেপি প্রার্থী প্রিয়াঙ্কা টিবরেওয়ালের নিরাপত্তা বাড়ানো হল। বিজেপি প্রার্থীর কনভয়ে জুড়ল কলকাতা পুলিশের তিনটি গাড়ি।

সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২১
রাজ্য

Bhawanipur By Poll: রাত পোহালেই ভোট, মোতায়েন আরও ২০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী

একদিকে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণের আয়োজন, অন্যদিকে প্রতিকূল আবহাওয়ায় প্রত্যেক ভোটদাতাকে নির্বিঘ্নে ভোটদানের ব্যবস্থা করা। এই দুই চ্যালেঞ্জকে সামনে রেখেই ভবানীপুরে উপনির্বাচনের জন্য প্রস্তুত নির্বাচন কমিশন।আগামীকাল ভবানীপুরে ২৮৭ বুথের প্রত্যেকটিতেই আধাসামরিক বাহিনীর নিরাপত্তার পাশাপাশি থাকবে ওয়েব কাস্টিংয়ের ব্যবস্থা এবং সিসিটিভি ক্যামেরার নজরদারি। এমনকী, প্রতিটি কেন্দ্রে নজরদারির জন্য মাইক্রো অবসারভার নিয়োগ করেছে কমিশন। শেষ মুহূর্তে ভবানীপুরের জন্য আরও ২০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। এর ফলে শুধুমাত্র ওই কেন্দ্রের জন্য মোতায়েন করা মোট কেন্দ্রীয় বাহিনীর সংখ্যা হল ৩৫ কোম্পানি। আরও পড়ুনঃ গোয়া টু কালীঘাট, সদলবলে তৃণমূলে যোগ দিলেন ফেলেইরো লুইজিনহোগতকাল সন্ধ্যা থেকেই ভবানীপুরে প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে ২০০ মিটারের মধ্যে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে।এছাড়া দুর্যোগ পরিস্থিতিতে কোনও ভোটার যদি ভোট দিতে যেতে না অসুবিধায় পড়েন সেক্ষেত্রে তিনি ১৯৫০ এই নম্বরে ফোন সাহায্য চাইতে পারবেন। সেক্ষেত্রে রিটার্নিং অফিসার বা সেক্টর অফিসার ওই ব্যক্তিকে বাড়ি থেকে তাঁর ভোটদান কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া ও বাড়ি ফিরে দেওয়ার ব্যবস্থা করবেন বলে কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে। বুথে নিরাপত্তায় কেন্দ্রীয় আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েন করার পাশাপাশি প্রচুর সংখ্যক পুলিশ কর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। প্রতিটি থানার নিরাপত্তার দায়িত্বে একজন করে ডেপুটি কমিশনার মর্যাদার পুলিশ কর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।আগামীকাল সকাল থেকে ভোট শেষ হওয়া পর্যন্ত ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের ৩৮টি জায়গায় থাকবে পুলিশ-পিকেট। শুধু ওই কেন্দ্রের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখেই নটি জায়গায় হেভি রেডিও ফ্লাইং স্কোয়াড মোতায়েন করা হচ্ছে। এ ছাড়া, থাকছে ২৩টি আরটি মোবাইল ভ্যান। ভবানীপুর ছড়াও বৃহস্পতিবার জঙ্গিপুরে ৩৬৩টি এবং সামশেরগঞ্জে ৩২৯টি বুথে ভোট নেওয়া হবে। এই তিন বিধানসভা কেন্দ্রের জন্য ৫২ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হচ্ছে। এরমধ্যে ভবানীপুরে ৩৫, জঙ্গিপুরে ১৮ এবং সামশেরগঞ্জে ১৯ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। পাশাপাশি এই তিন বিধানসভা কেন্দ্রের জন্য দুজন পুলিশ পর্যবেক্ষক, দুজন সাধারণ পর্যবেক্ষক এবং দুজন সাধারণ পর্যবেক্ষক রয়েছেন।

সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২১
রাজ্য

By Poll-High Court: ভবানীপুর উপনির্বাচন: নির্বাচন কমিশনকে জরিমানা হাইকোর্টের

ভবানীপুরে উপনির্বাচন মামলায় হাইকোর্টে ধাক্কা কমিশনের। নির্বাচন কমিশনকে জরিমানা করল আদালত। মঙ্গলবার ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি রাজেশ বিন্দল ও বিচারপতি রাজর্ষি ভরদ্বাজের ডিভিশন বেঞ্চ এই নির্দেশ দিয়েছে। সেই সঙ্গে নির্দিষ্ট দিনেই ভোট হবে বলে জানিয়ে দিল কলকাতা হাইকোর্ট। নির্বাচন কমিশনকে জরিমানা নিয়ে পরবর্তী শুনানি হবে ১৭ নভেম্বর।আরও পড়ুনঃ আমায় খুনের চেষ্টা করা হয়েছে, স্থগিত করা দরকার ভবানীপুরের উপনির্বাচনউল্লেখ্য, ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচনের দিন ঘোষণার পরেই নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে পক্ষপাতের অভিযোগ তোলে বিজেপি। মামলা দায়ের হয় কলকাতা হাইকোর্টে। মামলাকারীদের অভিযোগ, শুধুমাত্র কেন একটি কেন্দ্রেই নির্বাচন ঘোষণা করা হয়েছে। এই মামলায় কমিশনের কাছে জবাবি হলফনামা চেয়েছিল আদালত। কমিশন হলফনামা জমা দেয়। কিন্তু আদালত জানিয়ে দেয় কমিশনের উত্তরে সন্তুষ্ট নয় তারা। কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কড়া সমালোচনা করে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ। ভবানীপুরে উপনির্বাচন না হলে সাংবিধানিক স্ংকট তৈরি হতে পারে, এই মর্মে সুপারিশ করে কমিশনকে চিঠি লেখেন মুখ্যসচিব। ভোট বিজ্ঞপ্তিতে কমিশনও সেই কথা উল্লেখ করে। যা নিয়ে তৈরি হয় বিতর্ক।মামলাকারীর দাবি, শুধু মাত্র একটি নির্দিষ্ট কেন্দ্রের জন্য এইভাবে সুপারিশ করা যায় কি? গত শুক্রবার এই মামলায় রায়দান স্থগিত করে দেয় কলকাতা হাইকোর্ট।

সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২১
রাজ্য

WB By Election: পুজোর পরই রাজ্যের বাকি চার কেন্দ্রে উপনির্বাচন, নির্ঘণ্ট ঘোষণা কমিশনের

পুজোর পরই বাকি থাকা উপনির্বাচনগুলো সম্পন্ন হবে। আগামী ৩০ অক্টোবর রাজ্যের বাকি চার বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচনের দিন ঘোষণা করল নির্বাচন কমিশন। দিনহাটা, শান্তিপুর, খড়দহ ও গোসাবায় উপনির্বাচনের দিন ঘোষণা করা হল। ২ নভেম্বর ভোটের গণনা হবে। অর্থাৎ ভবানীপুর উপনির্বাচনের ঠিক এক মাস পর ভোটের দিন ঘোষণা হল। শুধু বাংলাই নয়, বাংলার বাইরেরও যে সমস্ত রাজ্যে উপনির্বাচন বাকি রয়েছে, সেগুলিও এই ৩০ অক্টোবরই হবে। একই সঙ্গে তিন কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের তিন কেন্দ্রেও এদিনই ভোট হবে।আরও পড়ুনঃ কয়লা-কাণ্ডে রাজ্যে প্রথম গ্রেপ্তার লালা-ঘনিষ্ঠ ৪পশ্চিমবঙ্গের চার বিধানসভা কেন্দ্র গোসাবা, দিনহাটা, শান্তিপুর, খড়দহে ভোট হবে ৩০ অক্টোবর। একইসঙ্গে তেলঙ্গানা, রাজস্থান, নাগাল্যান্ড, মিজোরাম, মেঘালয়, মহারাষ্ট্র, মধ্যপ্রদেশ, কর্নাটক, হিমাচল প্রদেশ, হরিয়ানা, বিহার, অসম, অন্ধ্রপ্রদেশেরও একাধিক কেন্দ্রে উপনির্বাচন হবে। পাশাপাশি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল দাদরা ও নগর হাভেলি, মধ্যপ্রদেশ, হিমাচল প্রদেশের তিন লোকসভা কেন্দ্রেও ভোটগ্রহণ হবে এদিন। কমিশন সূত্রে খবর, পয়লা অক্টোবর থেকে শুরু হবে নোটিফিকেশন। ৮ অক্টোবর মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন। ১১ অক্টোবর মনোনয়নের স্ক্রুটিনি। ১৩ অক্টোবর মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন। ৩০ অক্টোবর উপনির্বাচন। ২ নভেম্বর ভোট গণনা। ৫ নভেম্বরের মধ্যে শেষ করতে হবে নির্বাচন প্রক্রিয়া। এই বিষয়ে বিজেপি নেতা শমীক ভট্টাচার্য বলেন, আমরা নির্বাচনের বিরুদ্ধে নই। তবে আমরা চাই সঠিক সময়ে, সঠিক ভাবে নির্বাচন হোক। তবে যে চারটি কেন্দ্রে নির্বাচন হচ্ছে, সেই কেন্দ্রগুলোর বহু বিজেপি কর্মী ঘরছাড়া। তারা কোনও রাজনৈতিক কাজে অংশগ্রহণ করতে পারছে না। ভবানীপুরের ঘটনাই সাক্ষী রাজ্যের এই আইন-শৃঙ্খলার পরিস্থিতিতে অবাধ এবং শান্তিপূর্ণ ভোট সম্ভব নয়।

সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২১
রাজ্য

BJP-Commission: ডিসি সাউথের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগ প্রিয়াঙ্কার

মুখ্যমন্ত্রীর পাড়ায় মৃতদেহ নিয়ে মিছিল করার ঘটনায় বিজেপি-র রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার-সহ তিন বিজেপি নেতার বিরুদ্ধে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করেছিল পুলিশ। এ বার ওই একই ঘটনায় ডিসি সাউথ আকাশ মাঘারিয়ার বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশনে চিঠি দিল বিজেপি। চিঠিতে তারা ওই অফিসারকে নির্বাচনের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার দাবি জানিয়েছে। আরও পড়ুনঃ নিষিদ্ধ হল হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন ও আইভারমেক্টিনভবানীপুরের বিজেপি প্রার্থী প্রিয়াঙ্কা টিবরেওয়াল শ্লীলতাহানির অভিযোগ করেন ডিসি সাউথের বিরুদ্ধে। নির্বাচন কমিশনে চিঠি পাঠিয়ে ইতিমধ্যেই অভিযোগ দায়ের করেছে বিজেপি। একটি ছবি দেখিয়ে পুলিশ আধিকারীকের বিরুদ্ধে এমনই অভিযোগ আনেন প্রিয়াঙ্কা টিবরেওয়াল। ছবি দেখিয়ে বিজেপি নেতৃত্বর অভিযোগ, প্রিয়াঙ্কা টিবরেওয়ালকে ডিসি সাউথ তাঁর হাত ধরে টেনেছেন এবং শারীরিকভাবে নিগ্রহ করা হয়েছে। গতকালই যখন মানস সাহার দেহ নিয়ে বিজেপির রাজ্য সভাপতি-সহ নেতৃত্ব কেওড়াতলার দিকে যাচ্ছিলেন, সেখানেই হঠাৎ মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির দিকে যেতে চাইলে বিতণ্ডা বাধে। ১৪৪ ধারা ভাঙার অভিযোগে পুলিশ আটকায়। তখনই ধস্তাধস্তির পরিস্থিতি তৈরি হয়। প্রতিবাদ করলে বিজেপি মহিলা প্রার্থী প্রিয়াঙ্কা টিবরেওয়াল এবং অন্যান্য মহিলা নেতৃত্বকে শারীরিকভাবে হেনস্থা করে পুলিশ, এমনই গুরুতর অভিযোগ আনে বিজেপি।

সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২১
দেশ

Rajya Sabha Poll: মানস ভুঁইয়ার আসনে ভোট ঘোষণা

মানস ভুঁইয়ার ছেড়ে যাওয়া রাজ্যসভার আসনে ভোট ঘোষণা করল নির্বাচন কমিশন। ৪ অক্টোবর ভোটের দিন ঘোষণা করা হয়েছে। সকাল ৯টা থেকে ৪টে পর্যন্ত হবে ভোটগ্রহণ। ওই দিনই বিকেল ৫টায় হবে ভোট গণনা। মে মাসে রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দেন মানস ভুঁইয়া । একুশের বিধানসভা ভোটে তৃণমূলের প্রার্থী হন তিনি। সবং কেন্দ্র থেকে জিতে বিধায়কও হন। তাঁর ছেড়ে যাওয়া রাজ্যসভার আসনে ভোট ঘোষণা করল নির্বাচন কমিশন। ১৫ সেপ্টেম্বর জারি করা হবে নোটিফিকেশন।আগামী ২২ সেপ্টেম্বর মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ তারিখ। ২৩ সেপ্টেম্বর হবে স্ক্রুটিনি। মনোনয়ন তোলার শেষ দিন ২৭ সেপ্টেম্বর। ৪ অক্টোবর ভোট। ৬ অক্টোবরের মধ্যে শেষ করতে হবে নির্বাচন পর্ব। মানস ভুঁইয়ার আসনে এখনও কাউকে মনোনীত করেনি তৃণমূল।

সেপ্টেম্বর ০৯, ২০২১
রাজ্য

Dilip Ghosh: মুখ্যমন্ত্রীকেই জেতাতেই কী ভবানীপুরে উপনির্বাচন?প্রশ্ন তুললেন দিলীপ

গোটা দেশে শুধুমাত্র ভবানীপুরে কেন উপনির্বাচন? নির্বাচনী নির্ঘণ্ট প্রকাশের পর প্রশ্ন তুলেছিলেন দিলীপ ঘোষ শুভেন্দু অধিকারীরা । সাংবিধানিক সংকটের বিষয়টি বিবেচনা করে এই সিদ্ধান্ত বলে জানিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। আর এবার এই সাংবিধানিক সংকট তৈরির জন্য সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীকেই দায়ী করলেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। সোমবার দুর্গাপুরে এক বেসরকারী হাসপাতালে এক মহিলা বিজেপি কর্মীকে দেখতে এসে তৃণমূলের পাশাপাশি উপনির্বাচন ইস্যুতে কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনকেও একহাত নিলেন দিলীপ ঘোষ।রাজ্যের উপনির্বাচনগুলিকে নিয়ে আইনের পথে যেতে তারা প্রস্তুত হচ্ছেন বলে ফের একবার জানিয়েছেন তিনি। তাঁর মতে, একজন মুখ্যমন্ত্রী হেরে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন,উনি আবার যে জিতবেন এর নিশ্চয়তা কোথায়?আরও পড়ুনঃ শার্দুল, ঋষভের দুরন্ত ব্যাটিংয়ে জয়ের স্বপ্ন ভারতেরকরোনা পরিস্থিতিতে অন্য জায়গায় উপনির্বাচন হচ্ছে না। অথচ ব্যতিক্রম ভবানীপুর। কমিশনের এই দ্বি-নীতিই আদালতে তুলে ধরতে চাইছে বিজেপি।এই প্রসঙ্গে ইঙ্গিত দিয়ে দিলীপ বলেন, রাজ্যের কমিশন বলছে, পুরভোটের মতো পরিস্থিতি নেই। অথচ জাতীয় নির্বাচন কমিশন ঘোষণা করে দিল। অন্য রাজ্য বলছে ভোট করতে পারব না। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, এর পিছনে কোনও রহস্য নেই তো? বিজেপির রাজ্য সভাপতি আরও বলেন, কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন ভবানীপুর থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে জিতিয়েই ছাড়বেন বলে মনে হচ্ছে। তা না হলে এরকম পক্ষপাতমূলক আচরণ করতো না কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন।

সেপ্টেম্বর ০৬, ২০২১
রাজ্য

By-Polls: সেপ্টেম্বরে হচ্ছে না উপনির্বাচন?

সেপ্টেম্বরে কি উপনির্বাচন হচ্ছে রাজ্যে? প্রশ্ন ঘুরছে। তবে আপাতত সেপ্টেম্বরে যে উপনির্বাচন যে হচ্ছে না, তা কার্যত স্পষ্ট রাজনৈতিকবিদদের কাছে। শুক্রবার নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চের বৈঠক বাতিলের পর উপনির্বাচন না-হওয়ার সম্ভাবনাই জোরাল হচ্ছে। শুক্রবার কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চের বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। ফলে দুএকদিনের মধ্যে বিজ্ঞপ্তি জারি করা হতে পারে বলে ভাবা হয়েছিল। কিন্তু আচমকা বাতিল হয় বৈঠক। ফলে চলতি মাসের মধ্যে উপনির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা রইল না বলে মনে করছেন অনেকে। সেক্ষেত্রে অক্টোবরে উপনির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। উল্লেখ্য,দুদিন আগে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠক করেন মুখ্যসচিব হরিকৃষ্ণ দ্বিবেদী। পরে কমিশনকে চিঠি দিয়ে পুজোর আগেই উপনির্বাচনের অনুরোধ করেন তিনি।কমিশন সূত্রের খবর, পুজোর আগে নির্বাচন করাতে হলে ১০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে বিজ্ঞপ্তি জারি করতে হবে। কারণ বিজ্ঞপ্তি জারি হওয়ার ন্যূনতম ২৪ দিন পর ভোটগ্রহণ হয়। সেপ্টেম্বর মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে বিজ্ঞপ্তি জারি হলে অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে ভোট হতে পারে। পুজোর আগে বা পরে উপনির্বাচন করানোর জন্য প্রস্তুত নবান্ন । সূত্রের খবর, পুজোর আগেই ভোট মিটিয়ে ফেলতে চাইছে রাজ্য সরকার।

সেপ্টেম্বর ০৪, ২০২১
রাজনীতি

By Election: আজ নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ তৃণমূলের প্রতিনিধি দল

সেপ্টেম্বরেই হোক উপনির্বাচন। এই দাবি নিয়ে আজ দিল্লির নির্বাচন কমিশনে যাচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিনিধি দল। রাজ্যের বিধানসভা কেন্দ্রে যে উপনির্বাচন সেই নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলির কাছে মতামত চেয়েছিল নির্বাচন কমিশন। তৃণমূল কংগ্রেসের পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধি দল এই নিয়ে মতামত জানাবে। প্রতিনিধি দলে থাকছেন সৌগত রায়, জহর সরকার, মহুয়া মৈত্র, সাজদা আহমেদ, সুখেন্দু শেখর রায়। সূত্রের খবর, আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই কমিশনের কাছে যেতে চলেছে বিজেপি। তার আগে আজই, কমিশনে যাচ্ছে তৃণমূল।আরও পড়ুনঃ ভিন রাজ্য থেকে গ্রেপ্তার ভুয়ো আইপিএসএদিকে, উপনির্বাচন চায় না রাজ্য বিজেপি। তাদের বক্তব্য, রাজ্যে উপনির্বাচনের পরিস্থিতিই নেই। আট দফা কারণ তুলে ধরে রাজ্য বিজেপি এরই মধ্যে চিঠি দিয়েছে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকেও। বিজেপি যুক্তি খাঁড়া করেছে, বাংলায় এখন নির্বাচন করার মতো পরিস্থিতি নেই। কারণ লোকাল ট্রেন বন্ধ, বাস চলছে কম লোক নিয়ে। এদিকে বিশেষজ্ঞদের রিপোর্ট বলছে, সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে আছড়ে পড়তে চলেছে তৃতীয় তরঙ্গ। রাজ্যে যে সরকার রয়েছে, তার পূর্ণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। ৭ টি বিধানসভা আসনে উপনির্বাচন না হলেও সরকারের কোনও সংকট নেই, সুতরাং উপনির্বাচন এখন অপরিহার্য নয়। এরই মাঝে সব দলের থেকেই উপনির্বাচন নিয়ে মত জানতে চেয়েছে কমিশন। তৃণমূল আসলে যে কোনও পরিস্থিতিতেই দ্রুত উপনির্বাচন করাতে চাইছে। আর বিজেপি চাইছে তা পিছিয়ে দিতে।

আগস্ট ২৬, ২০২১
দেশ

Pegasus: পেগাসাস ইস্যুতে সুপ্রিম কোর্টে হলফনামা রাজ্যের

পেগাসাস ইস্যুতে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এমবি লোকুরের নেতৃত্বে ২ সদস্যের তদন্ত কমিশন তৈরি করেছিল রাজ্য সরকার। তাকে চ্যালেঞ্জ করেই সুপ্রিম কোর্টে মামলা হয়েছিল। এবার সেই ২ সদস্যদের কমিশনকে চ্যালেঞ্জ ইস্যুতে হলফনামা জমা দিল সরকার। নিরপেক্ষভাবে পেগাসাস ইস্যু খতিয়ে দেখতেই তদন্ত কমিশন গঠিত হয়েছে বলে শীর্ষ আদালতে স্বপক্ষে যুক্তি দিল রাজ্য।আরও পড়ুনঃ কর্মরত মহিলাদের আপাতত বাড়িতে থাকার পরামর্শ তালিবানেরসুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে গঠিত বেঞ্চ রাজ্যকে নোটিস দেয়। হলফনামায় রাজ্য বলে, তারা চায় পেগাসাসকাণ্ডে রাজ্য গঠিত কমিটিই তদন্ত করুক। রাজ্যের অভিযোগ, জনস্বার্থ মামলাকারী স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার আরএসএস যোগ আছে। গত ১৮ অগস্ট এই মামলার শুনানি হয়। প্রসঙ্গত, পেগাসাস ইস্যুতে রাজ্য সরকার যে বিচারবিভাগীয় প্যানেল তৈরি করেছে তা তৈরি করার সাংবিধানিক অধিকার রাজ্যের রয়েছে বলেই হলফনামায় দাবি করা হয়েছে। পেগাসাস ইস্যুতে যখন গোটা দেশ উত্তাল তখন কেন্দ্র সরকারের তরফ থেকে তদন্তের উদ্যোগ না নেওয়ায় রাজ্য সরকার তার সাংবিধানিক ক্ষমতার আওতায় প্যানেল গঠন করেছে। বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের আপত্তির কারণেই এই মামলা করা হয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তরফে হলফনামায় রাজনৈতিক উদ্দ্যেশের কথাই বলা হয়েছে।

আগস্ট ২৫, ২০২১
রাজনীতি

By Election: কমিশনের দ্বারস্থ তৃণমূল

দ্রুত উপনির্বাচন করানোর দাবিতে ফের নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেস৷ আজ, দিল্লিতে তৃমমূলের একটি প্রতিনিধি দল নির্বাচন কমিশনে গিয়ে এই দাবি জানাবে৷ গত মাসেও একই দাবি নিয়ে কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছিলেন তৃণমূল সাংসদরা৷ এদিকে, উপনির্বাচনের দাবিতে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের সঙ্গে আজ বেলা আড়াইটের সময় দেখা করতে যাবেন তৃণমূলের প্রতিনিধি দল।বিধানসভার উপনির্বাচনের দাবিতে শুক্রবার ফের নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হতে চলেছে তৃণমূল। সূত্রের খবর, এদিন উপনির্বেচনের দাবিতে CEO-র কাছে যাবে তৃণমূল নেতৃত্ব। যথা সময়ে নির্বাচনের দাবি জানাবেন পার্থ চট্টোপাধ্যায় এবং সুব্রত বক্সি, তাপস রায় -সহ অন্যান্যরা। আরও পড়ুনঃ কলকাতাগামী ট্যাঙ্কার থেকে গ্যাস লিকেজ, ব্যাপক আতঙ্ক ছড়াল বর্ধমানে উপনির্বাচনের দাবিতে আগেই কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছে তৃণমূলের সংসদীয় দল। তৃণমূলের তরফে দাবি করা হয় যে, উপনির্বাচনের জন্য সাতদিন প্রচারের সময় দিলেই চলবে। করোনা পরিস্থিতিতেও যাতে কোনও ব্যাঘাত না ঘটে, সেই বিষয়টিও দেখা হবে। তৃণমূলের অভিযোগ, সাত বিধানসভা কেন্দ্রে নির্বাচন না করিয়ে রাজনৈতিক ভাবে তাঁদের অসুবিধার মধ্যে ফেলতে পারে বিজেপি। সেই পরিকল্পনা ভেস্তে দিতেই তৃণমূলের এই তৎপরতা।রাজ্যে পাঁচটি বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচনের পাশাপাশি দুটি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণও বাকি রয়েছে৷ যে পাঁচটি কেন্দ্রে উপনির্বাচন হওয়ার কথা, তার মধ্যে ভবানীপুর কেন্দ্র থেকে ভোটে লড়ার কথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের৷ কারণ নন্দীগ্রাম কেন্দ্র থেকে পরাজিত হওয়ায় শপথ নেওয়ার ছ মাসের মধ্যে যে কোনও একটি বিধানসভা কেন্দ্র থেকে জিতে আসতে হবে মুখ্যমন্ত্রীকে৷ নভেম্বর মাসে সেই সময়সীমা শেষ হচ্ছে৷ হাতে সময় থাকলেও দ্রুত উপনির্বাচন করানোর পক্ষে তৃণমূল৷ তাই এই দাবিতে নির্বাচন কমিশনের উপরে চাপ বজায় রাখতে চাইছে তারা৷

আগস্ট ০৬, ২০২১
কলকাতা

Dilip Ghosh: তড়িঘড়ি উপনির্বাচন নিয়ে দিলীপের খোঁচা

ফের একবার উপনির্বাচন নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে খোঁচা দিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। তাঁর কটাক্ষ, লোকাল ট্রেন চালাতে পারছেন না, অথচ ভোট করাতে চাইছেন। দিলীপের কথায়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের মুখ্যমন্ত্রিত্ব ধরে রাখতেই তড়িঘড়ি উপনির্বাচনের পথে হাঁটতে চাইছেন। যদিও তৃণমূলের তরফে একাধিকবার দাবি করা হয়েছে, মূল নির্বাচন পর্ব যে সময় হয়েছিল, তখন সংক্রমণের হার শীর্ষে ছিল। সে তুলনায় এখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে। তাই ভোট করাতে কোনও বাধা থাকার কথা নয়। উল্লেখ্য, রাজ্যে সাতটি বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচন বাকি রয়েছে। যার মধ্যে অন্যতম ভবানীপুর কেন্দ্র। নন্দীগ্রামে হারের পর ছ মাসের মধ্যে কোনও একটি বিধানসভা থেকে জয়ী হয়ে আসতে হবে মুখ্যমন্ত্রীকে। এই প্রেক্ষিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কমিশনের কাছে আর্জি জানিয়েছিলেন, তাড়াতাড়ি উপনির্বাচন করতে। রাজ্যের করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে বলেই দাবি করেন তিনি।আরও পড়ুনঃ জয়ের হ্যাটট্রিক, দ্বিতীয় স্থানে থেকে অলিম্পিক হকির শেষ আটে ভারতশনিবার ইকোপার্কে প্রাতঃভ্রমণে গিয়ে দিলীপ ঘোষ বলেন, উপনির্বাচন হওয়া উচিত। আমার মনে হয় যথা সময়েই তা হবে। বাংলায় কার্যত লকডাউন চলছে। দু বছর ধরে পুরসভার ভোট আটকে রয়েছে। অথচ মুখ্যমন্ত্রী খালি উপনির্বাচন নিয়ে বলছেন। ওনার যদি মনে হয় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে গিয়েছে তা হলে বিধিনিষেধ তুলে দিন। আসলে উনি নিজে মুখ্যমন্ত্রী থাকবেন বলেই উপনির্বাচন নিয়ে এতটা সরব। এর আগে এই একই বিষয়ে কটাক্ষ করতে শোনা গিয়েছে শুভেন্দু অধিকারীকেও। তিনিও বলেছিলেন, রাজ্যে কোভিড পরিস্থিতি ও টিকাকরণ শেষ না হওয়া পর্যন্ত উপনির্বাচনের পরিস্থিতি নেই।

জুলাই ৩১, ২০২১
রাজ্য

এবার জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের ’ভুয়ো’ সদস্য সন্দেহে কালনায় গাড়িসহ আটক তিন

রাজ্য পুলিশের জালে ইতিমধ্যেই ধরা পড়েছে ভুয়ো সিবিআই অফিসার,আইপিএস ও পুলিশ অফিসার। এবার জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের ভুয়ো সদস্য সন্দেহে পূর্ব বর্ধমানের কালনা থানার পুলিশ তিন জনকে আটক করলো। পাশাপশি তাদের ব্যবহৃত জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের প্লেট লাগানো দামি চারচাকা গাড়িটিও পুলিশ অটক করেছে। এই ঘটনা জানাজানি হতেই কালনার বাসিন্দা মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। কালনা থানার পুলিশ ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে তাঁদের প্রকৃত পরিচয় জানার চেষ্টা চালাচ্ছে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন দুপুরে কালনার ডাঙ্গাপাড়া এলাকায় একটি হোটেলের সামনে দাঁড়ায় সাদা রঙের দামি একটি চার চাকা গাড়ি। গাড়ি থেকে নেমে তিনজন সেখানকার হোটেলের ভিতর ঢুকে যায়। ওই সময়ে স্থানীয় লোকজন দেখেন ওই গাড়িটির সামনে নিল ও লালচে রঙের একটি প্লেট লাগানো রয়েছে। সেই প্লেটে লেখা রয়েছে, ন্যাশানাল সেক্রেটারি- ইউথ সেল -ন্যাশানাল হিউম্যান রাইটস এ্যান্ড সোশ্যাল জাস্টিস ব্যুরো ইন্ডিয়া। গাড়িটিতে এমন সবকিছু লেখা প্লেট লাগাণো দেখে এলাকার লোকজনের সন্দেহ হয়। গাড়ির আরোহীরা ভুয়ো জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের লোক হতে পারে বলেই স্থানীয়রা মনে করতে শুরু করেন। পুলিশকেও তারা বিষয়টি জানান। পুলিশ ওই হোটেলের সামনে পৌছায়। গাড়িতে লাগানো থাকা প্লেটের লেখা পড়ে পুলিশেরও সন্দেহ জাগে। এরপরেই কালনা থানার পুলিশ ওই গাড়িটি ও তার তিন আরোহীকে তুলে নিয়ে থানায় চলে যায়। কালনার এসডিপিও সপ্তর্ষি ভট্টাচার্য জানিয়েছে, একটি গাড়ি সহ তিনজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

জুলাই ৩১, ২০২১
রাজ্য

Pegasus Row: বড় খবর: দিল্লি রওনার আগে বড় ঘোষণা মমতার

ফোনে আড়ি পাতার ঘটনায় তদন্ত কমিশন গঠন করল রাজ্য সরকার। সোমবার দিল্লি যাওয়ার আগে নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এ কথা ঘোষণা করেন। দুই অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে এই কমিশন গঠন করেছে রাজ্য সরকার।সোমবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে মমতা বলেন, ফোনে আড়ি পাতার ঘটনায় তদন্ত কমিশন গঠন করেছি আমরা। মন্ত্রিসভার বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের অবসপ্রাপ্ত বিচারপতি মদন লকুর ও হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি জ্যোতির্ময় ভট্টাচার্য এই তদন্ত কমিশনের দায়িত্বে থাকবেন। এনকোয়্যারি অ্যাক্ট (১৯৫২)-এর আওতায় এই কমিশন গঠন করা হয়েছে। প্রথম কোনও রাজ্য হিসেবে পশ্চিমবঙ্গে গঠিত হল তদন্ত কমিশন। মন্ত্রিসভার জরুরি বৈঠকে কমিশন গঠনের প্রস্তাবে সিলমোহর পড়ল। কমিশনের দায়িত্বে রয়েছেন ২ অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি। এদিন কেন্দ্রকে তোপ দেগে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, কেউ যদি না জাগে, তাঁকে জাগাতে হয়। আশা করব আমাদের পদক্ষেপ বাকিদেরও জাগিয়ে তুলবে।আরও পড়ুনঃ অলিম্পিক টিটির তৃতীয় রাউন্ডে পৌঁছে গেলেন শরথ কমলউল্লেখ্য, আজ দুপুরেই দিল্লি উড়ে যাবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজধানীতে একগুচ্ছ কর্মসূচি রয়েছে তাঁর। তবে, দিল্লি রওনা দেওয়ার আগে সোমবার মন্ত্রিসভার জরুরি বৈঠক ডাকেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানেই এই বিচার বিভাগীয় কমিশন গঠনের সিদ্ধান্তে সিলমোহর পড়ে। এরপর সাংবাদিক বৈঠকে চাঁচাছোলা ভাষায় কেন্দ্রকে তোপ দাগেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, পেগাসাস ব্যবহার করে সাংবাদ মাধ্যম, আইনজ্ঞ মহল, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, নাগরিক সমাজকে নজরবন্দি করে রাখা হয়েছে। গত এক সপ্তাহ ধরে সংসদ চলাকালীন আমরা ভেবেছিলাম, সুপ্রিম কোর্টের কোনও বিচারপতিকে দিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার নিশ্চয়ই তদন্ত করাবে। সেক্ষেত্রে মানুষ বিচার পাবে। কিন্তু আমরা যখন দেখলাম সরকারের কোনও ভ্রুক্ষেপ নেই। তখন দিল্লি যাওয়ার আগে আমি বিচার বিভাগীয় কমিশন তৈরি করে দিলাম।

জুলাই ২৬, ২০২১
রাজ্য

Vaccine: খবর প্রকাশ হতেই বাড়ির দুয়ারে ভ্যাকসিন

খবর প্রকাশ হতেই একেবারে বাড়ির দুয়ারে বসে কোভিডের ভ্যাকসিন পেলেন নির্বাচন কমিশনের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডার খর্বকায় প্রতিবন্ধী ভ্রাতৃদ্বয়। পূর্ব বর্ধমানের মেমারি থানার কলানবগ্রামে বাড়ি প্রতিবন্ধী খর্বকায় ভ্রাতৃদ্বয় সঞ্জীব মণ্ডল ও মানিক মণ্ডলের। ভোটের সময়ে নির্বাচনের দায়িত্বে থাকা আধিকারিকরা কোভিডের ভ্যাকসিন পেয়ে গেলেও ভ্যাকসিন পাওয়ার সৌভাগ্য হয়নি কমিশনে ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডার ভ্রাতৃদ্বয় এমনকি ভোট মিটে যাওয়ার পরেও গত বুধবার পর্যন্ত তারা ভ্যাকসিন পাননি । সেই খবর এদিন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশ হতেই প্রশাসনের কর্তারা নড়ে চড়ে বসেন। জনতার কথাতেও তা প্রকাশিত হয়।আরও পড়ুনঃ কোভিড ভ্যাকসিন থেকে বঞ্চিত বিধানসভা ভোটের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডার খর্বকায় ভ্রাতৃদ্বয়রীতিমতো দুয়ারে ভ্যাক্সিন নিয়ে বৃহস্পতিবার প্রতিবন্ধী খর্বকায় ভ্রাতৃদ্বয়ের বাড়িতে হাজির হয়ে যান মেমারির বিধায়ক মধুসূদন ভট্টাচার্য, মেমারি ১ ব্লক পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি ও মেমারি ১ নম্বর ব্লকের যুগ্ম বিডিও। তাঁদের সঙ্গেই ছিল মেডিকেল টিম। বাড়িতেই সঞ্জীব মণ্ডল ও মানিক মণ্ডলকে দেওয়া হয় কোভিশিল্ডের প্রথম ডোজ। ভ্যাকসিন পেয়ে উচ্ছ্বাসিত প্রতিবন্ধী খর্বকায় ভাতৃদ্বয়। বিধায়ক মধুসূদন ভট্টাচার্য বলেন, বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খবর পেয়েই ব্লক প্রশাসন উদ্যোগী হয়। তবে তিনি দবি করেন, ব্লক প্রশাসনের বিষয়টি মাথায় রাখা উচিত ছিল।

জুলাই ২২, ২০২১
রাজ্য

Vaccine: কোভিড ভ্যাকসিন থেকে বঞ্চিত বিধানসভা ভোটের 'ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডার' খর্বকায় ভ্রাতৃদ্বয়

বিধানসভা ভোটের সময়ে ঢাকঢোল পিটিয়ে নির্বাচন কমিশনের ব্র্যাণ্ড অ্যাম্বাসাডার করা হয়েছিল দুই প্রতিবন্ধী খর্বকায় ভ্রাতৃদ্বয়কে। আর ভোট মিটে যেতেই তারা এখন ব্রাত্য হয়ে গিয়েছেন। কোভিড ভ্যাকসিন প্রাপ্তি থেকেও বঞ্চিত ভোটে নির্বাচন কমিশনের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডার হওয়া সঞ্জীব মণ্ডল ও মানিক মণ্ডল। ভ্যাকসিন পাওয়ার সৌভাগ্য আদৌ হবে কিনা তাও জানেন না দুই খর্বকায় ভ্রাতৃদ্বয়।আরও পড়ুনঃ টোকিওতে কেন গেমস ভিলেজে থাকছেন না ১ নম্বর মহিলা টেনিস তারকা?প্রতিবন্ধী খর্বকায় ভ্রাতৃদ্বয় সঞ্জীব মণ্ডল ও মানিক মণ্ডলের বাড়ি পূর্ব বর্ধমানের মেমারি বিধানসভার কলানবগ্রামে। বাড়িতে রয়েছেন বৃদ্ধা মা আন্না মণ্ডল। মাটির এক কুটুরি বাড়িতেই তাঁরা বসবাস করেন। সরকারী ভাতার সামান্য কয়েকটা টাকা আর দুচারটে ছগল, গরু ও মুরগি প্রতিপালন করে সামন্য যে টুকু রোজগার হয় তা দিয়েই তাঁরা দিন গুজরান করেন। এমনই এক হতদরিদ্র পরিবারের খর্বকায় প্রতিবন্ধী ভ্রাতৃদ্বয় সঞ্জীব ও মানিককে ২০২১ বিধানসভা ভোটে ২৬৫ মেমারি বিধানসভার ভোট আইকন করা হয়। নির্বাচন কমিশনের ব্যবস্থাপনায় প্রতিবন্ধী এবং ৮০ উর্ধ্ব ভোটারদের ভোট দানে উৎসাহিত করার ব্যাপারে তাঁরাই হয়েছিলেন প্রধান মুখ ।আরও পড়ুনঃ কফি ডেটে যেতে চান শ্রীলেখা! কিন্তু কার সঙ্গে?কোভিড অতিমারির মধ্যেই এবার রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন হয়। তার জন্য নির্বাচন কমিশন বেশ কিছু নতুন নিয়ম জারি করে। প্রতিবন্ধী ও ৮০ উর্ধ্ব বয়সী ভোটাররা যাতে পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিতে পারেন তার ব্যবস্থা করে নির্বাচন কমিশন। এছাড়াও কোভিড পেসেন্টরাও যাতে একই সুবিধা পান সেই ব্যবস্থাও কমিশন ধার্য করে। এই সকল ব্যবস্থাপনার বিষয়টি নিয়ে ভারতের নির্বাচন কমিশন গোটা রাজ্য জুড়ে প্রচার চালানোর উদ্যোগ নেয়। তারই প্রচার কাজে নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে থাকা মেমারি বিধানসভার আধিকারিকরা আইকন হিসাবে বেছে নেন খর্বকায় দুই প্রতিবন্ধী ভাই সঞ্জীব মণ্ডল ও মানিক মণ্ডলকে। ভোটের সময় নিঃস্বার্থ ভাবেই এই দুই প্রতিবন্ধী ভাই ট্রাইসাইকেলে চড়ে গণতন্ত্রের সর্বশ্রেষ্ঠ উৎসবে সবাইকে অংশ নেওয়ার জন্য আহ্বান জানানোর কাজও চালিয়ে যান। তাঁদের এই কর্মকাণ্ড ভোটার মহলে যথেষ্ট সাড়াও ফেলে। এখন ভোট মিটে গিয়েছে। আর ভোট মিটে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্রাত্য হয়ে গিয়েছেন দুই প্রতিবন্ধী খর্বকায় ভ্রাতৃদ্বয়।আরও পড়ুনঃ পর্নোগ্রাফি ছবি তৈরির অভিযোগে গ্রেফতার বলিউড অভিনেত্রীর স্বামীসঞ্জীব মণ্ডল ও মানিক মণ্ডল বুধবার আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, ভোট শেষ হয়ে গিয়েছে। তাই এখন আর তাদের কথা কেউ মনে রাখে না। মনে রাখেনি সরকারও। সেই কারণে কোভিডের তৃতীয় ঢেউয়ের আগেও তাঁরা কোভিড ভ্যাকসিনের টিকা পাননি। ভ্যাকসিন পাওয়ার জন্য অনেকবার পাল্লারোডের স্বাস্থ্য কেন্দ্রে গিয়েছেন। লাইনে দাঁড়িয়েও ছিলেন। কিন্তু ভ্যাকসিন না পেয়ে তাঁদের হতাশ হয়েই বাড়ি ফিরতে হয়েছে। সঞ্জীব ও মানিক আরও জানান, ভ্যাকসিন পাওয়ার জন্য ব্লকের বিডিও অফিসেও মৌখিক ভাবে তাঁরা জানিয়ে ছিলেন। তাতেও সুরাহা হয়নি। আদৌ কোভিড ভ্যাকসিনের টিকা পাবেন কিনা তা নিয়েও অন্ধকারে রয়েছেন বলে প্রতিবন্ধী খর্বকায় ভ্রাতৃদ্বয় জানিয়েছেন।আরও পড়ুনঃ পেগাসাস স্পাইওয়্যার! ভাবের ঘরে চুরি? আপনি কতটা সুরক্ষিত? আক্রান্ত কারা?এই বিষয়ে মেমারি ১ নম্বর ব্লকের বিডিও আলি মহম্মদ ওয়ালিউল্লাহ বলেন, তাঁর সঙ্গে ওনারা যোগাযোগ করেননি। তবে বিষয়টি তিনি জেনেছেন।খুব তাড়াতাড়ি ওনাদের ভ্যাকসিনের ব্যবস্থা করা হবে বলে বিডিও আশ্বাস দিয়েছেন।

জুলাই ২১, ২০২১
কলকাতা

Election Commission: অগস্টের প্রথমেই ৫ কেন্দ্রের ভোটযন্ত্র পরীক্ষার নির্দেশ

ভবানীপুর-সহ রাজ্যে পাঁচটি কেন্দ্রের উপনির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি আরও জোরাল করার নির্দেশ দিল রাজ্য নির্বাচন দপ্তর। প্রাথমিক ভাবে ওই পাঁচটি কেন্দ্রের ইভিএম এবং ভিভিপ্যাট পরীক্ষার কাজ অগস্টের প্রথম সপ্তাহে শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যা থেকে মনে করা হচ্ছে, অগস্টে বা সেপ্টেম্বরে উপনির্বাচন হতে পারে ধরে নিয়েই এগোচ্ছে রাজ্য নির্বাচন দপ্তর। যদিও নির্বাচনের মতোই উপনির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণার বিষয়েও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন। আরও পড়ুনঃ শুভেন্দুর বিরুদ্ধে এফআইআররাজ্যে যে পাঁচটি বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচন হবে, সেগুলি হল ভবানীপুর, খড়দহ, বাসন্তী, শান্তিপুর এবং দিনহাটা। ওই কেন্দ্রগুলির জন্যই প্রস্তুতিতে গতি আনার নির্দেশ দিয়েছে রাজ্য নির্বাচন দপ্তর। তবে জঙ্গিপুর ও সামশেরগঞ্জের ক্ষেত্রে এমন নির্দেশ দেওয়া হয়নি। কমিশন সূত্রে খবর, এই দুটি বিধানসভায় নির্বাচনের যাবতীয় প্রস্তুতি বিধানসভা ভোটের আগেই সারা হয়ে গিয়েছিল। কারণ, ওই দুটি আসনে ভোট স্থগিত ছিল প্রার্থীদের মৃত্যুতে। ফলে সেখানে আর নতুন করে ভোটযন্ত্র পরীক্ষার প্রয়োজন নেই। কিন্তু যে পাঁচটি আসনে ভোট হয়েছিল, সেখানে নতুন করে ইভিএম এবং ভিভিপ্যাট পরীক্ষার প্রয়োজন আছে। রাজ্য নির্বাচন দপ্তরের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, আমরা সবরকম প্রস্তুতি রাখছি। রাজ্যসভা হোক বা বিধানসভা সব রকম নির্বাচনের জন্য দপ্তর প্রস্তুত।

জুলাই ২১, ২০২১
কলকাতা

Commissioner of Police: পুলিশ কমিশনারের সচেতনতার পাঠ

প্রাতঃভ্রমণকারীদের নিরাপত্তা খতিয়ে দেখতে সাতসকালে ময়দানে পৌঁছে যান কলকাতা পুলিশের কমিশনার সোমেন মিত্র। সঙ্গে ছিলেন, গোয়েন্দা প্রধান মুরলীধর শর্মা এবং ডিসি সাউথ আকাশ মাঘরিয়া। আগাম কোনও খবর ছাড়াই সাদা পোশাকে ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালসহ ময়দান এলাকার বিভিন্ন স্থান পরিদর্শন করেন তাঁরা। নাগরিকদের নিরাপত্তা ব্যবস্থার বাস্তব চেহারা সরেজমিনে খতিয়ে দেখতেই এই সারপ্রাইজ ভিজিট বলে দাবি কলকাতা পুলিশের।আরও পড়ুনঃ কলকাতায় স্বস্তি, পাহাড়ে অস্বস্তিপ্রাতঃভ্রমণে বেরিয়ে দিনকয়েক আগে ছিনতাইবাজদের হামলার শিকার হন এক ব্যক্তি। খাস কলকাতায় সাতসকালে এমন দুষ্কৃতী দৌরাত্ম্যে স্বাভাবিকভাবেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন অন্যান্যরা। তবে তারপর থেকে কড়া পুলিশি প্রহরার বন্দোবস্ত করা হয়েছে। নিরাপত্তা খতিয়ে দেখতে এবার ময়দানে কলকাতা পুলিশের শীর্ষকর্তারা।আরও পড়ুনঃ আতিউলের সাইকো থ্রিলারে থাকছে চমকরবিবার ভোর পাঁচটায় আচমকাই সাইকেল চালিয়ে সাদা পোশাক পরে ময়দানে আসেন পুলিশ কমিশনার সৌমেন মিত্র। তাঁর সঙ্গে ছিলেন গোয়েন্দা প্রধান মুরলিধর শর্মা এবং ডিসি সাউথ আকাশ মাঘারিয়া। প্রাতঃভ্রমণকারীরা আদৌ ছিনতাইবাজদের নিয়ে কতটা আতঙ্কিত তা খতিয়ে দেখেন তাঁরা। প্রাতঃভ্রমণকারীদের নিরাপত্তাই বা কতটা সুনিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে, তাও খতিয়ে দেখেন পুলিশকর্তারা। কলকাতা পুলিশের তরফে যদিও ময়দান এলাকার নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। সকাল থেকেই চলছে পুলিশের টহলদারি। কিন্তু নিরাপত্তা ব্যবস্থার বাস্তব চেহারাটা কী সেটা সরেজমিনে দেখতে গিয়েছিলেন পুলিশ কমিশনার ও অন্যান্য আধিকারিকরা। তাই আগে থেকে কোনও খবর না দিয়েই সেখানে চলে যান তাঁরা। ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল-সহ বিভিন্ন এলাকা খতিয়ে দেখে। প্রাতঃভ্রমণকারীদের সঙ্গে কথা বলতেও দেখা যায় আধিকারিকদের। তাঁদের কোনও অভিযোগ রয়েছে কি না তাও শোনেন পুলিশ কর্তারা। কমিশনার ও অন্যান্য আধিকারিকদের এই উদ্যোগে তাঁরা খুশি বলেই জানিয়েছেন প্রাতঃভ্রমণকারীরা।

জুলাই ১৮, ২০২১
  • ‹
  • 1
  • 2
  • ...
  • 5
  • 6
  • 7
  • 8
  • 9
  • 10
  • 11
  • 12
  • 13
  • 14
  • ›

ট্রেন্ডিং

টুকিটাকি

যেখানে আজ লাখো ভক্তের ঢল, সেখানেই একদিন জঙ্গলের মাঝে ৭০ জনেরও কম মানুষে শুরু হয়েছিল কৃষ্ণের জন্মোৎসব

আজ মথুরার আকাশে কৃষ্ণনাম। জন্মভূমির প্রাঙ্গণে ভক্তির ঢেউ। আলো, ফুল, মন্ত্রোচ্চারণ আর অসংখ্য মানুষের পদধ্বনিতে মুখর শ্রীকৃষ্ণ জন্মস্থান। জন্মাষ্টমীর মধ্যরাত যত এগিয়ে আসে, ততই যেন অপেক্ষার প্রহর ঘন হয়কখন জন্ম নেবেন নন্দলাল, কখন বাজবে শঙ্খ, কখন খুলবে সেই পবিত্র মুহূর্তের দ্বার!কিন্তু আজকের এই বিপুল আয়োজনের দিকে তাকালে বিশ্বাস করাই কঠিন, একদিন এই একই জন্মভূমিতে কৃষ্ণের জন্মোৎসব ছিল নিভৃত, ছোট্ট এক আয়োজন। ছিল না লক্ষ মানুষের ভিড়, ছিল না আলোর ঝলকানি, ছিল না উৎসবের এত জৌলুস। ছিল শুধু কয়েকজন মানুষের বিশ্বাস, ভালোবাসা আর এক গভীর স্বপ্নকৃষ্ণের জন্মভূমিতে তাঁর জন্মদিনকে নতুন করে উদযাপন করার স্বপ্ন।সেই গল্পের শুরু ১৯৫৭ সালে।তখন মথুরার শ্রীকৃষ্ণ জন্মস্থান আজকের মতো সুসজ্জিত ছিল না। চারদিকে ছিল অনেকটাই অনুন্নত, জঙ্গলঘেরা পরিবেশ। অসমতল জমির সেই প্রাচীন পরিসর পরিচিত ছিল কৃষ্ণ চবুতরা নামে। ইতিহাসের স্তর আর বিশ্বাসের আবরণে ঢাকা সেই ভূমিকে ঘিরে তখনও ভবিষ্যতের বিরাট জন্মোৎসবের কোনও আভাস যেন দৃশ্যমান ছিল না।জন্মাষ্টমীর প্রায় এক সপ্তাহ আগে হাথরাসের কবি গোপাল প্রসাদ ব্যাসের নেতৃত্বে সেখানে জড়ো হলেন কয়েকজন মানুষ। কোনও বিশাল মঞ্চ নয়, কোনও বিপুল জনসমাবেশ নয়কৃষ্ণকে ঘিরে কবিতা, আলোচনা আর অনুভবের এক ছোট্ট আসর। উপস্থিত মানুষের সংখ্যা ছিল ৭০ জনেরও কম।সংখ্যার বিচারে হয়তো সামান্য। কিন্তু ইতিহাসের বিচারে সেই জমায়েত ছিল অসামান্য।কারণ, কখনও কখনও বড় কোনও আন্দোলনের শুরু হয় না হাজার মানুষের গর্জনে; শুরু হয় মুষ্টিমেয় কয়েকটি মানুষের নীরব বিশ্বাসে। সেই দিনটিও যেন তেমনই এক দিন। কৃষ্ণকে নিয়ে লেখা কবিতা পাঠ করা হল, তাঁকে ঘিরে বলা হল নানা কথা। ভক্তেরা ভাগ করে নিলেন তাঁদের অন্তরের অনুভূতি। দিনের সেই আয়োজনে ছিলেন প্রায় ২৫ জন আয়োজক এবং ৪৫ জন ভক্ত।আজকের মথুরার সঙ্গে সেই ছবির কোনও মিল নেই। আজ জন্মাষ্টমীতে এখানে মানুষের ঢল নামে। দেশের নানা প্রান্ত থেকে ভক্তেরা ছুটে আসেন কৃষ্ণের জন্মভূমির টানে। কিন্তু সেই বিপুলতার বহু আগে, নিভৃত এক কোণে কয়েকজন মানুষ যেন ভবিষ্যতের সেই উৎসবের প্রথম প্রদীপটি জ্বালিয়ে দিয়েছিলেন।আয়োজনটির পরিসর ছিল ছোট, কিন্তু তার স্বপ্ন ছিল বড়।তখন জন্মস্থানও ছিল অন্যরকম। পদ্মশ্রী মোহন স্বরূপ ভাটিয়ার বর্ণনা অনুযায়ী, একসময় এই এলাকা ছিল জঙ্গলঘেরা এবং অসমতল। আধুনিক পরিকাঠামোর চিহ্ন ছিল না বললেই চলে। সেই জায়গাকেই নিজেদের উদ্যোগে পরিষ্কার ও সমতল করার কাজে এগিয়ে এসেছিলেন শহরের বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত মানুষজন। কারও হাতে ছিল শ্রম, কারও হাতে ছিল সময়, কারও হাতে ছিল শুধু বিশ্বাসসব মিলিয়ে ধীরে ধীরে বদলাতে শুরু করল জন্মভূমির চেহারা।একটি পরিত্যক্ত, অনুন্নত পরিসর ধীরে ধীরে হয়ে উঠতে লাগল ভক্তির এক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র।১৯৫৭ সালে শুরু হল কেশবদেব মন্দির নির্মাণের কাজ। পরের বছর, ১৯৫৮ সালে, মন্দিরের উদ্বোধন হল। আর তার পর থেকেই জন্মাষ্টমীর আয়োজন ক্রমশ পেতে শুরু করল একটি নিয়মিত ও সুসংগঠিত রূপ।তারপর ইতিহাস এগিয়েছে নিজের গতিতে।একসময় যে জায়গায় কয়েকজন মানুষকে নিয়ে কৃষ্ণকে স্মরণ করে কবিতা পাঠের আসর বসেছিল, সেখানেই বছর ঘুরে জন্মাষ্টমী হয়ে উঠল বিরাট জনউৎসব। ছোট্ট সেই জমায়েতের জায়গা নিল অসংখ্য মানুষের সমাবেশ। কয়েক ডজন ভক্তের জায়গায় এল হাজার হাজার, তারপর লক্ষ মানুষের পদধ্বনি। আয়োজন বাড়ল, পরিকাঠামো বদলাল, উৎসবের ব্যাপ্তি ছড়িয়ে পড়ল বহুদূর।তবু এই দীর্ঘ পথচলার সবচেয়ে সুন্দর দিকটি হয়তো অন্য কোথাও।উৎসব বদলেছে, সময় বদলেছে, জন্মস্থানের চেহারা বদলেছে, মানুষের সংখ্যা বেড়েছে অগণিত। কিন্তু বদলায়নি কৃষ্ণকে ঘিরে মানুষের সেই অদৃশ্য টান।সেই টানই হয়তো ১৯৫৭-এর সেই ছোট্ট আসরের প্রাণ ছিল। আর আজও সেই টানেই মানুষ রাত জেগে অপেক্ষা করেন কৃষ্ণের জন্মমুহূর্তের জন্য।মথুরার রাত যখন গভীর হয়, মন্দিরচত্বর যখন কৃষ্ণনামে মুখর হয়ে ওঠে, তখন হয়তো ইতিহাসের সেই প্রথম দিনটির কথাও মনে পড়ে। মনে হয়, এত আলো, এত ভিড়, এত আয়োজনের বহু আগে কোথাও এক ছোট্ট প্রদীপ জ্বলেছিল। সেই প্রদীপের আলোয় ছিলেন হাতে গোনা কয়েকজন মানুষতাঁদের হৃদয়ে ছিলেন একমাত্র কৃষ্ণ।সেই কয়েকজনের বিশ্বাস আজ লক্ষ মানুষের উৎসব।সময়ের স্রোতে আয়োজনের আকার যতই বদলাক, কৃষ্ণের জন্মভূমির মাটিতে সেই প্রথম দিনের আবেগ যেন এখনও মিশে আছে। তাই জন্মাষ্টমীর রাতে মথুরার আকাশে যখন শঙ্খধ্বনি ওঠে, ভেসে আসে হরে কৃষ্ণ নাম, তখন মনে হয়উৎসব বড় হয়েছে, মানুষ বেড়েছে, জৌলুস বেড়েছে; কিন্তু লালাকে ঘিরে মানুষের ভালোবাসা আজও সেই একই রকম নির্মল, একই রকম গভীর।যেন কয়েকজনের হাতে জ্বালানো সেই ছোট্ট প্রদীপ আজও জ্বলছেশুধু তার আলো পৌঁছে গিয়েছে অগণিত ভক্তের হৃদয়ে।

সেপ্টেম্বর ০৪, ২০২৬
টুকিটাকি

বাল গোপাল থেকে দ্বারকাধীশ, কোথাও জগন্নাথ—জন্মাষ্টমীর আগে কৃষ্ণের পদচিহ্নে ভারতের ১০ তীর্থের গল্প

কোথাও তিনি ননীচোরা বালক, কোথাও মুরলীধর, কোথাও প্রেমের কৃষ্ণ, আবার কোথাও রাজাধিরাজ দ্বারকাধীশ। কোথাও তাঁর সঙ্গে জড়িয়ে রাধার অমোঘ প্রেমকথা, কোথাও তিনি জগন্নাথকাঠের দারুবিগ্রহে অধিষ্ঠিত এক অনন্য দেবসত্তা। ভারতের মানচিত্রে কৃষ্ণ যেন একটিই নাম, অথচ তাঁর রূপের বিস্তার অসংখ্য।সামনেই জন্মাষ্টমী। ভাদ্র মাসের কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথিকে ঘিরে দেশের নানা প্রান্তে শুরু হয়ে গিয়েছে প্রস্তুতি। মন্দিরে মন্দিরে সাজসজ্জা, বিশেষ পুজো, নামসংকীর্তন, ভজন এবং রাতভর উৎসবের আয়োজন। কোথাও ফুলে সেজে উঠছে গর্ভগৃহ, কোথাও আলোর মালায় বদলে যাচ্ছে মন্দিরচত্বর। মধ্যরাতে যখন শঙ্খধ্বনি আর ঘণ্টার আওয়াজে ঘোষণা হবে কৃষ্ণজন্মের, তখন ভারতের নানা প্রান্ত যেন একই সুরে উচ্চারণ করবেহরে কৃষ্ণ।কিন্তু কৃষ্ণকে জানতে গেলে শুধু পুরাণের পাতা কিংবা গীতার শ্লোকের দিকে তাকালেই হয় না। তাঁকে খুঁজে পাওয়া যায় ভারতের নানা প্রান্তের মন্দিরে, জনশ্রুতিতে, স্থাপত্যে, উৎসবে এবং মানুষের বিশ্বাসে। বৃন্দাবনের কুঞ্জ থেকে দ্বারকার সমুদ্রতট, পুরীর রথযাত্রা থেকে কেরলের গুরুবায়ুরপ্রতিটি তীর্থে কৃষ্ণ যেন নতুন করে জন্ম নেন।জন্মাষ্টমীর আগে সেই কৃষ্ণতীর্থগুলির কয়েকটি ঘুরে দেখা যাক।রাধারমণ মন্দির, বৃন্দাবনশালগ্রাম থেকে আবির্ভূত কৃষ্ণবৃন্দাবনের সরু গলি, পুরনো দালান আর অসংখ্য মন্দিরের ভিড়ে রাধারমণ মন্দিরের অবস্থান বিশেষ। গোপাল ভট্ট গোস্বামীর সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে রয়েছে এই মন্দিরের ইতিহাস। বৈষ্ণব পরম্পরার বিশ্বাস অনুযায়ী, শালগ্রাম শিলা থেকেই আবির্ভূত হয়েছিল রাধারমণজির বিগ্রহ।মন্দিরের নিজস্ব ঐতিহ্য অনুযায়ী, ১৫৪২ সালে বৈশাখী পূর্ণিমার দিনে এই আবির্ভাব ঘটে। সেই কারণেই রাধারমণকে ঘিরে বৃন্দাবনের ভক্তি-পরম্পরায় রয়েছে এক বিশেষ আবেগ।এখানে কৃষ্ণ যেন বিশাল রাজকীয় আড়ম্বরের দেবতা নন; বরং ঘরের আপনজন। ছোট্ট বিগ্রহ, নিবিড় সেবা আর শতাব্দী পেরিয়ে আসা আচারসব মিলিয়ে রাধারমণ মন্দিরে কৃষ্ণভক্তির এক অন্তরঙ্গ রূপ অনুভব করা যায়।বাঁকে বিহারী মন্দিরত্রিভঙ্গ ভঙ্গিমায় মায়াবী কৃষ্ণবৃন্দাবনের কথা উঠলে বাঁকে বিহারী মন্দিরের নাম উচ্চারণ না করলে যেন শহরের গল্প অসম্পূর্ণ থেকে যায়। ত্রিভঙ্গ ভঙ্গিমায় দাঁড়িয়ে থাকা কৃষ্ণের বিগ্রহকে ঘিরে ভক্তদের আবেগ অপরিসীম।প্রচলিত ইতিহাসে এই মন্দিরের সঙ্গে স্বামী হরিদাসের নাম অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িয়ে। তাঁর সাধনা ও ভক্তির পরম্পরার মধ্য দিয়েই বাঁকে বিহারীর আরাধনা জনপ্রিয়তা পায়।এই মন্দিরের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য জন্মাষ্টমীকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে। মন্দিরের নিজস্ব তথ্য অনুযায়ী, বছরের অন্য দিনগুলির তুলনায় কৃষ্ণ জন্মাষ্টমীর দিনেই এখানে বিশেষ মঙ্গল আরতির আয়োজন করা হয়।বৃন্দাবনের অগণিত ভক্তের কাছে সেই মুহূর্ত যেন শুধু একটি ধর্মীয় আচার নয়কৃষ্ণের জন্মের সঙ্গে নিজের আত্মিক সম্পর্ক খুঁজে পাওয়ার এক বিরল অনুভূতি।মদন মোহন মন্দিরযমুনার ধারে প্রাচীন বৈষ্ণব স্মৃতিযমুনার কাছাকাছি আদিত্য টিলার উপর দাঁড়িয়ে থাকা মদন মোহন মন্দির বৃন্দাবনের প্রাচীন বৈষ্ণব ঐতিহ্যের এক গুরুত্বপূর্ণ স্মারক।প্রচলিত কাহিনি অনুযায়ী, আদিত্য আচার্য একটি বটগাছের নীচে মদন মোহনের বিগ্রহ আবিষ্কার করেছিলেন। পরবর্তী সময়ে সেই বিগ্রহকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠে মন্দির ও ভক্তির এক গুরুত্বপূর্ণ পরিসর।লালচে ইটের নির্মাণ, ঊর্ধ্বমুখী শিখর এবং যমুনার কাছাকাছি অবস্থান মন্দিরটির আবহকে অন্যরকম করে তুলেছে। এখানে দাঁড়ালে মনে হয়, বৃন্দাবনের বর্তমান শহরের আড়ালে এখনও কোথাও লুকিয়ে রয়েছে কয়েক শতাব্দী আগের সেই বৈষ্ণব জনপদ।রঙ্গজি মন্দিরবৃন্দাবনে দক্ষিণ ভারতের স্থাপত্যের ছোঁয়াবৃন্দাবনের মন্দির বলতেই সাধারণত উত্তর ভারতীয় স্থাপত্যের কথা মনে আসে। কিন্তু রঙ্গজি মন্দির সেই ধারণাকে বদলে দেয়।শ্রীরঙ্গমের রঙ্গনাথ মন্দিরের আদলে নির্মিত এই মন্দিরের কাজ শুরু হয় ১৮৪৫ সালে এবং ১৮৫১ সালে তা সম্পূর্ণ হয়। দক্ষিণ ভারতীয় মন্দির স্থাপত্যের প্রভাব এখানে স্পষ্ট, যদিও তার সঙ্গে মিশেছে উত্তর ভারতের স্থানীয় শিল্পরীতি।বৃন্দাবনের এই মন্দির তাই শুধু ধর্মীয় তীর্থ নয়, ভারতীয় স্থাপত্য-সংস্কৃতির এক অনন্য মিলনক্ষেত্রও। কৃষ্ণভক্তি যে কোনও একটি অঞ্চল বা ভাষার সম্পত্তি নয়রঙ্গজি মন্দির তারই এক স্থাপত্যিক প্রমাণ।দ্বারকাধীশ মন্দির, দ্বারকাবৃন্দাবনের বালক থেকে সমুদ্রতীরের রাজাবৃন্দাবনে কৃষ্ণ যেখানে গোপাল, মাখনচোর, বাঁশিওয়ালা; দ্বারকায় এসে সেই কৃষ্ণই যেন রাজাধিরাজ।গুজরাতের সমুদ্রতীরবর্তী দ্বারকা শহরের সঙ্গে কৃষ্ণের সম্পর্ক ভারতীয় পুরাণ-পরম্পরায় অত্যন্ত গভীর। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, মথুরা ত্যাগের পর কৃষ্ণ সমুদ্রের কাছাকাছি দ্বারকা নগরী প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এবং সেখানেই তাঁর রাজ্য গড়ে ওঠে।দ্বারকাধীশ মন্দির তাই কৃষ্ণের আর এক পরিচয়ের সামনে আমাদের দাঁড় করায়যিনি শুধু প্রেমিক বা রাখাল নন, তিনি রাষ্ট্রনায়ক, রাজা এবং ধর্মীয়-সাংস্কৃতিক স্মৃতির কেন্দ্র।চারধামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তীর্থ হিসেবে দ্বারকার গুরুত্বও আলাদা। মন্দিরের বর্তমান কাঠামো বহু শতাব্দীর পরিবর্তন, পুনর্নির্মাণ ও ঐতিহ্যের মধ্য দিয়ে আজকের রূপ পেয়েছে। ফলে দ্বারকাধীশ শুধু একটি মন্দির নয়, পুরাণ ও ইতিহাসের দীর্ঘ সংলাপেরও সাক্ষী।পুরীর জগন্নাথ মন্দিরকৃষ্ণের অনন্য দারুরূপকৃষ্ণের রূপের বৈচিত্র্য সবচেয়ে বিস্ময়করভাবে ধরা পড়ে ওড়িশার পুরীতে। এখানে তিনি জগন্নাথদাদা বলভদ্র এবং বোন সুভদ্রাকে সঙ্গে নিয়ে অধিষ্ঠিত।কাঠের তৈরি এই বিগ্রহ ভারতীয় মন্দির-সংস্কৃতির এক বিরল ঐতিহ্য। প্রতি বছর নবকলেবর-সহ নানা আচার, রথযাত্রা এবং শতাব্দীপ্রাচীন ধর্মীয় প্রথা জগন্নাথধামকে অনন্য মর্যাদা দিয়েছে।বর্তমান মন্দিরের নির্মাণের ইতিহাসের সঙ্গে পূর্ব গঙ্গবংশের রাজা অনন্তবর্মন চোড়গঙ্গদেবের নাম যুক্ত। তবে মন্দিরের নির্মাণ ও সম্পূর্ণতার সময়কাল নিয়ে ঐতিহাসিক সূত্রে বিভিন্ন মত রয়েছে।পুরীতে কৃষ্ণ যেন বৃন্দাবনের কিশোর নন, দ্বারকার রাজাও নন। তিনি এখানে জগন্নাথজগতের নাথ। তাঁর রূপে আঞ্চলিক সংস্কৃতি, আদিবাসী ঐতিহ্য, বৈষ্ণব ভাবনা এবং ভারতীয় ধর্মীয় পরম্পরার এক বিস্ময়কর সমন্বয় দেখা যায়।গুরুবায়ুর মন্দিরদক্ষিণের ভূলোক বৈকুণ্ঠকেরলের ত্রিশূর জেলার গুরুবায়ুরে অবস্থিত শ্রীকৃষ্ণ মন্দির দক্ষিণ ভারতের অন্যতম প্রসিদ্ধ কৃষ্ণতীর্থ। ভক্তদের কাছে এই স্থান ভূলোক বৈকুণ্ঠ নামে পরিচিত।মন্দিরের উৎপত্তিকে ঘিরে রয়েছে নানা পুরাণকথা ও কিংবদন্তি। গুরুবায়ুরাপ্পন নামে পূজিত কৃষ্ণের বিগ্রহকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে নিজস্ব আচার, পুজোপদ্ধতি এবং গভীর ভক্তি-সংস্কৃতি।উত্তর ভারতের বৃন্দাবনের সঙ্গে এখানকার পরিবেশের বিস্তর পার্থক্য। ভাষা আলাদা, স্থাপত্য আলাদা, পুজোর রীতিও আলাদা। কিন্তু কৃষ্ণের প্রতি মানুষের নিবেদন একই রকম গভীর।এখানেই হয়তো ভারতীয় কৃষ্ণভক্তির সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্যটি ধরা পড়েঅঞ্চল বদলালেও অনুভূতিটি বদলায় না।নিকুঞ্জবনমন্দির নয়, তবু রহস্যে মোড়া এক তীর্থবৃন্দাবনের সব পবিত্র স্থান যে মন্দির, তা নয়। নিকুঞ্জবন তার সবচেয়ে রহস্যময় উদাহরণগুলির একটি।ঘন গাছপালায় ঢাকা এই স্থানকে ঘিরে প্রচলিত বিশ্বাসের শেষ নেই। বৈষ্ণব ভাবধারায় রাধা-কৃষ্ণের নিকুঞ্জলীলা ও এই স্থানের সম্পর্কের কথা বলা হয়।স্থানীয় বিশ্বাসে সূর্যাস্তের পর নিকুঞ্জবনে প্রবেশ না করার রীতি রয়েছে। এই বিশ্বাসকে ঘিরে বহু কিংবদন্তি প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসছে।দিনের আলোয় যেখানে বৃন্দাবনের আর পাঁচটি পবিত্র স্থানের মতোই মানুষের আনাগোনা, সন্ধ্যার পর সেই জায়গাটিই যেন অন্য এক আবহ ধারণ করে। ঘণ্টাধ্বনি বা আরতির বদলে সেখানে অনুভূত হয় নিস্তব্ধতাআর সেই নীরবতার মধ্যেই যেন বেঁচে থাকে বৃন্দাবনের পুরনো কাহিনি।প্রেম মন্দিরআধুনিক বৃন্দাবনে রাধাকৃষ্ণের লীলার আলোকচিত্রবৃন্দাবনের প্রাচীন মন্দিরগুলির পাশে প্রেম মন্দির তুলনায় নবীন। কিন্তু তার স্থাপত্য ও আলোকসজ্জার জাঁকজমক তাকে দ্রুতই জনপ্রিয় করে তুলেছে।জগদগুরু শ্রী কৃপালু জি মহারাজের উদ্যোগে ২০০১ সালে মন্দিরটির নির্মাণ শুরু হয় এবং ২০১২ সালে এর উদ্বোধন হয়। সাদা মার্বেলের বিশাল কাঠামো, সূক্ষ্ম কারুকাজ এবং রাধাকৃষ্ণের বিভিন্ন লীলার দৃশ্য মন্দিরটিকে বিশেষ আকর্ষণীয় করে তুলেছে।মন্দিরের নিজস্ব তথ্য অনুযায়ী, বাইরের দেওয়ালে ৮৪টি প্যানেলে রাধাকৃষ্ণের লীলার বিভিন্ন দৃশ্য ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।অর্থাৎ বৃন্দাবনের কয়েক শতাব্দী পুরনো স্মৃতির পাশে প্রেম মন্দির দাঁড়িয়ে রয়েছে আধুনিক সময়ের ভক্তির এক নতুন ভাষা হয়ে।বৃন্দাবনযেখানে শহরটাই যেন কৃষ্ণের গল্পএই তালিকার শেষে এসে আবারও ফিরতে হয় বৃন্দাবনে। কারণ বৃন্দাবনকে কেবল মন্দিরের শহর বলে বোঝা যায় না।এখানে গলি মানেই কোনও গল্প, ঘাট মানেই কোনও স্মৃতি, কুঞ্জ মানেই কোনও কিংবদন্তি। যমুনার জল, মন্দিরের ঘণ্টা, সন্ধ্যার আরতি, রাস্তার ভজন, ফুলের মালাসবকিছুর মধ্যেই যেন কৃষ্ণের উপস্থিতি।জন্মাষ্টমীর সময়ে সেই বৃন্দাবন আরও একবার বদলে যায়। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভিড় জমে মন্দিরে। কোথাও কীর্তন, কোথাও ভজন, কোথাও কৃষ্ণের জন্মলীলার আয়োজন। মধ্যরাত পেরিয়ে যখন কৃষ্ণজন্মের মুহূর্ত আসে, তখন মনে হয়হাজার হাজার বছর আগের কোনও পুরাণকথা বুঝি আবার বর্তমান হয়ে উঠল।ভারতের নানা প্রান্তে কৃষ্ণের নাম এক, কিন্তু তাঁর রূপ বহুরঙা। বৃন্দাবনে তিনি প্রেমের বাঁশিওয়ালা, দ্বারকায় রাজা, পুরীতে জগন্নাথ, গুরুবায়ুরে আপন গৃহদেবতা। কোথাও তিনি শালগ্রাম থেকে আবির্ভূত স্বয়ম্ভূ বিগ্রহ, কোথাও কাঠের দারুরূপ, কোথাও বা মন্দিরের গর্ভগৃহের নীরব অন্ধকারে জেগে থাকা বিশ্বাস।এই বৈচিত্র্যের মধ্যেই ভারতীয় কৃষ্ণভক্তির সবচেয়ে সুন্দর সত্যটি লুকিয়ে আছেকৃষ্ণের রূপ বদলায়, মন্দির বদলায়, ভাষা বদলায়, আচার বদলায়; কিন্তু তাঁকে ঘিরে মানুষের ভালোবাসা বদলায় না।জন্মাষ্টমী তাই শুধু কৃষ্ণের জন্মদিন নয়। এ যেন ভারতীয় সংস্কৃতির সেই চিরন্তন উৎসব, যেখানে পুরাণ এসে মিশে যায় ইতিহাসে, ইতিহাস এসে মিশে যায় লোকবিশ্বাসে, আর বিশ্বাস শেষ পর্যন্ত পরিণত হয় এক গভীর ব্যক্তিগত অনুভবে।সেই কারণেই জন্মাষ্টমীর রাতে ভারতের কোনও এক মন্দিরে যখন শঙ্খ বাজে, অন্য প্রান্তে কোনও ভক্ত যখন কৃষ্ণনাম জপ করেন, তখন দূরত্বটা আর থাকে না। বৃন্দাবন থেকে দ্বারকা, পুরী থেকে গুরুবায়ুরএকই সুরে যেন প্রতিধ্বনিত হয় একটাই নামকৃষ্ণ।

সেপ্টেম্বর ০৪, ২০২৬
বিনোদুনিয়া

'উত্তম'কে আঁচলে বাঁধলেন ঋতু! শাড়িজুড়ে মহানায়কের সোনালি দিন—ঋতুপর্ণার সাজে ফিরল উত্তম-সুচিত্রার নস্ট্যালজিয়া

৩ সেপ্টেম্বর। বাংলা সিনেমার ইতিহাসে এমন একটি দিন, যেদিন বর্তমান যেন একটু থমকে দাঁড়ায় অতীতের সামনে। মহানায়ক উত্তম কুমারের জন্মশতবর্ষের সূচনায় তাই শুধু শ্রদ্ধা, পুষ্পস্তবক কিংবা স্মৃতিচারণেই সীমাবদ্ধ রইল না উদযাপন। টালিগঞ্জের বাতাসে এদিন মিশে ছিল এক অন্যরকম নস্ট্যালজিয়াসাদা-কালো পর্দা, পুরনো সিনেমার গান, উত্তম-সুচিত্রার অমর রসায়ন আর বাঙালির চিরচেনা মহানায়ক-কে নতুন করে আবিষ্কারের আবেগ।চার দিনব্যাপী এই বিশেষ উদযাপনের সূচনা হয় মহানায়কের মূর্তিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও শ্রদ্ধাজ্ঞাপনের মধ্য দিয়ে। উপস্থিত ছিলেন বাংলা চলচ্চিত্রের একাধিক প্রজন্মের তারকাপ্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, দেব, জিৎ, ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত-সহ টলিপাড়ার বহু পরিচিত মুখ। কিন্তু তারকাখচিত সেই অনুষ্ঠানে একটি শাড়িই যেন আলাদা করে হয়ে উঠল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।আর সেই শাড়ির সঙ্গে জড়িয়ে গেলেন ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত।মহানায়ককে শ্রদ্ধা জানাতে এসে অভিনেত্রী যেন শুধু নিজের পোশাক বেছে নেননি, সঙ্গে করে নিয়ে এসেছিলেন বাংলা সিনেমার এক বিস্মৃতপ্রায় অথচ চিরজাগ্রত সময়কে। তাঁর পরনের ঘিয়ে রঙের নগজের শাড়ির পাড় ও আঁচলজুড়ে ফুটে উঠেছিল উত্তম কুমারের সিনেমার নানা স্মৃতি। কোথাও মহানায়কের মুখ, কোথাও উত্তম-সুচিত্রার অমলিন উপস্থিতিআর আঁচলজুড়ে জীবন্ত হয়ে উঠেছিল এই পথ যদি না শেষ হয়-এর সেই চিরপরিচিত মুহূর্ত।যদি হই চোরকাঁটা ওই শাড়ির ভাঁজেঋতুকে কি ছুঁয়ে গিয়েছিল সেই অমর মুহূর্ত?শর্মিলার শাড়ির পাড়ে হাত রেখে উত্তমের সেই গানবাংলা সিনেমার প্রেমের এক অনন্ত দৃশ্য। সকলে হয়তো স্বীকার করবেন না, তবু বাংলা সিনেমার প্রতিটি অভিনেত্রীর কল্পনায় কোনও না কোনওভাবে উত্তমই ছিলেন সেই স্বপ্নের নায়ক। তিনি শুধু নায়ক-ই নন ছিলেন কারও দাদা, কারও বাবা, কারও বন্ধু, কারও প্রেমিকসম্পর্কের নাম বদলেছে, উত্তম বদলাননি।তিনি ছিলেন, আছেনবাঙালির চিরকালের নায়ক।একটি শাড়ি তখন আর নিছক পোশাক থাকে না। হয়ে ওঠে স্মৃতির ক্যানভাস।উত্তম কুমার ও সুচিত্রা সেনের জুটি বাঙালির চলচ্চিত্র-স্মৃতিতে যে জায়গা দখল করে রয়েছে, তাকে নতুন প্রজন্মের সামনে অন্য ভাষায় তুলে ধরার এক অভিনব প্রয়াস যেন দেখা গেল ঋতুপর্ণার সাজে। মেরুন থ্রি-কোয়ার্টার ব্লাউজের সঙ্গে ঘিয়ে রঙের সেই শাড়ি, রং মিলিয়ে গয়নাসব মিলিয়ে সাজে ছিল সংযম, আভিজাত্য এবং আবেগের মিশেল।তবে সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে শাড়ির আঁচল।ক্যামেরার সামনে সেই আঁচল মেলে ধরার মুহূর্তে মনে হচ্ছিল, যেন কোনও পুরনো বাংলা ছবির ফ্রেম হঠাৎ করেই বর্তমানের মধ্যে ফিরে এসেছে। একদিকে ঋতুপর্ণা, অন্যদিকে আঁচলে ধরা উত্তম-সুচিত্রার সেই অমর সময়দুই প্রজন্মের দুই ভুবন যেন এক জায়গায় এসে মিলল।উত্তম কে আঁচলে বাঁধলেন ঋতুএদিনের অনুষ্ঠানে এমন কোনও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব ছিলেন না, যাঁর চোখ ঋতুর শাড়িতে আটকে যায়নি। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী থেকে সৃজিত মুখোপাধ্যায়, দেব, যিশু সেনগুপ্ত, জিৎ, পাপিয়া অধিকারী কিংবা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়মহানায়কের মূর্তির পাদদেশে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যেন আলাদা এক আকর্ষণের কেন্দ্র হয়ে উঠেছিল ঋতুর উত্তম শাড়ি।আর এই দৃশ্য যে শুধু দর্শকের চোখেই ধরা পড়েছে, তা নয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত তারকারাও কার্যত মুগ্ধ হয়ে দেখেছেন সেই বিশেষ শাড়ির কাজ। ঋতুপর্ণার আঁচল টেনে তার নকশা খুঁটিয়ে দেখতে দেখা যায় দেবকে। পাশে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের চোখেও স্পষ্ট কৌতূহল ও মুগ্ধতা। জিৎ-এর নজরও আটকে যায় মহানায়কের মুখ আঁকা সেই আঁচলে। মুহূর্তটি যেন প্রতীকীবর্তমান টলিউডের জনপ্রিয় মুখেরা দাঁড়িয়ে রয়েছেন বাংলা সিনেমার সেই সোনালি সময়ের সামনে, যার কেন্দ্রে এখনও একইভাবে উজ্জ্বল উত্তম কুমার।ফলে কয়েক মুহূর্তের জন্য তারকাদের ভিড়ও যেন পিছু হটে যায়। একফ্রেমে ঋতুপর্ণার শাড়ি হয়ে ওঠে বাংলা চলচ্চিত্রের অতীত ও বর্তমানের সেতু।শুধু মহানায়কের সিনেমার স্মৃতিই নয়, গোটা শাড়ির নকশায় ছড়িয়ে ছিল বাংলা সিনেমার সোনালি দিনের আবহ। পুরনো পোস্টার, পরিচিত চরিত্র, সিনেমার দৃশ্যসব মিলিয়ে যেন তৈরি হয়েছিল একটি চলমান চলচ্চিত্র-অ্যালবাম। পর্দায় যে দৃশ্যগুলি একসময় বাঙালির আবেগকে স্পর্শ করেছিল, সেগুলিই এবার উঠে এসেছে কাপড়ের বুননে।এখানেই ঋতুপর্ণার এই শ্রদ্ধার্ঘ্যের বিশেষত্ব।উত্তম কুমারকে স্মরণ করার প্রচলিত রীতির বাইরে গিয়ে অভিনেত্রী যেন তাঁর পোশাককেই করে তুললেন স্মৃতির ভাষা। সিনেমা শেষ হয়ে যায়, পোস্টার পুরনো হয়ে যায়, প্রেক্ষাগৃহ বদলে যায়কিন্তু কিছু ছবি থেকে যায় মানুষের মনে। সেই ছবিগুলিকেই যেন শাড়ির আঁচলে ধরে রাখলেন তিনি।আর সেই কারণেই তাঁর সাজ হয়ে উঠল নিছক ফ্যাশন নয়, এক ধরনের সাংস্কৃতিক বক্তব্যও।মহানায়কের জন্মশতবর্ষে এই দৃশ্য যেন আরও একবার মনে করিয়ে দিলউত্তম কুমার কেবল একটি নাম নন, কেবল কয়েকটি কালজয়ী ছবির নায়কও নন। তিনি বাঙালির যৌথ স্মৃতির অংশ। তাঁর অভিনয়, তাঁর হাসি, তাঁর সংলাপ, তাঁর নায়করূপ এবং তাঁর সঙ্গে সুচিত্রা সেনের রসায়নসবকিছু মিলিয়ে তিনি এমন এক আবেগ, যার বয়স বাড়ে না।শতবর্ষ পেরিয়েও সেই আবেগ নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে যায় কখনও সিনেমার পর্দায়, কখনও গানে, কখনও স্মৃতিচারণে, আবার কখনও একটি শাড়ির আঁচলে।ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তের এই অভিনব সাজ তাই মহানায়ককে শুধু শ্রদ্ধা জানানো নয়। বরং পুরনো দিনের বাংলা সিনেমাকে আজকের চোখে নতুন করে দেখার এক সুন্দর প্রয়াস। যে পথে উত্তম-সুচিত্রা একদিন বাঙালির হৃদয়ে হেঁটেছিলেন, সেই পথ যেন সত্যিই এখনও শেষ হয়নি।শুধু বদলে গেছে মাধ্যম।এবার সেই পথের গল্প লেখা হয়েছে শাড়ির আঁচলে।

সেপ্টেম্বর ০৪, ২০২৬
কলকাতা

উত্তমের ‘অমৃতকাল’ ফেরানোর অঙ্গীকার, বাংলা ছবির জন্য খুলছে নতুন সম্ভাবনার দরজা

একটা সময় ছিল, বাংলা সিনেমা শুধু বাংলার দর্শকের বিনোদন ছিল নাসারা দেশের চলচ্চিত্র মানচিত্রে তার ছিল আলাদা এক মর্যাদা। অভিনয়, গল্প, সঙ্গীত, নির্মাণসব মিলিয়ে বাংলা ছবির দিকে তাকিয়ে থাকত গোটা দেশ। আর সেই সোনালি সময়ের অন্যতম প্রধান মুখ ছিলেন উত্তমকুমার। তাঁর পর্দার উপস্থিতি, অভিনয়ের স্বাভাবিকতা এবং বাঙালির আবেগের সঙ্গে তাঁর অদ্ভুত সংযোগ বাংলা চলচ্চিত্রকে এনে দিয়েছিল এক অনন্য উচ্চতা।উত্তমকুমারের জন্মশতবর্ষে সেই হারানো গৌরবের কথাই যেন নতুন করে সামনে এল। নন্দনের একতারা মুক্তমঞ্চে জন্মশতবার্ষিকীর অনুষ্ঠানের সূচনায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্যে উঠে এল বাংলা সিনেমাকে ফের দেশের চলচ্চিত্রের প্রথম সারিতে নিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার। শুধু স্মৃতিচারণ নয়, প্রয়োজন হলে পরিকাঠামো, বাজেট এবং সরকারি সহায়তা দেওয়ার আশ্বাসও দিল রাজ্য সরকার।মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, একসময় গোটা ভারতকে নেতৃত্ব দিত বাংলা সিনেমা। বলিউডের সঙ্গে পাল্লা দেওয়ার ক্ষমতা ছিল টলিউডের। সেই জায়গায় আবার ফিরতে হবে। উত্তমকুমারের জন্মশতবর্ষের এই সন্ধ্যাকে তাই তিনি শুধু উদ্যাপনের মুহূর্ত হিসেবে দেখেননি, দেখেছেন নতুন করে সংকল্প নেওয়ার সময় হিসেবেও। তাঁর বার্তাচলচ্চিত্রশিল্পের কী প্রয়োজন, কোথায় পরিকাঠামোর ঘাটতি, কী ধরনের সরকারি সহযোগিতা দরকার, এমনকি প্রয়োজনে বাজেট বরাদ্দ বা আইন পরিবর্তনের প্রয়োজন হলেও সরকার তা বিবেচনা করবে।মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের মধ্যেই যেন প্রতিধ্বনিত হল উত্তমকুমারের সময়ের বাংলা চলচ্চিত্রের সেই আত্মবিশ্বাস। যে সময়ে বাংলা ছবির অভিনেতা, পরিচালক, সঙ্গীতশিল্পী এবং কলাকুশলীদের কাজ দেশের সীমানা পেরিয়ে দর্শকের কাছে পৌঁছত, সেই পরিবেশই ফেরানোর ডাক উঠল জন্মশতবর্ষের মঞ্চ থেকে।অনুষ্ঠানের আবহও ছিল সেই স্মৃতিকে জাগিয়ে তোলার মতো। দর্শকে পরিপূর্ণ নন্দন চত্বর। মঞ্চে মুখ্যমন্ত্রীর পাশে মিঠুন চক্রবর্তী, জিৎ। সঙ্গে সন্দীপ রায়, রঞ্জিত মল্লিক, প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়-সহ বাংলা চলচ্চিত্রের একাধিক প্রজন্মের পরিচিত মুখ। প্রদীপ প্রজ্বলনের মুহূর্তে বিশাল পর্দায় ফুটে উঠল উত্তমকুমারের অভিনীত বিভিন্ন চরিত্র। নেপথ্যে ভেসে এল সন্ন্যাসী রাজার হরি ওম ধ্বনি। পর্দায় দেখা গেল মহানায়কের অবিস্মরণীয় দৃশ্য এবং সংলাপ। যেন কয়েক মুহূর্তের জন্য সময় পিছিয়ে গেলফিরে এল উত্তমের সেই পর্দার জাদু।জন্মশতবর্ষের এই মঞ্চে মুখ্যমন্ত্রী জানান, উত্তমকুমারের জন্মশতবর্ষের অনুষ্ঠান নিয়ে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় তাঁর সঙ্গে আগেই আলোচনা করেছিলেন। শিল্পীদের সম্মিলিত উপস্থিতির কথাও উঠে আসে তাঁর বক্তব্যে। তাঁর মতে, উত্তমকুমার এমন এক নাম, যিনি প্রজন্মের বিভাজন মুছে সবাইকে একই জায়গায় এনে দাঁড় করাতে পারেন। রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত মতপার্থক্য ভুলে এই মুহূর্তে একটাই পরিচয়উত্তমকুমারের উত্তরাধিকার বহন করা বাংলা চলচ্চিত্র।আর সেই জায়গাতেই অনুষ্ঠানের অন্যতম তাৎপর্যপূর্ণ মুহূর্ত তৈরি করেন মিঠুন চক্রবর্তী। বাংলা চলচ্চিত্রের উন্নতির জন্য মুখ্যমন্ত্রীর কাছে তাঁর আবদার ছিল স্পষ্টদেশের অন্য রাজ্য থেকে যদি কোনও প্রযোজনা সংস্থা বা চলচ্চিত্র নির্মাতা কলকাতা কিংবা বাংলায় শুটিং করতে আসেন, তাঁদের উৎসাহ দিতে আর্থিক সুবিধা দেওয়া প্রয়োজন।মিঠুনের প্রস্তাব ছিল, বাইরে থেকে আসা ছবির ক্ষেত্রে প্রায় ৩০ শতাংশ ভরতুকি দেওয়া হোক। তবে সরাসরি নগদ অর্থ নয়, করছাড় বা এই ধরনের সরকারি সুবিধার মাধ্যমে সেই সহায়তা দেওয়া যেতে পারে। মঞ্চ থেকেই মুখ্যমন্ত্রীর সম্মতির ইঙ্গিত পেয়ে মিঠুন জানান, তাঁর আবদার মেনে নেওয়া হয়েছে।এই প্রস্তাবকে ঘিরে নতুন করে আলোচনায় এল বাংলাকে চলচ্চিত্রের শুটিং গন্তব্য হিসেবে আরও আকর্ষণীয় করে তোলার সম্ভাবনা। শুধু বাংলা ভাষার ছবি নয়, দেশের অন্যান্য ভাষার বড় বাজেটের ছবিও যদি বাংলায় শুটিং করতে আসে, তাহলে স্থানীয় শিল্পী ও কলাকুশলী থেকে শুরু করে প্রযুক্তিবিদ, স্টুডিয়ো, লোকেশন, পরিবহণ এবং অন্যান্য সহযোগী শিল্পসব ক্ষেত্রেই তার প্রভাব পড়তে পারে।জন্মশতবর্ষের অনুষ্ঠানের আর একটি বড় আকর্ষণ ছিল পদযাত্রা। নন্দন থেকে শুরু হওয়া সেই শোভাযাত্রায় সামনে ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী এবং চলচ্চিত্র জগতের বিশিষ্ট অভিনেতা-অভিনেত্রীরা। নন্দন চত্বর ঘুরে পদযাত্রা পৌঁছয় বিড়লা প্ল্যানেটোরিয়াম, জওহরলাল নেহরু রোড হয়ে রবীন্দ্রসদন মেট্রো স্টেশনের পাশ দিয়ে গগনেন্দ্র প্রদর্শশালায়।সেই পদযাত্রায়ও যেন একসঙ্গে হাঁটল বাংলা চলচ্চিত্রের একাধিক প্রজন্ম। একটি ভিন্টেজ গাড়িতে ছিলেন মিঠুন চক্রবর্তী, চিরঞ্জিত, মমতাশঙ্কর, বিশ্বজিৎ চট্টোপাধ্যায়, সন্দীপ রায়, রঞ্জিত মল্লিক ও হরনাথ চক্রবর্তী। তাঁদের পিছনে ছিলেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, যিশু সেনগুপ্ত, রাজ চক্রবর্তী, শুভশ্রী, শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়, শ্রাবন্তী-সহ আরও অনেকে। শেষ সারিতে ছিলেন নতুন প্রজন্মের অভিনেতা ও কলাকুশলীরাহাতে উত্তমকুমারের ছবি-সহ প্ল্যাকার্ড।জন্মশতবর্ষ উদ্যাপনকে কেন্দ্র করে শহরের বিভিন্ন প্রান্তেও ছিল নানা আয়োজন। আহিরীটোলা থেকে টালিগঞ্জ, ভবানীপুরের বিজলী প্রেক্ষাগৃহ থেকে কলকাতা জিপিওবিভিন্ন জায়গায় শ্রদ্ধা জানানো হয় মহানায়ককে। টালিগঞ্জ মেট্রো স্টেশনের সামনে উত্তমকুমারের মূর্তিতে শ্রদ্ধা নিবেদনের পাশাপাশি ভবানীপুরে উদ্বোধন করা হয় তাঁর ২০ ফুটের পূর্ণাবয়ব কাটআউট। জিপিও-তে ভারতীয় ডাক বিভাগের উদ্যোগে প্রকাশ করা হয় উত্তম-স্মরণে বিশেষ কভার।শুধু সরকারি অনুষ্ঠানেই থেমে থাকেনি স্মরণ। শিল্পীদের একাংশ উত্তমকুমারের বাড়িতেও পৌঁছে তাঁকে শ্রদ্ধা জানান। বাড়ির তরফে শিল্পীদের আপ্যায়নে ছিল লুচি, আলুর তরকারি এবং পায়েসযেন মহানায়কের জন্মদিনের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা বাঙালির চিরপরিচিত ঘরোয়া আবেগেরই পুনরাবৃত্তি।জন্মশতবর্ষের পরবর্তী কর্মসূচিতেও থাকছে উত্তমকুমারকে নানা দৃষ্টিকোণ থেকে ফিরে দেখার আয়োজন। রাজারহাটের নিউটাউনে উত্তমকুমার ফিল্ম সেন্টার-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। নন্দনে সত্যজিৎ রায়ের নায়ক দিয়ে শুরু হবে উত্তমকুমারের ছবির বিশেষ উৎসব। শিশির মঞ্চে হবে নায়িকাদের চোখে উত্তমকুমার এবং অ্যাক্টিং অফ উত্তমকুমার শীর্ষক আলোচনা। রবীন্দ্রসদনে নাচ, গান ও অভিনয়ের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হবে বিশেষ সাঙ্গীতিক শ্রদ্ধার্ঘ।তবে এই জন্মশতবর্ষের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি হয়তো কোনও একটি অনুষ্ঠান নয়। বরং উত্তমকুমারের স্মৃতিকে কেন্দ্র করে বাংলা চলচ্চিত্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে ভাবার সুযোগ তৈরি হওয়া। কারণ মহানায়ককে স্মরণ করার সবচেয়ে বড় উপায় শুধু তাঁর ছবি দেখানো নয়তাঁর সময়ের বাংলা সিনেমার সৃষ্টিশীল সাহস, উৎকর্ষ এবং আত্মবিশ্বাসকে নতুন প্রজন্মের মধ্যে ফিরিয়ে আনা।একদিন যে বাংলা সিনেমা গোটা দেশের চলচ্চিত্রচর্চার অন্যতম কেন্দ্র ছিল, সেই জায়গা পুনরুদ্ধার করা সহজ নয়। প্রয়োজন ভালো গল্প, দক্ষ নির্মাতা, নতুন মুখ, আধুনিক প্রযুক্তি, পর্যাপ্ত পরিকাঠামো এবং সবচেয়ে বড় কথাএকটি সুস্থ চলচ্চিত্র-পরিবেশ। সরকারি সহায়তার প্রতিশ্রুতি সেই পথের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে।উত্তমকুমারের জন্মশতবর্ষ তাই শেষ পর্যন্ত শুধু একজন মহান অভিনেতার শতবর্ষ উদ্যাপন হয়ে থাকল না। তাঁর নামকে সামনে রেখে বাংলা চলচ্চিত্রের হারানো দিনগুলিকে ফিরে পাওয়ার একটি নতুন স্বপ্নও উচ্চারিত হল নন্দনের মঞ্চে।মহানায়ক হয়তো আর ফিরবেন না। কিন্তু তাঁর অভিনয়ের সেই সময়, বাংলা সিনেমার সেই গৌরবসেটুকু কি নতুন করে ফিরিয়ে আনা সম্ভব?উত্তমকুমারের জন্মশতবর্ষের মঞ্চ থেকে আপাতত সেই প্রশ্নের উত্তর খোঁজার অঙ্গীকারই শোনা গেল।

সেপ্টেম্বর ০৩, ২০২৬
রাজ্য

“তাঁকে দেখার পথ যে শেষ হয় না”—জন্মশতবর্ষের শুরুতেই স্মৃতির পর্দায় চিরউজ্জ্বল উত্তমকুমার

তাঁকে দেখার পথ যেন কোনওদিন শেষ হওয়ার নয়। তাঁর অভিনয় দেখেও যেন কোনওদিন আশ মেটে না। সময়ের স্রোত বদলেছে, বদলেছে সিনেমার ভাষা, বদলেছে দর্শকের রুচি ও প্রযুক্তিতবু বাঙালির হৃদয়ের পর্দায় এক নায়ক আজও একইরকম উজ্জ্বল। তিনি অরুণকুমার চট্টোপাধ্যায়বাঙালির চিরপরিচিত উত্তমকুমার। সম্ভবত বাংলা চলচ্চিত্রের প্রথম এবং শেষ ম্যাটিনি আইডল, যাঁকে ঘিরে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলচ্চিত্রের আলোচনা চলতেই থাকবে।আজ থেকে শুরু হল সেই মহানায়কের জন্মশতবর্ষের পথচলা। আগামী এক বছর জুড়ে সরকারি-বেসরকারি নানা প্রতিষ্ঠান, সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং চলচ্চিত্রপ্রেমীদের উদ্যোগে নানা অনুষ্ঠান, আলোচনা, প্রদর্শনী ও শ্রদ্ধার্ঘ্যে ফিরে ফিরে আসবেন উত্তমকুমার। তবে তাঁকে স্মরণ করার জন্য কোনও বিশেষ দিন বা শতবর্ষের প্রয়োজন হয় না। কারণ উত্তমকুমার বাঙালির কাছে শুধু একজন অভিনেতার নাম নন, তিনি এক বিস্ময়কর সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতাএকটি সময়ের নাম, একটি আবেগের নাম।এই আবেগেরই অন্যরকম প্রকাশ দেখা গেল কাঞ্চননগর দীননাথ দাস উচ্চ বিদ্যালয়ে। জন্মশতবর্ষের সূচনালগ্নে প্রাত্যহিক সমবেত সভায় ছাত্রছাত্রীদের সামনে উত্তমকুমারের শিল্পীসত্তা ও অভিনয়জীবন নিয়ে বক্তব্য রাখেন বিদ্যালয়ের শিক্ষক দীপ্তসুন্দর মুখোপাধ্যায়।তিনি মনে করিয়ে দেন, উত্তমকুমারকে শুধুমাত্র প্রেমিক নায়ক হিসেবে দেখলে তাঁর অভিনয়-প্রতিভার বিশালতাকে ছোট করে দেখা হয়। রোম্যান্টিক নায়কের পরিচিত ছকের বাইরে গিয়ে ভৃত্য, দেশপ্রেমিক, খলনায়কবিভিন্ন চরিত্রে নিজেকে ভেঙে নতুন করে নির্মাণ করেছিলেন তিনি। চরিত্রের প্রয়োজনে কখনও কোমল, কখনও কঠিন, কখনও সংবেদনশীল, কখনও তীব্রঅভিনয়ের প্রতিটি পরিসরেই তাঁর স্বচ্ছন্দ বিচরণ ছিল।দীপ্তসুন্দর মুখোপাধ্যায়ের কথায় উঠে আসে ভারতীয় নাট্যশাস্ত্রে বর্ণিত অভিনয়ের চারটি ধারার প্রসঙ্গও। তাঁর মতে, ভরত মুনির কথিত অভিনয়ের বিভিন্ন রীতিকে যেন স্বতঃস্ফূর্ত ঈশ্বরপ্রদত্ত প্রতিভায় নিজের মধ্যে ধারণ করেছিলেন উত্তমকুমার। তাঁর অভিনয় শুধু চরিত্রকে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলত না, বাংলা চলচ্চিত্রের প্রতি বাঙালির আত্মবিশ্বাসকেও আরও দৃঢ় করেছিল। তাঁর হাত ধরেই বাংলা ছবির নায়ক হয়ে উঠেছিল এক বিশেষ সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞান।অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের রাষ্ট্রপতি পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রধানশিক্ষক ড. সুভাষচন্দ্র দত্ত বলেন, একসময় দশকের পর দশক ধরে সিনেমার পর্দায় ছড়িয়ে থাকা উত্তমকুমারের নাক্ষত্রিক ব্যক্তিত্বই দর্শককে টেনে নিয়ে যেত সিনেমা হলের অন্ধকারে। সেই সময় সিনেমা দেখা মানেই ছিল উৎসব, আর উত্তমকুমার ছিলেন সেই উৎসবের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ।আজ সেই সময় অনেকটাই ইতিহাস। যে শহর ও মফস্সলের অলিগলিতে একসময় একের পর এক সিনেমা হল ছিল, তার অধিকাংশই আজ হারিয়ে গিয়েছে। হারিয়েছে সেই পোস্টার, হারিয়েছে টিকিটের জন্য দীর্ঘ লাইন, হারিয়েছে প্রজেক্টরের আলোয় পর্দা জুড়ে মহানায়কের আবির্ভাবের সেই সম্মিলিত উচ্ছ্বাস। কিন্তু হারায়নি উত্তমকুমার।বরং সিনেমা হলের অস্তিত্ব ফিকে হয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তিনি যেন আরও গভীরভাবে ঢুকে পড়েছেন বাঙালির স্মৃতিতে। এই পথ যদি না শেষ হয়শুধু একটি গানের দৃশ্য নয়, তা হয়ে উঠেছে বাঙালির রোম্যান্টিক কল্পনার এক চিরন্তন প্রতীক। তাঁর অভিনীত অসংখ্য দৃশ্য, তাঁর সংলাপ, তাঁর হাসি, তাঁর চোখের ভাষা, তাঁর চলনআজও অজান্তেই ভেসে ওঠে আমাদের স্মৃতির পর্দায়।প্রযুক্তির বদল এসেছে। সিনেমা এখন মোবাইলের পর্দায়, অ্যানিমেশন ও রিলের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে। জাতীয় শিক্ষানীতিতেও অ্যানিমেশন, রিল এবং বিভিন্ন আধুনিক মাধ্যম ব্যবহার করে শিল্প ও সংস্কৃতিকে নতুনভাবে উজ্জীবিত করার নানা সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে। ফলে উত্তমকুমারের মতো সাংস্কৃতিক আইকনকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার পথও আজ আরও বিস্তৃত।তবে মাধ্যম বদলালেও উত্তমকুমারের আবেদন বদলায়নি। কারণ তাঁর জনপ্রিয়তার ভিত্তি কোনও প্রযুক্তি নয়, কোনও নির্দিষ্ট সময়ও নয়তা মানুষের আবেগে নির্মিত।তাই জন্মশতবর্ষে উত্তমকুমারকে ফিরে দেখা মানে শুধু একজন অভিনেতাকে স্মরণ করা নয়। ফিরে দেখা বাঙালির এক হারিয়ে যাওয়া সময়কে, সিনেমা হলের সেই অন্ধকারে জ্বলে ওঠা আলোকে, পর্দায় মহানায়কের আবির্ভাবে দর্শকের উচ্ছ্বাসকে এবং ভালোবাসার সেই ভাষাকে, যা প্রজন্ম পেরিয়েও পুরনো হয় না।উত্তমকুমারের জন্মশতবর্ষ তাই নিছক এক শতবর্ষ উদ্যাপন নয়। এটি বাঙালির নিজস্ব সাংস্কৃতিক স্মৃতির এক দীর্ঘ যাত্রা।যে যাত্রার পথ আজও শেষ হয়নি।হয়তো কোনওদিন শেষও হবে না।

সেপ্টেম্বর ০৩, ২০২৬
রাজ্য

শিয়ালদা স্টেশনে ৭ ঘণ্টার ট্রাফিক ব্লক, বাতিল কিছু লোকাল ট্রেন, আগে পড়ুন এই খবর

শিয়ালদা স্টেশনে অত্যাবশ্যকীয় ট্র্যাক ও পরিকাঠামোগত কাজ সম্পন্ন করার জন্য শিয়ালদা ডিভিশনে শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর এবং রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর মধ্যবর্তী রাতে ৭ ঘণ্টার ট্রাফিক ব্লক থাকবে।এই ৪২০ মিনিটের ট্রাফিক ব্লক ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে ০০:০০ ঘণ্টা থেকে ০৭:০০ ঘণ্টা পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। এই সময় শিয়ালদা স্টেশনে DN/Main লাইনের KM 0/17L থেকে KM 0/19M-এর মধ্যে পয়েন্ট নং 208A/209B-এর সম্পূর্ণ কনভার্সন করা হবে। এর অধীনে বিদ্যমান ৫২ কেজি DSS-কে ৬০ কেজি DSS-এ রূপান্তর করা হবে। পাশাপাশি সমস্ত ফিটিংস, ক্রসিং এবং গ্লুড জয়েন্ট প্রতিস্থাপন করা হবে। প্রয়োজনীয় গ্রাউন্ড ফিটিংস, জাম্পার এবং বন্ডিং-এর ডিসকানেকশন ও রিকানেকশনও করা হবে।যাত্রীদের অসুবিধা যাতে সর্বনিম্ন রাখা যায়, সেই বিষয়টি বিবেচনা করে সপ্তাহান্তের গভীর রাত ও ভোরের সময় এই কাজ নির্ধারণ করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিরাপদভাবে কাজ সম্পন্ন করার জন্য ডিভিশনের সংশ্লিষ্ট দলগুলি সাইটে মোতায়েন থাকবে, যাতে যত দ্রুত সম্ভব স্বাভাবিক ট্রেন পরিষেবা পুনরায় চালু করা যায়।ট্রাফিক ব্লকের সময় কিছু সিগন্যালিং ও ট্রেন চলাচলও প্রভাবিত হবে। অনুমোদিত পরিকল্পনা অনুযায়ী ট্র্যাক সার্কিটে পরিবর্তন করা হবে এবং ব্লকের সময় লাইন নং ৬ ও লাইন নং ১১-এর মধ্যে উভয়মুখী সিগন্যালিং মুভমেন্ট প্রভাবিত থাকবে।পরিকাঠামোগত কাজের কারণে রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে ন্যূনতম সংখ্যক শহরতলির ট্রেন পরিষেবা বাতিল থাকবে এবং কিছু ট্রেন নির্দিষ্ট স্টেশনে শর্ট-টার্মিনেট করা হবে।*বাতিল হওয়া ট্রেন পরিষেবাগুলি হল:* শিয়ালদহাবরা: 33651, 33653 UP / 33652, 33654 DN শিয়ালদাকল্যাণী সীমান্ত: 31311 UP, 31313 UP / 31312, 31314 DN শিয়ালদাডানকুনি: 32213 UP, 32215, 32217 UP / 32214, 32216, 32218 DN শিয়ালদারানাঘাট: 31615 UP / 31620 DN শিয়ালদাহাবরা: 31213 UP / 31214 DN শিয়ালদাবারাসাত: 33431 UP / 33432 DN শিয়ালদাদত্তপুকুর: 33613 UP / 33618 DNএছাড়াও, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে 53172 DN (লালগোলাসিয়ালদহ) ট্রেনটি দমদম জংশন (DDJ)-এ শর্ট-টার্মিনেট করা হবে। পরবর্তীতে ট্রেনটির খালি রেক উপযুক্তভাবে শিয়ালদায় নিয়ে আসা হবে।এই প্রসঙ্গে শিয়ালদার ডিভিশনাল রেলওয়ে ম্যানেজার রাজীব সাক্সেনা জানান, কাজটি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য অপারেটিং, ইঞ্জিনিয়ারিং, সিগন্যালিং ও কমার্শিয়াল বিভাগের সংশ্লিষ্ট দলগুলির সঙ্গে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। যাত্রীদের পরিবর্তিত ট্রেন পরিষেবা সম্পর্কে অবহিত করার জন্য শিয়ালদা স্টেশনে নিয়মিত ঘোষণা এবং তথ্য প্রদর্শনের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।পয়েন্ট কনভার্সনের এই কাজটি ট্র্যাক ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা এবং ট্রেন চলাচলের নিরাপত্তা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোগত উন্নয়ন। এর ফলে কিছু ট্রেন পরিষেবা সাময়িকভাবে প্রভাবিত হলেও, যাত্রী নিরাপত্তার সঙ্গে কোনও আপস না করে বড় ধরনের রক্ষণাবেক্ষণ ও নবীকরণ কাজ নিরাপদে সম্পন্ন করার জন্য এই ধরনের পরিকল্পিত ট্রাফিক ব্লক অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।যাত্রীদের ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে যাত্রার আগে নিজেদের যাত্রা সেই অনুযায়ী পরিকল্পনা করার এবং সর্বশেষ ট্রেন পরিষেবা সংক্রান্ত তথ্য যাচাই করার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে। নিরাপদ, নির্ভরযোগ্য ও সুষ্ঠু ট্রেন চলাচলের বৃহত্তর স্বার্থে এই কাজ করা হচ্ছে। সাময়িক পরিবর্তনের ক্ষেত্রে যাত্রীদের সহযোগিতা করার জন্য সিয়ালদহ ডিভিশনের পক্ষ থেকে আবেদন জানানো হয়েছে।

সেপ্টেম্বর ০৩, ২০২৬
রাজ্য

সীতাভোগ-মিহিদানার শহর বর্ধমানে খাদ্য দফতরের হানা, কি খাচ্ছেন মিষ্টিরসিকরা?

মিষ্টির জন্য বিখ্যাত বর্ধমান। এই শহরের সীতাভোগ ও মিহিদানার খ্যাতি বিশ্বজুড়ে। শক্তিগড়ের ল্যাংচারও যথেষ্ট নামডাক আছে। কিন্তু কি খাচ্ছেন মিষ্টিরসিকরা? খাদ্য দফতরের অভিযানে বেরিয়ে এল বর্ধমানের মিষ্টির দোকানের কঙ্কালসার চেহারা। একের পর এক দোকান মেয়াদ উত্তীর্ণ দ্রব্যসামগ্রী রাখছে। এই তালিকায় নামীদামী দোকানও আছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশের পর রাজ্যজুড়ে খাবারের গুণমান নিয়ে নজরদারি আরও জোরদার করেছে খাদ্য সুরক্ষা দফতর। কলকাতার পাশাপাশি বিভিন্ন জেলাতেও মিষ্টির দোকান, হোটেল ও খাবারের প্রতিষ্ঠানে শুরু হয়েছে ধারাবাহিক অভিযান। সেই কর্মসূচির অংশ হিসেবেই বুধবার পূর্ব বর্ধমানের সদর শহর বর্ধমানে একাধিক নামী মিষ্টির দোকানে হানা দিলেন খাদ্য সুরক্ষা দফতরের আধিকারিকরা। অভিযানে বেশ কয়েক কেজি মেয়াদ উত্তীর্ণ পনির উদ্ধারের পাশাপাশি মেয়াদ পেরিয়ে যাওয়া আইসক্রিম ও নরম পানীয়ও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে বলে দফতর সূত্রে দাবি।সীতাভোগ-মিহিদানার জন্য পরিচিত বর্ধমান শহরে এদিনের অভিযান শুরু হয় বর্ধমান পুরসভার সামনের একটি নামী মিষ্টির দোকান থেকে। খাদ্য সুরক্ষা আধিকারিকদের সঙ্গে ছিলেন বর্ধমান থানার পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর সদস্যরা। দোকানে তল্লাশি চালানোর সময় বেশ কয়েক কেজি মেয়াদ উত্তীর্ণ পনিরের সন্ধান মেলে। উদ্ধার হওয়া ওই পনির নষ্ট করে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত পনির বিক্রি বন্ধ রাখতেও বলা হয়েছে।এরপর বি বি ঘোষ রোডের আরও একটি পরিচিত মিষ্টির দোকানে অভিযান চালানো হয়। প্রশাসন সূত্রে খবর, সেখানেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ মেয়াদ উত্তীর্ণ পনির পাওয়া যায়। শুধু মেয়াদ উত্তীর্ণ খাদ্যসামগ্রী উদ্ধারই নয়, মিষ্টি তৈরিতে ব্যবহৃত রং, মশলা, ঘি-সহ একাধিক সামগ্রীর নমুনাও সংগ্রহ করেন আধিকারিকরা। একটি দোকান থেকে ঘির নমুনা পরীক্ষার জন্য ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয়েছে। পরীক্ষার রিপোর্টে কোনও ধরনের গরমিল ধরা পড়লে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে খাদ্য সুরক্ষা দফতরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।বর্ধমান শহরের পাশাপাশি জেলার অন্যান্য এলাকাতেও চলছে এই নজরদারি। মঙ্গলবার শক্তিগড়ের ল্যাংচা হাব এবং সংলগ্ন বিভিন্ন খাবারের দোকানে অভিযান চালিয়েছিল খাদ্য সুরক্ষা দফতর। বুধবারও পূর্ব বর্ধমানের ১৯ নম্বর জাতীয় সড়কের ধারে আমড়া এলাকার একাধিক হোটেলে পরিদর্শন করেন ফুড সেফটি অফিসাররা।আমড়ার একটি হোটেল পরিদর্শনের পর ফুড সেফটি অফিসার প্রদীপ্ত মণ্ডল জানান, সেখানে কোনও অবৈধ সামগ্রী পাওয়া যায়নি। ব্যবহৃত খাদ্যসামগ্রীরও মেয়াদ শেষ হয়ে যায়নি। তবে হোটেলের ভিতরের অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিয়ে আপত্তি জানায় দফতর। হোটেল মালিককে নোটিশ দিয়ে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার সমস্যা দূর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।খাদ্য সুরক্ষা দফতরের আধিকারিকদের বক্তব্য, বর্ধমানের নামী মিষ্টির দোকান ও বিভিন্ন খাবারের প্রতিষ্ঠানের উপর সাধারণ মানুষের নির্ভরতা যথেষ্ট বেশি। ফলে ক্রেতাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে এই প্রতিষ্ঠানগুলির উপর বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে। আগামী দিনেও পূর্ব বর্ধমান জেলার বিভিন্ন মিষ্টির দোকান, হোটেল এবং খাবারের প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত অভিযান চালানো হবে বলে প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে।

সেপ্টেম্বর ০৩, ২০২৬
বিনোদুনিয়া

উত্তমের ঠোঁটে হেমন্তের কণ্ঠ—সুর আর অভিনয়ের সেই অলৌকিক রসায়ন

আজ ৩ সেপ্টেম্বর। বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে এই দিনটি শুধুই একটি তারিখ নয়। এই দিনেই জন্মেছিলেন সেই মানুষটি, যাঁকে বাঙালি আজও ভালোবেসে মহানায়ক বলে ডাকেউত্তমকুমার।রূপোলি পর্দায় তাঁর হাসি, চোখের ভাষা, সংলাপ বলার ভঙ্গি কিংবা নিছক নীরব উপস্থিতিসবকিছুই একসময় বাঙালির আবেগের অংশ হয়ে উঠেছিল। কিন্তু উত্তমকুমারের সেই পর্দার জাদুকে আরও কয়েক গুণ গভীর করে তুলেছিল একটি কণ্ঠ।সে কণ্ঠ হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের।উত্তমকুমারের ঠোঁটে হেমন্তের গানবাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত তৈরি করেছে, যেখানে দর্শকের মনে প্রশ্ন জাগত না, কে গান গাইছেন? বরং মনে হতোউত্তমই যেন গানটি গাইছেন।এটাই ছিল উত্তমকুমার ও হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের সম্পর্কের সবচেয়ে বিস্ময়কর দিক। একজন ছিলেন অভিনয়ের সম্রাট, অন্যজন কণ্ঠ ও সুরের জাদুকর। অথচ তাঁদের দুজনের কণ্ঠস্বরের মডুলেশন, উচ্চারণ, আবেগ এবং শব্দের ভেতরের নাটকীয়তার এমন আশ্চর্য মিল ছিল যে, পর্দায় হেমন্তের কণ্ঠ হয়ে উঠত উত্তমেরই আরেকটি পরিচয়।উত্তমের কণ্ঠ হয়ে উঠেছিলেন হেমন্তবাংলা সিনেমায় প্লেব্যাক গান শুধু গান নয়। পর্দার অভিনেতার চরিত্র, আবেগ, ব্যক্তিত্ব ও মানসিক অবস্থার সঙ্গে গায়ককে একাত্ম হতে হয়। উত্তমকুমারের ক্ষেত্রে এই কাজটি হেমন্ত মুখোপাধ্যায় এমনভাবে করেছিলেন যে, পরবর্তীকালে তাঁদের যুগলবন্দি বাংলা চলচ্চিত্রের নিজস্ব এক ঘরানা হয়ে দাঁড়ায়।শাপমোচন-এর গান থেকে শুরু করে হারানো সুর, ইন্দ্রাণী, মরুতীর্থ হিংলাজএকাধিক ছবিতে হেমন্তের কণ্ঠ উত্তমের পর্দার ব্যক্তিত্বের সঙ্গে এমনভাবে মিশে যায় যে, গান শেষ হওয়ার পরও দর্শকের মনে থেকে যেত উত্তমের মুখ আর হেমন্তের কণ্ঠদুটো আলাদা করে ভাবা যেত না।সুরের আকাশে তুমি যে গো শুকতারা, ঝড় উঠেছে বাউল বাতাসএই গানগুলির জনপ্রিয়তার পেছনে সুর বা কথা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনই গুরুত্বপূর্ণ ছিল উত্তমের অভিনয় এবং হেমন্তের কণ্ঠের সেই অসাধারণ সামঞ্জস্য।হেমন্তের গলায় ছিল এক ধরনের গভীরতা, বিষণ্ণতা এবং সংযত আবেগ। উত্তমের অভিনয়ের মধ্যেও ছিল ঠিক সেই সংযত আবেগের প্রকাশ। তিনি কখনও অতিরিক্ত অভিনয় করতেন না; চোখের দৃষ্টি, ঠোঁটের সামান্য নড়াচড়া কিংবা মুখের অভিব্যক্তিতেই অনেক কথা বলে দিতেন।ফলে হেমন্ত যখন গাইতেন, তাঁর কণ্ঠের আবেগকে উত্তম পর্দায় এমনভাবে ধারণ করতেন যে গানটি আর শুধু প্লেব্যাক থাকত নাতা হয়ে উঠত উত্তমের চরিত্রের অন্তরের ভাষা।প্রথম পরিচয় কি শাপমোচন-এ?উত্তমকুমার ও হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের প্রথম পরিচয় নিয়ে বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে একটি আকর্ষণীয় বিতর্ক রয়েছে।সাধারণভাবে বলা হয়, ১৯৫৫ সালে শাপমোচন ছবির সময় থেকেই তাঁদের ঘনিষ্ঠ পেশাগত সম্পর্কের সূত্রপাত। কিন্তু গবেষক সুশান্তকুমার চট্টোপাধ্যায়ের তথ্য অনুযায়ী, এর আগেই ১৯৫১ সালের সহযাত্রী ছবিতে হেমন্ত নাকি উত্তমের জন্য গান গেয়েছিলেন। তর্কের খাতিরে ১৯৫৫ সালে শাপমোচন কেই মেনে নেওয়া যায়, তাহলে সেই সিনেমার ঝড় উঠেছে বাউল বাতাস গানে যে ঝড় বাংলা সিনেমার আকাশে উঠেছে আজও তার রেশ রয়ে গেছে।সমস্যা হল, সহযাত্রী-র সমস্ত প্রিন্ট আজ আর পাওয়া যায় না। ফলে সেই তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করার সুযোগ নেই। তাই ইতিহাসের নিশ্চিত দলিল হিসেবে শাপমোচন-কেই তাঁদের সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ সূচনা হিসেবে ধরা হয়। আর সেই সূচনা যে কতটা তাৎপর্যপূর্ণ ছিল, তা পরবর্তী কয়েক দশকের বাংলা সিনেমাই প্রমাণ করেছে।সলিল-হেমন্ত এবং উত্তমএকই সময়ের তিন উত্থানএই গল্পের আরও একটি আকর্ষণীয় দিক রয়েছে। ১৯৪০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে একদিকে সলিল চৌধুরী গণনাট্য আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে মানুষের গান লিখছেন, সুর করছেন। অন্যদিকে তরুণ হেমন্ত মুখোপাধ্যায় নিজের কণ্ঠের পরিচয় তৈরি করার চেষ্টা করছেন।১৯৪৭ সালে সলিলের লেখা ও সুর করা গাঁয়ের বধূ হেমন্তের কণ্ঠে এক ঐতিহাসিক সৃষ্টি হয়ে ওঠে।অন্যদিকে একই সময় চলচ্চিত্রে নিজের জায়গা তৈরি করার জন্য সংগ্রাম করছেন অরুণকুমার চট্টোপাধ্যায়। একের পর এক ছবি ব্যর্থ হচ্ছে। তাঁকে কেউ কেউ ফ্লপ মাস্টার বলেও ঠাট্টা করছেন।কিন্তু ভাগ্য তখন অন্য গল্প লিখছিল।বসু পরিবার, সাড়ে চুয়াত্তর এবং অগ্নিপরীক্ষাপরপর তিনটি ছবির সাফল্যের পর অরুণকুমার চট্টোপাধ্যায় হয়ে উঠলেন উত্তমকুমার।অর্থাৎ, বাংলা সংস্কৃতির এক অসাধারণ যুগে প্রায় একই সময়ে নিজেদের জায়গা করে নিচ্ছিলেন সলিল চৌধুরী, হেমন্ত মুখোপাধ্যায় এবং উত্তমকুমার।শাপমোচন: যে ছবিতে তৈরি হল ইতিহাসশাপমোচন-এর সঙ্গীত পরিচালনার জন্য প্রথমে সুধীর মুখোপাধ্যায়ের পছন্দ ছিলেন শচীন দেববর্মণ। কিন্তু তাঁর অন্যান্য ব্যস্ততার কারণে শেষ পর্যন্ত সেই দায়িত্ব পান হেমন্ত মুখোপাধ্যায়। তখন হেমন্ত ছিলেন বম্বেতে। কলকাতায় ফেরার একটি সুযোগও তিনি খুঁজছিলেন। ফলে শাপমোচন শুধু একটি চলচ্চিত্রের কাজ ছিল না; এটি হয়ে উঠেছিল হেমন্তের কলকাতায় প্রত্যাবর্তনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ। আর সেই ছবিতেই তৈরি হল উত্তম-হেমন্তের সেই সুরেলা রসায়ন, যা পরবর্তী সময়ে বাংলা সিনেমার অন্যতম পরিচিত স্বাক্ষর হয়ে দাঁড়ায়। হেমন্তের কণ্ঠে উত্তমের পর্দার ব্যক্তিত্ব যেন নতুন মাত্রা পেল।আশ্চর্য মিল শুধু গানে নয়, কথার কণ্ঠেও!উত্তম-হেমন্ত সম্পর্কের সবচেয়ে চমকপ্রদ অজানা তথ্যগুলির একটি লুকিয়ে রয়েছে হারানো সুর ছবিতে। সাধারণত আমরা ভাবি, একজন অভিনেতার মুখের সঙ্গে গায়কের গলা মেলানোই প্লেব্যাকের সাফল্য। কিন্তু উত্তম ও হেমন্তের ক্ষেত্রে ব্যাপারটি আরও এক ধাপ এগিয়ে গিয়েছিল। হারানো সুর-এর একটি দৃশ্যে উত্তমের চরিত্রকে সুচিত্রা সেনের চরিত্রকে নাম ধরে ডাকতে হয়। ডাবিংয়ের সময় কোনও কারণে উত্তমকুমার উপস্থিত ছিলেন না। সেই সংলাপটি দেন হেমন্ত মুখোপাধ্যায়!ফল?দর্শকের কাছে তা আলাদা করে বোঝাই যায়নি। হেমন্তের কথা বলার গলার সঙ্গে উত্তমের কণ্ঠের এমন মিল ছিল যে, সেই সংলাপ ছবির অন্যান্য সংলাপের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবেই মিশে যায়। এ যেন প্রমাণ করেশুধু গানেই নয়, কথার মডুলেশনেও হেমন্ত ছিলেন উত্তমের এক অদ্ভুত ভয়েস ডাবল।তারে বলে দিওএক যুগের শেষের ইঙ্গিত?১৯৬১ সালে মুক্তি পাওয়া দুই ভাই ছবিতে হেমন্তের কণ্ঠে তারে বলে দিও শ্রোতাদের কাছে আজও স্মরণীয়। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়, এই সময় থেকেই ধীরে ধীরে উত্তমকুমারের প্লেব্যাকে হেমন্তের ব্যবহার কমতে শুরু করে। হেমন্ত অবশ্য উত্তমের ছবিতে সঙ্গীত পরিচালক হিসেবে কাজ করে গিয়েছেন। কিন্তু উত্তমের ঠোঁটে তাঁর কণ্ঠের সেই আগের অবাধ উপস্থিতি আর থাকল না। ক্রমশ উত্তমের কণ্ঠ হয়ে উঠলেন অন্যরাওশ্যামল মিত্র, মান্না দে প্রমুখ।তবুও উত্তমের সঙ্গে হেমন্তের কণ্ঠের যে পরিচিতি তৈরি হয়েছিল, তা এতটাই গভীর ছিল যে, অন্য গায়কের কণ্ঠ শুনলে দর্শকের একটা অংশের মনে স্বাভাবিকভাবেই তুলনা চলে আসত।সপ্তপদী, বন্ধু, নায়িকা সংবাদসুরের অন্য অধ্যায়উত্তম-হেমন্ত সম্পর্ককে শুধুমাত্র প্লেব্যাকের মধ্যে আটকে রাখলে ভুল হবে। সপ্তপদী, বন্ধু, নায়িকা সংবাদ, সাথীহারা সহ উত্তমকুমারের একাধিক ছবিতে হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গীত-অবদান ছিল গুরুত্বপূর্ণ। অর্থাৎ, হেমন্ত কখনও উত্তমের কণ্ঠ হয়ে গান গেয়েছেন, কখনও তাঁর ছবির সঙ্গীত পরিচালনা করেছেন। ফলে তাঁদের পেশাগত সম্পর্ক ছিল বহুমাত্রিক। একজন অভিনেতা হিসেবে উত্তম যেমন হেমন্তের কণ্ঠের শক্তিকে বুঝতেন, তেমনই একজন সঙ্গীত পরিচালক হিসেবে হেমন্তও বুঝতেন উত্তমের অভিনয়-ব্যক্তিত্বকে। এই বোঝাপড়াটিই তাঁদের কাজকে এত স্বাভাবিক করে তুলেছিল।মহিষাসুরমর্দিনীর বিকল্প অনুষ্ঠানেও হেমন্তের ভূমিকাউত্তম-হেমন্ত সম্পর্কের আরও একটি কম-আলোচিত ঘটনা জড়িয়ে আছে মহালয়ার সঙ্গে। বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের কণ্ঠে মহিষাসুরমর্দিনী বাঙালির মহালয়ার অবিচ্ছেদ্য অংশ। কিন্তু একসময় আকাশবাণী সেই অনুষ্ঠানের বিকল্প হিসেবে দেবী দুর্গতিহারিণী আয়োজন করেছিল। জানা যায়, উত্তমকুমার সেই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করতে প্রথমে রাজি ছিলেন না। হেমন্ত মুখোপাধ্যায় ব্যক্তিগতভাবে তাঁকে অনুরোধ ও আশ্বাস না দিলে তিনি শেষ পর্যন্ত রাজি হতেন না। পেশাগত সহযোগিতার বাইরে তাঁদের মধ্যে ব্যক্তিগত আস্থাও তৈরি হয়েছিল।তবে সব সম্পর্কেই কি শুধু মধুরতা থাকে?উত্তমকুমার ও হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের সম্পর্ক নিয়েও পরবর্তী সময়ে নানা গল্প ছড়িয়েছে। কোনও কোনও সূত্রে তাঁদের মধ্যে অভিমান, মনোমালিন্য কিংবা বচসার কথা বলা হয়েছে। একটি কাহিনিতে উত্তম ও গৌরী দেবীর বিবাহবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে বিরোধের কথা উঠে আসে। আবার আরও একটি বহুল প্রচলিত গল্পে অভিনেত্রী মৌসুমী চট্টোপাধ্যায়কে ঘিরে উত্তম ও হেমন্ত পরিবারের মধ্যে টানাপোড়েনের কথা বলা হয়।তবে এই কাহিনিগুলির নির্ভরযোগ্য ঐতিহাসিক প্রমাণ নেই। ফলে এগুলিকে নিশ্চিত ঘটনা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা ঠিক হবে না। বরং তাঁদের সম্পর্কের যে অংশটি নথিবদ্ধ এবং শিল্পের ইতিহাসে অমোচনীয়, সেটিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ব্যক্তিগত অভিমান থাকলেও তাঁদের সৃষ্টিশীল অবদান মুছে যায়নি।উত্তমের প্রয়াণহেমন্তের নীরবতার রহস্য১৯৮০ সালের ২৪ জুলাই উত্তমকুমারের আকস্মিক প্রয়াণে গোটা বাংলা যেন স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু একটি বিষয় অনেকের নজরে পড়েছিলহেমন্ত মুখোপাধ্যায় দীর্ঘদিন উত্তমের মৃত্যু নিয়ে প্রকাশ্যে বিশেষ মন্তব্য করেননি।কেন?তার উত্তর হয়তো তাঁদের সম্পর্কের গভীরতার মধ্যেই লুকিয়ে ছিল। পরবর্তী জীবনে এক সাক্ষাৎকারে হেমন্ত বলেছিলেন, উত্তম তাঁর সঙ্গে করে নিয়ে গিয়েছেন তাঁর নিজের অন্তরের একটি বিরাট অংশ। একটি সম্পর্কের গভীরতা বোঝার জন্য এর চেয়ে বড় স্বীকারোক্তি আর কী হতে পারে?একই আকাশের দুই নক্ষত্রউত্তমকুমার চলে গেলেন ১৯৮০ সালে। হেমন্ত মুখোপাধ্যায় চলে গেলেন ১৯৮৯ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর।দুজনের জীবনের শেষ অধ্যায় আলাদা হলেও বাংলা সংস্কৃতির স্মৃতিতে তাঁরা আজও পাশাপাশি দাঁড়িয়ে আছেন।উত্তমের মুখে হেমন্তের গান শুনলে আজও মনে হয় গানটি যেন হেমন্ত গাইছেন না, উত্তম নিজেই গাইছেন।আসলে এখানেই তাঁদের সম্পর্কের সাফল্য।একজনের কণ্ঠ অন্যজনের অভিনয়ের সঙ্গে এতটাই একাত্ম হয়ে গিয়েছিল যে, দর্শক গায়ককে ভুলে গিয়ে চরিত্রের অনুভূতিটাকেই অনুভব করতেন।হেমন্তের কণ্ঠে উত্তমের প্রেম, বিরহ, অভিমান, আনন্দ কিংবা বিষণ্ণতাসবই যেন আরও সত্যি হয়ে উঠত।জন্মদিনে মহানায়ককে ফিরে দেখাআজ উত্তমকুমারের জন্মদিনে তাঁকে স্মরণ করার অসংখ্য পথ রয়েছে। তাঁর অভিনীত অসংখ্য কালজয়ী ছবি আছে, আছে সুচিত্রা সেনের সঙ্গে তাঁর অমর জুটি, আছে বাংলা চলচ্চিত্রে তাঁর অভূতপূর্ব জনপ্রিয়তার ইতিহাস।কিন্তু উত্তমকে নতুন করে অনুভব করার একটি সহজ পথ এখনও আছেচোখ বন্ধ করে তাঁর ঠোঁটে হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের গান শুনুন।তখন হয়তো বোঝা যাবে, কেন কয়েক দশক পরেও উত্তম-হেমন্তের যুগলবন্দি বাঙালির স্মৃতি থেকে মুছে যায়নি।কারণ সেটি নিছক একজন অভিনেতার জন্য একজন গায়কের গান ছিল না।সেটি ছিলঅভিনয় ও সুরের মিলন।মুখ ও কণ্ঠের মিলন।তারকা ও গায়কের মিলন।আর শেষ পর্যন্তদুই মহান শিল্পীর এক আত্মিক সংলাপ।উত্তমকুমারের জন্মদিনে তাই তাঁকে শ্রদ্ধা জানানোর পাশাপাশি মনে পড়ে যায় হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের সেই কণ্ঠও।যে কণ্ঠ একসময় উত্তমের ঠোঁটে প্রাণ পেয়েছিল।আর সেই কারণেই বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে আজও একটি কথা সত্যি হয়ে আছেউত্তমের মুখে হেমন্তের গানএ যেন উত্তমকুমারেরই আর-একটি কণ্ঠ।জীবন খাতার প্রতি পাতায়যতই লেখো হিসাব নিকাশকিছুই রবে নালুকোচুরির এই যে খেলায়প্রাণের যত দেয়া নেয়াপূর্ণ হবে না।পাতার পর পাতা ফুরিয়ে যায়, শব্দের পর শব্দ নিঃশেষ হয়ে আসেতবু উত্তম-হেমন্তের সেই অনন্য রসায়নকে সম্পূর্ণ লিপিবদ্ধ করা বোধহয় অসম্ভব।কারণ তাঁদের সম্পর্ক শুধু পর্দায় গাওয়া কিছু গানের সমীকরণ ছিল না; ছিল কণ্ঠ আর অভিনয়ের এক আশ্চর্য মেলবন্ধন। উত্তম কুমারের ঠোঁটে যখন হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের কণ্ঠ ভেসে উঠত, মনে হতোএকজন অভিনয় করছেন, আর অন্যজন তাঁর মনের কথাগুলো গেয়ে চলেছেন। যেন দুটি মানুষ নন, একই অনুভূতির দুই ভিন্ন প্রকাশ।তাঁদের গান লেখা যায়, গান গাওয়ার ইতিহাস বলা যায়, সিনেমার দৃশ্যের কথা বলা যায়কিন্তু সেই অনুভূতিটুকু ভাষায় ধরা যায় না।উত্তম-হেমন্তকে তাই ব্যাখ্যা করা যায় নাশুধু অনুভব করা যায়।কোনও এক নিঃশব্দ সন্ধ্যায় পুরনো রেকর্ডে - এই পথ যদি না শেষ হয়..., আর চোখের সামনে ভেসে উঠলে উত্তমকুমারের সেই চিরচেনা মুখতখনই বোঝা যায়, কিছু রসায়ন ইতিহাসের পাতায় লেখা থাকে না।তারা থেকে যায় মানুষের হৃদয়েসুরে, স্মৃতিতে, আর এক অমলিন ভালোবাসায়। উত্তম-হেমন্তের পথ শেষ হইয়াও শেষ হয় না।।

সেপ্টেম্বর ০৩, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal