• ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩, রবিবার ০৪ অক্টোবর ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

Celebration,

রাজ্য

শিক্ষক-ছাত্রের বন্ধনে উদ্‌যাপিত শিক্ষক দিবস কাঞ্চননগর দীননাথ দাস উচ্চ বিদ্যালয়ে

যথাযথ মর্যাদা, আবেগ ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে আজ শিক্ষক দিবস পালিত হল কাঞ্চননগর দীননাথ দাস উচ্চ বিদ্যালয়ে। অনুষ্ঠানের বিশেষ আকর্ষণ ছিলএকাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির পড়ুয়াদের সক্রিয় পরিচালনায় শিক্ষক দিবসের সম্পূর্ণ আয়োজন।দিনের শুরুতেই সমবেত প্রার্থনাসভার ঘণ্টা বাজানো থেকে শুরু করে বিদ্যালয়ের বিভিন্ন শ্রেণিতে প্রথম পিরিয়ডের পাঠদানসব দায়িত্বই দক্ষতার সঙ্গে সামলান পড়ুয়ারা। শিক্ষকতার দায়িত্ব এক দিনের জন্য নিজেদের কাঁধে তুলে নিয়ে তাঁরা উপলব্ধি করেন শিক্ষকতার ভূমিকা ও দায়িত্বের গভীরতা।এরপর সরকারি নির্দেশিত কেমন হবে আমার বিদ্যালয় শীর্ষক প্রবন্ধ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। পঞ্চম থেকে নবম এবং নবম থেকে দ্বাদশএই দুই বিভাগে প্রতিযোগিতা হয়। প্রতিটি বিভাগে সেরা প্রতিযোগীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।পরবর্তী পর্বে শুরু হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সায়ন্তিকা, হেমা, শ্রেয়া, জয়ন্তিকাদের নৃত্য, সঙ্গীত ও আবৃত্তিতে মুখর হয়ে ওঠে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ। অনুষ্ঠানে ড. সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণনের জীবন ও কর্ম নিয়ে বক্তব্য রাখে দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র সুরজ কুরি।বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষক কমল সাহা তাঁর বক্তব্যে শিক্ষকতার সঙ্গে জীবনের গভীর সম্পর্কের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, শিক্ষকতা আমাদের জীবনেরই অঙ্গ। ছাত্রজীবন থেকেই আমাদের পথচলা শুরু হয়, আর শিক্ষকতার মধ্য দিয়ে জীবনের সৌরভ অনুভব করা যায়। একসময় উপলব্ধি হয়, ছাত্র থাকা আসলে চিরকালেরকারণ জীবনের প্রতিটি মুহূর্তেই আমাদের কিছু না কিছু শিখতে হয়। বক্তব্যের পর তাঁর কণ্ঠে রানার গানটি অনুষ্ঠানে ভিন্ন মাত্রা যোগ করে।শিক্ষক বাসুদেব মণ্ডল শিক্ষক-ছাত্রের সম্পর্ক ও পারস্পরিক বন্ধন আরও দৃঢ় করার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বিশেষ করে আজকের দিনে আমাদের নিজেদের মানসিকতাকে আরও একবার ফিরে দেখা প্রয়োজন। তাঁর কথায়, মন আসলে একটি কল্পতরু। মনের কাছে যা চাইবে, তাই পাবে। তাই তোমাদের ঠিকভাবে চাইতে শেখা দরকার।এরপর দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী মৌসুমি ও বর্ষা বিদ্যালয় জীবনের নানা স্মৃতি ও অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে আবেগঘন করে তোলে অনুষ্ঠানের পরিবেশ।অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে বক্তব্য রাখেন জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রধানশিক্ষক ড. সুভাষচন্দ্র দত্ত। তিনি বলেন, অন্য কোনও প্রাণী প্রজাতির মধ্যে শিক্ষক দেখা যায় নাএই বৈশিষ্ট্য একমাত্র মানুষের মধ্যেই রয়েছে। একদিকে এই বৈশিষ্ট্য সভ্যতার অগ্রগতিতে মানুষের মুখ্য ভূমিকা নির্ধারণ করে, অন্যদিকে মানুষের উপর এক বিরাট দায়িত্বও অর্পণ করে।তিনি আরও বলেন, আমরা বর্তমানে যা কিছু করি, তার প্রতিটিই ভবিষ্যৎ সময়ের ভিত্তি তৈরি করে। তাই আমাদের সবসময় সতর্ক থাকতে হবে, যাতে আগামী প্রজন্ম জীবনের সঠিক পথ চিনতে পারে এবং সেই পথ ধরে এগিয়ে যেতে পারে।শিক্ষক দিবসের এই আয়োজন তাই শুধুমাত্র শ্রদ্ধা নিবেদনের আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ থাকেনি; শিক্ষক ও ছাত্রের পারস্পরিক ভালোবাসা, দায়িত্ববোধ এবং আগামী দিনের স্বপ্নকে একসূত্রে বেঁধে দিয়েছে।

সেপ্টেম্বর ০৫, ২০২৬
রাজ্য

শতবর্ষের ঐতিহ্যে দেশপ্রেমের আবহ, দীননাথ দাস বিদ্যালয়ে স্বাধীনতা দিবস উদযাপন

স্বাধীনতার ৮০ বছর পূর্তিতে দেশপ্রেম ও ঐতিহ্যের আবহে স্বাধীনতা দিবস উদযাপিত হল কাঞ্চননগর দীননাথ দাস উচ্চ বিদ্যালয়ে। শতবর্ষ প্রাচীন এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন প্রধানশিক্ষক ড. সুভাষচন্দ্র দত্ত। পতাকা উত্তোলনের পর বক্তব্যে তিনি স্বাধীনতা সংগ্রামীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, তাঁদের আত্মত্যাগের ফলেই আজ ভারত বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। দেশের প্রতি দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনের অঙ্গীকারই হোক স্বাধীনতা দিবসের মূল বার্তাএমনই আহ্বান জানান তিনি।বিদ্যালয়ের বরিষ্ঠ শিক্ষক দীপ্ত সুন্দর মুখোপাধ্যায় বলেন, বিবিধের মাঝে মিলন মহানএই আদর্শকে সামনে রেখে দেশভাগ ও পরাধীনতার গ্লানি পেরিয়ে স্বাধীনতার প্রকৃত মর্যাদা রক্ষা করতে হবে। ঐক্য, সম্প্রীতি ও দেশাত্মবোধের চেতনাকে আরও শক্তিশালী করার বার্তাও উঠে আসে তাঁর বক্তব্যে।অনুষ্ঠানের সূচনায় বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা, শিক্ষাকর্মী ও ছাত্রছাত্রীদের অংশগ্রহণে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা কাঞ্চননগর উদয়পল্লীর বিভিন্ন পথ পরিক্রমা করে। ত্রিবর্ণ পতাকা হাতে শোভাযাত্রায় স্বাধীনতা সংগ্রামী ও মনীষীদের বাণী, দেশাত্মবোধক গান, আবৃত্তি ও পাঠের মাধ্যমে স্বাধীনতার ইতিহাস ও চেতনাকে তুলে ধরা হয়। শিক্ষক বাসুদেব মণ্ডলের পরিচালনায় শোভাযাত্রাটি হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত ও আকর্ষণীয়।স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে বিদ্যালয়ে আয়োজিত হয় অঙ্কন, প্রবন্ধরচনা, কুইজ, নৃত্য ও সঙ্গীত-সহ একাধিক সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা। শিক্ষিকা সুনীতা সাহার ব্যবস্থাপনা এবং দীপ্ত সুন্দর মুখোপাধ্যায়ের পরিচালনায় প্রতিযোগিতাগুলিতে উৎসাহের সঙ্গে অংশ নেয় ছাত্রছাত্রীরা। কুইজে প্রথম স্থানাধিকারী দলের সদস্য সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী শ্রাবণী ভট্টাচার্য জানায়, পড়াশোনার পাশাপাশি বিভিন্ন শিক্ষামূলক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের সুযোগ থাকায় বিদ্যালয়টি তাদের কাছে অত্যন্ত প্রিয়।এদিন নবম শ্রেণির ছাত্রীদের উদ্যোগে স্বাধীনতা দিবস ২০২৬ উপলক্ষে প্রকাশিত হয় দেওয়াল পত্রিকা স্পন্দন-এর বিশেষ রঙিন সংখ্যা। পাশাপাশি বিদ্যালয়ের শিশু সংসদের প্রধানমন্ত্রী, অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী সায়ন্তিকা কর্মকারের নেতৃত্বে মন্ত্রী ও সহকারীরা অনুষ্ঠানের বিভিন্ন দায়িত্ব দক্ষতার সঙ্গে সামলায়।পরিবেশ সচেতনতার বার্তাও উঠে আসে অনুষ্ঠানে। সবুজ ভলেন্টিয়ারদের সঙ্গে নিয়ে ইকো ক্লাবের উদ্যোগে জাম গাছ রোপণ করা হয়। বৃক্ষরোপণের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।শেষপর্বে শিক্ষাকর্মী প্রদীপ বিশ্বাসের দায়িত্বে এবং তরুণ দাসের নেতৃত্বে উপস্থিত সকলের মধ্যে লুচি, মিষ্টি-সহ নানা খাবার বিতরণ করা হয়। স্বাধীনতার ইতিহাস, দেশপ্রেম, সাংস্কৃতিক চেতনা ও পরিবেশ রক্ষার বার্তাকে একসূত্রে বেঁধে দীননাথ দাস বিদ্যালয়ের স্বাধীনতা দিবস উদযাপন হয়ে ওঠে স্মরণীয়।

আগস্ট ১৫, ২০২৬
রাজ্য

গাজোল মহাবিদ্যালয়ে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস পালন, মানবিক মূল্যবোধ রক্ষা করার আহ্বান

গাজোল মহাবিদ্যালয়ে পালিত হল আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস। মালদার এই মহাবিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত অধ্যাপক-অধ্যাপিকা-শিক্ষার্থী ও আমন্ত্রিত অতিথিদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি অত্যন্ত প্রানবন্ত হয়ে ওঠে।অনুষ্ঠানের শুরুতে অতিথিদের স্বাগত জানান গাজোল মহাবিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষকবৃন্দ। এই অনুষ্ঠানের আয়োজক কমিটির কনভেনার রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপিকা ডঃ অপর্ণা দেবনাথ মানবাধিকারের সার্বজনীনতা, সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় নাগরিকদের ভূমিকা এবং তরুণ প্রজন্মের দায়িত্ব সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত পরিচয় তুলে ধরে অনুষ্ঠানের সূচনা করেন। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন গাজোল মহাবিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ডঃ নিরঙ্কুশ চক্রবর্তী এবং বিভিন্ন বিভাগের বিভাগীয় অধ্যাপক, অধ্যাপিকাগণ।এই অনুষ্ঠানে বিশেষ বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাজোল ব্লকের ব্লক ডেভেলপমেন্ট অফিসার (বিডিও) বিপ্লব কুমার বিশ্বাস (WBCS-Exe.), গাজোল থানার ইনস্পেক্টর-ইন-চার্জ অশিষ কুণ্ডু এবং ইংলিশ বাজার পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান সুমালা আগরওয়ালা।সুমালা আগরওয়ালা সমাজের উন্নয়নে মানবাধিকারের ভূমিকা ব্যাখ্যা করে বলেন, মানবাধিকার সচেতনতা সমাজে সমতা, সহমর্মিতা ও মানবিকতা গড়ে তোলার অন্যতম প্রধান চাবিকাঠি। বিভিন্ন দৃষ্টান্তের মাধ্যমে তিনি তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে এসে এই মূল্যবোধ সমাজে ছড়িয়ে দিতে বলেন। বিডিও বিপ্লব কুমার বিশ্বাস বলেন, মানবাধিকার কেবল একটি নথিভুক্ত অধিকার নয়, এটি মানুষের মর্যাদা বাঁচিয়ে রাখার একটি অবিচ্ছেদ্য শর্ত। সমাজের প্রতিটি স্তরে মানবিক মূল্যবোধ রক্ষা করাই আজকের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত। তিনি সরকারি বিভিন্ন কল্যাণ প্রকল্পে মানবাধিকারের প্রতিফলন কীভাবে ঘটে, সে বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা করেন।অনুষ্ঠানের শেষে শিক্ষকদের পাশাপাশি কয়েকজন শিক্ষার্থীও মানবাধিকার বিষয়ে তাদের মতামত তুলে ধরেন। আমন্ত্রিত অতিথিদের সম্মাননা স্মারক প্রদান করেন রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান মহম্মদআকিদুল হক, ডঃ সুপার্থ ঘোষ, ডঃ অমিত প্রসাদ, সহ আয়োজক কমিটি। রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সৌজন্যে আয়োজিত এই অনুষ্ঠান শিক্ষার্থীদের মধ্যে মানবাধিকার সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করার পাশাপাশি সমাজকে আরও মানবিক ও ন্যায়সম্মত করে তোলার সংকল্প গ্রহণ করা হয়।

ডিসেম্বর ১১, ২০২৫
রাজ্য

দীঘায় জনজোয়ার! জানেন তো জগন্নাথ মন্দিরের বাড়তি আকর্ষণ সম্পর্কে?

টানা তিনদিনের ছুটি (১৫ আগস্ট স্বাধীনতা দিবস, ১৬ আগস্ট জন্মাষ্টমী, ১৭ আগস্ট রবিবার) ঘিরে দিঘায় পর্যটকের ভিড় বাড়ছে। এই প্রথমবার দিঘার জগন্নাথ ধামে হবে জন্মাষ্টমী উদযাপন। সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত চলবে মঙ্গল আরতি, কীর্তন, ধর্মীয় আলোচনা ও প্রসাদ বিতরণ। সাধারণত রাত ৯টায় বন্ধ হওয়া মন্দির এদিন খোলা থাকবে রাত সাড়ে ১২টা পর্যন্ত। হোটেল বুকিং প্রায় সম্পূর্ণ, নিরাপত্তা ও পরিষেবা নিশ্চিত করতে নেওয়া হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা। ভক্তদের জন্য কলস অভিষেকের আয়োজনও থাকছে।দিঘা জগন্নাথ ধামের ট্রাস্টি বোর্ডের অন্যতম কর্মকর্তা তথা কলকাতা ইসকনের ভাইস প্রেসিডেন্ট রাধারমণ দাস বলেন, প্রথমবার দিঘা জগন্নাথ ধামে জন্মাষ্টমী উদযাপন হবে। সকাল থেকে শুরু হবে মঙ্গল আরতি ও কীর্তন। দুপুরে প্রসাদ বিতরণ হবে, দিনভর থাকবে কীর্তন ও ধর্মীয় আলোচনা। রাত বারোটা হবে শ্রীকৃষ্ণ জন্মোৎসব পূজা, যেখানে হাজারো ভক্ত একসঙ্গে প্রার্থনায় অংশ নেবেন। দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মন্দির প্রাঙ্গণে পুলিশ টহল ও স্বেচ্ছাসেবক দল নিয়োজিত থাকবে।

আগস্ট ১৫, ২০২৫
খেলার দুনিয়া

খেলার ফাঁকে দিদার হাতের খিচুড়ি-পাঁপড়! বেহালা ফ্রেন্ডসের অনুষ্ঠানে সৌরভের অজানা অধ্যায়

খিচুড়ি-পাঁপড় থেকে ফাইভ স্টারের খাবার। বাংলার ক্রিকেটের উত্তরণকে এভাবেই তুলে ধরলেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। এক অজানা গল্পের মধ্যে দিয়ে। আলিপুরের ধনধান্য অডিটোরিয়ামে, বেহালা ফ্রেন্ডসের ৮৫ বছর পূর্তি উদযাপন অনুষ্ঠানে।সৌরভ বলেন, কলকাতায় রিকশ দেখা যায় ব্রহ্ম সমাজ রোডে। আমার দাদুর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল বেহালা ফ্রেন্ডসের কর্তাদের সঙ্গে। ছোটবেলায় গরমের ছুটিতে মামার বাড়ি যেতাম। দেখতাম আমার দিদা নিজের হাতে বড়িশা স্পোর্টিং আর বেহালা ফ্রেন্ডসের ক্রিকেটারদের জন্য রান্না করে পাঠাতেন। আমি যখন বড়িশায় খেলি তখনও দিদা রিকশ করে ডেচকিতে খিচুড়ি, পাঁপড় পাঠাতেন। আর এখন দেখি ইডেনে সিক্স বালিগঞ্জ প্লেস, বিজলি গ্রিলের খাবার ক্রিকেটারদের জন্য।বেহালা ফ্রেন্ডসের শীর্ষকর্তা তথা সিএবির অবজারভার কমিটির চেয়ারম্যান শ্রীমন্ত কুমার মল্লিকের প্রশংসা করে সৌরভ বলেন, বেহালা মানেই ফ্রেন্ডস! শ্রীমন্তদা আমার পাড়ার মানুষ, আমরা ভালো বন্ধু। ওঁর জন্যেই আজ এই ক্লাব এই জায়গায় পৌঁছেছে। দ্বিতীয় ডিভিশন চ্যাম্পিয়নশিপ ফাইনাল খেলেছে। আরও এগিয়ে চলুক।সৌরভের জন্মদিন ছিল মঙ্গলবার। তবে বুধবারেও এই অনুষ্ঠানে সৌরভকে জন্মদিনের কেক কাটতে হলো। শ্রীমন্ত কুমার মল্লিক মহারাজকে কেক খাওয়ালেন, তাঁকে জড়িয়ে ধরলেন সৌরভ। এদিন ক্রিকেটারদের সংবর্ধিত করল বেহালা ফ্রেন্ডস। ছিল মনোময় ভট্টাচার্যের মনোজ্ঞ সংগীতানুষ্ঠান। উপস্থিত ছিলেন সিএবি সভাপতি স্নেহাশিস গঙ্গোপাধ্যায়, বিধায়ক দেবাশিস কুমার, সিএবির ট্যুর ও ফিক্সচার ও টেকনিক্যাল কমিটির চেয়ারম্যান সঞ্জয় দাস, আম্পায়ার কমিটির চেয়ারম্যান প্রসেনজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ সিএবির প্রাক্তন ও বর্তমান একাধিক পদাধিকারী।

জুলাই ০৯, ২০২৫
রাজ্য

রং তোলার ভয়ে যারা দোল খেলেন না তাদের জন্য, দোলের রং তোলার সহজ উপায়

নানারকম দোলের রং মেখে সারা মুখে এক কিম্ভুতকিমাকার দশা। স্নানের সময় বার বার সাবান দিয়ে ধুয়েও কোনও ভাবে যাচ্ছেই না, বেশী ত্বক ঘসার জন্য ত্বকে জ্বালা, অফিস যেতে সমস্যা। না! রং তোলা মোটেই খুব কঠিন বিষয় নয়। আমাদের হাতের কাছেই থাকা কয়েকটা উপাদান দিয়ে অতি সহজেই ত্বকের রং তুলে ফেলা যায়। কিন্তু এগুলির অনেকই আবার ত্বকের জন্য ততটা নিরাপদ নয়। তা হলে? দেখে নেওয়া যাক, রং তোলার কিছু সহজ প্রক্রিয়া, যারা ক্ষতি তো করবেই না, বরং এগুলিতে উপকার হবে ত্বকের।পাতিলেবুঃ একটু হালকা রং তোলার জন্য পাতিলেবুর বিকল্প নেই। লেবু, মধু, জলপাই তেল আর হলুদ আছে এমন ফেস প্যাক ব্যবহার করে রং তুললে ত্বকের স্বাভাবিক ঔজ্জ্বল্য ফিরে আসে। ত্বকের নমনীয়তাও বাড়ে। এছাড়া পাতিলেবুর রস তুলো দিয়ে ত্বকে বুলিয়ে নিয়ে ৩-৪ মিনিট রেখে জলে ধুয়ে নিয়ে রঙের প্রলেপ অনেকটা হালকা হয়।ডিমঃ রং খেলার নাম করে মাথায় ডিম ফাটানোর রেওয়াজ আজকের নয়। অনেকেরই দাবি, এতে চুলের উপকার হয়। কথাটা খুব একটা ভুলও নয়। চুলের এবং মাথার ত্বকের রং তুলতে ডিমের হলুদ অংশ খুবই পারদর্শী। ডিমের হলুদ অংশ রং লাগা জায়গাগুলিতে মাখিয়ে রেখে, পরে তা হালকা শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে তুলে ফেললেই হল। রং পরিষ্কার।বিয়ারঃ পানীয় হিসেবে দোলের দিনে এটি অনেকেরই পছন্দ। কিন্তু শুধুমাত্র পানীয় হিসেবে নয়, এটিকে রং তোলার ক্ষেত্রেও ব্যবহার করা যেতে পারে। চুলের রং আর মুখের রং তুলতে বিয়ার ব্যবহার করা যেতেই পারে। এতে চুলের এবং ত্বকের উভয়েরই উপকার হয়। শুধু বিয়ার দিয়ে রং সাফ করার আগে, এক বোতল এই পানীয়ের সঙ্গে এক চামচ পাতি লেবুর রস মিশিয়ে নিতে পারলে ভাল হয়।হোলির বা দোলের রং সহজে তুলতে অলিভ অয়েল অতি উপকারী উপাদান। যারা আলিভ অয়েল যগার করতে পারবেন না তারা অলিভের পরিবর্তে নারকেল তেল ও ব্যবহার করতে পারেন। রং খেলার আগে তেল মেখে নিলে রং সহজে উঠে যায় এবং ত্বকের ক্ষতিও হয় না।এখানে রং খেলার পর সেটি তোলার জন্য অলিভ অয়েল ব্যবহারের কিছু উপায় দেওয়া হলোঃরং খেলার আগেরং খেলার আগে ভালো করে অলিভ অয়েল বা নারকেল তেল হাতে, পায়ে, এবং মুখে লাগিয়ে নিন। রং খেলার পরঃরং খেলার পর সাবান বা ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ ধোয়ার আগে, অলিভ অয়েল দিয়ে ভালো করে ম্যাসাজ করুন। ত্বকের জন্য প্যাকঃরং তোলার জন্য দই, বেসন, হলুদ গুঁড়ো, অলিভ অয়েল এবং লেবুর রস মিশিয়ে প্যাক তৈরি করে লাগাতে পারেন।চুলের জন্যঃচুলের রং তুলতে ডিমের সাদা অংশ বা নারকেলের দুধ ব্যবহার করতে পারেন।ত্বকের যত্নঃরং তোলার পর ত্বককে ময়েশ্চারাইজ করতে ভুলবেন না।বিঃদ্রঃ ত্বকে এই উপাদানের কোনও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকলে এই ধরনের উপকরণ ব্যবহারের করবেন না।

মার্চ ১৫, ২০২৫
রাজ্য

সল্টলেকের EZCC তে পালিত হল বঙ্গনারী শক্তি।

সল্টলেকের EZCC তে পালিত হল বঙ্গনারী শক্তি। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিজেপির মহিলা মোর্চার রাজ্য সভা নেত্রী ফাল্গুনী পাত্র। নারী নিজেই একজন শক্তি। আমরা পিছনে তাকালে দেখতে পাই বিভিন্ন নারীদের কথা যারা সমাজ পরিবর্তন করেছে। পশ্চিমবঙ্গে নারীরা শক্তি হলেও সেই শক্তিকে ভেঙে দেয়া হচ্ছে। তাদের সম্মানকে ভুলন্ঠিত করা হচ্ছে। সেই জন্য আমরা সেলফ ডিপেন্স এর উপর জোর দিচ্ছে। যে সমাজ নারীদেরকে ভুলোনিত করার চেষ্টা করছে তাদের আমরা আইডেন্টিফাই করছি। আমরা আগামী দিনে আরো বৃহত্তর আন্দোলনের দিকে পা বাড়াবো। নারীদের যেভাবে সুরক্ষা থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে তার জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি অনেক রকমের আইনি ব্যবস্থা নিয়েছে

মার্চ ০৮, ২০২৫
উৎসব

বেঙ্গল প্রেস ক্লাবের রাখীবন্ধন উৎসব, ব্যাপক সাড়া বর্ধমানে

রাখীবন্ধন উৎসব পালন করল বেঙ্গল প্রেস ক্লাব। সোমবার বর্ধমানের বিজয় তোরণের সামনে এই অনুষ্ঠান হয়। এদিন কার্জনগেট চত্বরে বেঙ্গল প্রেস ক্লাবের পক্ষে রাখী পড়ানো হয় বর্ধমান দক্ষিণের বিধায়ক খোকন দাসকে। পাশাপাশি পথচলতি জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সকল সাধারণ মানুষের হাতে রাখী পড়িয়ে মিষ্টিমুখ করানো হয়। এই উৎসবে বর্ধমান শহরে ব্যাপক সাড়া পড়ে। বুধবার সকাল ৮টা থেকেই উৎসবের শুরু হয়ে যায়। বেঙ্গল প্রেস ক্লাবের সভাপতি বিজয়প্রকাশ দাস ও সাধারণ সম্পাদক সৌগত সাঁই বলেন, রাখীবন্ধন সামাজিক বন্ধনের অঙ্গীকার। এই উৎসব জাতপাত, ধর্ম বর্ণ, প্রাদেশিকতা সব কিছুর উর্দ্ধে। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রাখীবন্ধন উৎসবকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিলেন। মানুষে মানুষে ভেদাভেদ নয়। চাই ঐক্য। এই অনুষ্ঠানে বেঙ্গল প্রেস ক্লাবের পরিবারের সদস্যরাও অংশ নেন।

আগস্ট ১৯, ২০২৪
কলকাতা

লেকটাউন যেন মিনি পার্কস্ট্রিট, সৌজন্যে দমকল মন্ত্রী সুজিত বসু

বড়দিন লেকটাউন পরিণত হয় মিনি পার্কস্ট্রিটে। রীতিমতো টেক্কা দিচ্ছে পার্ক স্ট্রিটকে। রাজ্যের দমকল মন্ত্রী সুজিত বসুর তত্ত্বাবধানে শ্রীভূমি স্পোটিং ক্লাবের ব্যবস্থাপনায় লেকটাউন পরিণত হল মিনি পার্কস্ট্রিটে। বছরের শেষ কটা দিন আনন্দ উৎসবে মেতে ওঠে শহরবাসী। পার্কস্ট্রিটে অ্যালেন পার্কে ভিড় জমান লক্ষ লক্ষ মানুষ। সেই ভিড় এবার লেকটাউন শ্রীভূমিতে।গত কয়েক বছর ধরে লেকটাউনে শুরু হয়েছে পৌষ পার্বন উৎসব। সেই উৎসব রবিবার সন্ধ্যায় উন্মোচন হল সুজিত বসুর হাত ধরে। এদিন এক বর্ণাঢ্য শোভা যাত্রার মাধ্যমে উৎসবের সূচনা করেন মন্ত্রী। শোভাযাত্রায় সান্তা ক্লজ থেকে শুরু করে বাঙালিদের পিঠেপুলি সবই সামিল। এক কথায় বড়দিনের প্রাক্কালে আলোয় সেজে উঠেছে শ্রীভূমি।

ডিসেম্বর ২৫, ২০২৩
রাজ্য

ঈশ্বরচন্দ্রর দেখানো পথে বাল্য বিবাহ রোধে শপথ নিল মুখ্যমন্ত্রীর মামার বাড়ির স্কুল

বাল্য বিবাহ সামাজিক অভিশাপ। এই সামাজিক অভিশাপ দূর করতে অক্লান্ত পরিশ্রম করে গিয়েছেন বাঙালি শিক্ষাবিদ, সমাজ সংস্কারক ও গদ্যকার ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগার। মঙ্গলবার তাঁর ২০৪ তম জন্মজয়ন্তীতে তাঁরাই দেখানো পথে ফের একবার বাল্য বিবাহ রুখতে শপথ নিল স্কুলের পড়ুয়ারা। অভিনব এই অনুষ্ঠানটি হয়ে গেল বীরভূমের রামপুরহাট থানার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মামার বাড়ি কুসুম্বা গ্রামের কুসুম্বা উচ্চ বিদ্যালয়ে।কেন্দ্র থাকে রাজ্য সরকার বাল্য বিবাহ রোধে লাগাতার প্রচার করে চলেছে। বাল্য বিবাহের খবর পেলে প্রশাসন ঘটনাস্থলে গিয়ে সদর্থক পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। কিন্তু যে বয়সের মেয়েদের এই প্রবনতা দেখা দিচ্ছে সেই বয়সের মেয়েদেরই এবার বাল্য বিবাহ না করার শপথ গ্রহণ করালেন কুসুম্বা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সন্দীপ কুমার মণ্ডল। সেই সঙ্গে বাড়ি ফিরে বাল্যবিবাহ রোধে তাদের পথে নামার পরামর্শও দেওয়া হলশুরুটা হয়েছিল গতবছর থেকে। গ্রাম্য এলাকায় কম বয়সী-ছেলে মেয়েদের বিয়ে হয়ে যাওয়ার ঘটনা প্রায়ই দেখা যায়। সেইসব দেখে বাল্য বিবাহ রুখতে উদ্যোগ গ্রহন করেন কুসুম্বা হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক সন্দীপ কুমার মণ্ডল। গতবছর ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের জন্মজয়ন্তী অনুষ্ঠানে প্রথম বাল্য বিবাহ প্রতিরোধ করতে স্কুলের পড়ুয়াদের শপথবাক্য পাঠ করার আবেদন জানান। তাঁর আবেদনে সাড়া দিয়ে এগিয়ে আসে স্কুলের পড়ুয়া থেকে সহকর্মীরা।মঙ্গলবার ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ২০৪ তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে কুসুম্বা হাইস্কুলে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। অনুষ্ঠানে বিদ্যাসাগরের একটি আবক্ষ মূর্তি প্রতিষ্ঠা করা হয় স্কুলের বাইরে। এদিন সেই মূর্তির উন্মোচন করেন রামপুরহাট বিধায়ক, ডেপুটি স্পিকার আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়। উদ্বোধনের পরেই বাল্য বিবাহ প্রতিরোধ করতে স্কুলের পড়ুয়াদের শপথ গ্রহন করালেন প্রধান শিক্ষক সন্দীপ মণ্ডল। অনুষ্ঠান মঞ্চে দাঁড়িয়ে তিনি শপথ বাক্য পাঠ করান। তাঁর সুরে সুর মিলিয়ে শপথ নিলেন স্কুলের ছাত্র ও ছাত্রীরা। একই অনুষ্ঠানে বাল্য বিবাহ প্রতিরোধের পাশাপাশি স্কুলের ছাত্রদের মাদক দ্রব্য সেবন থেকে বিরত থাকারও শপথ বাক্য পাঠ করালেন বীরভূম জেলা স্কুল পরিদর্শক চন্দ্রশেখর জাউলিয়া। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্য মাধ্যমিক শিক্ষার অ্যাডহক কমিটির সদস্য প্রীতম হালদার, জাতীয় পুরস্কার প্রাপ্ত শিক্ষক নিখিল কুমার সিনহা, এ আই অফ স্কুল গোলাম কিবরিয়া প্রমুখ।সন্দীপবাবু বলেন, গ্রাম বাংলায় অল্প বয়সে মেয়েদের বিয়ে দেওয়ার রেওয়াজ রয়েছে। সেই ধারাবাহিকতা ভাঙতেই আমাদের এই পদক্ষেপ। শুধু শপথবাক্য পাঠ করাই নয়, নিয়মিত ছাত্রীদের বিষয়ে খোঁজ খবর করি আমরা। সেই সঙ্গে সারা রাজ্যে বাল্য বিবাহ রোধের বার্তা পৌঁছে দিতেই আমাদের এই উদ্যোগ।এই উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন জেলা অবর বিদ্যালয় পরিদর্শক চন্দ্রশেখর জাউলিয়া। তিনি বলেন, মাধ্যমিক স্তর থেকে এই বার্তা ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে পৌঁছে দিতে পারলে বাল্য বিবাহ অনেকাংশে কমবে। কুসুম্বা উচ্চ বিদ্যালয় ভালো উদ্যোগ নিয়েছে।

সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৩
শিক্ষা

প্রতিটা দিনই 'শিক্ষক দিবস'; শিক্ষক দিবসে এই বার্তা-ই দিল বর্ধমানের ইংরাজি মাধ্যম স্কুল

১৫ থেকে ৫ই অক্টোবর দিনটিকে বিশ্ব আন্তর্জাতিক শিক্ষক দিবস হিসাবে পালন করা হয়। কিন্তু ভারতে এই বিশেষ দিনটি পালন করা হয় ৫ সেপ্টেম্বর। সাধরণ রেওয়াজ অনুযায়ী সমগ্র দেশে এই বিশেষ দিনে ছাত্র ছাত্রীরা তাঁদের শিক্ষক শিক্ষিকা দের প্রতি শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করে নানাবিধ অনুষ্ঠান অয়োজন করে। সরস্বতী পুজার মত এই দিনের অনুষ্ঠানের সকল দায়িত্ব ছাত্ররাই বহন করে। নাচ গান আবৃত্তির মাধ্যমে দেশজুড়ে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নানাবিধ অনুষ্ঠান হয়। আন্তর্যাতিক সংস্থা ইউনেস্কো আন্তর্জাতিক শিক্ষকদের সন্মাননা জানানোর জন্য তাঁদের স্মরণে ৫ অক্টোবর দিনটিকে বিশ্ব শিক্ষক দিবস হিসেবে ঘোষণা করেছে। সেক্ষেত্রে ভারতে কেন শিক্ষক দিবস এক্মাস আগে পালন হয়? এই প্রশ্নই অনেকের মনে।স্বাধীন ভারতের প্রথম উপ-রাষ্ট্রপতি এবং দ্বিতীয় রাষ্ট্রপতি ডঃ সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণনের জন্মদিনে ভারতের শিক্ষক দিবস পালন করা হয়। একাধারে দার্শনিক, প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ ও ভারতরত্ন প্রাপক ডঃ রাধাকৃষ্ণান ১৮৮৮ র ৫ সেপ্টেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। ডঃ সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণন তৎকালীন মদ্রাজ আধুনা চেন্নাইয়ের প্রেসিডেন্সি কলেজ এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় সহ বেশ কয়েকটি মহাবিদ্যালয় ও বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করেন। তিনি অন্ধ্রপ্রদেশ বিশ্ববিদ্যালয়, দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় এবং বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নমানের সহিত উপাচার্যের দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৫২ তে স্বাধীন ভারতের প্রথম উপ-রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন। এর ঠিক ১০ বছর অতিক্রান্ত করে ১৯৬২ তে ভারতের দ্বিতীয় রাষ্ট্রপতি হিসাবে নিযুক্ত হন ডঃ সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণনে।১৯৬২ তে রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর সারা দেশ জুড়ে ছড়িয়ে থাকা অগুনতি ছাত্র ছাত্রীরা তাঁর জন্মদিনটি পালনের জন্য অনুরোধ রাখেন ডঃ সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণনের কাছে। তার প্রত্যুত্তরে তিনি জানান, তাঁর জন্মদিনকে আলাদাভাবে পালন করার চেয়ে, যদি ৫ সেপ্টেম্বর দিনটিকে শিক্ষক দিবস হিসাবে পালন করা হয় তবে তাতে আমি অধিকতর খুশি হব। সে থেকেই, সারা বিশ্বে শিক্ষক দিবস ৫ অক্টোবর পালিত হলেও, ভারতে ১৯৬২ থেকে ৫ সেপ্টেম্বরই শিক্ষক দিবস উদযাপন করা হয়।সারা দেশ সহ পশ্চিমবঙ্গের ও বিভিন্ন বিদ্যালয়, কলেজ সহ শিক্ষা সাথে জুড়ে থাকা নানান প্রতিষ্ঠানে এই দিনটি পালিত হল মহা সমারোহে। বর্ধমানের বেসরকারি ইংরাজি মাধ্যম স্কুল বর্ধমান মডেল স্কুলেও এই দিনটি খুব জাঁকজমক পূর্ণ ভাবে পালিত হয়। সকাল থেকেই রঙ্গিন পোষাকে চকলেট, গোলাপ, হাতে তৈরি গ্রিটিংস কার্ড নিয়ে উপস্থিত কচিকাঁচারা। তাঁদের উপস্থিতি ছিলো চোখে পড়ার মত। ওরিয়েন্টাল এসোশিয়েশান ফর এডুকেশন এন্ড রিসার্চ সংস্থার অধিনস্ত এই স্কুলে বরাবরই পড়াশোনার সাথে খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের এক সুন্দর মেলবন্ধন আছে। সেই রেশ রেখেই ছাত্র ছাত্রীরা নাচ, গান, আবৃত্তি, নাটকের মাধ্যমের তাঁদের শিক্ষকদের শ্রদ্ধা জ্ঞ্যাপন করেন। সকালে অনুষ্ঠানের শুরুতেই ডঃ সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণনের প্রতিকৃতিতে মাল্যদাল ও পুষ্পার্ঘ প্রদান করে অনুষ্ঠানের সূচনা করেন সংস্থার সেক্রেটারি ও বিদ্যালের কর্নধার অচিন্ত্য কুমার মণ্ডল।অচিন্ত্য কুমার মণ্ডল ছাত্র ছাত্রীদের উদ্দেশ্যে বলেন, শিক্ষক দিবস কোনও একটা বিশেষ দিন নয়, সারা বছরের প্রতিটা দিনই শিক্ষক দিবস। শিক্ষক কথাটার অর্থ ব্যপক...। শুধুমাত্র তোমাদের ক্লাসের মধ্যে যিনি ক্লাস নিচ্ছেন তিনিই একমাত্র শিক্ষক নন। পিতা, মাতা, গুরুজন, প্রতিবেশী, ক্রীড়াবিদ এরা সকলেই তোমাদের শিক্ষক। এমনকি আমরা অনেক ছোট ছোট জিনিস শিক্ষা লাভকরি এমন কিছু মানুষের থেকে যাঁদের শিক্ষক ভাবতে আমরা লজ্জা পাই তারাও এক অর্থে আমাদের শিক্ষক। তাই শিক্ষক কে অনুসরণ করে যদি চলা যায় তাঁকে যদি সারা জীবন তোমরা শ্রদ্ধা করতে পারো কোনোদিনই তোমরা তোমাদের জীবনের চলার পথে হোঁচট খাবে না।তিনি আরও বলেন, যে মানুষটি তাঁর নিজের জন্মদিনটি পালন না করে, সকল শিক্ষকদের স্মরণ ও শ্রদ্ধাজ্ঞ্যাপন করার কথা বলেন, তাঁর অর্থ এটাই দাঁড়ায় যেকোনো সফল মানুষের পিছনে একগুচ্ছ সফল শিক্ষক। তোমাদের সফল দেখাটাই শিক্ষদের সফলতা, তাই তাঁদের কথা আদেশ ভেবে মেনে চললেই জীবনে সফল হওয়ার চাবিকাঠির সন্ধান পেয়ে যাবে।

সেপ্টেম্বর ০৬, ২০২৩
রাজ্য

১৮ অগাষ্ট বাংলার এই জেলায় পালিত হল স্বাধীনতা দিবস, কেন ১৫ অগাস্ট নয়?

একই দেশ। কিন্তু স্বাধীনতা দিবসের দিন ভিন্ন। গত মঙ্গলবার ১৫ অগাস্ট দেশ জুড়ে স্বাধীনতা দিবস পালন করা হয়েছে। কিন্তু মালদায় স্বাধীনতা দিবস পালিত হয় ১৫ নয়, ১৮ অগাস্ট। এই দিনে স্বাধীনতা পেয়েছিল পশ্চিমবঙ্গের মালদা জেলা। আর সেই পুরনো স্মৃতিকে সামনে রেখেই শুক্রবার মালদায় পালিত হলো স্বাধীনতা দিবস। ১৯৪৭ সালে ভারত যখন স্বাধীন হয়েছিল। ইংরেজরা দেশ ছেড়েছিল। ঠিক সেই সময় মালদা জেলা পূর্ব পাকিস্তানের (বর্তমানে বাংলাদেশ) অধীনে চলে গিয়েছিল। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর যখন সর্বত্র ছিল আলোর রোশনাই তখন মালদা ডুবেছিল গাঢ় অন্ধকারে। সেই সময়কার স্বাধীনতা সংগ্রামী এবং ব্যারিস্টারদের হস্তক্ষেপেই তিনদিন পর স্বাধীনতা পায় আমের জন্য খ্যাত মালদা জেলা। মালদার কালেক্টরের ভবনে পূর্ব পাকিস্তানের ঝান্ডা নামিয়ে উড়ানো হয় ভারতীয় তিরঙ্গা। আর সেই পুরনো স্মৃতিকে বজায় রেখেই আজও মালদায় ১৮ আগস্টে সাড়ম্বরে পালিত হয়ে আসছে স্বাধীনতা দিবস।শুক্রবার মালদা শহরের গ্রন্থাগারের বই বাগানে স্বাধীনতা দিবস পালিত হয়। উত্তরবঙ্গ ক্রীড়া উন্নয়ন পরিষদের সদস্য প্রসেনজিৎ দাসের উদ্যোগে এবং মালদার বিশিষ্ট শিল্পীরা হাজির ছিলেন এই অনুষ্ঠানে। অন্যদিকে ইংরেজবাজার পুরসভার ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাবুপাড়া এলাকায় স্থানীয় কাউন্সিলর অম্লান ভাদুড়ীর নেতৃত্বে ১৮ আগস্ট উপলক্ষে মালদার স্বাধীনতা দিবস পালিত হয়। এদিন সংশ্লিষ্ট এলাকার প্রবীণ মানুষদের উপস্থিতিতে ভারতের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। উত্তরবঙ্গ ক্রীড়া উন্নয়ন পরিষদের সদস্য প্রসেনজিৎ দাস বলেন, ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট যখন ভারতবর্ষ স্বাধীন হয়। তখন গোটা দেশ এই স্বাধীনতার উৎসবে মেতে উঠেছিল। সেই সময় মালদা ছিল পরাধীন। পূর্ব পাকিস্তান (বর্তমান বাংলাদেশ) অধীনে চলে গিয়েছিল মালদা জেলার দশটি থানা। এই নিয়ে ব্যাপক আন্দোলন শুরু হয়। মালদার কালেক্টারে পাকিস্তানের জাতীয় পতাকা উড়েছিল। কিন্তু সেই সময় স্বাধীনতা সংগ্রামী ও ব্যারিস্টারদের হস্তক্ষেপেই শুরু হয় সীমানা নির্ধারণের লড়াই। এরপর ১৮ আগস্ট মালদা জেলা ভারতের অংশ বলেই ঘোষণা করা হয়। আর সেই ১৮ আগস্ট থেকেই শুরু হয় মালদার স্বাধীনতা দিবস। পূর্ব স্মৃতি ও অতীত বিজড়িত অনেক কাহিনী মালদার এই স্বাধীনতাকে ঘিরে জড়িয়ে রয়েছে। দুটি জায়গাতেই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়। কচিকাঁচা থেকে বড়রা অনুষ্ঠানে অংশ নেয়।

আগস্ট ১৮, ২০২৩
রাজ্য

বর্ধমানের বেসরকারি স্কুলের অভিনব ভাবে স্বাধীনতার ৭৫ বর্ষ পুর্তি উদযাপন

ভারতের স্বাধীনতার ৭৫ বর্ষপূর্তি মহা জাঁকজমকের মধ্যে পালিত হল রাজ্য জুড়ে। ২০২১ র ১৪ আগস্ট থেকে বছরভর নানা অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সারা ভারত জুড়ে স্বাধীনতার ৭৫ বছরকে স্মরণ করা হয়। বর্ধমান শহরের এক বেসরকারি স্কুল বর্ধমান মডেল স্কুল এবছরের স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠান পলন করল অভিনব ভাবে।এই বেসরকারি স্কুলের পক্ষ থেকে ৭৫বছর উদযাপন করতে এঁরা বেছে নেন এই বিশেষ দিনে জন্মগ্রহন করা নবজাতকদের। তাঁরা বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ১৫ই অগাস্ট জন্মগ্রহণ করা সদ্য়জাতদের এক বিশেষ উপহার প্রদান করেন। এই বিশেষ দিনে উপহার পেয়ে নবজাতকদের পরিবার যারপরনাই খুশি। বর্ধমান শহর সংলগ্ন বোঁয়াইচণ্ডী গ্রামের এক বাচ্চার মা জনতার কথাকে জানান, হটাৎ করে এই উপহার পেয়ে তাঁদের খুব ভালো লাগছে। তাঁরা এই উদ্যোগের জন্য স্কুল কতৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান।সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানগলসির এক পরিবার জানান, তাঁরা এই উপহার পেয়ে খুব খুশি। তিনি জানান, এই উপহারের বক্সের মধ্যে একটি তোয়ালে, শিশুর জামা, তাঁর ব্যবহারযোগ্য তেল, সাবান, শ্যাম্পু, চিরুনি, পাউডার ও মায়ের জন্য কিছু খাবার, খেলনা ও একটি জাতীয় পতাকা পেয়েছেন। স্কুলের পক্ষ থেকে কর্নধার অচিন্ত্য কুমার মণ্ডল বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মেডিক্যাল সুপারিনটেনডেন্ট ও উপাধক্ষ্য ডঃ তাপস ঘোষ ও শিশু এবং গাইনি ওয়ার্ডের সকলকে এই সুযোগ করে দেবার জন্য বিশেষ ধন্যবাদ জানান।অচিন্ত্য কুমার মণ্ডল জানান, প্রতি বছরই আমরা নানা অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ১৫ই আগস্ট পালন করি। এবছর এক বিশেষ মুহুর্ত বলে আমরা বিদ্যালয়ের সকলে মিলে আলোচনা করে আরও ভালো ভাবে এই দিনটাকে স্মরণ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তিনি আরও জানান, প্রতি বছরই আমরা বিদ্যালয়ের ছাত্রদের নিয়ে এক বার্ষিক প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করি। তাতে ছাত্র ছাত্রীরা তাঁদের বিভিন্ন ডিপার্টমেন্টের শিক্ষকদের তত্ত্বাবধানে নানারকম মডেল ও প্রোজেক্ট বানিয়ে প্রদর্শন করে। সেই ইন্সপায়ার অনুষ্ঠানটি এবছর ভারতের স্বাধীনতার ৭৫ বর্ষপূর্তি উপলক্ষে স্বাধীনতা সংগ্রামী ও সেই সমস্ত মহাপুরুষদের স্মরণ করতে ১৪ই আগস্ট শুরু হয়েছে।মেডিক্যাল কলেজেঅচিন্ত্য কুমার মণ্ডল আরও জানান, তাঁরা এই সিদ্ধান্ত অনেক আগেই নিয়েছিলেন, কিন্তু কিছুদিন আগে কেন্দ্রীয় শিক্ষা বোর্ড সিবিএসসি এক সার্কুলারের মাধ্যমে এই একই নির্দেশ দেয় তাঁদের অধীনস্ত স্কুল গুলিকে। তিনি খুবই আনন্দিত তাঁদের ভাবনার সাথে সিবিএসসি নির্দেশ মিলে যাওয়াতে। তিনি জানান, এবারের অনুষ্ঠানে ছাত্র ছাত্রী ও অবিভাবকদের উপস্থিতি খুবই ভালো। গত দুবছর ধরে গৃহবন্দি মানুষজন কোভিড নামক ব্যাধিকে মন থেকে দুরে সরিয়ে রেখে জড়তা ঝেড়ে পথে নেমে পরেছেন।দুদিনের এই অনুষ্ঠানে অনেক বিশিষ্ট মানুষজন উপস্থিত ছিলেন, এর মধ্যে বিশেষ উল্লেখযোগ্য, পূর্ব-বর্ধমান মহিলা থানার আইসি বনানী রায়, ভাতারের ব্লক ডেভলপমেন্ট অফিসার অরুণ কুমার বিশ্বাস, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যলের অধ্যাপক ডঃ খগেন চট্টোপাধ্যায়, ডঃ শিবকালি গুপ্ত, প্রজাপতি ব্রহ্মকুমারি সিস্টার রুমা, বিশিষ্ট শিল্পপতি পি এন আয়ার প্রমুখ।

আগস্ট ১৫, ২০২২
রাজ্য

আদিবাসীদের আন্দোলন স্মরণ জেলাশাসক প্রিয়াঙ্কা সিংলার, জানিয়ে দিলেন সরকার তাঁদের পাশে আছে

সারা রাজ্যে মহা সমারোহে পালিত হল হুল উৎসব। ইংরেজ অপশাসনের বিরুদ্ধে স্বাধিকার ফিরিয়ে আনার জন্য যে সংগ্রাম হয়েছিল তা সাঁওতাল বিদ্রোহ নামে পরিচিত, সেই বিশেষ এই দিনটিকে স্মরণ করে পালিত হয় হুল দিবস। অলচিকি ভাষায় হুল কথার অর্থ বিদ্রোহ। ১৮৫৭ তে সিপাহী বিদ্রোহের ২ বছর আগে ১৮৫৫ তে সংগঠিত হওয়া এই বিদ্রোহ-ই আলো দেখিয়েছিলো ইংরেজদের বিরুদ্ধে ভারত ছাড়ো আন্দোলনকে জোড়ালো করতে। একই পরিবারের ভাইবোন সিধু, কানু, চাঁদ, ভৈরব,আর দুই বোন ফুলমনি এবং ঝানু মুর্মু-র এই আন্দোলন পৃথিবীর ইতিহাসে এক বিরল দৃষ্টান্ত। এই ছয় ভাইবোনের ডাকা আন্দোলনে এককাট্টা হয়েছিল চারশোটি গ্রাম। সে ডাকে সাঁওতালরা ছাড়াও সারা দিয়েছিলো সমস্ত নির্যাতিত মানুষ।বৈদ্যপুর রথতলায় হুল উৎসব-এ উপস্থিত অতিথিবর্গপূর্ব বর্ধমান জেলার অনগ্রসর, শ্রেনীকল্যাণ ও আদিবাসী উন্নয়ন দপ্তরের উদ্যোগে বৃহস্পতিবার কালনা-২ ব্লকের বৈদ্যপুর রথতলায় বৈদ্যপুর রামকৃষ্ণ বিদ্যাপিঠ সংলগ্ন ময়দানে হুল উৎসব পালন করা হয়। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ, পূর্ব বর্ধমানের জেলাশাসক প্রিয়াঙ্কা সিংলা, পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের সভাধিপতি সম্পা ধারা, জেলা পরিষদের সহ-সভাধিপতি ও পশ্চিমবঙ্গ আদিবাসী শাখা সংগঠনের সভাপতি দেবু টুডু, পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের মেন্টর উজ্জ্বল প্রামানিক, কালনা মহকুমাশাসক সুরেশ কুমার জগৎ, কালনা-২ বিডিও ও জেলা অনগ্রসর শ্রেনীকল্যাণ ও আদিবাসী উন্নয়ন দপ্তরের অধিকারিকগন।এদিনের এই অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকে জাতিগত শংসাপত্র প্রদান করা হয়। এছাড়াও তফসিলি জাতি ও তফসিলি উপজাতি মাধ্যমিক পরীক্ষায় কৃতী ছাত্র-ছাত্রীদের আম্বেদকর মেধা পুরস্কার প্রদান করা হয়। মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ জানান, আদিবাসী আন্দোলন আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামকে পথ দেখিয়েছে। আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষকে আমাদের আমরা ভুলতে পারি না। জেলাশাসক প্রিয়াঙ্কা সিংলা উপস্থিত সকলকে হুল দিবসের শুভেচ্ছা জানান। জেলাশাসক বলেন, বিদ্রোহের সময় যে অবদান আদিবাসীদের ছিল, আজকের সমাজেও তাদের অবদান ভোলার নয়।জেলাশাসক প্রিয়াঙ্কা সিংলা কে আদিবাসী প্রথায় বরন করা হচ্ছেতিনি আরও বলেন,আদিবাসী সমাজের সংস্কৃতি যত উদযাপন করতে পারি সেটা আমাদের পক্ষে মঙ্গল। তিনি আদিবাসীদের উদ্দেশ্যে জানান, পশ্চিমবঙ্গ সরকার আদিবাসী সম্প্রদায়ের জন্য যা যা সুবিধা দেয় সেটা তাঁরা যেন ঠিক ঠিক সময় সরকারি দপ্তরে উপস্থিত হয়ে গ্রহণ করেন। দুয়ারে সরকার প্রকল্পে উপস্থিত হয়ে তাঁদের জাতিগত সংসাপত্র গ্রহণ করার অনুরোধ জানান। তিনি বলেন, জমির পাট্টা সংক্রান্ত কোনও সমস্যা থাকলে সরাসরি সরকারি দপ্তরে তাঁরা যেন যোগাযোগ করেন। সরকার আপনাদের পাশে আছে।কালনার-২ বৈদ্যপুর রথতলা সংলগ্ন বৈদ্যপুর রামকৃষ্ণ বিদ্যাপিঠ সংলগ্ন ময়দানের এই অনুষ্ঠানে মানুষের উপস্থিতির হার ছিল যথেষ্ট। এদিন নানারকম আদিবাসী সংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ধামসা, মাদল এর ছন্দে পা মেলান জেলা পরিষদের সহ-সভাধিপতি দেবু টুডু।

জুন ৩০, ২০২২
নিবন্ধ

অলংকরণ কর্মশালার মাধ্যমে উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরীর জন্মজয়ন্তী পালন

রাজার ঘরে যে ধন আছে টুনির ঘরেও সে ধন আছে - আমাদের অনেকের শৈশবের গল্পের বই পড়ার শুরু এখানেই। বরেণ্য শিশু সাহিত্যিক উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরীর জন্মজয়ন্তী ছিল ১২ই মে। শিশু কিশোর আকাদেমি এবং তথ্য ও সংস্কৃতি বিভাগ, পশ্চিমবঙ্গ সরকার-এর যৌথ উদ্যোগে একদিনের একটি অলংকরণ কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছিল পুর্ব বর্ধমান জেলার বর্ধমান পৌর উচ্চ বিদ্যালয়ে, জেলা তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তর, পূর্ব বর্ধমান-এর সহযোগিতায়।উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরীর জন্মজয়ন্তী পালনকর্মশালা পরিচালনা করতে এসেছিলেন শিল্পী শ্রী আলয় ঘোষাল। সঙ্গে ছিলেন আরেক শিল্পী শ্রী বিভূতি চক্রবর্তী। সারাদিন একশ বিশ কচি-কাঁচা কে নিয়ে চলল গুপী-বাঘা, ভুতের রাজা, বাঁশ বনের টেক্সচার, গাধার উচ্চতা, রাজা মশাই এর পাগড়ির শেপ ইত্যাদি নিয়ে রঙ্গিন আলোচনা। আলয় ঘোষাল মহাশয়ের কথায় কথায় আসছিল ক্যামেরার চোখে কম্পোজিশন দেখার কথা। আঁকা আর অলংকরণের পার্থক্য। বার বার বলছিলেন ছোটদের বই পড়ার কথা। গল্প পড়ে তাঁর চিত্রকল্প তৈরী করার অভ্যেস। এক সময় আভিবাবকদের ঘরে ডেকে এনে বললেন ছোটদের মনোযোগ মোবাইল আর টেলিভিশন থেকে সরাতে তাদের হাতে বই তুলে দিতে। এক ফাঁকে ওনার সাথে কথা বলছিলাম ইলাস্ট্রেসন আর ফটোগ্রাফি নিয়ে।উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরীর জন্মজয়ন্তী পালনউনি বলছিলেন ওনার ছবি তোলার মজার মজার অভিজ্ঞতা। খুব ইচ্ছে করছিল ওনার হাতের কয়েকটা লাইন সংগ্রহে রাখতে। কথাটা বলতেই আমার হাতের নোট বইটা টেনে নিলেন, কয়েকটা পেনের আঁচড় দিয়ে বললেন আমায় একটু জল রঙ এনে দাও। একজনের রঙ ধার করে দিলাম। শেষে হাতে পেলাম একপাতা আনন্দ। কত বড় মাপের মানুষ কিন্তু কত কাছের। আনন্দ আর কৃতজ্ঞতায় মন ভরে গেল। অনুষ্ঠানে আরও যোগ দেন শিশু কিশোর আকাদেমির প্রকাশনা বিভাগের প্রধান ড. শর্বাণী বন্দ্যোপাধ্যায়। কর্মশালা শেষে সকলের হাতে শংসাপত্র আর বই উপহার তুলে দেওয়া হয়। সব শেষে আমার সারপ্রাইজ গিফট। জেলা তথ্য ও সংস্কৃতি আধিকারিক মশাই এর কাছ থেকে আর এক খুব প্রিয় মানুষ শ্রীমতী জয়া মিত্রের বই। জেলা তথ্য ও সংস্কৃতি আধিকারিক ও তাঁর দপ্তরের প্রত্যেক কর্মীকে আনেক ধন্যবাদ। শেষ কথা-উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরীর জন্মদিনে একগুচ্ছ কচি প্রাণের সঙ্গে সারাটা দিন কাটানোর থেকে ভাল উদ্যাপন আর কিছু হয় না।

মে ১৪, ২০২২
রাজ্য

রাজ্য জুড়ে মহাসমারোহে পালিত বিশ্বকবির ১৬১ তম জন্মজয়ন্তী

সোমবার সারা রাজ্যে মহা সমারোহে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬১তম জন্মদিন পালিত হল। কবিগুরু বাংলা ও বাঙালির আবেগ। মানুষের সুখ দুঃখ হতাশা সহ যেকোনও অনুভূতিতেই তাঁর গান আমাদের প্রেরণা। আমাদের চলার পথের পাথেয়। তাঁর কবিতা / গানের ছন্দে ছন্দে বেঁচে থাকার অপার অনুপ্রেরণা। কবির কথায়ঃ- আছে দুঃখ, আছে মৃত্যু, বিরহদহন লাগে। তবুও শান্তি, তবু আনন্দ, তবু অনন্ত জাগে॥পশ্চিমবঙ্গ সরকার ও কলকাতা পুরসভার পক্ষ থেকে ক্যাথিড্রাল রো তে কবি প্রনামের আয়োজন করা হয়। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ছাড়াও এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, নাট্যকার ও মন্ত্রী ব্রাত্য বসু, কবি জয় গোস্বামী, সাহিত্যিক শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়, আবুল বাসার, কবি সুবোধ সরকার, গায়ক ইন্দ্রনীল সেন সহ অন্যান্য বিশিষ্ঠ জনেরা। বাংলার জেলায় জেলায় বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার উদ্যোগে রবীন্দ্রজয়ন্তী-র আয়োজন করা হয়। পূর্ব বর্ধমান জেলার এক বেসরকারি স্কুল বর্ধমান মডেল স্কুল এবছর একটু ব্যাতিক্রমী ভাবে রবীন্দ্রনাথের জন্মদিন পালন করল। প্রতিবছর এই বিদ্যালয় সহ রাজ্যের বিভিন্ন বিদ্যালয়েই প্রাতঃকালীন কবি প্রনামের আয়োজন করা হয়ে থাকে। প্রচন্ড দাবদাহের জন্য সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী অকাল গৃষ্মের ছুটি পরে যাওয়াতে তাঁরা কবি প্রনাম আয়োজন করেন সুর্যাস্তের পর।কবি বরণ অনুষ্ঠানসংস্থার প্রানপুরুষ তথা সভাপতি অচিন্ত্য কুমার মণ্ডল জনতার কথা কে জানান, দাবদাহের জন্য, রাজ্য সরকারের নির্দেশিকায় হটাৎ করে গরমের ছুটি পড়ে যাওয়াতে আমরা প্রথমে খুব স্বাভাবিক ভাবেই হতাশ হয়ে পড়ি কচি-কাঁচাদের কথা ভেবে। বিগত দু-বছর তাঁরা করোনার চোখরাঙ্গানীতে গৃহবন্দি ছিল। তাই আমরা বিদ্যালয়ের সকলে বসে ঠিক করি, সুর্যাস্তের পর যদি আমরা অনুষ্ঠানটা করি তাহলে বাচ্চাদের আর গরমে কোনও সমস্যা হবে না।তিনি জনতার কথা কে আরও জানান, ছাত্রদের-ই জন্য বিদ্যালয়, তারা সেখানে উপস্থিত না থাকতে পারলে এ আনন্দে-র কোনও মুল্যই থাকে না। বিদ্যালয় তাঁদের পদধ্বনির অপেক্ষায় থাকে। আজকের অনুষ্ঠান প্রসঙ্গে জ্ঞিজ্ঞাসা করা হলে তিনি জানান, কোনও একটি বিশেষ অনুষ্ঠানের কথা বলবো না। ছাত্রদের সকলের অনুষ্ঠান-ই ছিলো মনমুগ্ধকর। কবি প্রনাম আদপে গঙ্গা জলেই গঙ্গা পূজা, কবির কথাতেই বলিঃ-শিশু হবার ভরসা আবারজাগুক আমার প্রাণে,লাগুক হাওয়া নির্ভাবনার পালে,ভবিষ্যতের মুখোশখানাখসাব একটানে,দেখব তারেই বর্তমানের কালে।নৃত্য, সঙ্গীত ও নটকে সাজানো বিদ্যালয়ের অনুষ্ঠান ছিলো জমজমাট। এবারের রবীন্দ্রজয়ন্তী-তে তাদের থিম ছিল তবু মনে রেখো...। বাচিক শিল্পী সুদেষ্ণা আচার্যের তত্ত্বাবধানে ছাত্রছাত্রী দের নিয়ে বিশ্বকবির অমর সৃষ্টি ডাকঘর নাটক অবলম্বনে একটি ছোট্ট উপস্থাপনা মন ছুঁয়ে যায়। অমলের ঘর থেকে বাইরে আসার আকুল আর্তি মন ছুঁয়ে যায় উপস্থিত দর্শকদের। বিদ্যালয়ের শিক্ষক সুমন নাগ জনতার কথা কে জানান, ডাকঘর নাটকে কবিগুরুর সৃষ্ট এক অমর চরিত্র অমল। অসুস্থ অমলের গৃহবন্দী দশা-য় যে মনকষ্টে ভুগেছে, তা বিশ্ববাসী বিগত দুই বছরে মরমে মরমে বুঝতে পেরেছে। তিনি এক যুগোত্তীর্ণ কবি সাহিত্যিক, সর্বকালে তাঁর রচনা প্রাসঙ্গিক, তিনি শতবর্ষ পুর্বে লিখে গেছেনঃ- আজি হতে শতবর্ষ পরেকে তুমি পড়িছ বসি আমার কবিতাখানিকৌতূহলভরে--আজি হতে শতবর্ষ পরে।

মে ১০, ২০২২
বিনোদুনিয়া

রবিঠাকুরের ১৬১ তম জন্মদিন পালন, নন্দন চত্ত্বরে বিশেষ আয়োজন

আজ ২৫ শে বৈশাখ। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬১ তম জন্মদিন। সারা দেশজুড়ে পালিত হচ্ছে কবিগুরুর জন্মদিন। রবীন্দ্রনাথ মানে বাঙালির কাছে আবেগ। তাই বাঙালির কাছে ২৫ শের তাৎপর্য অন্যদের তুলনায় বাঙালিদের কাছে একটু বেশিই। সাধারণ মানুষ থেকে তারকা সবাই এই বিশেষ দিনটাকে নিজেদের মতো করে উদযাপন করছে। চলুন দেখে নিই কোন তারকা কিভাবে এই বিশেষ দিনটি সেলিব্রেট করলেন। অভিনেত্রী মৌলী দত্ত নববধূর সাজে কয়েকটি ফটোশুটের সাজে ছবি পোস্ট করে সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, তুমি রবে নিরবে, হৃদয়ে মম। অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তী রবিঠাকুরের একটি ছবি পোস্ট করে ক্যাপশনে লিখেছেন, কবিপ্রণাম। সঙ্গীতশিল্পী রূপঙ্কর বাগচী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে শ্রদ্ধা জানিয়ে একটি অনুষ্ঠান করার কয়েকটি ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করেছেন। ক্যাপশনে লিখেছেন, বর্ষণমন্দ্রিত। এইভাবে বিভিন্ন তারকারা যেমন নিজের মতো করে রবীন্দ্র জয়ন্তী উদযাপন করেছেন তেমনি এদিন কলকাতার রবীন্দ্রসদন প্রাঙ্গনে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পক্ষ থেকে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এছাড়া কবিগুরুর ছবি দিয়ে খুব সুন্দরভাবে নন্দন চত্ত্বরটা সাজানো হয়েছে। বাঙালির আবেগের দিনে তাই যেন পুরো পরিবেশটা রবিমুখর হয়ে উঠেছে।

মে ০৯, ২০২২
বিনোদুনিয়া

‘বাবা বেবি ও..’র ৫০ দিন উদযাপন

উইন্ডোজ প্রডাকশন হাউস থেকে প্রযোজিত পরিচালক অরিত্র মুখোপাধ্যায়ের ছবি বাবা বেবি ও। ছবিটি মুক্তির পরই দর্শকমহলে প্রশংসা পেয়েছে। ৪ ফেব্রুয়ারি মুক্তি পাওয়ার পর মেঘ আর বৃষ্টির জমজমাট দাম্পত্য ৫০ দিন পার করে ফেলল । সেই আনন্দে সুইমিং পুলের পাশে উদযাপনের আয়োজন ছিল। যিশু সুপুরুষ ক্যাজুয়াল সাজে নজর কাড়লেন। গরমের জন্য তাই শোলাঙ্কি রা্যের সাদা শাড়িতে প্যাস্টেল রঙা সুতোর কাজ ছিল। উপস্থিত ছিলেন দলের প্রায় প্রত্যেকে। জিনিয়া সেন, রেশমি সেন প্রমুখ। আর ছিল পটল, পোস্ত। যিশু-শোলাঙ্কির পর্দার যমজ ছেলে। পরিচালক অরিত্র জানিয়েছেন, ব্রহ্মা জানেন গোপন কম্মটিও মুক্তির পরে সাড়া জাগিয়েছিল। তার পরেই অতিমারির দাপটে কোণঠাসা। এই ছবির প্রচারের আগে পরেও অতিমারি ছিল। ফলে, বাবা বেবি ও নিয়েও ভয় ছিল। ৫০ দিন কাটার পরে শুধু আমি নই সবাই হাল্কা।

এপ্রিল ০২, ২০২২
কলকাতা

‘বোনেরাই বিধানসভার সম্মান রক্ষা করেছে’

মহিলা বিধায়কদের চোখের ইশারা করেছিলেন মমতা। আর তাতেই মহিলা বিধায়করা ধাক্কা মারেন রাজ্যপালকে। সোমবার বিধানসভার ঘটনা প্রসঙ্গে এমনই অভিযোগ তুলেছিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার সেই মহিলা বিধায়কদের ভূমিকার প্রশংসা করলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি উল্লেখ করেছেন, মহিলা ব্রিগেডই বিধানসভার সম্মান রক্ষা করেছেন। বিরোধী দলের তরফে মহিলাদের অপমান করা হয়েছে বলেও দাবি করেছেন তিনি। মমতার কথায়, মহিলা বিধায়কদের ওই ভূমিকা আগামিদিনে অনেককে অনুপ্রাণিত করবে।যদিও শুভেন্দুর অভিযোগকে আগেই উড়িয়ে দেন বিধায়ক তথা রাজ্যের মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। তিনি বলেছেন, মুখ্যমন্ত্রীর এত খারাপ অবস্থা হয়নি যে আমাদের চোখের ইশারা করবেন। পাশাপাশি, রাজ্যপালকে নিগ্রহ করার অভিযোগ প্রসঙ্গে চন্দ্রিমার বক্তব্য, আমরা শারীরিক নির্যাতন করব? উনি কি এতই দুর্বল? ঢং করতে করতে এতই দুর্বল হয়ে গিয়েছেন? অত বড় লম্বা-চওড়া একটা মানুষ! আর এবার খোদ মমতা চন্দ্রিমাদের ভূমিকার প্রশংসা করলেন। নারী দিবসে বুঝিয়ে দিলেন, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য বা শশী পাঁজা যা করেছেন, তা গণতন্ত্র রক্ষা করতেই করা হয়েছে।মঙ্গলবার নজরুল মঞ্চে দলের সাংগঠনিক বৈঠকের শুরুতে মহিলা ব্রিগেডের প্রশাংসা করেন মমতা। তিনি বলেন, মেয়েরা কাল লিড নিয়েছে। ভাইরা পিছনে ছিল, আর বোনেরা সামনে থেকে বিধানসভার সম্মান রক্ষা করেছে। মমতার দাবি, বিজেপি অনেক অপমান করেছে মহিলাদের। অনেক কু কথা বলেছে, অনেক অর্ধ সত্যও বলেছে। তা সত্ত্বেও নিয়ম মেনে গণতন্ত্রকে বাঁচিয়েছে মহিলা বিধায়কেরাই। তৃণমূল নেত্রী বলেন, এর থেকে অনেকে আগামিদিনে শিক্ষা নেবে।চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, শশী পাঁজার মতো বিধায়কদের নাম করে অভিযোগ তুলেছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দাবি, রাজ্যপালকে ধাক্কা মেরেছে তৃণমূলের গুণ্ডা বিধায়করা। শুভেন্দু সোমবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বলেন, মুখ্যমন্ত্রীর চোখের ইশারায়, একাধিক মহিলা বিধায়ক শারীরিক নির্যাতন করেছে রাজ্যপালকে।

মার্চ ০৮, ২০২২
রাজ্য

প্রজাতন্ত্র দিবসে শহরজুড়ে কড়া নিরাপত্তা

নিউ মার্কেট, পার্কস্ট্রিট থেকে বড়বাজার প্রজাতন্ত্র দিবসের আগে থেকেই শহরজুড়ে চলেছে পুলিশের তল্লাশি। হোটেল, গেস্ট হাউজগুলিতেও কড়া নজরদারি পুলিশের। বিভিন্ন রাস্তায় চলছে নাকা চেকিং। মঙ্গলবার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখেছেন পুলিশ কমিশনার বিনীত গোয়েল। শহরের আনাচে-কানাচে চলছে নজরদারি। মূল অনুষ্ঠানের জায়গাতেও কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে।রেড রোডে যেখানে প্যারেড রয়েছে, সেখানে আড়াই হাজার পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। যার মধ্যে ১১০০ পুলিশ রয়েছে রেড রোডে। অ্যাডিশনাল পুলিশ কমিশনার পদমর্যাদার কর্তারা রয়েছেন। রেড রোডে ১১টি জোন প্রস্তুত করা হয়েছে। দায়িত্বে রয়েছেন কলকাতা পুলিশের ডিসি পদমর্যাদার কর্তারা। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। কলকাতার বিভিন্ন জায়গায় নজরদারির ব্যবস্থা করা হয়েছে। ৬ টি ওয়াচ টাওয়ার রয়েছে। তার মাধ্যমে প্রতি মুহূর্তে নজরদারি চালানো হচ্ছে। শহরের গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাগুলিতে পুলিশ পিকেটিং রয়েছে।যে যে পদক্ষেপ কলকাতা পুলিশের তরফে করা হয়েছে কোভিডের কারণে এবারও দর্শক প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা। ভিআইপি সংখ্যাও কমানো হয়েছে, যাতে কোভিডবিধি ভঙ্গ না হয়। রেড রোডে মূল অনুষ্ঠানের জায়গা কড়া নিরাপত্তার মোড়কে। শহরজুড়ে চলছে নজরদারি। নিরাপত্তার জন্য রেড রোড সংলগ্ন এলাকাকে ১১ টি জোনে ভাগ করা হয়েছে। প্রত্যেক জোনের দায়িত্বে একজন করে ডিসি পদমর্যাদার অফিসার। প্রত্যেক জোনকে একাধিক সেক্টরে ভাগ করা হয়েছে। রেড রোডের চারপাশে ৫ টি স্যান্ড ব্যাংকার রয়েছে। ৯ ডিভিশনে ২৬ টি পিসিআর ভ্যান থাকছে। ১২ টি এইচআরএফএস গাড়ি থাকছে। মোটরবাইক পেট্রোল টিম রয়েছে ৮ টি। ৬ টি ওয়াচ টাওয়ার। মোতায়েন রয়েছে ৩ টি কুইক রেসপন্স টিম। রেড রোডে বিশেষ কন্ট্রোল পোস্টের ব্যবস্থা করা হয়েছে। শহরে ঢোকা বেরোনোর প্রত্যেকটি পয়েন্টে নাকা চেকিং চলছে।

জানুয়ারি ২৬, ২০২২
  • ‹
  • 1
  • 2
  • ›

ট্রেন্ডিং

রাজ্য

বিরাটির পর দত্তপুকুরে রাতভর তাণ্ডব! একে একে পাঁচ সিপিএম অফিসে ভাঙচুর-আগুন, উঠল বিজেপির নাম

শুক্রবার সন্ধ্যায় বিরাটিতে সিপিএমের সভা ঘিরে উত্তেজনার রেশ কাটতে না কাটতেই রাতের দিকে দত্তপুকুরে একের পর এক সিপিএমের পার্টি অফিসে ভাঙচুরের অভিযোগ উঠল। বামেদের দাবি, দত্তপুকুরে মোট পাঁচটি দলীয় কার্যালয়ে হামলা চালানো হয়েছে। কয়েকটি অফিসে আগুনও ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। ঘটনায় উত্তর ২৪ পরগনার বিস্তীর্ণ এলাকায় নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।সিপিএমের অভিযোগ, শুক্রবার রাতের অন্ধকারে দুষ্কৃতীরা রড ও হাতুড়ি নিয়ে একাধিক দলীয় কার্যালয়ে ঢুকে ভাঙচুর চালায়। অফিসের আসবাবপত্র নষ্ট করা হয়। দেওয়ালে থাকা বাম নেতাদের ছবিও ভেঙে ফেলা হয়েছে বলে দাবি দলের। দত্তপুকুরের দুনম্বর রেলগেট, গঙ্গাপুর মোড় এবং দত্তপুকুর স্টেশনের কাছে-সহ একাধিক এলাকায় এই হামলার অভিযোগ সামনে এসেছে। একটি কার্যালয়ে কাগজপত্র বের করে তাতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ।এই হামলার পিছনে সরাসরি বিজেপির হাত রয়েছে বলে অভিযোগ করেছে সিপিএম। দলের জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য আহমেদ আলি খান দাবি করেছেন, রাতের অন্ধকারে বিজেপিই এই হামলা চালিয়েছে। শুক্রবার বারাসত এক নম্বর বিডিও দফতরে অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে সিপিএমের বিক্ষোভ কর্মসূচি ছিল। সেই কর্মসূচির পরেই পার্টি অফিসগুলিতে হামলার ঘটনা ঘটায় দুই ঘটনার মধ্যে কোনও যোগ রয়েছে কি না, তা নিয়েও দলের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। ঘটনায় পুলিশে লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।তবে সিপিএমের অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছে বিজেপি। বিজেপি নেতা অরিন্দম দে জানিয়েছেন, এই ঘটনার সঙ্গে তাঁদের দলের কোনও যোগ নেই। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই বিজেপির নাম জড়ানো হচ্ছে বলে দাবি করেছেন তিনি। ফলে দত্তপুকুরের ঘটনা নিয়ে দুই দলের মধ্যে শুরু হয়েছে পাল্টা অভিযোগ ও রাজনৈতিক চাপানউতোর।এর আগেই শুক্রবার সন্ধ্যায় বিরাটির বণিক মোড়ে সিপিএমের একটি পথসভা ঘিরে উত্তেজনা ছড়ায়। সভামঞ্চে ভাঙচুর, চেয়ার ভাঙা এবং ব্যানার নষ্ট করার অভিযোগ ওঠে। বামেদের দাবি, সভায় হামলার পাশাপাশি তাঁদের কর্মীদের লক্ষ্য করে ইট ছোড়া হয়। সভায় সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তীর বক্তৃতা দেওয়ার কথা ছিল।বিরাটির ঘটনার ক্ষেত্রেও সিপিএম বিজেপির বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছে। দলের বক্তব্য, পুলিশের উপস্থিতিতেই সভামঞ্চে হামলা হয়েছে এবং পুলিশ হামলাকারীদের আটকাতে কার্যকর পদক্ষেপ করেনি। সুজন চক্রবর্তী পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দ্রুত প্রতিবাদ কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। বিজেপির তরফে অবশ্য অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। উত্তর দমদমের বিজেপি বিধায়ক সৌরভ শিকদারের দাবি, সভায় স্থানীয়রা কিছু স্লোগানের প্রতিবাদ করেছিলেন এবং উল্টে তাঁদের দলের মহিলা কর্মীরা আক্রান্ত হয়েছেন।একই রাতে হাবড়াতেও বাম ছাত্র সংগঠনের কর্মসূচি ঘিরে উত্তেজনার অভিযোগ ওঠে। হাবড়া এক নম্বর রেলগেটের কাছে এসএফআইয়ের পথসভায় বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে ধস্তাধস্তির অভিযোগ করেছে সংগঠনটি। বিজেপির বিরুদ্ধে কর্মীদের মারধরের অভিযোগ উঠলেও তা অস্বীকার করেছে বিজেপি। এই ঘটনায় হাবড়া থানায় অভিযোগ দায়ের হয়েছে।বিরাটি, হাবড়া এবং দত্তপুকুরের পরপর ঘটনাকে ঘিরে উত্তর ২৪ পরগনায় রাজনৈতিক উত্তেজনা বেড়েছে। দত্তপুকুরের ঘটনায় ইতিমধ্যেই এসএফআই নেতা আকাশ করকে গ্রেফতার করার কথা জানিয়েছে পুলিশ-সূত্রে প্রকাশিত প্রতিবেদন। তবে সিপিএম যে বিজেপির বিরুদ্ধে হামলার মূল অভিযোগ তুলেছে, সেই অভিযোগের সঙ্গে ওই গ্রেফতারের যোগসূত্র বা হামলার নেপথ্যে কারা ছিল, তা নিয়ে তদন্ত এখনও চলছে।

অক্টোবর ০৩, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

ব্রাজিলের কাছে ৪-০ হার, তবু যুবভারতীতে লড়াইয়ের গল্প লিখল ভারত

যুবভারতীতে ফলাফলটা ভারতের পক্ষে নয়। স্কোরবোর্ডে ৪-০। কিন্তু বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম শক্তিশালী দলের বিরুদ্ধে শনিবার যে লড়াই উপহার দিল ভারত, তা নিছক চার গোলের হারের গল্প নয়। গুরপ্রীত সিংহ সান্ধুর দুটি বড় ভুলে প্রথমার্ধেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ হারাল ভারত। তবে রায়ান উইলিয়ামস, মনবীর সিংহ, অভিষেক সিংহদের লড়াকু ফুটবল প্রায় ৫০ হাজার দর্শকের মন জিতে নিল।ম্যাচের আগে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ছিল একটাই প্রশ্নব্রাজিলের মতো দলের বিরুদ্ধে ভারত কত গোল হজম করবে? মাঠে সেই আশঙ্কার ছাপ অবশ্য শুরুতে খুব একটা দেখা যায়নি। বরং প্রথমার্ধের একটা বড় সময় ভারত রক্ষণ সামলে সুযোগ পেলেই পাল্টা আক্রমণে উঠে এসেছে। ব্রাজিলের তারকা সমৃদ্ধ আক্রমণভাগকে বেশ কিছুটা সময় আটকে রাখতে সক্ষম হয়েছিল ভারতীয় রক্ষণ।কিন্তু বড় দলের বিরুদ্ধে সামান্য ভুলের মূল্য যে কতটা চড়া হতে পারে, যুবভারতী তারই সাক্ষী থাকল।গুরপ্রীতের দুই ভুলেই পিছিয়ে পড়ল ভারতশুরুতেই ভিনিসিয়াসের শট আটকে গুরপ্রীতকে আত্মবিশ্বাসী মনে হয়েছিল। গ্যালারি থেকেও এসেছিল প্রশংসার আওয়াজ। কিন্তু সেই আত্মবিশ্বাস বেশিক্ষণ স্থায়ী হল না।২৮ মিনিটে বক্সের ডান দিক থেকে এস্তেভাওর নেওয়া শট ছিল গুরপ্রীতের নাগালের মধ্যেই। বলের গতি বেশি থাকলেও সেটি সামলানোর যথেষ্ট সুযোগ ছিল ভারতীয় গোলরক্ষকের। কিন্তু তাঁর হাতের নীচ দিয়ে বল গড়িয়ে জালে ঢুকে যায়। ব্রাজিল এগিয়ে যায় ১-০।প্রথম গোলের ধাক্কা সামলে ভারত ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করছিল। কিন্তু বিরতির ঠিক আগে ফের বিপর্যয়। ৪২ মিনিটে এস্তেভাওর তৈরি করা সুযোগ থেকে পেদ্রোর শট আটকাতে গিয়ে গুরপ্রীতের ডান হাতের গ্লাভসে বল লেগে দিক বদলে জালে জড়িয়ে যায়।মাত্র কয়েক মিনিটের ব্যবধানে দুই গোল। অথচ প্রথমার্ধে ভারত যে ভাবে রক্ষণ সামলাচ্ছিল, তাতে গোলশূন্য অবস্থায় বিরতিতে যাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি ছিল।এরপর আরও একটি বিপজ্জনক মুহূর্ত তৈরি হয়েছিল। ভিনিসিয়াসের শট গুরপ্রীতের গায়ে লেগে গোলের দিকে যাচ্ছিল। পিছন থেকে দানিলো ছুটে আসছিলেন। শেষ পর্যন্ত ভারতীয় রক্ষণ কোনও রকমে পরিস্থিতি সামলে নেয়।ব্রাজিলের তারকাদের আটকে রাখল ভারতব্রাজিল যে ভারতকে হালকা ভাবে নেয়নি, প্রথম একাদশেই তার প্রমাণ ছিল। ভিনিসিয়াস, মার্কুইনহোসদের সঙ্গে বিশ্বকাপের অভিজ্ঞতা থাকা ফুটবলাররাও ছিলেন দলে।তবু ম্যাচের শুরুতে ব্রাজিলের আক্রমণকে অপ্রতিরোধ্য মনে হয়নি। ভিনিসিয়াস বাঁ দিক দিয়ে বারবার আক্রমণ তৈরির চেষ্টা করলেও তাঁকে বেশির ভাগ সময় নজরে রেখেছিলেন অভিষেক সিংহ। ব্রাজিলীয় তারকা কয়েক বার ড্রিবল করে বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেও অভিষেক পিছনে ছুটে গিয়ে পরিস্থিতি সামাল দিয়েছেন।শুধু রক্ষণ নয়, সুযোগ পেলেই ভারতীয় ফুটবলাররা পাল্টা আক্রমণে উঠেছেন। রায়ান উইলিয়ামস ও মনবীর সিংহের গতির উপর ভর করে ব্রাজিলের বক্সে ঢোকার চেষ্টাও হয়েছে একাধিক বার।বিরতির পর বদলে গেল ব্রাজিলদ্বিতীয়ার্ধে একাধিক পরিবর্তন আনেন ব্রাজিলের কোচ কার্লো আনচেলোত্তি। মাঠে আসেন গিমারায়েস, ডগলাস লুইজ়, স্যামুয়েল লিনোর মতো ফুটবলাররা। পরিবর্তিত দল নিয়েও ব্রাজিলের আক্রমণের ধার কমেনি।৫৮ মিনিটে বিজয়ের পা থেকে বল কেড়ে নেয় ব্রাজিল। দূর থেকে শক্তিশালী শটে গোল করেন স্যামুয়েল লিনো। ভারত তখন ৩-০ পিছিয়ে।তবে এই সময়েও ভারত লড়াই থেকে সরে যায়নি। ৬৪ মিনিটে রায়ান উইলিয়ামস ব্রাজিলের বক্সে ঢুকে পড়ে গোলের সুযোগ তৈরি করেন। তাঁর শট আটকে দেন ব্রাজিলের গোলরক্ষক মাউরো।এর কিছুক্ষণ পর রায়ান ও মনবীরের দারুণ বোঝাপড়ায় ফের সুযোগ তৈরি হয়। রায়ান বল বাড়ান মনবীরকে। পরে মনবীরের ক্রস ফের রায়ানের দিকে। চলতি বলে শট নিলেও বল অল্পের জন্য পোস্টের বাইরে দিয়ে চলে যায়।সেই মুহূর্তে যুবভারতীর গ্যালারিতে হয়তো অনেকেরই মনে হয়েছিলএকটি গোল অন্তত প্রাপ্য ভারতের।শেষ মুহূর্তেও গোলের ধাক্কাম্যাচের বাকি সময়ে দুদলই আক্রমণে উঠেছে। ভারত চেষ্টা করেছে ব্যবধান কমানোর, ব্রাজিল খুঁজেছে আরও গোল। শেষ পর্যন্ত সংযুক্তি সময়ের একেবারে শেষ দিকে চতুর্থ গোল পেয়ে যায় ব্রাজিল।লিনোর শট প্রভসুখন গিলের শরীরের নীচ দিয়ে গোলে ঢুকে যায়। স্কোরলাইন দাঁড়ায় ৪-০।চার গোলের ব্যবধান নিঃসন্দেহে বড়। কিন্তু ম্যাচের পুরো ছবিটা শুধু স্কোরলাইন দিয়ে বোঝা যাবে না। ভারতীয় দলের সবচেয়ে বড় সমস্যা ছিল গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে ব্যক্তিগত ভুল এবং আক্রমণে শেষ পাস বা ফিনিশিংয়ের অভাব।তার বিপরীতে ইতিবাচক দিকও কম নয়। বিশ্বমানের ফুটবলারদের বিরুদ্ধে ভারত ভয় পেয়ে গুটিয়ে থাকেনি। রায়ান, মনবীর, অভিষেক, বিজয়রা বারবার প্রতিপক্ষের অর্ধে উঠে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন। বিশেষ করে অভিষেকের ভিনিসিয়াসকে সামলানোর চেষ্টা এবং রায়ানের আক্রমণাত্মক মানসিকতা নজর কেড়েছে।সামনে আরও কঠিন পরীক্ষাব্রাজিলের বিরুদ্ধে ০-৪ হার দিয়ে ভারতের এই পর্ব শেষ হচ্ছে না। বরং সামনে আরও একটি কঠিন পরীক্ষা অপেক্ষা করছে। আগামী ৬ অক্টোবর উরুগুয়ের মুখোমুখি হবে ভারত।যুবভারতীর রাত ভারতের জন্য ফলের দিক থেকে হতাশার হলেও, লড়াইয়ের মানসিকতা পরের ম্যাচের আগে কিছুটা আত্মবিশ্বাস জোগাতেই পারে। চার গোলের ব্যবধানের আড়ালে তাই থেকে গেল অন্য এক ছবিবিশ্ব ফুটবলের অন্যতম শক্তিশালী দলের বিরুদ্ধে ভারতীয় ফুটবলারদের হার না মানা লড়াই।

অক্টোবর ০৩, ২০২৬
দেশ

তৃণমূলের চেয়ার এবার কাকলির হাতে! দোলার জায়গায় বিজেপি, সংসদে রদবদল ঘিরে তুমুল চর্চা

সংসদীয় স্থায়ী কমিটির পুনর্গঠনে তৃণমূল কংগ্রেসের হাতে থাকা দুটি গুরুত্বপূর্ণ চেয়ারম্যানের পদ হাতছাড়া হয়েছে। রাসায়নিক ও সার সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটির চেয়ারম্যান পদ থেকে সরানো হয়েছে তৃণমূল সাংসদ কীর্তি আজাদকে। তাঁর জায়গায় দায়িত্ব পেয়েছেন তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবির থেকে বেরিয়ে যাওয়া কাকলি ঘোষ দস্তিদার। অন্য দিকে, বাণিজ্য সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটির চেয়ারম্যান পদ থেকে সরানো হয়েছে তৃণমূল সাংসদ দোলা সেনকে। তাঁর জায়গায় চেয়ারম্যান করা হয়েছে বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ সুধাংশু ত্রিবেদীকে।শনিবার সংসদীয় স্থায়ী কমিটিগুলির পুনর্গঠনের পরই এই রদবদলের কথা প্রকাশ্যে আসে। রাজ্যসভার চেয়ারম্যান এবং লোকসভার স্পিকারের মাধ্যমে বিভিন্ন বিভাগের স্থায়ী কমিটির নতুন চেয়ারম্যানদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। ২০২৬-২৭ সালের জন্য পুনর্গঠিত কমিটিগুলির মধ্যে রাসায়নিক ও সার সংক্রান্ত কমিটির দায়িত্ব পেয়েছেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার। বাণিজ্য সংক্রান্ত কমিটির দায়িত্ব পেয়েছেন সুধাংশু ত্রিবেদী।এই বদলকে ঘিরে রাজনৈতিক গুরুত্ব তৈরি হয়েছে মূলত কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে কেন্দ্র করে। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর তৃণমূলের একদল সাংসদ দল ছেড়ে ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অব ইন্ডিয়ায় যোগ দেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, শতাব্দী রায়-সহ একাধিক সাংসদ। তাঁরা কেন্দ্রের এনডিএ সরকারকে সমর্থনের কথাও জানিয়েছিলেন। পরে সংসদে তাঁদের আসনেও পরিবর্তন করা হয়।এ বার সেই বিদ্রোহী শিবিরেরই অন্যতম মুখ কাকলি ঘোষ দস্তিদার তৃণমূলের সাংসদ কীর্তি আজাদের জায়গায় রাসায়নিক ও সার সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটির চেয়ারম্যান হয়েছেন। ফলে সংসদীয় কমিটির এই রদবদলকে ঘিরে তৃণমূলের অন্দরে এবং জাতীয় রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।অন্য দিকে, বাণিজ্য সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটির চেয়ারম্যান পদে দোলা সেনের জায়গায় এসেছেন বিজেপির সুধাংশু ত্রিবেদী। অর্থাৎ একই রদবদলে তৃণমূল দুটি গুরুত্বপূর্ণ চেয়ারম্যানের পদ হারাল। একটি পদ গেল বিজেপির হাতে, অন্যটি গেল তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবিরের নেত্রীর হাতে।তবে কাকলি ঘোষ দস্তিদার-সহ বিদ্রোহী সাংসদদের ভবিষ্যৎ সাংসদপদ এখনও পুরোপুরি চূড়ান্ত নয়। তৃণমূলের তরফে তাঁদের বিরুদ্ধে দলত্যাগ-বিরোধী আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন করা হয়েছে। লোকসভার সচিবালয় ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদকে তাঁদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের জবাব দেওয়ার জন্য ৮ অক্টোবর পর্যন্ত সময় দিয়েছে। তাঁদের সাংসদপদ বাতিল হবে কি না, সেই বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।ফলে এক দিকে সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে তৃণমূলের দুই চেয়ারম্যান পদ হাতছাড়া হওয়া, অন্য দিকে কাকলি ঘোষ দস্তিদারের গুরুত্বপূর্ণ কমিটির দায়িত্ব পাওয়া এবং একই সময়ে বিদ্রোহী সাংসদদের সদস্যপদ নিয়ে সিদ্ধান্ত ঝুলে থাকাসব মিলিয়ে সংসদে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হয়েছে।

অক্টোবর ০৩, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

মেয়েদের পর ছেলেরাও সোনা! মালয়েশিয়াকে ৫-১ উড়িয়ে ইতিহাস, অলিম্পিকের টিকিটও পাকা ভারতের

৪৪ বছর পর মেয়েদের হকিতে সোনা এসেছিল। এ বার পুরুষদের দলও সেই পথেই ইতিহাস গড়ল। মালয়েশিয়াকে ৫-১ গোলে হারিয়ে এশিয়ান গেমসে পুরুষ হকির সোনা ধরে রাখল ভারত। শুধু সোনাই নয়, এই জয়ের সঙ্গে ২০২৮ সালের অলিম্পিকের সরাসরি যোগ্যতাও অর্জন করল হরমনপ্রীত সিংয়ের দল। এশিয়ান গেমসের ইতিহাসে এই প্রথম একই আসরে ভারতের পুরুষ ও মহিলা হকি দল দুটিই সোনা জিতল। পুরুষ হকিতে পরপর দুবার সোনা জেতার নজিরও এই প্রথম ভারতের।শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিল ভারত। ১১ মিনিটে পেনাল্টি কর্নার থেকে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন অধিনায়ক হরমনপ্রীত সিং। তবে বেশিক্ষণ সেই ব্যবধান থাকেনি। পাল্টা আক্রমণ থেকে গোল করে সমতা ফেরায় মালয়েশিয়া। দ্বিতীয় কোয়ার্টারে আবার ভারতকে এগিয়ে দেন যুগরাজ সিং। ২৩ মিনিটে পেনাল্টি কর্নার থেকেই আসে সেই গোল।বিরতির পর একের পর এক সুযোগ তৈরি করছিল ভারত। ৪২ মিনিটে পেনাল্টি স্ট্রোক থেকে ব্যবধান বাড়ান হার্দিক সিং। এর পর ৫৪ মিনিটে শিলানন্দ লাকরা গোল করে ভারতের জয় প্রায় নিশ্চিত করে দেন। ম্যাচ শেষ হওয়ার তিন মিনিট আগে নিজের দ্বিতীয় গোল করে স্কোর ৫-১ করেন হরমনপ্রীত। ১৪টি পেনাল্টি কর্নার পেলেও ভারত তার মধ্যে তিনটি কাজে লাগাতে পেরেছে। শেষ পর্যন্ত বড় ব্যবধানে জয় নিয়েই সোনা নিশ্চিত করে ভারত।হকির পাশাপাশি কুস্তিতেও সোনা এসেছে। পুরুষদের ৫৭ কেজি ফ্রিস্টাইল বিভাগে উত্তর কোরিয়ার প্রতিপক্ষকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন আমন সেহরাওয়াত। এক সময় এগিয়ে থেকেও পরে পিছিয়ে পড়েছিলেন তিনি। শেষ মুহূর্তে দুরন্ত প্রত্যাবর্তন করে ম্যাচ জিতে নেন ভারতীয় কুস্তিগির। এই বিভাগে এশিয়ান গেমসে ভারতের প্রথম সোনা এনে দিয়েছেন আমন। অন্য দিকে মহিলাদের ৫৩ কেজিতে রুপো পেয়েছেন অন্তিম পাঙ্ঘাল। পুরুষদের ৯৭ কেজিতে ব্রোঞ্জ জিতেছেন দীপক পুনিয়া।তিরন্দাজিতেও ইতিহাস তৈরি হয়েছে। মাত্র ১৭ বছর বয়সে মহিলাদের ব্যক্তিগত রিকার্ভ বিভাগে সোনা জিতেছেন কুমকুম মহোদ। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে পাঁচ সেটের পর লড়াই ৫-৫ সমতায় শেষ হয়। শুট-অফে নিখুঁত ১০ পয়েন্ট তুলে সোনা নিশ্চিত করেন কুমকুম। এশিয়ান গেমসে মহিলাদের ব্যক্তিগত রিকার্ভে সোনা জেতা প্রথম ভারতীয় মহিলা তিরন্দাজ তিনি। পুরুষদের রিকার্ভে ব্রোঞ্জ পেয়েছেন নীরজ চৌহান।গলফেও এল ঐতিহাসিক সাফল্য। মহিলাদের ব্যক্তিগত বিভাগে ১৫ আন্ডার ২৬৫ স্কোর করে সোনা জিতেছেন প্রণবী উরস। এশিয়ান গেমসে এই বিভাগে ভারতের প্রথম সোনা এটি। দলগত বিভাগেও রুপো পেয়েছে ভারত।দিনের শেষে ক্রিকেটেও সোনার মুকুট পেল ভারত। পুরুষদের ফাইনালে পাকিস্তানকে ১৯ রানে হারিয়ে সোনা জিতেছে শ্রেয়স আইয়ারের নেতৃত্বাধীন দল। প্রথমে ব্যাট করে ভারত ৬ উইকেটে ২১১ রান তোলে। অভিষেক শর্মা ২৮ বলে ৬১ রান করেন। তিলক বর্মা ২২ বলে অপরাজিত ৫১ রান করেন। জবাবে পাকিস্তান ৬ উইকেটে ১৯২ রানেই থেমে যায়। হাসান নওয়াজ ৫১ বলে ৯৬ রান করে শেষ পর্যন্ত লড়াই করলেও পাকিস্তানকে জেতাতে পারেননি।এর ফলে এশিয়ান গেমসে ক্রিকেটের দুই সোনাই এ বার ভারতের দখলে। মহিলা দলও আগে সোনা জিতেছিল। হকি এবং ক্রিকেটের পাশাপাশি কুস্তি, তিরন্দাজি ও গলফে সাফল্য মিলিয়ে শেষ দিনে ভারতের সোনার সংখ্যা এক ধাক্কায় বেড়েছে। সব মিলিয়ে ২১টি সোনা, ২৭টি রুপো এবং ৩৭টি ব্রোঞ্জ-সহ মোট ৮৫টি পদক নিয়ে এশিয়ান গেমস শেষ করেছে ভারত। পদক তালিকায় চতুর্থ স্থানে রয়েছে ভারত।

অক্টোবর ০৩, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

এস্তেভাঁও-পেদ্রো-লিনোর গোলের ঝড়, তবু ভারতকে নিয়ে কেন আলোচনা? ব্রাজিলের বিরুদ্ধে যুবভারতীর ম্যাচে চমক

ব্রাজিলের বিরুদ্ধে স্বপ্নের ম্যাচ। ফল অবশ্য ভারতের পক্ষে গেল না। কলকাতার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে শনিবার আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে ভারতকে ৪-০ গোলে হারাল পাঁচ বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। এস্তেভাঁও, পেদ্রো এবং স্যামুয়েল লিনোর গোলে জয় নিশ্চিত করে কার্লো আনচেলোত্তির দল। তবে স্কোরলাইন যতই একপেশে হোক, ভারতের ফুটবলাররা বেশ কিছু সময়ে ব্রাজিলকে চাপে ফেলেছেন এবং একাধিক গোলের সুযোগও তৈরি করেছিলেন।বিশ্ব ক্রমতালিকায় ব্রাজিল পঞ্চম এবং ভারত ১৩৮ নম্বরে। ফলে ম্যাচ শুরুর আগে দুই দলের মধ্যে ব্যবধান ছিল স্পষ্ট। ভারতের সামনে ছিল দেশের মাটিতে ব্রাজিলের মতো শক্তিশালী দলের বিরুদ্ধে নিজেদের পরীক্ষা করার বিরল সুযোগ। শেষ পর্যন্ত হার এলেও ম্যাচের শুরুতে ভারত যথেষ্ট লড়াই করেছে। ব্রাজিল প্রথম গোল পায় ২৮ মিনিটে। এস্তেভাঁওয়ের বাঁ পায়ের শটে এগিয়ে যায় ব্রাজিল। ৪২ মিনিটে পেদ্রো ব্যবধান বাড়ান। প্রথমার্ধ শেষ হয় দুই গোলে পিছিয়ে থেকেই।দ্বিতীয়ার্ধে ভারত চেষ্টা চালিয়ে গেলেও ব্রাজিলের আক্রমণ সামলানো কঠিন হয়ে পড়ে। বদলি হিসেবে নামা স্যামুয়েল লিনো ৫৮ মিনিটে তৃতীয় গোল করেন। অতিরিক্ত সময়ে নিজের দ্বিতীয় গোল করে ভারতের বিপক্ষে ব্রাজিলের জয় ৪-০ করেন তিনি। ফলে বড় ব্যবধানে ম্যাচ শেষ হলেও ভারতের লড়াইয়ের কয়েকটি মুহূর্ত আলাদা করে নজর কেড়েছে।ভারতের আক্রমণেও সুযোগ এসেছিল। মনবীর সিং এবং রায়ান উইলিয়ামস গোল করার মতো পরিস্থিতি তৈরি করেছিলেন। কিন্তু ব্রাজিলের রক্ষণ এবং গোলরক্ষককে পরাস্ত করতে পারেননি তাঁরা। ম্যাচের বিভিন্ন সময়ে ভারত আক্রমণে উঠেছে এবং শুধু নিজেদের অর্ধে আটকে থাকেনি।রক্ষণেও আনোয়ার আলি ও আকাশ মিশ্রকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে দায়িত্ব সামলাতে দেখা যায়। ব্রাজিলের আক্রমণভাগে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের মতো তারকা থাকলেও ভারত শুরুতে তাঁদের গতির সঙ্গে পাল্লা দেওয়ার চেষ্টা করেছে। গোলরক্ষক গুরপ্রীত সিং সান্ধুও একাধিক বার ব্রাজিলের আক্রমণ ঠেকান।এই ম্যাচে ভারতীয় গোলরক্ষক প্রভসুখন সিং গিলেরও আন্তর্জাতিক অভিষেক হয়। ব্রাজিলের মতো দলের বিরুদ্ধে খেলাটাই তাঁর কাছে বড় অভিজ্ঞতা হয়ে থাকল। ভারতের কোচ খালিদ জামিলের কৌশল নিয়েও ম্যাচের আগে যথেষ্ট আলোচনা ছিল। পানামার বিরুদ্ধে আগের ম্যাচের পর ব্রাজিলের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে তাঁর দল কী ভাবে খেলবে, ছিল সেটাই বড় প্রশ্ন।ভারত শেষ পর্যন্ত গোলের মুখ খুলতে পারেনি এবং চার গোল হজম করেছে। কিন্তু দেশের মাটিতে ব্রাজিলের মতো দলের বিরুদ্ধে খেলার এই অভিজ্ঞতা ভারতীয় ফুটবলের জন্য আলাদা গুরুত্ব বহন করছে। সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনও ম্যাচটিকে ভারতের সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক ম্যাচ হিসেবে চিহ্নিত করেছিল।ফল ভারতের পক্ষে নয়, সেটাই সত্যি। কিন্তু যুবভারতীর সেই সন্ধ্যায় ব্রাজিলের মতো বিশ্বমানের দলের বিরুদ্ধে ভারতের ফুটবলাররা যে লড়াইয়ের কিছু ছবি রেখে গেলেন, সেটাই এখন আলোচনার অন্যতম বিষয়। ০-৪-এর স্কোরলাইন তাই ম্যাচটির পুরো গল্প বলে না।

অক্টোবর ০৩, ২০২৬
বিদেশ

ককপিটে হামলার পর যাত্রীরাই ধরলেন সহ-পাইলটকে! তারপর তাঁকে ছেড়ে দিতে কেন চাপ এসেছিল?

মাঝ আকাশে ককপিটে হামলা। তার পর যাত্রীদের তৎপরতায় আটক হলেন অভিযুক্ত সহ-পাইলট। তাঁকে হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছিল বলে দাবি যাত্রীদের। কিন্তু সেই সময় বিমানের অন্য কর্মীদের কয়েক জন তাঁকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য চাপ দিয়েছিলেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। ফ্লাইদুবাইয়ের দুবাই থেকে তেল আভিভগামী বিমানে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। তবে অন্য কর্মীরা কোনও ষড়যন্ত্রে যুক্ত ছিলেন, এমন কোনও প্রমাণ এখনও প্রকাশ্যে আসেনি। তদন্ত চলছে।ঘটনাটি ঘটে বুধবার ফ্লাইদুবাইয়ের একটি বিমানে। বিমানটি দুবাই থেকে তেল আভিভের দিকে যাচ্ছিল। অভিযোগ, ওমানের নাগরিক সহ-পাইলট হামাম আল-হামামি ককপিটে ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছরের উপর হামলা করেন। সংযুক্ত আরব আমিরশাহির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হামলায় ককপিটের জরুরি কুঠার ব্যবহার করা হয়েছিল এবং অভিযুক্ত সহ-পাইলট বিমানটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন।হামলার পর বিমানটি আচমকা নীচে নামতে শুরু করে। ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছর গুরুতর আহত অবস্থাতেও ককপিটের দরজা খুলতে সক্ষম হন। তখন কয়েক জন যাত্রী ভিতরে ঢুকে অভিযুক্ত সহ-পাইলটকে ধরে ফেলেন। পরে তাঁকে বেঁধে রাখা হয় বলে যাত্রীরা জানিয়েছেন। এই তৎপরতার ফলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। পরে অন্য দুই পাইলট বিমানটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করান।বিমানে থাকা দুই যাত্রী জিকা মানেস এবং ড্যানিয়েল স্লিখটার দাবি করেছেন, কয়েক জন যাত্রী মিলে হামামকে আটকেছিলেন। তাঁদের বক্তব্য, হেডফোনের তার এবং টেপ ব্যবহার করে তাঁকে বেঁধে রাখা হয়েছিল। কিন্তু এর পর বিমানের অন্য কয়েক জন কর্মী এসে তাঁকে ছেড়ে দেওয়ার কথা বলেছিলেন। কেন তাঁকে মুক্ত করার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছিল, তা তাঁরা বুঝতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন ওই যাত্রীরা।এই দাবিই এখন নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। তবে শুধু যাত্রীদের বক্তব্যের ভিত্তিতে বিমানের অন্য কর্মীদের বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ বা ষড়যন্ত্রের প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে, এমন তথ্য এখনও নেই। ফ্লাইদুবাইয়ের ওই কর্মীরা কেন অভিযুক্ত সহ-পাইলটকে ছেড়ে দেওয়ার কথা বলেছিলেন বলে যাত্রীরা দাবি করছেন, তা তদন্তের বিষয়।এদিকে হামাম আল-হামামির অতীত নিয়েও তদন্ত শুরু হয়েছে। একাধিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, এর আগে ওমানের বিমান সংস্থায় কাজ করার সময় তাঁর উগ্রপন্থী মতাদর্শ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল এবং তাঁকে উড়ান থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তবে তাঁর পরিচয় ও অতীত নিয়ে প্রকাশিত বিভিন্ন দাবির সবটাই এখনও সরকারি ভাবে নিশ্চিত হয়নি।সংযুক্ত আরব আমিরশাহির অ্যাটর্নি জেনারেল জানিয়েছেন, ঘটনাটিকে সন্ত্রাসবাদী হামলার চেষ্টা হিসেবে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তকারীরা হামলার উদ্দেশ্য, অভিযুক্ত সহ-পাইলটের অতীত এবং ঘটনায় আর কেউ জড়িত ছিলেন কি না, তা খতিয়ে দেখছেন।ফ্লাইদুবাই বিমানের এই ঘটনায় দ্রুত যাত্রীদের হস্তক্ষেপ এবং পরে অন্য পাইলটদের বিমান নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার ঘটনাই বড় বিপর্যয় এড়াতে সাহায্য করেছে। কিন্তু অভিযুক্ত সহ-পাইলটকে বেঁধে রাখার পর তাঁকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য কর্মীদের চাপ দেওয়ার যে দাবি যাত্রীরা করেছেন, সেটি তদন্তে কতটা সত্যি, এখন সেটাই বড় প্রশ্ন।

অক্টোবর ০৩, ২০২৬
কলকাতা

জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে কলকাতায় নামছে ককরোচ জনতা পার্টি? পুজোর পর কীসের প্রস্তুতি

দিল্লি, মুম্বইয়ের পর এবার কি কলকাতার রাস্তাতেও নামতে চলেছে ককরোচ জনতা পার্টি? মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে দুর্গাপুজোর পর কলকাতায় জনসভা করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে সূত্রের খবর। যদিও এখনও পর্যন্ত এই কর্মসূচির দিনক্ষণ বা স্থান চূড়ান্ত হয়নি।এর আগে নিট পরীক্ষার বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবিতে কলকাতায় আন্দোলনের পরিকল্পনা করেছিল ককরোচ জনতা পার্টি। তবে সেই কর্মসূচির অনুমতি মেলেনি বলে দাবি। এবার এসআইআর এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিকে সামনে রেখে কলকাতায় নতুন করে কর্মসূচি করার প্রস্তুতি চলছে বলে সূত্রের খবর।সূত্রের খবর, কলকাতায় প্রস্তাবিত কর্মসূচি নিয়ে তৃণমূলের সঙ্গেও যোগাযোগ করেছে ককরোচ জনতা পার্টির নেতৃত্ব। কোথায় এবং কবে সভা করা হবে, তা নিয়ে তৃণমূলের পাশাপাশি বাম ছাত্র সংগঠনের সঙ্গেও আলাদাভাবে যোগাযোগ করা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। ককরোচ জনতা পার্টির তরফে অভিজিৎ দীপকেরা এই বিষয়ে বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে কথা বলছেন বলে সূত্রের দাবি।এর মধ্যেই আগামী ১০ অক্টোবর দিল্লির যন্তর মন্তরে অবস্থান-বিক্ষোভ কর্মসূচির ঘোষণা করেছে ককরোচ জনতা পার্টি। ওই কর্মসূচিতে ইতিমধ্যেই বাম ছাত্র সংগঠনের সমর্থন মিলেছে বলে জানা গিয়েছে। ফলে দিল্লির পর কলকাতাতেও একই ধরনের কর্মসূচি ঘিরে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।তবে কলকাতায় ককরোচ জনতা পার্টির প্রস্তাবিত কর্মসূচিতে তৃণমূলের সাহায্যের খবর সামনে আসতেই তা নিয়ে কটাক্ষ করেছে সিপিএম। সংগঠনের এই উদ্যোগকে ঘিরে বামেদের তরফে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।এসএফআইয়ের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক সৃজন ভট্টাচার্য কটাক্ষ করে বলেন, স্যান্ডো গেঞ্জির আবার বুকপকেট। ওদের দলে কতজন আছে যে সহযোগিতা করবে। তাঁর দাবি, যন্তর মন্তরে নিট আন্দোলন থেকে শুরু করে ককরোচ জনতা পার্টির বিভিন্ন কর্মসূচিতে এসএফআই সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা করছে। কলকাতায় কর্মসূচির বিষয়ে সংগঠনের রাজ্য নেতৃত্বও কথা বলবে বলে জানিয়েছেন তিনি।ফলে দুর্গাপুজোর পর কলকাতায় ককরোচ জনতা পার্টির আদৌ কোনও সভা হয় কি না, হলে তাতে কারা যোগ দেন এবং এসআইআর ও জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিকে সামনে রেখে কী কর্মসূচি নেওয়া হয়, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

অক্টোবর ০৩, ২০২৬
রাজ্য

বারবার ধসে বন্ধ শিলিগুড়ি-সিকিমের পথ! এবার বদলে যাবে দশ নম্বর জাতীয় সড়ক, তৈরি হবে সুড়ঙ্গ-উঁচু সেতু

বর্ষা এলেই ধস, কখনও মাটি বসে যাওয়া, আবার কখনও যানজটে থমকে যায় পাহাড়ের গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা। শিলিগুড়ি থেকে সিকিম যাওয়ার অন্যতম প্রধান পথ দশ নম্বর জাতীয় সড়কের এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ শুরু হল। রংপো থেকে রানিপুল পর্যন্ত প্রায় ২৬ কিলোমিটার রাস্তার আমূল উন্নয়নের জন্য ৭০৬ কোটি ৬৩ লক্ষ টাকার প্রকল্পের দরপত্র ডেকেছে জাতীয় সড়ক ও পরিকাঠামো উন্নয়ন নিগম। সরকারি নথি অনুযায়ী, এই প্রকল্পে রাস্তা চওড়া করার পাশাপাশি একাধিক সুড়ঙ্গ, উঁচু সেতুপথ এবং ধসপ্রবণ এলাকায় বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।দশ নম্বর জাতীয় সড়কের রংপো থেকে রানিপুল অংশটির দৈর্ঘ্য প্রায় ২৫.৮৭ কিলোমিটার। বর্তমানে এই রাস্তার একাধিক অংশ বর্ষায় ধস এবং মাটি বসে যাওয়ার সমস্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়। নতুন প্রকল্পে বর্তমান রাস্তা দুই লেনে উন্নীত করা হবে। রাস্তার দুপাশে পাকা অংশও রাখা হবে। পাশাপাশি ধসপ্রবণ এবং মাটি বসে যাওয়ার এলাকাগুলিতে প্রয়োজনীয় স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হল এই প্রকল্পে একাধিক সুড়ঙ্গ এবং উঁচু সেতুপথ তৈরির পরিকল্পনা। পাহাড়ের যে অংশগুলিতে রাস্তা বারবার ধসের কবলে পড়ে বা মাটি বসে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, সেখানে নতুন পরিকাঠামোর মাধ্যমে ঝুঁকি কমানোর চেষ্টা করা হবে। ফলে প্রকল্পটি শুধু রাস্তা চওড়া করার কাজ নয়, বরং গোটা রংপো-রানিপুল পথের পরিকাঠামো নতুন করে সাজানোর পরিকল্পনা।এই প্রকল্পের জন্য দরপত্রের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়েছে ৩০ সেপ্টেম্বর। ৬ নভেম্বর থেকে দরপত্র জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হবে এবং ১৬ নভেম্বর পর্যন্ত তা জমা দেওয়া যাবে। ১৭ নভেম্বর দরপত্র খোলার কথা রয়েছে। প্রকল্পটি ইঞ্জিনিয়ারিং, ক্রয় ও নির্মাণ পদ্ধতিতে করার পরিকল্পনা হয়েছে। সরকারি নথিতে কাজের সময়সীমা ৪৭৪৫ দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।দার্জিলিঙের সাংসদ রাজু বিস্তা দীর্ঘদিন ধরেই দশ নম্বর জাতীয় সড়কের স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়ে আসছেন বলে জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, এই রাস্তা শুধু সিকিম বা কালিম্পংয়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নয়, উত্তর-পূর্ব ভারতের যোগাযোগ, পর্যটন, পণ্য পরিবহণ এবং সীমান্ত এলাকার অর্থনীতির ক্ষেত্রেও এর গুরুত্ব রয়েছে।বর্ষায় দশ নম্বর জাতীয় সড়কে ধস নামলে সিকিমের সঙ্গে সমতলের যোগাযোগ ব্যাহত হয়। পর্যটক থেকে স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী থেকে পণ্যবাহী গাড়িসবাইকে তার প্রভাব সামলাতে হয়। সেই কারণে নতুন প্রকল্পে রাস্তার নিরাপত্তা এবং সারা বছর যোগাযোগ সচল রাখার বিষয়টিকেই গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।সরকারি দরপত্রের নথিতে প্রকল্পটির আনুমানিক মূল্য ৭০৬ কোটি ৬৩ লক্ষ ৪০ হাজার ১৮৭ টাকা বলে উল্লেখ করা হয়েছে। দরপত্রের কাজের বিবরণে দুই লেনের রাস্তা, পাকা পাশের অংশ, সুড়ঙ্গ, উঁচু সেতুপথ এবং ধস ও মাটি বসে যাওয়ার প্রবণ এলাকার চিকিৎসার কথা স্পষ্ট ভাবে বলা হয়েছে।ফলে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে রংপো থেকে রানিপুল পর্যন্ত দশ নম্বর জাতীয় সড়কের চেহারা অনেকটাই বদলে যেতে পারে। পাহাড়ি পথে ধসের ঝুঁকি কমানো, যান চলাচল আরও মসৃণ করা এবং সিকিমের সঙ্গে সমতলের যোগাযোগ আরও নির্ভরযোগ্য করাই এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য।

অক্টোবর ০৩, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal