• ৮ কার্তিক ১৪৩৩, মঙ্গলবার ২৭ অক্টোবর ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

Calcutta High Court

কলকাতা

ভোটের আগে বড় সিদ্ধান্ত! বাইক নিয়ে কড়া নিষেধাজ্ঞা হাইকোর্টের

দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে বাইক চলাচল নিয়ে নতুন নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট । সোমবার থেকে বাইক মিছিল এবং একসঙ্গে একাধিক বাইক নিয়ে চলাফেরার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। বিচারপতি শম্পা সরকার-এর ডিভিশন বেঞ্চ এই নির্দেশ দেয়।এর আগে নির্বাচন কমিশনের তরফে বাইক চলাচল নিয়ে বিশেষ নির্দেশিকা জারি করা হয়েছিল। সেখানে বলা হয়েছিল, ভোটের ৭২ ঘণ্টা আগে থেকে কোনও বাইক মিছিল করা যাবে না । এছাড়া সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরের দিন সকাল ৬টা পর্যন্ত বাইক নিয়ে বাইরে বেরোনোর উপরও নিষেধাজ্ঞা ছিল। শুধুমাত্র জরুরি প্রয়োজনে, যেমন হাসপাতালে যাওয়া বা সন্তানকে স্কুল থেকে আনা, সেই ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হয়েছিল। বাইকের পিছনে যাত্রী বসানো নিয়েও কড়াকড়ি করা হয়েছিল।তবে এই নির্দেশের বিরুদ্ধে মামলা হলে বিচারপতি কৃষ্ণা রাও-এর সিঙ্গল বেঞ্চ সেই নিয়মে পরিবর্তন আনে। তিনি ৭২ ঘণ্টার বদলে ১২ ঘণ্টা আগে থেকে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার নির্দেশ দেন।এরপর নির্বাচন কমিশন এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে ডিভিশন বেঞ্চে যায়। নতুন নির্দেশে আদালত জানায়, দ্বিতীয় দফার ভোটের ৪৮ ঘণ্টা আগে থেকে দল বেঁধে বাইক চালানো যাবে না। তবে কেউ যদি একা বা স্বাভাবিকভাবে বাইক নিয়ে বেরোন, তাতে কোনও বাধা দেওয়া যাবে না।এই নির্দেশের ফলে ভোটের আগে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রশাসন আরও কড়া নজরদারি চালাবে বলে মনে করা হচ্ছে।

এপ্রিল ২৭, ২০২৬
দেশ

ট্রাইবুনালে কেন মাত্র ১৩৯ জনের নাম উঠল! এবার হাইকোর্টে যাওয়ার পথ দেখাল সুপ্রিম কোর্ট

এসআইআর মামলার শুনানিতে সুপ্রিম কোর্টে উঠে এল গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। ২৭ লক্ষ আবেদনের মধ্যে মাত্র ১৩৯টির নিষ্পত্তি হয়েছে বলে জানানো হয় আদালতে। এই পরিস্থিতিতে প্রয়োজন হলে হাই কোর্টে আবেদন করা যেতে পারে বলে জানিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।শুক্রবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হয়। তৃণমূলের পক্ষ থেকে আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আদালতে জানান, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে ট্রাইব্যুনালের কাজ চলছে, কিন্তু নিষ্পত্তির সংখ্যা খুবই কম।এই বিষয়ে প্রধান বিচারপতি বলেন, যদি প্রয়োজন হয়, তাহলে মামলাকারীরা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতির কাছে আবেদন করতে পারেন। ট্রাইব্যুনালে নাম সংক্রান্ত সমস্যার ক্ষেত্রেও হাই কোর্টে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে।এদিকে, প্রথম দফার ভোট নিয়েও এদিন আদালতে আলোচনা হয়। রাজ্যের পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রায় ৯২ শতাংশ ভোট পড়েছে এবং বহু পরিযায়ী শ্রমিকও এসে ভোট দিয়েছেন। বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী বলেন, বড় ধরনের কোনও হিংসার ঘটনা ঘটেনি।প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেন, একজন নাগরিক হিসেবে এত বেশি ভোটদানের হার দেখে তিনি খুশি। তাঁর মতে, মানুষ যখন ভোট দেয়, তখন গণতন্ত্র আরও শক্তিশালী হয়।কেন্দ্রের পক্ষ থেকে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহেতাও ভোটের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, এত বেশি ভোট পড়া একটি ঐতিহাসিক ঘটনা এবং মোটের উপর নির্বাচন শান্তিপূর্ণ হয়েছে। কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকাও তিনি প্রশংসা করেন।এই শুনানি ঘিরে একদিকে যেমন ভোট নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ হয়েছে, অন্যদিকে মামলার ধীরগতির বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগও সামনে এসেছে।

এপ্রিল ২৪, ২০২৬
কলকাতা

ইডির সমনে হাজিরা দিতে হবে সুজিত বসুকে! হাইকোর্টে বড় রায়

পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় তৃণমূল প্রার্থী সুজিত বসুকে ঘিরে নতুন মোড়। এই মামলায় তাঁকে বারবার তলব করেছিল তদন্তকারী সংস্থা। তবে আপাতত কিছুটা স্বস্তি পেলেন তিনি। আদালত জানিয়ে দিয়েছে, এখনই হাজিরা দিতে হবে না, তবে নির্দিষ্ট দিনে হাজিরা দিতেই হবে।দুবছর আগে এই মামলায় চার্জশিট জমা পড়লেও সেখানে সুজিত বসুর নাম ছিল না। তবুও ভোটের আগে থেকে তাঁকে একাধিকবার তলব করা হয়। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে তাঁকে বারবার সমন পাঠানো হচ্ছিল। একবার তিনি নিজে না গিয়ে নিজের ছেলেকে পাঠিয়েছিলেন, কিন্তু তা গ্রহণ করেনি তদন্তকারী সংস্থা।এরপর আবার তাঁকে নির্দিষ্ট দিনে হাজিরার জন্য ডাকা হয়। তিনি আদালতের দ্বারস্থ হয়ে আবেদন করেন, ভোট চলাকালীন তিনি প্রার্থী হওয়ায় এখন হাজিরা থেকে ছাড় দেওয়া হোক। তাঁর দাবি ছিল, ভোট শেষ হওয়ার পর তাঁকে ডাকা হোক। অন্যদিকে তদন্তকারী সংস্থার দাবি, তাঁকে বারবার ডাকা হলেও তিনি সহযোগিতা করছেন না।সব দিক বিবেচনা করে আদালত জানিয়েছে, আগামী ১ মে সকাল সাড়ে দশটায় তাঁকে হাজিরা দিতে হবে। নিজের জায়গায় অন্য কাউকে পাঠানো যাবে না। তবে যেহেতু তিনি ভোটে প্রার্থী, তাই এই সময়সীমা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে আদালত।

এপ্রিল ২৩, ২০২৬
কলকাতা

ভোটের আগে বাইক বন্ধ! কমিশনের সিদ্ধান্তে হাই কোর্টে মামলা

ভোটের দুদিন আগে স্পর্শকাতর এলাকায় বাইক চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করে বিতর্কে জড়াল নির্বাচন কমিশন। এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে এবার মামলা গড়াল কলকাতা হাই কোর্টে। বিচারপতি কৃষ্ণ রাওয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করে মামলা দায়েরের অনুমতি চাওয়া হলে তিনি সেই অনুমতি দিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। মামলাকারীর দাবি, এই নিষেধাজ্ঞার ফলে সাধারণ মানুষের ব্যাপক ভোগান্তি হতে পারে এবং তা পুনর্বিবেচনার প্রয়োজন রয়েছে।বৃহস্পতিবার রাজ্যের ১৫২টি বিধানসভা আসনে ভোট রয়েছে। তার আগে কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, স্পর্শকাতর এলাকাগুলিতে বাইক র্যালি ও মোটরসাইকেল মিছিল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, সন্ধ্যা ৬টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত বাইক চালানোও বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে জরুরি চিকিৎসা বা পারিবারিক প্রয়োজনের ক্ষেত্রে কিছু ছাড় রাখা হয়েছে।এছাড়া বাইকে আরোহী বসানো নিয়েও কড়া নিয়ম জারি করেছে কমিশন। সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত বাইকের পিছনে কাউকে বসানো যাবে না বলে জানানো হয়েছে। যদিও স্কুল পড়ুয়াদের যাতায়াত, চিকিৎসা বা জরুরি প্রয়োজনে এই নিয়মে কিছু ছাড় রয়েছে।এই নির্দেশ প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। তৃণমূলের অভিযোগ, এই সিদ্ধান্তে সাধারণ মানুষের অসুবিধা বাড়বে। বিশেষ করে যাঁরা ডেলিভারি পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত, তাঁদের উপর এর বড় প্রভাব পড়বে। এই পরিস্থিতিতে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ায় বিষয়টি আরও গুরুত্ব পেয়েছে।

এপ্রিল ২২, ২০২৬
কলকাতা

বেলডাঙা মামলায় হঠাৎ বড় মোড়! ডিভিশন বেঞ্চ থেকে সরে দাঁড়ালেন বিচারপতি

বেলডাঙা হিংসা মামলায় বড় পরিবর্তন ঘটল আদালতে। কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অরিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চ এই মামলা থেকে সরে দাঁড়িয়েছে। ফলে মামলাটি এখন প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের বেঞ্চে ফের পাঠানো হয়েছে।সূত্রের খবর, এনআইএ-র বিশেষ আদালতের একটি নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে এনআইএ এই ডিভিশন বেঞ্চে আবেদন করেছিল। কিন্তু শুনানির সময় বিচারপতি জানান, এই মামলায় ইউএপিএ বা বেআইনি কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইনের ধারা প্রযোজ্য হবে কি না, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার প্রধান বিচারপতির। তাই এই বেঞ্চে মামলার শুনানি এগোনো সম্ভব নয় বলে জানানো হয়।এই কারণেই মামলাটি ফের প্রধান বিচারপতির বেঞ্চে পাঠানো হয়েছে।বেলডাঙায় হিংসার ঘটনায় ১৫ জন অভিযুক্তকে আগেই জামিন দিয়েছিল এনআইএ-র বিশেষ আদালত। আদালতের বক্তব্য ছিল, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে চার্জশিট দাখিল না হওয়ায় এই জামিন দেওয়া হয়েছে। সেই সিদ্ধান্তকেই চ্যালেঞ্জ জানিয়ে এনআইএ হাইকোর্টে যায়।ঘটনার পেছনে রয়েছে এক পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে বেলডাঙায় তৈরি হওয়া উত্তেজনা। ওই মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়। রাস্তা অবরোধ, রেল অবরোধ এবং পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে লাঠিচার্জ করতে হয় এবং একাধিক জায়গায় ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে।পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে পরে এই মামলার তদন্তভার রাজ্য পুলিশের কাছ থেকে নিয়ে এনআইএ-র হাতে তুলে দেওয়া হয়। কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশেই শুরু হয় কেন্দ্রীয় সংস্থার তদন্ত।

এপ্রিল ২১, ২০২৬
রাজ্য

বেলডাঙা কাণ্ডে নতুন মোড়! জামিন নিয়ে হাই কোর্টে ছুটল এনআইএ

বেলডাঙা কাণ্ডে নতুন করে আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছে। জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ এবার কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে। আগে এনআইএ-র বিশেষ আদালত শর্তসাপেক্ষে ১৫ জন অভিযুক্তকে জামিন দিয়েছিল। সেই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েই উচ্চ আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। তাদের অভিযোগ, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মানা হয়নি এবং সেই কারণেই এই জামিন দেওয়া ঠিক হয়নি।আইন অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে চার্জশিট জমা দেওয়ার কথা থাকলেও, ৯০ দিন পেরিয়ে যাওয়ার পরেও এনআইএ চূড়ান্ত চার্জশিট জমা দিতে পারেনি। এমনকি তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কেও আদালতের প্রশ্নের সন্তোষজনক উত্তর দিতে পারেনি তারা। এই পরিস্থিতিতে অভিযুক্তদের আইনজীবীরা জামিনের আবেদন করেন। এরপর ১০ হাজার টাকার বন্ডে ১৫ জনের জামিন মঞ্জুর করে বিশেষ আদালত। যদিও তাঁদের চলাফেরার উপর বেশ কিছু শর্ত আরোপ করা হয়েছে।হাই কোর্টে এনআইএ-র বক্তব্য, তদন্ত চলাকালীন এইভাবে জামিন দেওয়া উচিত হয়নি। আদালতে প্রশ্ন ওঠে, যখন সুপ্রিম কোর্ট এই মামলাটি হাই কোর্টে ফেরত পাঠিয়েছে, তখন কীভাবে নিম্ন আদালত জামিন মঞ্জুর করল। এই বিষয়টি নিয়ে বিচারপতি অরিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় ও বিচারপতি অপূর্ব সিংহ রায়ের বেঞ্চে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আগামী শুনানিতে স্পষ্ট হবে, এই জামিন বহাল থাকবে নাকি হাই কোর্ট হস্তক্ষেপ করে নতুন নির্দেশ দেবে।উল্লেখযোগ্য, গত জানুয়ারি মাসে মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় এক পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যুকে ঘিরে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছিল। অভিযোগ ছিল, ঝাড়খণ্ডে ওই শ্রমিককে খুন করা হয়। সেই ঘটনার প্রতিবাদে বেলডাঙায় রেল ও জাতীয় সড়ক অবরোধ করা হয় এবং ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে। এমনকি সংবাদমাধ্যমের উপর হামলার অভিযোগও ওঠে। পরে রাজ্য পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে, যদিও এলাকায় উত্তেজনা বজায় ছিল।পরবর্তীতে কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশে এই ঘটনার তদন্তভার এনআইএ-র হাতে যায়। মোট ৩৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তাঁদের জেল হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেয় আদালত। এখন জামিনের প্রশ্নে নতুন করে এই মামলায় উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

এপ্রিল ২০, ২০২৬
রাজ্য

ভোটের আগে বড় আশঙ্কা! ৮০০ তৃণমূল কর্মী গ্রেপ্তার হতে পারেন, হাই কোর্টে ছুটল দল

ভোটের আগে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা ছড়াল। তৃণমূল কংগ্রেসের দাবি, বাংলার অন্তত আটশো কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হতে পারে। এই আশঙ্কা নিয়েই কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে দল। সোমবার প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল এবং বিচারপতি পার্থসারথি সেনের বেঞ্চে মামলা দায়েরের অনুমতি মিলেছে। আগামী বুধবার এই মামলার শুনানি হতে পারে বলে জানা গিয়েছে।গত বারোই এপ্রিল খণ্ডঘোষের সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই নিয়ে বড়সড় আশঙ্কার কথা জানিয়েছিলেন। তিনি অভিযোগ করেন, ভোট প্রক্রিয়ায় ধীর গতি আনা, গণনায় দেরি করা এবং প্রথমে ভুল ফল দেখানোর পরিকল্পনা রয়েছে। তাঁর দাবি, অনেককে গ্রেপ্তার করার চেষ্টা চলছে এবং মধ্যরাত থেকে অভিযান শুরু হতে পারে। তিনি আরও বলেন, যদি কোথাও দেখানো হয় যে অন্য দল জিতছে, তাহলে তা মিথ্যে হতে পারে। মমতার অভিযোগ, বিজেপির প্রভাবেই নির্বাচন কমিশন তৃণমূলের বিরুদ্ধে নানা পদক্ষেপ নিচ্ছে।এরপরই আইনি পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত নেয় তৃণমূল। সোমবার দলের পক্ষ থেকে আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আদালতে জানান, জাতীয় নির্বাচন কমিশন পুলিশের মাধ্যমে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গা থেকে প্রায় আটশো তৃণমূল কর্মীর নাম সংগ্রহ করেছে। তাঁদের গ্রেপ্তারের আশঙ্কা রয়েছে বলেই দাবি করেন তিনি। আদালতের কাছে দ্রুত হস্তক্ষেপের আবেদনও জানানো হয়।আদালত এই আবেদন মেনে মামলা দায়েরের অনুমতি দিয়েছে। একই সঙ্গে দ্রুত শুনানির আর্জিও গ্রহণ করা হয়েছে। ফলে আগামী বুধবার এই গুরুত্বপূর্ণ মামলার শুনানি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ভোটের আগে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।

এপ্রিল ২০, ২০২৬
কলকাতা

হাইকোর্টের বড় ধাক্কা! অধ্যাপকদের প্রিসাইডিং অফিসার করা যাবে না

ভোটের আগে বড় ধাক্কা খেল নির্বাচন কমিশন। কলেজের অধ্যাপকদের প্রিসাইডিং অফিসার হিসেবে নিয়োগের সিদ্ধান্ত খারিজ করে দিল হাইকোর্ট। আদালতের প্রশ্নের সন্তোষজনক উত্তর দিতে না পারায় কমিশনের জারি করা বিজ্ঞপ্তি বাতিল করা হয়েছে।এই মামলার শুনানি চলছিল বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের বেঞ্চে। শুনানির সময় বিচারপতি কড়া ভাষায় কমিশনকে ভর্ৎসনা করেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, কেন কলেজের অধ্যাপকদের এই দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে, তার কোনও স্পষ্ট ব্যাখ্যা নেই। আগের দিনই কমিশনের কাছে এই বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছিল, কিন্তু নির্দিষ্ট কারণ দেখাতে পারেনি তারা।কমিশনের তরফে যুক্তি দেওয়া হয়েছিল, ভোটের আগে নতুন করে লোক নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ দেওয়া সম্ভব নয়। তবে আদালত সেই যুক্তি মানতে রাজি হয়নি। বিচারপতির মতে, শুধু সময়ের অভাব দেখিয়ে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না।শুক্রবারের শুনানিতে কমিশন সন্তোষজনক জবাব দিতে ব্যর্থ হয়। এরপরই আদালত স্পষ্ট নির্দেশ দেয়, কলেজের অধ্যাপকদের প্রিসাইডিং অফিসার হিসেবে নিয়োগ করা যাবে না এবং সেই সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি বাতিল করা হল।তবে ইতিমধ্যে যাঁরা প্রশিক্ষণ নিয়েছেন বা প্রশিক্ষণে অংশ নিয়েছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে এই রায় প্রযোজ্য হবে না। যাঁরা এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন, সেই অধ্যাপকদের ভোটের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, যাঁরা আপত্তি জানাননি এবং প্রশিক্ষণ নিয়েছেন, তাঁরা চাইলে ভোটের কাজে যুক্ত থাকতে পারবেন।উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, আগে কখনও অধ্যাপকদের প্রিসাইডিং অফিসার হিসেবে নিয়োগ করা হয়নি। সাধারণত এই পদে যাঁরা থাকেন, তাঁদের ব্লক স্তরের প্রশাসনিক আধিকারিকদের অধীনে কাজ করতে হয়। কিন্তু অধ্যাপকদের পদমর্যাদা বেশি হওয়ায় সেই নিয়মের সঙ্গে এই নিয়োগ সাংঘর্ষিক বলে মনে করা হচ্ছে।

এপ্রিল ১৮, ২০২৬
কলকাতা

ভোটের আগে বড় স্বস্তি তৃণমূল প্রার্থীকে, পুলিশের হাত আপাতত বাঁধল আদালত

ভোটের আগে নন্দীগ্রামের রাজনৈতিক লড়াইয়ের মাঝেই আদালত থেকে বড় স্বস্তি পেলেন তৃণমূল প্রার্থী পবিত্র কর। বৃহস্পতিবার বিচারপতি অজয় কুমার মুখোপাধ্যায় নির্দেশ দিয়েছেন, আপাতত তাঁর বিরুদ্ধে কোনও কড়া পদক্ষেপ নিতে পারবে না পুলিশ। তবে একই সঙ্গে আদালত জানিয়েছে, তদন্ত চালিয়ে যেতে কোনও বাধা নেই।২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম কেন্দ্র থেকে বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে লড়ছেন পবিত্র কর। বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেওয়ার দিনই তাঁকে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়, ফলে এই কেন্দ্রের লড়াই আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।এরই মধ্যে হুমকি ও ছিনতাইয়ের অভিযোগে পবিত্র করের বিরুদ্ধে একটি এফআইআর দায়ের হয়। সেই এফআইআর খারিজ করার আবেদন জানিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হন তিনি। নন্দীগ্রামে প্রথম দফাতেই ভোট রয়েছে ২৩ এপ্রিল, তাই তার আগেই মামলার শুনানি চেয়েছিলেন তৃণমূল প্রার্থী। বৃহস্পতিবার সেই মামলারই শুনানি হয়।বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর অভিযোগের ভিত্তিতেই এই মামলা দায়ের হয়। তিনি দাবি করেন, পবিত্র কর বিজেপির প্রতীকে পঞ্চায়েত সদস্য হয়েও তৃণমূলের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে লড়ছেন, যা আইনসিদ্ধ নয়। পাশাপাশি নন্দীগ্রামে অশান্তি তৈরির অভিযোগও তোলেন তিনি।এই অভিযোগের জবাবে পবিত্র কর পাল্টা আক্রমণ করেছেন। তাঁর দাবি, নন্দীগ্রামে যে সব মামলা ও সমস্যা তৈরি হচ্ছে, তার পিছনে শুভেন্দু অধিকারীরই ভূমিকা রয়েছে। তিনি আরও বলেন, ভোটের ফল বেরোলেই সব হিসেব মিটে যাবে।সব মিলিয়ে ভোটের আগে এই ঘটনা নন্দীগ্রামের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে।

এপ্রিল ১৬, ২০২৬
কলকাতা

ভোটের আগে বড় ধাক্কা! নির্বাচন কমিশনকে চ্যালেঞ্জ করা মামলা খারিজ

ভোটের মুখে বড় ধাক্কা। নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে করা দুটি জনস্বার্থ মামলা খারিজ করে দিল কলকাতা হাইকোর্ট। প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের নেতৃত্বাধীন ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, এই মামলাগুলিতে উপযুক্ত যুক্তি দেখানো যায়নি।রাজ্যে আইএএস এবং আইপিএস আধিকারিকদের ব্যাপক বদলির বিরুদ্ধে স্থগিতাদেশ চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন এক আইনজীবী। গত পনেরো মার্চ থেকে উনিশ মার্চের মধ্যে নির্বাচন কমিশন ছেচল্লিশ জন আধিকারিককে বদলি করেছিল। সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপত্তি জানিয়ে মামলা করা হয় এবং বদলি হওয়া আধিকারিকদের পুনর্বহালের দাবিও তোলা হয়েছিল। এই মামলায় রাজ্য সরকারও সমর্থন জানিয়েছিল। তবে আদালত সেই আবেদন খারিজ করে দেয়।একই সঙ্গে বিডিও, আইসি এবং ওসি পদে বদলি নিয়েও আর একটি মামলা করা হয়েছিল। সেই মামলাটিও খারিজ করে দেন বিচারপতিরা। আদালতের পর্যবেক্ষণ, নির্বাচন কমিশনের এই ধরনের প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করার মতো কোনও যুক্তিসঙ্গত কারণ পাওয়া যায়নি।রায়ে আদালত জানায়, মামলাকারী ব্যক্তিগতভাবে কোনও ক্ষতির মুখে পড়েননি, ফলে এই আবেদনকে জনস্বার্থ মামলা হিসেবে গ্রহণ করা যায় না। এছাড়া নির্বাচন কমিশনের আধিকারিক বদলির সিদ্ধান্তকে ইচ্ছাকৃত বা অযৌক্তিক বলেও মনে করেনি আদালত। দেশে অন্যান্য জায়গাতেও একই ধরনের বদলি হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।আদালত আরও জানায়, যদি কোনও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ বেআইনি বা ক্ষমতার বাইরে গিয়ে নেওয়া হয়, তবেই আদালত হস্তক্ষেপ করতে পারে। এই ক্ষেত্রে তেমন কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তাই মামলাটি খারিজ করা হয়েছে।পাশাপাশি আদালত স্পষ্ট করে দেয়, কোনও আধিকারিক যদি ব্যক্তিগতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন, তাহলে তিনি আলাদাভাবে নিজের বদলির বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিতে পারবেন।এই রায়ের ফলে ভোটের আগে প্রশাসনিক বদলি নিয়ে তৈরি হওয়া জট অনেকটাই কাটল বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।মেটা বিবরণ: ভোটের আগে বড় ধাক্কা, নির্বাচন কমিশনের আধিকারিক বদলি নিয়ে করা দুটি জনস্বার্থ মামলা খারিজ করল কলকাতা হাইকোর্ট। কমিশনের সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপে অস্বীকৃতি আদালতের।

মার্চ ৩১, ২০২৬
কলকাতা

প্রার্থী হয়েও ভোটার তালিকায় নাম নেই! হাইকোর্টে চাঞ্চল্য, সুপ্রিম কোর্টে ছুটছেন কংগ্রেস প্রার্থী

মুর্শিদাবাদের ফরাক্কা কেন্দ্রের কংগ্রেস প্রার্থী মহতাব শেখকে ঘিরে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রার্থী হিসেবে নাম ঘোষণা হলেও তাঁর নাম নাকি এসআইআর তালিকায় নেই। এই বিষয়েই কলকাতা হাইকোর্টের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তাঁর আইনজীবী।মামলাকারীর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, একজন প্রার্থী হয়েও যদি তাঁর নাম ভোটার যাচাইয়ের তালিকায় না থাকে, তা হলে তা গুরুতর বিষয়। পাশাপাশি আরও জানানো হয়, এই সংক্রান্ত ট্রাইবুনাল এখনও কাজ শুরু করতে পারেনি। তাই আদালতের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন বলেই আবেদন করা হয়।তবে প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, এসআইআর সংক্রান্ত সমস্ত মামলার শুনানি বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টেই হচ্ছে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ রয়েছে, এই ধরনের মামলার শুনানি কোনও হাইকোর্ট করতে পারবে না। কলকাতা হাইকোর্ট শুধু প্রশাসনিক দিকটি দেখছে। তাই আবেদনকারীকে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। জানা গিয়েছে, আগামী পয়লা এপ্রিল মহতাব শেখ সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জানাবেন।এই ঘটনার মধ্যে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক সামনে এসেছে। তৃণমূল কংগ্রেসের একাধিক প্রার্থীও এখনও এসআইআর তালিকায় বিবেচনাধীন রয়েছেন। কাজল শেখ এবং শশী পাঁজার নাম দ্বিতীয় তালিকায় উঠে এলেও এখনও আরও কয়েকজনের নাম নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।ভোটার তালিকা সংশোধনকে ঘিরে এই বিষয়টি বড় বিতর্ক তৈরি করেছে। তৃণমূলের অভিযোগ, নির্বাচন কমিশন ইচ্ছাকৃতভাবে কিছু ভোটারকে আলাদা করে যাচাইয়ের জন্য রেখেছে। বিশেষ করে উত্তর কলকাতার একাংশে এই সমস্যা বেশি দেখা যাচ্ছে বলে দাবি।এই নিয়ে জনসভা থেকেও সরব হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, বিজেপির প্রভাবে নির্বাচন কমিশন তৃণমূলের সম্ভাব্য জয়ী প্রার্থী এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার চেষ্টা করছে বা জটিলতা তৈরি করছে।এদিকে সূত্রের খবর, এই বিষয় নিয়ে তৃণমূল নির্বাচন কমিশনের কাছে লিখিত অভিযোগ জানাতে চলেছে। যদিও নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত এই বিষয়ে কোনও স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। ফলে ভোটের আগে এই বিতর্ক আরও বাড়তে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।

মার্চ ৩০, ২০২৬
কলকাতা

রাতবিরেতে বদলির নোটিস! নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে বড় চ্যালেঞ্জ

ভোটের আগে প্রশাসনে একের পর এক বদলিকে ঘিরে বিতর্ক তীব্র হয়েছে। কখনও সকাল, কখনও গভীর রাতে অফিসারদের বদলির নোটিস পাঠানো হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মুখ্যসচিব থেকে শুরু করে জেলাশাসক, রাজ্য পুলিশের ডিজি থেকে পুলিশ সুপারবিভিন্ন স্তরে এই বদলি করা হচ্ছে। অনেক অফিসারকে আবার অন্য রাজ্যে পর্যবেক্ষক হিসেবে পাঠানো হয়েছে বলেও অভিযোগ।এই বিষয় নিয়ে আগেই একাধিকবার চিঠি দিয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার সেই বিতর্ক পৌঁছল কলকাতা হাইকোর্টে।একটি আবেদনে দাবি করা হয়েছে, নির্বাচন কমিশনের কাজ নির্বাচন পরিচালনা করা। কিন্তু প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের শীর্ষ আধিকারিকদের অন্য রাজ্যে পাঠানোর অধিকার তাদের নেই। এই সিদ্ধান্তের ফলে রাজ্যের প্রশাসনিক কাজ ব্যাহত হচ্ছে বলেও অভিযোগ তোলা হয়েছে।এই মামলার আবেদন জানান আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির দৃষ্টি আকর্ষণ করে দ্রুত শুনানির আর্জি জানান। আদালত মামলার অনুমতি দিয়েছে এবং আগামী সোমবার শুনানির দিন ধার্য হয়েছে।এই ঘটনার পর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এসেছে। নির্বাচন কমিশন এবং হাইকোর্টদুটি প্রতিষ্ঠানই সাংবিধানিক। সেই ক্ষেত্রে কমিশনের সিদ্ধান্তের উপর হাইকোর্ট স্থগিতাদেশ দিতে পারে কি না, তা নিয়েই এখন জোর চর্চা শুরু হয়েছে।

মার্চ ২০, ২০২৬
কলকাতা

যৌন হেনস্থার অভিযোগে বিতর্কিত আইনজীবী ফিরদৌস শামিম, আপাতত গ্রেফতারি থেকে রক্ষা

সহকর্মী এক মহিলা আইনজীবীকে যৌন হেনস্থার অভিযোগে অভিযুক্ত আইনজীবী ফিরদৌস শামিম আপাতত গ্রেফতারি থেকে স্বস্তি পেলেন। আগামী একত্রিশ মার্চ পর্যন্ত তাঁকে গ্রেফতার করা যাবে না বলে নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। বিচারপতি জয় সেনগুপ্ত এই নির্দেশ দিয়েছেন।অভিযোগ সামনে আসার পরই ফিরদৌস শামিম কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। তিনি আগাম জামিনের আবেদন করেন। বুধবার বিচারপতি জয় সেনগুপ্তের এজলাসে সেই মামলার শুনানি হয়। শুনানির সময় ফিরদৌসের আইনজীবী আদালতে জানান, তাঁর মক্কেলের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে। এর পরই বিচারপতি আপাতত তাঁকে গ্রেফতার না করার নির্দেশ দেন।অভিযোগকারী মহিলা আইনজীবীর দাবি, তিনি জুনিয়র হিসেবে ফিরদৌস শামিমের চেম্বারে কাজ শুরু করেছিলেন। সেখানেই তাঁকে শ্লীলতাহানি ও যৌন হেনস্থা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।এই ঘটনার পর হেয়ার স্ট্রিট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ওই মহিলা আইনজীবী। অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশের তরফে তদন্ত শুরু হয়। কলকাতা পুলিশের ডিসি সেন্ট্রাল ইন্দিরা মুখোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন, এক মহিলা আইনজীবী ফিরদৌস শামিমের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থা, অশ্লীল আচরণ এবং কুরুচিকর মন্তব্যের অভিযোগ করেছেন।সেই অভিযোগের ভিত্তিতে হেয়ার স্ট্রিট থানায় একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার চুয়াত্তর, পঁচাত্তর, ঊনআশি, তিনশো একান্ন উপধারা দুই এবং একশো ছাব্বিশ উপধারা দুই ধারায় শ্লীলতাহানি, যৌন হেনস্থা, অশ্লীল আচরণ, অপরাধমূলক ভয় দেখানো এবং অন্যায়ভাবে আটকে রাখার অভিযোগে মামলা হয়েছে।তবে শুরু থেকেই নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ফিরদৌস শামিম। তাঁর দাবি, তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। এখন আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী আপাতত একত্রিশ মার্চ পর্যন্ত তাঁকে গ্রেফতার করা যাবে না। মামলার পরবর্তী শুনানির দিকেই এখন নজর রয়েছে।

মার্চ ১২, ২০২৬
কলকাতা

ভোটার তালিকা নিয়ে বড় পদক্ষেপ! সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে ট্রাইবুনাল, কলকাতা হাইকোর্টে জরুরি বৈঠক আজ

ভোটার তালিকা নিয়ে জটিলতা বাড়তেই বড় পদক্ষেপ করল দেশের সর্বোচ্চ আদালত। সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চ এসআইআর মামলায় ট্রাইবুনাল গঠনের নির্দেশ দিয়েছে। বিচারাধীন ভোটারদের সমস্যার দ্রুত সমাধান করতে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির পরামর্শে এই ট্রাইবুনাল বেঞ্চ তৈরি করার কথা বলা হয়েছে।সেই নির্দেশ মেনে বৃহস্পতিবার কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের সঙ্গে বৈঠকে বসতে চলেছে নির্বাচন কমিশনের সিইও দফতর। প্রাথমিকভাবে জানা যাচ্ছে, অতিরিক্ত তালিকা এবং ট্রাইবুনাল গঠন নিয়েই মূলত আলোচনা হতে পারে।ভোটার তালিকা থেকে বহু মানুষের নাম বাদ পড়ার ঘটনায় রাজ্য সরকার সুপ্রিম কোর্টের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল। তবে সেই মামলাটি ফিরিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দেন প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত। রাজ্যের আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামীকে তিনি বলেন, বিচারকদের যেন কোনওভাবে প্রশ্নের মুখে না ফেলা হয়।এর আগে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশেই বিচারকদের তদারকিতে এসআইআর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। কিন্তু প্রায় ৬০ লক্ষ নাম এখনও অমীমাংসিত তালিকায় রয়ে যাওয়ায় আবারও বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টের নজরে আনা হয়। তখনই প্রশ্ন ওঠে, বিচারিক আধিকারিকদের নেওয়া সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল কোথায় করা যাবে।এই পরিস্থিতিতেই সুপ্রিম কোর্ট ট্রাইবুনাল গঠনের নির্দেশ দেয়। অমীমাংসিত তালিকায় থাকা ভোটারদের বিষয়ে বিচারিক আধিকারিকরা যে সিদ্ধান্ত নেবেন, তার বিরুদ্ধে আপিল করতে হলে সেই ট্রাইবুনালের কাছেই আবেদন জানাতে হবে।সুপ্রিম কোর্টের সেই নির্দেশ কার্যকর করার পথেই আজ কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির সঙ্গে বৈঠক করতে চলেছে নির্বাচন কমিশন।অন্যদিকে, রাজ্যের রিজার্ভ ব্যাঙ্ক এবং স্টেট লেভেল ব্যাংকার্স কমিটির প্রধানদের দিল্লিতে ডেকে পাঠিয়েছে নির্বাচন কমিশন। সম্প্রতি রাজ্য সফরে এসে ওই দুই সংস্থার কাজ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিল কমিশনের পূর্ণ বেঞ্চ। তার পরেই তাদের দিল্লিতে তলব করা হয়েছে।কমিশন সূত্রে খবর, চলতি সপ্তাহেই ওই সংস্থার আধিকারিকদের সঙ্গেও আবার বৈঠকে বসতে পারে নির্বাচন কমিশন। ভোটার তালিকা নিয়ে চলা এই বিতর্কের মাঝেই একের পর এক বৈঠক ঘিরে এখন নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে।

মার্চ ১২, ২০২৬
কলকাতা

বড় নির্দেশ হাইকোর্টের, এসআইআর ঘিরে রাজ্যের সব বিচারকের ছুটি বাতিল

এসআইআর সংক্রান্ত কাজ এবার বিচার বিভাগের তদারকিতেই হবে। এই পরিস্থিতিতে রাজ্যের সমস্ত বিচারকের ছুটি বাতিল করার নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, অসুস্থতা ছাড়া কোনও বিচারক ছুটি নিতে পারবেন না। এসআইআর প্রক্রিয়ার শেষ পর্যায়ে বড় দায়িত্ব বিচার বিভাগের উপর দেওয়ার পরই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আগে নির্দেশ দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট।এসআইআর-এর কাজ দ্রুত ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে নিম্ন আদালতের কাজ স্বাভাবিক রাখতে এই নির্দেশ জারি করা হয়েছে। হাইকোর্ট প্রত্যেক জেলায় জেলা বিচারক, জেলা শাসক ও পুলিশ সুপারকে নিয়ে কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছে। পাশাপাশি প্রায় আড়াইশো বিচারকের একটি তালিকাও প্রকাশ করা হয়েছে। কমিশনের তরফে প্রতিটি বিধানসভা এলাকায় একজন করে বিচার বিভাগীয় আধিকারিক চাওয়া হয়েছিল এবং সেই তালিকা হাইকোর্টের রেজিস্ট্রার ইতিমধ্যেই কমিশনের কাছে পাঠিয়েছেন।জানা গিয়েছে, মাদক ও পকসো সংক্রান্ত আদালতের প্রায় একশো বিচারক এবং অন্যান্য মামলার দেড়শো বিচারকের নাম এই তালিকায় রয়েছে। কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের বিষয়েও শীঘ্রই একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হওয়ার কথা। সেখানে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক, বিশেষ পর্যবেক্ষক, পুলিশের শীর্ষ আধিকারিক এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকবেন।এসআইআর সংক্রান্ত মামলার শুনানির সময় সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সূর্য কান্ত বিশেষ পরিস্থিতিতে ব্যতিক্রমী নির্দেশের কথা উল্লেখ করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, জেলা বিচারক বা অতিরিক্ত জেলা বিচারকদের বিচার বিভাগীয় আধিকারিক হিসেবে নিয়োগ করা যেতে পারে এবং তাঁদের কাজে কোনও বাধা বা অসম্মান বরদাস্ত করা হবে না। সব প্রশাসনিক স্তরকে বিচার বিভাগীয় আধিকারিকদের কাজে সহযোগিতা করার নির্দেশও দেওয়া হয়।

ফেব্রুয়ারি ২২, ২০২৬
কলকাতা

‘মায়ের কাছেই সন্তান’ ধারণায় ধাক্কা! বাবার হাতেই আট বছরের ছেলের দায়িত্ব দিল হাইকোর্ট

বিবাহবিচ্ছেদের মামলায় সাধারণত ছোট সন্তানের দায়িত্ব মায়ের কাছেই দেওয়া হয়। যুক্তি থাকে, মায়ের অভাব শিশুমনে গভীর প্রভাব ফেলতে পারে। কিন্তু এবার সেই প্রচলিত ধারণা থেকে সরে এসে গুরুত্বপূর্ণ রায় দিল কলকাতা হাইকোর্ট। নিম্ন আদালতের নির্দেশ স্থগিত করে আট বছরের এক শিশুপুত্রের দায়িত্ব বাবার হাতেই তুলে দিল হাইকোর্ট।বর্ধমানের বাসিন্দা সজল ও মৌসুমীর (নাম পরিবর্তিত) বিবাহবিচ্ছেদের মামলা চলছিল। তাঁদের আট বছরের ছেলের দায়িত্ব কার কাছে থাকবে, তা নিয়েও আইনি লড়াই শুরু হয়। নিম্ন আদালত সন্তানের দায়িত্ব মায়ের হাতে তুলে দিয়েছিল। আদালতের যুক্তি ছিল, মা উচ্চশিক্ষিতা এবং তাঁর কাছেই সন্তানের ভবিষ্যৎ নিরাপদ। পাশাপাশি বলা হয়েছিল, মায়ের অভাব শিশুমনে দাগ ফেলতে পারে।এই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে বাবা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। মামলাটি শোনেন বিচারপতি সব্যসাচী ভট্টাচার্য এবং বিচারপতি সুপ্রতীম ভট্টাচার্য-র ডিভিশন বেঞ্চ। হাইকোর্ট নিম্ন আদালতের পর্যবেক্ষণ খারিজ করে জানায়, আবেগের চেয়ে বাস্তব পরিস্থিতি বেশি গুরুত্বপূর্ণ। গত পাঁচ বছর ধরে শিশু বাবার সঙ্গেই রয়েছে এবং স্বাভাবিক জীবনযাপন করছে। তার পড়াশোনার জন্য গৃহশিক্ষকও রয়েছে। তাই হঠাৎ করে পরিবেশ বদল করা যুক্তিযুক্ত নয়।হাইকোর্ট পর্যবেক্ষণে আরও জানায়, বাবা-মায়ের বয়স তিরিশের কিছু বেশি। তাঁদের মধ্যে ইগোর লড়াই চলছে এবং একে অপরের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা করা হচ্ছে। ২০২১ সাল থেকে তাঁরা আলাদা থাকছেন। মায়ের আইনজীবী উদয় শঙ্কর ভট্টাচার্য জানান, সন্তানের বয়স যখন তিন, তখন মা বাপের বাড়িতে চলে আসেন। পরে বাবা সন্তানের দায়িত্ব নিজের কাছে নিয়ে নেন। এরপর থেকেই সন্তানের হেফাজত নিয়ে আইনি লড়াই শুরু হয়।নিম্ন আদালতে শিশুর সঙ্গে কথা বলা হলে সে জানায়, সে বাবা ও মা দুজনকেই চায়। তারপরও নিম্ন আদালত সন্তানের দায়িত্ব মায়ের হাতে দেয়। তবে হাইকোর্ট জানায়, শুধুমাত্র মা উচ্চশিক্ষিতা বলেই সন্তানের ভবিষ্যৎ ভালো হবে, এমন ধারণা সঠিক নয়।নতুন নির্দেশ অনুযায়ী, আপাতত সন্তান বাবার কাছেই থাকবে। তবে মা প্রতি শনিবার বিকেলে ছেলেকে নিজের কাছে নিয়ে যেতে পারবেন এবং রবিবার সন্ধ্যা সাতটার মধ্যে বাবার বাড়িতে ফিরিয়ে দিতে হবে। নির্দেশ না মানলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। একই সঙ্গে মামলাটি হাইকোর্টের মীমাংসা কমিটিতে পাঠানো হয়েছে। আদালতের আশা, আলোচনার মাধ্যমে ভবিষ্যতে দম্পতি সম্পর্কের সমাধান খুঁজে পেতে পারেন।এই রায়কে আইনজীবী মহল গুরুত্বপূর্ণ নজির হিসেবে দেখছে। কারণ, সন্তানের হেফাজতের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র প্রচলিত ধারণা নয়, বাস্তব পরিস্থিতিকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২৬
কলকাতা

পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চ থেকে ডিভিশন বেঞ্চে কী ভাবে এল মামলা? প্রশ্নে সরব হাই কোর্ট

ভোট-পরবর্তী হিংসা সংক্রান্ত মামলার বিচার কী ভাবে পাঁচ বিচারপতির বৃহত্তর বেঞ্চ থেকে হঠাৎ করে ডিভিশন বেঞ্চে চলে এল, তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলল কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ। প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের বেঞ্চে শুক্রবার এই সংক্রান্ত মোট ১৪টি মামলা শুনানির জন্য ওঠে। তার মধ্যে ভোট-পরবর্তী হিংসায় ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত মামলাও ছিল।ওই মামলায় মামলাকারী তথা আইনজীবী প্রিয়াঙ্কা টিবরেওয়াল শুনানির আবেদন জানাতেই প্রধান বিচারপতি প্রশ্ন তোলেন, যে মামলা পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চে শুনানি হয়ে রায় পর্যন্ত হয়েছে, তা কী ভাবে কোনও নতুন নির্দেশ ছাড়াই ডিভিশন বেঞ্চে ফিরে এল। আদালতে এই প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর দিতে পারেননি সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা।এর পরেই প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ রেজিস্ট্রিকে নির্দেশ দেয়, ভবিষ্যতে এই ধরনের পরিস্থিতিতে আদালতকে সঠিক দিশা দেখানোর ব্যবস্থা করতে হবে। পাশাপাশি, মামলার সঙ্গে যুক্ত সমস্ত পক্ষের আইনজীবীদের এতদিনে দেওয়া সব রায় ও নির্দেশ খতিয়ে দেখে আদালতকে পরামর্শ দিতে বলা হয়েছে। আগামী সপ্তাহে এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে বলে জানানো হয়েছে।উল্লেখ্য, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর রাজ্যে ভোট-পরবর্তী হিংসার অভিযোগ ওঠে। ফলপ্রকাশের পর বিভিন্ন জায়গায় রাজনৈতিক সংঘর্ষ, বাড়িঘর ভাঙচুর, খুন, ধর্ষণ, লুঠপাট এবং ভয় দেখিয়ে এলাকা ছাড়তে বাধ্য করার মতো গুরুতর অভিযোগ সামনে আসে। বিরোধী দলগুলির দাবি ছিল, শাসক দলের কর্মী ও সমর্থকদের হাতেই এই হিংসা ঘটেছে।এই ঘটনায় কলকাতা হাই কোর্টে একাধিক মামলা দায়ের হয় এবং পরে বিষয়টি সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়ায়। আদালতের পর্যবেক্ষণ ছিল, অভিযোগগুলির নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। সেই কারণে বহু মামলায় সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়, কোথাও বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট গঠন করা হয়। খুন ও ধর্ষণের মতো গুরুতর অভিযোগে কেন্দ্রীয় তদন্তকেই গুরুত্ব দেওয়া হয়।এই সমস্ত মামলা শুনানির জন্য তৎকালীন প্রধান বিচারপতি রাজেশ বিন্দাল পাঁচ বিচারপতির বৃহত্তর বেঞ্চ গঠন করেছিলেন। ওই বেঞ্চে ছিলেন বিচারপতি রাজেশ বিন্দাল, হরিশ টন্ডন, ইন্দ্রপ্রসন্ন মুখোপাধ্যায়, সৌমেন সেন এবং সুব্রত তালুকদার। সেই বেঞ্চ থেকেই সিবিআই তদন্ত ও ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ২০২৩ সালে হঠাৎ করেই মামলাগুলি তৎকালীন প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন ডিভিশন বেঞ্চে শুনানির জন্য চলে আসে। বর্তমানে ওই পাঁচ বিচারপতির কেউই আর কলকাতা হাই কোর্টে কর্মরত নন।

জানুয়ারি ৩০, ২০২৬
কলকাতা

“এটা আদালতের কাজ নয়”—বুথ নিরাপত্তা মামলায় নির্বাচন কমিশনকে জবাবদিহি

নির্বাচনী বুথের নিরাপত্তা নিয়ে করা জনস্বার্থ মামলায় নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য জানতে চাইল কলকাতা হাইকোর্ট। বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য রাজ্যের প্রায় ৮৩ হাজার বুথের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে এই মামলা করেছিলেন। বৃহস্পতিবার মামলার শুনানিতে প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, এই বিষয়টি পুরোপুরি নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব। আদালতের উপর সেই দায়িত্ব চাপানো ঠিক নয়। প্রধান বিচারপতির মন্তব্য, এটা নির্বাচন কমিশনের কাজ। তারা চাইলে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিতে পারে। কেন আদালতের উপর দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে? আদালত নির্দেশ দিয়েছে, এক সপ্তাহের মধ্যে নির্বাচন কমিশনকে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করতে হবে।শুনানির সময় নির্বাচন কমিশনের আইনজীবী জানান, বুথগুলির নিরাপত্তা সংক্রান্ত কাজের দায়িত্ব ছিল ম্যাকিনটোশবার্ন কোম্পানির উপর। কিন্তু রাজ্যের অর্থ দফতরের সঙ্গে আলোচনা করার পরে ওই সংস্থা কাজ থেকে সরে দাঁড়ায়। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ম্যাকিনটোশবার্ন প্রায় ৪০ শতাংশ কাজ করার পর কাজ বন্ধ করে দেয়। ফলে বিষয়টি এখন রাজ্য সরকারের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে।এর জবাবে মামলাকারী শমীক ভট্টাচার্যের আইনজীবী বলেন, রাজ্য সরকার অন্তত আদালতকে জানাক প্রকৃত পরিস্থিতি কী। পাশাপাশি নির্বাচনী বুথে ন্যূনতম নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য আদালতের নির্দেশ প্রয়োজন বলেও দাবি করেন তিনি।এই মামলার প্রেক্ষিতে শমীক ভট্টাচার্য আগেই অভিযোগ করেছিলেন, ভোটের দিন বুথে কী ধরনের ঘটনা ঘটে, তা প্রশাসনের অজানা নয়। তাঁর প্রশ্ন, কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন থাকার পরও কীভাবে ভোটার ও বিরোধী দলের এজেন্টদের ভয় দেখানো হয়। কীভাবে বুথের ক্যামেরা বন্ধ করে দেওয়া হয় বা ক্যামেরার উপর কাগজ, ময়দা লাগিয়ে দেওয়া হয়। তাঁর বক্তব্য, সিআরপিএফ সাধারণত বুথের বাইরে থাকে। কিন্তু বুথের ভেতরে ভোটার ঢোকার পর কী পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়, বিরোধী দলের এজেন্টরা কীভাবে কাজ করেন, সেই প্রশ্ন বহুবার উঠেছে। এই সব কারণ দেখিয়েই রাজ্যের প্রায় ৮৩ হাজার বুথে নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হন বিজেপির রাজ্য সভাপতি।

জানুয়ারি ৩১, ২০২৬
রাজ্য

১৬৩ ধারা জারি, তবু শুভেন্দুকে অনুমতি—আনন্দপুর কাণ্ডে নাটকীয় মোড়

আনন্দপুরের জতুগৃহ কাণ্ড ঘিরে উত্তেজনার মধ্যেই শুভেন্দু অধিকারীর মিছিল নিয়ে তৈরি হল নতুন জট। পুলিশের তরফে প্রথমে শুভেন্দুর প্রস্তাবিত মিছিলের অনুমতি দেওয়া হয়নি। নরেন্দ্রপুর থানার পক্ষ থেকে একটি ইমেলে জানানো হয়, যে রুটে মিছিল করার আবেদন করা হয়েছিল, সেখানে একাধিক হাসপাতাল ও স্কুল রয়েছে। মিছিল হলে যানজটের আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি উদ্ধারকাজে যুক্ত জরুরি পরিষেবার গাড়ি ও কর্মীদের যাতায়াতও ওই রুট দিয়েই চলছে। সেই কারণে মিছিল করলে সমস্যা হতে পারে বলে জানিয়ে পুলিশের তরফে অনুমতি বাতিল করা হয়।এর পাশাপাশি ঘটনাস্থলের গুদামের চারপাশে ১০০ মিটারের মধ্যে ১৬৩ ধারা জারি করা হয়। ওই এলাকায় মিছিল ও জমায়েত সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পুলিশের নোটিসে বলা হয়েছে, তথ্যপ্রমাণ লোপাট, তদন্তের কাজে বাধা বা উদ্ধারকাজে সমস্যা এড়াতেই এই ধারা জারি করা হয়েছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, আগুন লাগার চার দিন পর এই নিষেধাজ্ঞা জারি হওয়ায় প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী নিজেও এই সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলে সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করেন। তিনি লেখেন, দানবীয় নির্দেশ জারি করে আটকানোর লজ্জাজনক চেষ্টা চলছে।এই পরিস্থিতির মধ্যেই কলকাতা হাইকোর্টে শুনানির পর কিছুটা স্বস্তি পেলেন শুভেন্দু অধিকারী। বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ তাঁকে আনন্দপুরের নাজিরাবাদ এলাকায় যাওয়ার অনুমতি দেন। তবে শর্ত দেওয়া হয়েছে, মিছিলের রুট পরিবর্তন করতে হবে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, শুভেন্দু প্রায় দুই হাজার সমর্থককে নিয়ে গড়িয়া শীতলা মন্দির থেকে ইএম বাইপাস হয়ে নরেন্দ্রপুর থানার আগেই মিছিল শেষ করবেন। বৃহস্পতিবার সকাল ১১টা থেকে বিকেল সাড়ে তিনটে পর্যন্ত এই মিছিল করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।রাজ্য সরকার রুট পরিবর্তন করে অনুমতি দিতে চাইলে বিজেপির তরফে কোনও আপত্তি জানানো হয়নি। এরপরই আদালতের নির্দেশে মিছিলের ছাড়পত্র মেলে। ফলে পুলিশের নিষেধাজ্ঞা ও ১৬৩ ধারা জারি ঘিরে যে বিতর্ক শুরু হয়েছিল, তা আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল রাজনৈতিক ময়দানে।

জানুয়ারি ২৯, ২০২৬
কলকাতা

নবান্নের সামনে নয়, মন্দিরতলাতেই ধরনা—বিজেপিকে কড়া বার্তা হাইকোর্টের

নবান্নের সামনে ধরনায় বসার অনুমতি পেল না বিজেপি। কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ সিঙ্গল বেঞ্চের নির্দেশই বহাল রাখল। প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের নেতৃত্বাধীন ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, নবান্নের সামনে নয়, মন্দিরতলা বাসস্ট্যান্ডেই ধরনায় বসতে হবে বিজেপিকে।আদালতের পর্যবেক্ষণ, মুখ্যমন্ত্রীর নির্দিষ্ট নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে এবং নবান্ন একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ভবন। নবান্নের সামনে এই ধরনের ধরনা বা কর্মসূচি হলে নিরাপত্তা এবং শান্তি বিঘ্নিত হতে পারে। আদালত প্রশ্ন তোলে, যদি নবান্নের কাছাকাছি ধরনা করতেই হয়, তা হলে মন্দিরতলা বাসস্ট্যান্ডে করতে আপত্তি কোথায়। আদালতের মতে, ওই দুই জায়গার মধ্যে দূরত্ব খুব বেশি নয়।এর আগেও একই আবেদন জানিয়ে বিচারপতি শম্পা দত্তের এজলাস থেকে অনুমতি পায়নি বিজেপি। সিঙ্গল বেঞ্চের সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে ডিভিশন বেঞ্চে মামলা করেছিলেন বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ। তবে সেখানেও বিজেপির আবেদন খারিজ হয়ে যায়।উল্লেখ্য, আইপ্যাক কর্তা প্রতীক জৈনের বাড়ি ও অফিসে ইডির তল্লাশি চলাকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সেখানে প্রবেশ এবং ফাইল হাতে বেরিয়ে আসার ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়েছিল বিজেপি। কেন্দ্রীয় এজেন্সির কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ তুলে নবান্নের সামনে ধরনায় বসতে চেয়েছিল তারা। বিজেপির প্রশ্ন ছিল, কীভাবে একজন মুখ্যমন্ত্রী কেন্দ্রীয় এজেন্সির তল্লাশির মাঝখানে সেখানে ঢুকতে পারেন এবং কীভাবে তদন্ত চলাকালীন নথিপত্র নিয়ে বেরিয়ে আসতে পারেন। পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সরকারি আধিকারিকদের উপস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন তোলে বিজেপি।এই সমস্ত বিষয় মাথায় রেখেই মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তার কথা উল্লেখ করে প্রথমে সিঙ্গল বেঞ্চ এবং পরে ডিভিশন বেঞ্চ নবান্নের সামনে ধরনার অনুমতি দেয়নি বলে জানায় আদালত।

জানুয়ারি ২৯, ২০২৬
  • ‹
  • 1
  • 2
  • 3
  • 4
  • 5
  • 6
  • 7
  • 8
  • ›

ট্রেন্ডিং

রাজ্য

তিন সপ্তাহেই বক্সা ছাড়ল বাঘিনী, বাঘ ফেরানোর উদ্যোগে বড় ধাক্কা

কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পে বাঘ ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ ঘিরে তৈরি হল নতুন করে অনিশ্চয়তা। বিহারের বাল্মীকি ব্যাঘ্র প্রকল্প থেকে আনা বাঘিনী টি ১৩৮ বক্সার জঙ্গলে ছাড়ার মাত্র তিন সপ্তাহের মধ্যে সীমান্ত পেরিয়ে অসমের রাইমোনা জাতীয় উদ্যানে চলে গিয়েছে বলে বন দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে। ফলে বক্সায় বাঘের স্থায়ী বসতি গড়ে তোলার পরিকল্পনা কতটা সফল হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।গত ২ অক্টোবর সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টারে করে অত্যন্ত ঘটা করে বাঘিনীটিকে বক্সার জঙ্গলে ছাড়া হয়েছিল। বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পে তার নাম রাখা হয় বিটিআর টিএফ-১। দীর্ঘ দুই দশক ধরে বাঘের বসবাসের উপযোগী পরিবেশ তৈরি, পর্যাপ্ত শিকারের ব্যবস্থা এবং জলাশয় গড়ে তোলার কাজ হয়েছে বলে দাবি করেছিল বন দপ্তর। কিন্তু সেই উদ্যোগের পরেও বাঘিনীর অন্য জঙ্গলে চলে যাওয়ার ঘটনায় গোটা পরিকল্পনার কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।বন দপ্তর সূত্রের খবর, বক্সার জঙ্গলে ছাড়ার পর প্রথম দেড় সপ্তাহ বাঘিনীটি প্রায় ২৫ থেকে ৩০ বর্গকিলোমিটার এলাকার মধ্যে ঘোরাফেরা করছিল। পরে ধীরে ধীরে তার বিচরণক্ষেত্র বাড়তে থাকে। একসময় প্রায় ৪০০ বর্গকিলোমিটার এলাকা ঘুরে অসম ও বাংলার সীমান্তবর্তী সংকোশ নদীর আশপাশে পৌঁছে যায় সে। শেষ পর্যন্ত তার গন্তব্য হয় অসমের রাইমোনা জাতীয় উদ্যান।বন্যপ্রাণ বিশেষজ্ঞদের একাংশের ধারণা, সঙ্গী বা মর্দা বাঘের সন্ধান কিংবা স্বাভাবিক বিচরণ প্রবৃত্তির কারণেই বাঘিনীটি বক্সা ছেড়ে অন্য এলাকায় চলে গিয়ে থাকতে পারে। তাঁদের মতে, বক্সায় বাঘের বংশবিস্তার ও স্থায়ী বসতি গড়ে তোলার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে একসঙ্গে একাধিক বাঘ আনার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ ছিল। সেখানে মাত্র একটি বাঘিনীকে এনে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত কতটা কার্যকর ছিল, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।বাঘিনীর গতিবিধির উপর নজর রাখতে তার গলায় পরানো হয়েছিল হাই-ফ্রিকোয়েন্সি রেডিও কলার। স্যাটেলাইট ও গ্রাউন্ড ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে ২৪ ঘণ্টা তার অবস্থান পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা ছিল। তা সত্ত্বেও বাঘিনীকে বক্সার জঙ্গলে ধরে রাখা সম্ভব হয়নি। যদিও বন্যপ্রাণীর স্বাভাবিক চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা যে সহজ নয়, সেই যুক্তিও সামনে আসছে। তবে এত আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের পরেও বাঘিনীর গতিপথ নিয়ে বন দপ্তরের পরিকল্পনা ও নজরদারি কতটা কার্যকর ছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বনকর্তার বক্তব্য, নজরদারির ব্যবস্থা থাকলেও বন্যপ্রাণীকে নির্দিষ্ট এলাকার মধ্যে আটকে রাখা সম্ভব নয়। তার স্বাভাবিক প্রবৃত্তি অনুযায়ী সে অন্যত্র চলে যেতেই পারে।এদিকে বাঘিনীটিকে ঘিরে বন দপ্তরের উদ্বেগ আরও বেড়েছে। কারণ, একবার অসমের জঙ্গলের পথ চিনে নেওয়ার পর তাকে ফিরিয়ে আনা হলেও ভবিষ্যতে সে আবার একই পথে চলে যেতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে। বর্তমানে বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের একটি বিশেষ দল অসমে পৌঁছে পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে। অন্যদিকে, অসমের রাইমোনা জাতীয় উদ্যানে ইতিমধ্যেই ছয়টি রয়েল বেঙ্গল টাইগার রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। সেখানে বাঘিনীটি স্থায়ীভাবে থেকে যায়, নাকি আরও গভীরে মানস ব্যাঘ্র প্রকল্পের দিকে চলে যায়, তা নিয়ে এখন নজর রয়েছে সংশ্লিষ্ট মহলের।সব মিলিয়ে, বক্সায় বাঘের স্থায়ী বসতি গড়ে তোলার উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনার শুরুতেই এই ঘটনা বন দপ্তরের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কোটি কোটি টাকা খরচ করে উপযুক্ত পরিবেশ তৈরির দাবি এবং আধুনিক নজরদারি ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও বাঘিনীর অন্য রাজ্যে চলে যাওয়া নতুন করে ভাবাচ্ছে বনকর্তা ও বন্যপ্রাণ বিশেষজ্ঞদের। এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, বক্সায় বাঘ ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ শেষ পর্যন্ত কতটা সফল হবে।

অক্টোবর ২৬, ২০২৬
কলকাতা

বেহালায় প্রেমের সম্পর্ক ঘিরে অমানবিকতার চরম নজির, বাবা-ছেলেকে বিবস্ত্র করে রাস্তায় হাঁটানোর অভিযোগ, গ্রেফতার ৩

কলকাতার বেহালায় প্রেমের সম্পর্ককে কেন্দ্র করে এক যুবক ও তাঁর বাবার উপর অমানবিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠল তরুণীর পরিবারের বিরুদ্ধে। তিনজনকে বিবস্ত্র করে প্রকাশ্য রাস্তায় হাঁটানো, মারধর এবং আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে হুমকি দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ সামনে এসেছে। ঘটনার ভিডিও সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় উত্তেজনা ও ক্ষোভ ছড়ায়। এই ঘটনায় তরুণীর বাবা ও মামা-সহ মোট তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ২৫ অক্টোবর সরশুনা থানার অন্তর্গত বসুন্ধরা পার্ক এলাকায় ঘটনাটি ঘটে বলে অভিযোগ। ওই যুবকের সঙ্গে তরুণীর প্রেমের সম্পর্ক মেনে নিতে পারেনি তাঁর পরিবার। সেই আক্রোশ থেকেই যুবক ও তাঁর বাবাকে হেনস্থা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মেয়েটি নাবালিকা বলে জানা গিয়েছে।অভিযোগ অনুযায়ী, ২৫ অক্টোবর ওই যুবক ও তরুণীকে একসঙ্গে দেখতে পান তরুণীর পরিবারের সদস্যরা। এরপর যুবককে একটি বাড়িতে আটকে রেখে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় তরুণীর বাবা ও মামার জড়িত থাকার দাবি উঠেছে। পরে যুবকের বাবাকেও ঘটনাস্থলে ডেকে পাঠানো হয়।অভিযোগ, সেখানে ছেলের সামনেই যুবকের বাবার হাতে একটি আগ্নেয়াস্ত্র তুলে দিয়ে তাঁকে ভয় দেখানো হয়। ছেলেকে গুলি করতে হবে, না হলে বিবস্ত্র হয়ে রাস্তায় হাঁটতে হবে, এমন শর্ত দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি। এরপর যুবক ও বাবাকে বিবস্ত্র করে প্রকাশ্য রাস্তায় হাঁটানো হয় বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় যুবকের এক বন্ধুকেও মারধর করা হয় এবং একইভাবে হেনস্থা করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।সমাজমাধ্যমে ভিডিও ছড়াতেই উত্তেজনা বাড়েঘটনার ভিডিও সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ, ক্ষুব্ধ জনতার একাংশ তরুণীর বাড়িতে ভাঙচুরের চেষ্টা করেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় সরশুনা থানার পুলিশ। স্থানীয় সূত্রের খবর, পুলিশ পৌঁছনোর আগেই তরুণীর বাবা-সহ পরিবারের কয়েকজন সদস্য বাড়ি ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন। অন্যদিকে, তরুণীর মামাকে স্থানীয় বাসিন্দারা ধরে মারধর করার পর পুলিশের হাতে তুলে দেন বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় তরুণীর বাবা ও মামা-সহ মোট তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।অস্ত্র আইন ও বিএনএসের একাধিক ধারায় মামলাজানা গিয়েছে, এই ঘটনায় ২৬ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে সরশুনা থানায় ২২২/২০২৬ নম্বর মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে। অস্ত্র আইনের ২৫(১বি)(ক) ধারা-সহ ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (বিএনএস) ১০৯, ১১৮(১), ১১৭(২), ১২৭(২), ৩৫৬(২), ৩৫১(৩), ১৪০(৩) এবং ৩(৫) ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ। পাশাপাশি, তরুণীর পরিবারের সঙ্গে স্থানীয় তৃণমূল কংগ্রেসের এক কাউন্সিলরের ঘনিষ্ঠতা ছিল বলেও কয়েকজন বাসিন্দা দাবি করেছেন। তবে এই দাবির বিষয়ে কোনও নিশ্চিত তথ্য সামনে আসেনি। সূত্রের খবর, ঘটনার তদন্তে একটি সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহের প্রক্রিয়া চলছে। কয়েকজন স্থানীয় সাক্ষীকে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে জানা গিয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ, নির্যাতনের অভিযোগ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

অক্টোবর ২৬, ২০২৬
রাজ্য

জোড়াফুলের দখল কার? ঋতব্রতদের ১০ দিনের সময় দিল সুপ্রিম কোর্ট, পালটা হলফনামার সুযোগ কালীঘাট শিবিরকেও

কলকাতা: তৃণমূল কংগ্রেসের নাম ও নির্বাচনী প্রতীক ঘাসের উপর জোড়াফুল কার দখলে থাকবে, তা নিয়ে আইনি লড়াই এখনও অব্যাহত। এই বিতর্কের নিষ্পত্তির জন্য এবার গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেসকে (ঋতব্রত শিবির) আরও ১০ দিন সময় দিল সুপ্রিম কোর্ট। একইসঙ্গে, প্রতিপক্ষের জমা দেওয়া নথি ও হলফনামা খতিয়ে দেখে নিজেদের বক্তব্য পেশ করার জন্য কালীঘাট শিবিরও অতিরিক্ত ১০ দিন সময় পাবে। ফলে দুই পক্ষের নথি আদানপ্রদান ও পালটা বক্তব্য পেশের প্রক্রিয়া শেষ করতে আরও সময় লাগবে। অন্যদিকে, আদালতে নথি জমা দেওয়াকে কেন্দ্র করে দুই শিবিরের সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে। কালীঘাটের তরফে নথি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়।নথি জমার সময়সীমা বাড়ল, কী বলল আদালত?সোমবার ছিল সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী দুই পক্ষের প্রয়োজনীয় নথি ও হলফনামা জমা দেওয়ার নির্ধারিত সময়সীমা। আদালতের নির্দেশ মেনে কালীঘাট শিবির তাদের নথি জমা দিলেও গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সেই কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। এরপরই অতিরিক্ত সময় চেয়ে শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হন ঋতব্রত শিবিরের আইনজীবী।আদালতে তাঁদের তরফে জানানো হয়, প্রয়োজনীয় নথিপত্র প্রস্তুত করে জমা দেওয়ার জন্য আরও কিছুটা সময় দরকার। দুর্গাপুজোর কারণে স্ট্যাম্প পেপার সংগ্রহ করতে সমস্যা হওয়ায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সমস্ত প্রক্রিয়া শেষ করা যায়নি বলেও যুক্তি দেওয়া হয়। সেই কারণে আরও দুই সপ্তাহ সময় চেয়েছিল গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস।তবে এই আবেদনের বিরোধিতা করেন কালীঘাট শিবিরের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। শেষ পর্যন্ত অতিরিক্ত সময় দেওয়ার আবেদন মঞ্জুর করে সুপ্রিম কোর্ট। তবে চাওয়া দুই সপ্তাহের পরিবর্তে ১০ দিনের সময়সীমা নির্ধারণ করে দেয় আদালত। পাশাপাশি, ঋতব্রত শিবিরের জমা দেওয়া নথি খতিয়ে দেখে পালটা হলফনামা পেশ করার জন্য কালীঘাট শিবিরকেও আরও ১০ দিন সময় দেওয়া হয়েছে।উপনির্বাচনে আলাদা নাম-প্রতীক, কিন্তু স্থায়ী সমাধান কোথায়?তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ বিভাজনের জেরে দলের নাম ও প্রতীক নিয়ে যে জটিলতা তৈরি হয়েছে, তার নিষ্পত্তি এখনও হয়নি। দুই শিবিরের মধ্যে রাজনৈতিক বিরোধ গড়িয়েছে আদালত পর্যন্ত। দলের পরিচিত নাম এবং দীর্ঘদিনের নির্বাচনী প্রতীক নিজেদের দখলে রাখার প্রশ্নেই মূলত এই আইনি লড়াই।গত ৬ অক্টোবর রাজ্যের দুই কেন্দ্রে উপনির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশন দুই পক্ষের জন্য পৃথক নাম ও প্রতীকের ব্যবস্থা করেছিল। সেই সময় অস্থায়ী সমাধান হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবির সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস নামে ফুটবল প্রতীক পায়। অন্যদিকে, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেসের জন্য বরাদ্দ হয় খাম প্রতীক।কিন্তু উপনির্বাচনের জন্য করা সেই ব্যবস্থা স্থায়ী সমাধান নয়। দলের পুরনো পরিচয় এবং ঘাসের উপর জোড়াফুল প্রতীক নিয়ে দুই পক্ষের দাবি-পালটা দাবি অব্যাহত রয়েছে। সেই কারণেই বিষয়টি গড়িয়েছে সুপ্রিম কোর্টে। কোন পক্ষ শেষ পর্যন্ত তৃণমূল কংগ্রেসের নাম ও ঐতিহ্যবাহী প্রতীকের অধিকার পাবে, তা নির্ধারণের আগে দুই শিবিরের বক্তব্য ও প্রাসঙ্গিক নথি খতিয়ে দেখতে চাইছে আদালত।হরিয়ানায় নথি ছিনতাইয়ের চেষ্টার অভিযোগ ঋতব্রতরআদালতে নথি জমা দেওয়া নিয়ে যখন আইনি প্রক্রিয়া চলছে, ঠিক সেই সময়ই নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার সকালে নিজের এক্স হ্যান্ডলে পোস্ট করে তাঁর অভিযোগ, গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেসের নথিপত্র দিল্লিতে নিয়ে যাওয়ার পথে বাধা দেওয়া হয় এবং সেগুলি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলে।ঋতব্রতর দাবি, কালীঘাট শিবির ২৫ অক্টোবর, রবিবার রাতে চার্টার্ড বিমানে নিজেদের নথি দিল্লিতে পাঠিয়েছিল। অন্যদিকে, গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীরা ২৪ অক্টোবর, শনিবার সড়কপথে নথিপত্র নিয়ে দিল্লির উদ্দেশে রওনা দেন। সেই নথি নিয়ে যাওয়ার সময় সোমবার ভোর সাড়ে তিনটে নাগাদ হরিয়ানায় তাঁদের ট্রাক আটকানো হয় বলে অভিযোগ বিরোধী দলনেতার।তাঁর আরও দাবি, ওই সময় নথিপত্র ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। তবে দলের কর্মীরা সেই চেষ্টা ব্যর্থ করে দেন। গোটা ঘটনাকে কেন্দ্র করে কালীঘাট শিবিরের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলেছেন তিনি।চার্টার্ড সংস্কৃতি বনাম তৃণমূল স্তর, কটাক্ষ বিরোধী দলনেতারঘটনা নিয়ে রাজনৈতিক আক্রমণের সুরও চড়িয়েছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বক্তব্য, একদিকে চার্টার্ড বিমানে নথি পাঠানোর ব্যবস্থা, অন্যদিকে দলের কর্মীদের সড়কপথে নথি নিয়ে যাওয়াএই দুই পরিস্থিতির মধ্যে যেন একটি সংঘাত তৈরি হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, ক্ষমতা ও গায়ের জোর দেখিয়ে সবকিছু দখল করার চেষ্টা করা হলেও তা সবসময় সফল হয় না।যদিও নথি ছিনতাইয়ের চেষ্টার এই অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। ফলে বিষয়টি নিয়ে পরবর্তী সময়ে কী প্রতিক্রিয়া আসে, সেদিকেও নজর থাকবে।পুরসভা নির্বাচন ঘিরে বাড়ছে রাজনৈতিক গুরুত্বকলকাতা, হাওড়া-সহ রাজ্যের একাধিক পুরসভায় নির্বাচন সামনে আসায় তৃণমূলের নাম ও প্রতীক নিয়ে এই মামলার গুরুত্ব আরও বেড়েছে। নির্বাচনের আগে দলের পরিচয় ও প্রতীকের প্রশ্নে আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দুই শিবিরের রাজনৈতিক অবস্থান নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।এখন নজর সুপ্রিম কোর্টের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস প্রয়োজনীয় নথি জমা দিতে পারে কি না, তার পরিপ্রেক্ষিতে কালীঘাট শিবির কী পালটা বক্তব্য পেশ করে এবং শেষ পর্যন্ত জোড়াফুল প্রতীকের অধিকার কার হাতে যায়সেই প্রশ্নের উত্তর এখনও অধরা। আপাতত আইনি লড়াইয়ের পরবর্তী পর্বের অপেক্ষায় দুই শিবিরই।

অক্টোবর ২৬, ২০২৬
দেশ

মোদির বাবা তুলে খাড়গের কটাক্ষ, দেশজুড়ে বিজেপির বিক্ষোভ! ‘ভারতের অপমান’ বলে তীব্র আক্রমণ রাজনাথের

জনসভায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে নিশানা করতে গিয়ে তাঁর বাবাকে নিয়ে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের মন্তব্য ঘিরে দেশজুড়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা। বিহার থেকে জম্মু, বেঙ্গালুরুবিভিন্ন জায়গায় প্রতিবাদে নেমেছে বিজেপি। খাড়গের নিঃশর্ত ক্ষমাপ্রার্থনা ও পদত্যাগের দাবিতে সরব গেরুয়া শিবির। বিতর্কে কংগ্রেসকে পালটা আক্রমণ প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়েরও।নিজস্ব সংবাদদাতা, রাজনৈতিক মহল: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে আক্রমণ করতে গিয়ে তাঁর বাবাকে নিয়ে কটাক্ষ করার অভিযোগে নতুন করে বিতর্কের কেন্দ্রে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে। তাঁর মন্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক সংঘাত তীব্র হয়েছে। প্রতিবাদে দেশজুড়ে বিক্ষোভ কর্মসূচি শুরু করেছে বিজেপি। বিভিন্ন রাজ্যে রাস্তায় নেমে কংগ্রেস সভাপতির বিরুদ্ধে স্লোগান দেওয়ার পাশাপাশি তাঁর পদত্যাগের দাবিও তুলেছেন বিজেপি নেতা-কর্মীরা। অন্যদিকে, এই মন্তব্যকে ভারতের অপমান বলে কংগ্রেসকে নিশানা করেছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং।বিজেপির অভিযোগ, দেশের প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক সমালোচনা করতে গিয়ে খাড়গে ব্যক্তিগত আক্রমণের সীমা অতিক্রম করেছেন। এই মন্তব্যের জন্য তাঁর প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়া উচিত বলে দাবি গেরুয়া শিবিরের। শুধু ক্ষমাপ্রার্থনাই নয়, কংগ্রেস সভাপতির পদ থেকেও তাঁকে সরে দাঁড়ানোর দাবি জানিয়েছেন বিজেপির নেতা-কর্মীদের একাংশ।বিহার থেকে জম্মু, বেঙ্গালুরুবিক্ষোভে বিজেপিখাড়গের মন্তব্যের প্রতিবাদে সোমবার বিহারে বড়সড় মিছিল বের করেন বিজেপি নেতা-কর্মীরা। মিছিল থেকে কংগ্রেস সভাপতির বিরুদ্ধে একাধিক স্লোগান তোলা হয়। তাঁর পদত্যাগের দাবিতে সরব হন বিক্ষোভকারীরা। প্রতিবাদের অংশ হিসেবে খাড়গের কুশপুতুলও পোড়ানো হয়।একই ইস্যুতে উত্তেজনা ছড়ায় জম্মুতেও। সেখানে বিজেপি কর্মীরা খাড়গের পোস্টার পুড়িয়ে প্রতিবাদ জানান। বেঙ্গালুরুর ফ্রিডম পার্কেও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন গেরুয়া শিবিরের নেতা-কর্মীরা। পাশাপাশি, আরও কয়েকটি রাজ্যে বিজেপির দলীয় কার্যালয়ের সামনে প্রতিবাদ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।বিজেপির বক্তব্য, রাজনৈতিক মতপার্থক্য গণতন্ত্রের স্বাভাবিক বিষয়। কিন্তু বিরোধিতা করতে গিয়ে কোনও ব্যক্তির পরিবারকে টেনে এনে আক্রমণ করা রাজনৈতিক শালীনতার পরিপন্থী। সেই কারণেই খাড়গের মন্তব্যের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে প্রতিবাদে নেমেছে দল।এটা ভারতের অপমান, খাড়গেকে নিশানা রাজনাথেরএই বিতর্কে কংগ্রেস সভাপতির বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। তাঁর বক্তব্য, খাড়গের মতো একজন প্রবীণ রাজনৈতিক নেতার কাছ থেকে এমন মন্তব্য প্রত্যাশিত নয়। যে দল নিজেদের দেশের প্রাচীনতম রাজনৈতিক দল হিসেবে পরিচয় দেয়, সেই দলের সভাপতির মুখে এ ধরনের মন্তব্য অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক বলেও দাবি করেছেন তিনি।রাজনাথের কথায়, এটি অত্যন্ত বেদনাদায়ক যে এই মন্তব্যগুলি কোনও সাধারণ কংগ্রেস কর্মী বা যুব নেতা করেননি, বরং এমন এক দলের সভাপতি করেছেন, যে দলটি নিজেদের দেশের প্রাচীনতম রাজনৈতিক দল বলে দাবি করে।এখানেই থামেননি প্রতিরক্ষামন্ত্রী। খাড়গের মন্তব্যকে দেশের মর্যাদার সঙ্গে যুক্ত করে তিনি বলেন, খাড়গের এহেন মন্তব্য আসলে ভারতের অপমান।রাজনাথের আরও অভিযোগ, নিজেদের ভুল স্বীকার করে দুঃখ প্রকাশ করার পরিবর্তে কংগ্রেসের তরফে খাড়গের মন্তব্যকে সমর্থন করা হচ্ছে। তাঁর মতে, এই ধরনের আচরণ রাজনৈতিক বিতর্ককে আরও তিক্ত করে তুলছে। ফলে শুধু খাড়গে নন, গোটা কংগ্রেস নেতৃত্বকেই এই বিষয়ে জবাবদিহি করতে হবে বলে দাবি বিজেপি শিবিরের।কী বলেছিলেন খাড়গে? কোথা থেকে বিতর্কের সূত্রপাত?এই বিতর্কের সূত্রপাত রবিবার বিহারের পাটনায়। বিহারের প্রথম মুখ্যমন্ত্রী কৃষ্ণ সিংয়ের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দিতে সেখানে গিয়েছিলেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে। সেই সভায় বক্তৃতা করার সময়ই ঘটে বিতর্কিত ঘটনাটি।খাড়গে যখন বক্তব্য রাখছিলেন, তখন উপস্থিত এক ব্যক্তি তাঁকে উদ্দেশ্য করে বলেন, দেশে বিদ্রোহ না হলে মোদিকে ক্ষমতা থেকে সরানো যাবে না। তবে ওই ব্যক্তির বক্তব্যের সম্পূর্ণ অংশ খাড়গে শুনতে পাননি বলে দাবি করা হয়েছে। তিনি কথাটির অর্থ বুঝেছিলেন অন্যভাবে। তাঁর কানে পৌঁছয়, মোদি কোথাও যাবেন না।এরপরই ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে নিশানা করেন কংগ্রেস সভাপতি। সেই সময় তিনি বলেন, মোদির বাপকেও যেতে হবে।খাড়গের এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই শুরু হয় রাজনৈতিক চাপানউতোর। বিজেপির দাবি, দেশের প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক বিরোধিতা থাকতেই পারে, কিন্তু তাঁর বাবাকে টেনে এনে এমন মন্তব্য করা অনভিপ্রেত এবং নিন্দনীয়। এই বক্তব্যের জন্য খাড়গের ক্ষমা চাওয়া উচিত বলেও দাবি করেছে গেরুয়া শিবির।রাজনৈতিক সংঘাত আরও বাড়ার আশঙ্কাঘটনাকে কেন্দ্র করে বিজেপি ও কংগ্রেসের মধ্যে সংঘাত নতুন মাত্রা পেয়েছে। একদিকে খাড়গের মন্তব্যকে হাতিয়ার করে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে আক্রমণ আরও তীব্র করছে বিজেপি। অন্যদিকে, এই বিতর্কের রাজনৈতিক অভিঘাত আগামী দিনে কতটা বাড়ে, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।প্রধানমন্ত্রীকে ঘিরে রাজনৈতিক বিরোধিতা নতুন নয়। তবে সেই বিরোধিতা ব্যক্তিগত আক্রমণের পর্যায়ে পৌঁছলে তা রাজনৈতিক শালীনতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দেয়। খাড়গের মন্তব্য ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কেও উঠে এসেছে সেই প্রশ্নই। এখন দেখার, এই পরিস্থিতিতে কংগ্রেস নেতৃত্ব কী অবস্থান নেয় এবং বিজেপির ক্ষমাপ্রার্থনা ও পদত্যাগের দাবি নিয়ে রাজনৈতিক সংঘাত কোন দিকে এগোয়।

অক্টোবর ২৬, ২০২৬
রাজ্য

স্কুলে ফিরুক পাস-ফেল, মোবাইল নিষিদ্ধের পক্ষে সওয়াল শুভেন্দুর

স্কুলশিক্ষায় একাধিক পরিবর্তনের পক্ষে সওয়াল করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। স্কুলে মোবাইল ফোনের ব্যবহার নিষিদ্ধ করা, পাস-ফেল প্রথা ফিরিয়ে আনা এবং পড়ুয়াদের মধ্যে জাতীয়তাবোধ জাগিয়ে তোলার উপরে জোর দিলেন তিনি। পাশাপাশি প্রতিটি স্কুলে ব্রতচারী, এনসিসি (NCC) এবং এনএসএস (NSS) চালু করার পক্ষেও মত প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, পড়াশোনার পাশাপাশি পড়ুয়াদের মধ্যে সাংস্কৃতিক প্রতিভার বিকাশ ঘটানোও জরুরি।রবিবার রামনগরে চোরবাগানে পদপিষ্ট হয়ে মৃতের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে বিভিন্ন বিষয়ে নিজের মতামত তুলে ধরেন শুভেন্দু অধিকারী। এদিন চিত্রশিল্পী যোগেন চৌধুরীর প্রয়াণ নিয়েও কথা বলেন তিনি। পাশাপাশি রাজনৈতিক বিরোধীদের নিশানা করে বিতর্কিত মন্তব্যও করেন মুখ্যমন্ত্রী।স্কুলশিক্ষার প্রসঙ্গে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, পড়ুয়াদের ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে স্কুলে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ করা এবং পাস-ফেল প্রথা ফিরিয়ে আনা প্রয়োজন। ভারতবর্ষের ইতিহাস, পশ্চিমবঙ্গের ইতিহাস এবং আধুনিক ভাষার সঙ্গে পড়ুয়াদের পরিচিত করে তোলার উপরেও গুরুত্ব দেন তিনি। তাঁর মতে, শিক্ষার পরিসর শুধু পাঠ্যবইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। ছাত্রছাত্রীদের সর্বাঙ্গীণ বিকাশের জন্য সহপাঠক্রমিক কার্যকলাপেও গুরুত্ব দিতে হবে।প্রতিটি স্কুলে ব্রতচারী, এনসিসি এবং এনএসএস ফিরিয়ে আনার পক্ষে সওয়াল করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, তবলা, হারমোনিয়াম, গিটার, সেতার ও খঞ্জনির মতো বাদ্যযন্ত্রের চর্চাও স্কুলে থাকা উচিত। পড়ুয়াদের মধ্যে সাংস্কৃতিক প্রতিভা খুঁজে বের করে তা বিকাশের সুযোগ করে দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।এদিন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের শিক্ষানীতি নিয়েও আক্রমণ শানান শুভেন্দু। তাঁর অভিযোগ, এনসিসি তুলে দিয়ে জয় হিন্দ বাহিনী চালু করা হয়েছিল। ব্রতচারী কার্যক্রম বন্ধ করার মতো পদক্ষেপও করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। ভাষা ও শব্দের ব্যবহার নিয়েও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করেন মুখ্যমন্ত্রী।

অক্টোবর ২৬, ২০২৬
রাজনীতি

জেল থেকে ফিরেই হুমকির অভিযোগ! আমোদপুরে তৃণমূল নেতাকে দড়ি বেঁধে ঘোরালেন স্থানীয়রা

বীরভূমের সাঁইথিয়া থানার আমোদপুরে এক তৃণমূল নেতাকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়াল। জামিনে জেল থেকে মুক্তি পাওয়ার পর ফের বিভিন্ন জনকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগে তাঁকে কোমরে দড়ি বেঁধে এলাকায় ঘোরানোর পর পুলিশের হাতে তুলে দিলেন স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ। অভিযুক্তের নাম তাহিরুল শেখ। তিনি সাঁইথিয়া ব্লকের ভ্রমরকোল অঞ্চলের প্রাক্তন তৃণমূল সভাপতি। ঘটনার খবর পেয়ে আমোদপুর ফাঁড়ির পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে।ঘটনার সূত্রপাত সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনের দিন। অভিযোগ, ওই দিন ভ্রমরকোল অঞ্চলের ৬৮ নম্বর বুথে বিজেপির নির্বাচিত বিধায়ক দেবাশিস ওঝার ছেলে, নির্বাচনী এজেন্ট বিশ্বজিৎ মণ্ডলসহ বিজেপির কয়েকজন নেতাকে মারধর করা হয়েছিল। এই ঘটনায় তৃণমূল নেতা তাহিরুল শেখের নাম জড়ায়। বিজেপির অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে। প্রায় দুমাস আগে জামিনে মুক্তি পান তিনি।বিজেপির অভিযোগ, জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর ফের দলের কর্মীদের হুমকি দিতে শুরু করেন তাহিরুল। রবিবার বেলার দিকে তিনি আমোদপুর লাগোয়া ঈশ্বরপুর গ্রামে প্রাক্তন পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি প্রশান্ত সাধুর বাড়িতে যান। সেই খবর পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ তাঁকে ধরে কোমরে দড়ি বেঁধে আমোদপুর বাজার এলাকায় ঘোরান। পরে তাঁকে স্থানীয় পুলিশ ফাঁড়ির হাতে তুলে দেওয়া হয়।বিজেপির ভ্রমরকোল মণ্ডল সভাপতি সুদীপ ঘোষের দাবি, ভোটের দিন তাহিরুলের নেতৃত্বে তাঁদের দলের নেতা-কর্মীদের মারধর করা হয়েছিল। তাঁদের প্রাণে মেরে ফেলারও চেষ্টা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর আরও দাবি, জামিনে মুক্তির পর ফের বিজেপি কর্মীদের হুমকি দিচ্ছিলেন ওই তৃণমূল নেতা। সেই খবর পেয়েই স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে তাঁরা তাঁকে পুলিশের হাতে তুলে দেন। অন্যদিকে, তৃণমূলের সংখ্যালঘু সেলের প্রাক্তন ব্লক সভাপতি মহম্মদ ইউনুসের বক্তব্য, বিজেপি অনেক জায়গাতেই পুলিশের মদতে মিথ্যা অভিযোগ তুলে তৃণমূল নেতা-কর্মীদের হেনস্থা করছে। তবে আমোদপুরের এই নির্দিষ্ট ঘটনা সম্পর্কে তিনি কিছু জানেন না বলে জানিয়েছেন।বিজেপির বীরভূম সাংগঠনিক জেলার সভাপতি উদয় শঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ভোটের দিন বিজেপি নেতাদের মাথা ফাটানোর অভিযোগের জেরেই তাহিরুল জনরোষের মুখে পড়েছেন। যদিও এই ঘটনার সঙ্গে বিজেপির কোনও যোগ নেই বলে দাবি করেছেন তিনি। একই সঙ্গে অভিযুক্ত নেতার কঠোর শাস্তির দাবিও জানিয়েছেন। আমোদপুরের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। তবে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ এবং ঘটনার নেপথ্যের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে পুলিশের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই নজর রয়েছে।

অক্টোবর ২৫, ২০২৬
রাজ্য

রং-তুলিতে সমাজের মুখ আঁকা থামল! প্রয়াত প্রখ্যাত চিত্রকর যোগেন চৌধুরী, বয়স ৮৭

ব্লাড ক্যানসারের সঙ্গে ১৪ মাসের লড়াই, সঙ্গে মূত্রনালির সংক্রমণকলকাতার হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস শিল্পীর। চিত্রকলার পাশাপাশি রাজনীতির ময়দানেও রেখেছিলেন স্বতন্ত্র ছাপ।বাংলার শিল্পজগতে নেমে এল শোকের ছায়া। প্রয়াত প্রখ্যাত চিত্রকর যোগেন চৌধুরী। রবিবার সকালে কলকাতার একটি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৭ বছর। দীর্ঘদিন ধরে বিরল ধরনের ব্লাড ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করছিলেন এই বিশিষ্ট শিল্পী। তার উপর মূত্রনালির সংক্রমণ এবং শারীরিক নানা জটিলতা ক্রমশ তাঁর অবস্থাকে সংকটজনক করে তোলে। তাঁর প্রয়াণে ভারতীয় চিত্রকলার জগতে এক অপূরণীয় শূন্যতার সৃষ্টি হল।হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় ১৪ মাস ধরে মাইলোপ্রোলিফেরেটিভ নিওপ্লাজম নামে এক ধরনের রক্তের ক্যানসারে আক্রান্ত ছিলেন যোগেন চৌধুরী। চলছিল কেমোথেরাপিও। শারীরিক অসুস্থতা বাড়তে থাকায় দুর্গাপুজোর ষষ্ঠীর দিন তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে তাঁর অবস্থা ছিল অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। সংক্রমণের কারণে সেপসিসের উপসর্গ দেখা দেওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। শনিবার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে ভেন্টিলেশনে রাখা হয়। চিকিৎসকদের সমস্ত প্রচেষ্টা সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর সঙ্গে লড়াইয়ে হার মানেন বর্ষীয়ান শিল্পী।ফরিদপুর থেকে কলকাতা, শিল্পী হয়ে ওঠার দীর্ঘ যাত্রা১৯৩৯ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি অবিভক্ত বাংলার ফরিদপুরের দাহারপাড়া গ্রামে জন্ম যোগেন চৌধুরীর। ছোটবেলা থেকেই ছবি আঁকার প্রতি তাঁর বিশেষ আকর্ষণ ছিল। পরিবারের পরিবেশও তাঁর শিল্পীসত্তার বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিল। তাঁর মা সুন্দর আল্পনা আঁকতেন। মায়ের সেই শিল্পচর্চা ছোট্ট যোগেনের মনে ছবি আঁকার প্রতি আগ্রহ তৈরি করেছিল।দেশভাগের সময় পরিবারের সঙ্গে কলকাতায় চলে আসেন তিনি। এই শহরেই শুরু হয় তাঁর প্রাতিষ্ঠানিক শিল্পশিক্ষা। কলকাতার গভর্নমেন্ট কলেজ অফ আর্ট অ্যান্ড ক্রাফ্টে পড়াশোনা করেন তিনি। শিল্পশিক্ষা শেষ করে হাওড়া জেলা স্কুলে অঙ্কন শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেছিলেন। পরে ১৯৬২ সালে কলকাতার হ্যান্ডলুম বোর্ডে ডিজাইনার হিসেবে যোগ দেন। শিল্পচর্চার পাশাপাশি পেশাগত জীবনেও নিজের দক্ষতার পরিচয় দেন তিনি।উচ্চশিক্ষার জন্য ১৯৬৫ সালে প্যারিসে পাড়ি দেন যোগেন চৌধুরী। ইউরোপীয় শিল্পধারার সঙ্গে তাঁর পরিচয় আরও গভীর হয় সেই সময়। ভারতীয় শিল্পের ঐতিহ্য এবং পাশ্চাত্যের আধুনিক শিল্পভাবনার সংমিশ্রণ তাঁর কাজকে স্বতন্ত্র মাত্রা দিয়েছিল। পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্রপতি ভবনের আর্ট গ্যালারির কিউরেটর হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি।ব্যঙ্গ, সমাজ ও রাজনীতিক্যানভাসে ধরা পড়ত সময়ের ছবিযোগেন চৌধুরীর শিল্পকর্মের অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল সমাজ ও রাজনীতির নানা অসংগতি তুলে ধরার ক্ষমতা। তাঁর ছবিতে কেবল রং, রেখা কিংবা অবয়বের প্রকাশ ঘটত না; ফুটে উঠত সমকালীন সমাজের নানা প্রশ্ন, দ্বন্দ্ব ও বাস্তবতা। ব্যঙ্গাত্মক উপস্থাপনার মাধ্যমে তিনি সমাজের অসংগতিগুলিকে শিল্পের ভাষায় প্রকাশ করতেন। সেই স্বতন্ত্র দৃষ্টিভঙ্গিই তাঁকে ভারতীয় চিত্রকলার জগতে বিশেষ পরিচিতি এনে দেয়।ভারতীয় ঐতিহ্য এবং ইউরোপীয় আধুনিক শিল্প আন্দোলনের প্রভাব তাঁর কাজে লক্ষ করা যায়। তবে প্রভাবের মধ্যেও নিজস্ব শিল্পভাষা নির্মাণ করেছিলেন তিনি। তাঁর সৃষ্টিতে মানুষের অবয়ব, অভিব্যক্তি এবং সামাজিক বাস্তবতা বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। দেশ-বিদেশে তাঁর শিল্পকর্ম প্রশংসিত হয়েছে এবং বিভিন্ন সম্মানেও ভূষিত হয়েছেন তিনি।দুর্গাপুজোর শিল্পভাবনাতেও ছিল তাঁর ছোঁয়াক্যানভাসের বাইরেও বাংলার শিল্প ও সংস্কৃতির সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত ছিলেন যোগেন চৌধুরী। বিভিন্ন সময়ে একাধিক দুর্গাপুজোর থিম এবং প্রতিমা-ভাবনার সঙ্গে যুক্ত হয়েছিলেন তিনি। ২০১৭ সালে বেহালা নূতন দল দুর্গাপুজোর প্রতিমার স্কেচ তৈরি করেছিলেন এই শিল্পী। পরের বছর ঠাকুরপুকুর স্টেট ব্যাঙ্ক পার্ক সর্বজনীনের দুর্গাপ্রতিমার চালচিত্রের নকশাতেও তাঁর শিল্পভাবনার প্রতিফলন ঘটেছিল।বাংলার দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে শিল্পের যে বিস্তৃত পরিসর তৈরি হয়েছে, সেখানে তাঁর অংশগ্রহণ ছিল উল্লেখযোগ্য। প্রথাগত শিল্পচর্চা থেকে জনপরিসরের শিল্পবিভিন্ন ক্ষেত্রেই নিজের সৃজনশীলতার পরিচয় রেখেছিলেন তিনি।শিল্পের পাশাপাশি রাজনীতির ময়দানেওচিত্রকর হিসেবে পরিচিতির পাশাপাশি সক্রিয় রাজনৈতিক জীবনও ছিল যোগেন চৌধুরীর। ২০১৪ সালে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী হিসেবে রাজ্যসভার সাংসদ নির্বাচিত হন তিনি। ২০২০ সাল পর্যন্ত সাংসদ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। শিল্প ও সংস্কৃতির জগতের সঙ্গে যুক্ত একজন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বের সংসদীয় রাজনীতিতে উপস্থিতি তাঁকে অন্য পরিচিতিও দিয়েছিল।তবে তাঁর দীর্ঘ জীবনের সবচেয়ে বড় পরিচয় হয়ে থাকবে শিল্পচর্চা। রং, রেখা ও ব্যঙ্গের মাধ্যমে সমাজকে দেখার যে নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি তিনি তৈরি করেছিলেন, তা ভারতীয় আধুনিক চিত্রকলার ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।যোগেন চৌধুরীর প্রয়াণে হারালেন বাংলা তথা ভারতের শিল্পজগতের এক বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব। তাঁর সৃষ্টি, শিল্পভাবনা এবং সমাজকে দেখার স্বতন্ত্র দৃষ্টিভঙ্গি আগামী দিনেও শিল্পপ্রেমীদের কাছে প্রাসঙ্গিক থাকবে। মানুষটি চলে গেলেন, কিন্তু ক্যানভাসে রেখে গেলেন সময়, সমাজ ও মানুষের বহু না-বলা কথার চিহ্ন।

অক্টোবর ২৫, ২০২৬
দেশ

হস্টেলে আত্মহত্যা রুখতে বিশেষ ফ্যান! অতিরিক্ত ওজন পড়লেই খুলে যাবে, বিদ্যুৎ সংযোগও বিচ্ছিন্ন

সুরাট: পড়ুয়াদের নিরাপত্তায় অভিনব উদ্যোগ বীর নর্মদ দক্ষিণ গুজরাট বিশ্ববিদ্যালয়েরছাত্রছাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হস্টেলের ঘরে বিশেষ প্রযুক্তির সিলিং ফ্যান বসাল গুজরাটের সুরাটের বীর নর্মদ দক্ষিণ গুজরাট বিশ্ববিদ্যালয় (Veer Narmad South Gujarat University)। আত্মহত্যার ঝুঁকি কমানোর উদ্দেশ্যে তৈরি এই বিশেষ ফ্যানের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে একটি স্প্রিং মেকানিজম। ফ্যানে অতিরিক্ত ওজন পড়লে সেটি খুলে নীচে নেমে আসবে এবং একই সঙ্গে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। ফলে ফ্যানকে আত্মহত্যার কাজে ব্যবহার করা কঠিন হবে বলে মনে করা হচ্ছে।বিশ্ববিদ্যালয়ের হস্টেলগুলিতে পড়ুয়াদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যেই এই উদ্যোগ যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। সাধারণ সিলিং ফ্যানের পরিবর্তে বিশেষ ব্যবস্থাযুক্ত এই ফ্যান ব্যবহারের মূল লক্ষ্য হল, কোনও পড়ুয়া চরম মানসিক সংকটের মুহূর্তে আত্মহত্যার চেষ্টা করলে সেই ঝুঁকি কমানো।বিশেষ স্প্রিং ব্যবস্থার কারণে নির্দিষ্ট সীমার বেশি ওজন পড়লে ফ্যানটি তার মাউন্টিং ব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার জন্য তৈরি। এর ফলে বিদ্যুৎ সংযোগও বন্ধ হয়ে যাওয়ার কথা। তবে এই প্রযুক্তি কতটা কার্যকর, তা নির্ভর করবে যন্ত্রটির নকশা, নির্ধারিত ওজনসীমা এবং সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের উপর।#WATCH | Surat, Gujarat | Veer Narmad South Gujarat University installs anti-suicide ceiling fans, with special spring mechanism, in hostels, designed to detach under excessive weight and cut off the power supply. https://t.co/1GM7E91n3K ANI (@ANI) October 24, 2026শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়ুয়াদের মানসিক স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা বর্তমানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। পড়াশোনার চাপ, ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ কিংবা ব্যক্তিগত সমস্যার কারণে অনেক পড়ুয়াই মানসিক সংকটের মধ্যে দিয়ে যান। এমন পরিস্থিতিতে নিরাপদ পরিকাঠামো তৈরির পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্য পরিষেবা, কাউন্সেলিং এবং সময়মতো সহায়তা পাওয়ার ব্যবস্থাও জরুরি।বিশেষ ফ্যান বসানোর এই উদ্যোগ হস্টেলের নিরাপত্তা বাড়ানোর ক্ষেত্রে একটি বিকল্প প্রযুক্তিগত পদক্ষেপ। তবে আত্মহত্যা প্রতিরোধে শুধু পরিকাঠামোগত ব্যবস্থা যথেষ্ট নয়পড়ুয়াদের পাশে থাকা, তাঁদের সমস্যার কথা শোনা এবং প্রয়োজনে দ্রুত পেশাদার সহায়তা পৌঁছে দেওয়াও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

অক্টোবর ২৫, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal