• ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, বৃহস্পতি ০৪ জুন ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

CP

কলকাতা

‘গল্প নয়, সবই সত্যি!’ — আদালতে ইডির বিস্ফোরক দাবি, দুর্নীতি ও জমি-চক্রে শান্তনুকে ঘিরে একের পর এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ

কলকাতা পুলিশের ডেপুটি কমিশনার পদমর্যাদার অফিসার শান্তনু সিংহ বিশ্বাস-কে ঘিরে আর্থিক দুর্নীতি, জমি দখলচক্র, পুলিশি প্রভাব খাটানো এবং অপরাধীদের সঙ্গে আঁতাঁতের একাধিক গুরুতর অভিযোগ সামনে এনে আদালতে বিস্ফোরক দাবি করল ইডি (Enforcement Directorate)। তদন্তকারী সংস্থার আইনজীবীর দাবি, ঘটনাপ্রবাহ শুনতে অবিশ্বাস্য মনে হলেও তদন্তে উঠে আসা প্রতিটি তথ্যই প্রমাণসাপেক্ষ এবং চার্জশিট পেশের সময় তার সত্যতা স্পষ্ট হয়ে যাবে।শুক্রবার বিশেষ আদালতে পেশ করা হয় শান্তনুকে। সওয়াল-জবাবের শেষে আদালত তাঁকে ১৪ দিনের ইডি হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেয়। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার অভিযোগ, দক্ষিণ কলকাতার জমি দখল এবং বেআইনি সম্পত্তি কারবারে অভিযুক্ত ব্যবসায়ী জয় কামদার এবং কুখ্যাত সমাজবিরোধী সোনা পাপ্পু-র সঙ্গে শান্তনুর গভীর যোগাযোগ ছিল। শুধু যোগাযোগই নয়, পুরো চক্র পরিচালনায় তাঁর প্রত্যক্ষ ভূমিকা ছিল বলেই দাবি ইডির।কী ভাবে চলত জমি দখলের কারবার?আদালতে ইডি জানিয়েছে, একটি নির্দিষ্ট জমি চিহ্নিত করার পর প্রথমে মালিকপক্ষের সঙ্গে চুক্তির আলোচনা শুরু হত। এরপর পুলিশি ও রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে মালিককে চাপে ফেলা হত। যদি মালিক জমি কম দামে বিক্রি করতে রাজি না হতেন, তবে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো কিংবা দুষ্কৃতীদের দিয়ে ভয় দেখানোর মতো কৌশল নেওয়া হত।ইডির বক্তব্য, এই চক্রে পুলিশের ক্ষমতা এবং অপরাধী জগতদুই দিককেই ব্যবহার করা হত। জমি মালিকদের ভয় দেখানো, চাপ সৃষ্টি করা এবং শেষে জমি হাতিয়ে নেওয়ার কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিত সোনা পাপ্পু। আর প্রশাসনিক স্তরে সমস্ত প্রভাব খাটানোর অভিযোগ শান্তনুর বিরুদ্ধে।পুলিশ বদলি থেকে ব্যবসায়িক সাম্রাজ্য বিস্তৃত অভিযোগের তালিকাতদন্তকারী সংস্থা আদালতে দাবি করেছে, শান্তনুর প্রভাব এতটাই বিস্তৃত ছিল যে কলকাতা পুলিশের বিভিন্ন থানায় অফিসার বদলির ক্ষেত্রেও তাঁর মতামত কার্যকর হত। বিশেষত কালীঘাট ও হেয়ার স্ট্রিটের মতো গুরুত্বপূর্ণ থানায় দীর্ঘদিন কাজ করার সুবাদে তিনি প্রশাসনিক নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছিলেন।ইডির আরও অভিযোগ# স্ত্রী ও পুত্রের নামে একাধিক ব্যবসা পরিচালনা করতেন শান্তনু# রাজ্যের পাঁচটি মেডিক্যাল কলেজের ক্যান্টিন পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত ছিল তাঁর পরিবার# ওই ব্যবসায় পুলিশের আরও কিছু কর্তার অংশীদারিত্বের ইঙ্গিত মিলেছে# কান্দিতে বাড়ি সংস্কারের নামে প্রায় আড়াই কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে# একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে এক কোটি টাকার আর্থিক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে# মোবাইল চ্যাটে প্রতিদিন পরিকল্পনার প্রমাণ মিলেছে# তদন্ত চলাকালীন ইচ্ছাকৃত ভাবে তথ্য গোপন এবং অসহযোগিতার অভিযোগ রয়েছে# ইডির দাবি, জয় কামদারের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট, ব্যাংক অ্যাকাউন্টের নথি এবং ডিজিটাল ডিভাইস থেকে উদ্ধার হওয়া তথ্য এই যোগসাজশের প্রমাণ বহন করছে।সিন্ডিকেট না দিলে এক জন মেথরও কাজ করতে পারতেন নাসবচেয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ, কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকায় নতুন নির্মাণ প্রকল্প শুরু করতে গেলে স্থানীয় কাউন্সিলর এবং সিন্ডিকেটকে মোটা অঙ্কের টাকা দিতে হত। ইডির ভাষায়, এই অর্থ না দিলে এলাকায় এক জন মেথরও কাজ শুরু করতে পারতেন না।তদন্তকারীদের দাবি, এই চক্রে স্থানীয় রাজনৈতিক যোগাযোগও ব্যবহার করা হত। উদ্ধার হওয়া নথিতে আগের সরকারের কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগের সূত্রও মিলেছে বলে আদালতে জানানো হয়েছে।শান্তনুর পাল্টা দাবি আমি উত্তরাধিকারসূত্রে ধনীসব অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন শান্তনু। আদালতে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ ভিত্তিহীন।তাঁর বক্তব্যজয় কামদার আমাকে টাকা দেয়নি, বরং আমি ওকে ফ্ল্যাট কেনার জন্য টাকা দিয়েছিলাম। পরে সেই ফ্ল্যাট কেনা হয়নি।তিনি আরও দাবি করেন, তাঁর পরিবার দীর্ঘদিনের সম্ভ্রান্ত ও সম্পদশালী। জয় কামদারের সঙ্গে সম্পর্ক ছিল পারিবারিক সূত্রে। স্ত্রী ও ছেলেকে দেওয়া উপহারকে দুর্নীতি বলে দেখানো হচ্ছে, অথচ সেগুলি নিছক সৌজন্য বিনিময়।সোনা পাপ্পুকে চেনেন না বলেও দাবি করেছেন তিনি। এমনকি ইডির দাবি করা বিপুল মূল্যের উপহার প্রসঙ্গে তাঁর বক্তব্য, ওগুলোর মোট দাম ৬৫ লক্ষ টাকার মতো হতে পারে, এক কোটি নয়।আমার ছেলেকেও টানা হচ্ছেশান্তনুর অভিযোগ, ইডি তাঁকে এবং তাঁর পরিবারকে অন্যায় ভাবে চাপে ফেলছে।তিনি আদালতে বলেনঃসমন পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। ইডিকেও জানিয়েছিলাম কখন হাজির হব। তবুও অসহযোগিতার অভিযোগ তোলা হচ্ছে। এখন আমার মেধাবী ছেলেকেও তদন্তে টানা হচ্ছে।এই মামলার তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই কলকাতা পুলিশের অন্দরের অস্বস্তি বাড়ছে। প্রশাসনিক ক্ষমতা, রাজনৈতিক যোগাযোগ এবং অপরাধচক্র সব মিলিয়ে এই মামলার জাল কত দূর বিস্তৃত, সেটাই এখন দেখার।

মে ১৬, ২০২৬
রাজ্য

অভয়ার মাকে জেতাতে সিপিএমকে প্রার্থী প্রত্যাহারের অনুরোধ! বামমনস্ক চিকিৎসকের মন্তব্যে বাড়ছে রাজনৈতিক পারদ

এক সময় বামপন্থী মতাদর্শের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন চিকিৎসক নারায়ণ বন্দ্যোপাধ্যায়। অতীতে বামেদের হয়ে প্রচার করতেও দেখা গিয়েছে তাঁকে। তবে সম্প্রতি তাঁর রাজনৈতিক অবস্থানে বদল এসেছে। ব্রিগেডের সভায় প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে তাঁকে দেখা যাওয়ার পর থেকেই তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। এবার পানিহাটির নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থী অভয়ার মায়ের সমর্থনে সরাসরি বাম প্রার্থীকে আক্রমণ করলেন তিনি।নারায়ণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, সিপিএম প্রার্থী কলতান দাশগুপ্তর উচিত প্রার্থীপদ থেকে সরে দাঁড়ানো। তাঁর মতে, ভোট কাটাকুটির ফলে যাতে অভয়ার মা কোনওভাবে হার না যান, তা নিশ্চিত করা জরুরি। কলতান তাঁর ঘনিষ্ঠ বলেও উল্লেখ করে তিনি বলেন, ব্যক্তিগতভাবে তাঁকে অনুরোধ করবেন প্রার্থী পদ প্রত্যাহার করতে।কলতান দাশগুপ্ত আর জি কর আন্দোলনের অন্যতম মুখ হিসেবে পরিচিত। আন্দোলনের সময় তিনি জেলেও ছিলেন। নির্বাচনের আগে অভয়ার বাবা-মায়ের সঙ্গে তাঁর দেখা হয়েছিল। তবে অভয়ার মা-বাবা বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর থেকেই কলতান এবং বামেদের বিরুদ্ধে তাঁদের সুর চড়েছে। তাঁদের দাবি, রাজ্যে বামেদের কোনও শক্তি নেই এবং তাদের ভোট দিলে তা শেষ পর্যন্ত তৃণমূলেরই সুবিধা করে দেবে।নারায়ণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যেও সেই একই সুর শোনা গিয়েছে। তিনি মনে করেন, তৃণমূলকে ঠেকাতে হলে বিরোধী ভোট এক জায়গায় থাকা দরকার। শুধু কলতান নয়, তাঁর বাবার কাছেও আবেদন জানিয়ে তিনি বলেন, ছেলেকে বোঝানো উচিত যাতে সে প্রার্থী পদ থেকে সরে দাঁড়ায়। একই সঙ্গে তৃণমূল প্রার্থীরও সরে দাঁড়ানো উচিত বলে মত তাঁর।অন্যদিকে, অভয়ার মা-বাবা বিজেপির প্রার্থী হতে চাওয়ায় বাম মহলে সমালোচনা শুরু হয়েছে। সেই সমালোচনার জবাব দিতে গিয়ে তাঁরাও বামেদের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন। তাঁদের অভিযোগ, মেয়ের বিচার বিলম্বিত হওয়ার পিছনেও বামেদের ভূমিকা রয়েছে। যদিও এই সব মন্তব্যে নারায়ণ বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষুব্ধ নন। তিনি বলেন, অভয়ার মা-বাবা যে সিদ্ধান্ত নেবেন, তিনি তার পাশে থাকবেন। তাঁর মতে, রাজ্যে এখন পরিবর্তনের দাবি জোরালো হয়েছে এবং সেই লক্ষ্যেই সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।সব মিলিয়ে পানিহাটির নির্বাচন ঘিরে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হয়েছে এবং এই ইস্যুতে বিতর্ক ক্রমশ বাড়ছে।

মার্চ ২২, ২০২৬
কলকাতা

ভোট ঘোষণার পরই বড় চমক, ১৯২ প্রার্থীর নাম ঘোষণা বামফ্রন্টের

বিধানসভা নির্বাচনের দিন ঘোষণা হওয়ার চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যেই প্রথম প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করল বামফ্রন্ট। মোট একশো বিরানব্বইটি আসনের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছেন বামফ্রন্টের চেয়ারম্যান বিমান বসু। এই তালিকায় যেমন একাধিক নতুন মুখ রয়েছে, তেমনই রয়েছে অভিজ্ঞ ও প্রবীণ নেতারাও। পাশাপাশি কয়েকজন পরিচিত ও ভারী ওজনের নেতাকেও লড়াইয়ের ময়দানে নামানো হয়েছে।যাদবপুর কেন্দ্রে প্রার্থী করা হয়েছে সিপিএম নেতা বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যকে। দুই হাজার উনিশ সালের লোকসভা নির্বাচনে তিনি যাদবপুর লোকসভা কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। সেই নির্বাচনে তিনি পরাজিত হলেও গত কয়েক বছরে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন আইনি লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। নিয়োগ সংক্রান্ত মামলা থেকে শুরু করে বকেয়া ভাতা সংক্রান্ত মামলাতেও তিনি আদালতে সক্রিয় ছিলেন এবং বেশ কিছু ক্ষেত্রে সাফল্যও পেয়েছেন।উত্তরপাড়া কেন্দ্রে প্রার্থী করা হয়েছে মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়কে। তিনি বাম শিবিরের অন্যতম তরুণ ও পরিচিত মহিলা মুখ। এর আগেও বিধানসভা নির্বাচনে তিনি প্রার্থী হয়েছিলেন। সেই সময় তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং শুভেন্দু অধিকারীর মতো বড় নেতাদের বিরুদ্ধেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। যদিও জয় পাননি, তবে তাঁর সরাসরি বক্তব্য এবং তীব্র বক্তৃতা রাজনৈতিক মহলে বেশ আলোচিত হয়েছে।রানিবাঁধ কেন্দ্রে আবারও প্রার্থী করা হয়েছে দেবলীনা হেমব্রমকে। তিনি দীর্ঘদিন রানিবাঁধের বিধায়ক ছিলেন। দুই হাজার ছয় থেকে দুই হাজার এগারো পর্যন্ত বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের মন্ত্রিসভায় তিনি অনগ্রসর শ্রেণিকল্যাণ উন্নয়ন মন্ত্রী ছিলেন। বর্তমানে তিনি সিপিএমের জেলা নেতৃত্বেও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে রয়েছেন। দলের তরফে তাঁকে লড়াকু নেত্রী হিসেবেই তুলে ধরা হয়।মহেশতলা কেন্দ্রে প্রার্থী করা হয়েছে সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায়কে। তিনি পেশায় আইনজীবী এবং সিপিএমের তরুণ মুখ হিসেবে পরিচিত। আগের লোকসভা নির্বাচনে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন এবং শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে গিয়েছিলেন।পানিহাটি কেন্দ্রে প্রার্থী করা হয়েছে কলতান দাসগুপ্তকে। তিনি বামেদের অন্যতম পরিচিত সংগঠক। অতীতে একটি বিতর্কের জেরে তাঁর নাম আলোচনায় উঠেছিল। পরে তিনি জামিন পান এবং নিজেকে নির্দোষ বলেও দাবি করেন। বিভিন্ন সময় সংবাদমাধ্যমে বামেদের মুখপাত্র হিসেবেও তাঁকে দেখা গেছে।দমদম উত্তর কেন্দ্রে প্রার্থী করা হয়েছে দীপ্সিতা ধরকে। তিনি বামেদের অন্যতম তরুণ নেত্রী। আগের বিধানসভা নির্বাচনে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন এবং উল্লেখযোগ্য ভোট পেয়েছিলেন। পরে লোকসভা নির্বাচনেও প্রার্থী হয়েছিলেন। যদিও জয় পাননি, তবে দলের তরুণ নেতৃত্বের মধ্যে তাঁর নাম গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়।এই প্রার্থী তালিকার মাধ্যমে বামফ্রন্ট একদিকে অভিজ্ঞ নেতাদের ভরসা রাখার পাশাপাশি তরুণ নেতৃত্বকেও সামনে আনার চেষ্টা করেছে বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে। এখন দেখার, আসন্ন নির্বাচনে এই প্রার্থী তালিকা কতটা প্রভাব ফেলতে পারে।

মার্চ ১৬, ২০২৬
রাজ্য

কাঁথি–তমলুকে নতুন সমীকরণ, শুভেন্দুর শক্ত ঘাঁটিতে লড়াই জমাতে মাঠে বামেরা

পূর্ব মেদিনীপুরের একাধিক এলাকা দীর্ঘদিন ধরেই বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। বিশেষ করে কাঁথি ও তমলুক অঞ্চলে অধিকারী পরিবারের রাজনৈতিক প্রভাব অনেকদিনের। এই উপকূলের জেলার বহু এলাকায় মানুষ একে শুভেন্দুর গড় হিসেবেই চেনে।রাজনীতিতে সাধারণত গড় বলতে এমন একটি এলাকাকে বোঝানো হয় যেখানে কোনও নেতা বা রাজনৈতিক দলের দীর্ঘদিনের শক্ত প্রভাব থাকে। সেই অর্থে কাঁথি, তমলুক ও আশপাশের অঞ্চলকে অধিকারী পরিবারের প্রভাবের এলাকা বলেই মনে করেন অনেক রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক। এই পরিস্থিতিতেই সেই এলাকাগুলিতে নিজেদের প্রার্থী ঘোষণা করেছে বামেরা।বাম শিবিরের তরফে তমলুক কেন্দ্রে প্রার্থী করা হয়েছে সিপিআই নেতাকে। ময়না কেন্দ্রে লড়ছেন সিপিআইয়ের স্বপন বর্মন। হলদিয়া কেন্দ্রে সিপিএমের প্রার্থী হিসেবে নাম ঘোষণা করা হয়েছে অশোক পাত্রের। পটাশপুর কেন্দ্রে সিপিআইয়ের সৈকত গিরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।কাঁথি উত্তর কেন্দ্রে, যেখানে শুভেন্দু অধিকারীর বাড়ি, সেই এলাকায় সিপিএম প্রার্থী হিসেবে লড়বেন সুতনু মাইতি। আবার কাঁথি দক্ষিণ কেন্দ্রে সিপিআইয়ের প্রার্থী করা হয়েছে তেহরান হোসেনকে। রামনগর কেন্দ্রে লড়বেন অশোক কুমার মাইতি।পূর্ব মেদিনীপুরের রামনগর, কাঁথি উত্তর, কাঁথি দক্ষিণ, কাঁথি পূর্ব, খেজুরি, এগরা এবং তমলুক এলাকায় বহু বছর ধরেই অধিকারী পরিবারের রাজনৈতিক প্রভাব রয়েছে। শুভেন্দু অধিকারীর বাবা শিশির অধিকারী এবং ভাই দিব্যেন্দু অধিকারীও দীর্ঘদিন ধরে এই অঞ্চলের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।বিশেষ করে নন্দীগ্রাম আন্দোলনের পর এই অঞ্চলে শুভেন্দু অধিকারীর জনপ্রিয়তা আরও বেড়ে যায়। সেই কারণেই এই উপকূলের জেলাকে অনেকেই তাঁর শক্ত ঘাঁটি হিসেবে মনে করেন। এবার সেই এলাকাতেই একাধিক প্রার্থী ঘোষণা করে রাজনৈতিক লড়াইকে আরও তীব্র করার ইঙ্গিত দিল বামেরা।

মার্চ ১৬, ২০২৬
রাজনীতি

একদা কমিউনিষ্ট ঘাঁটিতে টানা তিনবার জিতেও নিশ্চিন্ত নয় তৃণমূল! বর্ধমান দক্ষিণে এবার কি হাড্ডাহাড্ডি লড়াই?

দক্ষিণ বর্ধমান বরাবর কমিউনিস্টদের শক্ত ঘাঁটি ছিল। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর এই কেন্দ্র থেকে প্রথম দুটি নির্বাচনে জয়ী হয়েছিলেন বিনয়কৃষ্ণ চৌধুরী। তখন তিনি প্রার্থী হয়েছিলেন অবিভক্ত কমিউনিষ্ট পার্টি তথা সিপিআই থেকে। তারপর এই আসন থেকে কংগ্রেস প্রার্থী বর্ধমানের মহারানী রাধারাণী মহতাব জয়ী হয়েছিলেন। তার আগের নির্বাচনে বিনয় চৌধুরী পরাজিত করেছিলেন বর্ধমানের মহারাজাকে। সেই সম্মান পুনরুদ্ধার করতে কংগ্রেস প্রার্থী হয়েছিলেন মহারাণী। তার পরে শুধু ১৯৬৭ ও ১৯৭২ সালে এই কেন্দ্রে কংগ্রেস জয় পেয়েছিল। এখানে থেকে জয়ী হয়ে মন্ত্রী হয়েছিলেন প্রদীপ ভট্টাচার্য। তাছাড়া ২০০৬ পর্যন্ত সিপিএম এই কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়েছে। ২০১১ সালে রাজ্যে পরিবর্তনের ভোটে তৃণমূল প্রার্থী রবিরঞ্জন চট্টোপাধ্যায় ব্যাপক ভোটের ব্য়বধানে পরাজিত করেন রাজ্যের তৎকালীন শিল্পমন্ত্রী নিরুপম সেনকে। প্রায় ৩৭ হাজার ভোটে পরাজিত হন নিরুপম সেন। ২০১৬-তেও জয় পায় তৃণমূল। তখনও এই কেন্দ্রে প্রধান বিরোধী দল ছিল সিপিএম। রবিবঞ্জন চট্টোপাধ্যায় প্রায় ৩০ হাজার ভোটের ব্য়বধানে সিপিএম প্রার্থী আইনুল হককে পরাজিত করেন। ২০২১ বিধানসভা নির্বাচনে এই কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী সন্দীপ নন্দীকে পরাজিত করেন তৃণমূল প্রার্থী খোকন দাস। তবে জয়ের ব্যবধান অনেকটাই কমে যায়। পাশাপাশি প্রায় অর্ধেক ওয়ার্ডে বিজেপি এগিয়ে থাকে তৃণমূলের থেকে। এই নির্বাচনে সিপিএম প্রার্থী পৃথা তা প্রায় ২৩ হাজারের ওপর ভোট পেয়েছিল।বর্ধমান পুরসভা এলাকা নিয়েই বর্ধমান দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্র। তবে ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনে এই কেন্দ্রে কি হতে চলেছে তা নিয়ে জল্পনার শেষ নেই শহরজুড়ে। প্রথমত বিধায়ক খোকন দাসই টিকিট পাচ্ছেন কি না, তা নিয়েও গুঞ্জন রয়েছে। বিধায়ক অনুগামীরা জোরের সঙ্গে বলছেন টিকিট খোকন দাসই পাচ্ছেন। শহরে এক যুব নেতার নাম ভাসিয়ে দেওয়া হলেও বর্ধমান দক্ষিণে আদৌ সে টিকিট পাবেন কিনা তা নিয়ে কম জল্পনা নেই। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান থেকে ক্রীড়া অনুষ্ঠান সবেই জোরদার প্রতিযোগিতা চলছে তৃণমূলের দুই তরফ থেকেই। অনেকের আবার বক্তব্য, নেপোয় দই মেরে দেবে না তো!তৃণমূল যাকেই প্রার্থী করুক এবার জোরদার লড়াই হবে বর্ধমান দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রে। এদিকে তৃণমূলের একটা সূত্রের দাবি, শহরে দলে ঘরের মধ্যে ঘর তৈরি হয়েছে। সেই ঘরও যথেষ্ট শক্তিশালী বলেই সেই অংশের দাবি। তাঁদের ভূমিকা জয়-পরাজয়ে অনেকটা নির্ভর করবে বলে রাজনৈতিক মহলের দাবি। পাশাপাশি যে ভাবে পর পর নির্বাচনে ওয়ার্ডগুলিতে পিছিয়ে পড়েছে তৃণমূল তাতে সংশয় বেড়েছে। মোদ্দা কথা, পর পর তিনবার জয় পেলেও এবার বর্ধমান দক্ষিণ কেন্দ্রে নেক-টু-নেক ফাইট হবার সম্ভাবনা প্রবল। একতরফা জয়ের কোনও সম্ভাবনা নেই বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

মার্চ ১০, ২০২৬
কলকাতা

নাম কাটা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ, নির্বাচন কমিশন ঘেরাও করে অনড় বামেরা! রাস্তাতেই রাত কাটালেন সেলিম-মীনাক্ষীরা

ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগে নির্বাচন কমিশনের দফতরের সামনে রাতভর অবস্থান বিক্ষোভে সামিল হলেন বাম নেতারা। সিইও-র সঙ্গে সরাসরি দেখা না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তাঁরা।বুধবার টি বোর্ডের সামনে থেকে মিছিল শুরু করে সিইও দফতরের দিকে এগিয়ে যান বামফ্রন্টের নেতারা। মিছিলে হাঁটেন বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু, সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম, নেতা সুজন চক্রবর্তী-সহ অন্যান্যরা। তাঁদের অভিযোগ, চক্রান্ত করে বৈধ ভোটারদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে।সিইও মনোজ আগরওয়াল-এর হাতে সরাসরি স্মারকলিপি দেওয়ার কথা জানালেও তিনি দেখা করেননি বলে দাবি বাম নেতৃত্বের। অধস্তন আধিকারিকের কাছে স্মারকলিপি জমা দিতে বলা হলেও তাতে রাজি হননি তাঁরা। সেলিমদের স্পষ্ট কথা, স্মারকলিপি সিইও-কেই দিতে হবে। এরপরই দফতরের বাইরে অবস্থানে বসার সিদ্ধান্ত নেন নেতা-কর্মীরা।রাতভর কালো ত্রিপল পেতে রাস্তাতেই কাটান তাঁরা। আন্দোলনে সামিল ছিলেন ক্যাপ্টেন নামে পরিচিত মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়। তিনি বলেন, বৈধ ভোটারের নাম কেটে কমিশন পার পাবে না। একদিকে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাবে, অন্যদিকে অফিসাররা বহাল তবিয়তে থাকবেন এমনটা হতে পারে না।এই অবস্থান বিক্ষোভে যোগ দেন এভারেস্টজয়ী পিয়ালী বসাক-ও। তাঁর কথায়, জনগণের করের টাকায় বেতন পান কমিশনের আধিকারিকরা। অথচ সাধারণ মানুষের নামই যদি তালিকা থেকে বাদ পড়ে, তা হলে তা মেনে নেওয়া যায় না। পাঁচ বছর ধরে করের টাকায় কী কাজ হয়েছে, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।বাম নেতৃত্বের দাবি, ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার যে কোনও চেষ্টা রুখে দেওয়া হবে। যতক্ষণ না সিইও-র সঙ্গে সরাসরি কথা হচ্ছে, ততক্ষণ আন্দোলন চলবে বলেই স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন তাঁরা। নির্বাচন কমিশনের দফতরের সামনে তাই এখনও জারি রয়েছে ধরনা। পরিস্থিতির দিকে নজর রয়েছে প্রশাসনেরও।

মার্চ ০৫, ২০২৬
দেশ

এক সপ্তাহের মধ্যেই আবার অসুস্থ শরদ পওয়ার, চিন্তায় পরিবার ও সমর্থকরা

মহারাষ্ট্রের প্রবীণ রাজনীতিক শরদ পওয়ার আবার অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হলেন। ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টির শীর্ষ নেতা এবং রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে রবিবার দ্রুত পুণের রুবি হল ক্লিনিক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। গত সপ্তাহেও একই হাসপাতালে তাঁকে ভর্তি করা হয়েছিল।শরদ পওয়ারের মেয়ে ও বারামতীর সাংসদ সুপ্রিয়া সুলে জানিয়েছেন, সর্দি, কাশি ও গলার সংক্রমণে ভুগছেন তিনি। রবিবার শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় পরিবারের সদস্যরা তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করার সিদ্ধান্ত নেন। বর্তমানে চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে তাঁকে।এর আগেও একটানা কাশি ও শ্বাসকষ্টের সমস্যার কারণে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল প্রবীণ এই নেতাকে। চিকিৎসকদের পরীক্ষায় বুকে সংক্রমণের কথা ধরা পড়ে। কয়েক দিন চিকিৎসার পর তিনি বাড়ি ফিরেছিলেন এবং বিশ্রামে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। পুণেতে নিজের বাড়িতে বিশ্রামে থাকলেও রবিবার আবার শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।সম্প্রতি ব্যক্তিগত জীবনে কঠিন সময়ের মধ্যেও রয়েছেন শরদ পওয়ার। পারিবারিক শোক ও শারীরিক অসুস্থতার জেরে তাঁর রাজনৈতিক কর্মসূচিও সীমিত রাখা হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে। তাঁর দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন দলের নেতা কর্মী ও সমর্থকেরা।

ফেব্রুয়ারি ২২, ২০২৬
রাজ্য

বাম শিবিরে অস্বস্তি বাড়ছে, প্রতীক উরের পথেই কি হাঁটবেন আরও তরুণ নেতা

চব্বিশের লোকসভা নির্বাচনে ডায়মন্ড হারবার কেন্দ্র থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-এর বিরুদ্ধে লড়েছিলেন প্রতীক উর রহমান। সময়ের ব্যবধানে সেই রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীই এখন তাঁর সহযোদ্ধা। শনিবার দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার আমতলা এলাকায় দলীয় কার্যালয়ের সামনে তৃণমূলে যোগ দিলেন প্রতীক উর রহমান। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতিতেই তাঁর এই যোগদান রাজনৈতিক মহলে জোর আলোড়ন ফেলেছে।বিধানসভা নির্বাচনের আগে এক সময়ের বাম যুবনেতার দলবদলকে ঘিরে গত এক সপ্তাহ ধরেই জল্পনা চলছিল। সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি চিঠিতে প্রতীক উর রহমান রাজ্য কমিটি, জেলা কমিটি এবং দলের প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে অব্যাহতি চাওয়ার কথা জানান। পরে ভারতীয় কমিউনিস্ট পার্টি মার্ক্সবাদী দলীয় নিয়ম মেনে তাঁকে বহিষ্কার করে। তবে তার আগে দলের একাংশ তাঁকে ধরে রাখার চেষ্টা চালায় এবং বর্ষীয়ান নেতা বিমান বসু তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন বলেও জানা যায়।দুদিনের রাজ্য কমিটির বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মহম্মদ সেলিম জানান, প্রতীক উরের দলত্যাগ তাঁর কাছে সন্তান হারানোর যন্ত্রণার মতো। তিনি ব্যক্তিগতভাবে প্রতীককে ফেরানোর চেষ্টা করেছিলেন বলেও দাবি করেন। কিন্তু সেই প্রচেষ্টা সফল হয়নি। বরং প্রতীক উর দলের প্রবীণ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন, যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়।এর মধ্যেই শোনা যাচ্ছিল তৃণমূলের এক সাংসদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন প্রতীক উর। বিভিন্ন অনানুষ্ঠানিক আলোচনাতেও তাঁদের একসঙ্গে দেখা গিয়েছে বলে রাজনৈতিক সূত্রের দাবি। অবশেষে শনিবার বিকেলে সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটে। দুপুরে আমতলার দলীয় কার্যালয়ে পৌঁছে স্থানীয় নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। পরে প্রতীক উরের যোগদান পর্ব সম্পন্ন হয় এবং দুজনেই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন।রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা, প্রতীক উরের পথ অনুসরণ করে আরও বাম যুবনেতা দলবদলের সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। বিশেষ করে সৃজন ভট্টাচার্য এবং দীপ্সিতা ধর-এর নাম ঘিরে আলোচনা শুরু হয়েছে। যদিও এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কেউ কিছু বলেননি, তবু আলিমুদ্দিনের অন্দরে উদ্বেগ বাড়ছে বলেই রাজনৈতিক মহলের ধারণা।

ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২৬
কলকাতা

দল ছাড়ছেন দীপ্সিতা? সদস্যপদ নবীকরণ ঘিরে তীব্র জল্পনা

আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্যের বাম রাজনীতিতে নতুন জল্পনা তৈরি হয়েছে। তরুণ নেত্রী দীপ্সিতা ধর তাঁর দলীয় সদস্যপদ পুনর্নবীকরণ এখনও না করায় রাজনৈতিক মহলে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। কেউ মনে করছেন দলের অভ্যন্তরীণ কর্মকাণ্ডে অসন্তোষ থেকেই এই দূরত্ব, আবার কেউ বলছেন বিষয়টি সম্পূর্ণই সাংগঠনিক প্রক্রিয়ার অংশ। যদিও দীপ্সিতা নিজে সমস্ত জল্পনাকে রটনা বলে উড়িয়ে দিয়েছেন এবং জানিয়েছেন সদস্যপদ নবীকরণের জন্য মার্চ মাস পর্যন্ত সময় রয়েছে।দলীয় নিয়ম অনুযায়ী প্রতি বছর জানুয়ারি থেকে মার্চের শেষ পর্যন্ত সদস্যপদ নবীকরণ করা যায়। সাধারণত এই সময়ের মধ্যেই অধিকাংশ সদস্য প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করেন। আবেদন প্রথমে জেলা স্তরে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয় এবং ধাপে ধাপে তা সম্পন্ন হয়। তবে দলীয় সূত্রে খবর, ফেব্রুয়ারির অনেকটা সময় পেরিয়ে গেলেও দীপ্সিতার নবীকরণ হয়নি। এদিকে নির্বাচনের সম্ভাব্য ঘোষণা সামনে থাকায় আপাতত সংগঠনের কাজের গতি কিছুটা থমকে রয়েছে বলেও জানা যাচ্ছে। ফলে প্রশ্ন উঠছে তিনি আদৌ সদস্যপদ চালিয়ে যেতে চান কি না।দীপ্সিতা জানিয়েছেন, তিনি পড়াশোনার সময় জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয় এ থাকাকালীন দলের সদস্য হন এবং সেই সূত্রে তাঁর সদস্যপদ নবীকরণ দিল্লিতেই হওয়ার কথা। তাই রাজ্যে নবীকরণ না হওয়া নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। তিনি আরও বলেন, সময় শেষ হয়নি এবং বিষয়টি নিয়ে অযথা জল্পনা ছড়ানো হচ্ছে। তবে মার্চের মধ্যে নতুন করে ফর্মে সই করবেন কি না সে বিষয়ে স্পষ্ট কিছু বলেননি।সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি প্রতীক উর রহমান এর পাশে দাঁড়িয়ে বলেন, দলের সমালোচনা মানেই দলবিরোধী অবস্থান নয়। এতে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে দলের তরুণ নেতৃত্বের ভূমিকা নিয়ে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, ইদানিং দলীয় কর্মসূচিতে দীপ্সিতাকে তেমন সক্রিয় দেখা যাচ্ছে না। এমনকি বিতর্কসভা ও মিছিলেও তাঁর উপস্থিতি কমেছে। ২০২৪ সালে শ্রীরামপুর লোকসভা কেন্দ্র থেকে প্রার্থী হয়ে পরাজয়ের পর কিছুদিন সক্রিয় থাকলেও বর্তমানে তাঁর রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।অন্যদিকে একই প্রজন্মের নেত্রী মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায় ধারাবাহিকভাবে কর্মসূচি করে চলেছেন। দীপ্সিতার এলাকাতেও তাঁর সক্রিয়তা চোখে পড়ছে। ফলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা, ভবিষ্যতে কি নতুন কোনও সিদ্ধান্ত নিতে চলেছেন দীপ্সিতা? নাকি সবটাই সাময়িক দূরত্ব? এই প্রশ্নের উত্তর সময়ই দেবে।

ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২৬
কলকাতা

ভোটের মুখে সিপিএমে বড় ভাঙন! রাজ্য কমিটি ছাড়লেন প্রতীক-উর-রহমান

ভোটের মুখে সিপিএমে বড়সড় ধাক্কা। দলের রাজ্য কমিটি থেকে পদত্যাগ করলেন প্রতীক-উর-রহমান। শুধু তাই নয়, প্রাথমিক সদস্যপদও ছেড়ে দিয়েছেন তিনি। নিজের পদত্যাগপত্র দলকে পাঠিয়ে দিয়েছেন প্রাক্তন এসএফআই রাজ্য সভাপতি। তাঁর এই সিদ্ধান্ত ঘিরে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর।পদত্যাগপত্রে প্রতীক-উর জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক সময়ে দলের জেলা ও রাজ্য নেতৃত্বের কিছু সিদ্ধান্ত ও কাজের ধরন তাঁর সঙ্গে মিলছে না। সেই কারণে তিনি মানসিক অস্বস্তিতে ভুগছিলেন। এই পরিস্থিতিতে সমস্ত পদ থেকে অব্যাহতি নেওয়াই ঠিক বলে মনে করেছেন তিনি। তবে তিনি স্পষ্ট করেছেন, ব্যক্তিগতভাবে কারও সঙ্গে তাঁর কোনও বিরোধ নেই।এই ঘটনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া একটি রাজনৈতিক পর্ব। তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীর নিজের নতুন দল জনতা উন্নয়ন পার্টি গড়েছেন। তিনি ঘোষণা করেছেন, নিজের দল নিয়ে ভোটে লড়বেন এবং তৃণমূল ছাড়া অন্য সব বিরোধী দলকে জোটের আহ্বান জানিয়েছেন। সেই প্রেক্ষিতে সিপিএমকেও প্রস্তাব পাঠানো হয়।এরপর নিউটাউনে সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম-এর সঙ্গে বৈঠক করেন হুমায়ুন। এই বৈঠক ঘিরেই দলের অন্দরে মতবিরোধ তৈরি হয় বলে জানা যায়। দলের একাংশ এই সিদ্ধান্তে অসন্তোষ প্রকাশ করে। যদিও তখন তরুণ নেতা শতরূপ এই বৈঠকের পক্ষে সওয়াল করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, সিপিএম এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি। অন্য দল হুমায়ুনকে প্রার্থী করলে বা মন্ত্রী করলে আপত্তি না থাকলেও, সিপিএম কথা বললেই কেন সমস্যা হবে সেই প্রশ্ন তুলেছিলেন তিনি।শতরূপের ওই মন্তব্যের পরেই সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট করেন প্রতীক-উর। সেখানে তিনি লেখেন, নীতি ও নৈতিকতা ছাড়া কমিউনিস্ট পার্টি হতে পারে না। যদিও তিনি কারও নাম উল্লেখ করেননি, কিন্তু দলের অন্দরে জল্পনা শুরু হয় যে এই মন্তব্য আসলে শতরূপকেই উদ্দেশ্য করে।এরপর রবিবার দলকে পাঠানো চিঠিতে প্রতীক-উর স্পষ্ট ভাষায় জানান, বর্তমান পরিস্থিতিতে তিনি নিজেকে দলের সিদ্ধান্তের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারছেন না। তাই সমস্ত দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।প্রতীক-উরের পদত্যাগের পর রাজনৈতিক মহলেও চর্চা শুরু হয়েছে। তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ সিপিএমকে কটাক্ষ করে সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখেন, সিপিএমের নেতৃত্বের একাংশ ও ফেসবুক নির্ভর রাজনীতির জেরে দলের প্রথম সারির যুবনেতাদের এই পরিণতি হচ্ছে। তাঁর এই মন্তব্য ঘিরেও শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক।ভোটের আগে সিপিএমের এই পদত্যাগ কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে এখন জোর চর্চা। প্রতীক-উরের এই পদক্ষেপ কি শুধু ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত, নাকি বড় কোনও ভাঙনের ইঙ্গিত সেই প্রশ্নই এখন ঘুরছে রাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে।

ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০২৬
রাজ্য

সেলিমের নেতৃত্বেই জোট! না হলে একাই ১৮২ আসনে লড়বেন হুমায়ুন

সিপিএম, আইএসএফ ও মিমের সঙ্গে জোট হবে কি না, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা চলছে। এই পরিস্থিতিতে ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন নতুন করে ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করলেন। তিনি জানিয়েছেন, সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং ২৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই জোট চূড়ান্ত হয়ে যাবে।হুমায়ুন বলেন, জোট হলে তিনি ১৩৫ আসনের নিচে নামবেন না। আর যদি জোট হয়, তবে সেই জোটের নেতৃত্ব তিনি শুধু সিপিএম নেতা মহম্মদ সেলিমের হাতেই মানবেন। অন্য কাউকে নেতা হিসেবে মেনে নেবেন না বলেও স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন তিনি।কয়েক দিন আগে নিউটাউনে একটি বৈঠক নিয়ে মুখ খুলেছিলেন সেলিম। তখন তিনি বলেছিলেন, তাঁদের সঙ্গে কথা বলতে হলে মন্দির-মসজিদের রাজনীতি করা চলবে না। সেই প্রসঙ্গেই হুমায়ুন বলেন, শূন্যের সঙ্গে শূন্য যোগ করলে শূন্যই হয়। সেই শূন্যের একটা কেটে গেছে। আর একটা শূন্য আমাদের সঙ্গে থাকতে আগ্রহ দেখিয়েছে। ২৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে মিম, আইএসএফ ও সিপিএমের মধ্যে কার সঙ্গে জোট হবে, তা মানুষ জানতে পারবেন।কত আসনে লড়তে চান, সেই প্রশ্নের জবাবে হুমায়ুন বলেন, জোট হলে আসন ভাগাভাগির কারণে তাঁদের আসন সংখ্যা কমে যাবে। তবে তা যতই কমুক, তিনি ১৩৫ আসনের নিচে নামবেন না। আর জোট না হলে তিনি একাই ১৮২ আসনে লড়বেন বলে দাবি করেছেন।তাঁর কথায়, প্রধান লক্ষ্য তৃণমূলকে পরাজিত করা এবং বিজেপিকে সংখ্যাগরিষ্ঠতায় পৌঁছাতে না দেওয়া। সে ক্ষেত্রে জোটের নেতৃত্ব যদি সেলিম দেন, তবে তিনি তা মেনে নেবেন।এদিকে এই মন্তব্য নিয়ে কটাক্ষ করেছে বিজেপি। দলের নেতা দিলীপ ঘোষ বলেন, ভোটের আগে অনেকেই ফাঁকা আওয়াজ দেন। শেষ পর্যন্ত কী হয়, তা দেখার অপেক্ষা।

ফেব্রুয়ারি ০৮, ২০২৬
রাজ্য

তৃণমূল নেত্রী পদ্মশিবিরের পথে? তৃণমূলের জনপ্রিয় ছাত্র নেত্রীর রাজনৈতিক অবস্থান ঘিরে জোর জল্পনা

এক সময় যাঁর কণ্ঠে তৃণমূলের স্লোগান মুখরিত হয়েছে ব্রিগেডের মঞ্চ, যাঁকে দেখা গিয়েছে রাজ্য শাসক দলের ভিআইপি প্রচারক হিসেবে, সেই ডাকসাইটে তৃণমূল ছাত্র নেত্রী রাজন্যা হালদারকে ঘিরে এখন রাজনীতির ময়দানে তুমুল জল্পনা। প্রশ্ন উঠছেতবে কি তৃণমূল থেকে সরে বিজেপির দিকে পা বাড়াচ্ছেন তিনি?সম্প্রতি রাজন্যার সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত দুটি পোস্ট এই জল্পনাকে আরও উসকে দিয়েছে। এক পোস্টে তিনি লিখেছেন, একসময় তিনি তমলুকে প্রচার করলেও মানুষ জ্ঞান, শিক্ষা ও ন্যায়ের পক্ষে ভোট দিয়েছেন এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করা মানুষদের পাশে দাঁড়ানোর কথা বলেছেন। সেই সূত্রেই তাঁর সাক্ষাৎ হয় তমলুকের বিজেপি সাংসদ, প্রাক্তন বিচারক অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়এর সঙ্গে। সেখানে রাজন্যা স্পষ্ট ভাষায় বলেন, তাঁদের লড়াই কোনো রাজনৈতিক সমীকরণ নয়, বরং যুবসমাজের ভবিষ্যৎ, কর্মসংস্থান ও বেকারত্ব সমস্যার বিরুদ্ধে সংগ্রাম।এই বক্তব্যের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আরও একটি বড় রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট। একসময় ২১শে জুলাই ব্রিগেডের মঞ্চে রাজন্যার কণ্ঠে শোনা গিয়েছিলजुल्मी जब जब जुल्म करेगा सत्ता के गलियारों से, चप्पा चप्पा गूंज उठेगा ममता दी के नारों से!এই স্লোগান ছাত্র-যুব সমাজে সাড়া ফেলেছিল। গত লোকসভা ও পঞ্চায়েত নির্বাচনে তিনি ছিলেন তৃণমূলের ভিআইপি প্রচারক। একাধিক কর্মসূচিতে তাঁকে দেখা গিয়েছে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়এর খুব কাছাকাছি।কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে দৃশ্যপট বদলাতে শুরু করে। আর জি কর চিকিৎসক হত্যাকাণ্ডের পর থেকে রাজন্যার অবস্থানে পরিবর্তনের ইঙ্গিত স্পষ্ট হয়। বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও বক্তব্যে রাজ্য সরকার ও তৃণমূল নেতৃত্বের বিরুদ্ধে তাঁর কড়া সমালোচনা নজরে আসে রাজনৈতিক মহলের। এই অবস্থান বদলের মাঝেই সরস্বতী পুজোর আগের দিন তমলুকের বিজেপি সাংসদ অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়এর বাড়িতে তাঁর উপস্থিতি রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করে।এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই রাজনৈতিক মহলে দুইয়ে দুইয়ে চারজল্পনা শুরু হয়েছে, তবে কি রাজন্যা হালদারের বিজেপিতে যোগদান শুধুই সময়ের অপেক্ষা? তৃণমূল ছাত্র সংগঠনের একসময়কার পরিচিত মুখের এমন অবস্থান পরিবর্তন রাজ্য রাজনীতিতে বড়সড় প্রভাব ফেলতে পারে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।যদিও এখনও পর্যন্ত রাজন্যা হালদার প্রকাশ্যে দলত্যাগের কোনো ঘোষণা করেননি, তবে তাঁর সামাজিক মাধ্যমের বক্তব্য, রাজনৈতিক অবস্থান এবং বিজেপি নেতাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা এই জল্পনাকে আরও জোরালো করছে। রাজ্য রাজনীতিতে ছাত্র-যুব রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ মুখ হিসেবে পরিচিত রাজন্যার পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয়, সেদিকেই এখন তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।

জানুয়ারি ২৩, ২০২৬
বিদেশ

জামাতের সঙ্গে হাত মেলাতেই ভাঙনের শুরু, এনসিপিতে একের পর এক পদত্যাগ

রবিবার প্রকাশ্যেই জামাতের সঙ্গে নির্বাচনী জোটের ঘোষণা করেছিল জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপি। কিন্তু সেই ঘোষণার পরদিনই দলটির অন্দরে শুরু হয়ে গেল প্রবল অশান্তি। জামাতের সঙ্গে জোট মানতে না পেরে এখনও পর্যন্ত অন্তত পাঁচজন শীর্ষ নেতা পদত্যাগ করেছেন। পাশাপাশি, জামাতের সঙ্গে জোটের বিরোধিতা করে প্রায় ৩০ জন নেতা এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামকে চিঠি দিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।রবিবার জামাতের আমির শফিকুর রহমান জানান, গণঅভ্যুত্থানের নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্রদের দল এনসিপি এবং কর্নেল অলি আহমেদের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি জামাতের নেতৃত্বাধীন জোটে যোগ দিয়েছে। পরে এনসিপির তরফ থেকেও বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। এই ঘোষণার পরেই দলের ভিতরে অসন্তোষ প্রকাশ্যে আসে এবং একের পর এক নেতা পদত্যাগ করেন।যদিও দলের শীর্ষ নেতৃত্বের দাবি, এই পদত্যাগে এনসিপির উপর বড় কোনও প্রভাব পড়বে না। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে আয়োজিত এক সাংবাদিক বৈঠকে নাহিদ ইসলাম বলেন, জামাতের সঙ্গে জোট নিয়ে দল অনড় অবস্থানেই রয়েছে। তাঁর দাবি, দলের অধিকাংশ কেন্দ্রীয় নেতা এই জোটকে সমর্থন করছেন।এদিকে পদত্যাগ করা নেতাদের বক্তব্য, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক সমঝোতা দলের আদর্শ ও নীতিগত অবস্থানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। সেই কারণেই তারা দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। প্রথমে পদত্যাগ করেন কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সদস্য সচিব মির আরশাদুল হক। এরপর ঢাকা-৯ আসনের প্রার্থী ও সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. তাসনিম জারা, যুগ্ম আহ্বায়ক ডা. তাজনুভা জাবিন, যুগ্ম আহ্বায়ক খালেদ সাইফুল্লাহ এবং ফেনি-৩ আসনের প্রার্থী আবুল কাশেম দল ছাড়েন। যদিও তাসনিম জারা জানিয়েছেন, তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে লড়বেন।এনসিপির প্রাক্তন যুগ্ম আহ্বায়ক তাজনুভা জাবিন ফেসবুকে ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করে জানিয়েছেন, জামাতের সঙ্গে জোট কোনও তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং ধাপে ধাপে সাজানো একটি রাজনৈতিক পরিকল্পনার অংশ। এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা শুরু হয়েছে।এর মধ্যেই নতুন দল গড়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন মাহফুজ আলম। ফেসবুক পোস্টে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, এনসিপি-জামাত জোটের সঙ্গে তিনি থাকবেন না। পাশাপাশি বিকল্প রাজনৈতিক মঞ্চ গড়ার বার্তাও দিয়েছেন তিনি।প্রসঙ্গত, কয়েক মাস ধরেই নাহিদ ইসলাম দাবি করে আসছিলেন যে এনসিপি এককভাবে নির্বাচন লড়বে। সেই অনুযায়ী প্রথমে ১২৫টি আসনে প্রার্থীও ঘোষণা করা হয়েছিল। পরে গণতান্ত্রিক সংস্কার জোট গঠনের কথা জানানো হয় এবং জামাতের সঙ্গে আসন ভাগাভাগি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। এনসিপি জামাতের কাছে ৫০টি আসন দাবি করলেও শেষ পর্যন্ত ৩০টির বেশি আসন ছাড়তে রাজি হয়নি জামাত। এই পরিস্থিতিতে দলের বহু ছাত্রনেতার মধ্যেই ক্ষোভ তৈরি হয়। জোট ঘোষণার পর সেই ক্ষোভই প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছে।

ডিসেম্বর ২৯, ২০২৫
কলকাতা

ভিআইপি কালচারের বলি ফুটবলপ্রেমীরা? মেসি বিতর্কে বিজেপি-সিপিএমের তোপ

পাহাড়প্রমাণ প্রত্যাশা মুহূর্তে যেন জল হয়ে গেল। হাজার হাজার টাকা দিয়ে টিকিট কেটেও প্রিয় তারকা লিয়োনেল মেসিকে ঠিকমতো দেখতে পেলেন না দর্শকরা। মেসি মাঠ ছাড়তেই সোশ্যাল মিডিয়া থেকে সাধারণ মানুষের মুখে ঘুরছে একটাই কথাভিআইপি কালচারের জন্যই বঞ্চিত হল সাধারণ দর্শক। ক্ষোভে ফেটে পড়ে তছনছ হয়ে যায় যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গন। ভাঙা হয় চেয়ার, তোরণ। গোটা ঘটনায় রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে তীব্র চাপানউতোর।অব্যবস্থার জেরে মাঠে ঢুকতেই পারেননি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাস্তা থেকেই কনভয় ঘুরিয়ে ফিরে যেতে হয় তাঁকে। পরে মেসির কাছে ক্ষমা চেয়ে গোটা ঘটনার তদন্তে একটি কমিটি গঠনের নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু তাতেও বিতর্ক থামেনি। একের পর এক তোপ দাগছে বিরোধীরা।বিজেপি নেতা সজল ঘোষ বলেন, সাধারণ মানুষ সাড়ে তিন হাজার থেকে আট হাজার টাকা দিয়ে টিকিট কিনেছেন। একশো দিনের কাজের শ্রমিকের প্রায় এক মাসের মজুরি একটি টিকিটের দামের সমান। তাঁর অভিযোগ, একদল প্রভাবশালী মানুষ মেসিকে ঘিরে রেখে সাধারণ দর্শকদের বঞ্চিত করেছেন। গোটা ঘটনাকে তিনি দুর্ভাগ্যজনক বলে মন্তব্য করেন।বঙ্গ বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদারও কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন। তাঁর দাবি, টিকিটের কালোবাজারি হয়েছে এবং পুরো ব্যবস্থাই ছিল চরম বিশৃঙ্খল। তিনি বলেন, যাঁরা বোতল ছুড়েছেন তাঁদের মধ্যেও শাসকদলের লোকজন রয়েছেন বলে তাঁর কাছে খবর আছে। পুলিশ ভিড় নিয়ন্ত্রণে পুরোপুরি ব্যর্থ বলেও অভিযোগ তোলেন তিনি।সিপিএমও এই ঘটনায় সরব। দলের নেতা মহম্মদ সেলিম বলেন, বাংলায় যেখানে অনুষ্ঠান হবে, সেখানে দুর্নীতি, কালোবাজারি আর বিশৃঙ্খলা যেন নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে। খেলাধুলো থেকে মেলাসব ক্ষেত্রেই একই ছবি দেখা যাচ্ছে বলে তাঁর অভিযোগ।এ দিকে বিজেপির আইটি সেলের প্রধান অমিত মালব্য বলেন, তৃণমূল কংগ্রেস পশ্চিমবঙ্গের মানুষের আবেগে আঘাত করেছে এবং ফুটবলপ্রেমীদের অপমান করেছে। সব মিলিয়ে মেসিকে ঘিরে এই বিশৃঙ্খলা শুধু মাঠেই নয়, রাজ্য রাজনীতিতেও ঝড় তুলে দিয়েছে।

ডিসেম্বর ১৩, ২০২৫
রাজ্য

প্রয়াত প্রবীণ বামপন্থী নেতা দীপক সরকার, শোকের ছায়া মেদিনীপুরে

প্রয়াত হলেন প্রবীণ বামপন্থী নেতা ও মেদিনীপুর কলেজের প্রাক্তন অধ্যাপক দীপক সরকার। সোমবার রাত ১১টা ১৫ মিনিট নাগাদ মেদিনীপুর শহরের বিধাননগরে নিজের বাসভবনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বার্ধক্যজনিত কারণেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে।দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে দীপক সরকার ছিলেন অবিভক্ত মেদিনীপুর জেলার সিপিএম জেলা সম্পাদক এবং পরবর্তীতে রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য। সংগঠন পরিচালনায় শৃঙ্খলা ও নীতির প্রতি তাঁর অগাধ বিশ্বাস তাঁকে দলের ভিতরে এক বিশেষ মর্যাদা দিয়েছিল। পাশাপাশি, ট্রেড ইউনিয়ন আন্দোলনেও তিনি ছিলেন এক পরিচিত মুখ।দলীয় সূত্রে খবর, মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ, স্পোর্টস ডেভলপমেন্ট অ্যাকাডেমি, শহিদ ক্ষুদিরাম পরিকল্পনা ভবন ও বিদ্যাসাগর ইনস্টিটিউট গঠনে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। শহরের উন্নয়নে তাঁর প্রশাসনিক উদ্যোগ আজও স্থানীয় মানুষের কাছে স্মরণীয়।২০১৫ সালে জেলা সম্পাদকের পদ থেকে সরে দাঁড়ান দীপক সরকার। পরে, ২০২২ সালে রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলী থেকেও অব্যাহতি নেন। তবে রাজনীতির প্রতি তাঁর অনুরাগ ও দলের সঙ্গে আত্মিক সম্পর্ক শেষ দিন পর্যন্ত অটুট ছিল।দলীয় নেতৃত্ব সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার সকাল ১১টা থেকে দুপুর ২টো পর্যন্ত মেদিনীপুর জেলা সিপিএম কার্যালয়ে তাঁর মরদেহ রাখা হবে শেষ শ্রদ্ধা জানানোর জন্য। এরপর শহরের গোলকুঁয়াচক, পঞ্চুরচক, ক্ষুদিরাম স্ট্যাচু মোড় ও কোরানিতলা ঘুরে দেহ নিয়ে যাওয়া হবে মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে। সেখানেই হবে তাঁর দেহ দান। সম্ভবত তাঁর প্রাক্তন কর্মস্থল মেদিনীপুর কলেজেও মরদেহ নিয়ে যাওয়া হতে পারে শেষ শ্রদ্ধার জন্য।দলীয় নেতৃত্বের ভাষায়, দীপকবাবু ছিলেন এক সৎ, শৃঙ্খলাবদ্ধ ও পরিশ্রমী সংগঠক। তাঁর মৃত্যু দলের এক অপূরণীয় ক্ষতি। তাঁর প্রয়াণে শোকের ছায়া নেমে এসেছে জেলার রাজনৈতিক মহলে। সহকর্মী, প্রাক্তন ছাত্রছাত্রী ও সাধারণ মানুষ স্মরণ করছেন এক নিষ্ঠাবান নেতাকে, যিনি জীবনভর কাজ করে গেছেন সংগঠন ও সমাজের জন্য।

অক্টোবর ১৪, ২০২৫
রাজ্য

ভারতে ইজরায়েলি অর্থমন্ত্রী, প্রতিবাদে বিক্ষোভের ডাক এসএফআইয়ের

৮ থেকে ১০ সেপ্টেম্বর তিন দিনের ভারত সফরে আসছেন ইজরায়েলের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোটরিচ। এই সফর ঘিরে প্রতিবাদের ডাক দিয়েছে স্টুডেন্টস ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়া (এসএফআই)। সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যকরী কমিটির অভিযোগ, বিজেপি সরকার ইজরায়েলের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বিনিয়োগ চুক্তি (BIT) স্বাক্ষরের প্রস্তুতি নিচ্ছে। ওই চুক্তির মাধ্যমে ভবিষ্যতে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA) করার পথ খুলে যাবে বলেও দাবি করেছে এসএফআই। তাদের মতে, এই পদক্ষেপ ভারতের ঐতিহাসিক নীতি ও আন্তর্জাতিক মর্যাদার পরিপন্থী।সংগঠনের সর্বভারতীয় সভাপতি আদর্শ এম সাজি ও সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক সৃজন ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, ইজরায়েলি শাসনকে তারা অপরাধী রাষ্ট্র মনে করে, কারণ ফিলিস্তিনে হাজার হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। সংগঠনের দাবি, এমন রাষ্ট্রের প্রতিনিধিকে আমন্ত্রণ জানানো এবং বাণিজ্য চুক্তিতে আবদ্ধ হওয়া ভারতের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করবে।এসএফআই ইতিমধ্যেই দেশজুড়ে প্রতিবাদ কর্মসূচির ঘোষণা করেছে। আগামী ৯ ও ১০ সেপ্টেম্বর সংগঠনের সমস্ত ইউনিটকে তারা বিক্ষোভ প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে। প্রতিবাদের মূল স্লোগান হবে বেজালেল স্মোটরিচ গো ব্যাক।

সেপ্টেম্বর ০৮, ২০২৫
রাজ্য

নির্বাচন কমিশনকে তুলোধোনা মমতার, "তোমাদের পূর্বপুরুষ ব্রিটিশদের দালালি করেছে", বললেন ক্ষুব্ধ মমতা

মেয়ো রোডে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা দিবসের সভায় বক্তব্য় রাখেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন বক্তব্য় রাখতে গিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপি ও বামেদের বিরুদ্ধে সুর চড়ালেও কংগ্রেস নিয়ে একটি বাক্যও বলেননি। মুখেই আনেননি কংগ্রেসের নাম। মমতা বলেন, একদিকে বিজেপি, আর অন্যদিকে তাদের বন্ধু বামফ্রন্ট। আমি নির্বাচন কমিশনের চেয়ারকে শ্রদ্ধা করি। বাচ্চাদের ললিপপ খাওয়া মানায়, কিন্তু বড়োরা (নির্বাচন কমিশন) পার্টির হয়ে ললিপপ খেলে সেটা মানায় না। এটাই বাংলা। কলকাতা একসময় অবিভিক্ত ভারতের রাজধানী ছিল। ব্রিটিশরা জানত, অন্য রাজ্যকে হারালেও বাংলাকে হারানো যাবে না।মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথায়, আন্দামানের সেলুলার জেলের রেপ্লিকা আলিপুরে আছে। সেলুলার জেলে গিয়ে দেখা যাবে স্বাধীনতা সংগ্রামে ৯০% ছিলেন বাঙালি, ১০% পাঞ্জাবি। আজকাল টাকাওয়ালা ছবি বানাচ্ছে বাংলাকে বদনাম করতে। ক্ষুদিরাম বসুকে ক্ষুদিরাম সিং বলা হয়েছে। আমি নথি দেখিয়ে ভুলটা ধরিয়ে দিয়েছি। উনি ছিলেন ক্ষুদিরাম বসু। যখন তাঁকে ফাঁসি দেওয়া হচ্ছিল, তখন কোথায় ছিলে? তোমাদের পূর্বপুরুষ ব্রিটিশদের দালালি করেছে।বাংলা ভাষা ও বাঙালির ওর নির্যাতন নিয়েও এদিন ফের তোপ দেগেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলে, জয় হিন্দ স্লোগান দিয়েছিলেন নেতাজি। দুঃখের বিষয় আমরা তাঁর মৃত্যুর দিন জানি না। কেরালার সিপিএম সরকার পড়াচ্ছে নেতাজি ভয়ে পালিয়েছিলেন। এটা লজ্জাজনক। বন্দে মাতরম স্লোগান দিয়েছিলেন বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। জাতীয় সঙ্গীত লিখেছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। যদি বলো বাংলা ভাষা নেই, তাহলে কীভাবে জন-গণ-মন হল জাতীয় সঙ্গীত আর বন্দে মাতরম হল জাতীয় গান?নির্বাচন কমিশনকে এদিন তুলোধোনা করেছেন মমতা। তাঁরা পার্টির ললিপপ খাচ্ছে বলেও কটাক্ষ করেছেন। তিনি বলেন, এটা একটা ললিপপ সরকার। এরা বিডিও, এসডিও, ডিএম আর পুলিশকে ভয় দেখাচ্ছেচাকরি কেড়ে নেবে বা জেলে দেবে বলে। নির্বাচন কমিশন আসে আর যায়, কিন্তু রাজ্য সরকার থাকে। কমিশনের আয়ু মাত্র তিন মাস। যেমন আমাদের আছে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, আমরা জানি তোমাদের আছে দুর্নীতি ভাণ্ডার! ওরা বলে বংশ পরম্পরা। তাহলে অমিত শাহর ছেলে যিনি আইসিসি প্রেসিডেন্ট, সেটা কী? এটা কি বংশপরম্পরা নয়? ওদের পরিবারের কতজন বিভিন্ন রাজ্যে আমলাতান্ত্রিক পদে বসে আছে, সেটা জিজ্ঞেস করো! আমরা ললিপপ দিই না, আমরা গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত করি।

আগস্ট ২৮, ২০২৫
রাজনীতি

বাংলার রাজনৈতিক জগতে নক্ষত্র পতন

প্রয়াত রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী আব্দুর রেজ্জাক মোল্লা। বামফ্রন্ট এবং তৃণমূল কংগ্রেস দুই আমলেই তিনি মন্ত্রী হিসেবে কাজ করেছেন। দীর্ঘ রোগভোগের পর ৮২ বছর বয়সে শুক্রবার সকালে তিনি মারা যান ক্যানিং পূর্বের বাকড়ি গ্রামে। নিজের পৈতৃক ভিটেতেই দীর্ঘদিন ধরে শয্যাশায়ী ছিলেন রেজ্জাক। অসুস্থ অবস্থাতেই তাঁকে দেখতে গিয়েছেন সিপিএম এবং তৃণমূল নেতৃত্ব। এদিন রেজ্জাকের মৃত্যুর খবর পেয়ে ভাঙ্গর এবং ক্যানিং এলাকা থেকে একাধিক তৃণমূল ও বাম নেতারা ছুটে যান তাঁকে শেষ দেখা দেখতে। গ্রামের ভিটে বাড়িতেই রেজ্জাকের দেহ সমাধিস্থ করা হবে বলে পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে। ক্যানিং পূর্ব বিধানসভার অন্তর্গত মিলন বাজারের কাছে বাঁকড়া গ্রামে রেজ্জাক মোল্লার পৈতৃক ভিটেবাড়ি। অসুস্থ অবস্থায় গত চার পাঁচ বছর ধরে ওই বাড়িতেই চিকিৎসাধীন রেজ্জাক। গত চার পাঁচ বছর ধরে বার্ধক্যজনিত অসুখের সাথে কিডনির অসুখে ভুগছেন তিনি।বছর তিনেক আগে শ্বাসকষ্ট ও কিডনির সমস্যার কারণে কলকাতার বাইপাসের ধারে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন তিনি।শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি ২০২১ বিধানসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন না বলে স্বেচ্ছায় সরে আসেন। ৮২ বছরের রেজ্জাক দীর্ঘদিন বামফ্রন্ট সরকারের ভূমি সংস্কার দফতরের মন্ত্রী ছিলেন। ২০১৬ সালে তিনি তৃণমূলে যোগ দিয়ে ভাঙড় বিধানসভা কেন্দ্র থেকে জয়লাভ করে কৃষি বিপণন ও উদ্যান পালন দফতরের মন্ত্রী হয়েছিলেন।

এপ্রিল ১১, ২০২৫
কলকাতা

রণক্ষেত্র যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়, শিক্ষামন্ত্রীর গাড়ি ভাঙচুর, জখম ছাত্র-অধ্যাপক

হুলস্থুল কাণ্ড যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে, শিক্ষা মন্ত্রীর গাড়ির চাকার হওয়া খুলে দিল ছাত্রছাত্রীরা একেবারে ধুন্ধুমার পরিস্থিতি তৈরি হয় যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে। আটকে পড়লেন শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু। বাম ও তৃণমূল ছাত্র পরিষদের তুমুল ধস্তাধস্তি চলে। ক্যাম্পাসের মধ্যে চরম বিশৃঙ্খলতা। অভিযোগ, শিক্ষামন্ত্রীর গাড়ির চাকার হাওয়া খুলে দেওয়া হয়েছে। মূলত, ছাত্র সংসদের নির্বাচনের দাবিকে কেন্দ্র করে এই উত্তেজনা। ঘটনার সূত্রপাত শনিবার দুপুরে শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুর ভাষণ চলাকালীন সেখানে ঢুকে পড়ে বাম সমর্থিত ছাত্র সংগঠনের কয়েকজন সদস্য। তারপর চেয়ার ভাঙচুর, ধাক্কাধাক্কির জেরে অসুস্থ হয়ে পড়েন অধ্যাপকদের অনেকেই বলে অভিযোগ। ব্রাত্যের গাড়ির চাকার হাওয়া খুলে দেওয়া হয়। চোর-চোর এবং গো ব্যাক স্লোগান দেওয়া হয়। মন্ত্রীর গাড়ির বেনেটেও উঠে পড়ে ছাত্ররা। ওয়েবকুপার বার্ষিক সভা শুরুর আগে ছাত্র ভোট চেয়ে সভাগৃহের বাইরে এসএফআইয়ের সদস্যরা হোর্ডিং, পোস্টার টাঙিয়ে দিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার দাবি জানাতে থাকেন। এরপরই ক্যাম্পাসে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরির জন্য টিএমসিপি (TMCP) প্রতিবাদ করতেই দুই ছাত্র সংগঠনের সদস্যদের মধ্যে বচসা বেঁধে যায়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় তিন নাম্বার গেট দিয়ে ওয়েব কুপার মিটিংয়ে নিয়ে যাওয়া হয় শিক্ষামন্ত্রীকে। ছাত্র বিক্ষোভে আটকে থাকা অবস্থায় ব্রাত্য বসু বলেন, এটাই হচ্ছে এই সব (বাম-অতিবাম) ছাত্র সংগঠনের গণতন্ত্র। এরাই রাস্তায় নেমে অসভ্যতা করেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ধৈর্যে বিশ্বাস করেন। গণতন্ত্রে বিশ্বাস করেন। আমরা সহিষ্ণুতার পাঠ জানি। আমি ওদের বললাম আপনারা দুজন আসুন। ওরা বলল চল্লইস জন যাব। আর এতজন মিলে কথা হয়। এরপরই ওরা বাধা দেয়। আমাদের প্ররোচনা দেওয়া হচ্ছে যাতে পুলিশ ডাকি। কিন্তু সেটা করব না।দুপক্ষের হাতাহাতির ঘটনায় বেশ কয়েকজন পড়ুয়া ও অধ্যাপক আহত হয়েছেন বলেই খবর। এদিকে বৈঠক ছেড়ে বেরোনোর সময় শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুর গাড়িতে ভাংচুর চালানো হয়। ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে গাড়ির কাঁচ। যাদবপুর ৮বি বাসস্ট্যান্ড-এ অবস্থান SFI-এর। এদিকে গোটা ঘটনায় অসুস্থ হয়ে পড়েন শিক্ষামন্ত্রী। তড়িঘড়ি তাকে নিয়ে যাওয়া হয় SSKM হাসপাতালে। সেখানে তাঁর প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাঁকে ছেঁড়ে দেওয়া হয়েছে। হাসপাতালে গিয়ে তৃণমূল মুখপাত্র কুনাল ঘোষ আজকের হামলাকে প্রাণঘাতী হামলা বলে উল্লেখ করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ভাস্কর গুপ্ত বলেন, এই ঘটনা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। এদিনের ঘটনা প্রসঙ্গে তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ এক পোস্টে লিখেছেন, তৃণমূলের সৌজন্য মানে দুর্বলতা নয়। গায়ে হাত দেবে কেন? শাসক বলে সংযত নিশ্চয় থাকা উচিত। কিন্তু বাঁদরামি সীমা পার করলে উপযুক্ত জবাব দেওয়া উচিত।

মার্চ ০১, ২০২৫
রাজনীতি

জ্যোতি বসু সেন্টার ফর সোশ্যাল স্টাডিজ এন্ড রিসার্চের উদ্বোধনে কারাট, হাজির বাংলাদেশের সঙ্গীত শিল্পী

নিউটাউনে রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসুর স্মরণে নির্মীয়মান জ্যোতি বসু সেন্টার ফর সোশ্যাল স্টাডিজ এন্ড রিসার্চ এর প্রথম পর্যায়ে ভবনের আজ উদ্বোধন হয়েছে। উদ্বোধন করেন সিপিআইএম এর পলিটব্যুরো ও কেন্দ্রীয় কমিটির কো-অর্ডিনেটর প্রকাশ কারাট। উপস্থিত ছিলেন বামফ্রণ্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু, সিপিআইএম-এর রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম, কেন্দ্রীয় কমিটি ও পলিটবুরো সদস্যরা, বিশিষ্ট সংগীত শিল্পী রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা প্রমুখ। রকাশ কারাট বলেন,জ্যোতি বসু দেশের কমিউনিস্ট আন্দলনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিলেন। বর্তমানে দেশে যেখানে উগ্র হিন্দুত্ব ও সাম্প্রদায়িকতা ছড়ানোর চেষ্টা হচ্ছে সেখানে এই প্রতিষ্ঠান তথ্য সমৃ ধ গবেষণার মাধ্যমে সমাজের প্রকৃত আর্থ সামাজিক ও রাজনৈতিক চিত্র তুলে ধরবে। সিপিআইএম এর রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম বলেন, কেন্দ্র ও রাজ্য কোনো সরকারই কোনওবিষয়ে সঠিক তথ্য প্রকাশ করছে না। সেই কারণে গবেষণার প্রয়োজন। বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে স্বাধীন ধর্মনিরপেক্ষ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে দেশকে আরো সুদৃঢ় করতে এই প্রতিষ্ঠানের বড় ভূমিকা থাকবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। দো তোলা ভবনের নিচতলায় জ্যোতি বসুর সাথে সম্পর্কিত বিভিন্ন নথি নিয়ে গ্যালারি ও দোতলায় একটি লাইব্রেরি করা হয়েছে।

জানুয়ারি ১৭, ২০২৫
  • ‹
  • 1
  • 2
  • 3
  • 4
  • 5
  • 6
  • 7
  • ›

ট্রেন্ডিং

কলকাতা

চেয়ার নিয়ে বিধানসভায় নাটক! মমতার আসনে বসতে রাজি নন ঋতব্রত, কেন?

বিধানসভায় নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের আবহে বুধবার বিরোধী দলনেতার ঘর ঘিরে তৈরি হল এক অন্যরকম পরিস্থিতি। বিদ্রোহী বিধায়কদের সঙ্গে নিয়ে বিরোধী দলনেতার ঘরে প্রবেশ করেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। বিধানসভার সচিবালয়ের অনুমতি পাওয়ার পর তাঁকে ঘরের দায়িত্বও বুঝিয়ে দেওয়া হয়। তবে ঘরে ঢোকার পর একটি ঘটনা ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা।ঘরে থাকা একটি চেয়ারে বসতে গেলে তাঁকে জানানো হয়, সেটি একসময় প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যবহৃত চেয়ার। সেই কথা শুনেই ওই আসনে বসতে অস্বীকার করেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। উপস্থিতদের কাছে তিনি অন্য একটি চেয়ার আনার অনুরোধ জানান। পরে তাঁর জন্য বিকল্প আসনের ব্যবস্থা করা হয়।এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে নানা ব্যাখ্যা সামনে আসছে। অনেকের মতে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি ব্যক্তিগত শ্রদ্ধা প্রদর্শনের কারণেই তিনি ওই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।আরও পড়ুনঃ হেভিওয়েট-র ওয়েট লস, ভাইপো-র মত হেলমেট পরে আদালতে বর্ধমানের কাকাবুধবারের সাংবাদিক বৈঠকেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে একাধিক মন্তব্য করেন ঋতব্রত। তিনি জানান, তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান এবং বর্তমান পরিষদীয় লড়াইয়ের লক্ষ্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ করা নয়। বরং দলের ভবিষ্যৎ পথচলায় তিনি চাইলে পরামর্শদাতার ভূমিকা পালন করতে পারেন বলেও ইঙ্গিত দেন।ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য, বিধানসভায় যে নতুন পরিষদীয় গোষ্ঠী তৈরি হয়েছে, তার সঙ্গে কিছু নেতার মতপার্থক্য থাকলেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি তাঁদের সম্মান অটুট রয়েছে। তিনি আরও জানান, দলের ভবিষ্যৎ দিশা নিয়ে মমতার সঙ্গে আলোচনা করার ইচ্ছাও রয়েছে তাঁদের।উল্লেখ্য, গত বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দ্রুত পরিবর্তন দেখা যায়। একাধিক বিধায়কের অবস্থান বদল এবং নতুন রাজনৈতিক সমীকরণকে কেন্দ্র করে শুরু হয় জোর জল্পনা। সেই আবহেই বিধানসভায় বিরোধী দলনেতার পদ নিয়ে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে।আরও পড়ুনঃ সই জাল বিতর্কে চাপ বাড়ছে অভিষেকের! গ্রেফতারির আশঙ্কায় হাইকোর্টে ছুটলেন তৃণমূলের শীর্ষ নেতাবুধবার সাংবাদিক বৈঠকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, তাঁদের রাজনৈতিক যাত্রা এখন নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। অন্যদিকে তৃণমূলের মূল শিবিরের নেতারা দাবি করেছেন, দল এবং দলের নেতৃত্বের পাশে এখনও বিপুল সংখ্যক সমর্থক রয়েছেন।সব মিলিয়ে বিরোধী দলনেতার ঘরে একটি চেয়ারকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া ঘটনাই এখন রাজনৈতিক মহলের অন্যতম আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠেছে।

জুন ০৩, ২০২৬
রাজ্য

সই জাল বিতর্কে চাপ বাড়ছে অভিষেকের! গ্রেফতারির আশঙ্কায় হাইকোর্টে ছুটলেন তৃণমূলের শীর্ষ নেতা

পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে তীব্র বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে বিধানসভার তথাকথিত সই জাল কাণ্ড। এই ঘটনায় এবার সরাসরি আইনি চাপে পড়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তদন্তের মুখে পড়ে গ্রেফতারির আশঙ্কায় তিনি কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন এবং একই সঙ্গে সিআইডি-র তদন্ত প্রক্রিয়ার বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন।বুধবার কলকাতা হাইকোর্টে দায়ের করা আবেদনে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য যে নোটিশ পাঠানো হয়েছে, তা আইনসম্মত নয়। বিচারপতি অপূর্ব সিংহ রায়ের বেঞ্চ তাঁর আবেদন গ্রহণ করে মামলাটি শুনানির অনুমতি দিয়েছে। আদালত সূত্রে খবর, আগামী শুক্রবার এই মামলার গুরুত্বপূর্ণ শুনানি হতে পারে।সমস্ত বিতর্কের সূত্রপাত বিধানসভায় তৃণমূলের সংসদীয় দলের একটি চিঠিকে ঘিরে। ওই চিঠিতে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা, অসীমা পাত্র ও নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়কে ডেপুটি লিডার এবং ফিরহাদ হাকিমকে চিফ হুইপ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। চিঠিটি বিধানসভার স্পিকারের কাছে জমা পড়ার পর তা যাচাই করতে গিয়ে একাধিক অসঙ্গতি সামনে আসে।তদন্তে উঠে আসে, তালিকাভুক্ত ৭০ জন বিধায়কের মধ্যে অন্তত ১৪ জনের ক্ষেত্রে স্বাক্ষরের জায়গায় শুধুমাত্র বড় হাতের অক্ষরে নাম লেখা রয়েছে। আরও কয়েকজন বিধায়কের সই নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। অভিযোগ, তাঁদের অনুমতি বা উপস্থিতি ছাড়াই স্বাক্ষর দেখানো হয়েছে। এই অভিযোগ প্রকাশ্যে আসতেই বিষয়টি রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে।আরও পড়ুনঃ মূল উপড়ে তৃণ ভূপতিত! পরিষদীয় দলের নিয়ন্ত্রণ বিদ্রোহীদের হাতে, বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি পেলেন ঋতব্রতঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে রাজ্য সরকার তদন্তভার সিআইডি-র হাতে তুলে দেয়। তদন্ত শুরু হওয়ার পর গত শনিবার সিআইডি-র একটি বিশেষ দল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনে গিয়ে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নোটিশ দেয়। সেই নোটিশে নির্দিষ্ট দিনে ভবানী ভবনে হাজির হওয়ার নির্দেশ ছিল। কিন্তু নির্ধারিত দিনে হাজিরা না দিয়ে অভিষেক তদন্তকারী সংস্থার কাছে অতিরিক্ত সময় চান। এরপরই তিনি আইনি পথে এগিয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেন।এই মামলার রাজনৈতিক দিকটিও যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। সম্প্রতি এক সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, তৃণমূলের দুই বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহাই প্রথম এই জাল স্বাক্ষরের অভিযোগ তুলে বিধানসভার স্পিকারের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পরপরই দলবিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগে ওই দুই বিধায়ককে তৃণমূল কংগ্রেস থেকে বহিষ্কার করা হয়।আরও পড়ুনঃ হেভিওয়েট-র ওয়েট লস, ভাইপো-র মত হেলমেট পরে আদালতে বর্ধমানের কাকারাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই ঘটনা শুধুমাত্র একটি প্রশাসনিক বা সাংগঠনিক বিতর্ক নয়; বরং এটি রাজ্যের শাসকদলের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার লড়াই এবং নেতৃত্বের প্রশ্নকেও সামনে এনে দিয়েছে। একদিকে তদন্তের জাল ক্রমশ বিস্তৃত হচ্ছে, অন্যদিকে আদালতের দ্বারস্থ হয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কার্যত আইনি লড়াইয়ের ময়দানে নেমেছেন।এখন সকলের নজর আগামী শুক্রবারের হাইকোর্ট শুনানির দিকে। আদালত সিআইডি-র তদন্তে হস্তক্ষেপ করে কি না, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কোনও অন্তর্বর্তী সুরক্ষা পান কি না, এবং এই বিতর্কের রাজনৈতিক অভিঘাত কতদূর গড়ায়তা নিয়েই জোর জল্পনা শুরু হয়েছে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে।

জুন ০৩, ২০২৬
রাজ্য

'হেভিওয়েট'-র ওয়েট লস, ভাইপো-র মত হেলমেট পরে আদালতে বর্ধমানের 'কাকা'

বর্ধমানের রাজনীতিতে একসময় যাঁর নাম উচ্চারণ করতেই বিরোধী শিবিরে চাপা উত্তেজনা তৈরি হতো, সেই খোকন দাসের বর্তমান পরিস্থিতি যেন একেবারেই ভিন্ন ছবি তুলে ধরছে। তোলাবাজি, হামলা, মারধর এবং প্রাণনাশের হুমকির মতো একাধিক গুরুতর অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়ার পর মঙ্গলবার বর্ধমান আদালতে তাঁকে এমন এক অবস্থায় দেখা গেল, যা রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে। জনরোষের আশঙ্কায় মাথায় হেলমেট পরে, পুলিশের কড়া নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে আদালতে হাজির হতে হল বর্ধমান দক্ষিণের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ককে।একসময় বর্ধমান দক্ষিণ বিধানসভা এলাকায় খোকন দাসের রাজনৈতিক প্রভাব ছিল যথেষ্ট উল্লেখযোগ্য। স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে তাঁকে তৃণমূলের অন্যতম শক্তিশালী মুখ হিসেবে ধরা হতো। তবে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের ভরাডুবির পর থেকেই তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান দুর্বল হতে শুরু করে। সেই পরিস্থিতির মধ্যেই একের পর এক অভিযোগ সামনে আসতে থাকে।গত ২৯ মে বর্ধমান থানায় তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ দায়ের হয়। অভিযোগকারীদের দাবি, বিজেপি কর্মীদের উপর হামলা চালানো, মোটা অঙ্কের টাকা তোলা দাবি করা, এমনকি আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে ভয় দেখানোর ঘটনাতেও খোকন দাসের প্রত্যক্ষ ভূমিকা ছিল। অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই তিনি আত্মগোপন করেছিলেন বলে পুলিশ সূত্রের দাবি।তদন্তে নেমে বর্ধমান থানার পুলিশ উত্তরপ্রদেশের প্রয়াগরাজে তাঁর অবস্থানের খোঁজ পায়। এরপর গত ৩১ মে সেখান থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ট্রানজিট রিমান্ডে সোমবার রাতে তাঁকে বর্ধমানে নিয়ে আসা হয়। মঙ্গলবার তাঁকে আদালতে পেশ করে পুলিশ নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানায়, যাতে অভিযোগগুলির বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত করা যায়।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মামলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগটি ২০২৫ সালের ৮ জুনের একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে। অভিযোগ অনুযায়ী, বর্ধমানের কাঞ্চননগর এলাকায় একটি বাড়িতে বিজেপি কর্মীরা বৈঠক করছিলেন। সেই সময় খোকন দাসের নেতৃত্বে একদল ব্যক্তি সেখানে গিয়ে হামলা চালায় এবং কয়েকজন কর্মীকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ।অভিযোগ আরও গুরুতর হয়ে ওঠে পরবর্তী ঘটনাকে ঘিরে। আক্রান্ত বিজেপি কর্মীরা চিকিৎসার জন্য বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে গেলে সেখানেও তাঁদের উপর পুনরায় হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ। শুধু মারধরই নয়, ১০ লক্ষ টাকা তোলা দাবি এবং টাকা না দিলে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও উঠে এসেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, ভয় দেখাতে আগ্নেয়াস্ত্রও প্রদর্শন করা হয়েছিল।এই সমস্ত অভিযোগের তদন্তে নেমে পুলিশ একাধিক ধারায় মামলা রুজু করেছে। তদন্তকারীদের মতে, অভিযোগগুলির গুরুত্ব বিচার করে ঘটনার প্রতিটি দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।অন্যদিকে, খোকন দাসের গ্রেপ্তারিকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোরও তীব্র হয়েছে। জেলা বিজেপি নেতৃত্ব দাবি করেছে, দীর্ঘদিন ধরেই এলাকায় তোলাবাজি, সিন্ডিকেট রাজ এবং রাজনৈতিক সন্ত্রাসের অভিযোগ ছিল তাঁর বিরুদ্ধে। যদিও এই সমস্ত অভিযোগ নিয়ে আদালতে এখনও চূড়ান্ত রায় হয়নি এবং তদন্ত প্রক্রিয়া চলমান।মঙ্গলবার আদালতে তাঁকে পেশ করা ঘিরে যাতে কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি না হয়, তার জন্য আদালত চত্বর ও বর্ধমান থানা এলাকায় নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। জেলা পুলিশের পাশাপাশি মোতায়েন ছিল কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরাও। আদালত চত্বরে সাধারণ মানুষের কৌতূহল ছিল চোখে পড়ার মতো।সব মিলিয়ে, যে নেতা একসময় এলাকায় নিজের রাজনৈতিক প্রভাবের জন্য পরিচিত ছিলেন, আজ তাঁকেই জনরোষের আশঙ্কায় মাথায় হেলমেট পরে আদালতে যেতে হওয়ায় বর্ধমানের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তদন্তের অগ্রগতির দিকে এখন নজর সকলের।

জুন ০৩, ২০২৬
কলকাতা

পুরসভা, সিআইডির পর এবার অভিষেকের বাড়িতে ইডি! নতুন করে চাঞ্চল্য রাজ্য রাজনীতিতে

গত কয়েক সপ্তাহ ধরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে একাধিক বিতর্ক সামনে এসেছে। বাড়ির নির্মাণ সংক্রান্ত অভিযোগ থেকে শুরু করে বিভিন্ন তদন্তসব মিলিয়ে রাজনৈতিক মহলে তাঁকে নিয়ে জোর চর্চা চলছে। এর মধ্যেই বুধবার বিকেলে তাঁর কালীঘাটের বাড়িতে পৌঁছলেন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আধিকারিকরা।সূত্রের খবর, বিকেল নাগাদ দুই ইডি আধিকারিক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে যান। তাঁদের হাতে একটি সমন সংক্রান্ত নথি ছিল বলে জানা গিয়েছে। প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, চলমান তদন্তের অংশ হিসেবেই এই নোটিস পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।প্রথমে তদন্তকারী আধিকারিকরা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অন্য একটি ঠিকানায় যান। পরে জানতে পারেন তিনি সেখানে থাকেন না। এরপর তাঁরা কালীঘাটের বাড়িতে পৌঁছন। সেখানে নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং প্রয়োজনীয় নথি পৌঁছে দেন বলে সূত্রের দাবি।তবে এই প্রথম নয়। এর আগেও একাধিকবার বিভিন্ন তদন্তের প্রয়োজনে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে তলব করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। অতীতে তাঁকে এবং তাঁর স্ত্রীকে একাধিকবার জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। বিভিন্ন আর্থিক অনিয়ম এবং দুর্নীতি সংক্রান্ত মামলার তদন্তে তাঁদের নাম উঠে এসেছিল বলে তদন্তকারী সংস্থার দাবি।নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্তেও অতীতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ডেকে পাঠানো হয়েছিল। সেই সময় তাঁর সঙ্গে যুক্ত একটি সংস্থার অফিসেও তল্লাশি চালানো হয়। তদন্তকারী সংস্থাগুলি বিভিন্ন নথি ও তথ্য সংগ্রহ করে জিজ্ঞাসাবাদ চালায়।অন্যদিকে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিবারের পক্ষ থেকে বারবার দাবি করা হয়েছে যে, তাঁদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তাঁরা আইন মেনেই সমস্ত তদন্তে সহযোগিতা করেছেন বলেও দাবি করা হয়েছে।বুধবারের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে রাজনৈতিক জল্পনা শুরু হয়েছে। তদন্তের পরবর্তী ধাপে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয় এবং সমনের বিষয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতিক্রিয়া কী হয়, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহল ও সাধারণ মানুষের।

জুন ০৩, ২০২৬
রাজনীতি

'মূল' উপড়ে 'তৃণ' ভূপতিত! পরিষদীয় দলের নিয়ন্ত্রণ বিদ্রোহীদের হাতে, বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি পেলেন ঋতব্রত

পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মানচিত্রে বুধবারের দিনটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠল। দীর্ঘ টানাপোড়েন, অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ এবং বিধানসভার সই-কাণ্ডকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া বিতর্কের পর অবশেষে তৃণমূল কংগ্রেসের পরিষদীয় দলের নিয়ন্ত্রণ কার্যত বিদ্রোহী শিবিরের হাতে চলে গেল। বহিষ্কৃত বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার পর তাঁর জন্য নির্ধারিত কক্ষও খুলে দেওয়া হয়। স্পিকার রথীন্দ্র বসু আনুষ্ঠানিকভাবে সেই ঘরের চাবি তুলে দেন ঋতব্রতের হাতে।বিধানসভা চত্বরে দাঁড়িয়ে ঋতব্রত দাবি করেন, তৃণমূলের টিকিটে নির্বাচিত ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে অন্তত ৬০ জন তাঁর নেতৃত্বের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। বর্তমানে ৫৮ জন বিধায়কের লিখিত সমর্থন তাঁদের হাতে রয়েছে বলেও তিনি জানান। আরও দুই বিধায়ক রাজ্যের বাইরে থাকলেও তাঁদের সমর্থন রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। সেই হিসেবে তৃণমূল পরিষদীয় দলের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যই এখন বিদ্রোহী শিবিরের সঙ্গে রয়েছেন বলে তাঁর বক্তব্য।নতুন বিরোধী দলনেতা ঘোষণা করেন যে, বিধানসভায় মুখ্যসচেতকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে আখরুজ্জামানকে। পাশাপাশি ডেপুটি লিডার হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন জাভেদ আহমেদ খান, সাবিনা ইয়াসমিন, শিউলি সাহা এবং সন্দীপন সাহা। এই সংক্রান্ত সমস্ত নথি ও সমর্থনের চিঠি স্পিকারের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান।তবে রাজনৈতিক সংঘাতের মধ্যেও ঋতব্রত এক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেন। তিনি বলেন, তাঁদের লড়াই কোনও ব্যক্তির বিরুদ্ধে নয়, বরং গণতান্ত্রিক অধিকারের প্রশ্নে। সেই কারণেই তিনি তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরিষদীয় দলের পরামর্শদাতা হওয়ার আহ্বান জানাবেন। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেন যে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁদের রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক দূরত্ব এখন অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে।ঋতব্রতের বক্তব্যে উঠে আসে বিরোধী রাজনীতির নতুন রূপরেখাও। তিনি বলেন, সরকারের ভুলের সমালোচনা যেমন করা হবে, তেমনই জনস্বার্থে গৃহীত ইতিবাচক সিদ্ধান্তের প্রশংসাও করা হবে। তাঁর কথায়, মানুষ আমাদের বিরোধী আসনে বসিয়েছে। সেই দায়িত্ব পালন করাই আমাদের কাজ। আমরা দায়িত্বশীল ও গঠনমূলক বিরোধী শক্তি হিসেবে কাজ করব।এই নাটকীয় পরিস্থিতির সূত্রপাত হয়েছিল বিধানসভার বিরোধী দলনেতা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে। তৃণমূলের তরফে বর্ষীয়ান নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা করার জন্য যে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল, তা নিয়েই বিতর্ক তৈরি হয়। অভিযোগ ওঠে, সেই প্রস্তাবে একাধিক বিধায়কের স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে। বিদ্রোহী শিবিরের অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি সামনে আসে এবং পরবর্তীতে হেয়ার স্ট্রিট থানায় এফআইআর দায়ের হয়। বর্তমানে ঘটনার তদন্ত করছে সিআইডি। তদন্তকারী সংস্থা ইতিমধ্যেই একাধিক বিধায়কের সঙ্গে কথা বলেছে।ঘটনার রাজনৈতিক গুরুত্ব আরও বেড়ে যায় কারণ, এই বিতর্কের মধ্যেই তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় স্পিকারের কাছে নতুন করে আবেদন জানিয়ে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার অনুরোধ করেছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত স্পিকার ঋতব্রত শিবিরের দাবি মেনে নেওয়ায় তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ সংঘাত নতুন মাত্রা পেল।অন্যদিকে, যখন বিধানসভায় ঋতব্রত নতুন নেতৃত্বের ঘোষণা করছেন, ঠিক সেই সময় কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতিতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, কুণাল ঘোষ ও চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যদের নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক চলছিল। ফলে রাজনৈতিক মহলের মতে, তৃণমূলের অন্দরে ক্ষমতার সমীকরণ নিয়ে যে লড়াই শুরু হয়েছে, তা আগামী দিনে রাজ্যের রাজনীতিতে আরও বড় প্রভাব ফেলতে পারে।পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, পরিষদীয় দলের নেতৃত্ব হারানো শুধু সাংগঠনিক ধাক্কাই নয়, বরং তৃণমূলের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থানের ক্ষেত্রেও বড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি করল। এখন নজর থাকবে কালীঘাট শিবিরের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং বিদ্রোহী শিবিরের শক্তি কতটা স্থায়ীভাবে ধরে রাখা যায়, তার উপর।

জুন ০৩, ২০২৬
কলকাতা

অভিষেকের বাড়ি নিয়ে বড় নির্দেশ হাইকোর্টের! সাত দিনের মধ্যে দিতে হবে সব তথ্য

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ি নিয়ে চলা বিতর্কে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। সম্পত্তির কোন কোন অংশ নিয়ে আপত্তি রয়েছে এবং কোথায় নির্মাণ সংক্রান্ত সমস্যা চিহ্নিত হয়েছে, সেই বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য আদালতে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে কলকাতা পুরনিগমকে।বুধবার বিচারপতি স্মিতা দাস দে নির্দেশ দেন, আগামী সাত দিনের মধ্যে পুরনিগমকে এই সংক্রান্ত সমস্ত তথ্য আদালতে জানাতে হবে। সম্পত্তির কোন অংশে নিয়মভঙ্গের অভিযোগ রয়েছে, কতটা এলাকা সেই অভিযোগের আওতায় পড়ছে এবং কী ধরনের আপত্তি রয়েছে, তার পূর্ণ বিবরণ জমা দিতে হবে।আদালত আরও জানিয়েছে, পুরনিগমের রিপোর্ট জমা পড়ার পর সম্পত্তির মালিকপক্ষকে দুই সপ্তাহের মধ্যে নিজেদের বক্তব্য জানাতে হবে। এরপর চার সপ্তাহ পর মামলার পরবর্তী শুনানি হবে।জানা গিয়েছে, এই মামলায় শুধুমাত্র অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবন নয়, তাঁর মায়ের নামে থাকা কালীঘাটের একটি সম্পত্তিও আলোচনায় এসেছে। পুরনিগমের দাবি, ওই সম্পত্তির কিছু অংশে নির্মাণ সংক্রান্ত অনিয়ম থাকতে পারে। সেই কারণেই নোটিস পাঠানো হয়েছিল।অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিবারের পক্ষ থেকে আদালতে দাবি করা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট বাড়িটি সম্পূর্ণ বৈধভাবে নির্মিত। তাঁদের বক্তব্য, কোনও বেআইনি নির্মাণ হয়নি। তা সত্ত্বেও পুরনিগম নোটিস পাঠিয়েছে। সেই কারণেই নোটিস বাতিলের আবেদন জানানো হয়েছে আদালতে।আদালত স্পষ্ট করেছে, মামলার শুনানি চলাকালীন বেআইনি নির্মাণ সংক্রান্ত অন্যান্য প্রশাসনিক প্রক্রিয়া চালিয়ে যেতে পারবে পুরনিগম। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সমস্ত তথ্য ও সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য খতিয়ে দেখা হবে।এই নির্দেশের পর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ি সংক্রান্ত মামলাটি নতুন গুরুত্ব পেয়েছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে পুরনিগমের রিপোর্টে কী তথ্য সামনে আসে এবং আদালত পরবর্তী শুনানিতে কী অবস্থান নেয়, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহল ও সাধারণ মানুষের।

জুন ০৩, ২০২৬
কলকাতা

বড় ধাক্কা তৃণমূলে! মেয়র পদ ছাড়লেন ফিরহাদ, কালীঘাটে কী হল ভিতরে ভিতরে?

রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি যখন দ্রুত বদলাচ্ছে, ঠিক সেই সময় কলকাতা পুরসভার মেয়র পদ থেকে ইস্তফা দিলেন ফিরহাদ হাকিম। বুধবার তিনি তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে নিজের পদত্যাগপত্র জমা দেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে। পরে সেই ইস্তফাপত্র গ্রহণ করা হয়।দিনভর রাজনৈতিক ব্যস্ততার মধ্যেই এই সিদ্ধান্ত সামনে আসে। উল্লেখযোগ্যভাবে, ইস্তফাপত্র জমা দেওয়ার আগে তিনি নবান্নে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকেও উপস্থিত ছিলেন। এরপর কালীঘাটে গিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং মেয়র পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ইচ্ছার কথা জানান।দলীয় সূত্রের দাবি, গত কিছুদিন ধরেই মেয়র হিসেবে নিজের দায়িত্ব পালনে নানা সমস্যার মুখে পড়ছিলেন ফিরহাদ হাকিম। প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এবং পুরসভার বিভিন্ন কাজকর্ম পরিচালনা নিয়ে তাঁর অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল বলেও আলোচনা চলছিল রাজনৈতিক মহলে। সেই কারণেই তিনি একাধিকবার পদত্যাগের ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন বলে জানা যায়।মঙ্গলবারই কলকাতা পুরসভার এক গুরুত্বপূর্ণ পদাধিকারীর ইস্তফার পর রাজনৈতিক জল্পনা আরও বেড়ে যায়। সেই সময় ফিরহাদ হাকিমের একটি মন্তব্যও বিশেষভাবে আলোচনায় আসে। তিনি বলেছিলেন, তাঁরা একটি দল হিসেবে একসঙ্গে কাজ করেন এবং গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তও একসঙ্গেই নেন। এরপর থেকেই তাঁর ইস্তফা নিয়ে জল্পনা আরও জোরালো হয়ে ওঠে।বুধবার শেষ পর্যন্ত কালীঘাটে গিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগের ইচ্ছা জানান তিনি। প্রথমে তাঁকে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার অনুরোধ করা হলেও নিজের অবস্থানে অনড় থাকেন ফিরহাদ। পরে তাঁর পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা হয় বলে দলীয় সূত্রে খবর।আরও পড়ুনঃ হেভিওয়েট-র ওয়েট লস, ভাইপো-র মত হেলমেট পরে আদালতে বর্ধমানের কাকাতৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ জানিয়েছেন, মেয়র হিসেবে কাজ করতে নানা প্রশাসনিক জটিলতার মুখে পড়ছিলেন ফিরহাদ হাকিম। সেই কারণেই তিনি সম্মানের সঙ্গে পদ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। দলীয় নেতৃত্বও তাঁর সিদ্ধান্তকে মর্যাদা দিয়েছে।ফিরহাদ হাকিমের পদত্যাগের ফলে কলকাতা পুরসভার প্রশাসনিক দায়িত্ব আপাতত পুর কমিশনারের হাতে থাকতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে প্রশাসক নিয়োগ করা হবে কি না, তা নিয়ে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়নি।এদিকে চলতি বছরের শেষের দিকে পুরভোট হওয়ার কথা রয়েছে। তবে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির জেরে নির্বাচন নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সব মিলিয়ে ফিরহাদ হাকিমের পদত্যাগ রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা উস্কে দিয়েছে।

জুন ০৩, ২০২৬
কলকাতা

‘মমতা আমাদের পরামর্শদাতা হোন’! বিধানসভা কাঁপানো মন্তব্য ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের

দাবি করা একদল বিধায়ককে সঙ্গে নিয়ে বিধানসভায় উপস্থিত হন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। পরে বিরোধী শিবিরের প্রতিনিধি হিসেবে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন।সাংবাদিক বৈঠকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, তাঁরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তাঁদের প্রধান পরামর্শদাতা হিসেবে দেখতে চান। তাঁর কথায়, মমতার রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং পরামর্শ তাঁদের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পথচলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। তিনি জানান, গঠনমূলক বিরোধী রাজনীতি করতে গেলে অভিজ্ঞ নেতৃত্বের পরামর্শ প্রয়োজন এবং সেই জায়গায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।একইসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে দেন, বর্তমান বিধানসভার কার্যক্রমের সঙ্গে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কোনও প্রত্যক্ষ সম্পর্ক নেই বলে তাঁদের মত। ঋতব্রতের দাবি, তৃণমূলের প্রতীকে নির্বাচিত বহু বিধায়কের সমর্থন তাঁদের সঙ্গে রয়েছে এবং সেই কারণেই তাঁরা নিজেদের প্রকৃত পরিষদীয় প্রতিনিধিত্বকারী গোষ্ঠী বলে মনে করছেন।সাংবাদিক বৈঠকে ভবিষ্যতের রাজনৈতিক কৌশল নিয়েও কথা বলেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, তাঁরা বিধানসভার ভিতরে গঠনমূলক বিরোধিতার পথেই হাঁটবেন। কোনও বিল বা প্রস্তাবের সঙ্গে মতভেদ থাকলে তাঁরা তার বিরুদ্ধে ভোট দেবেন, তবে শুধুমাত্র প্রতিবাদের জন্য সভা ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়ার পথে হাঁটবেন না।ঋতব্রতের বক্তব্য, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার মধ্যে থেকেই বিরোধী দলের দায়িত্ব পালন করতে চান তাঁরা। মানুষের স্বার্থে প্রয়োজনীয় বিষয়ে সরকারের সমালোচনা যেমন করবেন, তেমনই ভালো উদ্যোগকে সমর্থনও জানাবেন।এই মন্তব্যের পর রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরামর্শদাতা হিসেবে চাওয়ার বার্তা এবং বিরোধী রাজনীতির নতুন রূপরেখা নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে উঠেছে। আগামী দিনে এই রাজনৈতিক সমীকরণ কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের।

জুন ০৩, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal