• ১৬ চৈত্র ১৪৩২, বৃহস্পতি ০২ এপ্রিল ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

CID

রাজ্য

তাহেরপুরে প্রধানমন্ত্রীর সভার আগে মর্মান্তিক ঘটনা, কুয়াশায় প্রাণ গেল চারজনের

এসআইআর আবহের মধ্যেই শনিবার পশ্চিমবঙ্গে এসেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। নদিয়ার তাহেরপুরে তাঁর সভা রয়েছে। সকাল থেকেই সভাস্থলের দিকে ভিড় জমতে শুরু করেছিল। ঠিক সেই সময়েই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। ট্রেনের ধাক্কায় চার জনের মৃত্যু হয়েছে। গুরুতর আহত হয়েছেন আরও দুজন। তাঁদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাঁকে শক্তিনগর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।জানা গিয়েছে, মৃত ও আহত সকলের বাড়ি মুর্শিদাবাদ জেলায়। তাঁরা প্রধানমন্ত্রী মোদির সভায় যোগ দিতেই নদিয়ার তাহেরপুরে এসেছিলেন। ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছন রেল ও পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা। কীভাবে এই দুর্ঘটনা ঘটল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।শনিবার ভোরে তাহেরপুর স্টেশনের কাছে এই দুর্ঘটনা ঘটে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার রাতে মুর্শিদাবাদের বড়ঞার সাবলদহ গ্রাম থেকে প্রায় ৪০ জন তাহেরপুরে আসেন। ভোরবেলা তাঁদের মধ্যে কয়েক জন রেললাইনের ধারে প্রাতঃকৃত্য সারতে যান। সেই সময় আচমকাই দ্রুতগতির একটি ট্রেন চলে আসে। ট্রেনের ধাক্কায় চার জন লাইনের উপর ছিটকে পড়েন। আঘাত এতটাই গুরুতর ছিল যে ঘটনাস্থলেই তাঁদের মৃত্যু হয়।একই ঘটনায় আরও দুজন আহত হন। তাঁদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে। অন্য জনের চিকিৎসা চলছে। তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, ভোরের ঘন কুয়াশার কারণে দৃশ্যমানতা অনেকটাই কম ছিল। সেই কারণেই ট্রেন আসছে বুঝতে না পারায় এই দুর্ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। তবে অন্য সম্ভাবনাগুলিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।মতুয়াগড় হিসেবে পরিচিত নদিয়ার তাহেরপুরে এদিন প্রধানমন্ত্রী মোদির সভা ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা তুঙ্গে। তার মধ্যেই এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

ডিসেম্বর ২০, ২০২৫
দেশ

অসমে ট্রেন-হাতির সংঘর্ষ, লাইনচ্যুত রাজধানী, মৃত অন্তত ৮ হাতি

ভোরের ঘন কুয়াশায় কিছুই দেখা যাচ্ছিল না। সেই অবস্থাতেই একপাল হাতিকে ধাক্কা মারল রাজধানী এক্সপ্রেস। ভয়াবহ এই দুর্ঘটনায় লাইনচ্যুত হয়ে যায় রাজধানী এক্সপ্রেসের পাঁচটি কামরা। ট্রেনের ধাক্কায় অন্তত আটটি হাতির মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা যাচ্ছে। দুর্ঘটনার জেরে ওই রুটে আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে ট্রেন চলাচল।শনিবার, ২০ ডিসেম্বর ভোরে অসমের যমুনামুখ-কামপুর সেকশনে এই দুর্ঘটনা ঘটে। এলাকাটি নর্থ-ইস্ট ফ্রন্টিয়ার রেলওয়ের লুমডিং ডিভিশনের আওতায়। জানা গিয়েছে, সাইরং থেকে নয়া দিল্লিগামী রাজধানী এক্সপ্রেস দ্রুত গতিতে আসছিল। সেই সময়ই জঙ্গল থেকে বেরিয়ে রেললাইন পারাপার করছিল একপাল হাতি। চারদিকে ঘন কুয়াশা থাকায় দূর থেকে কিছুই দেখতে পাওয়া যায়নি। সেই কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিক অনুমান।গুয়াহাটি থেকে প্রায় ১২৬ কিলোমিটার দূরে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই অংশটি হাতির নির্দিষ্ট করিডর নয়। ট্রেনের লোকো পাইলট জানিয়েছেন, সামনে হাতির পাল দেখতে পেয়েই তিনি সঙ্গে সঙ্গে ইমার্জেন্সি ব্রেক কষেন। কিন্তু হাতিগুলি আরও এগিয়ে আসায় শেষ পর্যন্ত সংঘর্ষ এড়ানো সম্ভব হয়নি।প্রবল ধাক্কার জেরে ট্রেনের ইঞ্জিন ও পাঁচটি কামরা লাইনচ্যুত হয়ে যায়। তবে স্বস্তির খবর, এই দুর্ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কোনও যাত্রীর আহত বা নিহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। দুর্ঘটনার পর যেসব কামরা লাইনচ্যুত হয়েছিল, সেখানকার যাত্রীদের নিরাপদে অন্য কামরায় সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, মোট আটটি হাতি রেললাইন পার হচ্ছিল। তাদের মধ্যে একাধিক হাতির মৃত্যু হয়েছে। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত একটি রিলিফ ট্রেন পাঠানো হয়। রেল আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করেছেন।রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, লাইনচ্যুত কামরা এবং হাতিগুলির দেহ ট্র্যাকে ছড়িয়ে থাকায় উদ্ধারকাজে বেশ সময় লাগছে। সেই কারণে অসমের উপরের অংশ এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের বেশ কয়েকটি রুটে ট্রেন চলাচল আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে।যাত্রীরা যাতে অসুবিধায় না পড়েন, সে জন্য গুয়াহাটি পৌঁছনোর পর রাজধানী এক্সপ্রেসে অতিরিক্ত কোচ জুড়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে বলে রেল সূত্রে খবর।

ডিসেম্বর ২০, ২০২৫
রাজ্য

বাংলাদেশি জাহাজের ধাক্কা! ডুবে যাওয়া ট্রলার থেকে মিলল দুই মৎস্যজীবীর দেহ

বাংলাদেশি নৌসেনার জাহাজের সঙ্গে সংঘর্ষের পর গভীর সমুদ্রে ডুবে যাওয়া মৎস্যজীবীদের ট্রলার থেকে মিলল আরও দুজনের দেহ। নামখানার উপকূলে টেনে আনা দুর্ঘটনাগ্রস্ত ট্রলার থেকে ভোররাতে উদ্ধার হয় নিখোঁজ দুই মৎস্যজীবীর দেহ। তাঁদের নাম রঞ্জন দাস ও সঞ্জীব দাস। এখনও তিন জন মৎস্যজীবীর কোনও খোঁজ মেলেনি। তাঁদের নিয়ে উদ্বেগ ক্রমশ বাড়ছে।উদ্ধার হওয়া দেহ দুটি পাওয়া গিয়েছে ট্রলার এফবি পারমিতা-১১-এর কেবিনের ভিতর থেকে। মৎস্যজীবী সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মৃত রঞ্জন দাসের বাড়ি পূর্ব বর্ধমানে। সঞ্জীব দাস কাকদ্বীপের বাসিন্দা। ট্রলারের কেবিনে আর কোনও নিখোঁজ মৎস্যজীবী আটকে রয়েছেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হলেও আর কোনও দেহ পাওয়া যায়নি।গত রবিবার ১৬ জন মৎস্যজীবী নিয়ে ট্রলারটি বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে গিয়েছিল। ভারত-বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক জলসীমানার কাছে আচমকাই ট্রলারটি ডুবে যায়। সেই সময় ভারতীয় উপকূল রক্ষী বাহিনী এবং আশপাশের অন্য ট্রলারের মৎস্যজীবীদের তৎপরতায় ১১ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়।উদ্ধার হওয়া মৎস্যজীবীদের অভিযোগ, একটি বাংলাদেশি নৌসেনার জাহাজ ইচ্ছাকৃতভাবে তাঁদের ট্রলারে ধাক্কা মারে এবং তারপর ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। যদিও এই অভিযোগ বাংলাদেশ নৌসেনার পক্ষ থেকে অস্বীকার করা হয়েছে।দুর্ঘটনার পর পাঁচ জন মৎস্যজীবী নিখোঁজ ছিলেন। তাঁদের খোঁজে গতকাল গভীর রাতে ডুবে যাওয়া ট্রলারটিকে নামখানার উপকূলে টেনে আনা হয়। সেখান থেকেই এদিন উদ্ধার হয় দুজনের দেহ। প্রিয়জনের দেহ ফিরে পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন মৃতদের পরিবার। এখনও নিখোঁজ তিন মৎস্যজীবীর খোঁজে দ্রুত তল্লাশির দাবি জানিয়েছেন তাঁদের পরিজনরা।

ডিসেম্বর ১৭, ২০২৫
কলকাতা

২৫ কোটি কে দিল? যুবভারতী বিতর্কে মমতা সরকারকে নিশানা বিজেপির

যুবভারতী কাণ্ডে মুখ পুড়েছে কলকাতার। এই ঘটনা নিয়ে শুধু রাজ্য নয়, দেশ-বিদেশেও শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। হাইকোর্টের এক অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে তদন্ত চলছে। আলাদা করে সিট গঠন করেছে কলকাতা পুলিশ। ইতিমধ্যেই শোকজ করা হয়েছে রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমারকে। ক্রীড়ামন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে সরানো হয়েছে অরূপ বিশ্বাসকে। এর পাশাপাশি যুবভারতীতে ভাঙচুরের ঘটনায় গত ৪৮ ঘণ্টায় একের পর এক গ্রেপ্তারির খবর সামনে এসেছে।এই পরিস্থিতিতে বিষয়টি নিয়ে সাংবাদিক বৈঠকে সুর চড়ালেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। পুলিশের ভূমিকা ও রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানান শমীক। তাঁর বক্তব্য, যাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তাঁরা সকলেই টিকিট কেটে খেলা দেখতে গিয়েছিলেন। অনেকেই চাকরিজীবী, কেউ সরকারি কর্মী, কেউ বা বহুজাতিক সংস্থায় কাজ করেন। শিক্ষিত যুবকদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।শমীকের প্রশ্ন, যুবভারতীতে যে প্রাতিষ্ঠানিক লুঠ হয়েছে, তার সঙ্গে যাঁরা যুক্ত, তাঁরা কোথায়। মেসিকে আনার জন্য প্রথম ২৫ কোটি টাকা অগ্রিম কে দিয়েছিল, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, গোটা তৃণমূল দল এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত। শুধু ক্রীড়ামন্ত্রীকে সরিয়ে নাটক করা হচ্ছে বলে কটাক্ষ করেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি প্রশ্ন তোলেন, রাজ্য পুলিশের ডিজিকে কে পরিচালনা করেন, শেষ পর্যন্ত দায় সরকারেরই।এ দিন সাংবাদিক বৈঠকে শুভেন্দু অধিকারীও জানান, ধৃতদের আইনি সহায়তায় বিজেপি সম্পূর্ণ প্রস্তুত। তাঁর বক্তব্য, বিষয়টি দলের তরফে নজরে রাখা হচ্ছে। বিজেপির আইনজীবীরা কলকাতা হাইকোর্টে মামলায় স্থগিতাদেশ চেয়ে আবেদন করবেন। পাশাপাশি ধৃতদের মুক্তির দাবিও জানানো হবে বলে জানান তিনি।যুবভারতী কাণ্ড ঘিরে এ বার রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও তীব্র হচ্ছে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

ডিসেম্বর ১৭, ২০২৫
রাজ্য

মেসি-কাণ্ডে কড়া পদক্ষেপ, তবু ‘আইওয়াশ’ বিতর্ক! অরূপের গ্রেফতারি দাবি শুভেন্দুর

যুবভারতী-কাণ্ডে ছবি বিতর্কের জেরে আগেই মুখ্যমন্ত্রীর কাছে ক্রীড়ামন্ত্রীর পদ থেকে অব্যাহতি চেয়ে চিঠি দিয়েছিলেন অরূপ বিশ্বাস। এর মধ্যেই মঙ্গলবার সকালে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গঠিত অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অসীমকুমার রায়ের নেতৃত্বাধীন তদন্ত কমিটি রিপোর্ট জমা দেয়। রিপোর্ট জমা পড়ার পরই রাজ্য পুলিশের ডিজিপি রাজীব কুমারকে শোকজ করা হয়। সব মিলিয়ে যুবভারতী-কাণ্ডে মুখ্যমন্ত্রীর একের পর এক কড়া পদক্ষেপ সামনে এসেছে।তবে এই সব পদক্ষেপকে আইওয়াশ বলে কটাক্ষ করেছেন রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দাবি, শুধু অব্যাহতি নয়, অরূপ বিশ্বাস ও সুজিত বসুকে গ্রেফতার করতে হবে। শুভেন্দুর বক্তব্য, যুবকদের আবেগে আঘাত করা হয়েছে। যাঁরা টিকিট কেটেছিলেন, তাঁদের টাকা ফেরত দিতে হবে। পুলিশের লাঠিচার্জে যাঁরা গ্রেফতার হয়েছেন, তাঁদের অবিলম্বে জামিন দেওয়া উচিত।অন্যদিকে, তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ আবারও বলেছেন, নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থেই অরূপ বিশ্বাস ক্রীড়ামন্ত্রীর পদ থেকে অব্যাহতি চেয়েছেন। তাঁর মতে, মুখ্যমন্ত্রী রাজধর্ম পালন করেছেন। তবে যুবভারতীতে যে দিন বিশৃঙ্খলা হয়েছিল, সেই ঘটনার বিতর্ক এখনও থামেনি। কারণ ওই দিন স্টেডিয়ামে প্রবেশ করতে পারেননি মুখ্যমন্ত্রী নিজেই। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত ছিল যে মুখ্যমন্ত্রীর গাড়ি ঘুরিয়ে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে হয়।এই ঘটনার মধ্যেই সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে মেসির সঙ্গে অরূপ বিশ্বাসের একাধিক ছবি। দর্শকদের অভিযোগ, মেসিকে ঘিরে এত অনাকাঙ্ক্ষিত লোকজন রাখা হয়েছিল যে হাজার হাজার টাকা দিয়ে টিকিট কেটে আসা সাধারণ দর্শকরা তাঁকে দেখতেই পাননি। ক্ষোভ থেকেই পরে ভাঙচুর এবং বিশৃঙ্খলার ছবি সামনে আসে।মুখ্যমন্ত্রীর গাড়ি ঘুরিয়ে ফিরে যাওয়ার ঘটনাকেই বড় ইস্যু করেছেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দাবি, মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে ১৫ বছরের মধ্যে এই প্রথম মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এমন পরিস্থিতির মুখে পড়েছেন। পাশাপাশি তিনি অভিযোগ করেছেন, মেসির অনুষ্ঠান ঘিরে কয়েকশো কোটি টাকার দুর্নীতি হয়েছে।ইতিমধ্যেই প্রশাসনের তরফে আয়োজকদের গাফিলতির কথা স্বীকার করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পরই ডিজিপি রাজীব কুমারকে শোকজ করা হয়েছে। তবে শুভেন্দু অধিকারীর মতে, এই শোকজও শুধুই লোক দেখানো। তাঁর কটাক্ষ, রাজীব কুমার এই রাজ্যের অলিখিত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

ডিসেম্বর ১৬, ২০২৫
কলকাতা

যুবভারতীর বিশৃঙ্খলার দায় নিলেন অরূপ, ইস্তফা গ্রহণ মুখ্যমন্ত্রীর

ক্রীড়ামন্ত্রী পদ থেকে অরূপ বিশ্বাসের ইস্তফা গ্রহণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে লিওনেল মেসির অনুষ্ঠানে তৈরি হওয়া বিশৃঙ্খলার দায় নিয়ে নিজেই পদত্যাগের ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন অরূপ। সেই চিঠি গ্রহণ করে মুখ্যমন্ত্রী তাঁকে ক্রীড়া ও যুবকল্যাণ দপ্তরের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন। আপাতত এই দপ্তরের দায়িত্ব নিজেই সামলাবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।সূত্রের খবর, মুখ্যমন্ত্রীকে লেখা চিঠিতে অরূপ বিশ্বাস জানান, ১৩ ডিসেম্বর মেসির আগমনের সময় যুবভারতীতে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। সেই তদন্ত যাতে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ভাবে হয়, সেই কারণেই তিনি ক্রীড়ামন্ত্রী পদ থেকে সরে দাঁড়াতে চান। মুখ্যমন্ত্রী তাঁর সেই আবেদন মেনে নিয়েছেন। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ক্রীড়া ও যুবকল্যাণ দপ্তর নবান্ন থেকেই দেখভাল করবেন মুখ্যমন্ত্রী।তবে অরূপ বিশ্বাস তাঁর হাতে থাকা বিদ্যুৎ দপ্তরের দায়িত্বে বহাল থাকছেন। ওই দপ্তরের কাজ আগের মতোই তিনি সামলাবেন বলে জানা গিয়েছে।উল্লেখ্য, ১৩ ডিসেম্বর গোট ট্যুর-এর অংশ হিসেবে যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে এসেছিলেন লিওনেল মেসি। তাঁর সঙ্গে ছিলেন লুইস সুয়ারেজ এবং রড্রিগো ডি পল। কিন্তু হাজার হাজার টাকা দিয়ে টিকিট কেটেও বহু দর্শক মেসিকে এক ঝলক দেখতে না পাওয়ায় ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। মেসি মাঠ ছাড়ার পর গ্যালারি থেকে বোতল ছোড়া হয়, ব্যানার ছিঁড়ে ফেলা হয় এবং ব্যারিকেড ভেঙে মাঠে ঢুকে ভাঙচুর চালায় উত্তেজিত জনতার একাংশ। সেই সময় স্টেডিয়ামেই উপস্থিত ছিলেন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। ঘটনার পর অব্যবস্থার অভিযোগে মূল আয়োজক শতদ্রু দত্তকে গ্রেপ্তার করে ১৪ দিনের পুলিশ হেফাজতে পাঠানো হয়েছে।

ডিসেম্বর ১৬, ২০২৫
দেশ

সাতসকালে দুঃস্বপ্ন! ৩৫ পুণ্যার্থী নিয়ে বাস খাদে—চিৎকারে কেঁপে উঠল পাহাড়ি এলাকা

সকালে দিন এখনও ঠিক ফোটেনি। ঘন কুয়াশায় ঢেকে ছিল পাহাড়ি রাস্তা। ঠিক সেই সময়ই ঘটে গেল বড় বিপদ। অন্ধ্রপ্রদেশের আলুরি জেলায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গভীর খাদে পড়ে গেল একটি যাত্রীবাস। ঘটনায় অন্তত ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে, আহত আরও ১২ জন।আজ ভোর সাড়ে ৫টা নাগাদ তুলাসিপাকালু গ্রামের কাছে দুর্ঘটনাটি ঘটে। বাসটিতে মোট ৩৫ জন যাত্রী ছিলেন, সকলেই পুণ্যার্থী। বাসে ছিলেন দুই চালক ও একজন সাফাই কর্মীও। পাহাড়ি ঘন জঙ্গলের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল বাসটি। একটি বাঁক ঘোরানোর সময় হঠাৎই স্টিয়ারিং ঘুরে যায়, আর সঙ্গে সঙ্গেই বাসটি রাস্তা থেকে ছিটকে খাদে ঝুলে পড়ে। পুরোপুরি নিচে না পড়লেও উলটে ঝুলে থাকা অবস্থাতেই আটকে যায়।স্থানীয় বাসিন্দারা প্রথমে বাসটিকে ওই ভয়ার্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেন। দ্রুত উদ্ধারকারী দল পৌঁছে যায় ঘটনাস্থলে এবং যাত্রীদের বের করতে শুরু হয় দমকা অভিযান। জেলাশাসক জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত ৯ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে। সাতজন গুরুতর আহত, তাদের চিত্তুর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বাকিদের ভদ্রাচলম হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। উদ্ধারকাজ এখনও চলছে।দুর্ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডু। তিনি জেলাশাসকের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত উদ্ধারকাজ চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন। আহতদের চিকিৎসায় কোনও ত্রুটি যেন না থাকে, তাও নিশ্চিত করতে বলেছেন।ঘন কুয়াশাই এই দুর্ঘটনার মূল কারণ বলে অনুমান পুলিশের।

ডিসেম্বর ১২, ২০২৫
কলকাতা

শীতের কুয়াশায় কলকাতায় তাণ্ডব! বাইক দুর্ঘটনায় মৃত্যু, রেড রোডে বেপরোয়া গাড়ির মারাত্মক ধাক্কা

শীতের রাতে আবারও বিপত্তি কলকাতায়। গভীর রাতে ইএম বাইপাসে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় মৃত্যু হল এক বাইক আরোহীর। কয়েক ঘণ্টা পরই ভিক্টোরিয়ার কাছে রেড রোডে বেপরোয়া গাড়ির ধাক্কায় জখম হলেন দুই যাত্রী এবং এক পথচারী মহিলা। দুটি ঘটনারই তদন্তে নেমেছে পুলিশ।জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার গভীর রাতে ইএম বাইপাসের সার্ভে পার্কের কাছে ঢালাই ব্রিজ থেকে রুবির দিকে যাচ্ছিলেন অলোকেশ হালদার নামে এক যুবক। বাইকের গতি ছিল অত্যন্ত বেশি। সিংহীবাড়ি মোড়ের কাছে দাঁড়িয়ে থাকা একটি গাড়িকে তিনি প্রথমে ধাক্কা মারেন। তার পর বাইকটি গিয়ে ধাক্কা মারে রাস্তার ডিভাইডারে। ধাক্কার জেরে প্রচণ্ড জোরে ছিটকে পড়ে যান অলোকেশ। স্থানীয়রা রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে এমআর বাঙুর হাসপাতালে নিয়ে গেলেও চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন। পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার সময়ে তাঁর মাথায় হেলমেট ছিল না। অতিরিক্ত গতি ও মাথায় আঘাতেই মৃত্যু হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।বুধবার সকালে আরও একটি বড় দুর্ঘটনা ঘটে রেড রোডে। এক বেপরোয়া গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সোজা ধাক্কা মারে রাস্তার বিদ্যুতের খুঁটিতে ও একটি গাছে। ধাক্কার জেরে গাড়ির সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায়। গাড়ির ভিতরে থাকা দুই যাত্রীযারা সম্পর্কে বাবা ও ছেলেগুরুতর জখম হন। তাঁদের দ্রুত এসএসকেএম হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। গাড়ির ধাক্কায় আহত হয়েছেন এক সাফাই কর্মী মহিলা, তাঁর নাম রশিদা বেগম, বাড়ি রায়চকে। গাড়ির গতি এতটাই বেশি ছিল যে খুঁটি ও গাছ দুটিই ভেঙে পড়েছে।শহরে জোড়া দুর্ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পুলিশ দুটি ঘটনাই খতিয়ে দেখছে।

ডিসেম্বর ১০, ২০২৫
রাজ্য

স্ত্রীর সঙ্গে চলছিল বিবাদ, লাইভ ভিডিওর পর রহস্যমৃত্যু মালদহের যুবকের!

বিয়ের পর থেকেই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে অশান্তি চলছিল। সেই অশান্তি ক্রমে এতটাই বেড়ে যায় যে স্ত্রী আলাদা থাকার সিদ্ধান্ত নেন এবং স্বামী-সহ শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগও দায়ের করেন। এই টানাপোড়েনের মধ্যেই শুক্রবার রাতে সামাজিক মাধ্যমে লাইভ ভিডিও করার পর রহস্যজনকভাবে মৃত পাওয়া গেল মালদহের হরিশ্চন্দ্রপুর থানার কালিতলা মোবারকপুর এলাকার যুবক দুর্লভ সাহাকে। ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, দুর্লভ একটি শোরুমে কাজ করতেন। তাঁর স্ত্রী মৌসুমী সাহার সঙ্গে বেশ কিছুদিন ধরেই বিবাদ চলছিল। কয়েক বছর আগে তাঁদের বিয়ে হলেও সংসারে শান্তি ছিল না। দম্পতির দুই কন্যা সন্তান রয়েছে। অভিযোগ, নিয়মিত বিবাদের জেরে মৌসুমী শ্বশুরবাড়ি ছেড়ে চাঁচোলে ভাড়া বাড়িতে থাকতে শুরু করেন। পরে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগও করেন তিনি।পরিবারের অশান্তি আরও বাড়ছিল বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে। শুক্রবার রাতে লাইভ ভিডিওর পর শনিবার সকালে দুর্লভের দেহ উদ্ধার করে হরিশ্চন্দ্রপুর থানার পুলিশ। দেহ পাঠানো হয়েছে মালদহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং মৃত্যুর সঠিক কারণ জানার চেষ্টা চলছে।

ডিসেম্বর ০৭, ২০২৫
রাজ্য

বাবু মণ্ডলকে গুলি করে চুপ করাতে চাওয়া হয়েছিল? বিস্ফোরক অভিযোগ মৃত পরিবেশকর্মীর স্ত্রীর

তৃণমূল নেতা বাবু মণ্ডলকে কেন গুলি করা হল, সেই প্রশ্ন তুলে এবার প্রকাশ্যে মুখ খুললেন নিহত পরিবেশকর্মী তপন দত্তর স্ত্রী প্রতিমা দত্ত। তিনি সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন, যদি খুনের উদ্দেশ্য থাকত, তবে মাথায় গুলি না করে কোমরে গুলি করা হল কেন। তাঁর দাবি, এই হামলার উদ্দেশ্য ছিল খুন নয়, শুধুমাত্র ভয় দেখানো।গত শুক্রবার বসুকাঠি সাঁপুইপাড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান দেবব্রত মণ্ডল ওরফে বাবু মণ্ডলকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। ঘটনার পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। প্রতিমা দত্ত জানিয়েছেন, তাঁর স্বামীর খুনের মামলায় শুরুতে চার্জশিটে বাবু মণ্ডলের নাম ছিল। পরে সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিটে তাঁর নাম বাদ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে বাদ পড়ে আরও কয়েকজন প্রভাবশালী তৃণমূল নেতার নামও। যাঁরা গ্রেপ্তার হয়েছিলেন, তাঁরাও পরে ছাড়া পেয়ে যান।সেই সময় সুবিচার ও সিবিআই তদন্তের দাবিতে প্রতিমা দত্ত উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হন। ২০২২ সালের ৯ জুন আদালতের নির্দেশে CBI তদন্ত শুরু করে। তাঁর দাবি, আগামী মাসেই এই মামলায় চার্জশিট জমা দিতে পারে সিবিআই। প্রতিমা দত্তের অভিযোগ, তদন্তে গতি আসায় এবং সত্য ফাঁস হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় বাবু মণ্ডলকে গুলি করে ভয় দেখানো হয়েছে, যাতে তিনি কিছু বলতে না পারেন।তিনি আরও বলেন, সিসিটিভি ফুটেজে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে যে খুন করার চেষ্টা নয়, শুধু আতঙ্ক তৈরি করাই ছিল আসল উদ্দেশ্য। তাঁর দাবি, তপন দত্ত খুনের মামলার মূল মাথারাই এই গুলি চালানোর নেপথ্যে রয়েছে।২০১১ সালের ৬ মে বালিতে খুন হয়েছিলেন পরিবেশবিদ তপন দত্ত। তৎকালীন CID-এর চার্জশিটে একাধিক তৃণমূল নেতার নাম ছিল, যার মধ্যে বাবু মণ্ডলও ছিলেন। পরে সেই নাম বাদ পড়ে। প্রতিমা দত্তের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চললেও এখন সিবিআই তদন্তে নতুন গতি এসেছে। আর ঠিক সেই কারণেই এই গুলি চালানোর ঘটনা বলে তাঁর দৃঢ় বিশ্বাস।

নভেম্বর ২৯, ২০২৫
কলকাতা

হবু বরের সঙ্গে যাচ্ছিলেন বাইকে! মুহূর্তে ছিন্ন ভিন্ন হয়ে গেল হাত

নিউটাউন সিটি সেন্টারের সামনে মঙ্গলবার দুপুরেই ঘটে গেল শিউরে ওঠার মতো এক ভয়াবহ দুর্ঘটনা। চোখের পলকে থেঁতলে গেল এক তরুণীর হাত। সরকারি রুটের বাসের ধাক্কায় বাইক থেকে ছিটকে পড়ে ২৫ বছরের প্রতিশ্রুতি রায়চৌধুরীর ডান হাত দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ব্যস্ত রাস্তায় মুহূর্তের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক ও চিৎকার।পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রতিশ্রুতি তাঁর হবু স্বামীর বাইকে চড়ে নিউটাউনের দিকে আসছিলেন। ঠিক সেই সময় এয়ারপোর্টমুখী সরকারি বাসটি দ্রুত গতিতে একই দিকে এগোচ্ছিল। হঠাৎই বাইকটি বাসের সামনে চলে আসায় ভারসাম্য হারিয়ে দুজনেই ছিটকে পড়েন। প্রতিশ্রুতি মাটিতে পড়তেই বাসের পিছনের চাকা গড়িয়ে যায় তাঁর হাতের উপর দিয়ে। সঙ্গে সঙ্গে হাতটি দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে রাস্তায়।স্থানীয়রা ছুটে এসে রক্তাক্ত অবস্থায় তরুণীকে উদ্ধার করে ভিআইপি রোডের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাঁর অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে তড়িঘড়ি বারাসতের আরও উন্নত বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। হাসপাতাল সূত্রের দাবি, প্রতিশ্রুতির অবস্থা অত্যন্ত সংকটজনক।দুর্ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়েছে সরকারি বাসের বেপরোয়া গতিতে। এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, ভীষণ ভয়ঙ্কর ছিল দৃশ্যটা। বাসটার গতি খুব বেশি ছিল। মেয়েটা বাইক থেকে পড়ে যেতেই চাকা হাতের উপর দিয়ে গেল। সরকারি বাসগুলো এমনিতেই কোনও গতির পরোয়া করে না। ট্রাফিক পুলিশ সামনেই ছিল, তবুও এই বেপরোয়া চালানো আটকাতে পারে না।নিউটাউনের মতো ব্যস্ত এলাকায় ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের দাবি ফের জোরদার হচ্ছে। সরকারি বাসগুলির গতি নিয়ন্ত্রণ ও নিয়মিত নজরদারির অভাবেই এমন দুর্ঘটনা বাড়ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। শহরের বুকে এক তরুণীর এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনা আবারও প্রশ্ন তুলছে, রাস্তা কি সত্যিই সুরক্ষিত?

নভেম্বর ২৫, ২০২৫
রাজ্য

পুকুরে সোজা গাড়ি! তিন শিশুর মৃত্যু—ফাঁস হল পুলকারের ভয়ঙ্কর অবস্থা

সোমবার বিকেলেই ভেঙে পড়ল একাধিক পরিবারের স্বপ্ন। বাড়ি ফেরার পথেই ঘটে গেল মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। পড়ুয়াদের নিয়ে ছুটে চলা পুলকারটি হঠাৎই সোজা গিয়ে পড়ে গভীর পুকুরে। মুহূর্তের মধ্যে জলের তলায় তলিয়ে যায় গাড়িটি। স্থানীয় বাসিন্দারা ঝাঁপিয়ে পড়ে পাঁচজনকে কোনওভাবে উদ্ধার করতে পারলেও তিন পড়ুকে বাঁচানো যায়নি।দুর্ঘটনার পরে উঠে এসেছে আরও ভয়ানক তথ্য। যে পুলকারে প্রতিদিন শিশুদের আনা-নেওয়া হত, সেই গাড়ি ছিল ২৩ বছরের পুরনো। ২০১৮ সালেই ফিটনেস ফেল করেছিল। ২০২২-এ শেষ হয়ে যায় বিমার মেয়াদ। দূষণের ছাড়পত্রও ছিল না। অর্থাৎ কোনও নথিই আর বৈধ ছিল না। তবু বছরের পর বছর ওই গাড়িই চলেছে রাস্তায়, শিশুদের নিরাপত্তা ভরসায় রেখেই।অভিভাবকদের দাবি, পুলকারটিতে নিয়মিতই সমস্যা থাকতপ্রবল শব্দ, লক না খোলা, যান্ত্রিক ত্রুটি। এক পড়ুয়ার মা বলেন, চালকের শরীর খারাপ ছিল। গাড়িতে ভীষণ আওয়াজ হচ্ছিল। আমি সকালেই বলেছিলাম, সাবধানে চালাতে। কিন্তু লকটা যদি ঠিক মতো খোলা যেত, তাহলে বাচ্চাগুলোকে হয়ত বাঁচানো যেত।দুর্ঘটনার সময় এক ছাত্রী কয়েক সেকেন্ড আগে গাড়ি থেকে নেমেছিল। তার সামনেই পুকুরে উলটে যায় পুলকারটি। কীভাবে সামলাবে, বুঝতেই পারেনি শিশুরা। ভয় আর আতঙ্কের সেই মুহূর্তেই আটকে যায় সব দরজা।স্কুল কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, অভিভাবকরাই গাড়ি ঠিক করেন, স্কুলের সঙ্গে কোনও সরাসরি সম্পর্ক নেই। কিন্তু অভিভাবকরা বলছেন উল্টো কথাস্কুলের মাধ্যমেই গাড়ি বাছাই ও দায়িত্ব নির্ধারণ করা হয়, তাঁরা কেবল টাকা দেন। ফলে দায় কারনিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক।যে ভাবেই হোক, এই মৃত্যু যেন অকারণ উদাসীনতারই ফল। গাড়ির নথি নেই, নিরাপত্তার মান নেইতবু ছুটছে পুলকার। প্রশাসনিক নজরদারি কোথায়? তিনটি ছোট প্রাণ হারিয়ে একটাই প্রশ্ন বিরাট হয়ে দাঁড়িয়েছেপড়ুয়াদের নিরাপত্তা কি এতটাই উপেক্ষিত?ইনস্যুরেন্স নেই, ফিটনেস নেইএমন এক গাড়ি কীভাবে এতদিন রাস্তায় চললএ প্রশ্নের উত্তর এখনই চাইছে পুরো এলাকা।

নভেম্বর ২৫, ২০২৫
কলকাতা

"এসআইআর কি মৃত্যুকূপ?" কৃষ্ণনগরে বিএলওর আত্মহত্যায় তীব্র আক্রমণে মুখ্যমন্ত্রী

কৃষ্ণনগরে বিএলও রিঙ্কু তরফদারের আত্মহত্যা ঘিরে রাজ্য রাজনীতি ফের সরগরম। মৃত্যুর আগে পাওয়া তাঁর সুইসাইড নোটে কাজের অতিরিক্ত চাপ ও নির্বাচন কমিশনের এসআইআর প্রক্রিয়াকেই দায়ী করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠতেই সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কমিশনকে আক্রমণ করেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে লিখেছেনআর কতজনের প্রাণ যাবে এই এসআইআর-এর জন্য? আর কত মৃতদেহ দেখতে হবে আমাদের?মুখ্যমন্ত্রী জানান, রিঙ্কু তরফদার পার্শ্বশিক্ষক ছিলেন, পাশাপাশি বিএলও হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। গভীর মানসিক চাপে তিনি আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন বলে অভিযোগ পরিবারের। তাঁর সুইসাইড নোটেই নাকি স্পষ্ট লেখা রয়েছে, এসআইআর-এর চাপ তাঁর পক্ষে আর সহ্য করা সম্ভব ছিল না। সেই নোট প্রকাশ্যে আসতেই রাজ্যের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে প্রশ্ন তুলেছেন মমতাএই প্রক্রিয়া চালু রেখে কমিশন কি মানুষের জীবনের মূল্য ভুলে যাচ্ছে?তবে এই ঘটনার দায় উল্টে রাজ্যের ঘাড়ে চাপিয়েছে বিরোধীরা। বিজেপি বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পাল জানান, কমিশন ডেটা এন্ট্রি অপারেটর নিয়োগ করতে বলেছিল, যাতে বিএলওদের ওপর অতিরিক্ত ডিজিটাল কাজের চাপ না পড়ে। কিন্তু রাজ্য সরকার তা মানেনি। তাঁর দাবি, রিঙ্কু অনলাইনে কাজ করতে পারতেন না। যদি ডেটা এন্ট্রি অপারেটর রাখা হত, তাহলে হয়তো এই ট্র্যাজেডি ঘটত না। তাঁর কথায়, এই মৃত্যুর দায় সম্পূর্ণ মুখ্যমন্ত্রীর।এদিকে রিঙ্কুর মৃত্যুর পরই রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ কুমার আগরওয়াল নদিয়ার জেলাশাসকের কাছে বিস্তারিত রিপোর্ট চেয়েছেন। কী কারণে এই মৃত্যু, কী ধরনের কাজের চাপ ছিলএসব তথ্য দ্রুত জমা দিতে বলা হয়েছে।এর আগেও একই অভিযোগ উঠেছিল জলপাইগুড়ির মালবাজারে। সেখানেও এসআইআর-এর অতিরিক্ত চাপেই বিএলও শান্তি মুনি ওরাঁও আত্মঘাতী হয়েছেন বলে দাবি করেছিলেন তাঁর পরিবার। সেই ঘটনার পর মমতা এসআইআর প্রক্রিয়া বন্ধ করার দাবি জানিয়ে কমিশনকে চিঠি পাঠান। কিন্তু কয়েক দিনের ব্যবধানে ফের আরেক বিএলও-র মৃত্যুতে আরও ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রী।এসআইআর নিয়ে যে বিস্ফোরণধর্মী চাপ সৃষ্টি হয়েছে, তা নিয়ে রাজ্যের সর্বস্তরে প্রশ্নএভাবে কি চলতে পারে? আর একজন কর্মকর্তার মৃত্যু কি প্রশাসন ও কমিশনকে নাড়া দেবে? কৃষ্ণনগরের এই ঘটনা সেই প্রশ্নকে আরও জোরালো করে তুলল।

নভেম্বর ২২, ২০২৫
রাজ্য

“কাজের চাপে মরতে বাধ্য করল!”—সুইসাইড নোটে বিস্ফোরক অভিযোগ, কৃষ্ণনগরে আত্মঘাতী মহিলা BLO

কৃষ্ণনগরের ষষ্ঠীতলা এলাকা শনিবার সকালে ঘুম ভাঙতেই যেন স্তব্ধ হয়ে গেল। নিজের বাড়ি থেকেই উদ্ধার হল মহিলা বিএলও রিঙ্কু তরফদারের নিথর দেহ। বয়স চুয়ান্ন। পেশায় পার্শ্বশিক্ষিকা, চাপড়া বাঙালঝি স্বামী বিবেকানন্দ বিদ্যামন্দিরে পড়াতেন। পাশাপাশি চাপড়া ২ নম্বর পঞ্চায়েতের ২০১ নম্বর বুথের ব্লক লেভেল অফিসার হিসেবেও কাজ করতেন। কিন্তু সবকিছুর মাঝেই যেন গোপনে তৈরির হচ্ছিল চাপের পাহাড়। সেই চাপই কি শেষ পর্যন্ত কেড়ে নিল তাঁর প্রাণ?পুলিশ জানিয়েছে, তাঁর ঘর থেকে একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার করা হয়েছে। সেখানে রিঙ্কু দেবী স্পষ্ট লিখে গিয়েছেনঅসহ্য মানসিক চাপ, অনবরত কাজের বোঝা ও অবাস্তব সময়সীমার চাপে তিনি আর বাঁচতে পারছেন না। অভিযোগের তীর সরাসরি নির্বাচন কমিশনের দিকে। নোটে লেখা, সংসারে কোনো অভাব নেই, রাজনৈতিক বিদ্বেষও নেইতবু এই সামান্য চাকরির জন্য তাঁকে এমন পরিস্থিতিতে ঠেলে দেওয়া হয়েছে যে, আর পথ খোলা ছিল না।নোটে তিনি আরও জানান, অফলাইন কাজের প্রায় সবটাই শেষ করে ফেললেও অনলাইন প্রক্রিয়া সামলাতে না পারায় তিনি ক্রমে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন। একের পর এক জানানো সত্ত্বেও বিডিও অফিস ও সুপারভাইজার নাকি তাঁর প্রতি কোনও ব্যবস্থা নেয়নি। তাঁর কথায়২০১ নম্বর পার্টে লোক না থাকায় তাঁর কাঁধে অস্বাভাবিক পরিমাণ দায়িত্ব চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল, অথচ পরে অন্য বুথের লোকজনকে বিভিন্ন পার্টে নিয়োগ করা হয়।শেষে তিনি লিখেছেনএখন আমার সুখের সময় ছিল। কিন্তু ওরা আমাকে বাঁচতে দিল না। এই লাইনই যেন কাঁটার মতো বিঁধছে গোটা কৃষ্ণনগরে।ঘটনার পর রাজনৈতিক মহল উত্তাল। তৃণমূল সরাসরি কমিশনকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে বলছেডিজিটাল কাজের জটিলতা, অযৌক্তিক সময়সীমা, রাতভর নজরদারি আর শাস্তির আতঙ্কে প্রশাসনিক কর্মীদের ওপর যে মানসিক নির্যাতন চলছে, তা একেবারেই বরদাস্তযোগ্য নয়।অন্যদিকে সাধারণ মানুষও প্রশ্ন তুলছেএকটি নির্বাচনের প্রস্তুতি কি এতটাই মানুষ-খেকো হয়ে উঠেছে যে, কর্মীরা প্রাণ দিচ্ছেন চাপের কাছে হার মেনে?কৃষ্ণনগরের শান্ত এলাকা এখন উত্তেজনায় ফাটা। তদন্ত চলছে, কিন্তু একটি প্রশ্ন বার বার ফিরে আসছেএই মৃত্যু কি নিছক অস্বাভাবিক? নাকি প্রশাসনিক চাপের কাছে হার মেনে নেওয়া এক মর্মান্তিক আত্মসমর্পণ?

নভেম্বর ২২, ২০২৫
দেশ

চতুর্থ তলা থেকে লাফিয়ে মৃত্যু: নয় বছরের ছাত্রের মৃত্যুর ঘটনায় জয়পুরের স্কুলকে কঠোর নোটিস CBSE-এর

নয় বছরের এক ছাত্রের অস্বাভাবিক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তীব্র বিতর্কের জেরে নড়েচড়ে বসেছে কেন্দ্রীয় শিক্ষাবোর্ড। জয়পুরের নীরজা মোদি স্কুলকে কড়া শব্দে ভরা শোকজ নোটিশ পাঠাল CBSE। ১ নভেম্বর চতুর্থ তলা থেকে ঝাঁপ দিয়ে মৃত্যু হয়েছিল ওই ক্লাস ফোরের ছাত্রের। পরদিনই২ নভেম্বর নয়, সরাসরি ৩ নভেম্বরCBSE-এর দুসদস্যের বিশেষ তদন্তদল স্কুলে পৌঁছয়। তাদের রিপোর্ট এখন যেন আগুন ধরিয়ে দিয়েছে রাজস্থানের অন্যতম বড় খ্যাতনামা এই স্কুলকে।পরিদর্শন কমিটি জানিয়েছে, স্কুলে ছিল ভয়ঙ্কর নিরাপত্তাহীনতা। পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা ত্রুটিপূর্ণ, বাচ্চাদের উপর নজরদারি বলতে কিছু নেই, অ্যান্টি-বুলিং সিস্টেম প্রায় অকার্যকর, এমনকি শিক্ষক-শিক্ষিকাদের প্রতিক্রিয়াও নাকি ছিল অস্বাভাবিকভাবে দেরি করা। এমন গুরুতর ত্রুটিযা একাধিক বার তুলে ধরে কমিটি লিখেছে, এই দুর্ঘটনা আটকানো যেত, যদি স্কুল কর্তৃপক্ষ দায়িত্ব নিয়ে কাজ করত।ছাত্রটির মৃত্যুতে ইতিমধ্যেই উত্তাল হয়েছে জয়পুর। ভেঙেচুরে পড়েছে পরিবার। সহপাঠীদের উপরেও তার গভীর প্রভাব পড়েছে। এমন এক সময়ে, যখন গোটা দেশজুড়ে ছাত্রদের আত্মহত্যার ঘটনা বাড়ছে, তখন আরও একটি শিশুমাত্র নয় বছরেরএভাবে নিজের জীবনের অবসান ঘটানোর ঘটনায় প্রশ্ন উঠছে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার ওপরই।সরকারি পরিসংখ্যান (NCRB 2023) বলছে, গত বছরই আত্মহত্যা করেছে ১৩,৮৯২ জন ছাত্রছাত্রী। ভারতের মোট আত্মহত্যার ৮.১ শতাংশই ছাত্রদের। এই ভয়ঙ্কর বাস্তবের মধ্যে জয়পুরের এই ঘটনা যেন আরও একবার চোখে আঙুল দিয়ে দেখালস্কুলে মানসিক স্বাস্থ্য, সহানুভূতি, নজরদারি, এবং বুলিং প্রতিরোধ এখনও কতটা দুর্বল ভিত্তির উপর দাঁড়িয়ে।CBSE-এর নোটিশে প্রশ্ন তুলে বলা হয়েছে, একটি টপ-রেটেড স্কুলে যদি এমন অব্যবস্থা থাকে, তবে দেশের হাজার হাজার সাধারণ স্কুলে কী চলছে? স্কুল কর্তৃপক্ষ এখনও আনুষ্ঠানিক কোনও প্রতিক্রিয়া জানায়নি। কিন্তু শহরজুড়ে এখন একটাই প্রশ্নকতটা নিরাপদ ভারতের বাচ্চারা?

নভেম্বর ২১, ২০২৫
রাজ্য

কাগজপত্র না মেলাতেই বিপদ! ভোটার লিস্টের উদ্বেগে ট্রেনের নিচে ঝাঁপ ৬৩ বছরের ব্যক্তির

কামারহাটির প্রফুল্লনগরের বাসিন্দা ৬৩ বছরের রিকশাচালক অশোক কুমার সরদার এখন আর জি কর হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন। পরিবার বলছে, ভোটার তালিকায় নিজের নাম না থাকা এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ঠিকমতো না মেলায় ভয়, লজ্জা এবং মানসিক চাপেই তিনি এমন চরম সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি এই বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন। ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় তাঁর নাম নেইএটাই তাঁকে অস্বস্তিতে ফেলেছিল। যদিও একই তালিকায় তাঁর ঠাকুমার নাম ছিল, কিন্তু বানান ছিল ভুল। সে কারণে বারবার তিনি মনে করতেন, তাঁকে হয়তো কোনও সমস্যার মুখে পড়তে হবে। পরিবার তাঁকে বহুবার বোঝানোর চেষ্টা করলেও তিনি কিছুতেই আশ্বস্ত হতে পারছিলেন না।গত কয়েক সপ্তাহ ধরে কাগজপত্র ঠিক করতে তিনি বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়িয়েছেন। বুধবার সকালেও তিনি নথিপত্র নিয়ে এদিক-ওদিক ছুটেছেন। বিকেল পর্যন্ত কোনও সমাধান না মেলাতেই সন্ধ্যায় হঠাৎ সিসিআর ব্রিজের কাছে ট্রেনের সামনে ঝাঁপ দেন। আচমকা ট্রেনের ধাক্কায় শরীরের নিচের অংশ গুরুতর ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরিবারের দাবি, তাঁর দুটি পা কেটে ফেলতে হয়েছে।অশোকবাবুর মেয়ে চৈতালি সরকারের কথায়, আমরা সকালের দিকেই কাগজপত্র জোগাড় করছিলাম। পাড়ার এক দাদা ফর্ম ফিলআপ করেও দিয়েছেন। কিন্তু বাবা মানসিক ভাবে ভেঙে পড়েছিল। সবাই এত কথা বলছিল, এত আতঙ্ক তৈরি হচ্ছিল যে বাবা আর সহ্য করতে পারেনি। পরিবার মনে করছে, কিছুদিন ধরে এলাকায় ভোটার লিস্ট ঘিরে যে চাপ ও বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে, তা এই দুঃখজনক ঘটনার অন্যতম কারণ। ভীত, বিভ্রান্ত এবং অসহায় মনে করাতেই অশোকবাবু আত্মহত্যার পথ বেছে নেওয়ার চেষ্টা করেছেন বলে দাবি পরিবারের।বর্তমানে তিনি হাসপাতালে অতি সংকটজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন। ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমেছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, সাধারণ মানুষকে সচেতন করার নামে ভয় তৈরি করা হলে তার পরিণতি কতটা ভয়াবহ হতে পারেঅশোকবাবুর ঘটনা তারই একটি মর্মান্তিক উদাহরণ।

নভেম্বর ২০, ২০২৫
রাজ্য

বাড়ির উঠোনে ঝুলন্ত দেহ—এসআইআর কি কেড়ে নিল আরেক প্রাণ? পরিবারে ক্ষোভ-বিক্ষোভ

রাজ্যজুড়ে বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়া চলার সময় আবারও তোলপাড় হল মালবাজার। প্রবল কাজের চাপ সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যার অভিযোগ উঠল এক মহিলা বিএলওর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে। পরিবারের দাবি, দিনের পর দিন বাড়ি বাড়ি ঘুরে ফর্ম বিতরণ, জমা নেওয়া এবং অফিসের নিয়মিত কাজসব মিলিয়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন শান্তিমণি এক্কা। বুধবার সকালে তাঁর নিজের বাড়ির উঠোন থেকেই ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। ঘটনায় গোটা এলাকায় নেমে আসে শোক আর তীব্র ক্ষোভ।মৃতা শান্তিমণি এক্কা ছিলেন মালবাজারের রাঙামাটি পঞ্চায়েত এলাকার বাসিন্দা। এসআইআর দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই তিনি লাগাতার বাড়ি বাড়ি ঘুরে ভোটার ফর্ম দিচ্ছিলেন, সংগ্রহ করছিলেন। পরিবার জানাচ্ছে, এই কাজের চাপ দিনে দিনে অসহ্য হয়ে উঠছিল। অবসাদে ভুগছিলেন তিনি। বুধবার সকালে পরিবারের লোকজন তাঁকে বাড়ির উঠোনে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখে আতঙ্কিত হয়ে থানায় খবর দেন। পুলিশ এসে দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠায়।খবর পেয়ে মৃতার বাড়িতে পৌঁছান অনগ্রসর শ্রেণী কল্যাণ মন্ত্রী বুলুচিক বড়াইক। তিনি পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেন এবং বলেন, ঘটনার তদন্ত হবে। তবে পরিবারের অভিযোগ, এসআইআর-এর চাপই শেষ করে দিল শান্তিমণিকে।এটাই প্রথম নয়। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে এসআইআর নিয়ে আতঙ্ক, কাজের চাপ এবং মানসিক চাপে ইতিপূর্বে আত্মহত্যার অভিযোগ উঠেছে। কয়েকজন বিএলও অভিযোগ করেছিলেনঅতিরিক্ত চাপ, সময়সীমার কড়া নিয়ম আর ক্রমাগত রিভিউ তাদের মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে দিচ্ছে। কিছু মানুষ দেশছাড়ার ভয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা পর্যন্ত করেছেন।মালবাজারের এই মৃত্যুর ঘটনা ফের নতুন করে প্রশ্ন তুলছেএসআইআর কি কাজের প্রয়োজনে দরকার, নাকি মানুষের উপর অসহনীয় চাপের বোঝা হয়ে উঠছে?

নভেম্বর ১৯, ২০২৫
রাজ্য

ফর্ম না–পাওয়া নিয়ে উদ্বেগ, পূর্ব পুটিয়ারিতে বৃদ্ধার মৃত্যুর পর আলোচনায় প্রশাসনিক বিভ্রান্তি

কলকাতার পূর্ব পুটিয়ারিতে ঘটে গেল এক মর্মান্তিক ঘটনা। এনুমারেশন ফর্ম নিয়ে দুশ্চিন্তায় ভুগতে থাকা এক বৃদ্ধা আগুনে পোড়া অবস্থায় প্রাণ হারালেনএমনই দাবি করেছেন তাঁর পরিবার। মৃতার নাম যমুনা মণ্ডল, বয়স ৬৭। পরিবার জানিয়েছে, বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে এলাকায় ভোটার এনুমারেশন ফর্ম বিলি হচ্ছিল। আশপাশের বাড়িগুলিতে ফর্ম পৌঁছোলেও তাঁদের বাড়িতে পৌঁছায়নি। সেই কারণেই যমুনা দেবী অস্বাভাবিক আতঙ্কে ভুগছিলেন।যমুনার ছেলে মৃত্যুঞ্জয় মণ্ডল বলেন, তাঁর মায়ের আগে থেকেই স্নায়ুর সমস্যা ছিল। ফর্ম না পাওয়ায় উদ্বেগ আরও বেড়ে যায়। গত শনিবার তাঁরা অবশেষে এনুমারেশন ফর্ম পান। কিন্তু তাতেও যমুনা দেবীর ভয়ের অবসান হয়নি বলে দাবি পরিবারের। সোমবার সকালে গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় তাঁকে এমআর বাঙুর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, সেখানে তাঁর মৃত্যু হয়।এদিকে দক্ষিণ দমদম থেকেও সামনে এসেছে আর-একটি মর্মান্তিক ঘটনা। সেখানকার আরএন গুহ রোডের বাসিন্দা বৈদ্যনাথ হাজরা, বয়স ৪৬, কয়েকদিন ধরে এসআইআরসংক্রান্ত দুশ্চিন্তায় ভুগছিলেন বলে জানিয়েছেন তাঁর পরিবার। তাঁদের অভিযোগ, বৈদ্যনাথ বাবুর ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম ছিল নাএই বিষয়টি তাঁকে মানসিকভাবে অস্থির করে তুলছিল। দুদিন আগে গভীর রাতে তিনি বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। তাঁর মোবাইল ফোন বাড়িতেই পড়ে ছিল। পরে সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায় তিনি বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাচ্ছেন। আজ তাঁর দেহ উদ্ধার হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। পরিবারের দাবি, এসআইআরনিয়ে তৈরি হওয়া ভয়ই তাঁকে চরম পদক্ষেপে ঠেলে দিয়েছে।এসআইআর প্রক্রিয়া শুরুর পর থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ভয় ও বিভ্রান্তির অভিযোগ উঠছে। এই ঘটনাগুলিকে কেন্দ্র করে তৃণমূল কংগ্রেস জাতীয় নির্বাচন কমিশন ও বিজেপিকে দায়ী করেছে। আবার বিজেপির অভিযোগ, আতঙ্ক ছড়িয়ে ভোট রাজনীতি করছে রাজ্যের শাসকদলই।ঘটনাগুলি নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক তরজা চরমে উঠেছে। কিন্তু দুই পরিবারের মর্মান্তিক ক্ষতি পাহাড়প্রমাণ প্রশ্ন তুলছেএসআইআরসম্পর্কে সাধারণ মানুষের মধ্যে এত ভয় ও বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে কেন, এবং এই আশঙ্কা দূর করতে প্রশাসনের আরও সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন কি না।(মানসিক চাপ বা সংকটে থাকলে যেকোনও সময় কিরণ ১৮০০-৫৯৯-০০১৯ হেল্পলাইনে সাহায্য পাওয়া যায়।)

নভেম্বর ১৮, ২০২৫
রাজ্য

এসআইআর আতঙ্কে ফের মৃত্যু! ভোটার লিস্টে নাম থেকেও আত্মঘাতী জলপাইগুড়ির কমলা রায়

রাজ্যজুড়ে চলছে এসআইআর প্রক্রিয়া। বাড়ি বাড়ি গিয়ে ফর্ম বিলি করছেন বিএলওরা। আর এই সময়েই ফের আতঙ্কের ছায়া জলপাইগুড়িতে। অভিযোগ, এসআইআর-এর ভয়ে আত্মঘাতী হলেন এক মহিলাকমলা রায়। বয়স ৫৩। বাড়ি বাংলাদেশের সীমান্তঘেঁষা জলপাইগুড়ির সাতকুড়ায়। তাঁর পরিবার সরাসরি দাবি করেছে, বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হতে পারেএই আশঙ্কা দিন দিন বাড়ছিল। সেই আতঙ্কই শেষ পর্যন্ত ওঁকে গ্রাস করল।পরিবার জানিয়েছে, প্রায় ৪০ বছর আগে কমলা রায় বাংলাদেশ থেকে ভারতে চলে আসেন। তারপর থেকেই সাতকুড়া এলাকায় স্থায়ীভাবে বসবাস করতেন। তাদের বক্তব্য, কমলার নাম ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় ছিল। আধার কার্ড, ভোটার কার্ডসব বৈধ নথিই ছিল তাঁর হাতে। কিন্তু তবুও তিনি ক্রমশ মনে ভয় জমাচ্ছিলেনএসআইআর কতটা প্রভাব ফেলতে পারে, তাঁকে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হবে কি না, এই আশঙ্কাতেই নাকি অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন তিনি। অভিযোগ, সেই আতঙ্ক থেকেই গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেন কমলা।ঘটনা জানাজানি হতেই এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়ায়। স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য ও শাসক দলের নেতৃত্ব ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন। তাঁদের দাবি, এসআইআর শুরু হওয়ার পর থেকেই কমলা রায় আতঙ্কে ছিলেন। এই ভয়ই তাঁকে দুর্বল করে দেয়। আমরা সবরকমভাবে পরিবারের পাশে থাকব।পুলিশ ইতিমধ্যেই দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠিয়েছে। তদন্ত চলছে মানসিক চাপে এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কারণ খুঁজে বের করতে।উল্লেখ্য, এর মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেই জলপাইগুড়ির আমবাড়িতে একইভাবে আত্মঘাতী হন ভুবনচন্দ্র রায় নামে এক প্রৌঢ়। তাঁর অভিযোগ ছিল, পরিবারের অন্য সবার ফর্ম এসআইআর-এ পৌঁছালেও তাঁর মেয়ের ফর্ম আসেনি। সেই আতঙ্কেই চরম পথ বেছে নিয়েছিলেন তিনি। পরপর দুই মৃত্যুতে জেলায় এসআইআর নিয়ে অস্বস্তি আরও বেড়েছে।

নভেম্বর ১৫, ২০২৫
দেশ

অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট, তার, জ্বালানি—গাড়ির ভেতরেই বিস্ফোরণের কারখানা! চাঞ্চল্যকর তথ্য

লালকেল্লার কাছে যে বিস্ফোরণ ঘটেছিল, তার তদন্তে এবার উঠে এল আরও ভয়াবহ তথ্য। গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, ধৃত জঙ্গি-চিকিৎসক উমর নবি নাকি আই-২০ গাড়ির ভেতরেই বিস্ফোরক তৈরি করেছিল। যে ৫০টিরও বেশি নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল, তার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, দুই কিলোগ্রামেরও বেশি অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট ব্যবহার করা হয়েছিল দিল্লির ওই বিস্ফোরণে। সঙ্গে ছিল পেট্রোলিয়াম জাতীয় এক ধরনের জ্বালানি। গোয়েন্দাদের কথায় এটা ঠিক সেই ধরনের বিস্ফোরক, যা খনি এলাকায় ব্যবহৃত হয়।আই-২০ গাড়ির ধ্বংসাবশেষে মেলে সরু তার, অ্যামোনিয়াম নাইট্রেটের চিহ্ন এবং জ্বালানির দাগ। এখান থেকেই সন্দেহ প্রবল হয়গাড়িতেই কি বিস্ফোরক বানায় উমর? তদন্তকারীরা বলছেন, ৫ থেকে ১০ মিনিটের মধ্যেই এই ধরনের বিস্ফোরক তৈরি করা যায়। আর সব তথ্য মিলিয়ে তাঁরা এখন প্রায় নিশ্চিতগাড়ির ভেতরেই বিস্ফোরক তৈরি হয়েছিল।তবে প্রশ্ন একটাইবিস্ফোরণ কি লালকেল্লার সামনেই করার পরিকল্পনা ছিল? নাকি আরও জনবহুল জায়গায়? সোমবার লালকেল্লা বন্ধ থাকে, তাই গোয়েন্দাদের মনে আরও সন্দেহ। পরিকল্পনা কি আসলে ছিল অন্য জায়গা টার্গেট করার?জেরায় ধৃতরা আরও স্বীকার করেছে যে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় বিস্ফোরণ ঘটিয়ে দেশ ছাড়ার ছক ছিল মুজাম্মিল-শাহিনদের। তাঁদের লক্ষ্য ছিল কাতার বা তুরস্কে পালিয়ে অন্তত ছয় মাস লুকিয়ে থাকা। সেই উদ্দেশ্যে অনলাইনে নতুন পাসপোর্টের আবেদনও করেছিলেন তাঁরা। তদন্তকারীরা ইতিমধ্যেই সেই পুলিশ অফিসারের সঙ্গে কথা বলছেন, যিনি আল ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের হস্টেলে গিয়ে তাঁদের পাসপোর্ট ভেরিফিকেশন করেছিলেন। সব নথি আদৌ ঠিক ছিল কিনা, সেটাই এখন তদন্তের অন্যতম বড় প্রশ্ন।সূত্র বলছে, ৯-১০ ডিসেম্বরের মধ্যেই শাহিন, মুজাম্মিল ও আদিল দেশ ছাড়ার পরিকল্পনা করেছিল। আর উমর নবি কাশ্মীরে গিয়ে জঙ্গি ডেরায় লুকোতে চেয়েছিল। জেরা করে গোয়েন্দারা আরেকটি ভয়ংকর তথ্যও পেয়েছেন৬ ডিসেম্বর, অর্থাৎ বাবরি মসজিদ ধ্বংসের দিনই তৈরি হয়েছিল এই বড় নাশকতার ছক।মুজাম্মিল ও শাহিনের নথিতে সমস্যা না থাকলেও, আদিলের নথিতে একাধিক গরমিল ধরা পড়েছে। নিজের বাড়ির ঠিকানা না দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ঠিকানা দাখিল করেছিল আদিল, অথচ কোনও প্রমাণপত্র দিতে পারেনি। তদন্তকারীদের সন্দেহ, অধিকাংশ নথিই জাল। যে পুলিশকর্মীরা পাসপোর্ট ভেরিফিকেশনের কাজ করেছিলেন, তাঁদের ভূমিকাও এখন তদন্তের আওতায়। এমনকি শাহিনের পাসপোর্টের ছবি তুলতে গিয়েও মোবাইলে ছবি তোলে সেই অফিসারএটিও নজরে এসেছে তদন্তকারীদের।ক্রমশ এই বিস্ফোরণকাণ্ড এক ভয়ংকর জঙ্গি-চক্রের দিকে আঙুল তুলছে, আর উঠে আসছে দেশজুড়ে ছড়িয়ে থাকা নাশকতার পরত-ওপর-পরত।

নভেম্বর ১৫, ২০২৫
  • ‹
  • 1
  • 2
  • 3
  • 4
  • 5
  • 6
  • 7
  • 8
  • 9
  • 10
  • ...
  • 14
  • 15
  • ›

ট্রেন্ডিং

রাজ্য

“সব তথ্য আমার কাছে আছে!” নানুরে মমতার বিস্ফোরক দাবি, তীব্র আক্রমণ বিজেপিকে

বীরভূমের নানুরে নির্বাচনী জনসভা থেকে তীব্র আক্রমণ শানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভোটার তালিকা সংশোধন ও ভুয়ো ভোটার অন্তর্ভুক্তি নিয়ে নির্বাচন কমিশন এবং বিজেপিকে একযোগে নিশানা করেন তিনি।সভা থেকে মমতা অভিযোগ করেন, ফর্মের মাধ্যমে বাইরের লোকদের ভোটার তালিকায় ঢোকানোর চেষ্টা চলছে। তাঁর দাবি, এই বিষয়ে তাঁর কাছে সব তথ্য রয়েছে এবং কে কতজনকে ঢুকিয়েছে, তা তিনি জানেন। তিনি আরও বলেন, সময় এলেই সব তথ্য প্রকাশ্যে আসবে।ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়ায় সাধারণ মানুষের ভোগান্তির কথাও তুলে ধরেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, নাম তোলার জন্য বহু মানুষকে লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে এবং এতে প্রবীণদেরও কষ্ট হচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, এই প্রক্রিয়ার কারণে বহু মানুষ সমস্যার মুখে পড়েছেন।এদিন ভাষা ও পরিচয় নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, কেউ বাংলা ভাষায় কথা বললেই তাকে অনুপ্রবেশকারী বলা হচ্ছে কেন। সীমান্ত রক্ষার দায়িত্ব কার, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।সভা থেকে রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়েও মন্তব্য করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, আগামী নির্বাচনে বিজেপির অবস্থা খুব খারাপ হবে। যতই বাইরে থেকে নজরদারি বাড়ানো হোক, তার কোনও লাভ হবে না বলেও দাবি করেন তিনি।নানুরের সভার পর এদিনই মুর্শিদাবাদের আরও দুটি জায়গায় জনসভা করার কর্মসূচি রয়েছে তাঁর। ভোটের আগে এই সভাগুলি ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়ছে।

এপ্রিল ০১, ২০২৬
বিদেশ

কোথায় মোজতবা? একমাস পরও দেখা নেই, জল্পনার মাঝেই রুশ দূতের বড় দাবি

ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতাকে ঘিরে রহস্য আরও ঘনীভূত হচ্ছে। মোজতবা খামেনেই দায়িত্ব নেওয়ার প্রায় এক মাস কেটে গেলেও এখনও পর্যন্ত তিনি জনসমক্ষে আসেননি। এর ফলে তাঁর জীবিত থাকা নিয়ে নানা জল্পনা ছড়িয়ে পড়েছে।এই পরিস্থিতিতে এক রুশ কূটনীতিক দাবি করেছেন, মোজতবা খামেনেই সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন এবং ইরানেই রয়েছেন। তিনি জানান, নিরাপত্তার কারণে এবং বিশেষ পরিস্থিতিতে তিনি জনসমক্ষে আসছেন না। যদিও ঠিক কী কারণে তিনি আড়ালে রয়েছেন, তা স্পষ্ট করে বলা হয়নি।মনে করা হচ্ছে, চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে তিনি প্রকাশ্যে আসতে পারেন। তবে তিনি সামনে না এলেও তাঁর বার্তা বিভিন্ন মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে এবং তা দেশের সরকারি সম্প্রচার মাধ্যমেও তুলে ধরা হয়েছে।সম্প্রতি মার্কিন ও ইজরায়েলি হামলায় প্রয়াত হন ইরানের প্রাক্তন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই। এরপর তাঁর পুত্র মোজতবাকে নতুন নেতা হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। তবে সেই ঘটনার পর থেকেই গুজব ছড়াতে শুরু করে যে তিনিও হয়তো হামলায় আহত বা নিহত হয়েছেন।কিছু আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়েছিল, তিনি গুরুতর আহত এবং বিদেশে চিকিৎসাধীন। এমনকী রাশিয়ায় তাঁর চিকিৎসা চলছে বলেও খবর প্রকাশিত হয়েছিল। তবে সেই সব জল্পনাকে উড়িয়ে দিয়ে এবার রুশ প্রতিনিধি জানিয়েছেন, তিনি ইরানেই আছেন এবং সুস্থ রয়েছেন।এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে চলা যুদ্ধ পরিস্থিতিও এখন নতুন মোড় নিচ্ছে। প্রায় এক মাস ধরে চলা সংঘর্ষের পর যুদ্ধ শেষের ইঙ্গিত মিলছে বলে মনে করা হচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই এই সামরিক অভিযান বন্ধ হতে পারে।এই পরিস্থিতিতে মোজতবা খামেনেইকে ঘিরে রহস্য কবে কাটবে, সেদিকেই এখন নজর রয়েছে আন্তর্জাতিক মহলের।

এপ্রিল ০১, ২০২৬
দেশ

হু হু করে বাড়ছে বিমানের জ্বালানির দাম! এবার আকাশপথে ভ্রমণ হবে আরও ব্যয়বহুল

আকাশপথে ভ্রমণ এবার আরও ব্যয়বহুল হতে চলেছে। যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে হঠাৎ করেই বেড়ে গিয়েছে বিমানের জ্বালানির দাম। এর সরাসরি প্রভাব পড়তে চলেছে বিমান সংস্থাগুলির উপর এবং তার ফলে যাত্রীদেরও বেশি টাকা খরচ করতে হবে।দেশের বিভিন্ন শহরে জ্বালানির দামে বড়সড় বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে। রাজধানী দিল্লিতে এই দাম সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। সেখানে প্রতি কিলোলিটারের দাম এক লাফে দুই লক্ষ টাকারও বেশি হয়ে গেছে। গত মাসে যেখানে এই দাম ছিল এক লক্ষ টাকারও কম, সেখানে এক মাসের মধ্যেই এই বিশাল বৃদ্ধি নজরে পড়েছে।শুধু দিল্লি নয়, কলকাতাতেও জ্বালানির দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। মার্চ মাসে যেখানে দাম ছিল প্রায় নিরানব্বই হাজার টাকা, এখন তা বেড়ে দুই লক্ষ টাকার কাছাকাছি পৌঁছেছে। চেন্নাইতেও দাম দুই লক্ষ টাকার বেশি হয়েছে। মুম্বইতে তুলনামূলকভাবে দাম কিছুটা কম হলেও সেখানেও উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি হয়েছে।এই হঠাৎ মূল্যবৃদ্ধির ফলে বিমান সংস্থাগুলির খরচ অনেকটাই বেড়ে যাবে। ফলে খুব স্বাভাবিকভাবেই বিমানের টিকিটের দামও বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। যাঁরা নিয়মিত বিমান যাত্রা করেন, তাঁদের জন্য এটি বড় ধাক্কা হতে পারে।এর আগেও জ্বালানির দাম কিছুটা বেড়েছিল, তবে এই প্রথম এত বড়সড় বৃদ্ধি দেখা গেল। প্রথমবারের মতো বিমানের জ্বালানির দাম দুই লক্ষ টাকার সীমা ছাড়িয়ে গেল।এই পরিস্থিতিতে আগামী দিনে বিমান ভাড়া কতটা বাড়বে, সেদিকেই এখন নজর সকলের।

এপ্রিল ০১, ২০২৬
রাজ্য

সাত এপ্রিলেই সব পরিষ্কার! ভোটার তালিকা নিয়ে বড় আশ্বাস, সন্তুষ্ট শীর্ষ আদালত

ভোটের আগে বড় স্বস্তির খবর এল আদালত থেকে। বিবেচনাধীন থাকা সমস্ত ভোটারের নাম খুব দ্রুত নিষ্পত্তি করা হবে বলে জানিয়েছে কলকাতা হাই কোর্ট। সেই আশ্বাসে সন্তোষ প্রকাশ করেছে সুপ্রিম কোর্টও।বুধবার এই সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতির একটি চিঠি তুলে ধরা হয়। সেই চিঠিতে জানানো হয়েছে, আগামী সাত এপ্রিলের মধ্যেই সব বিবেচনাধীন নামের নিষ্পত্তি সম্পূর্ণ হয়ে যাবে। এই বক্তব্য শুনে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত।এদিন আদালতে জানানো হয়, মোট প্রায় ষাট লক্ষ নামের মধ্যে ইতিমধ্যেই প্রায় সাতচল্লিশ লক্ষ নামের নিষ্পত্তি হয়ে গিয়েছে। প্রতিদিন প্রায় দুই লক্ষ করে নাম যাচাই ও নিষ্পত্তি করা হচ্ছে বলেও জানানো হয়েছে।এর আগে এই বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল, ভোটের আগে এত বিপুল সংখ্যক নামের নিষ্পত্তি আদৌ সম্ভব কি না। বিশেষ করে মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন ঘনিয়ে আসায় উদ্বেগ বাড়ছিল। তবে এদিন আদালতে স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই এই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করা হবে।সুপ্রিম কোর্ট জানায়, হাই কোর্টের এই অগ্রগতিতে তারা সন্তুষ্ট এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সব কাজ শেষ হবে বলে তারা আশা করছে।এছাড়াও আদালত জানিয়েছে, খুব শীঘ্রই ট্রাইবুনালের কাজও শুরু হবে। বৃহস্পতিবার থেকেই ট্রাইবুনাল কার্যকর হবে বলে জানানো হয়েছে। এর আগে বুধবার প্রাক্তন বিচারপতিদের প্রশিক্ষণের কাজ শুরু হবে।এই সিদ্ধান্তের ফলে ভোটার তালিকা নিয়ে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল, তা অনেকটাই কমবে বলে মনে করা হচ্ছে।

এপ্রিল ০১, ২০২৬
কলকাতা

মহুয়ার মন্তব্যে অস্বস্তিতে দল! গুজরাটিদের ক্ষোভ, সামনে এল মমতার ক্ষমা প্রার্থনা

ভোটের আগে নতুন করে বিতর্কে জড়াল শাসক দল। দলের সাংসদ মহুয়া মৈত্রের একটি মন্তব্য ঘিরে অস্বস্তিতে তৃণমূল কংগ্রেস। গুজরাটি সম্প্রদায়কে নিয়ে তাঁর মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই ভবানীপুরে বসবাসকারী গুজরাটি মানুষদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়ায়।এই পরিস্থিতিতে তৃণমূলেরই এক কাউন্সিলর প্রকাশ্যে ওই মন্তব্যের নিন্দা করেন। তিনি জানান, এই ধরনের মন্তব্য দলের অবস্থান নয় এবং সাংসদ নিজের মতেই তা বলেছেন। একইসঙ্গে গুজরাটি সম্প্রদায়ের কাছে ক্ষমা প্রার্থনাও করা হয় তাঁর তরফে।এর পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি বার্তাও সামনে আনা হয়। সেই বার্তায় তিনি গুজরাটি ভাই-বোনেদের কাছে ব্যক্তিগতভাবে ক্ষমা চেয়েছেন। তিনি জানান, এই মন্তব্য দল সমর্থন করে না এবং বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট সাংসদের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। এই ধরনের মন্তব্যের জন্য তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন।কয়েকদিন আগে এক সাংবাদিক বৈঠকে স্বাধীনতা আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে মহুয়া মৈত্র মন্তব্য করেছিলেন, যেখানে তিনি বাঙালিদের অবদানের কথা তুলে ধরতে গিয়ে গুজরাটিদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁর সেই মন্তব্য ঘিরেই শুরু হয় বিতর্ক।ঘটনার পর রাজনৈতিক চাপানউতোর বাড়তে থাকে। ভবানীপুরের একটি বড় অংশ গুজরাটি সম্প্রদায়ের মানুষ নিয়ে গঠিত হওয়ায় বিষয়টি রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। জানা যায়, অতীতের নির্বাচনে এই এলাকায় তৃণমূল খুব একটা ভালো ফল করতে পারেনি।রাজনৈতিক মহলের মতে, ভোটের আগে যখন বিভিন্ন সম্প্রদায়ের সমর্থন পাওয়ার চেষ্টা চলছে, তখন এই ধরনের মন্তব্য উল্টো প্রভাব ফেলতে পারে। বিরোধী দল এই ইস্যুকে হাতিয়ার করতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।এই পরিস্থিতিতে দ্রুত ক্ষোভ প্রশমনের চেষ্টা শুরু করেছে তৃণমূল। দলের তরফে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে, এই মন্তব্য দল সমর্থন করে না এবং গুজরাটি সম্প্রদায়ের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

এপ্রিল ০১, ২০২৬
কলকাতা

ফর্ম নিয়ে তুমুল সংঘর্ষের পরও থামছে না উত্তেজনা! সিইও দপ্তরের সামনে আবার অবস্থান

ফর্ম নিয়ে উত্তপ্ত রাজ্য রাজনীতি। মঙ্গলবারের সংঘর্ষের পর বুধবার সকালেও নির্বাচন দফতরের সামনে চাপা উত্তেজনা বজায় রয়েছে। সকাল থেকেই সেখানে তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের ধর্না ও অবস্থান শুরু হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে এলাকায় বিপুল সংখ্যায় পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।অভিযোগ, এক ব্যক্তি ব্যাগভর্তি ফর্ম নিয়ে নির্বাচন দফতরে ঢুকেছেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৃণমূলের তরফে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। প্রচুর ফর্ম জমা দেওয়ার অভিযোগে বিজেপি কর্মীদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।মঙ্গলবার নির্বাচন দফতরের সামনে দুই রাজনৈতিক দলের কর্মীদের মধ্যে বচসা চরমে ওঠে। পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং ধস্তাধস্তির ঘটনাও ঘটে বলে অভিযোগ। পরে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।এরপর রাতেও দফতরের সামনে তৃণমূল কর্মীদের জমায়েত ও বিক্ষোভ চলতে থাকে বলে জানা গিয়েছে। পুলিশ আধিকারিকরা এসে তাঁদের সঙ্গে কথা বলেন এবং পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন। পরে বিক্ষোভকারীরা কিছুটা সরে যান।এই ঘটনার পর নির্বাচন কমিশনের তরফে কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে। জানানো হয়েছে, এ ধরনের অসামাজিক কাজ কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না এবং অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে সমস্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।তবে পরিস্থিতি এখনও পুরোপুরি স্বাভাবিক নয়। বুধবার সকাল থেকেই আবার দফতরের সামনে জমায়েত শুরু হয়েছে। পুরো এলাকা ঘিরে ফেলা হয়েছে এবং নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।এদিকে রাতের ঘটনাকে ঘিরে নির্বাচন দফতরের শীর্ষ আধিকারিক ও পুলিশ প্রশাসনের মধ্যে বৈঠক হয়েছে বলেও জানা গিয়েছে। পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে।ফর্ম জমা দেওয়া নিয়ে এই বিতর্কে ভোটের আগে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

এপ্রিল ০১, ২০২৬
দেশ

ভোটার তালিকা ঘিরে বিস্ফোরক দাবি! একজনের হাতে হাজার হাজার আবেদন, প্রশ্নের মুখে প্রক্রিয়া

ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে শুনানির মাঝেই নতুন করে বিতর্ক তৈরি হল। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চে এদিন উঠে আসে বিপুল সংখ্যক ফর্ম জমা পড়ার বিষয়টি। রাজ্যের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করে জানান, নির্বাচন কমিশনের দফতরে হঠাৎ করেই গুচ্ছ গুচ্ছ ফর্ম একসঙ্গে জমা পড়ছে।তিনি আদালতে বলেন, চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ হয়ে যাওয়ার পরও বিবেচনাধীন নামগুলির নিষ্পত্তির কাজ চলছে। এই পরিস্থিতিতে এত বড় সংখ্যায় আবেদন জমা পড়া নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। যদিও তিনি কোনও নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলকে দোষারোপ করেননি, তবে কেন এই সময়ে এত আবেদন জমা পড়ছে, তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন।প্রধান বিচারপতি এই মন্তব্যের পর সতর্ক করে বলেন, অনুমানের ভিত্তিতে কোনও মন্তব্য করা উচিত নয়। এরপর নির্বাচন কমিশনের আইনজীবী জানান, নিয়ম অনুযায়ী মনোনয়নের শেষ দিন পর্যন্ত আবেদন জমা দেওয়া যায়। এমনকি যাঁর সেদিনই আঠারো বছর পূর্ণ হচ্ছে, তিনিও আবেদন করার অধিকার রাখেন। তাই এই প্রক্রিয়ায় কাউকে বাধা দেওয়া সম্ভব নয়।শুনানির সময় আইনজীবী কপিল সিব্বল বলেন, এখানে সমস্যা হচ্ছে একসঙ্গে বিপুল সংখ্যক আবেদন জমা পড়া। সেই প্রসঙ্গেই কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, একজন ব্যক্তিই নাকি কয়েক হাজার ফর্ম জমা দিয়েছেন। এই ঘটনায় স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।প্রধান বিচারপতি বলেন, এই ধরনের ঘটনা নতুন নয় এবং অতীতেও এমন নজির রয়েছে। তবে আবেদনকারীদের পরিচয় জানা না যাওয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন আইনজীবীরা। তাঁদের দাবি, বুথভিত্তিকভাবে আবেদনকারীদের তালিকা প্রকাশ করা হলে অভিযোগ জানানো সহজ হবে।আদালত জানিয়ে দেয়, নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে যারা আবেদন করেছেন, তাঁদের নাম বিবেচনা করা হবে। তবে নির্দিষ্ট সময়ের পরে আবেদন করলে নাম তালিকায় উঠলেও সেই নির্বাচনে ভোট দেওয়ার অধিকার নাও থাকতে পারে।এই প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর আইনজীবী জানান, তাঁদের কাছে থাকা তথ্য অনুযায়ী বিপুল সংখ্যক নাম তালিকায় যুক্ত হচ্ছে এবং অনেক নাম বাদও যাচ্ছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।এরই মধ্যে মঙ্গলবার রাজ্যের নির্বাচন দফতরের বাইরে উত্তেজনা ছড়ায়। দুই রাজনৈতিক দলের কর্মীরা ফর্ম জমা দেওয়া নিয়ে একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলে এবং পরিস্থিতি সংঘর্ষে গড়ায়। মারধর, ধস্তাধস্তির অভিযোগ ওঠে দুই পক্ষের বিরুদ্ধেই। এক পক্ষের অভিযোগ, ফর্মের মাধ্যমে বাইরে থেকে লোক এনে ভোটার তালিকায় ঢোকানো হচ্ছে, অন্য পক্ষ সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।এই ঘটনায় ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে এবং ভোটের আগে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এপ্রিল ০১, ২০২৬
দেশ

দেশজুড়ে শুরু জনগণনা, কিন্তু বাদ পশ্চিমবঙ্গ! কেন এই ব্যতিক্রম? বাড়ছে জল্পনা

দেশজুড়ে আজ থেকে শুরু হল বহু প্রতীক্ষিত জনগণনা প্রক্রিয়া। এই জনগণনা হবে দুই ধাপে। এর সঙ্গে সঙ্গে শুরু হচ্ছে বাড়ি ও বাসস্থানের তথ্য সংগ্রহের কাজও। তবে এই প্রক্রিয়া আপাতত শুরু হচ্ছে না পশ্চিমবঙ্গে, যা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।জানা গিয়েছে, জনগণনা নিয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও বিজ্ঞপ্তি জারি করেনি রাজ্য। এই বিষয়টি ইতিমধ্যেই পশ্চিমবঙ্গকে জানানো হয়েছে বলে কেন্দ্রের তরফে জানানো হয়েছে। কেন্দ্রের দাবি, জনগণনা সম্পূর্ণভাবে একটি কেন্দ্রীয় বিষয় এবং নির্ধারিত সময় অনুযায়ীই তা করা হবে।এইবারের জনগণনা সম্পূর্ণ নতুন পদ্ধতিতে করা হচ্ছে। নাগরিকদের নিজেদের তথ্য নিজেরাই নথিভুক্ত করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমে পরিবারের সদস্যদের বিস্তারিত তথ্য, বাড়ি ও সম্পত্তির বিবরণ দিতে হবে। এরপর সরকারি আধিকারিকরা বাড়িতে গিয়ে সেই তথ্য যাচাই করবেন। একবার তথ্য জমা হয়ে গেলে তা আর পরিবর্তন করা যাবে না।আজ থেকে শুরু হওয়া প্রথম ধাপ চলবে সেপ্টেম্বর মাসের শেষ পর্যন্ত। প্রথমে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নাগরিকরা নিজেরাই তথ্য জমা দিতে পারবেন। তারপর সরকারি কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে সেই তথ্য যাচাই করবেন।এই প্রথমবার দেশের জনগণনা সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে করা হচ্ছে। নাগরিকরা নির্দিষ্ট পোর্টালে গিয়ে নিজেদের তথ্য জমা দিতে পারবেন এবং যাচাইয়ের জন্য একটি বিশেষ নম্বর পাবেন। পরে সরকারি কর্মীরা সেই নম্বরের ভিত্তিতে তথ্য মিলিয়ে দেখবেন।উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, ২০১১ সালের পর এই প্রথম জনগণনা হচ্ছে। সাধারণত প্রতি দশ বছর অন্তর এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। তবে করোনা পরিস্থিতির কারণে তা সম্ভব হয়নি। এবারের জনগণনার জন্য বিপুল অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে।এই পরিস্থিতিতে দেশের অধিকাংশ জায়গায় জনগণনা শুরু হলেও পশ্চিমবঙ্গের বাইরে থাকা এই সিদ্ধান্ত নতুন করে প্রশ্ন তুলছে। কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে এই ইস্যুতে টানাপোড়েন আরও বাড়তে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।

এপ্রিল ০১, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal