• ২৫ আষাঢ় ১৪৩৩, রবিবার ১২ জুলাই ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

Bihar

দেশ

ভোরের ঘুম ভাঙল আগুনে! হাসপাতালের আইসিইউতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, মৃত অন্তত ৪

দিল্লির একটি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার বিহারের একটি হাসপাতালে আগুন লেগে মৃত্যু হল অন্তত চার জনের। ভয়াবহ এই ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও বেশ কয়েকজন। তাঁদের মধ্যে অনেকের অবস্থাই আশঙ্কাজনক বলে জানা গিয়েছে।পুলিশ সূত্রে খবর, বৃহস্পতিবার ভোর প্রায় চারটে নাগাদ মুজফ্ফরপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে আচমকা আগুন লাগে। অল্প সময়ের মধ্যেই আগুন এবং ঘন কালো ধোঁয়া পুরো এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। হাসপাতালের ভিতরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে রোগী, চিকিৎসক এবং কর্মীদের মধ্যে।খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ এবং দমকলের একাধিক ইঞ্জিন। শুরু হয় উদ্ধার অভিযান। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, হাসপাতালের ছতলায় থাকা নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র থেকেই আগুনের সূত্রপাত। ধোঁয়ায় ভরে যায় পুরো তলা। দমকলকর্মীরা দ্রুত অভিযান চালিয়ে প্রায় পনেরো থেকে কুড়ি জন রোগীকে নিরাপদে উদ্ধার করেন।তবে সব রোগীকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, অন্তত চার জনের মৃত্যু হয়েছে। আহতদের অনেকেই গুরুতর অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় অন্য হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। তাঁদের কয়েকজনের অবস্থা সংকটজনক হওয়ায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, শর্ট সার্কিট থেকেই এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। তবে সঠিক কারণ জানতে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সব দিক খতিয়ে দেখা হবে।মুজফ্ফরপুর দমকল বিভাগের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, আগুন লাগার পর দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু করা হয়। বহু রোগীকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র থেকে বের করে অন্য হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। তবে ধোঁয়া এবং আগুনের তীব্রতার কারণে কয়েকজনকে আর বাঁচানো যায়নি।এই মর্মান্তিক ঘটনার পর হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। কীভাবে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে আগুন লাগল এবং সেখানে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা কতটা কার্যকর ছিল, তা নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে।

জুন ০৪, ২০২৬
দেশ

রাজধানী এক্সপ্রেসের পর ফের ট্রেনে আগুন! বিহারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে আতঙ্কে যাত্রীরা

মধ্যপ্রদেশে রাজধানী এক্সপ্রেসে আগুন লাগার ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই ফের ট্রেনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা সামনে এল। সোমবার সকালে বিহারের রোহতাস জেলার সাসারাম স্টেশনে দাঁড়িয়ে থাকা একটি প্যাসেঞ্জার ট্রেনে ভয়াবহ আগুন লাগে। ঘটনায় মুহূর্তের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে স্টেশন চত্বরে।রেল পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সাসারাম থেকে পাটনা যাওয়ার প্যাসেঞ্জার ট্রেনটি ৬ নম্বর প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে ছিল। সেই সময় হঠাৎ একটি কামরা থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। কিছুক্ষণের মধ্যেই আগুন ভয়াবহ আকার নেয়। দাউদাউ করে জ্বলতে শুরু করে ট্রেনের বগি। আতঙ্কে যাত্রীরা দ্রুত ট্রেন থেকে নেমে আসেন। ফলে বড় দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় আরপিএফ এবং রেলের কর্মীরা। দীর্ঘ চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। রেল সূত্রে খবর, আগুনে একটি কামরা পুরোপুরি পুড়ে গিয়েছে। আরও একটি বগি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত কোনও হতাহতের খবর মেলেনি।প্রাথমিক তদন্তে রেলের অনুমান, শর্ট সার্কিট থেকেই এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। তবে ঠিক কী কারণে আগুন লাগল, তা জানতে বিস্তারিত তদন্ত শুরু করেছে রেল কর্তৃপক্ষ। তাঁদের মতে, সময়মতো যাত্রীদের নামিয়ে না আনতে পারলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারত।উল্লেখ্য, রবিবার ভোরেই মধ্যপ্রদেশে তিরুবনন্তপুরম-নয়াদিল্লি রাজধানী এক্সপ্রেসের একটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কামরায় ভয়াবহ আগুন লাগে। লুনি রিছা এবং বিক্রমগড় আলোট স্টেশনের মাঝামাঝি এলাকায় চলন্ত ট্রেনে আগুন লাগতেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে যাত্রীদের মধ্যে। কয়েকজন যাত্রী চলন্ত ট্রেন থেকে লাফ দেওয়ারও চেষ্টা করেন। পরে জরুরি ভিত্তিতে ট্রেন থামিয়ে উদ্ধারকাজ শুরু করা হয়।একদিনের ব্যবধানে ফের ট্রেনে আগুন লাগার ঘটনায় রেলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। যাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে দেশজুড়ে।

মে ১৮, ২০২৬
কলকাতা

ভোটের আগে কলকাতায় অস্ত্রভাণ্ডার ফাঁস! চিৎপুরে পুলিশের বড় অভিযান

ভোটের আগে কলকাতায় ফের অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। চিৎপুর থানা এলাকার বিটি রোড সংলগ্ন এলাকা থেকে শামিম আলম নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে কলকাতা পুলিশের বিশেষ টাস্ক ফোর্স। ধৃত ব্যক্তি বিহারের বাসিন্দা বলে জানা গিয়েছে।সোমবার বিকেলে গোপন সূত্রে খবর পেয়ে ওই এলাকায় অভিযান চালায় পুলিশ। সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে আটক করে তল্লাশি চালাতেই বেরিয়ে আসে একাধিক আগ্নেয়াস্ত্র ও বিপুল কার্তুজ। উদ্ধার হয়েছে তিনটি এক নল বন্দুক, একটি পিস্তল, কয়েকটি খালি ম্যাগাজিন এবং বহু রাউন্ড গুলি।পুলিশ জানিয়েছে, ধৃত ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলেও তিনি সন্তোষজনক কোনও উত্তর দিতে পারেননি। উদ্ধার হওয়া সব অস্ত্র ও গুলি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এই অস্ত্র কোথা থেকে আনা হয়েছে এবং এর পিছনে কোনও বড় চক্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।ভোটের আবহে কেন এই অস্ত্র আনা হচ্ছিল, তা নিয়েও তদন্ত চলছে। ধৃতের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং তাকে আদালতে তোলা হবে।এদিকে নির্বাচনকে ঘিরে অশান্তি রুখতে কঠোর নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। কোথাও কোনও বেআইনি কাজ চলছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে পুলিশ লাগাতার অভিযান চালাচ্ছে। ভোটের আগে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসন সর্বতোভাবে তৎপর রয়েছে।

এপ্রিল ২৮, ২০২৬
দেশ

বিহারে বড় পালাবদল! নীতীশ সরতেই মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট, চমকে দিল রাজনীতি

বিহারের রাজনীতিতে বড় পরিবর্তন ঘটল। দীর্ঘদিন মুখ্যমন্ত্রী থাকার পর পদ ছাড়লেন নীতীশ কুমার। তাঁর জায়গায় নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ নিলেন বিজেপি নেতা সম্রাট চৌধুরী। পটনার লোক ভবনে আজ সকালে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান হয়। বিহারের চব্বিশতম মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব নিলেন তিনি।নীতীশ কুমার দীর্ঘ প্রায় কুড়ি বছর ধরে বিহারের রাজনীতিতে মুখ্যমন্ত্রীর মুখ হয়ে ছিলেন। বিভিন্ন সময়ে জোট সরকার বদলালেও তিনিই ক্ষমতায় ছিলেন। রাজ্যের সবচেয়ে দীর্ঘ সময় মুখ্যমন্ত্রী থাকার রেকর্ডও তাঁরই দখলে। তবে এবার তাঁকে সেই পদ ছাড়তে হল। তাঁকে রাজ্যসভার প্রার্থী করা হয়েছে, আর তার পরেই মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ান তিনি। নিজের শেষ দিনে নতুন সরকারকে সহযোগিতা করার আশ্বাসও দিয়েছেন নীতীশ।সম্রাট চৌধুরীর শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা, চিরাগ পাসওয়ান এবং জিতন রাম মাঝি সহ একাধিক নেতা।উপমুখ্যমন্ত্রী পদে থাকার পর এবার মুখ্যমন্ত্রী হলেন সম্রাট চৌধুরী। নতুন মন্ত্রিসভায় উপমুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ নিয়েছেন জেডি ইউ নেতা বিজয় কুমার চৌধুরী এবং বীজেন্দ্র প্রসাদ যাদব।সম্রাট চৌধুরীর মুখ্যমন্ত্রী হওয়া রাজনৈতিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। তিনিই বিহারের প্রথম বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী। এনডিএ জোটের নেতারা সর্বসম্মতভাবে তাঁকে এই পদে নির্বাচিত করেছেন। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারও তাঁর নাম প্রস্তাব করেছিলেন। সম্রাট চৌধুরী আগে আরজেডি এবং পরে জেডি ইউ-র সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। প্রায় বারো বছর ওই দলগুলিতে থাকার পর তিনি দুই হাজার সতেরো সালে বিজেপিতে যোগ দেন। দুই হাজার চব্বিশ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর তাঁকে উপমুখ্যমন্ত্রী করা হয়।

এপ্রিল ১৫, ২০২৬
দেশ

মুখ্যমন্ত্রীর পদ ছাড়ছেন নীতীশ! রাজ্যসভায় যাচ্ছেন জেডিইউ সুপ্রিমো, বিহারে আসছে বড় বদল

বিহারের রাজনীতিতে বড় চমক। মুখ্যমন্ত্রীর পদ ছেড়ে রাজ্যসভায় যাওয়ার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করলেন নীতীশ কুমার। যাবতীয় জল্পনার অবসান ঘটিয়ে তিনি সামাজিক মাধ্যমে জানান, সংসদের দুই কক্ষের সদস্য হওয়া তাঁর দীর্ঘদিনের ইচ্ছা। সেই ইচ্ছা পূরণ করতেই এবার রাজ্যসভা নির্বাচনে লড়তে চান।সম্প্রতি নির্বাচিত হওয়ার মাত্র তিন মাসের মধ্যেই এই সিদ্ধান্তে বিহারের রাজনীতিতে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। বৃহস্পতিবার রাজ্যসভার মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন। তার আগেই নীতীশের এই ঘোষণা তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।নিজের বার্তায় তিনি লেখেন, প্রায় দুই দশকের বেশি সময় ধরে বিহারের মানুষ তাঁর উপর আস্থা রেখেছেন। সেই আস্থাকে ভিত্তি করেই তিনি কাজ করেছেন। তবে রাজনৈতিক জীবনের শুরু থেকেই বিধানসভা ও সংসদের দুই কক্ষের সদস্য হওয়ার ইচ্ছা ছিল। এবার সেই স্বপ্ন পূরণ করতে চান তিনি।জেডিইউ সূত্রে খবর, তিনি বৃহস্পতিবার মনোনয়ন জমা দেবেন। আগামী ষোলো মার্চ রাজ্যসভা নির্বাচন হওয়ার কথা। তবে বিহারে শাসক জোটের শক্তি বিবেচনায় তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হতে পারেন বলেই মনে করা হচ্ছে।নীতীশের ঘোষণার পর পাটনায় দলীয় কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ দেখান তাঁর সমর্থকদের একাংশ। ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে। তবু নিজের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেননি তিনি।এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, তাঁর পর বিহারের মুখ্যমন্ত্রী কে হবেন? জেডিইউ-র অন্য কোনও নেতা, নাকি বিজেপির কেউ? বিহারের মুখ্যমন্ত্রীর আসনে বিজেপির দীর্ঘদিনের নজর রয়েছে। স্বাধীনতার পর থেকে এখনও পর্যন্ত বিজেপির কোনও নেতা পাটনায় মুখ্যমন্ত্রী হননি। এবার সেই সুযোগ আসতে পারে বলেই জল্পনা।একই সঙ্গে শোনা যাচ্ছে, নীতীশের ছেলে নিশান্ত কুমার উপমুখ্যমন্ত্রী হতে পারেন। ছেলের রাজনৈতিক উত্থানের পথ তৈরি করতেই কি এই সিদ্ধান্ত? রাজনৈতিক মহলে এই প্রশ্নও ঘুরছে।সব মিলিয়ে বিহারের রাজনীতিতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলেছে। এখন নজর নতুন মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণার দিকে।

মার্চ ০৫, ২০২৬
দেশ

৭০% শিশুর স্বাস্থ্যঝুঁকি! মাতৃদুগ্ধে ইউরেনিয়াম দেখে স্তম্ভিত গবেষকেরা

মাতৃদুগ্ধকে বলা হয় পৃথিবীর সবচেয়ে পুষ্টিকর খাদ্য। জন্মের পর শিশুর প্রথম সুরক্ষা, প্রথম প্রতিরোধশক্তির ভিত্তি এই দুধই। সেই দুধেই যদি বিষধাতুর উপস্থিতি পাওয়া যায়, তাহলে ভয়াবহতার মাত্রা কতটা হতে পারে, সহজেই অনুমেয়। এমনই এক চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে সাম্প্রতিক এক যৌথ গবেষণায়। পটনার মহাবীর ক্যানসার সংস্থা এবং দিল্লির এইমসের করা সমীক্ষায় দেখা গেছে, বিহারের ছয়টি জেলায় প্রসূতি মহিলাদের মাতৃদুগ্ধে পাওয়া গেছে ইউরেনিয়াম-২৩৮-এর উপস্থিতিযা সরাসরি নবজাতকের শরীরে প্রবেশ করছে।ভোজপুর, সমস্তীপুর, বেগুসরাই, খাগারিয়া, কাটিয়ার এবং নালন্দার ৪০ জন প্রসূতির স্তন্যদুগ্ধ পরীক্ষা করে গবেষকরা চোখ কপালে তোলার মতো তথ্য পেয়েছেন। সবচেয়ে উদ্বেগজনক অবস্থা কাটিয়ার জেলায়, যেখানে প্রসূতি মহিলাদের দুধে ইউরেনিয়ামের মাত্রা ছিল সবচেয়ে বেশি। যে মায়েরা তাঁদের সন্তানকে স্তন্যপান করাচ্ছেন বা করিয়েছেন, তাঁদের শিশুদের মধ্যে প্রায় ৭০ শতাংশের ক্ষেত্রে নন-কারসিনোজেনিক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।বিশেষজ্ঞদের অনুমান, এই সব জেলার ভূগর্ভস্থ জলে স্বাভাবিকের থেকে অনেক বেশি ইউরেনিয়াম রয়েছে। সেই জলই পানীয় জল হিসেবে ব্যবহৃত হয়, আবার ক্ষেতের চাষেও যায়। আগের একটি গবেষণায় ভূগর্ভস্থ জলে ইউরেনিয়ামের উপস্থিতি ধরা পড়েছিল। এবার প্রমাণ মিললমাটি ও জল পেরিয়ে সেই ইউরেনিয়াম মানবদেহেও প্রবেশ করেছে, এবং সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে পড়েছে নবজাতকরা। কারণ তাঁদের শরীর এখনও পুরোপুরি গড়ে ওঠে না, ওজন কম থাকে, আর প্রতিটি অঙ্গই থাকে দ্রুত বিকাশের পর্যায়ে।স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে জানাচ্ছেন, ইউরেনিয়াম শরীরে ঢুকলে কিডনি মারাত্মক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। নিউরোলজিক্যাল সমস্যা, বুদ্ধিবিকাশে ধীরগতি, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়াএমনকি দীর্ঘমেয়াদে ক্যানসারের সম্ভাবনাও তৈরি হতে পারে। তবে এ সব সত্ত্বেও চিকিৎসকরা বলছেন, প্রসূতি মায়েদের স্তন্যপান করানো বন্ধ করা উচিত নয়। কারণ মাতৃদুগ্ধের উপকারিতা এখনও বহুগুণ বেশি, যা কোনও বিকল্প খাবার পূরণ করতে পারে না। মূল সমস্যার উৎস হল ভূগর্ভস্থ জলদূষণ, যা নিয়ন্ত্রণ করাই এখন সবচেয়ে জরুরি।বিহারের এই উদ্বেগজনক পরিস্থিতি সামনে আসতেই দেশজুড়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছেএই জেলাগুলোর বাসিন্দারা ঠিক কতটা নিরাপদ? শিশুদের ভবিষ্যৎ কি অদৃশ্য বিপদের দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে? বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিস্থিতি অবিলম্বে নিয়ন্ত্রণে না আনা গেলে আগামী দিনে আরও বড় স্বাস্থ্য সংকট দেখা দিতে পারে।

নভেম্বর ২৪, ২০২৫
দেশ

২৫ বছরে ১০ বার মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ! রাজনৈতিক ভূমিকম্পের মাঝে তেজস্বীর ‘শান্ত’ বার্তা

বিহারে বিধানসভা নির্বাচনে বড় ধাক্কা খেল কংগ্রেসআরজেডি জোট। ভরাডুবির পর ফের ক্ষমতায় ফিরে এল এনডিএ। এর মধ্যেই দশমবারের মতো মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন নীতীশ কুমার। ভোট-পরবর্তী ফলের পর এতদিন চুপ ছিলেন তেজস্বী যাদব। শেষ পর্যন্ত নীরবতা ভেঙে তিনি সমাজমাধ্যমে একটি দীর্ঘ বার্তা দিয়ে নীতীশকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।তেজস্বী তাঁর বার্তায় লিখেছেন, বিহারের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার জন্য নীতীশ কুমারকে আন্তরিক শুভেচ্ছা। নতুন সরকারের সকল মন্ত্রীকেও তিনি অভিনন্দন জানান। একই সঙ্গে তাঁর আশা, নতুন সরকার সাধারণ মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণে সক্ষম হবে, নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো রক্ষা করবে এবং রাজ্যে ইতিবাচক বদল আনবে।পাটনার গান্ধী ময়দানে নীতীশের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান ছিল প্রায় শক্তি-প্রদর্শনের মতো। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, বিজেপি সভাপতি জেপি নাড্ডা-সহ এনডিএ পরিচালিত বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ও উপমুখ্যমন্ত্রীরা হাজির ছিলেন। নীতীশ কুমারকে শপথবাক্য পাঠ করান রাজ্যপাল আরিফ মহম্মদ খান।নীতীশের বিদায়ী সরকারের দুই উপমুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী ও বিজয় সিনহা ফের ডেপুটি সিএম পদে শপথ নিয়েছেন। সম্রাট চৌধুরী বিহার বিজেপির সংসদীয় দলনেতা এবং বিজয় সিনহা হয়েছেন উপদলনেতা। মোট ১৯ জন মন্ত্রী শপথ নিলেও মন্ত্রিসভার গঠনেই স্পষ্ট হচ্ছে যে এনডিএ জোটে বিগ ব্রাদার এখন বিজেপিই। ১৯ জন মন্ত্রীর মধ্যে ১০ জনই বিজেপি থেকে। এলজেপি(আর), হাম এবং আরএলএম পেয়েছে একটি করে মন্ত্রক। নীতীশের জেডিইউ থেকে শপথ নিয়েছেন মাত্র ছয়জন।নতুন রাজনৈতিক সমীকরণে বিহারের ভবিষ্যতের দিকে এখন তাকিয়ে দেশজুড়ে রাজনৈতিক মহল।

নভেম্বর ২০, ২০২৫
দেশ

বিহারের মসনদে ফের নীতীশ কুমার, আজ দশমবার মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ

বিহারে রাজনৈতিক ইতিহাসে এক উল্লেখযোগ্য মাইলফলক। নীতীশ কুমার আজ দশমবার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে চলেছেন। গান্ধী ময়দানে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে পুরোদস্তুর প্রস্তুতি সম্পন্ন। নতুন NDA সরকারের গঠন শুধু সময়ের অপেক্ষা।প্রেক্ষাপট ও রাজনৈতিক প্রভাবএবার বিধানসভা নির্বাচনে NDA একক ভাবে শক্তিশালী জয় পেয়েছে। ২৪৩ আসনের বিধানসভায় তাদের ২০২টি আসন লাভ করেছে। এনডিএ ঝড়ে উড়ে গিয়েছে তেজস্বী যাবদ, পিকের নয়া দলও। নীতীশ কুমারকে জোটের বিধায়করা নেতা হিসাবে নির্বাচিত করেছে। তাই ফের মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নিতে যাচ্ছেন তিনি।প্রশাসনিক এবং আনুষ্ঠানিক গঠনইতিমধ্যে নীতীশ কুমার পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন গভর্নর আরিফ মোহাম্মদ খানকে। আজ আবার প্রশাসনিক প্রধান হিসাবে বিহার সরকারের দায়িত্ব নিতে চলেছেন। নীতীশের নতুন মন্ত্রীসভায় প্রায় ৩৫ জন মন্ত্রী থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। আজ সকাল ১১:৩০মিনিট নাগাদ শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান হবে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকতে পারেন কেন্দ্রীয় শীর্ষ নেতারা। থাকতে পারেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, অমিত শাহ ও অন্যান্য NDA নেতা। কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকছে।

নভেম্বর ২০, ২০২৫
দেশ

লালু পরিবারের গৃহযুদ্ধ? রোহিনির অভিযোগে সঞ্জয়-রমিজের ভূমিকা নিয়ে জোর জল্পনা

রোহিনি আচার্যর বিস্ফোরক মন্তব্যে ফের তোলপাড় আরজেডি। লালু প্রসাদ যাদবের মেয়ে প্রকাশ্যেই অভিযোগ তুলেছেন, দলের মধ্যে চক্রান্ত চলছে, আর সেই চক্রান্তের কেন্দ্রে রয়েছেন আরজেডি রাজ্যসভার সাংসদ সঞ্জয় যাদব এবং তেজস্বী যাদবের ঘনিষ্ঠ সহকারী রমিজ নেমত। রোহিনির কথায়, সঞ্জয় আর রমিজের নাম নিলেই বাড়ি থেকে বের করে দেবে, লোক লাগিয়ে অপমান করাবে, এমনকি চটির বাড়িও মারবে। তাঁর এই মন্তব্য সামনে আসতেই নড়েচড়ে বসেছে বিহারের রাজনীতি।২০২৫ সালের বিধানসভা নির্বাচনে আরজেডির খারাপ ফলের পর থেকেই দলে ভাঙনের সুর শোনা যাচ্ছিল। কিন্তু রোহিনির হঠাৎ এমন প্রকাশ্য বিস্ফোরণ সেই ভাঙনকে আরও প্রকাশ্যে এনে দিয়েছে। দলের অন্দরে বহুদিন ধরেই কানাঘুষো ছিল যে সঞ্জয় যাদব এবং রমিজ নেমত তেজস্বীর ওপর অত্যধিক প্রভাব খাটান। এবার রোহিনিই সেই গুঞ্জনকে প্রকাশ্যে এনে দিলেন।কে এই সঞ্জয় যাদব?২০১৫ সাল থেকেই লালুর ঘনিষ্ঠ বৃত্তে তাঁর উত্থান শুরু। শেষ দফার প্রচারে মোহন ভাগবতের সংরক্ষণনীতি পুনর্বিবেচনার মন্তব্যসেই বড় রাজনৈতিক মুডা প্রথম সঞ্জয়ই লালুকে দেখান। পরে মহাগঠবন্ধনের বিপুল জয়ে সেই মুহূর্তকে বড় কারণ হিসেবে দেখা হয়। সঞ্জয় যাদবের শিক্ষাগত যোগ্যতা কম্পিউটার সায়েন্স ও বিজনেস ম্যানেজমেন্টে, পরিবারও রাজনৈতিক। তেজস্বী ও অখিলেশ যাদবদুজনের সঙ্গেই গভীর ব্যক্তিগত সম্পর্ক রয়েছে তাঁর। তেজস্বীর ক্রিকেটপ্রীতি থেকেই তাদের বন্ধুত্ব আরও গভীর হয়েছে।সঞ্জয়কেই ধরা হয় আরজেডির নতুন ব্র্যান্ডিংয়ের কারিগরযুব বিহারি স্লোগান, পোস্টার-ব্যানারে লালুকে ছাপিয়ে তেজস্বীকে কেন্দ্রে তুলে ধরাসবটাই তাঁর মস্তিষ্কপ্রসূত।কিন্তু এর সঙ্গেই বাড়ে ক্ষোভ। লালুর পুরনো সৈনিকরা বারবার অভিযোগ করেছেন, তাঁরা আর তেজস্বীর কাছে পৌঁছতেই পারেন না। তেজ প্রতাপ যাদবও বহুবার জয়চাঁদ শব্দটি ব্যবহার করেছেন, যেটি দলের ভিতরে সঞ্জয় যাদবের দিকেই ইঙ্গিত বলে ধরা হত।কেউ প্রকাশ্যে বলেননিতবে রোহিনিই প্রথম মুখ খুললেন।মঙ্গলবার সাংবাদিকদের সামনে রোহিনির ক্ষোভ উগরে পড়েছেআমার পরিবার নেই। সঞ্জয়, রমিজ আর তেজস্বীর কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করুন। ওরাই আমাকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে। কেউ দায় নিতে চায় না। কেউ চাণক্য সাজার চেষ্টা করলে সেই চাণক্যকেই প্রশ্ন করা হবে।এ ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া। বিজেপি নেতা নিশিকান্ত দুবে এক্স-এ লিখেছেনलालू प्रसाद जी का तिलिस्म उनके जीवन काल में ही ख़त्म हो गया। बेटा बहन को चप्पल से पीट रहा है? यह सामाजिक परिवर्तन है या परिवार का चारित्रिक पतन?বাংলায় বলতে গেলেলালু পরিবারের আভা শেষ, ভাই-বোনের মধ্যে নাকি চটির মার পর্যন্ত গড়িয়েছেএটাই কি সামাজিক পরিবর্তন, নাকি চরিত্রের পতন?রোহিনির অভিযোগে এখন আরজেডির অন্দরে বড়সড় ভূমিকম্প। দলের নেতাদের একাংশ মনে করছেন, এই প্রকাশ্য আক্রমণ শুধু পারিবারিক সংকট নয়, বরং আরজেডির ভবিষ্যত নেতৃত্বের লড়াইয়েরও স্পষ্ট ইঙ্গিত।

নভেম্বর ১৬, ২০২৫
দেশ

চেয়ারের লড়াই শুরু! চিরাগের উপমুখ্যমন্ত্রিত্বের দাবি নিয়ে BJP-তে চাপ

বিহার ভোটের ফল বেরোনোর পরই যেন বদলে গেল পুরো রাজনৈতিক সমীকরণ। প্রচার পর্বের শেষদিনেই চিরাগ পাসওয়ান স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছিলেন, তিনি চান উপমুখ্যমন্ত্রীর চেয়ার। অনেকেই ভেবেছিলেন, এটা হয়তো নির্বাচনী বক্তব্যের আবেগ। কিন্তু ফল বেরোতেই দেখা গেল, ছোট দল নিয়েও তিনি বড় কাজ করে ফেলেছেন। এলজেপি মাত্র ২৯টি আসনে লড়েই দখল করেছে ১৯টিযা বিহারের ক্ষমতার অঙ্কে বড় ভূমিকা রাখার মতো সাফল্য।এত বড় ফলের পর চিরাগ যে নিজের দাবি আরও জোরে তুলবেন, তা আগেভাগেই অনুমান ছিল। সেই দাবির পথেই যেন হাঁটা শুরু করে দিলেন তিনি। শনিবার বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন চিরাগ। রাজনৈতিক মহলে এটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ যে নীতীশের বিরুদ্ধে ২০২০ সালে তিনি সরাসরি বিদ্রোহ ঘোষণা করে এনডিএ ছেড়ে দিয়েছিলেন, সেই নীতীশের সঙ্গেই এখন উষ্ণ সম্পর্ক গড়ে উঠছে।২০২০ সালের ভোটে এলজেপি ১৩০ আসনে লড়েও মাত্র ১টিতে জয় পেয়েছিল। কিন্তু সেই ভোট কাটাকাটিতে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয় জেডিইউ। সেই সময় থেকেই নীতীশচিরাগ সম্পর্কের তিক্ততা চরমে ওঠে। কিন্তু ২০২৫এর আগে বিজেপি ফের চিরাগকে এনডিএতে ফিরিয়ে আনে এবং নীতীশের সঙ্গেও দূরত্ব কমায়। এবার সেই ঘনিষ্ঠতা বিজেপির জন্য নতুন মাথাব্যথা তৈরি করে দিতে পারে।সাক্ষাতের পর সোশ্যাল মিডিয়ায় হাসিমুখে ছবি পোস্ট করেছেন চিরাগ। সঙ্গে লিখেছেন, আমি মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে তাঁকে শুভেচ্ছা জানিয়েছি। এলজেপির প্রার্থীদের প্রতি তাঁর সমর্থন প্রশংসনীয়। রাজনৈতিক মহল বলছে, চিরাগের প্রশংসার লক্ষ্য BJPর দিকে স্পষ্ট বার্তানীতীশকেই তিনি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে চান। আর তার সঙ্গে তাঁর নিজের দাবিও জোরদার হবেউপমুখ্যমন্ত্রীর পদ চাই তাঁর দলে।বিহারের বিদায়ী মন্ত্রিসভায় দুই ডেপুটি সিএমই বিজেপির। কিন্তু যদি চিরাগ সরাসরি উপমুখ্যমন্ত্রিত্ব দাবি করেন, তবে BJPর পক্ষে সেই দুই চেয়ার ধরে রাখা কঠিন হবে। আবার চিরাগকে রাগানোও ঝুঁকির। কারণ ভবিষ্যতে যদি BJP আর JDUর মধ্যে কোনও টানাপোড়েন দেখা দেয়, তখন ক্ষমতার ভারসাম্য বজায় রাখতে চিরাগই হয়ে উঠতে পারেন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুখ।বিহার রাজনীতির অঙ্ক তাই আবারও বদলের ইঙ্গিত দিচ্ছেআর তার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন রামবিলাস পাসওয়ানের উত্তরাধিকারী, যুবা বিহারী চিরাগ পাসওয়ান।

নভেম্বর ১৬, ২০২৫
দেশ

নকশাল-অধ্যুষিত অঞ্চলে রেকর্ড ভোট—কী বললেন প্রধানমন্ত্রী মোদী?

বিহার নির্বাচন নিয়ে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিরোধীদের অভিযোগ যখন তুঙ্গে, তখন বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সরব হয়ে সোজাসুজি ভরসা দিলেন কমিশনকে। বিশেষত ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় পুনর্বিবেচনা (SIR) নিয়ে যে আপত্তি উঠেছিল, সেই ইস্যুতে তিনি বললেনভোটাররা, বিশেষ করে যুবসমাজ, ভোটার তালিকা বিশুদ্ধকরণকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখে। তাঁর কথায়, পরিষ্কার ভোটার তালিকা গণতন্ত্রের মূল ভিত, তাই সব রাজনৈতিক দলকেই বুথ স্তরে ভোটার তালিকা যাচাইয়ে সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়া উচিত।বিহার বিধানসভা নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও প্রশংসা করলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, কমিশন অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে নির্বাচন পরিচালনা করেছে এবং বিরোধীদের তোলা অভিযোগের কোনও ভিত্তিই নেই। তিনি দাবি করেন, যে সব অভিযোগ ছড়ানো হচ্ছে, তা মানুষের বিশ্বাস নষ্ট করার চেষ্টা। মোদীর মতে, যুবসমাজ এখন অনেক বেশি সচেতনতালিকা থেকে নকল নাম বাদ দেওয়া এবং নতুন ভোটার যুক্ত করাকে তারা গুরুত্বের চোখে দেখে, তাই এই পরিশোধন প্রক্রিয়া অনিবার্য।বক্তৃতায় আরজেডিকে সরাসরি নিশানা করেন মোদী। তিনি বলেন, জঙ্গল রাজ এবং কট্টা সরকার-এর কথা আগে কেউ চ্যালেঞ্জ করত না, কিন্তু এখন সময় বদলে গিয়েছে। তাঁর স্পষ্ট ঘোষণাকট্টা সরকার কখনও ফেরার নয়। এই বক্তব্যে মোদী জানিয়ে দেন যে পুরনো অভিশাপের দিন শেষ, এবং মানুষ এখন উন্নয়ন, আইনশৃঙ্খলা ও স্বচ্ছ রাজনীতি চায়।বিহারের রায়কে গণতন্ত্রের বড় জয় বলে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, যেসব এলাকা আগে নকশাল-প্রভাবিত ছিল বা উপেক্ষিত ছিল, সেখানকার ভোটারদের রেকর্ড উপস্থিতি গণতন্ত্রের শক্তিকে আরও দৃঢ় করেছে। এই অংশগ্রহণ প্রমাণ করে মানুষ এখন ভোটব্যবস্থাকে বিশ্বাস করে, এবং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় নিজের মত প্রকাশ করতে আগ্রহী।মোদীর মতে, এই ফলাফল শুধু কোনও এক দলের জয় নয়, বরং মানুষের আস্থার জয়, এবং পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দিলবিহার উন্নয়ন ও পরিবর্তনের পক্ষে দাঁড়িয়েছে।

নভেম্বর ১৪, ২০২৫
কলকাতা

SIR-এ ঝড়! বিহারের ভোটে হাওয়া বদলে দিল তিন অক্ষরের শব্দ—বাংলায় কি নিশ্চিত ভূমিকম্প?

বিহারের ভোটে সবচেয়ে বেশি যেটা নিয়ে আলোচনা হয়েছে, তা হল SIRস্পেশাল ইন্টেনসিভ রিভিশন। তিন অক্ষরের এই শব্দই সাম্প্রতিক রাজনীতিতে ঝড় তুলেছিল। বিরোধীরা অভিযোগ তুলেছিল, সরকার নাকি ভোটার তালিকা কাটাছাঁট করে বিরোধী ভোট সাফ করার চেষ্টা করছে। ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে দেশের রাজনীতিতে এত বিতর্ক প্রায় কখনও হয়নি। আজ যখন বিহারের রায় স্পষ্টনীতীশ কুমার ও NDA-র জয়জয়কারস্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, এই SIR ইস্যু ভোটে কতটা প্রভাব ফেলল?এই প্রশ্ন গুরুত্ব পাচ্ছে আরও একটি কারণে২০২৬ সালে বাংলার ভোট। বাংলাতেও চলছে SIR প্রক্রিয়া। ফলে বিহারের ফলাফলের পর SIR ঘিরে নতুন করে আলোচনা জোরদার হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এখানে Popular Sovereignty, অর্থাৎ শেষ কথা বলছেন জনতাই। বিরোধীরা যতই ন্যারেটিভ তৈরি করুক, জনতার মন যে কোন দিকে ঘুরে গিয়েছে, সেটা ঠিকমতো বুঝতে পারেনি তারা। SIR ইস্যুকেই তারা রাজনৈতিক Bandwagon Effect হিসেবে ব্যবহার করতে চেয়েছিল, কিন্তু শেষমেষ হাওয়া যেন উলটেই গেল।বিগত ২৪ জুন নির্বাচন কমিশন SIR-এর নোটিফিকেশন জারি করে। মৃত, ভুয়ো এবং অনুপস্থিত ভোটার বাদ দেওয়াই ছিল লক্ষ্য। ২৫ জুন থেকে শুরু হয় ফর্ম ফিলআপ। ১ অগাস্ট বেরোয় খসড়া তালিকা। এরপর দাবি-আপত্তির শুনানি। ৩০ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত হয় চূড়ান্ত ভোটার লিস্ট। কিন্তু এই প্রক্রিয়া ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই বিরোধীরা তেড়ে আসে। আরজেডি, কংগ্রেস, বামসবাই নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সরব হয়। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে বিরোধীরা সরাসরি বিজেপির দালাল বলে কটাক্ষ করে।সবচেয়ে জোরালো ছিলেন তেজস্বী যাদব। তাঁর দাবি, SIR করে বিরোধীদের ভোট কেটে দেওয়ার ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। এমনকি তিনি অভিযোগ করেনখসড়া ভোটার তালিকায় নাকি তাঁর নিজের নামই নেই। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী এই সুরে সুর মিলিয়ে বলেনSIR হচ্ছে প্রাতিষ্ঠানিক ভোটচুরি এবং নির্বাচন কমিশন নাকি বিজেপির হয়ে কাজ করছে।কিন্তু এই সব অভিযোগকে পাত্তা দেয়নি বিজেপি বা নীতীশ কুমারের দল। তাদের বক্তব্য, SIR চলছে বহু বছর ধরে, ভুয়ো ভোটার বাদ দেওয়ার এটাই সঠিক উপায়। বিজেপির প্রেম শুক্লা কটাক্ষ করে বলেন, SIR নিয়ে কংগ্রেস যত কথা বলেছে, তার ফলেই তারা এখন ১টা সিটে এসে দাঁড়িয়েছে।শেষ পর্যন্ত দেখাই গেলবিহারের ভোটাররা বিরোধীদের অভিযোগ মানল না। তারা SIR নিয়ে শঙ্কা উড়িয়ে NDA-র সঙ্গেই দাঁড়াল। NDA ২০০টিরও বেশি আসনে এগিয়ে গেল। SIR ইস্যু নিয়ে যে রাজনীতি হয়েছিল, তার প্রভাব ভোটে খুব একটা টের পাওয়া গেল না।বাংলাতেও এখন SIR নিয়ে তীব্র রাজনৈতিক তর্ক। BLO-রা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ফর্ম দিচ্ছেন, ভোটার যাচাই করছেন। কিন্তু তৃণমূলের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠছেএই প্রক্রিয়ায় নাকি অসংখ্য সাধারণ মানুষের নাম বাদ যাবে। বিশেষ করে বাংলাদেশ থেকে আসা শরণার্থী, মতুয়া, রাজবংশীএই ভোটব্যাঙ্ককে লক্ষ্য করে বিজেপি নাকি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে নাম কেটে দেবে।মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি আক্রমণ করেন নির্বাচন কমিশন ও জ্ঞানেশ কুমারকে। বিজেপিকেও এক হাত নেন। তাঁর দাবি, SIR হচ্ছে বিজেপির সুবিধা করার অপারেশন, যেখানে সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার বিপন্ন। অখিলেশ যাদবও মমতার সুরে সুর মিলিয়ে বলেন, বিহারে যে খেলা SIR নিয়ে হয়েছে, তা বাংলায় বা উত্তরপ্রদেশে চলবে না। তিনি হুঁশিয়ারি দেনএবার আমরাও খেলব।অন্যদিকে বিজেপি দাবি করছেSIR-এ ভয় পাওয়ার কিছু নেই। আগেও হয়েছে। ভুয়ো, মৃত বা অন্য রাজ্যে চলে যাওয়া ভোটারদের নাম কাটলেই স্বাভাবিক তালিকা তৈরি হবে। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর দাবিবাংলায় প্রায় ১ কোটি ভুয়ো/অবৈধ ভোট রয়েছে। এগুলো বাদ পড়লে তৃণমূলের ভোট মার্জিন কমবে। এমনকি বিজেপির দাবিSIR শুরু হওয়ার পরই অনেক অবৈধ ভোটার নাকি এলাকা ছেড়ে পালাচ্ছে।তাহলে বিহারের মতো বাংলাতেও কি SIR-এ বদলে যাবে সমীকরণ? রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মত কিন্তু বিভক্ত। একাংশ বলছেবিহারের সঙ্গে বাংলার পরিস্থিতি এক নয়, তৃণমূলের সংগঠনের শক্তি বিশাল। আবার অন্য পক্ষের মতেবিজেপি ও তৃণমূলের ভোটের তফাৎ মাত্র ৪-৫ শতাংশ। SIR-এর কারণে ভোটার তালিকা পরিষ্কার হলে গেরুয়া শিবিরই লাভবান হতে পারে।শেষ পর্যন্ত কোন ভবিষ্যৎ ঘটবে তা জানতে হলে ২০২৬ পর্যন্ত অপেক্ষা ছাড়া পথ নেই। তবে বিহারের ছবিটা স্পষ্টমহাগঠবন্ধনকে খড়কুটোর মতো উড়িয়ে নীতীশ কুমার ও NDA-ই এগিয়ে ২০৮টি আসনে, আর বিরোধীরা মাত্র ২৮টিতে। বিশাল ব্যবধানে NDA-র রিটার্ন।

নভেম্বর ১৪, ২০২৫
দেশ

বিহারের ভোটে লালু পরিবারের ‘ডাবল শক’—তেজস্বী ও তেজপ্রতাপ দু’জনেই সংকটে

রাঘোপুরযে আসনকে একসময় বলা হতো লালু-রাজের অটুট দুর্গ। যেখানে জিতেছেন লালু প্রসাদ যাদব, জিতেছেন তাঁর স্ত্রী রাবড়ি দেবী, এমনকি লড়াইয়ে জিতে গিয়েছিলেন পুত্র তেজস্বী যাদবও। কিন্তু সেই লালু-দুর্গেই এবার বদলে গেল হাওয়া। সকাল থেকে শক্ত হাতে লড়াই ধরে রাখলেও তৃতীয় রাউন্ডের গণনায় দেখা গেল, পিছিয়ে পড়েছেন তেজস্বী। তাঁকে ১,২৭৩ ভোটে পিছনে ফেলে এগিয়ে গিয়েছেন বিজেপি প্রার্থী সতীশ কুমার।গঙ্গা ঘেরা বৈশালীর রাঘোপুর বরাবরই আরজেডির অটোমেটিক জয়-এর আসন। ২০১৫ সাল থেকে নিয়মিত এখানে লড়ছেন তেজস্বী। আগের নির্বাচনে ৩৮ হাজার ভোটে জিতেছিলেন তিনি। কিন্তু এবার সেই দৃশ্য আর দেখা যাচ্ছে না। অদ্ভুতভাবে আবারও সামনে চলে এসেছে ২০১০সেই বছরই একই সতীশ যাদব রাবড়ি দেবীকে হারিয়ে দিয়েছিলেন। এবার কি সেই ইতিহাসই তেজস্বীর বিরুদ্ধে ফিরছে? উত্তর এখনও পাওয়া যায়নি, কিন্তু রাজনৈতিক উত্তেজনা তুঙ্গে।আরজেডির সঙ্কট শুধু তেজস্বীকে ঘিরে নয়। বিপদে তেজপ্রতাপ যাদবও। প্রণয়ঘটিত বিতর্কের জেরে তাঁকে সম্প্রতি বহিষ্কার করেছে বাবা লালু প্রসাদ যাদবই। বাড়ি থেকেও বের করে দেওয়া হয়। দলছাড়া হয়ে তেজপ্রতাপ নিজেই গড়েন নতুন দলজনশক্তি জনতা দল। মহুয়া কেন্দ্র থেকে লড়াইয়ে নামলেও সেখানেই সম্পূর্ণ ব্যর্থ। তৃতীয় রাউন্ডের গণনায় দেখা যাচ্ছে, এলজেপির প্রার্থী সঞ্জয় কুমার সিংয়ের কাছে তিনি পিছিয়ে আছেন প্রায় ১০ হাজার ভোটে। একসময় রাজনীতির রাজপুত্র বলা হলেও বিহারের হাই ভোল্টেজ ভোটে তেজপ্রতাপ এখন যেন লাস্ট বেঞ্চার।লালু পরিবারের দুই রাজনৈতিক উত্তরাধিকারীর এই টালমাটাল অবস্থায় প্রশ্ন উঠছেআরজেডির ক্ষমতার দুর্গ কি তবে সত্যিই ভেঙে পড়ছে? রাঘোপুরের মাটি কি হাতছাড়া হচ্ছে লালু পরিবারের?

নভেম্বর ১৪, ২০২৫
দেশ

বিহার ভোটে কেন হারল আরজেডি? নীতীশের এক ঘোষণাতেই খেলা ঘুরল

বিহারের ভোটে মোদী ম্যাজিকের চেয়ে বড় হয়ে দেখা দিল এনডিএ-র সম্মিলিত ম্যাজিক। গণনা শুরু হওয়ার পাঁচ ঘণ্টার মধ্যেই পরিষ্কার হয়ে গেলবিহারে ফের এনডিএ-র সরকার। নীতীশ কুমারের অভিজ্ঞ হাত, সঙ্গে কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের উন্নয়ন ও প্রতিশ্রুতির জুটিএই দুই ফ্যাক্টরই ভোটারদের মন জিতে নিয়েছে। উন্নয়নের স্রোতে গা ভাসিয়ে বিহার এবার নতুন অধ্যায়ে ঢুকতে চলেছে। কিন্তু কীভাবে এত বিপুল সমর্থন পেল এনডিএ? কোন কোন প্রতিশ্রুতি আসলে ভোটের ছবি পুরো বদলে দিল?সবচেয়ে বড় প্রভাব ফেলেছে নীতীশ কুমারের মহিলাদের জন্য ঘোষণা করা আর্থিক প্যাকেজ। রাজ্যের প্রায় ১.৩ কোটি মহিলার অ্যাকাউন্টে সরাসরি ১০ হাজার টাকা ঢুকে যাওয়ায় মহিলাদের ভোটে রেকর্ড ভিড় দেখা গেছে। এই নির্বাচনে ৭১ শতাংশেরও বেশি মহিলা ভোট দিয়েছেনযা বিহারের ইতিহাসে নজিরবিহীন। তেজস্বী যাদব যদিও ২৫০০ টাকার স্কিম ঘোষণা করেছিলেন, কিন্তু নীতীশের দশ হাজার টাকার প্রতিশ্রুতি এবং বাস্তবায়নেই বাজিমাৎ।আলাদা করে প্রভাব ফেলেছে ফ্রি বিদ্যুতের ঘোষণা। ১২৫ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ বিনামূল্যে পাওয়ার সিদ্ধান্ত বিহারের গ্রামের, বিশেষ করে প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের কাছে বিশাল স্বস্তি এনে দিয়েছে। বহু পরিবার যেখানে প্রতিদিন অর্ধ অন্ধকারে দিন কাটাত, সেখানে এই সুবিধাই ভোটের অন্যতম বড় চালক।আরও বড় গেম চেঞ্জারপেনশন। বিহারের প্রায় ১.২ কোটি প্রবীণ নাগরিকের পেনশন ৪০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১১০০ টাকা করার সিদ্ধান্ত এনডিএ-কে প্রবল বাড়তি সুবিধা দিয়েছে। বহু প্রবীণ ভোটার জানিয়ে দিয়েছেন, এই এক প্রতিশ্রুতি তাঁদের জীবনে বড় বদল আনে। নীতীশকেও এই স্কিম জনদরদী নেতার ভাবমূর্তিতে আরও শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করেছে। বেকারত্ব, ক্ষোভসব ছাপিয়ে ভোটগণনায় এই স্কিমগুলিই শেষ কথা বলেছে।প্রচারের ময়দানে ছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তাঁরা উন্নয়নের পরিসংখ্যানের পাশাপাশি বারবার তুলে ধরেছেন আরজেডির আমলের জঙ্গলরাজ। জনসভায় প্রধানমন্ত্রীর মুখে কাট্টা শব্দও শোনা গেছে, যা বিহারের পুরনো ভয়কে মনে করিয়ে দিয়েছে বহু ভোটারের। ফলত, ভয় ও উন্নয়নদুই মিশ্রণেই ভোটারদের বড় অংশ এনডিএ-র দিকে ঝুঁকেছে।সব মিলিয়ে উন্নয়ন, আর্থিক সাহায্য, সরকারি স্কিম এবং বিরোধীদের প্রতি অবিশ্বাসএই চার স্তম্ভই এনডিএ-র বিপুল জয়ের ভিত্তি হয়ে উঠেছে।

নভেম্বর ১৪, ২০২৫
কলকাতা

বিহারের ফল বাংলায় প্রভাব ফেলবে? কুণাল ঘোষের মন্তব্যে নতুন করে বিতর্ক

আর মাত্র কয়েক মাস পরে পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচন। ঠিক সেই সময়েই বিহারে এনডিএ-র বিপুল আসনজয় বাংলার রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। বিজেপি শিবিরে এখন একটা কথাই ঘুরপাক খাচ্ছেবিহার পারলে বাংলা-ও পারবে। বিহারের জয়ের পর থেকেই গেরুয়া শিবিরের বহু নেতা প্রকাশ্যে দাবি করছেন, এবার পালা বাংলার।এই উচ্ছ্বাসের পাল্টা জবাব দিতে বেশি সময় নিলেন না তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্যবাংলার মাটি আলাদা, বাংলার ভোটের চরিত্রও আলাদা। বিহারের ফল বাংলায় কপি-পেস্ট হবে না। রাজনৈতিক মহলে আলোচনায় এসেছে আরেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা SIR প্রক্রিয়া। বিহারে SIR শেষ হওয়ার পরই ভোটগ্রহণ হয়েছে। বাংলাতেও ইতিমধ্যে SIR শুরু হয়ে গিয়েছে, আর সে কারণেই রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, প্রক্রিয়া শেষ হলেই নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা করতে পারে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। বিজেপি নেতা অর্জুন সিং অবশ্য দাবি করেছেন, বাংলায় SIR-এর প্রভাব বিজেপির পক্ষে যাবে।কিন্তু কুণাল ঘোষ এই দাবিকে সরাসরি নস্যাৎ করেছেন। বিহারের প্রাথমিক গণনা চলাকালীনই তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখে দেনবিহারের ভোট বাংলায় কোনো প্রভাব ফেলবে না। তাঁর দাবি, বাংলার মানুষের কাছে উন্নয়ন, ঐক্য, সম্প্রীতি, অধিকার, আত্মসম্মানএই সবই সবচেয়ে বড় ফ্যাক্টর। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই আবারও আড়াইশোর বেশি আসন নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী হবেন বলে তিনি আত্মবিশ্বাসী।কুণালের অভিযোগ, বাংলায় SIR এবং তার সঙ্গে জড়িত নানা প্রক্রিয়ায় বিজেপি ও জাতীয় নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে চক্রান্ত হতে পারে। কেন্দ্রীয় এজেন্সি ও ক্ষমতার অপব্যবহারও হতে পারে বলে তাঁর আশঙ্কা। তবে তৃণমূল যে তার বিরুদ্ধে আন্দোলন চালিয়ে যাবে এবং মানুষের সঙ্গে সংযোগ বাড়িয়ে BJP-র সব ষড়যন্ত্র ভেস্তে দেবে, সেকথা তিনি বারবার উল্লেখ করেছেন।এ প্রসঙ্গে কংগ্রেসকেও কটাক্ষ করতে ছাড়েননি কুণাল। তাঁর বক্তব্য, কংগ্রেস যে বিজেপি বিরোধীতায় সম্পূর্ণ ব্যর্থবিহারের ফল আরও একবার তা প্রমাণ করে দিল।বিজেপির হুমকিকে তিনি কড়া সুরে এদিন আক্রমণ করেছেন। বলেন, বিহার দেখিয়ে বাংলাকে হুমকি দেওয়ার কোনো মানে নেই। বাংলার মানুষের আত্মসম্মান ও অধিকারকে আঘাত করে অন্য রাজ্যের উদাহরণ দেখালে ভোট পাওয়া যায় না। বাংলায় বছরজুড়ে একটাই নামমমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর উন্নয়ন-মডেল অনুসরণ করছে বহু রাজ্য। তাই বাংলার মানুষও সার্বিক স্বার্থেই তৃণমূলকে সমর্থন করে, ভবিষ্যতেও করবে। শেষেই বিজেপিকে কটাক্ষ করে কুণাল বলেনবাংলার সঙ্গে বিহারের কষ্টকল্পিত তুলনা করে সময় নষ্ট করবেন না।

নভেম্বর ১৪, ২০২৫
দেশ

বিহারের জয়ের পর বাংলায় উল্লাস—পরিবর্তনের বার্তা কি আরও জোরালো?

বিহার নির্বাচনে এনডিএ-র বিপুল জয়ের পর বদলে গিয়েছে রাজনৈতিক সমীকরণ। মহাগাঁটবন্ধন কার্যত আইসিইউ-তে, আর সেই জয়যাত্রার রেশ এবার ছুঁয়ে গেল ভোটমুখী বাংলাকেও। হাওড়া ব্রিজ থেকে হুগলি, নদিয়া থেকে উত্তরবঙ্গবাংলাজুড়ে পদ্ম শিবিরের উচ্ছ্বাস যেন থামছেই না। হাওড়া ব্রিজের ওপর গেরুয়া আবির উড়ে উঠল, বাজনার তালে নাচলেন বিজেপি কর্মীরা। স্থানীয়দের মিষ্টিমুখ করিয়ে বিজয়োল্লাসে মাতল হাওড়া জেলা। শোনা গেল একের পর এক জয়ধ্বনিমোদি, মোদি।উত্তরবঙ্গে উৎসব আরও উচ্ছ্বাসমুখর। জলপাইগুড়ি জেলা কার্যালয়ে ঢাক বাজিয়ে, রাস্তায় দাঁড়িয়ে সাধারণ মানুষকে লাড্ডু খাইয়ে বিজেপি কর্মীরা খেললেন অকাল হোলি। পুরো এলাকা গেরুয়া রঙে রাঙিয়ে উঠল। সন্দেশখালির প্রতিবাদী মুখগুলোও আজ আনন্দে মেতে উঠলেন। গেরুয়া আবিরে ভিজে গিয়ে তাঁরা সাফ জানিয়ে দিলেনবিহারের পর এবার বাংলার পালা, পরিবর্তন আর বেশি দূরে নয়।ফরাক্কার এনটিপিসি মোড়েও শুক্রবার দুপুরে বাজি ফাটিয়ে আবির খেললেন কর্মীরা। স্লোগানে গর্জে উঠলবিহার দেখিয়েছে, বাংলা দেখবে। নদিয়ার রানাঘাটে ঢাকের তালে তালে নেচে বিজয়োল্লাস করলেন সাংসদ জগন্নাথ সরকার। এলাকার সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে বিজেপির কর্মীদের হাতে তুলে দেওয়া হল লাড্ডু।হুগলির শেওড়াফুলি থেকেও উঠল উল্লাসের ঝড়। বিজেপি কর্মীরা আবির ছড়িয়ে মানুষকে মিষ্টি বিলি করলেন, হাতে তখন বিহার পারল, বাংলাও পারবে লেখা পোস্টার। সিঙ্গুরের বুড়া শান্তি এলাকাতেও দেখা গেল একই ছবিদলীয় কার্যালয়ের সামনে পথচলতি মানুষকে লাড্ডু বিলি করে বিজেপি কর্মীদের একটাই দাবিবিহারের জয় বাংলা নির্বাচনে আগাম ইঙ্গিত।বিহারে এনডিএ-র অভাবনীয় জয়ের ঢেউ এখন বাংলায় গেরুয়া শিবিরকে আরও আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে। তাঁদের দাবিসময় মাত্র, বাংলাতেও গেরুয়া ঢেউ আসবেই।

নভেম্বর ১৪, ২০২৫
দেশ

চূড়ান্ত ফ্লপ! বিহারে কেন মুখ থুবড়ে পড়ল প্রশান্ত কিশোরের ভবিষ্যদ্বাণী?

২০২০ সালের ডিসেম্বরেও প্রশান্ত কিশোর ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেনবাংলায় বিজেপি একশো আসন ছুঁতে পারবে না। সেই ভবিষ্যদ্বাণী মিলেও গিয়েছিল। কিন্তু পাঁচ বছর পর বিহার নির্বাচনে তাঁর কথামতো কিছুই ঘটল না। উল্টে তাঁর ভবিষ্যদ্বাণী এমনভাবে মুখ থুবড়ে পড়েছে যে রাজনৈতিক মহলে এখন সেটাই বড় আলোচ্য। ভোটের আগে প্রশান্ত বলেছিলেন, জেডিইউ পঁচিশের বেশি আসন পাবে না, নীতীশ কুমার আর মুখ্যমন্ত্রী হবেন না। একটিও মিলল না। বরং স্পষ্ট হয়ে গেলবিহারের রাজনৈতিক ময়দানে তাঁর দল জন সুরাজ পার্টির প্রভাব কার্যত শূন্য। শুধু নিজের জিত নয়, অন্য দলের ভোট কেটে ফেলার মতো শক্তিতেও পৌঁছতে পারেনি তাঁর দল। ভোটকুশলী হিসাবে তিনি যত সফল, রাজনীতিতে সরাসরি নেমে যেন হয়েছেন জলহীন মাছ।প্রশান্ত কিশোর রাজনীতিতে প্রবেশ করেছিলেন একেবারে কর্পোরেট সাজে। সারা দেশে ভোটকুশলী হিসাবে সাফল্যের ছাপ, মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে দেখা, বিহারে তিন বছরের পদযাত্রা, বিশাল তাবড় তাবড় সভাসব মিলিয়ে শুরুটা ধুমধাম করেই হয়েছিল। কর্পোরেট ধাঁচে দল ঘোষণা, কোটি কোটি টাকা ব্যয় করে প্রচার, ভিনরাজ্যের পরিযায়ী বিহারীদের আলাদা করে টিম বানিয়ে প্রচারের কৌশলসবই ছিল যথেষ্ট চমকপ্রদ। আর তার সঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়ার তুমুল প্রচার।কিন্তু এনডিএ বনাম মহাজোটের পুরনো লড়াইয়ের মাঝখানে তৃতীয় শক্তি হয়ে দাঁড়ানোর স্বপ্ন শেষ পর্যন্ত স্বপ্নই থেকে গেল। প্রশান্তর জন সুরাজ পার্টি নতুন রাজনীতি, নতুন ভোর, জাতপাতের ঊর্ধ্বে উঠাএসবই বলেছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। কিন্তু রাজনীতির বাস্তব মঞ্চে সেই ঝলক দেখা গেল না। সংবাদমাধ্যমে মাঝে মাঝে ইন্টারভিউ, নানা বড় দাবি, সোশ্যাল মিডিয়ায় হইচইএসব যথেষ্ট ছিল না। বিহারের মতো রাজ্যে শুধু কর্পোরেট প্রচারে রাজনীতি হয় না, সেটা তিনি হয়তো বোঝেননি। বঙ্গে সিপিএম যে ভুল করেছিলমাটির মানুষের কাছে না গিয়ে শুধু সোশ্যাল মিডিয়ানির্ভর প্রচারেপ্রশান্ত সেই ভুলই যেন আরও বড় পরিসরে করলেন।এবং ভুল এখানেই শেষ নয়। একের পর এক বিতর্কিত সিদ্ধান্ত তাঁর বিপরীতেই গিয়েছে। প্রথমে ঘোষণা করেছিলেনদুর্নীতিতে অভিযুক্ত কাউকে নেবেন না, অন্য দলের কাউকে আনবেন না, দলের প্রথম সভাপতি হবেন দলিত সম্প্রদায়ের। কোনও প্রতিশ্রুতিই শেষ পর্যন্ত পালন করলেন না। আর সবচেয়ে বড় ধাক্কাতিনি নিজে ভোটে লড়লেনই না। যিনি নন্দীগ্রামের মতো কঠিন আসনে মুখ্যমন্ত্রীকে লড়াইয়ের পরামর্শ দেন, যিনি সবসময় বলেন শীর্ষনেতাদের উচিত নিজেরাই ভোটে নামাসেই প্রশান্ত কিশোরই এবার নিজের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম করলেন। কেন? তার উত্তর একমাত্র তিনিই জানেন। কিন্তু তাঁর এই সিদ্ধান্তই দলকে সম্ভাব্য যে সামান্য জয়ের সুযোগ ছিল, তাও কেড়ে নিয়েছেএটা ভোটের ফলেই স্পষ্ট।বিহারের রাজনীতিতে শুধু ভাবনা বা কৌশল যথেষ্ট নয়এখানে প্রয়োজন জাতপাতের গভীর সমীকরণ, গ্রামীণ স্তরের সংগঠন, এবং শক্তিশালী দলীয় কাঠামো। এগুলো গড়ে তুলতে সময় লাগে। শুধু সোশ্যাল মিডিয়ায় নতুন ভোরের স্বপ্ন দেখানো বা কর্পোরেট স্টাইলে প্রচার বিহারের মতো বাস্তব রাজনীতির মাটিতে টেকে না। তিন বছর সময় নিয়ে পুরো রাজ্যজুড়ে একটি রাজনৈতিক দল দাঁড় করানো যায় না। ভুলে গেলে চলবে নালালুপ্রসাদ যাদব ক্ষমতায় ওঠার আগে বহু বছর ধরে লড়ে গেছেন। নীতীশ কুমার প্রথম দুই নির্বাচনে হেরে যাওয়ার পরও ভেঙে পড়েননি।এখন প্রশ্নপ্রশান্ত কিশোর কি এ পরাজয়ে হতাশ হবেন? নাকি বিহার বদলাও স্লোগান নিয়ে আরও গভীরে নামবেন মানুষের মাঝে? আগামী দিনেই জানা যাবেএই ব্যর্থতা তাঁর রাজনৈতিক যাত্রার শেষ, নাকি নতুন শুরুর পাথেয়।

নভেম্বর ১৪, ২০২৫
দেশ

২০ আসনে এগিয়ে যুবনেতা—তেজস্বীর সামনে কি নতুন চ্যালেঞ্জ চিরাগ?

বিহারের রাজনীতিতে একসময় প্রশ্ন উঠেছিলবাবা রামবিলাস পাসওয়ানের মতো বিশাল মাপের নেতা হতে পারবেন কি তাঁর ছেলে চিরাগ পাসওয়ান? রাজনৈতিক মহলের কটাক্ষ, সন্দেহ আর নানান সমালোচনার মুখে বহুবার কঠিন পরিস্থিতিতে পড়তে হয়েছিল তাঁকে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সমস্ত সমালোচনাই মাঠের বাইরে পাঠিয়ে দিলেন তরুণ তুর্কি। বাবার নাম, বাবার শক্ত জমি, আর নিজের পরিশ্রমসব মিলিয়ে চিরাগের রাজনৈতিক উত্থান আজ আলোচনার কেন্দ্রে। ভোটের মাঠে তাঁর স্ট্রাইক রেট এখন ৭০ শতাংশের কাছাকাছি। ২৯টি আসনে লড়াই করে ২০টিতেই এগিয়ে তাঁর লোক জনশক্তি পার্টি।তবে এই সাফল্যের পিছনে পথ মোটেই সহজ ছিল না। ২০২০ সালের বিহার বিধানসভা নির্বাচনে এককভাবে লড়াই করে দারুণ চাপে পড়ে গিয়েছিল এলজেপি। ১৩০টি আসনে প্রার্থী দিলেও ফল আসে হাতে গোনা একটিতে। যদিও বেশ কিছু আসনে ভোট কেটে জেডিইউর ক্ষতি করেছিল চিরাগের দল, তবু সেই ফলেই প্রশ্ন উঠেছিলচিরাগ আদৌ কি রামবিলাসের যোগ্য উত্তরসূরি? পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে ওঠে যখন পাঁচ বছর আগে রামবিলাসের ভাই পশুপতি কুমার পারস দল ভাঙিয়ে আলাদা গোষ্ঠী তৈরি করেন। সেই ভাঙনে চিরাগের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ একসময় টলমল করে উঠেছিল।কিন্তু চিরাগ হাল ছাড়েননি। নিজেকে তিনি গর্ব করে বলেন যুব বিহারী। বাবার তৈরি দলিত ভোটব্যাঙ্ককেই শক্ত ভিত্তি বানিয়ে আবারও নতুন করে ঝাঁপিয়ে পড়েন। কঠোর পরিশ্রমের ফলই হয়তো২০২৪ লোকসভা নির্বাচনে অবিশ্বাস্য ম্যাজিক দেখালেন তিনি। বিহারের মাত্র পাঁচটি আসনে প্রার্থী দিয়েই পাঁচটিতেই জয়, এককথায় ১০০ শতাংশ সাফল্য। এনডিএর ভরসা তিনি যে বিফল করেননি, তা এক লাফেই প্রমাণ হয়ে যায়। মোদি সরকারের ৩.০ মন্ত্রিসভায় জায়গা পান এই তরুণ নেতা।এরপর বিহার বিধানসভা নির্বাচনে আসন বণ্টনেও নিজের ক্ষমতার প্রমাণ দেন চিরাগ। জেডিইউ-বিজেপির ইগো লড়াই-এর মাঝেই নিজের দলের জন্য ২৯টি আসন কেটে আনেন তিনি। এমনকি শোনা যায়, দলের শক্তি বাড়াতে একসময় প্রশান্ত কিশোরের সঙ্গে হাত মেলানোর কথাও ভেবেছিলেন।শেষ পর্যন্ত এনডিএ চিরাগের ক্যারিশমাকেই অগ্রাধিকার দেয়। বরাদ্দ হয় ২৯টি আসন। তার মধ্যে ২২টি আসনে এগিয়ে রয়েছে এলজেপি প্রার্থীরা। স্পষ্টবিহার রাজনীতিতে তেজস্বী যাদবদের জোরদার টক্কর দিতে উঠে আসছেন নতুন মুখ, রামবিলাস পাসওয়ানের উত্তরাধিকার আজ সুরক্ষিত, এবং সেই ঐতিহ্যের আলো হয়ে জ্বলছেন চিরাগ নিজেই।

নভেম্বর ১৪, ২০২৫
দেশ

বিহারে লালুর ‘দুর্গ’ ভেঙে চুরমার! ভোটে আরজেডির সর্বনাশ কেন?

বিহার ম্যয় যাব তাক রহেগা আলু, তাব তক রহেগা লালুএক সময় এই একটাই লাইনই বিহারের রাজনীতিকে বুঝিয়ে দিত। লালু প্রসাদ যাদব মানেই বিহারের অতীত, বর্তমান, ভবিষ্যৎআর সেই রাজনীতিরই নাম ছিল আরজেডি। কেউ কেউ সেই সময়কে বিদ্রূপ করে জঙ্গলরাজও বলতেন। আজ পরিস্থিতি সম্পূর্ণ বদলে গিয়েছে। বিহারের ক্ষমতার আসনে নেই লালু, নেই তাঁর দলও। তবু এত বছরেও কখনও তাঁদের অস্তিত্ব নিয়ে প্রশ্ন ওঠেনি। কিন্তু এই বছরের বিধানসভা ভোটে সেই অস্তিত্বই যেন বিপন্ন হয়েছে।ভোটগণনা চলছে আর স্পষ্ট হয়ে উঠছে ফলের রূপরেখা। নীতীশ-মোদী নেতৃত্বাধীন এনডিএ-ই আবারও বিহারের গদি ধরে রাখতে চলেছে। ২৪৩টি আসনের মধ্যে দুপুরের পর থেকেই ২০০র ওপরে আসনে এগিয়ে রয়েছে এনডিএ। অন্যদিকে মহাগঠবন্ধনের ছবি মলিন, কার্যত লড়াই এখন অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার। মাত্র কয়েক ডজন আসনে এগোতে পেরেছে তারা। দিন গড়ালে সংখ্যাটা আরও স্পষ্ট হবে, কিন্তু বোঝাই যাচ্ছেএই ভোট মহাগঠবন্ধনের জন্য সবচেয়ে কঠিন বার্তা বয়ে আনছে।প্রশ্ন উঠছেএমন পতন কেন? ২০২০ সালের নির্বাচনেও যাঁরা এনডিএর সঙ্গে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই করেছিলেন, আজ তাঁরা প্রায় অদৃশ্য হয়ে গেলেন কীভাবে? তখন মহাগঠবন্ধন ১১০টি আসন পেয়েছিল, একা আরজেডি পেয়েছিল ৭৫টি। কংগ্রেস পেয়েছিল ১৯টি আসন। কিন্তু এবারের ছবিটা ভয়ঙ্করভাবে আলাদা। দুপুর আড়াইটে পর্যন্ত আরজেডি এগিয়ে মাত্র ২৯টিতে, কংগ্রেস মাত্র ৫এ।রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধসের নেপথ্যে প্রধান কারণ নেতাদের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব। আসন বণ্টনকে কেন্দ্র করে প্রথম থেকেই মহাগঠবন্ধনের ভেতরে অশান্তি ছিল। অনেকেই অভিযোগ তুলছেনসমন্বয় রক্ষায় ব্যর্থ হয়েছেন তেজস্বী যাদবই। সম্প্রদায়ভিত্তিক প্রার্থী বাছাই নিয়েও তীব্র নাখোশি ছড়িয়েছে।তেজস্বী ঘোষণাই করেছিলেন, চলতি নির্বাচনে যাদব সম্প্রদায় থেকে ৫৭ জন প্রার্থী দেবেন। কথামতোই প্রার্থী তালিকায় যাদবদের সংখ্যা অর্ধশতকের উপরে। গত নির্বাচনের তুলনায় এই বৃদ্ধি ৩৬ শতাংশ। ভোটারদের একাংশ এর মধ্যে স্পষ্ট পক্ষপাত দেখেছেন। অভিযোগ উঠেছেউচ্চবর্ণ ও যাদব ভোট টানার নেশায় তেজস্বী পিছিয়ে পড়া সম্প্রদায়ের প্রার্থীদের সরিয়ে দিয়েছেন। ফলে মাঠে নেমে ক্ষোভ জমেছে দলীয় কর্মী স্তর থেকেই।তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আরও একটি বিতর্কিত প্রতিশ্রুতিঘরে ঘরে সরকারি চাকরি। তেজস্বীর এই প্রতিশ্রুতিকে বিজেপির পক্ষ থেকে প্রথম দিন থেকেই আলটপকা মন্তব্য বলে ব্যঙ্গ করা হয়েছিল। সাধারণ মানুষের কাছেও প্রতিশ্রুতি ততটাই অবাস্তব মনে হয়েছে। বহু ভোটারই মনে করেছেনএটি বাস্তবায়নযোগ্য নয়। আর সেই জায়গাতেই প্রচারের মাঠে পিছিয়ে পড়েছে আরজেডি।ফলাফল এখনও সম্পূর্ণ নয়। কিন্তু যে সংকেত মিলছে, তাতে বলা যায়মহাগঠবন্ধনের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখন ক্ষমতা নয়, নিজেদের ভবিষ্যৎ কীভাবে বাঁচাবে তা-ই।

নভেম্বর ১৪, ২০২৫
দেশ

এনডিএর পুরনো অস্ত্র ‘লালুর ভয়’— এবার ফাঁস করলেন প্রশান্ত কিশোর!

বিহারে প্রথম দফার ভোট শেষ। রাজ্যজুড়ে রেকর্ড ভোটিং ৬৪.৬ শতাংশ। রাজনৈতিক দলগুলো যখন অঙ্ক কষতে ব্যস্ত, ঠিক তখনই ফের আলোচনায় এলেন প্রাক্তন ভোটকুশলী প্রশান্ত কিশোর। তাঁর বিস্ফোরক দাবি, লালু প্রসাদ যাদবের ভয় দেখিয়ে ভোট জিততে চাইছেন নরেন্দ্র মোদি!বিহারের রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ প্রশান্ত কিশোরের কথায়, বিজেপি এবং এনডিএর একমাত্র অস্ত্র এখন লালুর ভয়। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী মোদি বিহারের ভোটারদের মনে লালু প্রসাদ যাদবের ভয় ঢুকিয়ে দিতে চাইছেন। কারণ, তাঁর আর বলার মতো নতুন কিছু নেই। গত কয়েক দশক ধরে এনডিএ-র মূল স্ট্র্যাটেজিই হচ্ছে এই ভয় দেখিয়ে ভোট তোলা যাতে মানুষ ভাবে, কাজ হোক বা না হোক, অন্তত জঙ্গলরাজ ফিরে আসেনি।কিশোর আরও বলেন, কিন্তু সময় বদলে গেছে। আজকের বিহারের মানুষ বিকল্প খুঁজছে। সেই বিকল্প জন সুরজ। মোদি যদি বলেন জঙ্গলরাজ ফিরবে না, তাহলে প্রশ্ন ওঠে, এত বছর পরেও আপনি (এনডিএ) কেন?রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে প্রশান্ত কিশোরের এই মন্তব্য নিঃসন্দেহে বিজেপিকে চাপে ফেলবে। তাঁর দল জন সুরজ-এর বার্তা ইতিমধ্যেই তরুণ ভোটারদের মধ্যে সাড়া ফেলেছে।উল্লেখ্য, কিছুদিন আগেই প্রধানমন্ত্রী মোদি নিজের প্রচারে জঙ্গলরাজ প্রসঙ্গ তুলে আরজেডি ও তেজস্বী যাদবকে আক্রমণ করেছিলেন। মোদি বলেন, বিহারের তরুণরা যেন পুরোনো প্রজন্মের মুখে শোনে, লালুর আমলে কেমন ছিল অপরাধের দৌরাত্ম্য। এনডিএ বিহারকে সেই জঙ্গলরাজ থেকে মুক্ত করেছে।বিহারের রাজনীতিতে জঙ্গলরাজ শব্দটি বহু বছর ধরে বিজেপির অন্যতম প্রধান প্রচার অস্ত্র। লালু প্রসাদ যাদবের শাসনকাল যেখানে আইনশৃঙ্খলা প্রশ্নে রাজ্য প্রায় অচল হয়ে পড়েছিল আজও রাজনৈতিক প্রচারে ঘুরে ফিরে আসে। কিন্তু প্রশান্ত কিশোরের বক্তব্যে এবার সেই প্রচারই প্রশ্নের মুখে।প্রথম দফার ভোটে ৬৪.৬ শতাংশ ভোট পড়েছে যা বিহারের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। ২০০০ সালে ভোট পড়েছিল ৬২ শতাংশ। অর্থাৎ, বিহারের মানুষ এবার আগের চেয়ে বেশি আগ্রহী, বেশি সক্রিয়। ফলে, দ্বিতীয় দফার আগে প্রশান্ত কিশোরের এই মন্তব্য রাজনৈতিক তাপমাত্রা আরও বাড়াবে বলেই মনে করা হচ্ছে।রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি, প্রশান্ত কিশোরের এই মন্তব্য নিছক কৌশল নয়, বরং দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে জন সুরজ-এর পক্ষে পরিবেশ তৈরির প্রচেষ্টা।

নভেম্বর ০৮, ২০২৫
  • ‹
  • 1
  • 2
  • 3
  • ›

ট্রেন্ডিং

দেশ

মণিপুরে ফের আগুন! ৬০০ জনের হামলায় জ্বলল একের পর এক বাড়ি, রণক্ষেত্রে পরিণত ইম্ফল

মণিপুরে আবারও ছড়াল উত্তেজনা। পশ্চিম ইম্ফল জেলার কান্তো সাবাল এলাকায় কয়েকশো মানুষের হামলায় মুহূর্তের মধ্যে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় গোটা এলাকা। পুলিশ জানিয়েছে, প্রায় ৬০০ জনের একটি ক্ষুব্ধ জনতা মেতেই অধ্যুষিত গ্রামের দিকে এগিয়ে আসে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে নিরাপত্তাবাহিনী বাধা দিলে শুরু হয় সংঘর্ষ। উত্তেজিত জনতা একের পর এক বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেয়। এখনও পর্যন্ত অন্তত ছয়টি বাড়ি পুড়ে যাওয়ার খবর মিলেছে। তবে এই ঘটনায় কারও মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। ইতিমধ্যেই পুলিশ মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু করেছে।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সকাল প্রায় এগারোটা নাগাদ বড় একটি দল কান্তো সাবালের দিকে এগোতে শুরু করে। এলাকায় বড় ধরনের সংঘর্ষের আশঙ্কায় নিরাপত্তাবাহিনী তাদের আটকানোর চেষ্টা করে। এরপরই দুই পক্ষের মধ্যে ধস্তাধস্তি এবং সংঘর্ষ শুরু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কাঁদানে গ্যাসের শেল এবং ধোঁয়ার বোমা ব্যবহার করতে হয়। এই ঘটনায় কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, আগে থেকেই হামলার আশঙ্কার খবর ছিল। তাই অনেকেই সতর্ক ছিলেন। দুপুরের দিকে প্রথমে দূরে ধোঁয়া দেখতে পান তাঁরা। শুরুতে মনে হয়েছিল টায়ার পোড়ানো হচ্ছে। পরে জানা যায়, বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে। উল্লেখযোগ্য বিষয়, সপ্তাহখানেক আগেও একই এলাকায় প্রায় একই ধরনের অশান্তির ঘটনা ঘটেছিল।দীর্ঘদিন ধরেই কুকি এবং মেতেই সম্প্রদায়ের সংঘর্ষে উত্তপ্ত মণিপুর। ২০২৩ সাল থেকে একের পর এক হিংসার ঘটনায় বহু মানুষের প্রাণ গিয়েছে। নিরাপত্তাবাহিনীর উপরও একাধিকবার হামলার অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি বিদ্রোহীদের হামলায় অসম রাইফেলসের দুই জওয়ানের মৃত্যু হয়। সেই ঘটনার পর থেকেই বিভিন্ন এলাকায় জোরদার তল্লাশি চলছে। নতুন করে কান্তো সাবালের এই হামলার ঘটনায় ফের উদ্বেগ বাড়ল রাজ্যজুড়ে।

জুলাই ১১, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

বিশ্বকাপ খেলেই মৃত্যু! মাত্র ২৫ বছরেই না ফেরার দেশে দক্ষিণ আফ্রিকার তারকা ফুটবলার, রহস্যে ঘেরা শেষ মুহূর্ত

বিশ্বকাপে দেশের হয়ে খেলেছিলেন মাত্র ১৬ দিন আগে। মাঠে তাঁর দাপুটে পারফরম্যান্সে মুগ্ধ হয়েছিলেন ফুটবলপ্রেমীরা। সেই স্মৃতি এখনও টাটকা। এর মধ্যেই এল হৃদয়বিদারক খবর। মাত্র ২৫ বছর বয়সে মারা গেলেন দক্ষিণ আফ্রিকার তরুণ ফুটবলার জেডেন অ্যাডামস। তাঁর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনও জানা যায়নি। এই ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে দক্ষিণ আফ্রিকার ফুটবল মহলে।জেডেন অ্যাডামস দক্ষিণ আফ্রিকার অন্যতম সফল ক্লাবের হয়ে খেলতেন। সম্প্রতি বিশ্বকাপে তিনি মেক্সিকো, চেক প্রজাতন্ত্র এবং দক্ষিণ কোরিয়ার বিরুদ্ধে মাঠে নেমেছিলেন। চেক প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে প্রথম একাদশে সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি। দক্ষিণ কোরিয়ার বিরুদ্ধে বদলি হিসেবে খেলেন। তবে নকআউট পর্বে কানাডার বিরুদ্ধে ম্যাচে তিনি মাঠে নামেননি।দক্ষিণ আফ্রিকা ফুটবল প্লেয়ার্স ইউনিয়ন গভীর শোক প্রকাশ করে জানিয়েছে, দেশের ফুটবল এক উজ্জ্বল প্রতিভাকে হারাল। তাঁর মৃত্যু শুধু পরিবার বা ক্লাবের নয়, গোটা দেশের ফুটবলের জন্য বড় ক্ষতি।কেপ টাউনে জন্ম জেডেন অ্যাডামসের। স্টেলেনবস ক্লাবের যুব অ্যাকাডেমি থেকেই তাঁর ফুটবল জীবন শুরু। পরে তিনিই সেই অ্যাকাডেমির প্রথম ফুটবলার হিসেবে পেশাদার চুক্তি পান। স্টেলেনবসের হয়ে ১৩৯টি ম্যাচ খেলার পর তিনি মামেলোদি সানডাউনসে যোগ দেন। ধারাবাহিক ভালো পারফরম্যান্সের জন্যই তিনি বিশ্বকাপের দলে জায়গা করে নিয়েছিলেন।দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রীড়ামন্ত্রীও শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, দেশের ফুটবল এক সম্ভাবনাময় তরুণ তারকাকে হারিয়েছে। তাঁর সাফল্যের পথচলা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।এদিকে, পুলিশ জানিয়েছে কেপ টাউনের একটি বাড়ি থেকে ২৫ বছর বয়সি এক যুবকের দেহ উদ্ধার হয়েছে। মৃত্যুর কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। কীভাবে এই মৃত্যু হল, তা জানতে তদন্ত শুরু হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্টের অপেক্ষায় রয়েছেন তদন্তকারীরা। তরুণ এই ফুটবলারের আকস্মিক মৃত্যু ঘিরে তৈরি হয়েছে একাধিক প্রশ্ন।

জুলাই ১১, ২০২৬
কলকাতা

বিস্ফোরক অভিযোগের পর বড় পাল্টা চাল! তাপস মণ্ডলকে পাঁচ কোটি টাকার আইনি নোটিস পাঠালেন সায়নী ঘোষ

নিয়োগ দুর্নীতি মামলাকে ঘিরে আবারও নতুন বিতর্ক সামনে এল। এবার নিজের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অভিযোগ তুলে নিয়োগ দুর্নীতি মামলার অন্যতম অভিযুক্ত তাপস মণ্ডলকে পাঁচ কোটি টাকার মানহানির আইনি নোটিস পাঠালেন যাদবপুরের সাংসদ সায়নী ঘোষ। তাঁর দাবি, কোনও প্রমাণ ছাড়াই তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর অভিযোগ প্রকাশ্যে করা হয়েছে, যার ফলে তাঁর ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তাপস মণ্ডল দাবি করেছিলেন, নিয়োগ দুর্নীতিতে অভিযুক্ত কুন্তল ঘোষের কাছ থেকে সায়নী ঘোষ বিভিন্ন সুবিধা পেয়েছিলেন। তাঁর অভিযোগ ছিল, কুন্তল ঘোষ সায়নী ঘোষের জন্য ফ্ল্যাট ও গাড়ির ব্যবস্থা করেছিলেন এবং বিভিন্ন খরচও বহন করতেন। এই বক্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চর্চা শুরু হয়।এই অভিযোগের জবাবেই আইনি পদক্ষেপ করেন সায়নী ঘোষ। পাঠানো নোটিসে তিনি উল্লেখ করেছেন, দুই হাজার কুড়ি সালে তিনি প্রায় আশি লক্ষ টাকা মূল্যের একটি ফ্ল্যাট কিনেছিলেন। সেই ফ্ল্যাট কেনার জন্য ব্যাঙ্ক থেকে ষাট লক্ষ টাকার ঋণ নেওয়া হয়েছিল বলেও নথিতে উল্লেখ রয়েছে। পাশাপাশি দুই হাজার চব্বিশ সালে কেনা একটি গাড়ি এবং তার আগের কেনা আর একটি গাড়ির সমস্ত আর্থিক তথ্যও নোটিসে তুলে ধরা হয়েছে। কীভাবে আয় করেন এবং কোন অর্থে সম্পত্তি ও গাড়ি কেনা হয়েছে, তারও বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে।নোটিসে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, তাপস মণ্ডলের মন্তব্য সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং তা সাংসদ হিসেবে সায়নী ঘোষের ভাবমূর্তি নষ্ট করেছে। তাই তাঁকে অবিলম্বে প্রকাশ্যে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে এবং পাঁচ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। অন্যথায় তাঁর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।এই প্রসঙ্গে সায়নী ঘোষ বলেন, তাঁর ফ্ল্যাট ও ব্যক্তিগত সম্পত্তি নিয়ে প্রকাশ্যে বিভ্রান্তিকর মন্তব্য করা হয়েছে। অতীতে তদন্তকারী সংস্থা তাঁকে এই বিষয়ে ডেকেছিল এবং তিনি প্রায় পাঁচশো পাতার নথি জমা দিয়েছিলেন। এরপর আর কখনও তাঁকে ডাকা হয়নি। তিনি জানান, এতদিন বিষয়টি গুরুত্ব না দিলেও একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে মানুষের কাছে তাঁর জবাবদিহি রয়েছে। তাই কোনও প্রমাণ ছাড়া ব্যক্তিগত সম্মান নষ্ট করার চেষ্টা তিনি আর মেনে নেবেন না। তাঁর আশা, তাপস মণ্ডল আইনি নোটিসের জবাব দেবেন। তা না হলে আদালতেই পরবর্তী লড়াই হবে।

জুলাই ১১, ২০২৬
কলকাতা

‘টাটা আসবে, আদানিও আসবে’! বাংলার শিল্প নিয়ে বড় ঘোষণা, চর্চায় শমীকের মন্তব্য

ডানকুনিতে নতুন শিল্প প্রকল্পের উদ্বোধনের মাধ্যমে রাজ্যে ছয়শো কোটি টাকার বিনিয়োগের ঘোষণা করল লাক্স-কোজ়ি। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এবং শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়। এই অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকেই বাংলার শিল্প, বিনিয়োগ এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়ন নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন শমীক ভট্টাচার্য।তিনি জানান, লাক্স পরিবারের কর্ণধার নিজে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করে শিল্প সম্প্রসারণের ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। তাঁর দাবি, এখন বহু শিল্পপতি নতুন করে পশ্চিমবঙ্গে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী। কারণ, বর্তমান পরিস্থিতিতে শিল্পের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়েছে।শমীক ভট্টাচার্য বলেন, পশ্চিমবঙ্গে পাহাড়, নদী এবং বিপুল প্রাকৃতিক সম্পদ রয়েছে। এই সম্পদকে কাজে লাগিয়ে শিল্পের আরও বড় বিস্তার সম্ভব। সেই লক্ষ্যেই সরকার এগোচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকে তিনি মুখ্যমন্ত্রী এবং শিল্পমন্ত্রীর উদ্দেশে সিঙ্গুরের বিষয়েও নজর দেওয়ার আবেদন জানান। তাঁর মতে, শিল্পোন্নয়নের ক্ষেত্রে সিঙ্গুরের গুরুত্ব এখনও অপরিসীম।বাংলার পরিচয় প্রসঙ্গেও গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন শমীক ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, শুধুমাত্র বাংলা ভাষায় কথা বললেই বাঙালি হওয়া যায় না। যাঁরা প্রজন্মের পর প্রজন্ম পশ্চিমবঙ্গে থেকে ব্যবসা-বাণিজ্য করেছেন এবং রাজ্যের উন্নয়নে অবদান রেখেছেন, তাঁরাও বাংলারই মানুষ।তিনি আরও দাবি করেন, আগামী দিনে পশ্চিমবঙ্গে বড় বড় শিল্পগোষ্ঠীর বিনিয়োগ বাড়বে। দেশ-বিদেশের একাধিক সংস্থা নতুন প্রকল্প নিয়ে এগিয়ে আসবে বলেও আশাবাদ প্রকাশ করেন। তাঁর বক্তব্য, শিল্পের জন্য পশ্চিমবঙ্গের মতো অনুকূল পরিবেশ খুব কম রাজ্যেই রয়েছে।একই সঙ্গে তিনি বলেন, এখন আর শিল্প করতে কোনও ধরনের রাজনৈতিক চাপ বা অতিরিক্ত অর্থ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। কারও জমি দখল করে দলীয় কার্যালয় তৈরি হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর দাবি, বর্তমান সরকার শিল্পবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং সেই লক্ষ্যেই ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে।

জুলাই ১১, ২০২৬
রাজ্য

বড় ঘোষণা ঋতব্রত শিবিরের! এক ঝটকায় প্রকাশ জেলা সভাপতিদের তালিকা, তৃণমূলে নতুন সমীকরণ

তৃণমূলের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত এখনও প্রকাশিত হয়নি। তবে সেই অপেক্ষা না করেই সংগঠন গঠনের কাজ আরও এগিয়ে নিয়ে গেল ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির। শনিবার তপসিয়ায় বৈঠক করে একাধিক জেলার নতুন সভাপতির নাম ঘোষণা করা হয়েছে। একই সঙ্গে দলের মুখপাত্রদের তালিকাও প্রকাশ করা হয়েছে।শনিবার দুপুরের পর তপসিয়ার বৈঠকে তৃণমূলের বহু পুরনো নেতাকে উপস্থিত থাকতে দেখা যায়। উপস্থিত ছিলেন শান্তনু সেন, অশোক রুদ্র, নারায়ণ গোস্বামী-সহ একাধিক নেতা। বৈঠকে যোগ দেন প্রাক্তন বিধায়ক নির্মল ঘোষও। ভোটের পর দীর্ঘদিন তাঁকে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। বৈঠকে প্রবেশের আগে তিনি বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর তাঁর আস্থা রয়েছে এবং তিনি এখনও মমতাকেই হৃদয়ে রাখেন। তবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পর্কে তিনি কোনও মন্তব্য করতে চাননি।বৈঠকের পর কৃষ্ণনগর জেলার সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে জেবের শেখকে। আলিপুরদুয়ারের সভাপতি করা হয়েছে বিনোদ মিঞ্জকে। জলপাইগুড়ির দায়িত্ব পেয়েছেন মহুয়া গোপ এবং দার্জিলিং জেলার সভাপতি হয়েছেন রঞ্জন সরকার।বহরমপুর জেলার সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ডেভিডকে। মালদার সভাপতি করা হয়েছে প্রসূনকে। যাদবপুর এবং ডায়মন্ড হারবার জেলার দায়িত্ব পেয়েছেন শুভাশিস দাস।দলের প্রধান মুখপাত্র করা হয়েছে প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়কে। এছাড়া মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন আখরুজ্জামান, ডেভিড, সুদীপ রাহা এবং কোহিনুর।নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগেই ঋতব্রত শিবিরের এই সাংগঠনিক ঘোষণা রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা বাড়িয়েছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে নিজেদের সাংগঠনিক শক্তি প্রকাশ্যে তুলে ধরারই চেষ্টা করেছে ঋতব্রত শিবির।

জুলাই ১১, ২০২৬
বিদেশ

ভিয়েতনামে ভয়াবহ নৌকাডুবি! ভারতীয় পর্যটকে ভর্তি নৌকা উল্টে বহু মৃত্যু, আতঙ্কে পরিবার

ভিয়েতনামের ফুকুয়ক দ্বীপের কাছে ভয়াবহ নৌদুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন একাধিক ভারতীয় পর্যটক। স্থানীয় প্রশাসনের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনার সময় পর্যটকবাহী নৌকায় মোট বত্রিশ জন ভারতীয় পর্যটক এবং চারজন নাবিক ছিলেন। প্রবল ঢেউ ও উত্তাল সমুদ্রের মধ্যে নৌকাটি উল্টে যায়। প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত অন্তত পনেরো জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ঘটনাস্থলে জোরকদমে উদ্ধার অভিযান চলছে।দুর্ঘটনার পর ভিয়েতনামে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস জানিয়েছে, ফুকুয়ক দ্বীপের কাছে ভারতীয় পর্যটক বহনকারী একটি নৌকা দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে। ঘটনার সমস্ত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়াতে ভারতীয় দূতাবাস দ্রুত বিশেষ নিয়ন্ত্রণকক্ষ চালু করেছে।হো চি মিন শহরে ভারতীয় কনস্যুলেট এবং রাজধানী হ্যানয়েও আলাদা নিয়ন্ত্রণকক্ষ খোলা হয়েছে। দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে প্রয়োজনীয় তথ্য ও সহায়তা দেওয়া হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।দুর্ঘটনার পরপরই উদ্ধারকারী দল এবং আশপাশে থাকা একাধিক নৌকা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, নৌকার বহু যাত্রী ভেতরে আটকে পড়ায় উদ্ধারকাজে সমস্যা তৈরি হয়। কয়েকজনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হলেও অনেককে আর বাঁচানো যায়নি।উল্লেখ্য, গত বছরও ভিয়েতনামের একটি জনপ্রিয় পর্যটন এলাকায় নৌকাডুবির ঘটনায় বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। সেই ঘটনার পর নৌ-নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও ফের বড় দুর্ঘটনা ঘটায় নতুন করে উদ্বেগ বাড়ল।

জুলাই ১১, ২০২৬
রাজ্য

বারুইপুরে নিহত যুবকের বাড়িতে মুখ্যমন্ত্রী! বিস্ফোরক দাবি, ‘এটা গণপিটুনি নয়, পরিকল্পিত খুন’

বারুইপুরে গণপিটুনিতে নিহত যুবকের পরিবারের সঙ্গে দেখা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari)। নিহতের পরিবারের হাতে আর্থিক সহায়তা তুলে দেওয়ার পাশাপাশি তাঁর দাদার জন্য চাকরিরও ঘোষণা করেন তিনি। তবে পরিবারের সঙ্গে দেখা করার পর বারুইপুরের ঘটনাকে ঘিরে একটি বড় দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, এটি সাধারণ গণপিটুনির ঘটনা নয়, বরং নিহতের পরিচয় জেনেই পরিকল্পনা করে খুন করা হয়েছে।মুখ্যমন্ত্রী (CM Suvendu Adhikari) বলেন, এই ঘটনার পিছনে রাজনৈতিক উস্কানি থাকতে পারে। তাঁর অভিযোগ, নির্বাচনে পরাজিত একটি গোষ্ঠীর প্ররোচনা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে। পাশাপাশি উগ্র মৌলবাদী গোষ্ঠীর যোগ থাকার সম্ভাবনাও তিনি উড়িয়ে দেননি। যদিও তদন্তের মাধ্যমে সব তথ্য সামনে আসবে বলেই তিনি জানান।নিহতের পরিবারের জন্য একাধিক সহায়তার ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী (CM Suvendu Adhikari)। তিনি জানান, নিহতের বড় দাদাকে রাজ্য পুলিশের অধীনে সিভিক ভলান্টিয়রের চাকরি দেওয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ি প্রশাসনের উদ্যোগে দ্রুত মেরামত করা হয়েছে। নিহতের বৃদ্ধ বাবা-মায়ের জন্য বার্ধক্য ভাতা এবং খাদ্য সহায়তার ব্যবস্থাও চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি পরিবারের হাতে এককালীন পঁচিশ লক্ষ টাকার আর্থিক সহায়তার চেক তুলে দেন তিনি।ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী (CM Suvendu Adhikari) বলেন, যারা এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে জড়িত, তাদের কাউকেই ছাড়া হবে না। দ্রুত বিচার করে কঠোরতম শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। একই সঙ্গে তিনি প্রশাসনকে নির্দেশ দেন, তদন্তের নামে কোনও নিরীহ মানুষ যাতে হয়রানির শিকার না হন, তা নিশ্চিত করতে হবে। তাঁর বক্তব্য, গণতান্ত্রিকভাবে প্রতিবাদ করার অধিকার সবার রয়েছে, কিন্তু নিরপরাধ কাউকে অযথা জিজ্ঞাসাবাদ বা গ্রেফতার করা উচিত নয়।মুখ্যমন্ত্রী (CM Suvendu Adhikari) আরও জানান, ঘটনার ভিডিও ফুটেজে যাঁদের চিহ্নিত করা হয়েছে, তাঁদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইতিমধ্যেই কয়েকজনকে বিভিন্ন এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁর কথায়, পঁয়ত্রিশ বছরের এক যুবককে হাত-পা বেঁধে যেভাবে মারধর করে হত্যা করা হয়েছে, সেই ঘটনার সঙ্গে জড়িত কাউকেই কোনওভাবেই রেয়াত করা হবে না।উল্লেখ্য, বারুইপুরের ঘটনায় দুটি পৃথক মামলা নিয়ে তদন্ত চলছে। একটি গণধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগ এবং অন্যটি গণপিটুনির ঘটনা। গণধর্ষণ ও হত্যার মামলায় চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্যদিকে গণপিটুনি এবং সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুরের মামলায় এখনও পর্যন্ত সাতত্রিশ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তদন্ত এখনও চলছে।

জুলাই ১১, ২০২৬
কলকাতা

সিঙ্গুরের ক্ষত ভুলিয়ে বড় চমক! বাংলায় ছয়শো কোটি টাকার নতুন শিল্প, হাজারো চাকরির আশা

ডানকুনিতে নতুন শিল্প প্রকল্প ঘিরে আশার আলো দেখছেন হুগলি এবং সিঙ্গুর সংলগ্ন এলাকার মানুষ। দীর্ঘদিন বড় শিল্পের অপেক্ষায় থাকা এই অঞ্চলে এবার ছয়শো কোটি টাকার বিনিয়োগে নতুন কারখানা গড়ে উঠছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতিতে নতুন প্রকল্পের শিলান্যাস হওয়ায় শিল্পায়ন নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।নতুন প্রকল্পের মাধ্যমে লাক্স কোজ়ির কারখানার পরিসর আরও অনেকটাই বাড়ছে। পুরনো এবং নতুন ইউনিট মিলিয়ে প্রায় কুড়ি লক্ষ বর্গফুট এলাকা জুড়ে গড়ে উঠবে আধুনিক উৎপাদন কেন্দ্র। এর ফলে শুধু উৎপাদনই বাড়বে না, স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।ডানকুনি আগে থেকেই গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ ব্যবস্থার জন্য পরিচিত। জাতীয় সড়ক, রেলপথ এবং বড় বড় গুদাম ও পরিবহণ কেন্দ্র থাকার কারণে এই এলাকা শিল্পের জন্য অত্যন্ত উপযুক্ত। নতুন কারখানা চালু হলে হুগলি জেলার শিল্প মানচিত্রে আরও গতি আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকেই এই প্রকল্পকে নতুন সম্ভাবনার দরজা হিসেবে দেখছেন। কারখানার বর্তমান কর্মী মানসী ঘোষের আশা, নতুন ইউনিট চালু হলে আরও বহু মানুষের কাজের সুযোগ তৈরি হবে এবং এলাকার অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে।জনাই থেকে প্রতিদিন কাজে আসা পীযূষ কান্তি ঢালিও এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁর দাবি, রাজ্যে আরও নতুন শিল্প গড়ে উঠুক এবং বেকার যুবক-যুবতীদের জন্য স্থায়ী কর্মসংস্থান তৈরি হোক। পাশাপাশি শ্রমিকদের জন্য ন্যূনতম একুশ হাজার টাকা বেতনেরও দাবি জানিয়েছেন তিনি।দীর্ঘদিন শিল্পহীনতার অভিযোগে সমালোচনার মুখে থাকা এই অঞ্চলে নতুন বিনিয়োগকে ঘিরে আশাবাদ তৈরি হয়েছে। শিল্পের সম্প্রসারণের পাশাপাশি ছোট ব্যবসা, পরিবহণ, গুদাম এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক ক্ষেত্রেও নতুন কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা তৈরি হবে বলেই মনে করছেন স্থানীয়রা।

জুলাই ১১, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal