• ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩, বুধবার ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

Bhangar

রাজ্য

ভাঙড় বিস্ফোরণ মামলায় শওকত মোল্লার উপর আরও চাপ! চারজনের বিরুদ্ধে ইউএপিএ চাইল এনআইএ

ভাঙড় বিস্ফোরণ মামলায় তৃণমূল নেতা শওকত মোল্লা-সহ চারজনের বিরুদ্ধে বেআইনি কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইন প্রয়োগের আবেদন করল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা। শুক্রবার কলকাতার নগর দায়রা আদালতের বিশেষ জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা আদালতে বিচারক অনুপম মাইতির এজলাসে এই আবেদন করা হয়।জাতীয় তদন্তকারী সংস্থার বিশেষ সরকারি কৌঁসুলি দেবাশিস মল্লিক চৌধুরি আদালতে আবেদন জানান। বেআইনি কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইনের ১৬ এবং ১৮ ধারা প্রয়োগের আর্জি জানানো হয়েছে বলে আদালতে জানানো হয়। এই আবেদন ঘিরে ভাঙড় বিস্ফোরণ মামলায় নতুন করে চাপ তৈরি হল শওকত মোল্লা-সহ চার অভিযুক্তের উপর।চলতি বছরে বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভাঙড়ে বোমা তৈরির সময় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। সেই ঘটনায় বোমা তৈরির কাজে যুক্ত এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়। আরও এক জন গুরুতর আহত হন। ঘটনার তদন্তে নামে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা। তদন্তের সময় শওকত মোল্লার নাম উঠে আসে বলে দাবি তদন্তকারীদের।বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর শওকত মোল্লাকে খুঁজছিল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা। পরে সোনারপুরের কামালগাজি সংলগ্ন এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। যদিও পরিবারের দাবি ছিল, আত্মসমর্পণ করতে যাওয়ার সময় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।গ্রেপ্তারের ৮৭ দিনের মাথায় আদালতে চার্জশিট জমা দেয় জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা। সেই চার্জশিটে শওকত মোল্লাকেই বিস্ফোরণ মামলার মূল অভিযুক্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয় বলে তদন্তকারী সংস্থার দাবি। মোট চারজনকে এই মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে।তদন্তকারীদের অভিযোগ, বোমা তৈরির কাজ শওকত মোল্লার নির্দেশেই চলছিল। বিস্ফোরণের পর পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্যও তাঁর মোবাইল ফোন থেকে এলাকায় একাধিক নির্দেশ গিয়েছিল বলে দাবি জাতীয় তদন্তকারী সংস্থার। শওকতকে গ্রেপ্তারের পর তাঁর মোবাইল ফোন খতিয়ে দেখে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গিয়েছে বলেও তদন্তকারীদের দাবি।জাতীয় তদন্তকারী সংস্থার আরও অভিযোগ, বিস্ফোরণের ঘটনায় ধৃত চারজনের মধ্যে শওকত মোল্লাই ছিলেন মূল চক্রান্তকারী। যদিও এই সমস্ত অভিযোগ এখনও আদালতে বিচারাধীন এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি।এবার সেই মামলাতেই আরও কড়া আইনের ধারা প্রয়োগের আবেদন করল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা। আদালত এই আবেদনের বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নেয়, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক ও আইনজীবী মহলের।

আগস্ট ২২, ২০২৬
রাজ্য

শওকত কোথায়? বাড়িতে হানা এনআইএর, গ্রেপ্তার ছেলে, পলাতক ঘোষণা প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ককে

ভাঙড় বিস্ফোরণ মামলায় প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক শওকত মোল্লাকে খুঁজছে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে তাঁর বাড়ি, দলীয় কার্যালয় এবং একাধিক জায়গায় তল্লাশি চালায় তদন্তকারীরা। তবে শওকতের খোঁজ মেলেনি। তাঁর ছেলেকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদের পর গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এদিকে শওকতকে পলাতক ঘোষণা করেছে তদন্তকারী সংস্থা।ভাঙড়ের চালতাবেড়িয়া এলাকার বামুনিয়ায় বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছিল। সেই ঘটনায় একজনের মৃত্যু হয় এবং বেশ কয়েকজন আহত হন। মামলার তদন্তে সম্প্রতি নতুন করে তৎপর হয়েছে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা। এর আগেই এই মামলায় এক তৃণমূল নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।তদন্তের সূত্র ধরে বৃহস্পতিবার ভাঙড়ে একাধিক জায়গায় তল্লাশি চালায় তদন্তকারীদের কয়েকটি দল। তার মধ্যে একটি দল শওকত মোল্লার বাড়ি ও দলীয় কার্যালয়ে পৌঁছয়। তবে তল্লাশি শুরুর আগেই তিনি এলাকা ছেড়ে চলে গিয়েছেন বলে জানা যায়। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পর তদন্তকারীরা তাঁর ছেলেকে নিয়ে বাড়ির ভিতরে ঢুকে তল্লাশি চালান। পরে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।স্থানীয় সূত্রে খবর, শেষবার শওকতকে বাসন্তীর চুনাখালি এলাকায় একটি মোটরবাইকে দেখা গিয়েছিল। তদন্তকারীদের সন্দেহ, তিনি এলাকা ছেড়ে পালানোর চেষ্টা করেছিলেন। এমনও জল্পনা ছড়িয়েছে যে সীমান্তের দিকে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন তিনি। যদিও সেই চেষ্টা সফল হয়নি বলে দাবি স্থানীয়দের একাংশের।এরপর বিভিন্ন জায়গায় তাঁর খোঁজে তল্লাশি শুরু হয়। রাতভর এলাকায়, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে এবং আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকায় অভিযান চালিয়েও তাঁর হদিশ মেলেনি। সূত্রের দাবি, বর্তমানে তিনি কোনও আত্মীয়ের বাড়িতে আত্মগোপন করে থাকতে পারেন। তাঁর ব্যবহৃত একাধিক মোবাইল ফোনও বন্ধ রয়েছে।শওকত যাতে কোনওভাবেই দেশ ছেড়ে পালাতে না পারেন, তার জন্য সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সঙ্গেও তাঁর সমস্ত তথ্য ভাগ করে নেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তদন্তকারীরা মনে করছেন, তাঁকে দ্রুত খুঁজে পাওয়া গেলে বিস্ফোরণ মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসতে পারে।

জুন ০৫, ২০২৬
রাজ্য

এনআইএ হানার আগেই উধাও শওকত! ভাঙড় বিস্ফোরণ মামলায় তোলপাড় দক্ষিণ ২৪ পরগনা

কোথায় শওকত মোল্লা? এই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে ভাঙড় ও ক্যানিংয়ের রাজনৈতিক মহলে। ভাঙড়ের বামুনিয়া বিস্ফোরণ মামলার তদন্তে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক শওকত মোল্লার বাড়ি, দলীয় কার্যালয় এবং একাধিক জায়গায় তল্লাশি চালায় জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ। তবে দীর্ঘ সময় ধরে অভিযান চললেও শওকতের খোঁজ মেলেনি।তদন্তকারী সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন সকালে এনআইএ-র একাধিক দল ভাঙড় ও সংলগ্ন এলাকায় অভিযান শুরু করে। শওকত মোল্লার বাড়িতে পৌঁছে তাঁকে না পাওয়ায় তদন্তকারীদের বেশ কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, অভিযানের খবর পাওয়ার আগেই তিনি এলাকা ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন।এদিকে, তল্লাশি চলাকালীন শওকত মোল্লার ছেলে ইমরান মোল্লাকে আটক করা হয়েছে বলে খবর। তদন্তকারীরা তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন। শুধু বাড়িতেই নয়, ইমরানের মালিকানাধীন ক্যাফে অরণ্যের কূলে-তেও তল্লাশি চালানো হয়েছে। ওই ক্যাফে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরেই নানা বিতর্ক রয়েছে। অভিযোগ, নদীর জমি ভরাট করে সেখানে নির্মাণ করা হয়েছে এই ক্যাফে।ভাঙড়ের বামুনিয়া এলাকায় বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় একজনের মৃত্যু হয়েছিল। আহত হয়েছিলেন আরও কয়েকজন। সেই মামলার তদন্তেই সম্প্রতি গতি এনেছে এনআইএ। কয়েকদিন আগে এই মামলায় তৃণমূল নেতা আহিদুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপরই তদন্তের পরিধি আরও বাড়ানো হয়েছে।বৃহস্পতিবার বামুনিয়া এলাকার একাধিক বাড়িতেও তল্লাশি চালিয়েছে এনআইএ। পাশাপাশি ধৃত আহিদুল ইসলামের বাড়িতেও অভিযান চালানো হয়েছে। তদন্তকারীরা বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি ও তথ্য সংগ্রহ করেছেন বলে সূত্রের দাবি।অন্যদিকে, শওকত মোল্লার খোঁজে তাঁর ভাই আবু জাফরের বাড়িতেও এনআইএ-র একটি দল পৌঁছেছে বলে জানা গিয়েছে। প্রাক্তন বিধায়কের অনুপস্থিতি ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তুঙ্গে। তিনি কি তদন্ত এড়াতেই আড়ালে রয়েছেন, নাকি অন্য কোনও কারণে এলাকায় নেইসেই প্রশ্নের উত্তর এখনও মেলেনি।

জুন ০৪, ২০২৬
রাজ্য

ভোটের আগে কড়া হুঁশিয়ারি! বুথ দখল হলেই অ্যাকশন, কঠোর বার্তা অজয় নন্দার

ভোটের আগে কঠোর বার্তা দিল পুলিশ প্রশাসন। বুথ দখল, ভুয়ো ভোট বা কোনও রকম কারচুপি বরদাস্ত করা হবে না বলেই স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন কলকাতা পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দা। রবিবার ভাঙড় থানায় পরিদর্শনে গিয়ে তিনি পুলিশকর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করেন এবং নির্বাচন কমিশনের সমস্ত নির্দেশ কঠোরভাবে মানার নির্দেশ দেন।নির্বাচনকে শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষ রাখতে ইতিমধ্যেই রাজ্য জুড়ে কড়া নজরদারি শুরু হয়েছে। কলকাতা পুলিশ কমিশনার জানান, বিভিন্ন এলাকায় নাকা চেকিং ও তল্লাশি চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে টহল দিচ্ছে পুলিশ। ভোটের আগে আরও কেন্দ্রীয় বাহিনী আসবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।এদিন শুধু ভাঙড় নয়, দক্ষিণ শহরতলীর একাধিক থানাতেও প্রস্তুতি খতিয়ে দেখা হয়। প্রেসিডেন্সি রেঞ্জের ডিআইজি কঙ্কর প্রসাদ বারুই নরেন্দ্রপুর, সোনারপুর ও বারুইপুর থানায় গিয়ে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেন। তিনি পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করার নির্দেশ দেন।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শহরতলীর এই এলাকাগুলিতে গ্রামীণ অঞ্চলের বহু বুথ রয়েছে। সেই সব বুথে নিরাপত্তা কীভাবে নিশ্চিত করা হবে, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। পুলিশকর্মী থেকে হোমগার্ডসকলকেই ভোটের আগে প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে।কঙ্কর প্রসাদ বারুই জানান, নির্বাচন ঘোষণার পর থেকেই প্রতিটি দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কোথায় কী ব্যবস্থা নিতে হবে, তা নিয়ে বিস্তারিত পরিকল্পনা করা হয়েছে। তাঁর কথায়, অবাধ, শান্তিপূর্ণ এবং ভয়মুক্ত নির্বাচনই এখন প্রধান লক্ষ্য।

মার্চ ২২, ২০২৬
রাজ্য

ভাঙড়ে ভয়াবহ বিস্ফোরণ, মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই হেরে নিভে গেল শিশুর জীবন

ভাঙড়ের রাস্তা সংস্কারের কাজ চলাকালীন কেমিক্যাল ভর্তি ড্রাম বিস্ফোরণে গুরুতর দগ্ধ হওয়া বালক শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর কাছে হার মানল। মৃতের নাম সাদিকুল আহমেদ। বুধবার ভোরে হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়েছে। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, তার শরীরের প্রায় পঁচানব্বই শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল। দুঃসংবাদ বাড়িতে পৌঁছতেই কান্নায় ভেঙে পড়েন পরিবারের সদস্যরা। গোটা এলাকাজুড়েও নেমে এসেছে শোকের আবহ। ময়নাতদন্তের পর দেহ পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।স্থানীয় সূত্রে খবর, ক্যানিং বিধানসভার অন্তর্গত ঘটকপুকুর থেকে মধ্য খড়গাছি পর্যন্ত প্রায় সাত কিলোমিটার রাস্তা সংস্কারের কাজ শুরু হয়েছিল কয়েক দিন আগে। মঙ্গলবার বিকেলে রাস্তার ধারে প্রায় দুইশো লিটার লাইট ডিজেল অয়েল ভর্তি একটি ড্রাম পড়ে ছিল। সেই ড্রামের পাশেই আট থেকে দশ বছর বয়সী চার শিশু খেলছিল। আচমকাই বিকট শব্দে ড্রামটি ফেটে যায়। বিস্ফোরণের তীব্রতায় সাদিকুল মারাত্মকভাবে ঝলসে যায় এবং বাকি তিনজনও দগ্ধ ও আহত হয়। অসহ্য যন্ত্রণায় একজন পাশের পুকুরে ঝাঁপ দেয় বলেও স্থানীয়রা জানিয়েছেন।ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত শিশুদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। প্রথমে নলমুড়ি গ্রামীণ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তিনজনকে কলকাতার এম আর বাঙুর হাসপাতাল এ স্থানান্তর করা হয়। আহতদের মধ্যে সাদিকুলের অবস্থা সবচেয়ে আশঙ্কাজনক ছিল। গত এক সপ্তাহ ধরে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই চালালেও শেষ পর্যন্ত ভোরে তার মৃত্যু হয়।অন্য দুই আহত বালক এখনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এবং তাদের শারীরিক অবস্থার ধীরে ধীরে উন্নতি হচ্ছে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে। ঘটনার পর ভাঙড় এলাকায় পৌঁছন ভাঙড় ডিভিশনের ডেপুটি কমিশনার সৈকত ঘোষ এবং ক্যানিং পূর্বের বিধায়ক শওকত মোল্লা। তদন্তে নেমেছে কলকাতা পুলিশ। বিস্ফোরণের কারণ খতিয়ে দেখতে বোমা স্কোয়াড ও ডগ স্কোয়াডও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।রাস্তা মেরামতির কাজে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল কি না এবং দাহ্য পদার্থ খোলা রাস্তায় কেন ফেলে রাখা হয়েছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এই ঘটনায় এলাকায় নিরাপত্তা নিয়ে তীব্র উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২৬
রাজ্য

ভোটের আগেই ভাঙড়ে বিস্ফোরক আতঙ্ক, বিধায়কের গাড়ি লক্ষ্য করে বোমা

সম্ভাব্য ভোটের আগে ভাঙড়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়ল। ক্যানিং পূর্বের বিধায়ক শওকত মোল্লার গাড়ি লক্ষ্য করে বোমা ছোড়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনায় অভিযুক্ত করা হয়েছে ইন্ডিয়ান সেক্যুলার ফ্রন্টকে। ভাঙড়ের পোলেরহাট থানার খুব কাছেই এই হামলার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ। ঘটনার পর এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং পুলিশ আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করেন।পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে দুটি তাজা বোমা ও বোমা তৈরির সুঁতুলি উদ্ধার করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন বিধায়ক। জানা গিয়েছে, আগের দিন দক্ষিণ গাজিপুরে খাইরুল ইসলাম নামে এক তৃণমূল কংগ্রেস নেতার উপর হামলার অভিযোগ জানিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন তিনি। সেই সময় পথেই তাঁর গাড়ি লক্ষ্য করে বোমা ছোড়া হয় বলে দাবি।শওকত মোল্লার অভিযোগ, আইএসএফ ঘনিষ্ঠ সমাজবিরোধীরাই এই হামলার সঙ্গে জড়িত। তিনি দাবি করেন, খাইরুল ইসলামের উপর হামলার পর থানায় অভিযোগ জানিয়ে ফেরার সময় একাধিক গাড়িকে লক্ষ্য করে গুলি ও বোমা ছোড়া হয়। যদিও অভিযোগ নিয়ে আইএসএফের তরফে এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি। পুলিশ পুরো ঘটনার তদন্ত করছে।এই ঘটনার পর রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও বেড়েছে ভাঙড় এলাকায়। তৃণমূলের আর এক নেতা দাবি করেছেন, এলাকায় আইএসএফের প্রভাব কমে যাওয়ায় ভয় দেখাতেই এই হামলা চালানো হয়েছে।

ফেব্রুয়ারি ২২, ২০২৬
রাজ্য

জনসভার আগে তাণ্ডব! তৃণমূলের উপর হামলা, “খুনের ছক ছিল”— বিস্ফোরক অভিযোগ

ভাঙড়ে আবারও গুলিবিদ্ধ হয়ে উঠল রাজনৈতিক পরিবেশ। তৃণমূল নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে গুলি চালানোর অভিযোগ উঠেছে আইএসএফের বিরুদ্ধে। ঘটনা উত্তর কাশিপুর থানার কাঠালিয়া সংলগ্ন এলাকায়। আগামী রবিবার শোনপুরে তৃণমূলের ছাত্র-যুব জনসভা রয়েছে। সেই সভার প্রস্তুতির জন্য তৃণমূলের ভোগালী দুনম্বর অঞ্চলের সভাপতি আলিনুর মোল্লা-সহ কয়েকজন নেতা কাঠালিয়া থেকে শোনপুরের দিকে যাচ্ছিলেন। তখনই আইএসএফের কিছু কর্মী-সমর্থক তাঁদের দেখে গালিগালাজ শুরু করে, এমনটাই অভিযোগ। অভিযোগ আরও, এর পরই হঠাৎ এক রাউন্ড গুলি চলে, যার ফলে মুহূর্তে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই উত্তর কাশিপুর থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। দুই পক্ষের কর্মীদের সরিয়ে দেওয়া হয়। যদিও তৃণমূলের অভিযোগ থাকলেও আইএসএফ এই ঘটনার কোনও সম্পর্ক অস্বীকার করেছে। এলাকায় এখনো চাপা উত্তেজনা রয়েছে এবং পুলিশ টহল দিচ্ছে।তৃণমূল নেতা আলিনুর মোল্লা বলেন, তাঁরা জনসভার প্রস্তুতি দেখতে যাচ্ছিলেন, তখনই আইএসএফ আশ্রিত দুষ্কৃতীরা হামলা চালায়। তাঁর দাবি, নাটু, ক্ষুদ, সালাউদ্দিন এদের মতো সমাজবিরোধীরা অস্ত্র নিয়ে তাঁদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়। তিনি আরও বলেন, পুরো বিষয়টি পরিকল্পিত এবং নওশাদ সিদ্দিকীর প্ররোচনায় এই হামলা হয়েছে। দোষীদের গ্রেফতারের দাবি জানিয়ে তিনি জানান, অপরাধীরা ধরা না পড়লে আন্দোলনে নামবেন।অন্যদিকে আইএসএফ নেতা ওহিদুল ইসলাম বলেন, তৃণমূলের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। তাঁর কথায়, তৃণমূলের পায়ের তলা থেকে মাটি সরে গিয়েছে বলেই তারা এখন উসকানি ও মিথ্যা প্রচারে নামছে।

ডিসেম্বর ০৬, ২০২৫
রাজ্য

"আমার কাগজ নেই, আমাকে বার করে দেবে"— ভাঙড়ে যুবকের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার

এসআইআরএর পরিবেশ ঘিরে আরও এক মৃত্যুর ঘটনা। রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় আত্মহত্যার খবরের পর এবার ভাঙড়। শ্বশুরবাড়ি থেকে উদ্ধার হল এক যুবকের ঝুলন্ত দেহ। মৃতের নাম সফিকুল গাজি। তাঁর পরিবারের দাবি, কাগজপত্র নিয়ে আতঙ্কে ভুগেই আত্মঘাতী সফিকুল। বুধবার সকালে ঘর থেকে তাঁর নিথর দেহ উদ্ধার হয়। খবর পেয়ে ছুটে যান ক্যানিং পূর্বের বিধায়ক শওকত মোল্লা।পরিবার জানাচ্ছে, গত কয়েক দিন ধরেই এক অদ্ভুত ভয় গ্রাস করেছিল সফিকুলকে। কারও সঙ্গে কথা বলছিলেন না। খাওয়াদাওয়াও প্রায় বন্ধ। মাঝেমধ্যে কাগজপত্র নিয়ে বসতেন, আর বারবার একটাই কথা আমার সব কাগজ নেই আমাকে এখান থেকে বার করে দেবে। স্ত্রী জানিয়েছেন, টানা দুই দিন ধরে স্বামী এমন কথাই বলে যাচ্ছিলেন। মঙ্গলবার রাতে স্বাভাবিক মতোই খেয়েদেয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। বুধবার সকালে স্ত্রী ও ছেলে কাজে বেরিয়ে যান। ফিরে এসে দেখেন ঘরের ভিতর ঝুলছে তাঁর দেহ। পুলিশ দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠিয়েছে।ভাঙড়েই শ্বশুরবাড়ি ছিল সফিকুলের, সেখানেই থাকতেন। আসল বাড়ি উত্তর ২৪ পরগনায়। বিধায়ক শওকত মোল্লা বলেন, শুনেছি ওর বাবা-মায়ের বৈধ কাগজপত্র ছিল। কিন্তু ওর নিজের নামে কিছুই নেই। সেই হতাশাই ওকে শেষ করে দিল। এটা শুধু মৃত্যু নয়, আতঙ্কের একটা ভয়াবহ প্রতিচ্ছবি। সেই সঙ্গে তিনি বিজেপির দিকেই আঙুল তুলেছেন গতকাল সাত জন, আজ আট! বিজেপিকে জবাব দিতে হবে। এই মৃত্যু মিছিলের দায় তাঁদের।বিজেপির রাহুল সিনহা তৃণমূলের বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ তুলে বলেন, এসআইআর নিয়ে আতঙ্ক তৈরি করেছে তৃণমূলই। এখন আবার মৃতদেহের রাজনীতি করছে। কে কোথায় মরছে, সেটাই নজর রাখছে ওরা। এসআইআরএর আবহে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে উদ্বেগ আর সেই সঙ্গেই প্রশ্ন, এই আতঙ্ক থামবে কবে?

নভেম্বর ০৫, ২০২৫
রাজনীতি

ভাঙড়ে মনোনয়ন ঘিরে ধুন্ধুমার, মুড়ি-মুরকির মত বোমাবাজি, এখনও ভোট বাকি

পঞ্চায়েত ভোটের মনোনয়ন জমার চতুর্থ দিনেও বাংলায় হিংসা ছড়াল। মঙ্গলবারও উত্তপ্ত হল ভাঙড়। আইএসএফ প্রার্থীর মনোনয়ন জমাকে কেন্দ্র করে তুমুল উত্তেজনা ছড়িয়েছে ভাঙড়-২ ব্লকে। তৃণমূলের বিরুদ্ধে মনোনয়ন জমা না দিতে দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন আইএসএফ কর্মীরা। প্রতিরোধ করলেই উভয় দলের সংঘর্ষ বেঁধে যায়। এদিকে আরাবুল ইসলামের ছেলের গাড়ির ড্যাস বোর্ডে মিলেছে তাজা বোমা।এর মধ্যেই বোমাবাজি শুরু হয় ভাঙড়ের ২ ব্লক অফিসের এক কিলোমিটারের মধ্যে। বিজয়গঞ্জ বাজারের কাছে মাঠ এলাকায় মুড়ি-মুরকির মত বোমা পড়তে থাকে। পুলিশকে লক্ষ্য করে বোমাবাজি, হয়। ছোড়া হয় ইট-পাথর। ফলে শুরুর দিকে পিছু হঠতে থাকে পুলিশ। এর মিনিট পাঁচেক পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সক্রিয় হয় পুলিশ বাহিনী। ছোড়া হয় কাঁদানে গ্যাসের সেল। আহত হয়েছেন এক এসআই।স্থানীয়দের দাবি, সাত রাউন্ড গুলি চলেছে।। অশান্তি এড়াতে মনোনয়ন কেন্দ্রের এক কিলোমিটারের মধ্যে ১৪৪ ধারা জারি করেছে কমিশন। কিন্তু তাতে বিশেষ লাভ হয়নি তা সোমবার থেকে একাধিক হিংসার ঘটনাতেই স্পষ্ট। প্রশ্ন হচ্ছে, কীভাবে বিডিও অফিসের কাছে মনোনয়নের সময় প্রচুর মানুষ জড়ো হলেন হলেন তা নিয়েই। ভাঙড়ে অশান্তির খবর সামনে আসতেই কমিশনকে জেলা শাসককে ফোন করে দ্রুত পদক্ষেপের নির্দেশ দিয়েছেন রাজ্য নির্বাচন কমিশনার রাজীব সিনহা।ভাঙড়ের বিধায়ক নওসাদ সিদ্দিকি বলেছেন, আইএসএফ প্রার্থীদের মনোনময় ঠেকাতেই এই কাজ করছে তৃণমূলের গুন্ডারা। সকালেই আমি পুলিশকে ফোন করে সতর্ক করেছিলাম। কিন্তু, পুলিশ পদক্ষেপ করেনি। তাই যা হওয়ার তাই হচ্ছে। পুরোটাই নির্বাচন কমিশনকে জানানো হবে বলে জানান নওসাদ। পাল্টা তৃণমূল বিধায়ক শওকত মোল্লার দাবি, সকাল থেকেই এলাকা অশান্ত করে তুলেছে আইএসএফ। বোমাবাজিতে তৃণমূল কর্মীরা আক্রান্ত হচ্ছেন। যথেচ্ছভাবে তাদের গাড়িতে ভাঙচুর চালানো হয়েছে।মনোনয়নপত্র তোলাকে কেন্দ্র করে সোমবার থেকেই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল ভাঙড়। দফায় দফায় বিক্ষিপ্ত অশান্তি চলে রাতভরই। ভোর হতেই শুরু হয় বোমাবাজি। আইএসএফ বিধায়ক নওসাদ সিদ্দিকির নেতৃত্বে মঙ্গলবার পঞ্চায়েত ভোটের মনোনয়ন জমা দেওয়ার কথা আইএসএফ প্রার্থীদের। সেই নিয়ে যাতে কোনওরকম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয় তার জন্য সকাল থেকে রাস্তায় নেমে টহল দিচ্ছিল কাশিপুর থানা এবং বারুইপুর থানার পুলিশ। ছিল ব়্যাফ। ভাঙড়ের অতিরিক্ত ডিএসপি মহিদুল্লা এবং বারুইপুরের ডিএসপি শঙ্কর চ্যাটার্জীও ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু ঠেকানো গেল না হিংসা।

জুন ১৩, ২০২৩
কলকাতা

Covid: প্রয়াত ভাঙড় আন্দোলনের নেত্রী শর্মিষ্ঠা চৌধুরী

লড়াকু জীবন যে কোনও প্রতিকূল পরিস্থিতিকে চ্যালেঞ্জ করে জয়ী হয়ে ফেরাই অভ্যাসে পরিণত হয়েছিল। কিন্তু শেষমেশ কোভিডের কাছে হার মানতে হল ভাঙড়ের কৃষক আন্দোলেন নেত্রী শর্মিষ্ঠা চৌধুরীকে। করোনা পরবর্তী শারীরিক জটিলতায় ভুগে মাত্র ৩৯ বছর বয়সে প্রয়াত হলেন সিপিআইএমএল (রেড স্টার) নেত্রী। অপূরণীয় ক্ষতি, বলছেন সহযোদ্ধারা। অনেকের মতে, শর্মিষ্ঠার প্রয়াণে গণআন্দোলনের একটা পর্যায় ধাক্কা খেল।জানা গিয়েছে, গত ১ মে করোনা ভাইরাসে (Coronavirus) আক্রান্ত হন শর্মিষ্ঠা চৌধুরী। ২১ দিন পর কোভিড নেগেটিভও হয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু তারপর থেকে শরীর ক্রমশ খারাপ হতে থাকে তাঁর। শর্মিষ্ঠার সহযোদ্ধা, গণআন্দোলনের এক নেতা অসীম গিরি জানিয়েছে, শর্মিষ্ঠার বরাবরই পেটের একটা গুরুতর সমস্যা ছিল। তা প্রায়ই ভোগাত তাঁকে। করোনার ধাক্কায় শরীরের সেই সংক্রমণও ছড়িয়ে পড়ছিল। ফলে স্বাস্থ্যের অবনতি হচ্ছিল শর্মিষ্ঠার। দিন চারেক আগে এসএসকেএমে ভর্তি করানো হয় তাঁকে। সেখানেই চিকিৎসাধীন ছিলেন। রবিবার দুপুরে সেখানেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন ৩৯ বছরের নেত্রী।শর্মিষ্ঠার কথা বললেই স্বাভাবিকভাবেই চলে আসে ভাঙড়ের (Bhangar) পাওয়ার গ্রিড-বিরোধী আন্দোলন প্রসঙ্গ। এই আন্দোলনেরই অন্যতম নেত্রী ছিলেন শর্মিষ্ঠা। সিপিআইএমএলের (রেড স্টারে) আরেক নেতা, শর্মিষ্ঠার স্বামী অলীক চক্রবর্তীর নেতৃত্বে সংগঠিত হয়েছিল এই আন্দোলন। কৃষিজমিতে পাওয়ার-গ্রিড তৈরি হলে তা ব্যাপক ক্ষতিকারক, ভাঙড়বাসীর মধ্যে এই সচেতনতা প্রচারের দায়িত্ব নিয়েছিলেন তাঁরা। একসময়ে ভাঙড় থেকে অলীক-শর্মিষ্ঠাকে গ্রেপ্তারও করা হয়। তাঁর মুক্তির দাবিতে সরব হয়েছিলেন সব পক্ষ। শেষপর্যন্ত অবশ্য পাওয়ার-গ্রিড বিরোধী আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে বাধ্য হয়েছিল রাজ্য সরকার। একুশের বিধানসভা নির্বাচনে নো ভোট টু বিজেপি প্রচারে সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছিলেন শর্মিষ্ঠা।

জুন ১৩, ২০২১
রাজ্য

ভাঙড়ের চামড়া কারখানায় বিস্ফোরণে জখম অন্তত ৫

সাতসকালে বিস্ফোরণের বিকট শব্দে কেঁপে উঠল ভাঙড়ের এক চামড়া কারখানা। ঘটনায় গুরুতর জখম ৫ জন। তাঁদের দ্রুত উদ্ধার করে স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করা হয়। পরে ৩ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় কলকাতার হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। এলাকা ঘিরে রেখেছে পুলিশ। বিস্ফোরণের ঘটনা তীব্র আতঙ্ক স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে।ঘড়িতে তখন প্রায় ৮টা। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড়ের বালিগাদায় চামড়া কারখানায় সবে কাজ শুরু হয়েছে। এখানে চামড়া থেকে নানা সামগ্রী তৈরি হয়। সেসবই চলছিল রোজকার মতো। তবে আচমকাই প্রচণ্ড শব্দে কেঁপে ওঠে কারখানা। বোঝা যায়, বিস্ফোরণ ঘটেছে। প্রাথমিক ধাক্কা কাটতেই দেখা যায়, অন্তত ৫ জন জখম হয়েছে। তাঁদের সঙ্গে সঙ্গে উদ্ধার করে নিকটবর্তী নলবড়ি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। বিস্ফোরণে জখম ৩ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁদের কলকাতায় পাঠানো হয়েছে। এই অবস্থায় কারখানা বন্ধের দাবি তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।অভিযোগ, এই চামড়ার কারখানাটি অবৈধভাবে চলছে বহুদিন ধরে। এই এলাকায় অবৈধ কারখানা বন্ধের জন্য় পুলিশকে বারবার বলা হলেও, লাভ হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।এদিন বিস্ফোরণের পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রাথমিকভাবে সব পরীক্ষা করে। তাদের প্রাথমিক অনুমান, চামড়া কাটার মেশিনের বয়লার থেকে বিস্ফোরণটি ঘটেছে। ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত চলছে। তবে বিস্ফোরণের তীব্রতায় আতঙ্কিত আশেপাশের মানুষজন।

এপ্রিল ২৪, ২০২১

ট্রেন্ডিং

কলকাতা

ইডেনে মোদীর জন্য ‘হোম’ ড্রেসিংরুম, শুভেন্দু'র ‘অ্যাওয়ে’! ১০ হাজার শিল্পীর অনুষ্ঠান, সাজছে ক্রিকেটের নন্দনকানন

কলকাতা: ইডেনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর অনুষ্ঠানের প্রস্তুতিতে তুঙ্গে তৎপরতা। সূত্র মারফত জানা যায়, প্রধানমন্ত্রীর জন্য বরাদ্দ হচ্ছে ইডেন গার্ডেন্সের হোম ড্রেসিংরুমযে ড্রেসিংরুম ব্যবহার করে ভারতীয় ক্রিকেট দল এবং কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকেআর)। অন্যদিকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর জন্য রাখা হবে অ্যাওয়ে ড্রেসিংরুম। দুই ড্রেসিংরুমের মাঝখানের মাঠে যাওয়ার কমন পথটিও থাকবে ব্যবহারের উপযোগী।দায়িত্বপ্রাপ্ত বেসরকারি সংস্থার হাতেই থাকছে ড্রেসিংরুম দুটির সাজসজ্জা ও প্রয়োজনীয় বন্দোবস্ত। ড্রেসিংরুমে আহার-সহ আপ্যায়নের যাবতীয় ব্যবস্থা থাকবে। অনুষ্ঠানের মূল মঞ্চ তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে ড্রেসিংরুমের সামনের লনেই।মাঠের যাতে কোনও ক্ষতি না হয়, সে দিকেও বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে। মঞ্চ ও অন্যান্য পরিকাঠামোর জন্য মাঠের ভিতরে প্রায় ১২ ফুট জায়গা প্রয়োজন হতে পারে। তবে ঘাসের ক্ষতি না করেই যাবতীয় কাজ করার পরিকল্পনা। সামান্য বদল আসতে পারে শুধু ঘাসের রঙে।অনুষ্ঠান চলাকালীন গল্ফ কার্টে করে মাঠ প্রদক্ষিণ করবেন প্রধানমন্ত্রী। মঞ্চের উপর থাকবে ছাউনি। ইডেনের বিভিন্ন ব্লকে চেয়ার সরিয়ে জায়ান্ট স্ক্রিন বসানোর পরিকল্পনাও রয়েছে। পাশাপাশি ইডেন উদ্যান থেকে আতশবাজির প্রদর্শনীর পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানা গিয়েছে।এই অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ হতে চলেছেন প্রায় ১০ হাজার সাংস্কৃতিক শিল্পী। তাঁদের পারফরম্যান্সের জন্য ইডেনের উল্টো দিকে থাকা মাঠ এবং নেতাজি ইনডোর স্টেডিয়ামকে ব্যবহার করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও থাকছে কড়া ব্যবস্থা। ৯ অক্টোবর অফিসের সময় শেষ হওয়ার পর থেকেই এসপিজি নিরাপত্তার আওতায় ইডেনের ক্লাব হাউস কার্যত সিল করে দেওয়া হবে। প্রধানমন্ত্রী যতক্ষণ সেখানে থাকবেন, প্রায় তিন ঘণ্টা ক্লাব হাউসের গতিবিধিতে থাকবে কড়া নিয়ন্ত্রণ। গোটা অনুষ্ঠান চলবে বিকেল ৪টে থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত।এদিকে, ক্লাব হাউসে সিএবির আধিকারিকদের উপস্থিতি নিয়ে বিশেষ অনুরোধ জানানো হয়েছে। সভাপতি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়-সহ পাঁচ অফিস বেয়ারার, সিইও এবং সিএও যাতে ক্লাব হাউসে থাকতে পারেন, তার জন্য এসপিজির অনুমতি চাওয়া হয়েছে। অন্তত সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের উপস্থিতির অনুমতি দেওয়ার জন্যও অনুরোধ রাখা হয়েছে।সিএবির অ্যাফিলিয়েট সদস্যদের জন্যও বিশেষ বন্দোবস্তের আবেদন করা হয়েছে। অন্তত প্রতিটি ক্লাব থেকে দুজন করে যাতে অনুষ্ঠানটি দেখতে পারেন, সেই ব্যবস্থা করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানস্থল তৈরির কাজ থেকে শুরু করে নৈশালোকের বন্দোবস্তসব ক্ষেত্রেই সিএবির তরফে সম্পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।প্রস্তুতির অংশ হিসেবে আগামী ২৫ বা ২৬ সেপ্টেম্বর ইডেনের ১৪ নম্বর গেটের কাছে কনফারেন্স রুমে অস্থায়ী অফিস তৈরি করবে দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা। অনুষ্ঠানে পারফর্ম করতে আসা তারকা শিল্পীদের সেখানে অথবা কর্পোরেট বক্সে রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।ইডেনের সাজসজ্জা ও পরিকাঠামো খতিয়ে দেখতে শীঘ্রই পরিদর্শনে আসবে পূর্ত দফতর (PWD)। মাঠ, মঞ্চ, নিরাপত্তা এবং দর্শক ব্যবস্থাপনাসব দিক খতিয়ে দেখেই চূড়ান্ত প্রস্তুতি নেওয়া হবে।সব মিলিয়ে ক্রিকেটের বাইরের এক অন্য ভূমিকায় এবার সেজে উঠতে চলেছে ইডেন গার্ডেন্স। ক্রিকেটের নন্দনকাননেই প্রধানমন্ত্রীকে ঘিরে হতে চলেছে এক বর্ণময়, বিশাল আয়োজন।

সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬
দেশ

নেপালের বিপর্যয়ে চারপেয়ে ত্রাতা! ভারতের সাম্বার নাকেই মিলল ২০টি দেহের সন্ধান

নেপালে ভয়াবহ বিপর্যয়ের পর কেটে গিয়েছে বেশ কিছু দিন। ধ্বংসস্তূপের নীচে নিখোঁজদের জীবিত অবস্থায় পাওয়ার আশা অনেকটাই ছেড়ে দিয়েছেন তাঁদের পরিজনেরা। কিন্তু উদ্ধারকাজ এখনও থামেনি। কাদামাটি, ভেঙে পড়া বাড়ির অংশ এবং ধ্বংসস্তূপের মধ্যে নিখোঁজদের খুঁজে চলেছেন নেপালের সেনা, পুলিশ এবং বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর সদস্যরা। তাঁদের সঙ্গে এই কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে প্রশিক্ষিত সারমেয় বাহিনীও।তাদের মধ্যেই অন্যতম সাম্বা। ল্যাব্রাডর প্রজাতির এই সারমেয় নেপালের সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর প্রশিক্ষিত সারমেয় দলের সদস্য। তবে সাম্বার সঙ্গে ভারতেরও যোগ রয়েছে। নেপালের প্রতিবেশী দেশ ভারত থেকেই তাকে আনা হয়েছিল। পরে নেপালের সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর বিশেষ প্রশিক্ষণ দিয়ে তাকে উদ্ধারকাজের উপযোগী করে তোলা হয়।মানুষের দেহের গন্ধ শনাক্ত করে ধ্বংসস্তূপের নীচে কোথায় দেহ থাকতে পারে, তা খুঁজে বার করাই সাম্বার মূল দায়িত্ব। সেই দায়িত্বই অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে পালন করেছে সে। রাসুয়া এবং ত্রিশূলী এলাকায় উদ্ধারকাজ চালানোর সময় সাম্বার দেওয়া সংকেতের ভিত্তিতে ২০টি দেহের সন্ধান পাওয়া গিয়েছে বলে জানা গিয়েছে।কিন্তু কী ভাবে এত নিখুঁত ভাবে কাজ করে সাম্বা? তার প্রশিক্ষণের দায়িত্বে থাকা আধিকারিকদের বক্তব্য, সাম্বা ধ্বংসস্তূপের উপর দিয়ে ধীরে ধীরে এগিয়ে যেত এবং মাটি শুঁকত। কোথাও মানুষের দেহের গন্ধ পেলে আচমকাই থেমে যেত সে। এরপর জোরে ডাকতে শুরু করত। সেটিই ছিল তার হ্যান্ডলারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সংকেত।সাম্বার সংকেত পাওয়ার পর নিরাপত্তারক্ষীরা সেই জায়গায় পৌঁছে মাটি খুঁড়ে দেখতেন। অনেক সময় সেখান থেকেই উদ্ধার হয়েছে দেহ। সাম্বার কাজের সময় সবসময় তার সঙ্গে থাকেন এক জন প্রধান হ্যান্ডলার এবং এক জন সহযোগী। দুজনই নিরাপত্তারক্ষী। সাম্বার আচরণের অর্থ বুঝে সঠিক জায়গায় উদ্ধারকাজ শুরু করাই তাঁদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।সাম্বা সবসময় একই ভাবে সংকেত দেয় না। কখনও হাঁটতে হাঁটতে আচমকা থেমে যায়। কখনও কোনও নির্দিষ্ট জায়গার চারপাশে বার বার ঘুরতে থাকে। আবার কখনও মাটিতে বসে পড়ে পায়ের নখ দিয়ে মাটি খুঁড়তে শুরু করে। তার প্রতিটি আচরণই আসলে একটি সংকেত। সেই সংকেতের অর্থ বুঝতে পারেন শুধু তার সঙ্গে কাজ করা হ্যান্ডলার এবং সহযোগী।এই ভাবেই কাদামাটি এবং ধ্বংসস্তূপের মধ্যে দিনের পর দিন কাজ করে চলেছে সাম্বা। নিখোঁজদের সন্ধানে তার ভূমিকা এখন নেপালের উদ্ধারকারী দলের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।নেপালের সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী সাম্বার মতো আরও পাঁচটি প্রশিক্ষিত সারমেয়কে উদ্ধারকাজে নামিয়েছিল। পাশাপাশি নেপাল সেনার তরফেও আরও ছটি সারমেয়কে কাজে লাগানো হয়েছে। বিপর্যয়ের পর উদ্ধারকাজ যত দীর্ঘ হচ্ছে, প্রশিক্ষিত এই সারমেয়দের ভূমিকা ততই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬
বিনোদুনিয়া

প্রাদার পর এবার রালফ লরেন! ভারতীয় নকশা ‘চুরি’র অভিযোগে তোলপাড়

কিছুদিন আগেই নকশা চুরির অভিযোগ উঠেছিল প্রাদার বিরুদ্ধে। এ বার একই ধরনের অভিযোগের মুখে আন্তর্জাতিক ফ্যাশন ব্র্যান্ড রালফ লরেন। ভারতীয় ঐতিহ্যবাহী কারুশিল্পের নকশা ব্যবহার করে যথাযথ স্বীকৃতি না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সংস্থাটির বিরুদ্ধে। বিষয়টি নিয়ে সমাজমাধ্যমে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক।সম্প্রতি রালফ লরেনের একটি গোলাপি পোশাক প্রকাশ্যে এসেছে। সেই পোশাকে ভারতীয় ঐতিহ্যবাহী কারুশিল্পের ছোঁয়া স্পষ্ট বলে দাবি করেছেন ফ্যাশন জগতের অনেকে। কিন্তু পোশাকটির বর্ণনায় ভারত বা ভারতীয় কারিগরদের কোনও উল্লেখ নেই। সেখানে শুধু হাতের কাজ করা সজ্জা হিসাবে বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। আর তা নিয়েই ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।১২ সেপ্টেম্বর রালফ লরেনের সমাজমাধ্যম পাতায় পোশাকটির ছবি প্রকাশ করা হয়। পোশাক তৈরির কাপড় এবং সুতো নিয়ে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হলেও হাতের কাজের বিষয়ে মাত্র একটি শব্দে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে প্রশ্ন উঠেছে, পোশাকটির নকশায় যদি কোনও দেশের ঐতিহ্যবাহী শিল্পের প্রভাব থাকে, তা হলে সেই শিল্প এবং কারিগরদের যথাযথ পরিচয় দেওয়া হল না কেন?এই বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছেন ফ্যাশন ডিজাইনার প্রখর রাও সিং চান্ডেল। তাঁর বক্তব্য, পোশাকের কাপড় নিয়ে দীর্ঘ বিবরণ দেওয়া হলেও যে কারিগররা সূক্ষ্ম হাতের কাজ করেছেন, তাঁদের শিল্পকে একটি অস্পষ্ট শব্দের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে।রালফ লরেনের প্রচারে বলা হয়েছিল, প্রতিটি পোশাকের যেন নিজস্ব ইতিহাস ও চরিত্র থাকে। সেই কথাকেই সামনে রেখে প্রখর প্রশ্ন তুলেছেন, সেই পোশাকে আসলে কার ইতিহাস এবং কার চরিত্র তুলে ধরা হচ্ছে?প্রখরের দাবি, বিতর্কিত পোশাকটিতে ভারতের ঐতিহ্যবাহী সূচিশিল্প জরদৌসির ব্যবহার রয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, লখনউ এবং আশপাশের কয়েকটি জেলায় দীর্ঘদিন ধরে এই শিল্পের চর্চা চলছে। বহু কারিগর এই শিল্পের সঙ্গে যুক্ত। তাই এটিকে শুধুমাত্র পোশাকের অলঙ্করণ হিসেবে দেখলে সেই শিল্পের সঙ্গে জড়িত মানুষের ইতিহাস ও পরিশ্রমকে আড়াল করা হয়।এই প্রসঙ্গে প্রখর গত বছর প্রাদাকে ঘিরে ওঠা বিতর্কের কথাও তুলে ধরেছেন। তাঁর অভিযোগ, ভারতীয় ঐতিহ্যবাহী কোলাপুরি চটির নকশা ব্যবহার করা হলেও সেটিকে শুধুমাত্র চামড়ার স্যান্ডেল হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। পরে মহারাষ্ট্রের একটি বাণিজ্য সংগঠনের তরফে চিঠি দেওয়ার পর ভারতের নাম যুক্ত করা হয় বলে দাবি তাঁর।নিজের দলের সঙ্গে কাজ করা জরদৌসি শিল্পী বাবলু ভাইয়ের কথাও উল্লেখ করেছেন প্রখর। তাঁর বক্তব্য, এই ধরনের শিল্পের পিছনে বহু কারিগরের বছরের পর বছর পরিশ্রম রয়েছে। তাঁদের পরিচয় বাদ দিয়ে শুধু নকশাকে ব্যবহার করলে সেই শ্রমের যথাযথ মূল্যায়ন হয় না।রালফ লরেনের এই পোশাক নিয়ে শুধু জরদৌসি নয়, আরও একটি ভারতীয় সূচিশিল্প আরির ব্যবহার নিয়েও সমাজমাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়েছে। বহু নেটিজেনের দাবি, ভারতের বিভিন্ন প্রান্তের ঐতিহ্যবাহী শিল্প বিদেশি ফ্যাশন সংস্থাগুলি ব্যবহার করলেও অনেক সময় সেই শিল্প বা কারিগরদের যথাযথ স্বীকৃতি দেওয়া হয় না।কোলাপুরি চটি ছাড়াও বাঁধনি ছাপ, তামবুরা, কুমকোর মতো বিভিন্ন ভারতীয় নকশা নিয়েও বিদেশি ফ্যাশন সংস্থার বিরুদ্ধে একই ধরনের অভিযোগ তুলেছেন সমাজমাধ্যম ব্যবহারকারীদের একাংশ। তাঁদের বক্তব্য, ভারতের প্রত্যন্ত অঞ্চলের বহু কারিগর নিজেদের পরিশ্রমে এই শিল্পগুলিকে টিকিয়ে রেখেছেন। তাঁদের পরিচয় এবং প্রাপ্য সম্মান না পেলে ধীরে ধীরে এই ঐতিহ্য হারিয়ে যেতে পারে।ফলে রালফ লরেনের নতুন পোশাক ঘিরে বিতর্কটি শুধু একটি নকশা বা পোশাকের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না। ভারতীয় ঐতিহ্যবাহী কারুশিল্পের ব্যবহার, কারিগরদের স্বীকৃতি এবং আন্তর্জাতিক ফ্যাশন সংস্থাগুলির দায়িত্ব নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।

সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬
দেশ

মেটার উপর কেন্দ্রের চাপ, অবশেষে বড় সিদ্ধান্ত! নজরে শিশুদের ক্ষতিকারক কনটেন্ট

প্রায় দুমাস ধরে আলোচনা ও বৈঠকের পর কেন্দ্রের দাবি মেনে কাজ করতে রাজি হয়েছে মেটা। সরকারি সূত্রের খবর, শিশুদের জন্য ক্ষতিকারক এবং আপত্তিকর কনটেন্টের বিষয়ে প্রশাসনকে তথ্য জানাতে রাজি হয়েছে মার্ক জুকারবার্গের সংস্থা। শিশুদের জন্য সমাজমাধ্যমকে আরও নিরাপদ করে তোলার লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে।কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে প্রায় দুমাস আগে মেটার উপর চাপ বাড়ানো হয়েছিল। ডিপফেক, বিকৃত তথ্য এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচারের মতো কনটেন্ট রুখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল সংস্থাকে। পাশাপাশি মেটার অ্যালগরিদমে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা এবং ক্ষতিকারক কনটেন্ট মোকাবিলায় কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তার বিস্তারিত পরিকল্পনাও জমা দিতে বলা হয়েছিল।তবে শুরু থেকেই শিশুদের নিয়ে তৈরি আপত্তিকর এবং ক্ষতিকারক কনটেন্ট বন্ধ করার উপর বিশেষ জোর দিয়েছিল কেন্দ্র। দীর্ঘ আলোচনা ও একাধিক বৈঠকের পর সেই দাবিতে মেটা সম্মত হয়েছে বলে সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে।সূত্রের খবর, শিশুদের জন্য ক্ষতিকারক কনটেন্ট চিহ্নিত হওয়ার পর সেই বিষয়ে প্রশাসনকে জানাবে মেটা। এরপর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে প্রশাসন। শুধু মেটা নয়, আগামী দিনে অন্যান্য সমাজমাধ্যম সংস্থাকেও একই ধরনের ক্ষতিকারক কনটেন্ট দ্রুত শনাক্ত এবং আটকানোর আওতায় আনার চেষ্টা করছে কেন্দ্র।শিশু নির্যাতনের কনটেন্টের পাশাপাশি ডিপফেক, ভুয়ো খবর এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচার দ্রুত শনাক্ত করার বিষয়েও মেটাকে সতর্ক করেছিল কেন্দ্র। সমাজমাধ্যমে এই ধরনের কনটেন্টের ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে প্রযুক্তিগত ব্যবস্থার উপরও জোর দেওয়া হয়েছে বলে সরকারি সূত্রে খবর।এর আগে প্রধানমন্ত্রীর একটি সমাজমাধ্যম পোস্ট ঘিরে কেন্দ্র ও মেটার মধ্যে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল। নিটের প্রশ্নফাঁস নিয়ে আন্দোলনের সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দেশের তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশে ফেসবুকে একটি পোস্ট করেছিলেন। সেখানে প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল।কিন্তু পরে প্রধানমন্ত্রীর সেই ভিডিও সমাজমাধ্যম থেকে সরিয়ে দেয় মেটা। বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্রের তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রকের তরফে অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়। পরে মেটার পক্ষ থেকে জানানো হয়, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণেই ভিডিওটি সরানো হয়েছিল। ক্ষমা চেয়ে পরে পোস্টটি ফের প্রকাশ করা হয়।ঘটনার পর মেটার শীর্ষ কর্তাদের তলব করেছিল কেন্দ্র। সমাজমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন ধরনের কনটেন্টের উপর আরও কড়া নজরদারির বার্তাও দেওয়া হয়েছিল। সেই ঘটনার পর থেকেই কেন্দ্র এবং মেটার মধ্যে সম্পর্ক নিয়ে চাপানউতোর চলছিল।এখন শিশুদের জন্য ক্ষতিকারক কনটেন্ট প্রশাসনের নজরে আনার বিষয়ে মেটার সম্মতির খবর সামনে আসায় সেই টানাপোড়েন অনেকটাই কমেছে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে এই সিদ্ধান্ত বাস্তবে কী ভাবে কার্যকর হবে এবং অন্যান্য সমাজমাধ্যম সংস্থার ক্ষেত্রেও কেন্দ্র একই ব্যবস্থা নিতে পারে কি না, তা নিয়ে নজর থাকবে।

সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬
বিদেশ

ভ্রমণের ভিডিও করতেই কি বিপদ? আফগানিস্তানে কেরলের মহিলা ভ্লগারের ‘গ্রেপ্তার’ ঘিরে চাঞ্চল্য

কেরলের জনপ্রিয় মহিলা ভ্লগার অরুণিমা আফগানিস্তান সফরে গিয়ে বিপদে পড়েছেন বলে দাবি করেছেন। সোমবার সোশাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট করে তিনি জানান, বামিয়ান শহরে তাঁকে মুজাহিদিনরা গ্রেপ্তার করেছে। একই সঙ্গে ভারতীয় দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য সাহায্য চেয়েছেন তিনি। তাঁর এই পোস্ট প্রকাশ্যে আসতেই উদ্বেগ ছড়িয়েছে।ব্যাকপ্যাকার অরুণিমা নামে সোশাল মিডিয়ায় পরিচিত ওই তরুণী কিছুদিন আগে ভারত থেকে আফগানিস্তানে যান। সেখানে বিভিন্ন জায়গা ঘুরে দেখার পাশাপাশি নিয়মিত ভিডিও এবং ছবি প্রকাশ করছিলেন। সোমবার একটি পোস্টে অরুণিমার দাবি, আফগানিস্তানে গিয়ে তিনি বিপদে পড়েছেন এবং বামিয়ান শহরে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।ভারতীয় দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করতে সাহায্য করার জন্যও আবেদন জানিয়েছেন তিনি। নিজের সোশাল মিডিয়া পাতায় স্থানীয় প্রশাসনের কাছ থেকে পাওয়া বলে দাবি করা গ্রেপ্তারি সংক্রান্ত কিছু নথিও প্রকাশ করেছেন অরুণিমা। ফলে তাঁর দাবি ঘিরে স্বাভাবিক ভাবেই চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।তবে ঠিক কী কারণে অরুণিমাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। গ্রেপ্তারের পরিস্থিতি নিয়েও বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি। স্থানীয় প্রশাসন বা আফগানিস্তানের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তরফে কী বলা হয়েছে, সেটিও এখনও পরিষ্কার নয়।এই ঘটনায় ভারতের বিদেশমন্ত্রকের তরফে তাৎক্ষণিক কোনও প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি। অরুণিমার প্রকাশ করা পোস্ট এবং নথির সত্যতাও স্বাধীন ভাবে যাচাই করা হয়নি। ফলে তাঁর দাবি কতটা সত্য, তা নিয়েও আপাতত ধোঁয়াশা রয়েছে।গত কয়েকদিন ধরে আফগানিস্তানের বিভিন্ন জায়গায় ঘুরছিলেন অরুণিমা। সেখান থেকে প্রকাশিত একাধিক ভিডিওতে আফগানিস্তানের পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে দেখা যায় তাঁকে। বিশেষ করে তালিবান শাসনে মহিলাদের জীবন, তাঁদের উপর থাকা বিভিন্ন বিধিনিষেধ এবং ভয়-আতঙ্কের কথা তুলে ধরেছিলেন তিনি।আফগানিস্তানের সাধারণ মানুষের সঙ্গেও সময় কাটানোর ছবি এবং ভিডিও প্রকাশ করেছিলেন অরুণিমা। সেই সফরের মধ্যেই হঠাৎ তাঁর গ্রেপ্তারের দাবি সামনে আসায় বিষয়টি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। তিনি কী কারণে আটক হয়েছেন, কোথায় রয়েছেন এবং ভারতীয় দূতাবাসের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ হয়েছে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।সব মিলিয়ে কেরলের এই জনপ্রিয় ভ্লগারের আফগানিস্তান সফর ঘিরে তৈরি হয়েছে ব্যাপক রহস্য। অরুণিমার দাবি এবং প্রকাশ করা নথি যাচাই হওয়ার পরই গোটা ঘটনার প্রকৃত ছবি স্পষ্ট হবে।

সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬
কলকাতা

বামেদের নবান্নে ডেকে পুষ্পাঞ্জলির আমন্ত্রণ! গণেশ পুজোর মঞ্চে শুভেন্দুর বিস্ফোরক বার্তা

গণেশ পুজোর সূচনা করে বামেদের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ধর্মকে আফিং বলা এবং নিজেদের নাস্তিক বলে পরিচয় দেওয়া ব্যক্তিদের কাছ থেকে কোনও উপদেশ নেওয়া হবে না বলে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে বাগেশ্বর বাবা বিতর্ক, পুজোকে শারদোৎসব বলা নিয়ে বিতর্ক এবং গণেশ পুজোর বিস্তারসবকিছু নিয়েই নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন শুভেন্দু।সোমবার গণেশ পুজোর সূচনা করে শুভেন্দু বলেন, সনাতন ধর্মের রীতিনীতি নিয়ে বাইরের কারও কাছ থেকে উপদেশ নেওয়ার প্রয়োজন নেই। তাঁর বক্তব্য, কোনও দিন নিরামিষ খাবার দিয়ে পুজো হয়, আবার কোনও দিন মাছ দিয়ে দেবতাকে ভোগ দেওয়া হয়। সনাতন ধর্মের মানুষ কোন পুজোয় কী নিয়ম মানবেন, তা তাঁরা নিজেরাই জানেন।বাগেশ্বর বাবা বিতর্কের প্রসঙ্গ টেনে শুভেন্দু বলেন, পুজোর পদ্ধতি, পুজোর পাঠ এবং পঞ্জিকার নিয়ম বদলে একসময় ধর্মীয় অনুষ্ঠানকে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের রূপ দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল। তাঁর অভিযোগ, প্রাদেশিকতার নামে মানুষের মধ্যে বিভাজন তৈরির চেষ্টা হয়েছিল।এর আগে বালিগঞ্জে ভারত সেবাশ্রম সংঘের পুজোর সূচনা করেন শুভেন্দু। সেখানেও পুজো এবং শারদোৎসব নিয়ে চলা বিতর্কের প্রসঙ্গ ওঠে। কমিউনিস্ট নেতাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, যাঁদের পুজো নিয়ে আপত্তি রয়েছে, তাঁরা নবান্নে এসে তাঁর সঙ্গে বিশ্বকর্মা পুজোয় পুষ্পাঞ্জলি দিতে পারেন।শুভেন্দুর বক্তব্য, তিনি বিশ্বকর্মা পুজোর দিন নবান্নে পুষ্পাঞ্জলি দেবেন। কমিউনিস্ট নেতাদেরও সেখানে এসে একসঙ্গে পুষ্পাঞ্জলি দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। তাঁর কটাক্ষ, তাতে তাঁরাও পরিবর্তনের স্বাদ পাবেন।পুজোর নাম নিয়ে যে বিতর্ক চলছে, তার মধ্যেই মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যকে রাজনৈতিক ভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে পুজোকে ধর্মীয় অনুষ্ঠান না কি বৃহত্তর সাংস্কৃতিক উৎসব হিসাবে দেখা হবে, তা নিয়ে যে রাজনৈতিক তরজা চলছে, সেই বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে তাঁর বক্তব্য।এ দিন বামেদের আক্রমণ করার পাশাপাশি আগের সরকারের আমলে পিতৃপক্ষে দুর্গাপুজোর সূচনা নিয়েও কটাক্ষ করেন শুভেন্দু। তাঁর মন্তব্য, পিতৃপক্ষে কাঁচি নিয়ে বের হওয়ার কোনও প্রয়োজন নেই।দেশবিরোধী শক্তি নিয়েও এ দিন সতর্ক করেন শুভেন্দু। তাঁর বক্তব্য, অসুরদের থেকে সাবধানে থাকতে হবে এবং তাঁদের থেকে দূরে থাকতে হবে। একই সঙ্গে দেশবিরোধী শক্তি এবং টুকরে টুকরে গ্যাং থেকেও দূরে থাকার বার্তা দেন তিনি।গণেশ পুজো কেন বাড়ছে, তা নিয়ে যাঁরা প্রশ্ন তুলছেন, তাঁদেরও এ দিন পাল্টা জবাব দেন শুভেন্দু। তাঁর বক্তব্য, গণপতি পুজো শুধু মহারাষ্ট্রের বিষয় নয়। সনাতন ধর্মের ঐক্যের মধ্যেই এর বিস্তার রয়েছে।শুভেন্দুর দাবি, একসময় মারাঠি, গুজরাতি, বিহারি-সহ বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে একটি প্রাচীর তুলে রাখা হয়েছিল। তাঁর কথায়, সেই প্রাচীর ভেঙে দেওয়া হয়েছে। গণেশ পুজোর বিস্তারকে তিনি সনাতনীদের ঐক্যের প্রতীক হিসাবেই তুলে ধরেন।গণেশ পুজোর সূচনা থেকে বাগেশ্বর বাবা বিতর্ক, পুজোর নাম নিয়ে রাজনৈতিক তরজা থেকে বামেদের নবান্নে পুষ্পাঞ্জলির আমন্ত্রণসব মিলিয়ে শুভেন্দু অধিকারীর সোমবারের বক্তব্য ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে।

সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬
রাজ্য

পুজোর পরই কি বাড়ছে বাসভাড়া? মন্ত্রীর কথায় বড় ইঙ্গিত, কত হতে পারে ন্যূনতম ভাড়া?

পুজোর পর রাজ্যে বাসভাড়া বাড়তে পারে। সরকারি ও বেসরকারি বাসের পাশাপাশি দূরপাল্লার বাসের ভাড়াতেও পরিবর্তন হতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছে। তবে পুজোর আগে ভাড়া বাড়ানোর কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে না। সোমবার বেসরকারি বাস মালিকদের সঙ্গে বৈঠকের পর এমনটাই জানিয়েছেন পরিবহণমন্ত্রী অর্জুন সিং।বৈঠক শেষে পরিবহণমন্ত্রী বলেন, পুজোর আগে বাসভাড়া নিয়ে কোনও সিদ্ধান্ত হবে না। তবে পুজোর পরে বেসরকারি বাসের ভাড়া বাড়ানো নিয়ে আলোচনা হতে পারে। তাঁর বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরে একই ভাড়া চলছে। ২০১৮ সাল থেকে বাসভাড়ার তালিকায় কোনও পরিবর্তন হয়নি। তাই অনির্দিষ্টকাল ভাড়া না বাড়িয়ে রাখা সম্ভব নয়।বাসভাড়া বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা বলতে গিয়ে বাম আমলেরও সমালোচনা করেন পরিবহণমন্ত্রী। তাঁর দাবি, সেই সময় নেতারা নিজেদের গাড়িতে যাতায়াত করলেও বাসের ভাড়া বাড়ানো হত না। এর ফলে ধীরে ধীরে বাসের সংখ্যা কমে গিয়েছিল। বর্তমান সরকার সেই পথে হাঁটতে চায় না বলেও জানান তিনি। সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য আরও বেশি বাস রাস্তায় নামানোর পাশাপাশি পরিষেবার মান উন্নত করার কথাও বলেন মন্ত্রী।২০১৮ সালে শেষ বার সরকারি ভাবে বাসভাড়ার তালিকা পরিবর্তন হয়েছিল। তখন ন্যূনতম ভাড়া ছিল ৭ টাকা। যদিও কোভিডের সময় থেকে অনেক ক্ষেত্রে ন্যূনতম ভাড়া ১০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। সেই পরিবর্তনের কোনও সরকারি বিজ্ঞপ্তি হয়নি বলে জানা গিয়েছে। ফলে আগামী দিনে বাসভাড়া বাড়লে ন্যূনতম ভাড়া কত হবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।বাস মালিকদের আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি ছিল টোল নিয়ে। তাঁদের অভিযোগ, একই জেলার মধ্যেও বিভিন্ন জায়গায় আলাদা হারে টোল নেওয়া হচ্ছে। এই সমস্যা মেটাতে সব টোল প্লাজায় নির্দিষ্ট হারে টোল চালুর বিষয়ে উদ্যোগী হয়েছে রাজ্য। জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে ছদিনের সময় দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ওড়িশার মতো নিয়ম চালুর কথাও জানিয়েছেন পরিবহণমন্ত্রী।বড় রাস্তায় টোটো চলাচল নিয়েও কড়া অবস্থানের কথা জানিয়েছেন তিনি। মূল রাস্তায় টোটো চলাচল বন্ধ করা হবে বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন মন্ত্রী। টোটো চলাচল নিয়ে যে সমস্যা তৈরি হয়েছে, তার সমাধানে একটি নির্দিষ্ট নিয়ম চালু করার প্রয়োজন রয়েছে বলেও জানান তিনি।বাস মালিকদের দীর্ঘদিনের আরও একটি সমস্যা ছিল রাতের বাস রাখার জায়গা নিয়ে। বৈঠকের পর সেই সমস্যা মিটেছে বলে জানিয়েছেন বাস মালিকদের প্রতিনিধিরা। একই সঙ্গে যেসব বাস মালিকের দীর্ঘদিনের কর বকেয়া রয়েছে, তাঁদের জরিমানা কিছুটা কমানোর বিষয়েও আশ্বাস দিয়েছেন পরিবহণমন্ত্রী। তবে এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি।এর মধ্যেই সামনে দুর্গাপুজো। পুজোর সময় রাস্তায় মানুষের ভিড় এবং যাতায়াতের চাপ অনেকটাই বেড়ে যায়। সেই পরিস্থিতি সামাল দিতে পুজোর আগেই আরও প্রায় ৩০০ সরকারি বাস রাস্তায় নামানো হবে বলে জানিয়েছেন পরিবহণমন্ত্রী। ফলে শহর ও শহরতলির গণপরিবহণ ব্যবস্থায় কিছুটা স্বস্তি মিলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।বৈঠক নিয়ে খুশি বাস মালিকদের সংগঠনগুলিও। সারা বাংলা বাস-মিনিবাস সমন্বয় সমিতির সাধারণ সম্পাদক রাহুল চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, পরিবহণমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁদের বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে এবং তাঁরা খুশি। টোলের সমস্যা প্রায় এক সপ্তাহের মধ্যে মিটিয়ে দেওয়ার আশ্বাসও মন্ত্রী দিয়েছেন বলে জানান তিনি।বাসভাড়া বাড়ানো নিয়েও পরিবহণমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন রাহুল। তাঁর আশা, পুজোর পর এবার বাসভাড়া বাড়ানো হবে। একই সুর শোনা গিয়েছে সিটি সাবার্বান বাস সার্ভিসেসের সাধারণ সম্পাদক টিটু সাহার বক্তব্যেও। জয়েন্ট কাউন্সিল অফ বাস সিন্ডিকেটের সাধারণ সম্পাদক তপন বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, দীর্ঘদিনের নাইট পার্কিংয়ের সমস্যা মিটিয়ে দেওয়ায় তাঁরা সন্তুষ্ট। বৈঠকে খুশি ওয়েস্টবেঙ্গল বাস-মিনিবাস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ নারায়ণ বসুও।সব মিলিয়ে পুজোর আগে যাত্রীদের জন্য বাড়তি সরকারি বাস নামানোর সিদ্ধান্ত কিছুটা স্বস্তি দিলেও পুজোর পর বাসভাড়া বাড়তে পারেপরিবহণমন্ত্রীর বক্তব্যে সেই সম্ভাবনাই জোরালো হয়েছে। তবে ভাড়া কত বাড়বে বা নতুন ন্যূনতম ভাড়া কত হবে, তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। ফলে পুজোর পর রাজ্যের বাসযাত্রীদের পকেটে কতটা অতিরিক্ত চাপ পড়বে, এখন সেটাই দেখার।

সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬
রাজ্য

প্রার্থী ঘোষণার পরেও কংগ্রেসের দরজায় মমতা! নন্দীগ্রাম নিয়ে কেন এত মরিয়া তৃণমূল?

নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচনের মনোনয়ন পর্ব শুরু হতেই বঙ্গ রাজনীতিতে নতুন জল্পনা তৈরি হয়েছে। সূত্রের খবর, বিজেপিকে আটকাতে দুই কেন্দ্রে একসঙ্গে লড়াই করার জন্য কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে জোটের প্রস্তাব দিয়েছেন কালীঘাট তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এ বিষয়ে তিনি এআইসিসির অন্যতম সাধারণ সম্পাদক কেসি বেনুগোপালকে ফোন করেছিলেন বলে জানা গিয়েছে।সূত্রের খবর, ফোনে মমতা নন্দীগ্রাম আসনটি কংগ্রেসকে ছেড়ে দেওয়ার প্রস্তাব দেন। পাশাপাশি রেজিনগরে কালীঘাট তৃণমূলের প্রার্থীকে কংগ্রেস সমর্থন করুক, সেই আবেদনও জানান তিনি। এমনকি নন্দীগ্রামে কালীঘাট তৃণমূলের ঘোষিত প্রার্থীকে সরিয়ে নেওয়ার কথাও তিনি জানিয়েছিলেন বলে খবর।এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই প্রশ্ন উঠেছে, তা হলে কি নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর উপনির্বাচনে কংগ্রেস ও কালীঘাট তৃণমূলের মধ্যে জোট হতে চলেছে? তবে সূত্রের খবর, মমতার প্রস্তাব গ্রহণ করেনি কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব। বরং প্রদেশ কংগ্রেসের তরফে পাল্টা বার্তা দেওয়া হয়েছে, জোট চাইলে দুই আসনেই কালীঘাট তৃণমূলকে কংগ্রেসকে সমর্থন করতে হবে।প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার জানিয়েছেন, কালীঘাট তৃণমূল যদি সত্যিই জোট চায়, তা হলে নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরদুই আসনেই কংগ্রেসকে সমর্থন করা উচিত। তাঁর বক্তব্য, এমনটা হলে ভবিষ্যতে জোটের রাস্তা আরও খোলা থাকতে পারে।আগামী ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে উপনির্বাচন। ১৬ সেপ্টেম্বর মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন। ইতিমধ্যেই দুই কেন্দ্রেই কংগ্রেস এবং কালীঘাট তৃণমূল প্রার্থী ঘোষণা করেছে। একই সঙ্গে ঋতব্রতপন্থী তৃণমূলও দুই আসনে প্রার্থী দিয়েছে। ফলে তৃণমূলের দুই শিবিরের মধ্যে প্রতীক ও রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে লড়াইয়ের পাশাপাশি কংগ্রেস ও বিজেপির লড়াইও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।ঋতব্রতপন্থী তৃণমূলের নন্দীগ্রামের প্রার্থী এহতেশামুল হক। রেজিনগরে তাঁদের প্রার্থী সফিউজ্জামান শেখ। অন্য দিকে, কালীঘাট তৃণমূল নন্দীগ্রামে সঞ্চিতা প্রধান দে এবং রেজিনগরে রবিউল আলম চৌধুরীকে প্রার্থী করেছে।নন্দীগ্রামে সঞ্চিতা প্রধান দে-কে প্রার্থী করা নিয়েও স্থানীয় স্তরে কিছুটা অস্বস্তি রয়েছে বলে সূত্রের দাবি। তাঁর নাম ২০১৪ সালের শিক্ষক নিয়োগ সংক্রান্ত দুর্নীতির মামলায় জড়িয়েছিল বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে। সেই কারণেই প্রার্থীর ভাবমূর্তি নিয়ে দলের স্থানীয় স্তরে প্রশ্ন উঠেছে বলে খবর। যদিও প্রকাশ্যে এখনও কোনও বড় ধরনের ক্ষোভ দেখা যায়নি।এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠছে, প্রার্থী বাছাই নিয়ে অস্বস্তির কারণেই কি মমতা কংগ্রেসের সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা করলেন? নাকি মূল লক্ষ্য ছিল নন্দীগ্রামে বিজেপিকে আটকাতে বিরোধী ভোটকে এক জায়গায় আনা? রাজনৈতিক মহলে এই দুই সম্ভাবনা নিয়েই জোর আলোচনা শুরু হয়েছে।সোমবার সন্ধ্যায় কেসি বেনুগোপালকে ফোন করে মমতা বিজেপির বিরুদ্ধে একজোট হয়ে লড়াই করার প্রস্তাব দেন বলে সূত্রের খবর। নন্দীগ্রাম কংগ্রেসকে ছেড়ে দেওয়ার পাশাপাশি রেজিনগরে কালীঘাট তৃণমূলকে সমর্থনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কংগ্রেসের তরফে সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।রেজিনগরে কংগ্রেসের প্রার্থী মহম্মদ আব্দুল্লাহিল কাফি। নন্দীগ্রামে কংগ্রেসের প্রার্থী মিলন প্রধান। রেজিনগরে ইতিমধ্যেই কংগ্রেসের প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। সেই সময় উপস্থিত ছিলেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার।মমতার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের পিছনে পুরনো রাজনৈতিক সম্পর্কের কথাও সামনে আনছে কংগ্রেস। কংগ্রেস নেতৃত্বের বক্তব্য, ২০১১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বামেদের সরাতে তৎকালীন সময়ে কংগ্রেসের সঙ্গে জোট করেছিল তৃণমূল। সেই জোটের সুবিধা নিয়ে ক্ষমতায় আসার পর ২০১২ সালে কংগ্রেসের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেন মমতা। এরপর রাজ্যে তৃণমূলের শাসনকালে কংগ্রেসের নেতা-কর্মীদের উপর হামলা, মিথ্যা মামলা এবং খুনের মতো একাধিক অভিযোগ উঠেছে বলে দাবি কংগ্রেসের।মমতার এবারের জোটের প্রস্তাব সামনে আসার পর কংগ্রেসের নিচুতলার নেতা-কর্মীদের মধ্যেও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে বলে সূত্রের খবর। সেই ক্ষোভকে গুরুত্ব দিয়েই কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব প্রস্তাবটি ফিরিয়ে দিয়েছে বলে দলীয় সূত্রে দাবি করা হয়েছে।ফলে নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের উপনির্বাচনে আপাতত আলাদা পথেই লড়াই করতে চলেছে কংগ্রেস ও কালীঘাট তৃণমূল। তার উপর দুই কেন্দ্রেই তৃণমূলের দুই শিবিরের প্রার্থী থাকায় লড়াই আরও জটিল হয়েছে। মনোনয়ন পর্ব শেষ হওয়ার পর রাজনৈতিক সমীকরণ কোন দিকে যায়, নন্দীগ্রামে বিজেপি, কংগ্রেস এবং তৃণমূলের দুই শিবিরের লড়াই কোন নতুন মোড় নেয়, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal