• ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩, সোমবার ৩১ আগস্ট ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

Babla Sarkar

রাজ্য

মালদার নিহত তৃণমূল নেতার বাড়িতে গেলেন মুখ্যমন্ত্রী, একান্তে কথা স্ত্রী চৈতলির সঙ্গে

মালদার তৃণমূল কংগ্রেস নেতা নিহত বাবলার সরকারের বাড়িতে গেলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর স্ত্রী চৈতালি সরকারের সঙ্গে একান্তে কথা বলেছেন মমত। বাবলা সরকারারে অসম্পূর্ণ কাজ করবেন তাঁর স্ত্রী চৈতালি সরকার। সোমবার বাবলা সরকারের বাড়ির বাইরে বেরিয়ে এসে একথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি।সোমবার বিকেল ৩টা ৪৫ মিনিট থেকে প্রায় পৌনে এক ঘন্টা মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী ইংরেজবাজার শহরের মহানন্দাপল্লী এলাকার বাবলা সরকার বাড়িতে ছিলেন। সেখানেই নিহত তৃণমূল নেতা বাবলা সরকারের স্ত্রী চৈতালি সরকারের সঙ্গেই দীর্ঘক্ষণ নানা বিষয় নিয়ে কথা বলেন তিনি। হঠাৎ করে ইংরেজবাজার পুরসভার ২২ নম্বর ওয়ার্ডের মহানন্দাপল্লীতে মুখ্যমন্ত্রীকে রাস্তায় দেখতে পেয়ে মানুষের ভিড় জমান। এরপরই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, বাবলা আমার চিরকালের পরিচিত। একটা সময় মালদা থেকে সকালে কলকাতায় ফিরেছি। বাবলার ডাকে আবার রাতে চলে এসেছি মালদায়। এরকম অনেক ঘটনার সাক্ষী রয়েছি। বাবলার খুনের ঘটনার পর চৈতালির সঙ্গে দীর্ঘক্ষন আলোচনা করলাম। আমি নিজেও একা এসেছি। সঙ্গে কাউকে আনিনি। কতগুলো কথা চৈতালি আমাকে বলেছে। সেগুলি কানে এসেছে। যে যতই বড় হোক না কেন, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে দ্রুত শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে। বাবলার অসম্পূর্ণ কাজ চৈতালিকেই করতে হবে, এদিন জানিয়েছেন তিনি।এদিন মুখ্যমন্ত্রী মালদার রাজনীতিতে রহস্য দেখতে পাচ্ছেন তৃণমূল নেত্রী। তিনি বলেন, বাবলা নিরলস কর্মী ছিল। এলাকার মানুষের কাছে জনপ্রিয় ছিল। কিন্তু মালদার রাজনীতিটা বুঝে উঠতে পারছি না। এখানে কিসের খেলা হচ্ছে, সেটাও আমাকে দেখতে হবে। কেন না এমএলএ, এমপি ভোট যখন আসছে তখন তৃণমূল হারছে। আর যেই পুরসভা অথবা কর্পোরেশন নির্বাচন হচ্ছে তখন সবাই জিতে যাচ্ছে। অনেক রকম খেলা চলছে। এরকম খেলা চললে তো মানুষের পক্ষে খারাপ হবে। কাউন্সিলরেরা জিতে যায়। অথচ এমএলএ এবং এমপি ভোটে দাঁড়ালে হেরে যায় । মালদার এই রাজনীতির রহস্যটাও আমাকে বুঝতে হবে।

জানুয়ারি ২০, ২০২৫
রাজনীতি

বাবলা সরকার খুনে নরেন্দ্রনাথ তেওয়ারি ও স্বপন শর্মার ফের পুলিশ হেফাজত, উদ্ধার আগ্নেয়াস্ত্র, কার্তুজ, পোশাক, মোবাইল....

তৃণমূল নেতা বাবলা সরকার খুনের ঘটনায় ধৃত নরেন্দ্রনাথ তিওয়ারি এবং স্বপন শর্মাকে নতুন করে পাঁচ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিল মালদা আদালত। শুক্রবার ধৃত দুইজনকে মালদা সিজিএম কোর্টে পেশ করা হয়। যদিও এদিন ওই দুই অপরাধীর পক্ষে মালদা বার অ্যাসোসিয়েশনের কোনও আইনজীবীরাই পক্ষে দাড়ায়নি। সরকারি পক্ষের আইনজীবী দেবজ্যোতি পাল দুই অপরাধীকে পুলিশের হেফাজতে নেওয়ার বিশদ ব্যাখ্যা তুলে ধরেন। এরপরই সিজিএম কোর্টের বিচারক সুজিত কুমার ব্যানার্জি ধৃত নরেন্দ্রনাথ তিওয়ারি এবং স্বপন শর্মাকে পাঁচ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেন। এদিকে এদিন মৃত বাবলা সরকারের মামলা চলাকালীন আদালতে ঠাঁয় দাঁড়িয়ে ছিলেন বাবলা সরকারের স্ত্রী আইনজীবী চৈতালী সরকার। তিনি বলেন, আমাদের বার অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে এদিন কোন আইনজীবী ওই দুই আসামির পক্ষ নিয়ে সাওয়াল জবাব করেননি। তবে আমি নিজে একজন আইনজীবী হিসাবে এই মামলা শুনেছি। কেউ যাতে কোনওরকম ভাবে প্রভাবিত করতে না পারে সেটিও দেখছি। পুলিশ এখনও আসল অপরাধীদের খুঁজে বার করার জন্য তদন্ত করছে। যার ফলে এদিন ওই মূল চক্রীকে পুলিশ নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে। এদিকে তৃণমূল নেতা বাবলা সরকার খুনের ঘটনায় দুষ্কৃতীদের ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্র, পোশাক উদ্ধার করলো পুলিশ। ২ জানুয়ারি বাবলা সরকার খুনের ঘটনায় একটি নাইন এমএম পিস্তল, দুটি ওয়ান সাটার এবং ৭ রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পাশাপাশি ২ জানুয়ারি বাবলা সরকার খুনের ঘটনায় দুষ্কৃতীরা যে পোশাক ব্যবহার করেছিল সেটিও উদ্ধার করেছে পুলিশ। তবে এই অস্ত্র এবং পোশাক কোথা থেকে উদ্ধার হয়েছে সেই সম্পর্কে কোনও তথ্য পুলিশ জানায়নি। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এখনও পর্যন্ত বাবলা সরকার খুনের ঘটনায় মোট ৭ জন গ্রেফতার হয়েছে। যাদের মধ্যে তিনজন বিহারের পেশাদার খুনি রয়েছে। এই খুনের ঘটনায় প্রথম পাঁচজনকে ১২ দিনের পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। গত বুধবার ইংরেজবাজার পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান নরেন্দ্রনাথ তেওয়ারি এবং অপর এক অভিযুক্ত স্বপন শর্মাকে গ্রেফতার করা হয়। এরপরই ধৃত ওই দুইজনকে তিন দিনের পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এই দুই মূল চক্রীর কাছ থেকে আরও বিশদ তথ্য জানার জন্য এদিন মালদা আদালতের কাছে নতুন করে পাঁচ দিনের পুলিশি হেফাজতের আবেদন জানানো হয়। বিচারক সেই আবেদন মঞ্জুর করে।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ইংরেজবাজার পুরসভার ২২ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল দলের কাউন্সিলর বাবলা সরকার খুনের ঘটনায় ধৃত অমিত রজকের বাড়ি থেকে কৃষ্ণ রজক অরফে রোহানের ব্যবহৃত একটি মোবাইল উদ্ধার হয়েছে। সেই মোবাইলের সূত্র থেকে অনেক তথ্য পুলিশের হাতে উঠে আসতে পারে বলেও ধারণা তদন্তকারী পুলিশকর্তাদের। যদিও বাবলা সরকার খুনের ঘটনায় এখনো পর্যন্ত সাতজন গ্রেফতার হলেও আরও তিনজন বাবলু যাদব, কৃষ্ণ রাজক এবং বিহারের বাসিন্দা আশরাফ খান পলাতক রয়েছে।পুলিশ জানিয়েছে, তৃণমূল নেতা বাবলা সরকার খুনের ঘটনায় প্রাথমিকভাবে দুই মূলচক্রী নরেন্দ্রনাথ তেওয়ারি এবং স্বপন শর্মাকেই মনে করা হচ্ছে। কিন্তু তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে তদন্তকারী পুলিশকর্তারা সন্তুষ্ট নয়। তাই এদিন ধৃত ওই দুইজনকে বাড়তি পাঁচ দিনের পুলিশি হেফাজত নেওয়া হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে এই ঘটনার পিছনে আরও কেউ জড়িত রয়েছে কিনা সেটিও জানার চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ। এদিকে বাবলা সরকার খুনের ঘটনায় ধৃত দুই অপরাধী নরেন্দ্রনাথ তেওয়ারি এবং স্বপন শর্মাকে পুলিশি হেফাজতে নিয়ে আলাদাভাবে রাখার ব্যবস্থা করে পুলিশ।

জানুয়ারি ১০, ২০২৫
রাজনীতি

বাবলা সরকার খুনে ধৃত নরেন্দ্রনাথ "চিরস্থায়ী" বহিষ্কৃত, মালদায় তৃণমূলের ঘোষণা

মালদার তৃণমূল নেতা বাবলা সরকার খুনের ঘটনায় গ্রেফতার দলের ইংরেজবাজার টাউন সভাপতি নরেন্দ্রনাথ তেওয়ারিকে বহিষ্কার করলো দল। বৃহস্পতিবার বিকালে এক সাংবাদিক বৈঠক ডেকে এই বহিষ্কারের কথা ঘোষণা করেছেন তৃণমূলের জেলা সভাপতি তথা বিধায়ক আব্দুর রহিম বক্সী। এদিন ইংরেজবাজার শহরের স্টেশন রোড এলাকার দলীয় কার্যালয়ে এই সাংবাদিক বৈঠকে উপস্থিত হয়েছিলেন তৃণমূলের জেলা সভাপতি আব্দুর রহিম বক্সী ছাড়া ইংরেজবাজার পুরসভার চেয়ারম্যান কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরী, আইএনটিটিইউসির জেলা সভাপতি শুভদীপ সান্যাল সহ অন্যান্য কাউন্সিলাররা। তৃণমূলের জেলা সভাপতি আব্দুর রহিম বক্সী বলেন, গত এক বছর ধরে দলের কোনও কর্মসূচিতে দেখা যায়নি তৃণমূলের টাউন সভাপতি নরেন্দ্রনাথ তেওয়ারিকে। উনি অসুস্থ ছিলেন বলেই জানতাম। তাকে আপাতত চিরস্থায়ী ভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। ইংরেজবাজার টাউন সভাপতির পদে নতুন কাকে দায়িত্ব দেওয়া হবে সেটা রাজ্য নেতৃত্ব ঠিক করবে। এদিকে এদিন পুলিশের হেফাজতে থাকা বাবলা সরকার খুনে ধৃত নরেন্দ্রনাথ তেওয়ারি ইংরেজবাজার থানা থেকে হাসপাতালে মেডিকেল করতে যাওয়ার পথে বলেন, দল যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে সেটাই মানতে হবে।

জানুয়ারি ০৯, ২০২৫
রাজনীতি

বাবলা সরকার খুনে তৃণমূল সভাপতির পুলিশ হেফাজত, আসল মাথা ধরার দাবিতে অনড় স্ত্রী

মালদার জনপ্রিয় তৃণমূল নেতা দুলাল সরকার ওরফে বাবলাকে খুন করার ঘটনায় মাস্টারমাইন্ড নরেন্দ্রনাথ তেওয়ারি এবং স্বপন শর্মাকে ৩ দিনের পুলিশি হেফাজত দিল আদালত। বুধবার বিকালে কলকাতার ভবানী ভবন থেকে এডজি(দক্ষিণবঙ্গ) সুপ্রতিম সরকার সাংবাদিক বৈঠকে মালদার তৃণমূল নেতা বাবলা সরকার খুনের ঘটনায় মাস্টারমাইন্ড ওই দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতারের কথা জানিয়েছেন। এদিকে বুধবার গ্রেফতারের পরই ইংরেজবাজার থানা থেকে আদালতে যাওয়ার পথে ধৃত নরেন্দ্রনাথ তেওয়ারির বিস্ফোরক দাবি, আমাকে ফাঁসানো হচ্ছে। এর পেছনে বড় মাথা রয়েছে। এদিকে এই ঘটনার পরই মৃত বাবলা সরকারের স্ত্রী চৈতালি সরকার বলেন, এর পেছনে বড় মাস্টারমাইন্ড রয়েছে। তাহলে কে এই মাস্টারমাইন্ড? সবকিছু নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর দ্বারস্থ হতে চলেছেন তিনি। এই খুনের ঘটনায় এখনও পর্যন্ত নরেন্দ্রনাথ তেওয়ারিসহ সাতজনকে গ্রেপ্তার করলো ইংরেজবাজার থানার পুলিশ। অধরা এখনও দুই। মঙ্গলবার বেলা একটা থেকে নরেন্দ্রনাথ তেওয়ারি ও তার দুই ভাইকে রাতভর জেরা করেন পুলিশ সুপার প্রদীপ কুমার যাদবের নেতৃত্বে একটি স্পেশাল টিম। বুধবার সকলেই ঘোষণা করা হয় নরেন্দ্রনাথ তেয়াওরি এবং আরেক অভিযুক্ত স্বপন শর্মাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। দুইজন বাবলু যাদব এবং কৃষ্ণ রজক এখনও গা ঢাকা দিয়ে রয়েছে। তাদের ছবি প্রকাশ করে দুই লক্ষ টাকার পুরস্কার ঘোষণা করেছে মালদা জেলা পুলিশ। এদিকে নরেন্দ্রনাথ গ্রেপ্তারের ঘটনায় চরম অস্বস্তিতে জেলা তৃণমূল নেতৃত্ব। জেলা তৃণমূলের সভাপতি আব্দুর রহিম বকশী বলেন, যে অপরাধ করবে তাকে পুলিশ গ্রেফতার করবে। সে দলের যেই হোন না কেন। তৃণমূলের ইংরেজবাজার টাউন সভাপতি নরেন্দ্রনাথ তেওয়ারি রাজ্যের মন্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিনের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। যদিও মন্ত্রীর স্পষ্ট বক্তব্য, নরেন্দ্রনাথ তেওয়ারি আমার কোনদিনও ঘনিষ্ঠ ছিল না। এদিকে এদিন মৃত তৃণমূল নেতা বাবলা সরকারের স্ত্রী চৈতালি সরকার বলেন, নরেন্দ্রনাথ তেওয়ারি এবং স্বপন শর্মা গ্রেপ্তার হয়েছে শুনেছি। তবে ওদের দুইজনকে ধরে চুপ করে থাকলেই হবে না। এই ঘটনার পিছনে আরও বড় মাথা কাজ করেছে। পুলিশের প্রকৃত তদন্ত এবং সঠিক বিচারের আশায় রয়েছি।তৃণমূল পরিচালিত ইংরেজবাজার পুরসভার চেয়ারম্যান কৃষ্ণেন্দু নারায়ন চৌধুরী বলেন, স্বপন শর্মার বাম জমানায় নানা কর্মকাণ্ড আছে। একসময় স্বপন শর্মা আমাকেও খুন করার চেষ্টা করেছিল। আর নরেন্দ্রনাথ গত পুরসভা নির্বাচনে বাবলার সাথে গোলমালের পর বলেছিল দেখে নেবে। ওকে গুলি করে খুন করবে। আর সেটাই ঘটল। তবে এখানে রাজনীতির কোন বিষয় জড়িত নয়। বিজেপি নেতা অম্লান ভাদুরি বলেন, এটা সম্পূর্ণ তৃণমূলের দলীয় গোষ্ঠী কোন্দল। এলাকা দখল ও এলাকার তোলাবাজির জন্যই খুন। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত দেড় মাস আগে এই ষড়যন্ত্র করা হয়। মালদা শহরের একটি বেসরকারি হোটেলে বসে সুপারি দেওয়া হয় বিহারের দুই সুপারি কিলারকে। ৬ দিন ধরে দুষ্কৃতীরা বাবলা সরকারের গতিবিধির রেইকি করছিল। ২৫ ডিসেম্বর থেকে ১ জানুয়ারি ভীড়ের সুযোগ নিয়ে খুন করার চক্রান্ত ছিল। কিন্তু তা করতে পারেনি দুষ্কৃতীরা। অবশেষে মহানন্দাপল্লী এলাকায় ২ জানুয়ারি গুলিবিদ্ধ হয়ে খুন করে বাবলা সরকারকে। এদিন এডিজি(দক্ষিণবঙ্গ) সিআইডি সুপ্রতিম সরকার কলকাতায় এক সাংবাদিক বৈঠক করে জানিয়েছেন, এই চক্রান্ত করেছিল নরেন্দ্রনাথ তেওয়ারি ও স্বপন শর্মা। স্বপন শর্মা একজন কুখ্যাত দুষ্কৃতী। তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ রয়েছে। এদিন দুই অভিযুক্তকে আদালতে তুললে তাদের আইনজীবীরা অসুস্থতা ও বয়সের কারণে তাদের জামিনের আবেদন করে। কিন্তু বিচারক জামিন নাকচ করে দিয়েছেন। সরকারি আইনজীবীর দাবি মেনে ধৃতদের তিন দিনের পুলিশ হেফাজতে পাঠান বিচারক।

জানুয়ারি ০৯, ২০২৫
রাজনীতি

ফিল্মি কায়দায় মালদার তৃণমূল নেতাকে খুন, কেন দেহরক্ষী তুলে নেওয়া হয়েছিল? শুরু জোর বিতর্ক

এ যেন হিন্দি সিনেমার শুটিং। মালদার জনপ্রিয় তৃণমূল নেতাকে শুট আউট করলো দুষ্কৃতীরা। বাড়ির সামনে থেকে ধাওয়া করে দোকানের ভিতর ঢুকে পরপর মাথায় তিনটে গুলি করে খুন করা হল মালদা জেলা তৃণমূল নেতা তথা ইংরেজবাজার পুরসভার ২২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর বাবলা সরকারকে(৬২)। বৃহস্পতিবার সকাল ১০ টায় এই রোমহর্ষক ঘটনায় গোটা এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে।গুলিবিদ্ধ তৃণমূল নেতা বাবলা সরকারকে তাঁর অনুগামীরা মারাত্মক জখম অবস্থায় উদ্ধার করে মালদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। তবে শেষরক্ষা হয়নি। হাসপাতালের চিকিৎসকরা মৃত বলে জানিয়ে দেন। এরপরই শহরের একটা অংশে কার্যত বন্ধের চেহারা নেই। দুষ্কৃতীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে বিক্ষোভ দেখান জেলা তৃণমূলের নেতাকর্মীসমর্থকরা। মালদায় তৃণমূল নেতা বাবলা সরকার খুনের ঘটনায় পুলিশের ভূমিকায় অসন্তোষ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এক্স হ্যান্ডেলে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বাবলা সরকার আমার দীর্ঘদিনের সহযোদ্ধা ছিলেন। ওকে দুষ্কৃতীরা খুন করেছে। কি ভাষায় যে কথা বলব কিছু বুঝে উঠতে পারছি না। বাবলার পরিবারকে আমি সমবেদনা জানাচ্ছি। ওর স্ত্রী চৈতালি সরকার মনকে শক্ত রেখে এগিয়ে চলুক, ঈশ্বরের কাছে এই কামনা করছি।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতিদিনের মতো এদিন সকালে চার চাকা নিয়ে নিজের দোকানে আসছিলেন তিনি। ঠিক সেই সময় ইংলিশ বাজার পুরসভার ২২ নম্বর ওয়ার্ডের ঝলঝলিয়ার মহানন্দাপল্লী এলাকায় দোকানের কাছেই একটি মোটর বাইকে চারজন এসে তাঁকে গুলি করে। প্রথমে তাকে এক রাউন্ড গুলি করা হয়। প্রথম রাউন্ডের গুলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। এরপরই প্রাণ রক্ষার জন্য পাশের একটি দোকানে ঢুকে পড়েন বাবলা সরকার। এরপরই চারজন দুষ্কৃতী দোকানে ঢুকে তাঁকে তিন রাউন্ড গুলি করে। একটি গুলি মাথায় এবং দুটি শরীরে লাগে। সিসিটিভি ফুটেছে স্পষ্ট সেই ছবি দেখতে পেয়েছে পুলিশ। মুখ বাধা দুষ্কৃতীরা দোকানে ঢুকে একের পর এক গুলি করছে। এরপর রক্তাক্ত অবস্থায় বাবলা সরকারকে উদ্ধার করে মালদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসা হলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করে। তাঁর নিরাপত্তা রক্ষী কেন সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল, সেই প্রশ্নও তুলেছে বাবলাবাবুর অনুগামীরা। এদিকে এই ঘটনার পর গোটা এলাকা জুড়ে যেমন আতঙ্ক ছড়িয়েছে ঠিক সেইরকম শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এদিকে বাবলা সরকারের মৃত্যুর খবর পেয়ে মালদায় আসেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম, সেচ দপ্তরের রাষ্ট্রমন্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন এবং শিলিগুড়ির মেয়র গৌতম দেব। তবে কেন গুলি করে খুন করা হলো বাবলা সরকারকে তা নিয়ে এখনও দ্বন্ধে রয়েছে সকলেই। পুলিশকে বাবলা সরকারের গাড়ির চালক সুমন দাস জানিয়েছেন, প্রতিদিনের মতোই এদিন সকালে দাদাকে বাড়ি থেকে প্লাইউডের দোকান ও কারখানায় ছাড়তে গিয়েছিলাম। মহানন্দাপল্লীতে দাদার দোকানটি রয়েছে। দোকানের সামনে দাদা যখন গাড়ি থেকে নামছিলেন তখনই চারজন দুষ্কৃতী একটি মোটরবাইকে এসে দাদাকে গুলি করে। প্রথম গুলিটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। তারপরেই বাবলাদা দৌড়ে দোকানে ঢুকে পড়ে। তখন দুষ্কৃতীরা পিছু ধাওয়া করে দাদাকে দোকানের মধ্যেই মাথায় গুলি করে খুন করে। আমি বাঁচাতে আসলে ওরা আমাকেও বন্দুক দেখিয়ে গুলি করার ভয় দেখায়, তখন প্রাণ বাঁচাতে পালিয়ে যাই। মৃত বাবলা সরকারের স্ত্রী চৈতালি দেবী বলেন, কেন এভাবে আমার স্বামীকে খুন করা হলো কিছু বুঝতে পারছি না। ২০০৭ সালে স্বামীকে একবার দুষ্কৃতীরা গুলি করে মারার চেষ্টা চালিয়েছিল। তারপর দুইজন দেহরক্ষীও নেওয়া হয়েছিল। ২০২১ সালে সেই দেহরক্ষী তুলে নেয় জেলা প্রশাসন। আজকে স্বামীর দেহরক্ষী থাকলে হয়তো ওকে হারাতাম না। এর জবাব পুলিশ কে দিতে হবে। ইংরেজবাজার পুরসভার চেয়ারম্যান তথা রাজ্য তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক কৃষ্ণেন্দু নারায়ন চৌধুরী বলেন, বাবলা সরকারের রাজনৈতিক কোন শত্রু ছিল না। এর পিছনে অন্য কিছু রহস্য থাকতে পারে। পরিকল্পিতভাবেই খুন করা হয়েছে তাঁকে। ভাবতেই পারছি না যে বাবলা সরকার নেই। তৃণমূলের জেলা সভাপতি তথা বিধায়ক আব্দুর রহিম বক্সী বলেন, বাবলা সরকার আমাদের মধ্যে নেই ভাবতেই পারছি না। সাত সকালে দুষ্কৃতীদের এই তান্ডব দেখে রীতিমতো অবাক হচ্ছি। ২৪ ঘন্টার মধ্যে অপরাধীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানানো হয়েছে।বিজেপির জেলা সাধারণ সম্পাদক অম্লান ভাদুরি বলেন, আসলে শাসকদলের যোগ্য নেতাদের কদর নেই। বাবলাবাবু অত্যন্ত ভালো মানুষ ছিলেন। সাধারণ মানুষের জন্য অনেক উপকার করেছেন। অথচ তারই দেহরক্ষী তুলে নেওয়া হয়েছে। অযোগ্যদের এখন একগাদা দেহরক্ষী দেওয়া হচ্ছে। পুলিশের ভূমিকা নিয়ে আমরাও অসন্তুষ্ট। মানুষ এর বিচার করবে। পুলিশ সুপার প্রদীপ কুমার যাদব জানিয়েছেন, ঘটনাস্থল থেকে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। দুষ্কৃতীদের মুখ ঢাকা ছিল বলে চিহ্নিত করতে সমস্যা হচ্ছে। তবে গোটা এলাকায় নাকা তল্লাশি শুরু হয়েছে। আপাতত ২ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য আটক করা হয়েছে। এদিকে তৃণমূল নেতা খুনের পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে পরিবারকে সমবেদনা জানাতে হেলিকপ্টারে করে মালদা যান রাজ্যের পুর ও নগরন্নোয়ন দপ্তরের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। বৃহস্পতিবার বিকেলে মন্ত্রী ফিরহাদের সঙ্গে ছিলেন রাজ্যের সেচ দপ্তরের আরেক রাষ্ট্রমন্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন সহ জেলা তৃণমূল নেতৃত্ব। এদিন মালদায় মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম প্রথমে মেডিকেল কলেজে বাবলা সরকারের মৃতদেহে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। পরে কনভয় নিয়ে সোজা চলে যান বাবলা সরকারের সুকান্তপল্লী এলাকার বাড়িতে। সেখানে স্ত্রী চৈতালি সরকারের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ কথা বলেন। তাঁকে সমবেদনা জানান। মন্ত্রী ফিরাদ হাকিম বলেন, বাবলা সরকার খুনের ঘটনার পরেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে আমি মালদায় এসেছি। নির্দেশ দেওয়া হয়েছে অপরাধী যেই হোক না কেন দ্রুত তাদের গ্রেপ্তারের পর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। একজন তৃণমূল নেতা শহরের বুকে খুন হয়ে যাবে, এটা মেনে নেওয়া সম্ভব না। এছাড়াও বাবলাবাবুর দেহরক্ষী তুলে নেওয়া হয়েছিল সেটাও আমরা জানতাম না। কে এবং কেন বাবলাবাবুর দেহরক্ষী গত তিন বছর আগে তুলে নিয়েছিল, সেটাও আমরা খোঁজ নিয়ে দেখব। অত্যন্ত মিষ্টিভাষী মানুষের এরকম শত্রু হতে পারে ভাবতেই অবাক লাগছে। ওনার পরিবারকে সমবেদনা জানিয়েছি। ইতিমধ্যে দুইজন দুষ্কৃতী ধরা পড়েছে বলেও পুলিশ সুপার প্রদীপ কুমার যাদব জানিয়েছেন। ধৃতদের মধ্যে একজনের বাড়ি বিহারে। অপরজনের বাড়ি ইংরেজবাজারে।

জানুয়ারি ০২, ২০২৫

ট্রেন্ডিং

রাজ্য

দুর্গাপুরে জঙ্গলে নেহরুর মূর্তি! ২৪ ঘণ্টার ‘ডেডলাইন’ কংগ্রেসের, বিজেপির পালটা দাবি—‘চোরা তৃণমূলীরাই দায়ী’

দুর্গাপুর, ৩০ আগস্ট: রাজনৈতিক মতাদর্শের লড়াই এবার পৌঁছে গেল দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর মূর্তি ঘিরে বিতর্কে। দুর্গাপুরের একটি মেডিটেশন সেন্টারের সামনে থেকে নেহরুর বিশাল মূর্তি ক্রেনের সাহায্যে তুলে পাশের জঙ্গলে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই সরব হয়েছে কংগ্রেস। তাদের অভিযোগের তির বিজেপির দিকে। যদিও সেই অভিযোগ সরাসরি খারিজ করে বিজেপির স্থানীয় বিধায়ক পালটা দাবি করেছেন, এই ঘটনার নেপথ্যে রয়েছে কংগ্রেসেরই একটি অংশ এবং চোরা তৃণমূলীরা।দুর্গাপুরের হর্ষবর্ধন প্রাইমারি স্কুলের পাশে একটি মেডিটেশন সেন্টারের সামনে দীর্ঘদিন ধরে পণ্ডিত জওহরলাল নেহরুর একটি বড় মূর্তি ছিল। কংগ্রেসের অভিযোগ, শুক্রবার সেখানে রাখিবন্ধন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। অনুষ্ঠানের জন্য জায়গা তৈরি করতেই ক্রেন এনে নেহরুর মূর্তিটি সরিয়ে দেওয়া হয়। পরে সেটি স্কুল সংলগ্ন জঙ্গলের মধ্যে ফেলে রাখা হয় বলে অভিযোগ।মূর্তি সরিয়ে ফেলার খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়। কংগ্রেসের স্থানীয় নেতৃত্ব ঘটনাস্থলে গিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে এবং প্রশাসনের কাছে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানায়। তাদের প্রশ্ন, দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী এবং স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নেতার মূর্তির সঙ্গে এমন আচরণ কেন করা হল?জেলা কংগ্রেস সভাপতি দেবেশ চক্রবর্তী ঘটনাটির তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে প্রশাসনকে কার্যত সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন। তাঁর দাবি, ক্রেনের সাহায্যে নেহরুর মূর্তি উপড়ে নিয়ে গিয়ে জঙ্গলে ফেলে দেওয়া হয়েছে এবং সেই জায়গায় পরবর্তীতে রাখিবন্ধন অনুষ্ঠান করা হয়েছে। তাঁর আরও অভিযোগ, অনুষ্ঠানে দুর্গাপুর পূর্বের বিজেপি বিধায়ক চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতিও ছিল।Press ReleaseThe Pradesh Congress strongly condemns the desecration of the statue of the countrys first Prime Minister, Pandit Jawaharlal Nehru; Shri @subhankar_cong demands the immediate reinstallation of the statue and the arrest of the culprits.Kolkata, August 30, 2026: pic.twitter.com/SImtSOHvX8 West Bengal Congress (@INCWestBengal) August 30, 2026দেবেশ চক্রবর্তীর বক্তব্য, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নেহরুর মূর্তিকে যথাযথ মর্যাদার সঙ্গে পূর্বের জায়গায় পুনঃস্থাপন করতে হবে। তা না হলে বৃহত্তর আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারিও দিয়েছে কংগ্রেস।তবে কংগ্রেসের এই অভিযোগকে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন দুর্গাপুর পূর্বের বিজেপি বিধায়ক চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর পালটা অভিযোগ, কংগ্রেসেরই একটি অংশ গোপনে তৃণমূলে যোগ দিয়েছে এবং সেই চোরা তৃণমূলীরাই নেহরুর মূর্তি সরিয়ে দেওয়ার সঙ্গে যুক্ত।বিজেপি বিধায়কের দাবি, ঘটনার দায় বিজেপির উপর চাপানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। তাঁর বক্তব্য, বিজেপির সঙ্গে এই ঘটনার কোনও সম্পর্ক নেই। বরং কারা মূর্তিটি সরিয়েছে, তা তদন্ত করে প্রকৃত সত্য সামনে আনা উচিত।নিজের বক্তব্যের পক্ষে অতীতের একটি ঘটনারও উল্লেখ করেন চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, দুর্গাপুরের এভিএল কার্যালয়ের সামনে একাধিক ইউনিয়ন অফিস ভাঙার সময় তাঁর হস্তক্ষেপেই রাজীব গান্ধীর মূর্তিটি রক্ষা পেয়েছিল। ফলে বিজেপি কখনও রাজনৈতিক নেতাদের মূর্তি ভাঙচুরকে সমর্থন করে না বলেও তাঁর দাবি।চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, নেহরুর মূর্তি ভাঙার ঘটনায় বিজেপির কোনও ভূমিকা নেই। বরং যারা এই কাজ করেছে, তাদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতেও তাঁর দল রয়েছে।এদিকে, ঘটনাটি নিয়ে এবার সরব হয়েছে পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেসও। ৩০ আগস্ট প্রকাশিত এক বিবৃতিতে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার নেহরুর মূর্তি সরিয়ে জঙ্গলে ফেলে দেওয়ার ঘটনাকে তীব্র নিন্দা করেছেন।শুভঙ্কর সরকারের বক্তব্য, নেহরু শুধু কংগ্রেসের নেতা ছিলেন নাতিনি ছিলেন ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী, স্বাধীনতা সংগ্রামী এবং আধুনিক ভারত নির্মাণের অন্যতম প্রধান স্থপতি। তাঁর মূর্তি এভাবে সরিয়ে জঙ্গলে ফেলে দেওয়া শুধুমাত্র একটি মূর্তির অবমাননা নয়, বরং দেশের ইতিহাস ও স্বাধীনতা সংগ্রামের ঐতিহ্যের প্রতিও অসম্মান।তবে এই ঘটনার পিছনে কোন রাজনৈতিক দলের হাত রয়েছে, তা নিয়ে সরাসরি কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছতে নারাজ প্রদেশ কংগ্রেস। দলের দাবি, প্রশাসন ও পুলিশ নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করুক এবং তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিক।প্রদেশ কংগ্রেসের পক্ষ থেকে অবিলম্বে নেহরুর মূর্তি পূর্বের স্থানে পুনঃস্থাপনের পাশাপাশি ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেফতারের দাবি জানানো হয়েছে। সেই সঙ্গে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে, দাবি পূরণ না হলে বৃহত্তর গণতান্ত্রিক আন্দোলনে নামবে কংগ্রেস।ফলে দুর্গাপুরে নেহরুর মূর্তি ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন রাজনৈতিক চাপানউতোর। একদিকে কংগ্রেসের অভিযোগের নিশানায় বিজেপি, অন্যদিকে বিজেপির পালটা অভিযোগ তৃণমূলের দিকে। মূর্তি কে সরাল, কেন সরানো হল এবং ঘটনাটির পিছনে আসল কারণ কীএই প্রশ্নগুলির উত্তর এখন পুলিশের তদন্তের দিকেই তাকিয়ে।

আগস্ট ৩০, ২০২৬
কলকাতা

জনতার দরবারে মুখ্যমন্ত্রী, এবার সরাসরি আমলা-পুলিশের কাছে অভিযোগ! সপ্তাহে দু’দিন খুলছে দরজা

সরকারি পরিষেবা নিয়ে অভিযোগ বা সমস্যা হলে এবার থেকে সাধারণ মানুষ সরাসরি উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের সঙ্গে দেখা করতে পারবেন। এই মর্মে নতুন নির্দেশিকা জারি করেছে রাজ্য সরকার। সপ্তাহে দুদিন নির্দিষ্ট সময়ে সাধারণ মানুষের জন্য সরকারি অফিস খোলা রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।নির্দেশিকা অনুযায়ী, প্রতি সপ্তাহের মঙ্গলবার ও বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে সাধারণ মানুষ সরকারি আধিকারিকদের সঙ্গে সরাসরি দেখা করতে পারবেন। এর জন্য আগে থেকে কোনও অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেওয়ার প্রয়োজন হবে না। ওই দুই দিন আধিকারিকদের সাধারণ মানুষের অভিযোগ ও সমস্যার কথা শুনতে হবে।এই সময়ে আধিকারিকদের যাতে বাইরে সরকারি কাজে যেতে না হয়, সেই বিষয়েও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ নির্দিষ্ট সময়ে অফিসে উপস্থিত থেকে সাধারণ মানুষের সঙ্গে দেখা করাকেই অগ্রাধিকার দিতে হবে তাঁদের।সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য সংশ্লিষ্ট আধিকারিকের সরকারি ই-মেইল এবং মোবাইল নম্বরও প্রকাশ করতে হবে। অফিসে এমন জায়গায় এই তথ্য রাখতে হবে, যাতে সহজেই তা সাধারণ মানুষের নজরে আসে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট দফতর বা বিভাগের সরকারি ওয়েবসাইটেও ওই তথ্য স্পষ্টভাবে প্রকাশ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।নতুন ব্যবস্থার আওতায় একাধিক স্তরের সরকারি আধিকারিকদের সঙ্গে সরাসরি দেখা করার সুযোগ থাকবে। বিভাগীয় কমিশনার, জেলা শাসক, পুর কমিশনার, উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের প্রধান আধিকারিক, অতিরিক্ত জেলা শাসক, মহকুমা শাসক এবং সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিকের মতো আধিকারিকদের কাছে সাধারণ মানুষ নিজেদের সমস্যার কথা জানাতে পারবেন।পুরসভার নির্বাহী আধিকারিক থেকে শুরু করে পুলিশের শীর্ষ আধিকারিকদের কাছেও অভিযোগ জানানো যাবে। পুলিশ প্রশাসনের ক্ষেত্রে মহাপরিচালক, অতিরিক্ত মহাপরিচালক, মহাপরিদর্শক, পুলিশ কমিশনার, উপমহাপরিদর্শক, পুলিশ সুপার, উপপুলিশ কমিশনার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, মহকুমা পুলিশ আধিকারিক এবং থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিকদের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ থাকবে।বন দফতরের ক্ষেত্রেও একাধিক উচ্চপদস্থ আধিকারিকের সঙ্গে সাধারণ মানুষের সরাসরি যোগাযোগের ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রধান মুখ্য বনপাল, অতিরিক্ত প্রধান মুখ্য বনপাল, মুখ্য বনপাল, বিভাগীয় বন আধিকারিক, অতিরিক্ত বিভাগীয় বন আধিকারিক এবং বনাঞ্চল আধিকারিকদের কাছেও অভিযোগ জানানো যাবে।রবিবার মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল এই নির্দেশিকা জারি করেছেন। নতুন নির্দেশ কার্যকর হচ্ছে কি না এবং সরকারি আধিকারিকেরা নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে সাধারণ মানুষের সঙ্গে দেখা করছেন কি না, তা খতিয়ে দেখবে রাজ্যের কর্মীবর্গ দফতর।মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী প্রতি শনিবার সাধারণ মানুষের অভাব-অভিযোগ শোনার জন্য জনতার দরবারে বসেন। এবার সরকারি পরিষেবা সংক্রান্ত সমস্যার দ্রুত সমাধানের লক্ষ্যে সেই ব্যবস্থার পাশাপাশি প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরেও সাধারণ মানুষের সরাসরি অভিযোগ জানানোর সুযোগ তৈরি করা হল।

আগস্ট ৩০, ২০২৬
দেশ

উত্তম-সত্যজিৎ স্মরণে মোদি, বাংলার দুই কিংবদন্তিকে শ্রদ্ধা প্রধানমন্ত্রীর

বাংলা চলচ্চিত্রের দুই কিংবদন্তি অভিনেতা উত্তম কুমার এবং পরিচালক সত্যজিৎ রায়কে স্মরণ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বাংলা সিনেমার ইতিহাসে তাঁদের অবদান এবং ভারতীয় চলচ্চিত্রকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁদের ভূমিকার কথা তুলে ধরে শ্রদ্ধা জানালেন তিনি।উত্তম কুমার শুধু বাংলা ছবির জনপ্রিয় নায়ক ছিলেন না, তিনি বাঙালির সাংস্কৃতিক আবেগেরও অন্যতম প্রতীক। তাঁর অভিনয়, ব্যক্তিত্ব এবং পর্দায় উপস্থিতি কয়েক দশক ধরে দর্শকদের মুগ্ধ করেছে। বাংলা চলচ্চিত্রে তাঁর সঙ্গে সুচিত্রা সেনের জুটি আজও কিংবদন্তির মর্যাদা পায়। তাঁর অভিনীত একাধিক ছবি বাংলা সিনেমার স্বর্ণযুগের স্মারক হয়ে রয়েছে। সেই কারণেই উত্তম কুমারের নাম উচ্চারিত হলেই বাঙালির নস্টালজিয়ায় ফিরে আসে এক বিশেষ সময়।অন্যদিকে সত্যজিৎ রায় ছিলেন ভারতীয় চলচ্চিত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নির্মাতা। তাঁর সৃষ্টিশীলতা শুধু বাংলা বা ভারতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র জগতেও তিনি তৈরি করেছিলেন নিজের স্বতন্ত্র পরিচয়। পথের পাঁচালী থেকে শুরু করে একাধিক কালজয়ী ছবির মাধ্যমে তিনি ভারতীয় চলচ্চিত্রকে বিশ্বদর্শকের কাছে নতুনভাবে তুলে ধরেন। তাঁর নির্মাণশৈলী, গল্প বলার ধরন এবং মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি আজও চলচ্চিত্রপ্রেমীদের কাছে অনুপ্রেরণা।প্রধানমন্ত্রীর এই স্মরণে উঠে এসেছে বাংলা সংস্কৃতির দুই ভিন্ন ধারার দুই মহীরুহের অবদানের কথাই। একজন অভিনয়ের জাদুতে দর্শকের হৃদয়ে স্থায়ী জায়গা করে নিয়েছিলেন, অন্যজন ক্যামেরার ভাষায় ভারতীয় জীবনের গল্পকে বিশ্বমঞ্চে পৌঁছে দিয়েছিলেন।উত্তম কুমার ও সত্যজিৎ রায়ের সৃষ্টির প্রভাব প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে টিকে রয়েছে। সময় বদলেছে, বদলেছে চলচ্চিত্রের ভাষাও। কিন্তু তাঁদের কাজের আবেদন এখনও অমলিন। প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধাজ্ঞাপন তাই কেবল দুই শিল্পীকে স্মরণ নয়, বাংলা চলচ্চিত্রের সেই গৌরবময় অধ্যায়ের প্রতিও এক সম্মান প্রদর্শন।রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করে লিখেছেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর #MannKiBaat-এর অনুষ্ঠানে উঠে এলেন বাংলার মহানায়ক উত্তম কুমার। আপামর বাঙালির কাছে এ এক গর্বের মুহূর্ত, আবেগের মুহূর্ত।আগামী ৩ সেপ্টেম্বর বাংলা চলচ্চিত্র জগতের মহানায়ক উত্তম কুমারের ১০০তম জন্মবার্ষিকী। এই ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যেভাবে ভারতীয় ও বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি শিল্পী উত্তম কুমারের অনন্য প্রতিভা, অভিনয় দক্ষতা, কাজের প্রতি নিষ্ঠা ও কালজয়ী অবদানকে স্মরণ করলেন, তা নিঃসন্দেহে বাংলার মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে যায়।উত্তম কুমার শুধু বাংলা চলচ্চিত্রের মহানায়কই ননতিনি বাঙালির আবেগ, সংস্কৃতি, স্মৃতি ও আত্মপরিচয়ের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাঁর অভিনয়, তাঁর ব্যক্তিত্ব, তাঁর সৃষ্ট চরিত্র আজও প্রজন্মের পর প্রজন্মকে মুগ্ধ করে।বাংলার সংস্কৃতি ও বাংলার গৌরবকে জাতীয় মঞ্চে যে সম্মান প্রধানমন্ত্রী দিয়েছেন, তার জন্য তাঁকে জানাই আন্তরিক কৃতজ্ঞতা।

আগস্ট ৩০, ২০২৬
বিনোদুনিয়া

‘দাদাগিরি’র পর এবার ‘বিগ বস’, সৌরভের সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ শুরু আজ

দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান। আজ, রবিবার থেকেই বাংলার টেলিভিশনের পর্দায় শুরু হচ্ছে বহু প্রতীক্ষিত বিগ বস বাংলা। তবে এবারের আকর্ষণ শুধু প্রতিযোগীদের নিয়ে নয়। এই রিয়্যালিটি শোয়ের মঞ্চে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এসেছে সঞ্চালকের আসনে। ক্রিকেটের মাঠে নেতৃত্ব দিয়ে যিনি এক সময় ভারতীয় ক্রিকেটের ছবিটাই বদলে দিয়েছিলেন, সেই সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়কেই এবার দেখা যাবে বিগ বস বাংলার মুখ হিসেবে। প্রায় এক দশক পর বাংলায় ফিরছে অনুষ্ঠানটি।সৌরভের কাছে অবশ্য এই দায়িত্ব একেবারেই নতুন নয়। দীর্ঘদিন ধরে টেলিভিশনের জনপ্রিয় রিয়্যালিটি শো সঞ্চালনা করেছেন তিনি। কিন্তু বিগ বস-এর চরিত্র আলাদা। এখানে শুধু হাসি-ঠাট্টা বা প্রতিযোগিতার সঞ্চালনা নয়, প্রতিদিনের সম্পর্কের টানাপোড়েন, মতবিরোধ, আবেগ, কৌশল এবং মানসিক চাপ, সবকিছুর মাঝখানে দাঁড়াতে হবে সঞ্চালককে। সেই জায়গাতেই সৌরভের উপস্থিতি এবারের শোকে অন্য মাত্রা দিতে পারে।এই খেলায় ব্যাট হাতে রান করার সুযোগ নেই। নেই প্রতিপক্ষের বোলিং পড়ে নেওয়ার সুবিধাও। বরং একই ছাদের নীচে থাকা একাধিক মানুষের আচরণ, সিদ্ধান্ত এবং পারস্পরিক সমীকরণই হয়ে উঠবে মূল আকর্ষণ। কে বন্ধুত্বকে কাজে লাগাবেন, কে নিজের অবস্থান ধরে রাখবেন, কে চাপের মুহূর্তে ভুল করবেন, সেটাই ধীরে ধীরে স্পষ্ট হবে।শোয়ের নির্মাতারা প্রতিযোগীদের পরিচয় নিয়ে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত কৌতূহল ধরে রেখেছেন। বিভিন্ন ক্ষেত্রের পরিচিত মুখদের পাশাপাশি বিনোদন এবং সোশ্যাল মিডিয়া জগতের একাধিক নাম নিয়েও জল্পনা রয়েছে। তবে চূড়ান্ত তালিকা জানার জন্য দর্শকদের নজর থাকবে আজকের গ্র্যান্ড ওপেনিংয়ের দিকে।স্টার জলসা এবং জিওহটস্টারে সম্প্রচারিত হবে এই নতুন অধ্যায়। ফলে আজ রাত থেকেই বোঝা যাবে, দাদা কি পারবেন ক্রিকেটের মাঠের মতোই টেলিভিশনের এই জটিল খেলাতেও নিজের ছাপ রাখতে? উত্তর খুঁজতেই আজ পর্দার সামনে বসবে বাংলা।

আগস্ট ৩০, ২০২৬
বিদেশ

নেপালে ভয়াবহ হড়পা বান, মৃতের সংখ্যা সাতশো পেরিয়ে! প্রায় তিন হাজার নিখোঁজ, বড় সিদ্ধান্ত সরকারের

নেপালে হড়পা বানের ভয়াবহতা ক্রমেই বাড়ছে। সময় যত গড়াচ্ছে, ততই মৃতের সংখ্যা বাড়ছে। এখনও পর্যন্ত সাতশোর বেশি মানুষের দেহ উদ্ধার হয়েছে। প্রায় তিন হাজার মানুষ এখনও নিখোঁজ বলে জানা যাচ্ছে। নিখোঁজদের মধ্যে বহু ভারতীয়ও রয়েছেন বলে খবর।বিপর্যয়ের পাঁচ দিন পর উদ্ধারকাজ জোরদার হলেও পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। ধ্বংসস্তূপ এবং কাদামাটির মধ্যে থেকে একের পর এক মৃতদেহ উদ্ধার হচ্ছে। অনেক দেহের পরিচয় এখনও জানা যায়নি। আবার বহু দেহ দাবি করার মতো পরিবারের কাউকেও পাওয়া যাচ্ছে না।এই পরিস্থিতিতে মৃতদেহ সংরক্ষণ করাই বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। নেপাল সরকারের আশঙ্কা, দেহগুলি দ্রুত পচে যাওয়ায় সংক্রমণের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। হাসপাতালে এবং অন্যত্র এত বিপুল সংখ্যক দেহ রাখার মতো জায়গাও নেই। পরিস্থিতি সামাল দিতে তাই পরিচয়হীন ও দাবিহীন মৃতদেহ গণকবর দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি দেহ উদ্ধার হয়েছে চিতওয়ান জেলা থেকে। সেখানে ২৩৩ জনের দেহ উদ্ধার হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। বিপুল সংখ্যক দেহ একসঙ্গে রাখার কারণে হাসপাতালগুলিতেও সমস্যা তৈরি হয়েছে। ইতিমধ্যেই কয়েকটি দেহ পচতে শুরু করেছে বলে প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে।তবে গণকবর দেওয়া হলেও মৃতদের পরিচয় যাতে পরে জানা যায়, তার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। প্রতিটি দেহ কবর দেওয়ার আগে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে রাখা হচ্ছে। ভবিষ্যতে কোনও নিখোঁজ ব্যক্তির পরিবারের সদস্যরা নেপালে এসে খোঁজ করলে তাঁদের ডিএনএ নমুনার সঙ্গে এই তথ্য মিলিয়ে দেখা হবে।শুধু ডিএনএ নমুনাই নয়, প্রতিটি মৃতদেহের আলাদা পরিচয় নম্বরও রাখা হচ্ছে। দেহগুলি বিশেষ ব্যাগে ভরে কবর দেওয়ার সময় সেই ব্যাগে পরিচয় নম্বর এবং অবস্থানের তথ্য দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে পরে কোনও দেহ শনাক্ত হলে ঠিক কোন জায়গায় সেটি কবর দেওয়া হয়েছিল, তা জানা সম্ভব হবে।পরবর্তীকালে দেহ তুলে শনাক্তকরণ বা পরিবারের হাতে তুলে দেওয়ার সুযোগও রাখা হচ্ছে। সেই কারণে গণকবর খুব গভীর করে খোঁড়া হচ্ছে না। প্রতিটি দেহের মধ্যে নির্দিষ্ট দূরত্ব রাখা হচ্ছে, যাতে ভবিষ্যতে প্রয়োজন হলে নির্দিষ্ট দেহটি আলাদা করে তোলা যায়।গণকবরের কাছেও একটি কংক্রিটের ব্যবস্থা করা হবে। সেখানে প্রতিটি মৃতদেহের পরিচয় নম্বর নথিভুক্ত থাকবে। ফলে ভয়াবহ বিপর্যয়ের পরেও মৃতদের পরিচয় যাতে পুরোপুরি হারিয়ে না যায়, সেই ব্যবস্থাই করছে নেপাল প্রশাসন।এদিকে উদ্ধারকাজ এখনও চলছে। ধ্বংসস্তূপের মধ্যে আরও মৃতদেহ থাকার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে আগামী দিনে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। নিখোঁজদের সন্ধান এবং মৃতদের পরিচয় শনাক্ত করাই এখন নেপাল প্রশাসনের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

আগস্ট ৩০, ২০২৬
কলকাতা

দেওয়ালে লেখা ছিল বিতর্কিত স্লোগান, রাত পেরোতেই সব সাদা! যাদবপুরে হঠাৎ কেন বদলে গেল ছবি?

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন দেওয়ালে বিতর্কিত স্লোগান লেখা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অভিযোগ, ক্যাম্পাসের কয়েকটি জায়গায় এমন কিছু লেখা ছিল, যা নিয়ে আপত্তি উঠেছে। শুক্রবার যাদবপুরের আট বি এলাকায় দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই ধরনের লেখালিখির বিরুদ্ধে কড়া বার্তা দেন। তার পরের রাতেই কয়েকটি বিতর্কিত লেখার উপর সাদা চুনকাম করা হয়।যাদবপুরের মুক্তমঞ্চের দেওয়ালে আগে একাধিক রাজনৈতিক ও বিতর্কিত বক্তব্য লেখা ছিল বলে জানা গিয়েছে। তার মধ্যে কয়েকটি লেখায় সশস্ত্র হিংসার পক্ষে বক্তব্য এবং মাওবাদী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের সমর্থনে স্লোগান ছিল বলে অভিযোগ। সেই লেখাগুলি ঘিরেই নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়।ভারতীয় জনতা পার্টির ছাত্র সংগঠনের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন জায়গায় দীর্ঘদিন ধরেই নকশালপন্থী মতাদর্শের সমর্থনে নানা ধরনের স্লোগান লেখা রয়েছে। সংগঠনের দাবি, ক্যাম্পাসে এমন লেখা থাকার পরেও দীর্ঘদিন কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।সংগঠনের এক প্রতিনিধি একটি দেওয়াল দেখিয়ে দাবি করেন, সেখানে কমরেড কিষেণজিকে সমর্থন করে লেখা ছিল। পরে সেই লেখাটিও মুছে ফেলা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি ওঠে। শুক্রবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বিতর্কিত দেওয়াল লিখনের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থানের কথা জানান। তার পরেই শনিবার রাতে কয়েকটি দেওয়ালে সাদা চুনকাম করতে দেখা যায়।তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকদের একাংশের বক্তব্য, দেওয়াল লিখন নিয়ে সমস্যা নতুন নয়। অধ্যাপক নন্দিনী মুখোপাধ্যায় বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের দেওয়ালে বিভিন্ন ধরনের লেখা দেখা যায়। সেগুলি বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়ারা লিখছেন, না কি বাইরের কেউ এসে লিখছে, তা সব সময় নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।তাঁর মতে, বিশ্ববিদ্যালয়ের দেওয়ালে এমন কোনও স্লোগান থাকা উচিত নয়, যা গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি জানান, এক সময় বিশ্ববিদ্যালয়ে দেওয়াল লিখনের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নিয়ম ছিল। পড়ুয়াদের লেখার জন্য নির্দিষ্ট জায়গাও করে দেওয়া হয়েছিল। পরে সেই নিয়ম আর আগের মতো কার্যকর থাকেনি বলে তাঁর দাবি।বিতর্কিত লেখাগুলি কে লিখেছিল, কখন লেখা হয়েছিল এবং বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছিল কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। রাতারাতি কয়েকটি লেখা মুছে ফেলার ঘটনাকে ঘিরে তাই নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই নজর রয়েছে।

আগস্ট ৩০, ২০২৬
সম্পাদকীয়

বিদ্রোহের আগুন থেকে সাম্যের গান—নজরুলের যে জীবন আজও আমাদের বিস্মিত করে

কাজী নজরুল ইসলামকে আমরা চিনি বিদ্রোহী কবি হিসেবে। চিনি সাম্যের কবি, প্রেমের কবি, মানবতার কবি হিসেবে। তাঁর কবিতা আবৃত্তি হয়েছে মঞ্চে, তাঁর গান বেজেছে ঘরে ঘরে, তাঁর বিদ্রোহের বার্তা উচ্চারিত হয়েছে দশকের পর দশক। কিন্তু নজরুলকে যতটা আমরা জানি, তার চেয়ে অনেক বেশি অজানা রয়ে গিয়েছে তাঁর বিস্ময়কর জীবনের নানা অধ্যায়।নজরুলের জীবন যেন এক চলমান উপন্যাসযেখানে একদিকে দারিদ্র্য, অন্যদিকে বিদ্রোহ; একদিকে সৈনিকের পোশাক, অন্যদিকে কবির কলম; একদিকে ইসলামী সংগীত ও গজল, অন্যদিকে শ্যামা সংগীত ও ভজন; একদিকে রাজনৈতিক সংগ্রাম, অন্যদিকে চলচ্চিত্রের রুপালি পর্দা। তিনি কোনও একটি পরিচয়ের মধ্যে নিজেকে বন্দি রাখেননি। বরং তাঁর জীবনই হয়ে উঠেছিল বহুত্বের এক অসাধারণ উদাহরণ।লেটো দলের মঞ্চ থেকেই শুরুকৈশোরেই দারিদ্র্যের কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হন নজরুল। সংসারের অভাব তাঁকে স্কুলের গণ্ডি থেকে দূরে সরিয়ে নিয়ে যায়। তিনি যুক্ত হন বাংলার লোকনাট্যের জনপ্রিয় ধারা লেটো দলে। সেখানে শুধু অভিনয়ই করেননিগান লিখেছেন, কবিতা লিখেছেন, নাটকের সংলাপ ও পালা রচনা করেছেন, সুর দিয়েছেন, সেই গান গেয়েছেন।এই লেটো-পর্বকে নজরুলের সাহিত্যিক জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ প্রশিক্ষণক্ষেত্র বলা যায়। লোকভাষা, ছন্দ, সুর, নাটকীয়তা এবং সাধারণ মানুষের জীবনযন্ত্রণাসবকিছুর সঙ্গে তাঁর প্রত্যক্ষ পরিচয় ঘটে এই সময়েই। পরবর্তী নজরুল-কাব্যে যে সহজ অথচ তীব্র ভাষা, তার শিকড় অনেকটাই এই লোকজ অভিজ্ঞতায়।সৈনিক নজরুল: যুদ্ধের ময়দান থেকে কবিতার পৃথিবী১৯১৭ সালে ব্রিটিশ ভারতীয় সেনাবাহিনীর ৪৯তম বেঙ্গল রেজিমেন্টে যোগ দেন নজরুল। করাচিতে তাঁর দীর্ঘ সেনাজীবন কাটে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের শেষপর্বের এই অভিজ্ঞতা তাঁর মানসজগতে গভীর ছাপ ফেলে।সেনাবাহিনীতে থাকাকালীনই তিনি নিয়মিত সাহিত্যচর্চা করেন। সহযোদ্ধাদের সঙ্গে বসে সাহিত্য নিয়ে আলোচনা, গল্প-কবিতা লেখাসবই চলত। যুদ্ধ তাঁকে শুধু অস্ত্রের সঙ্গে পরিচয় করায়নি; মানুষের জীবন, মৃত্যু, সাম্রাজ্যবাদ ও শোষণের বাস্তবতাকেও নতুন চোখে দেখতে শিখিয়েছিল।পরবর্তীকালে তাঁর লেখায় যে যুদ্ধবিরোধী মানবিকতা এবং শোষণের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ দেখা যায়, তার পেছনে এই অভিজ্ঞতার ভূমিকা অস্বীকার করার উপায় নেই।বিদ্রোহীএক কবিতার বিস্ফোরণ১৯২১ সালের শেষদিকে রচিত বিদ্রোহী কবিতা প্রকাশের পর বাংলা সাহিত্যে যেন এক ভূমিকম্প ঘটে। এতদিনের কাব্যভাষার বাইরে দাঁড়িয়ে এক তরুণ কবি ঘোষণা করলেন নিজের অদম্য আত্মপরিচয়।কিন্তু বিদ্রোহী কেবল রাজনৈতিক বিদ্রোহের কবিতা নয়। এখানে আছে পুরাণ, ইসলামি ঐতিহ্য, হিন্দু দেবদেবী, প্রকৃতি, প্রেম, ধ্বংস ও সৃষ্টির এক বিস্ময়কর মিশ্রণ। নজরুল যেন বলতে চেয়েছিলেনমানুষকে কোনও একটি ধর্ম, জাতি বা পরিচয়ের খাঁচায় আটকে রাখা যায় না।ধূমকেতু: কলম যখন অস্ত্রনজরুলের সাংবাদিক সত্তাটিও কম বিস্ময়কর নয়। ১৯২২ সালে প্রকাশিত হয় তাঁর সম্পাদিত সাপ্তাহিক পত্রিকা ধূমকেতু। পত্রিকাটির নামের মধ্যেই যেন ছিল তাঁর রাজনৈতিক দর্শনের ইঙ্গিত।ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে তাঁর লেখাগুলি দ্রুতই প্রশাসনের নজরে আসে। আনন্দময়ীর আগমনে কবিতাকে কেন্দ্র করে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা হয় এবং তাঁকে কারাবন্দি করা হয়।কারাগারেও তিনি নীরব থাকেননি। বন্দিদের অধিকার এবং ঔপনিবেশিক নিপীড়নের প্রতিবাদে তিনি অনশন করেন। দীর্ঘ অনশনের সময় তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁকে অনশন ভাঙার আহ্বান জানিয়ে বার্তাও পাঠিয়েছিলেন।এই ঘটনা প্রমাণ করে, নজরুলের কাছে স্বাধীনতা শুধু রাজনৈতিক স্লোগান ছিল নাএটি ছিল ব্যক্তিগত বিশ্বাস।খিলাফত প্রশ্নে নজরুলের অবস্থাননজরুলের রাজনৈতিক চিন্তাভাবনা নিয়ে আলোচনা করতে গেলে তাঁর খিলাফত আন্দোলন সম্পর্কে অবস্থানও গুরুত্বপূর্ণ। ধর্মীয় আবেগকে রাজনৈতিক আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত করার ফলে সাম্প্রদায়িক বিভাজন আরও গভীর হতে পারেএই আশঙ্কা তাঁর চিন্তায় প্রতিফলিত হয়েছিল।নজরুলের মূল অবস্থান ছিল মানুষের মুক্তি। ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে বিভাজনের বদলে তিনি চেয়েছিলেন শ্রমজীবী, কৃষক, নিপীড়িত ও বঞ্চিত মানুষের ঐক্য।তাই তাঁর রাজনৈতিক চিন্তার কেন্দ্রে বারবার ফিরে এসেছে মানুষহিন্দু বা মুসলমান নয়, প্রথমত মানুষ।লেবার স্বরাজ পার্টি: কবির রাজনৈতিক সংগঠন১৯২৫ সালে নজরুল শ্রমিক-কৃষকের অধিকারের প্রশ্নে সক্রিয় রাজনৈতিক ভূমিকা নেন। হেমন্তকুমার সরকার ও অন্যান্য বামপন্থী নেতাদের সঙ্গে তিনি লেবার স্বরাজ পার্টি অব দ্য ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল কংগ্রেস গঠনের সঙ্গে যুক্ত হন।এই সংগঠনের ভাবনায় ছিল শ্রমিক-কৃষকের অধিকার, ঔপনিবেশিক শোষণের বিরুদ্ধে সংগ্রাম এবং সমাজের প্রান্তিক মানুষের রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন।নজরুলের রাজনৈতিক লেখায় যে শ্রেণি সচেতনতা দেখা যায়, তার সঙ্গে এই সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের গভীর সম্পর্ক ছিল।নির্বাচনের ময়দানেও নজরুলশুধু কবিতা বা বক্তৃতার মধ্যেই তাঁর রাজনীতি সীমাবদ্ধ ছিল না। ১৯২৬ সালে তিনি আইনসভার নির্বাচনে প্রার্থীও হন। অর্থবল ও সাংগঠনিক শক্তির দিক থেকে তিনি পিছিয়ে ছিলেন। ফলে নির্বাচনী রাজনীতিতে সফলতা আসেনি।কিন্তু এই পর্বটি গুরুত্বপূর্ণ এই কারণে যে, নজরুল নিজেকে কেবল সাহিত্যিক হিসেবে দেখেননি। সমাজ পরিবর্তনের প্রত্যক্ষ রাজনৈতিক প্রক্রিয়াতেও তিনি অংশ নিতে চেয়েছিলেন।হিন্দু-মুসলমানের মিলনের এক বিরল শিল্পীনজরুলের সৃষ্টির সবচেয়ে বিস্ময়কর দিকগুলির একটি তাঁর ধর্মীয় বহুত্ববাদ।তিনি লিখেছেন ইসলামী গান, হামদ, নাত, গজল। আবার লিখেছেন শ্যামাসংগীত, ভজন, কীর্তন ও হিন্দু দেবদেবীকে নিয়ে অসংখ্য গান।মা, শ্যামা, কালী, কৃষ্ণ যেমন তাঁর গানে এসেছে, তেমনই এসেছে আল্লাহ, নবী, রমজান, ঈদ ও ইসলামী আধ্যাত্মিকতার নানা অনুষঙ্গ।এখানে কোনও কৃত্রিম সমন্বয় ছিল না। নজরুলের কাছে ধর্ম ছিল মানুষের আত্মিক অনুভূতির ভাষা; বিভেদের অস্ত্র নয়।তাঁর এই অবস্থান আজকের সময়েও অসাধারণ প্রাসঙ্গিক।চলচ্চিত্রের দুনিয়ায় আর এক নজরুলনজরুলকে আমরা কবি ও গীতিকার হিসেবে যতটা মনে রাখি, চলচ্চিত্রের মানুষ নজরুলকে ততটা মনে রাখি না।কলকাতার চলচ্চিত্রজগতের সঙ্গে তাঁর গভীর যোগাযোগ তৈরি হয়েছিল। তিনি চলচ্চিত্রে গান লিখেছেন, সুর দিয়েছেন এবং সংগীত পরিচালনা করেছেন। নির্বাক যুগ থেকে সবাক চলচ্চিত্রের উত্তরণের সময় বাংলা সিনেমার সংগীতে নতুন মাত্রা আনার ক্ষেত্রে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।১৯৩৪ সালের ধ্রুব চলচ্চিত্রে তিনি দেবর্ষি নারদের ভূমিকায় অভিনয় করেন। একই সঙ্গে ছবিটির সংগীত পরিচালনা ও গীতরচনার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। হাতে একতারা, পায়ে খড়ম, মুখে নারদের সাজরুপালি পর্দায় নজরুলের এই উপস্থিতি আজ বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসের এক মূল্যবান অধ্যায়। এটি ছিল তাঁর অভিনয়জীবনের একমাত্র চলচ্চিত্র অভিনয়।রবীন্দ্রনাথের কবিতায় নজরুলের সুররবীন্দ্রনাথ ও নজরুলের সম্পর্ক বাংলা সংস্কৃতির অন্যতম সুন্দর অধ্যায়।বয়সে রবীন্দ্রনাথ ছিলেন অনেক বড়। সাহিত্যিক পথও ছিল আলাদা। তবু দুজনের মধ্যে ছিল গভীর শ্রদ্ধা ও স্নেহ।চলচ্চিত্রে রবীন্দ্রনাথের রচনায় নজরুলের সুরারোপের ঘটনাটি এই সম্পর্কের এক চমৎকার দৃষ্টান্ত। রবীন্দ্রনাথের রচনায় প্রচলিত সুরের বাইরে গিয়ে নজরুল নতুন সুর নির্মাণ করেছিলেন। সেই সুর কবিগুরুকে শুনিয়ে তাঁর অনুমোদন পাওয়ার ঘটনাটি শুধু দুজন শিল্পীর পারস্পরিক শ্রদ্ধার নয়, সৃষ্টিশীল স্বাধীনতারও একটি সুন্দর উদাহরণ।নারীদের কণ্ঠে নতুন যুগবাংলা গান ও চলচ্চিত্রে নারী কণ্ঠশিল্পীদের প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও নজরুলের ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য। আঙ্গুরবালা দেবী, ইন্দুবালা দেবী, কানন দেবীসহ তৎকালীন বহু শিল্পীর সঙ্গে তাঁর পেশাগত ও সৃষ্টিশীল সম্পর্ক ছিল।বিশেষ করে নারীদের সামাজিক অবস্থান যখন নানা বিধিনিষেধে আবদ্ধ, তখন তাঁদের কণ্ঠকে বৃহত্তর শ্রোতার কাছে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে নজরুলের গান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়।তাঁর সৃষ্ট নারীচরিত্রও ছিল প্রচলিত ধারণার বাইরেস্বাধীন, আত্মমর্যাদাসম্পন্ন এবং প্রতিবাদী।হাফিজ ও ওমর খৈয়াম থেকে নজরুলের বাংলানজরুলের সাহিত্যিক পরিসর বাংলা ভাষার গণ্ডিতে আটকে ছিল না। ফারসি সাহিত্য, আরবি সংস্কৃতি এবং ইসলামী ঐতিহ্যের সঙ্গে তাঁর গভীর পরিচয় ছিল।হাফিজ ও ওমর খৈয়ামের রচনার অনুবাদে তিনি বাংলা ভাষায় নিয়ে এসেছিলেন এক অন্যরকম সুর, ভাব ও রোমান্টিকতা। তাঁর অনুবাদে কেবল ভাষান্তর নয়, অনেক সময় দেখা যায় সৃষ্টিশীল পুনর্নির্মাণের প্রবণতা।এই কাজগুলির মাধ্যমে বাংলা সাহিত্য আরও সমৃদ্ধ হয়েছে মধ্যপ্রাচ্য ও পারস্যের সাহিত্য-ঐতিহ্যের সঙ্গে।হাজার গানের স্রষ্টা, অথচ কত গান হারিয়ে গেল!নজরুলের গান নিয়ে সবচেয়ে বেদনাদায়ক অধ্যায় তাঁর জীবনের শেষ পর্ব। নজরুলের অসুস্থতার কারণে পরবর্তী সময়ে তাঁর বাকশক্তি ও স্মৃতিশক্তি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে তাঁর অসংখ্য গানের সঠিক সুর, স্বরলিপি ও পরিবেশনরীতি সংরক্ষণ করা সম্ভব হয়নি।আজ আমরা নজরুলগীতির বিপুল ভাণ্ডারের কথা বলি। কিন্তু সেই ভাণ্ডারের কত অংশ হারিয়ে গেছে, কত গান ভুল সুরে বা অসম্পূর্ণভাবে আমাদের কাছে পৌঁছেছেতার সম্পূর্ণ হিসাব করা কঠিন।এই জায়গাতেই নজরুল গবেষণার সামনে এখনও বিশাল কাজ পড়ে রয়েছে।শুধু বিদ্রোহী নন, তিনি ছিলেন সৃষ্টির কবিওনজরুলকে শুধু বিদ্রোহের কবি হিসেবে দেখলে তাঁর প্রতি অবিচার করা হয়। তিনি প্রেমের কবি। তিনি প্রকৃতির কবি। তিনি আধ্যাত্মিকতার কবি। তিনি হাস্যরসের কবি। তিনি শিশুদের কবি। তিনি শ্রমিকের কবি, কৃষকের কবি, নারীর কবি, নিপীড়িত মানুষের কবি।তাঁর সাম্যবাদী উচ্চারণ যেমন রাজনৈতিক, তেমনই গভীর মানবিক। তাঁর নারী কবিতা যেমন নারীমুক্তির কথা বলে, তেমনই তাঁর প্রেমের গান ব্যক্তিমানুষের হৃদয়ের গোপন দরজাও খুলে দেয়।নজরুলের জীবনের সবচেয়ে বড় শিক্ষানজরুলের জীবনের দিকে তাকালে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়ে ওঠেতিনি কখনও নিজের পরিচয়কে সংকীর্ণ হতে দেননি।দারিদ্র্য তাঁকে থামাতে পারেনি। সেনাজীবন তাঁকে কবিতা থেকে দূরে সরাতে পারেনি। কারাগার তাঁর কণ্ঠ স্তব্ধ করতে পারেনি। রাজনৈতিক ব্যর্থতা তাঁকে ভেঙে দেয়নি। ধর্মীয় বিভাজন তাঁকে কোনও একপক্ষের কবি বানাতে পারেনি।তিনি একই সঙ্গে মসজিদের আজান শুনেছেন, মন্দিরের ঘণ্টাধ্বনি শুনেছেন; ইসলামী গজল লিখেছেন, আবার শ্যামাসংগীতে মাতৃসাধনার ভাষা সৃষ্টি করেছেন।এই কারণেই নজরুল কেবল একটি জাতির, একটি ধর্মের বা একটি সময়ের কবি নন। তিনি বাংলা ভাষার এক অনন্ত মানবিক কণ্ঠ।আজ তাঁর প্রয়াণের এত বছর পরেও যখন সমাজে বিভাজন বাড়ে, যখন মানুষের পরিচয় ধর্ম ও সম্প্রদায়ের খোপে আটকে যেতে চায়, যখন অন্যায়ের সামনে নীরব থাকার প্রবণতা তৈরি হয়তখন নজরুলের কণ্ঠ আবার ফিরে আসে।সে কণ্ঠ বলেমানুষের চেয়ে বড় কোনও পরিচয় নেই।বিদ্রোহ মানে শুধু অস্ত্র তুলে নেওয়া নয়; অন্যায়ের সামনে মাথা নত না করাও বিদ্রোহ।আর সাম্য মানে শুধু রাজনৈতিক তত্ত্ব নয়; অন্যের ধর্ম, ভাষা, পরিচয় ও মর্যাদাকে নিজের মতোই সম্মান করাও সাম্য।তাই নজরুলকে স্মরণ করার সবচেয়ে বড় উপায় শুধু তাঁর প্রতিকৃতিতে মাল্যদান নয়। তাঁর গান গাওয়া, কবিতা আবৃত্তি করা কিংবা সামাজিক মাধ্যমে কয়েকটি আবেগঘন বাক্য লেখা নয়।নজরুলকে সত্যিকার অর্থে স্মরণ করতে হলে তাঁর প্রশ্নগুলিকে নিজেদের জীবনে ফিরিয়ে আনতে হবে।মানুষ কি সত্যিই মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছে?অন্যায়ের বিরুদ্ধে আমরা কি এখনও কথা বলি?ধর্মের নামে বিভেদের বদলে ভালোবাসার সেতু গড়তে পারি কি?এই প্রশ্নগুলির উত্তর খুঁজতে গেলেই বোঝা যায়নজরুল আজও অমর।তিনি আছেন আমাদের প্রতিবাদে, আমাদের প্রেমে, আমাদের গানে, আমাদের সাম্যের স্বপ্নে।আর যতদিন অন্যায়ের বিরুদ্ধে একটি কণ্ঠ উচ্চারিত হবে, ততদিন সেই কণ্ঠের ভিতরে কোথাও না কোথাও বেঁচে থাকবেন বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম।

আগস্ট ২৯, ২০২৬
রাজনীতি

অভিষেকের বাড়িতে কালীঘাট থানার পুলিশ, ক্যামাক স্ট্রিটের ঘটনায় হাজিরার নোটিশ সাংসদকে

ক্যামাক স্ট্রিটের ঘটনায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে নোটিশ জারি করল পুলিশ। জানা গিয়েছে, শনিবার রাত ৯ টার পর কালীঘাট থানার পুলিশ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে যায়। আগামী ১ সেপ্টেম্বর ১ সেপ্টেম্বর সেকশপিয়ার থানায় তাঁকে হাজির হতে নির্দেশ দিয়েছে। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চায় পুলিশ। ক্যামাক স্ট্রিটে অভিষেকের অফিসে গেলে জোর করে কাজে বাধা দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ। সেদিন তৃণমূল কংগ্রেস লেখা বিলবোর্ড খোলাকে কেন্দ্র করে ধুন্ধুমার কান্ড ঘটে। সেদিনই পুলিশ এফআইআর করে। ওই ঘটনায় ইতিমধ্যে ১৪ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মোট তিনটে কেস করে পুলিশ। পুলিশ সূত্রে খবর, শুধু কাজে বাধা নয় শ্লীলতাহানির অভিযোগও উঠেছে। এদিকে ওই বাড়ির দুটি ঘর জোড় করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়রা দখল করে নিয়েছে বলে মালিকপক্ষ অভিযোগ করেছে।

আগস্ট ২৯, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal