• ১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, শনিবার ১৬ মে ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

BLO

রাজ্য

ফাঁস অডিওতে বড় দাবি, টাকা দিলেই ভোটার তালিকায় নাম, বাগদায় তোলপাড়

উত্তর চব্বিশ পরগনার বাগদা এলাকায় ভোটার তালিকায় নাম তোলা নিয়ে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অভিযোগ, মাথাপিছু টাকা দিলেই ভোটার তালিকায় নাম তুলে দেওয়ার আশ্বাস দিচ্ছেন এক বুথ স্তরের আধিকারিক। এই আবহে একটি অডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই রাজনৈতিক মহলে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। যদিও ভাইরাল অডিওর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।অভিযুক্ত বুথ স্তরের আধিকারিকের নাম চন্দ্রকান্ত মণ্ডল। তিনি স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক বলেও জানা গিয়েছে। ভাইরাল অডিওতে শোনা যায়, এক ব্যক্তির পরিবারের সদস্যদের ভোটার তালিকায় নাম তোলার জন্য মাথাপিছু দশ হাজার টাকা দাবি করা হচ্ছে। মোট ছয় জনের নাম তোলার কথা উল্লেখ করে প্রায় পঞ্চাশ হাজার টাকা চাওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। মাইক্রো পর্যবেক্ষকের নাম করে এই টাকা দাবি করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর প্রাক্তন বিধায়ক দুলাল বর ইমেলের মাধ্যমে প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন।যাঁদের নাম তোলার জন্য টাকা চাওয়ার অভিযোগ উঠেছে, তাঁদের বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী বলেও দাবি করা হয়েছে। অভিযোগ, ওই পরিবারের সদস্যরা সম্প্রতি এ দেশে এসেছেন এবং বিভিন্ন উপায়ে পরিচয়পত্র তৈরি করা হয়েছে। দুই হাজার দুই সালের ভোটার তালিকায় তাঁদের কারও নাম ছিল না বলেও স্থানীয় সূত্রে খবর। বিশেষ পুনর্বিবেচনা প্রক্রিয়ার আবহে পরিবারের সদস্যদের নাম তুলতে পঞ্চাশ হাজার টাকা দাবি করা হয়েছে বলে অভিযোগ ঘিরে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে।অভিযোগ অবশ্য সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত আধিকারিক। তাঁর দাবি, প্রযুক্তির সাহায্যে কণ্ঠস্বর নকল করে এই অডিও তৈরি করা হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকেও তাঁকে ফাঁসানোর ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তোলা হয়েছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৃণমূল কংগ্রেস এবং ভারতীয় জনতা পার্টি-র মধ্যে শুরু হয়েছে পাল্টা অভিযোগের রাজনীতি। স্থানীয় তৃণমূল নেতা তরুণ ঘোষ জানান, কেউ অন্যায় করে থাকলে তদন্তের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং সরকার অন্যায়কে প্রশ্রয় দেয় না। অন্যদিকে বিজেপির দাবি, শাসকদলের মদতেই এই ধরনের কাজ হচ্ছে। যে পরিবারকে ঘিরে অভিযোগ উঠেছে, তারা এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করতে চাননি।

ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২৬
রাজ্য

এসআইআর নথির নামে ডেকে খুন! বাদুড়িয়ায় দেহাংশ উদ্ধার, গ্রেফতার বিএলও

উত্তর ২৪ পরগনার বাদুড়িয়া-য় চাঞ্চল্যকর খুনের ঘটনা। এসআইআর সংক্রান্ত নথির কথা বলে ডেকে নিয়ে গিয়ে এক যুবককে খুনের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনায় এক বিএলও-সহ দুজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।মৃত যুবকের নাম নাসির আলি (৩৬)। তাঁর বাড়ি পাপিলা এলাকায়। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃত বিএলও-র নাম রিজওয়ান হাসান মণ্ডল ওরফে মন্টু। তিনি পাপিলা ২২ নম্বর বুথের বিএলও। সাগর গাইন নামে আরও এক জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ৯ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় নাসিরের কাছে একটি ফোন আসে। বলা হয়, এসআইআর সংক্রান্ত কারণে আধার কার্ড ও ভোটার কার্ডের জেরক্স নিয়ে দেখা করতে হবে। ফোনকারী নিজেকে এইআরও বলে পরিচয় দেন। সেই ফোন পাওয়ার পর বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান নাসির। তারপর আর ফেরেননি। তাঁর মোবাইল ফোনও বন্ধ ছিল। পরে পরিবার বাদুড়িয়া থানার পুলিশ-এর কাছে নিখোঁজ অভিযোগ দায়ের করে।পরদিন চাতরা এলাকার একটি খাল থেকে নাসিরের মোটরবাইক ও জুতো উদ্ধার হয়। কিন্তু তাঁর কোনও খোঁজ মেলেনি। তদন্তে নেমে পুলিশ রিজওয়ান ও সাগরকে গ্রেফতার করে। ধৃতদের বসিরহাট মহকুমা আদালতে তোলা হলে পাঁচ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেয় আদালত।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদের পর বাদুড়িয়ার বিভিন্ন খাল ও সেতুর নীচে তল্লাশি চালানো হয়। সেই তল্লাশিতেই তিনটি প্যাকেটের মধ্যে নাসিরের দেহাংশ উদ্ধার হয়। তবে এখনও তাঁর মাথা উদ্ধার হয়নি।কেন এই নৃশংস খুন, তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে। পরিবারের দাবি, নাসিরের সঙ্গে কারও কোনও শত্রুতা ছিল না। মৃতের স্ত্রী বিউটি খাতুন বিবি বলেন, রিজওয়ান তাঁদের পরিচিত ও বন্ধুই ছিলেন। তাঁর স্বামীর উপর এমন অত্যাচারের কঠোর শাস্তি চান তিনি।ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়েছে। পুরো ঘটনার তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ।

ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০২৬
কলকাতা

বিএলও বনাম মাধ্যমিক! শিক্ষক সংকটে পরীক্ষার আগে মুখোমুখি সংঘাত

আগামী সোমবার থেকে শুরু হচ্ছে চলতি বছরের মাধ্যমিক পরীক্ষা। রাজ্য জুড়ে এই পরীক্ষায় বসছেন প্রায় সাড়ে দুই লক্ষ পরীক্ষার্থী। কয়েক হাজার পরীক্ষা কেন্দ্রে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। তবে পরীক্ষা শুরুর ঠিক আগে বড় অনিশ্চয়তার মুখে মধ্যশিক্ষা পর্ষদ। প্রশ্ন উঠছে, যাঁদের গার্ড দেওয়ার কথা, সেই শিক্ষক-শিক্ষিকারা আদৌ পরীক্ষার কাজে উপস্থিত থাকতে পারবেন কি না।পর্ষদের উদ্বেগের মূল কারণ, বহু শিক্ষক বর্তমানে বুথ লেভেল অফিসার বা বিএলও হিসেবে নির্বাচন কমিশনের কাজে যুক্ত। কতজন শিক্ষক এই দায়িত্বে রয়েছেন এবং তাঁরা মাধ্যমিক পরীক্ষার সময় গার্ডের কাজ থেকে ছাড় পাবেন কি না, সে বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও স্পষ্ট উত্তর মেলেনি বলে অভিযোগ। পর্ষদ সূত্রে দাবি, নির্বাচন কমিশনের কাছে একাধিকবার বিষয়টি জানানো হলেও কোনও লিখিত উত্তর পাওয়া যায়নি।শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু আগেই জানিয়েছিলেন, বিএলও নিয়োগের বিষয়টি রাজ্য সরকার বা শিক্ষা দফতরকে আনুষ্ঠানিক ভাবে জানানো হয়নি। মাধ্যমিক পরীক্ষা সুষ্ঠু ভাবে পরিচালনা করা নিয়ে শুরু থেকেই উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল পর্ষদ। সেই কারণেই শিক্ষকদের পরীক্ষার সময়ে কমিশনের কাজ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে আগেই নির্বাচন কমিশনকে চিঠি পাঠানো হয়েছিল। সেই চিঠিকে সমর্থনও করেছিলেন শিক্ষামন্ত্রী।পর্ষদ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত দুমাসে পরপর দুটি চিঠি পাঠানো হয়েছে নির্বাচন কমিশনকে। তবে কোনও চিঠিরই উত্তর মেলেনি বলে দাবি পর্ষদের। যদিও নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তাদের কাছে কোনও চিঠিই পৌঁছয়নি। এই পুরো প্রক্রিয়ার সঙ্গে প্রায় ৫২ হাজার শিক্ষক যুক্ত রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। ফলে পরীক্ষা শুরুর একদিন আগেও নির্বাচন কমিশন ও পর্ষদের মধ্যে কার্যত মুখোমুখি সংঘাত তৈরি হয়েছে।পর্ষদ সভাপতি রামানুজ গঙ্গোপাধ্যায় প্রশ্ন তুলেছেন, শিক্ষকরা যদি বিএলওর কাজ করেন, তা হলে মাধ্যমিক পরীক্ষায় গার্ড দেবেন কারা। তাঁর বক্তব্য, মাধ্যমিক পরীক্ষার সময় শিক্ষকদের সম্পূর্ণ সময় পরীক্ষার কাজেই যুক্ত থাকতে হবে। কোনওভাবেই এই দায়িত্বে ঘাটতি রাখা যাবে না।এই বিতর্কে রাজনৈতিক রংও লেগেছে। কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার বলেন, বিষয়টি রাজ্য সরকার ও মধ্যশিক্ষা পর্ষদের অভ্যন্তরীণ বিষয়। তিনি এ নিয়ে বেশি মন্তব্য করতে চাননি। তবে তাঁর দাবি, তৃণমূলের উদ্দেশ্য হল যেকোনও উপায়ে এসআইআর প্রক্রিয়া বন্ধ করা।

জানুয়ারি ৩১, ২০২৬
রাজ্য

কলকাতা থেকে পাঠানো হচ্ছে RPF-RPSF, বেলডাঙায় হাজির হলেন হুমায়ুন কবীর

শুক্রবারের উত্তপ্ত পরিস্থিতির পর শনিবারও মুর্শিদাবাদের বেলডাঙা এলাকায় উত্তেজনা অব্যাহত। স্থানীয় বিধায়ক ও জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রতিষ্ঠাতা হুমায়ুন কবীর জানিয়েছেন, পরিস্থিতি অত্যন্ত ভয়াবহ। ইতিমধ্যেই কৃষ্ণনগর-লালগোলা রুটের ট্রেন বন্ধ হয়ে গেছে, রেলগেট ভেঙে ফেলা হয়েছে। হুমায়ুন কবীর ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে গিয়ে বচসা করেন।তিনি বলেন, স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ যথেষ্ট সক্রিয় নয়। সক্রিয়তা না বাড়ালে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে। সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষগুলো আক্রান্ত হচ্ছে। জনরোষ এসে জাতীয় সড়ক (NH)-এর উপর পড়ছে। গতকাল সাত ঘণ্টা রাস্তা বন্ধ ছিল। বিহারে আরও একজন আহত হয়েছে, হাসপাতালে ভর্তি। কিছু মানুষ প্রতিবাদে রাস্তায় নেমেছে। কার নির্দেশে তারা NH অবরোধ করছে তা জানা নেই।আজও সাংবাদিকদের টার্গেট করে মারধর করা হয়েছে। জাতীয় সড়ক পুরোপুরি ধ্বংসের পথে। ক্ষিপ্ত জনতা রাস্তায় নেমে বাঁশ হাতে ও ফ্লেক্স-ব্যানার উপরে ফেলে লাথি মারা সহ নানা ধরণের ভাঙচুর চালাচ্ছে। এলাকায় একজনও পুলিশ দেখা যায়নি। এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় কেউ গ্রেফতার হয়নি। পরে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জানা গেছে, কলকাতা থেকে RPF ও RPSF পাঠানো হচ্ছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য।

জানুয়ারি ১৭, ২০২৬
কলকাতা

বিএলও-র ইস্তফা ঝড়! এসআইআর প্রক্রিয়া বিপর্যয়ের পথে? নির্বাচনী কমিশনের পদক্ষেপ প্রশ্নের মুখে

শেষ পর্যায়ে এসআইআর প্রক্রিয়া। আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করবে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। কিন্তু তার আগে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে বিএলও-দের অসন্তোষ ক্রমশ বেড়েছে। অতিরিক্ত কাজের চাপের অভিযোগ আগেই তুলেছিলেন বিএলও-রা। এবার অনেকেই দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চেয়ে ইস্তফা দিতে শুরু করেছেন।রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় বিএলও-রা গণইস্তফা দিচ্ছেন। শনিবারই উত্তর ২৪ পরগনার দেগঙ্গা ব্লকে প্রায় ২০০ জন বিএলও অনির্দিষ্টকালের জন্য কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন। তাঁদের অভিযোগ, একের পর এক নির্দেশিকা ও ম Thomson-এ কাজ করতে গিয়ে তাঁরা হয়রানি ও হেনস্থার মুখে পড়ছেন। বিডিও দফতরের সামনে গেট আটকে বিক্ষোভও দেখানো হয়েছে।বিএলও-দের অসন্তোষ জেলায় জেলায় বাড়ছে। স্বরূপনগরে গতকাল ৫৩ জন বিএলও একসঙ্গে ইস্তফা দিয়েছেন। সূত্রের খবর, রাজ্যের বিভিন্ন জায়গা থেকে এখন পর্যন্ত পাঁচ হাজারের বেশি বিএলও ইস্তফার আবেদন জমা দিয়েছেন। নির্বাচন কমিশন কি পদক্ষেপ নেবে, তা এখনই প্রশ্নের মুখে। রাজনৈতিক কারণে কি এই ইস্তফার ঘটনা ঘটছে, তা নিয়েও জোর আলোচনা চলছে।এসআইআর প্রক্রিয়ায় বিএলও-দের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গত ৪ নভেম্বর থেকে তারা এনুমারেশন ফর্ম বিলি শুরু করেছিলেন। কাজের চাপ এবং দীর্ঘ দায়িত্বের কারণে একাধিক বিএলও মৃত্যু বা আত্মহত্যার অভিযোগও উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে কমিশনের পদক্ষেপই এখন সবার নজর কেড়েছে।

জানুয়ারি ১৭, ২০২৬
রাজ্য

চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগে দেওচা–পাঁচামিতে পাথর উত্তোলনের বরাত বাতিল, নতুন দরপত্রে বিতর্ক

চুক্তির শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগে দেওচাপাঁচামি কয়লাখনি প্রকল্প এলাকায় পাথর উত্তোলনের কাজের বরাত বাতিল করল রাজ্য সরকার। প্রাথমিক পর্যায়ে ১২ একর জমিতে পাথর উত্তোলনের দায়িত্বে থাকা মেসার্স পাচামি ব্যাসল্ট মাইনিং প্রাইভেট লিমিটেডের সঙ্গে চুক্তি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রাজ্যের দাবি, সংস্থাটি চুক্তির একাধিক গুরুত্বপূর্ণ শর্ত মানেনি বলেই এই পদক্ষেপ।রাজ্য সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, প্রকল্পের দ্বিতীয় ধাপে ৩১৪ একর জমিতে পাথর উত্তোলনের জন্য নতুন করে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। তবে এই সিদ্ধান্ত ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক। বিরোধী দল বিজেপির অভিযোগ, দেওচাপাঁচামি কয়লাখনি প্রকল্প নিয়ে রাজ্য সরকার আসলে ধোঁয়াশা তৈরি করছে। বৃহস্পতিবার সিউড়িতে বিজেপির দলীয় কার্যালয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করে রাজ্য সাধারণ সম্পাদক জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় বলেন, গত ১৫ বছরে রাজ্য সরকার একটি বড় শিল্প প্রকল্পও বাস্তবে রূপ দিতে পারেনি। অথচ দেওচাপাঁচামিকে দেশের বৃহত্তম কয়লাখনি বলে প্রচার করা হচ্ছে। তাঁর দাবি, আসন্ন শিল্প সম্মেলনের আগে বরাত বাতিল ও নতুন দরপত্র ডেকে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে।বিজেপি নেতার আরও অভিযোগ, নতুন দরপত্রে কোথাও কয়লাখনি স্থাপনের উল্লেখ নেই। বরং আগামী ১৫ বছরের জন্য শুধুমাত্র পাথর উত্তোলনের কথাই বলা হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, এর থেকেই স্পষ্ট যে আপাতত কয়লা উত্তোলনের কোনও পরিকল্পনাই রাজ্যের নেই। যদিও গত অক্টোবর মাসে আন্তর্জাতিক স্তরে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছিল, এখনও পর্যন্ত কোনও সংস্থা আগ্রহ দেখায়নি বলেও দাবি করেন তিনি।জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়ের বক্তব্য, কেন্দ্রের অনুমোদন ছাড়া এই প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। অথচ এখনও পর্যন্ত কোনও পূর্ণাঙ্গ নকশা বা প্রস্তাব কেন্দ্রের কাছে জমা পড়েনি। পাশাপাশি আদিবাসীদের জমি নেওয়া হলেও উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ বা স্থায়ী কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি পূরণ হয়নি বলেও অভিযোগ তুলেছে বিজেপি। এই পরিস্থিতিকে রাজ্য সরকারের শিল্পনীতির ব্যর্থতার প্রতিফলন বলে দাবি করছে বিরোধীরা।

ডিসেম্বর ১৯, ২০২৫
কলকাতা

সিইও অফিসে আন্দোলনের পরেই বড় পদক্ষেপ! গ্রুপছাড়া বিএলও অধিকার মঞ্চের নেত্রী

একাধিক দাবিদাওয়া নিয়ে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরে বিএলও-দের বিক্ষোভে নেতৃত্ব দিতে দেখা গিয়েছিল তাঁকে। সিইও-র সঙ্গে বিএলও প্রতিনিধি দলের অন্যতম মুখও ছিলেন তিনি। সেই বিএলও অধিকার মঞ্চের নেত্রী সোনালি বন্দ্যোপাধ্যায়কেই আচমকা বিএলও-দের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন পুরুলিয়া বিধানসভা কেন্দ্রের ১৯৬ নম্বর বুথের ওই বিএলও।সোনালি বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, কোনও আগাম নোটিস বা কারণ না জানিয়েই তাঁকে গ্রুপ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, বিষয়টি জানতে ফোন করলে প্রথমে এআরও ও ইআরও কেউই ফোন ধরেননি। পরে যোগাযোগ করা হলে তাঁকে বলা হয়, নিয়ম না মানার কারণেই তাঁকে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।এই ঘটনার সূত্রপাত গত শুক্রবার। সেদিন বিএলও অধিকার মঞ্চের পক্ষ থেকে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরের সামনে বিক্ষোভ ও ধরনা দেওয়া হয়। সেই আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন সোনালি বন্দ্যোপাধ্যায়। বিক্ষোভের পরে রাজ্যের অতিরিক্ত মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক দিব্যেন্দু দাস একটি বার্তা হোয়াটসঅ্যাপে পাঠান। সেই বার্তাই তিনি পুরুলিয়া বিধানসভা কেন্দ্রের বিএলও-দের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে শেয়ার করেন। অভিযোগ, তার পরেই সোমবার তাঁকে আচমকা গ্রুপ থেকে বাদ দেওয়া হয়।এর পর তিনি নির্বাচন সংক্রান্ত কাজে যুক্ত একাধিক আধিকারিকের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেন। কিন্তু বাদ দেওয়ার নির্দিষ্ট কারণ জানতে পারেননি। পরে সদর মহকুমাশাসক তথা ইআরও-র সঙ্গে যোগাযোগ করলে অভিযোগ অনুযায়ী, প্রথমে তাঁর ফোন ধরা হয়নি। পরে ফোন করে জানানো হয়, তিনি নিয়ম ভেঙেছেন বলেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।এই ঘটনায় জেলা প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সোনালি বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, যেখানে নির্বাচন কমিশন তাঁদের পাশে থাকার আশ্বাস দিচ্ছে, সেখানে জেলার আধিকারিকরা নানা ভাবে চাপ সৃষ্টি করছেন। অনেক বিএলও আতঙ্কে রয়েছেন এবং হেনস্থার শিকার হচ্ছেন। সেই ভয় কাটাতেই তিনি ওই বার্তাটি গ্রুপে শেয়ার করেছিলেন। সেটাকেই নিয়ম ভঙ্গ বলে দেখানো হচ্ছে বলে অভিযোগ তাঁর।তিনি আরও বলেন, আন্দোলনে যুক্ত থাকার কারণেই কি তাঁকে ইচ্ছাকৃত ভাবে গ্রুপ থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে, সেই প্রশ্নও উঠছে। বিষয়টি তিনি নির্বাচন কমিশনকে জানিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, একদিকে সিইও দফতর থেকে আশ্বাস দেওয়া হলেও, অন্যদিকে জেলার আধিকারিকরা বিএলও-দের উপর মানসিক চাপ বাড়াচ্ছেন। এই পরিস্থিতির জেরেই আগেও একাধিক বিএলও চরম সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।সোনালি বন্দ্যোপাধ্যায়ের আরও অভিযোগ, সম্প্রতি একটি অ্যাপে রিভেরিফিকেশনের নির্দেশ দেওয়া হলেও সারাদিন কোনও স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়নি। পরে সন্ধ্যার পর বলা হয়, নো অ্যাকশন রিকোয়ার্ড করে দিতে। ভবিষ্যতে কোনও সমস্যা হলে তার দায় পুরোপুরি বিএলও-দের উপর চাপানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর দাবি, বিএলও-দের স্বার্থে আন্দোলন করায়ই তাঁকে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।এই অভিযোগ প্রসঙ্গে পুরুলিয়া বিধানসভা কেন্দ্রের ইআরও-র সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এই বিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাননি।

ডিসেম্বর ১৬, ২০২৫
দেশ

ঘরে ঘরে গিয়ে কাজ, ভয় পাচ্ছেন বিএলওরা! রাজ্যকে কড়া সতর্কতা সুপ্রিম কোর্টের

বাংলার বিএলও-দের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করল দেশের শীর্ষ আদালত। সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে, কোনও বিএলও বিপদে পড়লে রাজ্যকে অবিলম্বে ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রয়োজন হলে তাঁরা সরাসরি মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক বা জেলা নির্বাচনী আধিকারিকের কাছে অভিযোগ জানাতে পারবেন।এসআইআর প্রক্রিয়া ঘিরে মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চে বিষয়টি ওঠে। মামলাকারীর পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, মাঠে কাজ করতে গিয়ে বিএলও-রা পর্যাপ্ত নিরাপত্তা পাচ্ছেন না। তাঁদের ওপর রাজনৈতিক চাপও রয়েছে। সিআরপিএফ মোতায়েনের দাবিও জানানো হয়।নির্বাচন কমিশন আদালতে জানায়, বিএলও-দের নিরাপত্তার দায়িত্ব রাজ্যের। এ সময় বিচারপতি বাগচী বলেন, কমিশনের চাপে বিএলও-রা আন্দোলন পর্যন্ত করছেন। সিইওর অফিস ঘেরাও হয়েছে। শুধু কাগজপত্রের কাজ নয়, বাড়ি বাড়ি ঘুরে তথ্য সংগ্রহ করতে হচ্ছে, ফলে তাঁদের ওপর চাপ অনেক বেশি।প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তও বলেন, বিএলও-রা হুমকির মুখে রয়েছেন। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুতর, তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।বিএলও-দের অতিরিক্ত চাপ প্রসঙ্গে নির্বাচন কমিশনের দাবি, প্রতিদিন গড়ে মাত্র ৩৭ জন ভোটারের তথ্য সংগ্রহ করতে হচ্ছে। দিনে ৭৮টি বাড়ি গেলেই সেই কাজ শেষ হয়ে যায়। তবে বিচারপতি বাগচী মন্তব্য করেন, বিএলও-দের ওপর বাড়তি চাপ দেওয়া যাবে না। তাঁরা মাঠে নেমে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ করছেনপ্রয়োজনে বিএলও-র সংখ্যা বাড়ানো উচিত।নির্বাচন কমিশন জানায়, বিএলও-দের নিরাপত্তা নিয়ে তারা তৎক্ষণাৎ রাজ্যের কাছে চিঠি পাঠাবে।

ডিসেম্বর ০৯, ২০২৫
কলকাতা

মৃত-ভুয়ো ভোটারের অভিযোগে উত্তাল রাজ্য, এবার কঠোর নির্বাচন কমিশন

কাজের অতিরিক্ত চাপ নিয়ে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বহু বিএলও। আবার অন্যদিকে বিজেপির অভিযোগ, বেশ কিছু বিএলও পক্ষপাতিত্ব করছেন এবং অনেক জায়গায় মৃত, ভুয়ো ও অন্যত্র চলে যাওয়া ভোটারদের নাম ইচ্ছে করে রাখা হচ্ছে। এসব বিতর্কের মাঝেই জাতীয় নির্বাচন কমিশন বিএলওদের উদ্দেশে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা পাঠাল।কমিশন জানিয়ে দিয়েছে, এসআইআর প্রক্রিয়ায় যে সব অনিচ্ছাকৃত ভুল হয়েছে, সেগুলি ঠিক করার জন্য বিএলওদের অতিরিক্ত সময় দেওয়া হচ্ছে। এই সময়ের মধ্যে ভুল শুধরে ফেললে তাঁদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। কিন্তু সময়সীমা পেরিয়ে গেলে কোনও ভুল ধরা পড়লে তা গাফিলতি বা ইচ্ছাকৃত বলে গণ্য হবে এবং কমিশন ব্যবস্থা নেবে।এনুমারেশন ফর্ম বিলি ও জমা নেওয়ার সময়সীমাও এক সপ্তাহ বাড়িয়েছে কমিশন। আগের নির্ধারিত ৪ ডিসেম্বরের বদলে এখন ১১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ফর্ম বিলি ও সংগ্রহ করা যাবে। এই ১১ ডিসেম্বরের মধ্যেই সব ভুল সংশোধন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কমিশন জানিয়েছে, ওই সময়সীমার মধ্যে ভুল সংশোধন করলে তা অনিচ্ছাকৃত হিসেবে ধরা হবে। কিন্তু এরপর ভুল পাওয়া গেলে কঠোর পদক্ষেপ করা হবে। সিইও দফতরের মাধ্যমেই এই বার্তা পাঠানো হয়েছে সব বিএলওদের কাছে।জানা গিয়েছে, রাজ্যের নানা এলাকায় রোল অবজার্ভাররা ইতিমধ্যেই একাধিক বিএলওকে সতর্ক করেছিলেন। কিন্তু বহু জায়গায় কোনও সংশোধন হয়নি। তার পরই কমিশন চূড়ান্ত বার্তা দিলভুল এখনই শুধরে নাও, নইলে ১১ ডিসেম্বরের পর আর ছাড় দেওয়া হবে না। এখন নজর থাকবে, বিএলওরা এই সুযোগের মধ্যে কতটা দ্রুত ভুল সংশোধন করেন, আর সময়সীমার পর কোনও ভুল বেরোলেই কমিশন কী ধরনের ব্যবস্থা নেয়।

ডিসেম্বর ০৮, ২০২৫
কলকাতা

ভুয়ো নাম ঢোকানোর অভিযোগের পরই কি কমিশনের ইউ-টার্ন? বদলে গেল পুরো সিস্টেম

৯৯ শতাংশ এনুমারেশন ফর্ম জমা পড়ে গিয়েছে। তবুও এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে একের পর এক অভিযোগ উঠে চলেছে। এক দিকে সোমবার বিএলও-দের বিক্ষোভে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর। অন্য দিকে বিজেপি ও বিরোধীদের অভিযোগ, ব্লক লেভেল অফিসারদের উপর চাপ দিয়ে ভুয়ো নাম ঢোকানোর চেষ্টা চলছে। এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই সোমবার থেকেই বিএলও অ্যাপে আনা হল বড় বদল।এখন পর্যন্ত এনুমারেশন ফর্ম সংগ্রহ করার পর বিএলও-রা সেই তথ্য অ্যাপে এন্ট্রি করতেন। কিন্তু একবার এন্ট্রি হয়ে গেলে আর সংশোধনের কোনও সুযোগ ছিল না। মঙ্গলবার থেকে সেই নিয়ম বদলে যাচ্ছে। এবার অ্যাপে যুক্ত করা হল এডিট অপশন। অর্থাৎ কোনও ভুল হলে এবার বিএলও-রা নিজেরা সংশোধন করতে পারবেন, পাশাপাশি ইআরও-রাও সেই তথ্য এডিট করতে পারবেন।সূত্রের খবর, কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষকের আসার পরেই এই বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিরোধীদের অভিযোগের চাপেই কি এই বদল? সেই প্রশ্ন উঠছে রাজনৈতিক মহলে। কারণ বিরোধীদের দাবি ছিল, জোর করে ভুয়ো নাম এন্ট্রি করানো হচ্ছে বিএলও-দের দিয়ে।সোমবার রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী নিজে সিইও দফতরে গিয়ে এই অভিযোগ জানান। তিনি বলেন, বিএলও-দের থেকে ওটিপি নিয়ে আইপ্যাক-এর লোকেরা বেআইনিভাবে নাম ঢোকাচ্ছে। তাঁর নেতৃত্বেই বিজেপির প্রতিনিধিরা সেদিন মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরে ডেপুটেশন দেন।এই অভিযোগের পরই নির্বাচন কমিশন বিএলও অ্যাপে এই গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। নতুন ব্যবস্থায় ভুল ধরার পাশাপাশি সংশোধনের সুযোগ থাকায় এবার নাম এন্ট্রি নিয়ে স্বচ্ছতা বাড়বে বলেই মনে করা হচ্ছে।

ডিসেম্বর ০১, ২০২৫
কলকাতা

CEO দফতরের সামনে নজিরবিহীন ধুন্ধুমার! মুখোমুখি বিএলও আর বিজেপি বিধায়করা

সোমবার সকাল থেকেই কলকাতার মুখ্য নির্বাচন আধিকারিকের দফতরের সামনে তুমুল উত্তেজনার ছবি ধরা পড়ল। একেবারে নজিরবিহীন পরিস্থিতি তৈরি হয়। একদিকে তৃণমূলপন্থী বিএলও-দের একাংশ স্মারকলিপি জমা দিতে দফতরের সামনে জমায়েত করেন। ঠিক সেই সময় পূর্ব নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী বিজেপি বিধায়করা সেখানে পৌঁছন। শুরু হয় স্লোগান আর পাল্টা স্লোগান। মুহূর্তে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।বিএলও-দের দাবি ছিল, এসআইআর-এর কাজে যুক্ত থাকা মৃত কর্মীদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে এবং সাত দিনের সময়সীমা বাড়িয়ে অন্তত দুমাস করতে হবে। তাঁরা স্মারকলিপি দিতে এসেছিলেন। সকাল থেকেই ওই এলাকায় পুলিশের বিশাল বাহিনী মোতায়েন ছিল। বিএলও-রা বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করতেই সেখানে পৌঁছে যান বিজেপি বিধায়করা। তাঁদের ঘিরে বিক্ষোভ আরও তীব্র হয়। পুলিশ ব্যারিকেড দেয়। সেই ব্যারিকেড টপকে অনেকেই সামনে চলে আসেন।এই উত্তপ্ত অবস্থার মধ্য দিয়েই বিজেপি বিধায়করা ভিতরে প্রবেশ করেন। তাঁরা প্রায় দেড় ঘণ্টা ভিতরে ছিলেন এবং মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল-এর সঙ্গে দেখা করে স্মারকলিপি জমা দেন। ভিতরে থেকেই ফেসবুক লাইভও করা হয়। রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী অভিযোগ তুলে বলেন, ২৬, ২৭ এবং ২৮ নভেম্বরের ভোটার তালিকার সব এন্ট্রি আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে অডিট করাতে হবে।বিধায়করা বাইরে বেরোতেই পরিস্থিতি আরও তপ্ত হয়ে ওঠে। শুভেন্দুকে ঘিরে বিএলও-রা স্লোগান দিতে থাকেন। সেই সময় গাড়িতে ওঠার আগে শুভেন্দু গাড়ির দরজায় দাঁড়িয়ে হাত তুলে পাল্টা চোর চোর স্লোগান দেন। মুহূর্তে ভিড় আরও উত্তেজিত হয়ে ওঠে। গোটা পরিস্থিতি সামলাতে হিমশিম খায় পুলিশ।রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতার এই ধরনের প্রকাশ্য স্লোগান রাজ্যের রাজনীতিতে বিরল। দিনভর মুখ্য নির্বাচন আধিকারিকের দফতরের সামনে কার্যত রাজনৈতিক যুদ্ধক্ষেত্রের ছবি দেখা গেল।

ডিসেম্বর ০১, ২০২৫
রাজ্য

টানা এসআইআর কাজেই কি প্রাণ গেল আরও এক বিএলও-র? মুর্শিদাবাদে মৃত্যু ঘিরে তীব্র বিতর্ক

ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধনের কাজ করতে গিয়েই কি আরও এক প্রাণ ঝরল? মুর্শিদাবাদের খড়গ্রামে এক বিএলও-র আকস্মিক মৃত্যু ঘিরে সেই প্রশ্নই ঘুরছে চারদিকে। বৃহস্পতিবার হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে দিঘা প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষক তথা বিএলও জাকির হোসেনের। দিনের পর দিন স্কুলের দায়িত্বের পাশাপাশি ভোটার তালিকা সংশোধনের অতিরিক্ত কাজ সামলাতে গিয়েই শারীরিক ও মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন তিনিএমনই অভিযোগ পরিবারের।পরিবারের সদস্যদের দাবি, গত কয়েকদিন ধরেই টানা মাঠ পর্যায়ে এসআইআর-এর কাজ করছিলেন জাকির হোসেন। সকাল থেকে রাত অবধি ভোটার লিস্ট সংশোধনের কাজে ব্যস্ত থাকতেন। বৃহস্পতিবার সকালে হঠাৎই বুকে তীব্র ব্যথা অনুভব করেন তিনি। দ্রুত তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও শেষ রক্ষা হয়নি। চিকিৎসকরা জানান, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েই মৃত্যু হয়েছে তাঁর।এই ঘটনার পরেই ফের রাজ্যজুড়ে প্রশ্ন উঠছেএসআইআর প্রক্রিয়ার বাড়তি চাপেই কি একের পর এক অসুস্থ হচ্ছেন, এমনকি প্রাণ হারাচ্ছেন বিএলও-রা? সম্প্রতি দক্ষিণ ২৪ পরগনার নামখানার ফ্রেজারগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা এক বিএলও ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত হন। তার আগে কোন্নগরের এক বিএলও একইভাবে ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন।মুর্শিদাবাদের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যে এখনও পর্যন্ত চারজন বিএলও-র মৃত্যুর খবর সামনে এসেছে। এর আগে বর্ধমানে এক মহিলা বিএলও ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। পরে মালবাজার ও নদিয়ায় দুই বিএলও আত্মঘাতী হন বলে অভিযোগ ওঠে। সেই ক্ষেত্রেও পরিবারগুলির বক্তব্য ছিলঅতিরিক্ত কাজের চাপ ও মানসিক চাপই এই ঘটনার পিছনে অন্যতম কারণ।বারবার সামনে আসছে একই অভিযোগভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ করতে গিয়ে বিশ্রামের সুযোগ পাচ্ছেন না বিএলও-রা। মাঠে নেমে ঘরে ঘরে যাচ্ছেন, তার সঙ্গে স্কুলের নিয়মিত দায়িত্বও সামলাতে হচ্ছে। ফলে শারীরিক ক্লান্তির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মানসিক চাপ।এই পরিস্থিতিতে রাজ্যে ক্রমবর্ধমান মৃত্যু ও অসুস্থতার ঘটনায় উদ্বেগ বাড়ছে প্রশাসনের অন্দরেও। ইতিমধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন, কোনও বিএলও-র মৃত্যু হলে তাঁর পরিবারকে ২ লক্ষ টাকা আর অসুস্থ হলে ১ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সাহায্য দেওয়া হবে। কিন্তু শুধু আর্থিক সাহায্যেই কি ফিরবে হারানো প্রাণ? সেই প্রশ্নই এখন ঘুরছে মানুষের মুখে মুখে।খড়গ্রামের এই মৃত্যুর ঘটনার পর এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্কুলের সহকর্মী থেকে পড়ুয়াদের অভিভাবকসবারই চোখে জল। একজন নিষ্ঠাবান শিক্ষক ও দায়িত্ববান কর্মীকে হারিয়ে শোকস্তব্ধ গোটা এলাকা। একইসঙ্গে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে অন্যান্য বিএলও কর্মীদের মধ্যেও।এসআইআর-এর কাজ যত এগোচ্ছে, ততই যেন বাড়ছে আতঙ্ক। কাজের পরিমাণ কমানো হবে কি না, বিশ্রামের ব্যবস্থা করা হবে কি নাএই সব প্রশ্নের উত্তর এখন রাজ্য প্রশাসনের দিকেই তাকিয়ে।

নভেম্বর ২৮, ২০২৫
কলকাতা

আন্দোলন স্থগিত, কিন্তু থামেনি লড়াই— নতুন বার্তা দিলেন বিএলওরা

অতিরিক্ত কাজের চাপ, শারীরিক অসুস্থতা, এমনকি সহকর্মীর আত্মঘাতী হওয়ার অভিযোগ সবকিছু মিলিয়ে ক্ষোভে ফুঁসছিলেন রাজ্যের বহু বিএলও। সেই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশেই সোমবার বিকেল থেকে সোজা মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (সিইও) অফিসের সামনে ধরনায় বসে পড়েন তৃণমূলপন্থী বিএলও অধিকার রক্ষা মঞ্চের সদস্যরা। দাবি স্পষ্ট সিইও তাঁদের সঙ্গে বৈঠক না করলে এই অবস্থান তুলে নেওয়া হবে না।প্রায় ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে ৩০ ঘণ্টা পূর্ণ হওয়ার মুখে অবশেষে আন্দোলনকারী বিএলওদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে বাধ্য হন রাজ্যের সিইও মনোজ কুমার আগরওয়াল। দীর্ঘ বৈঠকের শেষে আন্দোলনকারীরা জানান, তাঁদের বেশ কিছু দাবিতে আশ্বাস দিয়েছেন সিইও। সেই কারণেই আপাতত সিইও অফিসের সামনে থেকে ধরনা তুলে নেওয়া হয়েছে।বিক্ষোভের মূল অভিযোগ ছিল এসআইআর সংক্রান্ত কাজ, ফর্ম পূরণ, ডিজিটাইজেশন সব মিলিয়ে কাজের বোঝা এতটাই বেড়েছে যে অনেকেই মানসিক চাপে ভুগছেন। এমনকি কাজ শেষ করতে না পারলে শোকজ বা সাসপেন্ড করার ভয়েও অনেকে আতঙ্কে। এই আতঙ্ক থেকেই এক বিএলও আত্মঘাতী হয়েছেন বলেও অভিযোগ।বিএলও সোনালি বন্দ্যোপাধ্যায় চক্রবর্তী বৈঠকের পর বলেন, দীর্ঘ ৩০ ঘণ্টার ধরনার পর সিইও আমাদের সঙ্গে আলোচনায় বসলেন। আমরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছি, বর্তমান সময়সীমায় কাজ শেষ করা অসম্ভব। আরও সময় চাই। ডেটা এন্ট্রি অপারেটর নিয়োগের দাবিও জানাই।তিনি আরও জানান, সিইও জানিয়েছেন ডেটা এন্ট্রি অপারেটর নিয়োগ তাঁর ক্ষমতার মধ্যে নয়, বিষয়টি দিল্লির নির্বাচন কমিশনকে জানাবেন। তবে সবচেয়ে বড় স্বস্তির কথা কোনও বিএলও-কে শোকজ বা সাসপেন্ড করা হবে না বলে আশ্বাস দিয়েছেন মনোজ আগরওয়াল।এছাড়াও কাজের চাপে যাঁরা আত্মঘাতী হয়েছেন, তাঁদের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণের দাবিও করেন আন্দোলনকারীরা। সিইও তাঁদের জানান মৃত বিএলও-র পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।যদিও আজ ধরনা তুলে নেওয়া হয়েছে, আন্দোলন বন্ধ হয়নি বলেই জানিয়েছেন সোনালি ও অন্যান্য বিএলওরা। তাঁদের কথায়, আন্দোলন চলবে। দাবি মানা না হলে আবারও পথে নামতে হবে।

নভেম্বর ২৬, ২০২৫
রাজ্য

চ্যালেঞ্জের সঙ্গে কাজ করছে বিএলওরা, বাংলায় এসআইআরের আপডেট জানুন একনজরে

রাজ্যে ভোটার তালিকা পুনর্বিন্যাসের কাজ শেষ পর্যায়ে। নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ হিসেব অনুযায়ী, ২৪ নভেম্বর বিকেল ৫টা পর্যন্ত ৯৯.৭৫% এনুমারেশন ফর্ম বিতরণ সম্পন্ন হয়েছে। সংখ্যায় যা ৭ কোটি ৬৪ লক্ষেরও বেশি। খুবই অল্প অংশের ফর্ম বিলি এখনও বাকি রয়েছে।ফর্ম জমা ও আপলোডের কাজও সমান্তরালে এগোচ্ছে। কমিশনের তথ্য বলছে, এ পর্যন্ত ৪ কোটির বেশি ফর্ম ডিজিটাইজ় করা হয়েছে, যা মোটের ৫৯.৪ শতাংশ। বাকি অংশের ডিজিটাইজেশনও চলছে দ্রুত গতিতে।ফর্ম ফেরত, কোথায় কোন সমস্যা?বিএলও-রা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ফর্ম বিলি করার পরে তা সংগ্রহ করেন। সেই সময়ই তাঁরা বোঝেন কোন কোন ফর্ম পূরণ না হয়েই ফেরত এসেছে। পরিসংখ্যান বলছে, ফেরত আসা ১০ লক্ষ ফর্মের মধ্যে প্রায় ৬.৫ লক্ষই মৃত ভোটারের। এছাড়া বাকি অংশে রয়েছেন, একাধিক জায়গায় নাম থাকা ভোটার, অন্যত্র স্থানান্তরিত ভোটার ও দীর্ঘদিন ধরে নিরুদ্দেশ ব্যক্তিরা।কমিশন সূত্র জানাচ্ছে, রাজ্যের বিভিন্ন জেলার মধ্যে উত্তর কলকাতায় বাদ পড়ার হার সবচেয়ে বেশি। চলতি সপ্তাহের মধ্যেই সমস্ত বুথ থেকে পূর্ণাঙ্গ তথ্য এসে যাবে বলে আশা। তখনই স্পষ্ট হবে, মোট কত সংখ্যক নাম বাদ পড়তে চলেছে।কখন জানা যাবে চূড়ান্ত চিত্র?২০২৫ সালের ২৭ অক্টোবরের ভিত্তির তালিকা থেকে শেষ পর্যন্ত কত নাম বাদ গেল, তার পূর্ণ হিসেব মিলবে খসড়া প্রকাশে। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, আগামী ৯ ডিসেম্বর প্রকাশিত হবে রাজ্যের খসড়া ভোটার তালিকা। সেদিনই স্পষ্ট হবেএই পুনর্বিন্যাস প্রক্রিয়ায় কত নতুন নাম যুক্ত হলো,কত নাম বাদ গেল এবং ভোটার তালিকার মোট সংখ্যা কত দাঁড়াল।

নভেম্বর ২৫, ২০২৫
রাজ্য

বীরভূমে নজির: ১৭ দিনেই প্রায় শতভাগ ফর্ম আপলোড করে দৃষ্টান্ত স্থাপন মহিলা বি এল ও-র

বীরভূমের লাভপুরে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনে কাজে অভূতপূর্ব সাফল্য। বিধানসভা ১৬৬ নম্বর অংশের মহিলা বি এল ও পূজা ঘোষ মাত্র ১৭ দিনের মধ্যে ৯৯.৯১% ফর্ম অনলাইন আপলোড করে জেলার নজর কেড়েছেন। প্রশাসনিক মহলে এই উদ্যোগকে উদাহরণযোগ্য বলে প্রশংসা করা হচ্ছে।পূজার আওতায় মোট ভোটার সংখ্যা ১,০১৭। এর মধ্যে ১,০১৪ জনের ফর্ম অনলাইনে আপলোড করা হয়েছে। তিনজনের ক্ষেত্রে অনলাইন নট ফাউন্ড দেখানোর কারণে আপলোড সম্ভব হয়নি। বিষয়টি ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট দফতরে জানানো হয়েছে এবং পরে ফর্মগুলি আপলোড হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।নিজের কাজের পদ্ধতি নিয়ে পূজা জানান, প্রতিদিন একটা লক্ষ্য ঠিক করতাম যে ১৫০টা ফর্ম আপলোড করব। রাত ১১টা থেকে ভোর ৩-৪টে পর্যন্ত কাজ করেছি। রাতের দিকে সার্ভার ভালো থাকত, তাই দ্রুত কাজ করতে পেরেছি।চাপ থাকলেও মানসিক শক্তিই তাঁকে এগিয়ে নিয়েছে। যে কোনও কাজে চাপ থাকে। কিন্তু মনোযোগ দিয়ে কাজ করলে চাপ কখনও বাধা হয়ে দাঁড়ায় না, বলেন তিনি।সহকর্মীদের উদ্দেশে তাঁর বার্তা আরও স্পষ্ট, ভেঙে পড়লে চলবে না। চাপ হচ্ছে, পারব না এই মানসিকতা দূরে রাখতে হবে। লক্ষ্য ঠিক রেখে এগোলে কাজ যে সম্ভব, সেটাই দেখিয়েছি।প্রশাসনিক কর্তাদের মতে, অত্যাধুনিক ডিজিট্যাল সিস্টেমে কাজ করতে গিয়ে যেখানে অনেকেই হিমশিম খান, সেখানে পূজা ঘোষের পরিকল্পিত কর্মপদ্ধতি ও নিষ্ঠা ডিজিট্যাল ওয়ার্কফ্লোর একটি অনুকরণীয় উদাহরণ। জেলা জুড়ে এখন আলোচনার কেন্দ্রে এই তরুণী বিএলও-র অধ্যবসায়।

নভেম্বর ২৫, ২০২৫
দেশ

বিএলওদের মৃত্যু-ক্ষোভের মাঝে নজিরবিহীন পদক্ষেপ—৬০ জনের নামে এফআইআর

বিএলওদের উপর অতিরিক্ত চাপ, অমানবিক পরিস্থিতি, ডিজিটাইজেশন নিয়ে বিশৃঙ্খলাএসব অভিযোগে যখন গোটা দেশজুড়ে ক্ষোভ তুঙ্গে, বাংলায় যেখানে ইতিমধ্যেই প্রাণ হারিয়েছেন তিন জন বিএলও, কেরলেও আত্মঘাতী হয়েছেন এক জনঠিক সেই আবহেই অবিশ্বাস্য পদক্ষেপ করল উত্তর প্রদেশ প্রশাসন। নয়ডায় একসঙ্গে ৬০ জন বিএলও এবং সাত জন সুপারভাইজারের বিরুদ্ধে দায়ের করা হল এফআইআর। পাশাপাশি বেহরিচে দুজন বিএলওকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। কেন্দ্রীয়ভাবে যে এসআইআর প্রক্রিয়া চলছে, তার ইতিহাসে এমন পদক্ষেপ প্রায় নজিরবিহীন।নয়ডা জেলা প্রশাসনের অভিযোগএসআইআর বা ভোটার তালিকা পরিমার্জনের কাজে যুক্ত ওই ৬০ জন বিএলও বারবার নোটিস পাঠানোর পরও কোনও রিপোর্ট দাখিল করেননি। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ দীর্ঘদিন ধরে উপেক্ষা করেছেন তাঁরা। সেই কারণেই জনপ্রতিনিধি আইন ৩২ ধারায় তাঁদের বিরুদ্ধে তিনটি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়েরের নির্দেশ দিয়েছেন জেলার জেলাশাসক মেধা রূপম। তিনি এখন জেলা নির্বাচনী আধিকারিকের দায়িত্বও সামলাচ্ছেন।প্রশাসন সূত্রে খবর, বহুবার ফোন এবং লিখিত নির্দেশ পাঠিয়েও কাজের অগ্রগতি না পাওয়ায় শেষমেশ কঠোর সিদ্ধান্তে পৌঁছয় প্রশাসন। শুধু নয়ডা নয়, একইভাবে বেহরিচ জেলাতেও সাসপেন্ড করা হয়েছে দুই বিএলওকে। প্রথমজন শামা নাফিজস্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধানশিক্ষিকা। তাঁকে বিএলওর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু তিনি কোনও কাজই করেননি বলে অভিযোগ। এমনকি ফোন করলেও তিনি রিসিভ করতেন না। দ্বিতীয় সাসপেন্ড হওয়া বিএলও অনুরাগের বিরুদ্ধেও অভিযোগতিনি দায়িত্ব নিয়ে কাজই করেননি।বিএলওদের মৃত্যুর ঘটনার পর যেখানে কমিশন ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে সর্বত্র, সেখানে এত বড় সংখ্যায় সরকারি কর্মীর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। প্রশাসনের কঠোর অবস্থান যেমন স্পষ্ট, তেমনি মাঠপর্যায়ের কর্মীদের চাপ-অস্বচ্ছতা ও দুরবস্থার ছবিও ফের সামনে চলে এসেছে।

নভেম্বর ২৪, ২০২৫
কলকাতা

বিবাদী বাগে আগুন! নির্বাচন কমিশনের গেটে তালা দিতে ছুটলেন বিএলও, ধস্তাধস্তিতে উত্তাপ

কলকাতার বুকে আজ যেন দুদিক থেকে আগুন। একদিকে নবাগত চাকরিপ্রার্থীদের ক্ষোভে ফুঁসছে রাজপথ, অন্যদিকে মুখ্য নির্বাচন অফিসারের দফতর ঘিরে তীব্র আন্দোলনে নেমেছেন বিএলওদের একাংশ। সকালে থেকেই বিবাদী বাগ এলাকা রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছে। ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা, পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি, গেটে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টাসব মিলিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে পুলিশকে।নির্বাচন কমিশনের অফিসের সামনে ব্যারিকেডের দুই পাশে দুই শিবির। এক পাশে কড়া নিরাপত্তায় দাঁড়িয়ে পুলিশকর্মীরা, আর অন্য পাশে ক্ষুব্ধ বিএলওরা। হঠাৎই এক বিএলও কমিশনের গেটে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ তাঁকে আটকে দেয়। তাতেই ক্ষোভে ফেটে পড়ে ভিড়। অনেকে সামনেই বসে পড়েন ধরনায়। ধাক্কাধাক্কিতে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এলাকা। এমনকি বিক্ষোভ চলাকালীন এক বিএলও অসুস্থ হয়ে পড়েন।বিএলওদের অভিযোগ, কয়েক দিন ধরেই তাঁদের ওপর অস্বাভাবিক চাপ তৈরি করা হয়েছে। প্রতিদিনই ফোনে নতুন নির্দেশ আসছে, সঙ্গে আছে ডিজিটাইজেশনের চাপ। তাঁদের দাবি ছিলফর্ম ডিজিটাইজ করার জন্য কিছুটা সময় বাড়ানো হোক। কিন্তু রাজ্যে এসে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার স্পষ্ট করে দেন, একটুও সময় বাড়ানো হবে না। বরং ৪ ডিসেম্বর নয়, ২৫ নভেম্বরের মধ্যেই সব কাজ শেষ করতে হবে। আর সেই নির্দেশের প্রতিবাদে আজ রাস্তায় নেমে পড়েছেন বিএলওদের একাংশ।এক বিক্ষুব্ধ বিএলও বলেন, আমাদের ওপর অমানবিক চাপ দেওয়া হচ্ছে। কাজ করব না এমন নয়কিন্তু এত কম সময়ে এই বিশাল দায়িত্ব পালন করা অসম্ভব। সঠিক পরিকল্পনাই নেই। আরও প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরাবাংলায় কেন এত সমস্যা? কেন বাকি রাজ্যগুলির মতো যথাযথ প্রশিক্ষণ বা পরিকাঠামো দেওয়া হয়নি?নবাগত চাকরিপ্রার্থীদের আন্দোলন সামলাতে ব্যস্ত পুলিশকে আজ একই সঙ্গে সামলাতে হচ্ছে কমিশন ভবনের সামনে ক্ষুব্ধ বিএলওদেরও। দিনের শেষে পরিস্থিতি কোন দিকে গড়ায়, তা নিয়েই চরম উত্তেজনা শহরজুড়ে।

নভেম্বর ২৪, ২০২৫
রাজ্য

মায়া'ময় SIR! ৪৪ জায়গায় একই মহিলা ভোটার? মায়ারানিকে ঘিরে অভূতপূর্ব চাঞ্চল্য!

পশ্চিম বর্ধমানের পাণ্ডবেশ্বরের শান্ত ডিভিসি পাড়ায় আচমকাই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। কারণ, এক সাধারণ গৃহবধূকে ঘিরে উঠে এসেছে অবিশ্বাস্য এক তথ্যএকই নামে নাকি রাজ্যের ৪৪টি জায়গায় রয়েছে ভোটার লিস্ট! আর এই নাম অন্য কারও নয়, পাণ্ডবেশ্বরের ৪৭ নম্বর বুথের সাধারণ ভোটার মায়ারানি গোস্বামীর। এনুমারেশন ফর্মের কিউআর কোড স্ক্যান করতে গিয়ে বিএলও নিজেই যেভাবে চমকে ওঠেন, তেমনই বিস্ময়ে হতবাক মায়ারানি নিজেও।সরকারি বাড়িতে মেয়ে নিয়ে থাকেন মায়ারানি। স্বামী বহু বছর আগেই মারা গিয়েছেন। নিজের ভোটার তালিকার নিয়মিত কাজের সময় বিএলও যখন তাঁর ফর্ম স্ক্যান করেন, তখন দেখা যায়বাঁকুড়া, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ দিনাজপুরসহ রাজ্যের নানান এলাকায় তাঁর নাম রয়েছে ভোটার হিসেবে। এখানেই শেষ নয়। কোথাও তাঁর নাম মায়ারানি প্রামাণিক, কোথাও মায়ারানি মণ্ডল। এমনকি তাঁর প্রয়াত স্বামীর পদবীও নাকি বদলে গিয়েছে বিভিন্ন জেলায়!ঘটনার কথা শুনে প্রতিবেশীরা এক এক করে এসে যখন প্রশ্ন করতে থাকেন, তখন বিভ্রান্ত চোখে মায়ারানির শুধু একটাই কথাআমি তো কিছুই জানতাম না। লোক এসে কাগজ দেখাল। বলল, ভয় পাবেন না।এই অদ্ভুত ঘটনার জেরেই শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক চাপানউতোর। তৃণমূলের স্থানীয় অঞ্চল সভাপতি রবীন পাল দাবি করেছেন, একজন সাদাসিধে মহিলা এত জায়গায় ফর্ম পূরণ করেছেনএটা কোনওভাবেই সম্ভব নয়। তাঁর কথায়, এনুমারেশন প্রক্রিয়ায় কোথাও ভুল হয়েছে কি না, সেটাই খতিয়ে দেখা উচিত।অন্যদিকে বিজেপি নেতা জিতেন্দ্র তিওয়ারির অভিযোগ আরও তীব্র। তাঁর বক্তব্য, এই ঘটনাই প্রমাণ করছে কেন এসআইআর জরুরি। তৃণমূল যে এটির বিরোধিতা করছে, তার কারণ এ ধরনের ভুয়ো ভোটারই তাদের শক্তি। মহিলা জানেন কি না, সেটা আলাদা কথাকিন্তু ৪৪ জায়গায় তাঁর নাম উঠেছে, এটা ভয়ঙ্কর।ঘটনাটি সামনে আসতেই এলাকায় তীব্র উত্তেজনা, অভিযোগপাল্টা অভিযোগে উত্তাল রাজনীতি। আর সাধারণ মানুষ ভাবছেনএটা কি প্রযুক্তিগত ভুল, নাকি সত্যিই কোনও বড় জালিয়াতির খেলা? মায়ারানির মুখে একটাই কথাতিনি শুধু চান, সত্যিটা সকলের সামনে স্পষ্ট হোক।

নভেম্বর ২৪, ২০২৫
রাজ্য

‘গোপন চাপ’ ফাঁস করলেন বিএলওরা! ভোটার তালিকায় নাম তুলতে রাজনৈতিক দবাব? চাঞ্চল্য কমিশনে

পরতে-পরতে বাড়ছে বিস্ময়। পশ্চিমবঙ্গে একের পর এক বিএলও-র মৃত্যু, আর তার মাঝেই সামনে এলো অন্য এক অভিযোগযে চাপের কথা এতদিন কেউ খোলাখুলি বলছিলেন না, সেই গোপন চাপ-এর অভিযোগ তুললেন বিএলও ঐক্য মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক স্বপন মণ্ডল। শনিবার মুখ্যমন্ত্রী নয়, সরাসরি নির্বাচন কমিশনের দোরগোড়ায় গিয়ে স্মারকলিপি জমা দিয়ে উঠে এল এই বিস্ফোরক অভিযোগ।স্বপন মণ্ডল জানান, কমিশনের প্রশাসনিক চাপ, ডেডলাইন, ডেটা এন্ট্রিএসবের বাইরে আরও এক অদৃশ্য চাপ চেপে বসেছে জেলার পর জেলা। মালদহ থেকে তাঁকে ফোন করে জানানো হয়, কিছু ব্যক্তি বাবা বা ঠাকুমার পরিচয় দেখিয়ে একসঙ্গে চারপাঁচজনের নাম অন্তর্ভুক্ত করানোর জন্য বিএলওদের উপর চাপ সৃষ্টি করছেন। অথচ তাদের সঙ্গে ২০০২ সালের তালিকাভুক্ত ব্যক্তির কোনও প্রকৃত সম্পর্কই নেই। কারা সেই মানুষ? কেনই বা এমনভাবে তালিকা ভরানোর চেষ্টা? স্বপনবাবু সরাসরি কোনও দলের নাম উল্লেখ না করলেও তাঁর ইঙ্গিত, রাজনৈতিক চাপ যে রয়েছে, তা স্পষ্ট। আরও বড় অভিযোগএই কাজে নাকি কিছু ERO-ও পরোক্ষে জড়িত।কমিশন আগেই জানিয়ে দিয়েছে, ফর্মে কোনও ভুল হলে দায় যাবে সরাসরি বিএলওদের ঘাড়েই। ফলে একদিকে কমিশনের কড়াকড়ি, অন্যদিকে অদৃশ্য চাপমাঝখানে দমবন্ধ হয়ে যাচ্ছে সাধারণ স্কুলশিক্ষক থেকে শুরু করে গ্রাম-শহরের মাঠে নেমে থাকা হাজার হাজার বুথ লেভেল অফিসার। তাই বিএলওদের দাবি, ফর্ম আপলোডের আগে অ্যাপেই একটি রিমার্কস কলাম রাখতে হবে, যেখানে তারা সন্দেহ বা আপত্তি লিখে রাখতে পারবেন। সিইও দফতর নাকি এই প্রস্তাবে ইতিমধ্যে সম্মতি দিয়েছে।রাজ্যে ইতিমধ্যেই এসআইআর আতঙ্কে তিন বিএলও-র অস্বাভাবিক মৃত্যু ঘিরে তীব্র ক্ষোভ। এর মধ্যেই আবার উঠল রাজনৈতিক চাপ-এর অভিযোগ। রাজ্য সরকার মৃতদের পরিবারকে দুলক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণের ঘোষণা করলেও স্বপন মণ্ডল তা সরাসরি ভিক্ষা বলে কটাক্ষ করেন। তাঁর দাবিএ রকম চাপের মধ্যে কাজ করলে আরও মৃত্যু অনিবার্য। উপরন্তু ERO-রা অহেতুক ২৫ তারিখের ডেডলাইন চাপিয়ে দিয়ে পরিস্থিতিকে আরও জটিল করছে বলেও সরব তিনি।এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠছেএসআইআর কি ত্রুটিমুক্ত ভোটার তালিকা তৈরি করছে, নাকি উল্টে প্রশাসনিক-রাজনৈতিক চাপে ক্লান্ত সাধারণ শিক্ষকদের জীবনই বিপন্ন করে তুলছে? বিএলওদের দাবি, এইভাবে চাপের মধ্যে কাজ চললে, তালিকার ভুল যেমন বাড়বে, তেমনই বাড়বে মৃত্যুর সংখ্যা।

নভেম্বর ২৩, ২০২৫
দেশ

“৪ রাত ঘুমোননি, ফোনে ফোনে হুমকি”—এসআইআরের অতিরিক্ত চাপে প্রাণ গেল দুই স্কুলশিক্ষকের

মধ্যপ্রদেশে মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে পরপর দুই স্কুলশিক্ষকের মৃত্যুতে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। দুজনই বুথ লেভেল অফিসার (BLO) হিসাবে এসআইআর-এর দায়িত্বে ছিলেন। পরিবার ও সহকর্মীদের অভিযোগঅতিরিক্ত কাজের চাপ, অমানবিক ডেডলাইন এবং বারবার সাসপেন্ড করার ভয় দেখানোই মৃত্যুর মূল কারণ। বাংলায় যেভাবে এসআইআর-এর আতঙ্ক ছড়িয়েছে, ঠিক তেমনই পরিস্থিতি এবার মধ্যপ্রদেশেও তৈরি হয়েছে।রাইসেন জেলার বাসিন্দা রমাকান্ত পান্ডে মন্দিদীপ এলাকায় বিএলও হিসেবে কাজ করতেন। তাঁর স্ত্রী রেখা পান্ডে জানিয়েছেন, গত চার রাত রমাকান্ত একটুও ঘুমোননি। ফোনে ফোনে এসআইআরের কাজ নিয়ে তাগাদা, ডেডলাইন মেটানোর চাপ এবং সাসপেন্ড হওয়ার আতঙ্কে তিনি মানসিকভাবে সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছিলেন। বৃহস্পতিবার রাতে একটি অনলাইন মিটিং চলাকালীন আচমকাই সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়েন তিনি। আর ওঠেননি।এর ঠিক এক দিন পর, দামোহ জেলার সীতারাম গোন্দ (৫০)-র মৃত্যু হয়। তিনি রঞ্জরা ও কুড়াকুড়ান গ্রামে এসআইআর-এর দায়িত্বে ছিলেন। সেদিন ভোটারের এনুমারেশন ফর্ম পূরণ করতে গিয়েই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। অত্যন্ত আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে জব্বলপুর হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও শুক্রবার রাতেই মৃত্যু হয়। তাঁর সহকর্মীরা জানান, প্রায় ১৩০০ জন ভোটারের তথ্য সংগ্রহ করে আপলোড করতে হত তাঁকে, কিন্তু সেই লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় প্রচণ্ড মানসিক চাপের মধ্যে ছিলেন তিনি।এর আগেও মধ্যপ্রদেশের আরেক শিক্ষক ভুবন সিং চৌহানের মৃত্যু হয়েছিল। তিনিও BLO ছিলেন এবং কিছুদিন আগে দায়িত্বে ত্রুটির অভিযোগে সাসপেন্ড হয়েছিলেন। পরিবার অভিযোগ করে, এসআইআরের কাজের চাপই তাঁর মৃত্যু ডেকে এনেছে।এই ঘটনাগুলি সামনে আসতেই শিক্ষক মহলে ক্ষোভ বেড়েছে। বাংলায় ইতিমধ্যেই একাধিক BLO-র মৃত্যু নিয়ে বিতর্ক তুঙ্গে। এমনকী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নির্বাচন কমিশনকে চিঠি লিখে জানিয়েছেন, BLO-দের উপর অতিরিক্ত চাপ বন্ধ করতে হবে। ঠিক একই অভিযোগ এবার মধ্যপ্রদেশেও দেখা যাচ্ছে।এসআইআর সংক্রান্ত কাজ দেশজুড়ে কী পরিস্থিতি তৈরি করছে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। ডেডলাইন, স্ট্রেস, ভয় এবং অনবরত চাপসব মিলিয়ে BLO-দের উপর যে মানসিক ও শারীরিক প্রভাব পড়ছে, তারই করুণ পরিণতি তুলে ধরল মধ্যপ্রদেশের দুটি মৃত্যু।

নভেম্বর ২৩, ২০২৫
  • ‹
  • 1
  • 2
  • 3
  • 4
  • 5
  • ›

ট্রেন্ডিং

দেশ

নিট কেলেঙ্কারির ভয়ংকর ফাঁস! “৫০০-৬০০ নম্বর নিশ্চিত”, হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটে বিস্ফোরক তথ্য

নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস কাণ্ডে একের পর এক বিস্ফোরক তথ্য সামনে আসছে। তদন্তে উঠে এসেছে, মূল অভিযুক্ত শুভম খয়েরনার পরীক্ষার্থীদের ৫০০ থেকে ৬০০ নম্বর পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিত। তার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট থেকেই ফাঁস হয়েছে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য।নিট ২০২৬ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের তদন্তভার এখন সিবিআইয়ের হাতে। ইতিমধ্যেই জাতীয় পরীক্ষাকর্তা সংস্থা পরীক্ষা বাতিল করেছে। নতুন করে পরীক্ষা নেওয়ার দিনও ঘোষণা করা হয়েছে।তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, নাসিক থেকে গ্রেফতার হওয়া শুভম খয়েরনার গত এপ্রিল মাসেই তার সাপ্লায়ার যশ যাদবকে জানিয়েছিল যে প্রশ্নপত্রের কপি জোগাড় হয়ে গিয়েছে। সূত্রের খবর, ২৯ এপ্রিল ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্র নিয়ে চূড়ান্ত চুক্তি হয়। তারপর থেকেই শুরু হয় পরীক্ষার্থীদের টার্গেট করে প্রলোভন দেখানো।অভিযুক্তরা পড়ুয়াদের বোঝাত, ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্র নিলে তারা নিশ্চিতভাবে বেশি নম্বর পাবে এবং দেশের নামী মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পাবে। তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, হোয়াটসঅ্যাপে নিয়মিত যোগাযোগ চলত মূল অভিযুক্তদের মধ্যে। সেখানে পরীক্ষার্থীদের ৭২০ নম্বরের পরীক্ষায় ৫০০ থেকে ৬০০ নম্বর পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হত।সিবিআই ইতিমধ্যেই শুভমের মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করেছে। চ্যাটের তথ্যও সংগ্রহ করা হয়েছে। তার কাছ থেকে ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্রের কপিও উদ্ধার হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।তদন্তে উঠে এসেছে, মহারাষ্ট্র থেকে শুরু করে হরিয়ানার গুরুগ্রাম, রাজস্থানের জয়পুর ও শিকর-সহ দেশের বিভিন্ন বড় কোচিং কেন্দ্রে এই প্রশ্নপত্র ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। শুধু তাই নয়, জম্মু-কাশ্মীর, বিহার এবং কেরলেও ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্র পৌঁছে গিয়েছিল বলে দাবি তদন্তকারীদের।শুভম খয়েরনার বয়স ৩০ বছর। নাসিকের ইন্দিরানগরের বাসিন্দা সে। আয়ুর্বেদিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের ছাত্র হলেও কখনও ডাক্তারি পাশ করতে পারেনি। তদন্তে জানা গিয়েছে, ১০ লক্ষ টাকা দিয়ে নিটের প্রশ্নপত্র কিনে পরে তা ১৫ লক্ষ টাকায় বিক্রি করে দেয় সে।এই ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। কারণ, লক্ষ লক্ষ পড়ুয়ার ভবিষ্যৎ নিয়ে কীভাবে বড় চক্র কাজ করছিল, তা এখন স্পষ্ট হয়ে উঠছে তদন্তে।

মে ১৫, ২০২৬
কলকাতা

আরজি কর কাণ্ডে বড় অ্যাকশন! একসঙ্গে সাসপেন্ড তিন আইপিএস অফিসার

ক্ষমতায় এসেই আরজি কর কাণ্ডে বড় পদক্ষেপ করল রাজ্য সরকার। নির্যাতিতা চিকিৎসকের ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ওঠা অভিযোগের ভিত্তিতে তিন জন আইপিএস অফিসারকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। পাশাপাশি তাঁদের ভূমিকা খতিয়ে দেখতে শুরু হয়েছে তদন্তও।যাঁদের সাসপেন্ড করা হয়েছে, তাঁরা হলেন কলকাতার প্রাক্তন পুলিশ কমিশনার বিনীত গোয়েল, কলকাতা পুলিশের প্রাক্তন ডিসি সেন্ট্রাল ইন্দিরা মুখোপাধ্যায় এবং অভিষেক গুপ্ত। রাজ্য সরকারের অভিযোগ, আরজি কর কাণ্ডের সময় পুলিশের তরফে যথাযথ পদক্ষেপ করা হয়নি। এফআইআর করতে দেরি এবং তদন্তে গাফিলতির অভিযোগও উঠেছে তাঁদের বিরুদ্ধে।মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, সেই সময় পুলিশের আধিকারিক এবং অফিসারদের ভূমিকা ঠিক কী ছিল, তা বিস্তারিতভাবে তদন্ত করে দেখা হবে। তবে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, মূল মামলার তদন্ত যেহেতু সিবিআই করছে, তাই সেই তদন্তে রাজ্য সরকার কোনও হস্তক্ষেপ করবে না।আরজি কর কাণ্ড সামনে আসার পর নির্যাতিতার পরিবারকে ঘুষ দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগও উঠেছিল বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, দুই পুলিশ অফিসার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে চাপ তৈরি করার চেষ্টা করেছিলেন। সেই অভিযোগও তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে।আরজি কর কাণ্ডের সময় কলকাতা পুলিশের কমিশনার পদে ছিলেন বিনীত গোয়েল। ডিসি সেন্ট্রাল হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন ইন্দিরা মুখোপাধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রী প্রশ্ন তুলেছেন, কেন ইন্দিরা মুখোপাধ্যায় পুলিশের মুখপাত্রের মতো আচরণ করেছিলেন এবং সেই সময় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে এত প্রশ্ন কেন উঠেছিল।এই ঘটনায় নতুন করে রাজনৈতিক মহলেও তীব্র চর্চা শুরু হয়েছে। কারণ, আরজি কর কাণ্ড নিয়ে শুরু থেকেই রাজ্য প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছিল। এবার সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই বড় প্রশাসনিক পদক্ষেপ করল নতুন সরকার।

মে ১৫, ২০২৬
কলকাতা

শাহজাহানদের জেল নেটওয়ার্কে বড় ধাক্কা! মোবাইল উদ্ধার, সাসপেন্ড দুই শীর্ষ আধিকারিক

প্রেসিডেন্সি সংশোধনাগারে বন্দিদের হাতে মোবাইল ফোন ব্যবহারের অভিযোগ ঘিরে বড় পদক্ষেপ করল রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, জেলের ভিতর থেকেই অপরাধচক্র চালানোর অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নেমে একাধিক মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। এই ঘটনায় প্রেসিডেন্সি সংশোধনাগারের সুপার এবং চিফ কন্ট্রোলারকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। পাশাপাশি পুরো ঘটনার তদন্তভার দেওয়া হয়েছে সিআইডিকে।শুক্রবার বিধানসভা থেকে নবান্নে গিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানেই তিনি জানান, প্রেসিডেন্সি সংশোধনাগারে মোবাইল ব্যবহারের অভিযোগ তাঁর কাছে পৌঁছেছিল। এরপর রাজ্য পুলিশের ডিজিকে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে বলা হয়। তদন্তে অভিযোগ সত্যি প্রমাণিত হয়েছে বলে জানান শুভেন্দু।মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, কলকাতা পুলিশের দক্ষিণ বিভাগের ডিসির উপস্থিতিতে এবং কারা দফতরের ডিজির নেতৃত্বে যৌথ অভিযানে একাধিক মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। শুভেন্দুর অভিযোগ, শুধু প্রেসিডেন্সি নয়, রাজ্যের বিভিন্ন সংশোধনাগার থেকেই অপরাধচক্র চালানো হচ্ছিল। তাঁর কথায়, গোটা রাজ্যের অপরাধীরা জেলের ভিতর থেকেই নেটওয়ার্ক চালিয়ে যাচ্ছে।এই ঘটনায় পূর্বতন সরকারের বিরুদ্ধে পরোক্ষ আক্রমণও শানান মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, এই কাজ একদিনের নয়। বছরের পর বছর ধরে নিচ থেকে উপর পর্যন্ত দুর্নীতির আঁতাত তৈরি হয়েছে। সেই চক্র ভাঙতে সময় লাগবে।শুভেন্দু আরও জানান, দমদম থেকে বহরমপুর পর্যন্ত একাধিক সংশোধনাগারে একই ধরনের অভিযোগ রয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে বন্দিদের আলাদা সেলে রাখা থেকে শুরু করে কড়া নজরদারির ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি। একইসঙ্গে শাহজাহানের নাম উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, জেলে বসে যারা অপরাধচক্র চালাচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।এই ঘটনায় প্রেসিডেন্সি সংশোধনাগারের সুপার এন কুজুর এবং চিফ কন্ট্রোলার দীপ্ত ঘরাইকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। সরকারি আধিকারিকদের উদ্দেশে কড়া বার্তা দিয়ে শুভেন্দু বলেন, দায়িত্বে গাফিলতি হলে শুধু অপরাধীদের বিরুদ্ধে নয়, যারা তাদের সাহায্য করছে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।কোন কোন বন্দির কাছে মোবাইল ছিল, কার নামে সিম ব্যবহার করা হচ্ছিল এবং কীভাবে সেই ফোন জেলের ভিতরে পৌঁছল, তা জানতে সিআইডি তদন্ত শুরু হয়েছে।

মে ১৫, ২০২৬
কলকাতা

আরজি কর কান্ডে বড় পদক্ষেপ! তিন আইপিএস সাসপেন্ড, ফের খুলছে তদন্তের ফাইল; মমতার ভূমিকাও খতিয়ে দেখা হবে

আরজি কর মেডিক্যাল কলেজের বহুল আলোচিত চিকিৎসক ধর্ষণ ও খুনকাণ্ডে নতুন করে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি। শুক্রবার নবান্ন থেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করলেন, ঘটনার সময় দায়িত্বে থাকা তিন আইপিএস অফিসারবিনীত গোয়েল, ইন্দিরা মুখোপাধ্যায় এবং অভিষেক গুপ্ত-কে সাময়িক বরখাস্ত করা হচ্ছে। শুধু তাই নয়, তাঁদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তও শুরু হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। একইসঙ্গে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি-র ভূমিকা নিয়েও খতিয়ে দেখার ইঙ্গিত দিয়েছেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী।নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে শুভেন্দু বলেন, রাজ্যের স্বরাষ্ট্র দফতরের দায়িত্ব নেওয়ার পরই তিনি মুখ্যসচিব এবং স্বরাষ্ট্রসচিবের কাছে লিখিত রিপোর্ট তলব করেছিলেন। আরজি করের ঘটনার সময় পুলিশ প্রশাসন কীভাবে পরিস্থিতি সামলেছিল, কোথায় কোথায় গাফিলতি হয়েছে এবং কোন স্তরে তদন্ত প্রক্রিয়ায় ব্যত্যয় ঘটেছে, তার পূর্ণাঙ্গ তথ্য জানতে চাওয়া হয়েছিল। সেই রিপোর্ট খতিয়ে দেখার পরই এই প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, প্রাথমিক তদন্তেই উঠে এসেছে একাধিক গুরুতর ত্রুটির অভিযোগ। বিশেষ করে ঘটনার পর যথাসময়ে এফআইআর দায়ের, প্রমাণ সংগ্রহ এবং তদন্তের প্রাথমিক ধাপগুলি সঠিকভাবে সম্পন্ন হয়নি বলে অভিযোগ। পাশাপাশি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত কিছু তথ্যের উল্লেখ করে শুভেন্দু দাবি করেন, নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে সরকারি স্তরে আর্থিক সমঝোতার চেষ্টা হয়েছিল বলেও অভিযোগ উঠেছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।২০২৪ সালের অগস্টে আরজি কর মেডিক্যাল কলেজে তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ড সামনে আসতেই সারা রাজ্যে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার হয়। চিকিৎসক সমাজের লাগাতার আন্দোলন, প্রতিবাদ মিছিল এবং প্রশাসনের বিরুদ্ধে জনরোষের মুখে তৎকালীন কলকাতা পুলিশ কমিশনার বিনীত গোয়েলের পদত্যাগের দাবিও জোরালো হয়। পরবর্তীতে তাঁকে কলকাতা পুলিশের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে এসটিএফ-এর এডিজি ও আইজিপি পদে বদলি করা হয়েছিল।একই সময়ে কলকাতা পুলিশের ডিসি (নর্থ) পদে ছিলেন অভিষেক গুপ্ত। তদন্তে গাফিলতির অভিযোগ ওঠার পর তাকেও সরিয়ে দেওয়া হয়। ডিসি (সেন্ট্রাল) পদে থাকা ইন্দিরা মুখোপাধ্যায়ও আরজি কর-পরবর্তী অস্থির পরিস্থিতিতে কলকাতা পুলিশের মুখপাত্র হিসেবে বারবার সংবাদমাধ্যমের সামনে এসেছিলেন। তাঁর ভূমিকাও এখন তদন্তের আওতায় আসছে।শুভেন্দু স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই তদন্ত শুধু প্রশাসনিক দায়বদ্ধতা নির্ধারণেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; প্রয়োজন হলে তৎকালীন রাজনৈতিক নেতৃত্বের ভূমিকাও খতিয়ে দেখা হবে। তাঁর এই ঘোষণার পর রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে। বিরোধীরা একে ন্যায়বিচারের পথে বড় পদক্ষেপ বলে দাবি করলেও, শাসকদলের একাংশ এটিকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বলেই কটাক্ষ করেছে।আরজি কর কাণ্ডে নতুন করে তদন্তের দরজা খোলায় ফের সামনে আসছে সেই ভয়াবহ রাতের বহু অমীমাংসিত প্রশ্ন। এবার প্রশাসনিক পদক্ষেপ কতদূর গড়ায়, সেদিকেই তাকিয়ে গোটা রাজ্য।

মে ১৫, ২০২৬
কলকাতা

ঘরছাড়াদের ফেরাতে বড় ঘোষণা শুভেন্দুর! তবে মানতে হবে কড়া শর্ত

ছাব্বিশের নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই তৃণমূলের তরফে দাবি করা হচ্ছিল, বিভিন্ন জেলায় তাঁদের বহু নেতা-কর্মী আক্রান্ত এবং ঘরছাড়া। শুক্রবার বিধানসভা অধিবেশনেও সেই অভিযোগ তুললেন বিরোধী দলনেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। আর সেই অভিযোগের পরই বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।বিধানসভায় এদিন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অষ্টাদশ বিধানসভার স্পিকার নির্বাচিত হন শাসকদলের প্রার্থী রথীন্দ্রনাথ বোস। বিরোধীরা কোনও প্রার্থী না দেওয়ায় তাঁদের ধন্যবাদ জানান মুখ্যমন্ত্রী। এরপর বক্তব্য রাখতে উঠে ভোট পরবর্তী হিংসার প্রসঙ্গ তোলেন বিরোধী দলনেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, বিজেপির অত্যাচারে বহু তৃণমূল কর্মী-সমর্থক ঘরছাড়া হয়ে রয়েছেন।এই অভিযোগের জবাব দিতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, তাঁর জানা মতে বর্তমানে কেউ ঘরছাড়া নন। তবে যদি এমন ঘটনা ঘটে থাকে, তাহলে বিরোধী দলনেতাকে নামের তালিকা জমা দিতে বলেন তিনি। শুভেন্দুর বক্তব্য, আপনারা তালিকা দিন, কারা ঘরছাড়া হয়েছেন জানিয়ে দিন।তবে এখানেই একটি স্পষ্ট শর্ত বেঁধে দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, তালিকায় থাকা কেউ যদি একুশের ভোট পরবর্তী হিংসার ঘটনায় অভিযুক্ত হন এবং তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর থাকে, তাহলে তাঁকে ঘরে ফেরানো হবে না। বরং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কিন্তু যদি কেউ নির্দোষ হয় এবং সত্যিই ঘরছাড়া থাকেন, তাহলে স্থানীয় বিধায়ক ও পুলিশ সুপার তাঁকে সসম্মানে ঘরে ফিরিয়ে দেবেন বলে আশ্বাস দেন শুভেন্দু।বিধানসভায় এই আলোচনা শেষ হওয়ার পর মুখ্যমন্ত্রীর ঘরে গিয়ে দেখা করেন ডায়মন্ড হারবারের বিধায়ক পান্নালাল হালদার। সূত্রের খবর, তিনি শুভেন্দুকে বলেন যে বাইরে পরিস্থিতি এখনও অশান্ত। তখন মুখ্যমন্ত্রী জানান, পরের দিন পুলিশের সঙ্গে তাঁর বৈঠক রয়েছে এবং সেখানে পান্নালালকেও থাকতে বলেন তিনি।শোনা যাচ্ছে, সেই বৈঠকে যোগ দেওয়ার জন্য লিখিত আমন্ত্রণপত্র চান পান্নালাল। পুরো ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে নতুন জল্পনা। কারণ, বিধানসভায় আগেই শুভেন্দু জানিয়েছিলেন, বিরোধীদেরও সমানভাবে কথা বলার সুযোগ দেওয়া হবে। আর এবার পুলিশের বৈঠকে বিরোধী বিধায়ককে ডাক দিয়ে তিনি যেন সেই বার্তাই আরও স্পষ্ট করে দিলেন।

মে ১৫, ২০২৬
কলকাতা

আর গোপন কিছু নয়! বিধানসভার সব কার্যকলাপ লাইভ দেখানোর ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

বিধানসভার প্রথম দিন থেকেই বড় পরিবর্তনের বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বিধায়করা কে কতটা কাজ করছেন, কে নিয়মিত বিধানসভায় উপস্থিত থাকছেন, তা যাতে সাধারণ মানুষ সরাসরি জানতে পারেন, সেই লক্ষ্যে বিধানসভার কার্যকলাপ লাইভ সম্প্রচারের ঘোষণা করলেন তিনি। তাঁর কথায়, জনগণের নজরদারি আরও শক্তিশালী করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হবে।বিধানসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে শুভেন্দু বলেন, অতীতের অম্ল-মধুর অভিজ্ঞতা তিনি আর টেনে আনতে চান না। পুরনো ত্রুটি-বিচ্যুতি ভুলে গিয়ে বহুদলীয় গণতন্ত্রের নিয়ম মেনেই বিধানসভা চালানোর উপর জোর দেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, বিধানসভাকে আরও দায়িত্বশীল ও স্বচ্ছ করে তোলাই এখন প্রধান লক্ষ্য।তিনি জানান, বিধায়কদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করা হবে। প্রশ্নোত্তর পর্বে সক্রিয় অংশগ্রহণও জরুরি বলে মন্তব্য করেন তিনি। শুভেন্দুর বক্তব্য, সাধারণ মানুষ অনেক সময় বুঝতেই পারেন না তাঁদের নির্বাচিত প্রতিনিধি কী কাজ করছেন। তাই বিল, বাজেট, জিরো আওয়ার-সহ বিধানসভার সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ কার্যকলাপ সরাসরি সম্প্রচার করার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।বিধানসভায় বিশৃঙ্খলা ও অশালীন আচরণের বিরুদ্ধেও কড়া বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, কোনও বিধায়ককে শারীরিকভাবে নিগ্রহ করা উচিত নয়। বিধানসভা মারামারির জায়গা নয়, বরং গণতান্ত্রিক আলোচনা ও মতবিনিময়ের মঞ্চ।শুভেন্দু আরও জানান, বিধানসভায় সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে। এখনও ভোটাভুটির ক্ষেত্রে কাগজে লিখে মত জানাতে হয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। ভবিষ্যতে ডিলিমিটেশন হলে বিধানসভার আসন সংখ্যা বাড়তে পারে বলেও ইঙ্গিত দেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই কারণেই নতুন বিধানসভা ভবন তৈরির উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানান তিনি।বিরোধীদের উদ্দেশেও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, বিরোধীদের আরও বেশি করে কথা বলার সুযোগ দেওয়া হবে। প্রয়োজন হলে বিরোধী বিধায়করা সরাসরি মন্ত্রীদের সঙ্গে কথা বলতে পারবেন। পাশাপাশি কোনও মন্ত্রী এলাকায় গেলে স্থানীয় বিধায়ককে আগাম জানানো হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।শেষে বিরোধীদের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আগে চিঠি পাঠালেও উত্তর পাওয়া যেত না। কিন্তু এখন পরিস্থিতি বদলাবে। বিরোধীরা চিঠি দিলে তিনি নিজে তার উত্তর দেবেন বলেও জানান শুভেন্দু।

মে ১৫, ২০২৬
কলকাতা

নাম না করেই অভিষেককে নিশানা তাপস রায়ের! “বিজেপি নয়, ওর ব্যবস্থা করবে জনগণ আর তৃণমূল”

নতুন সরকার গঠনের পর ভোট পরবর্তী হিংসার অভিযোগ ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে উঠল বিধানসভা। স্পিকার নির্বাচনের দিন তৃণমূলকে একের পর এক আক্রমণ শানালেন মানিকতলার বিজেপি বিধায়ক তাপস রায়। নাম না করেই তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করেন তিনি। তাপসের বক্তব্য, বিজেপি তাঁর কিছু করবে না। তাঁর ব্যবস্থা করবে জনগণ এবং তৃণমূলই।শুক্রবার বিধানসভায় স্পিকার হিসেবে নির্বাচিত হন বিজেপির রথীন্দ্র বসু। এরপর বিভিন্ন দলের বিধায়করা বক্তব্য রাখেন। সেই সময় বক্তব্য রাখতে উঠে তাপস রায় শুরু থেকেই তৃণমূলকে আক্রমণ করতে থাকেন। তৃণমূল বিধায়কদের দিকে তাকিয়ে তিনি বলেন, অনেক তো করেছেন। এবার দেখতে খারাপ লাগছে নাকি?এরপরই তিনি দাবি করেন, এবারের নির্বাচন শুধু সরকার গঠনের ভোট ছিল না, এটা ছিল ধর্মযুদ্ধ। সেই ধর্মযুদ্ধে যারা জিতে এসেছেন, তাঁদের অভিনন্দন জানান তিনি।নবনির্বাচিত স্পিকার রথীন্দ্র বসুর উদ্দেশে তাপস বলেন, বিধানসভায় কোনও দেশবিরোধী বা রাষ্ট্রবিরোধী স্লোগান যেন না ওঠে, তার জন্য প্রয়োজন হলে আইন আনতে হবে। তাঁর এই মন্তব্যে টেবিল চাপড়ে সমর্থন জানাতে দেখা যায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে।এরপরই নাম না করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করেন তাপস রায়। তিনি বলেন, একজন সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ব্লক অঞ্চল থেকে বিজেপি প্রার্থীদের হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। যদিও বাংলার দলের আবার সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক! এই মন্তব্যে তৃণমূল বিধায়করা প্রতিবাদ শুরু করলে তাপস বলেন, সব বলা যায়। বলতে দিতে হবে।তাপস আরও বলেন, সে বলেছিল হাড়গোড় ভেঙে দেওয়া হবে। আমি বলছি, এবার সে বাইরে বেরোক। বিজেপি কিছু করবে না। তার ব্যবস্থা জনগণ আর তৃণমূলই করবে।ভোট পরবর্তী হিংসার অভিযোগ নিয়েও তৃণমূলকে তীব্র আক্রমণ করেন তিনি। তাপসের দাবি, তৃণমূল ফের ক্ষমতায় এলে বিজেপির বহু কর্মী খুন হতেন। তিনি বলেন, আজ যদি ওরা ক্ষমতায় ফিরত, তাহলে দেড়শোর বেশি বিজেপি কর্মীর লাশ গুনতে হত। বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেওয়া হত। লক্ষ লক্ষ বিজেপি সমর্থক ঘরছাড়া থাকতেন।একসময় তৃণমূলেরই নেতা ছিলেন তাপস রায়। একুশের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের টিকিটে বরাহনগর থেকে জিতেছিলেন তিনি। পরে লোকসভা নির্বাচনের আগে বিজেপিতে যোগ দেন। নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে তাপস বলেন, আমি যদি ভোট পরবর্তী হিংসায় জড়িত থাকি, তাহলে আমাকে জেলে পাঠান।শেষে জয় শ্রীরাম এবং ভারত মাতার জয় ধ্বনি দিয়ে বক্তব্য শেষ করেন বিজেপি বিধায়ক।

মে ১৫, ২০২৬
কলকাতা

পদ হারিয়েই বিস্ফোরক পোস্ট কাকলির! তৃণমূলে কি বাড়ছে বিদ্রোহ?

লোকসভায় মুখ্য সচেতকের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বারাসতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে। আর তারপর থেকেই তৃণমূলের অন্দরে নতুন করে শুরু হয়েছে জল্পনা। কারণ পদ হারানোর পর সমাজমাধ্যমে ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্ট করেছেন কাকলি। সেই পোস্ট ঘিরেই এখন রাজনৈতিক মহলে তুমুল চর্চা শুরু হয়েছে।পালাবদলের পর থেকেই তৃণমূলের একাংশ নেতার মধ্যে অসন্তোষ প্রকাশ্যে এসেছে। কেউ সংবাদমাধ্যমের সামনে, কেউ আবার সমাজমাধ্যমে দলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। অনেকেই দলের খারাপ ফলের জন্য অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং আইপ্যাককে দায়ী করেছেন। সেই আবহেই কাকলির পোস্ট নতুন করে জল্পনা বাড়িয়েছে।গত বছরের অগস্ট মাসে আচমকাই লোকসভায় দলের মুখ্য সচেতকের পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তারপর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেই দায়িত্ব দেন কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে। কিন্তু মাত্র নমাসের মধ্যেই ফের সেই পদে ফিরিয়ে আনা হল কল্যাণকে। আর তারপর থেকেই রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, কেন হঠাৎ এই সিদ্ধান্ত?পদ থেকে সরানোর পর সমাজমাধ্যমে কাকলি লেখেন, ৭৬ থেকে পরিচয়, ৮৪ থেকে পথচলা শুরু। ৪ দশকের আনুগত্যের জন্য আজ পুরস্কৃত হলাম। এই পোস্ট থেকেই স্পষ্ট, সিদ্ধান্তে তিনি যে অত্যন্ত ক্ষুব্ধ, তা আর আলাদা করে বলার অপেক্ষা রাখে না।এর আগেও কাকলির ছেলে বৈদ্যনাথ ঘোষ দস্তিদার একাধিক পোস্ট করে দলের অন্দরে চাঞ্চল্য ফেলেছিলেন। সমাজমাধ্যমে তৃণমূল নেতৃত্বের কড়া সমালোচনা করেছিলেন তিনি। একইসঙ্গে সিপিএম নেতৃত্ব এবং মহম্মদ সেলিমের প্রশংসাও করেছিলেন।আরও একটি পোস্টে বৈদ্যনাথ লিখেছিলেন, আমার মাকে প্রশ্ন করার প্রয়োজন নেই। প্রশ্ন করুন সব্যসাচী দত্ত কোথায়? রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই পোস্টের পর থেকেই কাকলির অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়ে।এখন ছেলের পর মা-ও প্রকাশ্যে ক্ষোভ দেখানোয় তৃণমূলের অন্দরে নতুন করে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। যদিও কাকলির পোস্ট নিয়ে এখনও পর্যন্ত দলের তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

মে ১৫, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal