• ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩, সোমবার ৩১ আগস্ট ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

Anish

রাজ্য

ছাত্রনেতা আনিসের পরিবারের দাবি ওড়াল সিট, আদালতে চার্জশিট পেশ

হাওড়ার আমতার ছাত্রনেতা আনিস খানের রহস্য-মৃত্যুতে আদালতে চার্জশিট পেশ করল সিট। রাজ্য পুলিশের সিট চার্জশিটে উল্লেখ করেছে, খুন হননি আনিস। আনিসের পরিবার ঘটনার পর থেকে দাবি করে আসছে তাঁকে খুন করা হয়েছে। সিটের জমা দেওয়া চার্জশিটে আমতার তৎকালীন ওসি, এক এএসআই, এক হোমগার্ড ও দুই সিভিক ভলান্টিয়ারের নামের উল্লেখ রয়েছে।আমতার ছাত্রনেতা আনিসকে পুলিশই খুন করেছে। অভিযোগ তাঁর পরিবারের। আনিসের রহস্য-মৃত্যু ঘিরে একটা সময় টানা কয়েকদিন উত্তাল ছিল শহর কলকাতা। আনিস-মৃত্যুতে সিবিআই তদন্তের দাবি করে আসছে তাঁর বাবা সালিম খান। আনিসের মৃত্যুতে রাজ্য পুলিশকেই কাঠগড়ায় তুলে সরব হয়েছিল বিরোধীরাও। আনিসের পরিবারের দাবি খারিজ করে দিয়েছে সিট। উপর থেকে পড়ে গিয়েই আনিসের মৃত্যু হয়েছে বলে চার্জশিটে উল্লেখ করেছে সিট। একইসঙ্গে পুলিশের গাফিলতির বিষয়টিরও উল্লেখ করা হয়েছে চার্জশিটে।

জুলাই ১১, ২০২২
রাজ্য

শেষমেশ অপরাধীদের চিহ্নিত করতে উলুবেড়িয়া জেলে হাজির আনিস খানের বাবা

টিআই প্যারেডে অপরাধীদের চিহ্নিত করতে উলুবেড়িয়া জেলে গিয়েছেন আনিস খানের বাবা সালেম খান। আনিস খুনের সঙ্গে পুলিশ জড়িত বলে অভিযোগ করেছেন সালেম খান। একজন বন্দুকধারী পুলিশ ও তিনজন সিভিক পুলিশ রাতে আমতার সারদা দক্ষিণখান পাড়ায় আনিসদের বাড়িতে গিয়েছিল। বন্দুকধারী পুলিশ নীচে সালেম খানকে আটকে রাখে। বাকি তিনজন ওপরে গিয়ে ছেলে খুন করে ফেলে নীচে ফেলে দিয়েছে। এমনই অভিযোগ করেছেন সালেম খান। ওই অভিযোগেই অনড় রয়েছেন আনিসের বাবা।এরইমধ্যে হোমগার্ড কাশীনাথ বেরা এবং সিভিক ভলান্টিয়ার প্রীতম ভট্টাচার্যকে গ্রেফতার করে পুলিশ। প্রথমে টিআই প্যারেডে সালেম খান যাবেন কীনা তা নিয়ে সন্দেহ ছিল। পরে অবশ্য সিটের দল এদিন দুপুরে দক্ষিণখান পাড়ায় আনিসদের বাড়িতে যায়। পরে অবশ্য আইনজীবী আসার পর উলুবেড়িয়া রওনা দেন সালেম খান। পুলিশের গাড়িতে যাননি সালেম খান। তাঁর আইনজীবীর গাড়িতে তিনি উলুবেড়িয়া যান। এখন ঘটনার একমাত্র প্রত্য়ক্ষদর্শী টিআই প্যারেডে গ্রেফতার দুজনকে চিনতে পারেন কীনা বা এরাই তাঁর বাড়িতে গিয়েছিল কীনা সেটাই এখন দেখার। তবে সালেম খানের বক্তব্য ছিল বন্দুকধারী পুলিশ কর্মীকে তাঁর স্পষ্ট মনে রয়েছে।

ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২২
রাজ্য

আনিসকাণ্ডে এসএফআইয়ের ভবানী ভবন অভিযানে রাসবিহারীতে ধুন্ধুমার, মিছিল শুরুতেই বাধা

ছাত্র নেতা আনিস খানের খুনিদের শাস্তির দাবিতে ও রাজ্য পুলিশের ভূমিকার প্রতিবাদ জানাতে ভবানী ভবন অভিযানের ডাক দিয়েছিল এসএফআই। শুক্রবার মিছিল শুরুর আগেই থেকে রাসবিহারী এলাকা প্রায় দুর্গে পরিণত করে পুলিশ। বিশাল পুলিশ বাহিনী পুরো এলাকার দখল নেয়। সাদা পোষাকের পুলিশও ছিল যথেষ্ট সংখ্যক। মিছিলে শুরু হওয়ার আগেই হাজির এসএফআই নেতৃত্বকে প্রিজন ভ্যানে তুলে নেয় পুলিশ। পুলিশের সঙ্গে ব্যাপক ধস্তাধস্তি হয় আন্দোলনকারীদের। ধুন্ধমার কান্ড ঘটে রাসবিহারী মোড়ে।গ্রেফতার ছাত্রনেতা সৃজন ভট্টাচার্যআলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র আনিস খানকে আমতার সারদা দক্ষিণ খানপাড়ার বাড়িতে গিয়ে পুলিশ খুন করে বলে অভিযোগ তোলে তাঁর বাবা সালেম খান। ইতিমধ্যে ওই ঘটনায় দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঘটনার পর দিন থেকে আন্দোলন শুরু করে ছাত্র সংগঠনগুলো। এসএফআই ও বাম ছাত্র সংগঠনগুলো পথে নামে আনিসের খুনিদের গ্রেফতারের দাবিতে। রাজ্য পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে এসএফআই। এদিন রাসবিহারীতে রীতিমতো আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের খন্ডযুদ্ধ বেধে যায়। দেখা যায় এসএফআইয়ের রাজ্য সম্পাদক সৃজন ভট্টাটার্যকে চ্যাংদোলা করে পুলিশ প্রিজন ভ্যানে তুলছে। মিছিল শুরুই করতে দেয়নি পুলিশ। ছাত্র সংগঠনের নেতা-কর্মীরা হাজির হতেই তাঁদের গ্রেফতার করে পুলিশ।সৃজন ভট্টাচার্য বলেন, পুলিশ বলেছিল, এক পাও মিছিল করতে দেবে না। আমরা ওই হুমকি ফু্ঁ দিয়ে উড়িয়ে মিছিল করেই ভবানীভবন যাচ্ছিলাম। মাঝপথে পুলিশের আক্রমণ, আহত একাধিক ছাত্র৷ পুরুষ পুলিশ আক্রমণ করেছে ছাত্রীদের৷ আটক করে লালবাজার নিয়ে যাচ্ছে। প্রতীকউরদা ও যুব নেতৃত্ব আমতায় আছে। মিছিল করবে। থামানো যাবে না আক্রমণ করে আমাদের। কাল হাওড়া জেলা গ্রামীণ এসপি ঘেরাও। তার আগে আজ বিকেল থেকে সর্বত্র আরেক দফা রাস্তা অবরোধ৷

ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২২
রাজ্য

পুলিশকে দিয়ে কারা আনিস খানকে খুন করাল? প্রশ্ন তুলে তৃণমূল নেতৃত্বকে বিঁধলেন রাহুল

পুলিশকে দিয়ে কারা আনিস খানকে খুন করাল তার তদন্ত হলে অনেক তৃণমূল নেতা জড়িয়ে যাবে। বিজেপি প্রার্থীদের সমর্থনে বুধবার কাটোয়ায় প্রচারে এসে এমনটাই দাবি করলেন বিজেপি নেতা রাহুল সিনহা। তৃণমূল নেতৃত্ব যদিও রাহুল সিনহার এইসব বক্তব্যকে কোন গুরুত্বই দিতে চাননি। তাঁদের বক্তব্য, রাহুল সিনহা বোধহয় যোগী রাজ্যের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গকে গুলিয়ে ফেলছেন। কাটোয়ায় রোড শো শেষ করে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রাহুল সিনহা আরও বলেন, আনিস খানকে খুনের ঘটনার ভিতরে লুকিয়ে আছে অনেক রহস্য। পুলিশ হত্যা করেছে ঠিকই, কিন্তু পুলিশকে দিয়ে কারা হত্যা করিয়েছে? অনেক তৃণমূল নেতা জড়িয়ে যাবে। সিট গঠন করে আসল সত্য সামনে আসবে না। একমাত্র সিবিআই তদন্ত হলেই সব সত্য বেড়িয়ে আসবে। চারটে পুলিশকে সাসপেন্ড করে ন্যাকামি দেখানোর দরকার নেই। আনিসের পরিবার সিবিআই তদন্তের দাবি করেছে বলে এখন তাঁদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এবার মিথ্যা মামলা দেওয়া হবে। গ্রেফতার পর্যন্ত করা হতে পারে । এইসবই শাসকদলের এক একটা ফর্মুলা। আগে চাকরির লোভ দেখিয়ে পরিবারকে বসে আনার চেষ্টা করা। যখন পারবে না তখন হুমকি দেখানো হবে। মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হবে।

ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২২
রাজ্য

সিট অনিস খানের মৃত্যুর ঘটনায় নীচু তলার দুই পুলিশ কর্মীকে বলির পাঁঠা করলো, বললেন সজল ঘোষ

আনিস খানকে খুনের ঘটনায় গ্রেফতার হয়েছে দুই পুলিশ কর্মী। আর এই গ্রেফতারি নিয়ে বুধবার সিটের তদন্তকারী অফিসার ও মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে কটাক্ষ ছুঁড়ে দিলেন বিজেপি নেতা সজল ঘোষ। পুর ভোটের প্রচারে এদিন সন্ধ্যায় বর্ধমানে সভা করতে এসে সজলবাবু দাবি করেন, আনিসের মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে যা হওয়ার ছিল সেটাই হয়েছে। বলির পাঁঠা করা হল নীচু তলার দুই পুলিশ কর্মীকে। এই প্রসঙ্গে সজলবাবু স্পষ্ট জানিয়ে দেন, আমরা আনিসের মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে সিবিআই তদন্ত চাইছি। আনিসের বাবাও তাঁর ছেলের মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে সিবিআই তদন্তই চাইছেন। বর্ধমান পুরসভার ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বী বিজেপি প্রার্থীদের সমর্থনে এদিন সন্ধ্যায় শহর বর্ধমানের কার্জনগেট এলাকায় একটি সভা হয়। সেই সভায় যোগ দেন বিজেপির মুখপত্র তথা কলকাতা পুরসভার বিরোধী দলনেতা সজল ঘোষ। সভা শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সজল ঘোষ আরও বলেন, সিটের মাথা করে দেওয়া হয়েছে জ্ঞানবন্ত সিংকে। তিনি রিজওআনুর কেসের আসামী। সজল ঘোষ প্রশ্ন তোলেন তপসী মালিকের মৃত্যুর তদন্ত হয়েছে?২১ শে জুলাইয়ের ঘটনায় কেউ শাস্তি পেয়েছে? নন্দীগ্রাম ঘটনায় দোষীদের সাজা কি হয়েছে? কেউ শাস্তি পায়নি। বরং পুরস্কার পেয়েছে। মণিশ গুপ্তকে বিধায়ক করে দেওয়া হয়েছিল। এই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একদিন রিজওয়ানুরের সময়ে বলেছিলেন, যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ। এখন তারাই যদি তদন্ত করে সেই তদন্তের কি ফল বেরুবে। আমি তো তার কথাই বলছি। সিবিআই গ্রেফতার না করলে উনিও তো করতে পারতেন। আজকে উনি (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) সিবিআই চান না । কারণ ওনার জায়গা পাওয়া হয়ে গিয়েছে। উনি ভাইপো ছাড়া আর কিছুই চেনেন না । আবার ভাইপো বেশী লাফালে ভাইপোকেও চেনেন না।

ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২২
রাজ্য

Big Breaking: আনিস হত্যায় গ্রেফতার দুই পুলিশ কর্মী, নবান্নে জানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

সিট তদন্ত শুরু করার দুদিনের মাথায় আনিস খুনে দুজন গ্রেফতার হল। গ্রেফতার করা হয়েছে হোমগার্ড কাশীনাথ বেরা ও সিভিক ভলান্টিয়ার প্রীতম ভট্টাচার্যকে। আমতা-কান্ডে ২ জন পুলিশ কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আইন আইনের পথে চলবে। পুলিশের নামে অভিযোগ এসেছে। যাতে নিরপেক্ষে তদন্ত হয় তাই দুজনকে পুলিশকে কাষ্টডিতে রাখা হয়েছে। জানি না প্রমানিত হবে কীনা। সরকার কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে পারে। এদিন নবান্নে একথা জানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।এর আগে আনিস কান্ডে তিনজন পুলিশ কর্মীকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। সূত্রের খবর, ইতিমধ্যে চার পুলিশ কর্মীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ভবানীপুরে তলব করা হয়েছে। সিট তদন্তে নেমে আমতায় আনিসের বাড়িতে গেলেও তাঁদের তদন্তে সহযোগিতা করেনি আনিসের পরিবার।আনিস-খুনে পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে তাঁর পরিবার। তাঁরা সিবিআই তদন্তের দাবি করেছেন। রাজ্যের পুলিশ নিরপেক্ষ তদন্ত করতে পারবে না বলেই আনিসের পরিবারের দাবি। এদিকে আনিস হত্যার অভিযুক্তদের গ্রেফতারের দাবি জানিয়ে গত কয়েক দিন ধরেই বিক্ষোভ চলছে রাজ্যে। উত্তাল হয়েছে কলকাতা।

ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২২
রাজ্য

আনিসের মৃত্যু দায় চাপিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে কাঠগড়ায় তুললেন সিপিএম নেতা মহম্মদ সেলিম

পুর ভোটের প্রচারে বর্ধমানে এসে আনিস খানের মৃত্যু নিয়ে সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীকেই কাঠগড়ায় তুললেন সিপিএমের পলিটব্যুরো সদস্য মহম্মদ সেলিম। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন,দোষীদের আড়াল করতে চাইছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা পুলিশ মন্ত্রী। বর্ধমান শহরের কালিবাজারে এক নির্বাচনী জনসভা হয় মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ।সেখানেই বর্ধমান পুরসভার ভোটে প্রতিদ্বন্দি দলীয় প্রার্থীদের সমর্থনে সিপিএমের পলিটব্যুরো সদস্য মহম্মদ সেলিম বক্তব্য রাখেন ।সভায় সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আভাস রায়চৌধুরী সহ অন্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন। বক্তব্য রাখতে উঠেই মহম্মদ সেলিম রাজ্যে তোলপাড় ফেলা ইস্যু আনিস খানের মৃত্যু নিয়ে সরব হন । তিনি বলেন, প্রথমে মুখ্যমন্ত্রী বললেন পুলিশ যায়নি। তারপর বললেন পুলিশ গিয়েছিল। সঙ্গে সঙ্গে নীচুতলার কয়েকজন পুলিশকে সাসপেন্ড করা হল। নিচুতলার পুলিশকে কেন সাসপেন্ড করা হল? তার উপরে তো হাওড়া গ্রামীণের পুলিশ সুপার আছে।সেলিমের আরও অভিযোগ, ঘটনার পরেই মুখ্যমন্ত্রী বলে দিলেন, পুলিশ যায়নি। কারণ যে কোন বড় ঘটনাকে খেলো করে দেখা ওনার স্বভাব। যখন বড় ঘটনা হয় তখন নীচুতলায় কোপ পড়ে। এই আনিসের ঘটনায় এস পি বা পুলিশ মন্ত্রী কি দায় এড়াতে পারেন?। তার প্রশ্ন, আনিসের বাবা আমতা থানায় ফোন করার ছয় ঘন্টা পর পুলিশ আসে। আজ পড়ুয়ারা কলকাতার রাজপথে প্রতিবাদ করছিল। সেখানে শয়ে শয়ে পুলিশ চলে এলো? কেন কি হচ্ছে? শাসকদল বলছে, এই মৃত্যু নিয়ে বিরোধীরা ঘোলা জলে মাছ ধরতে নেমেছে, সেলিমের প্রশ্ন, জল ঘোলা করল কারা?

ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২২
রাজ্য

আনিস মৃত্যুরহস্য, ৩ পুলিশ কর্মী সাসপেন্ড

আনিস কান্ডে ৩ জন পুলিশ কর্মীকে সাসপেন্ড করা হল। আনিসের মৃত্যুরহস্য ক্রমশ ঘনীভূত হচ্ছে। সূত্রের খবর, সাসপেন্ড করা হয়েছে, এএসআই নির্মল দাস, কনস্টেবল জিতেন্দ্র হেবরম ও হোমগার্ড কৃষ্ণনাথ বেরাকে। আনিসের পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, পুলিশ খুন করে তিন তলা থেকে ফেলে দিয়েছে ওই যুবককে। যদিও পুলিশ এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করেনি। আমতার সারদা দক্ষিণ পাড়ায় আনিসদের বাড়িতে ভিড় জমিয়েছেন স্থানীয়রা।ঘটনার পর চারদিন পর সাসপেন্ডের সিদ্ধান্ত নেওয়া হল। তবে এখনও ছাত্রনেতা আনিস খানের আততায়ীদের ধরা যায়নি। বিক্ষোভের আঁচ ক্রমশ বাড়ছে। সোমবার ওই যুবকের মৃত্যু রহস্য উদঘাটনে গঠিত বিশেষ তদন্তকারী দলের সদস্যরা কাজ শুরু করেছে। কর্তব্যে গাফিলতির জন্য সাসপেন্ড করা হয়েছে বলে সূত্রের খবর।

ফেব্রুয়ারি ২২, ২০২২
রাজ্য

ছাত্রনেতা আনিস খানের মৃত্যুর ঘটনায় রাজ্য সরকারকেই কাঠগড়ায় তুললেন দিলীপ ঘোষ

হাওড়ার আমতায় আইএসফের ছাত্র নেতা আানিস খানের রহস্যজন মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে উত্তাল হয়ে রয়েছে রাজ্য রাজনীতি। এই অবস্থার মধ্যেই রবিবার বর্ধমানে জনসংযোগে এসে বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষও আনিস খানের মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে স্বোচ্চার হলেন। পুলিশ কর্মী সেজে বাড়িতে গিয়ে কারা আনিস খানকে খুন করলো তার তদন্ত দাবি করে দিলীপ ঘোষ বলেন,পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক খুন নতুন কিছু নয়।পশ্চিমবঙ্গে এনকাউন্টার হয় সেটা জানা নেই। তবে পশ্চিমবঙ্গে এনকাউন্টার হলে এত দুর্বৃত্ত রাস্তায় ঘুরে বেড়াতো না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পুলিশের সমস্ত সময়টা বিজেপিকে ঠেকাতেই চলে যাচ্ছে।রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কোনো নজর নেই। পুরভোট থাকায় এদিন সকালে বর্ধমানের বীরহাটা মোড় থেকে রানীগঞ্জ বাজার পর্যন্ত জনসংযোগ যাত্রা করেন দিলীপ ঘোষ। পরে তিনি রানীগঞ্জ বাজারে চা চক্রে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন। সেখানে দিলীপ ঘোষ আরো বলেন ,প্রায় সাড়ে চার মাস ধরে আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন দাবিতে ছাত্র আন্দোলন হচ্ছে। ওই আন্দোলনের অন্যতম নেতা ছিলেন আনিস খান।পুলিশ কর্মী সেজে বাড়িতে গিয়ে কারা এই আনিস খানকে খুন করলো সেই প্রশ্নই এখন সারা রাজ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। পাশাপাশি দিলীপ ঘোষ আরো বলেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কে রজ্যপাল ডেকেছেন।ওনার সৌজন্য দখিয়ে যাওয়া উচিত।কারণ লক্ষ্মী ভাণ্ডার ও দিদির ভাইয়েদের পেট ভরাতে গিয়ে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যটা দেউলিয়া হেয়ে যাচ্ছো। একই সঙ্গে দিলীপ ঘোষ ষ্পষ্ট জানিয়েদেন, দেশে বহু মানুষ সিএএ এর বিরোধিতা করছে। তাতে আমাদের কিছু যায় আসে না। দিনহাটার গুলি কাণ্ড প্রসঙ্গে দিলীপ বাবু বলেন, উদয়ন গুহ গুণ্ডা পুষে রাখেন।তারাই খুন করেছে কিনা তারও তদন্ত হওয়া উচিৎ।যদিও দিলীপ ঘোষের এইসব মন্তব্য নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যের মুখপত্র দেবু টুডুর সাফ জবাব, বিধানসভা ভোটে পরাজয়ের হতাশা থেকে দিলীপ ঘোষ এই সব মন্তব্য করছেন। পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য নয় ,বিধনসভা ভোটের পর এই রাজ্যে বিজেপি দলটাই দেউলিয়া হয়ে গিয়েছে ।

ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২২
খেলার দুনিয়া

‌Paralympics : প্যারালিম্পিক্সে বাঁ হাতেই খেল মণীশ নারওয়ালের

জন্ম থেকে ডান হাত একেবারে অকেজো। বাঁ হাতেই সবকিছু করতে হয়। টোকিও প্যারালিম্পিক্সে সেই বাঁ হাতেই খেল দেখালেন মণীশ নারওয়াল। শনিবার ৫০ মিটার পিস্তল ইভেন্টে দেশকে সোনা এনে দিলেন। শুধু সোনা জেতাই নয়, ২১৮.২ পয়েন্ট সংগ্রহ করে নতুন প্যারালিম্পিক্স রেকর্ডও গড়েছেন মণীশ। এই ইভেন্ট থেকেই দেশকে রুপো এনে দিয়েছেন সিংহরাজ আধানা। টোকিও অলিম্পিকে মানু ভাকের, সৌরভ চৌধুরিদের নিয়ে অনেক স্বপ্ন ছিল। কিন্তু প্রত্যাশাপূরণ করতে পারেননি ভারতীয় শুটাররা। মানু ভাকর ও সৌরভ চৌধুরীদের ব্যর্থতা ঢেকে দিলেন অবনী লেখারা, মণীশ নারওয়াল, সিংহরাজ আধানারা। টোকিও প্যারালিম্পিক্সে দুটি সোনা সহ মোট পাঁচটি পদক জিতে ইতিহাস তৈরি করল ভারত। শনিবার মনীশ নারওয়াল ও সিংহরাজ আধানার হাত ধরে এক বৃত্ত সম্পন্ন হল। একই প্যারালিম্পিক্সে দুটি পদক জিতে এলিট ক্লাবের সদস্য হলেন সিংহরাজ। ১৯৮৪ প্যারালিম্পিক্স থেকে একটি সোনা ও দুটি ব্রোঞ্জ পদক জিতেছিলেন যোগিন্দর সিং সোধি। চলতি প্যারালিম্পিকের শুটিং ইভেন্ট থেকে সোনা ও ব্রোঞ্জ জিতেছেন অবনী লেখারা।পি ৪ মিক্সড ৫০ মিটার পিস্তল এসএইচ ওয়ান ইভেন্টের ফাইনালে মণীশের থেকে ভাল শুরু করেছিলেল সিংহরাজ আধানা। প্রথম ১০টি শটের পর ৯২.১ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষ স্থানে ছিলেন। মণীশের স্কোর ছিল ৮৭.২ পয়েন্ট। একসময় তাঁকে টপকে যান রাশিয়ান প্যারালিম্পিক্স কমিটির সার্গেই মালিসেভ। পঞ্চম সিরিজ পর্যন্ত মালিসেভই সোনা জয়ের দাবিদার ছিলেন। শেষ দুই সিরিজে জ্বলে ওঠেন ভারতের দুই শুটার। সিংহরাজ আধানাকেও টপকে যান মণীশ। প্রথম ১০ শটে অনেকটাই পিছিয়ে ছিলেন। ১৮ নম্বর শটের পর ৪ নম্বরে ছিলেন মণীশ। শেষ দুই সিরিজে ১০.৮ ও ১০.৫ পয়েন্ট সংগ্রহ করে ২১৮.২ পয়েন্টে পৌঁছে যান ১৯ বছর বয়সী এই প্যারা শুটার। বিশ্বরেকর্ড গড়ে সোনা জেতেন। অন্যদিকে, সিংহরাজ আধানা সংগ্রহ করেন ২১৬.৭। ১৯৬.৮ পয়েন্ট নিয়ে ব্রোঞ্জ জেতেন সার্গেই মালিসেভ। পি ৪ মিক্সড ৫০ মিটার পিস্তল এসএইচ ওয়ান ইভেন্টের যোগ্যতা অর্জন পর্বে ৫৩৬ পয়েন্ট নিয়ে চতুর্থ হয়েছিলেন সিংহরাজ আধানা। ৫৩৩ পয়েন্ট নিয়ে সপ্তম হয়ে ফাইনালে উঠেছিলেন মনীশ। তবে চূড়ান্ত পর্বে দুই ভারতীয় প্যারা শুটারদের পারফরমেন্স সকলকে চমকে দিয়েছে। শৈশবে ফুটবলার হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন মনীশ নারওয়াল। লক্ষ্য ছিল দেশের হয়ে খেলবেন। কিন্তু শারীরিক প্রতিবন্ধকতায় ফুটবলার হওয়ার স্বপ্নপূরণ হয়নি। প্যারালিম্পিক্স থেকে দেশকে সোনা জিতে নতুন ইতিহাস রচনা করলেন হরিয়ানার এই প্যারা শুটার।

সেপ্টেম্বর ০৪, ২০২১
বিনোদুনিয়া

Danish Siddique : প্রেস ক্লাবে সাংবাদিক দানীশ সিদ্দিকীর স্মরণসভা

সম্প্রতি আফগানিস্তানে সংবাদ চিত্র সংগ্রহ করতে গিয়ে নিহত হন পুলিৎজার বিজয়ী ভারতীয় চিত্র সাংবাদিক দানীশ সিদ্দিকী। তাঁর স্মরণে আজ কলকাতা প্রেস ক্লাবে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। কলকাতার সাংবাদিক ও চিত্র সাংবাদিকরা বহু সংখ্যায় উপস্থিত হয়ে নিহত চিত্র সাংবাদিকের স্মৃতিতে মোমবাতি জ্বেলে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।আরও পড়ুনঃ কান্দাহারে নিহত পুলিৎজার জয়ী ভারতীয় চিত্রসাংবাদিকএই বিশেষ অনুষ্ঠানে প্রয়াত দানীশ সিদ্দিকীর উল্লেখ্যোগ্য চিত্র সংগ্রহ অভিযানগুলি তুলে ধরা হয়। উপস্থিত সাংবাদিক ও চিত্র সাংবাদিকরা তাদের প্রয়াত সহযোদ্ধার স্মৃতিতে একমিনিট নীরবতা পালন করেন।

জুলাই ১৯, ২০২১
কলকাতা

মণীশ খুনে গ্রেপ্তার শার্পশুটার

অবশেষে পুলিশের জালে বিজেপি নেতা মণীশ শুক্লা খুনে অভিযুক্ত শার্প শুটার অনীশ ঠাকুর। তামিলনাড়ুতে একটি ডাকাতি ঘটনায় তাঁকে আটক করে সে রাজ্যের পুলিশ। লালবাজার সূত্রে খবর, অনীশকে রাজ্যে আনতে সিআইডি টিম যাচ্ছে।সূত্রের খবর, মণীশ শুক্লাকে হত্যার পর দেশের দক্ষিণের রাজ্যগুলোতে গা ঢাকা দীয়েছিল অনীশ। শেষমেশ তামিলনাড়ুতে দুষ্কৃতীদের একটি গ্যাংয়ে শামিল হয়ে যায় সে। সেখানেই একটি ডাকাতির চেষ্টা চালায় ওই সমাজবিরোধীরা। কিন্তু এবার আর ভাগ্য সঙ্গ দেয়নি অনীশের। পুলিশের জালে ধরা পড়ে সে। পরিচয় যাচাই করে তামিলনাড়ু পুলিশ জানতে পারে যে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি নেতা খুনের ঘটনায় অন্যতম অভিযুক্ত অনীশ। তারপরই বিষয়টি জানানো হয় লালবাজারকে। ধৃতকে ট্রানজিট রিমান্ডে রাজ্যে আনতে কলকাতা থেকে আজই সিআইডি টিম তামিলনাড়ু যাচ্ছে বলে খবর।

ফেব্রুয়ারি ০৫, ২০২১
রাজ্য

আমার জনশক্তি আছেঃ শুভেন্দু

আমার জনশক্তি আছে। ওই শক্তিই আসল শক্তি। বৃহস্পতিবার তমলুকের নিমতৌড়ির সভার পরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এই মন্তব্য করেছেন শুভেন্দু অধিকারী। কিন্তু বিধায়কপদ ছেড়ে তাঁর কেমন লাগছে, নিজেকে মুক্ত বলে মনে হচ্ছে কি না, সেই সব প্রশ্নের জবাবেই শুভেন্দু উঁচুগলায় একটি শব্দই বলেছেন বন্দেমাতরম। তাম্রলিপ্ত জাতীয় সরকারের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে নিমতৌড়ির সভায় গিয়েছিলেন শুভেন্দু। মাত্রই পাঁচমিনিটের সংক্ষিপ্ত বক্তৃতা করেন তিনি। তার পর শোভাযাত্রায় হাঁটতে শুরু করেন। প্রতি বছরই এই দিনটি শুভেন্দু পালন করেন। কিন্তু এ বার তাঁকে ঘিরে আগ্রহ এবং উত্তেজনা স্বভাবতই অনেক বেশি। শুভেন্দু তাঁর বক্তৃতায় তমলুকে ২১ মাসের জাতীয় সরকারের স্মৃতিচারণ করেছেন। আরও পড়ুন ঃ তৃণমূল ছাড়লেন শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন, ওই একুশ মাসের সরকারকে বৃটিশরা ফেলে দিতে পারেনি। প্রতিবছর এই দিনটি উদ্যাপিত হয়। এ বার অনেক বেশি সংবাদমাধ্যমের লোক এসেছেন। যারা এই ইতিহাস জানে না, তারা শুধু ভোট চায়! এর পরেই শুভেন্দু তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে বলেছেন, ভোট চাই, ভোট দাও, ভেঙে দাও, গুঁড়িয়ে দাও, জ্বালিয়ে দাও, পুড়িয়ে দাও শুধু এর মধ্যে আটকে থাকলে চলবে না। বহুদলীয় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা আছে। থাকবে। কিন্তু তার সঙ্গে এই ইতিহাসও থাকবে। বক্তৃতা শেষ করে শুভেন্দু হাতে জাতীয় পতাকা নিয়ে হাঁটতে শুরু করেন। তাঁর একেবারে পাশে ছিলেন অধুনা তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত এবং তাঁর অন্যতম ঘনিষ্ঠ নেতা কণিষ্ক পণ্ডা। ছিলেন ঢাক-ঢোল-কাঁসরঘন্টা নিয়ে বহু মানুষ।

ডিসেম্বর ১৭, ২০২০
রাজ্য

মণীশ শুক্লা খুনে গ্রেফতার আরও এক অভিযুক্ত

মণীশ শুক্লা খুনে আরও একজনকে গ্রেফতার করল পুলিশ। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়েতে তল্লাশি চালিয়ে নাসির আলি মণ্ডল নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়। জানা গিয়েছে, সে আসলে দক্ষিণ ২৪ পরগনার বাসন্তীর বাসিন্দা। হত্যাকাণ্ডের পর গা ঢাকা দিয়েছিল সে। আজ তাকে আদালতে পেশ করা হবে। এ নিয়ে মণীশ শুক্লা খুনে মোট ১০ জন গ্রেপ্তার হল। আরও পড়ুন ঃ বীরভূম থেকে গ্রেফতার এক জঙ্গি প্রসঙ্গত, মাস দুই আগে এক রবিবার টিটাগড়ে প্রকাশ্য রাস্তায় দুষ্কৃতীদের গুলিতে ঝাঁজরা হয়ে গিয়েছিলেন বিজেপি কাউন্সিলর মণীশ শুক্লা। তদন্তে নেমে বহু রাঘব বোয়ালের জড়িত থাকার কথা জানতে পারেন গোয়েন্দা আধিকারিকরা। সেইমতো তাঁদের গ্রেপ্তারির প্রক্রিয়া শুরু হয়। জানা যায়, ভিনরাজ্যের সুপারি কিলারদের দিয়ে মনীশকে খুন করানোর চক্রান্ত হয় এবং সেইমতোই অপারেশন হয়। এই ভিনরাজ্যের যোগসূত্র খুঁজতে বিহারের যান তদন্তকারীদের একটি দল। পাটনার জেলে বন্দি এক কুখ্যাত দুষ্কৃতী মণীশ হত্যার ব্লু প্রিন্ট ছকে দিয়েছিল বলে তাঁদের কাছে খবর ছিল। সেই সূত্র মারফতই এদিন গ্রেফতার হলেন নাসির।

ডিসেম্বর ১১, ২০২০
রাজ্য

তৃণমূল বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারীর প্রাণসংশয় হতে পারে বলে আশঙ্কা কনিষ্ক পন্ডার

তৃণমূল বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারীর প্রাণসংশয় হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করলেন কনিষ্ক পন্ডা। রাজনীতিতে তিনি শুভেন্দু অধিকারীর অনুগামী হিসেবে পরিচিত। মঙ্গলবার তিনি এই আশঙ্কা প্রকাশ করে সাংবাদিকদের বলেন, কুণাল ঘোষের সঙ্গে লক্ষণ শেঠকে একই মঞ্চে দেখা গেছে। জামিন পেয়েছেন সিপিএম নেতা সুশান্ত ঘোষ। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সম্প্রতি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারের জন্য কেউ কেউ আমার মৃত্যুকামনা করছে। সে কথা শুনে বৈঠকের মাঝে সুব্রত বক্সি কেঁদে ফেলেন বলে জানা গেছে। মুখ্যমন্ত্রীকে কে খুন করার চেষ্টা করবে বলে প্রশ্ন তোলেন তিনি। আরও পড়ুন ঃ বিজেপির ডাকে উত্তরবঙ্গ বনধে বিভিন্ন জেলায় বিক্ষিপ্ত অশান্তি এরপরেই তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, শুভেন্দু অধিকারীর উপর হামলা হতে পারে। আমরা রাজ্যপালের কাছে দাবি জানাব, যাতে তার নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়। প্রসঙ্গত, ইতিমধ্যেই মন্ত্রীত্ব ছেড়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। দলের সঙ্গে বেড়েছে দূরত্বও। তিনি তৃণমূলে থাকবেন না বিজেপিতে যাবেন, তা নিয়ে জল্পনা চরমে উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে কনিষ্ক পন্ডার এদিনের মন্তব্য সেই জল্পনায় নতুন মাত্রা যোগ করল, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

ডিসেম্বর ০৮, ২০২০
রাজ্য

বিজেপি নেতা মনীশ শুক্লা খুনের ঘটনায় ধৃত ২ শার্প শুটার

টিটাগড়ের বিজেপি নেতা মনীশ শুক্লা খুনের ঘটনায় দুই শার্প শুটারকে পাঞ্জাব থেকে গ্রেফতার করল সিআইডি। অভিযুক্তদের ট্রানজিট রিমান্ডে কলকাতায় আনার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। ধৃতদের নাম রোশন রাই, সুদীপ যাদব। প্রসঙ্গত , ওই খুনের ঘটনায় আগেই খুররম, গুলাব শেখকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। তাদের জেরা করার পর সিআইডি দাবি করে , পাটনার জেলে বন্দী সুবোধ সিং এই খুনের ঘটনায় সরাসরি জড়িত। আরও পড়ুন ঃ তারাপীঠে মহাসমারোহে পালিত হল তারা মায়ের আবির্ভাব তিথি জেলে বসেই সে তৈরি করে এই খুনের ব্লু-প্রিন্ট । সুবোধ রায় নামে অপর অভিযুক্তকেও পাকড়াও করা হয়। এরপর সুবো্ধকে জেরা করে প্রচুর তথ্য জোগাড় করেন তারা। এরপর তাদের খোঁজে বিহারে রীতিমতো ঘাঁটি গেড়েছিলেন তদন্তকারীরা । সেখান থেকেই সূত্র মেলে । তারপর এদিন তাদের পাঞ্জাব থেকে গ্রেফতার করা হয়।

অক্টোবর ৩০, ২০২০
রাজ্য

মণীশ শুক্লা হত্যাকাণ্ডে সিবিআই তদন্তের দাবিতে হাল্লাবোল মিছিল বিজেপি' র

মণীশ শুক্লা হত্যাকাণ্ডে সিবিআই তদন্তের দাবিতে শুক্রবার হাল্লাবোল মিছিল করল বিজেপি। টিটাগড় থেকে ব্যারাকপুরের চিড়িয়ামোড় পর্যন্ত এদিন এই মিছিল আয়োজন করা হয়। মিছিলে উপস্থিত ছিলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সহ সভাপতি মুকুল রায়, সাংসদ লকেট চট্টো্পাধ্যয়, সাংসদ অর্জুন সিং , বিধায়ক সব্যসাচী দত্ত সহ আরও অনেকে। কৈলাস বিজয়বর্গীয় সাংবাদিকদের বলেন, সিআইডিকে দিয়ে এই তদন্ত করলে কো্নওদিনও ্প্রকৃত দোষী ধরা পড়বে না। তাই সিবিআইকে দিয়ে এই তদন্ত করাতে হবে। মণীশের পরিবার ক্রমাগত হুমকির মুখে পড়ছে। আরও পড়ুনঃ বলবিন্দরকে মুক্তি না দিলে আগামীকাল নবান্নের সামনে অনশনে বসবেন স্ত্রী ও পুত্র অন্যদিকে , টিটাগড়ের বিজেপি কাউন্সিলর মণীশ শুক্লা খুনের তদন্তে এখনও সিআইডির উপরই ভরসা রাখছে কলকাতা হাইকোর্ট। বিচারপতি সঞ্জীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চে তদন্তের বিস্তারিত রিপোর্ট জমা করেন সিআইডি আধিকারিকরা। সেই রিপোর্ট দেখে বিচারপতিরা জানান যে আপাতত রাজ্য গোয়েন্দা সংস্থার তদন্ত চলুক। পরে এই তদন্তে কোনও ত্রুটি দেখা গেলে সিবিআই তদন্তের কথা ভাবা যাবে। আগামী ১০ নভেম্বর মামলাটির পরবর্তী শুনানি।

অক্টোবর ১৬, ২০২০
রাজ্য

মণীশ শুক্লা খুনের ঘটনায় ব্যারাকপুর ও টিটাগড় পুরসভার প্রশাসককে জেরা সিআইডি ’র

বিজেপি নেতা মণীশ শুক্লা খুনের ঘটনায় এবার দুই প্রশাসককে জেরা করল সিআইডি। বৃহস্পতিবার ব্যারাকপুর পুরসভার প্রশাসক উত্তম দাস এবং টিটাগড় পুরসভার প্রশাসক প্রশান্ত চৌধুরিকে তলব করে সিআইডি। সেই অনুযায়ী তদন্তকারীদের সঙ্গে দেখা করেন তাঁরা। সূত্রের খবর, মণীশ শুক্লা খুনের সময় ঠিক কোথায় ছিলেন তাঁরা সেই সংক্রান্ত খোঁজখবর নেয় সিআইডি। মাত্র ১০ মিনিট জেরা করেই তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। সিআইডি জেরার পর তাঁরা দাবি করেন, বিজেপি নেতা খুনে কোনওভাবেই যুক্ত নই। তবে বিজেপি পরিকল্পনামাফিক কালিমালিপ্ত করতে চাইছে। তাই নাম এফআইআরে রাখা হয়েছে। সে কারণে সিআইডি তলব করেছিল। বৃহস্পতিবার সিআইডির সঙ্গে দেখা করেছি। তদন্তের স্বার্থে ভবিষ্যতে আবারও সিআইডি তলব করলে দেখা করব। আরও পড়ুনঃ একদিনে রাজ্যে করোনায় আক্রান্ত ৩,৬৭৭ জন প্রসঙ্গত, মণীশ শুক্লার বাবার দায়ের করা এফআইআরে নাম রয়েছে প্রশাসক উত্তম দাস এবং প্রশান্ত চৌধুরির। সেইমতো এদিন তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হয়। এদিকে তৃণমূলের দুই প্রশাসককে জেরার পরেও বারাকপুরের বিজেপি সাংসদ অর্জুন সিংয়ের দাবি, মণীশ শুক্লা হত্যাকাণ্ডের তদন্তে ব্যারাকপুর পুরসভার প্রশাসক উত্তম দাস এবং টিটাগড় পুরসভার প্রশাসক প্রশান্ত চৌধুরিকে সিআইডির তলব আইওয়াশ ছাড়া কিছুই নয়।

অক্টোবর ১৫, ২০২০
কলকাতা

মণীশ শুক্লা খুনের ঘটনায় সিআইডির কাছে রিপোর্ট তলব হাইকোর্টের

মণীশ শুক্লা খুনের ঘটনায় এবার সিআইডির কাছে তদন্তের অগ্রগতি সংক্রান্ত রিপোর্ট তলব করল কলকাতা হাইকোর্ট। সেই মামলার শুনানিতে মঙ্গলবার রাজ্য গোয়েন্দা সংস্থা তথা বিচারপতি সঞ্জীব বন্দ্যোপাধ্যায় ও বিচারপতি অরিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চ এই মন্তব্য করেছেন। জানা গিয়েছে, ১৬ অক্টোবরের মধ্যে ওই রিপোর্ট জমা দিতে হবে। উল্লেখ্য , এই ঘটনায় সিবিআই তদন্ত চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন বিজেপি নেত্রী তথা আইনজীবী প্রিয়াঙ্কা টিব্রেওয়াল। আরও পড়ুনঃ বেলেঘাটা বিস্ফোরণ কাণ্ডে এনআইএ তদন্তের দাবি বিজেপির তবে মণীশ শুক্লার পরিবারের বদলে প্রিয়াঙ্কা টিব্রেওয়াল কেন ঘটনা সিবিআই তদন্তের দাবিতে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন শুনানিতে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে রাজ্যের অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল। এজি অভ্রতোষ মজুমদারের দাবি , প্রিয়াঙ্কাদেবীর এ নিয়ে মামলা করার এক্তিয়ারই নেই। যদিও প্রিয়াঙ্কা টিব্রেওয়ালের পালটা দাবি, মণীশ নিজে একজন আইনজীবী ছিলেন। তাছাড়া খুনের ঘটনার পর থেকেই আতঙ্কে রয়েছে গোটা পরিবার। পুলিশ তাদের লাগাতার হুমকি দিচ্ছে। সে কারণে তাঁরা আদালতের দ্বারস্থ হতে ভয় পাচ্ছেন। তাই একজন আইনজীবী হিসেবে এই ঘটনায় তিনি পরিবারের হয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন।

অক্টোবর ১৩, ২০২০
কলকাতা

মণীশ শুক্লা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ফের সিবিআই তদন্তের দাবিতে রাজ্যপালের দ্বারস্থ বিজেপি

মণীশ শুক্লা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ফের রাজ্যপালের কাছে গিয়ে সিবিআই তদন্তের দাবি জানাল তিন সদস্যের বিজেপির একটি প্রতিনিধিদল। সেই দলে ছিলেন বিজেপির জাতীয় সহ সভাপতি মুকুল রায় , রাজ্যের সহ সভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদার , রাজ্য সম্পাদক সব্যসাচী দত্ত। রবিবার তাঁরা রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়কে এই দাবি জানিয়ে চিঠি দেন। রাজ্যপাল তাদের দাবি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন। বিজেপি নেতাদের বক্তব্য, এই খুনের ঘটনার পিছনে রাজ্য সরকারের যে ষড়যন্ত্র রয়েছে , সিবিআই তদন্তের মাধ্যমে তা খুঁজে বের করতে হবে। প্রকৃ্ত দোষীদের শাস্তি দিতে হবে। আরও পড়ুন ঃ বিশ্ববাংলা শারদ সম্মান-২০২০ র জন্য নির্দেশিকা জারি রাজ্যের রাজ্যপালকে লেখা চিঠিতে বিজেপির অভিযোগ , সিআইডি যে তদন্ত করছে , সেখানে এই খুনের ঘটনার সঙ্গে প্রকৃ্ত কারা যুক্ত , তা উঠে আসছে না। এছাড়াও তারা রাজ্যপালকে লেখা চিঠিতে অভিযোগ করেন, দেবেন্দ্রনাথ রায় সহ আমাদের একশজনের বেশি সদস্য শাসকদলের হামলার জেরে খুন হয়েছেন। বিজেপির সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি মুকুল রায় বলেন, রাজ্যপালের হাতে ক্ষমতা নেই সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দেওয়ার। আমরা চাই যে তদন্ত হচ্ছে সেটা সঠিক হোক। মণীশ শুক্লার পরিবার যেন বিচার পায়।

অক্টোবর ১১, ২০২০
  • ‹
  • 1
  • 2
  • ›

ট্রেন্ডিং

রাজ্য

দুর্গাপুরে জঙ্গলে নেহরুর মূর্তি! ২৪ ঘণ্টার ‘ডেডলাইন’ কংগ্রেসের, বিজেপির পালটা দাবি—‘চোরা তৃণমূলীরাই দায়ী’

দুর্গাপুর, ৩০ আগস্ট: রাজনৈতিক মতাদর্শের লড়াই এবার পৌঁছে গেল দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর মূর্তি ঘিরে বিতর্কে। দুর্গাপুরের একটি মেডিটেশন সেন্টারের সামনে থেকে নেহরুর বিশাল মূর্তি ক্রেনের সাহায্যে তুলে পাশের জঙ্গলে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই সরব হয়েছে কংগ্রেস। তাদের অভিযোগের তির বিজেপির দিকে। যদিও সেই অভিযোগ সরাসরি খারিজ করে বিজেপির স্থানীয় বিধায়ক পালটা দাবি করেছেন, এই ঘটনার নেপথ্যে রয়েছে কংগ্রেসেরই একটি অংশ এবং চোরা তৃণমূলীরা।দুর্গাপুরের হর্ষবর্ধন প্রাইমারি স্কুলের পাশে একটি মেডিটেশন সেন্টারের সামনে দীর্ঘদিন ধরে পণ্ডিত জওহরলাল নেহরুর একটি বড় মূর্তি ছিল। কংগ্রেসের অভিযোগ, শুক্রবার সেখানে রাখিবন্ধন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। অনুষ্ঠানের জন্য জায়গা তৈরি করতেই ক্রেন এনে নেহরুর মূর্তিটি সরিয়ে দেওয়া হয়। পরে সেটি স্কুল সংলগ্ন জঙ্গলের মধ্যে ফেলে রাখা হয় বলে অভিযোগ।মূর্তি সরিয়ে ফেলার খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়। কংগ্রেসের স্থানীয় নেতৃত্ব ঘটনাস্থলে গিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে এবং প্রশাসনের কাছে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানায়। তাদের প্রশ্ন, দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী এবং স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নেতার মূর্তির সঙ্গে এমন আচরণ কেন করা হল?জেলা কংগ্রেস সভাপতি দেবেশ চক্রবর্তী ঘটনাটির তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে প্রশাসনকে কার্যত সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন। তাঁর দাবি, ক্রেনের সাহায্যে নেহরুর মূর্তি উপড়ে নিয়ে গিয়ে জঙ্গলে ফেলে দেওয়া হয়েছে এবং সেই জায়গায় পরবর্তীতে রাখিবন্ধন অনুষ্ঠান করা হয়েছে। তাঁর আরও অভিযোগ, অনুষ্ঠানে দুর্গাপুর পূর্বের বিজেপি বিধায়ক চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতিও ছিল।Press ReleaseThe Pradesh Congress strongly condemns the desecration of the statue of the countrys first Prime Minister, Pandit Jawaharlal Nehru; Shri @subhankar_cong demands the immediate reinstallation of the statue and the arrest of the culprits.Kolkata, August 30, 2026: pic.twitter.com/SImtSOHvX8 West Bengal Congress (@INCWestBengal) August 30, 2026দেবেশ চক্রবর্তীর বক্তব্য, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নেহরুর মূর্তিকে যথাযথ মর্যাদার সঙ্গে পূর্বের জায়গায় পুনঃস্থাপন করতে হবে। তা না হলে বৃহত্তর আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারিও দিয়েছে কংগ্রেস।তবে কংগ্রেসের এই অভিযোগকে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন দুর্গাপুর পূর্বের বিজেপি বিধায়ক চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর পালটা অভিযোগ, কংগ্রেসেরই একটি অংশ গোপনে তৃণমূলে যোগ দিয়েছে এবং সেই চোরা তৃণমূলীরাই নেহরুর মূর্তি সরিয়ে দেওয়ার সঙ্গে যুক্ত।বিজেপি বিধায়কের দাবি, ঘটনার দায় বিজেপির উপর চাপানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। তাঁর বক্তব্য, বিজেপির সঙ্গে এই ঘটনার কোনও সম্পর্ক নেই। বরং কারা মূর্তিটি সরিয়েছে, তা তদন্ত করে প্রকৃত সত্য সামনে আনা উচিত।নিজের বক্তব্যের পক্ষে অতীতের একটি ঘটনারও উল্লেখ করেন চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, দুর্গাপুরের এভিএল কার্যালয়ের সামনে একাধিক ইউনিয়ন অফিস ভাঙার সময় তাঁর হস্তক্ষেপেই রাজীব গান্ধীর মূর্তিটি রক্ষা পেয়েছিল। ফলে বিজেপি কখনও রাজনৈতিক নেতাদের মূর্তি ভাঙচুরকে সমর্থন করে না বলেও তাঁর দাবি।চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, নেহরুর মূর্তি ভাঙার ঘটনায় বিজেপির কোনও ভূমিকা নেই। বরং যারা এই কাজ করেছে, তাদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতেও তাঁর দল রয়েছে।এদিকে, ঘটনাটি নিয়ে এবার সরব হয়েছে পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেসও। ৩০ আগস্ট প্রকাশিত এক বিবৃতিতে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার নেহরুর মূর্তি সরিয়ে জঙ্গলে ফেলে দেওয়ার ঘটনাকে তীব্র নিন্দা করেছেন।শুভঙ্কর সরকারের বক্তব্য, নেহরু শুধু কংগ্রেসের নেতা ছিলেন নাতিনি ছিলেন ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী, স্বাধীনতা সংগ্রামী এবং আধুনিক ভারত নির্মাণের অন্যতম প্রধান স্থপতি। তাঁর মূর্তি এভাবে সরিয়ে জঙ্গলে ফেলে দেওয়া শুধুমাত্র একটি মূর্তির অবমাননা নয়, বরং দেশের ইতিহাস ও স্বাধীনতা সংগ্রামের ঐতিহ্যের প্রতিও অসম্মান।তবে এই ঘটনার পিছনে কোন রাজনৈতিক দলের হাত রয়েছে, তা নিয়ে সরাসরি কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছতে নারাজ প্রদেশ কংগ্রেস। দলের দাবি, প্রশাসন ও পুলিশ নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করুক এবং তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিক।প্রদেশ কংগ্রেসের পক্ষ থেকে অবিলম্বে নেহরুর মূর্তি পূর্বের স্থানে পুনঃস্থাপনের পাশাপাশি ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেফতারের দাবি জানানো হয়েছে। সেই সঙ্গে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে, দাবি পূরণ না হলে বৃহত্তর গণতান্ত্রিক আন্দোলনে নামবে কংগ্রেস।ফলে দুর্গাপুরে নেহরুর মূর্তি ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন রাজনৈতিক চাপানউতোর। একদিকে কংগ্রেসের অভিযোগের নিশানায় বিজেপি, অন্যদিকে বিজেপির পালটা অভিযোগ তৃণমূলের দিকে। মূর্তি কে সরাল, কেন সরানো হল এবং ঘটনাটির পিছনে আসল কারণ কীএই প্রশ্নগুলির উত্তর এখন পুলিশের তদন্তের দিকেই তাকিয়ে।

আগস্ট ৩০, ২০২৬
কলকাতা

জনতার দরবারে মুখ্যমন্ত্রী, এবার সরাসরি আমলা-পুলিশের কাছে অভিযোগ! সপ্তাহে দু’দিন খুলছে দরজা

সরকারি পরিষেবা নিয়ে অভিযোগ বা সমস্যা হলে এবার থেকে সাধারণ মানুষ সরাসরি উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের সঙ্গে দেখা করতে পারবেন। এই মর্মে নতুন নির্দেশিকা জারি করেছে রাজ্য সরকার। সপ্তাহে দুদিন নির্দিষ্ট সময়ে সাধারণ মানুষের জন্য সরকারি অফিস খোলা রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।নির্দেশিকা অনুযায়ী, প্রতি সপ্তাহের মঙ্গলবার ও বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে সাধারণ মানুষ সরকারি আধিকারিকদের সঙ্গে সরাসরি দেখা করতে পারবেন। এর জন্য আগে থেকে কোনও অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেওয়ার প্রয়োজন হবে না। ওই দুই দিন আধিকারিকদের সাধারণ মানুষের অভিযোগ ও সমস্যার কথা শুনতে হবে।এই সময়ে আধিকারিকদের যাতে বাইরে সরকারি কাজে যেতে না হয়, সেই বিষয়েও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ নির্দিষ্ট সময়ে অফিসে উপস্থিত থেকে সাধারণ মানুষের সঙ্গে দেখা করাকেই অগ্রাধিকার দিতে হবে তাঁদের।সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য সংশ্লিষ্ট আধিকারিকের সরকারি ই-মেইল এবং মোবাইল নম্বরও প্রকাশ করতে হবে। অফিসে এমন জায়গায় এই তথ্য রাখতে হবে, যাতে সহজেই তা সাধারণ মানুষের নজরে আসে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট দফতর বা বিভাগের সরকারি ওয়েবসাইটেও ওই তথ্য স্পষ্টভাবে প্রকাশ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।নতুন ব্যবস্থার আওতায় একাধিক স্তরের সরকারি আধিকারিকদের সঙ্গে সরাসরি দেখা করার সুযোগ থাকবে। বিভাগীয় কমিশনার, জেলা শাসক, পুর কমিশনার, উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের প্রধান আধিকারিক, অতিরিক্ত জেলা শাসক, মহকুমা শাসক এবং সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিকের মতো আধিকারিকদের কাছে সাধারণ মানুষ নিজেদের সমস্যার কথা জানাতে পারবেন।পুরসভার নির্বাহী আধিকারিক থেকে শুরু করে পুলিশের শীর্ষ আধিকারিকদের কাছেও অভিযোগ জানানো যাবে। পুলিশ প্রশাসনের ক্ষেত্রে মহাপরিচালক, অতিরিক্ত মহাপরিচালক, মহাপরিদর্শক, পুলিশ কমিশনার, উপমহাপরিদর্শক, পুলিশ সুপার, উপপুলিশ কমিশনার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, মহকুমা পুলিশ আধিকারিক এবং থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিকদের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ থাকবে।বন দফতরের ক্ষেত্রেও একাধিক উচ্চপদস্থ আধিকারিকের সঙ্গে সাধারণ মানুষের সরাসরি যোগাযোগের ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রধান মুখ্য বনপাল, অতিরিক্ত প্রধান মুখ্য বনপাল, মুখ্য বনপাল, বিভাগীয় বন আধিকারিক, অতিরিক্ত বিভাগীয় বন আধিকারিক এবং বনাঞ্চল আধিকারিকদের কাছেও অভিযোগ জানানো যাবে।রবিবার মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল এই নির্দেশিকা জারি করেছেন। নতুন নির্দেশ কার্যকর হচ্ছে কি না এবং সরকারি আধিকারিকেরা নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে সাধারণ মানুষের সঙ্গে দেখা করছেন কি না, তা খতিয়ে দেখবে রাজ্যের কর্মীবর্গ দফতর।মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী প্রতি শনিবার সাধারণ মানুষের অভাব-অভিযোগ শোনার জন্য জনতার দরবারে বসেন। এবার সরকারি পরিষেবা সংক্রান্ত সমস্যার দ্রুত সমাধানের লক্ষ্যে সেই ব্যবস্থার পাশাপাশি প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরেও সাধারণ মানুষের সরাসরি অভিযোগ জানানোর সুযোগ তৈরি করা হল।

আগস্ট ৩০, ২০২৬
দেশ

উত্তম-সত্যজিৎ স্মরণে মোদি, বাংলার দুই কিংবদন্তিকে শ্রদ্ধা প্রধানমন্ত্রীর

বাংলা চলচ্চিত্রের দুই কিংবদন্তি অভিনেতা উত্তম কুমার এবং পরিচালক সত্যজিৎ রায়কে স্মরণ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বাংলা সিনেমার ইতিহাসে তাঁদের অবদান এবং ভারতীয় চলচ্চিত্রকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁদের ভূমিকার কথা তুলে ধরে শ্রদ্ধা জানালেন তিনি।উত্তম কুমার শুধু বাংলা ছবির জনপ্রিয় নায়ক ছিলেন না, তিনি বাঙালির সাংস্কৃতিক আবেগেরও অন্যতম প্রতীক। তাঁর অভিনয়, ব্যক্তিত্ব এবং পর্দায় উপস্থিতি কয়েক দশক ধরে দর্শকদের মুগ্ধ করেছে। বাংলা চলচ্চিত্রে তাঁর সঙ্গে সুচিত্রা সেনের জুটি আজও কিংবদন্তির মর্যাদা পায়। তাঁর অভিনীত একাধিক ছবি বাংলা সিনেমার স্বর্ণযুগের স্মারক হয়ে রয়েছে। সেই কারণেই উত্তম কুমারের নাম উচ্চারিত হলেই বাঙালির নস্টালজিয়ায় ফিরে আসে এক বিশেষ সময়।অন্যদিকে সত্যজিৎ রায় ছিলেন ভারতীয় চলচ্চিত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নির্মাতা। তাঁর সৃষ্টিশীলতা শুধু বাংলা বা ভারতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র জগতেও তিনি তৈরি করেছিলেন নিজের স্বতন্ত্র পরিচয়। পথের পাঁচালী থেকে শুরু করে একাধিক কালজয়ী ছবির মাধ্যমে তিনি ভারতীয় চলচ্চিত্রকে বিশ্বদর্শকের কাছে নতুনভাবে তুলে ধরেন। তাঁর নির্মাণশৈলী, গল্প বলার ধরন এবং মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি আজও চলচ্চিত্রপ্রেমীদের কাছে অনুপ্রেরণা।প্রধানমন্ত্রীর এই স্মরণে উঠে এসেছে বাংলা সংস্কৃতির দুই ভিন্ন ধারার দুই মহীরুহের অবদানের কথাই। একজন অভিনয়ের জাদুতে দর্শকের হৃদয়ে স্থায়ী জায়গা করে নিয়েছিলেন, অন্যজন ক্যামেরার ভাষায় ভারতীয় জীবনের গল্পকে বিশ্বমঞ্চে পৌঁছে দিয়েছিলেন।উত্তম কুমার ও সত্যজিৎ রায়ের সৃষ্টির প্রভাব প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে টিকে রয়েছে। সময় বদলেছে, বদলেছে চলচ্চিত্রের ভাষাও। কিন্তু তাঁদের কাজের আবেদন এখনও অমলিন। প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধাজ্ঞাপন তাই কেবল দুই শিল্পীকে স্মরণ নয়, বাংলা চলচ্চিত্রের সেই গৌরবময় অধ্যায়ের প্রতিও এক সম্মান প্রদর্শন।রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করে লিখেছেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর #MannKiBaat-এর অনুষ্ঠানে উঠে এলেন বাংলার মহানায়ক উত্তম কুমার। আপামর বাঙালির কাছে এ এক গর্বের মুহূর্ত, আবেগের মুহূর্ত।আগামী ৩ সেপ্টেম্বর বাংলা চলচ্চিত্র জগতের মহানায়ক উত্তম কুমারের ১০০তম জন্মবার্ষিকী। এই ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যেভাবে ভারতীয় ও বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি শিল্পী উত্তম কুমারের অনন্য প্রতিভা, অভিনয় দক্ষতা, কাজের প্রতি নিষ্ঠা ও কালজয়ী অবদানকে স্মরণ করলেন, তা নিঃসন্দেহে বাংলার মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে যায়।উত্তম কুমার শুধু বাংলা চলচ্চিত্রের মহানায়কই ননতিনি বাঙালির আবেগ, সংস্কৃতি, স্মৃতি ও আত্মপরিচয়ের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাঁর অভিনয়, তাঁর ব্যক্তিত্ব, তাঁর সৃষ্ট চরিত্র আজও প্রজন্মের পর প্রজন্মকে মুগ্ধ করে।বাংলার সংস্কৃতি ও বাংলার গৌরবকে জাতীয় মঞ্চে যে সম্মান প্রধানমন্ত্রী দিয়েছেন, তার জন্য তাঁকে জানাই আন্তরিক কৃতজ্ঞতা।

আগস্ট ৩০, ২০২৬
বিনোদুনিয়া

‘দাদাগিরি’র পর এবার ‘বিগ বস’, সৌরভের সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ শুরু আজ

দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান। আজ, রবিবার থেকেই বাংলার টেলিভিশনের পর্দায় শুরু হচ্ছে বহু প্রতীক্ষিত বিগ বস বাংলা। তবে এবারের আকর্ষণ শুধু প্রতিযোগীদের নিয়ে নয়। এই রিয়্যালিটি শোয়ের মঞ্চে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এসেছে সঞ্চালকের আসনে। ক্রিকেটের মাঠে নেতৃত্ব দিয়ে যিনি এক সময় ভারতীয় ক্রিকেটের ছবিটাই বদলে দিয়েছিলেন, সেই সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়কেই এবার দেখা যাবে বিগ বস বাংলার মুখ হিসেবে। প্রায় এক দশক পর বাংলায় ফিরছে অনুষ্ঠানটি।সৌরভের কাছে অবশ্য এই দায়িত্ব একেবারেই নতুন নয়। দীর্ঘদিন ধরে টেলিভিশনের জনপ্রিয় রিয়্যালিটি শো সঞ্চালনা করেছেন তিনি। কিন্তু বিগ বস-এর চরিত্র আলাদা। এখানে শুধু হাসি-ঠাট্টা বা প্রতিযোগিতার সঞ্চালনা নয়, প্রতিদিনের সম্পর্কের টানাপোড়েন, মতবিরোধ, আবেগ, কৌশল এবং মানসিক চাপ, সবকিছুর মাঝখানে দাঁড়াতে হবে সঞ্চালককে। সেই জায়গাতেই সৌরভের উপস্থিতি এবারের শোকে অন্য মাত্রা দিতে পারে।এই খেলায় ব্যাট হাতে রান করার সুযোগ নেই। নেই প্রতিপক্ষের বোলিং পড়ে নেওয়ার সুবিধাও। বরং একই ছাদের নীচে থাকা একাধিক মানুষের আচরণ, সিদ্ধান্ত এবং পারস্পরিক সমীকরণই হয়ে উঠবে মূল আকর্ষণ। কে বন্ধুত্বকে কাজে লাগাবেন, কে নিজের অবস্থান ধরে রাখবেন, কে চাপের মুহূর্তে ভুল করবেন, সেটাই ধীরে ধীরে স্পষ্ট হবে।শোয়ের নির্মাতারা প্রতিযোগীদের পরিচয় নিয়ে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত কৌতূহল ধরে রেখেছেন। বিভিন্ন ক্ষেত্রের পরিচিত মুখদের পাশাপাশি বিনোদন এবং সোশ্যাল মিডিয়া জগতের একাধিক নাম নিয়েও জল্পনা রয়েছে। তবে চূড়ান্ত তালিকা জানার জন্য দর্শকদের নজর থাকবে আজকের গ্র্যান্ড ওপেনিংয়ের দিকে।স্টার জলসা এবং জিওহটস্টারে সম্প্রচারিত হবে এই নতুন অধ্যায়। ফলে আজ রাত থেকেই বোঝা যাবে, দাদা কি পারবেন ক্রিকেটের মাঠের মতোই টেলিভিশনের এই জটিল খেলাতেও নিজের ছাপ রাখতে? উত্তর খুঁজতেই আজ পর্দার সামনে বসবে বাংলা।

আগস্ট ৩০, ২০২৬
বিদেশ

নেপালে ভয়াবহ হড়পা বান, মৃতের সংখ্যা সাতশো পেরিয়ে! প্রায় তিন হাজার নিখোঁজ, বড় সিদ্ধান্ত সরকারের

নেপালে হড়পা বানের ভয়াবহতা ক্রমেই বাড়ছে। সময় যত গড়াচ্ছে, ততই মৃতের সংখ্যা বাড়ছে। এখনও পর্যন্ত সাতশোর বেশি মানুষের দেহ উদ্ধার হয়েছে। প্রায় তিন হাজার মানুষ এখনও নিখোঁজ বলে জানা যাচ্ছে। নিখোঁজদের মধ্যে বহু ভারতীয়ও রয়েছেন বলে খবর।বিপর্যয়ের পাঁচ দিন পর উদ্ধারকাজ জোরদার হলেও পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। ধ্বংসস্তূপ এবং কাদামাটির মধ্যে থেকে একের পর এক মৃতদেহ উদ্ধার হচ্ছে। অনেক দেহের পরিচয় এখনও জানা যায়নি। আবার বহু দেহ দাবি করার মতো পরিবারের কাউকেও পাওয়া যাচ্ছে না।এই পরিস্থিতিতে মৃতদেহ সংরক্ষণ করাই বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। নেপাল সরকারের আশঙ্কা, দেহগুলি দ্রুত পচে যাওয়ায় সংক্রমণের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। হাসপাতালে এবং অন্যত্র এত বিপুল সংখ্যক দেহ রাখার মতো জায়গাও নেই। পরিস্থিতি সামাল দিতে তাই পরিচয়হীন ও দাবিহীন মৃতদেহ গণকবর দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি দেহ উদ্ধার হয়েছে চিতওয়ান জেলা থেকে। সেখানে ২৩৩ জনের দেহ উদ্ধার হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। বিপুল সংখ্যক দেহ একসঙ্গে রাখার কারণে হাসপাতালগুলিতেও সমস্যা তৈরি হয়েছে। ইতিমধ্যেই কয়েকটি দেহ পচতে শুরু করেছে বলে প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে।তবে গণকবর দেওয়া হলেও মৃতদের পরিচয় যাতে পরে জানা যায়, তার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। প্রতিটি দেহ কবর দেওয়ার আগে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে রাখা হচ্ছে। ভবিষ্যতে কোনও নিখোঁজ ব্যক্তির পরিবারের সদস্যরা নেপালে এসে খোঁজ করলে তাঁদের ডিএনএ নমুনার সঙ্গে এই তথ্য মিলিয়ে দেখা হবে।শুধু ডিএনএ নমুনাই নয়, প্রতিটি মৃতদেহের আলাদা পরিচয় নম্বরও রাখা হচ্ছে। দেহগুলি বিশেষ ব্যাগে ভরে কবর দেওয়ার সময় সেই ব্যাগে পরিচয় নম্বর এবং অবস্থানের তথ্য দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে পরে কোনও দেহ শনাক্ত হলে ঠিক কোন জায়গায় সেটি কবর দেওয়া হয়েছিল, তা জানা সম্ভব হবে।পরবর্তীকালে দেহ তুলে শনাক্তকরণ বা পরিবারের হাতে তুলে দেওয়ার সুযোগও রাখা হচ্ছে। সেই কারণে গণকবর খুব গভীর করে খোঁড়া হচ্ছে না। প্রতিটি দেহের মধ্যে নির্দিষ্ট দূরত্ব রাখা হচ্ছে, যাতে ভবিষ্যতে প্রয়োজন হলে নির্দিষ্ট দেহটি আলাদা করে তোলা যায়।গণকবরের কাছেও একটি কংক্রিটের ব্যবস্থা করা হবে। সেখানে প্রতিটি মৃতদেহের পরিচয় নম্বর নথিভুক্ত থাকবে। ফলে ভয়াবহ বিপর্যয়ের পরেও মৃতদের পরিচয় যাতে পুরোপুরি হারিয়ে না যায়, সেই ব্যবস্থাই করছে নেপাল প্রশাসন।এদিকে উদ্ধারকাজ এখনও চলছে। ধ্বংসস্তূপের মধ্যে আরও মৃতদেহ থাকার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে আগামী দিনে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। নিখোঁজদের সন্ধান এবং মৃতদের পরিচয় শনাক্ত করাই এখন নেপাল প্রশাসনের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

আগস্ট ৩০, ২০২৬
কলকাতা

দেওয়ালে লেখা ছিল বিতর্কিত স্লোগান, রাত পেরোতেই সব সাদা! যাদবপুরে হঠাৎ কেন বদলে গেল ছবি?

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন দেওয়ালে বিতর্কিত স্লোগান লেখা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অভিযোগ, ক্যাম্পাসের কয়েকটি জায়গায় এমন কিছু লেখা ছিল, যা নিয়ে আপত্তি উঠেছে। শুক্রবার যাদবপুরের আট বি এলাকায় দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই ধরনের লেখালিখির বিরুদ্ধে কড়া বার্তা দেন। তার পরের রাতেই কয়েকটি বিতর্কিত লেখার উপর সাদা চুনকাম করা হয়।যাদবপুরের মুক্তমঞ্চের দেওয়ালে আগে একাধিক রাজনৈতিক ও বিতর্কিত বক্তব্য লেখা ছিল বলে জানা গিয়েছে। তার মধ্যে কয়েকটি লেখায় সশস্ত্র হিংসার পক্ষে বক্তব্য এবং মাওবাদী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের সমর্থনে স্লোগান ছিল বলে অভিযোগ। সেই লেখাগুলি ঘিরেই নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়।ভারতীয় জনতা পার্টির ছাত্র সংগঠনের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন জায়গায় দীর্ঘদিন ধরেই নকশালপন্থী মতাদর্শের সমর্থনে নানা ধরনের স্লোগান লেখা রয়েছে। সংগঠনের দাবি, ক্যাম্পাসে এমন লেখা থাকার পরেও দীর্ঘদিন কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।সংগঠনের এক প্রতিনিধি একটি দেওয়াল দেখিয়ে দাবি করেন, সেখানে কমরেড কিষেণজিকে সমর্থন করে লেখা ছিল। পরে সেই লেখাটিও মুছে ফেলা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি ওঠে। শুক্রবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বিতর্কিত দেওয়াল লিখনের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থানের কথা জানান। তার পরেই শনিবার রাতে কয়েকটি দেওয়ালে সাদা চুনকাম করতে দেখা যায়।তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকদের একাংশের বক্তব্য, দেওয়াল লিখন নিয়ে সমস্যা নতুন নয়। অধ্যাপক নন্দিনী মুখোপাধ্যায় বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের দেওয়ালে বিভিন্ন ধরনের লেখা দেখা যায়। সেগুলি বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়ারা লিখছেন, না কি বাইরের কেউ এসে লিখছে, তা সব সময় নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।তাঁর মতে, বিশ্ববিদ্যালয়ের দেওয়ালে এমন কোনও স্লোগান থাকা উচিত নয়, যা গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি জানান, এক সময় বিশ্ববিদ্যালয়ে দেওয়াল লিখনের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নিয়ম ছিল। পড়ুয়াদের লেখার জন্য নির্দিষ্ট জায়গাও করে দেওয়া হয়েছিল। পরে সেই নিয়ম আর আগের মতো কার্যকর থাকেনি বলে তাঁর দাবি।বিতর্কিত লেখাগুলি কে লিখেছিল, কখন লেখা হয়েছিল এবং বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছিল কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। রাতারাতি কয়েকটি লেখা মুছে ফেলার ঘটনাকে ঘিরে তাই নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই নজর রয়েছে।

আগস্ট ৩০, ২০২৬
সম্পাদকীয়

বিদ্রোহের আগুন থেকে সাম্যের গান—নজরুলের যে জীবন আজও আমাদের বিস্মিত করে

কাজী নজরুল ইসলামকে আমরা চিনি বিদ্রোহী কবি হিসেবে। চিনি সাম্যের কবি, প্রেমের কবি, মানবতার কবি হিসেবে। তাঁর কবিতা আবৃত্তি হয়েছে মঞ্চে, তাঁর গান বেজেছে ঘরে ঘরে, তাঁর বিদ্রোহের বার্তা উচ্চারিত হয়েছে দশকের পর দশক। কিন্তু নজরুলকে যতটা আমরা জানি, তার চেয়ে অনেক বেশি অজানা রয়ে গিয়েছে তাঁর বিস্ময়কর জীবনের নানা অধ্যায়।নজরুলের জীবন যেন এক চলমান উপন্যাসযেখানে একদিকে দারিদ্র্য, অন্যদিকে বিদ্রোহ; একদিকে সৈনিকের পোশাক, অন্যদিকে কবির কলম; একদিকে ইসলামী সংগীত ও গজল, অন্যদিকে শ্যামা সংগীত ও ভজন; একদিকে রাজনৈতিক সংগ্রাম, অন্যদিকে চলচ্চিত্রের রুপালি পর্দা। তিনি কোনও একটি পরিচয়ের মধ্যে নিজেকে বন্দি রাখেননি। বরং তাঁর জীবনই হয়ে উঠেছিল বহুত্বের এক অসাধারণ উদাহরণ।লেটো দলের মঞ্চ থেকেই শুরুকৈশোরেই দারিদ্র্যের কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হন নজরুল। সংসারের অভাব তাঁকে স্কুলের গণ্ডি থেকে দূরে সরিয়ে নিয়ে যায়। তিনি যুক্ত হন বাংলার লোকনাট্যের জনপ্রিয় ধারা লেটো দলে। সেখানে শুধু অভিনয়ই করেননিগান লিখেছেন, কবিতা লিখেছেন, নাটকের সংলাপ ও পালা রচনা করেছেন, সুর দিয়েছেন, সেই গান গেয়েছেন।এই লেটো-পর্বকে নজরুলের সাহিত্যিক জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ প্রশিক্ষণক্ষেত্র বলা যায়। লোকভাষা, ছন্দ, সুর, নাটকীয়তা এবং সাধারণ মানুষের জীবনযন্ত্রণাসবকিছুর সঙ্গে তাঁর প্রত্যক্ষ পরিচয় ঘটে এই সময়েই। পরবর্তী নজরুল-কাব্যে যে সহজ অথচ তীব্র ভাষা, তার শিকড় অনেকটাই এই লোকজ অভিজ্ঞতায়।সৈনিক নজরুল: যুদ্ধের ময়দান থেকে কবিতার পৃথিবী১৯১৭ সালে ব্রিটিশ ভারতীয় সেনাবাহিনীর ৪৯তম বেঙ্গল রেজিমেন্টে যোগ দেন নজরুল। করাচিতে তাঁর দীর্ঘ সেনাজীবন কাটে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের শেষপর্বের এই অভিজ্ঞতা তাঁর মানসজগতে গভীর ছাপ ফেলে।সেনাবাহিনীতে থাকাকালীনই তিনি নিয়মিত সাহিত্যচর্চা করেন। সহযোদ্ধাদের সঙ্গে বসে সাহিত্য নিয়ে আলোচনা, গল্প-কবিতা লেখাসবই চলত। যুদ্ধ তাঁকে শুধু অস্ত্রের সঙ্গে পরিচয় করায়নি; মানুষের জীবন, মৃত্যু, সাম্রাজ্যবাদ ও শোষণের বাস্তবতাকেও নতুন চোখে দেখতে শিখিয়েছিল।পরবর্তীকালে তাঁর লেখায় যে যুদ্ধবিরোধী মানবিকতা এবং শোষণের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ দেখা যায়, তার পেছনে এই অভিজ্ঞতার ভূমিকা অস্বীকার করার উপায় নেই।বিদ্রোহীএক কবিতার বিস্ফোরণ১৯২১ সালের শেষদিকে রচিত বিদ্রোহী কবিতা প্রকাশের পর বাংলা সাহিত্যে যেন এক ভূমিকম্প ঘটে। এতদিনের কাব্যভাষার বাইরে দাঁড়িয়ে এক তরুণ কবি ঘোষণা করলেন নিজের অদম্য আত্মপরিচয়।কিন্তু বিদ্রোহী কেবল রাজনৈতিক বিদ্রোহের কবিতা নয়। এখানে আছে পুরাণ, ইসলামি ঐতিহ্য, হিন্দু দেবদেবী, প্রকৃতি, প্রেম, ধ্বংস ও সৃষ্টির এক বিস্ময়কর মিশ্রণ। নজরুল যেন বলতে চেয়েছিলেনমানুষকে কোনও একটি ধর্ম, জাতি বা পরিচয়ের খাঁচায় আটকে রাখা যায় না।ধূমকেতু: কলম যখন অস্ত্রনজরুলের সাংবাদিক সত্তাটিও কম বিস্ময়কর নয়। ১৯২২ সালে প্রকাশিত হয় তাঁর সম্পাদিত সাপ্তাহিক পত্রিকা ধূমকেতু। পত্রিকাটির নামের মধ্যেই যেন ছিল তাঁর রাজনৈতিক দর্শনের ইঙ্গিত।ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে তাঁর লেখাগুলি দ্রুতই প্রশাসনের নজরে আসে। আনন্দময়ীর আগমনে কবিতাকে কেন্দ্র করে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা হয় এবং তাঁকে কারাবন্দি করা হয়।কারাগারেও তিনি নীরব থাকেননি। বন্দিদের অধিকার এবং ঔপনিবেশিক নিপীড়নের প্রতিবাদে তিনি অনশন করেন। দীর্ঘ অনশনের সময় তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁকে অনশন ভাঙার আহ্বান জানিয়ে বার্তাও পাঠিয়েছিলেন।এই ঘটনা প্রমাণ করে, নজরুলের কাছে স্বাধীনতা শুধু রাজনৈতিক স্লোগান ছিল নাএটি ছিল ব্যক্তিগত বিশ্বাস।খিলাফত প্রশ্নে নজরুলের অবস্থাননজরুলের রাজনৈতিক চিন্তাভাবনা নিয়ে আলোচনা করতে গেলে তাঁর খিলাফত আন্দোলন সম্পর্কে অবস্থানও গুরুত্বপূর্ণ। ধর্মীয় আবেগকে রাজনৈতিক আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত করার ফলে সাম্প্রদায়িক বিভাজন আরও গভীর হতে পারেএই আশঙ্কা তাঁর চিন্তায় প্রতিফলিত হয়েছিল।নজরুলের মূল অবস্থান ছিল মানুষের মুক্তি। ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে বিভাজনের বদলে তিনি চেয়েছিলেন শ্রমজীবী, কৃষক, নিপীড়িত ও বঞ্চিত মানুষের ঐক্য।তাই তাঁর রাজনৈতিক চিন্তার কেন্দ্রে বারবার ফিরে এসেছে মানুষহিন্দু বা মুসলমান নয়, প্রথমত মানুষ।লেবার স্বরাজ পার্টি: কবির রাজনৈতিক সংগঠন১৯২৫ সালে নজরুল শ্রমিক-কৃষকের অধিকারের প্রশ্নে সক্রিয় রাজনৈতিক ভূমিকা নেন। হেমন্তকুমার সরকার ও অন্যান্য বামপন্থী নেতাদের সঙ্গে তিনি লেবার স্বরাজ পার্টি অব দ্য ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল কংগ্রেস গঠনের সঙ্গে যুক্ত হন।এই সংগঠনের ভাবনায় ছিল শ্রমিক-কৃষকের অধিকার, ঔপনিবেশিক শোষণের বিরুদ্ধে সংগ্রাম এবং সমাজের প্রান্তিক মানুষের রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন।নজরুলের রাজনৈতিক লেখায় যে শ্রেণি সচেতনতা দেখা যায়, তার সঙ্গে এই সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের গভীর সম্পর্ক ছিল।নির্বাচনের ময়দানেও নজরুলশুধু কবিতা বা বক্তৃতার মধ্যেই তাঁর রাজনীতি সীমাবদ্ধ ছিল না। ১৯২৬ সালে তিনি আইনসভার নির্বাচনে প্রার্থীও হন। অর্থবল ও সাংগঠনিক শক্তির দিক থেকে তিনি পিছিয়ে ছিলেন। ফলে নির্বাচনী রাজনীতিতে সফলতা আসেনি।কিন্তু এই পর্বটি গুরুত্বপূর্ণ এই কারণে যে, নজরুল নিজেকে কেবল সাহিত্যিক হিসেবে দেখেননি। সমাজ পরিবর্তনের প্রত্যক্ষ রাজনৈতিক প্রক্রিয়াতেও তিনি অংশ নিতে চেয়েছিলেন।হিন্দু-মুসলমানের মিলনের এক বিরল শিল্পীনজরুলের সৃষ্টির সবচেয়ে বিস্ময়কর দিকগুলির একটি তাঁর ধর্মীয় বহুত্ববাদ।তিনি লিখেছেন ইসলামী গান, হামদ, নাত, গজল। আবার লিখেছেন শ্যামাসংগীত, ভজন, কীর্তন ও হিন্দু দেবদেবীকে নিয়ে অসংখ্য গান।মা, শ্যামা, কালী, কৃষ্ণ যেমন তাঁর গানে এসেছে, তেমনই এসেছে আল্লাহ, নবী, রমজান, ঈদ ও ইসলামী আধ্যাত্মিকতার নানা অনুষঙ্গ।এখানে কোনও কৃত্রিম সমন্বয় ছিল না। নজরুলের কাছে ধর্ম ছিল মানুষের আত্মিক অনুভূতির ভাষা; বিভেদের অস্ত্র নয়।তাঁর এই অবস্থান আজকের সময়েও অসাধারণ প্রাসঙ্গিক।চলচ্চিত্রের দুনিয়ায় আর এক নজরুলনজরুলকে আমরা কবি ও গীতিকার হিসেবে যতটা মনে রাখি, চলচ্চিত্রের মানুষ নজরুলকে ততটা মনে রাখি না।কলকাতার চলচ্চিত্রজগতের সঙ্গে তাঁর গভীর যোগাযোগ তৈরি হয়েছিল। তিনি চলচ্চিত্রে গান লিখেছেন, সুর দিয়েছেন এবং সংগীত পরিচালনা করেছেন। নির্বাক যুগ থেকে সবাক চলচ্চিত্রের উত্তরণের সময় বাংলা সিনেমার সংগীতে নতুন মাত্রা আনার ক্ষেত্রে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।১৯৩৪ সালের ধ্রুব চলচ্চিত্রে তিনি দেবর্ষি নারদের ভূমিকায় অভিনয় করেন। একই সঙ্গে ছবিটির সংগীত পরিচালনা ও গীতরচনার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। হাতে একতারা, পায়ে খড়ম, মুখে নারদের সাজরুপালি পর্দায় নজরুলের এই উপস্থিতি আজ বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসের এক মূল্যবান অধ্যায়। এটি ছিল তাঁর অভিনয়জীবনের একমাত্র চলচ্চিত্র অভিনয়।রবীন্দ্রনাথের কবিতায় নজরুলের সুররবীন্দ্রনাথ ও নজরুলের সম্পর্ক বাংলা সংস্কৃতির অন্যতম সুন্দর অধ্যায়।বয়সে রবীন্দ্রনাথ ছিলেন অনেক বড়। সাহিত্যিক পথও ছিল আলাদা। তবু দুজনের মধ্যে ছিল গভীর শ্রদ্ধা ও স্নেহ।চলচ্চিত্রে রবীন্দ্রনাথের রচনায় নজরুলের সুরারোপের ঘটনাটি এই সম্পর্কের এক চমৎকার দৃষ্টান্ত। রবীন্দ্রনাথের রচনায় প্রচলিত সুরের বাইরে গিয়ে নজরুল নতুন সুর নির্মাণ করেছিলেন। সেই সুর কবিগুরুকে শুনিয়ে তাঁর অনুমোদন পাওয়ার ঘটনাটি শুধু দুজন শিল্পীর পারস্পরিক শ্রদ্ধার নয়, সৃষ্টিশীল স্বাধীনতারও একটি সুন্দর উদাহরণ।নারীদের কণ্ঠে নতুন যুগবাংলা গান ও চলচ্চিত্রে নারী কণ্ঠশিল্পীদের প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও নজরুলের ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য। আঙ্গুরবালা দেবী, ইন্দুবালা দেবী, কানন দেবীসহ তৎকালীন বহু শিল্পীর সঙ্গে তাঁর পেশাগত ও সৃষ্টিশীল সম্পর্ক ছিল।বিশেষ করে নারীদের সামাজিক অবস্থান যখন নানা বিধিনিষেধে আবদ্ধ, তখন তাঁদের কণ্ঠকে বৃহত্তর শ্রোতার কাছে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে নজরুলের গান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়।তাঁর সৃষ্ট নারীচরিত্রও ছিল প্রচলিত ধারণার বাইরেস্বাধীন, আত্মমর্যাদাসম্পন্ন এবং প্রতিবাদী।হাফিজ ও ওমর খৈয়াম থেকে নজরুলের বাংলানজরুলের সাহিত্যিক পরিসর বাংলা ভাষার গণ্ডিতে আটকে ছিল না। ফারসি সাহিত্য, আরবি সংস্কৃতি এবং ইসলামী ঐতিহ্যের সঙ্গে তাঁর গভীর পরিচয় ছিল।হাফিজ ও ওমর খৈয়ামের রচনার অনুবাদে তিনি বাংলা ভাষায় নিয়ে এসেছিলেন এক অন্যরকম সুর, ভাব ও রোমান্টিকতা। তাঁর অনুবাদে কেবল ভাষান্তর নয়, অনেক সময় দেখা যায় সৃষ্টিশীল পুনর্নির্মাণের প্রবণতা।এই কাজগুলির মাধ্যমে বাংলা সাহিত্য আরও সমৃদ্ধ হয়েছে মধ্যপ্রাচ্য ও পারস্যের সাহিত্য-ঐতিহ্যের সঙ্গে।হাজার গানের স্রষ্টা, অথচ কত গান হারিয়ে গেল!নজরুলের গান নিয়ে সবচেয়ে বেদনাদায়ক অধ্যায় তাঁর জীবনের শেষ পর্ব। নজরুলের অসুস্থতার কারণে পরবর্তী সময়ে তাঁর বাকশক্তি ও স্মৃতিশক্তি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে তাঁর অসংখ্য গানের সঠিক সুর, স্বরলিপি ও পরিবেশনরীতি সংরক্ষণ করা সম্ভব হয়নি।আজ আমরা নজরুলগীতির বিপুল ভাণ্ডারের কথা বলি। কিন্তু সেই ভাণ্ডারের কত অংশ হারিয়ে গেছে, কত গান ভুল সুরে বা অসম্পূর্ণভাবে আমাদের কাছে পৌঁছেছেতার সম্পূর্ণ হিসাব করা কঠিন।এই জায়গাতেই নজরুল গবেষণার সামনে এখনও বিশাল কাজ পড়ে রয়েছে।শুধু বিদ্রোহী নন, তিনি ছিলেন সৃষ্টির কবিওনজরুলকে শুধু বিদ্রোহের কবি হিসেবে দেখলে তাঁর প্রতি অবিচার করা হয়। তিনি প্রেমের কবি। তিনি প্রকৃতির কবি। তিনি আধ্যাত্মিকতার কবি। তিনি হাস্যরসের কবি। তিনি শিশুদের কবি। তিনি শ্রমিকের কবি, কৃষকের কবি, নারীর কবি, নিপীড়িত মানুষের কবি।তাঁর সাম্যবাদী উচ্চারণ যেমন রাজনৈতিক, তেমনই গভীর মানবিক। তাঁর নারী কবিতা যেমন নারীমুক্তির কথা বলে, তেমনই তাঁর প্রেমের গান ব্যক্তিমানুষের হৃদয়ের গোপন দরজাও খুলে দেয়।নজরুলের জীবনের সবচেয়ে বড় শিক্ষানজরুলের জীবনের দিকে তাকালে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়ে ওঠেতিনি কখনও নিজের পরিচয়কে সংকীর্ণ হতে দেননি।দারিদ্র্য তাঁকে থামাতে পারেনি। সেনাজীবন তাঁকে কবিতা থেকে দূরে সরাতে পারেনি। কারাগার তাঁর কণ্ঠ স্তব্ধ করতে পারেনি। রাজনৈতিক ব্যর্থতা তাঁকে ভেঙে দেয়নি। ধর্মীয় বিভাজন তাঁকে কোনও একপক্ষের কবি বানাতে পারেনি।তিনি একই সঙ্গে মসজিদের আজান শুনেছেন, মন্দিরের ঘণ্টাধ্বনি শুনেছেন; ইসলামী গজল লিখেছেন, আবার শ্যামাসংগীতে মাতৃসাধনার ভাষা সৃষ্টি করেছেন।এই কারণেই নজরুল কেবল একটি জাতির, একটি ধর্মের বা একটি সময়ের কবি নন। তিনি বাংলা ভাষার এক অনন্ত মানবিক কণ্ঠ।আজ তাঁর প্রয়াণের এত বছর পরেও যখন সমাজে বিভাজন বাড়ে, যখন মানুষের পরিচয় ধর্ম ও সম্প্রদায়ের খোপে আটকে যেতে চায়, যখন অন্যায়ের সামনে নীরব থাকার প্রবণতা তৈরি হয়তখন নজরুলের কণ্ঠ আবার ফিরে আসে।সে কণ্ঠ বলেমানুষের চেয়ে বড় কোনও পরিচয় নেই।বিদ্রোহ মানে শুধু অস্ত্র তুলে নেওয়া নয়; অন্যায়ের সামনে মাথা নত না করাও বিদ্রোহ।আর সাম্য মানে শুধু রাজনৈতিক তত্ত্ব নয়; অন্যের ধর্ম, ভাষা, পরিচয় ও মর্যাদাকে নিজের মতোই সম্মান করাও সাম্য।তাই নজরুলকে স্মরণ করার সবচেয়ে বড় উপায় শুধু তাঁর প্রতিকৃতিতে মাল্যদান নয়। তাঁর গান গাওয়া, কবিতা আবৃত্তি করা কিংবা সামাজিক মাধ্যমে কয়েকটি আবেগঘন বাক্য লেখা নয়।নজরুলকে সত্যিকার অর্থে স্মরণ করতে হলে তাঁর প্রশ্নগুলিকে নিজেদের জীবনে ফিরিয়ে আনতে হবে।মানুষ কি সত্যিই মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছে?অন্যায়ের বিরুদ্ধে আমরা কি এখনও কথা বলি?ধর্মের নামে বিভেদের বদলে ভালোবাসার সেতু গড়তে পারি কি?এই প্রশ্নগুলির উত্তর খুঁজতে গেলেই বোঝা যায়নজরুল আজও অমর।তিনি আছেন আমাদের প্রতিবাদে, আমাদের প্রেমে, আমাদের গানে, আমাদের সাম্যের স্বপ্নে।আর যতদিন অন্যায়ের বিরুদ্ধে একটি কণ্ঠ উচ্চারিত হবে, ততদিন সেই কণ্ঠের ভিতরে কোথাও না কোথাও বেঁচে থাকবেন বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম।

আগস্ট ২৯, ২০২৬
রাজনীতি

অভিষেকের বাড়িতে কালীঘাট থানার পুলিশ, ক্যামাক স্ট্রিটের ঘটনায় হাজিরার নোটিশ সাংসদকে

ক্যামাক স্ট্রিটের ঘটনায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে নোটিশ জারি করল পুলিশ। জানা গিয়েছে, শনিবার রাত ৯ টার পর কালীঘাট থানার পুলিশ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে যায়। আগামী ১ সেপ্টেম্বর ১ সেপ্টেম্বর সেকশপিয়ার থানায় তাঁকে হাজির হতে নির্দেশ দিয়েছে। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চায় পুলিশ। ক্যামাক স্ট্রিটে অভিষেকের অফিসে গেলে জোর করে কাজে বাধা দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ। সেদিন তৃণমূল কংগ্রেস লেখা বিলবোর্ড খোলাকে কেন্দ্র করে ধুন্ধুমার কান্ড ঘটে। সেদিনই পুলিশ এফআইআর করে। ওই ঘটনায় ইতিমধ্যে ১৪ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মোট তিনটে কেস করে পুলিশ। পুলিশ সূত্রে খবর, শুধু কাজে বাধা নয় শ্লীলতাহানির অভিযোগও উঠেছে। এদিকে ওই বাড়ির দুটি ঘর জোড় করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়রা দখল করে নিয়েছে বলে মালিকপক্ষ অভিযোগ করেছে।

আগস্ট ২৯, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal