• ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, সোমবার ১৫ জুন ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

Amritsar

নিবন্ধ

ধৌলাধর-এর কাছাকাছি - তৃতীয় পর্ব

ঢুকে যখন পড়েছি একবার ছাড়াছাডি নেই আর! কোনোমতে ঘুষিয়ে ঘাষিয়ে সেই ভীড়ে ঠাসা সর্বোচ্চ গ্যালারীর পরিধি বেয়ে এগোতে লাগলাম অনীক আর আমি। কারো কোল ডিঙিয়ে, কারো বগলের তলা দিয়ে উঁকি মেরে, কোনো শালপ্রাংশু মহাভুজের পিঠের পিছন দিয়ে পিছলে গিয়ে, দুরধিগম্য এক অভিযানে ব্রতী হলাম আমরা এমন একটুকরো পা রাখার জায়গার সন্ধানে যেখান থেকে অন্তত এক চোখ দিয়েও দেখা যাবে সীমানাফটকে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে কী মহানাট্য! লাফিয়ে ঝাঁপিয়ে সড়রা মেরে শেষতক পৌঁছোতেও পারলাম সেই গ্যালারীর পশ্চিমতম প্রান্তে, আর হাডগোডভাঙ্গা দ-এর মতো বেঁকেচুরে কোনোমতে দাঁড়িয়ে দেখলাম সেখান থেকে দুই দেশের সীমান্তফটক আর মধ্যবর্তী নো ম্যানস ল্যান্ড দেখা যায় চমৎকার!সীমান্তচৌকির এই অনুষ্ঠান দেখার পরমোৎসাহ ছিল মূলত চিত্রা ও সুকন্যা-র; আমরা বাকিরা বিনে পয়সায় দুশো মজা দেখার মতলবে সামিল হয়েছিলাম হইহই করে। কিন্তু এ যা ভুতোভুতি কান্ড দেখছি, চিত্রা গ্যালারীর ভেতর ঠিকঠাক জায়গায় ঘাঁটি গাড়তে পেরেছে তো! আর সুকন্যা-রূপার উইকেট তো পড়ে গেছে প্রথম ওভারেই! নিজেরাও হাত-পা-গুলো আস্ত নিয়ে বেরোতে পারবো কি না কে জানে!চোখের সামনে সুবিশাল পাঁচতলা অশ্বক্ষুরাকৃতি দর্শনার্থী-গ্যালারি, খচাখচ ভরা হুয়া হ্যায়। গাঁকগাঁক করে দেশপ্রেম উগড়োচ্ছে মহাশক্তিমান সব সাউন্ডসিস্টেম, সঙ্গে পাল্লা দিয়ে উল্লসিত কলরোল আবেগাপ্লুত জনগনেশের। মধ্যিখানের মসৃন পিচঢালা রাস্তাটি বন্ধ ফটক পেরিয়ে গিয়ে পড়েছে নো ম্যানস ল্যান্ডে। সেই রাস্তায় বলিউডি দেশভক্তিগীতির তালে তালে তুমুল নৃত্যকলা প্রদর্শন করছেন শয়ে শয়ে উত্তেজিত দেশপ্রেমী সে দলে ঝুঁটিবাঁধা নবযুবক-ফাটাজিন্স তরুণী-পৃথুলা মাঝবয়সী পন্জাবিনী-ছকরাবকরা শার্টশোভিত চকচকে-টাক আঙ্কলজী, কে নেই! ভূমিতলের গ্যালারীর প্রথম কয়টি ধাপে সমাসীন কিছু বিদেশী অতিথি পরম কৌতুকভরে অবলোকন করছেন এই অমৃত মহোৎসব!সীমান্তের ওপাড়ের গ্যালারি খাঁ খাঁ করছে। রমজান মাস। উপবাসভঙ্গের সময় এখন। তাই বোধ হয় ওদিকের দেশপ্রেমীরা তেমন আসর জমান নি। মখমলি সবুজ ঘাসজমি ঘিরে অর্ধচন্দ্রাকার গ্যালারীটি আয়তনে এদিকের এই দানবিক নির্মাণের কাছে পঁচিশ গোল খাবে; তবে বেশ একটা সংযত ওল্ড ওয়ার্ল্ড চার্ম জড়িয়ে আছে ওয়াগা সীমান্তফটকের ওই দিকের পরিকাঠামোয়।নববর্ষের বৈকালিক সূর্য ঢলে পড়লো উল্টোদিকের গ্যালারীর আডালে। এখন ছাদেও উঠে এসেছেন বহু মানুষ। সুকন্যা-রূপাকে নিয়ে বাদশাদা ফিরে এলো কি? ঢুকতে পারলো? প্রবেশদ্বারগুলির কাছে চরম বিশৃঙ্খলা এখন মনে হচ্ছে অনেকখানি স্তিমিত। সোয়া পাঁচটা বেজে গেছে। চারটি দশাসই সারমেয় শান্ত পায়ে হেঁটে গেল তাদের হ্যান্ডলারদের পাশে পাশে; তার পরেই সতেজ সাবলীল পদক্ষেপে কদম কদম এগিয়ে গেলেন বি.এস.এফ-এর চার তরুণী সদস্যা সীমান্তফটকের কাছে গিয়ে পোজিশন নিলেন এঁরা সবাই।এবার অকুস্থলে অবতীর্ণ হলেন বি.এস.এফ-এর কোনো এক গুরুত্বপূর্ণ আধিকারিক। তাঁর পরবর্তী ক্রিয়াকলাপ দেখে মুগ্ধ হয়ে গেলাম। আমাদের দেশাত্মবোধ জাগাতে কী না করলেন ভদ্রলোক লাফিয়ে-ঝাঁপিয়ে-দৌড়ে গিয়ে- ঢিল মারার ভঙ্গী করে সবাইকে অনুপ্রাণিত করলেন তাঁর বাজখাঁই গলায় দেওয়া স্লোগানে গলা মেলাতে। কত রকমভাবে যে গলা খেলালেন তিনি! আর থেকে থেকে অদ্ভুত এক কালোয়াতী ঢঙে ছো-ও-ও শব্দে মিনিটখানেক টান দিয়ে শেষে হা-আ-আ করে সংক্ষিপ্ত হুঙ্কার পাবলিক পুরো ফিদা সেই রণনির্ঘোষ শুনে!এই উচ্চকিত দেশভক্তির ফুটন্ত বাতাবরণে অনীক আর আমি ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেছি বেশ! স্লোগানে তেমন গলা তোলা হয় নি একবারও। গ্যালারীতে উঠে এসে আমাদের ঘাড় ধরে ওপাড়ে ছুঁড়ে ফেলে না দ্যায়! তবে ভয়ে ভয়ে এধার ওধারে তাকিয়ে দেখে নিয়েছি, কাছাকাছি ইতস্তত বিক্ষিপ্ত আরো কিছু বাঙালী পরিবারের অবস্থাও তথৈবচ! জ্বলন্ত দেশপ্রেমের সাম্প্রতিক মাপকাঠিতে আমাদের বাঙালিদের নম্বর যে নেহাতই কম সে কথা মালুম হলো, তা সে আন্দামানের সেলুলার জেল-এর বন্দীতালিকায় মোট ৫৮৫ জনের মধ্যে ৩৯৮ জনই বাঙালী যতই না হোক!!প্রায় সাড়ে পাঁচটা। দৃপ্ত পদক্ষেপে কুচকাওয়াজ করে এগিয়ে গেলেন একদল জওয়ান। তাঁদের তলোয়ার খেলানো.. অঙ্গসন্চালন.. আকাশমুখী পদবিক্ষেপ সবই বিস্ফারিতচক্ষে দেখার মতো। ভয় হচ্ছিল, নিজের পায়েই না কারো কপালে চোট লেগে যায়! উপস্থিত তিন-সাড়ে তিন লাখ জনতা উৎসাহে-রোমান্চে-গর্বে উদ্বেল! থেকে থেকে বজ্ররবে উছলে উঠছে জনসমুদ্র ভারতমাত্তা কি-ই ঝ্যায়! আমরা এখান থেকে দিব্যি দেখতে পাচ্ছি, ফটকের ওপারের ঘাসজমিতেও অনুষ্ঠিত হয়ে চলেছে রণরঙ্গ; তবে তাতে উত্তেজনা অনেক কম। শুরুতে ঢাউস ঢাক বাজাতে বাজাতে নেচে গেছেন জনাকয় ভাঙরা-শিল্পী, তাতে মৃদু হর্ষোল্লাস শোনা গেছে একটু একটু করে জমে ওঠা শখানেক দর্শকের ওমনি প্রবল প্যাঁক দিয়েছে এপাড়।ঠিক সাড়ে পাঁচটায় খুলে গেল দুদিকের ফটক। দুদেশের জওয়ানরা সেলাম ঠুকলেন পরস্পরকে খোলা হলো পতাকার দড়ির গিঁট টানটান করে কোনাকুনি দড়ি ধরে দাঁডিয়ে রইলেন দুপাড়ের সান্ত্রীরা ধীরে ধীরে নেমে এলো দুদেশের নিশান ভাঁজ করে রেখে দেওয়া হোলো পরদিন সকালে পুনর্বার ঝান্ডোত্তোলনের জন্য গড়গডিয়ে বন্ধ হয়ে গেল দুপাড়ের সীমান্তফটক, আজ রাতের মতো।অনুষ্ঠান শেষ। একটি প্রাত্যহিক রিচ্যুয়াল ঘিরে এই মাপের হাইপ ভাবা যায় না! স্লুইস গেট খুলে যাওয়া অতিকায় বাঁধের জলসমুদ্রের মতো দ্রুত খালি হয়ে যাচ্ছে গ্যালারী। ধীরে ধীরে বেরিয়ে এলাম দুজনে। সিঁড়ি দিয়ে নামতে নামতে দুচোখ ভরে দেখলাম সীমান্তের ওপাড়ে দিনের সূর্যের ডুবে যাওয়া সেই একই হরিয়ালা শষ্যক্ষেত্র একই মাটি জল একই নীলাকাশ!নীচের বাগানে মানুষের মেলা সাজিয়ে রাখা পুরোনো বিমানের সামনে ফটো-সেশনের ভীড়কোনোমতে ফোনের লাইন পেতেই খুঁজে পাওয়া গেল বাকিদের। চিত্রা ভীড়ের চাপে চিঁডেচ্যাপটা হয়েও দেখতে পেয়েছে ভালোই! বাদশাদা-সুকন্যা-রূপা আমার আশাকে সম্মান জানিয়ে ফিরে এসেছিল ও ফাঁকতালে ভালো জায়গাতেই দাঁড়াতে পেরেছিল। সমবেত নৃত্যভুবনের মায়াবী পরিবেশে আত্মহারা হয়ে সুকন্যা ও রূপা গ্যালারীতেই বেশ দুপা নেচেও নিয়েছে শুনলাম। শুনে পরম আশ্বস্ত হওয়া গেল। সতীর পুণ্যে পতির পুণ্য! এই সুমহান দেশভক্তিমূলক নৃত্যসমাবেশে আমারও যাকে বলে মহত্বপূর্ণ যোগদান রয়ে গেল!বাইরে শাহী কিলা রেস্তরাঁয় পয়সাওয়ালা দর্শনার্থীদের ভীড়। একপাশে ছোট্ট মন্চে গাইছেন ঝিকিমিকি আলোজ্বলা পোশাকপডা গাইয়ে।রূপা প্রচন্ড ক্ষেপে রয়েছে ওকে ছেড়ে আমি ভিতরে ঢুকে যাওয়ায়। একগ্লাস কোল্ড কফি সেই উত্তপ্ত চিত্তে কিন্চিৎ ছায়াবিস্তার করলো। বিস্তর ঝামেলা গেছে আজ সারাদিন, বেশী গন্ডগোলের দরকার কী!ঝামেলার অবশ্য বাকি ছিল আরো! পার্কিংলট থেকে গাড়ি বেরোতেই লেগে গেল ঘন্টাখানেক, এমন বিচ্ছিরি যানজট! যে যেদিকে পারে গাড়ি ঢুকিয়ে দিচ্ছে, যাননিয়ন্ত্রণের কোথাও কোনো নামগন্ধই নেই। অবশেষে একসময় ফেরার পথ ধরলো আমাদের ইনোভা ক্রিস্টা। পেটে তখন চুহাদের উন্মত্ত ছোটাছুটি; সারাদিন তো সেভাবে গুছিয়ে খাওয়াই হয় নি! গৌরব গাড়ি দাঁড় করালো মাঝপথে, বল্লে বল্লে ধাবা-য়।বেশ জম্পেশ ব্যাপার; পাশেই আছে সাবা সাবা ধাবা। বল্লে বল্লে আর সাবা সাবা মিলে বেশ জনচিত্তজয়ী পরিবেশ রচনা করে রেখেছে রাজপথের পাশে। ভিতরে প্রশস্ত চাতাল.. বাগান.. ফোয়ারা.. খাটিয়া বা কুর্সিতে ইচ্ছামতো বসার আয়োজন!টনটনে পা ছড়িয়ে বসে জম্পেশ খাওয়া হোলো চাওল-রাজমা - বেসন দা রোটি - মক্কি দা রোটি - সর্ষুঁ দা শাগ - পায়েস-লস্যি! প্রৌঢ সর্দারজী বাঙালী মেহমানদের খাতিরদারি করলেন দিল খুলে। পন্চনদ -এর দেশে প্রথম সন্ধ্যার পেটপুজো নেহাত মন্দ হলো না!আধঘন্টায় অমৃতসর শহর পুরোনো ও নতুন হাতধরাধরি করে দাঁডিয়ে পেরোলাম বিখ্যাত গুরু নানকদেব বিশ্ববিদ্যালয় তার পাশেই বিশাল উদ্যানশোভিত ক্যাম্পাসে ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালের মতো আলোকিত এক অপরূপ সৌধ দেখে মুগ্ধ হলাম, জানলাম ওটি খালসা কলেজ! হোটেল গোল্ডেন সিরাজ ক্যাসল খুঁজে পেতে বেগ পেলেও জায়গাটা পছন্দ হোলো বেশ!কোন ভোরে উঠেছি সবাই! ঝটপট তাই বিছানায়। কাল সকাল সকাল উঠে সোজা স্বর্ণমন্দির!

সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৩
নিবন্ধ

ধৌলাধর-এর কাছাকাছি - দ্বিতীয় পর্ব

বৈশাখী উৎসব কাল রং ছড়িয়েছে সারা পন্চনদ জুড়ে; সেই রঙের স্বপ্নমায়া যেন জড়িয়ে আছে পথের দুধারের প্রকৃতিতে। পাকা গমের ক্ষেতে সোনালী আলো, তার মাঝে মাঝে গাছগাছালির সবুজ সঙ্গৎ। মধ্যদিনে গান বন্ধ করে নি পাখিরা; স্বাস্থ্যবান টিয়ার ঝাঁক ওড়াউডি করছে গাছে গাছে আর গমের ক্ষেতে রৌদ্রছায়ায়.অমৃতসর বিমানবন্দর থেকে বেরিয়ে হোটেলে না উঠে সরাসরি চলেছি চল্লিশ কি.মি. দূরে আটারি সীমান্তের দিকে, উল্টোদিকের পাকিস্তানী সীমান্ত ওয়াগা-র নামেই যা খ্যাতি পেয়েছে ওয়াগা বর্ডার রূপে। বিকেল সাড়ে পাঁচটা নাগাদ মুখোমুখি দুই দেশের সীমান্তচৌকিতে জাতীয় পতাকা অবনমনের অনুষ্ঠানটি দেখেই ফিরবো আমরা, তারপর পূর্বনির্ধারিত হোটেলে গিয়ে আশ্রয়গ্রহণ।নিদাঘদগ্ধ অপরাহ্নের নিষ্করুণ রৌদ্র গড়িয়ে নামছে দুপাশারি নিম-বট-অশ্বত্থের ডাল বেয়ে। প্রশস্ত সড়কের ডান পাশে একের পর এক পাঁচিলঘেরা সামরিক ছাউনি। পথে মাঝে মাঝেই পেরোচ্ছি পেছনের ডালাখোলা টেম্পো-ম্যাটাডর-ছোটোহাতি গাড়িদের; সেসব গাড়িতে বোঝাই হয়ে সীমান্তচৌকির অনুষ্ঠান দেখতে যাচ্ছে তেরঙা টুপি-ফেট্টি-পতাকায় সজ্জিত তরুণ ভারত। পথের বাঁ ধারে মাঝে মাঝেই বিলাসবহুল দুর্দান্ত সব ফার্মহাউস বা অনুষ্ঠানস্থল বাগান-মূর্তি-স্থাপত্যের আড়ম্বরে যা চোখ ধাঁধিয়ে দেয়, দেখিয়ে দেয় সবুজ বিপ্লবোত্তর পন্জাব-এর সমৃদ্ধি-চিত্র।অকুস্থলের কাছাকাছি এসে লম্বা গাড়ির লাইনের পেছনে থেমে যেতে হোলো। গাড়ির আশেপাশে হাতে-গালে তেরঙা আঁকনেওয়ালা টুপি-ফেট্টি-আর্মব্যান্ড বেচনেওয়ালা ছোটোখাটো স্মারক- সি.ডি - টি-শার্ট গছানেওয়ালারা উপচে পড়লো। ভারতীয় সেনার প্রতিনিধিদের কাছে নিজেদের পরিচিতিপত্র দেখিয়ে, গাড়ির আগাপাস্তালা চেকিংয়ের অগ্নিপরীক্ষা পেরিয়ে, পৌঁছে গেলাম সীমান্তচৌকির কাছে বিশাল পার্কিংলটে। ওয়াশরুম - কাফেটারিয়া - ওয়েটিং শেড সবকিছু নিয়ে জমজমাট এক পরিকাঠামো সারথী গৌরব এখানেই আমাদের ভূমিস্থ করে সাময়িক বিদায় নিল।কাতারে কাতারে মানুষ; লম্বা লাইন এগোচ্ছে দ্রুত। বাইরের গেট-এর কাছে এসে দেখি পুরুষ ও মহিলাদের লাইন আলাদা করে দেওয়া হয়েছে, পৃথক জায়গায় তাদের শরীর তল্লাশির বন্দোবস্ত। সেই অবশ্যপালনীয় খিটকেলটি পেরিয়ে ভেতরে ঢুকে বাদশাদা-অনীক-আমি আর খুঁজে পেলাম না আমাদের মহিলা ব্রিগেডকে!নিশ্চয়ই ঢুকে গ্যাছে ভিতরে! অনুষ্ঠানের সময় হয়ে আসছে; লোকজন প্রায় ছুটছে দুপাশ দিয়ে। কাজেই গ্যালারিতে জায়গা পেতে হলে কালক্ষেপ না করে এগোও। ওদের ফোন করতে গিয়ে দেখি ফোনের সিগন্যাল হাওয়া! তা হলে যোগাযোগ হবে কী করে! মহা মুশকিল হোলো তো!তিনজনে ফোন টেপাটেপি করতে করতেই পা চালাচ্ছি; হঠাৎ বাদশাদা ফোন পেল সুকন্যার কোথায় তোমরা, কোথায় তোমরা করতে করতেই সে ফোন কেটেও গেল। অতঃপর তিনজনেই প্রাণপণ চেষ্টা করে যাচ্ছি, কখনো সখনো কানেকশন হচ্ছেও, কিন্তু কথা বলার আগেই কেটে যাচ্ছে। এই লাখখানেক লোকের ভীড়ে একসাথে না মিললে চিত্তির; কিন্তু ওরা যে কোথায় বোঝাই যাচ্ছে না! দাঁড়িয়ে যাবো কোনো এক জায়গায় নাকি এগোবো তাও ঠিক করতে পারছি না!এই কুনাট্য অভিনীত হোলো আরো প্রায় মিনিট দশেক। ততক্ষণে বন্যার মতো জনস্রোত বয়ে যাচ্ছে মূল অনুষ্ঠানস্থলের দিকে। দূর ছাই, নিশ্চয়ই ওখানেই পাবো ওদের। চলো এগোই। বলে প্রায় দৌড়োলাম তিনজনে।সামনেই বিশাল এক অট্টালিকাসম নির্মাণ, মাথায় লেখা INDIA; সামনে সুউচ্চ দণ্ডশীর্ষে বিশাল জাতীয় পতাকা উড়ছে পতপত করে। গ্রাউন্ড লেভেল-এর প্রবেশপথটি জনস্ফীতিহেতু বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে ইতিমধ্যে। প্রহরীর নির্দেশ, উঠে যাও পাশের সিঁড়ি দিয়ে ওপরের গ্যালারিতে। সে দিকে তাকিয়েই দেখি সিঁডির পাশে বিপন্ন মুখে দাঁড়িয়ে সুকন্যা আর রূপা!!হারানিধি ফিরে পেলেও সেলিব্রেশন-এর সময় নেই। চিত্রা কই? সে নাকি আমাদের দেরী দেখে একাই গুঁতিয়ে গাঁতিয়ে ঢুকে গেছে ভীড়ে ভীড়াক্কার গ্যালারিতে! দোষারোপ - পাল্টা দোষারোপের সময় নেই; তেডে সিঁড়ি বাইতে শুরু করলাম পাঁচজনে। ঠাসাঠাসি ভীড় প্রায় এগোনোই যায় না ভারতবর্ষের নানান প্রান্তের ভাষায় চিল্লামিল্লি ভেতর থেকে তারস্বরে মাইক উগরে দিচ্ছে জয় হো, জয় হো-ও .দোতলা তেতলার গ্যালারিতে তিলধারণের ঠাঁই নেই, ঢোকাই গেল না। চারতলার ল্যান্ডিংয়ে এসে স্নায়ুবিপর্যয় হোলো সুকন্যা-রূপার আর এক পা-ও যাবো না আমরা, মরবো নাকি এই ভীড়ে লোকের পায়ের তলায়!অনেক চেষ্টাতেও বোঝানো গেল না তাদের। অগত্যা বাদশাদা ওদের দুজনকে নিয়ে নামার পথ ধরলো। অনীক-এর হাত জাপটে ধরে আমি বল্লাম, যা থাকে কপালে, ফিরবো না। চলো দেখা যাক কী হয়!সর্বোচ্চতলার গ্যালারি প্রবেশপথের আগে সিঁড়িতে একদম ঠাসাঠাসি ভীড়, চরম বিশৃঙ্খলা। ওপরের লোকেরা ঢুকতে না পেরে নেমে আসতে চাইছে, নীচের লোকেরা চাইছে ওপরে উঠতে। কঘন্টা আগের দিল্লী-অমৃতসর উড়ানে মাঝের কিছুক্ষণ ভয়ানক এয়ার টার্বুলেন্স-এ পড়েছিল আমাদের বিমান; বারকয়েক মাঝআকাশে এয়ারপকেটে ধাঁইধপ্পাস পড়ে ভীষণ আতঙ্ক ছড়িয়েছিল। আমি তখন ওয়াশরুমের ভেতর হাতল আঁকড়ে সিঁটিয়ে দাঁড়িয়ে! কিন্তু তখনো এতো ভয় লাগে নি, এই মূহুর্তে যতটা বিপন্নবোধ করছি। এখন আর নেমে যাওয়ারও সুযোগ নেই। বাংলা নববর্ষের বিকেলে, এই দূর সীমান্তচৌকিতে পদপিষ্ট হয়ে যাওয়াই কপালে লেখা ছিল!সারাক্ষণ কোনো ভীড় নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ বা ব্যবস্থা চোখেই পড়ে নি সেভাবে। চিৎকার.. কান্নাকাটি.. গালাগালি.. তার মধ্যেই দুজনে দুজনার হাত জাপটে ধরে, দাঁতে দাঁত চেপে, দেওয়াল ঘেঁষে ঘষটে ঘষটে, অ্যামিবার মতো ক্ষণপদ বা সিউডোপোডিয়া এদিক সেদিক বাড়িয়ে বাড়িয়ে, একসময় কোনোমতে উঠে এলাম সর্বোচ্চ গ্যালারির প্রবেশপথে। তারপর একঝটকায় ভিতরে। মাইকে তখনো অমায়িক নির্দোষ ইয়ে মেরা ইন্ডিয়া, ইয়ে মেরা ইন্ডিয়া..

সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৩
নিবন্ধ

ধৌলাধরের কাছাকাছি, প্রথম পর্ব

নববর্ষের ফুরফুরে সকালে যখন হু হু করে ছুটছে আমাদের গাড়ি রাজারহাট-নিউটাউন এক্সপ্রেসওয়ে দিয়ে, লালপেডে শাড়িতে সুশোভিতা একঝাঁক বঙ্গললনার ছোট্ট পদযাত্রা চোখে পডলো; হাতে তাঁদের ঢাউস মাপের শুভ নববর্ষ লেখা তালপাতার পাখা। সকাল আটটার রোদ আটকাতেই অনেকে সে পাখা ব্যবহার করছেন ছাতার মতো। বঙ্গসংস্কৃতি উদযাপন করতে তাঁদের অভিমুখ সেন্ট্রাল মলের সামনের নববর্ষ মেলায় এটা যেমন বোঝা গেল, তেমনই সকাল আটটাতেই ঘামিয়ে দেওয়া এই রুদ্রবৈশাখকে ফাঁকি দিতে চলেছি হিমাচলের ওক-পাইন-দেওদারের ছায়ায় ছায়ায় এই ভাবেই মনটা গার্ডেন গার্ডেন হয়ে গেল!সস্ত্রীক বাদশাদা-অনীক-আমি মোট ছয়জনের নাতিদীর্ঘ বাহিনী। অমৃতসর দিয়ে শুরু করে হিমাচলপ্রদেশের পশ্চিমাংশটা সমঝে নেবো আগামী আটদিনে। প্ল্যানটা দানা বেঁধেছিল মাত্রই মাসখানেক আগে; তাই ফেরার পথে চন্ডীগড থেকে কালকা মেল-এর বাতানুকূল সেকেন্ড টায়ার-এর টিকিট কষ্টেসৃষ্টে পেয়ে গেলেও অমৃতসর অবধি যাওয়ার টিকিট আকাশপথেই কাটতে হোলো। চারমাস আগে ট্রেনের আসন সংরক্ষণ ব্যবস্থা চালু হওয়ায় আমাদের মতো উঠলো বাই তো বিনসর যাই- মার্কা উড়ুউডু মনদের সর্বনাশ হয়ে গেছে। কটা পেশাজীবী মানুষ আর চারপাঁচমাস আগে থেকে আজকাল বেড়ানোর ছক সাজিয়ে উঠতে পারে!বাদশাদা-সুকন্যা আর অনীক-চিত্রা ভোর ভোর বেরিয়ে গাড়ি নিয়ে আসছে বর্ধমান থেকে। রূপা আর আমি কাল সন্ধ্যেতেই চলে এসেছিলাম বারুইপুরের কাছে শ্বশুরবাডিতে। মেয়েও চলে এসেছিল হোস্টেল থেকে; তার সাথে সময় কাটিয়ে সকাল সকাল দুজনে চলেছি দমদম হাওয়াই আড্ডায়। আমাদের পৌঁছে দিয়ে সারথী মিঠু ফিরে যাবে বর্ধমান।3A গেট-এ নামলাম যখন, উড়ান-এর বাকি পৌনে দুঘন্টা। দুজনের দুটি সুটকেস, সাথে দুই পিঠব্যাগ। টিকিটের প্রিন্টআউট নিয়ে গেটের সি.আই.এস.এফ সান্ত্রী দেখছেন তো দেখছেনই। কী হোলো রে বাবা! আমার আধারকার্ড দেখে মিলিয়েছেন; রূপারটা বারবার উল্টাচ্ছেন ওনার তো টিকিট নেই।মানে? টিকিট হাতে নিয়ে স্মার্টলি দেখাতে গিয়ে আমার চক্ষুস্থির! টিকিট কেটে দিয়েছিলেন এক নিকটজন; রূপার পোশাকী নাম যে ইতি সরকার সেটা বোধ হয় জানা ছিল না তাঁর। ফলত টিকিটে নাম আছে রূপা সরকার। এদিকে আধারকার্ডে জ্বলজ্বল করছেন ইতি সরকার! আর এই মাসখানেক-এর মধ্যে আমরা কেউই একবারও শ্রীনয়ন মেলে তাকাই নি টিকিট-এর পানে!!সর্বনাশের মাথায় বাড়ি! কী হবে এবার! রূপা প্রায় কেঁদে ফেলে আর কি! অন্যেরা ইতিমধ্যে ভিতরে ঢুকে চেক ইন করে করে ফেলেছে। ফোন লাগালাম কাঁপা হাতে। শুনে ওদেরও আক্কেলগুডুম! ভিস্তারা-র কাউন্টারের মে আই হেল্প ইউ আসনের মহিলা প্রথমে সটান বলে দিলেন কিছু করার নেই । পরে অন্য এক ভদ্রলোকের সহায়তায় কাস্টমার কেয়ার-এ ফোন করে জানা গেল নামের বানান ভুল হলে ঠিক করে দেওয়া যেত, কিন্তু নাম পরিবর্তন অসম্ভব!রূপার টিকিট ক্যানসেল করে ইতি সরকার নামে নতুন টিকিট কাটো; গচ্চা যা যায় যাবে, কিছু করার নেই ! সে গুড়ে বালি; কলকাতা-দিল্লী আর দিল্লী-অমৃতসর দুটো উড়ানই পুরো ঠাসা। ভিস্তারা-র পরবর্তী দিল্লী যাত্রা অনেক বেলায়; আর বেশ কয়েকঘন্টা ট্র্যানজিট টাইম দিল্লিতে কাটিয়ে পরের অমৃতসর উড়ান ধরে পৌঁছাতে রাত দশটার কাছাকাছি হয়ে যাবে!মাথা ঝাঁঝাঁ করছে। কী করি! বাদশাদা আর অনীক ছোটাছুটি করছে ভিতরে, ফোনাফুনি চলছে, আর আশ্বাস পেয়ে চলেছি দেখছি আমরা, কিছু একটা ব্যবস্থা হবে নিশ্চয়ই!আচ্ছা, রূপার টিকিটটা ক্যান্সেল হলেই তো একটা সিট খালি হয়ে যাবে; সেখানেই তো জায়গা পেয়ে যাবে ইতি সরকার এটাই বলো না ওদের!এক একটা মিনিট এক এক ঘন্টা যেন! কলকাতা বিমানবন্দরের সাথে কোনো সূত্রে যোগাযোগ আছে এমন প্রায় সব বন্ধুকে ফোন করা হয়ে গেছে। উড়ান-এর সময় এগিয়ে আসছে। অবশেষে ভিস্তারা-র কর্মীরা সফল হলেন ঐ প্লেন-য়েই নতুন টিকিট কাটায়। গচ্চা গেল একগাদা; তবু..., যেন প্রাণ আসলো ধড়ে!!ওয়েব চেক ইন করে দিয়েছে ওরা। হুড়মুড় করে ব্যাগপত্র জমা দিয়ে, সিকিউরিটি চেক করে, ঢুকে পড়লাম ভিতরে। বোর্ডিং শুরু হয় হয়। তা বলে মোমো না খেয়ে প্লেনে ওঠা যায় বুঝি! ওটা যে দমদম-এ এসে আকাশে ওড়ার আগে আমার অবশ্যপালনীয় মঙ্গলাচরণ! অতএব ওয়াও মোমো-র কাউন্টারে হামলে পড়লাম সবাই। কাউন্টার-বর্তিনী জানালেন ছপ্লেট ফ্রায়েড চিকেন মোমো পাকাতে বিশ মিনিট সময় দিতে হবে। আপাতত তৈরী আছে এক প্লেট। কিছু পরোয়া নেহি! ঐ এক প্লেটই ছোঁ মেরে তুলে নিয়ে একটা করে মোমো দিয়ে মুখশুদ্ধি করে নিয়ে দে দৌড় বোর্ডিং লাইনের দিকে। তবে তার মধ্যেই পাশের বইয়ের দোকান থেকে রিডার্স ডাইজেস্ট আর আউটলুক ট্র্যাভেলার পত্রিকার সাম্প্রতিকতম সংখ্যাদুটি তুলে নিতে ভুল হয় নি।ভিস্তারা আমার বেশ পছন্দের বিমানসংস্থা। মাঝে তিন বছরের কোভিডকাল বাদ না সাধলে এতোদিনে এরা ইন্ডিগো-কে বেশ কড়া প্রতিদ্বন্দিতার মুখে ফেলে দিতো বলেই আমার বিশ্বাস। কালো চামড়ায় মোড়া মোটা গদীতে ডুবে গিয়ে পরবর্তী দুঘন্টায় দিল্লী পাড়ি দিলাম বইয়ের পাতায় চোখ রেখে। রসনাতৃপ্তির আয়োজনও নেহাত মন্দ ছিল না। তবে দিল্লিতে নেমে মাত্র মিনিট পঁয়তাল্লিশের ব্যবধানে অমৃতসর উড়ান ধরার জন্য যা ছুটতে হোলো টার্মিনাল থ্রি-র অন্তহীন অলিন্দ বেয়ে, সে আর বলার নয়! তবে ভিস্তারা-র গ্রাউন্ডস্টাফ প্রায় পরমপ্রভু-প্রেরিত মেষপালকের মতো সযত্নে আমাদের তাড়িয়ে নিয়ে গেলেন প্রার্থিত বিমান অভিমুখে। সেই পাগডি-অধ্যুষিত উড়ানে যেই না ঢোকা, গড়গড়িয়ে বিমানের দরজা গেল বন্ধ হয়ে; আবার আকাশচারী হলাম সবাই।একঘন্টার সংক্ষিপ্ত উড়ান; পবিত্রশহরগামী বলেই বোধ হয় খাবারটাও নিরামিষ দিল। মেজাজটা ঈষৎ খিঁচডে গেলেও বেশ নীচু দিয়ে ওড়ায় হরিয়ানা-পন্জাবের মাঠঘাট-সেচখাল-গ্রামগঞ্জ দেখতে দেখতে মন ভালো হয়ে গেল। বিমান অমৃতসরের মাটি ছুঁলো মসৃণভাবে।হিসেবমতো অমৃতসর পন্জাব-এর এক জেলাশহরমাত্র হলেও আন্তর্জাতিকস্তরে এর নিবিড় ধর্মীয়-সামাজিক-ঐতিহাসিক গুরুত্বের জন্য বিমানবন্দরটি বেশ জোরদার.. সুন্দর.. গাম্ভীর্যপূর্ণ। এখান থেকে বার্মিংহাম-গামী আন্তর্জাতিক উড়ান চালু হয়ে গেছিল ভারতীয় বিমান-ইতিহাসের একেবারে ঊষাকালেই। বহু নিয়মিত ও চার্টার্ড ফ্লাইটের সতত আনাগোনা এখানে। ভ্রমণসূচী ঠিকঠাক জায়গা দিয়েই শুরু করেছি আমরা।মালপত্র পেতে দেরী হোলো না। বাইরে বেরিয়ে ড্রাইভারকে ফোন করতেই মিনিট দশেকের মধ্যেই ইনোভা ক্রিস্টা নিয়ে এসে হাজির ঝাঁকড়াচুলো বেঁটেখাটো চেহারার ড্রাইভার গৌরব। ঝটপট গাড়িবোঝাই হয়ে রওনা দিলাম চল্লিশ কি.মি. দূরে আটারি-ওয়াগা সীমান্তের উদ্দেশে। ঘড়িতে তখন বিকেল সাড়ে তিনটে । ড. সুজন সরকার, বর্ধমান।

সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৩

ট্রেন্ডিং

খেলার দুনিয়া

কমনওয়েলথ গেমসের দলে নীরজ, তবে কি এখনও পুরোপুরি ফিট নন অলিম্পিক সোনাজয়ী তারকা?

চোট কাটিয়ে মাঠে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন ভারতের তারকা জ্যাভলিন নিক্ষেপক নীরজ চোপড়া। তাঁকে শর্তসাপেক্ষে কমনওয়েলথ গেমসের জন্য ঘোষিত ৩২ সদস্যের ভারতীয় অ্যাথলেটিক্স দলে রাখা হয়েছে। রবিবার দল ঘোষণা করেছে ভারতীয় অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশন। তবে নীরজকে শর্তসাপেক্ষে দলে রাখার সিদ্ধান্ত ঘিরে ক্রীড়ামহলে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। অনেকেরই কৌতূহল, অলিম্পিক সোনাজয়ী এই তারকা কি এখনও পুরোপুরি ফিট হয়ে উঠতে পারেননি?এবারের দলে রয়েছেন দেশের একাধিক তারকা অ্যাথলিট। সাম্প্রতিক সময়ে জাতীয় রেকর্ড নিয়ে আলোচনায় থাকা স্প্রিন্টার গুরিন্দরবীর সিং এবং অনিমেষ কুজুরের পাশাপাশি সুযোগ পেয়েছেন তেজস্বিন শঙ্কর, তাজিন্দরপাল সিং তুর এবং সর্বেশ কুশারের মতো অভিজ্ঞ ক্রীড়াবিদরাও।গত মে মাসে রাঁচিতে আয়োজিত ফেডারেশন কাপে বেশ কয়েকজন ভারতীয় অ্যাথলিট দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে কমনওয়েলথ গেমসের যোগ্যতা অর্জন করেন। তবে পুরুষদের চার গুণ একশো মিটার রিলে দলটি সুযোগ হাতছাড়া করে। বিশ্ব রিলে প্রতিযোগিতায় ব্যাটন বদলের সময় দুর্ঘটনার জেরে ভারতীয় দল অযোগ্য ঘোষিত হয়েছিল। যদিও পরে তারা ঘুরে দাঁড়িয়ে ভালো সময় করলেও শেষ পর্যন্ত যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি।জ্যাভলিন বিভাগে নির্ধারিত মান পূরণ করতে না পারা অ্যাথলিটদের জন্য গত ১৩ জুন জলন্ধরে অতিরিক্ত বাছাইপর্বের আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে রোহিত যাদব এবং যশবীর সিং নিজেদের সেরা পারফরম্যান্স করে যোগ্যতা অর্জন করেন। দুজনেই নির্ধারিত দূরত্বের বেশি জ্যাভলিন ছুড়ে নজর কাড়েন।ফেডারেশন সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্তমানে সুইজারল্যান্ডে চিকিৎসা ও পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছেন নীরজ। গত বছর দোহা ডায়মন্ড লিগে প্রথমবার নব্বই মিটারের গণ্ডি পেরনোর পর থেকেই তিনি পিঠের চোটে ভুগছিলেন। তবে ফেডারেশনের দাবি, নীরজ অনেকটাই সুস্থ হয়ে উঠেছেন এবং আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই প্রতিযোগিতায় ফিরতে পারেন।ফেডারেশনের আশা, কমনওয়েলথ গেমস শুরুর আগে নীরজ প্রয়োজনীয় প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে যোগ্যতার সব শর্ত পূরণ করতে পারবেন। তাই তাঁকে দলে রাখা হয়েছে শর্তসাপেক্ষে।এদিকে ট্রিপল জাম্পার সেলভা প্রভুকেও বিশেষ পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। সম্প্রতি তিনি একটি আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় সোনা জিতে নির্ধারিত যোগ্যতা মান অতিক্রম করেছেন। ফলে তাঁকেও নিয়ে আশাবাদী ভারতীয় অ্যাথলেটিক্স মহল।এখন সকলের নজর কমনওয়েলথ গেমসের দিকে। নীরজ চোপড়া কত দ্রুত প্রতিযোগিতায় ফিরতে পারেন এবং ভারতীয় অ্যাথলিটরা কতটা সফল হন, সেটাই দেখার।

জুন ১৪, ২০২৬
কলকাতা

‘ওনার কাছ থেকে কোনও উপহার চাই না’, মমতার দেওয়া গয়না ফিরিয়ে দেওয়ার ঘোষণা সাংসদপুত্রের

তৃণমূলের অন্দরের রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেই নতুন বিতর্ক সামনে এল। তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দেওয়া সোনার গয়না ও পুজোর উপহার ফেরানোর সিদ্ধান্তের কথা প্রকাশ্যে জানালেন সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের ছেলে বৈদ্যনাথ ঘোষ দস্তিদার। সামাজিক মাধ্যমে করা এক পোস্টে তিনি জানান, বিয়ের সময় তাঁর স্ত্রীকে দেওয়া সোনার হার এবং তাঁকে দেওয়া পুজোর পোশাক ফিরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাঁরা।বৈদ্যনাথ তাঁর পোস্টে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও উল্লেখ করেন। তাঁর দাবি, ব্যক্তিগত কিছু কারণেই এই উপহারগুলি ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি লেখেন, এই সৌজন্যের জন্য তিনি কৃতজ্ঞ হলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে উপহারগুলি আর নিজেদের কাছে রাখতে চান না।ছেলের এই সিদ্ধান্তকে প্রকাশ্যে সমর্থন করেছেন কাকলি ঘোষ দস্তিদারও। সামাজিক মাধ্যমে তিনি লিখেছেন, ছেলে ও পুত্রবধূর সিদ্ধান্তে তিনি গর্বিত।রাজনৈতিক মহলের মতে, এই ঘটনার নেপথ্যে রয়েছে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব। কাকলি ঘোষ দস্তিদার দীর্ঘদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে তাঁদের সম্পর্কের অবনতি প্রকাশ্যে এসেছে। রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তনের পর থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে দূরত্ব বাড়তে থাকে বলে মনে করা হচ্ছে।কিছু দিন আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নাম না করে এক সাংসদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছিলেন যে, তিনি নিজের ছেলের জন্য দলের টিকিট চেয়েছিলেন। সেই দাবি পূরণ না হওয়ায় তিনি অন্য রাজনৈতিক শিবিরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়িয়েছেন বলেও ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। পরে দলের আরও কয়েকজন নেতার মুখেও একই ধরনের বক্তব্য শোনা যায়। এই মন্তব্যেই ক্ষুব্ধ হয়েছেন বৈদ্যনাথ, এমনটাই মনে করা হচ্ছে।সামাজিক মাধ্যমে তিনি আরও জানান, খুব শীঘ্রই কালীঘাটে গিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে ওই উপহারগুলি ফেরত দিয়ে আসবেন। এমনকি সোনার হার দীর্ঘদিন তাঁদের কাছে থাকার কারণে যদি কোনও অতিরিক্ত অর্থ বা সুদ দেওয়ার প্রয়োজন হয়, তাতেও তিনি প্রস্তুত বলে দাবি করেছেন।এখানেই থামেননি বৈদ্যনাথ। তাঁর অভিযোগ, পরিবারকে নিয়ে কটূক্তি করা হয়েছে। সেই কারণে সোমবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং দলের দুই সাংসদের বিরুদ্ধে আইনি নোটিস পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে মন্তব্য প্রত্যাহার করে ক্ষমা না চাইলে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার কথাও জানিয়েছেন।এই ঘটনার পর রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। তৃণমূলের অন্দরের বিরোধ এবং সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেদিকেই নজর সকলের।

জুন ১৪, ২০২৬
রাজ্য

কলকাতা পুরসভায় শুভেন্দুর বড় কর্মসূচি, আমন্ত্রণ পেলেন তৃণমূল-বাম-কংগ্রেসের প্রাক্তন কাউন্সিলররাও

সোমবার কলকাতা পুরসভায় বিশেষ কর্মসূচিতে যোগ দিতে যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর হাত ধরেই মহানগর জুড়ে শুরু হতে চলেছে স্বচ্ছতাকে স্বাগত শীর্ষক বিশেষ সাফাই অভিযান। এই কর্মসূচিকে ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এই অনুষ্ঠানে শুধু শাসক দলের প্রতিনিধিরাই নন, আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে তৃণমূল, বামফ্রন্ট, কংগ্রেস এবং বিজেপি-সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সদ্য প্রাক্তন কাউন্সিলরদেরও। পাশাপাশি কলকাতার সমস্ত বিজেপি ও তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়কদেরও অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।রাজ্যের প্রশাসনিক বৈঠকে বিরোধী দলের বিধায়ক ও সাংসদদের আমন্ত্রণ জানানোর রীতি আগেও দেখা গিয়েছে। তবে কলকাতা পুরসভার সদ্য প্রাক্তন কাউন্সিলরদের এভাবে আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানানোর ঘটনা এই প্রথম বলে মনে করা হচ্ছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এর মাধ্যমে সৌজন্য ও সহযোগিতার বার্তা দিতে চেয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।সূত্রের খবর, প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিম, দেবাশিস কুমার, অসীম বসু-সহ পুরসভার একাধিক প্রাক্তন মেয়র পারিষদ এই কর্মসূচিতে উপস্থিত থাকতে পারেন। যদিও ফিরহাদ হাকিমের পদত্যাগের পর বিকল্প মেয়র নির্বাচনের প্রক্রিয়ায় যাঁরা সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছিলেন, তাঁদের অনেকেই এই অনুষ্ঠানে যোগ নাও দিতে পারেন বলে জানা গিয়েছে।উল্লেখ্য, আগামী ২১ জুন রাজ্যে বিশ্ব যোগ দিবস উপলক্ষে একটি বড় কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। রেড রোডের মূল অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার কথা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির। তার আগে কলকাতাকে আরও পরিচ্ছন্ন করে তুলতে শহর জুড়ে ছয় দিনের বিশেষ সাফাই অভিযান শুরু করছে প্রশাসন।এই অভিযানের উদ্বোধন করবেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। অনুষ্ঠানকে ঘিরে গত কয়েক দিন ধরেই কলকাতা পুরসভায় ব্যাপক প্রস্তুতি চলছে। রবিবার ছুটির দিন হলেও পুরসভার কমিশনার ও প্রশাসক স্মিতা পাণ্ডে-সহ প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ আধিকারিক পুরভবনে উপস্থিত থেকে অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি তদারকি করেছেন বলে সূত্রের খবর।

জুন ১৪, ২০২৬
রাজ্য

অন্নপূর্ণার টাকা মিলেছে, এবার কবে যুবশক্তি? মালদহ থেকে বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর থেকেই সাধারণ মানুষের মধ্যে একাধিক সরকারি প্রকল্প নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছিল। বিশেষ করে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার, যুবশক্তি এবং বার্ধক্য ভাতা প্রকল্প আদৌ চালু হবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল বিভিন্ন মহলে। এর মধ্যেই অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকা ইতিমধ্যেই বহু উপভোক্তার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পৌঁছে গিয়েছে। তবে যুবশক্তি ও বার্ধক্য ভাতা প্রকল্প এখনও চালু না হওয়ায় অপেক্ষায় রয়েছেন অনেকেই।এই পরিস্থিতিতে বিষয়টি নিয়ে মুখ খুললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শনিবার মালদহের এক সভা থেকে তিনি জানান, অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা ইতিমধ্যেই উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে জমা পড়তে শুরু করেছে। তাঁর দাবি, প্রায় ৫০ লক্ষ মানুষ ইতিমধ্যেই এই প্রকল্পের সুবিধা পেয়েছেন।এরপর যুবশক্তি ও বার্ধক্য ভাতা প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এই দুই প্রকল্পের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলেছে। খুব শীঘ্রই বেকার ভাতা চালু করা হবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন। তাঁর এই বক্তব্যের পর প্রকল্প দুটির সুবিধাপ্রার্থীদের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে।উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের বাজেটে বেকার যুবক-যুবতীদের জন্য যুবসাথী প্রকল্প চালু করা হয়েছিল। সেই প্রকল্পের আওতায় প্রতি মাসে দেড় হাজার টাকা করে দেওয়া হত। পরে নির্বাচনের আগে বিজেপি প্রতিশ্রুতি দেয়, ক্ষমতায় এলে যুবশক্তি প্রকল্পের মাধ্যমে বেকারদের মাসে তিন হাজার টাকা করে দেওয়া হবে। পাশাপাশি যাঁরা বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তাঁদের এককালীন ১৫ হাজার টাকা দেওয়ার কথাও ঘোষণা করা হয়েছিল।সরকারি সূত্রে ইঙ্গিত, প্রকল্প চালুর আগে উপভোক্তাদের তালিকা খতিয়ে দেখা হবে। যোগ্য ব্যক্তিরাই যাতে সুবিধা পান, তা নিশ্চিত করতেই যাচাই প্রক্রিয়ার উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ফলে যুবশক্তি প্রকল্প চালু হওয়ার আগে আবেদন ও যাচাই সংক্রান্ত নিয়মাবলি নিয়েও শীঘ্রই বিস্তারিত ঘোষণা আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

জুন ১৪, ২০২৬
দেশ

স্পিকারের দরজায় অভিষেকের চিঠি! বিদ্রোহী সাংসদদের বড় পরিকল্পনার আগেই দিল্লিতে তৃণমূলের পাল্টা চাল

দিল্লিতে তৃণমূলের অন্দরের রাজনৈতিক টানাপোড়েন আরও তীব্র হল। সূত্রের খবর, আজই লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে আলাদা ব্লক গঠনের আবেদন জানাতে পারেন তৃণমূলের একাংশ সাংসদ। তার আগেই দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি চিঠি নিয়ে স্পিকারের দিল্লির বাসভবনে পৌঁছলেন তৃণমূল সাংসদ সাগরিকা ঘোষ ও কীর্তি আজাদ।জানা গিয়েছে, তিন পাতার ওই চিঠি আগেই ই-মেলের মাধ্যমে স্পিকারের কাছে পাঠানো হয়েছিল। রবিবার সাগরিকা ও কীর্তি সরাসরি স্পিকারের হাতে সেই চিঠি তুলে দেন। চিঠিতে অভিষেকের আবেদন, তৃণমূলের কোনও বিদ্রোহী গোষ্ঠীকে যেন আলাদা স্বীকৃতি না দেওয়া হয়। তাঁর দাবি, এমন পদক্ষেপের কোনও সাংবিধানিক বা আইনি ভিত্তি নেই।স্পিকারের সঙ্গে সাক্ষাতের পর কীর্তি আজাদ বলেন, সুপ্রিম কোর্টের সাংবিধানিক বেঞ্চের রায়ে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, কোনও রাজনৈতিক দলের মধ্যে বিভাজনকে স্বীকৃতি দেওয়া যায় না। মহারাষ্ট্রের রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেওয়া প্রয়োজন। তাঁর আশা, আইন ও সংবিধান মেনেই সিদ্ধান্ত নেবেন স্পিকার।অন্যদিকে, সাগরিকা ঘোষের বক্তব্য, লোকসভার মধ্যে তৃণমূলের সাংসদদের নিয়ে আলাদা ব্লক তৈরির উদ্যোগ সম্পূর্ণ অসাংবিধানিক। এর কোনও আইনি বৈধতা নেই বলেও দাবি করেন তিনি।এ দিন দিল্লিতে একজোট হন বিদ্রোহী শিবিরের সাংসদরা। সূত্রের দাবি, প্রায় কুড়ি জন সাংসদ কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও বিজেপি নেতা ভূপেন্দ্র যাদবের বাসভবনে বৈঠক করেন। এরপর তাঁদের স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে দেখা করার কথা রয়েছে। রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা, তাঁরা আলাদা ব্লক গঠন করে এনডিএকে সমর্থনের আবেদন জানাতে পারেন।এই পরিস্থিতিতেই স্পিকারের কাছে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বক্তব্য, তৃণমূলের কোনও বিদ্রোহী গোষ্ঠীকে স্বীকৃতি দেওয়া হলে তা আইন ও সংবিধানের পরিপন্থী হবে। ফলে স্পিকার কী সিদ্ধান্ত নেন, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

জুন ১৪, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

মাঠে নামেননি নেইমার, তবু ব্রাজিলের গোলের নেপথ্যে তিনিই! ভাইরাল ভিডিও ঘিরে তুমুল চর্চা

চোটের কারণে মরক্কোর বিরুদ্ধে ব্রাজিলের প্রথম ম্যাচে খেলতে পারেননি নেইমার। শুধু তাই নয়, তিনি রিজার্ভ বেঞ্চেও ছিলেন না। তবু ম্যাচের অন্যতম আলোচিত চরিত্র হয়ে উঠেছেন ব্রাজিলের এই তারকা ফুটবলার। একটি ভাইরাল ভিডিও ঘিরে এখন ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে তুমুল আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকের দাবি, মাঠে না নেমেও ব্রাজিলের গুরুত্বপূর্ণ গোলের নেপথ্যে ছিলেন নেইমারই।বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে ব্রাজিলকে খুব একটা ছন্দে দেখা যায়নি। ম্যাচের ২১ মিনিটে ইসমাইল সাইবারির গোলে এগিয়ে যায় মরক্কো। পিছিয়ে পড়ার পর ব্রাজিল চাপে পড়ে গেলেও ৩২ মিনিটে সমতা ফেরান ভিনিসিয়াস জুনিয়র। বাঁদিক থেকে ব্রুনো গিমারেসের পাস পেয়ে বক্সে ঢুকে দুর্দান্ত শটে বল জালে জড়িয়ে দেন তিনি। গোলরক্ষক ইয়াসির বোনোর কিছুই করার ছিল না।তবে গোলের পর থেকেই আলোচনার কেন্দ্রে উঠে আসে একটি ভিডিও। সেখানে দেখা যায়, প্রথমার্ধে জলপান বিরতির সময় মাঠের ধারে এসে ভিনিসিয়াসের সঙ্গে কথা বলছেন নেইমার। কিছুক্ষণ পরে ব্রুনো গিমারেসকেও ডেকে পরামর্শ দিতে দেখা যায় তাঁকে। ভিডিও দেখে অনেকের ধারণা, ভিনিসিয়াসকে আরও বেশি করে বক্সের ভিতরে ঢুকে খেলার পরামর্শ দিয়েছিলেন নেইমার। কারণ ম্যাচের শুরুতে ব্রাজিলের এই ফরোয়ার্ডকে তুলনামূলকভাবে অনেকটাই বাইরে খেলতে দেখা গিয়েছিল।মজার বিষয় হল, সেই কথোপকথনের কিছুক্ষণ পরেই গিমারেসের পাস থেকে গোল করেন ভিনিসিয়াস। আর সেই কারণেই সামাজিক মাধ্যমে অনেক সমর্থক দাবি করছেন, মাঠের বাইরে থেকেও ব্রাজিলের আক্রমণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন নেইমার।যদিও এই ম্যাচে খেলেননি তিনি, তবে পরের ম্যাচে নেইমারকে দেখা যেতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছে। যদিও তিনি প্রথম একাদশে থাকবেন কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।মরক্কোর বিরুদ্ধে ব্রাজিলের পারফরম্যান্স নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অনেক সমর্থকের মতে, দলটিকে একেবারেই চেনা ব্রাজিলের মতো লাগেনি। রাফিনহাদের খেলায় ধার ও গতি দুটোরই অভাব ছিল। অন্যদিকে মরক্কো আবারও প্রমাণ করেছে, সাম্প্রতিক সময়ে কেন তারা বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী ফুটবল দল হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছে।

জুন ১৪, ২০২৬
কলকাতা

ভবানী ভবনে মুখোমুখি অভিষেক-কুণাল! সাড়ে তিন ঘণ্টার জেরা ঘিরে বাড়ছে রহস্য

সই জাল কাণ্ডের তদন্তে নতুন মোড়। রবিবার তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং দলের নেতা কুণাল ঘোষকে মুখোমুখি বসিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করল সিআইডি। প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা জেরার পর ভবানী ভবন থেকে বেরিয়ে আসেন কুণাল ঘোষ। বেরিয়ে তিনি জানান, তদন্তে তিনি সব ধরনের সহযোগিতা করেছেন। তবে জিজ্ঞাসাবাদ নিয়ে এর বেশি কিছু বলতে চাননি।অন্যদিকে, রাত পর্যন্ত ভবানী ভবনেই ছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সূত্রের খবর, টানা প্রায় আট ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন তদন্তকারীরা। এই ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে।উল্লেখ্য, এই মামলায় গত বৃহস্পতিবারও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে দীর্ঘ সময় ধরে জেরা করেছিল সিআইডি। তদন্তকারী সূত্রে খবর, সেই জিজ্ঞাসাবাদে একাধিক প্রশ্নের সন্তোষজনক উত্তর মেলেনি বলেই রবিবার তাঁকে ফের তলব করা হয়। দুপুর বারোটার মধ্যে হাজিরার নির্দেশ থাকলেও নির্ধারিত সময়ের আগেই ভবানী ভবনে পৌঁছে যান অভিষেক। এরপর বিভিন্ন নথি সামনে রেখে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন তদন্তকারীরা।দুপুর সাড়ে তিনটার কিছু পরে ভবানী ভবনে পৌঁছন কুণাল ঘোষ। সূত্রের দাবি, প্রথমে দুজনকে আলাদা করে জেরা করা হয়। পরে অভিষেক ও কুণালকে মুখোমুখি বসিয়ে একাধিক বিষয়ে প্রশ্ন করেন সিআইডি আধিকারিকরা। সেই জেরাই চলে দীর্ঘ সময় ধরে।জিজ্ঞাসাবাদ শেষ করে ভবানী ভবন থেকে বেরিয়ে কুণাল ঘোষ সরাসরি কালীঘাটে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে যান। যদিও সেখানে যাওয়ার কারণ নিয়ে তিনি প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করেননি।সই জাল কাণ্ডকে ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। এই মামলায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে অন্তর্বর্তী সুরক্ষা দিয়েছে কলকাতা হাই কোর্ট। এর আগে তদন্তের সূত্রে সিআইডি আধিকারিকরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনের পাশের দফতরেও তল্লাশি চালিয়েছিলেন। ফলে এই মামলার তদন্ত কোন দিকে এগোয়, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

জুন ১৪, ২০২৬
দেশ

দিল্লিতে বড় শক্তিপ্রদর্শন! ওম বিড়লার বাড়িতে ১৭ সাংসদ, তৃণমূলের অন্দরে বাড়ছে জল্পনা

দিল্লির রাজনৈতিক পরিস্থিতি রবিবার আরও নাটকীয় হয়ে উঠল। বিকেলে তৃণমূলের দুই সাংসদ সাগরিকা ঘোষ ও কীর্তি আজাদ লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার বাসভবন থেকে বেরিয়ে আসার কিছুক্ষণ পরই সেখানে পৌঁছন বিক্ষুব্ধ সাংসদরা। পরে সামনে আসে একটি ছবি, যেখানে তৃণমূলের ১৭ জন বিক্ষুব্ধ সাংসদকে একসঙ্গে দেখা যায়। তাঁদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবেও।সূত্রের খবর, সোমবার লোকসভার স্পিকারের কাছে নতুন ব্লক গঠনের দাবি জানাতে পারেন বিক্ষুব্ধ সাংসদরা। তাঁদের দাবি, তৃণমূলের দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি সাংসদ তাঁদের পাশে রয়েছেন। সেই দাবিকে সামনে রেখেই তাঁরা নতুন রাজনৈতিক পদক্ষেপের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জল্পনা রাজনৈতিক মহলে।রবিবার সকাল থেকেই একের পর এক সাংসদ দিল্লিতে পৌঁছতে শুরু করেন। তৃণমূলের প্রবীণ সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, বিক্ষুব্ধ সাংসদরা এখনও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিজেদের উপদেষ্টা হিসেবে দেখতে চান। সেই কারণেই তিনি তাঁদের সঙ্গে রয়েছেন বলে জানান।অন্যদিকে, বিদ্রোহী শিবির স্পিকারের বাসভবনে পৌঁছনোর আগেই সেখানে যান তৃণমূলের লোকসভার সাংসদ কীর্তি আজাদ এবং রাজ্যসভার সাংসদ সাগরিকা ঘোষ। যদিও স্পিকারের সঙ্গে তাঁদের সরাসরি সাক্ষাৎ হয়নি। তাঁরা স্পিকারের দফতরে তৃণমূলের লোকসভার নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি চিঠি জমা দেন। সেই চিঠিতে দাবি করা হয়, লোকসভায় একটি রাজনৈতিক দলের দুটি পৃথক ব্লক থাকতে পারে না।এর কিছুক্ষণ পরই বিক্ষুব্ধ সাংসদরা স্পিকারের বাসভবনে পৌঁছন। যে ছবি সামনে এসেছে, সেখানে কাকলি ঘোষ দস্তিদার, শতাব্দী রায়, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, সায়নী ঘোষ, মালা রায়, অরূপ চক্রবর্তী, দীপক অধিকারী, ইউসুফ পাঠান, জুন মালিয়া, প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়, শর্মিলা সরকার এবং মিতালি বাগ-সহ মোট ১৭ জন সাংসদকে দেখা গিয়েছে। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবে।এই ছবি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই তৃণমূলের অন্দরের সমীকরণ নিয়ে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। এখন সকলের নজর সোমবারের দিকে। স্পিকারের কাছে বিক্ষুব্ধ সাংসদরা কী দাবি জানান এবং তার পরবর্তী রাজনৈতিক প্রভাব কী হয়, তা নিয়েই তুঙ্গে আলোচনা।

জুন ১৪, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal