• ২ আশ্বিন ১৪৩৩, সোমবার ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

AFC

খেলার দুনিয়া

২০ বছর পর এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপ-এ ভারত, বাংলাদেশকে ৩-০ গোলে হারিয়ে ইতিহাস গড়ল ব্লু কল্টস

তাসখন্দ: দীর্ঘ ২০ বছরের অপেক্ষার অবসান। বাংলাদেশকে ৩-০ গোলে হারিয়ে এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপ (AFC U20 Asian Cup)-এর মূলপর্বে জায়গা করে নিল ভারত। রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) তাসখন্দে গ্রুপ বি-র শেষ ম্যাচে দাপুটে জয় তুলে নিয়ে যোগ্যতা অর্জন করল ভারতের অনূর্ধ্ব-২০ ফুটবল দল।বাংলাদেশের বিরুদ্ধে জয়ের ফলে তিন ম্যাচে ভারতের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৬ পয়েন্ট। তবে ম্যাচ জেতার পরও সরাসরি যোগ্যতা নিশ্চিত হয়নি ভারতের। অপেক্ষা করতে হয়েছিল গ্রুপের অপর ম্যাচে সিরিয়া বনাম উজবেকিস্তানের ফলাফলের জন্য।শেষ পর্যন্ত উজবেকিস্তানের কাছে সিরিয়া ০-৩ গোলে হেরে যাওয়ায় গ্রুপ বি-তে দ্বিতীয় স্থানে শেষ করে ভারত। আটটি গ্রুপের মধ্যে সেরা সাত রানার্স-আপ দলের একটি হিসেবে এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপ-এর মূলপর্বে খেলার ছাড়পত্র পেয়ে যায় ব্লু কল্টস।ভারত শেষবার এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপ-এর মূলপর্বে খেলেছিল ২০০৬ সালে। অর্থাৎ দুই দশক পর ফের এশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যুব ফুটবল প্রতিযোগিতার মূলপর্বে জায়গা করে নিল ভারতীয় দল।বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ভারতের হয়ে প্রথম গোলটি করেন ড্যানি মেইতেই লাইশ্রাম। ২৫ মিনিটে তাঁর গোলে এগিয়ে যায় ভারত। এরপর ম্যাচের ৬০ মিনিটে অসাধারণ অ্যাক্রোবেটিক ফিনিশে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন বিশাল যাদব। পরিবর্ত হিসেবে নামা মো. আরবাশ ৭৯ মিনিটে শক্তিশালী শটে তৃতীয় গোলটি করে ভারতের জয় নিশ্চিত করেন।গ্রুপ বি-তে ৯ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে থেকে মূলপর্বে উঠেছে উজবেকিস্তান। তিন পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে শেষ করেছে সিরিয়া। অন্যদিকে তিন ম্যাচেই হেরে গ্রুপের তলানিতে থাকা বাংলাদেশকে Development Phase-এ নেমে যেতে হয়েছে।ভারতের এই যোগ্যতা অর্জনের পথে শুরুটাও হয়েছিল জয় দিয়ে। ৩১ আগস্ট গ্রুপ বি-র প্রথম ম্যাচে তাসখন্দের দোস্তলিক স্টেডিয়ামে সিরিয়াকে ১-০ গোলে হারিয়েছিল ভারত। তবে দ্বিতীয় ম্যাচে ৩ সেপ্টেম্বর উজবেকিস্তানের কাছে ০-৪ গোলে পরাজিত হয় তারা। ফলে শেষ ম্যাচে বাংলাদেশকে হারানোর পাশাপাশি সিরিয়া যাতে উজবেকিস্তানকে হারাতে না পারে, সেই ফলাফলের দিকেও তাকিয়ে থাকতে হয়েছিল ভারতকে।শেষ পর্যন্ত সেই সমীকরণ মিলে যায়। আর যোগ্যতা নিশ্চিত হওয়ার পর উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠেন ভারতীয় দলের তরুণ ফুটবলাররা। দলের হোটেলের বাইরে নাচ-গানে ঐতিহাসিক সাফল্য উদযাপন করেন তাঁরা। ভারতীয় ফুটবলের নিয়ামক সংস্থা AIFF-ও সোশ্যাল মিডিয়ায় দলের উদযাপনের ভিডিও প্রকাশ করে।এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপ-এর মূলপর্ব অনুষ্ঠিত হবে চিনে। আগামী ২৪ মার্চ থেকে ১০ এপ্রিল, ২০২৭ পর্যন্ত চলবে এই প্রতিযোগিতা। দুই দশক পর মূলপর্বে ফিরে ভারতের তরুণ ফুটবলাররা এবার এশিয়ার সেরা দলগুলির বিরুদ্ধে নিজেদের মেলে ধরার সুযোগ পাবেন।

সেপ্টেম্বর ০৭, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

‌মাজিয়াকে উড়িয়ে এএফসি কাপের আঞ্চলিক পর্বের সেমিফাইনালে এটিকে মোহনবাগান

এএফসি কাপের প্রথম ম্যাচে গোকুলাম এফসির কাছে হারটা যে দুর্ঘটনা ছিল, প্রমাণ হয়ে গেল। প্রথম ম্যাচে হারের পর দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন। বাংলাদেশের বসুন্ধরা কিংসের বিরুদ্ধে ৪২ ব্যবধানে জয়। গ্রুপ লিগের শেষ ম্যাচে মালদ্বীপের মাজিয়া স্পোর্টস অ্যান্ড রিক্রিয়েশন ক্লাবকে ৫২ ব্যবধানে উড়িয়ে এএফসি কাপের আঞ্চলিক পর্বের সেমিফাইনালে পৌঁছে গেল এটিকে মোহনবাগান। জোড়া গোল করে জয়ের নায়ক জনি কাউকো। ১টি করে গোল করেন রয় কৃষ্ণা, শুভাশিস বোস ও কার্ল ম্যাকহিউ।এটিকে মোহনবাগান সেমিফাইনালে জায়গা করে নিতে পারবে কিনা নির্ভর করছিল এদিন গোকুলাম এফসি ও বাংলাদেশের বসুন্ধরা কিংসের ম্যাচের ওপর। গোকুলাম জিতলে এটিকে মোহনবাগান ও মাজিয়া ম্যাচ নিয়মরক্ষার ম্যাচে পরিণত হত। কিন্তু প্রথম ম্যাচে বসুন্ধরা কিংস ২১ ব্যবধানে জিতে যাওয়ায় ড্র করলেও চলত এটিকে মোহনবাগানের। কিন্তু মাজিয়াকে উড়িয়েই সেমিফাইনালে জায়গা করে নিল।এদিন ম্যাচে ২৬ মিনিটে এটিকে মোহনবাগানের হয়ে প্রথম গোলটি করেন জনি কাউকো। এই গোলের ১১ মিনিটের মধ্যে দ্বিতীয় গোলটি করেন তিনি। ২০ গোলে এগিয়ে যাওয়া এটিকে মোহনবাগানের বিরুদ্ধে মাজিয়ার হয়ে ব্যবধান কমান টানা। দ্বিতীয়ার্ধে ৫৬ মিনিটে রয় কৃষ্ণ গোল করে এটিকে মোহনবাগানের পক্ষে লিড ডবল করেন। দুমিনিটের মধ্যে চতুর্থ গোলটি করেন শুভাশিস বসু ৫৮ মিনিটে। ৭১ মিনিটে কার্ল ম্যাকহিউ পঞ্চম গোলটি করেন এটিকে মোহনবাগানের হয়ে। ৭৩ মিনিটে টানা আরও একটি গোল মাজিয়ার হয়ে করলেও কোনও লাভ হয়নি মলদ্বীপের দলটির। শেষ পর্যন্ত এটিকে মোহনবাগানের পক্ষে ৫২ গোলেই শেষ হয় ম্যাচ।

মে ২৪, ২০২২
খেলার দুনিয়া

বসুন্ধরার কোচ অস্কারেরও তাচ্ছিল্য!‌ জবাব দিতে পারবে মোহনবাগান?‌

আইএসএলে ব্যর্থতার পর এএফসি কাপকেই পাখির চোখ করেছিলেন এটিকে মোহনবাগান কোচ জুয়ান ফেরান্দো। আঞ্চলিক পর্বের নক আউটে ওঠার তাঁর সেই স্বপ্ন এখন বিশ বাঁও জলে। নক আউট পর্বে যাওয়ার স্বপ্নে জোরালো ধাক্কা দিয়ে গেছে গোকুলাম এফসি। গ্রুপ লিগের প্রথম ম্যাচে কেরালার এই দলের কাছে ৪২ ব্যবধানে হেরে গভীর সঙ্কটে পড়ে গেছে এটিকে মোহনবাগান। শনিবার গ্রুপ লিগের দ্বিতীয় ম্যাচে সামনে বাংলাদেশের বসুন্ধরা কিংস। পরের পর্বে যাওয়ার আশা জিইয়ে রাখতে গেলে জেতা ছাড়া সামনে রাস্তা নেই সবুজমেরুণের সামনে। গ্রুপ লিগে নিজেদের প্রথম ম্যাচে মালদ্বীপের মাজিয়া স্পোর্টসকে হারিয়ে ভাল জায়গায় রয়েছে বসুন্ধরা কিংস। বাংলাদেশের এই দলের বিরুদ্ধে জেতাটা কিন্তু সহজ হবে না এটিকে মোহনবাগানের কাছে। দুদলের মধ্যে এএফসি কাপের আগের সাক্ষাৎকার ড্র হয়েছিল। এবার অনেকটাই শক্তি বাড়িয়ে এসেছে বসুন্ধরা কিংস। বেশ কয়েকজন নতুন বিদেশি সই করিয়েছে। দুর্দান্ত ফর্মে রয়েছেন ব্রাজিলিয়ান স্ট্রাইকার। বসুন্ধরা সিংসের বিরুদ্ধে মাঠে নামার আগে গোকুলাম ম্যাচ মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলতে চাইছে সবুজমেরুণ শিবির। বসুন্ধরা কিংস ম্যাচে নতুন করে শুরু করতে চায়। বসুন্ধরা কিংসের বিরুদ্ধে মাঠে নামার আগে জুয়ান ফেরান্দো বলেন, গোকুলাম ম্যাচে হারের জন্য কোনও অজুহাত দিতে চাই না। প্রথমার্ধে যদি গোলের সুযোগ কাজে লাগাতে পারতাম, তাহলে ফল অন্যরকম হত। বসুন্ধরা কিংসের বিরুদ্ধে নতুন লড়াই। আমাদের এখনও ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ আছে। ফুটবলারদের ওপর ভরসা রাখছি। আশা করছি আগের ম্যাচের মতো ভুল করবে না। ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য ওরা তৈরি। তবে আগের ম্যাচে তিরির চোট পেয়ে উঠে যাওয়াটা প্রভাব ফেলেছিল বলে জানিয়েছেন ফেরান্দো। তিনি বলেন, দলের গুরুত্বপূর্ণ ফুটবলার চোট পেয়ে উঠে গেলে তার প্রভাব পড়ে। আমাদের খেলাতেও পড়েছিল। বসুন্ধরার বিরুদ্ধে তিরি না থাকায় কার্ল ম্যাকহিউকে রক্ষণে খেলানোর কথা ভাবছেন জুয়ান ফেরান্দো। আশুতোষ মেহতার মতো ফুটবলারকে নামানোর মতো ভুল আর করতে চান না সবুজমেরুণ কোচ। দীপক টাংরিকে শুরু থেকে নামাতে পারেন। হুগো বোমাসের খেলার সম্ভাবনা প্রবল। আসলে বসুন্ধরার বিরুদ্ধে ডু অর ডাই ম্যাচে কোনও রকম ত্রুটি রাখতে চাইছেন না জুয়ান ফেরান্দো। এদিকে গোকুলাম এফসি কোচ আলবার্তোর পর বসুন্ধরা কিংস কোচ অস্কার ব্রুজোঁর মুখেও এটিকে মোহনবাগানকে নিয়ে তাচ্ছিল্য। জুয়ান ফেরান্দোর দলের বিরুদ্ধে মাঠে নামার আগে তিনি বলেন, এটিকে মোহনবাগানকে নিয়ে চিন্তিত নই। কত গোল জিতব, সেটা নিয়েই ভাবছি। জুয়ান ফেরান্দোর দলের তুলনায় হাবাসের দল অনেক বেশি ভাল ফুটবল খেলেছিল। এই দলটার মধ্যে কোনও ছন্দ নেই। আমার কাছে বেশি গুরুত্ব গ্রুপ লিগের শেষ ম্যাচ গোকুলাম। এখন দেখার, সবুজমেরুণ ব্রিগেড এই তাচ্ছিল্যের জবাব দিতে পারে কিনা।

মে ২০, ২০২২
খেলার দুনিয়া

সামনে গোকুলাম, রয় কৃষ্ণাদের নিয়ে কেন স্ট্র‌্যাটেজি গোপন রাখলেন বাগান কোচ ফেরান্দো?‌

আইএসএলের লিগ পর্যায়ে দুরন্ত পারফরমেন্স করেও শেষরক্ষা হয়নি। সেমিফাইনাল থেকেই বিদায় নিতে হয়েছিল এটিকে মোহনবাগানকে। আইএসএল থেকে বিদায় নেওয়ার পর বাগান কোচ জুয়ান ফেরান্দো পাখির চোখ করেছিলেন এএফসি কাপকে। বুধবার গ্রুপ লিগে এটিকে মোহনবাগানের সামনে আই লিগ চ্যাম্পিয়ন গোকুলাম এফসি। জয় দিয়ে এবারের এএফসি কাপ অভিযান শুরু করতে মরিয়া সবুজমেরুণ শিবির। এটিকে মোহনবাগানের গ্রুপে গোকুলাম এফসি ছাড়াও রয়েছে বাংলাদেশের লিগ চ্যাম্পিয়ন বসুন্ধরা কিংস ও মালদ্বীপের ধিবোহী লিগ চ্যাম্পিয়ন মাজিয়া স্পোর্টস ক্লাব। দুটি দলই যথেষ্ট শক্তিশালী। তাই গোকুলাম এফসির বিরুদ্ধে গ্রুপ লিগের প্রথম ম্যাচে জয় তুলে নিয়ে আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে নিতে চায় এটিকে মোহনবাগান। গতবছর এএফসি কাপে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে পরের পর্বে উঠেছিল সবুজমেরুণ ব্রিগেড। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। এবছরও ডি গ্রুপে এটিকে মোহনবাগান ফেবারিট। তবে বিপক্ষ শিবিরকে হালকাভাবে নিতে মোটেই রাজি নন সবুজমেরুণ কোচ।গোকুলাম এফসির বিরুদ্ধে মাঠে নামার আগে জুয়ান ফেরান্দো বলেন, গ্রুপের তিনটি দলই নিজেদের দেশের লিগে চ্যাম্পিয়ন। সুতরাং হালকাভাবে নেওয়ার প্রশ্নই নেই। প্রত্যেকে চ্যালেঞ্জ জানাতে তৈরি। গ্রুপের তিনটি দলকেই সমান গুরুত্ব দিতে হবে। গোকুলাম এফসি খেলার মধ্যে রয়েছে। মাত্র কদিন আগেই আই লিগ জিতেছে। ফলে ওদের মনোবল তুঙ্গে রয়েছে। গোকুলামের আক্রমণ ও রক্ষণে দারুণ ভারসাম্য রয়েছে। ফলে লড়াই সহজ হবে না। আই লিগে একমাত্র শ্রীনিধি এফসির কাছে হেরেছিল গোকুলাম। ফলে বিপক্ষকে যথেষ্ট সমীহ করছেন জুয়ান। যদিও রয় কৃষ্ণারা নিজেরদের সেরা খেলা তুলে ধরলে জয় পেতে সমস্যা হবে না এটিকে মোহনবাগানের। কিছুদিন আগেই এএফসি কাপের প্রাথমিক পর্বে রয় কৃষ্ণাকে ছাড়াই শ্রীলঙ্কার ফাইভ স্টার ও বাংলাদেশের বসুন্ধরার বিরুদ্ধে দারুণ জয় তুলে নিয়েছিল এটিকে মোহনবাগান। এবার রয় কৃষ্ণাকে পাচ্ছেন জুয়ান ফেরান্দো। তাঁর সঙ্গে যোগ হয়েছেন কার্ল ম্যাকহিউ। ফলে অনেকটাই শক্তি বাড়িয়ে এবার মাঠে নামছে এটিকে মোহনবাগান। এছাড়া তিরি, জনি কাউকো, ডেভিড উইলিময়ামস, হুগো বোমাসরাও রয়েছেন। ৪ বিদেশিকে মাঠে নামানো যাবে। ৬ বিদেশির মধ্যে কোন ৪ বিদেশিকে প্রথম একাদশে রাখবেন, তা খোলসা করেননি জুয়ান ফেরান্দো। তিনটি ম্যাচে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে সব বিদেশিকেই মাঠে নামাতে চান।

মে ১৭, ২০২২
খেলার দুনিয়া

এএফসি কাপে এটিকে মোহনবাগানকে চরম সমস্যায় ফেলতে পারে এই ক্লাবটি

এবছর এএফসি কাপের মূলপর্বে এটিকে মোহনবাগানের সঙ্গে গ্রুপ ডিতে রয়েছে বাংলাদেশের প্রিমিয়ার লিগ চ্যাম্পিয়ন বসুন্ধরা কিংস, ধিবেহী প্রিমিয়ার লিগ চ্যাম্পিয়ন মালদ্বীপের মাজিয়া স্পোর্টস রিক্রিয়েশন ক্লাব এবং গতবছর আই লিগ চ্যাম্পিয়ন দল মাজিয়া। ১৮ মে থেকে কলকাতার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে শুরু হবে গ্রুপ ডির ম্যাচ। এই গ্রুপে এটিকে মোহনবাগানকে চরম সমস্যায় ফেলতে পারে বাংলাদেশের বসুন্ধরা কিংস। ২১ মে এটিকে মোহনবাগানের বিরুদ্ধে খেলবে বসুন্ধরা।গত মাসেই এএফসি কাপের প্লে অফে বাংলাদেশের বসুন্ধরা কিংসের বিরুদ্ধে মাঠে নেমেছিল এটিকে মোহনবাগান। সেই ম্যাচে দারুণ জয় তুলে নিয়েছিল জুয়ান ফেরান্দোর ছেলেরা। কিন্তু এএফসি কাপের মূলপর্বে গ্রুপ ডির ম্যাচে বসুন্ধরার বিরুদ্ধে এবার লড়াইটা সহজ হবে না। এবছর বাংলাদেশের প্রিমিয়ার লিগের শীর্ষে রয়েছে বসুন্ধরা কিংস। লিগে দুর্দান্ত পারফরমেন্স করছে অস্কার ব্রুজোনের ফুটবলাররা। এএফসি কাপের মূলপর্ব আপাতত তাদের পাখির চোখ। সেই লক্ষ্যে আবাসিক শিবির করে আধুনিক পরিকাঠামোর সুবিধা নিয়ে বিশেষ প্রস্তুতি সারছে বসুন্ধরা কিংস।এএফসি কাপের মূলপর্বে এটিকে মোহনবাগানের বিরুদ্ধে বসুন্ধরা কিংসের যে দল খেলেছিল, সেই দলে বেশ কয়েকটা পরিবর্তন করেছে। এএফসি কাপের জন্য গতমাসে বসুন্ধরাতে যোগ দিয়েছেন ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডার মিগুয়েল ফেরেইরা ও জাম্বিয়ার স্ট্রাইকার নুহা মারোং। এছাড়া কদিন আগেই বসুন্ধরা কিংস সই করিয়েছে ম্যাথু চিনোডোকে। বাংলাদেশ লিগে প্রথম পর্বে শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাবের হয়ে হ্যাটট্রিকসহ ৭ গোল করেছিলেন এই নাইজেরিয়ান স্ট্রাইকার। হাঁটুর চোটের জন্য মাঝে তিনি মাঠে নামতে পারেননি। চোট সারিয়ে ফিরলেও ধানমন্ডি তাঁকে আর দলে রাখেনি। এই নাইজেরিয়ান স্ট্রাইকার বসুন্ধরাতে যোগ দিয়েছেন।ইতিমধ্যেই বসুন্ধরার হয়ে দারুণ পারফর্ম করছেন ব্রাজিলীয় উইঙ্গার রবসন রবিনহো ও ইরানীয় ডিফেন্ডার খালেদ শাফিয়েই। চলতি বাংলাদেশ লিগে ১১টি গোল করেছেন বসুন্ধরা কিংস অধিনায়ক রবিনহো। এছাড়া গোলের মধ্যে রয়েছে নয়া মারোং ও মিগুয়েলও। মাত্র তিনটি ম্যাচ খেলে তিনটি গোল করেছেন ব্রাজিলিয়ান মিগুয়েল। তবে বসুন্ধরার কাছে স্বস্তির খবর হল এলিটা কিংসলেকে পাওয়া। তিনি বাংলাদেশী হয়েই মাঠে নামতে পারবেন। নাইজেরীয় বংশোদ্ভূত এলিটা গত বছর বাংলাদেশের নাগরিকত্ব পেয়েছেন। গতবছরের মার্চে নাগরিকত্ব পেলেও বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার জন্য ফিফা ও এএফসি থেকে ছাড়পত্র মিলছিল না কিংসলের। অবশেষে মিলেছে ছাড়পত্র। এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন্স (এএফসি) থেকে জানানো হয়েছে, বসুন্ধরা কিংসের হয়ে এএফসি কাপে খেলতে পারবেন তিনি। এরইমধ্যে এএফসি কাপের জন্য এলিটা কিংসলের রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করেছে বসুন্ধরা কিংস।

মে ১০, ২০২২
খেলার দুনিয়া

ডেভিড উইলিয়ামসের দুরন্ত হ্যাটট্রিকে এএফসি কাপের মূলপর্বে সবুজমেরুন

আগের ম্যাচে শ্রীলঙ্কার ব্লু স্টারকে হারিয়ে আত্মবিশ্বাস অনেকটাই বেড়ে গিয়েছিল। সেই আত্মবিশ্বাসকে সঙ্গী করেই এএফসি কাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিল এটিকে মোহনবাগান। ডেভিড উইলিয়ামসের দুরন্ত হ্যাটট্রিকে বাংলাদেশের ঢাকা আবহনীকে ৩-১ গোলে হারাল সবুজ-মেরুন ব্রিগেড। এদিন ম্যাচের প্রথমার্ধে পুরোটাই নিয়ন্ত্রণ করে এটিকে মোহনবাগান। ম্যাচের ৬ মিনিটে বাদিক থেকে জনি কাউকোর বাড়ানো ক্রস থেকে এটিকে মোহনবাগানকে ১-০ গোলে এগিয়ে দেন ডেভিড উইলিয়ামস। ৭ মিনিট পর সমতা ফিরিয়ে আনার সুযোগ এসেছিল আবহনীর সামনে। কিন্তু জালে বল রাখতে পারেননি ড্যানিয়েল কলিন্ড্রেস।প্রথম গোল খাওয়ার পর চাপে পড়ে যায় ঢাকা আবাহনী। সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে বেশ কয়েকবার আক্রমণ তুলে নিয়ে আসেন এটিকে মোহনবাগানের কাউকো-লিস্টনরা। তবে আবাহনীর রক্ষণের তৎপরতায় গোল মুখ খুলতে পারেনি সবুজমেরুন। ম্যাচের ২০ মিনিটের মাথায় প্রবীর দাসের সেন্টার থেকে ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ নষ্ট করেন জনি কাউকো। তাঁর শট বারের উপর দিয়ে বেরিয়ে যায়। একাধিক সুযোগ নষ্টের খেসারত দেওয়া সবুজমেরুন ২৯ মিনিটে ডেভিড উইলিয়ামসের গোলে ব্যবধান বাড়ায়। প্রবীর দাসের সাজিয়ে দেওয়া বল থেকে গোল তুলে আনতে কোনও ভুল করেননি ডেভিড উইলিয়ামস। প্রথমার্ধেই হ্যাটট্রিক পুর্ণ করতে পারতেন এই অস্ট্রেলীয় স্ট্রাইকার। প্রথমার্ধের শেষ দিকে একের বিরুদ্ধে এক পরিস্থিতিতে তিনি আবহনী গোলরক্ষকের গায়ে মারেন।দ্বিতীয়ার্ধে এটিকে মোহনবাগান হঠাৎই খেলা থেকে হারিয়ে যায়। মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ তুলে নেয় আবহনী। ঢাকা আবহনী একের পর এক আক্রমণ তুলে নিয়ে আসে। পর পর সুযোগ তৈরি করেও সবুজমেরুনের বক্সের মধ্যে গিয়েই খেই হারিয়ে ফেলছিল ঢাকার দল। প্রায় দুটি ক্ষেত্রে নিশ্চিত গোলের সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি আবহনী। একের পর এক আক্রমণ তুলে আনার সুফল পায় ৬১ মিনিটে। রাকিব হোসেনের ডান পায়ের ফ্লিক ধরে বিশ্বমানের গোল করে যান কোস্টা রিকার বিশ্বকাপার ড্যানিয়েল কলিনড্রেস। ম্যাচের ৭০ মিনিটের পর আবার ধীরে ধীরে ম্যাচে ফেরে এটিকে মোহনবাগান। আবহনীর মরিয়া লড়াই রুখে ফের আক্রমণাত্মক মেজাজে ফিরে আসে সবুজমেরুন। এই সময়ে দুটি সহজ সুযোগ মিসও করে বাগান জনতার প্রিয় ক্লাবটি। গোল নষ্টের মহরার মধ্যে নিজের হ্যাটট্রিক সম্পূর্ণ করে ঢাকা আবহনীর কফিনে শেষ পেরেকটি পুঁতে দেন ডেভিড উইলিয়ামস।

এপ্রিল ১৯, ২০২২
খেলার দুনিয়া

আবাহনীর বিরুদ্ধে মাঠে নামার আগে কী বলছেন জুয়ান ফেরান্দো?‌

এএফসি কাপের মূলপর্বে ওঠার প্লে অফের লড়াইয়ে মঙ্গলবার বাংলাদেশের ঢাকা আবাহনীর বিরুদ্ধে খেলতে নামছে এটিকে মোহনবাগান। পরের রাউন্ডে পৌঁছতে গেলে আবাহনীর বিরুদ্ধে জিততেই হবে এটিকে মোহনবাগানকে। ধারেভারে এগিয়ে থাকলেও নিজেদের ফেবারিট হিসেবে মানতে নারাজ সবুজমেরুণ কোচ জুয়ান ফেরান্দো। ঘরের মাঠে খেলা হলেও বরং ওপার বাংলার দলকে যথেষ্ট সমীহের চোখে দেখছেন তিনি। তবে জেতার ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী জুয়ান ফেরান্দো। এই মুহূর্তে দারুণ ছন্দে রয়েছে এটিকে মোহনবাগান। আগের ম্যাচে শ্রীলঙ্কার ব্লু স্টারকে উড়িয়ে দিয়েছে ৫০ ব্যবধানে। সেই ম্যাচ এখন অতীত জুয়ান ফেরান্দোর কাছে। ঢাকা আবাহনীর বিরুদ্ধে নতুন করে শুরু করতে চান। ওপার বাংলার দলের খেলার ভিডিও দেখেছেন। সেইভাবেই পরিকল্পনা তৈরি করেছেন। জুয়ান ফেরান্দোর লক্ষ্য শুরু থেকেই আক্রমণে ঝাঁপিয়ে পড়ে গোল তুলে নেওয়া। চোটের জন্য রক্ষণে সন্দেশ ঝিঙ্ঘানকে এই ম্যাচেও পাবেন না জুয়ান ফেরান্দো। রয় কৃষ্ণাও নেই। তা সত্ত্বেও চিন্তিত নন সবুজমেরুণ কোচ। আসলে ব্লু স্টারের বিরুদ্ধে তাঁর দলের ফুটবলারদের খেলা ভরসা জোগাচ্ছে জুয়ান ফেরান্দো। ঢাকা আবাহনী কিন্তু একেবারেই অবহেলা করার মতো দল নয়। রাফায়েল অগাস্তোর মতো আইএসএল খেলা ফুটবলার রয়েছে ওপার বাংলার দলে। এছাড়াও রয়েছেন কোস্টারিকার বিশ্বকাপার ড্যানিয়েল কলিনড্রেস। আর এক বিদেশি হুসেনিও যথেষ্ট ভাল। তাঁদের দিকে আলাদা নজর দিতে চান ফেরান্দো। তবে ব্লু স্টারের বিরুদ্ধে ম্যাচের ফল মাথায় রাখছেন না। ফেরান্দো বলেন, আগের ম্যাচে পাঁচ গোলে জিতেছি ঠিকই। তবে প্রতিপক্ষ যে হেতু নতুন তাই আগের ম্যাচের পারফরমেন্স তেমন কাজে আসবে না। আমরা এক সপ্তাহ বিশ্রাম পেয়েছি, যে হেতু ওরা আগের ম্যাচে ওয়াক ওভার পেয়েছে তাই আমাদের থেকে বেশি বিশ্রাম পেয়েছে। তবে এসব নিয়ে ভাবছি না। ঢাকা আবাহনীর বিরুদ্ধে ম্যাচ নিয়ে এটিকে মোহনবাগান অধিনায়ক প্রীতম কোটাল বলেন, এটা আমাদের কাছে ফাইনাল ম্যাচ। গ্যালারিতে আমাদের সমর্থক ভর্তি থাকবে। ফলে আমরা ওদের থেকে অনেকটাই এগিয়ে থেকে মাঠে নামব। তবে ম্যাচটা ততটাও সহজ হবে না।

এপ্রিল ১৮, ২০২২
খেলার দুনিয়া

‌দুর্দান্ত জয়ের পরেও জরিমানা এটিকে মোহনবাগানের!‌ সমর্থকদের জন্য কী দশা

দীর্ঘদিন পর ঘরের মাঠে প্রিয় দলের খেলা দেখার সুযোগ পেয়ে আবেগে ভাসছিলেন এটিকে মোহনবাগানের সমর্থকরা। কিন্তু তাঁদের এই আবেগর মূল্য ক্লাবকে যে দিতে হবে, হয়তো স্বপ্নেও ভাবেননি সমর্থকরা। মঙ্গলবার এএফসি কাপে শ্রীলঙ্কার ব্লু স্টারকে হারিয়েও স্বস্তিতে নেই এটিকে মোহনবাগান। মোটা অঙ্কের জরিমানার মুখে পড়তে হচ্ছে সবুজমেরুণ শিবিরকে। এএফসির নিয়ম অনুযায়ী এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন আয়োজিত কোনও প্রতিযোগিতায় ব্যানার, ফেস্টুন, টিফো নিয়ে মাঠে প্রবেশ করতে পারবেন না সমর্থকরা। যদি নিরাপত্তারক্ষীদের দৃষ্টি এড়িয়ে কোনও সমর্থক গ্যালারিতে ব্যানারফেস্টুন নিয়ে যায়, তাহলে হোম টিমকে শাস্তির কবলে পড়তে হবে। মাঠে কোনও দর্শক ঢুকে পড়লেও শাস্তির কবলে পড়তে হবে সংশ্লিষ্ট দলকে। কারণ মাঠে দর্শক ঢুকে পড়লে ফুটবলারদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। মঙ্গলবার ব্লু স্টারের বিরুদ্ধে দলের দুর্দান্ত জয়ের পর নিজেদের ধরে রাখতে পারেননি দুই সমর্থক। তাঁরা মাঠে ঢুকে পড়ে ফুটবলারদের জড়িয়ে ধরেন। করোনা আবহে এমনিতেই ফুটবলারদের নিরাপদ দূরত্বে রাখা হচ্ছে। এইভাবে মাঠে দর্শক ঢুকে পড়ার বিষয়টি ভালভাবে নেয়নি এএফসি। ব্যাপারটাকে নিরাপত্তার গাফিলতি হিসেবেই দেখা হচ্ছে। এখানেই শেষ নয়, আরও নিয়ম ভেঙেছেন সবুজমেরুণ সমর্থকরা। বেশ কয়েকজন দর্শক হাতে নানারকম ব্যানার ও ফেস্টুন নিয়ে গ্যালারিতে হাজির হয়েছিলেন। যুবভারতীর গ্যালারিকে তাঁরা বেছে নিয়েছিলেন প্রতিবাদের মঞ্চ হিসেবে, যা এএফসির নিয়ম বিরুদ্ধ। সমর্থকরা যেসব ব্যানার নিয়ে মাঠে হাজির ছিলেন, তার কোনওটাতে লেখা ছিল, আমাদের মোহনবাগান ক্লাব ফিরিয়ে দাও। মূলত এটিকের সঙ্গে সংযুক্তির প্রতিবাদেই এই ব্যানার। হোম টিম হিসেবে নিয়ম ভাঙার জন্য এটিকে মোহনবাগানের ১০ হাজার ডলার জরিমানা করছে এএফসি। ভারতীয় মুদ্রায় এই অর্থের পরিমান ৭ লক্ষ ৬১ হাজার টাকা।এটিকে মোহনবাগানের পক্ষ থেকে অবশ্য পুরো ঘটনার দায় চাপানো হয়েছে বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটের ওপর। কর্তাদের দাবি, স্টেডিয়ামের নিরাপত্তার দায়িত্ব ছিল পুলিশের ওপর। কোন দর্শক, কী নিয়ে ঢুকছে, তাদের দেখা কর্তব্য, ক্লাবের নয়। পুরো স্টেডিয়ামে দর্শক প্রবেশের অনুমতি থাকলেও ৩৩ হাজার টিকিট বিক্রির জন্য ছাপা হয়েছিল। মাঠে এসেছিলেন ২৩৭২৭ জন দর্শক।

এপ্রিল ১৩, ২০২২
খেলার দুনিয়া

দুরন্ত মনবীর–কাউকো, এটিকে মোহনবাগানের বিরুদ্ধে এ কী হাল ব্লু স্টারের!‌

দীর্ঘদিন ঘরের মাঠে দর্শকদের সামনে খেলার সুযোগ পায়নি এটিকে মোহনবাগান। দু বছর পর যুবভারতীতে প্রিয় দর্শকদের সামনে ম্যাচ। ঝলসে উঠল সবুজমেরুণ ব্রিগেড। শ্রীলঙ্কার লিগ চ্যাম্পিয়ন দলকে ৫০ ব্যবধানে উড়িয়ে দুর্দান্তভাবে এএফসি কাপ অভিযান শুরু করল জুয়ান ফেরান্দোর দল। এটিকে মোহনবাগানের হয়ে দুটি করে গোল করেন জনি কাউকো ও মনবীর সিং। একটি গোল ডেভিড উইলিয়ামসের। এদিন প্রিয় দলের খেলা দেখতে যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে প্রায় ২৫ হাজার দর্শক হাজির ছিলেন। প্রিয় ফুটবলারদের উৎসাহ দিতে ব্যানার, ফেস্টুন, টিফো নিয়ে মাঠে এসেছিলেন সবুজমেরুণ সমর্থকরা। ফুটবলাররা সমর্থকদের হতাশ করেননি। ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ছিলেন জুয়ান ফেরান্দোর ফুটবলাররা। তারই ফসল ৫ গোল। যতই নেপালে মাচিন্দা এফসিকে হারিয়ে প্লে অফের দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠে আসুক শ্রীলঙ্কার ব্লু স্টার, ধারেভারে তারা এটিকে মোহনবাগানের থেকে অনেকটাই পিছিয়ে। তার প্রমাণ এদিন মাঠেই পাওয়া গেল। মনবীর সিং, হুগো বোমাসদের আক্রমণের চাপে শুরু থেকেই দিশেহারা ছিলেন ব্লু স্টারের ফুটবলাররা। ৫ মিনিটেই গোল করার সুযোগ এসে গিয়েছিল এটিকে মোহনবাগানের সামনে। মনবীরের সেন্টার সুবিধাজনক জায়গায় বল পেয়েও কাজে লাগাতে পারেননি ডেভিড উইলিয়ামস। ব্লু স্টার রক্ষণে একের পর এক আক্রমণ তুলে নিয়ে আসছিলেন মনবীররা। তারই ফলশ্রুতিতে ২৪ মিনিটে এগিয়ে যায় এটিকে মোহনবাগান। মনবীর সিংয়ের কাছ থেকে বল পেয়ে বক্সের মধ্যে থেকে ডানপায়ের কোনাকুনি গড়ানো শটে গোল করেন জনি কাউকো। ২৯ মিনিটে প্রবীর দাসের পাস থেকে গড়ানো শটে ব্যবধান বাড়ান মনবীর সিং।৩৩ মিনিটে ৩০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় এটিকে মোহনবাগান। বক্সের মধ্যে হ্যান্ডবল করেন ব্লু স্টারের প্রিন্স বোয়াডু। রেফারি পেনাল্টির নির্দেশ দেন। পেনাল্টি থেকে নিজের দ্বিতীয় ও দলের তৃতীয় গোল করেন জনি কাউকো। দ্বিতীয়ার্ধেও এটিকে মোহনবাগানের আক্রমণের ধারা অব্যাহত ছিল। একের পর এক সুযোগও তৈরি হয়। কিন্তু গোল করতে পারছিলেন না উইলিয়ামস, কিয়ান নাসিরি, মনবীররা। অবশেষে ৭৭ মিনিটে মনবীরের পাস থেকে ৪০ করেন ডেভিড উইলিয়ামস। ৮৯ মিনিটে দলের হয়ে পঞ্চম গোল করেন মনবীর সিং।

এপ্রিল ১২, ২০২২
খেলার দুনিয়া

ব্লু স্টারের বিরুদ্ধে মাঠে নামার আগে বড় ধাক্কা এটিকে মোহনবাগানের

মঙ্গলবার এএফসি কাপে শ্রীলঙ্কার ব্লু স্টারের বিরুদ্ধে খেলতে নামছে এটিকে মোহনবাগান। আইএসএলের ব্যর্থতা কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াইয়ে সমস্যায় সবুজমেরুণ শিবিরে। এএফসি কাপের গ্রুপ পর্যায়ের লড়াইয়ে পাচ্ছে না দলের অন্যতম সেরা স্ট্রাইকার রয় কৃষ্ণাকে। চোটের জন্য খেলতে পারছেন না দলের নির্ভরযোগ্য ডিফেন্ডার সন্দেশ ঝিঙ্ঘানকে। দলের দুই গুরুত্বপূর্ণ ফুটবলারকে না পেলেও চিন্তিত নন এটিকে মোহনবাগান কোচ জুয়ান ফেরান্দো। ফিজিতে রয় কৃষ্ণার এক ঘনিষ্ট আত্মীয় মারা গেছেন। সেইজন্য তিনি ফিজিতে ফিরতে যান। সোমবার দেশে ফেরার ব্যবস্থা করতে ফিজির দুতাবাসে যান। মোটামুটি পরিস্কার, বড় কোনও অঘটন না ঘটলে এএফসি ম্যাচ না খেলেই দেশে ফিরে যাবেন রয় কৃষ্ণা। তাঁর না থাকাটা যে বড় ধাক্কা সেকথা অস্বীকার করার উপায় নেই। তবে এইরকম পরিস্থিতি মানিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে যথেষ্ট দক্ষ এটিকে মোহনবাগান কোচ জুয়ান ফেরান্দো। আইএসএলেও বেশ কয়েকটা ম্যাচে রয় কৃষ্ণাকে পাননি। তাসত্ত্বেও কিন্তু হাহুতাশ করেননি। বরং বিকল্প ফুটবলারদের দিয়ে ম্যাচ উতরে গেছেন। এএফসি কাপেও রয় কৃষ্ণার বিকল্প ফুটবলার জুয়ান ফেরান্দোর হাতে রয়েছে। এশিয়া কোটা নিয়ে মোট ৪ জন বিদেশি ফুটবলারকে খেলাতে পারবেন বাগান কোচ। রয় কৃষ্ণা চলে গেলে তাঁকে সমস্যায় পড়তে হবে না। বরং কোন চার বিদেশিকে খেলাবেন, তা নিয়ে চিন্তামুক্ত হবে। সেক্ষেত্রে ফেরান্দো হুগো বোমাস, ডেভিড উইলিয়ামসকে আক্রমণভাগে রেখে দল সাজাতে পারবেন। মাঝমাঠে জনি কাউকো, রক্ষণে তিরি। কার্ল ম্যাকহিউ এখনও দলের সঙ্গে যোগ দেননি। ফলে ৪ বিদেশিই এই মুহূর্তে জুয়ান ফেরান্দোর হাতে রয়েছে। সন্দেশ ঝিঙ্ঘান না থাকায় তিরির সঙ্গে রক্ষণে প্রীতম কোটালকে খেলাবেন। রয় কৃষ্ণা ও সন্দেশ না থাকলেও ব্লু স্টারের বিরুদ্ধে মাঠে নামার আগে চিন্তিত নন জুয়ান ফেরান্দো। তিনি বলেন, সন্দেশ দেশের হয়ে খেলার সময় থেকেই হাঁটুর চোটে ভুগছে। রয় কৃষ্ণাও থাকবে কিনা জানি না। তবে আমার হাতে বিকল্প রয়েছে। আশা করছি সমস্যা হূবে না। শ্রীলঙ্কার দলটি ততটা শক্তিশালী নয়। তাসত্ত্বেও বিপক্ষকে হালকাভাবে নিচ্ছেন না জুয়ান ফেরান্দো। তিনি বলেন, ব্লু স্টার শ্রীলঙ্কার লিগ চ্যাম্পিয়ন দল। প্লে অফ ম্যাচে নেপালের মাচিন্দ্রার মতো দলকে হারিয়ে মূলপর্বে উঠে এসেছে। ফলে বিপক্ষকে মোটেই হালকাভাবে নেওয়া যাবে না। একই কথা শোনা গেছে জনি কাউকোর মুখে।

এপ্রিল ১১, ২০২২
খেলার দুনিয়া

ঠিক হয়ে গেল এএফসি কাপে এটিকে মোহনবাগানের প্রতিপক্ষ, কারা?‌ জানতে পড়ুন

এএফসি কাপের প্রাথমিক পর্বের গ্রুপ লিগের প্রথম ম্যাচে ঠিক হয়ে গেছে এটিকে মোহনবাগানের প্রতিপক্ষ। ১২ এপ্রিল যুবভারতীতে শ্রীলঙ্কার ব্লু স্টারের বিরুদ্ধে খেলতে হবে সবুজমেরুণ ব্রিগেডকে। প্লে অফ ম্যাচে নেপালের মাচিন্দ্রা এফসিকে হারিয়ে প্রাথমিক পর্বে উঠে এসেছে শ্রীলঙ্কার ব্লু স্টার। গ্রুপ লিগের প্রথম ম্যাচের প্রতিপক্ষকে মেপে নিতে ব্লু স্টার ও মাচিন্দ্রা এফসি ম্যাচ দেখেছিলেন এটিকে মোহনবাগান কোচ জুয়ান ফেরান্দো। খেলা দেখে শ্রীলঙ্কার ব্লু স্টারকে যথেষ্ট শক্তিশালী প্রতিপক্ষ মনে হয়েছে তাঁর। বিপক্ষকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। ব্লু স্টারের খেলা দেখে সবুজমেরুণ কোচের বিশ্লেষণ, শ্রীলঙ্কার এই দলের পাসিং ফুটবল যথেষ্ট ভাল। মাঝমাঠে পাস খেলতে খেলতে হঠাৎ আক্রমণে উঠে আসে গতি বাড়িয়ে। ম্যাচের কোনও সময়েই হালকাভাব দেখানো চলবে না। ওদের ছোট করে দেখলে ডুবতে হবে। তাই আমাদের সতর্ক থাকতে হবে।এটিকে মোহনবাগানের ভিডিও অ্যানালিস্ট ব্লু স্টার ও মাচিন্দা এফসির গোটা ম্যাচ ভিডিও রেকর্ডিং করেছেন। দলের ফুটবলারদের ওই ম্যাচের ভিডিও দেখাবেন জুয়ান ফেরান্দো। বিপক্ষ দলের কোথায় দুর্বলতা, কোন জায়গায় শক্তিশালী সেগুলো ফুটবলারদের সামনে তুলে ধরবেন। বিপক্ষের শক্তি ও দুর্বলতা অনুযায়ী ম্যাচের পরিকল্পনা করবেন। এএফসির ম্যাচে এই প্রথম দল নিয়ে মাঠে নামবেন না জুয়ান ফেরান্দো। তাঁর কোচিংয়ে এফসি গোয়া একবার এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগে খেলেছিল। যদিও তেমন আশানূরূপ ফল করতে পারেনি। এটিকে মোহনবাগানকে সাফল্য এনে দিতে চান। তবে এখনই পরের পর্ব নিয়ে ভাবছেন না সবুজমেরুণ কোচ। তাঁর লক্ষ্য একেকটা ম্যাচ ধরে এগোনো। এদিকে, যুবভারতীর প্র্যাকটিস গ্রাউন্ডে পুরোদমে প্রস্তুতি চলছে এটিকে মোহনবাগানের। রয় কৃষ্ণাসহ সব বিদেশি যোগ দিয়েছেন। লিস্টন কোলাসো ছাড়া সব ভারতীয় ফুটবলারও অনুশীলন করছেন। লিস্টনের নাকে অপারেশন হয়েছে। কয়েকদিন পরেই তিনি অনুশীলনে যোগ দেবেন। পরে যোগ দিলেও তাঁর খেলতে কোনও অসুবিধা হবে না বলে জানিয়েছেন জুয়ান ফেরান্দো।

এপ্রিল ০৭, ২০২২
খেলার দুনিয়া

ডার্বির নায়কের সঙ্গে আরও ২ বছর চুক্তি, কিয়ানকে নিয়ে কী পরিকল্পনা ফেরান্দোর?‌

আইএসএলের ডার্বিতে পরিবর্ত হিসেবে মাঠে নেমে বাজিমাত করেছিলেন কিয়ান নাসিরি। সেদিন থেকেই দেশের অন্যান্য ক্লাবগুলির নজর ছিল এই তরুণ স্ট্রাইকারের দিকে। আইএসএলের বেশ কয়েকটা ফ্র্যাঞ্চাইজি তাঁর প্রতি আগ্রহও দেখিয়েছিল। কিন্তু সেইসব ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোকে কোনও রকম সুযোগ দিলেন না এটিকে মোহনবাগান কর্তারা। কিয়ান নাসিরির সঙ্গে আরও দুই মরশুমের জন্য চুক্তি সেরে ফেলেছেন তাঁরা। সঙ্গে কার্ল ম্যাকহিউয়েরও চুক্তি বাড়ানো হল। তবে কিয়ানের মতো দু বছর নয়, সলামনের মরশুম পর্যন্ত চুক্তি করা হল ম্যাকহিউয়ের সঙ্গে। এটিকে মোহনবাগানের সঙ্গে আরও দুবছর থাকার সুযোগ পেয়ে খুশি কিয়ান নাসিরি। তিনি বলেন, এটিকে মোহনবাগান দেশের অন্যতম সেরা দল। সেই দলের কোচ ও কর্তারা আমার ওপর আস্থা রেখেছেন, এটা আমার কাছে দারুণ ব্যাপার। আশা করছি আগামী বছরগুলিতেও সবুজমেরুণ জার্সি গায়ে নিজের সেরাটা দিতে পারব। এখন এএফসি কাপে খেলার জন্য মুখিয়ে আছি। এখনও আন্তর্জাতিক ম্যাচে খেলার সুযোগ হয়নি কিয়ান নাসিরির। সবুজমেরুণ জার্সি গায়ে ঘরের মাঠে দর্শকদের সামনেও খেলার সুযোগ মেলেনি। এএফসি কাপে সেই সুযোগ আসতে চলেছে। কারণ তাঁকে ধরেই পরিকল্পনা করছেন এটিকে মোহনবাগান কোচ জুয়ান ফেরান্দো। এই ব্যাপারে কিয়ান নাসিরি বলেন, যুবভারতীতে ঘরের মাঠে সবুজমেরুণ সমর্থকদের সামনে খেলার জন্য মুখিয়ে আছি। আইএসএলের ডার্বিতে হ্যাটট্রিক আমার কাছে এখন অতীত। আইএসএলে গোল পেলেও আন্তর্জাতিক ম্যাচে এখনও গোল করতে পারিনি। যুবভারতীতে প্রিয় দর্শকদের সামনে ভাল খেলে গোল করাই লক্ষ্য থাকবে। এএফসি কাপে এশিয়া কোটার বিদেশি নিয়ে মোট ৪ বিদেশিকে নিয়ে মাঠে নামা যাবে। জুয়ান ফেরান্দোর হাতে রয়েছে ৬ বিদেশি রয় কৃষ্ণা, ডেভিড উইলিয়ামস, হুগো বুমোস, তিরি, কার্ল ম্যাকহিউ, জনি কাউকো। এদের মধ্যে কোন ৪ জনকে বেছে নেবেন তা নিয়ে চিন্তার ভাঁজ ফেরান্দোর কপালে। হয়তো আক্রমণভাগে বিদেশি কম রাখবেন। তাই কিয়ান নাসিরিকে নিয়েই পরিকল্পনায় ব্যস্ত। জুয়ান ফেরান্দো বলেন, আমি সবসময় তরুণ ফুটবলারদের গুরুত্ব দিই। দলের ভারসাম্য রাখতে কিয়ানের মতো তরুণ প্রতিভা এইমুহূর্তে দলে দরকার। আক্রমণভাগে ওকে ধরেই পরিকল্পনা করছি।

এপ্রিল ০৪, ২০২২
খেলার দুনিয়া

অনুশীলনে নেমে পড়লেন জুয়ান ফেরান্দো, বাগান কোচের এবার লক্ষ্য কী?

পাখির চোখ করেছিলেন এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ। আইএসএলে লিগ টেবিলের শীর্ষে পৌঁছতে না পারায় সে স্বপ্ন আগেই চূরমার হয়ে গিয়েছিল। পরে আইএসএলেস চ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বপ্নভঙ্গ। সেমিফাইনাল থেকেই বিদায় নিতে হয়েছিল এটিকে মোহনবাগানকে। সবুজমেরুণ শিবিরের আপাতত লক্ষ্য এএফসি কাপ। এএফসি কাপের জন্য শুক্রবার থেকে অনুশীলন শুরু করল এটিকে মোহনবাগান। এদিন সকালে কলকাতা পৌঁছে বিকেলেই ফুটবলারদের নিয়ে মাঠে নেমে পড়লেন বাগান কোচ জুয়ান ফেরান্দো। আইএসএল অভিযান শেষ করে ফুটবলারদের ছুটি দিয়েছিলেন জুয়ান ফেরান্দো। তখনই জানিয়ে দিয়েছিলেন ১ এপ্রিল থেকে কলকাতায় এএফসি কাপের জন্য প্রস্তুতি শুরু করবেন। সেই মতো এদিন ভোরের বিমানে কলকাতায় চলে আসেন সবুজমেরুণ কোচ। দীর্ঘ বিমানযাত্রার ক্লান্তি উপেক্ষা করে এদিন ফুটবলারদের নিয়ে মাঠে নেমে পড়েন। যদিও সব ফুটবলারকে এদিন অনুশীলনে পাননি জুয়ান ফেরান্দো। দেশের হয়ে বাহরিনে প্রীতি ম্যাচ খেলতে গেছেন লিস্টন কোলাসো, মনবীর সিং, প্রীতম কোটাল, অমরিন্দার সিংরা। তাঁরা এদিনের অনুশীলনে ছিলেন না। ছুটি কাটিয়ে এখনও দেশ থেকে ফেরেননি রয় কৃষ্ণা, ডেভিড উইলিয়ামসরা। তাঁরাও প্রথম দিনের প্রস্তুতিতে ছিলেন না। এএফসি কাপের প্রস্তুতি কীভাবে হবে, বাকি সাপোর্ট স্টাফদের সঙ্গে বসে সে ব্যাপারে রূপরেখা চূড়ান্ত করেছেন জুয়ান ফেরান্দো। ফুটবলারদের সঙ্গেও আলাদা করে বৈঠক করেন। তাঁদেরও নিজের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন এটিকে মোহনবাগান কোচ। এএফসি কাপে এটিকে মোহনবাগানের প্রথম ম্যাচ ১২ এপ্রিল। সবুজমেরুণ প্রথম ম্যাচের প্রতিপক্ষ ঠিক হবে ৫ এপ্রিল। ওই দিন মূলপর্বের জন্য প্লে অফে খেলবে শ্রীলঙ্কার ব্লু স্টার এফসি এবং নেপালের মাচিন্দা এফসি। এই ম্যাচের বিজয়ীর সঙ্গে এটিকে মোহনবাগান প্রথম ম্যাচ খেলবে।

এপ্রিল ০১, ২০২২
খেলার দুনিয়া

হতাশা কাটিয়ে এখন এএফসি কাপকেই পাখির চোখ করছেন বাগান কোচ জুয়ান ফেরান্দো

বুধবার হায়দরাবাদ এফসি-র বিরুদ্ধে ১-০ ব্যবধানে জিতেও আইএসের ফাইনালের দরজা না খোলায় হতাশ এটিকে মোহনবাগান কোচ, ফুটবলার, সমর্থকরা। ফাইনালে উঠতে ব্যর্থ হলেও গোটা মরশুমের দিকে যদি তাকানো যায়, তা হলে একটা কথা মানতেই হবে, হতাশ হওয়ার মতো ফুটবল খেলেনি সবুজমেরুন ব্রিগেড। দু-একটা ছোটখাট ভুল এবং সমস্যার মাশুল দিতে হয়েছে তাদের। আইএসএলের ব্যর্থতা ঝেড়ে ফেলে হতাশা কাটিয়ে এখন এএফসি কাপকেই পাখির চোখ করছেন এটিকে মোহনবাগান কোচ জুয়ান ফেরান্দো। হায়দরাবাদ এফসি-র বিরুদ্ধে সেমিফাইনালের দ্বিতীয় পর্বের ম্যাচ জিতেও আইএসএল অভিযান শেষ হলেও কোচ জুয়ান ফেরান্দো খুশি দলের খেলায়। এএফসি কাপের ভাবনা শুরু হয়ে গিয়েছে তাঁর মাথায়। ফেরান্দো বলেন, দলের খেলায় আমি খুবই খুশি। খুব কঠিন সময়ে আমাদের দলের ছেলেরা প্রচুর পরিশ্রম করেছে। নিভৃতবাস, কোচ ও খেলার ধরন বদল, সব কিছুর সঙ্গে ওরা মানিয়ে নিয়ে সেরাটা দিয়েছে। তবে সেমিফাইনালের দ্বিতীয় পর্বের ফলাফলে খুশি নন এটিকে মোহনবাগান কোচ। তিনি বলেন, জামশেদপুর এফসি-র কাছে লিগের শেষ ম্যাচ হেরে শীর্ষ স্থানটা হারিয়েছিলাম। এ বার সেমিফাইনালেও হারলাম। এই ফলাফলে আমি একেবারেই খুশি নই। ব্যক্তিগত ভাবে আমি খুব হতাশ। সমর্থকদের মুখে হাসি ফোটাতে পারলাম না। আমার কাছে এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল।এই মরশুমে যতটা ভাল খেলেছে এটিকে মোহনবাগান তত ভাল ফল তারা পায়নি। তবে চোট-আঘাত, শিবিরে কোভিড-হানা, মরশুমের মাঝখানে কোচ-বদল, নতুন কোচের স্টাইল-বদল, এমন নানা পরিস্থিতির শিকার হওয়া সত্ত্বেও যে সবুজমেরুন ব্রিগেড এত দূর পৌঁছতে পেরেছে, এটা কম কৃতিত্বের নয়। সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে এই দলই ফাইনালে উঠতে পারত এবং হয়তো চ্যাম্পিয়নও হতে পারত। কিন্তু দুর্ভাগ্য ও পরিস্থিতি তাদের সেই জায়গায় পৌঁছতে দেয়নি।একমাসও বাকি নেই এএফসি কাপ শুরু হতে। আইএসএলে ব্যর্থতার পর এটাই পাখির চোখ ফেরান্দোর। তিনি বলেন, প্রতিযোগিতা শুরুর আগে ভাল প্রস্তুতি প্রয়োজন। এই ব্যাপারে ক্লাব কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলব। তার আগে অবশ্যই খেলোয়াড়দের যথেষ্ট বিশ্রাম দিতে হবে। ৫-৬ দিন পর থেকে প্র্যাক্টিস শুরু করব। সামনে আরও কঠিন পরীক্ষা।

মার্চ ১৭, ২০২২
খেলার দুনিয়া

A‌TK Mohunbagan : এটিকে মোহনবাগানের হাত ধরে ভারতীয় ফুটবলে ফিরল কলঙ্কজনক অধ্যায়

বছর দশেক আগে এএফসি কাপে নাসাফ এফসির কাছে ৯০ ব্যবধানে হেরে ভারতীয় ফুটবলকে কালিমালিপ্ত করেছিল ডেম্পো। আবার সেই কলঙ্কজনক অতীত ফিরে এলে। সৌজন্যে এটিকে মোহনবাগান। এএফসি কাপের ইন্টার জোনাল সেমিফাইনালে নাসাফের কাছে ৬০ ব্যবধানে বিধ্বস্ত হল সবুজমেরুণ শিবির। গ্রুপ লিগে বেঙ্গালুরু এফসি এবং মাজিয়া স্পোর্টস অ্যান্ড রিক্রিয়েশন ক্লাবকে হারিয়ে এএফসি কাপের ইন্টার জোনাল সেমিফাইনালে ওঠার পর এটিকে মোহনবাগানকে নিয়ে স্বপ্ন দেখেছিলেন সবুজমেরুণ সমর্থকরা। উজবেকিস্তানের নাসাফের কাছে হেরে স্বপ্ন চুরমার। লজ্জার মুখে পড়তে হল হাবাসের দলকে।আরও পড়ুনঃ বাংলার জন্য আমি অ্যাভেলেবল আছিসবুজমেরুণের এই বিধ্বস্ত হওয়ার পেছনে দায় এড়াতে পারেন না এটিকে মোহনবাগান কোচ আন্তোনীয় হাবাস। প্রথমত, ভুল দল নির্বাচন। দ্বিতীয়ত, দলের বোঝাপড়া গড়ে তুলতে পারেননি। নাসাফের মতো শক্তিশালী দলের বিরুদ্ধে লড়তে গেলে যে ধরণের প্রস্তুতি নেওয়ার দরকার ছিল, তা নিতে পারেনি। তবে ধারেভারে নাসাফ যে অনেকটাই এগিয়ে ছিল, সেকথা অস্বীকার করে যাবে না। উজবেকিস্তানের সুপার লিগে খেলার মধ্যেই রয়েছে। অন্যদিকে, এটিকে মোহনবাগানের সমস্যা ম্যাচ প্র্যাকটিসের অভাব। মাত্র ১৫২০ দিনের অনুশীলন করে ম্যাচ খেলতে নেমেছে। ফলে অনেকটা পার্থক্য যে থাকবে, এটাই স্বাভাবিক।আরও পড়ুনঃ আপনার একটা ভোট না পেলেও ক্ষতি হয়ে যাবে...কেন এমন বললেন মমতা?ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণে ঝড় তুলেছিল নাসাফ। ৪ মিনিটে এগিয়েও যায়। বক্সের মধ্যে ভেসে আসা কর্ণার বিপদমুক্ত করতে গেলে প্রীতম কোটালের মাথায় লেগে বল জালে জড়িয়ে যায়। শুরুতে পিছিয়ে পড়ে মনোবলে ধাক্কা খায় এটিকে মোহনবাগান। নিজেদের সামলাতে পারেননি সবুজমেরুণ ফুটবলাররা। ১৮ মিনিটে নাসাফের হয়ে ব্যবধান বাড়ান খুসায়িন। মিনিট তিনেক পর তিনিই ৩০ করেন। ৩১ মিনিটে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন খুসায়িন। ৪০ মিনিটে বাখরমকে বক্সের মধ্যে প্রীতম কোটাল ফাউল করলে পেনাল্টি পায় নাসাফ। বজোরভের শট ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। প্রথমার্ধের ইনজুরি সময়ে সেই বজোরভই ৫০ করেন।আরও পড়ুনঃ কোভিডে মৃত্যু হলে ৫০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ দেবে রাজ্যনাসাফের বিরুদ্ধে প্রথমে ৩৪৩ ছকে শুরু করেছিলেন হাবাস। বিপক্ষের আক্রমণ সামাল দিতে না পেরে ৪৩৩ ছকে চলে যান। নাসাফকে মাঝমাঠে আটকতে যার ওপর বেশি ভরসা করেছিলেন সেই জনি কাউকো প্রথমার্ধে একেবারে নিস্প্রভ ছিলেন। ডিফেন্সে তিরি আর সন্দেশ ঝিংঘানের মতো ফুটবলার না থাকাটাও বড় ফ্যাক্টর হয়ে যায়। তার ওপর শেখ সাহিলের মতো তরুণ ফুটবলারকে এই ধরণের ম্যাচে নামিয়ে দিয়ে ঠিক করেননি হাবাস। প্রথম একাদশ নির্বাচনে একাধিক ভুল। সবুজমেরুণ ফুটবলারদের প্রথমার্ধে দিশাহীন মনে হচ্ছিল। মাঝমাঠে এটিকে মোহনবাগানকে দাঁড়াতেই দেননি। তাছাড়া শারীরিক দিক দিয়ে নাসাফের ফুটবলারদের থেকে সবুজমেরুণ ফুটবলাররা অনেক পিছিয়ে।আরও পড়ুনঃ ভবানীপুরের উপনির্বাচনের অভিঘাত ভিন্ন, তবে মনে করাচ্ছে ৬৫ বছর আগের বাংলার রাজনীতির কথাদ্বিতীয়ার্ধে এটিকে মোহনবাগান অনেকটা গুছিয়ে নেয়। মাঝমাঠে খেলা ধরতে পরিস্থিতি বদলে যায়। প্রথমার্ধেই ৫ গোলে এগিয়ে যাওয়ায় দ্বিতীয়ার্ধে তেমন ঘামায়নি নাসফ। ম্যাচ অনেক হালকাভাবে নেয়। তার মধ্যেই ৬০ মিনিটে বজোরভের একটা শট পোস্টে লাগে। ৭১ মিনিটে ৬০ করেন নারজুয়েলভ। শেষদিকে ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ পেয়েছিল নাসাফ। কাজে লাগাতে পারেনি। জনি কাউকো ব্যর্থ হওয়ায় ম্যাচের শেষের দিকে তাঁকে তুলে নেন হাবাস।

সেপ্টেম্বর ২২, ২০২১
খেলার দুনিয়া

‌ATK Mohun Bagan : ৫ বছর পর আবার এএফসি কাপের নক আউট পর্বে এটিকে মোহনবাগান

ড্র করলেই এএফসি কাপের পরের রাউন্ডে যাওয়া নিশ্চিত। বাংলাদেশের বসুন্ধরা কিংসের বিরুদ্ধে ড্র করেই পরের রাউন্ডে পৌঁছে গেল এটিকে মোহনবাগান। ম্যাচের ফল ১১। শুরুতে পিছিয়ে পড়েও দারুণভাবে ম্যাচে ফেরে হাবাসের দল। বসুন্ধরার বিরুদ্ধে বাগানের রক্ষাকর্তা হয়ে দাঁড়ালেন ডেভিড উইলিয়ামস। গোল করে তিনি দলের মান বাঁচালেন। ৭ পয়েন্ট পেয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হল এটিকে মোহনবাগান। ২০১৬ সালের পর আবার এএফসি কাপের নক আউট পর্বে পৌঁছে গেল সবুজমেরুণ।পরের রাউন্ডে যেতে গেলে জেতা ছাড়া রাস্তা ছিল না বসুন্ধরা কিংসের কাছে। তাই শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে বসুন্ধরা কিংস। এটিকে মোহনবাগানের রক্ষণে চাপও তৈরি করছিল। অন্যদিকে, হাবাসের লক্ষ্য ছিল প্রতি আক্রমণে গোল তুলে নেওয়া। বিক্ষিপ্ত লগ্নে আক্রমণে উঠে আসছিলেন রয় কৃষ্ণারা। এভাবেই প্রতি আক্রমণে উঠে এসে ১৮ মিনিটে এগিয়ে যেত পারত এটিকে মোহনবাগান। রয় কৃষ্ণা বসুন্ধরা কিংসের গোলকিপারকে টেনে এসে বল সাজিয়ে দিয়েছিলেন লিস্টন কোলাসোকে। ফাঁকা গোলে বল ঠেলতে ব্যর্থ হন লিস্টন কোলাসো। আরও পড়ুনঃ বেড পেতে গেলে আরেকটি শিশুর মৃত্যু অবধি অপেক্ষা করতে হবে!২৮ মিনিটে এগিয়ে যায় বসুন্ধরা কিংস। এটিকে মোহনবাগানের পেনান্টি বক্সের ডানদিকে বল পান ব্রাজিয়ান ফুটবলার ফার্নান্ডেজ। ছোট্ট জায়গার মধ্যে সবুজমেরুণের এক ডিফেন্ডারকে ড্রিবল করে ডানপায়ের দুরন্ত শটে গোল করেন তিনি। এটিকে মোহনবাগানের মাঝমাঠে এদিন হুগো বুমাসের অভাব বারবার চোখে পড়ছিল। দুটি হলুদ কার্ড দেখায় তিনি বসুন্ধরার বিরুদ্ধে মাঠে নামতে পারেননি। সেই সুযোগে মাঝমাঠে রাজত্ব করে গেলেন বসু্ন্ধরার ফুটবলাররা। ডেভিড উইলিয়ামসকে বারবার নীচে নেমে আসতে হচ্ছিল। প্রথমার্ধে লেনি রডরিগেজ একেবারে নিষ্প্রভ ছিলেন। ৪০ মিনিটে সমতা ফেরাতে পারত এটিকে মোহনবাগান। রয় কৃষ্ণার শট বসুন্ধরা কিংসের এক ফুটবলারের পায়ে লেগে বারের ওপর দিয়ে চলে যায়। প্রথমার্ধের ইনজুরি সময়ে বসুন্ধরা কিংসের সুশান্ত ত্রিপুরা বিপজ্জনক ফাউল করে লাল কার্ড দেখে মাঠের বাইরে চলে যান।আরও পড়ুনঃ কলকাতায় টিকাকরণের নিয়মে বড়সড় বদলগ্রুপ লিগের আগের ম্যাচে মাজিয়ার বিরুদ্ধে দ্বিতীয়ার্ধে দারুণভাবে খেলায় ফিরে এসেছিল এটিকে মোহনবাগান। বসুন্ধরার বিরুদ্ধেও সেই একই ছবি। দ্বিতীয়ার্ধে নিজেদের অনেকটাই গুছিয়ে নেয়ে হাবাসের ফুটবলাররা। তবে সবুজমেরুণ ব্রিগেডের কাজ সহজ করে দিয়েছিল বসুন্ধরা কিংসের ১ জনের কম থাকাটা। বিপক্ষের ১ জন কম থাকার সুযোগ নিয়ে ম্যাচে আধিপত্য বিস্তার করে এটিকে মোহনবাগান। ৬২ মিনিটে সমতাও ফেরায় সবুজমেরুণ। লিস্টন কোলাসোর কাছ থেকে বল পেয়ে বক্সের মাঝখান থেকে দুরন্ত শটে গোল করেন ডেভিড উইলিয়ামস। জয়ের জন্য শেষ দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে বসুন্ধরা কিংস। ৮৪ মিনিটে রবসনের শট পোস্টের বাইরে লেগে বেরিয়ে যায়। অল আউট আক্রমণে গেলেও আর গোল তুলে নিতে পারেনি বসুন্ধরা কিংস।

আগস্ট ২৪, ২০২১
খেলার দুনিয়া

ATK Mohunbagan : বসুন্ধরা কিংসের বিরুদ্ধে মাঠে নামার আগে কী বলছেন হাবাস?‌

গ্রুপ লিগে পরপর দুটি ম্যাচ জিতে এএফসি কাপের পরের পর্বে যাওয়ার রাস্তা অনেকটাই পরিস্কার করে ফেলেছে এটিকে মোহনবাগান। মঙ্গলবার গ্রুপ লিগের শেষ ম্যাচে বাংলাদেশের বসুন্ধরা কিংসের সঙ্গে ড্র করলেই পরের পর্বে যাওয়া নিশ্চিত। তবে ড্রয়ের কথা ভাবছে না। জয়ের দিকেই তাকিয়ে এটিকে মোহনবাগান। ফুটবলারদের জয়ের জন্য ঝাঁপানোর নির্দেশ দিয়েছেন সবুজমেরুণ কোচ আন্তেনীয় লোপেজ হাবাস।আরও পড়ুনঃ অভিষেক বচ্চন হাসপাতালে, চিন্তায় পরিবার থেকে অনুরাগীরাটানা দুটি ম্যাচে জয়ে ৬ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ শীর্ষে রয়েছে এটিকে মোহনবাগান। বসুন্ধরা কিংস মাজিয়াকে প্রথম ম্যাচে হারালেও বেঙ্গালুরু এফসির সঙ্গে ড্র করেছে। এই পরিস্থিতিতে সুনীল ছেত্রীদের সঙ্গে নক আউটে ওঠার দৌড় থেকে ছিটকে গিয়েছে মাজিয়া। বসুন্ধরা পয়েন্ট তালিকায় রয়েছে এটিকে মোহনবাগানের পরেই, ৪ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে। ফলে শেষ ম্যাচে ড্র করলেই সবুজমেরুণ পৌঁছে যাবে এএফসি কাপের নক আউটে। অন্যদিকে, পরের রাউন্ডে যেতে গেলে জিততেই হবে বসুন্ধরা কিংসকে।আরও পড়ুনঃ অক্টোবরেই চরম আকার নেবে তৃতীয় ঢেউ!বসুন্ধরা কিংসের বিরুদ্ধে মাঠে নামার আগে কিছুটা হলেও সমস্যায় এটিকে মোহনবাগান। হলুদ কার্ডের জন্য হাবাস গ্রুপ লিগের শেষ ম্যাচে পাবেন না মিডফিল্ডার হুগো বুমাসকে। নিঃসন্দেহে বাগান শিবিরের কাছে এটা একটা বড় ধাক্কা। কারণ, প্রথম দুটি ম্যাচেই দলের জয়ে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা নিয়েছিলেন। তবে হাবাস তাঁর না থাকাকে বড় করে দেখছেন না। তিনি বসুন্ধরা বধের পরিকল্পনা তৈরি করেছেন।আরও পড়ুনঃ তৃণমূলের ত্রিপুরা-চ্যালেঞ্জে নতুন তাস দেবপরপর দুটি ম্যাচ জিতে আত্মবিশ্বাস তুঙ্গে রয়েছে সবুজমেরুণ শিবিরের। তবে নিজেদের ফেবারিট হিসেবে দেখছেন না হাবাস। বসুন্ধরার বিরুদ্ধে মাঠে নামার আগে তিনি বলেন, নিজেদের ফেবারিট ভেবে মাঠে নামতে চাই না। ফুটবল খেলাটা খুবই কঠিন। অনেক সময় অঙ্ক মেলে না। বসুন্ধরা কিংসের খেলা দেখেছি। বাংলাদেশের চ্যাম্পিয়ন দল। ওদের সমীহ করতেই হবে। এই ম্যাচের ফলের ওপর নির্ভর করবে নকআউটে যাওয়া। লক্ষ্য থাকবে গোল না খাওয়া। তার মানে এই নয় আমরা রক্ষণাত্মক ফুটবল খেলব। খেলায় ভারসাম্য রাখতে হবে। জেতার জন্য ফুটবলারদের সেরাটা দিতে হবে। আরও পড়ুনঃ পুজোর পর কি খুলবে স্কুল? বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীরএদিকে, এটিকে মোহনবাগানের বিরুদ্ধে নিজেদের পিছিয়ে রাখছেন বসুন্ধরা কোচ অস্কার ব্রুজো। হাবাসের দলকে ফেবারিট হিসেবে মেনে নিলেও, বিনা লড়াইয়ে জমি ছাড়তে নারাজ। তিনি বলেন, এটিকে মোহনবাগান নিঃসন্দেহে শক্তিশালী প্রতিপক্ষ। তবে ওদের হারিয়ে নকআউটে যাওয়া সম্ভব। ভারতীয় ক্লাবে কোচিংয়ের সূত্রে ওদেশের ফুটবলের সঙ্গে পরিচয় আছে। এটিকে মোহনবাগানের শক্তি ও ওদের কোচ হাবাসের কোচিং সম্পর্কে স্পষ্ট ধারনা আছে। সেটা মাথায় রেখেই জেতার জন্য মরিয়া হবে আমার ফুটবলাররা।

আগস্ট ২৩, ২০২১
খেলার দুনিয়া

Roy Krishna : বসুন্ধরা কিংসের বিরুদ্ধে নামার আগে হুঙ্কার রয় কৃষ্ণার

নতুন মরশুম। দলে অনেক পরিবর্তন এসেছে। সেভাবে প্রস্তুতির সুযোগও পায়নি। তা সত্ত্বেও এএফসি কাপের গ্রুপ পর্বের ম্যাচে দাপট দেখাচ্ছে এটিকে মোহনবাগান। প্রথম ম্যাচে বেঙ্গালুরু এফসিকে ২ গোলে হারানোর পর মালদ্বীপের মাজিয়া স্পোর্টস অ্যান্ড রিক্রিয়েশন ক্লাবের বিরুদ্ধেও দুরন্ত জয়। পরের পর্বে যাওয়া প্রায় নিশ্চিত। শেষ ম্যাচে বাংলাদেশের বসুন্ধরা কিংসের সঙ্গে দরকার শুধু ড্র।আরও পড়ুনঃ তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতি খুনের ঘটনায় এবার সিআইডি জালে লিঙ্কম্যানটানা দুটি ম্যাচে জয়ে ৬ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ শীর্ষে রয়েছে এটিকে মোহনবাগান। বসুন্ধরা কিংস মাজিয়াকে প্রথম ম্যাচে হারালেও বেঙ্গালুরু এফসির সঙ্গে ড্র করেছে। এই পরিস্থিতিতে সুনীল ছেত্রীদের সঙ্গে নক আউটে ওঠার দৌড় থেকে ছিটকে গিয়েছে মাজিয়া। বসুন্ধরা পয়েন্ট তালিকায় রয়েছে এটিকে মোহনবাগানের পরেই, ৪ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে। ফলে শেষ ম্যাচে ড্র করলেই সবুজমেরুণ পৌঁছে যাবে এএফসি কাপের নক আউটে।আরও পড়ুনঃ বড় ঘোষণা নির্মলা সীতারামনেরতবে ড্র নয়, শেষ ম্যাচে জয়ের দিকেই তাকিয়ে বাগান শিবির। হাবাস ব্রিগেড যে জয়ের জন্যই ঝাঁপাবে, দলের সেরা ফুটবলার রয় কৃষ্ণার কথাতেই পরিস্কার। তিনি টুইটারে লিখেছেন, দুটি ম্যাচ হয়ে গেল, আর একটা বাকি। যেভাবে প্রথমার্ধে পিছিয়ে থেকেও দ্বিতীয়ার্ধে তিনটি গোল করে ম্যাচের রং বদলে দিয়েছেন আমাদের দলের সকলে তাতে সত্যিই গর্বিত। এটা মোটেই সহজ ম্যাচ ছিল না। তবে যাঁরা আমাদের সমর্থন করেছেন, আমাদের উপর বিশ্বাস রেখেছেন, তাঁদের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞতা জানাই। এবার পরের ম্যাচের জন্য প্রস্তুত হচ্ছি আমরা।আরও পড়ুনঃ কলকাতার পাশেই ছুটি কাটানোর দারুন সুযোগ, সুন্দরবনের পথে অপরূপ সৌন্দর্যের হাতছানিরয় কৃষ্ণা আরও বলেন, মেজিয়ার বিরুদ্ধে পিছিয়ে পড়েও কখনও চাপে ছিলাম না। কারণ জানি, আমাদের দলে কোয়ালিটি ফুটবলার আছে। জানতাম, আমরা গোলের সুযোগ পাব। প্রথমার্ধে গোলশোধে তাড়াহুড়ো ভাব দেখানোয় সেই লক্ষ্যপূরণ হয়নি। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে ধৈর্য ধরায় গোল ও জয় এসেছে। এটাই আমাদের দলের আসল চরিত্র।আরও পড়ুনঃ বর্ধমান আদালতের লক্লার্ককে অপহরণ করে মুক্তিপন দাবি, গ্রেপ্তার অপহরণকারীফুটবলারদের লড়াকু মানসিকতার প্রশংসা করেছেন কোচ আন্তোনীয় লোপেজ হাবাস। তিনি বলেন, মাজিয়া শুরুতে গোল করায় আমরা কিছুটা সমস্যায় পড়েছিলাম। গরম, আর্দ্রতা, শক্ত মাঠের জন্য ফুটবলারদের ঘুরিয়েফিরিয়ে ব্যবহার করতে হচ্ছে। হুগো বুমাসকে এই জন্য পরে নামিয়েছিলাম। ফুটবলাররা দ্রুত নিজেদের গুছিয়ে নিয়ে সেরাটা দেওয়ার জন্য গর্বিত। আমরা ৬ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে রয়েছি। পরের ম্যাচে ড্র করলেই নকআউটে পৌঁছে যাব। কিন্তু ড্রয়ের মানসিকতা নিয়ে নামব না। গ্রুপের শেষ ম্যাচও জেতার জন্যই ঝাঁপাবে আমার ফুটবলাররা।

আগস্ট ২২, ২০২১
খেলার দুনিয়া

ATK Mohonbagan : মাজিয়াকে হারিয়ে পরের রাউন্ডে যাওয়ার রাস্তা পরিস্কার করল এটিকে মোহনবাগান

জিতলেই এএফসি কাপের পরের রাউন্ডে যাওয়ার রাস্তা পরিস্কার হয়ে যেত এটিকে মোহনবাগানের। অন্যদিকে, পরের রাউন্ডে যাওয়ায় সম্ভবনা টিকিয়ে রাখতে গেলে জিততেই হত মাজিয়া স্পোর্টস অ্যান্ড রিক্রিয়েশন ক্লাবকে। এটিকে মোহনবাগানের কাছে হেরে গ্রুপ লিগ থেকেই বিদায় নিল মালদ্বীপের এই দলটি। পিছিয়ে পড়েও ৩১ ব্যবধানে দারুণ জয় তুলে নিল সবুজমেরুণ। পরের রাউন্ডে যাওয়ার রাস্তা অনেকটাই পরিস্কার হয়ে গেল এটিকে মোহনবাগানের।আরও পড়ুনঃ তালিবান জমানায় আফগান ক্রিকেটের ভবিষ্যত কী?বসুন্ধরা কিংসের বিরুদ্ধে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে ডুবতে হয়েছিল মাজিয়া স্পোর্টস এন্ড রিক্রিয়েশন ক্লাবকে। এটিকে মোহনবাগানের বিরুদ্ধে সেই ভুল করেনি মালদ্বীপের দলটি। শুরু থেকেই সতর্ক। ম্যাচের সূচনা থেকেই অবশ্য সবুজমেরুণের আক্রমণের চাপ অনেক বেশি ছিল। তবে প্রতি আক্রমণে উঠে এসে গোল তুলে নেয় মাজিয়া। খেলার গতির বিরুদ্ধে এগিয়ে যায় মালদ্বীপের দলটি। ২৫ মিনিটে প্রতি আক্রমণে উঠে এসে ডানদিক থেকে বক্সের মধ্যে মাইনাস করেন। আইজল ইব্রাহিম হালকা পুশে বল জালে পাঠান। শুভাশিস জায়গায় ছিলেন না। দুজন ডিফেন্ডার একসঙ্গে ট্যাকেলে যাওয়ায় আইজল ইব্রাহিম ফাঁকা হয়ে যান। ৩২ মিনিটে সমতা ফেরানোর সুযোগ পেয়েছিল। লিস্টন কোলাসোর দুরন্ত ফ্রিকিক মাজিয়া গোলকিপার কর্নারের বিনিময়ে বাঁচান। হুগো বুমোকে প্রথমার্ধে মাঠে নামাননি হাবাস। তাঁর অভাব বারবার চোখে পড়ছিল। রয় কৃষ্ণা সেভাবে বল পাচ্ছিলেন না। ডেভিড উইলিয়ামসও ছিলেন একেবারে নিষ্প্রভ। ফলে এটিকে মোহনবাগানের আক্রমণভাগ প্রথমার্ধে সেভাবে জ্বলে উঠতে পারেননি। সবুজমেরুনে মাঝমাঠে ফাঁক তৈরি হয়। প্রথমার্ধে সেটাই কাজে লাগায় মাজিয়া।আরও পড়ুনঃ বর্ধমান আদালতের লক্লার্ককে অপহরণ করে মুক্তিপন দাবি, গ্রেপ্তার অপহরণকারীম্যাচের বিরতিতে আন্তোনিও লোপেজ হাবাসের পেপ টক বদলে দেয় এটিকে মোহনবাগানকে। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই গোল তুলে নেয় সবুজমেরুন। ৪৯ মিনিটে আশুতোষ মেহতার সেন্টার থেকে হেডে সমতা ফেরান লিস্টন কোলাসো। ৬৩ মিনিটে ডেভিড উইলিয়ামসের পরিবর্তে হুগো বুমোকে মাঠে নামান হাবাস। তিনি মাঠে আসার সঙ্গে সঙ্গে বদলে যায় এটিকে মোহনবাগান। ৬৫ মিনিটে বুমোর বাড়ান বল লিস্টন গোল লক্ষ্য করে শট নেন। গোলকিপারের গায়ে লেগে ফিরে এলে সেই বল ঠান্ডা মাথায় জালে পাঠান রয় কৃষ্ণা। ৭৮ মিনিটে সেই হুগো বুমোর পাশ থেকে ৩১ করেন মনবীর সিং। এটিকে মোহনবাগানের পরের ম্যাচ বাংলাদেশের বসুন্ধরা কিংসের বিরুদ্ধে। সেই ম্যাচে ড্র করলেই পরের রাউন্ডে পৌঁছে যাবে এটিকে মোহনবাগান।

আগস্ট ২১, ২০২১
খেলার দুনিয়া

‌ATK Mohunbagan : আজ মাজিয়ার বিরুদ্ধে জিতলেই এএফসি কাপের পরের পর্ব নিশ্চিত বাগানের

মরশুমের প্রথম ম্যাচে এএফসি কাপে বেঙ্গালুরু এফসির বিরুদ্ধে আধিপত্য নিয়ে জিতেছে এটিকে মোহনবাগান। আজ মালদ্বীপের মাজিয়া স্পোর্টস অ্যান্ড রিক্রিয়েশন ক্লাবের বিরুদ্ধে খেলতে নামছে আন্তেনীয় লোপেজ হাবাসের দল। মাজিয়ার বিরুদ্ধে জিতলেই পরের পর্বে যাওয়া নিশ্চিত হয়ে যাবে সবুজমেরুণ শিবিরের। আজই পরের পর্বে যাওয়া নিশ্চিত করতে চান রয় কৃষ্ণারা। তবে আজ সতর্কভাবে মাঠে নামতে চান হাবস।আরও পড়ুনঃ ভোট পরবর্তী হিংসায় সিবিআই তদন্তের নির্দেশমাজিয়ার স্পোর্টস অ্যান্ড রিক্রিয়েশন ক্লাবের বিরুদ্ধে এগিয়ে থেকেই মাঠে নামবে এটিকে মোহনবাগান। প্রথম ম্যাচে বেঙ্গালুরু এফসির বিরুদ্ধে জয় দলের ফুটবলারদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে। তাছাড়া বাংলাদেশের বসুন্ধরা কিংসের কাছে গ্রুপ লিগের প্রথম ম্যাচ হেরে বেশ চাপে রয়েছে মাজিয়া। পরের রাউন্ডে যাওয়ার আশা টিকিয়ে রাখতে গেলে আজ মোহনবাগানের বিরুদ্ধে জিততেই হবে মালদ্বীপের এই দলটিকে।আরও পড়ুনঃ শরিকী বিবাদে কিংবদন্তী গোষ্ঠ পালও আজ দুভাগবেঙ্গালুরু এফসির বিরুদ্ধে যথেষ্ট ইতিবাচক ফুটবল উপহার দিয়েছিল সবুজমেরুণ শিবির। মাজিয়ার বিরুদ্ধে সেটাই ধরে রাখতে চান এটিকে মোহনবাগান কোচ আন্তেনীয় লোপেজ হাবাস। তবে বিপক্ষ শিবিরকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। মাজিয়ার বিরুদ্ধে মাঠে নামর আগে হাবাস বলেন, মাজিয়া নতুন প্রতিপক্ষ। আগের ম্যাচে কী হয়েছে তা ভুলে আমাদের মাঠে নামতে হবে। প্রতিপক্ষকে সমীহ করতেই হবে। নিজেদের খেলায় আরও উন্নতি করতে হবে। নানা প্রতিকূলতা কাটিয়ে বেঙ্গালুরু এফসির বিরুদ্ধে দল জিতেছে। প্রথম ম্যাচ জিতলেও আত্মতুষ্টির কোনও জায়গা নেই। একটা বাজে দিন পরিস্থিতি বদলে দিতে পারে।সবুজমেরুণ কোচ আরও বলেন, বসুন্ধরা কিংসের বিরুদ্ধে মাজিয়ার খেলা দেখেছি। একইরকম স্ট্র্যাটেজিতে আমাদের বিরুদ্ধে নাও খেলতে পারে। আমাদের বিরুদ্ধে কী রকম স্ট্র্যাটেজিতে খেলে, সেটা দেখেই আমাদের খেলতে হবে। ওরা আমাদের চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিতে পারে, এটা মাথায় রেখেই মাঠে নামতে হবে।আরও পড়ুনঃ মধ্যস্থতাকারীর সঙ্গে বৈঠকেও সমস্যা মিটল না ইস্টবেঙ্গলেরঅন্যদিকে, প্রথম ম্যাচে হারের পর এটিকে মোহনবাগানের বিরুদ্ধে ঘুরে দাঁড়াতে মরিয়া মাজিয়া। কোচ রিস্টো ভিদাকোভিচের বলেন, বসুন্ধরা ম্যাচে আমার ফুটবলাররা নার্ভাস ছিল। নিজেদের স্বাভাবিক খেলা তুলে ধরতে পারিনি। শুরুতে ২ গোলে পিছিয়ে পড়ে ম্যাচেও ফিরতে পারিনি। ফুটবলারদের বলেছি আগের ম্যাচের কথা ভুলে গিয়ে মোহনবাগানের বিরুদ্ধে ফোকাস করতে। অতীতে মোহনবাগানের বিরুদ্ধে পয়েন্ট তোলার অভিজ্ঞতা রয়েছে মাজিয়া স্পোর্টসের।

আগস্ট ২১, ২০২১
  • ‹
  • 1
  • 2
  • ›

ট্রেন্ডিং

রাজ্য

স্কুল আছে, শিক্ষকও আছেন, কিন্তু পড়ুয়া শূন্য! রাজ্যের ৪১৩৩ স্কুল নিয়ে এবার বড় সিদ্ধান্ত

স্কুল রয়েছে, শিক্ষকও রয়েছেন। কিন্তু সেই স্কুলে পড়ুয়া নেই একজনও। রাজ্যে এমন পড়ুয়াশূন্য সরকারি ও সরকার পোষিত স্কুলের সংখ্যা ৪১৩৩। এবার এই স্কুলগুলির ভবিষ্যৎ নিয়ে পর্যালোচনা শুরু করেছে রাজ্য সরকার। ফাঁকা স্কুলবাড়িগুলি যাতে অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে না থাকে, তার জন্য বিকল্প ব্যবহারের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।জানা গিয়েছে, শিক্ষা সচিবের নির্দেশে ইতিমধ্যেই জেলাস্তরে এই কাজ শুরু হয়েছে। প্রতিটি জেলার জেলাশাসককে এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করতে বলা হয়েছে। কলকাতার ক্ষেত্রে কলকাতা পুরসভার কমিশনারকেও চিঠি পাঠানো হয়েছে।পড়ুয়াশূন্য স্কুলগুলির বর্তমান পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে জেলাস্তরে একটি কমিটি কাজ করবে। স্কুলগুলির ভবনের অবস্থা, পরিকাঠামো, অবস্থান এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় বিষয় যাচাই করা হবে। এরপর সংশ্লিষ্ট স্কুলবাড়ি ভবিষ্যতে কী কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে, সেই বিষয়ে প্রস্তাব তৈরি করবে কমিটি।শিক্ষা দফতরের হিসাব অনুযায়ী, রাজ্যে এমন ৪১৩৩টি স্কুল চিহ্নিত হয়েছে যেখানে বর্তমানে একজনও পড়ুয়া নেই। অথচ এই স্কুলগুলির সঙ্গে প্রায় ১৯ হাজার শিক্ষক যুক্ত রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। ফলে পড়ুয়া না থাকা স্কুলগুলির পরিকাঠামো এবং শিক্ষক সংক্রান্ত বিষয় নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।এই স্কুলবাড়িগুলিকে কী ভাবে কাজে লাগানো যায়, তা নিয়েও একাধিক সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কোনও স্কুলবাড়িতে স্বাস্থ্যকেন্দ্র তৈরি করা যেতে পারে। কোথাও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র চালু করার প্রস্তাব আসতে পারে। আবার কোনও ক্ষেত্রে বেসরকারি সংস্থার সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে পিপিপি মডেলে স্কুল চালানোর সম্ভাবনাও বিবেচনা করা হতে পারে।তবে কোনও স্কুলের ভবিষ্যৎ কী হবে, তা এখনই চূড়ান্ত হয়নি। জেলাস্তরের কমিটি পরিকাঠামো ও স্থানীয় প্রয়োজন যাচাই করার পর প্রস্তাব পাঠাবে। সেই প্রস্তাবের ভিত্তিতেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।জানা গিয়েছে, আগামী ৩০ দিনের মধ্যে এই পর্যালোচনা এবং প্রস্তাব তৈরির প্রক্রিয়া শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ফলে রাজ্যের ৪১৩৩ পড়ুয়াশূন্য স্কুলের ভবিষ্যৎ নিয়ে আগামী কয়েক সপ্তাহেই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত সামনে আসতে পারে।পড়ুয়া না থাকা স্কুলগুলির ভবন যাতে দীর্ঘদিন ফাঁকা পড়ে না থাকে, সেই লক্ষ্যেই বিকল্প ব্যবহারের পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। তবে কোন স্কুলে কী পরিবর্তন হবে, তা নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট এলাকার প্রয়োজন, ভবনের পরিকাঠামো এবং জেলাস্তরের কমিটির রিপোর্টের উপর।

সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

জাপানে পৌঁছনোর পর থেকেই ভোগান্তি, ১০ ঘণ্টা পথেই! এশিয়ান গেমসে কেন এমন পরিণতি বরুণের?

প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা পরিষদের এক সদস্যের পুত্র বরুণ সান্যাল এশিয়ান গেমসে ভারতের হয়ে মিক্সড মার্শাল আর্টে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পেয়েছিলেন। কিন্তু প্রতিযোগিতায় নামার আগেই অসুস্থ হয়ে পড়ায় শেষ পর্যন্ত তাঁকে প্রতিযোগিতা থেকে নাম প্রত্যাহার করতে হয়েছে।এবারই এশিয়ান গেমসে মিক্সড মার্শাল আর্ট অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। ৭৭ কেজি বিভাগে ভারতের প্রথম পুরুষ প্রতিনিধি হিসেবে নামার কথা ছিল বরুণের। জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক স্তরে তাঁর পারফরম্যান্সের ভিত্তিতেই এশিয়ান গেমসে সুযোগ পান তিনি। তবে প্রথমে নির্বাচিত ক্রীড়াবিদদের তালিকায় তাঁর নাম ছিল না। পরে সংশোধিত তালিকায় জায়গা পান বরুণ।রবিবার প্রতিযোগিতায় নামার কথা ছিল তাঁর। তার আগে ওজন নিয়ন্ত্রণের জন্য সনায় যান বরুণ। ওজনভিত্তিক লড়াইয়ে নামার আগে অনেক প্রতিযোগীই সনায় গিয়ে শরীরের অতিরিক্ত জল কমিয়ে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখেন। কিন্তু সনায় যাওয়ার পরই অসুস্থ হয়ে পড়েন বরুণ।জানা গিয়েছে, প্রচণ্ড গরমের কারণে অতিরিক্ত ঘাম হচ্ছিল। এর পর তাঁর পেশিতে টান ধরে এবং শরীরে জলের পরিমাণও আশঙ্কাজনক ভাবে কমে যায়। রাত একটা নাগাদ সনাতেই জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন তিনি। এক নেপালি ক্রীড়াবিদ বিষয়টি দেখতে পেয়ে তাঁকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান।চিকিৎসকেরা পরীক্ষা করার পর বরুণকে প্রতিযোগিতার জন্য অনুপযুক্ত বলে জানান। ফলে ৭৭ কেজি বিভাগে আর লড়াইয়ে নামার অনুমতি পাননি তিনি। শেষ পর্যন্ত এশিয়ান গেমস থেকেই নাম প্রত্যাহার করতে হয় তাঁকে।তবে বরুণের অসুস্থতার পিছনে শুধু সনার ঘটনাই নয়, জাপানে পৌঁছনোর পর থেকেই একাধিক সমস্যার মুখে পড়ার অভিযোগও উঠেছে। জানা গিয়েছে, এশিয়ান গেমসের ব্যবস্থাপনায় তাঁর নাম নথিভুক্ত করতেই দীর্ঘ সময় লেগেছিল। প্রায় ১০ ঘণ্টা ধরে একের পর এক দফতরে গিয়ে নথিভুক্তির কাজ শেষ করার চেষ্টা করতে হয়েছিল বলে অভিযোগ।এর পর থাকার ঘর নিয়েও সমস্যা তৈরি হয়। বরুণ যে ঘর পেয়েছিলেন, সেখানে আরও দুজন ক্রীড়াবিদকে থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। সেই সমস্যা মেটাতেও বেশ কয়েক ঘণ্টা সময় চলে যায়।এই সমস্ত সমস্যার কারণে পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়ার সুযোগও কমে যায় বলে অভিযোগ। পাশাপাশি ওজন নিয়ন্ত্রণের মধ্যে থেকে প্রয়োজনীয় পুষ্টিকর খাবার খাওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছিল বলে জানা গিয়েছে। শেষ পর্যন্ত ওজন ঠিক রাখতে সনায় যেতে হয়েছিল বরুণকে।কিন্তু সনায় গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ার পর চিকিৎসকেরা তাঁকে প্রতিযোগিতায় নামার অনুমতি দেননি। ফলে এশিয়ান গেমসে ইতিহাস তৈরির সুযোগ পেয়েও লড়াইয়ে নামতে পারলেন না বরুণ। তাঁর এই পরিস্থিতির জন্য এশিয়ান গেমসের ব্যবস্থাপনা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তবে পুরো বিষয়টি নিয়ে আয়োজকদের তরফে কী ব্যাখ্যা দেওয়া হয়, এখন সে দিকেই নজর।

সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬
দেশ

সপ্তাহে দু’দিন ছুটির দাবিতে ফের ধর্মঘট, মাসের শেষে টানা পাঁচ দিন বিপাকে গ্রাহক?

দেশজুড়ে ফের ব্যাঙ্ক পরিষেবা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সপ্তাহে পাঁচ দিন ব্যাঙ্ক চালু এবং শনি ও রবিবার ছুটির দাবিতে ব্যাঙ্ক কর্মীদের যৌথ মঞ্চ ফের দেশব্যাপী ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে। আগামী ২৮ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর টানা তিন দিন ধর্মঘটের কর্মসূচি রয়েছে। এর আগে ১১ সেপ্টেম্বরও দেশজুড়ে এক দিনের ধর্মঘট পালন করেছিলেন ব্যাঙ্ক কর্মীরা।ধর্মঘটের আগে এবং পরে সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে ব্যাঙ্ক পরিষেবা নিয়ে গ্রাহকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ২৬ সেপ্টেম্বর চতুর্থ শনিবার এবং ২৭ সেপ্টেম্বর রবিবার হওয়ায় ২৬ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত টানা পাঁচ দিন ব্যাঙ্কের স্বাভাবিক কাজকর্মে প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে কোন পরিষেবা কতটা ব্যাহত হবে, তা ব্যাঙ্কভেদে আলাদা হতে পারে।ব্যাঙ্ক কর্মী সংগঠনগুলির দীর্ঘদিনের অন্যতম দাবি হল সপ্তাহে পাঁচ দিন ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থা চালু করা। অর্থাৎ শনি ও রবিবার নিয়মিত ছুটি দেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছেন কর্মীরা। সেই দাবির পাশাপাশি আরও কিছু বিষয় নিয়ে আন্দোলন চলছে। দাবি পূরণ না হওয়ায় ফের ধর্মঘটের কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে বলে সংগঠনগুলির তরফে জানানো হয়েছে।এই পরিস্থিতিতে ধর্মঘটের প্রভাব কমাতে আগেভাগেই তৎপর হয়েছে কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রক। আর্থিক পরিষেবা দফতরের সচিবের নেতৃত্বে ২১ সেপ্টেম্বর একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ডাকা হয়েছে। সেখানে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক, আঞ্চলিক গ্রামীণ ব্যাঙ্ক, ইন্ডিয়ান ব্যাঙ্কস অ্যাসোসিয়েশন এবং নাবার্ডের শীর্ষ কর্তাদের উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে।ধর্মঘটের সময়ে ব্যাঙ্কিং পরিষেবা এবং গ্রাহকদের প্রয়োজনীয় পরিষেবা কী ভাবে যতটা সম্ভব সচল রাখা যায়, সেই বিষয়েই বৈঠকে আলোচনা হওয়ার কথা। ধর্মঘটের জেরে যাতে আর্থিক লেনদেন ও জরুরি পরিষেবায় বড় ধরনের সমস্যা না হয়, তার জন্য বিকল্প ব্যবস্থা নিয়েও আলোচনা হতে পারে বলে জানা গিয়েছে।সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে ধর্মঘটের সঙ্গে সপ্তাহান্তের ছুটি এবং ব্যাঙ্কের অর্ধবার্ষিক হিসাব বন্ধের সময়ও মিলে যাচ্ছে। ফলে ওই সময়ে গ্রাহক ও ব্যবসায়ীদের ব্যাঙ্ক সংক্রান্ত জরুরি কাজকর্মে সমস্যা তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।অন্য দিকে, কর্মী সংগঠনগুলির কর্মসূচি এখানেই শেষ নয়। তাঁদের দাবি পূরণ না হলে পরবর্তী সময়ে আরও বড় আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে। ফলে সপ্তাহে পাঁচ দিন ব্যাঙ্ক চালুর দাবি ঘিরে কর্মী সংগঠন, ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ এবং সরকারের মধ্যে আলোচনা কোন দিকে যায়, এখন সে দিকেই নজর।

সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬
কলকাতা

শতাব্দীপ্রাচীন গ্যালিফ স্ট্রিটের সখের হাটে বড় ধাক্কা! আদালতের নির্দেশে বন্ধ পোষ্য বিক্রি

উত্তর কলকাতার শতাব্দীপ্রাচীন গ্যালিফ স্ট্রিটের সখের হাটে বেআইনি পাখি, মাছ, কুকুরছানা-সহ বিভিন্ন পোষ্য বিক্রি বন্ধে নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাই কোর্ট। বুধবার আদালতের তরফে এই নির্দেশ দেওয়া হয়। রবিবার থেকেই সেই নির্দেশ কার্যকর করার কথা ছিল। কলকাতা পুলিশ এবং শুল্ক দফতরকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, রবিবার সকাল থেকেই গ্যালিফ স্ট্রিটের সখের হাটে নজরদারি শুরু হয়। কলকাতা পুলিশ এবং শুল্ক দফতরের আধিকারিকেরা বাজারে গিয়ে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন। বাজারের ব্যবসায়ীদের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই আলোচনা শুরু হয়েছে।বাজারের সংগঠনের তরফেও মাইকিং করা হয়। বিভিন্ন জায়গায় ব্যানার টাঙিয়ে ব্যবসায়ীদের আদালতের নির্দেশ সম্পর্কে জানানো হচ্ছে। একই সঙ্গে বাজারের সদস্যদের কলকাতা পুরসভার ট্রেড লাইসেন্স থাকা বাধ্যতামূলক বলেও জানানো হয়েছে।গ্যালিফ স্ট্রিটের এই সখের হাট দীর্ঘদিনের পুরনো। বাজারের ব্যবসায়ীদের দাবি, কয়েক দশক ধরে তাঁরা এখানে ব্যবসা করছেন। তাঁদের বক্তব্য, এক সময় সরকারই তাঁদের এখানে বসার অনুমতি দিয়েছিল। এখন ট্রেড লাইসেন্স সংক্রান্ত নিয়ম সামনে আসায় বহু ব্যবসায়ী সমস্যায় পড়েছেন।সখের হাটের সদস্য অমর চক্রবর্তী জানিয়েছেন, বাজারে সাতশোরও বেশি সদস্য রয়েছেন। তাঁর দাবি, এটি শতাব্দীপ্রাচীন বাজার এবং বহু মানুষ দীর্ঘদিন ধরে এখানে ব্যবসা করছেন। কিন্তু কলকাতা পুরসভার ট্রেড লাইসেন্স না থাকলে ব্যবসা চালানো নিয়ে নতুন করে সমস্যা তৈরি হয়েছে।অমর বলেন, যত দিন এই রাস্তার উপর ব্যবসার জন্য ট্রেড লাইসেন্সের বিষয়টি মীমাংসা না হচ্ছে, তত দিন ব্যবসা চালানো যাবে না বলে জানানো হয়েছে। অনেক ব্যবসায়ীর কাছেই সেই লাইসেন্স নেই বলেও জানিয়েছেন তিনি। তবে আদালতের নির্দেশ তাঁরা মেনে নিয়েছেন বলে স্পষ্ট করেছেন সখের হাটের ওই সদস্য।গ্যালিফ স্ট্রিটের সখের হাটে পাখি ও বিভিন্ন পোষ্য বিক্রি নিয়ে এর আগেও প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে দেশীয় পাখি কেনাবেচা আইনত নিষিদ্ধ হওয়ায় এই বাজারে নজরদারি চালিয়েছে বন দফতর। অতীতে এই বাজারে বেআইনি পাখি বিক্রির অভিযোগে অভিযান এবং পাখি উদ্ধারের ঘটনাও ঘটেছে।এ বার কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশের পর বিষয়টি আরও গুরুত্ব পেয়েছে। রবিবার থেকেই বাজারে পুলিশ ও শুল্ক দফতরের আধিকারিকদের উপস্থিতি দেখা যায়। ফলে আদালতের নির্দেশ কতটা কার্যকর করা যায় এবং ব্যবসায়ীদের মধ্যে কত জন প্রয়োজনীয় নথি ও লাইসেন্স দেখাতে পারেন, সে দিকেই এখন নজর।তবে এই নির্দেশের ফলে বাজারের দীর্ঘদিনের ব্যবসায়ীদের ভবিষ্যৎ কী হবে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সাতশোর বেশি সদস্যের এই পুরনো বাজারে কত জন বৈধ ভাবে ব্যবসা চালাতে পারবেন, কত জনকে নতুন নিয়ম মেনে চলতে হবে, তা আগামী দিনে আরও স্পষ্ট হবে।গ্যালিফ স্ট্রিটের সখের হাটের ক্ষেত্রে এখন মূল বিষয় দুটিআদালতের নির্দেশ মেনে বেআইনি পোষ্য বিক্রি বন্ধ করা এবং বৈধ ব্যবসার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় অনুমতি ও ট্রেড লাইসেন্স নিশ্চিত করা। আদালতের নির্দেশ কার্যকর হওয়ার পর বাজারের চেহারা কতটা বদলায়, সেটিই এখন দেখার।

সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬
রাজ্য

কিষানজির ছায়াসঙ্গী মঙ্গল, সঙ্গে স্ত্রী মালতী! জঙ্গলমহলে বড় সাফল্যের দাবি এসটিএফের

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে আত্মগোপনে থাকা মাওবাদী দম্পতি মঙ্গল মাহাতো ও তাঁর স্ত্রী মালতী মুর্মুকে পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনি এলাকা থেকে আটক করা হয়েছে বলে খবর। শনিবার দুপুরে শালবনি থানার সরবেড়িয়া গ্রামের একটি বাড়ি থেকে তাঁদের এসটিএফের হাতে আসার খবর ছড়ায়। তবে তাঁরা গ্রেফতার হয়েছেন, নাকি আত্মসমর্পণ করেছেন, তা নিয়ে রাত পর্যন্ত সরকারি ভাবে স্পষ্ট কোনও তথ্য পাওয়া যায়নি।মঙ্গল মাহাতো পুলিশের খাতায় পতিত মাহাতো, পাপ্পু, সমীর এবং পান্ডে নামেও পরিচিত। পুলিশ সূত্রের দাবি, তিনি সিপিআই মাওবাদীর সাব জোনাল কমিটির সদস্য ছিলেন। ঝাড়খণ্ড পুলিশের তরফে তাঁর মাথার দাম পাঁচ লাখ টাকা ঘোষণা করা হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। তাঁর স্ত্রী মালতী মুর্মু সংগঠনের এরিয়া কমিটির সদস্য ছিলেন বলে পুলিশ সূত্রে দাবি। তাঁর বিরুদ্ধেও দুই লাখ টাকার পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছিল।পুলিশের দাবি, মঙ্গলের হাতে একে-৪৭ এবং মালতীর হাতে ইনসাস রাইফেল থাকত। তবে তাঁদের কাছ থেকে অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে কি না, সে বিষয়ে সরকারি ভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।মঙ্গল মাহাতো দীর্ঘদিন ধরে মাওবাদী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে পুলিশ সূত্রে দাবি। পরিবারের তরফে জানা গিয়েছে, ২০০৮ সালে তিনি মাওবাদী কার্যকলাপে যুক্ত হন। প্রথমে বার্তাবাহক হিসেবে কাজ করার পর স্কোয়াডের সদস্য হন। ২০০৯ সালে নবম শ্রেণিতে পড়ার সময় সশস্ত্র সংগঠনে যোগ দেন বলে তাঁর পরিবারের দাবি।লালগড় আন্দোলনের সময় মঙ্গলের সক্রিয় ভূমিকা ছিল বলেও পুলিশ সূত্রে দাবি। পরে তিনি মাওবাদী নেতা কিষানজির দেহরক্ষী হিসেবে কাজ করেছিলেন বলে জানা যায়। কিষানজির মৃত্যুর সময় সুচিত্রা মাহাতো ছাড়া মঙ্গলই সেখানে উপস্থিত ছিলেন বলে পুলিশের নথিতে উল্লেখ রয়েছে। ওই সময় বাহিনীর ঘেরাটোপ পেরিয়ে তিনি পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছিলেন বলেও জানা গিয়েছে।মালতী মুর্মুর জীবনও অল্প বয়সেই মাওবাদী সংগঠনের সঙ্গে জড়িয়ে যায় বলে পুলিশ সূত্রে দাবি। ঝাড়গ্রামের বেলপাহাড়ি এলাকার বাসিন্দা মালতী ছোটবেলাতেই মাকে হারান। পরে জ্যাঠার বাড়িতে বড় হন। প্রায় ১৫ বছর বয়সে তিনি মাওবাদী স্কোয়াডে যোগ দেন বলে পরিবারের তরফে জানা গিয়েছে। পরবর্তী সময়ে মঙ্গল ও মালতীর মধ্যে সহকর্মী হিসেবে সম্পর্ক তৈরি হয় এবং তাঁরা বিয়ে করেন।২০১১ সালের পর দুজনেই ঝাড়খণ্ডে মাওবাদী নেতা আকাশের স্কোয়াডে যোগ দেন বলে পুলিশ সূত্রে দাবি। প্রথমে বাংলা লাগোয়া পূর্ব সিংভূমের জঙ্গলে, পরে দলমা ও সারান্ডার জঙ্গলে তাঁদের ঘোরাফেরা ছিল বলে তদন্তকারীদের দাবি। দীর্ঘ সময় ধরে তাঁরা সংগঠনের পূর্বাঞ্চলীয় ঘাঁটির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলেও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।এর মধ্যে যৌথ বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযানের জেরে আকাশ-সহ কয়েক জন মাওবাদী বাংলার দিকে ফিরেছিলেন বলে পুলিশ সূত্রে দাবি। আগস্ট মাসে মদন মাহাতো, বীরেন সিং এবং মীরা পাহাড়িয়াকে ঝাড়খণ্ড পুলিশ গ্রেফতার করে। পরে অনিতা কায়েম আত্মসমর্পণ করেন বলে জানা যায়।সংগঠনের সদস্য সংখ্যা কমে যাওয়ার পর আকাশও জঙ্গল ছেড়ে শহরের দিকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন বলে তদন্তকারীদের দাবি। তাঁর সঙ্গে থাকা কয়েক জনের বিরুদ্ধেও পরে পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে আত্মসমর্পণের উদ্যোগ নেওয়ার খবর প্রকাশ্যে আসে।এই পরিস্থিতিতেও মঙ্গল ও মালতী জঙ্গলেই ছিলেন বলে পুলিশ সূত্রে দাবি। তাঁদের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র ছিল বলেও তদন্তকারীরা জানতে পারেন বলে খবর। এর মধ্যেই বৃহস্পতিবার পূর্ব মেদিনীপুরের পটাশপুরের লালাট গ্রামে শ্বশুরবাড়ি থেকে আকাশকে এসটিএফ গ্রেফতার করে।আকাশকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের পর মঙ্গল মাহাতোর সম্ভাব্য অবস্থান সম্পর্কে তদন্তকারীরা তথ্য পান বলে পুলিশ সূত্রে দাবি। আকাশের গ্রেফতারের খবর প্রকাশ্যে আসার পর মঙ্গল জঙ্গলে আগ্নেয়াস্ত্র লুকিয়ে স্ত্রীকে নিয়ে গাড়িতে করে পশ্চিম মেদিনীপুরের দিকে চলে আসেন বলেও তদন্তকারীদের দাবি।এর পরেই শালবনির সরবেড়িয়া গ্রামে মদন মাহাতোর এক আত্মীয়ের বাড়িতে তাঁদের অবস্থানের খবর পাওয়া যায়। সেখান থেকেই শনিবার দুজনকে এসটিএফ নিজেদের হেফাজতে নেয় বলে সূত্রের খবর।তবে এই ঘটনায় এখনও কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর স্পষ্ট নয়। মঙ্গল ও মালতীকে গ্রেফতার করা হয়েছে, নাকি তাঁরা পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন, তা সরকারি ভাবে জানানো হয়নি। তাঁদের কাছ থেকে কোনও অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে কি না, সেটিও এখনও স্পষ্ট নয়। এসটিএফের তরফে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি সামনে এলে গোটা ঘটনা আরও পরিষ্কার হবে।

সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬
কলকাতা

মমতাকে হারানোর ছক নাকি ক্যামাক স্ট্রিটে! ঋতব্রতর বিস্ফোরক দাবিতে তোলপাড়

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে ঘিরে তৃণমূলের অন্দরের দ্বন্দ্ব নিয়ে নতুন করে বিস্ফোরক দাবি করলেন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। একটি সাক্ষাৎকারে তাঁর দাবি, ক্যামাক স্ট্রিট থেকে তৃণমূলের ১৪ জন প্রার্থীকে হারানোর পরিকল্পনা করা হয়েছিল। সেই তালিকায় প্রথম নাম ছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। এই দাবির স্বপক্ষে তাঁর কাছে নাকি প্রমাণও রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।ঋতব্রতর বক্তব্য অনুযায়ী, ভোটের অনেক আগে থেকেই তৃণমূলের ভিতরে নবীন ও প্রবীণ নেতৃত্বের মধ্যে মতপার্থক্য তৈরি হয়েছিল। এক দিকে ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুগামীরা, অন্য দিকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত তরুণ নেতাদের একটি অংশ। ভোটের আগে প্রকাশ্যে সেই দ্বন্দ্ব খুব বেশি দেখা না গেলেও দলের ভিতরে টানাপোড়েন চলছিল বলে দাবি ঋতব্রতর।তাঁর অভিযোগ, এই পরিস্থিতির মধ্যেই তৃণমূলের ১৪ জন প্রার্থীকে হারানোর পরিকল্পনা করা হয়েছিল। তাঁর দাবি, ওই তালিকার প্রথম নাম ছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। তালিকায় আরও কয়েক জন গুরুত্বপূর্ণ তৃণমূল নেতার নাম ছিল বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। তবে ওই ১৪ জনের সম্পূর্ণ তালিকা প্রকাশ্যে আসেনি।ঋতব্রত আরও দাবি করেছেন, যাঁদের হারানোর পরিকল্পনা করা হয়েছিল, তাঁদের নির্বাচনী এলাকায় দলের গুরুত্বপূর্ণ কর্মীদের নিষ্ক্রিয় করে দেওয়া এবং নির্বাচনী এজেন্টদের সমস্যায় ফেলার মতো পদক্ষেপ করা হয়েছিল। তাঁর অভিযোগ, এই ধরনের নির্দেশ দলের ভিতর থেকেই দেওয়া হয়েছিল।এই দাবির সঙ্গে ভবানীপুরের নির্বাচনী ঘটনাকেও জুড়ে দেখার চেষ্টা করছেন ঋতব্রত। তাঁর বক্তব্য, ভবানীপুরে ভোটগণনার সময় তৃণমূলের এক এজেন্টকে কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেও গণনাকেন্দ্রে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন বলে সেই সময় খবর প্রকাশিত হয়েছিল। তবে ওই ঘটনার সঙ্গে ঋতব্রতর বর্তমানে করা অভিযোগের সরাসরি যোগ রয়েছে কি না, তা প্রমাণিত নয়।ঋতব্রতর দাবি, তাঁর কাছে এই অভিযোগের সমর্থনে যথেষ্ট সাক্ষ্যপ্রমাণ রয়েছে। প্রয়োজন হলে আদালতেও সেই প্রমাণ পেশ করতে পারেন বলে জানিয়েছেন তিনি। তবে এখনও পর্যন্ত তাঁর এই অভিযোগের স্বাধীন কোনও প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি।অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বা তৃণমূলের পক্ষ থেকে এই নির্দিষ্ট অভিযোগের কোনও জবাব এই প্রতিবেদনে যুক্ত করা যাচ্ছে না। ফলে ১৪ জন প্রার্থীকে হারানোর পরিকল্পনা, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম তালিকার প্রথমে থাকা এবং ক্যামাক স্ট্রিট থেকে নির্দেশ যাওয়ার অভিযোগসবই আপাতত ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য হিসাবেই থাকছে।মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েন নিয়ে গত কয়েক মাসে একাধিক নেতা প্রকাশ্যে মন্তব্য করেছেন। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে দলের ভিতরে-বাইরে বিতর্কও হয়েছে। ফলে ঋতব্রতর এই নতুন দাবি সেই রাজনৈতিক বিতর্ককে আরও সামনে নিয়ে এসেছে।এখন প্রশ্ন, ঋতব্রত যে ১৪ জনের তালিকার কথা বলছেন, সেখানে আর কারা ছিলেন এবং তিনি যে সাক্ষ্যপ্রমাণের কথা বলেছেন, সেগুলি কী। সেই তথ্য প্রকাশ্যে এলে তাঁর অভিযোগের সত্যতা নিয়ে আরও স্পষ্ট ছবি পাওয়া যেতে পারে।

সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬
কলকাতা

যাদবপুরে তাণ্ডব! প্রাক্তন বিধায়কের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুরের অভিযোগ, নিশানায় একাধিক তৃণমূল কার্যালয়

শনিবার সন্ধ্যায় যাদবপুরের বিজয়গড়-সহ একাধিক এলাকায় হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়ায়। প্রাক্তন বিধায়ক তথা মেয়র পারিষদ দেবব্রত মজুমদার, যিনি মলয় মজুমদার নামেও পরিচিত, তাঁর বাড়িতে একদল দুষ্কৃতী হামলা চালায় বলে অভিযোগ। বাড়ির পাশাপাশি তাঁর কার্যালয়েও ভাঙচুর করা হয়েছে বলে দাবি। ঘটনাকে কেন্দ্র করে যাদবপুর থানায় লিখিত অভিযোগও দায়ের করা হয়েছে।মলয় মজুমদারের অভিযোগ, হামলাকারীদের একটি দল তাঁর বিজয়গড়ের বাড়িতে ঢুকে ভাঙচুর চালায়। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয় এবং তাঁর দাদা ও বউদিকে মারধর করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি। হামলার সময় বাড়ির নিরাপত্তা ব্যবস্থারও ক্ষতি করা হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।প্রাক্তন বিধায়কের অভিযোগ, এই হামলার নেপথ্যে বিজেপির দুই নেতা অনুপম তালুকদার ও সজল বসুর নেতৃত্ব রয়েছে। তাঁদের দলবলই হামলা চালিয়েছে বলে দাবি মলয়ের। তবে এই অভিযোগের সঙ্গে বিজেপির যোগের বিষয়টি এখনও পুলিশের তদন্তে প্রমাণিত হয়নি।মলয় আরও অভিযোগ করেছেন, পুরভোট না হওয়া পর্যন্ত এলাকায় তৃণমূলের দলীয় কার্যালয় খোলা যাবে না বলে হুমকি দেওয়া হয়েছে। এমনকি দলের কর্মীদেরও নানা ভাবে ভয় দেখানো হয়েছে বলে তাঁর দাবি।শুধু মলয় মজুমদারের বাড়ি নয়, ১০২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সীমা ঘোষের বাড়িতেও হামলার অভিযোগ উঠেছে। তাঁর দাবি, বাড়িতে ঢুকে দলের মহিলা কর্মীদের মারধর করা হয়। তাঁদের সঙ্গে অশালীন আচরণ এবং শ্লীলতাহানির অভিযোগও সামনে এসেছে।এর পর যাদবপুরের একাধিক এলাকায় তৃণমূলের দলীয় কার্যালয় নিয়েও উত্তেজনা ছড়ায়। আনন্দপল্লি, বিজয়গড়, বাঘাযতীন ডি ব্লক-সহ কয়েকটি জায়গায় দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর করে পরে তালা লাগিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। হামলাকারীরা পুরভোটের আগে পর্যন্ত ওই কার্যালয় ব্যবহার করা যাবে না বলে হুমকি দিয়েছে বলে অভিযোগ।সীমা ঘোষের অভিযোগ, তাঁকেও এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে। পুরভোট না হওয়া পর্যন্ত এলাকায় থাকা যাবে না এবং বিজেপি বা রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কোনও কথা বলা যাবে না বলেও হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে তাঁর দাবি।ঘটনার পর যাদবপুরের বিভিন্ন এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুধু তৃণমূলের কার্যালয় বা মলয় মজুমদারের বাড়িই নয়, এলাকার একাধিক রাজনৈতিক কার্যালয়েও হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। ফলে শনিবার সন্ধ্যার ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় রাজনৈতিক সংঘাতের আশঙ্কা আরও বেড়েছে।অন্য দিকে, মলয় মজুমদারের অভিযোগ সরাসরি খারিজ করেছে বিজেপি। দলের তরফে দাবি করা হয়েছে, এই হামলার সঙ্গে বিজেপির কেউ যুক্ত নয়। স্থানীয় মানুষের ক্ষোভ বা জনরোষের জেরেই এই ধরনের ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে পালটা দাবি করেছে বিজেপি।ফলে যাদবপুরের ঘটনায় এখন মূল প্রশ্ন, হামলার পিছনে কারা ছিল এবং কেন একসঙ্গে একাধিক রাজনৈতিক নেতা ও দলীয় কার্যালয়কে নিশানা করা হল। মলয় মজুমদারের দায়ের করা অভিযোগ এবং অন্যান্য পক্ষের বক্তব্যের ভিত্তিতে ঘটনার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখছে প্রশাসন।

সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬
নিবন্ধ

তুমি আছো নীরবে - ভয়ঙ্কর রোমাঞ্চকর গল্প -(অন্তিম পর্ব)

দ্বিতীয় পর্বের পরঃসৌভিক, কিছু দরকার? স্নেহা, না সেরকম কিছু না, তোমার আর সায়নীর মধ্যে সব ঠিক আছে? সৌভিক, কেন বলোতো? স্নেহা, শেষ দুদিন দেখলাম সায়নী তোমায় খুব বাজে ভাবে এড়িয়ে চলছে। সৌভিক এবার নড়েচড়ে বসলো, স্নেহাও লক্ষ্য করেছে মানে এটা সৌভিকের মনের ভুল মোটেও নয় আর সায়নীর কি হয়েছে সেটা স্নেহার থেকে ভালো কেও বলতেও পারবেনা সুতরাং যখন সুযোগ নিজে হেঁটে এসেছে তখন সেটা কাজে লাগানোই বুদ্ধিমানের কাজ।সৌভিক, হ্যাঁ, সেটা ওই করছে, কিন্তু কেন করছে তার কোনো সদুত্তর আমার কাছে নেই, তোমার কাছে যদিও থাকে তবে তুমি বলতে পারো, আমি চেষ্টা করে দেখবো যদিও কিছু করতে পারি তো। স্নেহা, কি হয়েছে সেটা আমিও ঠিক জানিনা তবে তোমায় এটুকু বলতে পারি ওর মাথায় কিছু একটা চলছে আর আমাদের সাথে কিছু অদ্ভুত ঘটনাও ঘটছে, তোমার সাহায্য লাগবে। সৌভিক, কিরকম সাহায্য লাগবে? আর কি ঘটছে সেটা বললে ভালো হতো। স্নেহা, সব জানার দরকার নেই, শুধু তুমি আজ রাতের তৈরী থেকো। আমি যাকে সন্দেহ করছি সেই যদিও এসবের পিছনে থেকে থাকে তবে তাকে আজকেই আমরা হাতেনাতে ধরবো। এই বলে স্নেহা সৌভিকের কেবিন থেকে বাইরে বেরোয়, আজকেও রাহুল হন্তদন্ত হয়ে কোথায় যেন একটা বেরিয়ে গেলো।তখন সন্ধ্যে হয়ে এসেছে, সৌভিকের ভাড়া করে দেওয়া ট্যাক্সিটা এসে থামলো সায়নীদের এপার্টমেন্টটার সামনে।ট্যাক্সির ডানদিকের দরজাটা খুলে প্রথমে স্নেহা নামলো, তারপর সায়নী নামতে গেলো,কিন্তু সায়নী দেখলো আশেপাশের পরিবেশটা কেমন যেন আরো অন্ধকার হয়ে এসেছে। ড্রাইভার সায়নীকে বললো, ম্যাম আপনি ঈশানের সাথে এরকম কেন করলেন? সায়নী ভয় পেলো ড্রাইভারের এই আকস্মিক প্রশ্নের সামনে, সায়নী দ্রুত গাড়ি থেকে নেমে এপার্টমেন্টর দিকে পা বাড়ালো কোনোদিকে না তাকিয়ে, কিন্তু আজ ঈশান যেন ওর পিছু ছাড়ছেনা, সায়নী যেখানে যেখানে যাচ্ছে সেখানে সেখানে আশেপাশের লোকজন ওর দিকে তাকিয়ে ওকে একই প্রশ্ন করছে, তুমি এটা ঈশানের সাথে কেন করলে? প্রথমে সিকিউরিটি গার্ড, তারপর পাশের ফ্ল্যাটের বৃদ্ধা, মাঠে খেলতে থাকা বাচ্চারা, আর বহুদূরে দাঁড়িয়ে ঈশান ওই একই হাসি নিয়ে ওর দিকে তাকিয়ে রয়েছে, ওর চোখে মুখে রক্ত লেগে, কি বীভৎস লাগছে ওকে। সায়নী এবার আর হাঁটলো না, ওই সোজাসুজি দৌড় দিলো, একের পর এক সিঁড়ি বেয়ে ওই উপরে উঠে দরজা ধাক্কাতে শুরু করলো কিন্তু ওর কাছে চাবি ছিলোনা, পাশে স্নেহাও নেই, ওই কোথায় গেলো?সিঁড়ি দিয়ে কেও একজন উপরে উঠে আসছে, পায়ের শব্দ শোনা যাচ্ছে, ধীরে ধীরে শরীরটাও স্পষ্ট হচ্ছে। একি এটা যে ঈশান, ওর দিকেই এগিয়ে আসছে, সায়নী আরো জোরে দরজা ধাক্কাতে শুরু করলো, ভয়ে আর্তনাদ করে উঠলো কিন্তু এই দুনিয়ায় যেন কেও নেই ওর আর্তনাদ শোনার মতো, কেও যেন নেই ওকে বাঁচানোর মতো। ঈশান হাঁটতে পারছেনা, ওর পা দুটো ভাঙ্গা আর একটা হাত নেই এখন দৃশ্যমান। সে এসে সায়নীর সামনে দাঁড়ালো আর মুখের ওই সরল হাসিটা এখন আর সরল লাগছেনা বরং ভয়ানক পৈশাচিক লাগছে। ঘরঘরে গলায় ঈশান বললো, সায়নী, কেমন আছো? শুনলাম তুমি নাকি প্রথম হয়েছো? সায়নী কাঁদতে কাঁদতে বললো, সরি ঈশান, আমি ভুল করেছি, প্লিজ আমায় ক্ষমা করো প্লিজ। ঈশান এবার আরো বিকৃত হাসি হাসলো, সরি? মনে আছে সেইদিনের কথা? ঠিক কিভাবে তুমি আমায় কিছু না করেও আমার মৃত্যুর কারণ হয়েছিল? কিভাবে একটা মধ্যবিত্ত বাড়ির বড়ো ছেলেকে তুমি শেষ করে দিয়েছিলে? তোমার বাবার তো অঢেল সম্পত্তি ছিল তোমার কি সত্যিই কিছু ক্ষতি হতো সায়নী? হতোনা, কিন্তু আমার হয়েছে, আমার পর আমার ভাইকে দেখার কেও ছিলোনা, মা অসুস্থ এখনো অপেক্ষা করে আমার ফেরার। তোমায় আমি ছাড়বোনা সায়নী, এভাবেই তুমিও শেষ হবে আর তোমার ওই অহংকারী বাবার কোল শূন্য হবে তবেই আমার প্রতিশোধ পূরণ হবে। সায়নী আরো জোরে চিৎকার করে উঠলো, তারপর বুঝলো ওকে জড়িয়ে ধরে রয়েছে স্নেহা, ওকে শান্ত করার চেষ্টা করছে আর সামনে দাঁড়িয়ে রাহুল।সায়নী যখন ওদের দেখলো তখন আরো কান্নায় ভেঙে পড়লো, রাহুল ও আমায় শেষ করে দেবে বলেছে প্লিজ বাঁচা আমায়। সায়নী রাহুলের পায়ে পরে কাকুতি মিনতি করতে শুরু করে দিলো।সায়নীর এই অবস্থা দেখে রাহুল ওকে ধরে উঠিয়ে দাঁড় করিয়ে বললো, ঘরে চল আমি আছি, আমি ওকে বুঝিয়ে বলবো ও এলে, তুই চিন্তা করিসনা। স্নেহা দরজা খুললো তারপর ওরা দুজনে সায়নীকে নিয়ে গিয়ে ঘরে শোয়ালো। কিছুক্ষণ দুজনেই সায়নীর পাশে বসে ওকে ঘুম পাড়ানোর চেষ্টা করলো, সায়নী ঘুমাতে রাহুল ডাইনিংএ এসে বসলো আর সামনের চেয়ারটা টেনে নিয়ে বসলো স্নেহা।রাহুল, আমার মনে হয় এবার আমার যাওয়া উচিত, সৃজা অপেক্ষা করছে হয়তো । স্নেহা, না রাহুলদা, তোমায় তো এখানে থাকতেই হবে।রাহুল স্নেহার দিকে একবার তাকায়, চোখে প্রশ্ন দৃশ্যমান।স্নেহা, থাকতে হবে তার কারণ এতক্ষন আমি ভাবছিলাম এই গল্প ঈশান আর সায়নীর প্রেমের কিন্তু ভুল ছিলাম, আসলে এই গল্পের মুখ্য চরিত্র তো তুমি, ওরাতো ব্যাস দুটো পার্শ্ব চরিত্র। তাই নয় কি?স্তম্ভিত রাহুল স্নেহার দিকে তাকিয়ে বললো, কি বলতে চাও তুমি? স্নেহা কোনো কথার উত্তর না দিয়ে নিজের ফোনটা বের করে একটা ছবি দেখিয়েছো রাহুলকে প্রশ্ন করে, এটাই তোমার ঈশান তাই না? রাহুল এবার আরো অবাক হয়,স্নেহা রাহুলকে বলে, কি রাহুলদা তুমি কি ভেবেছিলে, খেলা খেলতে শুধুই তুমি পারো? আমি পারিনা? আমি আগেই সৌভিককে পাঠিয়েছিলাম তোমার পিছনে। সন্দেহ আমার হয়েছিল তারও দুদিন আগে যখন আমি নিজে তোমায় ওই পাগলাগারদে ঢুকতে দেখেছিলাম, তখন সন্দেহ পুরো তৈরী হয়নি কিন্তু পরে হয়েছে, পরে হয়েছে এটা ভেবে যে যেদিন থেকে তুমি এসেছো তারপর থেকেই কেন ঈশানের আত্মা ওকে তাড়া করছে? আত্মার প্রতিশোধের ব্যাপার হলে তো সে অনেক আগেই আসতে পারতো। এই কেনর উত্তর খুঁজতে গিয়ে আমার মনে পড়লো তুমি ঠিক কিভাবে নিজের লাঞ্চবক্স বারবার সায়নীকে দিয়ে যেতে খাওয়ার জন্য। কেও সন্দেহ করতোনা কিন্তু আমি করেছি, কি ওষুধ মেশাতে ওতে?রাহুল স্নেহাকে বোঝানোর চেষ্টা করে যে সে যা ভাবছে তা সত্যি নয় কিন্তু স্নেহা যেন বোঝার ইচ্ছাতেই নেই।স্নেহা বলে চলে, চুপ করো রাহুলদা, আমার কাছে সব প্রমান আছে, আর ঈশান তো কোনোদিনও মরেই নি, ওই আছে ওই পাগলাগারদে যাকে তুমি রোজ দেখতে যাও, যাকে তোমার স্ত্রী সৃজাও দেখতে যায়, এসব তোমাদের প্ল্যান। আমি বিগত দুদিনে বারবার ওই জায়গায় গেছি, তোমাদের দেখেছি। একটা জীবিত মানুষের কিভাবে ভুত হয়ে কাওকে ভয় দেখায়? কেন করছো মেয়েটার সাথে এরকম? রাহুল এবার টেবিল চাপড়ে বলে, হ্যাঁ আমাদের প্ল্যান আর যা করেছি বেশ করেছি, আর সায়নীকে যতদিন না ওই বেডের পাশে এনে ফেলতে পারছি ততদিন আমি থামবোনা। ওর মতো ডাইনির সুস্থ শরীরে বেঁচে থাকার অধিকার নেই।স্নেহা, মুখ সামলে রাহুলদা, কে ডাইনি? তোমার বন্ধুকে না করেছিল বলে ডাইনি হয়ে গেলো? বাহ্ রে বাহ্ এইতো পুরুষতান্ত্রিক সমাজের আদর্শ পুরুষ। বলি ঘেন্না হয়না নিজের উপর?রাহুলের চোখে মুখে বিরক্তির ছাপ স্পষ্ট, সাথে যখন এই ঘৃণা শব্দটা সে শুনলো যেন তার কান লাল হয়ে ধোঁয়া বেরোবে, সে বললো , ঠিক আছে তুমি যখন এতদূর বললে তবে পুরোটা শোনো আর তারপর যদি তোমার মনে হয় আমি দোষী তবে পুলিশ ডেকো আমি নিজে ধরা দেবো। এই বলে রাহুল নিজের ফোনে 101 ডায়েল করে স্নেহার হাতে দিয়ে বলে, যদি মনে হয় আমি ভুল আমার কথা শোনার পরেও তবেই ফোন করো। স্নেহা, ঠিক আছে বলো, সব অপরাধীকেই শেষবারের নিজের স্বপক্ষে যুক্তি দেওয়ার সুযোগ দেওয়া উচিত।রাহুল বলতে শুরু করে - ফার্স্ট ইয়ারে যখন ঈশান আসে তখন ও খুবই সহজ সরল একটা ছেলে ছিল তবে প্রতিবাদে কোনোদিনও পিছু হাটতো না। ওর ওই গুন ওকে ইউনিয়নের অনেকের কাছেই পছন্দের পাত্র করে তুলেছিল। তো এই ঈশান ছিল পড়াশোনায় দুর্দান্ত, ওর বাবা ছিলোনা। মা আর ভাইয়ের দায়িত্ব ওর উপরেই ছিল আর সেই জন্য দিনরাত খেতে পড়াশোনা করতো। প্রথম সেমেস্টারের রেজাল্ট যখন আসে তখন ওই প্রথম হয় আর অবাক করা বিষয়ে সায়নী যে কিনা বিক্রমের সাথে সবসময় ঘুরতো সে বন্ধুত্বের হাত বাড়ায় ঈশানের দিকে। মাঝে মাঝেই নিজের চারচাকায় নিয়ে ওকে ঘুরতে যেত, বড়ো বড়ো রেস্টুরেন্টে দুজনকে একসাথে দেখতে পেতাম। আমি অতটা ভাবিনি বিষয়টা নিয়ে, ক্রমে বছর ঘুরলো দুজনে এই সম্পর্ককে বন্ধুত্ব বললেও কেও বিশ্বাস করতোনা আর উল্টোদিকে বিক্রমও ব্যাপারটা মেনে নিতে পারতোনা যে সায়নী ঈশানের সাথে সবসময় থাকে।মাঝে মাঝে বুঝতে পারতাম ঈশান সায়নীকে শুধু বন্ধু আর ভাবেনা।রাহুল একটু থামে ওর গলা ধরে এসেছে, টেবিলের উপরে রাখা জলের বোতল থেকে খানিকটা জল খায় তারপর বলে, তখন লাস্ট সেমিস্টার, পরীক্ষা শুরুর আগেরদিন ঈশানকে নিয়ে সায়নী কোথায় একটা গেলো। বেশ কিছুক্ষন পর যখন ঈশান ফিরলো ওই খুব খুশি ছিল, ও নিজের মাকে পর্যন্ত ফোন করে সায়নীর ব্যাপারে বললো আর আমায় বললো সায়নী নাকি বলেছে সায়নী ওকে বিয়ে করতে চায়। ব্যাপারটায় আমি খুবই খুশি হয়েছিলাম, যাক শেষ পর্যন্ত সব ভালো হচ্ছে।কিন্তু বুঝিনি এটা সবে শুরু, পরেরদিন থেকে সায়নী কেমন যেন বদলে গেলো, ঈশানকে পাত্তা দিতোনা, কথা বলার সুযোগটুকু দিতোনা আর রাতে বাড়ি ফিরে ঈশান মেসেজ করার চেষ্টা করলে সেখানেও ওকে পেতোনা।এভাবে দুটো পরীক্ষা শেষ হলো, পরীক্ষার শেষে ঈশান আমায় ওর হোয়াটস্যাপ দেখিয়ে বললো একটাও মেসেজ সায়নীর কাছে নাকি ডেলিভার হচ্ছেনা। আমি দেখলাম আর বুঝলাম সায়নী ওকে ব্লক করেছে, এটা জানতে পেরে ওই বেচারা আর থাকতে পারেনি তখনই ক্লাসের মাঝে গিয়ে সায়নীকে প্রশ্ন করে যে ওই এমন কেন করলো। সায়নীর ব্যবহার আরো খারাপ ছিল, ও সেসময় হাসে আর ঈশানকে বলে যে ঈশান কখনো নিজের ক্লাস নিয়ে ভেবেছে? কোথায় ঈশানের কুঁড়েঘর আর কোথায় সায়নীর বাবার রাজপ্রাসাদ, ঈশানের কোনো যোগ্যতা নেই সায়নীর পাশে। তারপর বিক্রমের হাত ধরে সায়নী ঈশানের সামনে দিয়ে বেরিয়ে যায়।ঈশান ভেঙে পরে, ওর মধ্যে আর ক্ষমতা ছিলোনা পড়াশোনা করার। পরের একটা পরীক্ষাও সে দিতে আসতে পারেনি, ঘরে বসে থাকতো চুপচাপ। যেদিন রেজাল্ট এলো সেদিন ও শুধু দেখেছিলো কিভাবে সায়নী ওর জায়গাটা ছিনিয়ে নিয়েছে, কিভাবে একটা নোংরামি ওকে এতটা পিছনে ঠেলে দিয়েছে যে ওর একটা বছর নস্ট হয়ে গেছে। ঈশানের চোখ দিয়ে যে জলের ফোটা সেদিন পড়েছিল সেটাই সায়নীর ধ্বংসের কারণ আজ। ঈশান তারপর আর কোনোদিনও সুস্থ হতে পারেনি, ওই নিজের উপর ভরসা রাখতে পারেনি, সব ভুলে গেছে শুধু সায়নীর নামটা মনে আছে আজও। সায়নীর সাথে ওর কোনো পুরোনো বন্ধুর যোগাযোগ নেই কেন জানো? ঠিক এই কারণে, কারণ কেওই এটা মেনে নিতে পারেনি যেটা সায়নী ঈশানের সাথে খেলেছে। এরপরও তুমি বলবে সায়নী ঠিক আর আমি ভুল?স্নেহা এতদূর শুনে বললো, মিথ্যা সব মিথ্যা রাহুলদা, সায়নীকে আমি চিনি ওই এরকম মেয়ে মোটেও না। পিছনে কখন সৌভিক এসে দাঁড়িয়েছে রাহুল বুঝতে পারেনি, সেও বলে উঠলো, রাহুলদা সব শেষ, তুমি ধরা পরে গেছো এবার কোর্টে তোমার সাথে দেখা হবে। সৌভিক স্নেহার থেকে ফোনটা নিয়ে ফোন করতেই যাচ্ছিলো পুলিশে এমন সময় সায়নীর গলার স্বর শোনা গেলো। সায়নী ঘরের বাইরে বেরিয়ে এসে দাঁড়িয়েছে আর সৌভিকের দিকে তাকিয়ে হাসছে উন্মাদের মতো।স্নেহা গিয়ে সায়নীকে শান্ত করার চেষ্টা করলো কিন্তু কোনো লাভ হলোনা, সায়নী হেসেই চললো তারপর ওই হাসির মাঝেই বললো, ঈশান তুমি মরেও আমার পিছন ছাড়লে না? ঠিকই বলেছিলাম সেদিন, তুমি আসলে কুকুরেরও অধম, তোমার সাথে প্রেম করবো আমি? ছিঃ, ঘেন্না হয় তোমার মতো ছেলেগুলোকে। কোনো ক্লাস নেই এদিকে নাকি বড়োলোক বাড়ির মেয়েকে বিয়ে করবে। বেশ করেছি, তুমি এই কোম্পানিতে চাকরি করার যোগ্য নও ঈশান, ওটার যোগ্য শুধু আমি, ওই গোল্ড মেডেলের যোগ্য শুধুই আমি। বোকা ছেলে, তোমার মতো ছেলেগুলোকে হারিয়ে এগিয়ে যাওয়া সবচেয়ে সোজা।এই জানো এখনো আবার একটা ছেলে আমার ফাঁদে পা দিয়েছে, ওটাকেও শেষ করবো ঠিক তোমার মতো। আমায় অনেক উঁচুতে যেতে হবে ঈশান, যেখানে পৌঁছাতে তোমার দুজন্ম আরো লাগবে। নিজেকে দেখো, না আছে একটা হাত, না ঠিক করে হাঁটতে পারছো, মরে ভুত হয়েও সেই আমার পিছনে ঘুরে বেড়াচ্ছ, হোয়াট আ লুসার। সৌভিককেও তোমার মতোই শিখিয়ে পরিয়ে দিও যাতে ভুত হয়ে ভয় দেখিয়ে বেড়াতে পারে।সায়নী এই বলে উন্মাদের মতোই হেসে চলেছে, ওর হাসি আজ বাঁধ মানছেনা।দুদিন পর শহরের এক নামি পাগলাগারদে: সায়নী নিজের বেডে বসে পাশের ছেলেটাকে বলে, এই ছেলে তোমার নাম কি?ছেলেটার মুখে একটা সরল হাসি ফুটে ওঠে, সে বলে, আমি ঈশান।সায়নী, তুমি ঈশান? জানো ঈশান বলে একটা ভুত আমায় খুব জ্বালায়, ওকে একটু বকে দেবে গো?ঈশান বলে, ভুত? সে কি মানুষের থেকেও বেশি ভয়ানক?বাইরে দাঁড়িয়ে একটা সিগারেট ধরালো সৌভিক, সামনে স্নেহা আর রাহুল এককাপ চা নিয়ে দাঁড়িয়ে।সৌভিকই প্রথম মৌনতা ভেঙে বললো, সরি দাদা, আর একটু হলে আমিও এই পাগলাগারদেই হয়তো থাকতাম। খারাপ লাগছে ঈশানকে দেখে, ওর পরিবার....রাহুল, চিন্তা করোনা, ওর ভাইয়ের দায়িত্ব আমার আর সৃজার। ওর ভাই এখন লাস্ট ইয়ারে পড়াশোনা করছে, ওই ছেলেটাও ঈশানের মতোই পড়াশোনায়, ঠিক একটা কিছু করেই নেবে।স্নেহা, দাদা একটা প্রশ্ন রয়েই গেলো। রাহুল, কি প্রশ্ন? স্নেহা, সায়নীকে তুমি পাগল করলে কিভাবে? রাহুল একটু হাসলো তারপর বললো, amphitamin, ওকে দিনের পর দিন এটারই ডোস দিয়েছি আর শেষদিন যখন ও পাগলের মতো হাসছিলো তখন ওকে যে বোতলের জলটা তুমি দিয়েছিলে ওটাতে শেষ ডোস ছিল, আমি জল খাওয়ার সময়ে মিশিয়ে দিয়েছিলাম, তোমার অলক্ষ্যে। ব্যাস, আমি জানতাম আমি যদি আজ পুলিশের কাছে ধরা পরেও যাই তবুও তোমরা সায়নীকে বাঁচাতে পারবেনা। ভাগ্য সহায় ছিল যে সায়নী নিজের অপরাধ স্বীকার করে নেওয়ায় তোমরা আর আমায় জেলে পাঠাওনি, বদলে ওকে পাগল হতে দেখেছো আর ভয়ে ওর থেকে দূরে সরে গেছো । স্নেহা, জেলে তো ওরই যাওয়া উচিত, যে একটা পরিবারকে শেষ করে দিলো নিজের স্বার্থে। রাহুল, পরজন্মে দুজন যেন সুস্থ মানুষের মতো বাঁচতে পারে এই প্রার্থনাই করি ঈশ্বরের কাছে। ওরা নিজেদের চা শেষ করে নিজেদের গোঁন্ত্যব পথে পা বাড়ালো। তখন সূর্য ডুবে গেছে, বাইরেটা অন্ধকার গ্রাসঃ করেছে আর ভিতরে?তখনও সায়নী নিজের খেয়ালে ঈশানের সাথে বকবক করে চলেছে, যেন দুজন দুজনকে ছেড়ে এক মুহূর্ত থাকতে পারবেনা। ওদের মধ্যে কি সত্যিই কোনোদিনও ভালোবাসা তৈরী হয়নি? বোঝা মুশকিল। কারণ দৃশ্যত উন্মাদদের থেকে অনেক বেশি উন্মাদ হয় সুস্থ স্বাভাবিক মানুষেরা।সমাপ্তসায়ন্তন গোস্বামী

সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal