• ২০ বৈশাখ ১৪৩৩, সোমবার ০৪ মে ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

রাজ্য

রাজ্য

শ্রীলঙ্কায় তাণ্ডবের পর ভারতের দিকে ঘূর্ণিঝড়! বাংলায় কী প্রভাব পড়বে দিতওয়াহার?

শ্রীলঙ্কার উপকূলে তাণ্ডব চালিয়ে ঘূর্ণিঝড় দিতওয়াহা এখন ভারতের দিকে এগোচ্ছে। তবে আবহাওয়া দফতর স্পষ্ট জানিয়েছে, এই ঝড়ের সরাসরি কোনও প্রভাব বাংলায় পড়বে না। ঝড়টি তামিলনাড়ু ও পুদুচেরি উপকূলের কাছাকাছি এসে সমুদ্রের মধ্যেই শক্তি হারাবে। স্থলভাগে আছড়ে পড়ার সম্ভাবনা নেই। তবে ঘূর্ণিঝড়ের কারণে হাওয়ার গতিপথ বদলাচ্ছে, যার ফলে বাংলায় তাপমাত্রার ওঠানামা শুরু হয়েছে।দক্ষিণবঙ্গে ধীরে ধীরে কমছে রাতের তাপমাত্রা। রাতের দিকে সামান্য উষ্ণতা থাকলেও সকালবেলা হালকা কুয়াশা দেখা যেতে পারে। দু-একটি জায়গায় দৃশ্যমানতা ২০০ মিটারের কাছাকাছি নেমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বর্তমানে কলকাতার তাপমাত্রা ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ঘরে রয়েছে। পশ্চিমের জেলাগুলিতে পারদ ১৫ ডিগ্রির আশপাশে ঘোরাফেরা করছে। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, মঙ্গলবারের পর ধীরে ধীরে আরও নামবে তাপমাত্রা। শুক্র ও শনিবার নাগাদ কলকাতায় তাপমাত্রা ১৫ ডিগ্রিতে এবং পশ্চিমের জেলাগুলিতে ১১ ডিগ্রির কাছাকাছি নেমে যেতে পারে। উইকেন্ডে শীতের আমেজ ফের জোরালো হতে পারে।উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি এলাকায় আপাতত তাপমাত্রার বড় কোনও পরিবর্তন নেই। বৃষ্টির সম্ভাবনাও নেই। শুষ্ক আবহাওয়াই থাকবে। তবে মালদহ ও দুই দিনাজপুরে তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে। সপ্তাহের মাঝামাঝি আবার পারদ নামতে শুরু করবে।দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া দিতওয়াহা উপকূলের কাছে এলেও সমুদ্রেই শক্তি হারাবে। ঝড়টি স্থলভাগ থেকে ২০ থেকে ৪০ কিলোমিটারের মধ্যে অবস্থান করবে। এর প্রভাবে দক্ষিণ ভারতে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে হরিয়ানার উপর একটি পশ্চিমী ঝঞ্ঝা ও ঘূর্ণাবর্ত সক্রিয় রয়েছে। আরও একটি পশ্চিমী ঝঞ্ঝা ঢোকার সম্ভাবনাও আছে।কলকাতায় আগামী কয়েকদিন সকালে হালকা কুয়াশা থাকতে পারে। রাতের তাপমাত্রা একটু বেশি থাকায় সকাল-সন্ধ্যায় শীতের আমেজ কিছুটা কম থাকবে। দিনের বেলাতেও শীত বিশেষ অনুভূত হবে না। আকাশ মূলত পরিষ্কার থাকবে, কোথাও আংশিক মেঘ দেখা যেতে পারে। সোমবার কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশপাশে থাকবে। গতকাল দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২৬.৯ ডিগ্রি। বাতাসে আপেক্ষিক আর্দ্রতা থাকবে ৪৮ থেকে ৯৪ শতাংশের মধ্যে।দক্ষিণবঙ্গে আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা তাপমাত্রার খুব একটা বদল হবে না। মঙ্গলবারের পর থেকে পরের দু-তিন দিনে প্রায় তিন ডিগ্রি পর্যন্ত তাপমাত্রা কমতে পারে। শুক্রবার নাগাদ কলকাতা ও পশ্চিমের জেলাগুলিতে ভালো রকম ঠান্ডা পড়তে পারে। আগামী কয়েক দিন রাজ্যের প্রায় সব জেলাতেই কুয়াশার সম্ভাবনা রয়েছে, বিশেষ করে ভোরের দিকে। উপকূলের জেলাগুলিতে কুয়াশার প্রভাব বেশি হতে পারে। তবে বৃষ্টির কোনও সম্ভাবনা নেই।উত্তরবঙ্গেও শুষ্ক আবহাওয়া থাকবে। সকালে ও রাতে শীতের আমেজ থাকবে, কিন্তু দিনের দিকে শীত অনেকটাই কম অনুভূত হবে। দার্জিলিংয়ে তাপমাত্রা ৭ ডিগ্রির কাছে থাকতে পারে। মালদহে পারদ থাকবে প্রায় ১৭ ডিগ্রির ঘরে। কোচবিহার, জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ারে সকালের দিকে কুয়াশার সম্ভাবনা বেশি। উইকেন্ডে পাহাড়ি এলাকাতেও কুয়াশা বাড়তে পারে

ডিসেম্বর ০১, ২০২৫
রাজ্য

দু’টি নিম্নচাপের ধাক্কা, শীত কি তবে বিদায় নিচ্ছে? বাংলার আবহাওয়ায় বড় বদল

একসঙ্গে দুটি নিম্নচাপের প্রভাবে ফের বদলাচ্ছে বাংলার আবহাওয়া। দক্ষিণবঙ্গে সামান্য বেড়েছে তাপমাত্রা। এই রকম আবহাওয়া সোমবার পর্যন্ত থাকবে বলে জানিয়েছে আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর। মঙ্গলবার থেকে আবার তাপমাত্রা নামতে শুরু করবে। আপাতত কলকাতার তাপমাত্রা ১৭ ডিগ্রির আশপাশেই ঘোরাফেরা করবে। পশ্চিমের জেলাগুলিতে তাপমাত্রা থাকবে ১৪ ডিগ্রির ঘরে।হাওয়া অফিস জানিয়েছে, শনিবার তাপমাত্রা সামান্য বেড়েছে। আগামী দুই থেকে তিন দিন তাপমাত্রা আরও কিছুটা বাড়তে পারে। তবে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের থেকেও নিচেই থাকবে। অনেক জেলায় তাপমাত্রা ১২ থেকে ১৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকবে। সোমবার পর্যন্ত কলকাতায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা থাকবে ১৭ থেকে ১৮ ডিগ্রির কাছাকাছি। শনিবার ও রবিবার কুয়াশার সম্ভাবনাও বাড়বে। তাপমাত্রার ওঠানামার কারণে দক্ষিণবঙ্গের প্রায় সব জেলাতেই কুয়াশা দেখা যেতে পারে। উপকূলবর্তী জেলাগুলিতে কুয়াশার প্রভাব বেশি হতে পারে। বৃষ্টির কোনও সম্ভাবনা নেই।মঙ্গলবার থেকে আবার ঠান্ডা বাড়বে বলে জানিয়েছে হাওয়া অফিস। পূর্বাভাস অনুযায়ী, শুক্রবারের মধ্যে কলকাতার তাপমাত্রা নেমে যেতে পারে ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। শনিবার সকালে শহরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৭.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের থেকে সামান্য কম। গতকাল বিকেলে দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২৮.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস, সেটিও স্বাভাবিকের চেয়ে কিছুটা নিচে।উত্তরবঙ্গে ইতিমধ্যেই শীতের জাঁকিয়ে উপস্থিতি। পাহাড়ি শহর দার্জিলিং-এ তাপমাত্রা নেমে গিয়েছে ৬ ডিগ্রির ঘরে। আকাশ পরিষ্কার থাকলেও সকাল ও রাতের দিকে শীতের প্রভাব স্পষ্ট। দিনের বেলায় অবশ্য শীতের তীব্রতা কিছুটা কম অনুভূত হচ্ছে।

নভেম্বর ২৯, ২০২৫
রাজ্য

বাবু মণ্ডলকে গুলি করে চুপ করাতে চাওয়া হয়েছিল? বিস্ফোরক অভিযোগ মৃত পরিবেশকর্মীর স্ত্রীর

তৃণমূল নেতা বাবু মণ্ডলকে কেন গুলি করা হল, সেই প্রশ্ন তুলে এবার প্রকাশ্যে মুখ খুললেন নিহত পরিবেশকর্মী তপন দত্তর স্ত্রী প্রতিমা দত্ত। তিনি সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন, যদি খুনের উদ্দেশ্য থাকত, তবে মাথায় গুলি না করে কোমরে গুলি করা হল কেন। তাঁর দাবি, এই হামলার উদ্দেশ্য ছিল খুন নয়, শুধুমাত্র ভয় দেখানো।গত শুক্রবার বসুকাঠি সাঁপুইপাড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান দেবব্রত মণ্ডল ওরফে বাবু মণ্ডলকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। ঘটনার পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। প্রতিমা দত্ত জানিয়েছেন, তাঁর স্বামীর খুনের মামলায় শুরুতে চার্জশিটে বাবু মণ্ডলের নাম ছিল। পরে সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিটে তাঁর নাম বাদ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে বাদ পড়ে আরও কয়েকজন প্রভাবশালী তৃণমূল নেতার নামও। যাঁরা গ্রেপ্তার হয়েছিলেন, তাঁরাও পরে ছাড়া পেয়ে যান।সেই সময় সুবিচার ও সিবিআই তদন্তের দাবিতে প্রতিমা দত্ত উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হন। ২০২২ সালের ৯ জুন আদালতের নির্দেশে CBI তদন্ত শুরু করে। তাঁর দাবি, আগামী মাসেই এই মামলায় চার্জশিট জমা দিতে পারে সিবিআই। প্রতিমা দত্তের অভিযোগ, তদন্তে গতি আসায় এবং সত্য ফাঁস হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় বাবু মণ্ডলকে গুলি করে ভয় দেখানো হয়েছে, যাতে তিনি কিছু বলতে না পারেন।তিনি আরও বলেন, সিসিটিভি ফুটেজে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে যে খুন করার চেষ্টা নয়, শুধু আতঙ্ক তৈরি করাই ছিল আসল উদ্দেশ্য। তাঁর দাবি, তপন দত্ত খুনের মামলার মূল মাথারাই এই গুলি চালানোর নেপথ্যে রয়েছে।২০১১ সালের ৬ মে বালিতে খুন হয়েছিলেন পরিবেশবিদ তপন দত্ত। তৎকালীন CID-এর চার্জশিটে একাধিক তৃণমূল নেতার নাম ছিল, যার মধ্যে বাবু মণ্ডলও ছিলেন। পরে সেই নাম বাদ পড়ে। প্রতিমা দত্তের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চললেও এখন সিবিআই তদন্তে নতুন গতি এসেছে। আর ঠিক সেই কারণেই এই গুলি চালানোর ঘটনা বলে তাঁর দৃঢ় বিশ্বাস।

নভেম্বর ২৯, ২০২৫
রাজ্য

সেক্সটরশন চক্রের ফাঁদে পড়েছিলেন বর্ধমান দক্ষিণের MLA খোকন দাস, তদন্ত শুরু পুলিশের

বড়সড় সাইবার প্রতারণার হাত থেকে রক্ষা পেলেন বর্ধমান দক্ষিণের তৃণমূল বিধায়ক খোকন দাস। কয়েক সেকেন্ডের ভুলেই যাঁরা লক্ষ লক্ষ টাকা খুইয়ে বসেন, সেই একই সেক্সটরশন চক্রের ফাঁদে পা দিতে দিতে অল্পের জন্য বেঁচে যান তিনি। অপরিচিত একটি নম্বর থেকে আসা ভিডিও কল রিসিভ করতেই তাঁর ফোনের স্ক্রিনে ভেসে ওঠে এক মহিলার আপত্তিকর ভিডিও। মুহূর্তের মধ্যেই বিষয়টি বুঝে নিয়ে কল কেটে দেন বিধায়ক এবং তড়িঘড়ি পৌঁছে যান বর্ধমান সাইবার থানায়।সাইবার থানায় লিখিত অভিযোগ জানানোর পর শুরু হয় তদন্ত। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বিধায়কের ফোনে আসা ওই ভিডিও কলটি এসেছে রাজস্থানের ভরতপুর এলাকা থেকে। টাওয়ার লোকেশন ট্রেস করেই কলকারীকে চিহ্নিত করেছে পুলিশ, এবং তাকে ধরতে ইতিমধ্যেই অভিযান শুরু হয়েছে।বিধায়কের ভাষায়, প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ নানা প্রয়োজনে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। সেই তালিকায় থাকে অনেক অপরিচিত নম্বরও। কয়েকদিন আগে তেমনই একটি অপরিচিত নম্বর থেকে ভিডিও কল আসে। কল ধরে মুহূর্তেই তিনি দেখেন স্ক্রিনে চলছে মহিলার নগ্ন ভিডিও। যা সাধারণত সেক্সটরশন চক্রের প্রথম ধাপ। বুঝতে পেরে তিনি সঙ্গে সঙ্গে কল কেটে দেন এবং থানায় অভিযোগ জানান।পুলিশ জানাচ্ছে, রাজস্থানের বেশ কয়েকটি সাইবার গ্যাং রাতের দিকে এলোমেলো নম্বরে ভিডিও কল করে। কল ধরলেই চালানো হয় পর্ন ভিডিও। একই সঙ্গে স্ক্রিন রেকর্ড করে ভুক্তভোগী ও মহিলার ভিডিও একসঙ্গে জুড়ে ফেক আপত্তিকর ভিডিও বানানো হয়। এরপরই শুরু হয় ব্ল্যাকমেলিং। টাকা না দিলে সেই ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি। এই চক্রের শিকার হয়ে কেউ সম্মানের ভয়ে টাকা দেন, কেউ আবার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত খুইয়ে বসেন।তদন্তকারী এক আধিকারিক জানিয়েছেন, ভিডিও কলকারীকে চিহ্নিত করা গিয়েছে। তাকে ধরার প্রস্তুতি চলছে। রাজস্থানের এই সাইবার চক্রে ইতিমধ্যেই বাংলা ও অন্যান্য রাজ্যের বহু মানুষ প্রতারিত হয়েছেন। তবে বর্ধমানের এই বিধায়কের অভিযোগ দায়েরের ফলে এবার বিপাকে পড়তেই চলেছে সেক্সটরশন চক্র।

নভেম্বর ২৯, ২০২৫
রাজ্য

কবর খুঁড়ে তোলা হল শিশুর দেহ! ডিএনএ পরীক্ষার দাবিতে উত্তাল আরামবাগ

শিশুচুরির অভিযোগে উত্তাল হয়ে উঠল আরামবাগ মেডিক্যাল কলেজ। মৃত শিশুর দেহ ভুল পরিবারের হাতে তুলে দেওয়ার অভিযোগে তৈরি হয়েছে চরম ধোঁয়াশা। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছয় যে, কার সন্তান বেঁচে আছে আর কার সন্তানের মৃত্যু হয়েছেতা স্পষ্ট করতে শেষ পর্যন্ত কবর খুঁড়ে উঠানো হল শিশুর দেহ। ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কবর থেকে শিশুর দেহ তুলে আনে পুলিশ। উপস্থিত ছিলেন চিকিৎসক, স্বাস্থ্য আধিকারিক এবং বিশাল পুলিশ বাহিনী। আরামবাগের বড়ডোঙ্গলের বসন্তবাটি এলাকা থেকে দেহ উদ্ধার করে তা ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতেই হাসপাতালে সংরক্ষণ করা হয়েছে।ঘটনার সূত্রপাত বুধবার। হুগলির তারকেশ্বরের বালিগোড়ির বাসিন্দা জাসমিনা বেগমকে হাসপাতালের তরফে জানানো হয়, তাঁর সদ্যজাত সন্তানের মৃত্যু হয়েছে। অভিযোগ, সেই দিন সন্ধ্যাতেই আবার ফোন করে বলা হয় শিশুটি নাকি বেঁচে আছে। ফোনের এই দ্বৈত বার্তাতেই পরিবারের সন্দেহ চরমে ওঠে। পরে খোঁজ নিতে গিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, জাসমিনার সন্তানের মৃত্যু হয়েছে ঠিকই, তবে সেই শিশুর দেহ ভুল করে অন্য এক পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। আরামবাগের বড়ডোঙ্গলের সেই পরিবার ততক্ষণে মৃত শিশুকে কবরও দিয়ে দিয়েছে।হাসপাতালের দাবি, বড়ডোঙ্গলের ওই পরিবারের সন্তান আসলে জীবিত রয়েছে এবং বর্তমানে হাসপাতালের এসএনসিইউ বিভাগে চিকিৎসাধীন। কিন্তু এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নয় জাসমিনার পরিবার। তাঁদের দাবি, যে শিশুকে মৃত বলে দেখানো হচ্ছে, তিনি তাঁদের সন্তান নন। তাঁরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, নিজেদের চোখে জীবিত শিশুকে মিলিয়ে না দেখলে কোনও কিছুই বিশ্বাস করবেন না। পাশাপাশি ডিএনএ পরীক্ষারও জোরালো দাবি তুলেছেন তাঁরা।ঘটনার গুরুত্ব স্বীকার করে নিয়েছেন হাসপাতালের অধ্যক্ষ ডা. রমাপ্রসাদ রায়। তিনি বলেন, শিশুটি এসএনসিইউ-তে ভর্তি ছিল। তার ওজন ছিল প্রায় দেড় কেজি। শিশুটির মৃত্যু হয়েছিল। তখন নাম ধরে ডাকা হলে একজন আসেন এবং যাচাই না করেই তাঁর হাতেই আমরা মৃত শিশুটিকে তুলে দিই। সেখানেই মারাত্মক ভুল হয়েছে। তাঁর এই স্বীকারোক্তির পর হাসপাতালের নিরাপত্তা, শিশু সুরক্ষা ব্যবস্থা এবং প্রশাসনিক গাফিলতি নিয়ে উঠছে তীব্র প্রশ্ন।একদিকে শোকস্তব্ধ পরিবার, অন্যদিকে জীবিত না মৃতএই বিভ্রান্তির মধ্যেই কবর থেকে দেহ তোলার মতো চরম সিদ্ধান্ত। হুগলি জেলায় স্বাস্থ্যব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে আতঙ্ক ও ক্ষোভ ছড়িয়েছে। ঘটনায় প্রশাসনিক তদন্ত শুরু হয়েছে বলেও জানা গিয়েছে।

নভেম্বর ২৮, ২০২৫
রাজ্য

শাসক দলই বাধা দিচ্ছে”—মমতা সফরের আগে তৃণমূলকে তুলোধোনা হুমায়ুন কবীর

গত কয়েক মাস ধরেই বারবার শিরোনামে উঠে আসছেন ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। কখনও নতুন দল গঠনের ইঙ্গিত, আবার কখনও তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-এর সঙ্গে বৈঠক করে মুচকি হেসে বেরিয়ে আসারাজনীতি জুড়ে তাঁকে নিয়ে জল্পনার শেষ নেই। তবে সম্প্রতি হুমায়ুনের মুখে একটাই স্লোগানবাবরি মসজিদ হবেই। আর সেই ঘোষণা ঘিরেই এবার সরাসরি নিজের দলের বিরুদ্ধেই বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন তিনি।হুমায়ুনের দাবি, বাবরি মসজিদ তৈরির উদ্যোগ শুরু হতেই প্রশাসনিক বাধা দেওয়া হচ্ছে। আর সেই বাধা আসছে শাসক দলের মদতেই। প্রকাশ্যেই তিনি বলেন, বাধা দিচ্ছে প্রশাসন। শাসক দলের মদতে এই বাধা আসছে। বেলডাঙা থানার আইসি-র ভূমিকা নিয়েও সরব হয়েছেন ভরতপুরের বিধায়ক। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর আসন্ন মুর্শিদাবাদ সফরের ঠিক আগেই হুমায়ুনের এই প্রকাশ্য ক্ষোভ রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে আলোড়ন ফেলেছে।মুখ্যমন্ত্রীর মুর্শিদাবাদ সফরের কর্মসূচিতে তিনি যোগ দেবেন কি না, সেই প্রশ্নেও এদিন স্পষ্ট উত্তর এড়িয়ে যান হুমায়ুন। শুধু বলেন, আমাকে দলের তরফে মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে। যাব কি না, এখনই বলার সময় আসেনি। এখন এই প্রশ্নের উত্তর দেব না। তাঁর এই অস্পষ্ট অবস্থান ঘিরে তৃণমূলের অন্দরেও শুরু হয়েছে জোর জল্পনা।বাবরি মসজিদ প্রসঙ্গে আরও এক ধাপ এগিয়ে গিয়ে হুমায়ুন বলেন, জগন্নাথ মন্দির হলে যদি বিতর্ক না হয়, তা হলে বাবরি মসজিদে বিতর্ক হবে কেন? তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে পুরনো শিল্প প্রকল্পের প্রসঙ্গও। তিনি জানান, রেজিনগরে একসময় শিল্পতালুকের উদ্বোধন করেছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। সেই জমি আজও পড়ে আছে। গত ১৪ বছরে সেখানে কোনও কাজই হয়নি বলে অভিযোগ তাঁর।সবচেয়ে বড় চমক অবশ্য ৬ ডিসেম্বরের ঘোষণাকে ঘিরে। হুমায়ুন স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ৬ ডিসেম্বর বাবরি মসজিদের শিলান্যাস হবেই। রেজিনগর থেকে বহরমপুর এনএইচ-৩৪ ব্লক করে দেব। দেখি কোন শক্তি আছে, যে আটকে দেখাক। তাঁর এই হুঁশিয়ারির পরই প্রশাসনিক মহলেও তৎপরতা বেড়েছে বলে খবর।যে ছ বিঘা জমিতে বাবরি মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের কথা বলছেন হুমায়ুন, সেই জমি আদতে নিজামুদ্দিন চৌধুরী নামে এক ব্যক্তির বলেও জানা গিয়েছে। তিনি দাবি করেছেন, তাঁর থেকে কেউ জমি কেনেননি। অথচ এরপরই রাতারাতি সেই জমি ঘিরে ফেলা হয়েছে বলে অভিযোগ। জমির মালিকানা, প্রশাসনিক অনুমতি এবং রাজনৈতিক সংঘাতসব মিলিয়ে এবার বাবরি মসজিদ ইস্যুতে মুর্শিদাবাদে বড়সড় অশান্তির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

নভেম্বর ২৮, ২০২৫
রাজ্য

জলপাইগুড়ি নয়, শেষমেশ বারুইপুরে! কোন অঙ্কে বদলি আইসি লিটন?

রাজ্যে কয়েক মাসের মধ্যেই ভোট। তার মধ্যেই SIR প্রক্রিয়া চলছে। এরই মধ্যে বড়সড় পুলিশ রদবদল ঘিরে বাড়ছে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক জল্পনা। বৃহস্পতিবার নবান্নের তরফে বিজ্ঞপ্তি জারি করে একাধিক জেলায় এসপি স্তর থেকে শুরু করে ডিএসপি পদমর্যাদার অফিসারদের বদলির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিধাননগর কমিশনারেট, ব্যারাকপুর কমিশনারেট, আসানসোল-দুর্গাপুর-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ডিএসপি স্তরের অফিসারদের রদবদল হয়েছে শুক্রবার।এই বদলির তালিকাতেই বিশেষ নজর কেড়েছে বোলপুর থানার প্রাক্তন আইসি লিটন হালদারের বদলি। বৃহস্পতিবার প্রথমে যে নির্দেশিকা প্রকাশিত হয়, তাতে লিটন হালদারকে জলপাইগুড়ির ডিআইবি-তে পাঠানোর কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সেই নির্দেশ বদলে যায়। নতুন তালিকায় দেখা যায়, তাঁকে জলপাইগুড়ি নয়, বদলি করা হচ্ছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে, কোর্ট ইন্সপেক্টর পদে। কেন এই হঠাৎ পরিবর্তন, তা নিয়ে নবান্নের তরফে কোনও স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। সরকারি ভাবে একে রুটিন বদলি বলেই দাবি করা হয়েছে।তবে লিটন হালদার নামটি নতুন করে চর্চায় উঠে আসে বীরভূমের তৃণমূল নেতা অনুব্রত মণ্ডল-এর অডিয়ো বিতর্কের পর থেকেই। সদ্য জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর অনুব্রত মণ্ডল যখন অনেকটাই নীরব ছিলেন, তখনই সামনে আসে একটি অডিয়ো ক্লিপ। যেখানে অভিযোগ ওঠে, বোলপুর থানার আইসি লিটন হালদারের সঙ্গে ফোনে অনুব্রত অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেছেন। এমনকি আইসি-র স্ত্রীর উদ্দেশেও অশালীন মন্তব্য করার অভিযোগ ওঠে। এই অডিয়ো প্রকাশ্যে আসার পরে বিষয়টি নিয়ে রাজ্যজুড়ে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়।ঘটনার জেরে অনুব্রত মণ্ডলকে ফের থানায় হাজিরা দিতে হয়। কিন্তু কিছুদিনের মধ্যেই ছবিটা পাল্টে যায়। বোলপুর থানার সামনে বিক্ষোভে নামে কেষ্ট মণ্ডলের অনুগামীরা। তাঁদের স্লোগান ছিল একটাইআইসি লিটন হালদারকে অবিলম্বে সরাতে হবে। সেই চাপের মধ্যেই এবার তাঁর বদলির নির্দেশ আসে নবান্নের তরফে। কিন্তু সেই বদলির গন্তব্যই রাতারাতি বদলে যাওয়ায় নতুন করে রহস্য ঘনিয়েছে।ভোটের আগে রাজ্যে যখন SIR চলছে, তখনই একের পর এক পুলিশ আধিকারিকের রদবদল, তার মধ্যে আবার লিটন হালদারকে ঘিরে এই আকস্মিক অবস্থান বদলসব মিলিয়ে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের নেপথ্যে অন্য কোনও রাজনৈতিক অঙ্ক কাজ করছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে রাজনৈতিক মহল। সরকারি ভাবে একে রুটিন বদলি বলা হলেও, সময় ও প্রেক্ষাপট মিলিয়ে এই বদলি ঘিরে ধোঁয়াশা আরও গভীর হয়েছে বলেই মত ওয়াকিবহাল মহলের।

নভেম্বর ২৮, ২০২৫
রাজ্য

ভোটের মুখে হাওড়ায় ৬ রাউন্ড গুলি! পঞ্চায়েত প্রধান মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা

ভোটের মুখে ফের গুলির আতঙ্ক রাজ্যে। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে হাওড়ার সাঁপুইপড়া বসুকাঠি এলাকায় চাঞ্চল্যকর হামলার শিকার হলেন পঞ্চায়েত প্রধান দেবব্রত মণ্ডল ওরফে বাবু মণ্ডল। তাঁকে লক্ষ্য করে একের পর এক ছ রাউন্ড গুলি চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে ভর্তি করা হয়েছে এসএসকেএম হাসপাতালে। তাঁর সঙ্গী অনুপম রানাও গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাতে একটি বিয়েবাড়ির অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন বাবু মণ্ডল। সেখান থেকে বাইকে চেপে বাড়ি ফেরার পথেই ওঁত পেতে থাকা দুষ্কৃতীরা আচমকাই গুলি চালায়। বাইক চালাচ্ছিলেন অনুপম রানা। প্রথমেই গুলি লাগে তাঁর গায়ে। এরপর আরও কয়েক রাউন্ড গুলি চলে, তার একাধিকটি লাগে বাবু মণ্ডলের কাঁধ ও পেটে। রক্তাক্ত অবস্থায় দুজনকে উদ্ধার করে প্রথমে হাওড়ার একটি নার্সিংহোমে নিয়ে যাওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হওয়ায় পরে তাঁকে এসএসকেএমে স্থানান্তরিত করা হয়।ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের এক জন জানিয়েছেন, প্রধানের বাইকের ঠিক পিছনেই ছিলেন তিনি। হঠাৎই সামনে থেকে নয়, পাশ দিক থেকে গুলি ছোড়ে এক দুষ্কৃতী। মুহূর্তের মধ্যে গোটা এলাকা আতঙ্কে কেঁপে ওঠে। রাস্তায় ছুটোছুটি শুরু হয়। কে বা কারা এই হামলার সঙ্গে যুক্ত, তা এখনও স্পষ্ট নয়।এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে। শাসক দল তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, এই হামলার পিছনে রয়েছে বিজেপি। যদিও স্থানীয় সূত্রে উঠছে আরেকটি তত্ত্বতৃণমূলের অন্দরেই গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব এই হামলার অন্যতম কারণ হতে পারে। পুলিশ সব দিক খতিয়ে দেখছে। তবে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা যায়নি।এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই উঠে আসছে আরও ভয়াবহ তথ্য। গত বুধবার রাতেই কসবা এলাকায় এক যুবককে লক্ষ্য করেও গুলি চালানো হয়। বছরখানেক আগেই সেই এলাকাতেই এক কাউন্সিলরকে লক্ষ্য করে হামলার ঘটনা ঘটেছিল। একই দিনে দিনের আলোতেই মালদাতেও গুলিচালনার ঘটনা সামনে আসে। ভোটের মাস কয়েক আগে রাজ্যের একের পর এক প্রান্তে এভাবে গুলি চলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগে প্রশাসনও।এলাকাবাসীর বক্তব্য, ভোট যত এগিয়ে আসছে, ততই যেন মাথাচাড়া দিচ্ছে হিংসা। সাধারণ মানুষ আতঙ্কে রয়েছেনরাস্তায় বেরোতেও ভয় পাচ্ছেন অনেকে। রাজনৈতিক সংঘর্ষ কি এবার আরও বড় আকার নিতে চলেছে, সেই প্রশ্নই এখন ঘুরছে রাজ্যজুড়ে।

নভেম্বর ২৮, ২০২৫
রাজ্য

টানা এসআইআর কাজেই কি প্রাণ গেল আরও এক বিএলও-র? মুর্শিদাবাদে মৃত্যু ঘিরে তীব্র বিতর্ক

ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধনের কাজ করতে গিয়েই কি আরও এক প্রাণ ঝরল? মুর্শিদাবাদের খড়গ্রামে এক বিএলও-র আকস্মিক মৃত্যু ঘিরে সেই প্রশ্নই ঘুরছে চারদিকে। বৃহস্পতিবার হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে দিঘা প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষক তথা বিএলও জাকির হোসেনের। দিনের পর দিন স্কুলের দায়িত্বের পাশাপাশি ভোটার তালিকা সংশোধনের অতিরিক্ত কাজ সামলাতে গিয়েই শারীরিক ও মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন তিনিএমনই অভিযোগ পরিবারের।পরিবারের সদস্যদের দাবি, গত কয়েকদিন ধরেই টানা মাঠ পর্যায়ে এসআইআর-এর কাজ করছিলেন জাকির হোসেন। সকাল থেকে রাত অবধি ভোটার লিস্ট সংশোধনের কাজে ব্যস্ত থাকতেন। বৃহস্পতিবার সকালে হঠাৎই বুকে তীব্র ব্যথা অনুভব করেন তিনি। দ্রুত তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও শেষ রক্ষা হয়নি। চিকিৎসকরা জানান, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েই মৃত্যু হয়েছে তাঁর।এই ঘটনার পরেই ফের রাজ্যজুড়ে প্রশ্ন উঠছেএসআইআর প্রক্রিয়ার বাড়তি চাপেই কি একের পর এক অসুস্থ হচ্ছেন, এমনকি প্রাণ হারাচ্ছেন বিএলও-রা? সম্প্রতি দক্ষিণ ২৪ পরগনার নামখানার ফ্রেজারগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা এক বিএলও ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত হন। তার আগে কোন্নগরের এক বিএলও একইভাবে ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন।মুর্শিদাবাদের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যে এখনও পর্যন্ত চারজন বিএলও-র মৃত্যুর খবর সামনে এসেছে। এর আগে বর্ধমানে এক মহিলা বিএলও ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। পরে মালবাজার ও নদিয়ায় দুই বিএলও আত্মঘাতী হন বলে অভিযোগ ওঠে। সেই ক্ষেত্রেও পরিবারগুলির বক্তব্য ছিলঅতিরিক্ত কাজের চাপ ও মানসিক চাপই এই ঘটনার পিছনে অন্যতম কারণ।বারবার সামনে আসছে একই অভিযোগভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ করতে গিয়ে বিশ্রামের সুযোগ পাচ্ছেন না বিএলও-রা। মাঠে নেমে ঘরে ঘরে যাচ্ছেন, তার সঙ্গে স্কুলের নিয়মিত দায়িত্বও সামলাতে হচ্ছে। ফলে শারীরিক ক্লান্তির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মানসিক চাপ।এই পরিস্থিতিতে রাজ্যে ক্রমবর্ধমান মৃত্যু ও অসুস্থতার ঘটনায় উদ্বেগ বাড়ছে প্রশাসনের অন্দরেও। ইতিমধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন, কোনও বিএলও-র মৃত্যু হলে তাঁর পরিবারকে ২ লক্ষ টাকা আর অসুস্থ হলে ১ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সাহায্য দেওয়া হবে। কিন্তু শুধু আর্থিক সাহায্যেই কি ফিরবে হারানো প্রাণ? সেই প্রশ্নই এখন ঘুরছে মানুষের মুখে মুখে।খড়গ্রামের এই মৃত্যুর ঘটনার পর এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্কুলের সহকর্মী থেকে পড়ুয়াদের অভিভাবকসবারই চোখে জল। একজন নিষ্ঠাবান শিক্ষক ও দায়িত্ববান কর্মীকে হারিয়ে শোকস্তব্ধ গোটা এলাকা। একইসঙ্গে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে অন্যান্য বিএলও কর্মীদের মধ্যেও।এসআইআর-এর কাজ যত এগোচ্ছে, ততই যেন বাড়ছে আতঙ্ক। কাজের পরিমাণ কমানো হবে কি না, বিশ্রামের ব্যবস্থা করা হবে কি নাএই সব প্রশ্নের উত্তর এখন রাজ্য প্রশাসনের দিকেই তাকিয়ে।

নভেম্বর ২৮, ২০২৫
রাজ্য

২০০২ সালের মৃত ভোটারের ফর্মে নিজের নাম তুলতে গিয়ে গ্রেফতার বাংলাদেশী যুবক

হুগলির ডানকুনি পৌরসভার মাথুরডাঙি এলাকায় প্রকাশ্যে ধরা পড়ল ভোটার তালিকায় ভয়ঙ্কর গণ্ডগোলের ঘটনা। ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম থাকা মৃত ব্যক্তি মহসিন খানের এনুমারেশন ফর্ম ব্যবহার করে নিজের নাম তালিকায় তুলতে চেয়েছেন বাংলাদেশি যুবক নাদিম। ২০১৫ সালে মারা যাওয়া মহসিন খানের ফর্ম নিয়েই ভোটার কার্ড বানানোর চেষ্টা এবং এসআইআর প্রক্রিয়ায় নাম অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা করেন নাদিম। ঘটনার সত্যতা জেনে মহসিন খানের আত্মীয় মইদুল খান নাদিমকে স্থানীয় বাসিন্দাদের হাতে তুলে দেন।বিষয়টি জানাজানি হতেই এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়। পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে নাদিমকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে যায়। নাদিম দাবি করেছেন, তিনি ১৫ বছর ধরে ডানকুনিতে বসবাস করছেন। চার হাজার টাকার বিনিময়ে মৃত মহসিন খানের এনুমারেশন ফর্ম সংগ্রহ করে নিজে ছবি লাগিয়ে জমা দিয়েছেন। বর্তমানে পুলিশ এফআইআর দায়ের করে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। তারা খুঁজছে, এই কেলেঙ্কারিতে আর কারা জড়িত এবং কীভাবে মৃত ব্যক্তির ভোটার কার্ড ব্যবহার করে এসআইআর তালিকায় নাম তোলার চেষ্টা করা হয়েছিল।এই ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে রীতিমতো ভয় ও আতঙ্ক ছড়িয়েছে। ভোটার তালিকায় অনৈতিক হস্তক্ষেপ, বিদেশি নাগরিকদের হস্তক্ষেপ এবং রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ উঠেছে। পশ্চিমবঙ্গে ফের ভোট সংক্রান্ত এ ধরনের প্র্যাকটিস নতুন রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

নভেম্বর ২৭, ২০২৫
রাজ্য

ঘূর্ণিঝড় বনাম শীত! ডিসেম্বরের শুরুতে কোন দিকে পাল্টাবে আবহাওয়া?

নভেম্বরের শেষ সপ্তাহেই উত্তরবঙ্গ জুড়ে নেমে এসেছে শীতের প্রকট কামড়। দার্জিলিংয়ে তাপমাত্রা এক লাফে নেমে পৌঁছেছে পাঁচ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। পাহাড়ে সকাল-সন্ধ্যায় হিমেল হাওয়া ও তীব্র ঠান্ডায় স্থানীয়দের পাশাপাশি পর্যটকরাও শীতের স্বাদ পাচ্ছেন। কোচবিহার, জলপাইগুড়ি থেকে শুরু করে আলিপুরদুয়ার উত্তরের প্রায় সব জেলাতেই পারদ পতন স্পষ্ট। সকালের দিকে বহু জায়গায় কুয়াশার চাদরে ঢেকে যাচ্ছে রাস্তা, যা শীতের অনুভূতিকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। যদিও আপাতত উত্তরবঙ্গে বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই, ফলে শুষ্ক আবহাওয়া চলবে এবং শীতও বজায় থাকবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর।কলকাতায়ও শীতের হাওয়া ঢুকে পড়েছে। বুধবার সকালে শহরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৬.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২৬.৩ ডিগ্রি। বাতাসে আপেক্ষিক আর্দ্রতার পরিমাণ ওঠানামা করেছে ৪১ থেকে ৯১ শতাংশের মধ্যে। ভোরবেলা হালকা কুয়াশা দেখা গেলেও বেলা বাড়লে আকাশ পরিষ্কার হচ্ছে। দিন ও রাতের তাপমাত্রা এই মুহূর্তে স্বাভাবিকের নিচেই রয়েছে। তবে আবহবিদদের মতে, আগামী দুই-তিন দিনে তাপমাত্রা কয়েক ডিগ্রি বাড়তে পারে, কিন্তু সর্বনিম্ন তাপমাত্রা স্বাভাবিকের উপরে উঠবে না।এই সময়ই বঙ্গোপসাগরে তৈরি হয়েছে জোড়া নিম্নচাপ। তার মধ্যে একটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা উড়ছে। ফলে প্রশ্ন উঠছেএই নতুন সিস্টেম কি দক্ষিণবঙ্গের শীতের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াবে? আবহাওয়াবিদদের মতে, নিম্নচাপের গতিপ্রকৃতির উপর অনেকটাই নির্ভর করছে শীতের আগ্রাসন। তবে এখনই শীত কমে যাওয়ার সম্ভাবনা নেই। আগামী কয়েকদিন সকালের কুয়াশা, রাতে হালকা ঠান্ডা আর দিনের দিকে কিছুটা উষ্ণতা এই মিলেমিশে তৈরি হবে ডিসেম্বরের শুরুর স্বাভাবিক আবহাওয়া।

নভেম্বর ২৬, ২০২৫
রাজ্য

যা ভাবছেন, সত্যি নয়! দুরন্তকে ধরতে যে কৌশল ব্যবহার করল সিবিআই, অবাক হবেন

দীর্ঘ দুই বছর ধরে লুকিয়ে লুকিয়ে চলা জীবন শেষ পর্যন্ত দমল না। বহু অনুসন্ধানের পর অবশেষে সিবিআইয়ের জালে ধরা পড়লেন শেখ শাহজাহানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী দুরন্ত মোল্লা। সন্দেশখালিতে ইডি-র উপর হামলার ঘটনায় যাঁর নাম ও ছবি প্রকাশ্যে এসেছিল, সেই দুরন্তকে মঙ্গলবার রাতে বসিরহাটের একটি গোপন আস্তানা থেকে গ্রেফতার করে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। বুধবার তাঁকে বসিরহাট আদালতে তোলা হবে।২০২৪ সালের ৫ জানুয়ারি সন্দেশখালির তৎকালীন তৃণমূল নেতা শেখ শাহজাহানের বাড়িতে তল্লাশি চালাতে গিয়েছিলেন ইডির আধিকারিকরা। সেইসময় তাঁদের উপর হামলা হয়। শুধু তাই নয়, কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের উপরেও হামলা চালানোর অভিযোগ ওঠে। ওই ঘটনার পর থেকেই এলাকায় ক্ষোভ ছড়ায়, সামনে আসে শাহজাহান-ঘনিষ্ঠদের নানা অভিযোগ ও নানা কীর্তি। ৫৫ দিনের মাথায় গ্রেফতার হন শাহজাহান।হামলার ভিডিও ও ছবিতে দুরন্ত মোল্লার পরিচয় সামনে আসে। কিন্তু এরপর থেকেই তিনি কার্যত হাওয়ার মতো উধাও। সিবিআই বারবার অভিযান চালালেও তাঁর হদিশ মিলছিল না। এমনকি তাঁর বাড়িতে নোটিস দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু তিনি তখনও পালাতেই থাকেন। ইডি সূত্রের খবর, দুরন্ত বারবার গোপন আস্তানা বদল করছিলেন যাতে তদন্তকারী সংস্থার চোখ এড়িয়ে যেতে পারেন।অবশেষে সিবিআইয়ের কাছে গোপন সূত্রে খবর আসে বসিরহাট এলাকায় লুকিয়ে আছেন তিনি। এরপরই রাতেই অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।সিবিআই বুধবার আদালতে তুলে দুরন্তের হেফাজত চাইবে। তদন্তকারী সংস্থার অন্যতম লক্ষ্য তাঁকে জেরা করে ইডি-র উপর হামলার ঘটনার নেপথ্যে আরও কারা ছিলেন, এবং কোনও নতুন তথ্য তাঁর কাছ থেকে পাওয়া যায় কি না। দুরন্তের গ্রেফতার হওয়ায় সন্দেশখালি কাণ্ড নতুন করে আবার চর্চায়। এখন নজর আদালত ও সিবিআইয়ের পরবর্তী পদক্ষেপে।

নভেম্বর ২৬, ২০২৫
রাজ্য

"আমি খেলতে নামলে কেউ ধরতে পারবেন না.." বনগাঁ থেকে বিস্ফোরক মুখ্যমন্ত্রী

রাজ্যের রাজনীতি যখন SIR ঘিরে তপ্ত, ঠিক তখনই বনগাঁর ত্রিকোণ পার্কে সভামঞ্চে আগুনঝরা ভাষণ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে তোপ দেগে তিনি প্রশ্ন তুললেন, কেন মাত্র দুই মাসে SIR করার এত তাড়াহুড়ো? তাঁর দাবি, এই সিদ্ধান্তের পিছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য স্পষ্ট। জনগণকে আশ্বস্ত করে মমতার ঘোষণাআমরা থাকতে আপনাদের তাড়াতে দেব না। আমি বলছি, ভয় পাবেন না।সভা শুরুর আগেই ঘটে অদ্ভুত এক ঘটনা। নির্ধারিত সময়ের আগে হেলিকপ্টারের ইনস্যুরেন্স শেষ হয়ে যাওয়ায় বাতিল হয় উড়ান। মুখ্যমন্ত্রী জানান, এটি জানার পরই তাঁর মনে হয়েছেনির্বাচন শুরু হওয়ার আগেই যেন কোথাও কোনও কনফ্রন্টেশন তৈরি করা হচ্ছে। তবু তিনি হাস্যরসের সুরে বলেন, মজার খবর তো! এতে আমারই ভাল হয়েছে। রাস্তা দিয়ে আসতে এসে বহু মানুষের সঙ্গে দেখা হয়েছে। এটাই আমার জনসংযোগ।এরপরই বিজেপিকে সরাসরি উদ্দেশ করে তাঁর স্পষ্ট চ্যালেঞ্জবারবার বলছি, আমার সঙ্গে খেলতে যাস না। আমি খেলতে নামলে যে খেলাটা খেলব, সেখানে আমাকে ধরতেও পারবে না, ছুঁতেও পারবে না, নাগালও পাবে না।বিজেপির বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় এজেন্সি ব্যবহারের অভিযোগও তুললেন মুখ্যমন্ত্রী। বললেন, সব এজেন্সি নিয়ে বসে থাক, কোটি কোটি টাকা খরচ করো। মানুষ টাকা নেবে, কিন্তু ভোট দেবে না। একবার টাকা দিলে সারা বছর চলবে কী করে?নিজের রাজনৈতিক পথচলার প্রসঙ্গ টেনে মমতার মন্তব্য, তিনি কেবল ভোটের রাজনীতি করেন না, মানুষের রাজনীতি করেন। তাঁর কথায়, আমি যদি কিছু ধরি, শেষ করে ছাড়ি। তৃণমূল কংগ্রেস থাকতে কারও গায়ে হাত দিতে দেব না। রাস্তাই আমাকে রাস্তা দেখায়।SIR-প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে সরাসরি প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, SIR করতে তিন বছর লাগে। আমরা SIR-এর বিরোধী নই। কিন্তু দুই মাসে করার কারণ কী? এর পিছনে কী উদ্দেশ্য লুকিয়ে আছে?বনগাঁর মঞ্চে তাঁর এই তীব্র আক্রমণ নিঃসন্দেহে নতুন করে গতি ফেলেছে রাজ্যের রাজনৈতিক উত্তাপে। SIR, মতুয়া ভোট, নির্বাচন কমিশনের ভূমিকাসবকিছু মিলিয়ে আগামী সময় রাজ্য রাজনীতিতে আরও ঝড় তুলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

নভেম্বর ২৫, ২০২৫
রাজ্য

পুকুরে সোজা গাড়ি! তিন শিশুর মৃত্যু—ফাঁস হল পুলকারের ভয়ঙ্কর অবস্থা

সোমবার বিকেলেই ভেঙে পড়ল একাধিক পরিবারের স্বপ্ন। বাড়ি ফেরার পথেই ঘটে গেল মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। পড়ুয়াদের নিয়ে ছুটে চলা পুলকারটি হঠাৎই সোজা গিয়ে পড়ে গভীর পুকুরে। মুহূর্তের মধ্যে জলের তলায় তলিয়ে যায় গাড়িটি। স্থানীয় বাসিন্দারা ঝাঁপিয়ে পড়ে পাঁচজনকে কোনওভাবে উদ্ধার করতে পারলেও তিন পড়ুকে বাঁচানো যায়নি।দুর্ঘটনার পরে উঠে এসেছে আরও ভয়ানক তথ্য। যে পুলকারে প্রতিদিন শিশুদের আনা-নেওয়া হত, সেই গাড়ি ছিল ২৩ বছরের পুরনো। ২০১৮ সালেই ফিটনেস ফেল করেছিল। ২০২২-এ শেষ হয়ে যায় বিমার মেয়াদ। দূষণের ছাড়পত্রও ছিল না। অর্থাৎ কোনও নথিই আর বৈধ ছিল না। তবু বছরের পর বছর ওই গাড়িই চলেছে রাস্তায়, শিশুদের নিরাপত্তা ভরসায় রেখেই।অভিভাবকদের দাবি, পুলকারটিতে নিয়মিতই সমস্যা থাকতপ্রবল শব্দ, লক না খোলা, যান্ত্রিক ত্রুটি। এক পড়ুয়ার মা বলেন, চালকের শরীর খারাপ ছিল। গাড়িতে ভীষণ আওয়াজ হচ্ছিল। আমি সকালেই বলেছিলাম, সাবধানে চালাতে। কিন্তু লকটা যদি ঠিক মতো খোলা যেত, তাহলে বাচ্চাগুলোকে হয়ত বাঁচানো যেত।দুর্ঘটনার সময় এক ছাত্রী কয়েক সেকেন্ড আগে গাড়ি থেকে নেমেছিল। তার সামনেই পুকুরে উলটে যায় পুলকারটি। কীভাবে সামলাবে, বুঝতেই পারেনি শিশুরা। ভয় আর আতঙ্কের সেই মুহূর্তেই আটকে যায় সব দরজা।স্কুল কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, অভিভাবকরাই গাড়ি ঠিক করেন, স্কুলের সঙ্গে কোনও সরাসরি সম্পর্ক নেই। কিন্তু অভিভাবকরা বলছেন উল্টো কথাস্কুলের মাধ্যমেই গাড়ি বাছাই ও দায়িত্ব নির্ধারণ করা হয়, তাঁরা কেবল টাকা দেন। ফলে দায় কারনিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক।যে ভাবেই হোক, এই মৃত্যু যেন অকারণ উদাসীনতারই ফল। গাড়ির নথি নেই, নিরাপত্তার মান নেইতবু ছুটছে পুলকার। প্রশাসনিক নজরদারি কোথায়? তিনটি ছোট প্রাণ হারিয়ে একটাই প্রশ্ন বিরাট হয়ে দাঁড়িয়েছেপড়ুয়াদের নিরাপত্তা কি এতটাই উপেক্ষিত?ইনস্যুরেন্স নেই, ফিটনেস নেইএমন এক গাড়ি কীভাবে এতদিন রাস্তায় চললএ প্রশ্নের উত্তর এখনই চাইছে পুরো এলাকা।

নভেম্বর ২৫, ২০২৫
রাজ্য

মায়ের কোল থেকে শিশুচুরি, প্রশ্নের মুখে সরকারি হাসপাতালের নিরাপত্তা, সিসিটিভি দেখে খোঁজ পুলিশের

ভরদুপুরে সরকারি হাসপাতালের আউটডোরে মায়ের কোল থেকে ১১ দিনের কন্যা শিশুকে চুরি করে চম্পট। এই ঘটনার পর মুহূর্তে স্তব্ধ হয়ে যায় মালদার মোথাবাড়ির বাঙ্গিটোলা সরকারি গ্রামীণ হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকা। সোমবার দুপুর নাগাদ এমন ঘটনার জেরে হাসপাতাল চত্ত্বরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। মেয়েকে না পেয়ে অচৈতন্য হয়ে পড়েন ওই নবমাতৃকা মনিকা বিবি। পরে স্থানীয়রা জল ছিটিয়ে ও সান্ত্বনা দিয়ে তাঁকে সুস্থ করার চেষ্টা করেন।গুরুতর অভিযোগ জানিয়ে মনিকা বিবি মোথাবাড়ি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগের ভিত্তিতে ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। হাসপাতালে লাগানো সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, এক মধ্যবয়স্ক মহিলা মনিকার কোল থেকে শিশুটিকে নিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছে। সেই ছবি সংগ্রহ করে আশপাশের সব থানায় পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি মোথাবাড়ি ও সংলগ্ন এলাকায় চিরুনি তল্লাশি চালানো হচ্ছে।স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সুলতানটোলা এলাকার বাসিন্দা আব্দুল কাদের ও মনিকা বিবির সদ্যোজাত কন্যা সন্তান শ্বাসকষ্টের সমস্যা নিয়ে এদিন হাসপাতালে আনা হয়েছিল। আউটডোরের বেঞ্চে বসে ছিলেন মনিকা। ওই সময় শিশুটি কান্না শুরু করলে একটি অচেনা মহিলা এগিয়ে এসে বলেন, তিনি নাকি শিশুর কান্না থামাতে সাহায্য করবেন। শিশুকে কোলে নেওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই মনিকা চিকিৎসকের ডাকে এগিয়ে যান। আর সেই সুযোগেই শিশুকে নিয়ে গা-ঢাকা দেয় ওই মহিলা।মনিকা অভিযোগে জানান, মেয়ের ঠান্ডা লেগেছিল, খুব কান্না করছিল। ওই মহিলা বলেছিল কোলে নিয়ে চুপ করাবে। আমি ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলতে যেতেই সে আমার মেয়েকে নিয়ে পালিয়ে যায়। একই অভিযোগ পরিবারের অন্যান্য সদস্যদেরও। শিশুটির কাকা আশরাফুল হক বলেন, সরকারি হাসপাতালে কোনও নিরাপত্তা নেই। ভরদুপুরে বাচ্চা চুরি হয়ে গেল! এখানে যে এমন অপরাধ চক্র সক্রিয়, তা বুঝতেই পারিনি।মোথাবাড়ি থানার পুলিশ সুপার প্রদীপ কুমার যাদব জানান, সিসিটিভি পরীক্ষা করেই তদন্ত শুরু হয়েছে। আশেপাশের থানাগুলিকে সতর্ক করা হয়েছে। সীমান্তবর্তী এলাকাগুলিতেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। থানা এলাকার বিশেষ নজরদারি চলছে কারণ ওই হাসপাতাল থেকে খুব কাছেই গঙ্গার ওপারে ঝাড়খণ্ডের সীমানা। কালিয়াচক এলাকাও নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজে অভিযুক্তের মুখ স্পষ্ট দেখা গেয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।মালদা জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ সুদীপ্ত ভাদুড়ি বলেন, ঘটনাটি উদ্বেগজনক। পুলিশ তদন্ত করছে। স্বাস্থ্য দপ্তর থেকেও বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।সরকারি হাসপাতালের নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভঙ্গুর। দিনে-দুপুরে এত লোকজনের সামনে থেকে শিশু চুরি। এমন ঘটনা প্রমাণ করে হাসপাতালে পাহারা বা নজরদারির কোনও কার্যকর ব্যবস্থা নেই। বহু রোগীর আত্মীয়ই বলছেন, চুরি চক্র সক্রিয় থাকার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। এখন পুলিশের প্রধান লক্ষ্য, যত দ্রুত সম্ভব নবজাতককে উদ্ধার করা এবং অভিযুক্ত মহিলাকে চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার করা। ইতিমধ্যেই ছবি ও তথ্য সব থানায় পাঠানো হয়েছে। শিশুটিকে দ্রুত উদ্ধার করার আশাতেই ব্যাকুল পরিবার।

নভেম্বর ২৫, ২০২৫
রাজ্য

চ্যালেঞ্জের সঙ্গে কাজ করছে বিএলওরা, বাংলায় এসআইআরের আপডেট জানুন একনজরে

রাজ্যে ভোটার তালিকা পুনর্বিন্যাসের কাজ শেষ পর্যায়ে। নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ হিসেব অনুযায়ী, ২৪ নভেম্বর বিকেল ৫টা পর্যন্ত ৯৯.৭৫% এনুমারেশন ফর্ম বিতরণ সম্পন্ন হয়েছে। সংখ্যায় যা ৭ কোটি ৬৪ লক্ষেরও বেশি। খুবই অল্প অংশের ফর্ম বিলি এখনও বাকি রয়েছে।ফর্ম জমা ও আপলোডের কাজও সমান্তরালে এগোচ্ছে। কমিশনের তথ্য বলছে, এ পর্যন্ত ৪ কোটির বেশি ফর্ম ডিজিটাইজ় করা হয়েছে, যা মোটের ৫৯.৪ শতাংশ। বাকি অংশের ডিজিটাইজেশনও চলছে দ্রুত গতিতে।ফর্ম ফেরত, কোথায় কোন সমস্যা?বিএলও-রা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ফর্ম বিলি করার পরে তা সংগ্রহ করেন। সেই সময়ই তাঁরা বোঝেন কোন কোন ফর্ম পূরণ না হয়েই ফেরত এসেছে। পরিসংখ্যান বলছে, ফেরত আসা ১০ লক্ষ ফর্মের মধ্যে প্রায় ৬.৫ লক্ষই মৃত ভোটারের। এছাড়া বাকি অংশে রয়েছেন, একাধিক জায়গায় নাম থাকা ভোটার, অন্যত্র স্থানান্তরিত ভোটার ও দীর্ঘদিন ধরে নিরুদ্দেশ ব্যক্তিরা।কমিশন সূত্র জানাচ্ছে, রাজ্যের বিভিন্ন জেলার মধ্যে উত্তর কলকাতায় বাদ পড়ার হার সবচেয়ে বেশি। চলতি সপ্তাহের মধ্যেই সমস্ত বুথ থেকে পূর্ণাঙ্গ তথ্য এসে যাবে বলে আশা। তখনই স্পষ্ট হবে, মোট কত সংখ্যক নাম বাদ পড়তে চলেছে।কখন জানা যাবে চূড়ান্ত চিত্র?২০২৫ সালের ২৭ অক্টোবরের ভিত্তির তালিকা থেকে শেষ পর্যন্ত কত নাম বাদ গেল, তার পূর্ণ হিসেব মিলবে খসড়া প্রকাশে। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, আগামী ৯ ডিসেম্বর প্রকাশিত হবে রাজ্যের খসড়া ভোটার তালিকা। সেদিনই স্পষ্ট হবেএই পুনর্বিন্যাস প্রক্রিয়ায় কত নতুন নাম যুক্ত হলো,কত নাম বাদ গেল এবং ভোটার তালিকার মোট সংখ্যা কত দাঁড়াল।

নভেম্বর ২৫, ২০২৫
রাজ্য

বীরভূমে নজির: ১৭ দিনেই প্রায় শতভাগ ফর্ম আপলোড করে দৃষ্টান্ত স্থাপন মহিলা বি এল ও-র

বীরভূমের লাভপুরে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনে কাজে অভূতপূর্ব সাফল্য। বিধানসভা ১৬৬ নম্বর অংশের মহিলা বি এল ও পূজা ঘোষ মাত্র ১৭ দিনের মধ্যে ৯৯.৯১% ফর্ম অনলাইন আপলোড করে জেলার নজর কেড়েছেন। প্রশাসনিক মহলে এই উদ্যোগকে উদাহরণযোগ্য বলে প্রশংসা করা হচ্ছে।পূজার আওতায় মোট ভোটার সংখ্যা ১,০১৭। এর মধ্যে ১,০১৪ জনের ফর্ম অনলাইনে আপলোড করা হয়েছে। তিনজনের ক্ষেত্রে অনলাইন নট ফাউন্ড দেখানোর কারণে আপলোড সম্ভব হয়নি। বিষয়টি ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট দফতরে জানানো হয়েছে এবং পরে ফর্মগুলি আপলোড হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।নিজের কাজের পদ্ধতি নিয়ে পূজা জানান, প্রতিদিন একটা লক্ষ্য ঠিক করতাম যে ১৫০টা ফর্ম আপলোড করব। রাত ১১টা থেকে ভোর ৩-৪টে পর্যন্ত কাজ করেছি। রাতের দিকে সার্ভার ভালো থাকত, তাই দ্রুত কাজ করতে পেরেছি।চাপ থাকলেও মানসিক শক্তিই তাঁকে এগিয়ে নিয়েছে। যে কোনও কাজে চাপ থাকে। কিন্তু মনোযোগ দিয়ে কাজ করলে চাপ কখনও বাধা হয়ে দাঁড়ায় না, বলেন তিনি।সহকর্মীদের উদ্দেশে তাঁর বার্তা আরও স্পষ্ট, ভেঙে পড়লে চলবে না। চাপ হচ্ছে, পারব না এই মানসিকতা দূরে রাখতে হবে। লক্ষ্য ঠিক রেখে এগোলে কাজ যে সম্ভব, সেটাই দেখিয়েছি।প্রশাসনিক কর্তাদের মতে, অত্যাধুনিক ডিজিট্যাল সিস্টেমে কাজ করতে গিয়ে যেখানে অনেকেই হিমশিম খান, সেখানে পূজা ঘোষের পরিকল্পিত কর্মপদ্ধতি ও নিষ্ঠা ডিজিট্যাল ওয়ার্কফ্লোর একটি অনুকরণীয় উদাহরণ। জেলা জুড়ে এখন আলোচনার কেন্দ্রে এই তরুণী বিএলও-র অধ্যবসায়।

নভেম্বর ২৫, ২০২৫
রাজ্য

পাঠানখালি পঞ্চায়েতে আবারও জালিয়াতি! ভুয়ো মৃত্যু-সার্টিফিকেট বানিয়ে দোকান দখলের অভিযোগ

ভুয়ো জন্মসার্টিফিকেটের জালিয়াতির পরে এবার সামনে এল ভুয়ো মৃত্যু-সার্টিফিকেট কাণ্ড। গোসাবার পাঠানখালি পঞ্চায়েতের নাম জড়াল আবারও। ভাড়া নেওয়া দোকানের দখল পেতেই নাকি এক ব্যক্তি জীবিত থাকা সত্ত্বেও তাঁকে মৃত দেখিয়ে গড়ে তোলা হয়েছিল ভুয়ো মৃত্যুর শংসাপত্র। অবশেষে প্রতারণার দায়ে গ্রেফতার হলেন এক দম্পতিজর্জ ক্লিন্টন ডিকসন এবং তাঁর স্ত্রী ক্যারল এরিকসন ডিকসন। শেক্সপিয়র সরণি থানার পুলিশ তাঁদের গ্রেফতার করেছে।পুলিশ জানিয়েছে, বহু বছর আগে এজেসি বোস রোডে একটি দোকান ভাড়া নেন সরল রায় ও নিত্যরঞ্জন ঘোষ। পরে সেই দোকানই সাব-টেনেন্ট হিসেবে ভাড়া নেন ডিকসন দম্পতি। অভিযোগ, দোকানের দখল নিজের দাম্পত্যের হাতে নিতে নিত্যরঞ্জন ঘোষকে ২০১৪ সালেই মারা গেছেন বলে দেখানো হয়। অথচ বাস্তবে তিনি জীবিত ছিলেন। কিন্তু দোকান দখল নিশ্চিত করতে এই দম্পতি ২০২৪ সালের অগস্টে পাঠানখালি পঞ্চায়েত থেকে নিত্যরঞ্জনের নামে নতুন করে এক ভুয়ো মৃত্যু-সার্টিফিকেট বানিয়ে নেন।এই কাজে তাঁদের সাহায্য করেন পাঠানখালি পঞ্চায়েতের চুক্তিভিত্তিক কর্মী গৌতম সর্দার। তদন্তকারীদের দাবি, গৌতমই পুরো নথি জালিয়াতির মূল কারিগর। তাঁর বিরুদ্ধে আগেই অভিযোগ উঠেছিল যে তিনি হাজার হাজার ভুয়ো জন্মসার্টিফিকেট এবং শত শত ভুয়ো মৃত্যুসার্টিফিকেট তৈরি করেছিলেন। প্রায় সাড়ে তিন হাজার ভুয়ো জন্মসার্টিফিকেট এবং ৫১০টি ভুয়ো মৃত্যুসার্টিফিকেট তৈরির ঘটনায় তিনি আগেই গ্রেফতার হয়ে জেল হেফাজতে রয়েছেন। সেই মৃত্যুসার্টিফিকেটগুলির মধ্যেই ছিল নিত্যরঞ্জন ঘোষের নামে প্রস্তুত ভুয়ো শংসাপত্র। সেই নথিই ব্যবহার করে দোকান দখলের চেষ্টা করছিলেন ডিকসন দম্পতিএমনটাই মনে করছে পুলিশ।এই জালিয়াতির ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই নড়েচড়ে বসেছে তদন্তকারী সংস্থা। কীভাবে পঞ্চায়েতের ভিতর থেকেই এভাবে ভুয়ো নথি তৈরি হচ্ছিল, কে কে যুক্ত, কোথায় কোথায় এই সার্টিফিকেট ব্যবহার হয়েছেসব খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একের পর এক নথি জালিয়াতির ঘটনায় পাঠানখালি পঞ্চায়েতকে ঘিরে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।

নভেম্বর ২৪, ২০২৫
রাজ্য

এসআইআর ফর্ম আপলোডে বিপত্তি, বিএলও-কে আটকে রেখে বিক্ষোভ! মাথাভাঙ্গায় উত্তেজনা

কোচবিহারের মাথাভাঙ্গায় এসআইআর-এর ফর্ম আপলোড করতে গিয়েই তৈরি হল বড়সড় বিপত্তি। আর সেই বিপত্তি ঘিরেই উত্তেজনা ছড়াল পচাগর গ্রাম পঞ্চায়েতের ডাংকোবা এলাকায়। অভিযোগ উঠেছে, বিএলও অ্যাপে ফর্ম আপলোড না হওয়ায় ক্ষোভে ফেটে পড়ে গ্রামবাসীরা প্রথমে তাঁকে ঘিরে ধরে বিক্ষোভ দেখান, পরে উত্তেজনা এতটাই বাড়ে যে তাঁকে আটকে রাখারও অভিযোগ ওঠে।মাথাভাঙ্গার ২৪৩ ও ২৪৪ নম্বর বুথে কয়েক দিন আগে ভোটার তালিকা থেকে ৪২৫ জনের নাম উধাও হয়ে যায় বলে অভিযোগ ওঠে। পরে নির্বাচন কমিশন ওয়েবসাইটে নতুন তালিকা প্রকাশ করলে দেখা যায়যে ৪২৫ জনের নাম গায়েব বলা হয়েছিল, তাঁদের নামই রয়েছে পূর্ণাঙ্গ তালিকায়। তার পর থেকেই গ্রামবাসীরা উদ্বেগে ছিলেন, তাঁদের নাম অ্যাপে ঠিকমতো আপলোড হচ্ছে কি না।এদিন বিএলও সেই ৪২৫ জনের তথ্য অনলাইনে আপলোড করতে গেলে অ্যাপে বারবার সাকসেসফুল নয় দেখায়। ওই মুহূর্তেই ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন গ্রামবাসীরা। আপলোড না হওয়া মানেই আবার তাঁদের নাম মুছে গেল কি নাএই আশঙ্কায় উত্তেজনা চরমে পৌঁছয়। অভিযোগ, গ্রামের একদল মানুষ বিএলও-কে ঘিরে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন এবং পরে তাঁকে আটকে রাখেন।বিএলও ঘটনাস্থলেই বুঝিয়ে বলেন, যান্ত্রিক কোনও গোলযোগের কারণে তখনই সাকসেসফুল দেখাচ্ছে না, তবে ২৬ তারিখের পর এই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। তাঁর দাবি, অ্যাপ পরে নিজে থেকেই আপডেট নেবে এবং নাম ঠিকমতো আপলোড হয়ে যাবে। কিন্তু আশ্বস্ত হননি গ্রামবাসীরা। তাঁদের অভিযোগসিরিয়াল নম্বর ৪১৭ থেকে ৮৪৬ পর্যন্ত কোনও নামই অ্যাপে উঠছে না, আর এই বিভ্রান্তির সুযোগ নিয়ে এলাকার এক ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে গোলমাল বাঁধানোর চেষ্টা করছেন।উত্তেজনা বাড়তে থাকতেই খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে মাথাভাঙ্গা থানার পুলিশ। পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করে পুলিশ ও প্রশাসন। গ্রামবাসীরা জানান, তাঁরা শুধু নিশ্চিত হতে চেয়েছিলেন যে তাঁদের নাম আবার মুছে যাচ্ছে কি না। আর সেই উদ্বেগই মুহূর্তে অশান্তির রূপ নেয়। এলাকায় এখনও চাপা উত্তেজনা রয়েছে।

নভেম্বর ২৪, ২০২৫
রাজ্য

মায়া'ময় SIR! ৪৪ জায়গায় একই মহিলা ভোটার? মায়ারানিকে ঘিরে অভূতপূর্ব চাঞ্চল্য!

পশ্চিম বর্ধমানের পাণ্ডবেশ্বরের শান্ত ডিভিসি পাড়ায় আচমকাই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। কারণ, এক সাধারণ গৃহবধূকে ঘিরে উঠে এসেছে অবিশ্বাস্য এক তথ্যএকই নামে নাকি রাজ্যের ৪৪টি জায়গায় রয়েছে ভোটার লিস্ট! আর এই নাম অন্য কারও নয়, পাণ্ডবেশ্বরের ৪৭ নম্বর বুথের সাধারণ ভোটার মায়ারানি গোস্বামীর। এনুমারেশন ফর্মের কিউআর কোড স্ক্যান করতে গিয়ে বিএলও নিজেই যেভাবে চমকে ওঠেন, তেমনই বিস্ময়ে হতবাক মায়ারানি নিজেও।সরকারি বাড়িতে মেয়ে নিয়ে থাকেন মায়ারানি। স্বামী বহু বছর আগেই মারা গিয়েছেন। নিজের ভোটার তালিকার নিয়মিত কাজের সময় বিএলও যখন তাঁর ফর্ম স্ক্যান করেন, তখন দেখা যায়বাঁকুড়া, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ দিনাজপুরসহ রাজ্যের নানান এলাকায় তাঁর নাম রয়েছে ভোটার হিসেবে। এখানেই শেষ নয়। কোথাও তাঁর নাম মায়ারানি প্রামাণিক, কোথাও মায়ারানি মণ্ডল। এমনকি তাঁর প্রয়াত স্বামীর পদবীও নাকি বদলে গিয়েছে বিভিন্ন জেলায়!ঘটনার কথা শুনে প্রতিবেশীরা এক এক করে এসে যখন প্রশ্ন করতে থাকেন, তখন বিভ্রান্ত চোখে মায়ারানির শুধু একটাই কথাআমি তো কিছুই জানতাম না। লোক এসে কাগজ দেখাল। বলল, ভয় পাবেন না।এই অদ্ভুত ঘটনার জেরেই শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক চাপানউতোর। তৃণমূলের স্থানীয় অঞ্চল সভাপতি রবীন পাল দাবি করেছেন, একজন সাদাসিধে মহিলা এত জায়গায় ফর্ম পূরণ করেছেনএটা কোনওভাবেই সম্ভব নয়। তাঁর কথায়, এনুমারেশন প্রক্রিয়ায় কোথাও ভুল হয়েছে কি না, সেটাই খতিয়ে দেখা উচিত।অন্যদিকে বিজেপি নেতা জিতেন্দ্র তিওয়ারির অভিযোগ আরও তীব্র। তাঁর বক্তব্য, এই ঘটনাই প্রমাণ করছে কেন এসআইআর জরুরি। তৃণমূল যে এটির বিরোধিতা করছে, তার কারণ এ ধরনের ভুয়ো ভোটারই তাদের শক্তি। মহিলা জানেন কি না, সেটা আলাদা কথাকিন্তু ৪৪ জায়গায় তাঁর নাম উঠেছে, এটা ভয়ঙ্কর।ঘটনাটি সামনে আসতেই এলাকায় তীব্র উত্তেজনা, অভিযোগপাল্টা অভিযোগে উত্তাল রাজনীতি। আর সাধারণ মানুষ ভাবছেনএটা কি প্রযুক্তিগত ভুল, নাকি সত্যিই কোনও বড় জালিয়াতির খেলা? মায়ারানির মুখে একটাই কথাতিনি শুধু চান, সত্যিটা সকলের সামনে স্পষ্ট হোক।

নভেম্বর ২৪, ২০২৫
  • ‹
  • 1
  • 2
  • ...
  • 23
  • ...
  • 186
  • 187
  • ›

ট্রেন্ডিং

কলকাতা

বিদেশি বাজির বাজারে চমক! বিজেপি এগিয়ে, তবু টাকার স্রোত তৃণমূলের দিকে কেন?

ভোটের উত্তাপে ফুটছে বাংলা। রাজনৈতিক লড়াই এখন শুধু রাজ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও তা নিয়ে চলছে আলোচনা ও হিসেবনিকেশ। নির্বাচনের ফলাফল কী হতে পারে, তা নিয়ে অনলাইনে শুরু হয়েছে বিভিন্ন পূর্বাভাস। সেই সঙ্গে বেড়েছে বাজির অঙ্কও। লক্ষ লক্ষ টাকার বাজি ধরা হচ্ছে, যা নজিরবিহীন বলেই মনে করছেন অনেকে।সূত্রের খবর, আমেরিকার একটি জনপ্রিয় পূর্বাভাসভিত্তিক প্ল্যাটফর্মে এপ্রিলের শেষ পর্যন্ত প্রায় আটচল্লিশ লক্ষ ডলারের বাজি ধরা হয়েছে, যা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় চল্লিশ কোটি টাকার কাছাকাছি। সেই বাজারের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, জয়ের দৌড়ে সামান্য এগিয়ে রয়েছে বিজেপি। সেখানে বিজেপির জয়ের সম্ভাবনা ধরা হয়েছে প্রায় ছাপ্পান্ন শতাংশ। অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের সম্ভাবনা রয়েছে প্রায় তেতাল্লিশ শতাংশ। বাম ও কংগ্রেস বা অন্যান্য দলগুলির সম্ভাবনা এক শতাংশেরও কম।তবে এই ছবিটা শুরু থেকে এমন ছিল না। এপ্রিলের গোড়ার দিকে ওই প্ল্যাটফর্মে তৃণমূল অনেকটাই এগিয়ে ছিল। তখন তাদের সম্ভাবনা ছিল প্রায় পঁচাত্তর থেকে আশি শতাংশ। প্রথম দফার ভোটের পর ছবিটা বদলাতে শুরু করে এবং বিজেপি এগিয়ে যায়। এরপর আবার একসময় তৃণমূলের পক্ষে বিপুল অঙ্কের টাকা জমা পড়ে। কিন্তু দ্বিতীয় দফার ভোটের পর আবার বিজেপি এগিয়ে যায়।তবে সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয়, শতাংশের হিসাবে বিজেপি এগিয়ে থাকলেও মোট লেনদেনের পরিমাণে তৃণমূল অনেকটাই এগিয়ে। তৃণমূলের পক্ষে লেনদেন হয়েছে প্রায় আঠারো লক্ষ ডলার, আর বিজেপির ক্ষেত্রে তা প্রায় এগারো লক্ষ ডলার। বিশ্লেষকদের মতে, অনেকেই হয়তো তৃণমূলের হার নিয়ে বাজি ধরছেন, অথবা বড় বিনিয়োগকারীরা একসঙ্গে বিপুল টাকা বিজেপির জয়ের উপর লগ্নি করছেন, যার ফলে শতাংশের হিসেব বদলে যাচ্ছে।অন্যদিকে দেশের বাজির বাজার আবার অন্য ছবি দেখাচ্ছে। দিল্লির বাজির বাজারের হিসেব অনুযায়ী তৃণমূল কিছুটা এগিয়ে রয়েছে। তাদের মতে, তৃণমূল পেতে পারে একশো ছেচল্লিশ থেকে একশো ঊনপঞ্চাশটি আসন, আর বিজেপি পেতে পারে একশো চল্লিশ থেকে একশো তেতাল্লিশটি আসন।এদিকে এ বারের নির্বাচনে ভোটদানের হারও রেকর্ড ছুঁয়েছে। প্রথম দফায় ভোট পড়েছে প্রায় তিরানব্বই শতাংশের বেশি। দ্বিতীয় দফায় তা ছিল একানব্বই দশমিক একচল্লিশ শতাংশ। যা দেশের নির্বাচনী ইতিহাসে বিরল ঘটনা। এখন সবার নজর ফলাফলের দিকে।

মে ০৩, ২০২৬
দেশ

ভোরের আগুনে ৯ জনের মৃত্যু, ক্ষতিপূরণ ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর! দিল্লিতে শোকের ছায়া

দিল্লির শাহদরা এলাকায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানির ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। রবিবার ভোরে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় অন্তত ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। মৃতদের পরিবার ও আহতদের জন্য আর্থিক সহায়তার কথাও ঘোষণা করেছেন তিনি।প্রধানমন্ত্রীর দফতরের পক্ষ থেকে একটি বার্তায় জানানো হয়েছে, এই দুর্ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। যাঁরা তাঁদের প্রিয়জনকে হারিয়েছেন, তাঁদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানো হয়েছে। পাশাপাশি আহতদের দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠার কামনাও করা হয়েছে।প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, জাতীয় ত্রাণ তহবিল থেকে মৃতদের প্রত্যেক পরিবারের হাতে দুই লক্ষ টাকা করে দেওয়া হবে। আহতদের দেওয়া হবে পঞ্চাশ হাজার টাকা করে।রবিবার ভোররাতে এই আগুন লাগে, যার ফলে এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ভোর প্রায় তিনটে সাতচল্লিশ মিনিট নাগাদ দমকলের কাছে আগুন লাগার খবর পৌঁছয়। সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ, দমকল এবং বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় এবং উদ্ধারকাজ শুরু করে।আগুন লাগার সময় বহু মানুষ ঘরের ভিতরে আটকে পড়েছিলেন। দমকল কর্মীরা দ্রুত উদ্ধারকাজ চালিয়ে প্রায় দশ থেকে পনেরো জনকে বের করে আনেন। তাঁদের মধ্যে অন্তত দুজন সামান্য আহত হন এবং হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।আগুন নেভানোর কাজে নামানো হয় দমকলের বারোটি ইঞ্জিন। দীর্ঘ চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও উপরের তলাগুলিতে এখনও ধোঁয়া রয়েছে। তাই সেখানে তল্লাশি অভিযান চালানো হচ্ছে। পুলিশ জানিয়েছে, কীভাবে আগুন লাগল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

মে ০৩, ২০২৬
রাজ্য

সিসি ক্যামেরা কেন বন্ধ? স্ট্রংরুম ঘিরে তৃণমূলের অভিযোগে উত্তাল রাজনীতি

পূর্ব বর্ধমানে স্ট্রংরুমের সিসি ক্যামেরা ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এবার এই অভিযোগ তুলেছে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। জেলার আউশগ্রাম, ভাতাড়, গলসি, বর্ধমান উত্তর এবং বর্ধমান দক্ষিণএই পাঁচটি বিধানসভার স্ট্রংরুম রাখা হয়েছে বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের গোলাপবাগ ক্যাম্পাসের একটি ভবনে।রবিবার সকালে আউশগ্রাম বিধানসভার স্ট্রংরুমের সিসি ক্যামেরা প্রায় এক ঘণ্টা পনেরো মিনিট বন্ধ ছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। তৃণমূলের দাবি, সকাল নয়টা চব্বিশ মিনিট থেকে দশটা সাঁইত্রিশ মিনিট পর্যন্ত ক্যামেরা কাজ করেনি। এই ঘটনা সামনে আসতেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়।জেলা তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সভাপতি স্বরাজ ঘোষ জানান, সকাল থেকেই তারা নজর রাখছিলেন। হঠাৎ করেই দেখা যায় ক্যামেরা বন্ধ হয়ে গেছে। সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি নির্বাচন কমিশন ও জেলা প্রশাসনকে জানানো হয়। কিন্তু এখনও পর্যন্ত কোনও স্পষ্ট ব্যাখ্যা মেলেনি বলে দাবি তাঁর।একই অভিযোগ করেছেন জেলা তৃণমূল যুব কংগ্রেসের সহ সভাপতি সেখ আবজল রহমান। তিনি জানান, ওই সময়ের ভিডিও ফুটেজ দেখতে চাওয়া হলেও এখনও তা দেখানো হয়নি। ফলে এই ঘটনার রহস্য আরও বাড়ছে বলে মনে করছেন তিনি।এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে চাপানউতোর শুরু হয়েছে। যদিও প্রশাসন বা নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ফলে পুরো বিষয়টি নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

মে ০৩, ২০২৬
কলকাতা

গণনার আগেই তৎপর মমতা! ভবানীপুর নিয়ে শেষ মুহূর্তের গোপন বৈঠকে কী বার্তা?

ভোট গণনার ঠিক একদিন আগে তৎপর হয়ে উঠলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রবিবার সন্ধ্যা সাড়ে ছটা নাগাদ কালীঘাটের বাড়ি থেকে শেষ মুহূর্তের বৈঠক করবেন তিনি। বিশেষ নজরে রয়েছে ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্র, যেখান থেকে নিজেই প্রার্থী হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।সূত্রের খবর, ভবানীপুরের ভোট গণনা কীভাবে হবে, সেই সমস্ত খুঁটিনাটি বিষয় নিয়েই এই বৈঠকে আলোচনা হবে। বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন ওই কেন্দ্রের আটজন কাউন্সিলর, বিভিন্ন ওয়ার্ডের সভাপতি এবং প্রধান নির্বাচন এজেন্টরা। পাশাপাশি দলের আরও কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ নেতাও থাকতে পারেন। অন্য কেন্দ্রগুলির প্রার্থীদের সঙ্গেও ভারচুয়ালি কথা বলতে পারেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।ভবানীপুর কেন্দ্রকে ঘিরেই এবার রাজ্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ লড়াই বলে মনে করা হচ্ছে। এই কেন্দ্র থেকেই মূলত মর্যাদার লড়াই চলছে। জানা গিয়েছে, বৈঠকে এই কেন্দ্রের গণনা নিয়ে বিশেষ দিকনির্দেশ দিতে পারেন তৃণমূল নেত্রী।পাঁচ বছর আগে নন্দীগ্রামে ভোট গণনার সময় যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, তা এখনও রাজনৈতিক মহলে আলোচনায় রয়েছে। প্রথমে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে জয়ী ঘোষণা করা হলেও পরে ফলাফল বদলে যায় এবং শেষ পর্যন্ত জয় পান শুভেন্দু অধিকারী। সেই ঘটনাকে ঘিরে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়েছিল এবং বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায়। এবার সেই অভিজ্ঞতা মাথায় রেখেই আগাম সতর্ক থাকতে চাইছেন মমতা।এর আগে একটি ভারচুয়াল বৈঠকে তিনি স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন, ভোট গণনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনও এজেন্ট যেন গণনাকেন্দ্র ছেড়ে না যান। রাত গভীর হলেও সবাইকে সেখানে থাকতে হবে বলে জানানো হয়েছে। কখন কীভাবে পরিস্থিতি সামলাতে হবে, সেই বিষয়েও বিস্তারিত নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। এমনকি এজেন্টদের কী খাওয়া উচিত, সেই বিষয়েও পরামর্শ দিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী।এবার ভবানীপুর কেন্দ্র নিয়ে তিনি আলাদা করে কী নির্দেশ দেন, সেদিকেই নজর থাকবে রাজনৈতিক মহলের।

মে ০৩, ২০২৬
কলকাতা

স্ট্রংরুম ঘিরে রাতভর তাণ্ডব! তৃণমূল-বিজেপি সংঘর্ষে উত্তপ্ত বিধাননগর

গণনার আগেই উত্তপ্ত হয়ে উঠল রাজনৈতিক পরিস্থিতি। বিধাননগর কলেজের স্ট্রংরুম ঘিরে শনিবার রাতে তৃণমূল ও বিজেপি কর্মীদের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। প্রথমে দুই পক্ষের মধ্যে বচসা শুরু হয়। এরপর স্লোগান এবং পাল্টা স্লোগানে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। কিছুক্ষণের মধ্যেই সেই উত্তেজনা হাতাহাতিতে গড়িয়ে যায়।পরিস্থিতি সামাল দিতে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় কেন্দ্রীয় বাহিনী ও পুলিশ। মাইকিং করে জমায়েত ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করা হয়। পরে ব্যারিকেড করে দুই দলের কর্মীদের আলাদা করে দেওয়া হয়। তবেই পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসে।বিজেপির অভিযোগ, তাদের তৈরি করা ক্যাম্পে তৃণমূল কর্মীরা দলীয় পতাকা লাগিয়ে দেয়। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই ঝামেলার শুরু। অন্যদিকে তৃণমূল বিজেপির বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলার পাশাপাশি কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধেও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। তাদের দাবি, কেন্দ্রীয় বাহিনী তাদের উপর লাঠিচার্জ করেছে। এই ঘটনায় বারবার উত্তেজনা ছড়ায় এলাকায়।স্ট্রংরুমের নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি গণনাকেন্দ্রগুলিতেও কড়াকড়ি বাড়ানো হয়েছে। পূর্ব মেদিনীপুরে চারটি গণনাকেন্দ্রকে নিষিদ্ধ এলাকা ঘোষণা করা হয়েছে। সেখানে বাজি ফাটানো বা বিজয় মিছিলের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে। গণনাকেন্দ্রের আশেপাশে জারি হয়েছে একশো তেষট্টি ধারা। জেলা জুড়ে পুলিশ মাইকিং করে সতর্কবার্তা দিচ্ছে।অন্যদিকে মালদহে গণনা নিয়ে কোনও সমস্যা যাতে না হয়, সেই কারণে জেলা শাসক সর্বদলীয় বৈঠক করেছেন। প্রার্থীদের গণনাকেন্দ্র ও স্ট্রংরুম ঘুরিয়ে দেখানো হয়েছে। কোনও দলই বড় কোনও অভিযোগ করেনি। মালদহ কলেজ ও মালদা পলিটেকনিক কলেজে গণনাকেন্দ্র তৈরি হয়েছে। আগামী চার মে জেলার বারোটি বিধানসভার ভোট গণনা এই দুই কেন্দ্রেই হবে।

মে ০৩, ২০২৬
দেশ

ভোরের ঘুমই শেষ ঘুম! দিল্লির বহুতলে আগুনে পুড়ে মৃত্যু ৯, শিশুও রক্ষা পেল না

ভোরবেলা তখন প্রায় চারটে। ছুটির দিন হওয়ায় অধিকাংশ মানুষ গভীর ঘুমে ছিলেন। সেই সময় আচমকা ভয়াবহ আগুন লাগে দিল্লির বিবেক বিহার এলাকার একটি চারতলা ভবনে । মুহূর্তের মধ্যে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে পুরো ভবনে। ঘন কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায় চারপাশ। এই অগ্নিকাণ্ডে এখনও পর্যন্ত ৯ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে, যার মধ্যে একটি শিশুও রয়েছে। বহু মানুষ আহত হয়েছেন।খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় দমকলের ১৪টি ইঞ্জিন। আগুন এতটাই ভয়াবহ ছিল যে তা নিয়ন্ত্রণে আনতে দমকল কর্মীদের প্রায় দুই ঘণ্টা লড়াই করতে হয়। এরপর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। ততক্ষণে ভবনের বেশ কিছু অংশ সম্পূর্ণ পুড়ে যায়।জানা গিয়েছে, দ্বিতীয় তলায় প্রথম আগুন লাগে। তারপর তা দ্রুত তৃতীয় ও চতুর্থ তলায় ছড়িয়ে পড়ে। সেই সময় বহু মানুষ ভিতরে আটকে পড়েন। অনেকে জানলা দিয়ে বেরোনোর চেষ্টা করলেও সফল হননি। অনেকের ঘুমের মধ্যেই আগুনে পুড়ে মৃত্যু হয়েছে। আবার অনেকেই ধোঁয়ায় দমবন্ধ হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন। দমকল কর্মীরা একের পর এক মৃতদেহ উদ্ধার করেন।সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে দ্বিতীয় তলায়। সেখানে একই পরিবারের পাঁচ জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতরা হলেন অরবিন্দ জৈন, তাঁর স্ত্রী অনিতা জৈন, ছেলে নিশান্ত জৈন, পুত্রবধূ আঁচল জৈন এবং তাঁদের ছোট সন্তান আকাশ জৈন। তৃতীয় তলাতেও একই পরিবারের তিন জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতরা হলেন নীতিন জৈন, তাঁর স্ত্রী শৈলী জৈন এবং তাঁদের ছেলে সাম্যক জৈন। অন্য আহতদের গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।কী কারণে এই আগুন লাগল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে স্থানীয় এক বাসিন্দার দাবি, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র ফেটে গিয়ে আগুন লাগতে পারে। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।এই ঘটনায় শোকপ্রকাশ করেছেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা। তিনি জানিয়েছেন, এই দুর্ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। আহতদের দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং সরকার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে রয়েছে। পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে বলেও তিনি জানিয়েছেন।

মে ০৩, ২০২৬
দেশ

আকাশযাত্রার মাঝেই আতঙ্ক—চলন্ত বিমান থেকে লাফ যুবকের, তারপর যা হল!

ভোরের চেন্নাই বিমানবন্দরে চাঞ্চল্যকর ঘটনা। বিমান তখনও পুরোপুরি থামেনি, ধীরে ধীরে রানওয়ে থেকে ট্যাক্সিওয়ের দিকে এগোচ্ছে। ঠিক সেই সময় হঠাৎই আপৎকালীন দরজা খুলে এক যুবক বিমান থেকে ঝাঁপ দেন। ঘটনাটি ঘটে শারজাহ থেকে চেন্নাইগামী একটি বিমানে। আচমকা এই ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে অন্যান্য যাত্রীদের মধ্যে।বিমান কর্তৃপক্ষ জানায়, অবতরণের পর বিমানটি যখন ধীরে চলছিল, তখনই ওই যুবক দরজা খুলে নিচে লাফ দেন। তবে আশ্চর্যের বিষয়, এতে তাঁর গুরুতর কোনও আঘাত লাগেনি। তিনি সুস্থই রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। ঘটনার পরই পাইলট নিরাপত্তা কর্মীদের খবর দেন। দ্রুত সেখানে পৌঁছে সিআইএসএফ জওয়ানরা ওই ব্যক্তিকে আটক করেন এবং পরে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।জানা গিয়েছে, বিমানে ওঠার পর থেকেই ওই যুবকের শারীরিক অবস্থা ভালো ছিল না। তিনি একাধিকবার বমিও করেছিলেন। তারপর হঠাৎই এমন দুঃসাহসিক সিদ্ধান্ত নেন তিনি। তাঁর বাড়ি তামিলনাড়ুর পুদুক্কোট্টাই জেলায় বলে জানা গেছে।এই ঘটনায় কিছু সময়ের জন্য বিমান পরিষেবা ব্যাহত হয়। সতর্কতার জন্য ভোর তিনটে তেইশ মিনিট থেকে চারটে তেইশ মিনিট পর্যন্ত প্রধান রানওয়ে বন্ধ রাখা হয়। ওই সময় অন্যান্য উড়ানকে বিকল্প রানওয়েতে নামানো হয়।কী কারণে ওই যুবক এমন কাজ করলেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়। পুলিশ তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে এবং পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।

মে ০৩, ২০২৬
রাজ্য

ফলের আগেই বড় দাবি! ‘ত্রিশঙ্কু বিধানসভা’, সরকার গঠনের চাবিকাঠি নিজের হাতে বললেন হুমায়ুন

ভোট পর্ব শেষ হতেই নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রধান হুমায়ুন কবীর। তিনি দাবি করেছেন, বাংলায় কোনও দলই এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে না এবং ত্রিশঙ্কু বিধানসভা গঠিত হতে চলেছে। তাঁর মতে, এই পরিস্থিতিতে সরকার গঠনের চাবিকাঠি থাকবে তাঁর দলের হাতেই।তবে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, কোনও অবস্থাতেই বিজেপিকে সমর্থন করবেন না। একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, সম্মানজনক শর্তে তৃণমূল কংগ্রেসকে সমর্থন করতে তিনি প্রস্তুত। এই মন্তব্যের পর রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে, ভোটের পর কি তৃণমূলের সঙ্গে দূরত্ব কমানোর চেষ্টা করছেন হুমায়ুন কবীর।বহরমপুরে এক সভায় তিনি বলেন, কোনও দলই সংখ্যাগরিষ্ঠতার কাছাকাছি পৌঁছতে পারবে না। তাঁর দাবি, কংগ্রেস, সিপিএম এবং আইএসএফ মিলিয়ে খুব বেশি হলে পনেরোর মতো আসন পাবে। অন্যদিকে, তাঁর দল প্রায় তিরিশটি আসন জিততে পারে বলে তিনি আশাবাদী।হুমায়ুন কবীর আরও বলেন, মালদহ, মুর্শিদাবাদ, বীরভূম এবং দক্ষিণ দিনাজপুরের মতো জেলায় তাঁদের দলের শক্তি তৃণমূলের আসন কমিয়ে দেবে। তাঁর অভিযোগ, তৃণমূল তাঁর প্রতি অসম্মান দেখিয়েছে এবং তার জবাব বাংলার মানুষ ভোটের মাধ্যমে দিয়েছে।তৃণমূল নেতৃত্বের উদ্দেশে বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে সরকার গঠনের জন্য তাঁর সাহায্য চাইতে হতে পারে। তিনি আবারও জানান, তিনি বিজেপিকে কোনও অবস্থাতেই সমর্থন করবেন না। তাঁর কথায়, কে কোন দলের সহযোগী, তা ভবিষ্যতেই পরিষ্কার হবে।শেষে তিনি বলেন, আবার নির্বাচন হোক, তা তিনি চান না। যদি ত্রিশঙ্কু পরিস্থিতি তৈরি হয়, তবে আলোচনা ও সমঝোতার মাধ্যমে সরকার গঠনের পথ খোলা থাকবে। তবে কোনও দলই এককভাবে নির্দিষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতায় পৌঁছতে পারবে না বলেই তাঁর বিশ্বাস।

মে ০২, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal