ঋণ পাইয়ে দেওয়ার টোপ দিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা ও গুরুত্বপূর্ণ নথি হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠল বর্ধমান শহরের একটি কল সেন্টারের বিরুদ্ধে। পুলিশের অভিযোগ, জামতাড়া গ্যাংয়ের কায়দায় পরিকল্পনা করে চলছিল এই প্রতারণা চক্র। ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরোর (NCRB) NCRP পোর্টালে জমা পড়া অভিযোগের সূত্র ধরে তদন্তে নেমে চক্রটির হদিশ পায় বর্ধমান থানার পুলিশ। ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে চক্রের কথিত কিংপিন-সহ সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, বর্ধমান শহরের তিনকোনিয়া বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন গুডস শেড রোডের একটি বিল্ডিংয়ের দোতলায় ওই কল সেন্টারটি চালানো হচ্ছিল। বাইরে থেকে সেটিকে সাধারণ অফিস বলেই মনে হত। এমনকী সাধারণ মানুষের সন্দেহ এড়াতে অফিসের বাইরে সাইনবোর্ডও লাগানো হয়েছিল। সেখানে বিভিন্ন ব্যাঙ্কের মাধ্যমে ঋণ পাইয়ে দেওয়ার কথা উল্লেখ করা থাকত।
তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, ওই অফিস থেকেই পূর্ব বর্ধমান-সহ রাজ্যের বিভিন্ন জেলার বাসিন্দাদের ফোন করা হত। সহজ শর্তে ঋণ পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে সম্ভাব্য গ্রাহকদের প্রতারণার ফাঁদে ফেলা হত বলে অভিযোগ। কল সেন্টারে বেশ কয়েকজন যুবক-যুবতীকে নিয়োগ করা হয়েছিল বলেও পুলিশের দাবি। অফিসের ভিতরে ছিল আলাদা কল ডেক্স, ট্রেনিং রুম এবং ডিরেক্টর রুম। পুলিশের দাবি, প্রতারকদের ফোন করার পদ্ধতিতেও ছিল বিশেষ কৌশল। স্মার্টফোনের বদলে ব্যবহার করা হত কিপ্যাড ফোন। ওই ফোনগুলিতে ব্যবহৃত সিম কার্ড একটি ট্রাস্ট বোর্ডের নামে নেওয়া হয়েছিল বলে তদন্তে জানা গিয়েছে।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, প্রথমে মহিলা কর্মীদের দিয়ে সম্ভাব্য গ্রাহকদের ফোন করা হত। কেউ ঋণ নেওয়ার ব্যাপারে আগ্রহ দেখালে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে আধার, প্যান এবং ভোটার কার্ডের মতো গুরুত্বপূর্ণ নথি সংগ্রহ করা হত। এরপর ‘প্রসেসিং ফি’-র নাম করে গ্রাহকদের কাছে পাঠানো হত QR কোড। সেই কোডের মাধ্যমে টাকা পাঠানোর পর বিভিন্ন অজুহাতে ফের টাকা চাওয়া হত বলে পুলিশের অভিযোগ। ধাপে ধাপে একেকজনের কাছ থেকে হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়া হত বলে প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান। অভিযানে ওই অফিস থেকে প্রায় পাঁচ হাজার ফোন নম্বরের ডেটাবেস উদ্ধার হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। এছাড়াও ১২টি সিম কার্ড, একটি ল্যাপটপ, চারটি ডেস্কটপ, আটটি মোবাইল ফোন এবং একাধিক নথি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, শুধু পূর্ব বর্ধমান বা রাজ্যের অন্যান্য জেলা নয়, দেশের বিভিন্ন প্রান্তেও একই কায়দায় প্রতারণা চালানো হয়ে থাকতে পারে। বিভিন্ন জায়গা থেকে অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্তে নেমে বর্ধমান শহরের ওই অফিসটির সন্ধান পাওয়া যায়। এরপর অভিযান চালিয়ে সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। শুক্রবার ধৃতদের বর্ধমান আদালতে পেশ করা হবে বলে পুলিশ জানিয়েছে। তবে পুলিশের আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত অরিৎ কুমার দাস। এই কল সেন্টারের সঙ্গে আরও কেউ যুক্ত ছিল কি না, উদ্ধার হওয়া বিপুল ফোন নম্বরের ডেটাবেসের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগগুলির কোনও যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে বর্ধমান থানার পুলিশ।
আরও পড়ুনঃ 'ধ্যনমগ্ন' অভিষেকের ঝড়ে আফগানিস্তান উড়ে গেল, ১২৭ রানে জয় ভারতের
আরও পড়ুনঃ তুমি আছো নীরবে - ভয়ঙ্কর রোমাঞ্চকর গল্প -(২য় পর্ব)
- More Stories On :
- Jamtara Gang
- Fraud
- Arrested
- Bardhaman,

