অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা নিয়ে রাজ্যে ফের জোর জল্পনা। সূত্রের খবর, চলতি মাসে ১৭ সেপ্টেম্বর যোগ্য মহিলাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ৩ হাজার টাকা করে পাঠানোর প্রস্তুতি রয়েছে। এবার প্রায় এক কোটি ৫৮ লক্ষ মহিলা এই প্রকল্পের সুবিধা পেতে পারেন বলে জানানো হয়েছে। এর ফলে আগের মাসের তুলনায় উপভোক্তার সংখ্যা আরও বাড়তে চলেছে।
রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপির সংকল্পপত্রে ২৫ থেকে ৬০ বছর বয়সি মহিলাদের জন্য অন্নপূর্ণা যোজনা চালুর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর সেই প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়। যোগ্য মহিলাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরাসরি আর্থিক সহায়তা পাঠানো হচ্ছে। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, অন্নপূর্ণা যোজনায় প্রতি মাসে ৩ হাজার টাকা করে দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।
প্রথম দিকে তুলনামূলক কম সংখ্যক মহিলা এই প্রকল্পের টাকা পেয়েছিলেন। পরে ধাপে ধাপে উপভোক্তার সংখ্যা বেড়েছে। আপনার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জুন মাসে ২৮ লক্ষ মহিলা টাকা পেয়েছিলেন। জুলাইয়ে সেই সংখ্যা বেড়ে হয় এক কোটি ১৯ লক্ষ। আগস্টেও উপভোক্তার সংখ্যা আরও বাড়ে। সেপ্টেম্বর মাসে প্রায় এক কোটি ৫৮ লক্ষ মহিলার অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানোর কথা বলা হয়েছে।
তবে অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পাওয়ার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কিছু শর্ত রয়েছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শর্তগুলির মধ্যে রয়েছে মহিলার বয়স। সাধারণ ভাবে ২৫ থেকে ৬০ বছর বয়সি মহিলারাই এই প্রকল্পের জন্য যোগ্য বলে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি নিজের মাসিক আয় ১০ হাজার টাকার বেশি হলে এই সুবিধা পাওয়া যাবে না। পরিবারের বার্ষিক আয়ও নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে থাকতে হবে।
পারিবারিক আয়ের ক্ষেত্রে সীমা রাখা হয়েছে ১২ লক্ষ টাকা। অর্থাৎ পরিবারের বার্ষিক আয় ১২ লক্ষ টাকার বেশি হলে অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা থেকে বাদ পড়তে পারেন সংশ্লিষ্ট মহিলা। একই সঙ্গে অন্য সরকারি সামাজিক প্রকল্পের সুবিধা নেওয়া থাকলেও কিছু ক্ষেত্রে অন্নপূর্ণার টাকা পাওয়া যাবে না বলে জানানো হয়েছে।
তবে সব ভাতার ক্ষেত্রে একই নিয়ম প্রযোজ্য নয়। দিব্যাঙ্গ ভাতা পাওয়া মহিলাদের জন্য বিশেষ ছাড়ের কথা বলা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী কৃষক প্রকল্পের সুবিধাভোগী পরিবারের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট শর্তে অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা পাওয়ার কথা জানানো হয়েছে।
বিধবা মহিলাদের ক্ষেত্রেও রয়েছে বিশেষ নিয়ম। ২৫ থেকে ৬০ বছর বয়সি বিধবারা অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পেতে পারেন। তবে তাঁরা অন্য কোনও সামাজিক প্রকল্পের সুবিধা নিচ্ছেন কি না, তা বিবেচনা করা হবে। অর্থাৎ শুধু বিধবা হলেই স্বয়ংক্রিয় ভাবে টাকা মিলবে না, প্রকল্পের অন্যান্য যোগ্যতার শর্তও পূরণ করতে হবে।
বাড়ি এবং জমির ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে। শহরাঞ্চলে বাড়ির আকার এবং জমির মালিকানার মতো বিষয় বিবেচনা করা হতে পারে। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, নির্দিষ্ট পুরনিগম এলাকায় ৫০ ডেসিমেলের বেশি জমি থাকলে অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা পাওয়া যাবে না। তবে গ্রামীণ এলাকার ক্ষেত্রে জমির পরিমাণ নিয়ে কিছু ছাড় রয়েছে।
বাড়িতে তিনটির বেশি ঘর থাকলেও শহর ও গ্রামের ক্ষেত্রে নিয়ম এক নয় বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। গ্রামীণ এলাকার মহিলাদের ক্ষেত্রে এই শর্তে ছাড় থাকার কথা বলা হয়েছে। ফলে অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পাওয়ার আগে আবেদনকারীর বয়স, আয়, পারিবারিক আয়, বাড়ি, জমি এবং অন্য কোনও সরকারি সুবিধা নেওয়া হচ্ছে কি না—সবকিছুই যাচাই করা হতে পারে।
অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। যোগ্যতার যাচাইয়ের পরই উপভোক্তাদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই টাকা না পাওয়া নিয়ে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় অভিযোগও সামনে এসেছে। ফলে সেপ্টেম্বরের কিস্তিতে কারা টাকা পাচ্ছেন, আর কারা তালিকা থেকে বাদ পড়ছেন, সেদিকেও নজর রয়েছে।
এখন নজর ১৭ সেপ্টেম্বরের দিকে। ওই দিনে এক কোটি ৫৮ লক্ষ মহিলার অ্যাকাউন্টে সত্যিই ৩ হাজার টাকা করে পৌঁছয় কি না, সেটাই দেখার। একই সঙ্গে যাঁরা এখনও টাকা পাননি, তাঁদের ক্ষেত্রে যোগ্যতার কোন শর্তে সমস্যা হয়েছে, তা নিয়েও আগ্রহ রয়েছে উপভোক্তাদের মধ্যে।
- More Stories On :
- Annapurna Yojana
- September

