আইপ্যাকের ডিরেক্টর প্রতীক জৈনের বাড়ি ও সল্টলেকে আইপ্যাকের দফতরে একদিন আগেই তল্লাশি চালিয়েছিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। সেই তল্লাশির সময় ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কেন্দ্রীয় সংস্থা ও বিজেপির বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানান তিনি। এবার একই ইস্যুতে সুর চড়ালেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
শুক্রবার নদিয়ার তাহেরপুরে মতুয়াগড়ের সভা থেকে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে একের পর এক আক্রমণ করেন অভিষেক। আইপ্যাকের অফিসে ইডি হানা নিয়ে তিনি বলেন, ভোটার লিস্ট সংক্রান্ত একটি অ্যাপ তৈরি করেছিল আইপ্যাক, যাতে সাধারণ মানুষের সুবিধা হয়। তৃণমূলের হয়ে কাজ করছে বলেই সেই সংস্থার উপর ইডি নামানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। অভিষেকের বক্তব্য, গরিব মানুষের পাশে দাঁড়ানোর শাস্তি হিসেবে একদিকে ইডি পাঠানো হচ্ছে, অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। এটাকেই বিজেপির রাজনীতির ফর্মুলা বলে কটাক্ষ করেন তিনি।
সভা মঞ্চ থেকে আরও চড়া সুরে অভিষেক বলেন, বিজেপির কাছে ক্ষমতা, টাকা ও কেন্দ্রীয় সংস্থা আছে, কিন্তু মানুষের সমর্থন নেই। তৃণমূলের কাছে কিছু না থাকলেও মানুষের ভালোবাসা আছে। শেষ কথা বলবে সাধারণ মানুষই। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বা মিডিয়া ভোট দেয় না। ভোট দেয় শ্রমিক, কৃষক, মা-বোনেরা। বাংলার মানুষ এমন জবাব দেবে যে বিজেপির অহংকার চূর্ণ হয়ে যাবে।
এই সভা থেকেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শান্তনু ঠাকুরের বিরুদ্ধেও তীব্র আক্রমণ করেন অভিষেক। তাঁর অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনকে ব্যবহার করে মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে এবং ইডি, সিবিআই দিয়ে বিরোধীদের কণ্ঠরোধ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, যত কেন্দ্রীয় সংস্থা, যত টাকা, যত ক্ষমতাই ব্যবহার করা হোক না কেন, বাংলার মানুষ দিল্লির শাসকদের কাছে মাথা নত করবে না।
এসআইআর ও নাগরিকত্ব প্রসঙ্গ তুলে অভিষেক স্পষ্ট ভাষায় বলেন, নিঃশর্ত নাগরিকত্ব দিতে হবে। না হলে মোদী, শাহ ও শান্তনু ঠাকুরকে সরে যাওয়ার দাবি জানায় তৃণমূল। তাঁর বক্তব্য, এখন আওয়াজ তোলার সময়, পিছিয়ে থাকার সময় নয়।
- More Stories On :
- Abhishek Banerjee
- IPAC
- ED Raid

