দীর্ঘ টানাপোড়েনের পর অবশেষে বৃহস্পতিবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার হন তাঁর আপ্ত সহায়ক সুমিত রায়। সুপ্রিম কোর্টের রক্ষাকবচ খারিজ হওয়ার পরই সিআইডি তাঁকে গ্রেপ্তার করে। শারীরিক পরীক্ষা শেষে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় ভবানী ভবনে। সেখানেই শুরু হয় দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদ।
সূত্রের খবর, ভবানী ভবনে প্রথম রাতটা উদ্বেগের মধ্যেই কাটে সুমিতের। গভীর রাত পর্যন্ত তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় বলে জানা গিয়েছে। খাওয়া-দাওয়া করলেও এক মুহূর্তের জন্যও ঘুমোতে পারেননি বলে সূত্রের দাবি। রাতভর তাঁকে পায়চারি করতে দেখা যায় বলেও জানা গিয়েছে। তাঁর চোখে-মুখে উদ্বেগের ছাপ স্পষ্ট ছিল বলে সূত্রের খবর।
জমি দুর্নীতি মামলায় সুমিতের কাছ থেকে মূলত টাকার লেনদেন সংক্রান্ত তথ্য জানতে চান তদন্তকারীরা। জমি দুর্নীতির টাকা কোন পথে গিয়েছে, কার মাধ্যমে সেই টাকা সরানো হয়েছে, হাওয়ালার মাধ্যমে বিদেশে টাকা পাঠানো হয়েছিল কি না, এমন একাধিক প্রশ্ন তাঁকে করা হয় বলে জানা গিয়েছে।
তবে সূত্রের দাবি, জেরায় কোনও প্রশ্নেরই স্পষ্ট উত্তর দেননি সুমিত। তদন্তকারীদের অভিযোগ, তিনি কাউকে আড়াল করার চেষ্টা করছেন। যদিও এই অভিযোগ এখনও তদন্তের পর্যায়ে রয়েছে এবং আদালতে তা প্রমাণিত হয়নি।
শুক্রবার সকালে সুমিতকে চা ও বিস্কুট দেওয়া হয়। তা খাওয়ার পরই তাঁকে নিয়ে মেদিনীপুর আদালতের উদ্দেশে রওনা দেন সিআইডির আধিকারিকরা। বেলা তিনটে নাগাদ তাঁকে আদালতে পেশ করার কথা রয়েছে।
সুমিত রায়ের গ্রেপ্তারের পর তদন্তের পরিধি আরও বাড়তে পারে বলেও সূত্রের খবর। তদন্তকারীদের ধারণা, যে ধরনের জমি দুর্নীতির অভিযোগ সামনে এসেছে, তাতে তৎকালীন প্রশাসনের একাংশের ভূমিকা ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। সেই সময় কোন আধিকারিকরা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন এবং তাঁদের কোনও ভূমিকা ছিল কি না, তা নিয়েও তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে বলে জানা গিয়েছে।
অন্য দিকে, এই মামলায় বিপুল অঙ্কের আর্থিক লেনদেনের তথ্য খুঁজে দেখছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটও বলে সূত্রের খবর। কয়েকশো কোটি টাকার লেনদেনের কোনও সূত্র পাওয়া যায় কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।
ফলে সুমিত রায়ের গ্রেপ্তারের পর এখন তদন্ত কোন দিকে এগোয়, তাঁর কাছ থেকে কোনও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায় কি না এবং জমি দুর্নীতির সঙ্গে আরও কারও যোগ সামনে আসে কি না, সেদিকেই নজর রয়েছে।

