রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের ছুটির সংখ্যা কমানোর সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে রাজ্য সরকার। প্রশাসনের কাজে গতি আনা এবং সরকারি দফতরে কাজের পরিবেশ উন্নত করতেই এই পদক্ষেপ বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার রাতে নবান্নে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানান, বছরে সরকারি কর্মচারীদের ছুটির সংখ্যা কমিয়ে ৪০ দিনে নামিয়ে আনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।বর্তমানে রাজ্য সরকারি কর্মচারীরা বছরে প্রায় ৫০ দিন ছুটি পান। সেই তালিকা ছোট করতে অর্থ দফতরের সঙ্গে আলোচনা করেছে রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী জানান, অর্থসচিব প্রথমে ৪৫ দিনের একটি ছুটির তালিকা তৈরি করেছিলেন। কিন্তু তাতেও সন্তুষ্ট নন তিনি। তাই ছুটির সংখ্যা আরও কমিয়ে ৪০ দিনে নামিয়ে আনার নির্দেশ দিয়েছেন।মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, সরকারি দফতরগুলিতে প্রচুর কাজ জমে রয়েছে। সেই কাজ দ্রুত শেষ করতে হবে। প্রশাসনের কাজে দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা কাটিয়ে কর্মসংস্কৃতি ফিরিয়ে আনাই সরকারের লক্ষ্য। সেই কারণেই ছুটির সংখ্যা কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।তিনি বলেন, অর্থসচিবকে ডেকে ছুটির সংখ্যা কমানোর কথা জানিয়েছিলেন। অর্থসচিব ৪৫ দিনের একটি তালিকা দিলেও তিনি তা আরও কমিয়ে ৪০ দিন করার নির্দেশ দিয়েছেন।তবে কোন কোন উৎসব বা বিশেষ দিনের ছুটি বাতিল করা হতে পারে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। নতুন ছুটির তালিকায় কোন কোন দিন থাকবে এবং কোন কোন দিন বাদ পড়বে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন সরকারি কর্মচারীরা।উল্লেখ্য, আগের সরকারের আমলে বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসবের পাশাপাশি মনীষীদের জন্মদিন উপলক্ষেও ছুটি দেওয়া হত। ফলে সরকারি ছুটির তালিকা বেশ দীর্ঘ হয়েছিল। এ বার সেই তালিকায় কাটছাঁট করতে চাইছে নতুন সরকার।অন্যদিকে, সরকারি কর্মীদের ছুটি কমানোর ঘোষণার পাশাপাশি রাজ্যের রাজস্ব আদায় নিয়েও বড় দাবি করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, আগের সরকারের আমলে রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে যথেষ্ট ঘাটতি ছিল। নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর কোনও অতিরিক্ত কর চাপানো ছাড়াই রাজস্ব আদায় বাড়াতে পেরেছে।মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, সরকারের প্রথম ছমাসেই আগের সরকারের পুরো অর্থবর্ষের তুলনায় চার হাজার কোটি টাকা বেশি রাজস্ব আদায় হয়েছে। তবে কোন কোন ক্ষেত্র থেকে এই অতিরিক্ত রাজস্ব এসেছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দেননি তিনি।সব মিলিয়ে একদিকে সরকারি কর্মীদের ছুটির সংখ্যা কমানোর উদ্যোগ, অন্যদিকে রাজস্ব আদায় বৃদ্ধির দাবিদুই বিষয়েই নতুন করে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। এখন নজর নতুন ছুটির তালিকায়। শেষ পর্যন্ত কোন কোন ছুটিতে কোপ পড়ে, সেটাই দেখার।