পুরভোটের আগে বঙ্গ বিজেপির সংগঠনে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বদল। সোমবার নতুন মুখপাত্রদের তালিকা প্রকাশের পাশাপাশি সমাজমাধ্যম, তথ্যপ্রযুক্তি এবং সংবাদমাধ্যম শাখাতেও নতুন দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছে। তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে দীর্ঘদিন পর মুখপাত্রের দায়িত্ব ফিরে পেলেন সায়ন্তন বোস এবং কেয়া ঘোষ। পাশাপাশি বঙ্গ বিজেপির সমাজমাধ্যম শাখার দায়িত্বে থাকা সপ্তর্ষি চৌধুরীকেও মুখপাত্র করা হয়েছে।নতুন তালিকা অনুযায়ী, দলের মুখ্য মুখপাত্রের দায়িত্ব পেয়েছেন দেবজিৎ সরকার। মুখপাত্র হিসেবে রয়েছেন রীতেশ তিওয়ারি, প্রণয় রায়, ডা. তন্ময় মুখোপাধ্যায়, সপ্তর্ষি চৌধুরী, ওফেলিয়া সিংহ, অঙ্কন দত্ত, মেঘা সেন রায়, নিখিলপ্রসাদ সিংহ এবং শমীক দাসগুপ্ত। নতুন তালিকায় সায়ন্তন বোস এবং কেয়া ঘোষের প্রত্যাবর্তনই বিশেষ ভাবে নজর কেড়েছে।দলের একাংশের মতে, দীর্ঘদিন বিজেপির কঠিন সময়ে যাঁরা দলের সঙ্গে ছিলেন, তাঁদের ফের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়ার মধ্যে সাংগঠনিক বার্তা রয়েছে। একুশের বিধানসভা নির্বাচনে বাংলায় ক্ষমতা দখলের চেষ্টা করেও বিজেপি সফল হয়নি। সেই সময় দলের বহু পুরনো নেতা-কর্মী সংগঠনের পাশে ছিলেন। পরে আদি ও নব্যের দ্বন্দ্বকে ঘিরে দলের অন্দরে দূরত্বও তৈরি হয়েছিল বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা ছিল।২০২৬ সালে বিজেপি বাংলায় ক্ষমতায় আসার পর থেকেই রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের একাধিক পদক্ষেপে পুরনো নেতাদের গুরুত্ব দেওয়ার বার্তা মিলেছে বলে দলের অন্দরেই আলোচনা। সোমবার মুখপাত্রদের নতুন তালিকা প্রকাশের পর সেই জল্পনা আরও জোরালো হয়েছে। কারণ, দীর্ঘদিন পর সায়ন্তন বোস এবং কেয়া ঘোষের মতো পুরনো মুখকে আবার সামনে আনা হয়েছে।পুরভোটকে সামনে রেখে শুধু মুখপাত্রের তালিকাতেই বদল আনা হয়নি। বঙ্গ বিজেপির সংবাদমাধ্যম, সমাজমাধ্যম এবং তথ্যপ্রযুক্তি শাখাতেও নতুন করে দায়িত্ব ভাগ করা হয়েছে। সংবাদমাধ্যম শাখার আহ্বায়কের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে অনুপম ঘোষকে। সহ-আহ্বায়ক হয়েছেন পার্থসারথী চৌধুরী এবং চন্দ্রশেখর বসুটিয়া।সমাজমাধ্যম শাখার আহ্বায়ক করা হয়েছে উপমন্যু ভট্টাচার্যকে। সহ-আহ্বায়কের দায়িত্ব পেয়েছেন প্রীতম ভট্টাচার্য এবং ক্যামেলিয়া সান্যাল। এর আগে এই শাখার দায়িত্বে ছিলেন সপ্তর্ষি চৌধুরী। নতুন তালিকায় তিনি মুখপাত্রের দায়িত্ব পেয়েছেন।তথ্যপ্রযুক্তি শাখার আহ্বায়ক পদে রয়েছেন জয় মল্লিক। সহ-আহ্বায়ক হয়েছেন রত্নেশ সিংহ, রামজ্যোতি সরকার, শুভজিৎ কর্মকার এবং সব্যসাচী রায়।রাজনৈতিক মহলের নজর এখন পুরভোটের প্রচারে এই নতুন দল কতটা কার্যকর হয়, তার দিকে। মুখপাত্রদের নতুন তালিকা এবং সংবাদমাধ্যম, সমাজমাধ্যম ও তথ্যপ্রযুক্তি শাখায় দায়িত্বের বদলকে পুরভোটের প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে পুরনো নেতাদের কয়েক জনকে ফের সামনে এনে বিজেপি নেতৃত্ব সংগঠনের ভিত আরও মজবুত করতে চাইছে কি না, তা নিয়েও শুরু হয়েছে জল্পনা।