যুদ্ধের আবহে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত নিল ইরান। ভারত-সহ চারটি দেশের জাহাজকে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইরানের এক শীর্ষ কর্তা। অন্য তিনটি দেশ হল চিন, ইরাক এবং কাতার। মঙ্গলবার ইরানের সংসদের জাতীয় নিরাপত্তা ও বিদেশনীতি বিষয়ক কমিটির সহ-সভাপতি আমির হায়াত মোকাদ্দাম এই কথা জানান। তেহরানের এই সিদ্ধান্তে স্বস্তি ফিরেছে ভারতের বাণিজ্য মহলে।
আমিরের দাবি, ভারত, চিন, ইরাক ও কাতারের জাহাজ হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচল করতে পারবে। তাঁর বক্তব্য, এই দেশগুলির জাহাজের যাতায়াতে বাধা দেওয়া হবে না। তবে অন্য দেশগুলির জন্য এই জলপথের উপর বিধিনিষেধ এখনও রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, চারটি দেশকে এই ছাড় দেওয়ার পিছনে পারস্পরিক স্বার্থ কাজ করতে পারে। ভারত থেকে প্রচুর পরিমাণে ওষুধ আমদানি করে ইরান। অন্য দিকে, চিনের সঙ্গে তেহরানের বাণিজ্যিক ও জ্বালানি সম্পর্কও বেশ গুরুত্বপূর্ণ। আন্তর্জাতিক চাপের মুখে চিনের কূটনৈতিক সমর্থনও ইরানের কাছে বিশেষ গুরুত্ব রাখে।
সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এবং চলতি সংঘাতের জেরে ইরানের অর্থনীতি চাপে রয়েছে। দেশটিতে ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জামের জোগান নিয়েও সমস্যা তৈরি হয়েছে বলে খবর। এই পরিস্থিতিতে ভারতের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসা সামগ্রী আমদানি ইরানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ভারত বিশ্বের অন্যতম প্রধান ওষুধ উৎপাদনকারী দেশ। তাই ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য সহজ করতেই হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলে ছাড় দেওয়া হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকদের একাংশ।
চিনও ইরানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক ও জ্বালানি সহযোগী। আন্তর্জাতিক চাপের মধ্যে বেজিংয়ের কূটনৈতিক সমর্থন তেহরানের কাছে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। ফলে ভারত ও চিন-সহ চারটি দেশকে এই ছাড় দেওয়ার সিদ্ধান্তের পিছনে কূটনৈতিক এবং অর্থনৈতিক—দু’ধরনের হিসাবই থাকতে পারে।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালী দিয়ে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাণিজ্যের বড় অংশ চলাচল করে। ফলে এই পথে জাহাজ চলাচলে বাধা তৈরি হলে তার প্রভাব পড়ে বিশ্ববাজারে। ভারতের মতো জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশের কাছেও এই জলপথের গুরুত্ব অনেক। তাই ইরানের এই ঘোষণাকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।
- More Stories On :
- Strait of Hormuz
- Iran
- India

