• ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩, শুক্রবার ০৩ জুলাই ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

দেশ

দেশ

সেদিন প্রধানমন্ত্রী হলে

গত ৮ই জুলাই ছিল প্রয়াত জ্যোতি বসুর ১১১তম জন্মদিন। নিউটাউনে Jyoti Basu Centre for social studies and research য়ের নির্মীয়মান প্রাঙ্গণে পালিত হয় তাঁর জন্মদিন। বক্তা ছিলেন পরিচালক গৌতম ঘোষ ও সিপিএম রাজ্য সম্পাদক মহঃ সেলিম। অনুষ্ঠানে সভাপতি ছিলেন বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু। সিপিএমের দীর্ঘকালীন রেওয়াজ ছিল মুজফ্ফর আহমেদের জন্মদিন পালন। ১৯৬৩ সালের ৫ অগাষ্ট কাকাবাবুর জন্মদিন প্রথম পালিত হয়। সেই সময় অবিভক্ত কম্যুনিস্ট পার্টি ভাঙনের মুখে দাঁড়িয়ে ছিল। দলের মধ্যে যারা Dange বিরোধী ছিলেন তাঁরাই কাকাবাবুর জন্মদিন পালন করেছিলেন। উপলক্ষ ছিল শোধনবাদীদের বিরুদ্ধে লড়াই। পরের বছর-ই সিপিআই ভেঙে সিপিএম তৈরি হয়। সেই সময় থেকে দল প্রকাশ্যে শুধুমাত্র কাকাবাবুর জন্মদিনই পালন করে আসছে। ৮ই জুলাই জ্যোতি বসুর জন্মদিন। ওইদিন সকালে Saltlake য়ে ইন্দিরা ভবনে সুভাষ চক্রবর্তী ও রমলা চক্রবর্তী পথের পাঁচালীর ব্যানারে অনুষ্ঠান করতেন। দল কোনো অনুষ্ঠান করতো না। ২০২১ সেই ছবিটা বদলে গেল। ওই বছর ৮ই জুলাই দলের রাজ্য কমিটির অধীন Jyoti Basu Center for Social Studies and Research Trust নিউটাউনে অনুষ্ঠান করেন। সেই অনুষ্ঠানে ও সভাপতি ছিলেন বিমান বসু। পরের দিন গনশক্তিতে জ্যোতি বসুর জন্মদিন পালনের খবর অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে ছাপা হয়। অর্থাৎ কাকাবাবু ছাড়া আর কারুর জন্মদিন পালন করা হবে না এই নিয়ম নিঃশব্দে উঠে যায়।আরও পড়ুনঃ গ্রামের বার্তা২০২১ সালে এই পরিবর্তনে মনে হয়েছিল বিরোধী অবস্থানে এবং ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় সংসদীয় গণতন্ত্রের আঁকা বাঁকা পথে দলকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে যে ব্যক্তির ছায়া দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হয়েছিল তাঁকে শরণে বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে। মনে হয়েছিল বিরোধী অবস্থানের কঠিন জমিতে দাঁড়িয়ে লড়াইয়ে সিপিএমের রণকৌশলে নতুন পথ নতুন ভাবনা দেখতে পাওয়ার সুচনা হল। কিন্তু তিন বছর পর মনে হচ্ছে হাতে থেকে যাচ্ছে শুধুমাত্র অনুষ্ঠান সর্বস্বতা। জন্মদিনে প্রয়াত জ্যোতি বসু কে স্মরণ করা যতটা সহজ তাঁর সুদীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের অনুশীলন রপ্ত করা ঠিক ততটাই কঠিন। বিশেষত দলের সাফল্যের ছায়ায় বেড়ে ওঠা নেতা নেত্রীদের পক্ষে তা অত্যন্ত দুরূহ কাজ। আজ যখন শুধু রাজ্যে নয় সর্বভারতীয় রাজনীতিতেও সিপিএম ক্রমশ প্রাসঙ্গিকতা হারাচ্ছে তখন মনে হয় জ্যোতি বসু কে সামনে রেখে রাজনৈতিক জমি ঊর্বর করার যে সুযোগ এসেছিল তা হেলায় হারিয়েছে সিপিএম।আরও পড়ুনঃ রুষ্ট গনদেবতা১৯৮৯ ও ৯১ সালের মত ১৯৯৬-তেও ত্রিশঙ্কু হয়েছিল লোকসভা। ১৬১ টি আসন পেয়ে বিজেপি হয়েছিল সংখ্যাগরিষ্ঠ দল। বিজেপির সরকার গঠনের পথ বন্ধ করতে বিরোধী দল গুলি আলোচনায় বসে ছিল। ভি পি সিং, মুলায়ম সিং, লালুপ্রসাদ, করুনা নিধি সহ বহু নেতা প্রস্তাব দিয়েছিলেন জ্যোতি বসু-কে প্রধানমন্ত্রী করে সরকার গড়া হোক। কারণ coalition সরকার চালানোর দক্ষতা এবং দিশা তাঁর থেকে বেশি আর কারুর নেই। কিন্তু সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটি সেই প্রস্তাব ফিরিয়ে দেয়। সেদিন সিপিএমের যুক্তি ছিল বুর্জোয়া - জমিদার রাষ্ট্রের প্রতিভূ কেন্দ্রীয় সরকারে যোগ দেওয়া যাবে না। ভি পি সিং পুনর্বিবেচনার অনুরোধ করলে কেন্দ্রীয় কমিটিতে দ্বিতীয় দিনে ভোটাভুটি-তে একই সিদ্ধান্ত হয়। সিপিএম প্রস্তাব ফিরিয়ে দেওয়ায় অটলবিহারী বাজপেয়ীর নেতৃত্বে সরকার গড়েছিল বিজেপি। ১৩ দিন পরে সেই সরকারের পতন হয়। এর পরে কংগ্রেসের সমর্থনে দেবগৌড়া কে প্রধানমন্ত্রী করে coalition government তৈরি হয়। বছর খানেক পরেই কংগ্রেস প্রধানমন্ত্রী দেবগৌড়া কে পছন্দ হচ্ছেনা বলে জানায়। তখন হরকিসান সিং সুরজিৎ য়ের মধ্যস্থতায় প্রধানমন্ত্রী পদে I K Gujral কে মেনে নেয় কংগ্রেস। কিন্তু কিছু দিন পরেই তুচ্ছ কারণ দেখিয়ে কংগ্রেস সমর্থন তুলে নিলে সরকার পড়ে যায়।আরও পড়ুনঃ ভোটের সুনামিকেন্দ্রীয় কমিটির সিদ্ধান্তে সাত মাস পরে জ্যোতি বসু দলের সিদ্ধান্তকে ঐতিহাসিক ভুল বলেছিলেন। এরপরে BBC র Hard Talk অনুষ্ঠানে তিনি প্রধানমন্ত্রী হলে তাঁর বিদেশ নীতি ও আর্থিক নীতি কী হবে এই প্রশ্নের উত্তরে জ্যোতি বসু যা বলেছিলেন তা এক সুসংবদ্ধ বিকল্প নীতি হিসেবেই সেদিন রাজনৈতিক মহলে আলোচিত হয়েছিল। ৯৬ সালে জ্যোতি বসু প্রধানমন্ত্রী হলে কী হতে পারতঃ* জ্যোতি বসুর সরকারকে মেয়াদ ফুরোনোর আগে ফেলে দিতে পারতোনা কংগ্রেস। কারণ জ্যোতি বসুর গভীর রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং সর্বভারতীয় স্তরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কাছে তাঁর গ্রহন যোগ্যতা।* দেশজুড়ে ভূমি সংস্কারের কাজ গতি পেতো।* কেন্দ্র রাজ্য সম্পর্কের ক্ষেত্রেও নতুন পথ দেখা যেত।* হাতে গোনা কিছু শিল্পপতি একচেটিয়া পুঁজি ফুলে ফেঁপে উঠত। * আরো কিছু বিদেশী ও বেসরকারি ব্যাংক জাতীয়করণ হত।* বিমান , প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদন ও অন্যান্য উৎপাদন ক্ষেত্রের দরজা বিদেশি পুঁজির সামনে অবাধে খোলা হত না।* বেকারি, দারিদ্র্য, বৈষম্য কিছুই থাকতো না তা নয় , তবে আজকে যে চেহারা দেখা যাচ্ছে তা দেখা যেত না।* বিভিন্ন রাষ্ট্রায়ত্ত ক্ষেত্র অবহেলা নয় অগ্ৰাধিকার পেত।* কেন্দ্রীয় এজেন্সি ব্যবহার করে বিরোধীদের হেনস্থা করার অভিযোগ উঠতো না।* কলকাতা বিমানবন্দরে রাজ্যে লগ্নির প্রস্তাব নিয়ে প্রথম সারির শিল্পপতিদের বিমান নামত।* সিঙ্গুর নন্দীগ্রাম সিপিএমের পতনের প্রতীক হত না।* বরং কেরল, পশ্চিমবঙ্গ ও ত্রিপুরার বাইরে সিপিএমের রাজনৈতিক জমি শক্ত হত।

জুলাই ১৭, ২০২৪
দেশ

গ্রামের বার্তা

God today can appear before the hungry people only in the form of breadMahatma Gandhiপরমাত্মা হওয়ার বা সাজার তার মধ্যে এক প্রধানতম সমস্যা হল সাধারণ মানুষকে অন্ন বস্ত্র বাসস্থান জোগানো। কারণ পরমাত্মার কাছে হাপিত্যেশি মানুষের এগুলিই হয় মূলত প্রধান চাহিদা। গান্ধীজির রুটির যদি আভিধানিক অর্থ ধরা হয় তাহলে ভুল হবে। কারণ রুটির চাহিদা মানে তার সঙ্গে উল্লিখিত বিষয়গুলিও জড়িয়ে থাকে। পরমাত্মা আর রুটির সম্পর্ক বলতে গেলে যে ছবির কথা এক নিশ্বাসে সামনে আসে তার হল Leonardo Da Vinci র The Last Supper। সেই ছবি তে পরমাত্মা শিষ্যদের সঙ্গে শেষ ভোজে বসেছেন, সেই ভোজে ও শুধু রুটি নেই। আনুসঙ্গিক আরও কিছু আছে। ধর্মশাস্ত্রে এই আনুসঙ্গিকের অনেক ব্যাখ্যা রয়েছে। বাস্তবিক জীবনেও রুটি ও তার আনুসঙ্গিক চাহিদার বিস্তৃতি অনেক। সদ্য শেষ হওয়া লোকসভা নির্বাচনে ফল দেখে কথা গুলো মনে হল তাই বলে ফেললাম।২০১৯য়ের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি পেয়েছিল ৩০৩ টি আসন। এবারে পেয়েছে ২৪০ টি আসন। অর্থাৎ বিজেপির ৬৩টি আসন কমেছে । গেরুয়া ভাঁড়ারে এই টানাটানি শহর বা শহরাঞ্চলে নয় মূলত গ্ৰাম ভারতে। গত লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি গ্ৰামীন ও সংলগ্ন লোকসভা কেন্দ্র গুলির মধ্যে ২৫৩টি আসন জিতেছিল। এবার ওই আসনগুলির মধ্যে জিতেছে ১৯৩টি আসন। অর্থাৎ ৬৩টি হারা আসনের মধ্যে ৬০ টি আসন রয়েছে গ্ৰামাঞ্চলে। প্রচার ও নির্বাচন পর্ব মিলিয়ে প্রায় ৮০টই সাক্ষাৎকার দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। একটি সাক্ষাৎকারে তিনি নিজেকে পরমাত্মা প্রেরিত দূত বলে দাবি করেন। নির্বাচনী ফল বলছে গ্ৰামীন ভারত সেই পরমাত্মা কে হৃদয়ে ঠাঁই দেয়নি।এখনও ভারতের দুই তৃতীয়াংশ মানুষ গ্ৰামে বাস করেন। NSO র Household expenditure survey (2022-23) বলছে গ্ৰামীন জনতার মাসিক per capita expenditure ৩৭৭৩ টাকা। যদি গড়ে একটি পরিবারে চার থেকে পাঁচ জন সদস্য থাকে তাহলে মাসিক ব্যায় দাঁড়ায় আনুমানিক ষোলো থেকে কুড়ি হাজার টাকা। গ্ৰামে রাস্তা ঘাট, শৌচাগার, আবাস, পানীয় জল ও বিদ্যুতের উন্নতি যে হয়নি তা নয়। কিন্তু গ্ৰামাঞ্চলে মানুষের আয় বা উপার্জন বাড়ে নি। সাম্প্রতিক বিভিন্ন সমীক্ষায় উঠে এসেছে যে সব পরিবার কৃষির সঙ্গে যুক্ত তাদের আর্থিক অবস্থার একটু বেশি ই অবনতি হয়েছে। Ministry of statistics and implementation য়ের ২০২৩-২৪ অর্থ বর্ষের দেখা যাচ্ছে দেশে কৃষি ক্ষেত্রে বৃদ্ধির হার ১.৪ শতাংশ। অথচ দেশের সার্বিক আর্থিক বৃদ্ধির হার বলা হচ্ছে ৮.২ শতাংশ। এই হিসাব অনুযায়ী সার্বিক, আর্থিক উন্নয়নের হার বাড়লেও দেশের ৪৫.৮ শতাংশ মানুষ যার সঙ্গে যুক্ত সেই কৃষিতে বৃদ্ধি মাত্র ১.৪ শতাংশ। এই পরিস্থিতিতে প্রতি মাসে শুধু রেশনে বিনামূল্যে পাঁচ কেজি চাল বা আটা দিয়ে এই ছিদ্র যে বোজানো যাবে না সেই বার্তাই ভোটে দিয়েছে গ্ৰামীন ভারত। আরো বুঝিয়ে দিয়েছে শুধু freebies বিলোলে হবে না দিতে হবে দুহাতে কাজ এবং সম্মান। দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে ফেরার পরে বাপু কে ভারত আত্মা চিনিয়ে ছিল গ্ৰাম। এক ই গোলার্ধে সম্পুর্ন বিপরীত মতাদর্শে মাও সেতুং কে লক্ষ্যে পৌঁছাতে গ্ৰাম দিয়ে শহর ঘিরতে হয়েছিল। এবার দেশে নির্বাচনের সামনে প্রশ্ন ছিল সংবিধান নিয়ে, গনতন্ত্র নিয়ে, বেকারি, দারিদ্র্য ও সম্প্রীতি নিয়ে। পরমাত্মার নির্মাণ, তীব্র ধর্মীয় মেরুকরণের হাতছানি সরিয়ে রেখে ভোটে সব প্রশ্নের উত্তর দিয়েছে গ্ৰামীন ভারত।

জুন ২৩, ২০২৪
দেশ

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে চিঠি মমতার, তিন আইন পুনর্বিবেচনার আর্জি

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে চিঠি দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মোদী তৃতীয়বারের জন্য প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর এই প্রথম চিঠি মুখ্যমন্ত্রীর। ফৌজদারি বিচার পদ্ধতি বদলে দেওয়ার নতুন তিনটি আইন নিয়ে প্রশ্ন তুলে মোদীকে চিঠি দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ওই তিনটি আইন পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন তিনি।নতুন তিন নাগরিক আইন নিয়ে এবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে চিঠি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। আগামী ১ জুলাই থেকে কার্যকর হওয়ার কথা ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা, ন্যায় সংহিতা ও সাক্ষ অধিনিয়মের।মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই তিন আইন কার্যকর করার বিষয়টি পিছিয়ে দেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীকে। সেই সঙ্গে নতুন সংসদে এই তিন আইন নিয়ে আলোচনারও দাবি জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।লোকসভায় এই তিনটি নতুন আইন নিয়ে আলোচনার পরই সে ব্যাপারে পরবর্তী পদক্ষেপ করার আবেদন জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। উল্লেখ্য, গত বছরের অগাস্ট মাসে সংসদের বাদল অধিবেশনের সময় নতুন তিনটি বিল পেশ করে তৎকালীন মোদী সরকার। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ লোকসভায় তিনটি বিল পেশ করে জানিয়েছিলেন ১৮৬০ সালে তৈরি ইন্ডিয়ান পেনাল কোড ( ভারতীয় দণ্ডবিধি ) বদলে গিয়ে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা আইন হবে।সেই সঙ্গে ১৮৯৮ সালের ক্রিমিনাল প্রসিডিওর অ্যাক্ট (ফৌজদারি দণ্ডবিধি ) বদলে হবে ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা আইন। একইভাবে ১৮৭২ সালের ইন্ডিয়ান এভিডেন্স অ্যাক্ট হওয়ার কথা ভারতীয় সাক্ষ্য বিল।এই তিনটি বিল সংসদীয় স্ট্যান্ডিং কমিটির কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। আগের মোদী সরকার সংসদের দুই কক্ষেই এই তিনটি বিল পাশ করিয়ে নিয়েছে। আগামী ১ জুলাই থেকে সেই তিনটি আইন কার্যকর হওয়ার কথা। সেই তিনটি আইন কার্যকরের সময়সীমা পিছিয়ে দেওয়ার আবেদন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে চিঠি দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনটি আইন পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

জুন ২২, ২০২৪
দেশ

দিল্লির আমের মেলায় বিরাট কদর বাংলার মালদার আমের

রাজধানী দিল্লিতে শুরু হয়েছে আম মেলা। চলবে আগামী ৩০ শে জুন পর্যন্ত। রাজধানী দিল্লির সেই আম মেলায় পশ্চিমবঙ্গ সরকারের উদ্যোগে খোলা হয়েছে মালদার আমের স্টল। মালদা জেলা বরাবরই আমের জন্য জগৎ বিখ্যাত। এই স্টলে পাওয়া যাচ্ছে মালদার জগৎ বিখ্যাত ল্যাংড়া, লক্ষণভোগ সহ বিভিন্ন প্রজাতির আম। রবিবার দিল্লির হ্যান্ডলুম হাটে এই আম মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কমিশনার উজ্জয়িনী দত্ত, মালদা ম্যাংগো মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি উজ্জ্বল সাহা সহ অন্যান্য বিশিষ্টজনেরা। এ বিষয়ে মালদা ম্যাংগো মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি উজ্জ্বল সাহা জানান, পশ্চিমবঙ্গের মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে মালদার আম বাজারজাত করার জন্য এবং পশ্চিমবঙ্গের যারা হস্তশিল্পী আছেন তাদের উৎপাদিত জিনিসপত্র মার্কেটিং করার জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। মালদার জগৎ বিখ্যাত তিন প্রজাতির আম এখানে রয়েছে। প্রথম দিনই ব্যাপক সাড়া পাওয়া গেছে।

জুন ১৭, ২০২৪
দেশ

পুরীতে হোটেল বুকিংয়ের নামে ফেক ওয়েবসাইট, জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রতারণা

সাইবার প্রতারণার শিকার খোদ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট। পুরী বেড়াতে যাওয়ার জন্যে অনলাইনে হোটেল বুক করে প্রতারণার শিকার বিচারপতি সোমশুভ্র ঘোষাল। ঘটনার তদন্ত শুরু করে রাজস্থান ও আরামবাগ থেকে মূল অভিযুক্ত সহ দুজনকে গ্রেফতার করে বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানার পুলিশ। পুলিশ সূত্রে খবর, গত ২০২২-এর ৮ অক্টোবর জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সোমশুভ্র ঘোষাল বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানায় অভিযোগ করেন, তিনি তাঁর পরিবার নিয়ে পুরীতে ঘুরতে যাওয়ার জন্যে অনলাইন মাধ্যমে একটি ৫ তারা হোটেল বুকিং করার চেষ্টা করেন। সেই সময় তাঁকে সেই হোটেলের বুকিং প্রসিডিউরের জন্যে একজন ফোন করে। সেখানে তাঁকে হোটেলে বুকিং করার জন্যে টাকা জমা করতে বলা হয় এবং একটি একাউন্ট ডিটেলস দেওয়া হয়। তিনি সেই একাউন্টে ৯২ হাজার টাকা ট্রান্সফার করেন। তবে কিছুদিন পরে ওই হোটেলে খোঁজ নিলে জানতে পারেন তাঁর নামে ওই হোটেলে কোনও বুকিং হয়নি। প্রতারণার শিকার হয়েছেন বুঝতে পেরে পুলিশের দ্বারস্থ হন তিনি। ঘটনার তদন্ত শুরু করে পুলিশ জানতে পারে, ওই হোটেলের ভুয়ো ওয়েবসাইট তৈরি করে এই প্রতারণা চক্র চালানো হচ্ছিল। এরপরই টাকা কোন অ্য়াকাউন্টে জমা পড়েছে সেই সূত্র ধরে রাজস্থানের ভরতপুর এলাকায় হানা দেয় পুলিশ। সেখান থেকেই এই ঘটনার মূল অভিযুক্ত প্রেম চাঁদকে গ্রেফতার করে পুলিশ।ট্রানজিট রিমান্ডে কলকাতা নিয়ে আসা হয়। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে আরামবাগ থেকে আরও এক প্রতারক স্বর্ণদীপ রায়কে গ্রেফতার করা হয়।

জুন ১০, ২০২৪
দেশ

রুষ্ট গনদেবতা

I rebel, therefore I exist.Albert Camusগন দেবতার অভিজ্ঞানই তো প্রসবিনী করে লেখকের কলম। অস্তিত্বের সংকটে পড়লে শিরদাঁড়া ঝুঁকতে শুরু করলে জনতার রোষ ডানা ঝাপটায়। মানবজমিনের এই ইতিহাস আরো একবার পরীক্ষা দিল এবারের লোকসভা নির্বাচনে। সেই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে জনতা জনার্দন জানিয়ে দিল কোনো পরমাত্মা নয় গনতন্ত্রের থানে একমাত্র গনদেবতার ই অধিষ্ঠান। গত দশ বছরে বিশাল আধিপত্য বিস্তারে যে অনুশীলন শুরু হয়েছিল তাতে সুতীক্ষ্ণ কৌশলে আরও অতিকায় করে তোলার অভিযান ছিল এই নির্বাচনের পর্ব থেকে পর্বান্তরে। সেই অভিযানের সামনে দাঁড়িয়ে বিশেষত গ্ৰামীন ভারত জানিয়ে দিল কে আসল জনার্দন। ২০২৪য়ের নির্বাচনী ফলাফলকে কোনো সরল মাত্রায় বিচার করা যাবে না। একদিকে খাদ্য দ্রব্যের আকাশ ছোঁয়া দাম, বেকারত্ব, আর্থিক, সামাজিক অসাম্য, আর কৃষকদের রুটি রুজির অনিশ্চয়তা। এই দুর্দশাগ্ৰস্ত ভারতকে নস্যাৎ করে বেলাগাম মেরুকরণের রাজনীতি তীব্র ধর্মীয় বিভাজন আর এক ও অদ্বিতীয় নেতার ভাবমূর্তি নির্মানের প্রচার কৌশল। এর পাশাপাশি ছিল দেশের সংবিধান কি অক্ষত থাকবে, গনতন্ত্র কোন চেহারায় থাকবে সেই প্রশ্নও। এই বহুমাত্রিক ক্যানভাসের কেন্দ্রস্থলে দাঁড়ানো প্রবল বলশালী শাসককে ভারতীয় ভোটার রা জানিয়ে দিল গনতন্ত্র, বহুমত, বহুমুখী,বহুস্বর ই প্রকৃত প্রতাপশালী। খালি পেটে ধর্ম হয় না, প্রাচীন প্রবাদ। মূল্যায়ন সংস্থা CRISIL জানাচ্ছে পেঁয়াজ সহ অন্যান্য আনাজের দাম বেড়েছে চল্লিশ শতাংশের বেশি। গৃহস্থ বাড়িতে নিরামিষ থালি তৈরির খরচ বেড়েছে ৯%। আমিষ থালির খরচ তুলনায় কিছুটা কম। কিন্তু আমিষ কেনার সামর্থ্য সবার নেই। বিভিন্ন কাঁচা মালের দামের ভিত্তিতে দেশের উত্তর, দক্ষিণ ও পূর্ব পশ্চিমে গৃহস্থের বাড়িতে রান্না করা খাবারের গড় খরচ হিসাব করে তারা। আম জনতার এই দূর্ভোগ কে প্রশমন করতে মুসলিমদের দুষে বিদ্বেষ ছড়িয়ে ছিলেন নরেন্দ্র মোদী। খালি পেট সেই বিদ্বেষে ভোলেনি। অযোধ্যা যার অন্তর্গত সেই লোকসভা কেন্দ্র ফইজাবাদে বিজেপি হেরেছে। তিন দশকের বেশি সময় ধরে অযোধ্যার রামমন্দির গেরুয়া রাজনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। আবার সাম্প্রতিক সময় গেরুয়া হিন্দুত্বের অন্যতম প্রধান মঞ্চ বারানসী। সেই বারানসী তে এক অকিঞ্চিৎকর প্রতিদ্বন্দ্বীর সঙ্গে ভোট যুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর জয়ের ব্যবধান বিপুল হারে কমেছে। পেটের আগুনের আঁচে পুড়েছে বিদ্বেষের রাজনীতি ও। প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন কংগ্রেস ক্ষমতায় এলে হিন্দুদের মঙ্গল সুত্র, সম্পত্তি ও পিছিয়ে পড়াদের সংরক্ষণ কেড়ে নিয়ে মুসলিমদের দিয়ে দেবে। প্রচারের এই তীব্র বিদ্বেষের সুর প্রথম শোনা যায় রাজস্থানের বারমের কেন্দ্রে। সেখানে বিজেপি হেরেছে । গুজরাটে বনসকন্ঠ লোকসভা কেন্দ্র। এই বনসকন্ঠ শহরে ডেয়ারী শিল্পের প্রাচুর্য রয়েছে। এই কেন্দ্রের প্রচারে প্রধানমন্ত্রী মুসলমানদের অধিক সংখ্যক সন্তানের জন্মদাতা বলেন। পাশাপাশি তিনি বলেন, কংগ্রেস ক্ষমতায় এলে হিন্দুদের মোষ কেড়ে নিয়ে মুসলমানদের দিয়ে দেবে। গুজরাটের বনসকন্ঠেও বিজেপি হেরেছে। ২০১৪ এবং ২০১৯-র তুলনায় গেরুয়া হিন্দুত্বের চারণভূমি উত্তর প্রদেশে বিজেপির শোচনীয় ফল হয়েছে। দলিত, সবরকম OBC এবং মুসলিম ভোটাররা বিজেপির জয়রথ থামিয়েছেন। যাদবদের দল হিসেবে পরিচিত SP র নেতা অখিলেশ যাদব, যাদব নির্ভরতা কমিয়ে এই তিন শক্তি কে কাছে টেনে এক নতুন Social Engineering -র রাস্তা দেখিয়েছেন। এবারের নির্বাচনের আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল বিজেপির ৩৭০ অথবা ৪০০ আসন পারের স্লোগান সংবিধানের প্রশ্নকে উচ্চকোটির স্তর থেকে বেরিয়ে গন রাজনীতির পরিসরে প্রবেশ করিয়েছে। বিজেপি ৩৭০ বা ৪০০ আসন পেলে সংবিধান বদলাবে। সেই বদলে দেশের সংরক্ষণ ব্যবস্থা উঠে যাবে। এই আশঙ্কা বিশেষত তুলনায় শিক্ষিত দলিত যুব সম্প্রদায়ের মধ্যে ছড়িয়েছে। স্বাধীনতার পর থেকে এতদিন সংবিধান নিয়ে আশঙ্কা, আলোচনা, বিতর্ক সব ই ছিল উচ্চকোটির সীমানায় বন্দি। ইংরেজি সংবাদপত্র, JNU, Delhi Law School, Delhi School of Economics and Sociology, এবং India International centre য়ের seminar hall য়েই সংবিধান নিয়ে যাবতীয় আলোচনা হতো। সংবিধান দলিত এবং OBC সম্প্রদায়ের Mass politics য়ে চলে আসার ফলে ভুগতে হল বিজেপি কে। এই পথ ধরেই দলিত রাজনৈতিক সংগঠনের নেতা চন্দ্রশেখর আজাদ এবার সংসদে গেলেন। শুধু তাই নয় উত্তর প্রদেশের জনতা এবার ভোটে হিন্দুত্বের রাজনীতির প্রতিস্পর্ধা হিসেবে Social justice party কে ফিরিয়ে আনলেন। এই নির্বাচনী ফলে বিভিন্ন রাজ্য, বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর স্বর ভারতের স্বাভাবিক বৈচিত্র্যকেও ফিরিয়ে এনেছে। তবে এই নির্বাচন শুধু শাসকদের নয়, বিরোধীদের ও আরো দ্বায়িত্বশীল হওয়ার কথা বলেছে।

জুন ১০, ২০২৪
দেশ

এই আলো এই অন্ধকার

আলো -অন্ধকারে যাই -মাথার ভিতরে স্বপ্ন নয়,কোন এক বোধ কাজ করেআলো আর অন্ধকার যে শুধু কবির বোধ জাগায় তা নয়। প্রকৃতির নিয়মে মানুষের সমাজেও আলো আর অন্ধকারের পাশাপাশি অবস্থানে ছড়িয়ে থাকে বিষাদ আর সুখ। ধান ভানতে শিবের গীত গেয়ে লাভ নেই অতএব থামা যাক। লোকসভা নির্বাচনের চালচিত্রে যে প্রসঙ্গে আলো অন্ধকারের কথা মনে এল এবার সে কথাই শুরু হোক।পঞ্চম দফার ভোট পর্যন্ত গত লোকসভা নির্বাচনের তুলনায় ভোট দানের হার কমা নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে। পঞ্চম দফার শেষে দেখা যাচ্ছে কয়েক কোটি মানুষ এবার ভোট দিলেন না। তাঁরা কি গনতন্ত্রে আস্থা হারালেন? নাকি ভোট কম পড়ার পিছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে? এর উত্তর খুঁজতেই বিভিন্ন পন্ডিত ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা নানান মতামত দিচ্ছেন। ভোট দানের হার কমার মাঝে পঞ্চম দফার ভোটে দেখা যাচ্ছে পুরুষদের থেকে মহিলাদের ভোট দানের হার বেশি। ২০ শে মে আটটি রাজ্য এবং কেন্দ্র শাসিত অঞ্চলের ৪৯ টি লোকসভা কেন্দ্রে ভোট দান সম্পন্ন হয়েছে। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে এই ৪৯ টি লোকসভা কেন্দ্রে মহিলাদের ভোট দানের হার ৬৩ % এবং পুরুষদের ভোটদানের হার ৬১.৪৮% ।আরও পড়ুনঃ ভোটের সুনামিতবে জম্মু কাশ্মীর, মহারাষ্ট্র ও পশ্চিম বঙ্গে মহিলাদের তুলনায় পুরুষদের ভোটদানের হার সামান্য বেশি। পাশাপাশি বিহার এবং ঝাড়খণ্ডে পুরুষ এবং মহিলাদের ভোট দানের হারে ব্যাবধান অনেকটাই বেশি। বিহারে মহিলা ভোট পড়েছে ৬১.৫৮% আর পুরুষ ভোট পড়েছে ৫২.৪২ % । ঝাড়খণ্ডে মহিলা ভোট দানের হার ৬৮.৬৫ % এবং পুরুষদের ভোটদানের হার ৫৮.০৮ % । এই নির্বাচনে সব রাজনৈতিক দলের ই পাখির চোখ মহিলা ভোট। নারী শক্তির জয়গান আর মহিলাদের জন্য কল্যাণমূলক প্রকল্পের প্রবল প্রচারে নির্বাচনী ক্ষেত্র মুখর। তাই বলা ই যায় রাজনৈতিক দল গুলির প্রাণভোমরা বন্দী রয়েছে নারী শক্তির ভাঁড়ারে। যদিও ভোট টানার জন্য কিছু কল্যাণময় প্রকল্প ছাড়া মহিলাদের মূল সমস্যা দূর করার কোনো দিশা নেই। তবু ভোটের গনগনে আঁচের মধ্যে রাজনীতির পরিসরে মহিলাদের স্বর প্রতিষ্ঠার এই স্ব-উদ্যোগ যেন ঠান্ডা বাতাস।আরও পড়ুনঃ গ্যারান্টি বনাম ন্যায় - ভোটের হালহকিকততবু আলোর পাশেই তো অন্ধকার থাকে। নির্বাচন কমিশনের তথ্য বলছে দেশের প্রায় পাঁচ কোটি প্রথম বার ভোটারের মধ্যে মাত্র ১৭ শতাংশ ভোটার তালিকায় নাম নথিভুক্ত করেছেন। সবচেয়ে করুণ চিত্র বিহারে। জাতীয় জনসংখ্যার বিচারে বিহারের জনসংখ্যায় তারুন্যের ভাগ সবচেয়ে বেশি। সেই রাজ্যে কম বয়সীদের মধ্যে মাত্র ১৭ শতাংশ ভোটার তালিকায় নাম তুলেছেন। দিল্লিতে এই সংখ্যা ২১ শতাংশ। দেশের তরুণ নাগরিকদের ভোটদানে এই অনীহার কারণ কি? তারা কি গনতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় আগ্ৰহ হারাচ্ছেন? এর উত্তর খোঁজা অত্যন্ত জরুরি। ভারতের মত বৃহত সংখ্যক তরুণ, তরুণীর দেশে এই প্রবণতা গনতন্ত্রের পক্ষে অশুভ ইঙ্গিত

মে ২৭, ২০২৪
দেশ

বাজার ভোলাতে মেরুকরণ

ছোটবেলায় শুনতাম বিজ্ঞজনেরা বলতেন, খেলার মাঠে রাজনীতি ঢুকলে sportsman spirit নষ্ট হয় । Spirit বলতে তাঁরা বোধহয় নৈতিকতার কথা বোঝাতেন। রাজনীতি তে নৈতিকতার ভাগ কবে থেকে কমতে শুরু করেছে আর এখন তা সম্পূর্ণ বিলুপ্ত কিনা তা ভিন্ন প্রসঙ্গ। সে যাই হোক, চলমান লোকসভা ভোটের আবহে প্রসঙ্গটা হঠাৎ ই মনে এলো। আন্তর্জাতিক ফুটবলে যেমন ধুরন্ধর strategy র জন্য ক্ষুরধার মাথার কোচেরই থাকেন তেমনই একদল দক্ষ পেশাদারের প্রবেশ ঘটেছে রাজনীতিতে। যারা ভোটের প্রচার কৌশল থেকে নেতা নেত্রীর ভাবমূর্তি তৈরির কারিগর। ভোট যুদ্ধে নেপথ্যে থেকে এরা সেই কাজ করে যান।সাত দফা লোকসভা ভোটের পাঁচ দফার অন্তিম যাত্রা শেষ। ভোট শুরুর আগে একরকম প্রচার, প্রথম দফার ভোটের আগে অন্য রকম এবং দ্বিতীয় দফার ভোট থেকে বিজেপির প্রচারে বিভিন্ন সুর। প্রচারের এই নানা স্তর নিয়ে বিতর্ক এবং মতামতের স্রোত বয়ে চলেছে। বিরোধীরা বলছেন ভোট যত এগোচ্ছে তত ই স্নায়ুর চাপ বাড়ছে গেরুয়া শিবিরের। তাই প্রধানমন্ত্রী তাঁর প্রচারে বারবার বক্তব্য বদলাচ্ছেন। এমনকি অনেক সময় সেই বক্তব্য পরস্পর বিরোধী। আমি এ বক্তব্যের সঙ্গে একমত নই। বিজেপি এখন বিশ্বের সেরা পেশাদার রাজনৈতিক দল। তাই তাদের প্রচারে বিভিন্ন মুখ যে সুপরিকল্পিতভাবে তৈরি তাতে কোনো সন্দেহ নেই। তবে এই কৌশল শেষ পর্যন্ত কাজে দেবে কি দেবে না তার উত্তর আমার জানা নেই। ভোট শুরুর আগে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের সিংহভাগ জুড়ে ছিল তাঁর সরকারের সাফল্য আর বিশ্ব শক্তির নিরিখে ভারতের দৃঢ় অবস্থান। ভোট শুরুর মুখে এলো স্ংকল্প পত্র। যা বহু কল্যানময় প্রকল্পের রূপায়নে মোদী কি গ্যারান্টি বললেই ভালো হয়। আবার ভোটের দ্বিতীয় দফা থেকে চিরাচরিত গেরুয়া রঞ্জিত হিন্দু মুসলিম বিভাজন। কংগ্রেসের নির্বাচনী ইস্তাহারকে নিশানা করে চলছে এই মেরুকরণ। প্রধানমন্ত্রী বলছেন সব সংরক্ষণ মুসলিমদের দেওয়া হবে, অন্য পিছিয়ে পড়া শ্রেনীর ভাগ কমে যাবে। কংগ্রেস হিন্দু নারীদের মঙ্গলসূত্রও ছিনিয়ে নেবে। এরই সঙ্গে রয়েছে হিন্দুত্ব বনাম সংখ্যালঘুর কড়া dose.বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব জানে, ২০১৪ এবং ২০১৯শে প্রচারে স্বপ্ন দেখানোর জমি এখন আর ঊর্বর নয়। দশ বছর শাসনের পরে শুধু সরকারের সাফল্য প্রচার করে যতটা চাই ততটা ভোট পাওয়া যাবে না। কারণ সেই সাফল্যে অনেক ছিদ্র রয়েছে। এই ছেঁড়া ফাটা সাফল্যের আকাশে নতুন স্বপ্নের তারা টাঙালে ভবি ভুলবে না। তাই বাউলের আলখাল্লার মতো প্রচারের পোশাকে নানান রঙের তালি। এই সবের পাশাপাশি একটি বিষয় বিজেপি কে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। সেটি হলো খাদ্য দ্রব্যের দামে severe heatwave. April মাস থেকে খাদ্য দ্রব্যের খুচরো এবং পাইকারি দামে inflation rate ঊর্ধ্বগামী। গত পাঁচ মাস ধরে আনাজের inflation rate ২৭.৫ শতাংশের উপরে। এছাড়াও pulse, cereals, মাছ, মাংস আর ফলের দাম বেড়েই চলেছে। সঙ্গে বাড়ছে ভোজ্য তেলের দাম। Crisilয়ের রিপোর্ট অনুযায়ী বাড়িতে একজনের খাবারের থালার দাম দাঁড়িয়েছে ২৭ টাকার ও বেশি। পেঁয়াজ, টমেটো আর আলুর দাম বাড়ার কারণে গৃহস্থের নাভিস্বাস উঠছে। কেন্দ্রের নিজস্ব পোর্টাল Agmarknet. Agmarknet দেখাচ্ছে টমেটোর খুচরো বাজারে দাম ৬১ শতাংশ বেড়েছে। আলু আর পেঁয়াজের দাম ৫০% বেড়েছে। ১৯৮০তে জনতা সরকারের পতনে ইন্দিরার ক্ষমতায় ফেরা আর ১৯৮৯ তে দিল্লি বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির হারের পিছনে পেঁয়াজের দাম বাড়ার কাহিনী চালু আছে। এর সঙ্গে রয়েছে ২০০৪ সালের বাজপেয়ী সরকারের India Shining স্লোগানের ভরাডুবি। এই প্রেক্ষাপটে খালি পেটে অথবা বাজারের আগুন মুখে নিয়ে বুথে গেলে কি হবে কিচ্ছু বলা যায় না। এই আশঙ্কা থেকেই হয়তো মনহরা হিন্দু মুসলিম মেরুকরণের আদি পথেই ফিরলো বিজেপি।

মে ২১, ২০২৪
দেশ

গন্ডি মুছে উৎসবে কাশ্মীর

আকাশ জুড়ে অশান্তির কালো মেঘ। সেই মেঘের ছায়ায় রাস্তায়,পাকদন্ডিতে, হাঁটে বাজারে, বাড়ির উঠোনে, অন্দরে ওৎ পেতে থাকা কঠিন শীতল ভয়ার্ত পরিবেশ। বিগত ২৫ বছরে এই ছবি ছড়িয়ে থেকেছে হিমালয়ের নিচে লুটিয়ে থাকা কাশ্মীর উপত্যকায়। এবার ২০২৪ য়ের লোকসভা নির্বাচনে সেই কালো মেঘ মুছে গিয়ে প্রখর সূর্যের কিরণ ছড়িয়েছে বললে বাড়াবাড়ি হয়ে যাবে। তবে আলোর মুখ যে দেখা গিয়েছে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। সেই সঙ্গে জাতীয় সংবাদ পত্র, টেলিভিশন এবং সমাজ মাধ্যমে অবশেষে ঠাঁই পেয়েছে কাশ্মীরের ভোট আবহ। সৌজন্য শ্রীনগর লোকসভা কেন্দ্রের উল্লেখযোগ্য হারে মানুষের ভোট দান। ভোট দান নাগরিকের অধিকার। যোগ্য ভোটার দের ভোট গ্ৰহন কেন্দ্রে টেনে আনতে প্রতি ভোটের আগে এই কথাটা মনে করিয়ে দেয় নির্বাচন কমিশন। ভোট দানের হার বাড়াতে চলে নিরলস প্রচার। গত তিন দশক ধরে গনতন্ত্রের এই উৎসবের দিকে এক অদৃশ্য গন্ডিতে আবদ্ধ থেকে তাকিয়ে থেকেছে অধিকাংশ কাশ্মীর বাসী। গত সোমবার শ্রীনগর লোকসভা কেন্দ্রে ৩০.৮৯% ভোটের হার এক টানে সেই অদৃশ্য গন্ডি মুছে দিয়েছে। ২১৩৫ টি ভোট গ্ৰহন কেন্দ্রেই ছিল ভোটার দের সবল উপস্থিতি। ১৯৯৬ সালে শ্রীনগর কেন্দ্রে ৪০ শতাংশের বেশি ভোট পড়েছিল। সেই ভোট নিয়ে অবশ্য অনেক বিতর্ক রয়েছে। তবে তার পর থেকেই ভোট দানের হার ক্রমশ কমেছে। উজ্জ্বল ব্যতিক্রম ২০২৪। শ্রীনগরে ভোট শেষ। ২৫শে মে ভোট গ্ৰহন হবে অনন্তনাগ-রাজৌলি ও বারামুলা লোকসভা কেন্দ্রে। তিন লোকসভা কেন্দ্র মিলিয়ে ভোটার সংখ্যা ৮৬.৯ লক্ষ। এর মধ্যে ৩.৪ লক্ষ ভোটার এবার প্রথম ভোট দেবেন। শ্রীনগর যে পথ দেখিয়েছে তাতে অনেকের আশা কাশ্মীর উপত্যকায় এবার মোট ভোট দানের হার ৫০% ছাড়িয়ে যাবে। ২০১৯ সালের অগাস্ট মাসে ৩৭০ ধারা এবং এই statehood বাতিলের পরে ঝিলম ও চেনাব পারে এই প্রথম গুরুত্বপূর্ণ ভোট। বাতিল পর্বের আগে পরে চিনার, পাইনের ডালে ডালে নানান ওঠা পড়ার হাওয়া ছুঁয়ে গিয়েছে। তবে দুয়েকটি হাতে গোনা serious magazine আর কিছু সংবাদপত্রে ভোট মুখি কাশ্মীরের যে স্পন্দন ধরা পড়ছিল তাতে বোঝাই যাচ্ছিল যে কাশ্মীর বাসী এবার ভোটের দিন বিপুল সংখ্যায় পথে নামবেন। বিভিন্ন প্রচার সমাবেশ এবং মিছিলে মানুষের যে ঢল দেখা গিয়েছে বিশেষজ্ঞ দের মতে তা বিগত তিন দশকে দেখা যায় নি। কাশ্মীর বাসীর এই , intense and vibrating mood নির্বাচন কমিশন কে ও স্বস্তি দিয়েছে।অনেকের মত উপত্যকা বাসীর মনের ভিতরে জমে থাকা বঞ্চনার ক্ষোভ আর আবেগ এবার EVM এ প্রকাশ পাবে। ১৯৯৬ সালের পর থেকেই কাশ্মীরে ভোট এলেই সন্ত্রাস বাদী দের ভোট বয়কটের ডাকে সন্ত্রস্ত থাকতেন সাধারণ মানুষ। এর পাশাপাশি নানান প্রশাসনিক অবিচারের অভিযোগ ও পা টেনে রাখতো সাধারণ ভোটারদের। এবার সেই চিত্রনাট্য উধাও। সম্প্রতি জঙ্গি গোষ্ঠী the resistant front য়ের commander বশিত দার সহ তিন জঙ্গির নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে মৃত্যু হয়। অতীতে এই ঘটনার পরেই ভোট বয়কটের ডাক ছড়িয়ে পড়ত। মনের ইচ্ছে মনে রেখে ভোটের দিন দুয়ার এঁটে থাকতেন সাধারণ মানুষ। এবার সবকিছুই অন্যরকম। এই ঘটনার পরেও কাশ্মীরের মানুষের ভোট উদ্দিপনায় ভাঁটা পড়েনি। ৫৪৩ সাংসদের লোকসভায় কাশ্মীরের তিনটি আসন হয়তো বিশেষ কোনো প্রভাব ফেলবে না। তবু জাতীয় রাজনীতিতে নিজেদের স্বর গেঁথে দেওয়ার সুযোগ হারাতে চাইছেনা কাশ্মীর। সেই স্বরের ই প্রতিধ্বনি শোনা গেল শ্রীনগর কেন্দ্রের ভোটে। প্রায় তিন দশক দূর থেকে দাঁড়িয়ে গনতন্ত্রের উৎসব দেখেছে কাশ্মীর। এবার স্বর্গ সহোদর ভুখন্ডের মানুষ গনতন্ত্রের উৎসবের একেবারে মাঝখানে। আমরা যারা অখন্ড ভারতে বিশ্বাসী তাদের কাছে এ কম সুখের সময় নয়।

মে ১৬, ২০২৪
দেশ

চতুর্থ দফার নির্বাচনের আগে ভারত বাংলাদেশ সীমান্ত পরিদর্শন বিএসএফের

আগামী ১৩ মে লোকসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে একটি বিস্তৃত সফর করেছেন এবং নির্দেশিকা দিয়েছেন বিএসএফ। সকল কর্মকর্তাকে নিজ নিজ স্তরে সীমান্তে সংঘটিত অপরাধের উপর কড়া নজর রাখতে এবং ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত সম্পূর্ণ সিল করার নির্দেশ দেওয়া হয়। সেই সাথে নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত এসব ইউনিটের বিএসএফ জওয়ানদের পূর্ণ সততার সাথে নির্বাচনী দায়িত্ব পালন এবং শান্তিপূর্ণভাবে ভোট গ্রহণের জন্য নির্দেশনা প্রদান করা হয়।সফরের সময়, শ্রী গান্ধী, শ্রী আয়ুষ মণি তিওয়ারি, আইপিএস, আইজি, দক্ষিণবঙ্গ সীমান্তের সাথে, বেহরামপুরের আঞ্চলিক সদর দফতর পরিদর্শন করেন এবং বর্ডার রোড বরাবর পদ্মা নদীর নিকটবর্তী সীমান্ত এলাকা পরিদর্শন করেন। আশেপাশের এলাকার মাটি ক্ষয়ের একটি পুঙ্খানুপুঙ্খ মূল্যায়ন করা হয়েছিল এবং সেই অনুযায়ী নির্দেশ জারি করা হয়েছিল।উপরন্তু, শ্রী গান্ধী ১৪৯ ব্যাটালিয়নের সীমান্ত চৌকি কানাপাড়া এবং নির্মলচর পরিদর্শন করেন এবং কর্পস কমান্ড্যান্ট স্থানীয় পরিস্থিতি এবং প্রচলিত আন্তঃসীমান্ত অপরাধ সম্পর্কে অবহিত করেন। অতিরিক্ত মহাপরিচালক রবি গান্ধী কোম্পানী কমান্ডারদের সাথে মতবিনিময় করেছেন এবং সীমান্ত অপরাধ দমনে মুখোমুখি হওয়া চ্যালেঞ্জগুলির সাথে নিজেকে পরিচিত করেছেন।এরপরে, শ্রী গান্ধী ৭৩ ব্যাটালিয়নের একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল সীমান্ত চৌকি হারুডাঙ্গা পরিদর্শনে যান, যেখানে তাকে ব্যাটালিয়ন কমান্ডার অস্থির এলাকা এবং অবৈধ অনুপ্রবেশ ও কার্যকলাপ প্রতিরোধে গৃহীত জোরালো ব্যবস্থা সম্পর্কে অবহিত করেন।তার মূল্যায়ন অব্যাহত রেখে, মিঃ গান্ধী ১৪৬ এবং ৮৬ ব্যাটালিয়নের সীমান্ত চৌকি ,মেঘনা এবং শিকারীপুর পরিদর্শন করেন এবং সেখানে অপারেশনাল প্রস্তুতি এবং ব্যবস্থাপনার কৌশলগুলি যত্ন সহকারে মূল্যায়ন করেন।মিডিয়াকে সম্বোধন করে, শ্রী রবি গান্ধী সীমান্তের নিরাপত্তা এবং জাতির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইস্টার্ন কমান্ডের অটল প্রতিশ্রুতির উপর জোর দেন। তিনি আন্তঃসীমান্ত অপরাধ মোকাবেলায় এবং আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষায় সক্রিয় পদক্ষেপের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

মে ১১, ২০২৪
দেশ

এবার ৪০০ পার

এবার ৪০০ পার। লোকসভা নির্বাচনের আগে দলীয় নেতা কর্মীদের ৩৭০আসনের লক্ষমাত্রা বেঁধে দেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তারপরেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ৪০০ পারের স্লোগান দেন। দেশের জনসংখ্যার অর্ধেকের ওপর মানুষ খবরের কাগজ পড়েন না। জনসংখ্যার ১৫% মানুষ খবরের কাগজ পড়েন। স্বাভাবিক ভাবেই হাতের মুঠোয় থাকা সমাজ মাধ্যমের খবর বা তথ্যের প্রতি ই বিপুল সংখ্যক মানুষের নজর। তাই প্রাক নির্বাচনী পর্বে সমাজ মাধ্যমে জনমত সমীক্ষার ঢেউ আছড়ে পড়ে।এই সমীক্ষা গুলিতে ৩৩০ থেকে ৩৯০ টি আসন বিজেপি জিততে পারে বলে দেখানো হয়।এর মধ্যে একটি তে বিজেপি ৪১১টি আসন জিততে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।আরও পড়ুনঃ ভোটের সুনামি৪০০ র বেশি আসনে জিততে হলে বিজেপি কে কত শতাংশ ভোট পেতে হবে তা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের বিভিন্ন মত রয়েছে। কারণ ভারতীয় গনতন্ত্রে নির্বাচনে first- past- the- post পদ্ধতিতেই ভোটে জেতা হারা ঠিক হয়। এই বিচারে ২০১৪ সালে ৩১ % ভোট পেয়ে ক্ষমতায় বসেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। দেশের নির্বাচনী ইতিহাসে এত কম ভোট পেয়ে এর আগে শাসকদল একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। তবে NDA শরিকদের ভোট যোগ করলে সংখ্যা টা দাঁড়ায় ৩৮ %। দেশের নির্বাচনী ইতিহাস বলছে স্বাধীনতার পর থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত কোনো রাজনৈতিক দলই ৫০% ভোট পায় নি। ১৯৮৪ সালে নিজের নিরাপত্তা রক্ষীর গুলিতে নিহত হন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী। আসমুদ্র হিমাচল জুড়ে সহানুভূতির সুনামিতে ভেসে ৪১৪ টি আসন জিতে দিল্লিতে ক্ষমতায় বসেন রাজীব গান্ধী। সেবার ও কংগ্রেস ৫০% ভোট পায় নি। ৪৯.১০ % ভোট পেয়ে কংগ্রেসের বিজয়রথ থেমে ছিল।আরও পড়ুনঃ গ্যারান্টি বনাম ন্যায় - ভোটের হালহকিকতকত শতাংশ ভোট পেলে ৪০০ র বেশি আসন পাওয়া যাবে -এই আলোচনার পাশাপাশি অন্য একটি বিষয় নিয়ে ও আলোচনা শুরু হয়েছে । এই আলোচনা তে কংগ্রেসে ১৯৭১র এবং ১৯৮৪ র বিজয় প্রসঙ্গ উঠে আসছে। নেহেরুর মৃত্যুর পরে ধীরে ধীরে কংগ্রেসের মধ্যে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব বাড়তে থাকে। ১৯৬৬ সালে প্রধানমন্ত্রী লাল বাহাদুর শাস্ত্রীর মৃত্যুর পরে অলিন্দ রাজনীতির খেলায় বিপক্ষের বাঘা বাঘা নেতাদের সরিয়ে প্রধানমন্ত্রী হন ইন্দিরা গান্ধী। ১৯৬৭ সালের নির্বাচনে ইন্দিরার নেতৃত্বে নির্বাচনে জেতে কংগ্রেস। ১৯৬৯ সালে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে দ্বন্দ্বে কংগ্রেস ভেঙে যায়। কামরাজ সহ কংগ্রেসের প্রবীন পোড় খাওয়া নেতা দের কংগ্রেস (ও) এবং ইন্দিরার নেতৃত্বে কংগ্রেস (আর) এই দুটুকরো হয়ে যায় কংগ্রেস। ইন্দিরার নেতৃত্বে কংগ্রেস সরকার সংখ্যালঘু হয়ে পড়ে।যদিও CPI য়ের সাহায্যে ইন্দিরা সংসদে no confidence motion উতরে যান। এরপরে ই ১৯৭০ য়ের ডিসেম্বরে মাঝরাতে সংসদ ভেঙে দিয়ে নির্বাচনে যান ইন্দিরা। ব্যাঙ্ক জাতীয় করন আর গরিবি হটাও স্লোগানে ভর দিয়ে ৪৩.৬৮% ভোট পেয়ে ৩৫২টি আসন পায় ইন্দিরা কংগ্রেস। শুধু দেশে নয় বিদেশেও শুরু হয় ইন্দিরা বন্দনা। Time Magazine লিখেছিল ,the overwhelming majority of the Indian voters who has given Mrs. Gandhi a firm mandate আর Sunday Standard লিখেছিল, the victory of the new Congress can best be described as fantastic . । সোভিয়েত প্রেসিডেন্ট Kosygin, বলেছিলেন, historic victory। একজন নেতা বা নেত্রীর হাতে গনতান্ত্রিক ক্ষমতা পুঞ্জীভূত হলে কি হয় তা বুঝেছিলেন রাজ্যে রাজ্যে কংগ্রেস নেতা নেত্রীরা। তখন থেকেই হাইকম্যান্ডের সামনে কংগ্রেস নেতৃত্বের নেতা থেকে আবেদনকারীতে পরিনত হওয়া শুরু। আর দেশবাসী বুঝেছিলেন ১৯৭৫ জরুরি অবস্থা ঘোষণায়।আরও পড়ুনঃ এক দেশ এক ভোটরাজ্যে রাজ্যে কংগ্রেসের এই সাংগঠনিক কাঠামোতে ঘুন ধরা সম্পূর্ণ হয়েছিল ১৯৮৪ র নির্বাচনে। রাজীব গান্ধীর নেতৃত্বে কংগ্রেস ৪১১ আসন জেতার পরে রাজীব আর তাঁর অনুগত দরবার হয়ে উঠেছিল কংগ্রেসের ভাগ্য বিধাতা। তার ফল হল ১৯৮৪ র পরে কংগ্রেস আর একার ক্ষমতায় দিল্লির কুর্সি তে বসতে পারেনি। ১৪০ কোটির গনতন্ত্রের নির্বাচনে নানান আলোচনা তো হবেই। নানান সম্ভাবনার কথা ও উঠে আসবে। তার মধ্যে থেকে দেশবাসীর জন্য কি অপেক্ষা করে আছে তা আগামী দিনে ই বোঝা যাবে।

মে ০২, ২০২৪
দেশ

ভোট কম পড়িয়াছে!

রাজকন্যা কম পড়িয়াছে গুপি গাইন বাঘা বাইনের সেই দৃশ্য মনে আছে? গনতন্ত্রের সবচেয়ে বড় উৎসবে ভোট কম পড়িয়াছে বলে সোরগোল শুরু হয়েছে। সেই প্রসঙ্গেই মনে পড়লো গুগা বাবার কথা। লোকসভা নির্বাচনের শুধু প্রথম দফা নয়, দ্বিতীয় দফাতেও কম মানুষ ভোট দিতে পথে নেমেছেন। আর তাতেই চিন্তায় পড়েছে শাসকদল। প্রথম দফায় সারা দেশে ৬৬.১ শতাংশ ভোট পড়ে। প্রথম দফায় যে ১০২ টি আসনে ভোট কম পড়েছে সেখানে ২০১৯ সালে ভোট পড়েছিল ৭০ শতাংশের উপরে। হিন্দি বলয়ের যে তিন রাজ্যে ভোট সবচেয়ে কম পড়েছে সেই তিন টি রাজ্যই বিজেপির প্রায় একাধিপত্য ছিল। এই তিন রাজ্যের যে ৩৬ আসনে ভোট হয়েছে তার মধ্যে ২০১৪ সালে ৩৫টি এবং ২০১৯ সালে ২৯ টি আসন পেয়েছিল বিজেপি। পরিসংখ্যান বলছে প্রথম দফার ভোটে উত্তর-পূর্ব ও দেশের বাকি অঞ্চলের তুলনায় হিন্দি বলয়ের রাজ্যগুলিতে ভোট সবচেয়ে কম পড়েছে। নিজেদের শক্ত জমিতে ভোট কম পড়ার কারণ খুঁজতে বসেছে গেরুয়া শিবির।আরও পড়ুনঃ ভোটের সুনামিভোট বিশেষজ্ঞরা যে পরিসংখ্যান তুলে ধরেছেন তাতে দেখা যাচ্ছে প্রথম দফায় যে ১০২টি আসনে ভোট হয় গত নির্বাচনে তার মধ্যে বিজেপি ৫০ টি আসনে জিতেছিল। ওই আসনগুলিতে ৫% উপরে ভোট কম পড়েছে। আর INDIA মঞ্চে যে দলগুলি রয়েছে তারা মিলিতভাবে ৪৯ টি আসন জিতেছিল। এই আসনগুলিতে ভোট কম পড়ার হার ২.৪%। নিজেদের শক্তি-গড়ে কম ভোট পড়ায় স্নায়ুর চাপ বেড়েছে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বে। গত নির্বাচনে রাজস্থান ও মধ্যপ্রদেশে যে ১৮টি আসন বিজেপি জিতেছিল সেই আসনগুলিতে এবার ভোটের হার অনেকটাই কম। ওই আসনগুলিতে রাজস্থানে ১৭.৬ % এবং মধ্যপ্রদেশে প্রায় ১৩% ভোট কম পড়েছে। এই দুই রাজ্যেই এখন বিজেপির সরকার। কেন্দ্র ও রাজ্য মিলিয়ে বিজেপির যে ডবল ইঞ্জিন সরকারের স্লোগান তার থেকে কি মানুষ মুখ ফেরাচ্ছে? নাকি জাতীয় স্তরে এই স্লোগানের ধার কমছে? স্বাভাবিক ভাবেই এই প্রশ্ন উঠছে।আরও পড়ুনঃ গ্যারান্টি বনাম ন্যায় - ভোটের হালহকিকতপ্রথম দফায় রাজস্থানের গঙ্গানগর লোকসভা কেন্দ্রে ভোট ছিল। এই কেন্দ্রে ভোটের নির্ধারক শক্তি কৃষক সমাজ। এখানে এবার ভোট দানের হার কমেছে। রাজ্যের আরেক লোকসভা কেন্দ্র ঝুনঝুনুতেও ভোট কম পড়েছে। অগ্নিপথ প্রকল্পের বিরুদ্ধে যে সময় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রতিবাদী আন্দোলন দেখা গিয়েছিল তার মধ্যে এই ঝুনঝুনুতেই আন্দোলন সবচেয়ে তীব্র হয়েছিল। সেনাবাহিনীতে চাকরি প্রত্যাশী বিপুল সংখ্যক যুবক এখানে পথে নেমেছিলেন। অন্যদিকে মধ্য প্রদেশের সিধি লোকসভা কেন্দ্র যা ওই রাজ্যের সবচেয়ে দরিদ্র ও পিছিয়ে পড়া অঞ্চলগুলির অন্যতম। আরেক লোকসভা কেন্দ্র শাদোল সেখানে জনসংখ্যার ৫০% বেশি আদিবাসী। এই দুই লোকসভা কেন্দ্রেও কম মানুষ ভোট দিতে পথে নেমেছিলেন। এবারের লোকসভা প্রচার পর্বে বিভিন্ন জনসভায় প্রধানমন্ত্রী বিরোধীদের Caste Census -র দাবি মোকাবিলায় বলেছিলেন কৃষক, যুব, নারী ও দরিদ্র এই চতূর্বণের উন্নয়নই তাঁর লক্ষ্য। রাজস্থান ও মধ্যপ্রদেশে এই চারটি কেন্দ্র সেই চতূর্বণেরই প্রতীক। সেখানে কম ভোটদানের হারে অর্থ কি প্রধানমন্ত্রীর বার্তা মন ভেজাতে পারেনি ভোটারদের?আরও পড়ুনঃ এক দেশ এক ভোটভোটের আগে বিজেপির মন্ত্র ছিল ৪০০ আসন। কিন্তু প্রথম দফায় ভোট কম পড়ায় ধর্মীয় বিভাজনের কথা বলে মেরুকরণের পুরোনো অস্ত্রেই ফেরে গেরুয়া শিবির। কিন্তু দ্বিতীয় দফার শেষেও একই রকম উদ্বেগ রয়ে গেল। দ্বিতীয় দফায় ভোট পড়ল ৬১শতাংশের কাছাকাছি। যা ২০১৯ সালের তুলনায় ৬% কম । উত্তর প্রদেশে আবার দ্বিতীয় দফায় প্রথম দফার থেকে ও কম ভোট পড়েছে। ভোট দানের হার কেন কমছে তার নিয়ে নানা ব্যাখ্যা শুরু হয়েছে। কোনটা সঠিক তা বোঝা যাবে ফল বেরোনোর পরে। ভোট দানের হার বেশি হলে শাসক দলের পক্ষে অশনিসংকেত। নির্বাচনী রাজনীতিতে প্রাচীন প্রবাদ। ১৯৬৭ দেশে শেষবার লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচন একসঙ্গে হয়েছিল। সেই নির্বাচনে কেন্দ্রে কংগ্রেসের আসন কমেছিল এবং উত্তর প্রদেশ, বাংলা, পঞ্জাব সহ কয়েকটি রাজ্যে কংগ্রেস ক্ষমতা হারিয়ে ছিল। সেই বিচারে বিজেপির সন্তুষ্ট থাকার কথা। কিন্তু বিজেপির অভ্যন্তরে অস্বস্তি বাড়ছে। প্রশ্ন উঠছে প্রধানমন্ত্রীর চতূর্বণের উন্নয়নের গ্যারান্টি ও মেরুকরণের রাজনীতি কি মানুষ প্রত্যাখান করছে? প্রশ্ন রইল, উত্তর আপাতত ভবিষ্যতের গর্ভে।

এপ্রিল ২৮, ২০২৪
দেশ

ভোটের সুনামি

এই বছর কে বিশ্ব নির্বাচনী বর্ষ বললে খুব একটা ভুল হবেনা। বিশ্বজুড়ে যেন নির্বাচনের ধুম পড়েছে। Reuters যাকে বলছে নির্বাচনের সুনামি। নির্বাচন কে আমরা বলে থাকি গনতন্ত্রের উৎসব। আমাদের প্রতিবেশী সূর্যের নিচে থাকা দুই দেশ পাকিস্তান ও বাংলাদেশের নির্বাচন হয়ে গিয়েছে। সুদূর প্রান্তে রাশিয়াতে নির্বাচন হয়ে পুতিন আবার ক্ষমতায় ফিরেছেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে ইউক্রেনেও এই বছরই নির্বাচন হতো। চলতি বছরে বাকি যে দেশগুলিতে নির্বাচন হবে তার মোট জনসংখ্যা পৃথিবীর জনসংখ্যার অর্ধেক।২৪-র শেষ দিকে দুই মার্কিনী বৃদ্ধ Donald Trump ও Joe Biden য়ের নির্বাচনী ভাগ্য নির্ধারিত হবে। চলতি বছরে ভোটের লাইনে দাঁড়াবে Britain ও দক্ষিণ আফ্রিকা। এর পরেও ভোটমুখি দেশের তালিকাটা বেশ দীর্ঘ। Haiti, Indonesia, Cambodia,Iran, Slovakia, Portugal, Senegal, Kuwait, দক্ষিণ Korea এবং Solomon দ্বীপপুঞ্জ। এই তালিকা ভুক্ত কয়েক টি দেশের নির্বাচন হয়ে গিয়েছে, বাকি কয়েকটিতে হবে এই বছরেই।বিশ্বজুড়ে এই গনতান্ত্রিক উৎসবের মেলায় সকল দেশের রানী হয়ে বসে আছে ভারতবর্ষ। ৪৭ -এ স্বাধীনতা। দেশ ভাগ, দাঙ্গা, ছিন্নমূল মানুষের দীর্ঘশ্বাস পেরিয়ে দেশ নির্মাণে গনতন্ত্রের ভিত গাঁথা শুরু। সদ্য স্বাধীন দেশে যার প্রকাশ ১৯৫২-র নির্বাচনে। ১৯৫১-র ২৫শে অক্টোবর থেকে ১৯৫২র ২১শে ফেব্রুয়ারি এই চার মাস ধরে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সতেরো কোটি তিরিশ লক্ষ ভোটার ভোট দিয়েছিলেন। ভারতীয় নির্বাচন কমিশনের এই বিপুল কর্মযজ্ঞ অবাক হয়ে দেখেছিল পৃথিবী। চলতি লোকসভা নির্বাচনে ৯৭ কোটি ভারতবাসী ভোট দেবেন। উত্তরে কাশ্মীর থেকে দক্ষিণে কন্যাকুমারী, পূর্বে অরুনাচল থেকে পশ্চিমে গুজরাত।পাহাড়, সমুদ্র, গহন বনাঞ্চল, ধুসর মরুভূমি, গ্ৰামীন ক্ষেত্র আর আধুনিক থেকে অত্যাধুনিক শহরাঞ্চল বুকে নিয়ে দাঁড়িয়ে পৃথিবীর বৃহত্তম গণতন্ত্র। এই গনতন্ত্রের অন্যতম স্তম্ভ নির্বাচন। গনতন্ত্রের রীতি অনুযায়ী নির্বাচনে জিতে যারা দেশ চালাবেন দেশের সব প্রান্তের বৈচিত্র্য মাখা মানুষের প্রতিনিধি। কিন্তু গত লোকসভা নির্বাচনের ফল এই ভাবনায় কেমন যেন প্রশ্ন তুলেছে। ২০১৯শে ২০৩ টি আসন পেয়েছিল বিজেপি। হিন্দি বলয়ের দশটি রাজ্যে মোট লোকসভা আসন ২২৫। এই ২২৫ টি আসনের মধ্যে ২০৩টি আসন জিতেছিল গেরুয়া শিবির। সরকার গড়তে লাগে ২৭২ টি আসন। অর্থাৎ ওইখান থেকেই প্রায় finishing point য়ে পৌঁছে গিয়েছিল বিজেপি। দেশের পূর্ব বা দক্ষিণ ভারতের জনমত এই অঙ্কের সামনে কাঁটা বিছানোর অবস্থানে ছিল না। একেবারে সিনেমার চিত্রনাট্যের মতো।এখানেই লুকিয়ে রয়েছে ভারতীয় গনতন্ত্রের fallacy. নির্বাচনী সাফল্য হচ্ছে সংখ্যার খেলা। দিল্লির শাসক তো সারা দেশের শাসনভার সামলায়। অথচ কোনো রাজনৈতিক দল উত্তর ভারতের দশ রাজ্য দিল্লি, উত্তরপ্রদেশ, রাজস্থান, মধ্য প্রদেশ, হরিয়ানা, হিমাচল, উত্তরাখণ্ড, বিহার, ছত্তিশগঢ়, ঝাড়খণ্ডে বিজয়রথ ছোটাতে পারে তাহলে দিল্লির কুর্সি তার হাতের মুঠোয় চলে আসবে। যা হয়েছিল ২০১৯শে। এবারও ভোটের হাওয়া যা বলছে তাতে নরেন্দ্র মোদীর ই ক্ষমতায় ফেরার কথা।এই বিজয় পথের কেন্দ্রে রয়েছে উত্তর প্রদেশ। উত্তর প্রদেশে বড় সংখ্যায় জিতলে দিল্লির তক্ৎ নাগালের মধ্যে এসে যায় কথাটা প্রবাদে পরিনত হয়েছে। তবে এবারে বিজেপির লক্ষ্য ৩৭০ আসন। তাই এবারের নির্বাচনে পূর্ব ও দক্ষিণ ভারত বিজেপির কাছে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। প্রথম দফার নির্বাচনে বিজেপির heart land উত্তর প্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান ও বিহারে ভোট কম পড়েছে। একে তো হিন্দি বলয়ের বাইরে আসন বাড়ানোর লক্ষ্য, তার উপর হৃদয়পুরে ভোট কম পড়া। এই দুয়ে মিলে বিজেপির চিন্তা বেড়েছে। দ্বিতীয় দফাতেও যদি কম ভোট পড়ে তাহলে চিন্তা আরো বাড়বে। শেষ পর্যন্ত যদি ২০২৪ শে ও বিজেপির জেতার অঙ্কে ২০১৯শের ফলের পুনরাবৃত্তি হয় তাহলে বলতে হবে দেশের নির্বাচনী গনতন্ত্রের চালচিত্র বদলাচ্ছে।

এপ্রিল ২৬, ২০২৪
দেশ

উত্তর বনাম দক্ষিণ

১৯ শে এপ্রিল শুরু লোকসভা নির্বাচন। রামমন্দির, সিএএ (CAA), দূর্নীতি, ইলেক্টরাল বন্ড (Electoral Bond), ইডি (ED), সিবিআই-র (CBI) গ্ৰেফতার কড়া নাড়া। প্রচারে এই সমস্তই হাতিয়ার। এর পাশাপাশি চলছে লাভার্থী বা সুবিধা ভোগী বাড়িয়ে ভোট কুড়োনোর জন্য প্রতিশ্রুতির বন্যা। এর তুলনায় বেকারত্বের সমস্যা, ক্ষুধার সমস্যা, বৈষম্য বেড়ে চলা, স্বাস্থ্য পরিষেবার অপ্রতুলতা নিয়ে হইচই অনেক কম। অনেকে বলছেন দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা, যুক্তরাস্ট্রীয় কাঠামোর চেহারা, মত প্রকাশের স্বাধীনতা, ও বিরোধী রাজনীতির পরিসরের মত বিষয়গুলি ভবিষ্যতে কোন দিকে বাঁক নেবে তা নির্ধারিত হবে এবারের নির্বাচনে। তবে এরই মাঝে চোরা স্রোতের মত বইছে আরো এক সমস্যা। যা গত বছর কর্ণাটক বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির পরাজয়ের পরে বাড়তি গতি পেয়েছে। এই হারের পরে বিন্ধ পর্বতের নিচে কোনো রাজ্যেই আর গেরুয়া শাসন নেই। এই পথ বেয়েই জাতীয় রাজনীতিতে ক্রমশ চওড়া হচ্ছে উত্তর বনাম দক্ষিণের বিভাজন। সংসদীয় রাজনীতির এই পাশা খেলার ফল প্রতিফলিত হচ্ছে ভাষা, আর্থিক উন্নয়ন, আর সামাজিক রূপান্তরের রাজনীতিতেও।আরও পড়ুনঃ কেজরীওয়াল: টেক্কা না পুট?Colonial Hangover বলে ইংরেজি কে যতই গাল পাড়ুন, বর্তমানে হিন্দি-হিন্দুস্তানের দাপটের মাঝেও ইংরেজি বিনা গীত নেই। চাকরির ক্ষেত্রে, সমাজে কল্কি পাওয়ার ক্ষেত্রে, ইংরেজের মাতৃভাষা-ই এখনো অধিকাংশের কাছে ধারালো হাতিয়ার। অনেকের কাছে আবার বদ্ধ জলাশয় থেকে স্রোতে অবগাহনে কার্যকরি উপায়। এই পরশ পাথরের মুল্য দক্ষিণ ভারত অনেক আগেই বুঝেছে। তাই উত্তরের অনেক রাজ্যে যখন ইংরেজি হঠানোর জন্য লাফঝাঁপ দিচ্ছে, দক্ষিণ তার এই অবস্থানে অনড় থেকে ক্রমশ এগোচ্ছে। ন্যাসো-র (NSSO) সমীক্ষা বলছে দক্ষিণ ভারতের রাজ্য গুলিতে প্রায় ৬০ শতাংশ স্কুলে ক্লাস ১২ পর্যন্ত ইংরেজি-ই শিক্ষার বাহন। প্রতিতুলনায় উত্তরপ্রদেশে ১৪% এবং বিহারে ৬% স্কুলে ইংরেজিতে পঠনপাঠন চলে। শুধু তাই নয় উচ্চশিক্ষায় প্রবেশ নিয়ে ২০২০-২১ সালে সর্বভারতীয় সমীক্ষায় দেখা যাচ্ছে দক্ষিণে ১৮-২৩ বছর বয়সীদের মধ্যে প্রায় ৫০% উচ্চশিক্ষায় ভর্তি হয়। যেখানে সর্বভারতীয় গড় হচ্ছে ২৭%। হরিয়ানা এবং হিমাচল ছাড়া হিন্দি বলয়ের সব রাজ্য, গুজরাট এবং দেশের পূর্ব ও উত্তর পূর্বাঞ্চলের উচ্চ শিক্ষায় ভর্তির হার জাতীয় গড়ের অনেক নিচে। এর পাশাপাশি উত্তর ও দক্ষিণের মধ্যে আর্থিক বৈষম্যের পার্থক্যটাও ক্রমশ চওড়া হচ্ছে। ইংরাজি জানা দক্ষ কর্মী এবং উন্নত পরিকাঠামোর কারণে দক্ষিনে বিনিয়োগকারীর সংখ্যা বাড়ছে। জাতীয় পরিসংখ্যান বলছে বিহার, ছত্তিশগঢ়, মধ্য প্রদেশ, রাজস্থান এবং উত্তর প্রদেশের তুলনায় কর্ণাটক, অন্ধ্রপ্রদেশ, কেরল, তামিল নাড়ু তে মাথা পিছু আয় অনেকটাই বেশি।আরও পড়ুনঃ গ্যারান্টি বনাম ন্যায় - ভোটের হালহকিকতরাজনীতির অলিন্দে শোনা যাচ্ছে বিজেপি ক্ষমতায় ফিরলে দেশের লোকসভা কেন্দ্র গুলির সীমা নির্ধারণ-র (Delimitation ) কাজ শুরু হবে। জনসংখ্যার বিচারে নির্ধারিত হবে কেন্দ্র গুলির সীমানা। কেন্দ্রীয় পরিবার পরিকল্পনা নীতি মেনে দক্ষিণে অনেক আগে থেকেই জন সংখ্যা নিয়ন্ত্রিত হয়ে আসছে। নারী শিক্ষায় অগ্ৰাধিকারের জন্য দক্ষিণে Fertility Rate কমেছে। ১৯৭১ সালে দেশের মোট জনসংখ্যা ২৪.৮% ছিল দক্ষিণ ভারত। ২০২১সালে তাই কমে ১৯.৯% এসে দাঁড়িয়েছে। আর বিহার এবং উত্তর প্রদেশে এই হার ২৩% থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৬%। ৮৪৮ সদস্য আসন বিশিষ্ট নতুন সংসদ ভবন চালু হয়ে গিয়েছে। Delimitation য়ের পরে ৮৪৮ আসনে লোকসভার ভোট হবে। রাজনৈতিক পন্ডিতদের মতে জন সংখ্যার ভিত্তিতে উত্তর প্রদেশে লোকসভার আসন ৮০ থেকে বেড়ে ১৪৩ হবে। যেখানে জনসংখ্যার ভিত্তিতে দশটি লোকসভার আসন বাড়বে তামিলনাড়ুতে।আরও পড়ুনঃ এক দেশ এক ভোটহিমাচল প্রদেশ, উত্তরাখণ্ড, হরিয়ানা, উত্তর প্রদেশ, দিল্লি, রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ, বিহার, ছত্তিশগঢ়, ঝাড়খণ্ড এই দশটি রাজ্য নিয়ে হিন্দি বলয়। বর্তমানে এই দশটি রাজ্যে রয়েছে ২২৫টি লোকসভা আসন। ২০১৯শের লোকসভা নির্বাচনে এই ২২৫টি আসনের মধ্যে ২০৩ টি আসন পেয়েছিল NDA। ৫৪৩ আসনের লোকসভায় ম্যাজিক ফিগার হলো ২৭২। এবার ও হিন্দি বলয়ে বিজেপির এই দাপট বজায় থাকলে ক্ষমতায় ফেরা নিশ্চিত। তবে দলকে এবার ৩৭০ আসনের লক্ষ্য মাত্রায় বেঁধেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। হিন্দি বলয়ে আসন বাড়ার যেহেতু আর জায়গা নেই বিজেপির বিশেষ নজরে এবার দক্ষিণ ও দেশের অন্যান্য অংশ। তাই ৫০ বছর আগে কংগ্রেস শাসনে পকপ্রনালীর এক দ্বীপ কচ্ছথিভু চুক্তি করে শ্রীলঙ্কাকে দেওয়া নিয়ে সরব হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি দক্ষিণে প্রচারে গিয়ে দ্রাবিড় অস্মিতা জাগিয়ে তোলার সব রকম চেষ্টাই তিনি করেছেন। কিন্তু ক্ষমতায় ফিরে delimitation য়ের কাজ সম্পূর্ণ করার পরে দক্ষিণের এই গুরুত্ব কি বিজেপির কাছে থাকবে? তখন হিন্দি বলয়ের দশটি রাজ্যে আসন সংখ্যার যে বৃদ্ধি হবে তার জোরেই বিপুল আসন হাতের মুঠোয় আসার পথ খোলা থাকবে। আর কে না জানে যার ভোট নেই তার গুরুত্বও নেই। তখন দক্ষিণের রাজ্য গুলিতে কেন্দ্রের বিমাতৃসুলভ আচরনে স্লোগান তুলে গলা ফাটালেও বিশেষ লাভ হবে বলে মনে হয় না। অতএব জাতীয় রাজনীতিতে উত্তর বনাম দক্ষিণের দ্বন্দ্বের নতুন অধ্যায় শুরু হওয়ার অপেক্ষা।

এপ্রিল ১৮, ২০২৪
দেশ

ওড়িশায় বাস ব্রীজ থেকে নীচে, মৃত ৫, জখম বহু, নবান্নে কন্ট্রোল রুম

ওড়িশার পুরী থেকে কলকাতা ফেরার পথে ১৬নং জাতীয় সড়কে ওড়িশার জাজপুরের ধর্মশালা থানার বারাবতী ব্রিজ থেকে নীচে পড়ল পর্যটক বাঝাই যাত্রীবাহী বাস। মৃত কমপক্ষে ৫, আহত প্রায় ৪০ জন। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। নিহত ৫ ও আহত ৪০ জন বাসযাত্রীর মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা রয়েছেন ২৪ জন। তার মধ্যে পূর্ব মেদিনীপুরের রয়েছেন ১২ জন এবং উত্তর দিনাজপুরেরও ১ জন রয়েছেন বাকী ১১ জন কলকাতা ও হাওড়া জেলার বাসিন্দা। বাসটিতে প্রায় ৫৬ জনের মত যাত্রী ছিল।দুর্ঘটনার খবরে শোক প্রকাশ করেছেন ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী নবীন পট্টনায়েক। এই দুর্ঘটনায় প্রত্যেক মৃত ব্যক্তির জন্য ৩ লক্ষ টাকার ক্ষতিপূরণের ঘোষণা করেছেন ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী নবীন পট্টনায়ক। তবে বাসযাত্রীদের মধ্যে অধিকাংশই (৯০%) পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইতিমধ্যেই এ বিষয়ে রাজ্যের মুখ্যসচিবের সঙ্গে কথা বলেন। ওড়িশার মুখ্যসচিবের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন এ রাজ্যের মুখ্যসচিব। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তরফে নবান্নে খোলা হয়েছে কন্ট্রোল রুম। দুর্ঘটনায় আহত ও নিহতদের ফিরিয়ে আনতে রাজ্যের তরফে সমস্ত রকম সাহায্যের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

এপ্রিল ১৬, ২০২৪
দেশ

ভোট প্রচারে বেরিয়ে ঢিলের ঘায়ে আহত হলেন মুখ্যমন্ত্রী

ভোটের প্রচারে বেরিয়ে ঢিলের ঘায়ে আহত হলেন অন্ধ্র প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী তথা ওয়াইএসআরসিপি প্রধান জগন মোহন রেড্ডি। সূত্রের খবর, শনিবার সন্ধ্যায় প্রচারে বেরিয়েছিলেন তিনি। রোড-শো চলার সময়ে তাঁকে লক্ষ্য করে ঢিল ছোড়ে কেউ। কপালে লেগে রক্তারক্তি কাণ্ড হয়। ঘটনার জেরে বন্ধ হয়ে যায় রোড-শো।বিজয়ওয়াড়ায় ভোটের প্রচারে বেরিয়েছিলেন ওয়াইএসআরসিপির প্রধান।সেখানে মেমান্থা সিদ্ধম র্যালি চলছিল তাঁর। হুডখোলা গাড়িতে ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সকলের সঙ্গে কথাও বলছিলেন। এই জনসংযোগ যাত্রায় বহু মানুষের ভিড় হয়েছিল। আচমকাই একটি ঢিল উড়ে আসে জগন মোহন রেড্ডির দিকে। কপালে মাঝখানে গিয়ে আঘাত করে সেটি। রক্ত বেরোতে থাকে কপাল দিয়ে।

এপ্রিল ১৪, ২০২৪
দেশ

বেঙ্গালুরু বিস্ফোরণে বাংলা থেকে ধৃত দুই, মুখ খুললেন মমতা

বেঙ্গালুরুর রামেশ্বরম ক্যাফেতে বিস্ফোরণে জড়িত সন্দেহে দুই অভিযুক্তকে নিউ দিঘার পূর্ব মেদিনীপুরের কাঁথি থেকে এনআইএ গ্রেফতার করেছে। বাংলা থেকে জঙ্গি সন্দেহে দুজন গ্রেফতার হওয়া নিয়ে রাজ্য সরকারকে তুলোধনা করে ময়দানে বিরোধীরা। শাসকদল তৃণমূলকে নিশানা করে সোচ্চার শুভেন্দু অধিকারী, সুকান্ত মজুমদার, বিকাশ ভট্টাচার্যেরা। এবার এই ইস্যুতেই মুখ খুললেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।বেঙ্গালুরু বিস্ফোরণে জড়িত সন্দেহে দুই সন্দেহভাজনকে কাঁথি থেকে গ্রেফতার করেছে এনআইএ। যদিও কেন্দ্রীয় সংস্থার সঙ্গেই এদিন যৌথ অপারেশন ছিল রাজ্য পুলিশও। এবিষয়ে শুক্রবার দিনহাটার নির্বাচনী সভা থেকে তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, বেঙ্গালুরুতে একটা বোমা ফেটেছিল। তারা কর্নাটকের বাসিন্দা। বাংলায় লুকিয়েছিল। ২ ঘণ্টার মধ্যে ধরে দিয়েছে রাজ্য পুলিশ। আবার বলছে বাংলা সেফ নয়। দিল্লি-উত্তর প্রদেশ সেফ? রাজস্থান, গুজরাত সেফ? বাংলার মানুষ শান্তিতে থাকুক বিজেপি এটা চায় না।উল্লেখ্য, বেঙ্গালুরুর রামেশ্বরম ক্যাফেতে বিস্ফোরণ কাণ্ডে দুই সন্দেহভাজনকে কাঁথি থেকে গ্রেফতার করেছে NIA। বিভিন্ন সূত্র মারফত গত কয়েকদিন ধরে খবর পৌঁছেছিল তদন্তকারীদের কাছে। শেষমেশ অতর্কিতে অভিযান চালিয়ে পূর্ব মেদিনীপুরের সৈকতনগরী থেকে দুই সন্দেহভাজনকে NIA গ্রেফতার করেছে।দুজনকে ধরে দিতে পারলে ১০ লক্ষ টাকা করে পুরস্কার দেওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়েছিল NIA-এর তরফে। এদিনের এই অভিযানে NIA-এর সঙ্গেই ছিল রাজ্য পুলিশও। যৌথভাবে এই অপারেশন চালানো হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে রাজ্য পুলিশের তরফে।

এপ্রিল ১২, ২০২৪
দেশ

বেঙ্গালুরু বিস্ফোরণের ঘটনায় কাঁথি থেকে দুজনকে গ্রেফতার এনআইএ-র

বেঙ্গালুরু রামেশ্বরম ক্যাফেতে বিস্ফোরণের ঘটনায় বড়সড় সাফল্য পেল এনআইএ। এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহের দুই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করল এনআইএ। পূর্ব মেদিনীপুরের কাঁথি থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে আব্দুল মতিন এবং মুসাভির হোসেনকে। গত ১ মার্চ বেঙ্গালুরুর একটি ক্যাফেতে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। কর্ণাটকের ১৮ টি স্থানে তল্লাশি অভিযান চালায় এনআইএ। এই ঘটনার সঙ্গে বড় কোনও জঙ্গি দলের সম্পর্ক রয়েছে বলেই মনে করছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।মূল অভিযুক্ত মুজ়াম্মিল শরিফকে ঘটনার ২৭ দিন পর পুলিশ গ্রেফতার করলেও, আরও দুই অভিযুক্তের সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না।

এপ্রিল ১২, ২০২৪
দেশ

খেলা হবে কিন্তু মাঠ কই

২০২১ শের বিধানসভা নির্বাচনে আবহে রাজ্যে স্লোগান উঠেছিল খেলা হবে। নির্বাচন তা কোনো রাজ্যের হোক অথবা দেশের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সংসদীয় গণতন্ত্রের নির্বাচনে অতি বিশেষ স্থান রয়েছে। সেখানে এই ধরণের স্লোগান অনেকের কাছে Infantile Disorder বলে মনে হয়েছিল। আবার অনেকের কাছে দবশ রহস্যগন্ধী মজাদার ঠেকেছিল। এবার লোকসভা নির্বাচনের প্রচার কালে কিছু কিছু ঘটনা ও দ্রুত পট পরিবর্তন দেখে মনে হচ্ছে সত্যি ই যেন দেশ জুড়ে খেলা হচ্ছে। আর সেই খেলার পিছনে ধুরন্ধর কোচের মস্তিস্কের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এই খেলায় ফুটবলের ভাষায় বললে Movement আর দাবার ভাষায় বললে চাল দুটোতেই শাসক দল আক্রমনাত্মক Strategy বেছে নিয়েছে। আর শাসক দলের এই চলন নিয়ে অন্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু প্রশ্ন উঠছে। যা ভবিষ্যতে দেশের রাজনৈতিক পথ চলার উপরে প্রভাব ফেলতে পারে।বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারের দলবদল INDIA জোটকে ধাক্কা দিয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী সাড়া না দেওয়ায় এই জোট দেশের পূর্ব প্রান্তে অস্তিত্বহীন। পাশাপাশি বিভিন্ন রাজ্যে কংগ্রেসের ক্রমাগত রক্তক্ষরণ। এই সব মিলিয়ে বিরোধী জোটকে ছন্নছাড়া দেখাচ্ছিল। অন্য দিকে শাসকদলকে অপ্রতিরোধ্য বলে মনে হচ্ছিল। এই অবস্থায় দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরীওয়ালের গ্ৰেপ্তারি বিরোধী দলগুলির পালে জোরালো হাওয়া এনে দিয়েছে। এক দশক ধরে দিল্লির দুই যুযুধান রাজনৈতিক দল কে এক মঞ্চে এনেছে। শুধু তাই নয় গত ৩১ মার্চ দিল্লির রামলীলা ময়দানে India Gate -র জনসভা থেকে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা ও ছড়িয়েছে। এর আগে দিল্লির যন্তরমন্তরে এবং মুম্বাইয়ে INDIA মঞ্চের জনসভা হয়েছে। কিন্তু দেশের সব প্রান্ত থেকে শীর্ষ বিরোধী নেতাদের মঞ্চে উপস্থিতি রামলীলা ময়দানে জনসভার ধার এবং ভার দুইই বাড়িয়েছে। সবকিছু কে ছাপিয়ে এই জনসভা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে তার বার্তায়। বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এই বার্তা দেশের গণতান্ত্রিক নির্বাচনের চেহারা ভবিষ্যতে কেমন হবে সেই ভাবনা কে উস্কে দিয়েছে।আরও পড়ুনঃ টাকা দাও, ভোট নাও, প্রচারে বেরিয়ে শুনতে হল শতাব্দী রায়কেINDIA -র মঞ্চ থেকে যে পাঁচটি মূল দাবি তুলে ধরা হয়েছে তার প্রথম দুটি জাতীয় নির্বাচন কমিশনের কাছে । ১৯৫২ সাল থেকেই নির্বাচনের সময় রাজনৈতিক দল গুলি একে অপরের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনের কাছে অভিযোগ জানিয়ে আসছে। কিন্তু এই দুটি দাবি মামুলি অভিযোগের গন্ডই ছাড়িয়ে এক বৃহত্তর পরিসরে প্রবেশ করেছে। দেশের বর্তমান জনসংখ্যা প্রায় একশো চল্লিশ কোটি। এবার লোকসভা নির্বাচনে ভোটার সংখ্যা ৯৮ কোটি। তারমধ্যে ৭০-৭৫ কোটি মানুষ ভোট দেবেন। ফলে দেশের প্রথম নির্বাচন থেকে নির্বাচন কমিশন যে কাজ করে আসছে তার ক্রমশ আড়ে বহরে বাড়ছে। এই কাজ শুধু নির্বাচন করিয়ে দেওয়া নয়, নির্বাচন যেন অবাধ শান্তিপূর্ণ এবং সুষ্টুভাবে সম্পন্ন হয় তা নিশ্চিত করা নির্বাচন কমিশনের কর্তব্য। এই কাজ করার ক্ষেত্রে প্রাথমিক বিষয়টি হলো যে দলগুলি নির্বাচনে লড়বে তারা যেন সমান জমিতে দাঁড়িয়ে লড়তে পারে। অর্থাৎ শক্তিশালী দল আর দুর্বল দলের লড়াইয়ের জমি যেন সমান থাকে। আর জমি সমান রাখতেই আদর্শ নির্বাচনী বিধি জারি করে কমিশন। এই বিধির মূল নিশানায় থাকে শাসকদল। কারন দাপট আর প্রশাসনিক প্রভাবে শাসক দল-ই এগিয়ে থাকে। এই কারণে ই INDIA মঞ্চের প্রথম দুটি দাবি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রথম দাবিটি হল লোকসভা ভোটের ময়দানে সবাইকে সমান ভাবে লড়তে পারার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে নির্বাচন কমিশনকে। দ্বিতীয় দাবিটি হল ভোটের মুখে যেভাবে বিরোধী দলের নেতাদের বিরুদ্ধে তদন্তকারি সংস্থা গুলির ব্যবস্থা নিচ্ছে তা বন্ধ করুক নির্বাচন কমিশন।আরও পড়ুনঃ প্রাক্তন বিচারপতিকে ক্রমাগত নিশানা করে চলেছেন মমতাঅবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পথে বাধা সৃষ্টি কারি নানান কৌশল ও প্রকরণের তালিকা এদেশে দীর্ঘ এবং অনেক পুরনো। এই পথ ধরেই হিংসা, ভয় দেখানো, এবং ভোট লুঠের মতো অগণতান্ত্রিক আচরণ যে দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার মধ্যে রয়ে গিয়েছে তা নাগরিকরা বিলক্ষণ জানেন। এর পাশাপাশি রয়েছে নির্বাচনী ফলকে প্রভাবিত করার বিভিন্ন কৌশল। আর এই সমস্ত প্রক্রিয়ার মূল চালিকাশক্তি যে শাসকদল তা ও সবাই জানে। কারণ ক্ষমতা ছাড়া পেশীশক্তি বা অর্থবলের দাপট দেখানো যায় না। এই কারণেই শাসকদলকে ভোটের সময় নির্বাচন বিধির ঘেরাটোপের মধ্যে না রাখতে পারলে বিরোধী দলগুলি কে অসমান জমিতে দাঁড়িয়ে লড়তে হয়। অবশ্য সীমাবদ্ধ অঞ্চলে যেখানে তাদের ক্ষমতা থাকে সেখানে বিরোধী রাও এক ই পথে হাঁটে। তবে বিরোধীদের অভিযোগ ক্ষমতা ধরে রাখার জন্য বর্তমান শাসক দল রাষ্ট্রক্ষমতা কে যে ভাবে ব্যবহার করছে তা বিপজ্জনক।আরও পড়ুনঃ সুকান্ত, শুভেন্দুকে কড়া ভাষায় আক্রমণ মমতার, পাল্টা দিলেন বঙ্গ বিজেপি সভাপতিএই প্রেক্ষাপটে রাজধানীর রামলীলা ময়দান থেকে কমিশনের কাছে বিরোধীরা যে দাবি তুলেছেন তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিরোধীদের অভিযোগ নির্বাচনে শাসকদলের রাষ্ট্রক্ষমতার ব্যবহার গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে বিপন্ন করে তোলে। রাষ্ট্রক্ষমতা কাজে লাগিয়ে ভোটের মুখে প্রধান বিরোধী দল গুলির শীর্ষ নেতৃত্বকে দুর্বল করতে পারলে জেতার পথে অর্ধেক রাস্তা এগিয়ে থাকা যায়। শুধু তদন্ত কারি সংস্থা দিয়ে বিরোধী নেতাদের গ্ৰেপ্তার নয় তার সঙ্গে আয়কর দপ্তরের ও অতি সক্রিয়তা সবার নজর কেড়েছে। কংগ্রেসের আর্থিক সংস্থান বন্ধ করে নির্বাচনী ব্যয় কে কঠিন করে তুলতেই এই সক্রিয়তা কিনা তা নিয়ে অনেকের মনেই প্রশ্ন জেগেছে। বিশ্বের মধ্যে ভারত বৃহত্তর গনতন্ত্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। এই বিশাল জনসংখ্যার দেশে নির্দিষ্ট সময় নিয়মিত ভোট দানের প্রক্রিয়া গনতান্ত্রিক পথে সম্পন্ন হওয়ার কারণেই এই সম্মান পাওয়া গিয়েছে। এর জন্য স্বশাষিত সংস্থা নির্বাচন কমিশন অবশ্যই কৃতিত্ব দাবি করতে পারে। তাই বিরোধীদের দুটি দাবির মুখে দাঁড়িয়ে নির্বাচন কমিশন কি পদক্ষেপ করবে তার উপর দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার ভবিষ্যত কাঠামো অনেক টাই নির্ভর করছে ।

এপ্রিল ০৭, ২০২৪
দেশ

সিবিআই তল্লাশির পর এবার ইডির তলব মহুয়াকে, কি করবেন তৃণমূল প্রার্থী?

সিবিআইয়ের পর ইডি। আগামী ৩১ মার্চ কৃষ্ণনগরে দলীয় প্রার্থীর সমর্থনে সভা করবেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার আগেই সংসদে ঘুষের বদলে প্রশ্ন কাণ্ডে লোকসভা থেকে বহিষ্কৃত তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রকে সমন পাঠাল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। আগামী ২৮ মার্চ (বৃহস্পতিবার) কৃষ্ণনগরের তৃণমূল প্রার্থীকে দিল্লিতে ইডি দফতরে হাজির দিতে হতে বলা হয়েছে। মহুয়ার পাশাপাশি এই মামলায় অন্যতম অভিযোগকারী ব্যবসায়ী দর্শন হিরানন্দানিকেও সমন পাঠানো হয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারীর এজেন্সির তরফে।মহুয়া মৈত্রর বিরুদ্ধে অভিযোগ, লোকসভায় প্রশ্ন করার জন্য তিনি নাকি শিল্পপতি দর্শন হীরানন্দানির কাছ থেকে ঘুষ বাবদ নগদ ও নানা ধরণের উপহার নিয়েছেন। বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবে এই ব্যাপারে প্রথম সরব হন। তারপর এই বিষয় নিয়ে অভিযোগ, পাল্টা অভিযোগ চলতে থাকে। অবশেষে এথিক্স কমিটির সুপারিশের পর সাংসদ পদ বাতিল হয় কৃষ্ণনগরের তৃণমূল প্রার্থীর। এরপরই মহুয়ার বিরুদ্ধে সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দেয় লোকপাল। ইতিমধ্যে মহুয়ার বাবার কলকাতা ও কৃষ্ণনগরের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়েছে সিবিআই।জানা গিয়েছে, বিদেশি মুদ্রা লেনদেন সংক্রান্ত মামলায় ফেমা, 1999-এর নির্দেশ লঙ্ঘনের অভিযোগে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হয়েছে মহুয়া এবং ব্যবসায়ী হিরানন্দানিকে। এর আগে মহুয়ার সাংসদ পদ বাতিল করে এথিক্স কমিটি। তা নিয়ে শোরগোল পরে যায় রাজনীতিতে।

মার্চ ২৭, ২০২৪
  • ‹
  • 1
  • 2
  • ...
  • 23
  • ...
  • 63
  • 64
  • ›

ট্রেন্ডিং

বিদেশ

পাঁচ দিন ধ্বংসস্তূপের নিচে! শেষমেশ যা করল ছোট্ট কুকুরটি, চোখে জল নেটদুনিয়ার

ভয়াবহ ভূমিকম্পে লণ্ডভণ্ড ভেনেজুয়েলা। হাজার হাজার মানুষের মৃত্যুর মাঝেই সামনে এল এক আশ্চর্য ঘটনা। ধ্বংসস্তূপের নিচে টানা প্রায় পাঁচ দিন আটকে থাকার পর জীবিত উদ্ধার হল জিসেল নামে একটি পোষ্য কুকুর। সেই উদ্ধারের ভিডিও প্রকাশ্যে আসতেই আবেগে ভাসছে সমাজমাধ্যম।স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সোমবার ভেনেজুয়েলার সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত লা গুয়াইরা রাজ্যের কারাবাল্লেদা এলাকা থেকে জিসেলকে উদ্ধার করেন বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর সদস্যরা। গত বুধবার অল্প সময়ের ব্যবধানে দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। সেই বিপর্যয়ে বহু বাড়ি ভেঙে পড়ে এবং প্রাণ হারান এক হাজার নয়শোরও বেশি মানুষ।উদ্ধারের পর প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, ধ্বংসস্তূপ থেকে বের করে আনতেই উদ্ধারকারী দলের এক সদস্যের মুখ চেটে দেয় জিসেল। আনন্দে লেজ নাড়াতে থাকে সে। এরপর তাকে জল খাওয়ানো হয় এবং তার শরীরে কোনও গুরুতর আঘাত রয়েছে কি না, তা পরীক্ষা করেন চিকিৎসকেরা।উদ্ধারের এই ভিডিও ভাগ করে নিয়ে একটি আবেগঘন বার্তা দেন এল সালভাদরের রাষ্ট্রপতি নায়িব বুকেলে। তিনি জানান, দীর্ঘ কয়েক ঘণ্টার চেষ্টার পর জিসেলকে নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি আবেদন করেন, যদি কেউ কুকুরটির মালিক হন, তবে প্রয়োজনীয় প্রমাণ দেখিয়ে উদ্ধারকারী দলের সঙ্গে যোগাযোগ করতে।ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসার পর মুহূর্তের মধ্যেই তা ছড়িয়ে পড়ে সমাজমাধ্যমে। অসংখ্য মানুষ জিসেলের বেঁচে ফেরাকে অলৌকিক বলে উল্লেখ করেছেন। অনেকেই লিখেছেন, উদ্ধারকারীদের প্রতি ছোট্ট প্রাণীটির কৃতজ্ঞতার প্রকাশ সত্যিই হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়ার মতো।একজন লিখেছেন, একটি অবলা প্রাণীর ভালোবাসা এবং কৃতজ্ঞতার মতো নির্মল অনুভূতি খুব কমই দেখা যায়। আবার আরেকজনের মন্তব্য, মানুষের উচিত প্রাণীদের কাছ থেকে কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসার শিক্ষা নেওয়া। আরও একজন লেখেন, ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও কত নিরীহ প্রাণী আটকে রয়েছে, সেই কথা ভাবলেই মন ভারী হয়ে যাচ্ছে। জিসেলের এই অলৌকিক প্রত্যাবর্তন তাই শুধু একটি উদ্ধার নয়, ভয়াবহ বিপর্যয়ের মধ্যেও নতুন আশার আলো হয়ে উঠেছে।

জুলাই ০২, ২০২৬
রাজ্য

ভোর হতেই বড় অভিযান! শওকত মোল্লার ছেলের ক্যাফেতে বুলডোজার, মুহূর্তে গুঁড়িয়ে গেল সব

মাতলা নদীর চর দখল করে বেআইনিভাবে ক্যাফে তৈরির অভিযোগে শওকত মোল্লার ছেলে ইমরানের ক্যাফে ভাঙার কাজ শুরু করল জেলা প্রশাসন। আগেই সমস্ত নথি খতিয়ে দেখে ক্যাফেটি ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যেও সেই নির্দেশ মানা না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত প্রশাসন নিজেই বুলডোজার নামিয়ে অভিযান চালায়।ভোর থেকেই ক্যাফের সামনে মোতায়েন করা হয় বিশাল পুলিশ বাহিনী। নিরাপত্তার জন্য কেন্দ্রীয় বাহিনীর সদস্যদেরও রাখা হয় ঘটনাস্থলে। প্রশাসনিক আধিকারিকদের উপস্থিতিতে শুরু হয় ভাঙার কাজ। প্রথমে বুলডোজার দিয়ে ক্যাফের প্রধান প্রবেশদ্বার ভেঙে ফেলা হয়। এরপর একে একে ভেঙে দেওয়া হয় ক্যাফের ভিতরের বিভিন্ন নির্মাণ এবং সাজানো বাগানের অংশ।এর কয়েক দিন আগেই প্রশাসনের পক্ষ থেকে নোটিস দিয়ে জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ক্যাফে ভেঙে ফেলতে হবে। অন্যথায় প্রশাসন নিজেই ব্যবস্থা নেবে। নোটিসের পর ক্যাফে থেকে আসবাবপত্র ও অন্যান্য সামগ্রী সরিয়ে নেওয়া হলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্মাণ ভাঙা হয়নি। এরপরই প্রশাসন আইন অনুযায়ী অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত নেয়।এই ভাঙার কাজ ক্যানিং পূর্বের সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিকের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সরকারি জমির উপর বেআইনি নির্মাণের অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে শুনানি করা হয়। সংশ্লিষ্ট পক্ষকে নিজ উদ্যোগে নির্মাণ সরিয়ে নেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত সময়ও দেওয়া হয়েছিল। সেই সময়সীমা শেষ হয়ে যাওয়ার পর সরকারি নিয়ম মেনেই ভাঙার কাজ শুরু করা হয়েছে।উল্লেখ্য, এই ক্যাফে নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক চলছিল। মাতলা নদীর চর দখল করে বেআইনি নির্মাণের অভিযোগ সামনে আসার পর প্রশাসন তদন্ত শুরু করে। সেই তদন্তের ভিত্তিতেই শেষ পর্যন্ত ভাঙার নির্দেশ কার্যকর করা হল।

জুলাই ০২, ২০২৬
কলকাতা

মহুয়াকে ঘিরে হামলার অভিযোগ, এবার পাশে সিপিএমের বিকাশ! এক মন্তব্যেই শুরু নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক

কালীগঞ্জে তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রকে ঘিরে হেনস্থার অভিযোগের ঘটনায় এবার তাঁর পাশে দাঁড়ালেন সিপিএম নেতা ও প্রবীণ আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য। রাজনৈতিক মতভেদ থাকা সত্ত্বেও একজন নির্বাচিত সাংসদের সঙ্গে এমন আচরণ কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।বুধবার কালীগঞ্জে একটি বৈঠকে যোগ দিতে গিয়েছিলেন মহুয়া মৈত্র। অভিযোগ, সেই সময় বৈঠক চলাকালীন বাইরে জড়ো হওয়া একদল বিক্ষোভকারী ঘরের জানালা লক্ষ্য করে ডিম, কাদা এবং গোবর ছুড়তে শুরু করেন। পাশাপাশি চোর বলে স্লোগানও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। ঘটনার সময় মহুয়া সমাজমাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার করে পরিস্থিতির কথা তুলে ধরেন। ভিডিওতে তাঁকে বলতে শোনা যায়, জানালা দিয়ে একের পর এক ডিম ছোড়া হচ্ছে এবং তা ঘরের ভিতরেও এসে পড়ছে। এই ঘটনার জন্য দলের একাংশের প্রতিও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।ঘটনার পর সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করে বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য লেখেন, মহুয়া মৈত্র তাঁর রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ হতে পারেন, কিন্তু তিনি একজন সাংসদ। তাঁর বিরুদ্ধে জুলুমবাজির কোনও অভিযোগ তাঁর জানা নেই। তাই যেভাবে তাঁকে হেনস্থা করা হয়েছে, তা একটি সভ্য ও গণতান্ত্রিক সমাজের পক্ষে অত্যন্ত লজ্জাজনক। এই ধরনের ঘটনার বিরুদ্ধে সকল সচেতন মানুষের প্রতিবাদ করা উচিত বলেও তিনি মন্তব্য করেন।উল্লেখ্য, এর আগেও বিভিন্ন রাজনৈতিক মামলায় নিজের অবস্থান নিয়ে আলোচনায় এসেছিলেন বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য। তৃণমূল নেতা দেবরাজ চক্রবর্তীর পক্ষে আদালতে সওয়াল করায় তিনি সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন। এছাড়া মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষে প্রয়োজনে আদালতে দাঁড়াতেও আপত্তি নেই বলে তাঁর মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছিল।এদিকে কালীগঞ্জের ঘটনায় তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তিনি এই ঘটনার জন্য বিজেপিকে দায়ী করেছেন। তবে রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য সেই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এই ঘটনার সঙ্গে বিজেপির কোনও সম্পর্ক নেই। তাঁর দাবি, তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ থেকেই এই ঘটনা ঘটেছে।ঘটনার প্রকৃত দায় কার, তা নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোর অব্যাহত থাকলেও কালীগঞ্জের এই ঘটনাকে ঘিরে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে।

জুলাই ০২, ২০২৬
কলকাতা

তিলোত্তমা মামলায় বিস্ফোরণ! ভিসেরা নমুনা নষ্টের অভিযোগে সামনে চাঞ্চল্যকর চিঠি, আদালতে বড় পদক্ষেপ পরিবারের

তিলোত্তমা ধর্ষণ ও খুনের মামলায় ফের সামনে এল নতুন বিতর্ক। এবার রাজ্য ফরেনসিক পরীক্ষাগারে ভিসেরা পরীক্ষার জন্য রাখা নমুনা নষ্ট ও বদলে দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ তুলেছে তিলোত্তমার পরিবার। এই অভিযোগের ভিত্তি একটি চিঠি, যা সম্প্রতি তিলোত্তমার বাবার কাছে পাঠিয়েছেন এক প্রাক্তন ফরেনসিক আধিকারিক।পরিবারের দাবি, ওই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে রাজ্য ফরেনসিক বিভাগের তিন আধিকারিক তিলোত্তমার ভিসেরা নমুনা নষ্ট করেছেন। আরও অভিযোগ, তিলোত্তমার লিভার, কিডনি ও পাকস্থলীর যে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল, তা পরে বদলে ফেলা হয়। এই নমুনাগুলির মাধ্যমে তদন্তকারীরা জানতে চেয়েছিলেন, তিলোত্তমার শরীরে কোনও বিষক্রিয়া হয়েছিল কি না বা তাঁকে ঘুমের ওষুধ দেওয়া হয়েছিল কি না। কিন্তু অভিযোগ অনুযায়ী, সেই গুরুত্বপূর্ণ নমুনা আর আগের অবস্থায় ছিল না।চিঠিতে আরও দাবি করা হয়েছে, রাজ্য ফরেনসিক পরীক্ষাগার থেকে কেন্দ্রীয় ফরেনসিক পরীক্ষাগারে পাঠানোর সময়ও ভিসেরা নমুনা বদলে দেওয়া হয়। এমনকি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে এই কাজ হয়েছে বলেও ওই চিঠিতে অভিযোগ করা হয়েছে। যদিও এই অভিযোগের সত্যতা এখনও স্বাধীনভাবে প্রমাণিত হয়নি।তিলোত্তমার পরিবারের সিদ্ধান্ত, এই চিঠি শিয়ালদহ আদালতে বিচারকের কাছে জমা দেওয়া হবে। একই সঙ্গে আদালতের কাছে আবেদন জানানো হবে, যাতে অভিযোগগুলির সত্যতা খতিয়ে দেখতে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাকে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়।চিঠিতে আরও দাবি করা হয়েছে, তৃণমূল সরকারের আমলে খুন হওয়া বিজেপি ও সিপিএম কর্মীদের একাধিক মামলায়ও একই তিন আধিকারিক ভিসেরা নমুনা নষ্ট করেছিলেন। এই অভিযোগ প্রকাশ্যে আসতেই নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়ে। তবে অভিযোগগুলির বিষয়ে এখনও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনও সরকারি প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি।

জুলাই ০২, ২০২৬
দেশ

প্রধানমন্ত্রী থেকে মুখ্যমন্ত্রী, কেউই রেহাই পাবেন না! এক নতুন বিলে বদলে যেতে পারে দেশের রাজনীতি

দেশের প্রধানমন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রী বা কোনও মন্ত্রী গুরুতর অপরাধের মামলায় টানা ৩০ দিন বিচারবিভাগীয় হেফাজতে থাকলে তাঁকে পদ ছাড়তে হতে পারে। এমনই গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব থাকা সংবিধান সংশোধনী বিল নিয়ে আবারও জোর চর্চা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। সূত্রের খবর, সংসদের আসন্ন বাদল অধিবেশনেই এই বিল নিয়ে আলোচনা এবং পাসের উদ্যোগ নিতে পারে কেন্দ্র।জানা গিয়েছে, আগামী ১৭ জুলাই যৌথ সংসদীয় কমিটি এই বিল নিয়ে তাদের রিপোর্ট জমা দিতে পারে। সেই রিপোর্টে বিতর্কিত ধারাটি বহাল থাকতে পারে বলেই খবর। প্রস্তাব অনুযায়ী, যে সব অপরাধে পাঁচ বছর বা তার বেশি কারাদণ্ডের সম্ভাবনা রয়েছে, সেই ধরনের মামলায় অভিযুক্ত কোনও প্রধানমন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রী বা মন্ত্রী যদি টানা ৩০ দিন বিচারবিভাগীয় হেফাজতে থাকেন, তবে তাঁকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার বিধান রাখা হতে পারে।তবে আইন যাতে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার না হয়, সে বিষয়েও কিছু সুরক্ষামূলক সুপারিশ রিপোর্টে থাকতে পারে বলে সূত্রের দাবি। আগামী ২০ জুলাই থেকে শুরু হতে চলা বাদল অধিবেশনেই বিলটি সংসদে তোলা হতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা তৈরি হয়েছে।দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল এবং তামিলনাড়ুর তৎকালীন মন্ত্রী ভি সেন্থিল বালাজি গ্রেফতার হওয়ার পরও দীর্ঘ সময় মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। সেই ঘটনার পরই গত বছর এই সংবিধান সংশোধনী বিল সংসদে পেশ করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।বিরোধীদের প্রবল আপত্তির জেরে বিলটি সরাসরি পাস না করে যৌথ সংসদীয় কমিটির কাছে পাঠানো হয়। বিজেপি সাংসদ অপরাজিতা সারঙ্গীর নেতৃত্বে একত্রিশ সদস্যের একটি কমিটি বিলটি খতিয়ে দেখছে। তবে তৃণমূল, সমাজবাদী পার্টি, কংগ্রেস এবং ডিএমকে এই কমিটিতে যোগ দেয়নি।রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, বর্তমান সংসদীয় সমীকরণে সরকার এই বিল পাস করানোর জন্য প্রয়োজনীয় সমর্থন আদায় করতে পারে কি না, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। কারণ সংবিধান সংশোধনের জন্য লোকসভায় দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন প্রয়োজন। তাই আসন্ন বাদল অধিবেশনে এই বিল ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়তে পারে।উল্লেখ্য, এই বিল এখনও আইন হয়ে যায়নি। সংসদের উভয় কক্ষে পাস হওয়া এবং প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়ার পরেই এটি কার্যকর হতে পারে।

জুলাই ০২, ২০২৬
কলকাতা

এক সপ্তাহও টিকল না রক্ষাকবচ! পুরুলিয়া-ঝাড়খণ্ড সীমান্ত থেকে গ্রেফতার দেবরাজ, সামনে আসছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ

রক্ষাকবচ খারিজ হওয়ার মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যেই গ্রেফতার হলেন বিধাননগরের প্রাক্তন মেয়র পারিষদ দেবরাজ চক্রবর্তী। পুরুলিয়া-ঝাড়খণ্ড সীমান্ত এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেফতার করেছে বেঙ্গল বিশেষ অভিযান বাহিনী। তোলাবাজি ও হিংসার মামলায় এই পদক্ষেপ করা হয়েছে বলে তদন্তকারী সূত্রের দাবি।দেবরাজ চক্রবর্তী একসময় উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার যুব নেতৃত্বের গুরুত্বপূর্ণ মুখ ছিলেন। পাশাপাশি রাজারহাট, নিউটাউন ও বাগুইআটি এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে তাঁর প্রভাব ছিল বলে অভিযোগ। বহুদিন ধরেই তাঁর বিরুদ্ধে আয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বিপুল সম্পত্তি গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছিল। স্থানীয়দের একাংশও এই নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন বলে দাবি করা হয়।রাজনৈতিক জীবনের শুরুতে তিনি পূর্ণেন্দু বসুর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। পরে সুজিত বসুর সঙ্গে কাজ করতে শুরু করেন এবং ধীরে ধীরে নিজের সাংগঠনিক প্রভাব বাড়ান। পরবর্তী সময়ে তিনি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ বলেও রাজনৈতিক মহলে পরিচিতি পান।তদন্তকারী সূত্রের দাবি, এলাকার প্রোমোটারদের হুমকি দেওয়া, তোলাবাজি এবং অর্থ আদায়ের মতো একাধিক অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে দেবরাজের বিরুদ্ধে জমা পড়েছিল। ভোটার তালিকা সংশোধনের সময় সরকারি কর্মীদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও তাঁর ঘনিষ্ঠদের বিরুদ্ধে উঠেছিল বলে দাবি করা হয়েছে।দেবরাজের স্ত্রী তথা প্রাক্তন বিধায়ক অদিতি মুন্সির নামও এখন আলোচনায়। অভিযোগ, বিধায়ক থাকাকালীন এলাকায় সাংগঠনিক নিয়ন্ত্রণের বড় অংশই সামলাতেন দেবরাজ। তদন্তকারীরা জানতে চাইছেন, তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ সম্পর্কে অদিতি মুন্সির কোনও ভূমিকা বা তথ্য ছিল কি না। প্রয়োজনে তাঁদের মুখোমুখি বসিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে বলেও তদন্তকারী সূত্রের দাবি।এদিকে রাজ্যের মন্ত্রী অর্জুন সিং আগেই অভিযোগ করেছিলেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মদতেই দেবরাজ উত্তর চব্বিশ পরগনায় দুর্নীতির বিস্তৃত জাল গড়ে তুলেছিলেন। যদিও এই অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে কোনও আদালত-স্বীকৃত প্রমাণ সামনে আসেনি।অন্যদিকে, নির্বাচনের আগে মনোনয়নপত্রে ভুল তথ্য দেওয়ার অভিযোগে অদিতি মুন্সির বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছিলেন বিজেপি নেতা ও আইনজীবী তরুণজ্যোতি তিওয়ারি। দেবরাজের গ্রেফতারের পর এক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, দেবরাজের সম্পত্তির একটি অংশ অদিতি মুন্সির নামেও ছিল। পাশাপাশি তিনি আরও একাধিক গুরুতর অভিযোগ তোলেন এবং তদন্তে সব দিক খতিয়ে দেখার দাবি জানান।উল্লেখ্য, আগাম জামিনের আবেদন জানিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন দেবরাজ চক্রবর্তী ও অদিতি মুন্সি। চার মাসের সন্তানের বিষয়টি বিবেচনা করে আদালত অদিতি মুন্সিকে সাময়িক রক্ষাকবচ দিলেও দেবরাজের আবেদন খারিজ করে দেয়। তার এক সপ্তাহের মধ্যেই গ্রেফতার করা হল তাঁকে। এখন তদন্ত কোন দিকে এগোয়, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহল ও সাধারণ মানুষের।

জুলাই ০২, ২০২৬
রাজ্য

এনআইএ আদালতে বিস্ফোরক দাবি! শাকির আলির বাড়ি থেকে উদ্ধার গুলি, জামিন চাইলেন প্রাক্তন সাংসদের স্বামী

রামনবমী সংক্রান্ত মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদ অপরূপা পোদ্দারের স্বামী শাকির আলিকে বুধবার আদালতে তোলা হয়। শুনানির সময় তদন্তকারী সংস্থা দাবি করে, এই ঘটনায় শাকির আলি অন্যতম মূল পরিকল্পনাকারী। যদিও আদালতে দাঁড়িয়ে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেন তিনি এবং যে কোনও শর্তে জামিনের আবেদন জানান।আদালতে তদন্তকারী সংস্থা জানায়, রামনবমীর ঘটনাকে কেন্দ্র করে মোট ছয়টি মামলা দায়ের হয়েছিল। অভিযোগ, শোভাযাত্রায় অংশ নেওয়া মানুষের উপর হামলা চালানো হয় এবং তদন্তে উঠে এসেছে, এই ঘটনায় শাকির আলি উস্কানির ভূমিকা পালন করেছিলেন। তদন্তকারীদের আরও দাবি, তাঁর বাড়ি থেকে ছত্রিশ রাউন্ড গুলি উদ্ধার হয়েছে। সেই কারণেই তাঁকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন বলে আদালতের কাছে আবেদন জানানো হয়।তবে শুনানির সময় বিচারক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তোলেন। তিনি জানতে চান, দুই হাজার তেইশ সালে শুরু হওয়া মামলায় এতদিন পর কেন গ্রেপ্তার করা হল শাকির আলিকে। একই সঙ্গে প্রশ্ন ওঠে, এতদিন পরে হেফাজতে নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা কী।এর জবাবে তদন্তকারী সংস্থা জানায়, আগে এই গ্রেপ্তার সম্ভব হয়নি। তাদের দাবি, তদন্তে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা না পাওয়ায় পদক্ষেপ করা যায়নি। বর্তমানে তদন্তের জন্য অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।তদন্তকারী আধিকারিক আদালতে আরও জানান, বিভিন্ন রাস্তা এবং বাড়ির নজরদারি চিত্র খতিয়ে দেখা হয়েছে। অভিযোগ, শাকির আলি যে গাড়ি ব্যবহার করতেন, সেই গাড়ির কোনও ক্ষতি হয়নি, অথচ আশপাশের একাধিক গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। ঘটনার পর সেই গাড়িতেই তিনি এলাকা ছেড়ে চলে যান বলে তদন্তকারীদের দাবি। আরও অভিযোগ, পরে ওই গাড়ি বিক্রিও করে দেওয়া হয়।অন্যদিকে শাকির আলির আইনজীবী আদালতে জানান, তাঁর মক্কেল এই মামলায় এর আগেও দুবার তদন্তে হাজিরা দিয়েছেন। তিনি একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে এলাকায় শান্তি বজায় রাখার চেষ্টা করেছিলেন বলেও দাবি করা হয়। শাকির আলিও আদালতে বলেন, যাঁরা শোভাযাত্রা করেছিলেন তাঁদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, অথচ যাঁরা পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়েছিলেন, তাঁদেরই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, মামলার অন্য অভিযুক্তরা ইতিমধ্যেই জামিনে মুক্ত।শাকির আলি আদালতে জানান, তাঁর নামে বৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স ছিল। পরে সেই অস্ত্র বিক্রি করে দিলেও গুলি বিক্রি করা যায় না। পাশাপাশি তিনি নিজের শারীরিক অবস্থার কথাও আদালতের নজরে আনেন। তাঁর দাবি, তিনি গুরুতর অসুস্থ এবং ক্যানসারের আশঙ্কায় চিকিৎসাধীন। সেই কারণেই যে কোনও শর্তে জামিন দেওয়ার আবেদন জানান।এই মামলায় শাকির আলিকে দুই দিনের জন্য তদন্তকারী সংস্থার হেফাজতে নেওয়ার আবেদন করা হয়েছে। বিকল্প হিসেবে বিচারবিভাগীয় হেফাজতে থাকলেও জেলে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার অনুমতি চেয়েছে তদন্তকারী সংস্থা। আদালতের সিদ্ধান্তের দিকেই এখন নজর রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের।

জুলাই ০১, ২০২৬
দেশ

চিকেনস নেকে বড়সড় নিরাপত্তা আতঙ্ক! পানের দোকানের আড়ালে কী চলছিল? গ্রেপ্তার যুবক

পূর্ব ভারতের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত এলাকা চিকেনস নেক বা শিলিগুড়ি করিডরের কাছাকাছি সিকিমে বড়সড় অভিযানে এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এবং গ্যাংটক পুলিশের যৌথ অভিযানে ধৃত ওই যুবকের বিরুদ্ধে দেশবিরোধী কার্যকলাপ, উগ্রপন্থী প্রচার এবং নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠনের মতাদর্শ ছড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, গ্যাংটকের নাং এলাকা থেকে গ্রেপ্তার হওয়া উনিশ বছরের মহম্মদ আরজু একটি পানের দোকানের আড়াল থেকে এই কার্যকলাপ চালাতেন বলে অভিযোগ। তবে এই অভিযোগ এখনও আদালতে প্রমাণিত হয়নি এবং তদন্ত চলছে।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মহম্মদ আরজু তাঁর বাবার সঙ্গে গ্যাংটকের লোয়ার এমজি মার্গ এলাকায় একটি পানের দোকান পরিচালনা করতেন। তদন্তকারীদের অভিযোগ, সেই ব্যবসার আড়ালেই তিনি সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার করে উগ্রবাদী প্রচার চালাতেন এবং নতুন সদস্য সংগ্রহের চেষ্টা করতেন। বিষয়টি সামনে আসার পর থেকেই গোয়েন্দা মহলে উদ্বেগ বেড়েছে।তদন্তকারী সংস্থার দাবি, তারা একটি সামাজিক মাধ্যমের গোষ্ঠীর সন্ধান পেয়েছে, যার মাধ্যমে দেশবিরোধী প্রচার এবং উগ্রপন্থী মতাদর্শ ছড়ানোর চেষ্টা চলছিল বলে অভিযোগ। সেই সূত্র ধরেই মহম্মদ আরজুর নাম সামনে আসে। এরপর কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এবং গ্যাংটক পুলিশের যৌথ অভিযানে তাঁকে আটক করা হয়।জিজ্ঞাসাবাদের সময় ধৃত যুবকের আচরণে অসঙ্গতি ধরা পড়ায় তাঁর মোবাইল ফোনের ফরেনসিক পরীক্ষা করা হয়। তদন্তকারীদের দাবি, সেই পরীক্ষায় বিভিন্ন কথোপকথন, সন্দেহজনক তথ্য আদান-প্রদান এবং ভারত ও পাকিস্তানে অবস্থানকারী কয়েকজনের সঙ্গে যোগাযোগের প্রাথমিক তথ্য মিলেছে। এই তথ্যের ভিত্তিতেই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। তদন্তকারীরা এখন খতিয়ে দেখছেন, এই ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত রয়েছে কি না এবং কোনও বড় নেটওয়ার্কের সঙ্গে এর যোগসূত্র আছে কি না।সিকিম পুলিশের অপরাধ দমন শাখা এবং অপরাধ তদন্ত বিভাগ জানিয়েছে, অনলাইনের মাধ্যমে উগ্রবাদী কার্যকলাপে যুক্ত থাকার অভিযোগে ধৃত যুবকের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা, বেআইনি কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইন এবং তথ্য প্রযুক্তি আইনের একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। তদন্ত এখনও চলছে।এই ঘটনাকে উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেছেন সিকিমের বিধায়ক কলা রাই। তাঁর বক্তব্য, আন্তর্জাতিক সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় এ ধরনের অভিযোগ অত্যন্ত সংবেদনশীল। তাই ভবিষ্যতে নিরাপত্তা আরও জোরদার করা এবং সন্দেহজনক কার্যকলাপের উপর কড়া নজরদারি চালানো প্রয়োজন।

জুলাই ০১, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal