• ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩, রবিবার ১৮ অক্টোবর ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

দেশ

দেশ

শিশুমৃত্যুর পর জ্বলছে মণিপুর! রাস্তায় হাজার মানুষ, পাঁচ দিনের বন্‌ধে অচল রাজ্য

চলতি মাসের শুরুতে এক বিএসএফ জওয়ানের বাড়িতে রকেট হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে আবারও অশান্ত হয়ে উঠেছে মণিপুর। ওই হামলায় এক শিশুকন্যা এবং পাঁচ বছরের এক বালকের মৃত্যু হয়। এই ঘটনার প্রতিবাদে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। নাগরিক সমাজ রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ জানাচ্ছে এবং পাঁচ দিনের বন্ধের ডাক দেওয়া হয়েছে।রবিবার মণিপুরের নানা প্রান্তে হাজার হাজার মানুষ পথে নামেন। ইম্ফলে রাতে মশাল হাতে মিছিল করেন বহু মানুষ, বিশেষ করে মহিলাদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। অভিযোগ, এই বিক্ষোভ দমাতে পুলিশ শক্তি প্রয়োগ করেছে। আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস ছোড়া হয়। কিছু জায়গায় বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষের ঘটনাও সামনে আসে।প্রতিবাদকারীদের দাবি, এই হামলার সঙ্গে জড়িত দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করতে হবে। পাশাপাশি পাহাড়ি এলাকায় সক্রিয় কুকি জঙ্গিদের বিরুদ্ধেও কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি উঠেছে। বন্ধের জেরে বাজার, স্কুল-কলেজ এবং সরকারি অফিস বন্ধ ছিল। পরিবহন ব্যবস্থাও ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়। শুধুমাত্র জরুরি পরিষেবা কিছু এলাকায় চালু রাখা হয়।অন্যদিকে মণিপুর পুলিশ জানিয়েছে, প্রতিবাদের নামে কিছু সমাজবিরোধী কাজকর্ম চলছে। যারা হিংসা ছড়াচ্ছে বা অন্যদের উসকানি দিচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুলিশের দাবি, কিছু মানুষ বিক্ষোভকারীদের হাতে পেট্রোল বোমা, লোহার গোলা লাগানো গুলতি এবং পাথর তুলে দিচ্ছে, যা পরিস্থিতিকে আরও খারাপ করছে।উল্লেখযোগ্য, গত ছয় এপ্রিল রাতে বিষ্ণুপুর জেলার মোইরাং ট্রোংলাওবি এলাকায় এক বিএসএফ জওয়ানের বাড়িতে হামলা চালানো হয়। অভিযোগ, একাধিক জঙ্গি ওই বাড়ি লক্ষ্য করে রকেট ছোড়ে। তখন বাড়ির সদস্যরা ঘুমিয়ে ছিলেন। এই হামলায় ঘুমের মধ্যেই মৃত্যু হয় পাঁচ মাসের এক শিশুকন্যা এবং পাঁচ বছরের এক বালকের। গুরুতর জখম হন তাদের মা। এই মর্মান্তিক ঘটনার পর থেকেই এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায়। ক্ষুব্ধ মানুষ পরে নিকটবর্তী একটি সুরক্ষা শিবিরেও হামলা চালায়। তারপর থেকেই পরিস্থিতি অস্থির হয়ে রয়েছে।

এপ্রিল ২০, ২০২৬
দেশ

লোকসভায় বড় ধাক্কা, বিল পাশ না হতেই পথে বিজেপি! এবার লক্ষ্য বাংলা-তামিলনাড়ু

লোকসভায় সংবিধান সংশোধনী বিল পাশ করাতে ব্যর্থ হয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। দীর্ঘ সময়ের মধ্যে এই প্রথম সংসদে এমন পরাজয়ের মুখে পড়তে হল সরকারকে। প্রয়োজনীয় সমর্থন না মেলায় বিলটি পাশ করা সম্ভব হয়নি।এই ঘটনার পরই রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। শাসকদল (BJP) এবার দেশজুড়ে প্রচারে নামার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিরোধীদের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়ে তাদের মহিলা বিরোধী বলে তুলে ধরার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।এই প্রচারে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে দুই রাজ্যকে, পশ্চিমবঙ্গ এবং তামিলনাড়ু। কারণ, এই দুই রাজ্যেই সামনে নির্বাচন রয়েছে। শাসকদলের লক্ষ্য, মহিলাদের জন্য সংরক্ষণে বিরোধিতা করেছে বিরোধীরাএই বার্তা মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া (BJP) ।সংসদে বিল পাশ না হওয়ার পরই শাসকদলের শীর্ষ নেতৃত্ব বৈঠকে বসে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে। এর পাশাপাশি মহিলা সাংসদদের নেতৃত্বে প্রতিবাদও শুরু হয় সংসদ চত্বরে।অন্যদিকে বিরোধী দলগুলিও নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করতে তৎপর। তারা দাবি করছে, তারা সংরক্ষণের বিরোধী নয়, বরং আসন পুনর্বিন্যাসের কিছু বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছে। তাদের মতে, মহিলাদের সংরক্ষণের পক্ষে তারা আগেও ছিল, এখনও রয়েছে (BJP) ।এই পরিস্থিতিতে দুই পক্ষের মধ্যেই রাজনৈতিক লড়াই আরও তীব্র হচ্ছে। নির্বাচন ঘনিয়ে আসায় এই ইস্যু আগামী দিনে বড় রাজনৈতিক অস্ত্র হয়ে উঠতে পারে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

এপ্রিল ১৮, ২০২৬
দেশ

সংসদে বড় ধাক্কা! সংবিধান সংশোধনী বিল পাস না হতেই চরম চাপে কেন্দ্র

সংসদের বিশেষ অধিবেশন ডেকেও শেষ পর্যন্ত বড় ধাক্কা খেল কেন্দ্রীয় সরকার। ১৩১তম সংবিধান সংশোধনী বিল লোকসভায় পাস করাতে পারল না সরকার। এই বিল পেশ ও পাস করানোর উদ্দেশ্যেই বিশেষ অধিবেশন ডাকা হয়েছিল, কিন্তু প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা না মেলায় বিলটি আটকে যায়।এই সংবিধান সংশোধনী বিলের সঙ্গে যুক্ত ছিল আসন পুনর্বিন্যাস বিল এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল আইন সংশোধনী বিল। মূলত মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ কার্যকর করার লক্ষ্যে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। এর আগে ২০২৩ সালে সর্বসম্মতিতে মহিলা সংরক্ষণ বিল পাস হলেও তা কার্যকর হয়নি। সেই বিলকে আইনে পরিণত করতে নতুন করে সংশোধনী আনা হয়েছিল।বিলটি নিয়ে সংসদে তুমুল বিতর্ক হয়। শেষ পর্যন্ত উপস্থিত ৫২৮ জন সাংসদের মধ্যে ভোটাভুটিতে ২৯৮ জন বিলের পক্ষে এবং ২৩০ জন বিপক্ষে ভোট দেন। কিন্তু সংবিধান সংশোধনের জন্য প্রয়োজন ছিল অন্তত ৩৫২টি সমর্থন, যা জোগাড় করতে পারেনি সরকার।এই ভোটাভুটিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল, এতদিন সরকারকে সমর্থন করা বিজেডি-র অবস্থান বদল। দলের নেতা নবীন পট্টনায়কের নেতৃত্বে তাঁদের সাংসদরা আসন পুনর্বিন্যাস বিলের বিরোধিতা করেন, যা ফলাফলে বড় প্রভাব ফেলে।লোকসভায় শাসক জোটের সাংসদের সংখ্যা ২৯৩, আর বিরোধীদের সংখ্যা ২৩৩। রাজ্যসভাতেও শাসক জোট এগিয়ে থাকলেও এই গুরুত্বপূর্ণ বিল পাস করাতে ব্যর্থ হওয়ায় রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।জানা গিয়েছে, সংবিধান সংশোধনী বিল পাস না হওয়ায় আপাতত বাকি দুই বিল নিয়েও এগোবে না কেন্দ্র। এদিকে মহিলা সংরক্ষণ কার্যকর করতে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া এখনও অসম্পূর্ণ রয়ে গেল। এখন কেন্দ্রীয় সরকার পরবর্তী পদক্ষেপ কী নেয়, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

এপ্রিল ১৮, ২০২৬
দেশ

মহিলা সংরক্ষণ না কি বড় রাজনৈতিক চমক? সংসদে তিন বিল বিশেষ বার্তা প্রধানমন্ত্রীর

সংসদের তিন দিনের বিশেষ অধিবেশনে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিল পাশ করাতে চাইছে কেন্দ্র। এই তিনটি বিল হল মহিলাদের জন্য আসন সংরক্ষণ সংক্রান্ত সংবিধান সংশোধনী বিল, লোকসভার আসন সংখ্যা বাড়ানোর জন্য আসন পুনর্বিন্যাস বিল এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল আইন সংশোধনী বিল। বৃহস্পতিবার দুপুরে এই তিনটি বিলই লোকসভায় পেশ করা হয়েছে। প্রায় ১২ ঘণ্টা আলোচনা চলার পর শুক্রবার বিকেলে এই বিলগুলির উপর ভোটাভুটি হতে পারে বলে জানা যাচ্ছে।বিলগুলি পেশ করা হবে কি না, তা নিয়েও লোকসভায় ভোটাভুটি হয়। সেখানে ২৫১ জন সাংসদ বিল পেশের পক্ষে মত দেন, আর ১৮৫ জন বিরোধিতা করেন। এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে সমাজমাধ্যমে বার্তা দেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি বলেন, নারী ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে এই বিশেষ অধিবেশন একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ হতে চলেছে। তাঁর মতে, মা ও বোনেদের সম্মান জানানো মানেই দেশকে সম্মান জানানো।তবে এই তিনটি বিলের মধ্যে আসন পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত প্রস্তাবটি ঘিরেই সবচেয়ে বেশি বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এই বিলের মাধ্যমে লোকসভার আসন সংখ্যা ৫৪৩ থেকে বাড়িয়ে ৮৫০ করার পরিকল্পনা করেছে কেন্দ্র। সেই সঙ্গে এক-তৃতীয়াংশ আসন মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত রাখার কথাও বলা হয়েছে।এই বিলগুলির খসড়া আগে থেকেই সাংসদদের কাছে পাঠানো হয়েছিল। লোকসভা ও রাজ্যসভায় বিলগুলি পাশ হয়ে রাষ্ট্রপতির অনুমোদন পেলে এই পরিবর্তন কার্যকর হতে পারে।উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে মহিলা সংরক্ষণ সংক্রান্ত বিল পাশ হয়েছিল। তখন বলা হয়েছিল, জনগণনার পর আসন পুনর্বিন্যাস করে তার মধ্যে ৩৩ শতাংশ আসন মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত করা হবে। কিন্তু এখন কেন্দ্র ২০১১ সালের তথ্যের ভিত্তিতে আসন পুনর্বিন্যাস করতে চাইছে এবং দুটি বিষয়কে একসঙ্গে আনায় প্রশ্ন তুলছে বিরোধীরা।এই বিষয়ে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্ট্যালিন ইতিমধ্যেই তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তিনি বিলের খসড়া পুড়িয়ে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীও কেন্দ্রের সমালোচনা করে বলেছেন, এটি একটি বিপজ্জনক পরিকল্পনা হতে পারে।বিরোধী জোটের নেতারাও এই বিষয়ে বৈঠক করেছেন। সেখানে বিভিন্ন দলের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন এবং বিলের বিরোধিতায় একজোট হওয়ার কথা জানিয়েছেন।যদিও কেন্দ্রের দাবি, বিরোধীরা বিষয়টি ভুলভাবে ব্যাখ্যা করছে। সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু বলেন, আসন পুনর্বিন্যাস নিয়ে গুজব ছড়ানো উচিত নয় এবং এর অজুহাতে মহিলা সংরক্ষণ বিলের বিরোধিতা করা ঠিক নয়।সব মিলিয়ে, এই তিনটি বিল ঘিরে সংসদে তুমুল রাজনৈতিক লড়াইয়ের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

এপ্রিল ১৬, ২০২৬
দেশ

সংসদে বড় লড়াইয়ে তৃণমূল কি থাকছে না? তীব্র আক্রমণ কংগ্রেসের

আজ থেকে লোকসভায় শুরু হচ্ছে তিন দিনের বিশেষ অধিবেশন। এই অধিবেশনে মহিলা সংরক্ষণ বিল-সহ মোট তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিল পেশ করা হবে। কিন্তু তার আগেই বড় প্রশ্ন উঠে এসেছে, এই অধিবেশনে তৃণমূল কংগ্রেস পুরোপুরি উপস্থিত থাকবে কি না।কয়েক দিন আগে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী-সহ একাধিক বিরোধী নেতা দাবি করেছিলেন, তৃণমূলের অনুপস্থিতি হলে তা বিজেপির পক্ষেই সুবিধা তৈরি করবে। এরপরই শিবসেনা প্রধান উদ্ধব ঠাকরে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে কথা বলে সব সাংসদের উপস্থিতি নিশ্চিত করার চেষ্টা করেন।তবে সূত্রের খবর, তৃণমূলের সব সাংসদের উপস্থিতি সম্ভব হচ্ছে না। কারণ হিসেবে সামনে আসছে আগামী ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন। দলীয় সূত্রে জানা যাচ্ছে, এই মুহূর্তে অধিকাংশ সাংসদই নির্বাচনী প্রচারে ব্যস্ত। তাই বিশেষ অধিবেশনে প্রায় ২০ জন সাংসদকে পাঠানোর পরিকল্পনা করেছে তৃণমূল।রাহুল গান্ধী মনে করছেন, বিলের উপর ভোটাভুটির সময় সব বিরোধী সাংসদের উপস্থিত থাকা অত্যন্ত জরুরি। তা না হলে অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে বিজেপি সুবিধা পেতে পারে। ইতিমধ্যেই কংগ্রেস তাদের সাংসদদের জন্য হুইপ জারি করেছে। অন্যদিকে, তামিলনাড়ুতেও ভোট চললেও ডিএমকে প্রধান এম কে স্ট্যালিন তাঁর দলের সব সাংসদকে দিল্লি যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।এদিকে মহিলা সংরক্ষণ বিল নিয়ে বিরোধীদের সমর্থন থাকলেও আসন পুনর্বিন্যাসের বিল ঘিরে উত্তেজনা তুঙ্গে। এই বিলের বিরোধিতায় ইতিমধ্যেই সরব হয়েছে বিভিন্ন বিরোধী দল। আজ সকালে তামিলনাড়ুতে এই প্রস্তাবিত বিলের কপি পুড়িয়ে বিক্ষোভ শুরু করেছেন এম কে স্ট্যালিন। তিনি দলের কর্মী ও সমর্থকদের আগামী কয়েক দিন বাড়িতে কালো পতাকা ওড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন।এই ইস্যুতে ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি লিখে বিলের বিরোধিতা করার আবেদন জানিয়েছেন বিজেডি নেতা নবীন পট্টনায়ক। অরুণাচল প্রদেশ ও মধ্যপ্রদেশের বিরোধী নেতারাও নিজেদের রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের একই আবেদন জানিয়েছেন।বিরোধীদের অভিযোগ, আসন পুনর্বিন্যাসের ফলে উত্তর ভারতের তুলনায় পূর্ব ও দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলির প্রতিনিধিত্ব কমে যেতে পারে। এই আশঙ্কা থেকেই সংশ্লিষ্ট রাজ্যের বিজেপি মুখ্যমন্ত্রীদেরও এই বিষয়ে সরব হওয়ার আবেদন জানানো হচ্ছে।সব মিলিয়ে, বিশেষ অধিবেশনের প্রথম দিন থেকেই সংসদে তুমুল উত্তেজনা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এপ্রিল ১৬, ২০২৬
দেশ

৪২ থেকে ৬৩! বাংলার লোকসভা আসনে বড়সড় বৃদ্ধি, কী হচ্ছে সংসদে?

আজ থেকে সংসদে শুরু হচ্ছে বিশেষ অধিবেশন, আর প্রথম দিন থেকেই উত্তেজনা তুঙ্গে ওঠার সম্ভাবনা। এই অধিবেশন ডাকা হয়েছে মূলত ৩৩ শতাংশ মহিলা আসন সংরক্ষণ বিল পাশের জন্য। তবে এর পাশাপাশি আরও দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিল পেশ করা হবে। একটি লোকসভার আসন পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত বিল এবং অন্যটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল আইনের সংশোধনী বিল।রাজনৈতিক মহলের মতে, এই তিনটি বিল নিয়েই সংসদে তুমুল বিতর্ক হবে। বিরোধীরা মহিলা সংরক্ষণ বিলকে সমর্থন করলেও, আসন পুনর্বিন্যাসের প্রস্তাবের তীব্র বিরোধিতা করতে পারে।প্রথমে সিদ্ধান্ত হয়েছিল, ২০১১ সালের জনগণনার ভিত্তিতে লোকসভা ও বিধানসভার আসন পুনর্বিন্যাস করা হবে। কিন্তু সেই পরিকল্পনায় এখন বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। নতুন করে ভাবা হচ্ছে, শুধু জনগণনার ভিত্তিতে নয়, প্রতিটি রাজ্যের বর্তমান লোকসভা আসনের সংখ্যা ৫০ শতাংশ বাড়ানো হতে পারে। যদিও এই বিষয়টি এখনও আনুষ্ঠানিক বিলে উল্লেখ নেই, তবে সূত্রের খবর, বিল পেশের সময় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলাদা করে এই বিষয়ে ঘোষণা করতে পারেন।এই নতুন ফর্মুলা কার্যকর হলে বিভিন্ন রাজ্যের আসন সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যেতে পারে। যেমন, তামিলনাড়ুর আসন সংখ্যা ৩৯ থেকে বেড়ে ৫৯ হতে পারে। একইভাবে পশ্চিমবঙ্গের লোকসভা আসন ৪২ থেকে বেড়ে ৬৩ হতে পারে বলে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।এর আগে ২০২৩ সালে বলা হয়েছিল, ২০২৭ সালের জনগণনার ভিত্তিতে আসন পুনর্বিন্যাস করা হবে। কিন্তু এখন সেই সিদ্ধান্ত বদলে ২০১১ সালের তথ্যের ভিত্তিতে পুনর্বিন্যাস করার কথা বলা হচ্ছে। এতে মোট লোকসভা আসন সংখ্যা ৫৪৩ থেকে বেড়ে প্রায় ৮৫০ হতে পারে।এই বিষয়েই আপত্তি তুলছে বিরোধীরা। তাদের অভিযোগ, কেন্দ্র নিজের সুবিধামতো আসন সংখ্যা বাড়াতে চাইছে। যদিও মহিলা সংরক্ষণ বিল নিয়ে তাদের সমর্থন রয়েছে, কিন্তু ডিলিমিটেশন বিল উঠলেই তারা তীব্র বিরোধিতা করবে বলে জানা গেছে।লোকসভায় কোনও বিল পাশ করাতে গেলে মোট সদস্যের দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন প্রয়োজন হয়। অর্থাৎ, ৫৪৩ জনের মধ্যে অন্তত ৩৬০ জনের সমর্থন দরকার। বর্তমানে শাসক জোটের হাতে রয়েছে ২৯৩টি আসন। ফলে এই বিল পাশ করানো সহজ হবে না বলেই মনে করা হচ্ছে। যদি লোকসভায় বিল পাশ না হয়, তাহলে সেটি আর রাজ্যসভায় পেশ করা যাবে না।এই পরিস্থিতিতে আজকের অধিবেশন ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা চরমে উঠেছে।

এপ্রিল ১৬, ২০২৬
দেশ

সরকারি কর্মীদের ডিএ নিয়ে বড় আপডেট! আবার পিছোল মামলার শুনানি

সরকারি কর্মীদের ডিএ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানাল রাজ্য সরকার। আদালতে জানানো হয়েছে, ইতিমধ্যেই প্রথম দফায় বকেয়া ডিএ বাবদ প্রায় ছয় হাজার কোটি টাকা মিটিয়ে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বিশেষ কমিটির সুপারিশ মেনে চলার কথাও জানিয়েছে রাজ্য। আরও কিছুটা সময় চেয়ে আবেদন জানানো হলে তা মেনে নিয়েছে আদালত। ফলে ডিএ মামলার শুনানি আপাতত পিছিয়ে গেল। জানা যাচ্ছে, আগামী শুনানি হবে ৬ মে, অর্থাৎ বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর।এর আগে কলকাতা হাই কোর্ট রাজ্য সরকারি কর্মীদের বকেয়া ডিএ মিটিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে যায় রাজ্য। পরে শীর্ষ আদালত বকেয়া ডিএ-র ২৫ শতাংশ মেটানোর নির্দেশ দেয় এবং তার জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমাও বেঁধে দেয়। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সেই টাকা পুরোপুরি দেওয়া হয়নি। তখন রাজ্য আরও ছয় মাস সময় চেয়ে আবেদন করে।পরে ফেব্রুয়ারি মাসে সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানায়, ডিএ কোনও অনুগ্রহ নয়, এটি কর্মীদের আইনি অধিকার। আদালত নির্দেশ দেয়, মে মাসের মধ্যে বকেয়া ডিএ-র ২৫ শতাংশ দুই কিস্তিতে মেটাতে হবে। প্রথম কিস্তি দেওয়ার শেষ সময় ছিল মার্চের শেষ দিন। সেই নির্দেশ মেনে রাজ্য আংশিক টাকা দিয়েছে। তবে অভিযোগ, সরকার পোষিত কিছু সংস্থার কর্মীরা এখনও টাকা পাননি।সাম্প্রতিক শুনানিতে রাজ্যের আইনজীবী কপিল সিব্বল আদালতে জানান, যে সব কর্মীদের তালিকা তাদের কাছে ছিল, তাঁদের টাকা ইতিমধ্যেই দেওয়া হয়েছে এবং এতে প্রায় ছয় হাজার কোটি টাকা খরচ হয়েছে। তিনি আরও বলেন, অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি ইন্দু মালহোত্রার নেতৃত্বে গঠিত কমিটির সুপারিশ মেনেই রাজ্য কাজ করছে। ওই কমিটি এপ্রিলের শেষে পরবর্তী রিপোর্ট জমা দেবে বলেও জানানো হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে মামলার শুনানি কিছুদিন পিছিয়ে দেওয়ার আর্জি জানানো হয়, যা মেনে নিয়েছে আদালত।ফলে আপাতত ডিএ মামলা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে সরকারি কর্মীদের।

এপ্রিল ১৫, ২০২৬
দেশ

বিহারে বড় পালাবদল! নীতীশ সরতেই মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট, চমকে দিল রাজনীতি

বিহারের রাজনীতিতে বড় পরিবর্তন ঘটল। দীর্ঘদিন মুখ্যমন্ত্রী থাকার পর পদ ছাড়লেন নীতীশ কুমার। তাঁর জায়গায় নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ নিলেন বিজেপি নেতা সম্রাট চৌধুরী। পটনার লোক ভবনে আজ সকালে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান হয়। বিহারের চব্বিশতম মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব নিলেন তিনি।নীতীশ কুমার দীর্ঘ প্রায় কুড়ি বছর ধরে বিহারের রাজনীতিতে মুখ্যমন্ত্রীর মুখ হয়ে ছিলেন। বিভিন্ন সময়ে জোট সরকার বদলালেও তিনিই ক্ষমতায় ছিলেন। রাজ্যের সবচেয়ে দীর্ঘ সময় মুখ্যমন্ত্রী থাকার রেকর্ডও তাঁরই দখলে। তবে এবার তাঁকে সেই পদ ছাড়তে হল। তাঁকে রাজ্যসভার প্রার্থী করা হয়েছে, আর তার পরেই মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ান তিনি। নিজের শেষ দিনে নতুন সরকারকে সহযোগিতা করার আশ্বাসও দিয়েছেন নীতীশ।সম্রাট চৌধুরীর শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা, চিরাগ পাসওয়ান এবং জিতন রাম মাঝি সহ একাধিক নেতা।উপমুখ্যমন্ত্রী পদে থাকার পর এবার মুখ্যমন্ত্রী হলেন সম্রাট চৌধুরী। নতুন মন্ত্রিসভায় উপমুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ নিয়েছেন জেডি ইউ নেতা বিজয় কুমার চৌধুরী এবং বীজেন্দ্র প্রসাদ যাদব।সম্রাট চৌধুরীর মুখ্যমন্ত্রী হওয়া রাজনৈতিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। তিনিই বিহারের প্রথম বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী। এনডিএ জোটের নেতারা সর্বসম্মতভাবে তাঁকে এই পদে নির্বাচিত করেছেন। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারও তাঁর নাম প্রস্তাব করেছিলেন। সম্রাট চৌধুরী আগে আরজেডি এবং পরে জেডি ইউ-র সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। প্রায় বারো বছর ওই দলগুলিতে থাকার পর তিনি দুই হাজার সতেরো সালে বিজেপিতে যোগ দেন। দুই হাজার চব্বিশ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর তাঁকে উপমুখ্যমন্ত্রী করা হয়।

এপ্রিল ১৫, ২০২৬
দেশ

‘স্যান্ডউইচ’ হয়ে যাচ্ছে ভোটার! আদালতে কমিশনকে কড়া প্রশ্ন

ভোটার তালিকা ফ্রিজ করার সময়সীমা বাড়ানোর আর্জি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে শুনানি হলেও তাতে সাড়া দিল না শীর্ষ আদালত। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, এই বিষয়ে ট্রাইবুনালের কাছেই যেতে হবে। একইসঙ্গে তারা জানায়, ট্রাইবুনালের কাজে হস্তক্ষেপ করবে না আদালত।তবে শুনানির সময় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সামনে আসে। বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী মন্তব্য করেন, বিহারে যে পদ্ধতিতে বিশেষ পুনর্বিবেচনা প্রক্রিয়া হয়েছে, বাংলায় সেই পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়নি। তাঁর কথায়, একজন সাধারণ ভোটার দুই সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের মাঝে পড়ে কার্যত সমস্যায় পড়ছেন।তিনি আরও বলেন, বাংলার ক্ষেত্রে যে ধরনের যুক্তিগত অসঙ্গতি দেখা যাচ্ছে, তা অন্য কোনও রাজ্যে হয়নি। এদিন নির্বাচন কমিশনের আইনজীবী ডি এস নাইডুকে এই বিষয়ে একাধিক প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়। তিনি কমিশনের অবস্থান ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেন এবং জানান, বিভিন্ন কারণে নিয়মের কিছু পরিবর্তন করা হয়েছে।এই প্রসঙ্গে বিচারপতি বাগচী বলেন, এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যেখানে যাঁরা ইতিমধ্যেই ফর্ম জমা দিয়েছেন, তাঁদের আবার নতুন করে ফর্ম পূরণের জন্য বলা হচ্ছে। এর ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে।২০০২ সালের ভোটার তালিকার প্রসঙ্গও উঠে আসে শুনানিতে। বিচারপতির প্রশ্ন ছিল, আগে যদি বলা হয়ে থাকে যে ওই তালিকায় নাম থাকলেই চলবে, তাহলে এখন নতুন করে নথি চাওয়ার প্রয়োজন কেন। এর উত্তরে কমিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়, নাম পরিবর্তন বা পরিচয় যাচাইয়ের জন্যই এই নথি প্রয়োজন।বিচারপতি বাগচী তখন মন্তব্য করেন, এতে মনে হচ্ছে কমিশন তাদের আগের অবস্থান থেকে সরে এসেছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ন্যায্য প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভোটারদের অধিকার রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি।অন্যদিকে কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, যে তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে, তার বিরুদ্ধে আপত্তি জানানোর সুযোগ ছিল। তাঁদের দাবি, প্রায় অর্ধেক আবেদন বাতিল হয়েছে নিয়ম মেনে।তবে বিচারপতি আবারও স্পষ্ট করেন, এটি দোষারোপের বিষয় নয়, বরং একজন সাধারণ ভোটার যেন সমস্যার মধ্যে না পড়েন, সেটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সবশেষে সুপ্রিম কোর্ট জানিয়ে দেয়, এই পর্যায়ে তারা ট্রাইবুনালের কাজে কোনও হস্তক্ষেপ করবে না।

এপ্রিল ১৩, ২০২৬
দেশ

ভোটের আগে বড় ধোঁয়াশা! বিচারাধীন ভোটাররা কি ভোট দিতে পারবেন? স্পষ্ট জানাল আদালত

পশ্চিমবঙ্গে বিপুল সংখ্যক ভোটারের নাম বাদ পড়া নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে গুরুত্বপূর্ণ শুনানি হল। রাজ্যের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, যাঁদের নাম বাদ গিয়েছে এবং যাঁদের আবেদন এখনও বিচারাধীন, তাঁদের যেন ভোট দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। কিন্তু আদালতের পর্যবেক্ষণে স্পষ্ট হয়েছে, আপাতত বিচারাধীন তালিকায় থাকা ভোটাররা ভোট দিতে পারবেন না। আগামী সপ্তাহে এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে।সোমবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হয়। প্রধান বিচারপতি জানান, মোট ৬০ লক্ষ ৪ হাজার মামলার নিষ্পত্তি হয়ে গিয়েছে। এখনও প্রায় ১৮২৩টি মামলা প্রযুক্তিগত কারণে মুলতুবি রয়েছে। ট্রাইব্যুনাল ইতিমধ্যেই কাজ শুরু করেছে এবং প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।বিচারপতি বাগচী জানান, প্রায় ৩৪ লক্ষ আবেদন জমা পড়েছে। যাঁদের নাম ৬, ৭ এবং ৮ এপ্রিল বিভিন্ন পর্যায়ে প্রকাশিত তালিকায় রয়েছে, তাঁরা ২৩ এপ্রিল ভোট দিতে পারবেন।রাজ্যের পক্ষ থেকে আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আদালতে বলেন, কিছু এলাকায় প্রকাশিত তালিকায় থাকা সব ভোটারই এখনও বিচারাধীন অবস্থায় রয়েছেন। অথচ এমন ধারণা তৈরি করা হচ্ছে যেন সব মামলার নিষ্পত্তি হয়ে গিয়েছে। তিনি জানান, প্রায় ১৬ লক্ষ আবেদন এখনও বিচারাধীন এবং তাঁদের ভোট দেওয়ার সুযোগ দেওয়া উচিত।এর উত্তরে প্রধান বিচারপতি স্পষ্ট বলেন, এই প্রশ্ন ওঠেই না। তিনি আরও জানান, ট্রাইব্যুনালের উপর কোনওরকম চাপ সৃষ্টি করা আদালতের পক্ষে সম্ভব নয়।এরপর কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, পশ্চিমবঙ্গের মানুষ আদালতের দিকে তাকিয়ে রয়েছে এবং তারা তাদের ভোটাধিকার চায়। এই সময় অন্য পক্ষের আইনজীবী জনসংখ্যার পরিবর্তনের প্রসঙ্গ তোলেন। পাল্টা জবাবে কল্যাণ বলেন, বাংলাকে লক্ষ্য করে মন্তব্য করা উচিত নয়।মুখ্যমন্ত্রীর আইনজীবী আদালতে আইনের বিভিন্ন ধারা তুলে ধরে বলেন, যাঁদের ভোটাধিকার হারিয়েছে বা যাঁরা বিচারাধীন অবস্থায় রয়েছেন, তাঁদের ভোট দেওয়ার সুযোগ দেওয়া উচিত। অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে এই দাবি খারিজ করা হয়।সব পক্ষের বক্তব্য শোনার পর বিচারপতি বাগচী জানান, বিষয়টি নিয়ে ভাবার জন্য আদালতের কিছু সময় প্রয়োজন। দুই পক্ষের যুক্তি বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আগামী সপ্তাহে এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।

এপ্রিল ১৩, ২০২৬
দেশ

লোকসভা ভোটেই কি বড় বদল? মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন, চমক দিতে পারে কেন্দ্র

আগামী লোকসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে আবারও জোরদার হয়েছে মহিলা সংরক্ষণ বিল নিয়ে আলোচনা। কেন্দ্রীয় সরকার এই বিলের সংশোধন নিয়ে বড় পদক্ষেপ করতে চলেছে। সেই উদ্দেশ্যে আগামী ১৬, ১৭ এবং ১৮ এপ্রিল বিশেষ অধিবেশন ডাকা হয়েছে। এই অধিবেশনেই বিলটি সংসদে পেশ করা হতে পারে বলে জানা গিয়েছে।উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে সংসদে নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম পাস হয়েছিল। এই আইনের মূল লক্ষ্য ছিল সংসদ এবং বিধানসভায় মহিলাদের প্রতিনিধিত্ব বাড়ানো। সেই অনুযায়ী মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষণের কথা বলা হয়েছিল। তবে এখনও পর্যন্ত এই বিষয়ে সম্পূর্ণ বিধান তৈরি হয়নি।প্রথমে ঠিক হয়েছিল, জনগণনা এবং আসন পুনর্বিন্যাসের পরই এই সংরক্ষণ কার্যকর করা হবে। কিন্তু সম্প্রতি কেন্দ্রের তরফে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, ২০২৯ সালের লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচন থেকেই এই সংরক্ষণ চালু করা হতে পারে। ফলে আসন বিন্যাসে বড় পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।এদিকে এই বিলের সংশোধন নিয়ে নিজেদের অবস্থান ঠিক করতে বিরোধী জোটের মধ্যেও আলোচনা শুরু হয়েছে। শোনা যাচ্ছে, আগামী ১৫ এপ্রিল বিরোধী জোটের বৈঠক ডাকতে পারেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গে। তবে পশ্চিমবঙ্গের ভোটের আবহে এই বৈঠকে সব দল যোগ দেবে কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়। বিশেষ করে তৃণমূলের অবস্থান এখনও স্পষ্ট হয়নি।অন্যদিকে কংগ্রেসের তরফে ইঙ্গিত মিলেছে যে, তারা এই সংশোধনীকে সমর্থন করতে পারে। তবে জনগণনা ছাড়া আসন পুনর্বিন্যাসের প্রস্তাবে আপত্তি রয়েছে তাদের। এই বিষয়টি নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের ভোট পর্ব শেষ হওয়ার পর সর্বদলীয় বৈঠক ডাকার দাবি তুলতে পারে বিরোধীরা।বিশেষ অধিবেশন ডাকার সময় নিয়েও ইতিমধ্যেই বিতর্ক তৈরি হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ ও তামিলনাড়ুর নির্বাচনের আগে এই সিদ্ধান্তে আপত্তি জানিয়েছে বিরোধীরা। পাল্টা বিজেপি অভিযোগ তুলেছে, বিরোধীরা মহিলাদের অধিকার নিয়ে আন্তরিক নয়।সব মিলিয়ে, ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচন থেকে মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষণ কার্যকর করার লক্ষ্যে এগোচ্ছে কেন্দ্র। এই বিল সংসদে পাস হলে দেশের রাজনীতিতে বড় পরিবর্তন আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

এপ্রিল ১১, ২০২৬
দেশ

রাত পোহালেই ভোটযুদ্ধ, তিন রাজ্যে ত্রিমুখী লড়াইয়ে উত্তেজনা তুঙ্গে

ভোটের দামামা বেজে গিয়েছে। আর মাত্র একদিনের অপেক্ষা। বুধবার, ৯ এপ্রিল একসঙ্গে তিন রাজ্য ও একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বিধানসভা নির্বাচন হতে চলেছে (Assembly election)। অসম, কেরলম ও পুদুচেরিতে ভোট গ্রহণ হবে। ইতিমধ্যেই ইভিএম ও নির্বাচনের সমস্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় সামগ্রী পৌঁছে গিয়েছে নির্বাচন কর্মীদের হাতে।তিন জায়গা মিলিয়ে মোট ২৯৬টি আসনে নির্বাচন হবে। কেরলমে ১৪০টি আসনে ভোট হবে। অসমে ১২৬টি আসনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। পুদুচেরিতে ৩০টি আসনে ভোট গ্রহণ করা হবে। এই নির্বাচনের ফল ঘোষণা করা হবে আগামী ৪ মে (Assembly election)।কেরলমে মূল লড়াই সিপিআই(এম)-র নেতৃত্বাধীন এলডিএফ, কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন ইউডিএফ এবং বিজেপির নেতৃত্বাধীন এনডিএ-র মধ্যে। অন্যদিকে অসমে বিজেপি ও কংগ্রেসের মধ্যে সরাসরি লড়াই (Assembly election)। মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা আবার ক্ষমতায় ফিরতে পারেন কি না, তা নিয়ে জোর জল্পনা রয়েছে। প্রায় আড়াই কোটি ভোটার এই নির্বাচনে অংশ নেবেন। ইতিমধ্যেই সংবেদনশীল এলাকাগুলিতে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।পুদুচেরিতে ৩০টি আসনে মোট ২৯৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। সেখানে প্রায় সাড়ে ৯ লক্ষ ভোটার তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।তিন রাজ্যের এই নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা তুঙ্গে। এখন নজর ভোটের ফলের দিকে, কার হাতে যাবে ক্ষমতা তা জানার অপেক্ষায় দেশ।

এপ্রিল ০৮, ২০২৬
দেশ

এসআইআর মামলায় সুপ্রিম কোর্টের বড় নির্দেশ! রাতেই প্রকাশ পাবে সম্পূরক তালিকা

সোমবার সুপ্রিম কোর্টে এসআইআর সংক্রান্ত মামলার গুরুত্বপূর্ণ শুনানি হয়। এর আগে আদালত নির্দেশ দিয়েছিল, বিচারবিভাগের তত্ত্বাবধানে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। সেই মতো জুডিশিয়াল অফিসারদের নজরদারিতে কাজ চলছে। শুনানিতে জানানো হয়, ইতিমধ্যেই প্রায় ৫৯ লক্ষের বেশি আবেদনের নিষ্পত্তি হয়েছে। কমিশনের তরফে জানানো হয়, বাকি প্রায় ছাব্বিশ হাজার আবেদনও খুব শীঘ্রই মিটিয়ে ফেলা হবে এবং সোমবারের মধ্যেই পুরো প্রক্রিয়া শেষ করার চেষ্টা চলছে।আদালতে জানানো হয়, বিভিন্ন সমস্যার মধ্যেও মালদহে প্রায় আট লক্ষ মানুষের আবেদন নিষ্পত্তি করা হয়েছে। আবেদনকারীদের স্বীকৃতি পত্র দেওয়া হচ্ছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলে আদালত। কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রত্যেক আবেদনকারীকে স্বীকৃতি দেওয়া হচ্ছে এবং তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব নোডাল অফিসারের উপর থাকবে।শুনানির সময় প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত একটি চিঠি দেখানোর জন্য আদালতে মোবাইল ব্যবহার করেন, যা নজিরবিহীন ঘটনা হিসেবে ধরা হয়। একইসঙ্গে অ্যাপিল ট্রাইব্যুনালের পরিকাঠামো ও বিচারকদের পারিশ্রমিক নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। রাজ্যের পক্ষের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, ওয়েবসাইটে আবেদন জমা দেওয়ার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই এবং অনেক ক্ষেত্রে জমা দেওয়া নথির কোনও রসিদ দেওয়া হয়নি।আদালত জানায়, যাঁদের নাম তালিকা থেকে বাদ গিয়েছে, তাঁদের বক্তব্য অবশ্যই শোনা উচিত এবং কেন নাম বাদ দেওয়া হয়েছে তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী বলেন, মানুষের সাংবিধানিক অধিকার রক্ষা করা জরুরি এবং সেই দিকেই নজর রাখতে হবে। তিনি আরও জানান, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পেতে কিছুটা সময় লাগতে পারে, কিন্তু শুধুমাত্র অনুমানের ভিত্তিতে কাউকে ভোটাধিকার দেওয়া যাবে না।রাজ্যের তরফে আবেদন করা হয়, যাঁদের নামের নিষ্পত্তি হয়ে যাবে, তাঁদের অন্তত ভোট দেওয়ার অধিকার দেওয়া হোক। তবে কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, পুরো প্রক্রিয়া নিয়ম মেনেই চলছে এবং যাঁরা অসন্তুষ্ট, তাঁরা আপিল করতে পারেন।শুনানিতে রাজনৈতিক বিতর্কও উঠে আসে। মুখ্যমন্ত্রীর কিছু মন্তব্য আদালতে তুলে ধরা হয়। কমিশনের আইনজীবী দাবি করেন, এই ধরনের বক্তব্য নির্বাচনের পরিবেশকে প্রভাবিত করছে। অন্যদিকে, রাজ্যের পক্ষ থেকে পাল্টা একটি ভিডিও দেখিয়ে অভিযোগ করা হয়, মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধেও হুমকি দেওয়া হয়েছে।সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দেয়, ট্রাইব্যুনাল দ্রুত সমস্ত আবেদন নিষ্পত্তি করবে এবং প্রতিটি ক্ষেত্রে সঠিকভাবে নথি যাচাই করা হবে। প্রাক্তন বিচারপতিদের নিয়ে একটি কমিটি গঠনের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশনকে দ্রুত বিজ্ঞপ্তি জারি করতে বলা হয়েছে এবং সমস্ত আবেদন ডিজিটাল স্বাক্ষর সহ প্রকাশ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।আদালত আরও জানায়, শুধুমাত্র কলকাতায় নয়, জেলা স্তরেও আবেদন জমা দেওয়ার ব্যবস্থা রাখতে হবে। জেলা শাসক ও পুলিশ সুপারের দফতর থেকেও আপিল জমা নেওয়া যাবে এবং প্রত্যেক ক্ষেত্রে রসিদ দিতে হবে।কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, সোমবার রাতের মধ্যেই সম্পূরক তালিকা প্রকাশ করা হবে এবং তা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পোর্টালে আপলোড করা হবে। একটি বিশেষ ক্ষেত্রে নন্দলাল বসুর নাতির আবেদনের দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং আগামী ৯ তারিখের মধ্যে তা সম্পূর্ণ করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। এই মামলার পরবর্তী শুনানি নির্ধারিত হয়েছে ১৩ এপ্রিল।

এপ্রিল ০৬, ২০২৬
দেশ

মমতার মন্তব্য ঘিরে বিতর্ক, আদালতে ভিডিও পেশ, উত্তপ্ত শুনানি সুপ্রিম কোর্টে

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে মোথাবাড়ি ঘটনার তদন্ত রিপোর্ট জমা দিল এনআইএ। রিপোর্ট জমার আগে দিল্লিতে নিজেদের সদর দপ্তরে বিশেষ বৈঠক করেন সংস্থার আধিকারিকরা। এদিন শুনানিতে ভারচুয়ালি হাজির হন রাজ্যের মুখ্যসচিব দুষ্মন্ত নারিয়ালা এবং রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধিনাথ গুপ্তা। পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন মালদহের জেলাশাসক ও জেলা পুলিশ সুপারও। আদালতে দীর্ঘ সময় ধরে জোর সওয়াল জবাব চলে।শুনানির কয়েক ঘণ্টা আগে নদিয়ার নাকাশিপাড়ায় এক সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, বাইরে থেকে আসা কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ব্যবহার করে হামলার ষড়যন্ত্র হতে পারে। সেই বক্তব্যও আদালতে ওঠে। নির্বাচন কমিশনের তরফে আইনজীবী ডি এস নায়ডু একটি ভিডিও ক্লিপ জমা দেন এবং এই মন্তব্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানান।অন্যদিকে, কেন্দ্রের পক্ষের আইনজীবী তুষার মেহতা রাজ্যের পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, বিচারকরা নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন এবং সাহায্য চাইছেন। রাজ্য প্রশাসন ঠিকমতো কাজ না করলে প্রয়োজন হলে আদালত হস্তক্ষেপ করবে বলেও জানিয়ে দেয় সুপ্রিম কোর্ট। এদিন এক নজিরবিহীন ঘটনায় প্রধান বিচারপতি নিজে আদালতে মোবাইল ব্যবহার করে একটি গুরুত্বপূর্ণ চিঠি দেখান। শুনানিতে আগের নির্বাচনের হিংসার প্রসঙ্গও উঠে আসে। কেন্দ্র ও নির্বাচন কমিশনের আইনজীবীরা জানান, ভবিষ্যতের নির্বাচনেও এমন পরিস্থিতি তৈরি হওয়া উচিত নয় এবং আদালতের নজরদারি প্রয়োজন।এনআইএ-র রিপোর্টে জানানো হয়েছে, এই ঘটনায় মোট বারোটি এফআইআর দায়ের হয়েছে। প্রাথমিক তদন্ত স্থানীয় থানার পুলিশ করায় তদন্তে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে মত সংস্থার। তাই সমস্ত তথ্যপ্রমাণ তাদের হাতে তুলে দেওয়ার আবেদন জানানো হয়। সুপ্রিম কোর্ট জানায়, প্রয়োজন হলে এনআইএ নতুন করে মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু করতে পারে এবং সেই অনুযায়ী বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দিতে হবে। একইসঙ্গে আগের মামলাগুলির সমস্ত তথ্যও আদালতে দিতে হবে।রাজ্যের তরফে হলফনামা জমা দিয়ে জানানো হয়েছে, পুলিশ দ্রুত তদন্ত করে এই ঘটনার মূল অভিযুক্ত মোফাক্কেরুল ইসলাম ও তার সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে। সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছে, দ্রুত তাদের এনআইএ-র হাতে তুলে দিতে হবে।ঘটনার সূত্রপাত পয়লা এপ্রিল। ভোটার তালিকায় নাম না থাকায় মালদহের কালিয়াচকে ক্ষোভ ছড়ায়। পরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং বিচারকদের উপর হামলার অভিযোগ ওঠে। বিক্ষোভকারীরা দীর্ঘ সময় ধরে কয়েকজন বিচারককে একটি দফতরে আটকে রাখেন। তাঁদের মধ্যে মহিলা বিচারকও ছিলেন। গভীর রাতে পুলিশ গিয়ে তাঁদের উদ্ধার করে।এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক। বিষয়টি পৌঁছে যায় সুপ্রিম কোর্টে এবং তদন্তভার দেওয়া হয় এনআইএ-কে। রাজ্যের মুখ্যসচিব, ডিজি, মালদহের পুলিশ সুপার ও জেলাশাসককে শোকজ নোটিস পাঠানো হয়। সেই অনুযায়ী সোমবার তাঁরা আদালতে ভারচুয়ালি হাজিরা দেন।

এপ্রিল ০৬, ২০২৬
দেশ

প্রতিষ্ঠা দিবসে মোদীর বিস্ফোরক ভাষণ! কংগ্রেসকে নিশানা, বাংলার হিংসা নিয়ে বড় মন্তব্য

বিজেপির প্রতিষ্ঠা দিবসে দেশের মানুষের উদ্দেশে বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি দলের কর্মীদের প্রশংসা করে বলেন, বিজেপি সবসময় দেশের সেবাকে অগ্রাধিকার দেয় এবং সেই আদর্শেই এগিয়ে চলেছে। তাঁর কথায়, খুব অল্প সময়ের মধ্যেই ভারত বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতিতে পরিণত হয়েছে এবং পরিবেশ রক্ষাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিচ্ছে। একইসঙ্গে দুর্নীতির বিরুদ্ধে লাগাতার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে সরকার। তিনি দাবি করেন, এই দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে পারে একমাত্র বিজেপিই।প্রধানমন্ত্রী কংগ্রেসকে আক্রমণ করে বলেন, তারা শুধুমাত্র একটি পরিবারকে গুরুত্ব দিয়েছে এবং অন্যদের প্রতি অবিচার করেছে। অন্যদিকে বিজেপি সকলকে যথাযোগ্য সম্মান দেয়। নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর নাম উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাঁর সম্মানে পরাক্রম দিবস পালন করা হচ্ছে, আন্দামানে তাঁর নামে দ্বীপের নামকরণ করা হয়েছে এবং প্রজাতন্ত্র দিবসের প্যারেডে আজাদ হিন্দ বাহিনীকে সম্মান জানানো হয়েছে।তিনি বলেন, বর্তমানে ভারত প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে আত্মনির্ভর হওয়ার পথে এগোচ্ছে। সীমান্ত সুরক্ষায় নেওয়া হয়েছে একাধিক পদক্ষেপ। নকশাল ও মাওবাদ দমনে সাফল্য এসেছে বলেও দাবি করেন তিনি। এক ভারত, শ্রেষ্ঠ ভারত গড়ার লক্ষ্যেই দেশকে একসূত্রে বাঁধার কাজ চলছে। নতুন শিক্ষা নীতিতে মাতৃভাষায় শিক্ষার উপর জোর দেওয়া হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।তিনি আরও বলেন, দেশের মানুষকে দারিদ্রতা থেকে তুলে আনার ক্ষেত্রে সরকার সফল হয়েছে। জম্মু ও কাশ্মীর থেকে ৩৭০ অনুচ্ছেদ প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তকে ঐতিহাসিক বলে উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর কথায়, যা একসময় অসম্ভব বলে মনে করা হত, তা বিজেপির দৃঢ় সংকল্পে সম্ভব হয়েছে।প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগে দেশের রাজনীতিতে পরিবারতন্ত্রই প্রাধান্য পেয়েছিল, কিন্তু বিজেপি স্থিতিশীল নীতি ও শাসনের উদাহরণ তৈরি করেছে। মানুষ এখন বিশ্বাস করে যে বিজেপি যা প্রতিশ্রুতি দেয়, তা পূরণ করে। মহিলাদের ক্ষমতায়নের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, সংগঠন এবং রাজনীতিতে মহিলাদের গুরুত্ব বাড়ানো হয়েছে এবং ভবিষ্যতে আরও বেশি সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।তিনি বলেন, দেশের একতা ও উন্নয়নই বিজেপির মূল পরিচয়। জোট রাজনীতিতেও বিজেপি নতুন দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে এবং জাতীয় গণতান্ত্রিক জোট ক্রমশ আরও শক্তিশালী হচ্ছে। বহু সরকারে অংশ নিয়েও বিজেপি সবসময় জনসেবাকে প্রাধান্য দিয়েছে, যার ফলে মানুষের বিশ্বাস বেড়েছে।১৯৮৪ সালের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, সেই সময় কংগ্রেস বিপুল জয় পেলেও মানুষের মধ্যে তাদের প্রতি আস্থা কমতে শুরু করে। তখনই ক্ষমতার রাজনীতির পরিবর্তে সেবার রাজনীতির উপর মানুষের বিশ্বাস তৈরি হয়। এই দীর্ঘ যাত্রায় বহু কর্মী নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।পশ্চিমবঙ্গ ও কেরলে রাজনৈতিক হিংসার প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেখানে হিংসাকে রাজনীতির অংশ করা হয়েছে। তবুও বিজেপি কর্মীরা ভয় পায়নি এবং আজও দেশসেবায় নিজেদের নিয়োজিত রেখেছে। কঠিন সময়েও কর্মীরা জেলে যেতে ভয় পাননি এবং নিজেদের আদর্শে অটল থেকেছেন। জরুরি অবস্থার সময় দমন-পীড়ন ও নানা ষড়যন্ত্রের মুখেও তারা পিছিয়ে যায়নি। তাদের সংকল্প ও পরিশ্রমের ফলেই আজ বিজেপি এই জায়গায় পৌঁছেছে বলে দাবি করেন প্রধানমন্ত্রী।

এপ্রিল ০৬, ২০২৬
দেশ

শত্রু দেশের ভিতরে ঢুকে রুদ্ধশ্বাস অভিযান, নিখোঁজ পাইলটকে ফিরিয়ে আনল আমেরিকা

ইরানে ভেঙে পড়া একটি মার্কিন যুদ্ধবিমানের পাইলটকে নিয়ে টানটান উত্তেজনার অবসান হল। প্রায় ২৪ ঘণ্টা নিখোঁজ থাকার পর তাঁকে উদ্ধার করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানান, অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ একটি অভিযানের মাধ্যমে ইরানের ভিতরে ঢুকে ওই পাইলটকে উদ্ধার করেছে মার্কিন বাহিনী।রবিবার নিজের সমাজমাধ্যমে ট্রাম্প জানান, গত কয়েক ঘণ্টায় আমেরিকার ইতিহাসের অন্যতম দুঃসাহসিক উদ্ধার অভিযান চালানো হয়েছে। তিনি বলেন, নিখোঁজ ওই অফিসার একজন কর্নেল পদমর্যাদার আধিকারিক এবং বর্তমানে তিনি নিরাপদে আছেন, যদিও সামান্য আহত হয়েছেন।ট্রাম্প আরও জানান, পাইলটকে উদ্ধারের জন্য পেন্টাগন সারাক্ষণ নজর রাখছিল এবং পরিকল্পনা করছিল। শেষ পর্যন্ত ইরানের আকাশে একাধিক যুদ্ধবিমান পাঠিয়ে এই অভিযান সফল করা হয়। তাঁর দাবি, এই পুরো অভিযান অত্যন্ত কঠিন ছিল এবং প্রতিটি পদে ঝুঁকি ছিল। তবুও কোনও ক্ষতি ছাড়াই তারা এই কাজ সম্পন্ন করেছে এবং ইরানের আকাশে নিজেদের ক্ষমতা দেখিয়েছে।অন্যদিকে, একটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এক মার্কিন কর্তা বলেন, নিখোঁজ ওই পাইলট প্রায় দুদিন ধরে ইরানের নজর এড়িয়ে নিজের প্রাণ বাঁচিয়ে রেখেছিলেন। পরে তাঁকে খুঁজে পেয়ে উদ্ধার করা হয়। তবে এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত ইরানের তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।উল্লেখ্য, শুক্রবার ইরান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দুটি যুদ্ধবিমান ভেঙে দেয়। সেই ঘটনায় এই পাইলট নিখোঁজ হন। তাঁকে খুঁজতে গিয়ে দুটি হেলিকপ্টারও হামলার মুখে পড়ে, যদিও সেগুলি কোনওমতে ফিরে আসে। এরপর বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, ওই পাইলট ইরানের সংঘাতপূর্ণ এলাকায় লুকিয়ে ছিলেন। তাঁকে খুঁজতে তল্লাশি চালায় ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীও। শেষ পর্যন্ত সেই পাইলটকে উদ্ধার করার দাবি করল আমেরিকা।

এপ্রিল ০৫, ২০২৬
দেশ

পাথরবৃষ্টি, ভাঙা কাচ, আতঙ্কে বিচারকরা! ঘটনায় রাজ্যের ভূমিকায় অসন্তুষ্ট সুপ্রিম কোর্ট

মালদহের কালিয়াচকে সাতজন বিচারককে প্রায় আট ঘণ্টা আটকে রাখার অভিযোগে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে দেশের শীর্ষ আদালত। বুধবার বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত তাঁদের ঘিরে রাখা হয় এবং গভীর রাতে উদ্ধার করা হলেও ফেরার পথে তাঁদের গাড়িতে পাথর ছোড়ার অভিযোগ ওঠে। গাড়ির কাচ ভেঙে সিটের উপর পড়ে বলে জানা গেছে।এই ঘটনার পর বিষয়টি শীর্ষ আদালতের নজরে আনা হলে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত স্পষ্ট জানান, তিনি এই ঘটনাকে রাজনৈতিক রং দিতে চান না, কিন্তু পুরো ঘটনাই অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তাঁর কথায়, বিকেল থেকেই বিচারকদের ঘেরাও করা হয়েছিল, অথচ রাত পর্যন্ত কোনও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী বলেন, এই ঘটনায় প্রশাসনের আরও নজরদারি থাকা প্রয়োজন ছিল। তিনি আরও বলেন, কেউ দায় এড়াতে পারে না এবং বিচারকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সকলের দায়িত্ব। বিচারকদের দেওয়া নির্দেশ মানেই আদালতের নির্দেশ, সেটি রক্ষা করা জরুরি।আদালতে শুনানির সময় একাধিক আইনজীবী এই ঘটনাকে অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক বলে মন্তব্য করেন। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আগে বিচারকদের ভয় দেখানো হত, এখন তাঁদের উপর সরাসরি হামলা হচ্ছে। এই পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক।প্রধান বিচারপতি জানান, হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির কাছ থেকে পাওয়া চিঠিতে উল্লেখ রয়েছে যে, বিকেল সাড়ে তিনটে থেকে বিচারকদের ঘিরে রাখা হয়েছিল। প্রশাসনকে জানানো হলেও রাত সাড়ে আটটা পর্যন্ত কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। পরে শীর্ষ কর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করার পর উদ্ধার সম্ভব হয়। কিন্তু তারপরও তাঁদের গাড়িতে হামলা চালানো হয়।আদালত নির্দেশ দিয়েছে, যেখানে বিচারকরা কাজ করছেন সেখানে পর্যাপ্ত কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করতে হবে। তাঁদের থাকার জায়গাতেও নিরাপত্তা জোরদার করতে হবে। পাশাপাশি বিচারকদের কোনও ধরনের হুমকি থাকলে তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে এবং তাঁদের পরিবারের নিরাপত্তাও নিশ্চিত করতে হবে।আদালত এই ঘটনাকে পরিকল্পিত বলে উল্লেখ করে জানায়, বিচারকদের মনোবল ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে এবং তাঁদের কাজ বন্ধ করার উদ্দেশ্য ছিল। এই ধরনের ঘটনা কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায় না বলে জানানো হয়েছে।শীর্ষ আদালত আরও জানায়, রাজ্য প্রশাসন তাদের দায়িত্ব ঠিকভাবে পালন করতে পারেনি এবং কেন যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, তার জবাব দিতে হবে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের। এই ঘটনার প্রাথমিক তদন্ত দ্রুত আদালতে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং প্রয়োজনে তদন্তভার কেন্দ্রীয় সংস্থার হাতে দেওয়া হতে পারে।এই ঘটনার পর রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। আদালতের কড়া অবস্থানের পর এখন পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, সেদিকেই নজর সবার।

এপ্রিল ০২, ২০২৬
দেশ

কালিয়াচক কাণ্ডে ক্ষুব্ধ শীর্ষ আদালত! জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারকে নোটিস

মালদহের কালিয়াচকে বিচারকদের ঘিরে ধরে রাখার ঘটনায় কড়া পদক্ষেপ নিল দেশের শীর্ষ আদালত। এই ঘটনায় জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারকে কারণ দর্শানোর নোটিস পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি স্বরাষ্ট্র সচিব ও রাজ্য পুলিশের সর্বোচ্চ আধিকারিকের কাছেও বিস্তারিত রিপোর্ট চাওয়া হয়েছে।বুধবার রাতে কালিয়াচকে তিনজন মহিলা সহ মোট সাতজন বিচারককে কয়েক ঘণ্টা ধরে ঘিরে রাখা হয়। বৃহস্পতিবার সকালে বিষয়টি শীর্ষ আদালতের নজরে আনা হলে প্রধান বিচারপতি ও বিচারপতির বেঞ্চে তা নিয়ে আলোচনা হয়। আদালত এই ঘটনায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে।প্রধান বিচারপতি জানান, হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির কাছ থেকে একটি চিঠি পাওয়া গেছে, যেখানে পুরো ঘটনার বিবরণ দেওয়া হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, বিকেল সাড়ে তিনটে থেকে বিচারকদের ঘিরে রাখা হয়। কিন্তু সেই সময় জেলাশাসক বা পুলিশ সুপার কেউই ঘটনাস্থলে পৌঁছননি।পরিস্থিতি এতটাই জটিল হয়ে ওঠে যে, হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতিকে নিজে থেকেই রাজ্য পুলিশের সর্বোচ্চ আধিকারিক ও স্বরাষ্ট্র সচিবকে ফোন করতে হয়। এরপর রাত বারোটার পর বিচারকদের উদ্ধার করা সম্ভব হয়। কিন্তু সেখানেই শেষ নয়, বাড়ি ফেরার সময়ও তাঁদের গাড়িতে হামলা করা হয় এবং পাথর ছোড়া হয় বলে অভিযোগ।আদালত এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে জানায়, এমন ঘটনা বিচারকদের মধ্যে ভয় তৈরি করতে পারে। আদালতের মতে, এই ঘটনা রাজ্য প্রশাসনের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতারই উদাহরণ।বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী মন্তব্য করেন, এই ধরনের পরিস্থিতিতে প্রশাসনের আরও সক্রিয় ভূমিকা নেওয়া উচিত ছিল। তিনি বলেন, কমিশনকে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিতে হবে এবং বিচারকদের কাজ নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করার জন্য সবরকম ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।আদালত আরও জানায়, আগেই নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল যে এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত বিচারকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। তা সত্ত্বেও কেন যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, তার জবাব সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের দিতে হবে।এই ঘটনার পর প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছে এবং গোটা বিষয়টি এখন আদালতের কড়া নজরে রয়েছে।

এপ্রিল ০২, ২০২৬
দেশ

হু হু করে বাড়ছে বিমানের জ্বালানির দাম! এবার আকাশপথে ভ্রমণ হবে আরও ব্যয়বহুল

আকাশপথে ভ্রমণ এবার আরও ব্যয়বহুল হতে চলেছে। যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে হঠাৎ করেই বেড়ে গিয়েছে বিমানের জ্বালানির দাম। এর সরাসরি প্রভাব পড়তে চলেছে বিমান সংস্থাগুলির উপর এবং তার ফলে যাত্রীদেরও বেশি টাকা খরচ করতে হবে।দেশের বিভিন্ন শহরে জ্বালানির দামে বড়সড় বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে। রাজধানী দিল্লিতে এই দাম সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। সেখানে প্রতি কিলোলিটারের দাম এক লাফে দুই লক্ষ টাকারও বেশি হয়ে গেছে। গত মাসে যেখানে এই দাম ছিল এক লক্ষ টাকারও কম, সেখানে এক মাসের মধ্যেই এই বিশাল বৃদ্ধি নজরে পড়েছে।শুধু দিল্লি নয়, কলকাতাতেও জ্বালানির দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। মার্চ মাসে যেখানে দাম ছিল প্রায় নিরানব্বই হাজার টাকা, এখন তা বেড়ে দুই লক্ষ টাকার কাছাকাছি পৌঁছেছে। চেন্নাইতেও দাম দুই লক্ষ টাকার বেশি হয়েছে। মুম্বইতে তুলনামূলকভাবে দাম কিছুটা কম হলেও সেখানেও উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি হয়েছে।এই হঠাৎ মূল্যবৃদ্ধির ফলে বিমান সংস্থাগুলির খরচ অনেকটাই বেড়ে যাবে। ফলে খুব স্বাভাবিকভাবেই বিমানের টিকিটের দামও বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। যাঁরা নিয়মিত বিমান যাত্রা করেন, তাঁদের জন্য এটি বড় ধাক্কা হতে পারে।এর আগেও জ্বালানির দাম কিছুটা বেড়েছিল, তবে এই প্রথম এত বড়সড় বৃদ্ধি দেখা গেল। প্রথমবারের মতো বিমানের জ্বালানির দাম দুই লক্ষ টাকার সীমা ছাড়িয়ে গেল।এই পরিস্থিতিতে আগামী দিনে বিমান ভাড়া কতটা বাড়বে, সেদিকেই এখন নজর সকলের।

এপ্রিল ০১, ২০২৬
দেশ

ভোটার তালিকা ঘিরে বিস্ফোরক দাবি! একজনের হাতে হাজার হাজার আবেদন, প্রশ্নের মুখে প্রক্রিয়া

ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে শুনানির মাঝেই নতুন করে বিতর্ক তৈরি হল। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চে এদিন উঠে আসে বিপুল সংখ্যক ফর্ম জমা পড়ার বিষয়টি। রাজ্যের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করে জানান, নির্বাচন কমিশনের দফতরে হঠাৎ করেই গুচ্ছ গুচ্ছ ফর্ম একসঙ্গে জমা পড়ছে।তিনি আদালতে বলেন, চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ হয়ে যাওয়ার পরও বিবেচনাধীন নামগুলির নিষ্পত্তির কাজ চলছে। এই পরিস্থিতিতে এত বড় সংখ্যায় আবেদন জমা পড়া নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। যদিও তিনি কোনও নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলকে দোষারোপ করেননি, তবে কেন এই সময়ে এত আবেদন জমা পড়ছে, তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন।প্রধান বিচারপতি এই মন্তব্যের পর সতর্ক করে বলেন, অনুমানের ভিত্তিতে কোনও মন্তব্য করা উচিত নয়। এরপর নির্বাচন কমিশনের আইনজীবী জানান, নিয়ম অনুযায়ী মনোনয়নের শেষ দিন পর্যন্ত আবেদন জমা দেওয়া যায়। এমনকি যাঁর সেদিনই আঠারো বছর পূর্ণ হচ্ছে, তিনিও আবেদন করার অধিকার রাখেন। তাই এই প্রক্রিয়ায় কাউকে বাধা দেওয়া সম্ভব নয়।শুনানির সময় আইনজীবী কপিল সিব্বল বলেন, এখানে সমস্যা হচ্ছে একসঙ্গে বিপুল সংখ্যক আবেদন জমা পড়া। সেই প্রসঙ্গেই কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, একজন ব্যক্তিই নাকি কয়েক হাজার ফর্ম জমা দিয়েছেন। এই ঘটনায় স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।প্রধান বিচারপতি বলেন, এই ধরনের ঘটনা নতুন নয় এবং অতীতেও এমন নজির রয়েছে। তবে আবেদনকারীদের পরিচয় জানা না যাওয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন আইনজীবীরা। তাঁদের দাবি, বুথভিত্তিকভাবে আবেদনকারীদের তালিকা প্রকাশ করা হলে অভিযোগ জানানো সহজ হবে।আদালত জানিয়ে দেয়, নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে যারা আবেদন করেছেন, তাঁদের নাম বিবেচনা করা হবে। তবে নির্দিষ্ট সময়ের পরে আবেদন করলে নাম তালিকায় উঠলেও সেই নির্বাচনে ভোট দেওয়ার অধিকার নাও থাকতে পারে।এই প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর আইনজীবী জানান, তাঁদের কাছে থাকা তথ্য অনুযায়ী বিপুল সংখ্যক নাম তালিকায় যুক্ত হচ্ছে এবং অনেক নাম বাদও যাচ্ছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।এরই মধ্যে মঙ্গলবার রাজ্যের নির্বাচন দফতরের বাইরে উত্তেজনা ছড়ায়। দুই রাজনৈতিক দলের কর্মীরা ফর্ম জমা দেওয়া নিয়ে একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলে এবং পরিস্থিতি সংঘর্ষে গড়ায়। মারধর, ধস্তাধস্তির অভিযোগ ওঠে দুই পক্ষের বিরুদ্ধেই। এক পক্ষের অভিযোগ, ফর্মের মাধ্যমে বাইরে থেকে লোক এনে ভোটার তালিকায় ঢোকানো হচ্ছে, অন্য পক্ষ সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।এই ঘটনায় ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে এবং ভোটের আগে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এপ্রিল ০১, ২০২৬
  • ‹
  • 1
  • 2
  • ...
  • 14
  • ...
  • 72
  • 73
  • ›

ট্রেন্ডিং

কলকাতা

চোরবাগানে দুর্গাপুজোর ভিড়ে মর্মান্তিক বিপর্যয়! পদপিষ্টের আশঙ্কা, একাধিক মৃত্যুর দাবি সূত্রের, হাসপাতালে মুখ্যমন্ত্রী

কলকাতা: সপ্তমীর সন্ধ্যায় দুর্গাপুজোর আনন্দ মুহূর্তে পরিণত হল আতঙ্কে। প্রবল বৃষ্টি থেকে বাঁচতে মণ্ডপে ঢোকার হুড়োহুড়ি, তার সঙ্গে বিপুল দর্শনার্থীর চাপসব মিলিয়ে উত্তর কলকাতার চোরবাগান সর্বজনীনে তৈরি হল ভয়াবহ পরিস্থিতি। মণ্ডপের ভিতরে পদপিষ্ট হওয়ার মতো পরিস্থিতিতে বহু মানুষ আহত হয়েছেন বলে খবর। আহতদের কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ ও এসএসকেএম হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আনন্দবাজার সুত্রে জানা যায় এই ঘটনায় ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। যদিও মৃত্যুর এই সংখ্যা সরকারি ভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।ঘটনার খবর পেয়েই হাসপাতালে পৌঁছে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা এবং উদ্ধারকাজের অগ্রগতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন তিনি। পাশাপাশি পুজো উদ্যোক্তাদের থানায় ডাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে তীব্র চাঞ্চল্য। বন্ধ করে দেওয়া হয় মণ্ডপের আলো এবং প্রবেশ ও বেরোনোর পথ।প্রবল বৃষ্টির জেরেই কি বিপত্তি?সপ্তমীর সন্ধ্যায় উত্তর ও মধ্য কলকাতার বিস্তীর্ণ এলাকায় শুরু হয় প্রবল বৃষ্টি। তার জেরে রাস্তায় যানজট তৈরি হওয়ার পাশাপাশি পুজো মণ্ডপগুলিতেও দর্শনার্থীদের ভিড় সামলানো কঠিন হয়ে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান অনুযায়ী, বৃষ্টির হাত থেকে বাঁচতে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা বহু মানুষ একসঙ্গে মণ্ডপের ভিতরে প্রবেশের চেষ্টা করেন। শুরু হয় ঠেলাঠেলি। সেই সময় কয়েক জন ভারসাম্য হারিয়ে পড়ে যান। তাঁদের পিছনে থাকা ভিড়ের চাপে পরিস্থিতি আরও বিপজ্জনক হয়ে ওঠে।প্রাথমিক ভাবে জানা যাচ্ছে, মণ্ডপের ভিতরের একটি বৃত্তাকার পথে এই বিপত্তি ঘটে। ওই পথে দর্শনার্থীদের ঘুরে মণ্ডপ থেকে বেরিয়ে আসার ব্যবস্থা ছিল। সেখানে একসঙ্গে বহু মানুষের জমায়েত পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে বলে অনুমান করা হচ্ছে। তবে ঠিক কী কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। কাঠামোর কোনও অংশ ভেঙে পড়েছিল কি না, সেই সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে সূত্রের খবর।হাসপাতালে আহতদের ভিড়, চলছে চিকিৎসাঘটনার পর দ্রুত আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। কলকাতা পুলিশের সূত্রে প্রথমে ৩৫ জনকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেলেও, পরে মেডিক্যাল কলেজের একটি সূত্রে দাবি করা হয়, সেখানে ৪০ থেকে ৫০ জনকে আনা হয়েছে। আহতদের মধ্যে কয়েক জনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গিয়েছে। উদ্ধারকারীদের দাবি, কয়েক জনকে সংজ্ঞাহীন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের ইমার্জেন্সি অবজারভেশন ওয়ার্ডে আহতদের চিকিৎসা চলছে। কয়েক জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য এসএসকেএম হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। ঘটনাস্থল ও হাসপাতালের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে পৌঁছন কলকাতা পুলিশের কমিশনার অজয় নন্দও।হাসপাতালের একটি সূত্রের দাবি, মৃত ১৭ জনের মধ্যে ১৩ জন মহিলা, তিন জন পুরুষ এবং একটি শিশু রয়েছে। তবে প্রশাসনের তরফে এই মৃত্যুসংখ্যা বা মৃতদের পরিচয় সম্পর্কে কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি। ফলে হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা সম্পর্কে সরকারি নিশ্চিতকরণের অপেক্ষা রয়েছে।উদ্ধারকাজে জোর, উঠছে নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্নদুর্ঘটনার পর মণ্ডপ চত্বরে উদ্ধারকাজে জোর দেওয়া হয়। পুলিশ ও দমকলের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছন বলে জানা গিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দর্শনার্থীদের প্রবেশ বন্ধ করে দেওয়া হয়। মণ্ডপের আলোও নিভিয়ে দেওয়া হয়, যাতে উদ্ধারকাজে অসুবিধা না হয়।অন্যদিকে, প্রত্যক্ষদর্শীদের একাংশের অভিযোগ, পরিস্থিতি যখন দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছিল, তখন পর্যাপ্ত পুলিশ বা নিরাপত্তারক্ষী সময়মতো সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। সাহায্যের আবেদন জানিয়েও তাঁরা সাড়া পাননি বলে অভিযোগ। যদিও এই অভিযোগের সত্যতা স্বাধীন ভাবে যাচাই করা যায়নি। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ধারণে ভিড় নিয়ন্ত্রণ, প্রবেশ ও নির্গমন ব্যবস্থাপনা এবং নিরাপত্তার পর্যাপ্ততা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠতে পারে।পুজো উদ্যোক্তা বিকাশ দাস জানিয়েছেন, কীভাবে এমন ঘটনা ঘটল, তা এখনও তাঁদের কাছে স্পষ্ট নয়। আপাতত আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানোই তাঁদের প্রধান লক্ষ্য। পদপিষ্ট হয়েই এই বিপর্যয় ঘটেছে কি না, তা নিশ্চিত করে বলতে পারেননি তিনি।৩৬০ ডিগ্রির মণ্ডপে কীভাবে ঘটল দুর্ঘটনা?চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গোৎসব সমিতির ২০২৬ সালের পুজোর ভাবনা অরব, যার ইংরেজি ব্যাখ্যা বিয়ন্ড সাউন্ড। শব্দের পরিচিত সীমা ছাড়িয়ে নীরবতার গভীরে পৌঁছনোর ভাবনাকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছিল মণ্ডপ। সৃজনশীল পরিকল্পনার অন্যতম আকর্ষণ ছিল ৩৬০ ডিগ্রি ঘুরে মণ্ডপ দেখার ব্যবস্থা। সেরা পুজোর তালিকায়ও এই পুজো তৃতীয় স্থান পেয়েছিল বলে জানা গিয়েছে।কিন্তু দর্শনার্থীদের চলাচলের জন্য তৈরি বৃত্তাকার এলিভেটেড করিডোর ঘিরেই বিপত্তি ঘটেছে বলে প্রাথমিক সূত্রের খবর। ওই পথে একসঙ্গে কত জনের চলাচলের ব্যবস্থা ছিল, ভিড়ের সময় প্রবেশ ও নির্গমন নিয়ন্ত্রণ কীভাবে করা হচ্ছিল এবং জরুরি পরিস্থিতিতে বিকল্প বেরোনোর পথ ছিল কি নাএই প্রশ্নগুলি এখন গুরুত্বপূর্ণ।উল্লেখ্য, এই পুজোর সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন দেবদীপ অধিকারী, যিনি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ভাইপো। জোড়াসাঁকোর বিজেপি বিধায়ক বিজয় ওঝা পুজো কমিটির চেয়ারম্যান। উত্তর কলকাতা জেলা তৃণমূলের সভাপতি তমোঘ্ন ঘোষও এই পুজোর সঙ্গে যুক্ত। তবে দুর্ঘটনার দায় নির্ধারণের ক্ষেত্রে কোনও ব্যক্তির রাজনৈতিক পরিচয়ের বদলে তদন্তে উঠে আসা তথ্য ও প্রমাণই গুরুত্বপূর্ণ হবে।হেল্পলাইন চালু রাজ্য সরকারেরঘটনার পর পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পক্ষ থেকে একটি টোল-ফ্রি হেল্পলাইন নম্বর চালু করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। নম্বরটি হল ১৮০০৩৪৫৫৬৭৮। দুর্ঘটনায় আহতদের সম্পর্কে তথ্য জানতে বা সংশ্লিষ্ট সহায়তার জন্য এই নম্বর ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে।সপ্তমীর সন্ধ্যায় উৎসবের আবহে ঘটে যাওয়া এই বিপর্যয় ফের বড় পুজো মণ্ডপগুলিতে ভিড় নিয়ন্ত্রণ ও দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিল। তবে কত জনের মৃত্যু হয়েছে, কীভাবে দুর্ঘটনা ঘটল এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনও গাফিলতি ছিল কি নাতার চূড়ান্ত উত্তর মিলবে সরকারি বিবৃতি ও তদন্তের পরেই।

অক্টোবর ১৭, ২০২৬
উৎসব

দুর্গামণ্ডপে বিশ্বকাপের উন্মাদনা! ফুটবলের টানে মাঠে ফিরুক কচিকাঁচারা, অভিনব থিম পূর্ব সাতগেছিয়া সংহতির

পূর্ব বর্ধমান: দুর্গাপুজোর মণ্ডপে এ বার ফুটবল বিশ্বকাপের আবহ। কোথাও বিশ্বজয়ী স্পেনের উল্লাস, কোথাও ভারতীয় ফুটবলের ছবি, আবার কোথাও লিয়োনেল মেসি ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর প্রতিকৃতি। ফুটবলকে কেন্দ্র করে পুজোর মণ্ডপেই যেন তৈরি হচ্ছে এক টুকরো বিশ্বকাপের আসর। বাঙালির চিরন্তন ফুটবলপ্রেমকে উদ্যাপন এবং নতুন প্রজন্মকে মোবাইলের পর্দা থেকে মাঠে ফিরিয়ে আনার বার্তা দিতে এমনই অভিনব উদ্যোগ নিয়েছে পূর্ব বর্ধমানের পূর্ব সাতগেছিয়া সংহতি ক্লাব।পুজোর থিম মানেই এখন শিল্প, সংস্কৃতি, সমাজ সচেতনতা কিংবা নানা অভিনব ভাবনার মেলবন্ধন। সেই ধারাতেই এ বার ফুটবলকে সঙ্গী করেছে পূর্ব সাতগেছিয়া সংহতি। ক্লাবের ২৯তম বর্ষের পুজোয় তাদের থিম ফুটবল ইউনাইটস ওয়ার্ল্ড। অর্থাৎ, ভাষা, দেশ ও সংস্কৃতির ভিন্নতা থাকলেও ফুটবল যে গোটা বিশ্বকে একই সুতোয় বেঁধে রাখতে পারে, সেই বার্তাই তুলে ধরা হয়েছে মণ্ডপসজ্জার মাধ্যমে।মণ্ডপের প্রবেশপথ থেকেই দর্শকদের নজর কাড়ার আয়োজন। সামনে রাখা হয়েছে ফুটবল বিশ্বকাপের সরকারি বল ট্রিয়োন্ডা। বলটিকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে বিশ্বকাপের আবহ। মণ্ডপের এক দিকে রয়েছে বিশ্বকাপজয়ী স্পেনের ঐতিহাসিক মুহূর্তের ছবি, অন্য দিকে স্থান পেয়েছে ভারতীয় ফুটবল দলের ছবি। আন্তর্জাতিক ফুটবলের গৌরবের পাশাপাশি দেশের ফুটবলের প্রতি ভালোবাসাকেও সমান গুরুত্ব দিতে চেয়েছেন উদ্যোক্তারা।এই থিমের অন্যতম আকর্ষণ ফুটবল বিশ্বের দুই মহাতারকা লিয়োনেল মেসি ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর প্রতিকৃতি। তাঁদের ফুটবলজীবনের স্মৃতি ও জনপ্রিয়তাকে সামনে রেখে সাজানো হয়েছে মণ্ডপের বিভিন্ন অংশ। পাশাপাশি থাকছে আরও কয়েক জন তারকা ফুটবলারের প্রতিকৃতি। বিশ্বকাপের নানা স্মরণীয় মুহূর্তের ছবি দর্শকদের ফিরিয়ে নিয়ে যাবে মাঠের উত্তেজনা, গোলের উল্লাস এবং সমর্থকদের আবেগে ভরা সেই সব মুহূর্তে।মণ্ডপের অন্দরসজ্জাতেও থাকছে চমক। বিশ্বকাপের ইতিহাসে জায়গা করে নেওয়া ৭০টি উল্লেখযোগ্য মুহূর্তের ছবি সাজিয়ে তোলা হচ্ছে সেখানে। ভারতীয় ফুটবলের জন্যও রাখা হয়েছে বিশেষ জায়গা। দেশের ফুটবলের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা ১২টি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তের ছবি তুলে ধরার পরিকল্পনা রয়েছে উদ্যোক্তাদের। ফলে এই মণ্ডপ শুধু পুজো দেখার জায়গা নয়, ফুটবলের ইতিহাস ও স্মৃতির সঙ্গে পরিচিত হওয়ারও একটি সুযোগ হয়ে উঠতে পারে।বিশ্বকাপ ফাইনালের উত্তেজনাকেও বিশেষ ভাবে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা হয়েছে। মণ্ডপের এক পাশে গ্যালারির আদলে তৈরি অংশে থাকবে ফাইনালের বিভিন্ন মুহূর্তের ছবি। দুর্গাপ্রতিমার পাশেও স্থান পাচ্ছে ফাইনালের স্মরণীয় দৃশ্য এবং ফুটবল তারকাদের ছবি। মণ্ডপের একেবারে উপরের দিকে থাকবে বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন দেশের পতাকা। আলোর কারুকার্যে সেই সব পতাকার রং ফুটিয়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে। সব মিলিয়ে দর্শকদের সামনে ফুটবল বিশ্বকাপের একটি দৃশ্যমান আবহ তৈরি করাই উদ্যোক্তাদের লক্ষ্য।এখানেই শেষ নয়। মণ্ডপে থাকবে একটি বড় পর্দা, যেখানে দেখানো হবে বিশ্বকাপের বিভিন্ন ম্যাচের হাইলাইটস। ফলে প্রতিমা দর্শনের পাশাপাশি ফুটবলপ্রেমীরা ফিরে দেখতে পারবেন মাঠের সেরা মুহূর্তগুলি। গোল, সেভ, দুরন্ত পাস কিংবা ট্রফি জয়ের উল্লাসবিশ্বকাপের নানা স্মৃতি মণ্ডপের পরিবেশকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলবে।তবে এই আয়োজনের পিছনে শুধুই দর্শকদের আকর্ষণ করার ভাবনা নেই। উদ্যোক্তাদের মূল লক্ষ্য, ছোটদের মধ্যে ফুটবলের প্রতি আগ্রহ বাড়ানো এবং তাদের মাঠমুখী করে তোলা। বর্তমান সময়ে মোবাইল ফোন ও ডিজিটাল বিনোদনের প্রতি শিশু-কিশোরদের আকর্ষণ বাড়ছে। সেই পরিস্থিতিতে খেলাধুলার আনন্দ, দলগত প্রচেষ্টা, শৃঙ্খলা এবং শরীরচর্চার গুরুত্ব নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতে ফুটবলকে মাধ্যম করেছে ক্লাব।ফুটবল এমন একটি খেলা, যেখানে জয়ের আনন্দের পাশাপাশি থাকে পরাজয় মেনে নেওয়া, সতীর্থের পাশে দাঁড়ানো এবং শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়ার শিক্ষা। ফুটবল ইউনাইটস ওয়ার্ল্ড থিমের মাধ্যমে সেই সামাজিক ও মানবিক বার্তাও দর্শকদের কাছে পৌঁছে দিতে চায় পূর্ব সাতগেছিয়া সংহতি।দুর্গাপুজোর উৎসবের সঙ্গে ফুটবলের আবেগকে মিলিয়ে এই উদ্যোগ কতটা দর্শকপ্রিয় হয়, তা অবশ্য সময়ই বলবে। তবে মণ্ডপের সাজসজ্জা থেকে বিশ্বকাপের স্মৃতি, আন্তর্জাতিক তারকা থেকে ভারতীয় ফুটবলের ইতিহাসসব কিছুকে এক ছাতার তলায় এনে পুজোর আনন্দে নতুন মাত্রা যোগ করার চেষ্টা করেছে ক্লাব। উদ্যোক্তাদের আশা, মণ্ডপে এসে বিশ্বকাপের উন্মাদনায় মেতে ওঠার পাশাপাশি ছোটদের মনে জাগবে ফুটবলার হওয়ার স্বপ্ন। আর সেই স্বপ্নের টানেই হয়তো এক দিন তারা মোবাইল সরিয়ে রেখে আবার ছুটবে গ্রামের মাঠে, পায়ে বল নিয়ে।দুর্গামণ্ডপে বিশ্বকাপের আবহ, আর সেই আবহ থেকেই মাঠে ফেরার ডাকপূর্ব সাতগেছিয়া সংহতির এ বারের পুজোর ভাবনায় ফুটবল তাই শুধু খেলা নয়, নতুন প্রজন্মকে গড়ে তোলারও এক বার্তা।

অক্টোবর ১৭, ২০২৬
রাজ্য

কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোয় বড় চমক! কবে নিজের গর্ভগৃহে ফিরবেন তারাপীঠের মা তারা?

মহালয়ার আগেই তারাপীঠ মন্দিরের মূল গর্ভগৃহে মা তারাকে ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা ছিল। পরে ষষ্ঠীর দিনও তাঁকে ফিরিয়ে আনার কথা ভাবা হয়েছিল। কিন্তু মন্দিরের সংস্কারের কাজ শেষ না হওয়ায় তা সম্ভব হয়নি। অবশেষে কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর দিন মা তারাকে মূল গর্ভগৃহে ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মন্দির কমিটি। ২৫ অক্টোবর সন্ধ্যারতির পর নতুন বেদিতে অধিষ্ঠিত হবেন দেবী। ওই দিন রাজরাজেশ্বরী রূপে তাঁর বিশেষ পুজো হবে।তারাপীঠ মন্দিরের মূল গর্ভগৃহে এখন সংস্কারের কাজ চলছে। দেবীর আসনের বেদির উচ্চতা আট ইঞ্চি বাড়ানো হয়েছে। এই সংস্কারের জন্য খরচ হচ্ছে প্রায় দেড় কোটি টাকা। অযোধ্যার রামমন্দিরের কারিগরদের দিয়ে বিশেষ রেলিং তৈরি করানো হচ্ছে। তবে দিল্লি হয়ে সেই রেলিং তারাপীঠে পৌঁছতে দেরি হওয়ায় সংস্কারের কাজও পিছিয়ে যায়। মন্দির কমিটি জানিয়েছে, কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর দিন সব ধর্মীয় আচার মেনে মা তারাকে নতুন বেদিতে প্রতিষ্ঠা করা হবে।মন্দির কমিটির পরিকল্পনা অনুযায়ী, ওই দিন ভোরে শিবমন্দির থেকে মা তারাকে নিয়ে আসা হবে বিশ্রাম মঞ্চে। সেখানে দিনভর পুজো ও দর্শন চলবে। সন্ধ্যারতির পর দেবীকে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে মূল গর্ভগৃহে। নতুন বেদিতে প্রতিষ্ঠার আগে শুদ্ধিকরণ-সহ প্রয়োজনীয় ধর্মীয় আচার পালন করা হবে। লক্ষ্মীপুজোর বিশেষ লগ্নে মা তারাকে রাজরাজেশ্বরী রূপে সাজিয়ে মহালক্ষ্মী হিসেবে পুজো করা হবে।সংস্কারের জন্য মা তারাকে মূল গর্ভগৃহ থেকে সরিয়ে শিবমন্দিরে রাখা হলেও তাঁর নিত্যপুজো ও দর্শন বন্ধ হয়নি। সেখানেই নিয়মিত পুজো চলছে। তারাপীঠ মন্দির কমিটির সম্পাদক পুলক চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, কৌশিকী অমাবস্যার দুদিন পর সংস্কারের কাজের জন্য মা তারাকে মূল গর্ভগৃহ থেকে সরানো হয়েছিল। মহালয়া অমাবস্যার ঠিক আগে তাঁকে ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা থাকলেও কয়েকটি সমস্যার কারণে তা সম্ভব হয়নি। পরে ষষ্ঠীর দিন তাঁকে ফেরানোর কথা ভাবা হয়েছিল, কিন্তু সংস্কারের কাজ বাকি থাকায় সেই পরিকল্পনাও কার্যকর করা যায়নি।পুলক চট্টোপাধ্যায় আরও জানান, নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী চতুর্দশীর দিন ভোরে মা তারাকে শিবমন্দির থেকে বিশ্রাম মঞ্চে নিয়ে আসা হবে। ২৫ অক্টোবর সারাদিন সেখানেই থাকবেন দেবী। সন্ধ্যারতির পর তাঁকে আবার নিজের মূল গর্ভগৃহে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে। কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোয় মা তারার এই বিশেষ আরাধনাকে ঘিরে এখন প্রস্তুতি চলছে তারাপীঠ মন্দিরে।

অক্টোবর ১৬, ২০২৬
কলকাতা

শুভেন্দু সরকারের বিচারে কলকাতার সেরা পুজো কোনটি? প্রথম স্থান পেল সন্তোষ মিত্র স্কোয়্যার!

রাজ্যে পালাবদলের পর এ বারই প্রথম দুর্গাপুজো। তার মধ্যেই কলকাতার সেরা পুজোগুলির নাম ঘোষণা করল রাজ্য সরকার। তথ্য ও সংস্কৃতি দফতর, কলকাতা পুরসভা এবং কলকাতা পুলিশের যৌথ উদ্যোগে দেবী দুর্গা সম্মান ২০২৬-এর তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। মোট ২৩টি পুজো কমিটিকে বিভিন্ন বিভাগে সম্মান জানানো হয়েছে। সেরা প্রতিমা, সেরা মণ্ডপ, আলোকসজ্জা, পরিবেশবান্ধব পুজো এবং সমাজ সচেতনতার মতো বিভাগে পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।সরকারের বিচারে এ বারের সেরার সেরা হয়েছে সন্তোষ মিত্র স্কোয়্যার। এই বিভাগে দ্বিতীয় স্থান পেয়েছে বৃন্দাবন গার্ডেন দুর্গাপুজো সমিতি। তৃতীয় হয়েছে চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গোৎসব সমিতি।সেরা প্রতিমা বিভাগে প্রথম হয়েছে মুদিয়ালি ক্লাব। দ্বিতীয় স্থানে টালা বারোয়ারি, তৃতীয় স্থানে বেহালা অরুণোদয় সমিতি এবং চতুর্থ স্থানে আহিরীটোলা সর্বজনীন। অন্য দিকে, সেরা মণ্ডপের পুরস্কার পেয়েছে খিদিরপুর ২৫ পল্লি। এই বিভাগে দ্বিতীয় হয়েছে আমরা কজন কল্যাণ সমিতি।আলোকসজ্জার বিভাগেও ঘোষণা করা হয়েছে পুরস্কারজয়ীদের নাম। এই বিভাগে প্রথম হয়েছে সন্তোষপুর অ্যাভিনিউ সাউথ। দ্বিতীয় পুরস্কার পেয়েছে বকুলবাগান সর্বজনীন দুর্গোৎসব। তৃতীয় হয়েছে শিবমন্দির সর্বজনীন দুর্গোৎসব।পরিবেশবান্ধব পুজোর বিভাগে প্রথম পুরস্কার পেয়েছে নলিন সরকার স্ট্রিট। দ্বিতীয় হয়েছে পার্ক স্ট্রিটের অ্যালেন পার্কের পুজো। তৃতীয় স্থান পেয়েছে রাজডাঙা নব উদয় সংঘ।সমাজ সচেতনতার বিভাগে প্রথম হয়েছে কাশীবোস লেন। দ্বিতীয় পুরস্কার পেয়েছে বালিগঞ্জ কালচারাল অ্যাসোসিয়েশন। তৃতীয় হয়েছে চক্রবেড়িয়া সর্বজনীন এবং চতুর্থ স্থানে রয়েছে অজেয় সংহতি।এ ছাড়াও চারটি পুজো কমিটিকে বিশেষ পুরস্কার দিয়ে সম্মানিত করা হয়েছে। এই তালিকায় রয়েছে বি জি লাইন্স আবাসিক দুর্গাপুজো কমিটি, শ্যাম স্কোয়্যার, ঠাকুরপুকুর এসবি পার্ক এবং সমাজসেবী সংঘ।সব মিলিয়ে, দেবী দুর্গা সম্মান ২০২৬-এ কলকাতার একাধিক পরিচিত পুজো কমিটি বিভিন্ন বিভাগে পুরস্কার পেয়েছে। সেরার সেরা হিসেবে সন্তোষ মিত্র স্কোয়্যারের নাম উঠে আসার পাশাপাশি প্রতিমা, মণ্ডপ, আলো, পরিবেশ এবং সমাজ সচেতনতার বিভাগেও আলাদা করে সেরাদের বেছে নিয়েছে সরকার।

অক্টোবর ১৬, ২০২৬
কলকাতা

হাই কোর্টে ধাক্কা, এ বার সুপ্রিম কোর্টে সুজিত বসু! পুজোর আগে কি মিলবে স্বস্তি?

কলকাতা হাই কোর্টে জামিনের আবেদন খারিজ হয়েছে। এ বার সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হলেন রাজ্যের প্রাক্তন দমকলমন্ত্রী সুজিত বসু। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে হাই কোর্টের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে শীর্ষ আদালতে মামলা করেছেন তিনি। তবে এখনই এই মামলার শুনানি হচ্ছে না বলে জানা গিয়েছে। ফলে দুর্গাপুজোর আগে জামিন মিলবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে। পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় গ্রেফতার হওয়ার পর থেকে জেলবন্দি তৃণমূলের এই নেতা।গত ১২ মে সুজিত বসুকে গ্রেফতার করেছিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডি। তার পর থেকে তিনি জেলে রয়েছেন। পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত চালাচ্ছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। হাই কোর্টে জামিনের আবেদন জানিয়েও স্বস্তি পাননি প্রাক্তন মন্ত্রী। এ বার সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে মামলা করলেন তিনি।রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর দুর্নীতির অভিযোগে বিভিন্ন মামলার তদন্ত ঘিরে তৎপরতা বেড়েছে। পুরসভায় নিয়োগ এবং শিক্ষক নিয়োগের মতো একাধিক মামলার তদন্ত করছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি ও সিবিআই। সেই তদন্তের সূত্রেই সুজিতের বিরুদ্ধে পুর নিয়োগ দুর্নীতির অভিযোগ সামনে আসে। গত ১২ মে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।তদন্তের সময় সুজিত বসুর বিরুদ্ধে আরও কয়েকটি আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ ওঠে বলে জানা গিয়েছে। তাঁর ছেলের রেস্তরাঁকে ঘিরেও একাধিক বেআইনি কাজের অভিযোগ সামনে এসেছে। এই সব অভিযোগের তদন্তে বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালিয়েছেন ইডির আধিকারিকেরা। তবে অভিযোগগুলির সত্যতা আদালতে প্রমাণিত হওয়া এখনও বাকি।জামিনের আবেদন বারবার খারিজ হওয়ায় সুজিতের আইনি লড়াই আরও জটিল হয়েছে। এ বার সুপ্রিম কোর্টে তাঁর আবেদন কোন দিকে এগোয়, সেটাই দেখার। পুজোর আগে শীর্ষ আদালতে শুনানি না হলে আপাতত জেলেই থাকতে হতে পারে প্রাক্তন মন্ত্রীকে।

অক্টোবর ১৬, ২০২৬
দেশ

এক সপ্তাহে দু’বার আটক অভিজিৎ দীপকে! দিল্লিতে তিরঙ্গা মিছিলের আগেই কেন কড়া পদক্ষেপ পুলিশের?

ফের আটক ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। শুক্রবার দিল্লির কনট প্লেসে দলের তিরঙ্গা মিছিল হওয়ার কথা ছিল। তবে ওই মিছিলে বড় জমায়েতের অনুমতি দেয়নি দিল্লি পুলিশ। বৃহস্পতিবারই পুলিশের তরফে জানানো হয়েছিল, জাতীয় পতাকা হাতে জাতীয় সঙ্গীত গাওয়ার জন্য ১১ জনের একটি দলকে অনুমতি দেওয়া যেতে পারে। এর পর শুক্রবার সকালে মিছিল শুরুর ঠিক আগে অভিজিৎ দীপকের দিল্লির বাড়িতে পৌঁছয় পুলিশ। তাঁকে কর্মসূচি থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়ে একটি নোটিস দেওয়া হয়। তার পরেই তাঁকে আটক করা হয়। এক সপ্তাহের মধ্যে এই নিয়ে দ্বিতীয়বার আটক হলেন সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা।এর আগে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ায় কারচুপির অভিযোগ তুলে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ কর্মসূচিতে যোগ দিতে মুম্বই থেকে দিল্লি এসেছিলেন অভিজিৎ। দিল্লিতে বিমান অবতরণের পরেই তাঁকে আটক করেছিল পুলিশ। এ বার জাতীয় পতাকা হাতে তিরঙ্গা মিছিল শুরুর আগেই ফের তাঁকে আটক করা হল।বৃহস্পতিবারই সিজেপিকে মিছিলের অনুমতি নিয়ে কড়া বার্তা দিয়েছিল দিল্লি পুলিশ। জানানো হয়েছিল, ১১ জনের একটি দল জাতীয় পতাকা হাতে জাতীয় সঙ্গীত গাইতে পারে। শুক্রবার সকালে মিছিলের আগে অভিজিৎ দীপকের বাড়িতে পৌঁছে তাঁকে নোটিস দেয় পুলিশ। কনট প্লেসে নির্ধারিত কর্মসূচিতে যোগ না দেওয়ার পরামর্শও দেওয়া হয় তাঁকে।তবে অভিযোগ, পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি মেনেই জাতীয় পতাকা হাতে কনট প্লেসের উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন অভিজিৎ। সেই সময় তাঁকে রাস্তা থেকে আটক করে পুলিশ। তার আগে পুলিশের সঙ্গে তাঁর বচসা হয় বলেও জানা গিয়েছে। কেন তাঁকে আটক করা হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা। অভিজিতের দাবি, তিনি কোনও আইন ভাঙেননি।

অক্টোবর ১৬, ২০২৬
কলকাতা

টেবিল-ছাতা পেতেও মিলল না ছাড়! সিপিএমের বুকস্টল নিয়ে কড়া নির্দেশ প্রধান বিচারপতির

সিপিএমের বুকস্টল নিয়ে নতুন করে জট তৈরি হল কলকাতা হাই কোর্টে। একক বেঞ্চের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চের দ্বারস্থ হয়েছিল রাজ্য সরকার। শুক্রবার সেই মামলায় বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের একক বেঞ্চের রায় খারিজ করে দিল ডিভিশন বেঞ্চ। শুধু তাই নয়, টেবিল ও ছাতা পেতেও বুকস্টল করা যাবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে আদালত। আগামী ২১ জানুয়ারি মামলার পরবর্তী শুনানি। মামলার সঙ্গে যুক্ত সব পক্ষকে নোটিস দেওয়ার নির্দেশও দিয়েছে আদালত।শুনানির সময় প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র ভি ঘুগে জানতে চান, বুকস্টল করার অনুমতি চেয়ে আবেদন করা হয়েছিল কি না। তাঁর প্রশ্ন, আবেদন করেও অনুমতি না পেলে পুলিশ কী করবে? সিপিএমের আইনজীবী শামিম আহমেদ জানান, অনুমতি চেয়ে গণপূর্ত দফতর এবং জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষকে ইমেল করা হয়েছিল। পুলিশকেও আবেদনের কথা জানানো হয়েছিল বলে জানান মামলাকারীর আইনজীবী।এর পরেই রাস্তার ধারে থাকা স্টলগুলি নিয়ে কড়া অবস্থান জানান প্রধান বিচারপতি। তিনি বলেন, অনুমতি না থাকলে কোনও স্টলই রাখা যাবে না। আইনের চোখে সবাই সমান। সিপিএমের বুকস্টল কোথায় রয়েছে, তা জানতে চান তিনি। উত্তরে শামিম আহমেদ জানান, বুকস্টলটি দলের কার্যালয়ের সামনে। রাস্তার ধারে অন্য স্টলগুলির সঙ্গে একই লাইনে রয়েছে কি না, নাকি রাস্তার উপরে এগিয়ে এসেছে, সেই প্রশ্নও করেন প্রধান বিচারপতি। সিপিএমের আইনজীবী দাবি করেন, বুকস্টলটি অন্য স্টলগুলির মতো একই লাইনে রয়েছে।রাজ্যের অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল বিল্বদল ভট্টাচার্য জানান, অন্য স্টলগুলির অনুমতি রয়েছে কি না, তা তাঁর জানা নেই। এর পর প্রধান বিচারপতি বলেন, অনুমতি না থাকলে সব স্টলই সরিয়ে দিতে হবে। আইনের চোখে সকলের সমান অধিকার থাকা প্রয়োজন।সিপিএমের আইনজীবী জানান, একক বেঞ্চও একই ধরনের পর্যবেক্ষণ করেছিল। অন্য দিকে, অ্যাডভোকেট জেনারেল প্রশ্ন তোলেন, অনুমতি ছাড়া কী ভাবে বুকস্টল চালানো সম্ভব? সিপিএমের তরফে পাল্টা জানানো হয়, দুর্গাপুজো শুরু হয়ে গিয়েছে। হাতে আর তিন-চার দিন রয়েছে। তাই মাইক বা মাইক্রোফোন ব্যবহার না করে বুকস্টল চালানোর অনুমতি দেওয়া হোক।শেষ পর্যন্ত আরও একটি প্রস্তাব দেন সিপিএমের আইনজীবী। তিনি জানান, দলের কার্যালয়ের সামনে পাঁচ ফুট লম্বা একটি টেবিল পেতে, কোনও ছাউনি ছাড়াই শুধু ছাতা ব্যবহার করে বুকস্টল চালাতে চান তাঁরা। কিন্তু সেই প্রস্তাবেও রাজি হয়নি আদালত। পাল্টা সওয়ালে অ্যাডভোকেট জেনারেল জানান, বনগাঁ থানার আইসি আদালতে উপস্থিত রয়েছেন। বুকস্টল থেকে বাংলাদেশ সীমান্তের দূরত্ব ছয় কিলোমিটার। এর পরেই প্রধান বিচারপতি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, টেবিল ও ছাতা পেতেও বুকস্টল করা যাবে না।

অক্টোবর ১৬, ২০২৬
কলকাতা

পঞ্চমীর পর ষষ্ঠীতেও কলকাতার মেট্রোয় জনপ্লাবন! দরজা বন্ধ করতেই হিমশিম কর্মীরা

পঞ্চমী থেকেই ভিড়ে ঠাসা কলকাতা। মেট্রো স্টেশনে পা রাখার জায়গা নেই। ট্রেন এলেই তাতে ওঠার জন্য হুড়োহুড়ি পড়ে যাচ্ছে। ভিড়ের চাপে অনেক সময় বন্ধ করা যাচ্ছে না মেট্রোর দরজা। ফলে একের পর এক স্টেশনে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকছে ট্রেন। ষষ্ঠীতেও পরিস্থিতির বিশেষ বদল হয়নি। মেট্রোর পাশাপাশি লোকাল ট্রেনেও যাত্রীদের ভিড় উপচে পড়ছে। ঠাকুর দেখতে বেরিয়ে চরম ভোগান্তির মুখে পড়তে হচ্ছে শহরবাসীকে। এই পরিস্থিতিতে মেট্রোর পরিষেবা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।দুর্গাপুজো মানেই প্যান্ডেলে প্যান্ডেলে ঘোরা। ভিড়ের কথা মাথায় রেখেও অনেকেই বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়েন প্রতিমা দর্শনে। এখন তো তৃতীয়া থেকেই শুরু হয়ে যায় ঠাকুর দেখা। ফলে পঞ্চমী আসতেই শহরের বিভিন্ন মেট্রো স্টেশনে ভিড় বাড়তে শুরু করে। পঞ্চমীর রাতে চাঁদনি চক, এসপ্ল্যানেড-সহ একাধিক স্টেশনে কার্যত জনস্রোত দেখা যায়। বিকেল থেকেই মেট্রোয় ঠাসাঠাসি ভিড় ছিল।তার উপর একাধিক মেট্রো বাতিল হওয়ায় যাত্রীদের ভোগান্তি আরও বেড়ে যায়। ট্রেন এলেই তাতে ওঠার চেষ্টা করেন যাত্রীরা। ভিড় এতটাই বেশি ছিল যে অনেক ক্ষেত্রে দরজা বন্ধ করতে সমস্যা হয়। কোথাও কোথাও ভিড় সামলাতে পুলিশকর্মীদের যাত্রীদের নামিয়ে দিতে হয় বলেও জানা গিয়েছে। সব মিলিয়ে পঞ্চমীর রাতেই মেট্রোয় দুর্ভোগ চরমে ওঠে।ষষ্ঠীতেও ছবিটা প্রায় একই। সকাল থেকেই কলকাতার বিভিন্ন পুজোমণ্ডপে ভিড় জমাতে শুরু করেন দর্শনার্থীরা। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাস, ট্রেন এবং মেট্রোয় যাত্রীর সংখ্যা আরও বাড়ে। মেট্রোর তরফে বারবার একই ট্রেনে ওঠার জন্য তাড়াহুড়ো না করতে বলা হলেও তাতে বিশেষ লাভ হয়নি। পুজোর ভিড়ে দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছতে চাইছেন সকলেই। কারণ, যাতায়াতে সময় কম লাগলে আরও বেশি প্রতিমা দেখার সুযোগ মিলবে।শিয়ালদহমুখী লোকাল ট্রেনেও ভিড়ের ছবিটা আলাদা নয়। ট্রেনের ভিতরে যাত্রীদের ঠাসাঠাসি ভিড় থাকায় সমস্যায় পড়ছেন অনেকে। পুজোর সময়ে শহর ও শহরতলির যাত্রীসংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় পরিবহণ ব্যবস্থার উপর চাপ বাড়ছে।এই পরিস্থিতিতে যাত্রীদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে বাড়তি ট্রেন চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে রেল। আগামীকাল, অর্থাৎ সপ্তমী থেকে অতিরিক্ত ট্রেন চললে ভিড় কিছুটা সামলানো যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে পুজোর বাকি দিনগুলিতে মেট্রো ও লোকাল ট্রেনে যাত্রীদের ভোগান্তি কতটা কমে, এখন সেটাই দেখার।

অক্টোবর ১৬, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal