দিল্লির রামলীলা ময়দানে এক মঞ্চে দাঁড়িয়ে লড়াইয়ের বার্তা দিয়েছিল বিরোধী দলগুলি। কিন্তু কয়েক দিনের মধ্যেই ত্রিপুরার পুরভোটে আলাদা পথে হাঁটল কংগ্রেস ও সিপিএম। আগরতলা পুর নিগম-সহ রাজ্যের নগর নির্বাচনে জোট না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুই দল। ইতিমধ্যেই আলাদা করে প্রার্থী তালিকাও প্রকাশ করেছে তারা। ফলে ত্রিপুরার পুরভোটে বিরোধী শিবিরের ঐক্য নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
কংগ্রেস বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মনের অভিযোগ, কংগ্রেস বামফ্রন্টের শরিক দল নয়। অথচ সিপিএম তাদের শরিক দলের মতো ব্যবহার করছে। তাঁর দাবি, কংগ্রেসের সঙ্গে কোনও আলোচনা না করেই কয়েক দিন আগে প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করে দিয়েছে সিপিএম। একই অভিযোগ করেছেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি আশিস সাহাও। তাঁর বক্তব্য, প্রার্থী তালিকা নিয়ে কংগ্রেসের সঙ্গে কোনও আলোচনা করেনি বামেরা।
যদিও কংগ্রেসের জন্য কয়েকটি আসন ছেড়ে রেখেছিল সিপিএম। কিন্তু তাতে সন্তুষ্ট হয়নি কংগ্রেস। শেষ পর্যন্ত বুধবার নিজেদের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করে দেয় দলটি। এর ফলে পুরভোটে দুই দল আলাদা ভাবে লড়াই করবে।
উল্লেখ্য, আগামী ২৭ নভেম্বর আগরতলা পুর নিগম-সহ রাজ্যের বিভিন্ন নগর পঞ্চায়েতে নির্বাচন হওয়ার কথা। বিজেপিও ইতিমধ্যে তাদের প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেছে। ফলে এই নির্বাচনে মূলত তিনটি পক্ষের লড়াই দেখা যেতে পারে। তবে বিজেপির প্রার্থী তালিকা নিয়েও কয়েকটি এলাকায় অসন্তোষ তৈরি হয়েছে বলে খবর।
এ বার আগরতলার মেয়র দীপক মজুমদারকে প্রার্থী করেনি বিজেপি। এ বিষয়ে প্রদেশ বিজেপি সভাপতি অভিষেক দেব রায়ের বক্তব্য, দলের ‘এক ব্যক্তি, এক পদ’ নীতি মেনেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দীপক বর্তমানে বিধায়ক। তাই তাঁকে মেয়র পদে প্রার্থী করা হয়নি। অন্যদিকে, নির্বাচনে আধা সামরিক বাহিনী মোতায়েনের দাবি জানিয়েছিল সিপিএম। সেই দাবি মানা হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।
কয়েক দিন আগেই দিল্লির রামলীলা ময়দানে বিরোধী জোটের ‘ভোট বাঁচাও, দেশ বাঁচাও’ কর্মসূচি হয়েছিল। সেখানে সিপিএমের প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেরলের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন। লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীকেও সাম্প্রতিক সময়ে বাম ছাত্রনেত্রী নেহা বরার প্রশংসা করতে শোনা গিয়েছে।
কিন্তু জাতীয় স্তরে এক মঞ্চে থাকার বার্তা দিলেও ত্রিপুরার পুরভোটে সেই ঐক্য ধরে রাখতে পারল না কংগ্রেস ও সিপিএম। নির্বাচনের আগে দুই দলের আলাদা লড়াই বিরোধী শিবিরের রাজনৈতিক সমীকরণে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার।
- More Stories On :
- India Bloc
- CPIM
- Congress
- Tripura

