ব্রিকস সম্মেলনের শেষ দিনে বিরল খনিজ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে পাশে রেখেই তিনি বলেন, বিরল খনিজকে কোনও ভাবেই হাতিয়ার করা উচিত নয়। তাঁর মতে, কৌশলগত সম্পদ ও প্রযুক্তিকে রাজনৈতিক বা কূটনৈতিক অস্ত্র হিসাবে ব্যবহার করলে তা বিশ্বের যৌথ উন্নয়নের পথে বাধা তৈরি করতে পারে।
রবিবার ব্রিকসের সমাপ্তি বক্তব্যে মোদী পরিবেশ সুরক্ষা এবং মানবজাতির উন্নয়নের মধ্যে ভারসাম্য রাখার উপর জোর দেন। তিনি জানান, ভারতের সভাপতিত্বে ব্রিকসের কাজ মূলত চারটি বিষয়ের উপর গুরুত্ব পেয়েছে। সেগুলি হল সহনশীলতা, উদ্ভাবন, সহযোগিতা এবং স্থায়িত্ব।
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য, ব্রিকসের সদস্য দেশগুলির সহযোগিতায় এই জোটের যৌথ লক্ষ্য পূরণের চেষ্টা করেছে ভারত। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, কৌশলগত সম্পদ এবং উন্নত প্রযুক্তিকে যদি অস্ত্র হিসাবে ব্যবহার করা হয়, তা হলে যৌথ উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হতে পারে।
বিরল খনিজের প্রসঙ্গ তুলে মোদী বলেন, প্রযুক্তি এবং এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক সম্পদকে অস্ত্র হিসাবে ব্যবহার করা উচিত নয়। তাঁর মতে, বিশ্বের বিভিন্ন সমস্যার মোকাবিলায় ব্রিকসের দেশগুলির মধ্যে আরও শক্তিশালী সহযোগিতা প্রয়োজন।
শুধু সরকারের মধ্যে সহযোগিতা সীমাবদ্ধ না রাখার কথাও বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, ব্রিকসের কাজের সঙ্গে উদ্যোক্তা, কৃষক, গবেষক, মহিলা, তরুণ এবং সাধারণ নাগরিকদেরও যুক্ত করা প্রয়োজন। তবেই এই জোটের সহযোগিতা আরও বিস্তৃত হবে বলে মনে করেন তিনি।
বর্তমান বিশ্বে সেমিকন্ডাক্টর, ব্যাটারি, আধুনিক সামরিক সরঞ্জাম এবং উন্নত প্রযুক্তি তৈরিতে বিরল খনিজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই খনিজের সরবরাহের বড় অংশ চিনের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্যিক সংঘাতের সময়ে চিন একাধিক বিরল খনিজের রফতানির উপর কড়া নিয়ন্ত্রণ জারি করেছিল। এর ফলে বিশ্ববাজারে সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়।
সেই প্রেক্ষাপটেই মোদীর বক্তব্যকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তাঁদের মতে, বিরল খনিজের মতো গুরুত্বপূর্ণ সম্পদকে যদি কোনও দেশ রাজনৈতিক বা কূটনৈতিক চাপ তৈরির হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করে, তা হলে তার প্রভাব শুধু দুই দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। বিশ্ববাজার এবং বিভিন্ন দেশের প্রযুক্তি ও শিল্প উৎপাদনও তার প্রভাবের মুখে পড়তে পারে।
শি জিনপিংকে পাশে রেখেই মোদীর এই মন্তব্যের পর কূটনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, নাম না করে চিনের বিরল খনিজ নীতি নিয়েই প্রধানমন্ত্রী বার্তা দিয়েছেন কি না, সেই প্রশ্ন উঠছে। তবে মোদীর বক্তব্যের মূল বার্তা ছিল, গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ ও প্রযুক্তিকে কোনও দেশের রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার না করে যৌথ উন্নয়ন এবং সহযোগিতার পথে এগোনো প্রয়োজন।
ব্রিকস সম্মেলন শেষ হলেও বিরল খনিজ নিয়ে মোদীর এই মন্তব্য ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।

