এসআইআর নিয়ে দেশজুড়ে রাজনৈতিক সংঘাত ক্রমশ বাড়ছে। এক দিকে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী-সহ বিরোধী জোটের নেতারা ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন। অন্য দিকে, বিরোধীদের অভিযোগের পাল্টা জবাব দিতে এবার সরাসরি প্রচারে নামল বিজেপি। এসআইআরের সমর্থনে প্রচার শুরু করেছে গেরুয়া শিবির। আর সেই প্রচারের মূল হাতিয়ার ‘ডিটেক্ট, ডিলিট, ডিপোর্ট’ নীতি। অর্থাৎ, অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করা, ভোটার তালিকা থেকে তাঁদের নাম বাদ দেওয়া এবং দেশ থেকে বিতাড়িত করা।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রায় দু’বছর আগে লালকেল্লায় স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে দেশকে অনুপ্রবেশকারী মুক্ত করার ডাক দিয়েছিলেন। তার পরেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ‘ডিটেক্ট, ডিলিট, ডিপোর্ট’ নীতির কথা সামনে আনেন। অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে ভোটার তালিকা থেকে তাঁদের নাম বাদ দেওয়া এবং দেশ থেকে বিতাড়নের পক্ষেই বারবার সওয়াল করেছে বিজেপি। পশ্চিমবঙ্গ-সহ একাধিক রাজ্যে নির্বাচনী প্রচারেও এই বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়েছে গেরুয়া শিবির। এবার এসআইআর বিতর্কেও সেই একই কৌশল নিয়েছে তারা।
শনিবার বিকেলে সমাজমাধ্যমে বিজেপির তরফে একটি পোস্ট করা হয়। সেখানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের ছবির সঙ্গে লেখা ছিল, ‘ডিটেক্ট, ডিলিট, ডিপোর্ট’। এই বার্তার মাধ্যমে বিরোধীদের আন্দোলনের পাল্টা অবস্থান স্পষ্ট করতে চেয়েছে বিজেপি। তাদের বক্তব্য, ভোটার তালিকায় অনুপ্রবেশকারীদের নাম থাকলে তা বাদ দিতে হবে। এই নীতি থেকে কোনও ভাবেই সরে আসবে না দল।
বিরোধীদের অভিযোগ, এসআইআরের নামে বহু বৈধ ভোটারের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। সেই কারণেই দেশজুড়ে আন্দোলনে নেমেছে বিরোধী দলগুলি। তবে বিজেপি এই আন্দোলনকে অন্য ভাবে দেখছে। গেরুয়া শিবিরের দাবি, অনুপ্রবেশকারীদের ভোটাধিকার রক্ষা করতেই বিরোধীরা এসআইআরের বিরোধিতা করছে। ফলে এই ইস্যুতে দুই পক্ষের রাজনৈতিক সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে।
শুধু সমাজমাধ্যমে প্রচার নয়, এসআইআরের সমর্থনে রাস্তাতেও নামছে বিজেপি। দেশের বিভিন্ন রাজ্যে জেলায় জেলায় পদযাত্রা ও কর্মসূচির আয়োজন করা হচ্ছে। গণতন্ত্র রক্ষার বার্তা দিয়েই এই কর্মসূচি চালাচ্ছে শাসক দল।
সম্প্রতি কংগ্রেসশাসিত তেলঙ্গানায় একটি পদযাত্রায় যোগ দিয়ে বিরোধীদের তীব্র আক্রমণ করেন অমিত শাহ। তাঁর অভিযোগ, ভোটচুরির অভিযোগ তুলে বিরোধীরা যে আন্দোলন করছে, তার আসল উদ্দেশ্য অনুপ্রবেশকারীদের ভোটব্যাঙ্ককে রক্ষা করা।
সব মিলিয়ে এসআইআরকে কেন্দ্র করে বিজেপি ও বিরোধীদের সংঘাত নতুন মাত্রা পেয়েছে। রাহুল গান্ধীরা যখন বৈধ ভোটারদের অধিকার রক্ষার প্রশ্নে আন্দোলন চালাচ্ছেন, তখন বিজেপি অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করার পক্ষে জোরালো প্রচার শুরু করেছে। এই রাজনৈতিক লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত কার অবস্থান মানুষের কাছে বেশি গ্রহণযোগ্য হয়, এখন সেটাই দেখার।
- More Stories On :
- SIR
- PM Modi
- Rahul Gandhi
- Amit Shah

